সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আমেরিকার ৮ রাজ্যে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াযুক্ত ব্লুবেরি বিক্রি, খেয়ে হাসপাতালে ৪ জন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১১:৪
যুক্তরাষ্ট্রে ব্লুবেরি খেয়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ; বাজার থেকে পণ্য তুলে নেওয়ার নির্দেশ এফডিএর | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ব্লুবেরি খেয়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ; বাজার থেকে পণ্য তুলে নেওয়ার নির্দেশ এফডিএর | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, জর্জিয়াসহ মোট ৮টি রাজ্যে জনপ্রিয় সুপারশপ ‘পাবলিক্স’-এ বিক্রি হওয়া হিমায়িত ব্লুবেরি খেয়ে অন্তত ১২ জন মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া ‘ই-কোলাই’-তে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর ফেডারেল স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জরুরি সতর্কতা জারি করে বাজার থেকে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ব্লুবেরি তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র জানিয়েছে, চিলির একটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রুতাস ই ওরতালিসাস দেল সুর’ দ্বারা সরবরাহকৃত ‘গ্রিনওয়াইজ’ ব্র্যান্ডের অর্গানিক ব্লুবেরিতে এই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ফ্লোরিডার স্বাস্থ্য বিভাগ প্রথম এই সংক্রমণের বিষয়টি টের পেয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে অবহিত করে। এরপরই পাবলিক্স সুপারশপ কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এই পণ্যটির বিক্রি বন্ধ করে দেয়।

 

তদন্তে জানা গেছে, দূষিত এই ব্লুবেরিগুলো ১০ আউন্সের প্যাকেজে আলাবামা, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, কেনটাকি, নর্থ ক্যারোলিনা, সাউথ ক্যারোলিনা, টেনিসি এবং ভার্জিনিয়ার পাবলিক্স আউটলেটগুলোতে বিক্রি করা হয়েছিল। যেসব প্যাকেজের লট কোড ‘৬০৪০১’ এবং মেয়াদ শেষের তারিখ ‘৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৮’ লেখা রয়েছে, মূলত সেগুলোতেই এই সংক্রমণ পাওয়া গেছে।

 

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সাধারণ গ্রাহকদের এই নির্দিষ্ট ব্লুবেরি না খাওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, কেউ যদি এই ব্লুবেরি কিনে থাকেন, তবে তা যেন দ্রুত ডাস্টবিনে ফেলে দেন অথবা দোকানে ফেরত দিয়ে টাকা বুঝে নেন। এমনকি প্যাকেট ছাড়া ফ্রিজে রাখা ব্লুবেরিটি এই ব্র্যান্ডের কি না তা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও তা ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

সাধারণত দূষিত খাবার খাওয়ার কয়েকদিন থেকে সর্বোচ্চ ৯ দিনের মধ্যে ই-কোলাই সংক্রমণের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। এর প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—পেটে তীব্র মোচড় বা ব্যথা, জ্বর, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া এবং অনবরত বমি হওয়া। সম্প্রতি যারা এই ব্লুবেরি খেয়েছেন এবং এই ধরনের উপসর্গের মুখোমুখি হচ্ছেন, তাদের অনতিবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি এবং সংক্রমণের মূল উৎস অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মোমবাতি প্রজ্বলন অনুষ্ঠানে মেয়র মামদানিকে লক্ষ্য করে স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
'আপনি কাপুরুষ': নিউইয়র্কের ইউনিয়ন স্কয়ারে মেয়র মামদানিকে দুয়োধ্বনি

