যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ঘন জঙ্গলের মধ্যে একটি গম্বুজাকৃতির বাড়িতে বসবাস করেন শন ও জেসিকা হিউজ দম্পতি। নিকটতম মুদি দোকানে যেতে তাদের পাঁচ ঘণ্টারও বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়। মাসে দুইবার দীর্ঘ এই যাত্রা করতে হলেও তারা মনে করেন, এটাই তাদের কাঙ্ক্ষিত জীবন।
আজ থেকে কয়েক বছর আগে তাদের জীবন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বড় স্বপ্ন নিয়ে পশ্চিম পেনসিলভানিয়া থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু উচ্চ আয় থাকা সত্ত্বেও জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। একপর্যায়ে সবকিছু হারিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় এক বছরের বেশি সময় গৃহহীন অবস্থায় কাটাতে হয় তাদের।
দম্পতির ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তাদের জীবনের অধিকাংশ সময় কেটে যেত কাজের পেছনে। বছরে এক লাখ ডলারের বেশি আয় করলেও সেই অর্থে স্বস্তির জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বরং প্রতিদিনের ব্যয় মেটাতেই সংগ্রাম করতে হচ্ছিল।
পরিস্থিতি কিছুটা বদলায় যখন তারা একটি আরভি বা ভ্রাম্যমাণ বাসগাড়ি কিনতে সক্ষম হন। পরে মরুভূমি এলাকায় বসবাসের সময় ইউটিউবে অফ-গ্রিড জীবনধারা নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হন। তখনই তারা সিদ্ধান্ত নেন, প্রচলিত জীবন থেকে সরে এসে স্বনির্ভর জীবন গড়ে তুলবেন।
২০২১ সালের এপ্রিলে একটি মালিকানাভিত্তিক জমি বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা প্রায় এক হাজার ডলারে ২০ একর জমি কেনেন। জমিটি ছিল টেনেসির একটি প্রত্যন্ত বনাঞ্চলে। বর্তমানে ওই জমির জন্য প্রতি মাসে তাদের প্রায় ৫৬০ ডলার পরিশোধ করতে হয়।
শুরুতে তারা স্থায়ী বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করেননি। আরভিতেই থাকার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বাসগাড়িটিতে পানি ঢুকে ছত্রাক ছড়িয়ে পড়ায় সেটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে তারা একটি ছোট টুলশেডে আশ্রয় নেন।
সেই সংকট থেকেই দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে নির্মাণযোগ্য বাড়ির খোঁজ শুরু হয়। পরে তারা জিওডেসিক ডোম বা গম্বুজাকৃতির বাড়ির ধারণা পান। কাঠামোটি ঝড়-বৃষ্টি মোকাবিলায় তুলনামূলক শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি নির্মাণ খরচও কম ছিল।
বাড়িটির মূল কাঠামো, পরিবহন ব্যয় এবং অতিরিক্ত ডেক নির্মাণে প্রায় ১০ হাজার ডলার খরচ হয়। পরে পানির সংযোগ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, কাঠের চুলাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো স্থাপনে আরও প্রায় ২০ হাজার ডলার ব্যয় করেন তারা। সব মিলিয়ে বাড়িটি নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রে একটি সাধারণ বাড়ির গড় মূল্যের তুলনায় অনেক কম।
তবে এই জীবন একেবারেই চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। গ্রীষ্মকালে গম্বুজাকৃতির বাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আবার শীতকালে তা নেমে আসে ২০ ডিগ্রিতে। ফলে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ তাদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ।
এ ছাড়া বন্যপ্রাণী ও পোকামাকড়ের সঙ্গে সহাবস্থান করাও সহজ ছিল না। জেসিকা জানান, প্রথম দিকে সাপ, টিকটিকি, মৌমাছি ও বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপস্থিতি তাকে ভীষণ অস্বস্তিতে ফেলেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখেছেন।
পানির ব্যবস্থাও তাদের নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলতে হয়েছে। জমির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝরনার পানি এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে ব্যবহার করেন তারা। কাপড় ধোয়ার মতো সাধারণ কাজের জন্যও অনেক সময় ঝরনার কাছে যেতে হয়।
