ফ্লোরিডায় এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে পুলিশ গুলি করে হত্যার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশের বডি-ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ না করায় যে প্রশ্ন উঠেছিল, তা আরও জোরালো হয়েছে প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশের পর। ভিডিওটি পুলিশের ঘটনার বর্ণনার সঙ্গে মিলছে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে তীব্র আলোচনা।
গত বছরের ৩ আগস্ট ব্রাওয়ার্ড কাউন্টির মিরামার এলাকায় নজরদারি অভিযানের সময় হলিউড পুলিশ ৩২ বছর বয়সী ডোনাল্ড টেইলরকে গুলি করে। পুলিশ জানায়, টেইলর একাধিক সশস্ত্র ডাকাতির মামলার সন্দেহভাজন ছিলেন এবং অভিযানের সময় তিনি অস্ত্রধারী অবস্থায় কর্মকর্তাদের জন্য হুমকি তৈরি করেছিলেন। এ কারণেই গুলি চালানো হয় বলে দাবি পুলিশের। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
তবে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিওতে ঘটনার ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ভিডিওতে টেইলরকে একটি আবাসিক সড়কে হাঁটতে দেখা যায়। এ সময় পুলিশ তাকে থামতে এবং মাটিতে শুয়ে পড়ার নির্দেশ দেয়। একপর্যায়ে গুলির শব্দ শোনা যায় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ভিডিওতে গুলি চালানোর মুহূর্তে তার হাতে কোনো অস্ত্র স্পষ্টভাবে দেখা যায় না।
টেইলরের পরিবারের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, প্রতিবেশীর ভিডিওটি পুলিশের প্রাথমিক বর্ণনার সঙ্গে অসঙ্গতি তুলে ধরেছে। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর পুলিশের বডি-ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানানো হলেও তা প্রকাশ করা হয়নি। তারা স্বাধীন তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে হলিউড পুলিশ তাদের আগের অবস্থানেই রয়েছে। বিভাগের দাবি, কর্মকর্তারা আত্মরক্ষার প্রয়োজনে গুলি চালিয়েছিলেন এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের তথ্য তাদের বক্তব্যকে সমর্থন করে। তবে বডি-ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ না হওয়ায় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী ও কমিউনিটির সদস্যরা পুলিশের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। প্রতিবেশীর ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও গুলি চালানোর বৈধতা বা পুলিশের পদক্ষেপ আইনসম্মত ছিল কি না—সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রায় তিন দশক যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে হলো গুয়াতেমালার নাগরিক ওলগা পেরেজকে। সোমবার ফ্লোরিডা থেকে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাতে আসা পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। বিশেষ করে তার চার মার্কিন নাগরিক সন্তানের অশ্রুসিক্ত বিদায়ের দৃশ্য যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন নীতির মানবিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওলগা পেরেজ প্রায় ৩০ বছর ধরে দক্ষিণ ফ্লোরিডায় বসবাস করছিলেন। এই সময়ে তিনি চার সন্তানের জননী হন। তার সন্তানরা সবাই যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়ায় মার্কিন নাগরিক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় আদিবাসী গুয়াতেমালান সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং ‘মাম’ ভাষার দোভাষী হিসেবে আদালত, হাসপাতাল ও বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সহায়তা দিয়েছেন। গত বছরের শেষ দিকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে অ্যারিজোনার একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায়। কয়েক মাস ধরে আইনি লড়াই চললেও শেষ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ সুযোগ পাননি। পরবর্তীতে জোরপূর্বক বহিষ্কারের পরিবর্তে স্বেচ্ছায় গুয়াতেমালায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিদায়ের আগে বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্ত কাটান ওলগা পেরেজ। সন্তানদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। উপস্থিত স্বজন ও সহকর্মীরাও তাকে বিদায় জানাতে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুয়াতেমালায় পৌঁছে প্রথমে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় অবস্থান করবেন ওলগা পেরেজ। পরে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করবেন। তার সন্তানরা সুযোগ হলে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গুয়াতেমালায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর আগে চলতি বছর তার স্বামীও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত হন। ফলে পরিবারের দুই অভিভাবকই এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে, আর চার সন্তানকে দেশেই থেকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের মতে, ওলগা পেরেজের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো ‘মিশ্র-অভিবাসন’ পরিবারের বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এসব পরিবারের সন্তানরা মার্কিন নাগরিক হলেও বাবা বা মায়ের অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পাম বিচ পোস্টের প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিদায়ের ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো কাউন্টির 'রোজমন্ট' এলাকায় মারাত্মক রোগবাহী মশার বংশবৃদ্ধি ঠেকাতে এক অভিনব ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই এলাকার ক্ষতিকর মশা দমনে প্রশাসন নিজেই ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা ২০ লাখেরও বেশি মশা আকাশে উড়িয়ে দেবে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে আগামী ১৬ সপ্তাহে পর্যায়ক্রমে এই বিশাল সংখ্যার মশাগুলোকে লোকালয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। স্যাক্রামেন্টো ইয়োলো মস্কিটো অ্যান্ড ভেক্টর কন্ট্রোল ডিস্ট্রিক্টের কর্মকর্তা লুজ মারিয়া রোবলস জানান, রোজমন্ট এলাকায় বর্তমানে এমন এক প্রজাতির মশার উপদ্রব বেড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। এই মশাগুলো জিকা, ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার মতো মারাত্মক ও নিষ্ক্রিয়কারী রোগ ছড়াতে সক্ষম। তবে এই অভিযানে যেসব মশা বাতাসে ছাড়া হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের ভয়ের কিছু নেই। কারণ এগুলো সবই ল্যাবরেটরিতে বিশেষভাবে তৈরি করা বন্ধ্যা পুরুষ মশা। পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না বা রক্ত চোষে না। এই বন্ধ্যা পুরুষ মশাগুলো যখন প্রকৃতির সাধারণ স্ত্রী মশার সাথে মিলিত হবে, তখন তাদের ডিম থেকে কোনো নতুন মশার জন্ম হবে না। ফলে প্রাকৃতিকভাবেই মশার বংশবৃদ্ধি থমকে যাবে। প্রকৃতিতে থাকা ১টি সাধারণ পুরুষ মশার বিপরীতে অন্তত ১০টি বন্ধ্যা পুরুষ মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে তারা বংশবৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় জিতে যায়। গত বছর স্যাক্রামেন্টোর সাউথ ন্যাটোমাস এলাকায় প্রথমবারের মতো এই পদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং সেখানে মশার সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। কেনটাকির একটি ল্যাব থেকে এই ২০ লাখ মশা কিনতে প্রশাসনের খরচ হয়েছে ১ লাখ৩৬ হাজার ডলার। তবে খরচ কমাতে স্যাক্রামেন্টোতেই নিজস্ব একটি ল্যাব তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে প্রতি সপ্তাহে ১০ লাখ বন্ধ্যা মশা উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এদিকে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলও মশা নিধনের এই লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ বন্ধ্যা পুরুষ মশা ছাড়ার অনুমতি চেয়ে মার্কিন ফেডারেল নিয়ন্ত্রকদের কাছে ইতিমধ্যেই একটি আবেদন জমা দিয়েছে গুগল।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিশ্বখ্যাত র্যাপ তারকা নিকি মিনাজের একটি ছবি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। ছবির সঙ্গে মাত্র দুটি শব্দের একটি ক্যাপশন—“The Barbz Know”—পোস্ট করতেই সেটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং নানা ধরনের মিম, মন্তব্য ও ব্যাখ্যায় ভরে ওঠে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো। ছবিতে ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় নিকি মিনাজকে। পোস্টে ‘Trump Accounts’ কর্মসূচির সরকারি ওয়েবসাইটেরও উল্লেখ করা হয়। তবে “The Barbz Know” ক্যাপশনের নির্দিষ্ট অর্থ নিয়ে হোয়াইট হাউস আলাদাভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ‘Barbz’ নামে পরিচিত নিকি মিনাজের ভক্তরা। তাই অনেকেই মনে করছেন, তরুণদের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসতেই জনপ্রিয় পপ-কালচারের এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশের দাবি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে এ ধরনের মিমধর্মী ভাষা ব্যবহার অস্বাভাবিক। সাম্প্রতিক সময়ে নিকি মিনাজ ট্রাম্প প্রশাসনের ‘Trump Accounts’ উদ্যোগের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য নবজাতকদের জন্য সরকার নির্দিষ্ট অঙ্কের প্রাথমিক বিনিয়োগসহ একটি বিশেষ সঞ্চয় হিসাব চালুর পরিকল্পনা করেছে, যা ভবিষ্যতে শিক্ষা, ব্যবসা বা অন্যান্য অনুমোদিত খাতে ব্যবহার করা যাবে। হোয়াইট হাউসের পোস্ট প্রকাশের পর এক্স, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে অসংখ্য ব্যবহারকারী ছবিটি নিয়ে মিম তৈরি করেন। কেউ এটিকে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার নতুন কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সরকারি যোগাযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাষা ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে আলোচনা করছেন। যদিও পোস্টটি নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত ক্যাপশনের উদ্দেশ্য বা এর পেছনের ভাবনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে “The Barbz Know” ঠিক কী বার্তা দিতে চেয়েছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।