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ইউনিয়ন স্কয়ারে ৭ অক্টোবরের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় মেয়র জোহরান মামদানিকে ঘিরে বিক্ষোভ হয়েছে। বুধবার রাতে মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে একদল বিক্ষোভকারী তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান থেকে মামদানির কাছে আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার দাবি জানান।   ‘ইসরায়েলিজ ফর পিস’ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে ইউনিয়ন স্কয়ারে ওই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলায় নিহত ইসরায়েলি ও ইহুদি ব্যক্তিদের পাশাপাশি পরবর্তী সংঘাতে নিহত ফিলিস্তিনিদেরও স্মরণ করা হয় অনুষ্ঠানে। মোমবাতি হাতে অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়েছিলেন মামদানি। এ সময় সিটি হল এলাকা থেকে মিছিল করে আসা একদল বিক্ষোভকারী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে তাকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে শুরু করেন।   নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ মামদানিকে ‘কাপুরুষ’ বলে স্লোগান দেন এবং তাকে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। ‘মেয়র মামদানি, অবস্থান নিন’ এবং ‘আপনার জন্য লজ্জা’ ধরনের স্লোগানও শোনা যায়। কেফিয়াহ পরা কিছু বিক্ষোভকারী স্মরণসভায় ঢুকে পড়ার পর সেখানে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে মামদানি পুরো সময়ই শান্ত ছিলেন এবং সাবেক নিউইয়র্ক সিটি কন্ট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডারের পাশে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠানটি চালিয়ে যান।   এই বিক্ষোভের আগে নিউইয়র্ক সিটি হলের সামনেও একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফিলিস্তিন ইস্যুতে মামদানির অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে একই দিনে ৭ অক্টোবরের তৃতীয় বার্ষিকী ঘিরে স্মরণসভা, বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণেও বিভিন্ন কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে।   ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে নিউইয়র্কে এবারের কর্মসূচিগুলো আয়োজন করা হয়। নিউইয়র্ক মেয়রের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ১ হাজার ১০০ জনের বেশি ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫১ জনকে অপহরণ করা হয়েছিল। তৃতীয় বার্ষিকীতে দেওয়া এক বিবৃতিতে মামদানি নিহতদের স্মরণ করার পাশাপাশি গাজায় পরবর্তী মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন।   মামদানির ওই বিবৃতিতে তিনি ৭ অক্টোবরের ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে হামলায় নিহত ইসরায়েলিদের জন্য শোক প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেন এবং ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর কথা তুলে ধরেন। তার এই বক্তব্য নিয়ে নিউইয়র্কের ইহুদি ও ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।   ইউনিয়ন স্কয়ারের স্মরণসভায় একই জায়গায় ইসরায়েলপন্থী ও ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন পক্ষের উপস্থিতি থাকায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গথামিস্ট জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় স্মরণসভাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন স্কয়ারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল এবং দুই পক্ষের সমর্থকেরা সেখানে জড়ো হন। পরে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ স্মরণসভায় গিয়ে প্রতিবাদ জানায়।   মেয়র মামদানি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি নিউইয়র্কের ১১২তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থান নিউইয়র্কের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে আছে। ৭ অক্টোবরের তৃতীয় বার্ষিকীতে তার দেওয়া বক্তব্য এবং ইউনিয়ন স্কয়ারের স্মরণসভায় অংশগ্রহণ সেই বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।   তবে বুধবারের স্মরণসভায় মামদানিকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ হলেও অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত চলতে থাকে। ৭ অক্টোবরের হামলা ও পরবর্তী ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে ঘিরে নিউইয়র্কে মতপার্থক্য ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। একই দিনে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষ হামলায় নিহতদের স্মরণ, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি এবং সংঘাতের অবসানের দাবি জানিয়েছেন।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়, এবিসি৭ নিউইয়র্ক

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ২১:৩৯
চার সন্তানকে নিয়ে কিম কার্দাশিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ আয়া থাকলেও সন্তানদের ঘুম পাড়ানো থেকে স্কুলে নেওয়া, সবই করেন কিম কার্দাশিয়ান

অ্যামাজন প্রাইমের সাবস্ক্রিপশন নিয়ে নিষ্পত্তির আওতায় গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

গ্রাহকদের ২০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে অ্যামাজন, কারা পাবেন এই অর্থ

যুক্তরাষ্ট্রে ৫ সেন্টের নিকেল তৈরিতে খরচ ১৩ সেন্ট, পেনির পর এবার নিকেলেও খরচ কমানোর উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রে ৫ সেন্টের নিকেল তৈরিতে খরচ ১৩ সেন্ট, পেনির পর এবার নিকেলেও খরচ কমানোর উদ্যোগ

মিনেসোটায় মল অব আমেরিকায় ৩০ থেকে ৬০ জনকে হ ত্যার ছক, এফবিআইয়ের হাতে তরুণ গ্রেপ্তার
মিনেসোটায় মল অব আমেরিকায় ৩০ থেকে ৬০ জনকে হ ত্যার ছক, এফবিআইয়ের হাতে তরুণ গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিসের কাছে অবস্থিত দেশটির বৃহত্তম শপিংমল 'মল অব আমেরিকা'-তে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নামে ভয়াবহ হামলার ছক কষার অভিযোগে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।   শেখদুন আব্দুল্লাহি মোহামুদ নামের ওই তরুণকে গত মঙ্গলবার এফবিআইয়ের এক আন্ডারকভার এজেন্টের কাছ থেকে ৬০০ ডলারের বিনিময়ে একটি একে-৪৭ রাইফেল (AK-47), গুলি ও ম্যাগাজিন কেনার পরপরই গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নথি ও এফবিআইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, মোহামুদ ওই আন্ডারকভার এজেন্টকে জানিয়েছিল যে, অক্টোবরের শেষের দিকে মল অব আমেরিকাতে অনুষ্ঠিতব্য 'মং আর্টস সেলিব্রেশন' (Hmong Arts Celebration)-কে কেন্দ্র করে সে ৩০ থেকে ৬০ জন অমুসলিমকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল। তার ধারণা ছিল, মলটির মালিকরা ইহুদি, তাই সে এই হামলা চালাতে চেয়েছিল।   এর আগে বিভিন্ন মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে এফবিআই-এর এক গোপন সূত্রের কাছে মোহামুদ জানিয়েছিল যে, সে প্রথমে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন আল-শাবাবের হয়ে যুদ্ধ করতে বিদেশে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু বিদেশ যেতে না পারলে সে যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি ম্যাস শুটিং বা হত্যাযজ্ঞ চালাতে চায়।   পরবর্তীতে সে আইএস-এর সাথে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করে। এছাড়া ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি নিউ অরলিন্সে ভিড়ের মধ্যে ট্রাক তুলে দিয়ে ১৪ জনকে হত্যাকারী এক ব্যক্তির প্রতিও সে সমর্থন জানিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।   গত বুধবার ইউএস ম্যাজিস্ট্রেট জজ এলিজাবেথ কাওয়ান রাইটের আদালতে মোহামুদকে প্রথমবার হাজির করা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটনের উদ্দেশ্যে জ্ঞাতসারে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ গ্রহণের একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, মল অব আমেরিকা হলো যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শপিংমল, যেখানে একটি থিম পার্ক, একটি অ্যাকুয়ারিয়াম এবং ৫০০টিরও বেশি দোকান রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৯:৩৫
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগে নতুন ফি প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে চাকরি করতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দিতে হবে ৭০ হাজার ডলার ফি

