এআই কি আগেই বলে দেবে কে হতে পারে পরবর্তী অপরাধী? এফবিআইয়ের নতুন উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বিপুল পরিমাণ সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ, গোপন যোগসূত্র শনাক্ত এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি চিহ্নিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করছে। এফবিআইয়ের ক্রয়সংক্রান্ত নথিতে এমন একটি ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিভিন্ন সরকারি তথ্যভান্ডারের রেকর্ড মিলিয়ে পূর্বাভাসমূলক মডেল তৈরি করতে পারবে। তবে উদ্যোগটি এখনো প্রাথমিক ক্রয় ও বাজার যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত ওই নথিতে এফবিআইয়ের থ্রেট স্ক্রিনিং সেন্টারের জন্য উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি চাওয়া হয়। সম্ভাব্য ব্যবস্থাটিকে নতুন তথ্য গ্রহণের পর পুরোনো রেকর্ডের সঙ্গে মিল, আচরণগত ধরন ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে অন্য সরকারি ব্যবস্থায় প্রাসঙ্গিক তথ্য কোথায় থাকতে পারে, তা পূর্বানুমান করতে হবে। নথিতে বিপুল পরিমাণ তথ্য নিয়ে সময়সাপেক্ষ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয় করার কথাও বলা হয়েছে।
এফবিআইয়ের থ্রেট স্ক্রিনিং সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সন্ত্রাসবাদ পর্যবেক্ষণ তালিকা পরিচালনা করে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর বিভিন্ন সংস্থার বিচ্ছিন্ন তালিকা একত্র করার লক্ষ্যে ২০০৩ সালে কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর তালিকায় নাম, জন্মতারিখ ও আঙুলের ছাপসহ বিভিন্ন তথ্য থাকতে পারে। ভিসা ও পাসপোর্ট যাচাই, বিমানযাত্রী ও অভিবাসন পরীক্ষা, এফবিআই তদন্ত এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সহায়তার কাজে এ তথ্য ব্যবহৃত হয়।
প্রস্তাবিত প্রযুক্তির সমর্থকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিচ্ছিন্ন সরকারি নথির মধ্যে এমন সম্পর্ক দ্রুত খুঁজে বের করতে পারে, যা মানুষের পক্ষে বিপুল তথ্যের ভিড়ে শনাক্ত করা কঠিন। এর ফলে তদন্তকারীরা সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পেতে এবং সীমিত জনবল আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারেন।
তবে নাগরিক অধিকার ও গোপনীয়তা নিয়ে কাজ করা পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, পূর্বাভাসনির্ভর ব্যবস্থা যথেষ্ট স্বচ্ছতা ও তদারকি ছাড়া ব্যবহার করা হলে কোনো ব্যক্তিকে তার বাস্তব কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে অ্যালগরিদমের অনুমানের ভিত্তিতে সন্দেহের আওতায় আনা হতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থাকে সমালোচকেরা ‘প্রি-ক্রাইম’ বা অপরাধ সংঘটনের আগেই কাউকে সম্ভাব্য অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার ধারণার সঙ্গে তুলনা করছেন।
আরেকটি উদ্বেগ হলো ব্যবহৃত তথ্যের মান ও সম্ভাব্য পক্ষপাত। কোনো তথ্যভান্ডারে ভুল, অসম্পূর্ণতা বা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর অতিরিক্ত উপস্থিতি থাকলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ফলেও সেই বৈষম্য প্রতিফলিত হতে পারে। তখন কারও বাসস্থান, পরিচিতজন, ভ্রমণ, অনলাইন কর্মকাণ্ড বা অন্য কোনো পরোক্ষ বৈশিষ্ট্যের কারণে নিরপরাধ ব্যক্তি ভুলভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারেন।
এফবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু জাতি, জাতিগত পরিচয়, ধর্ম, সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ড কিংবা অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে সন্ত্রাসবাদ পর্যবেক্ষণ তালিকায় যুক্ত করা যায় না। সংস্থাটি বলছে, তালিকাভুক্তির জন্য নির্দিষ্ট গোয়েন্দা মানদণ্ড পূরণ করতে হয় এবং অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সংস্থাগুলো নিয়মিত এ কার্যক্রম পর্যালোচনা করে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পুলিশ নিয়মিত যোগাযোগের সময় কোনো নাম পর্যবেক্ষণ তালিকার সঙ্গে সম্ভাব্যভাবে মিলে গেলে সতর্কবার্তা পেতে পারে। সংস্থাটি আরও জানায়, পর্যালোচিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের অনেকে এ ধরনের সতর্কবার্তা কীভাবে যথাযথভাবে পরিচালনা করতে হবে, সে বিষয়ে সব সময় পর্যাপ্তভাবে অবহিত নয়। জবাবদিহি দপ্তর এফবিআইকে যোগাযোগ ও প্রশিক্ষণব্যবস্থা উন্নত করার সুপারিশ করেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ক্রয়সংক্রান্ত অনুরোধটিও কোনো প্রযুক্তি চূড়ান্তভাবে চালু হওয়ার প্রমাণ নয়; এটি সম্ভাব্য সরবরাহকারী ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ।
