- প্রচ্ছদ
- Topic
টেক্সাস
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি কারাগারে জন্ম হয়েছিল অরোরা স্কাই ক্যাস্টনারের। জন্মের পর মায়ের কাছ থেকে তিনি আর সেভাবে স্নেহ-যত্ন পাননি। নবজাতক অরোরাকে কারাগার থেকে নিয়ে গিয়ে একাই বড় করেন তার বাবা। জীবনের শুরুটাই ছিল নানা প্রতিকূলতায় ভরা। কিন্তু সেই পরিস্থিতি তার শিক্ষাজীবনের স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। বরং কঠোর পরিশ্রম, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং একজন সহৃদয় পরামর্শদাতার সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগ পান তিনি। অরোরার জন্ম টেক্সাসের Galveston County Jail-এ। তখন তার মা কারাগারে ছিলেন। জন্মের পর অরোরাকে তার বাবা কারাগার থেকে নিয়ে যান এবং একক অভিভাবক হিসেবে তাকে বড় করতে থাকেন। শৈশবটা সহজ ছিল না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাবা-মেয়ের জীবন ছিল আর্থিক ও পারিবারিক নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। এমন পরিস্থিতিতেও অরোরার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় অরোরা একটি পরামর্শদাতা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হন। সেখানেই তার পরিচয় হয় মোনা হ্যাম্বির সঙ্গে। ধীরে ধীরে হ্যাম্বি শুধু তার শিক্ষাজীবনের পরামর্শদাতা নন, অরোরার জীবনে একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিতে পরিণত হন। চশমা কেনা, চুল কাটানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন দৈনন্দিন বিষয়েও তিনি অরোরাকে সহযোগিতা করতেন। এমনকি অরোরার জন্য গ্রীষ্মকালীন শিবিরে যাওয়ার সুযোগও তৈরি করে দেন তিনি। অরোরার মেধা ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ প্রথম দেখাতেই হ্যাম্বির নজরে আসে। হ্যাম্বি জানিয়েছিলেন, অরোরা ছোটবেলা থেকেই প্রচুর বই পড়ত। তার প্রিয় ব্যক্তিত্বদের একজন ছিলেন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেত্রী রোজা পার্কস। অরোরার এই আগ্রহ দেখে হ্যাম্বি বুঝতে পারেন, মেয়েটির মধ্যে বড় কিছু করার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু পড়াশোনাতেই নয়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমেও অরোরা নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন। তিনি মাদকবিরোধী বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার পান এবং একটি বৃত্তিও অর্জন করেন। পরে Conroe High School থেকে ২০২৩ সালে অত্যন্ত ভালো ফল নিয়ে স্নাতক হন। তিনি পুরো স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্ন অবশ্য অরোরার হঠাৎ তৈরি হয়নি। ২০২২ সালের মার্চে মোনা হ্যাম্বির সঙ্গে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন। সেই সফর তার মনে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পড়ার ইচ্ছা আরও দৃঢ় করে। এরপর থেকেই হার্ভার্ডে পড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে থাকেন তিনি। হার্ভার্ডে ভর্তির আবেদনপত্রের প্রবন্ধে নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতাকেই সামনে আনেন অরোরা। তার আবেদনের প্রথম বাক্য ছিল, ‘আমি কারাগারে জন্মেছি।’ নিজের অতীতকে লুকিয়ে না রেখে সেটিকেই তিনি জীবনের গল্পের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আবেদনপত্র তৈরিতে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকও তাকে সহায়তা করেছিলেন। ২০২৩ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, অরোরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান এবং পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে সেখানে পড়ার প্রস্তুতি নেন। তার লক্ষ্য ছিল আইন নিয়ে পড়াশোনা করা। তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। অরোরার গল্পে মোনা হ্যাম্বির ভূমিকা বিশেষভাবে উঠে এসেছে। ছোটবেলায় অরোরার জীবনে যে ধরনের সহায়তা ও দিকনির্দেশনার প্রয়োজন ছিল, হ্যাম্বি তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অরোরাও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তার পরামর্শদাতার অবদানের কথা স্বীকার করেছেন। হ্যাম্বির সঙ্গে সম্পর্ককে তিনি নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখেন। অরোরার জীবনের গল্প তাই শুধু একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ঘটনা নয়। জন্মের পরিস্থিতি, পারিবারিক অনিশ্চয়তা কিংবা শৈশবের সীমাবদ্ধতা একজন মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না, তার পথচলা সেই কথাটিই সামনে আনে। একজন অভিভাবকের চেষ্টা, একজন পরামর্শদাতার সহায়তা এবং নিজের অধ্যবসায় কীভাবে একটি শিশুর সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে পারে, অরোরার গল্প তারও একটি উদাহরণ। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অরোরার হার্ভার্ডে ভর্তি ও পূর্ণ বৃত্তি পাওয়ার তথ্য মূলত ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে প্রকাশিত। সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের নির্ভরযোগ্য সূত্রে তার বর্তমান শিক্ষাবর্ষ বা হার্ভার্ডে আইন পড়ার বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই তাকে বর্তমানে হার্ভার্ডের আইন শিক্ষার্থী হিসেবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করার বদলে ২০২৩ সালে হার্ভার্ডে আইন পড়ার জন্য পূর্ণ বৃত্তি পাওয়ার তথ্যই যাচাই করা অবস্থায় বলা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ (ডিএফডব্লিউ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের জন্য ওজুর স্থান (ওজুখানা) নির্মাণের একটি পরিকল্পনা তীব্র বিতর্কের মুখে বাতিল করা হয়েছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দেওয়ার পরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। একই সঙ্গে রাজ্যের দুটি বড় বিমানবন্দরে ধর্মীয় সুবিধার নামে কোনো বৈষম্য হচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনার জন্য সরকারি অনুদান খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর। গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় গভর্নর অ্যাবট বলেন, "সরকারি মালিকানাধীন বিমানবন্দরগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে অন্য সব ধর্মের ওপর বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না। ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দরে ইসলামিক ওজুর জায়গা নির্মাণের পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণ বেআইনি। আমি সম্ভাব্য অনুদান বাতিলের জন্য রাজ্যের দুটি বিমানবন্দরের সব সরকারি অনুদান পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি তদন্তের জন্য বিষয়টি মার্কিন পরিবহন বিভাগের (ইউএসডিওটি) কাছে পাঠিয়েছি।" তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো স্থাপনায় এ ধরনের বেআইনি ধর্মীয় বৈষম্য বরদাশত করবে না টেক্সাস। গভর্নরের এই কড়া বার্তার পরই ডালাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানায়, তারা তাদের আন্তর্জাতিক টার্মিনাল (টার্মিনাল ডি)-এর নিরাপত্তা তল্লাশির আগের অংশে যাত্রীদের জন্য একটি ওজুখানা স্থাপনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছিল। কিন্তু জনসমক্ষে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হওয়ায় তারা দ্রুত এই পর্যালোচনা শেষ করেছে এবং প্রকল্পটি নিয়ে আর না এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি থেকে প্রাথমিকভাবে যে ধরনের পরিচালনগত সুবিধার আশা করা হয়েছিল, সেটি পূরণ হবে না বলেই এই সিদ্ধান্ত। এর আগে গত ৩১ জুলাই টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেগুলেশনের কাছে প্রকল্পটির নিবন্ধন করা হয়। সেখানে প্রাথমিকভাবে এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ডলার এবং অর্থায়নের উৎসের জায়গায় ‘ব্যক্তিগত অর্থায়ন’ উল্লেখ করা হয়েছিল। কথা ছিল, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এর নির্মাণকাজ শেষ হবে। তবে ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, নথিপত্রে উল্লেখ করা এসব তথ্য আসলে তাদের বহিরাগত নকশা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ‘করণিক ভুল’ ছিল। বিমানবন্দরটির একজন মুখপাত্র ফক্স নিউজকে বলেন, ৩ লাখ ডলারের হিসাবটি ছিল একটি প্রাথমিক উচ্চ ধারণা। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে এর প্রকৃত ব্যয় হতো প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার। এছাড়া ‘ব্যক্তিগত অর্থায়ন’ কথাটিও ভুলবশত লেখা হয়েছিল। অন্যান্য প্রকল্পের মতো এই প্রকল্পেও বিমানবন্দরের নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করার কথা ছিল। বিমানবন্দরটি তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে না, বরং পার্কিং ও বিভিন্ন দোকানপাট থেকে আয়ের ওপর নির্ভরশীল বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে একটি ওজুখানা এবং এর সংলগ্ন একটি প্রার্থনাকক্ষ রয়েছে। মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফিকে দেওয়া এক চিঠিতে গভর্নর অ্যাবট মার্কিন পরিবহন বিভাগ এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে উভয় বিমানবন্দরের ধর্মীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, "এই ওজুখানাগুলো দৃশ্যত নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্যই নকশা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। সংবিধানে এ ধরনের বৈষম্যকে প্রশ্রয় দেওয়া নিষেধ। সরকার যেমন পবিত্রতার চেয়ে ধর্মনিরপেক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে পারে না, তেমনি অন্য সব মতাদর্শের ওপর কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতবাদকেও বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না।" উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় বিমানবন্দরগুলোতেও, যেমন, শিকাগো ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যাত্রীদের সুবিধার্থে এ ধরনের নিচু বেসিন বা ওজুখানা এবং সর্বজনীন প্রার্থনার স্থান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে চিকিৎসকের চরম অবহেলায় চার বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকের ভুলে মাত্রাতিরিক্ত চেতনানাশক বা সিডেটিভ প্রয়োগের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ওই দন্ত চিকিৎসককে (ডেন্টিস্ট) গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেডিএফডব্লিউ (KDFW)-এর প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, নিহত শিশুটির নাম আইথানা আরিয়াগা। গত ১ এপ্রিল টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায় অবস্থিত 'কাডল কিডস ডেন্টাল' নামের একটি ক্লিনিকে জিহ্বার চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে গিয়েছিল তার পরিবার। সেখানে ৪৮ বছর বয়সী দন্ত চিকিৎসক ক্রিশেল হেম্পিল শিশুটির চিকিৎসা করছিলেন। চিকিৎসা শুরুর আগে তিনি আইথানাকে মেপেরিডিন (যা ডেমেরল নামেও পরিচিত) নামক একটি চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, তিনি শিশুটির শরীরে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় এই ওষুধ পুশ করেছিলেন। চিকিৎসা শেষে চিকিৎসক ক্রিশেল হেম্পিল শিশুটি জ্ঞান ফিরলে তাকে খাওয়ার জন্য একটি পপসিকল (বরফ আইসক্রিম) এগিয়ে দেন। কিন্তু তখনই শিশুটির মাথা পেছনের দিকে ঢলে পড়ে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে হেম্পিল এবং ক্লিনিকে উপস্থিত অন্য একজন ডেন্টিস্ট মিলে দ্রুত শিশুটিকে সিপিআর (CPR) দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং জরুরি সেবায় (৯১১) কল করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে তদন্তে নেমে মেডিকেল পরীক্ষকরা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেন। তারা জানান, চিকিৎসক হেম্পিল শিশু আইথানাকে যে পরিমাণ মেপেরিডিন প্রয়োগ করেছিলেন, তা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্যও যথেষ্ট বিষাক্ত এবং বিপজ্জনক। তদন্তকারী কর্মকর্তারা আরও জানান, শিশুটির যখন জ্ঞান ফিরছিল না, তখন তাকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য হেম্পিলের 'নারক্যান' ব্যবহার করা উচিত ছিল, কিন্তু তিনি ভুল করে 'ফ্লুমাজেনিল' নামের অন্য একটি ওষুধ ব্যবহার করেন। এছাড়া, শিশুটির নাড়ি বা পালস সচল থাকা সত্ত্বেও তিনি পালস পরীক্ষা করার জন্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে এইডি (AED) মেশিন ব্যবহার করেছিলেন। সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো, মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ প্রয়োগের কারণে শিশুটির যে তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল, চিকিৎসক হিসেবে হেম্পিল তা খেয়াল করতেই সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। চিকিৎসায় এমন ভয়াবহ অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর গত ১৫ জুলাই (বুধবার) পুলিশ চিকিৎসক ক্রিশেল হেম্পিলকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে একটি শিশুকে গুরুতর শারীরিক আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফোর্ট ওয়ার্থ পুলিশের মুখপাত্র ব্র্যাড পেরেজ সংবাদমাধ্যম কেডিএফডব্লিউ-কে জানিয়েছেন, এই ঘটনার আগে চিকিৎসক হেম্পিলের বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ বা রেকর্ড ছিল না এবং টেক্সাস স্টেট বোর্ড অফ ডেন্টাল এক্সামিনার্সের অধীনে তার একটি সক্রিয় লাইসেন্সও ছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পুলিশের এই মুখপাত্র অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ পরামর্শ দিয়ে বলেন, "আমি একটি বিষয় সবাইকে পরামর্শ দেব, যদি আপনার সন্তানের কোনো চিকিৎসার সময় আপনি ভেতরে থাকতে চান, তবে সে বিষয়ে জোরালো দাবি জানাবেন। আমি বিশ্বাস করি, এই শিশুটির মা হয়তো ভেতরে গিয়ে সন্তানের অবস্থা দেখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু চিকিৎসা চলার কারণে তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। মা যদি ভেতরে থাকতেন, তবে হয়তো তিনি এমন কিছু লক্ষণ খেয়াল করতে পারতেন, যা ওই সময় চিকিৎসক বুঝতে পারেননি।" এই ঘটনায় পুরো ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং অভিভাবকরা শিশুদের চিকিৎসায় চিকিৎসকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার দাবি তুলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঞ্চলে ২০১৯ থেকে ২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত এইচ-১বি (H-1B) ভিসার আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তবে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে রিপাবলিকান অধ্যুষিত টেক্সাসের শহরতলিগুলোতে। 'লেঅফহেজ' (LayoffHedge)-এর কেন্দ্রীয় শ্রম তথ্যের একটি নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ছয় বছরে দেশজুড়ে এইচ-১বি ভিসার চাহিদা বৃদ্ধির শীর্ষ আটটি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টই টেক্সাসে অবস্থিত। আর এই সবগুলো এলাকার প্রতিনিধিত্ব করছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। প্রায় ৬৯ লাখ লেবার কন্ডিশন অ্যাপ্লিকেশনের (এলসিএ) ওপর ভিত্তি করে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। উল্লেখ্য, এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করার আগে নিয়োগকর্তাদের অবশ্যই এলসিএ সম্পন্ন করতে হয়, যা মূলত বিদেশি দক্ষ শ্রমিকের প্রতি কর্পোরেট চাহিদাকে নির্দেশ করে। সারাদেশের হিসাবের সাথে টেক্সাসের এই পরিসংখ্যানের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত ২৪৩টি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের অর্ধেকেরও বেশিতে আবেদন কমেছে। ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত এলাকায় এইচ-১বি ফাইলিংয়ের পরিমাণ দেশব্যাপী সবচেয়ে বেশি হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে আবেদন কমার মধ্যম হার ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে রিপাবলিকান ডিস্ট্রিক্টগুলোতে এই হার ১৮ শতাংশ। কিন্তু এর ব্যতিক্রম কেবল টেক্সাসের শহরতলিগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ২০টি দ্রুত বর্ধনশীল ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে ১০টিই টেক্সাসে এবং ওই ২০টির মধ্যে ১৫টিতেই রিপাবলিকানরা জয়ী হয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, টেক্সাসের থার্ড কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে (প্রতিনিধি কিথ সেলফ) অনুমোদিত আবেদন ২৪২ শতাংশ এবং পাশ্ববর্তী ২৬তম ডিস্ট্রিক্টে (প্রতিনিধি ব্র্যান্ডন গিল) ২১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ৩১তম, ১০তম, ২২তম, ৮ম, ২১তম এবং ৪র্থ ডিস্ট্রিক্টেও যথাক্রমে ১৪৫ থেকে ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত আবেদন বৃদ্ধির রেকর্ড পাওয়া গেছে। নিউজউইক এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে কংগ্রেস সদস্যদের সাথে ইমেইলে যোগাযোগ করেছে। এইচ-১বি মূলত একটি অস্থায়ী মার্কিন ওয়ার্ক ভিসা, যার মাধ্যমে নিয়োগকর্তারা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থায়ন, প্রকৌশল ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো বিশেষায়িত পেশায় স্নাতক ডিগ্রিধারী বা সমমানের বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিয়ে থাকেন। টেক্সাসে এই ভিসার চাহিদা এমন