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামের ভ য়াবহ প্রাদুর্ভাব, নিউইয়র্কে নতুন করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামের ভ য়াবহ প্রাদুর্ভাব, নিউইয়র্কে নতুন করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

জেডি ভ্যান্সের শৈশবের শহরে উজবেক ট্রাকিং কোম্পানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

জেডি ভ্যান্সের শৈশবের শহরে উজবেক ট্রাকিং কোম্পানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নকল চেইন পরিয়ে বৃদ্ধার আসল সোনার চেইন চুরি, গ্রেপ্তার রোমানিয়ান দম্পতি
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নকল চেইন পরিয়ে বৃদ্ধার আসল সোনার চেইন চুরি, গ্রেপ্তার রোমানিয়ান দম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে এক অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে ৭৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার গলার সোনার চেইন চুরির ঘটনা ঘটেছে। নাসাউ কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মিরোবেলা লাকাতুসু (২৬) এবং রুডি লাকাতুসু (২৮) নামের এক রোমানিয়ান দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   তারা একটি গাড়ি নিয়ে ওই বৃদ্ধার কাছে রাস্তা জিজ্ঞেস করার ছলনায় এগিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে তাকে আলিঙ্গন করার সুযোগ নিয়ে অত্যন্ত কৌশলে প্রায় ২ হাজার ডলার মূল্যের আসল সোনার চেইনটি চুরি করে পালিয়ে যায়।   পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গত সোমবার বিকেলে ভ্যালি স্ট্রিম এলাকায় ওই বৃদ্ধার বাড়ির সামনে এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ওই দম্পতি একটি সোনালি রঙের মিতসুবিশি গাড়িতে করে সেখানে আসে। মিরোবেলা গাড়ির জানালার কাচ নামিয়ে বৃদ্ধার কাছে স্থানীয় 'বিজে'স হোলসেল ক্লাব'-এ যাওয়ার রাস্তা জানতে চান।   ওই বৃদ্ধা সহজ সরলভাবে তাদের পথ দেখিয়ে দিলে, মিরোবেলা অদ্ভুতভাবে তাকে জড়িয়ে ধরে ধন্যবাদ জানাতে চান। এ সময় উপহার হিসেবে তিনি বৃদ্ধাকে দুটি নকল সোনার চেইন পরিয়ে দেন এবং অত্যন্ত সুকৌশলে তার গলায় থাকা আসল সোনার চেইনটি খুলে নেন, যা চোরেরা পালিয়ে যাওয়ার অনেকক্ষণ পর পর্যন্ত বৃদ্ধা টেরই পাননি।   প্রাথমিক তদন্তের পর গোয়েন্দারা দ্রুত এই চোর চক্রটিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। তদন্তে জানা যায়, কানাডার অন্টারিওতে বসবাসরত এই রোমানিয়ান দম্পতি নাসাউ কাউন্টির বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের আরও কয়েকটি প্রতারণা ও চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড লার্সেনি বা বড় ধরনের চুরির তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।   আপাতত তাদের ডেস্ক অ্যাপিয়ারেন্স টিকিট দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও, আগামী ২০ অক্টোবর তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রতারণার শিকার আরও কেউ হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৭:৪৮
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতিতে আড়াই লাখ ডলার জরিমানা, ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতিতে আড়াই লাখ ডলার জরিমানা, ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব

গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একজোট বিশ্ববিদ্যালয় ও শ্রমিক সংগঠন

গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একজোট বিশ্ববিদ্যালয় ও শ্রমিক সংগঠন

রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের আগে যে ৮ বিষয় অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন - মঞ্জুর আহমেদ

রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের আগে যে ৮ বিষয় অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন - মঞ্জুর আহমেদ

0 Comments