সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ট্রাম্পের পাশে নিকি মিনাজ, হোয়াইট হাউসের ক্যাপশনেই শুরু মিমের বন্যা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১১:২৬
ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও র‍্যাপ তারকা নিকি মিনাজ | ছবি: হোয়াইট হাউস
ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও র‍্যাপ তারকা নিকি মিনাজ | ছবি: হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিশ্বখ্যাত র‍্যাপ তারকা নিকি মিনাজের একটি ছবি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। ছবির সঙ্গে মাত্র দুটি শব্দের একটি ক্যাপশন—“The Barbz Know”—পোস্ট করতেই সেটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং নানা ধরনের মিম, মন্তব্য ও ব্যাখ্যায় ভরে ওঠে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো।

 

ছবিতে ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় নিকি মিনাজকে। পোস্টে ‘Trump Accounts’ কর্মসূচির সরকারি ওয়েবসাইটেরও উল্লেখ করা হয়। তবে “The Barbz Know” ক্যাপশনের নির্দিষ্ট অর্থ নিয়ে হোয়াইট হাউস আলাদাভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

 

‘Barbz’ নামে পরিচিত নিকি মিনাজের ভক্তরা। তাই অনেকেই মনে করছেন, তরুণদের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসতেই জনপ্রিয় পপ-কালচারের এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশের দাবি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে এ ধরনের মিমধর্মী ভাষা ব্যবহার অস্বাভাবিক।

 

সাম্প্রতিক সময়ে নিকি মিনাজ ট্রাম্প প্রশাসনের ‘Trump Accounts’ উদ্যোগের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য নবজাতকদের জন্য সরকার নির্দিষ্ট অঙ্কের প্রাথমিক বিনিয়োগসহ একটি বিশেষ সঞ্চয় হিসাব চালুর পরিকল্পনা করেছে, যা ভবিষ্যতে শিক্ষা, ব্যবসা বা অন্যান্য অনুমোদিত খাতে ব্যবহার করা যাবে।

 

হোয়াইট হাউসের পোস্ট প্রকাশের পর এক্স, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে অসংখ্য ব্যবহারকারী ছবিটি নিয়ে মিম তৈরি করেন। কেউ এটিকে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার নতুন কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সরকারি যোগাযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাষা ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে আলোচনা করছেন।

 

যদিও পোস্টটি নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত ক্যাপশনের উদ্দেশ্য বা এর পেছনের ভাবনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে “The Barbz Know” ঠিক কী বার্তা দিতে চেয়েছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে জন্মের চেয়ে মৃত্যুর হার বেশি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস। ছবি: সংগৃহীত
২০৩০ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি হবে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ভরসা হবে অভিবাসন

যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে দেশটির কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। সংস্থাটির সর্বশেষ জনসংখ্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যার চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হয়ে যাবে। এরপর দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান উৎস হয়ে উঠবে অভিবাসন।   ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ‘দ্য ডেমোগ্রাফিক আউটলুক: ২০২৬ টু ২০৫৬’ প্রতিবেদনে সিবিও যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩০ বছরের জনসংখ্যাগত পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, জন্মহার কমে যাওয়া এবং জনসংখ্যার গড় বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে আগামী কয়েক দশকে স্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি ক্রমেই দুর্বল হবে।   সিবিওর হিসাবে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা প্রায় ৩৪৯ মিলিয়ন বা ৩৪ কোটি ৯০ লাখ। ২০৫৬ সালে তা বেড়ে প্রায় ৩৬৪ মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। তবে এই বৃদ্ধি হবে অত্যন্ত ধীরগতির। ২০২৬ থেকে পরবর্তী এক দশকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গড় হার বছরে প্রায় ০.৩ শতাংশ হতে পারে। ২০৩৭ থেকে ২০৫৬ সালের মধ্যে তা আরও কমে গড়ে ০.১ শতাংশে নেমে আসবে। ২০৫৬ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধি কার্যত শূন্যে নেমে যাওয়ার পর পরবর্তী সময়ে জনসংখ্যা কমতে শুরু করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সিবিও।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি ঘটবে জন্ম ও মৃত্যুর হিসাবের ক্ষেত্রে। সিবিও বলছে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর মৃত্যুর তুলনায় জন্মের সংখ্যা বেশি থাকবে। কিন্তু ২০৩০ সাল থেকে জন্মের সংখ্যা মৃত্যুর চেয়ে কমে যাবে। অভিবাসন না থাকলে ওই সময় থেকেই দেশটির মোট জনসংখ্যা কমতে শুরু করত।   এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের কমে যাওয়া জন্মহার। সিবিওর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে দেশটির মোট প্রজনন হার ছিল ২.১২ সন্তান প্রতি নারী যা পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২০ সালে এই হার ১.৬৪ এবং ২০২৪ সালে ১.৬০-এ নেমে আসে। সিবিওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে তা আরও কমে ১.৫৮ হবে এবং ২০৩৬ সালে ১.৫৩-এ নেমে গিয়ে এরপর প্রায় একই পর্যায়ে থাকবে।   জনসংখ্যাকে দীর্ঘমেয়াদে একই আকারে ধরে রাখতে সাধারণভাবে প্রায় ২.১ সন্তান প্রতি নারীর প্রজনন হার প্রয়োজন হয়, যদি অভিবাসনকে হিসাবের বাইরে রাখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও পূর্বাভাসকৃত হার সেই মাত্রার অনেক নিচে। শুধু জন্মহার কমছে তা নয়, সন্তান নেওয়ার সময়ও পিছিয়ে যাচ্ছে। সিবিওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩০ বছরের কম বয়সী নারীদের প্রজনন হার আগামী কয়েক দশকে আরও কমবে। বিপরীতে, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের প্রজনন হার কিছুটা বাড়তে পারে। সংস্থাটি এর অন্যতম কারণ হিসেবে অপেক্ষাকৃত বেশি বয়সে সন্তান নেওয়ার প্রবণতার কথা উল্লেখ করেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হয়ে উঠছে। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা আগামী কয়েক দশকে তরুণ বয়সী জনগোষ্ঠীর তুলনায় দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সিবিও। একই সময়ে ২৪ বছর বা তার কম বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আগামী ৩০ বছর ধরে কমতে পারে।   এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশটির কর্মবাজার ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। সিবিও বলছে, বর্তমানে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রতি একজনের বিপরীতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের অনুপাত তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু আগামী তিন দশকে এই অনুপাত আরও সংকুচিত হবে। ২০২৬ সালে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী একজন মানুষের বিপরীতে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রায় ২.৭ জন থাকলেও ২০৫৬ সালে তা কমে প্রায় ২.২ জনে দাঁড়াতে পারে।   এর অর্থ হলো, অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের চাপও বাড়তে পারে। অন্যদিকে এসব কর্মসূচিতে অর্থ জোগান দেওয়া কর্মক্ষম মানুষের তুলনামূলক অংশ কমে যেতে পারে। ফলে সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার, শ্রমবাজার এবং সরকারি বাজেটের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এ অবস্থায় অভিবাসন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সিবিওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল থেকে জন্ম ও মৃত্যুর পার্থক্য জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সেই ঘাটতি পূরণ করবে মূলত নিট অভিবাসন অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে যত মানুষ প্রবেশ করবে, তার তুলনায় যত মানুষ দেশ ছাড়বে, সেই পার্থক্য।   তবে অভিবাসনের ক্ষেত্রেও পূর্বাভাস আগের তুলনায় কমেছে। সিবিও জানিয়েছে, ২০২৫ থেকে ২০২৯ সালের জন্য তাদের নিট অভিবাসনের পূর্বাভাস কমানোর পেছনে বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ, ২০২৫ সালের একটি ব্যয়সংক্রান্ত আইনের অভিবাসন-সম্পর্কিত বিধান এবং আগের জনসংখ্যার তথ্যের সংশোধন ভূমিকা রেখেছে।   সিবিওর হিসাবে, অভিবাসন অব্যাহত থাকায় ২০৫৬ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি এতটাই কমে যাবে যে ওই বছর তা প্রায় স্থির হয়ে যাবে। এরপর জনসংখ্যা কমার পথে যেতে পারে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, এগুলো নিশ্চিত ভবিষ্যৎ নয়; বরং বর্তমান আইন, নীতি ও জনসংখ্যাগত প্রবণতার ভিত্তিতে তৈরি পূর্বাভাস। জন্মহার, মৃত্যুহার বা অভিবাসনের প্রকৃত হার পূর্বাভাসের চেয়ে সামান্য ভিন্ন হলেও দীর্ঘ সময়ে তার প্রভাব অনেক বড় হতে পারে। বিশেষ করে ২০৫৬ সালের কাছাকাছি সময়ের হিসাবগুলোতে অনিশ্চয়তা বেশি।   তারপরও ২০৩০ সালের সম্ভাব্য পরিবর্তনটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসংখ্যাগত মাইলফলক। কারণ ওই সময় থেকে দেশের জনসংখ্যা আর স্বাভাবিকভাবে অর্থাৎ জন্ম ও মৃত্যুর ব্যবধানের মাধ্যমে বাড়বে না। বরং জনসংখ্যার আকার ধরে রাখা ও অর্থনীতিতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অভিবাসন নীতির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ২১:২২
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভের পথ বন্ধ করতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে মার্কিন সরকার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা, প্রায় ৯০০ ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