এক সময়ে বাড়ল, যখন ফেডারেল পর্যায়ে নতুন করে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে উচ্চ আয়ের কর্মীদের অগ্রাধিকার দিতে প্রথাগত এইচ-১বি লটারি ব্যবস্থা বাতিল করেছে। এছাড়া মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কয়েক হাজার ডলারের বায়োমেট্রিক স্ক্রিনিং ফি যুক্ত করা এবং চাকরি হারানো অভিবাসীদের নতুন কাজ খোঁজার ৬০ দিনের সময়সীমা বাতিলেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও নতুন বিদেশি কর্মীদের ওপর এক লাখ ডলার ফি বসানোর একটি প্রস্তাব বিচারকরা ইতিমধ্যেই বাতিল করে দিয়েছেন। এরই মাঝে, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এক নির্দেশনায় রাজ্যের সকল সরকারি সংস্থা ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন এইচ-১বি ভিসার আবেদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। টেক্সাস ওয়ার্কফোর্স কমিশনের বিশেষ অনুমোদন ছাড়া এই স্থগিতাদেশ ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরের বিলি আর্ল ডেড মিডল স্কুলে ২০১৭ সালে আয়োজিত একটি ছোট উদ্যোগ আজও মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ‘ব্রেকফাস্ট উইথ ড্যাডস’ নামে বিশেষ এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের জীবনে বাবা বা পুরুষ অভিভাবকের ইতিবাচক উপস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানত, অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনুষ্ঠানে আসার মতো বাবা, দাদা বা অন্য কোনো পুরুষ অভিভাবক নেই। সে কারণেই স্থানীয় কমিউনিটির কাছে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকদের ধারণা ছিল, অন্তত ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক এগিয়ে এলে যেসব শিক্ষার্থীর সঙ্গে কেউ থাকবে না, তাদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটেছিল, তা ছিল প্রত্যাশার অনেক বাইরে। স্কুলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ৬০০ জন স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত হন। এত মানুষের অংশগ্রহণে নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে পুরো আয়োজন স্কুলের জিমনেসিয়ামে নিতে হয়। সকালের নাশতার টেবিলে স্বেচ্ছাসেবকেরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উৎসাহ দেন। কেউ কেউ ছেলেদের নেকটাই বাঁধার কৌশলও শেখান। কয়েক ঘণ্টার এই আয়োজনে প্রতিটি শিক্ষার্থী অনুভব করার সুযোগ পায় যে, তারা একা নয়; তাদের পাশে রয়েছে পুরো কমিউনিটি। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই উদ্যোগ তারই একটি উদাহরণ হয়ে আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ও কিশোরদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে পরিবারের পাশাপাশি সমাজের দায়িত্বশীল মানুষের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিলি আর্ল ডেড মিডল স্কুলের এই আয়োজন পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। অনেকেই এটিকে এমন একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখেছেন, যেখানে অর্থ বা বিশেষ কোনো সামর্থ্যের চেয়ে সময় দেওয়া এবং পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাই সবচেয়ে বড় অবদান হয়ে উঠেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা ছিল মাত্র ৫০ জন মানুষ সাড়া দেবেন। কিন্তু প্রায় ৬০০ জনের উপস্থিতি প্রমাণ করে, একটি ছোট উদ্যোগও কখনো কখনো পুরো কমিউনিটিকে একত্র করতে পারে। এই ঘটনাটি এখনও অনেকের কাছে মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং শিশুদের প্রতি ভালোবাসার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত এক বিরল আইনি বিবাদে যুগান্তকারী রায় দিয়েছে। আলাস্কার অধিবাসী ম্যাকক্যানা ওয়েস্ট নামের এক সারোগেট মায়ের গর্ভে থাকা 'গ্যাব্রিয়েল' নামের একটি শিশুর প্রাণ রক্ষায় এই রায় দেওয়া হয়। গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহের দিকে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি 'হাইপোপ্লাস্টিক লেফট হার্ট সিনড্রোম' নামক একটি জটিল ও বিরল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত। এই রোগে হৃদপিণ্ডের বাম দিকটি সঠিকভাবে বিকশিত হয় না। এই খবর শোনার পর ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা চুক্তিবদ্ধ বাবা-মা নওশীন গিলকার ও ওমর আহমেদ সারোগেট মাকে গর্ভপাতের নির্দেশ দেন। কিন্তু ম্যাকক্যানা ওয়েস্ট তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং শিশুটিকে বাঁচাতে উন্নত চিকিৎসার আশায় টেক্সাসের ডালাসে পাড়ি জমান। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন। তাঁর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, চুক্তিবদ্ধ বাবা-মা শিশুটির প্রথম অস্ত্রোপচারে সম্মতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এবং তাকে টেক্সাসের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। এই পরিস্থিতিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতের দ্বারস্থ হন। অবশেষে বুধবার টেক্সাসের আদালত নির্দেশ দেয় যে, গ্যাব্রিয়েল জন্ম নেওয়ার পর তাকে অবশ্যই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। কেন প্যাক্সটনের কার্যালয় থেকে আরও জানানো হয় যে, কোনো গর্ভকালীন চুক্তি শিশুর জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্যমতে, এই ধরনের হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণত তিনটি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়, যার প্রথমটি জন্মের দুই সপ্তাহের মধ্যেই করতে হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকলেও তাকে আজীবন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বাঁচতে হতে পারে। আদালত চিকিৎসায় বাধা দেওয়া ঠেকাতে চুক্তিবদ্ধ বাবা-মায়ের ওপর একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এছাড়া চিকিৎসার স্বার্থে আদালত শিশুটির জন্য একজন আইনি প্রতিনিধি বা 'গার্জিয়ান অ্যাড লাইটেম' নিয়োগ করেছে। আগামী ২৫ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তা সত্ত্বেও এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পাড়ি জমানো মার্কিনিদের কাছে বসবাসের জন্য এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য ফ্লোরিডা ও টেক্সাস। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন এক সমীক্ষার তথ্যে এমনটাই উঠে এসেছে। অনলাইন মুভিং প্ল্যাটফর্ম ‘মুভিংপ্লেস’ (MovingPlace) চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৫০ লাখেরও বেশি মানুষের স্থানান্তরের ডেটা বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মাথাপিছু স্থানান্তরের হিসাব এবং সামগ্রিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করে তারা জানিয়েছে, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় এলাকা হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছে ফ্লোরিডার ইনলেট বিচ। ফ্লোরিডার এমারেল্ড কোস্টে অবস্থিত ইনলেট বিচে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে মাথাপিছু ১০৬.১ জন স্থানান্তরের রেকর্ড পাওয়া গেছে। শীর্ষ ১০টি জনপ্রিয় এলাকার তালিকায় ইনলেট বিচ ছাড়াও ফ্লোরিডার আরও তিনটি এলাকা জায়গা করে নিয়েছে; এগুলো হলো পোর্ট সেন্ট লুসি, ব্র্যাডেন্টন এবং সান আন্তোনিও (ফ্লোরিডা)। এছাড়া টেক্সাসের তিনটি শহর ক্র্যান্ডল, ল্যাভন এবং ম্যাক্সওয়েলও এই তালিকায় রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসের যেসব এলাকা এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে, সেগুলো কোনো বড় বা পরিচিত মেট্রো শহর নয়। মহামারির সময়ে অস্টিন, কেপ কোরাল, টাম্পা বা মিয়ামির মতো শহরগুলোতে নতুন বাসিন্দাদের ঢল নেমেছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে এসব শহরে বাড়ির দাম দুই অঙ্কের ঘরে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এখন বড় শহরের বদলে তুলনামূলক ছোট ও সাশ্রয়ী এলাকা খুঁজছেন। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা ১০টি এলাকা: মুভিংপ্লেসের ডেটা অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে মাথাপিছু স্থানান্তরের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি এলাকা হলো: ১. ইনলেট বিচ, ফ্লোরিডা ২. ক্র্যান্ডল, টেক্সাস ৩. অরোরা, কলোরাডো ৪. ল্যাভন, টেক্সাস ৫. ন্যাশভিল, টেনেসি ৬. সারপ্রাইজ, অ্যারিজোনা ৭. পোর্ট সেন্ট লুসি, ফ্লোরিডা ৮. ব্র্যাডেন্টন, ফ্লোরিডা ৯. সান আন্তোনিও, ফ্লোরিডা ১০. ম্যাক্সওয়েল, টেক্সাস কেন এই শহরগুলোর এত জনপ্রিয়তা? গবেষকদের মতে, বিলাসবহুল উপকূলীয় জীবনযাপন এবং বিশ্বের অন্যতম সুন্দর সৈকতের সান্নিধ্যের কারণে ইনলেট বিচ এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মূলত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং যারা দ্বিতীয় বাড়ি কিনতে চান, তারাই এখানকার মূল ক্রেতা। আবাসন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘রেডফিন’-এর তথ্যমতে, গত জুনে ইনলেট বিচ হাইটসে একটি সাধারণ বাড়ির গড় দাম ছিল ৭ লাখ ডলার, যা রাজ্যব্যাপী গড় দামের চেয়ে প্রায় ৩ লাখ ডলার বেশি। তবে তালিকার অন্যান্য ফ্লোরিডা শহরগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রেডফিনের ডেটা বলছে, পোর্ট সেন্ট লুসিতে বাড়ির গড় দাম এখনো ৪ লাখ ডলারের নিচে। অন্যদিকে, পরিবার নিয়ে থাকার জন্য বা পেশাজীবীদের কাছে ব্র্যাডেন্টন বেশ আকর্ষণীয়, যেখানে বাড়ির দাম ৩ লাখ ১৯ হাজার ডলারের কিছুটা বেশি। ফ্লোরিডার সান আন্তোনিও শহরটিও বেশ সাশ্রয়ী; গত জুনে এখানে বাড়ির গড় দাম ছিল ৪ লাখ ৬৬ হাজার ১৯৬ ডলার। একই চিত্র দেখা গেছে টেক্সাসের ক্ষেত্রেও। ডেনভার বা ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থের মতো ব্যয়বহুল শহরের সাশ্রয়ী বিকল্প হয়ে উঠেছে টেক্সাসের ক্র্যান্ডল। গত জুনে এখানে একটি বাড়ির গড় দাম ছিল ২ লাখ ৮৮ হাজার ১০৩ ডলার, যেখানে ডালাসে প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার। একইভাবে, ল্যাভন ও ম্যাক্সওয়েল শহর দুটিও উত্তর টেক্সাস এবং অস্টিনের তুলনায় অনেক সস্তা। অস্টিনে যেখানে বাড়ির গড় দাম ৫ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের বেশি, সেখানে ম্যাক্সওয়েলে আড়াই লাখ ডলারের নিচেই বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। মুভিংপ্লেসের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ড্যানিয়েল কোব এক বিবৃতিতে বলেন, "মহামারির সময়ের মতো শহর ছাড়ার হিড়িক এখন হয়তো কিছুটা কমেছে। কিন্তু মানুষের আবাসন চাহিদা এখনো ঐতিহ্যবাহী বড় শহরগুলোর চেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল শহরতলি এবং সাশ্রয়ী এলাকাগুলোর দিকেই বেশি। উষ্ণ আবহাওয়া, কম কর এবং তুলনামূলক সস্তা আবাসনের কারণে মানুষ সান বেল্ট অঞ্চলে, বিশেষ করে ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসে বসবাস করতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।"
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে লাগামহীনভাবে বাড়ি বীমার (হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স) খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম আবাসন সংকটে পড়েছেন বাসিন্দারা। রাইস ইউনিভার্সিটির কিণ্ডার ইনস্টিটিউট ফর আরবান রিসার্চ এবং পাবলিক পলিসি সংস্থা 'টেক্সাস ২০৩৬'-এর যৌথ গবেষণায় চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বীমার অতিরিক্ত প্রিমিয়াম যুক্ত করার পর দেখা যায়, টেক্সাসের প্রায় ৬৪ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৭০ লাখ পরিবার তাদের নিজ কাউন্টির গড় মূল্যের একটি সাধারণ বাড়ি কেনার সামর্থ্যও হারিয়ে ফেলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ টেক্সাস রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে কম খরচে আবাসন সুবিধা মিললেও, বীমার দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকায় সেই সস্তা স্বর্গের সুনাম এখন ধ্বংসের মুখে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে টেক্সাসে বাড়ি বীমার গড় খরচ ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বার্ষিক প্রায় ২,৯৮৩ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে রাজ্যে বাড়ির গড় মূল্য ৩১ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৫০ ডলারে দাঁড়ালেও মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। গত পাঁচ বছরে টেক্সাসে গৃহস্থালিগুলোর মধ্যবর্তী আয় বেড়েছে মাত্র ৩ শতাংশ, যা একটি মধ্যম মূল্যের বাড়ি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় বার্ষিক আয়ের চেয়ে প্রায় ৫,৩৬৫ ডলার কম। অঞ্চলটিতে ঘনঘন তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং নির্মাণসামগ্রীর আকাশচুম্বী দামকেই বীমার এই অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষকদের মতে, মোট আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি অর্থ যদি বাড়ি কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণের পেছনে চলে যায়, তবে তা সাধারণ পরিবারের জন্য অসাধ্য হয়ে পড়ে। ভবিষ্যতে এই বীমা প্রিমিয়াম যদি মাত্র ৪ থেকে ১০ শতাংশও বৃদ্ধি পায়, তবে নতুন করে আরও ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার পরিবার গৃহহীন থাকার ঝুঁকিতে পড়বে। এই সংকট বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার এবং কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। অস্টিন, ডালাস কিংবা হিউস্টনের মতো বড় মেট্রোপলিটন শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ কাউন্টিগুলোতেও বীমার এই অতিরিক্ত বোঝা সাধারণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ সঞ্চয়ের পথকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
টেক্সাসের লিগ সিটিতে লাল রঙে বা রঞ্জকে মাখা একটি ধূসর বিড়ালকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিড়ালটিকে নিরাপদে উদ্ধার করতে প্রাণী উদ্ধারকারীরা কাজ করছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিড়ালটিকে ধরার চেষ্টা বা খাবার দেওয়ার পরিবর্তে সেটি কোথায় ও কখন দেখা গেছে, তা প্রাণী পরিচর্যা কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। লিগ সিটি অ্যানিমেল কেয়ার জানিয়েছে, বিড়ালটির শরীরে লাল রঙ বা রঞ্জক লেগে আছে এবং বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। বিড়ালটিকে নিরাপদে ধরতে তাদের দল কাজ করছে। উদ্ধার করার পর বিড়ালটির প্রয়োজনীয় যত্ন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসিন্দারা নিজেরা বিড়ালটিকে ধরার চেষ্টা করলে উদ্ধারকারীদের চলমান প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে। একই কারণে বিড়ালটির জন্য বাইরে খাবার না রাখতেও বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে। কেউ বিড়ালটিকে দেখতে পেলে তার অবস্থান এবং দেখার সময় জানিয়ে প্রাণী পরিচর্যা কর্তৃপক্ষকে বার্তা পাঠাতে বলা হয়েছে। সোমবারের এক হালনাগাদ তথ্যে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছে, বিড়ালটিকে নিরাপদে ধরার চেষ্টা এখনও চলছে। এ কাজে বিড়ালটির চলাফেরার এলাকার কাছাকাছি থাকা পরিচর্যাকারীরাও সহায়তা করছেন। লাল রঙে ঢাকা বিড়ালটির ছবি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করেন, প্রাণীটিকে রঙ করা কোনো অবৈধ কুকুর লড়াইয়ের চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কেউ কেউ এমন ঘটনার তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো সক্রিয় তদন্ত বা প্রাণীর ওপর নিষ্ঠুরতার অভিযোগে সম্ভাব্য কোনো মামলা বা অভিযোগের কথা জানায়নি। ফলে বিড়ালটির শরীরে কীভাবে লাল রঙ বা রঞ্জক লাগল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাণী পরিচর্যা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের প্রতি মূল অনুরোধ হলো, বিড়ালটিকে নিজেরা ধরার চেষ্টা না করে তার অবস্থান ও সময় জানানো। উদ্ধারকারীরা বিড়ালটিকে নিরাপদে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ক্রেতাদের দর-কষাকষির সুযোগ বাড়ছে। ২০২৬ সালের মে মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির বড় বড় হাউজিং মার্কেটের অনেকগুলোতেই বাড়ি মালিকেরা চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার কয়েকটি শহরে চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হওয়া বাড়ির হার ৮০ শতাংশেরও বেশি। রিয়েল এস্টেট তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রেডফিনের ৫০টি বড় আবাসন বাজার নিয়ে করা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া বাড়ির ৫৫ শতাংশই মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে। বিপরীতে মাত্র ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। ২০২০ সালের পর মে মাসের হিসাবে এটি সবচেয়ে কম প্রতিযোগিতামূলক আবাসন বাজারগুলোর একটি। ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতি দেখা গেছে টেক্সাসের অস্টিনে। সেখানে মে মাসে বিক্রি হওয়া ৮৫ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হয়েছে। এরপর রয়েছে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ। সেখানে ৮৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ি মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে। মায়ামিতে এই হার ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং টেক্সাসের সান আন্তোনিওতে ৮৪ শতাংশ। এই তালিকায় আরও রয়েছে হিউস্টন, ডালাস, টাম্পা, ফিনিক্স, অরল্যান্ডো ও ফোর্ট ওর্থ। হিউস্টনে ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ, ডালাসে ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ, টাম্পায় ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ, ফিনিক্সে ৭৬ দশমিক ১ শতাংশ, অরল্যান্ডোতে ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ফোর্ট ওর্থে ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হয়েছে। রেডফিনের বিশ্লেষণ বলছে, এসব বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সরবরাহ তুলনামূলক বেশি থাকায় ক্রেতাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বেড়েছে। নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রবৃদ্ধি, বেশি হোম ইন্স্যুরেন্স খরচ, বাড়ির মালিক সমিতির বাৎসরিক ফি এবং কিছু এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ির চাহিদায় প্রভাব ফেলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব আবাসন বাজারে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। নিউইয়র্কের আশপাশের কিছু এলাকা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়ায় এখনো বাড়ি কেনার প্রতিযোগিতা তুলনামূলক বেশি। মে মাসে নিউআর্ক, নিউ জার্সিতে ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ি মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোতে এই হার ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সান হোসেতে ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ। বাজারের এই পার্থক্যের পেছনে বাড়ির সরবরাহ ও ক্রেতার চাহিদার ভারসাম্য বড় ভূমিকা রাখছে। যেসব এলাকায় বিক্রির জন্য বাড়ি বেশি কিন্তু ক্রেতা তুলনামূলক কম, সেখানে বিক্রেতাদের দাম কমানো অথবা ক্রেতাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রায় ৪৬ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ির বিক্রেতা ক্রেতাদের কোনো না কোনো বাড়তি সুবিধা দিয়েছেন। এর মধ্যে বাড়ি কেনার চূড়ান্ত খরচের অর্থ পরিশোধ, মেরামতের খরচ বহন কিংবা ঋণের সুদের হার কমানোর মতো সুবিধাও রয়েছে। অন্যদিকে, বেশি মর্টগেজ সুদের হার এবং বাড়ির তুলনামূলক বেশি দাম অনেক সম্ভাব্য ক্রেতাকে বাজারের বাইরে রাখছে। ফলে যারা এখন বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখছেন, তাদের হাতে আগের তুলনায় বেশি বিকল্প রয়েছে। একই সঙ্গে বিক্রেতার কাছে চাওয়া দাম কমানোর জন্য দর-কষাকষির সুযোগও তৈরি হচ্ছে। তবে চাওয়া দামের নিচে বাড়ি বিক্রি হওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বড় ধরনের মূল্যপতন শুরু হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো এলাকায় কতটা দর-কষাকষি করা সম্ভব, তা নির্ভর করে স্থানীয়ভাবে বিক্রির জন্য থাকা বাড়ির সংখ্যা, বাড়ির অবস্থা, একই এলাকার সাম্প্রতিক বিক্রয়মূল্য এবং বিক্রেতার পরিস্থিতির ওপর। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, মহামারির পরের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় এখন ক্রেতারা আগের চেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার কয়েকটি বড় হাউজিং মার্কেটে বাড়ি কেনার সময় মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে চুক্তি করার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন টেক্সাসের ৭৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী জন গ্যানন। কিন্তু এখন সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা করছেন তিনি। কারণ, তার হবু স্ত্রী ইয়াসমিন সুয়ারেজ রেয়েসকে হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল এয়ারপোর্ট থেকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। ঘটনাটি ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির সমালোচনা করেছেন আজীবন রিপাবলিকান হিসেবে পরিচিত গ্যানন। সিবিএস নিউজকে গ্যানন জানান, ৪৫ বছর বয়সী ইয়াসমিনকে বিয়ে করে সংসার গড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু গত ২৪ জুলাই লাস ভেগাস যাওয়ার পথে হিউস্টন এয়ারপোর্টে আইসিই কর্মকর্তারা ইয়াসমিনকে আটক করলে তাদের সেই পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। ইয়াসমিনের জন্ম ভেনেজুয়েলায়। তবে তিনি স্পেনের নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তার অনুমোদিত থাকার মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি। ইয়াসমিনের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন এবং তার ওয়ার্ক পারমিট ও টেক্সাসের ড্রাইভার লাইসেন্স ছিল। তবে ডিএইচএস বলছে, কোনো ইমিগ্রেশন আবেদন বিচারাধীন থাকলেই তা নিজে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস দেয় না। ইয়াসমিন অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন বলেই তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, ইয়াসমিনের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত দাবিগুলো বিচার বিভাগের একজন ইমিগ্রেশন বিচারকের সামনে শুনানি হবে এবং তিনি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ পাবেন। গ্যাননের দাবি, তারা হিউস্টন থেকে লাস ভেগাসে একটি ফার্নিচার শিল্পের সম্মেলনে যাচ্ছিলেন। এয়ারপোর্টে ইয়াসমিনকে আটকের ঘটনাটি তার কাছে ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। তিনি বলেন, নিজের জীবনে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন বলে ভাবেননি। গ্যানন যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজারের বেশি বিলবোর্ডের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মেক্সিকোতেও তার হোটেল ও রেস্তোরাঁসহ একাধিক ব্যবসা রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। হবু স্ত্রীর আটকের পর ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে তার অবস্থান আমূল বদলে গেছে। গ্যানন বলেন, তিনি ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন আর সেই সিদ্ধান্ত নেবেন না। তার অভিযোগ, ইমিগ্রেশন অভিযানে অপরাধীদের পাশাপাশি এমন মানুষও আটক হচ্ছেন, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই। তিনি মনে করেন, সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, পরিবার বিচ্ছিন্ন করা নয়। আইসিইর বর্তমান অভিযান পরিবার ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ইয়াসমিন বর্তমানে টেক্সাসে ইমিগ্রেশন হেফাজতে রয়েছেন। তার ভবিষ্যৎ এখন ইমিগ্রেশন আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। অন্যদিকে যে প্রশাসনকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনতে সহায়তা করেছিলেন, সেই প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতির সরাসরি প্রভাব নিজের জীবনে পড়ার পর গ্যানন বলছেন, তিনি নিজেকে গভীরভাবে হতাশ ও প্রতারিত মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মুসলিমদের ধর্মীয় জীবনকে লক্ষ্য করে একাধিক কঠোর আইন করার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ও রাজনৈতিক কর্মী হিজাব, হালাল খাবার, ইসলামিক স্কুল এবং মুসলিম সংগঠন নিয়ে বিভিন্ন বিধিনিষেধের প্রস্তাব দিয়েছেন। আগস্টের শুরুতে ‘ট্রু টেক্সাস প্রজেক্ট’ আয়োজিত এক রাজনৈতিক সম্মেলনে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে মুসলিমদের প্রভাবকে ‘ইসলামিফিকেশন অব টেক্সাস’ হিসেবে তুলে ধরে কয়েকজন বক্তা কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানান। স্টেট সিনেটর বব হল বলেন, টেক্সাসে শরিয়াহ আইন ঠেকানো তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। আর স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যান্ডি হপার এমন কিছু প্রস্তাবের কথা বলেন, যেগুলোর লক্ষ্য মুসলিমদের জন্য জীবনকে ‘কঠিন’ করে তোলা। আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে পাবলিক স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করা, হালাল খাবার বিক্রিতে বিধিনিষেধ, ইসলামিক চার্টার স্কুল বন্ধ করা এবং মুসলিম সংগঠনগুলোর ওপর আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক তদন্ত বাড়ানো। কিছু প্রস্তাবে মুসলিমদের পেশাগত লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। এমনকি ইসলামকে ধর্মের পরিবর্তে রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার মাধ্যমে সেটিকে নিষিদ্ধ করার পথ তৈরির কথাও সম্মেলনে উঠে আসে। তবে এসব প্রস্তাবের কোনোটিই এখনো আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি এবং আগামী আইনসভা অধিবেশনে এগুলো কতটা সমর্থন পাবে, তা স্পষ্ট নয়। টেক্সাসের মুসলিম সম্প্রদায় অবশ্য এসব উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করছে। স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ সালমান ভোজানি, যিনি ২০২২ সালে টেক্সাস হাউসে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন, বলেন, টেক্সাসের মুসলিমরা কোনো হুমকি নয়; তারা এই রাজ্যেরই অংশ। আইন বিশেষজ্ঞরাও প্রস্তাবগুলোর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক আইন বিশেষজ্ঞ ডগলাস লেকক বলেছেন, ধর্মীয় পোশাক বা ধর্মীয় চর্চাকে লক্ষ্য করে এমন আইন হলে তা প্রথম সংশোধনীর অধিকার নিয়ে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, টেক্সাসের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ২ শতাংশ মুসলিম বলে পরিচয় দেন। এরই মধ্যে টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়কে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে। হিউস্টন ক্রনিকলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান বিতর্কের মধ্যে মসজিদ নির্মাণ, ইসলামিক আবাসিক প্রকল্প ও মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিরোধ দেখা দিয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হালাল খাবার নিষিদ্ধ করার কোনো আইন বর্তমানে টেক্সাসে কার্যকর নেই। বরং টেক্সাস আইনসভায় অতীতে পাবলিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবারের বিকল্প রাখার প্রস্তাবও উঠেছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২৭ সালে শরিয়াহ আইন নিষিদ্ধ করার আরও উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে হিজাব বা হালাল খাবার নিষিদ্ধ করার নির্দিষ্ট প্রস্তাবে গভর্নর সমর্থন করবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি। টেক্সাস আইনসভায় আগামী অধিবেশনের জন্য বিল প্রি-ফাইলিং শুরু হবে ৯ নভেম্বর, আর আইনসভা অধিবেশন শুরু হবে ১২ জানুয়ারি। অর্থাৎ, এসব প্রস্তাব এখনো মূলত রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও আলোচনার পর্যায়ে। তবে এগুলো বাস্তব আইনে রূপ নিলে ধর্মীয় স্বাধীনতা, বৈষম্য এবং সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে টেক্সাসে বড় ধরনের আইনি লড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ম্যাকিনিতে একটি নতুন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা বা কংগ্রেসম্যান কিথ সেলফ। তিনি ম্যাকিনি সিটি কাউন্সিলের কাছে ৫ দশমিক ৫ একর জায়গার ওপর ‘ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন অব ম্যাকিনি’-এর এই জোনিং আবেদনটি বাতিল করার জোর দাবি জানান। তবে তার এই কড়া বিরোধিতা এবং বিভিন্ন উসকানিমূলক অভিযোগ সত্ত্বেও সিটি কাউন্সিল সর্বসম্মতভাবে মসজিদ নির্মাণের পক্ষেই রায় দিয়েছে। কাউন্সিল সদস্যদের মতে, মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাবটি শহরের সব নিয়মকানুনের সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ। সিটি কাউন্সিলের শুনানিতে কিথ সেলফ তথাকথিত ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’ বা রাজনৈতিক ইসলাম এবং শরিয়া আইনকে স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কাউন্সিল সদস্যদের সতর্ক করে তিনি দাবি করেন যে, বাল্যবিবাহ বা অনার কিলিংয়ের মতো ঘটনা এখানে ঘটবে না—এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় কোনো বাহিনী স্থানীয়দের বাঁচাতে আসবে না। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যে ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর মাধ্যমে নির্যাতনের কিছু অভিযোগও তুলে ধরেন, যেখানে তিনি প্রায় আড়াই লাখ ভুক্তভোগীর কথা উল্লেখ করেন। তবে সরকারি বা নির্ভরযোগ্য কোনো নথিতে তার এই পরিসংখ্যানের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। ভার্জিনিয়া পার্কওয়ে এবং ক্রুচার ক্রসিংয়ের কাছাকাছি প্রস্তাবিত এই মসজিদটি নিয়ে ২০২৪ সাল থেকেই বিতর্ক চলে আসছিল। শুরুতে যানজট এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে কিছু উদ্বেগ থাকলেও পরবর্তীতে অ্যাসোসিয়েশন তাদের নকশা পরিবর্তন করে এবং যানজট ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নিজস্ব সমীক্ষা চালায়। মূলত উত্তর টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে রাজনৈতিক মহলের নজরদারি এবং রিপাবলিকান নেতাদের একাংশের কট্টর অবস্থানের কারণেই এই বিতর্ক বড় আকার ধারণ করে। এমনকি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মসজিদটির নির্ধারিত স্থানে লাগানো একটি সাইনবোর্ডে বড় আকারের ক্রস চিহ্ন এঁকে এবং যিশু খ্রিস্টের নাম লিখে তা ভাঙচুর করার ঘটনাও ঘটেছিল। শুনানিতে দেড় শতাধিক মানুষের দীর্ঘ মন্তব্য ও কিথ সেলফের মতো প্রভাবশালী রাজনীতিকের সরাসরি হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও ম্যাকিনি সিটি কাউন্সিল এই প্রকল্পটির জোনিং আবেদনটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করে। সিটি কাউন্সিলের সদস্য জাস্টিন বেলার এই প্রকল্প ঘিরে রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরের তীব্র সমালোচনা করেন। বিষয়টিকে ‘নির্বাচনি বছরে ভীতি ছড়ানোর অপকৌশল’ হিসেবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মানুষকে আলাদা করে বা বিভাজন তৈরি করে ক্ষমতা লাভের চেষ্টা অত্যন্ত সস্তা একটি উপায়। জোনিং আবেদনটি পাস হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ভবিষ্যতে প্রতিটি ধাপে আলাদাভাবে ভবন নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমতি নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সমালোচনা করলেন তারই এক সমর্থক। টেক্সাসের ৭৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী জন গ্যানন দাবি করেছেন, তার ভেনেজুয়েলীয় বাগদত্তা ইয়াসমিন সুয়ারেজ রেয়েসকে আইসিই (ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) আটক করার পর তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত। নিউজউইক ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাইয়ের শেষ দিকে লাস ভেগাসে একটি আসবাবপণ্য শিল্প-সংক্রান্ত সম্মেলনে যাওয়ার পথে হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে আইসিই কর্মকর্তারা ৪৫ বছর বয়সী ইয়াসমিন সুয়ারেজ রেয়েসকে আটক করেন। জন গ্যানন সিবিএস নিউজকে বলেন, বিমানবন্দরের ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের লাউঞ্জ থেকে বের হওয়ার পর আটজন আইসিই কর্মকর্তা তার বাগদত্তাকে ঘিরে ফেলেন। এরপর তাকে কারণ না জানিয়েই একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আজীবন রিপাবলিকান সমর্থক গ্যানন বলেন, "অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আইন মেনে চলা সাধারণ মানুষ, পরিবার ও শিশুদের এভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো উচিত নয়। এতে পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, সুযোগ পেলে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করতেন, "আপনি আসলে কী করছেন?" ট্রাম্পকে আবার ভোট দেবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "এই ঘটনার পর আর কখনও নয়।" প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়াসমিন সুয়ারেজ রেয়েস স্পেন ও ভেনেজুয়েলার দ্বৈত নাগরিক। স্পেনের নাগরিক হওয়ায় তিনি ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর ইএসটিএ বা ভিসা ছাড় কর্মসূচির আওতায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এই কর্মসূচির অধীনে সর্বোচ্চ ৯০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যান এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, আবেদনটি বিচারাধীন থাকায় তিনি বৈধভাবে কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) এবং টেক্সাসের ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছিলেন। তার আশ্রয় আবেদন তখনও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)-এর বিবেচনাধীন ছিল। এদিকে নিউজউইকের প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানায়, সুয়ারেজ রেয়েস বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও তার অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি শেষ হয়ে যায়। বিভাগটির ভাষ্য, বিচারাধীন অভিবাসন আবেদন নিজে থেকে কোনো বৈধ অভিবাসন মর্যাদা দেয় না। তার মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন একজন অভিবাসন বিচারক। ডিএইচএস আরও জানায়, যাদের মূল ভিসা বা বৈধ অবস্থানের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তারা নতুন আবেদন করে থাকলেও আইনগতভাবে আটক হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। বর্তমানে ইয়াসমিন সুয়ারেজ রেয়েস টেক্সাসের কনরো শহরের মন্টগোমারি প্রসেসিং সেন্টারে আইসিইর হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণ (রিমুভাল) সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে আইসিইর তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব অভিবাসীর নতুন আবেদন বিচারাধীন থাকলেও তাদের পূর্বের বৈধ অবস্থানের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান বাড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা। তাদের দাবি, সহজে আটক করা সম্ভব এমন ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তবে ডিএইচএস বলছে, তারা বিদ্যমান অভিবাসন আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সান আন্তোনিও শহরে নিখোঁজ হওয়ার পর দুই বছরের এক শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটিকে খুঁজে বের করতে রোববার তার নামে অ্যাম্বার অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল। পুলিশ জানায়, শিশুটির নাম আরিয়ানা ট্রেভিনো মার্টিনেজ। নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর তাকে উদ্ধারে জরুরি তল্লাশি শুরু হয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক করা হয়। সোমবার ভোরে সর্বশেষ যেখানে শিশুটিকে দেখা গিয়েছিল, সেই বাড়ির কাছ থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটির মৃত্যুর কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। পুলিশ বলেছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হবে না। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সাবেক পেশাদার বাস্কেটবল খেলোয়াড় ৭ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার জর্ডান 'টিনি' উইলমোর টেক্সাসের সবচেয়ে লম্বা পুলিশ কর্মকর্তা হতে যাচ্ছেন। টেক্সাস কমিশন অন ল এনফোর্সমেন্ট (টিসিওএলই)-এর লাইসেন্সিং পরীক্ষায় প্রথমবার মাত্র এক নম্বরের জন্য ব্যর্থ হলেও, অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। টেক্সাসের কেমাহ পুলিশ বিভাগে যোগ দেওয়ার দীর্ঘ যাত্রায় শেষ বাধাটি পেরিয়ে তিনি এখন চূড়ান্তভাবে সফল। আগামী ৭ জুলাই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ পড়ানো হবে। পরীক্ষায় পাসের খবর পেয়ে আবেগাপ্লুত জর্ডান বলেন, "আমি বুঝতে পারছি না আমার কেমন লাগছে। আমি আনন্দে কাঁদতে চাই, চিৎকার করতে চাই। আমি সত্যিই ভীষণ খুশি।" জর্ডানের পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার এই যাত্রাটি ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। নর্থওয়েস্টার্ন স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম-কমার্স-এর হয়ে কলেজ বাস্কেটবল খেলার পর তিনি পেশাদার লিগেও অংশ নিয়েছিলেন। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে একসময় তিনি বাস্কেটবলকে চিরতরে বিদায় জানান। ২০২৫ সালের আগস্টে কেমাহ পুলিশ বিভাগ তাদের এই নতুন রিক্রুটকে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়। উইকস মেরিন-এর স্পন্সরে পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রশিক্ষণ শেষ করলেও দুর্ভাগ্যবশত সে বছর রাজ্যের লাইসেন্সিং পরীক্ষায় মাত্র এক পয়েন্টের জন্য ফেল করেন তিনি। তবে হাল না ছেড়ে আরও সিরিয়াস হয়ে মাসের পর মাস পড়াশোনা চালিয়ে যান এই তরুণ। তার এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পে পাশে এসে দাঁড়ান এনবিএ কিংবদন্তি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দীর্ঘদিনের সমর্থক শাকিল ওনিল। গত ডিসেম্বরে কেমাহ পুলিশ বিভাগে এসে জর্ডানকে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয়বারের জন্য পুলিশ অ্যাকাডেমির পুরো খরচ বহনের দায়িত্ব নেন এই কিংবদন্তি তারকা। তার এই অসামান্য অধ্যবসায় কেমাহ পুলিশ বিভাগেরও আস্থা অর্জন করেছে। চিফ রেমন্ড গারিভে এক ফেসবুক পোস্টে জর্ডানকে অভিনন্দন জানিয়ে ৭ জুলাইয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের কথা নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে লম্বা পুলিশ কর্মকর্তাদের এলিট ক্লাবে যুক্ত হতে যাচ্ছেন, যেখানে আগে থেকেই রয়েছেন ৭ ফুট ৮ ইঞ্চির জর্জ বেল এবং ৭ ফুট ১ ইঞ্চির শাকিল ওনিল।
টেক্সাসের সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ‘টেন কমান্ডমেন্টস’ (দশ আদেশ) প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। হিউস্টন এলাকার তিনজন মা অঙ্গরাজ্যের নতুন আইনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, এই আইন অভিভাবকদের সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধ নির্ধারণের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। মামলায় বলা হয়েছে, টেক্সাসের সাম্প্রতিক সাংবিধানিক সংশোধনীতে অভিভাবকদের সন্তান লালন-পালন ও ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে নির্দিষ্ট ধর্মীয় বার্তা প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা সেই অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া টেক্সাস রিলিজিয়াস ফ্রিডম রেস্টোরেশন অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে। বিতর্কিত এই আইন অনুযায়ী, সরকারি স্কুলের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে নির্ধারিত আকার ও বিন্যাসে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন করতে হবে। পোস্টার দান করা হলে স্কুলগুলো তা টানাবে, আর প্রয়োজন হলে জেলা কর্তৃপক্ষ নিজেদের অর্থেও তা কিনতে পারবে। আইনটির সমর্থকদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক ও আইনি ঐতিহ্যের অংশ। তবে বাদীপক্ষের অভিভাবকদের বক্তব্য, সরকার কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বার্তা শিশুদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। তাদের মতে, পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী সন্তানকে শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব অভিভাবকদের, রাষ্ট্রের নয়। এটি টেক্সাসে এ ধরনের প্রথম মামলা নয়। এর আগে বিভিন্ন ধর্মীয় ও অধর্মীয় পরিবারের সদস্যরা একই আইনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছিলেন। সেইসব মামলায় সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র-ধর্ম পৃথক থাকার নীতির প্রশ্নও সামনে আসে। অন্যদিকে, টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন বরাবরই আইনটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার দাবি, ‘দশ আদেশ’ আমেরিকার আইন ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং শিক্ষার্থীদের সামনে তা প্রদর্শন করা আইনসঙ্গত। নতুন মামলার শুনানির মাধ্যমে টেক্সাসের এই বিতর্কিত আইন নিয়ে আইনি লড়াই আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মামলার ফলাফল শুধু টেক্সাস নয়, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্লানো শহরে অবস্থিত ইস্ট প্লানো ইসলামিক সেন্টার মসজিদের সামনে খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকদের কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। মামলায় ইসলামিক সেন্টারের দাবি ছিল, মসজিদের আশপাশে ধর্মীয় প্রচার, উচ্চস্বরে বক্তব্য এবং প্রচারপত্র বিতরণের কারণে মুসল্লিদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল এবং ধর্মীয় পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছিল। এ কারণে তারা আদালতের কাছে ওই কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছিল। তবে আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ধর্মপ্রচারকরা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান করছিলেন এবং মসজিদ থেকে কয়েকশ ফুট দূরে ছিলেন। আদালত মনে করেন, জনসাধারণের স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় মতপ্রকাশ ও প্রচার চালানো যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নিশ্চিত করা মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের আওতায় পড়ে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত ইসলামিক সেন্টারের আবেদন খারিজ করে দেয়। ফলে সংশ্লিষ্ট ধর্মপ্রচারকরা আগের মতোই নির্ধারিত জনসাধারণের স্থানে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং উপাসনালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার সীমারেখা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন শহরের বাসিন্দা এবং শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের দক্ষ সফটওয়্যার প্রকৌশলী ইয়াদেসা আগা লেক তাহোর হিমশীতল পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় নেভাডা অঙ্গরাজ্যের জনপ্রিয় স্যান্ড হারবার স্টেট পার্ক এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ওয়াশো কাউন্টি শেরিফ অফিস এবং আঞ্চলিক চিকিৎসা পরীক্ষক কার্যালয় থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ইয়াদেসা