আমেরিকা

৮ লাখ ৫০ হাজার আতশবাজির পর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বড় শহর ওয়াশিংটন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছিল অস্বাস্থ্যকর বাতাস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ২০:৫৫
আতশবাজির পর ওয়াশিংটনে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ছবি: সংগৃহীত
আতশবাজির পর ওয়াশিংটনে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল আতশবাজির প্রদর্শনীর পর কয়েক ঘণ্টার জন্য বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরে পরিণত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি। বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ৪০ মিনিটের আতশবাজির প্রদর্শনী শহরজুড়ে বায়ুদূষণের মাত্রা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে কর্তৃপক্ষ জনস্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করতে বাধ্য হয়।

 

বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্ল্যারিটি মুভমেন্ট মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজি প্রদর্শনীর পর বাতাসে ক্ষুদ্র কণার (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম) ঘনত্ব স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৬ দশমিক ৭ গুণ বেড়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটি ওয়াশিংটনজুড়ে স্থাপিত ২৬টি বায়ুমান পর্যবেক্ষণ যন্ত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল প্রকাশ করেছে। এসব যন্ত্র স্থানীয় জ্বালানি ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়।

 

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, শহরের প্রতিটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বায়ুর মান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যাকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) 'সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে বিবেচনা করে। কয়েকটি এলাকায় দূষণের মাত্রা এর চেয়েও বেশি ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আতশবাজি প্রদর্শনী শেষ হওয়ার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর, রোববার ভোর ৪টার দিকে দূষণের মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর আরও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বায়ুদূষণ উচ্চমাত্রায় স্থায়ী ছিল। পরিস্থিতির কারণে ওয়াশিংটন ডিসি কর্তৃপক্ষ 'কোড রেড' সতর্কতা জারি করে।

 

সতর্কবার্তায় বলা হয়, প্রবীণ, শিশু এবং শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য বাইরের বাতাস স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি সাধারণ মানুষও স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ওয়েস্ট পোটোম্যাক পার্কে আতশবাজি নিক্ষেপের একটি প্রধান স্থান থাকার পাশাপাশি রাতের আবহাওয়ার কারণে ধোঁয়া ওই এলাকায় আটকে থাকায় দূষণ বেশি হয়েছে।

ক্ল্যারিটি মুভমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড লু বলেন, দূষিত বাতাস সম্ভবত প্রতিবেশী ভার্জিনিয়ার আর্লিংটন এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সেখানে পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ যন্ত্র না থাকায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

তার ভাষায়, এই ঘটনাই দেখিয়ে দেয় কেন তাৎক্ষণিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করা জরুরি। পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকলে বড় ধরনের দূষণের ঘটনা অনেক সময় অজানাই থেকে যায়।

বিশ্লেষকরা আরও বলেছেন, রোববার সন্ধ্যায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বাতাসের দূষণ কিছুটা কমে আসে এবং সম্ভাব্য আরও বড় সংকট এড়ানো সম্ভব হয়।

 

এবারের স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ আতশবাজি প্রদর্শনীর আয়োজন করে ট্রাম্প-সমর্থিত অলাভজনক সংস্থা ফ্রিডম ২৫০। আয়োজকদের দাবি, শনিবার রাত ১১টায় শুরু হওয়া প্রদর্শনীতে রাজধানীর ১০টি স্থান থেকে ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি আতশবাজি ফোটানো হয়। তুলনামূলকভাবে ওয়াশিংটনে সাধারণ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রায় ১৭ হাজার আতশবাজি ব্যবহার করা হয়।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রদর্শনীকে 'তার দেখা সবচেয়ে দর্শনীয় আতশবাজির অনুষ্ঠান' বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার এয়ারনাউ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, আতশবাজি প্রদর্শনীর পর কিছু সময়ের জন্য বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে ওয়াশিংটনের বায়ুমান ছিল সবচেয়ে খারাপ।

 

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স বলেন, এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সবচেয়ে বড় আতশবাজির প্রদর্শনী। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছরই স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজির পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে স্বল্প সময়ের জন্য বায়ুদূষণ বেড়ে যায়। এবারের ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়।

 

অন্যদিকে আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর প্রায় ৩০ কোটি পাউন্ড আতশবাজি ব্যবহার করা হয়। এসব আতশবাজি থেকে সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইডসহ ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন গ্যাস ও সূক্ষ্ম কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।

 