লস অ্যাঞ্জেলেসের ইস্ট হলিউড এলাকায় বসবাস করছেন টিম রোলার। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠিত ৪ সন্তান থাকা সত্ত্বেও ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় বসবাস, গুগল ম্যাপে উঠে এল গণিত শিক্ষক বাবার জীবন

যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ, গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য বড় আপডেট

যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ, গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য বড় আপডেট

ক্যালিফোর্নিয়ায় সৈকতে হাঁটতে গিয়ে দানবীয় ঢেউয়ের কবলে নারী, প্রাণে বাঁচালেন লাইফগার্ডরা
ক্যালিফোর্নিয়ায় সৈকতে হাঁটতে গিয়ে দানবীয় ঢেউয়ের কবলে নারী, প্রাণে বাঁচালেন লাইফগার্ডরা

যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার আলিসো বিচে বন্ধুদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে হাঁটার সময় হঠাৎ এক দানবীয় ঢেউয়ের কবলে পড়ে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন টেরেসা ট্রান নামের এক নারী।   সমুদ্রের শান্ত তীরে মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হওয়া এই ভয়ংকর ঢেউ তাকে টেনে নিয়ে যায় গভীর সমুদরে, যার ফলে তিনি পানিতে ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় তাদের আনন্দঘন মুহূর্তকে এক ভয়ংকর জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে পরিণত করেছিল।   টেরেসার মেয়ে আমান্ডা ট্রিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস এলএ-কে জানান, পরপর তিনটি শক্তিশালী ঢেউ তাদের ওপর আছড়ে পড়ে। প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কায় তারা পড়ে যাওয়ার পর কোনোমতে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেই কোথা থেকে হঠাৎ আরও একটি বিশাল ঢেউ এসে তাদের আবার ফেলে দেয়।   টেরেসার দুই বন্ধু কোনোমতে তীরে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও তিনি ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের চিৎকারে লাইফগার্ডরা দ্রুত পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যখন তাকে উদ্ধার করে তীরে আনা হয়, তখন তিনি অচেতন ছিলেন এবং তার পালস প্রায় পাওয়া যাচ্ছিল না। লাইফগার্ডরা তাকে উল্টো করে শুইয়ে দিলে তিনি প্রচুর পানি বমি করেন এবং তার জ্ঞান ফেরে। এরপর জীবন বাঁচাতে তাকে হেলিকপ্টারে করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।   হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর টেরেসা তার শেষ মুহূর্তের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি মেয়েকে বলেন, অনবরত পানি গিলতে গিলতে একপর্যায়ে তিনি বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং লড়াই করার সব শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন।   এই অপ্রত্যাশিত ও ভয়ংকর ঘটনার পর বিপুল চিকিৎসা ব্যয়ের (হেলিকপ্টার ভাড়া ও হাসপাতাল বিল) জন্য আমান্ডা 'গোফান্ডমি' (GoFundMe)-তে একটি তহবিল গঠন করেছেন। গত ২০ আগস্ট হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে টেরেসা বর্তমানে বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছেন।   উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই ওই একই এলাকায় শক্তিশালী ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। আমান্ডা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর চরম আতঙ্কিত টেরেসা হয়তো আর কখনোই সমুদ্র বা কোনো জলাশয়ের ধারেকাছে যাবেন না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৯:৩৩
নিউইয়র্কে ভিড় জমিয়ে বিশাল নিষিদ্ধ অজগর প্রদর্শন, মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নিউইয়র্কে ভিড় জমিয়ে বিশাল নিষিদ্ধ অজগর প্রদর্শন, মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নিউ জার্সির অ্যালায়না দুবার ক্যানসারকে হারিয়ে এবার ক্যানসার রোগীদের সেবায় নার্স হচ্ছেন

নিউ জার্সির অ্যালায়না দুবার ক্যানসারকে হারিয়ে এবার ক্যানসার রোগীদের সেবায় নার্স হচ্ছেন

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের সাবেক সিনেটর এবং মার্কিন রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ ন্যান্সি কাসেবাম

যুক্তরাষ্ট্রে নারী নেতৃত্বের পথপ্রদর্শক, প্রভাবশালী সিনেটর ন্যান্সি কাসেবাম আর নেই