তবু উদ্যোগটি একটি মৌলিক আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন সামনে এনেছে, কোনো ব্যক্তি অপরাধ না করলেও শুধু একটি অ্যালগরিদম তাকে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি হিসেবে দেখালে সরকার কতটা নজরদারি বা তদন্ত করতে পারবে। প্রযুক্তিটি পরবর্তী পর্যায়ে গেলে এর তথ্যসূত্র, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, মানবীয় পর্যালোচনা, ভুল শনাক্তকরণের প্রতিকার এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশের দাবি আরও জোরালো হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কানাডা, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ক্যামেরুন ও গ্রেনাডায় অবস্থিত পাঁচটি কূটনৈতিক মিশন বন্ধের পরিকল্পনা করেছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মার্কিন কংগ্রেসকে অবহিত করা হয়েছে বলে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কূটনৈতিক উপস্থিতি কমানোর অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কানাডার উইনিপেগ, জাপানের নাগোয়া, ইন্দোনেশিয়ার মেদান, ক্যামেরুনের দৌয়ালা এবং গ্রেনাডার সেন্ট জর্জেসে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক কার্যালয়গুলো বন্ধ করা হতে পারে। এর মধ্যে সেন্ট জর্জেসে একটি দূতাবাস, উইনিপেগ, নাগোয়া ও মেদানে কনস্যুলেট এবং দৌয়ালায় একটি দূতাবাসের শাখা কার্যালয় রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে সরকারি ব্যয় কমানো এবং কূটনৈতিক কার্যক্রম পুনর্গঠনের বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট দীর্ঘদিন ধরেই অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বা ব্যয়বহুল বিদেশি মিশনগুলো বন্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। সাবেক কূটনীতিক, জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং ডেমোক্র্যাট নেতাদের একটি অংশের আশঙ্কা, বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতি কমে গেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির প্রভাব দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো তাদের প্রভাব বিস্তারের আরও সুযোগ পেতে পারে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কার্যালয় বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নেটওয়ার্ককে আরও কার্যকর ও দক্ষ করতে তারা নিয়মিত মূল্যায়ন চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে অবহিত করার আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। গত বছরও ট্রাম্প প্রশাসন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিভিন্ন ব্যুরো পুনর্গঠন এবং শতাধিক পদ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সে সময় কোনো বিদেশি কূটনৈতিক মিশন বন্ধ করা হয়নি। বর্তমান পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কূটনৈতিক উপস্থিতি পুনর্বিন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
মর্টগেজ হিসাব: ৬.৬৬% সুদে ৪ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বাড়ি কিনতে কত টাকা আয় প্রয়োজন
এআই কি আগেই বলে দেবে কে হতে পারে পরবর্তী অপরাধী? এফবিআইয়ের নতুন উদ্যোগ
আমেরিকায় বাংলাদেশিদের জন্য চাকরি খোঁজার সহজ গাইড
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি পার্কস বিভাগ। আগামী ৮ আগস্ট থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন পার্কে বিনামূল্যে রাতভর ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৪ আগস্ট বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্কেও এক রাতের বিশেষ ক্যাম্পিংয়ের সুযোগ পাবেন নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা। তবে এই ক্যাম্পিংয়ে অংশ নিতে চাইলে সরাসরি নিবন্ধন করলেই হবে না। অংশগ্রহণকারীদের লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করবে নিউইয়র্ক সিটি পার্কস বিভাগ। প্রতি সপ্তাহের সোমবার আবেদন গ্রহণ শুরু হবে এবং চার দিন পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এরপর লটারির মাধ্যমে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করা হবে। পার্কস বিভাগের ‘আরবান পার্ক রেঞ্জার্স’ কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত এই ক্যাম্পিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে পুরো সময় থাকবেন অভিজ্ঞ পার্ক রেঞ্জাররা। তারা ক্যাম্পিং পরিচালনার পাশাপাশি নিরাপত্তা, প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়তা করবেন। ক্যাম্পিং কর্মসূচিতে থাকবে বনভূমিতে রেঞ্জারদের নেতৃত্বে রাতের হাঁটা, গল্প বলা, ক্যাম্পফায়ারের পরিবেশে ‘স্মোরস’ তৈরির আয়োজন এবং বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের সুযোগ। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পরিচিতি বাড়াতে বিভিন্ন খেলাধুলা ও দলীয় কার্যক্রমও রাখা হয়েছে। ১৪ আগস্ট সেন্ট্রাল পার্কে ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত হবে ওয়েস্ট ১০৬তম স্ট্রিট ও সেন্ট্রাল পার্ক ওয়েস্ট এলাকার কাছে। কর্মসূচি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায় এবং শেষ হবে পরদিন সকাল ৮টায়। এই ক্যাম্পিংয়ের জন্য লটারির নিবন্ধন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং নির্বাচিতদের নাম ৬ আগস্টের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে। নিউইয়র্ক সিটি পার্কস বিভাগের ভাষ্য, ক্যাম্পিং মানুষকে প্রকৃতির আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে স্মরণীয় সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করে। যারা আগে কখনো ক্যাম্পিং করেননি, তাদের এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। প্রতিটি ক্যাম্পিং আয়োজনে প্রায় ৩০ জন অংশ নিতে পারবেন। সাধারণত পাঁচ থেকে আটটি পরিবার অংশ নিলেও এটি শুধু পরিবারের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। বন্ধুদের দল কিংবা ক্যাম্পিংয়ে আগ্রহী অন্যরাও আবেদন করতে পারবেন। পার্কস বিভাগের আরবান পার্ক রেঞ্জার্সের