তবু শন মনে করেন, এই জীবন তাদের স্বাধীনতা দিয়েছে। তার ভাষায়, শহুরে জীবনে অর্থ দিয়ে যে সুবিধা কিনতে হয়, অফ-গ্রিড জীবনে সেগুলোর জন্য শ্রম দিতে হয়। কিন্তু সেই শ্রমের বিনিময়ে তারা নিজের জীবনকে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন।
দম্পতি নিজেদের খাদ্যের একটি বড় অংশ উৎপাদন করেন। বিভিন্ন ফল ও সবজি চাষ করেন, খাবার সংরক্ষণের কৌশল শিখছেন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে পণ্য বিনিময়ও করেন। তাদের লক্ষ্য যতটা সম্ভব স্বনির্ভর হওয়া।
অন্যদিকে, এই জীবনধারাকে কেন্দ্র করে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। টিকটক ও ইউটিউবে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তারা। বিশেষ করে অফ-গ্রিড জীবনের বাস্তবতা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং প্রতিদিনের সংগ্রামের কথা খোলামেলাভাবে বলার কারণে তাদের অনুসারী সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আয়, করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতা এবং ভিডিও নির্মাণের কাজ থেকেও উপার্জন করছেন তারা। এর ফলে জমি ছেড়ে বাইরে নিয়মিত চাকরি করতে হয় না।
ভবিষ্যতে তারা আরও বড় বা বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। বরং ছোট ও সহজ জীবনধারা বজায় রেখে প্রায় এক হাজার বর্গফুটের একটি কেবিন নির্মাণ করতে চান। পাশাপাশি একটি গ্রিনহাউস এবং উন্নত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
গৃহহীন জীবন থেকে শুরু করে স্বনির্ভর অফ-গ্রিড জীবনে পৌঁছানোর এই যাত্রা অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে। তবে শন ও জেসিকা মনে করেন, এটি কোনো রূপকথা নয়। বরং স্বাধীনতা, শ্রম, ত্যাগ এবং বাস্তবতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি ভিন্নধর্মী জীবনযাপন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ঘন জঙ্গলের মধ্যে একটি গম্বুজাকৃতির বাড়িতে বসবাস করেন শন ও জেসিকা হিউজ দম্পতি। নিকটতম মুদি দোকানে যেতে তাদের পাঁচ ঘণ্টারও বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়। মাসে দুইবার দীর্ঘ এই যাত্রা করতে হলেও তারা মনে করেন, এটাই তাদের কাঙ্ক্ষিত জীবন। আজ থেকে কয়েক বছর আগে তাদের জীবন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বড় স্বপ্ন নিয়ে পশ্চিম পেনসিলভানিয়া থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু উচ্চ আয় থাকা সত্ত্বেও জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। একপর্যায়ে সবকিছু হারিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় এক বছরের বেশি সময় গৃহহীন অবস্থায় কাটাতে হয় তাদের। দম্পতির ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তাদের জীবনের অধিকাংশ সময় কেটে যেত কাজের পেছনে। বছরে এক লাখ ডলারের বেশি আয় করলেও সেই অর্থে স্বস্তির জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বরং প্রতিদিনের ব্যয় মেটাতেই সংগ্রাম করতে হচ্ছিল। পরিস্থিতি কিছুটা বদলায় যখন তারা একটি আরভি বা ভ্রাম্যমাণ বাসগাড়ি কিনতে সক্ষম হন। পরে মরুভূমি এলাকায় বসবাসের সময় ইউটিউবে অফ-গ্রিড জীবনধারা নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হন। তখনই তারা সিদ্ধান্ত নেন, প্রচলিত জীবন থেকে সরে এসে স্বনির্ভর জীবন গড়ে তুলবেন। ২০২১ সালের এপ্রিলে একটি মালিকানাভিত্তিক জমি বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা প্রায় এক হাজার ডলারে ২০ একর জমি কেনেন। জমিটি ছিল টেনেসির একটি প্রত্যন্ত বনাঞ্চলে। বর্তমানে ওই জমির জন্য প্রতি মাসে তাদের প্রায় ৫৬০ ডলার পরিশোধ করতে হয়। শুরুতে তারা স্থায়ী বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করেননি। আরভিতেই থাকার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বাসগাড়িটিতে পানি ঢুকে ছত্রাক ছড়িয়ে পড়ায় সেটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে তারা একটি ছোট টুলশেডে আশ্রয় নেন। সেই সংকট থেকেই দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে নির্মাণযোগ্য বাড়ির খোঁজ শুরু হয়। পরে তারা জিওডেসিক ডোম বা গম্বুজাকৃতির বাড়ির ধারণা পান। কাঠামোটি ঝড়-বৃষ্টি মোকাবিলায় তুলনামূলক শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি নির্মাণ খরচও কম ছিল। বাড়িটির মূল কাঠামো, পরিবহন ব্যয় এবং অতিরিক্ত ডেক নির্মাণে প্রায় ১০ হাজার ডলার খরচ হয়। পরে পানির সংযোগ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, কাঠের চুলাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো স্থাপনে আরও প্রায় ২০ হাজার ডলার ব্যয় করেন তারা। সব মিলিয়ে বাড়িটি নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রে একটি সাধারণ বাড়ির গড় মূল্যের তুলনায় অনেক কম। তবে এই জীবন একেবারেই চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। গ্রীষ্মকালে গম্বুজাকৃতির বাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আবার শীতকালে তা নেমে আসে ২০ ডিগ্রিতে। ফলে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ তাদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া বন্যপ্রাণী ও পোকামাকড়ের সঙ্গে সহাবস্থান করাও সহজ ছিল না। জেসিকা জানান, প্রথম দিকে সাপ, টিকটিকি, মৌমাছি ও বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপস্থিতি তাকে ভীষণ অস্বস্তিতে ফেলেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখেছেন। পানির ব্যবস্থাও তাদের নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলতে হয়েছে। জমির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝরনার পানি এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে ব্যবহার করেন তারা। কাপড় ধোয়ার মতো সাধারণ কাজের জন্যও অনেক সময় ঝরনার কাছে যেতে হয়। তবু শন মনে করেন, এই জীবন তাদের স্বাধীনতা দিয়েছে। তার ভাষায়, শহুরে জীবনে অর্থ দিয়ে যে সুবিধা কিনতে হয়, অফ-গ্রিড জীবনে সেগুলোর জন্য শ্রম দিতে হয়। কিন্তু সেই শ্রমের বিনিময়ে তারা নিজের জীবনকে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন। দম্পতি নিজেদের খাদ্যের একটি বড় অংশ উৎপাদন করেন। বিভিন্ন ফল ও সবজি চাষ করেন, খাবার সংরক্ষণের কৌশল শিখছেন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে পণ্য বিনিময়ও করেন। তাদের লক্ষ্য যতটা সম্ভব স্বনির্ভর হওয়া। অন্যদিকে, এই জীবনধারাকে কেন্দ্র করে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। টিকটক ও ইউটিউবে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তারা। বিশেষ করে অফ-গ্রিড জীবনের বাস্তবতা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং প্রতিদিনের সংগ্রামের কথা খোলামেলাভাবে বলার কারণে তাদের অনুসারী সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আয়, করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতা এবং ভিডিও নির্মাণের কাজ থেকেও উপার্জন করছেন তারা। এর ফলে জমি ছেড়ে বাইরে নিয়মিত চাকরি করতে হয় না। ভবিষ্যতে তারা আরও বড় বা বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। বরং ছোট ও সহজ জীবনধারা বজায় রেখে প্রায় এক হাজার বর্গফুটের একটি কেবিন নির্মাণ করতে চান। পাশাপাশি একটি গ্রিনহাউস এবং উন্নত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। গৃহহীন জীবন থেকে শুরু করে স্বনির্ভর অফ-গ্রিড জীবনে পৌঁছানোর এই যাত্রা অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে। তবে শন ও জেসিকা মনে করেন, এটি কোনো রূপকথা নয়। বরং স্বাধীনতা, শ্রম, ত্যাগ এবং বাস্তবতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি ভিন্নধর্মী জীবনযাপন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস এলাকার সুপরিচিত ও অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ প্রবাসী বাংলাদেশি রাহুল হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার রাতে তিনি আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে ব্রুকলিনের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবার ও তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে রাহুলের শারীরিক অবস্থার হঠাৎ মারাত্মক অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি গুরুতর দেখে কালক্ষেপণ না করে তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। জ্যাকসন হাইটসের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রাহুল ছিলেন এক অতি পরিচিত ও আপন নাম। নিজের আন্তরিক ব্যবহার, সদা হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কারণে তিনি সবার কাছেই ভীষণ প্রিয় ছিলেন। এমন একজন প্রাণবন্ত ও পরোপকারী মানুষের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এক বিষাদময় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধু, স্বজন এবং দীর্ঘদিনের পরিচিতজনরা গভীর শোক ও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। পরিচিতরা তাকে একজন অত্যন্ত মানবিক, সদালাপী ও সহৃদয় মানুষ হিসেবেই স্মরণ করছেন। রাহুলের এই অকাল প্রয়াণে নিউইয়র্ক প্রবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ির এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৮ বছর বয়সী ভারতীয় পর্যটক রোমাঞ্চ মহাজনের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত এবং বহুল আলোচিত ‘রাইডার্স ল’-এর নাম পরিবর্তন করে এখন ‘রোমাঞ্চস ল’ বা রোমাঞ্চের আইন রাখা হচ্ছে। গত সপ্তাহে পরিবারের সাথে সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়িতে ঘোরার সময় ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার শিকার হন সদ্য হাইস্কুল পেরোনো ওই তরুণ। সিটি কাউন্সিলম্যান ক্রিস মার্টে বিলটি পুনরায় উত্থাপন করে নিহত কিশোরের প্রতি সম্মান জানাতে এর নতুন নামকরণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, গত বুধবার সেন্ট্রাল পার্কের চেরি হিল ফাউন্টেনের কাছে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য গাড়ির চালক নিয়ম ভেঙে নিচে নামলে ঘোড়াটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছুটতে শুরু করে। এ সময় রোমাঞ্চের মা গাড়ি থেকে ছিটকে পড়লে তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে রোমাঞ্চ নিজেও লাফ দেন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কেম্প চালকের এমন দায়িত্বহীন আচরণের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই চালকদের গাড়ি ছেড়ে ছবি তুলতে যাওয়ার নিয়ম নেই। ঘটনার পর ওই চালককে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার সাথে জড়িত ‘স্যাম্পসন’ নামের সাত বছর বয়সী ঘোড়াটিকেও স্থায়ীভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘোড়ার গাড়ির কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনা রোধে ২০২২ সালে তীব্র গরমে ‘রাইডার’ নামের একটি ঘোড়ার মৃত্যুর পর সাবেক সিটি কাউন্সিলম্যান বব হোলডেন এই বিলটি প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন। সোমবার সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজিত এক স্মরণসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এর নতুন নাম ঘোষণার কথা রয়েছে। সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাসে বিলটির ওপর একটি বিশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানিও তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় এই বিপজ্জনক শিল্পটি বন্ধের বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন। সিটি কাউন্সিলের দাবি, এই বিলটি পাস হলে নিউইয়র্কের রাস্তায় ঘোড়ার গাড়ির দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ হবে এবং এর সাথে জড়িত কর্মীরা তুলনামূলক নিরাপদ ও স্থিতিশীল পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।