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বয়ফ্রেন্ডের হাতে খু ন ১৮ বছরের নারী ফুটবলার
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বয়ফ্রেন্ডের হাতে খু ন ১৮ বছরের নারী ফুটবলার, লা শ গুমে মায়ের সহায়তা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বয়ফ্রেন্ডের হাতে ১৮ বছর বয়সী এক নারী ফুটবলারের মর্মান্তিক খুনের ঘটনায় দেশটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পেনওয়েস্ট ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির মেধাবী শিক্ষার্থী ও সকার খেলোয়াড় ক্যারোলিন হেইঞ্জকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর লাশ গুম করতে নিজের মাকে ব্যবহার করেছে অভিযুক্ত বয়ফ্রেন্ড রয়েস মোসার (১৮)।   এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের পর ক্যারোলিনের পরিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যেন পিতা-মাতার জীবনের সবচেয়ে ‘ভয়ংকর দুঃস্বপ্নের’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। পেনসিলভানিয়া স্টেট পুলিশের মাধ্যমে দেওয়া ওই শোকবার্তায় পরিবারটি জানায়, ক্যারোলিন ছিল সবার কাছে প্রিয়, অত্যন্ত দয়ালু, বুদ্ধিমতী ও সুন্দর মনের অধিকারী। তারা তাদের এই আদরের মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।   পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, গত বুধবার রাতে নর্থ স্ট্র্যাবেইন টাউনশিপে মোসারের বাবার বাড়ির বাইরে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলছিল এই যুগল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে মোসার ক্যারোলিনকে কিছু দেওয়ার কথা বলে ঘরের ভেতর থেকে একটি বড় রান্নাঘরের ছুরি নিয়ে আসে।   সে সময় ক্যারোলিন তার জিপ চেরোকি গাড়ির ভেতর বসা ছিলেন এবং মোসার সরাসরি তার বুকে মারাত্মকভাবে ছুরিকাঘাত করে। হামলার পর ক্যারোলিন গাড়ি থেকে নিচে পড়ে গেলে মোসার তড়িঘড়ি করে তার মরদেহ গাড়ির পেছনের অংশে লুকিয়ে ফেলে। এরপর সে তার মা র‍্যাচেল মোসারের (৫৭) কাছে ছুটে যায় এবং মা-ছেলে দুজনে মিলে গাড়ি ও নিজেদের শরীর থেকে হত্যাকাণ্ডের সব প্রমাণ মুছে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করে।   প্রমাণ গায়েব করার পর মা ও ছেলে মিলে ক্যারোলিনের গাড়িটি পেনওয়েস্ট ক্যালিফোর্নিয়া ক্যাম্পাসের বাইরে একটি পাবলিক লাইব্রেরির সামনে ফেলে রেখে আসে। এদিকে নির্দিষ্ট সময়ে ক্যারোলিন তার ডরমেটরিতে না পৌঁছানোয় এবং কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন পরিবার পুলিশের কাছে তল্লাশির আবেদন করে।   পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ পরিত্যক্ত গাড়ির পেছন থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সকালে মোসার ও তার মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।   মোসারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যা, মৃতদেহের অবমাননা ও প্রমাণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং ছেলেকে হত্যার আলামত লুকাতে সাহায্য করায় তার মাকেও সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জেরার মুখে মোসার দাবি করেছে যে তার ওপর কোনো 'প্রেতাত্মা' ভর করেছিল এবং সেই তাকে ক্যারোলিনকে হত্যার নির্দেশ দেয়।   এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ক্যারোলিনের সকার দলের সতীর্থরা ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন শোকবার্তা দিয়ে তার স্মৃতিচারণ করেছেন। তারা ক্যারোলিনকে মাঠ ও মাঠের বাইরের এক ‘হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত সহখেলোয়াড়’ হিসেবে স্মরণ করে নিজেদের প্রতিটি খেলা তার নামে উৎসর্গ করার ঘোষণা দিয়েছেন।   এছাড়া, শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং গার্হস্থ্য সহিংসতা রোধে কাজ করা সংস্থাগুলোকে আর্থিকভাবে সহায়তার জন্য ক্যারোলিনের নামে একটি তহবিল (GoFundMe) গঠন করেছেন তার বন্ধুরা। ক্যারোলিনের এই অকাল মৃত্যুতে পুরো কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৭:৪৫
শিকাগোতে ওয়েন্ডিসের বার্গার খেয়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, ৯৩ হাজার ডলারের চিকিৎসা বিল নিয়ে মামলা

শিকাগোতে ওয়েন্ডিসের বার্গার খেয়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, ৯৩ হাজার ডলারের চিকিৎসা বিল নিয়ে মামলা

নিউইয়র্কে কর্মক্ষেত্রে ওজুর জায়গা না পেয়ে কিচেন সিঙ্কেই ওজু মুসলিম কর্মীর

নিউইয়র্কে কর্মক্ষেত্রে ওজুর জায়গা না পেয়ে কিচেন সিঙ্কেই ওজু মুসলিম কর্মীর, ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

নিউইয়র্কে ফ্রি বাসের প্রতিশ্রুতি অধরা, আপাতত ২০ শতাংশ গতি বাড়িয়ে যাত্রীদের সময় বাঁচাতে মামদানির উদ্যোগ

নিউইয়র্কে ফ্রি বাসের প্রতিশ্রুতি অধরা, আপাতত ২০ শতাংশ গতি বাড়িয়ে যাত্রীদের সময় বাঁচাতে মামদানির উদ্যোগ

0 Comments