সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মেক্সিকোর হ্যালোপিনো মরিচে ভয়াবহ ব্যাকটেরিয়া , যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ অঙ্গরাজ্যে অসুস্থ ৩৪৫ জন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ৫:২৯
হ্যালোপিনো মরিচে ব্যাকটেরিয়া
হ্যালোপিনো মরিচে ব্যাকটেরিয়া

মেক্সিকো থেকে আমদানি করা তাজা হ্যালোপিনো মরিচের সঙ্গে যুক্ত সালমোনেলা প্রাদুর্ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ অঙ্গরাজ্যে অন্তত ৩৪৫ জন অসুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন  এবং সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন  যৌথভাবে ঘটনাটি তদন্ত করছে।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্ত হ্যালোপিনো মরিচগুলো মেক্সিকোর সিনালোয়া অঞ্চল থেকে উৎপাদিত এবং কোস্ট সিট্রাস ডিস্ট্রিবিউটরসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, পাইকারি বিক্রেতা ও ফুড সার্ভিস প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি এখন সংশ্লিষ্ট পণ্য রিকল করছে এবং যেসব গ্রাহকের কাছে মরিচ পৌঁছেছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের অসুস্থতা শুরু হয়েছে ১৯ জুন থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে। তদন্তকারীরা ১৯১ জন রোগীর সঙ্গে কথা বলেন। তাদের মধ্যে ১৭৭ জন, অর্থাৎ ৯৩ শতাংশ, অসুস্থ হওয়ার আগে কোনো না কোনো মেক্সিকান-স্টাইল রেস্টুরেন্টে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এসব রেস্টুরেন্টের মধ্যে চিপোটলে মেক্সিকান গ্রিল ও কিউডোবার নামও এসেছে।

 

তবে এফডিএ ও সিডিসি জানিয়েছে, চিপোটলে ও কিউডোবা বর্তমানে গ্রাহকদের জন্য চলমান ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। চিপোটলে ২০ জুলাই থেকে দেশব্যাপী তাদের হ্যালোপিনো সরবরাহকারী পরিবর্তন করেছে। কিউডোবা ২৮ জুলাই থেকে হ্যালোপিনো পরিবেশন বন্ধ করেছে এবং তাদের সব রেস্টুরেন্টে বর্তমানে এই মরিচ সরবরাহ স্থগিত রয়েছে।

 

তদন্তে চিপোটলে ও কিউডোবার বিভিন্ন লোকেশনে ২৭টি অসুস্থতার ক্লাস্টার শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তরা হ্যালোপিনোর পাশাপাশি লাল পেঁয়াজ, ধনেপাতা ও অ্যাভোকাডো খাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। তবে ট্রেসব্যাক তদন্তে সিনালোয়ার একটি সাধারণ উৎপাদন উৎস থেকে আসা **হ্যালোপিনো**কেই সম্ভাব্য মূল উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

এফডিএ রেস্টুরেন্ট, ডিস্ট্রিবিউটর ও ফুড সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলোকে রিকল করা হ্যালোপিনো বিক্রি বা পরিবেশন না করার নির্দেশ দিয়েছে। যেসব পাত্র, কাউন্টার বা রান্নাঘরের সরঞ্জাম এসব মরিচের সংস্পর্শে এসেছে, সেগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মরিচের উৎস নিশ্চিত না হলে সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

 

কর্তৃপক্ষ এখনো যাচাই করছে, আক্রান্ত হ্যালোপিনো মরিচ কোনো গ্রোসারি স্টোরে সরাসরি বিক্রি হয়েছিল কি না। প্রাথমিকভাবে এগুলো মূলত রেস্টুরেন্ট ও পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয়েছিল। বাড়িতে থাকা হ্যালোপিনোর উৎস নিয়ে সন্দেহ থাকলে তা না খেয়ে ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিডিসি।

 

সালমোনেলায় আক্রান্ত হলে সাধারণত ডায়রিয়া, জ্বর ও পেটব্যথা দেখা দেয়। জীবাণু শরীরে প্রবেশের ছয় ঘণ্টা থেকে ছয় দিনের মধ্যে উপসর্গ শুরু হতে পারে এবং বেশির ভাগ মানুষ চার থেকে সাত দিনের মধ্যে চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতার মানুষের ক্ষেত্রে অসুস্থতা গুরুতর হতে পারে।

 