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় আকারের আতশবাজির প্রদর্শনী স্বল্প সময়ের জন্য হলেও বায়ুমানের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের জন্য এ ধরনের দূষণ তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ডি'কেনড্রিক ক্রফোর্ড (মাঝে)। নিহত জ্যাজমিন অ্যালেক্সিস বেটস (বাঁয়ে) ও ফেলিক্স আলভারেজ (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
আলাবামায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, তার বন্ধু ও পোষা কুকুরকে গুলি করে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যে একটি বাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী, তার এক বন্ধু এবং একটি পোষা কুকুরের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্তকারীরা।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম WBRC জানিয়েছে, গত ৬ জুলাই ব্রুকউড শহরের একটি বাড়িতে খোঁজখবর নেওয়ার (ওয়েলফেয়ার চেক) জন্য পুলিশকে ডাকা হয়। বাড়ির মালিক সে সময় শহরের বাইরে ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে ৩১ বছর বয়সী হোসে ফেলিক্স আলভারেজ-দুয়েনাস বাড়িটি দেখাশোনা করছিলেন এবং একই সঙ্গে মালিকের পোষা কুকুরের দেখভালের দায়িত্বেও ছিলেন।   পুলিশ জানায়, দীর্ঘ সময় আলভারেজ-দুয়েনাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে বাড়ির মালিক নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও পরীক্ষা করেন। সেখানে ৬ জুলাই ভোরে বাড়ির পেছনের বারান্দায় এক ব্যক্তির সন্দেহজনক চলাফেরা দেখতে পান তিনি। এরপর বাড়ির মালিক তার বাড়িওয়ালার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বাড়িওয়ালা পুলিশকে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ জানান।   পুলিশ বাড়ির প্রধান দরজা খুলেই আলভারেজ-দুয়েনাসের মরদেহ দেখতে পায়। পরে একটি শোবার ঘরের আলমারির ভেতর থেকে ২২ বছর বয়সী জ্যাজমিন অ্যালেক্সিস বেটসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। তদন্তে জানা যায়, দুজনকেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বাড়ির পোষা কুকুরটিকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।   ঘটনাস্থলের ডোরবেল ক্যামেরার ভিডিও এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে ২৪ বছর বয়সী ডি'কেনড্রিক ক্রফোর্ডকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে তদন্তকারীরা। এরপর তার বিরুদ্ধে মূলধনী হত্যা (ক্যাপিটাল মার্ডার) মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের প্রায় ১০ ঘণ্টার মধ্যেই এক আত্মীয়ের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ক্রফোর্ডকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে তিনি বাইরে আসতে অস্বীকৃতি জানান। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভবনে প্রবেশ করে চিলেকোঠায় লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করে।   তদন্তকারীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের কোনো স্পষ্ট উদ্দেশ্য বা কারণ জানা যায়নি। টাসকালুসা ভায়োলেন্ট ক্রাইমস ইউনিটের ক্যাপ্টেন জ্যাক কেনেডি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিহত দুজনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা থেকে বোঝা যায় কেন তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।   তার ভাষায়, 'তারা কোনো ভুল করেননি। সন্দেহভাজনের পরিচিতদের কাছ থেকেও এমন কোনো তথ্য মেলেনি, যা এই হামলার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে।' তিনি আরও জানান, তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ক্রফোর্ডের বিরুদ্ধে আগেই একটি গুরুতর অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ২০২৬ সালের মে মাসে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি চুক্তিভিত্তিক চাকরি হারানোর পর তিনি সেখান থেকে গাড়ি চালিয়ে চলে যাওয়ার সময় একটি ব্যবহৃত ভবনের দিকে একাধিকবার গুলি ছোড়েন। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং এরপর থেকে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।   জ্যাজমিন বেটসের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে সহায়তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের জন্য কাউন্সেলিং এবং মানসিক সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ২১:২৯
আতশবাজির পর ওয়াশিংটনে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ছবি: সংগৃহীত

৮ লাখ ৫০ হাজার আতশবাজির পর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বড় শহর ওয়াশিংটন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছিল অস্বাস্থ্যকর বাতাস

অভিযানে জব্দ করা মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্রের অংশ। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতভিত্তিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বড় অভিযান, গ্রেপ্তার ১১

ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড কাউন্টিতে ছড়িয়ে পড়া ভলকানো দাবানলের ধোঁয়া। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় দ্রুত ছড়াচ্ছে ‘ভলকানো’ দাবানল, নিরাপত্তার জন্য সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবদাহের সতর্কতা
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবদাহের সতর্কতা, তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ১১৫ ডিগ্রিতে