আগা লেকের কিনারে অবস্থিত পাথরের একটি দলের দিকে সাঁতার কেটে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক সে সময়ই তিনি হঠাৎ পানির নিচে তলিয়ে যান এবং সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে তলিয়ে যেতে দেখে মুহূর্তের মধ্যে উপস্থিত বেশ কয়েকজন সাহসী পথচারী ও উৎসুক জনতা তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন এবং অনেক চেষ্টার পর তাকে টেনে তীরে নিয়ে আসেন। তীরে আনার পরপরই শেরিফ বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে এসে তার জ্ঞান ফেরাতে বা সিপিআর দিতে শুরু করেন। পরবর্তীতে জরুরি চিকিৎসা সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের জীবন রক্ষাকারী কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। তবে দীর্ঘ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি এবং ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এই পুরো ঘটনাটিকে একটি আকস্মিক দুর্ঘটনাজনিত জলে ডুবে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক ও নিশ্চিত কারণ নির্ণয় করতে ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ রিপোর্টের প্রয়োজন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মেডিকেল অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার প্রতিবেদন তৈরি হতে সাধারণত ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মতো সময় লেগে যায়। লেক তাহোর এই স্যান্ড হারবার এলাকাটি এর স্ফটিকস্বচ্ছ পানি ও সুবিশাল পাথুরে গঠনের কারণে প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটককে আকর্ষণ করে থাকে। সাঁতার কাটা বা নৌকা চালানোর জন্য এটি বেশ জনপ্রিয় হলেও এখানকার পানির একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। স্থানীয় জননিরাপত্তা ক্যাম্পেইনের তথ্য অনুসারে, লেকের অত্যন্ত ঠান্ডা পানির আকস্মিক ধাক্কার কারণে প্রতি বছর গড়ে প্রায় সাতজন মানুষ প্রাণ হারান। এর আগেও এই একই এলাকায় এমন আরও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। এদিকে, সহকর্মীরা ইয়াদেসা আগাকে স্মরণ করে তাকে অত্যন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী এবং একজন ভালো সহকর্মী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার এমন আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ টেক্সাস নিবাসী নাজিয়া হাজি জাদা নামের এক আফগান নারীকে 'বিদেশি সন্ত্রাসী' আখ্যা দিয়ে দেশ থেকে বহিষ্কারের আবেদন করেছে। প্রায় ৩০ বছর আগে গঠিত বিরল 'এলিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট' বা বিশেষ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো মামলার শুনানি হতে যাচ্ছে। ফোর্ট ওয়ার্থের বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী নাজিয়া বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নির্বাচনের দিন একটি ব্যর্থ বন্দুক হামলা বা বড় ধরনের হামলার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তার কথিত সম্পৃক্ততার অভিযোগে আইনজীবীরা তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবেন। কার্যকরী অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, "এই মামলার অভিযোগগুলো এমন এক পরিবারের প্রধানকে তুলে ধরে যারা দায়েশ মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং আমেরিকার ভোটারদের ওপর হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করেছিল।" নাজিয়া জাদার বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সন্ত্রাসবাদের ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি এবং তার কোনো পূর্ব অপরাধের রেকর্ডও নেই। তবে তার ছেলে আবদুল্লাহ হাজি জাদা এবং জামাতা নাসির আহমেদ তৌহিদি এফবিআই-এর এক গোপন এজেন্টের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার পর সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় গ্রেফতার হওয়া আবদুল্লাহকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং মুক্তির পর তাকে বহিষ্কারের চুক্তি হয়। তৌহিদিও ২০২৫ সালে দায়েশকে সমর্থনের কথা স্বীকার করেন। এফবিআই-এর একটি সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, এক নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় নাজিয়া ওই ষড়যন্ত্রকে সমর্থন করেছিলেন এবং তার সন্তানদের মধ্যে এই উগ্রবাদী আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করেছিলেন। এফবিআই আরও জানিয়েছে, নাজিয়া তার অজ্ঞ স্বামীর কাছ থেকে পরিবারের এই উগ্রবাদী পরিকল্পনা ও আদর্শ গোপন রেখেছিলেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে গঠিত 'এলিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট' সরকারের জন্য এমন এক বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করে যেখানে গোপন তথ্য ব্যবহার করে অনাগরিকদের দেশ থেকে বহিষ্কার করা যায়। এই প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গোপনীয় তথ্য দেখতে বা তা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন না। প্রাথমিক কার্যক্রমগুলো গোপনীয়ভাবে সম্পন্ন হয় এবং বহিষ্কারের আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পরেই কেবল প্রকাশ্য শুনানি হয়। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রিচার্ডসনে একটি বড় আকারের ব্যাপটিস্ট চার্চ কিনেছে মুসলিম সংগঠন সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমি (এসএএফএ)। আইনি জটিলতার অবসানের পর সংগঠনটি ওই চার্চ প্রাঙ্গণকে ইসলামিক স্কুল, সেমিনারি এবং মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমি একটি কে-১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় শিক্ষাকে একীভূত করে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা। নতুন কেনা এই সম্পত্তিতে এসএএফএর পাশাপাশি অথেনটিক ইলম মিশন (এআইএম) যৌথভাবে দাওয়াহ একাডেমি অ্যান্ড সেমিনারি চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের আবাসিক দাওয়াহ সেমিনারিগুলোর একটি হবে, যেখানে ইসলামিক স্টাডিজে উচ্চশিক্ষাসহ বিভিন্ন কোর্স পরিচালনা করা হবে। এআইএম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো এমন যোগ্য ও নীতিবান নেতৃত্ব তৈরি করা, যারা জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সঙ্গে ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন এবং ধর্মীয় বিষয়ে প্রামাণিক জ্ঞান তুলে ধরতে সক্ষম হবেন। চার্চ হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এআইএমের এক বক্তা বলেন, যে ভবন একসময় মুসলিমদের খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরের প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হতো, সেটিই এখন মুসলিম শিক্ষা ও ধর্মীয় কার্যক্রমের কেন্দ্র হতে যাচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্পত্তি কেনা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে আইনি বিরোধ চলছিল। এসএএফএর অভিযোগ ছিল, ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রায় ৩.৮ মিলিয়ন ডলারে সম্পত্তিটি কেনার জন্য চার্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয় এবং তারা ৩৮ হাজার ডলার অগ্রিম অর্থ প্রদান করে। তবে নির্ধারিত সময়ে হস্তান্তর না হওয়ায় বিরোধ তৈরি হয়। চার্চ কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তাদের পাস্টর চুক্তির বিষয়টি ভুলভাবে বুঝেছিলেন এবং তিনি এটিকে বিক্রয় চুক্তি নয়, বরং সম্পত্তি তালিকাভুক্তির কোনো নথি ভেবেছিলেন। এরপর এসএএফএ চুক্তি কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয় এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করে। পরে আদালতের চূড়ান্ত রায় ছাড়াই বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের পথ পরিষ্কার হয়। টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়ের উপস্থিতি গত কয়েক দশকে বেড়েছে। বিভিন্ন জনমিতিক তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যটির মোট জনসংখ্যার একটি ছোট অংশ মুসলিম হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যার দিক থেকে টেক্সাস অন্যতম বড় অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি। ধর্মীয় স্থাপনার পরিবর্তিত ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কোনো ঘটনা নয়। বিভিন্ন সময় গির্জা, সিনাগগ বা অন্য ধর্মীয় স্থাপনা নতুন সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে। রিচার্ডসনের এই ঘটনা দেশটিতে ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও সম্প্রদায়ভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিস্তার নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।