তিন দিনের বেশি ডায়রিয়া, রক্তমিশ্রিত পায়খানা, ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি জ্বর, অতিরিক্ত বমি বা শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তার বা হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে সিডিসি। তদন্ত চলমান থাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ও রিকলের পরিধি আরও বাড়তে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিথিয়া রামনকে ঘিরে ‘গোপন এজেন্ডা’র অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের আসন্ন মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ)-এর বিতর্কিত নীতিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে কি না, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো জবাব দেননি বর্তমান প্রার্থী নিথিয়া রামন। আর তাঁর এই নীরবতার সুযোগেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ প্রোটেকটিভ লিগ (এলএপিপিএল)। ৮ হাজার ৭০০ জন পুলিশ কর্মকর্তার প্রতিনিধিত্বকারী এই ইউনিয়নের মুখপাত্র টম সাগাউ অভিযোগ করেছেন, নিথিয়া ও তাঁর উগ্র সমর্থকরা মূলত "ভেড়ার ছদ্মবেশে নেকড়ে"।   সাগাউয়ের মতে, তারা অত্যন্ত সুকৌশলে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছে। ডিএসএ-এর সাথে মিলে শহর পরিচালনার গোপন বোঝাপড়া থাকার কারণেই তারা নিথিয়াকে সমর্থন দিয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ ইউনিয়ন।   সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-এর পক্ষ থেকে নিথিয়া রামনের প্রচার শিবিরের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, তিনি ডিএসএ-এলএ-এর ১৬টি নীতি প্রস্তাবের সাথে একমত কি না। এসব নীতির মধ্যে পুলিশের বাজেট কমানো, কারাগার বন্ধ করা এবং মাদক ব্যবহারকে অপরাধের আওতামুক্ত করার মতো বিতর্কিত বিষয় রয়েছে।   আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে বর্তমান মেয়র কারেন ব্যাসের বিপক্ষে তিনি লড়ছেন, অথচ নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও রামনের প্রচার শিবির এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ডিএসএ-এর অন্যান্য নীতিগুলোর মধ্যে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ডাকে সশস্ত্র পুলিশের বদলে নিরস্ত্র কর্মী পাঠানো, ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাসন বাজেয়াপ্ত করা, সর্বজনীন বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং খালি পড়ে থাকা বাড়ির মালিকদের ওপর কর আরোপ করার মতো প্রস্তাবও রয়েছে। এছাড়া তারা স্থানীয় নির্বাচনে অনাগরিকদের ভোটাধিকার দেওয়ারও পক্ষে।   নিথিয়া রামনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ডিএসএ-এর সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২০ সালে প্রথমবার সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হওয়ার সময় সংস্থাটি তাঁকে সমর্থন দিয়েছিল এবং ২০২৬ সালের মেয়র নির্বাচনেও তারা তাঁর পাশে রয়েছে। যদিও মে মাসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে 'পুলিশের বাজেট কমানো'র আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নিথিয়া।   কিন্তু সম্প্রতি তিনি এলএপিডি-এর সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধমূলক হুমকি দমনের একটি গোয়েন্দা কর্মসূচিতে ১ লাখ ডলারের অর্থায়নের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। অবশ্য পুলিশের উত্তেজনা প্রশমন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের জন্য ৩ লাখ ২০ হাজার ডলারের একটি তহবিলের পক্ষেও ভোট দিয়েছেন তিনি। তবে স্কুল ও ডে-কেয়ার সেন্টারের ৫০০ ফুটের মধ্যে গৃহহীনদের তাঁবু খাটানো নিষিদ্ধ করার আইনের বিরোধিতা করায় তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।   এদিকে পুলিশ ইউনিয়নের আয়োজিত বেশ কয়েকটি ফোকাস গ্রুপে ডিএসএ-এর নীতিগুলো সম্পর্কে জানার পর সাধারণ ভোটাররা চরম আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে 'ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাসন বাজেয়াপ্ত' করার প্রস্তাবটি মানুষকে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করেছে।   সিটি কাউন্সিলের সদস্য ট্রেসি পার্ক ও স্থানীয় নেতা নিকো রুডারম্যান সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের নীতি বাস্তবায়িত হলে শহরটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। অতীতে এ ধরনের নীতি প্রয়োগের ফলে শহরের ওয়েস্টসাইড এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। পুলিশ ইউনিয়ন আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ডিএসএ-এর এসব নীতিকে প্রচারণার মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।   ইতোমধ্যেই তারা সাত পৃষ্ঠার একটি ভোটার নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে এবং সাধারণ মানুষের উদ্বেগ তুলে ধরতে নতুন ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রচারের পরিকল্পনা করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ২২:২৮
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১,৩৬৯ ডলার ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট, লটারিতে আবেদনের শেষ সুযোগ ৮ অক্টোবর

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১,৩৬৯ ডলার ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট, লটারিতে আবেদনের শেষ সুযোগ ৮ অক্টোবর

মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে বিদ্যুৎ প্রকল্পের খরচ ১০৫ থেকে বেড়ে ৪০৭ মিলিয়ন ডলার, বোঝা গ্রাহকদের ঘাড়ে

মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে বিদ্যুৎ প্রকল্পের খরচ ১০৫ থেকে বেড়ে ৪০৭ মিলিয়ন ডলার, বোঝা গ্রাহকদের ঘাড়ে

২০২৮ নির্বাচনে কমলা হ্যারিসের প্রার্থিতা অনিশ্চিত, ৮ সাবেক সহকারীর ৫ জনের মত ‘লড়বেন না’

২০২৮ নির্বাচনে কমলা হ্যারিসের প্রার্থিতা অনিশ্চিত, ৮ সাবেক সহকারীর ৫ জনের মত ‘লড়বেন না’

ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, চুক্তি না হলে ‘পুরো দেশ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি
ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, চুক্তি না হলে ‘পুরো দেশ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আকস্মিক ও আগ্রাসী মন্তব্যে জানিয়েছেন, তিনি পুরো ইরানকে "উড়িয়ে দেওয়ার" কথা বিবেচনা করছেন। গত রোববার ক্যাম্প ডেভিডে ছুটি কাটানোর মাঝপথে তড়িঘড়ি করে হোয়াইট হাউসে ফেরার সময় ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইংস্টকে ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি জানান, খুব শিগগিরই বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে এবং এই মুহূর্তে তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন।   ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে ইরানের সামনে তিনটি সম্ভাব্য বিকল্পের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, হয় ইরানকে একটি চুক্তিতে আসতে হবে, অথবা তিনি দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দেবেন, আর না হয় পুরো দেশটিকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন।   সাক্ষাৎকারে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প বলেন, "আমার প্রশ্ন হলো—কখন এবং কীভাবে আমি পুরো দেশটিকে উড়িয়ে দেব? তাদের বরং সতর্ক থাকা উচিত"। তাঁর এই হুমকির ঠিক এক দিন আগেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কায় একটি বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছিল। সেখানে মার্কিন নাগরিকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পাশাপাশি হঠাৎ বিমান বাতিল বা আকাশপথ বন্ধের মতো পরিস্থিতির বিষয়ে সজাগ থাকতে বলা হয়েছিল।   এদিকে, চলতি সপ্তাহেই নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের। এই অধিবেশনের ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে আলোচনার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, তিনি হয়তো এমন কোনো বৈঠকের বিষয়ে সম্মত হতে পারেন।   অন্যদিকে, ট্রাম্পের এমন হুমকির পর কড়া জবাব দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এক কঠোর বার্তায় তারা জানিয়েছে, যদি ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থের ওপর কোনো বাছবিচার ছাড়াই লাগাতার ও যন্ত্রণাদায়ক হামলা চালানো হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ২০:৪৭
যুক্তরাষ্ট্রে মদ্যপানে ক্যানসার মৃ ত্যু ৩৩ বছরে দ্বিগুণ, তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্রে মদ্যপানে ক্যানসার মৃ ত্যু ৩৩ বছরে দ্বিগুণ, তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে ঝুঁকি

ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রেন ও বাসযাত্রীদের মধ্যে হামের সংস্পর্শের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি

টিকা না নেওয়া ব্যক্তির ট্রেন-বাস ভ্রমণ, ছয় কাউন্টিতে হামের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি

আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের পাশে বসে বই পড়ে শোনাচ্ছে ১১ বছরের নেহেমিয়াহ টার্নার

আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের ১০০ ঘণ্টা বই পড়ে শোনাল ১১ বছরের শিশু, গড়ল অনন্য রেকর্ড

পাম্পে খরচ কমাতে চালকদের বিভিন্ন কৌশল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে
পাম্পে গ্যাস নিতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দেবেন না, জানুন কৌশল

যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে গাড়িতে গ্যাস ভরতে গিয়ে একটু সচেতন হলেই কিছুটা খরচ কমানো সম্ভব। লয়্যালটি প্রোগ্রাম ব্যবহার, নগদে পেমেন্ট এবং আশপাশের বিভিন্ন গ্যাস স্টেশনের দাম তুলনা করার মতো কয়েকটি সহজ কৌশলে প্রতি গ্যালনে সাশ্রয় করা যেতে পারে।   বর্তমানে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িচালকদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ তৈরি হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বরের হিসাবে নিয়মিত গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালনে ৪ দশমিক ৪৭ ডলার। একই সময়ে ডিজেলের গড় দাম উঠেছিল প্রায় ৬ দশমিক ৪৩ ডলারে, যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল।   এই পরিস্থিতিতে পাম্পে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করলে অতিরিক্ত টাকা খরচ এড়ানো যেতে পারে।   লয়্যালটি প্রোগ্রাম ব্যবহার করুন   অনেক গ্যাস স্টেশন বিনামূল্যে লয়্যালটি প্রোগ্রাম বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এসব প্রোগ্রামে যুক্ত হলে প্রতি গ্যালনে ছাড়, পয়েন্ট কিংবা ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়।   নিউইয়র্কের একটি এক্সন স্টেশনের উদাহরণ দিয়েছে এবিসি নিউজ। সেখানে নিয়মিত গ্যাসের দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৭৯ ডলার। তবে এক্সনের রিওয়ার্ডস অ্যাপে যুক্ত হলে নির্দিষ্ট সুবিধার মাধ্যমে দাম কমে ৪ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমে আসে। অর্থাৎ প্রতি গ্যালনে ৩৪ সেন্ট পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব হয়।   কিছু গ্যাস স্টেশন নগদে পেমেন্ট করলেও ছাড় দেয়। একই নিউইয়র্কের স্টেশনে নগদ অর্থে পেমেন্ট করলে প্রতি গ্যালনে আরও ১৬ সেন্ট কম দেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে নগদে ছাড়ের পরিমাণ স্টেশনভেদে আলাদা হতে পারে।   গ্যাস নেওয়ার আগে দাম তুলনা করুন   একই শহর বা এলাকার সব গ্যাস স্টেশনে জ্বালানির দাম এক থাকে না। তাই পাম্পে ঢোকার আগে আশপাশের কয়েকটি স্টেশনের দাম তুলনা করা যেতে পারে।   এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। ওই সময় রাজ্যটিতে নিয়মিত গ্যাসের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ০৮ ডলার। কিন্তু উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কস্টকো স্টেশনে একই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল ৫ দশমিক ৫৭ ডলারে।   আবার কস্টকো ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে গ্যাসে ৫ শতাংশ ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুযোগ থাকায় কার্যকর খরচ আরও কমে ৫ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়ায়। ওই উদাহরণে প্রতি গ্যালনে সর্বোচ্চ ৭৯ সেন্ট পর্যন্ত সাশ্রয় হয়েছে।   তবে সদস্যভিত্তিক গ্যাস স্টেশনে যাওয়ার ক্ষেত্রে সদস্যপদের খরচও হিসাব করা জরুরি। কস্টকোর সাধারণ সদস্যপদের বার্ষিক ফি ৬৫ ডলার। নিয়মিত বেশি পরিমাণে গ্যাস কিনলে শুধু জ্বালানিতে সাশ্রয় দিয়েই এই খরচ উঠে আসতে পারে।   গ্যাসের দাম কখনো কমতে পারে, আবার আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির কারণে আরও বাড়তেও পারে। তাই নিয়মিত গাড়ি ব্যবহারকারীদের জন্য পাম্পে যাওয়ার আগে দাম যাচাই করা, লয়্যালটি সুবিধা নেওয়া এবং কোথায় কম দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে তা দেখে নেওয়া বাড়তি খরচ কমানোর কার্যকর উপায় হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৯:৪৪
জীবনের সঞ্চয় দিয়ে কেনা স্বপ্নের বাড়ি নিয়ে বিপাকে জর্জিয়ার এক দম্পতি

সব পাওনা শোধ করে স্বপ্নের বাড়ি কিনেছিলেন, এক বছর পর ২০ হাজার ডলারের বকেয়া দাবি

টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের ৫ রাউন্ড গু লি তে গুরুতর আহত ব্যক্তি, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য

টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের ৫ রাউন্ড গু লি তে গুরুতর আহত ব্যক্তি, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য

৫৪ হাজার ডলারের এইচ-১বি ইন্টার্নশিপ, যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কের কেন্দ্রে ভার্জিনিয়া টেক

৫৪ হাজার ডলারের এইচ-১বি ইন্টার্নশিপ, যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কের কেন্দ্রে ভার্জিনিয়া টেক

0 Comments