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে পারদ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ‘হিট অ্যাডভাইজরি’ বা তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া বিভাগ। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই সতর্কতা বলবৎ থাকবে শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকার তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।   সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে যাচ্ছে অঙ্গরাজ্যটির মরুভূমি অঞ্চলগুলো। এসব এলাকার জন্য মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত ‘এক্সট্রিম হিট ওয়ার্নিং’ বা চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে মঙ্গলবার মরুভূমি অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকলেও পাম স্প্রিংস এলাকায় তা ১১১ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছোঁয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পুরো সপ্তাহজুড়েই এসব অঞ্চলে তীব্র দাবদাহ অব্যাহত থাকবে।   আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বেশি গরম অনুভূত হবে। তবে শুক্রবার থেকে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে শুরু করবে এবং তাপমাত্রা নিম্নমুখী হবে। সপ্তাহান্তে বাতাসে আর্দ্রতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কিছু এলাকায় স্বস্তির বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এর আগে লস এঞ্জেলেস ও অরেঞ্জ কাউন্টিতে মঙ্গলবার আকাশ পরিষ্কার থাকলেও দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৮৫ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে অবস্থান করবে, যা বুধ ও বৃহস্পতিবার বেড়ে ৮০-এর কোঠার একেবারে শেষ প্রান্তে পৌঁছাতে পারে।   এদিকে ভ্যালি এলাকা এবং ইনল্যান্ড এম্পায়ার অঞ্চলে মঙ্গলবার সর্বোচ্চ ৯৬ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ৬৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা বিরাজ করবে। তবে বুধবার থেকে এসব এলাকায়ও তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাবে এবং শুক্রবার থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। অন্যদিকে, সমুদ্র উপকূলীয় এবং পাহাড়ি এলাকাগুলোতে তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক আবহাওয়া বিরাজ করবে। উপকূলে মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৭৪ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন ৬৪ ডিগ্রি থাকলেও বৃহস্পতিবার তা ৭৭ ডিগ্রিতে উঠতে পারে। একইভাবে পাহাড়ি অঞ্চলে মঙ্গলবার রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৮৪ ডিগ্রি থেকে বেড়ে বৃহস্পতিবার ৮৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছানোর আভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ২০:০
যমজ সন্তান হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা

যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোতে টিকার দোষ দিয়ে সহানুভূতি কুড়ানো মা, যমজ সন্তান হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

সান ডিয়েগোতে অস্ত্রোপচারের সময় কিশোরীর ব্যাগ চুরি, হারাল মৃত বাবার অমূল্য স্মৃতি

ফিলাডেলফিয়ায় নোংরা বাড়ি থেকে উদ্ধার ২ শিশু I ছবি: সংগৃহীত

ফিলাডেলফিয়ায় নোংরা বাড়ি থেকে উদ্ধার ২ শিশু, মিলল একাধিক মৃত প্রাণী

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
৩০ বছরে ৩২৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষের অভিযোগ প্রমাণিত, চীনের সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় নানজিং শহরের একটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন অঞ্চলের সাবেক কর্মকর্তা ইয়াং ইউলিনকে প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ঘুষ গ্রহণসহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। প্রায় তিন দশক ধরে বিপুল পরিমাণ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর সোমবার এ রায় ঘোষণা করা হয়।   চীনের জিয়াংসু প্রদেশের চাংঝৌ ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট জানিয়েছে, ইয়াং ইউলিন ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন, ব্যবসায়িক সুবিধা, জমি বরাদ্দ এবং অর্থায়নের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে ২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি অর্থ ও সম্পদ অবৈধভাবে গ্রহণ করেন।   আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অপরাধের পাশাপাশি তিনি আত্মসাৎ, সরকারি অর্থের অপব্যবহার, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থপাচারের অপরাধেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাঁর সব ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের পাশাপাশি অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে ফেরত আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   আদালত বলেছে, দুর্নীতির পরিমাণ, দীর্ঘ সময় ধরে অপরাধ সংঘটন এবং রাষ্ট্র ও সমাজের ওপর এর গুরুতর প্রভাব বিবেচনায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুনানির শেষ পর্যায়ে ইয়াং ইউলিন নিজের অপরাধ স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন বলেও আদালত জানিয়েছে।   ইয়াং ইউলিনের বিরুদ্ধে মামলাটি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশটিতে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।   চীনে দুর্নীতির মামলায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও এ ধরনের সাজা তুলনামূলকভাবে বিরল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অত্যন্ত বড় অঙ্কের দুর্নীতি বা গুরুতর আর্থিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই এ ধরনের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১৮:১৮
প্রতীকী ছবি: ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে স্পেসএক্সের শেয়ার দানের ঘোষণা

ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে ২০ লাখের বেশি নির্বাচিত শিশুকে স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দিচ্ছেন গুইন শটওয়েল

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডায় প্রাক্তন প্রেমিকাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারতে গিয়ে নিজেই দগ্ধ ৮৪ বছরের বৃদ্ধ

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভুয়া টেক্সট মেসেজের ফাঁদে পড়ে ৭২ হাজার ডলার হারালেন সাবেক নিউজ অ্যাঙ্কর

0 Comments