যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর ১১ বিলিয়ন ডলারের শিক্ষাঋণ মওকুফ
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতারণামূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া আরও প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর মোট ১১ বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল শিক্ষাঋণ চূড়ান্তভাবে মওকুফ করা হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আপিল আদালত ঋণগ্রহীতাদের পক্ষে একটি যুগান্তকারী রায় দেওয়ার পর এই বিপুল অঙ্কের ঋণ বাতিলের পথ পুরোপুরি সুগম হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রতারিত শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হলো।
মামলাটির সূত্রপাত ঘটেছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালে। তখন অভিযোগ উঠেছিল, বেশ কয়েকটি লাভজনক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করায় এবং তাদের বিপুল পরিমাণ ফেডারেল ঋণ নিতে একপ্রকার বাধ্য করে।
পরবর্তীতে ২০২২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় সরকার এই মামলাটির নিষ্পত্তিতে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। সেই প্রাথমিক চুক্তির আওতায় প্রায় ৩ লাখ ঋণগ্রহীতার শিক্ষাঋণ আগেই মওকুফ করা হয়েছিল। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর যেসব শিক্ষার্থী প্রতারণার অভিযোগ করেছিলেন, তাদের আবেদনগুলো ইউএস এডুকেশন ডিপার্টমেন্টকে পর্যালোচনা করার জন্য ২০২৬ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। শর্ত ছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।
কিন্তু ২০২৫ সালের শেষ দিকে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন এসব ঝুলে থাকা আবেদন পর্যালোচনার জন্য আদালতের কাছে আরও ১৮ মাস বাড়তি সময় চেয়েছিল। একটি ফেডারেল জেলা আদালত তাদের সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালতের তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল সর্বসম্মতভাবে সেই খারিজের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন। আপিল আদালতের এই রায়ের ফলেই মূলত সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তি না হওয়া ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয়ে যায়।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে পুরো শ্রেণিভিত্তিক (ক্লাস-অ্যাকশন) মামলাটির আওতায় উপকৃত মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫ লাখে গিয়ে দাঁড়াল, যাদের মোট ২৩ বিলিয়ন ডলারের শিক্ষাঋণ চিরতরে বাতিল হতে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষে মামলাটি পরিচালনাকারী অলাভজনক আইনি সংস্থা 'প্রজেক্ট অন প্রিডেটরি স্টুডেন্ট লেন্ডিং' জানিয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শ্রেণিভিত্তিক আইনি সমঝোতা। সংস্থাটির দেওয়া তথ্যমতে, ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকদের এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আর্থিক নিষ্পত্তির নজিরবিহীন ঘটনা।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকরা বর্তমানে শেয়ারবাজারের উত্থান-পতনের চেয়ে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদা—যেমন খাদ্য, চিকিৎসা এবং বাসস্থানের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটানো নিয়ে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের প্রকাশিত এক নতুন জরিপে মার্কিন জনজীবনের এই উদ্বেগজনক চিত্রটি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফল বলছে, জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয় সাধারণ মানুষের জন্য শেয়ারবাজারের যেকোনো ঝুঁকির চেয়েও বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত জুলাই মাসে পরিচালিত এই জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৬৯ শতাংশ উত্তরদাতা স্বাস্থ্যসেবার অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে 'অত্যন্ত উদ্বিগ্ন' বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ৬৬ শতাংশ মানুষ খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং ৬৪ শতাংশ মানুষ বাসস্থানের খরচ নিয়ে তাদের চরম উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেছেন। এর বিপরীতে, দেশের শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত এমন মানুষের সংখ্যা মাত্র ১৮ শতাংশ। গ্যালাপের অপর এক জরিপের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬২ শতাংশ নাগরিকের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ থাকলেও, মৌলিক ব্যয়ের চাপই তাদের কাছে বর্তমানে প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক এসব সংকট নিয়ে মার্কিন দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেও ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সার্বিকভাবে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটরা অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক এই মতপার্থক্য সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়েছে বেকারত্ব ইস্যুতে। জরিপ বলছে, বেকারত্ব নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের ৫৭ শতাংশ মানুষ চিন্তিত হলেও রিপাবলিকানদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২৯ শতাংশ। এছাড়া জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের দাম এবং দেশের অর্থনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব নিয়েও ডেমোক্র্যাটরা তুলনামূলক সামান্য বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে শেয়ারবাজার নিয়ে অনাগ্রহের বিষয়টি উভয় দলের সমর্থকদের মধ্যেই প্রায় সমান। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য জরিপে অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে দুষছেন। জরিপের ৬০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ট্রাম্পের নেওয়া নীতি দেশের অর্থনীতিকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের নেতিবাচক মনোভাবের হার ৮৯ শতাংশ। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, খোদ রিপাবলিকানদের মধ্যেও বর্তমান প্রশাসন নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় গত জানুয়ারি মাসে ট্রাম্পের অর্থনীতি পরিচালনার প্রতি যেখানে ৫৭ শতাংশ রিপাবলিকানের সমর্থন ছিল, তা বর্তমানে কমে মাত্র ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এই বিস্তৃত জরিপটি গত ৬ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে ৩ হাজার ৫৫৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনির মতামতের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ধরপাকড়ে নতুন রেকর্ড, জুলাইয়ে গ্রেপ্তার ৫১ হাজার
ফ্লোরিডায় খেলনা কিচেন সেটে মাথা আটকে মর্মান্তিক মৃত্যু ৩ বছরের শিশুর
যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর ১১ বিলিয়ন ডলারের শিক্ষাঋণ মওকুফ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক প্রেমিকার ওপর বেআইনিভাবে নজরদারি চালানোর অভিযোগে জেমস ইক্সকয় নামের এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বেল পুলিশ বিভাগের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তার সাবেক প্রেমিকার গাড়িতে অত্যন্ত সন্তর্পণে একটি জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইস বসানোর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই নারীর আরেক সাবেক প্রেমিকের ব্যক্তিগত তথ্য হাতড়াতে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ডিপার্টমেন্ট অফ মোটর ভেহিকেলসের (ডিএমভি) ডেটাবেসে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন বলেও প্রমাণ মিলেছে। গত সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আগামী ২ অক্টোবর ফল্টজ ক্রিমিনাল জাস্টিস সেন্টারে তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নাথান জে. হকম্যান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন শপথপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও ইক্সকয় তার ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছেন। যাদের ওপর তিনি নজরদারি চালাচ্ছিলেন, তারা ঘুণাক্ষরেও এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কিছু টের পাননি। অনুমতি ছাড়া বেআইনিভাবে কম্পিউটার ডেটা ব্যবহার করায় তার বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অপরাধের (ফেলোনি) অভিযোগ এবং ইলেকট্রনিক ট্র্যাকিং ডিভাইসের অবৈধ ব্যবহারের জন্য একটি লঘুতর অপরাধের (মিসডিমিনার) অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি আরও জানান, জনগণের সেবা করার পবিত্র দায়িত্ব ভুলে যখন কোনো কর্মকর্তা নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে এভাবে ডেটাবেস হ্যাক করেন এবং জিপিএস ট্র্যাকার লাগান, তখন এমন বিভ্রান্তিকর ও জঘন্য কাজের পরিণতি হিসেবে তাকে জেলের সেলেই সময় কাটাতে হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ১৭ জুলাই ইক্সকয় অনুমতি ছাড়াই ডিএমভি ডেটাবেস থেকে ওই নারীর অপর সাবেক প্রেমিকের গাড়ির নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। এর ঠিক এক মাস পর, ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট তিনি তার সাবেক প্রেমিকার গাড়িতে গোপনে ওই জিপিএস ট্র্যাকারটি স্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আদালতে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে ইক্সকয়কে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন বছর পর্যন্ত কাউন্টি জেলে কাটাতে হতে পারে। এই পুলিশ কর্মকর্তার দ্বারা অন্য কেউ একই ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে থাকলে বা কারও কাছে এ বিষয়ে আরও তথ্য থাকলে তাদের বেল গার্ডেন্স পুলিশ বিভাগের সাথে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নিউইয়র্কে বিলাসবহুল ইয়টে ফ্যাশন ডিজাইনারের মৃত্যু, মালিকের বিরুদ্ধে ৫০ মিলিয়ন ডলারের মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের সমুদ্রসৈকতে দাপট দেখাতে গিয়ে উল্টো ঘুষি খেয়ে কুপোকাত মার্কিন কংগ্রেস প্রার্থী
জর্জিয়ায় আইস বন্দিশিবিরে চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ, প্রাণ গেল ২৯ বছরের তরুণের
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (ICE) একটি বন্দিশিবিরে সরবরাহ করা পানের পানিতে ‘কীট বা পোকা-জাতীয়’ প্রাণীর উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। অ্যাডেলান্টো নামের ওই বন্দিশিবিরে আটক কার্লিটোস রিকার্ডো পারিয়াস নামের এক ব্যক্তির ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্লাস্টিকের পানির বোতলে ছোট ছোট পোকা কিলবিল করছে। গত সপ্তাহে ধারণ করা এই ভিডিওটি তার আইনজীবী মার্গারেট হেলারস্টাইনের মাধ্যমে ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকার কাছে পৌঁছানোর পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। কার্লিটোস রিকার্ডো পারিয়াস, যিনি অনলাইনে টিকটক ক্রিয়েটর 'রিচার্ড এলএ' নামে পরিচিত, জানান যে বন্দিদের জন্য সরবরাহ করা বড় পাত্র থেকেই তিনি এই পানি বোতলে ভরে প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করেছেন। আইনজীবীর মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "আমাদের বিশুদ্ধ পানের পানি এবং কর্তৃপক্ষের আরও ভালো আচরণ প্রয়োজন।" উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে এক আইসিই এজেন্টের গুলিতে আহত হওয়ার পর তিনি খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আনা হামলার অভিযোগ বিচারক খারিজ করে দিলেও তাকে আইসিই হেফাজতে স্থানান্তর করা হয় এবং বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই ভিডিওটি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই অ্যাডেলান্টো বন্দিশিবিরের ‘বিপজ্জনক পরিস্থিতি’ এবং পানি সংকটের সমাধান করতে একটি ফেডারেল আদালত কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল। বেসরকারি কারা ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘জিও গ্রুপ’ পরিচালিত এই কেন্দ্রে বন্দিদের জন্য ২৪ ঘণ্টা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে বিচারক নির্দেশ দিয়েছিলেন। মামলাটি পরিচালনাকারী আইনি সহায়তা সংস্থা পাবলিক কাউন্সেলের আইনজীবী রেবেকা ব্রাউন জানিয়েছেন, "ভিডিওটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। বন্দিরা দীর্ঘদিন ধরেই সেখানকার ঘোলাটে, দুর্গন্ধযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পানি নিয়ে অভিযোগ করে আসছেন।" অন্যদিকে, ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) সরাসরি এই ভিডিওর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে তারা দাবি করেছে, অ্যাডেলান্টো বন্দিশিবিরে স্থানীয় এলাকার সরবরাহকৃত মিউনিসিপ্যাল পানিই ব্যবহার করা হয়। চলতি সপ্তাহে আদালতে দেওয়া এক নথিতে ডিএইচএস আইনজীবীরা দাবি করেছেন, স্বাধীন পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে সেখানকার পানি এফডিএ (FDA)-এর পরিচ্ছন্নতার মানদণ্ড সম্পূর্ণরূপে পূরণ করে। একইসঙ্গে তারা এও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে যে, ওই বন্দিশিবিরের বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার আইনি ও মূল দায়িত্ব জিও গ্রুপের, তাদের নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে নিজ বাসা থেকে বাবা ও দুই মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার, শোকাহত কমিউনিটি
ইরানকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ করেই ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র: মার্কো রুবিও