পরিচালক মার্ক সানচেজ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গথামিস্টকে বলেন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি আয়োজনে প্রায় ৩০০ জন আবেদন করেন। অনেকের জন্য এই অভিজ্ঞতাই পরে অ্যাডিরনড্যাক, গ্লেসিয়ার বা ইয়েলোস্টোনের মতো জাতীয় উদ্যানে ক্যাম্পিং করার অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। কর্মসূচির আওতায় তাঁবুর ব্যবস্থা করবে নিউইয়র্ক সিটি পার্কস বিভাগ। তবে অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ স্লিপিং ব্যাগ, বিছানাপত্র, খাবার ও হালকা নাস্তা সঙ্গে আনতে হবে। ৮ আগস্টের প্রথম ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত হবে ব্রুকলিনের মেরিন পার্কের সল্ট মার্শ নেচার সেন্টারে। আর ১৮ সেপ্টেম্বর কর্মসূচির শেষ দিনে স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ব্লু হেরন নেচার সেন্টার এবং কুইন্সের রকাওয়ে বিচ এই দুটি স্থানে একযোগে রাতভর ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন করা হবে। উল্লেখ্য, সাধারণ সময়ে নিউইয়র্ক সিটির পার্কগুলোতে রাতযাপন বা ক্যাম্পিং নিষিদ্ধ। তবে এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা পার্ক রেঞ্জারদের তত্ত্বাবধানে বৈধভাবে রাতভর ক্যাম্পিং করার সুযোগ পাবেন।
ডায়েট ও নিয়মিত ব্যায়াম করেও ছয় মাসে বাড়ল ৪০ পাউন্ড ওজন, পরে ধরা পড়ে ঘুমজনিত রোগ ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’
৪০তম বিবাহবার্ষিকীর পরদিনই নর্থ ক্যারোলাইনায় দম্পতির লাশ উদ্ধার, খুনের পর আত্মহত্যার সন্দেহ
স্বপ্ন ছিল রেস্তোরাঁর ম্যানেজার হওয়া, যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে ঝরে গেল প্রাণ
ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার আবেদনকারীদের জন্য চালু করা ‘ভিসা বন্ড’ কর্মসূচিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই নীতির আওতায় মূলত আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদন করতে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জামানত হিসেবে জমা দিতে হবে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, গত ৩১ জুলাই ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে পরিচালিত পরীক্ষামূলক কর্মসূচির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করতে এই বন্ড ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তাই এটিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খসড়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোমবার থেকেই এই কর্মসূচি স্থায়ীভাবে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসন পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি চালু করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী ভিসাধারীদের সংখ্যা কমানো এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া। পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে ভিসা বন্ডের সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া কনস্যুলার কর্মকর্তার বিবেচনায় ৫ হাজার বা ১০ হাজার ডলার বন্ড নির্ধারণের সুযোগ ছিল। তবে নতুন স্থায়ী নীতিতে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার মার্কিন ডলার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ৫ হাজার ডলারের বিকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এখন ১০ হাজার বা সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নির্ধারণ করা হতে পারে। এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত দেশের পাসপোর্টধারীদের ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসার সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার আগেই নির্ধারিত বন্ড জমা দিতে হবে। তবে আবেদনকারীর ভিসা প্রত্যাখ্যান হলে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আবার ভিসা অনুমোদনের পর কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগসহ সব ভিসা শর্ত মেনে চলেন, তাহলেও পুরো বন্ড ফেরত পাবেন। মার্কিন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, যেসব বিদেশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যান, তাদের গ্রেপ্তার ও নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে গড়ে প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। সেই ব্যয় কমানো এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের প্রবণতা নিরুৎসাহিত করাই এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। পররাষ্ট্র দপ্তর শুরুতে ধারণা করেছিল, প্রায় দুই হাজার আবেদনকারীকে এই বন্ড কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। কিন্তু পরবর্তী মূল্যায়নে দেখা যায়, বাস্তবে প্রায় ২০ হাজার ভিসা আবেদনকারী এই নিয়মের আওতায় পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই নীতির আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকা সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে নতুন দেশ যুক্ত করা বা বিদ্যমান তালিকায় পরিবর্তন আনার সুযোগও থাকবে।
ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা ১২৯ শতাংশ বেশি, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন মালিকেরা
নতুন আমদানি শুল্ক ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ অঙ্গরাজ্যের