যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গ্রীষ্মজুড়ে বিনামূল্যে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার। ‘ইউ আর আমেরিকা’ শীর্ষক এই কর্মসূচির উদ্বোধন হবে ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। সোমবার প্রকাশিত এক ঘোষণায় জানানো হয়, ‘দ্য পিপলস ফোর্থ’ শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগামী শনিবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সেন্টারের জন লুইস প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে সরাসরি সংগীত পরিবেশনা, স্বনির্দেশিত ক্যাম্পাস ভ্রমণ এবং পরিবারকেন্দ্রিক বিভিন্ন আয়োজন থাকবে। এদিন সংগীত পরিবেশন করবেন মেলোডি অ্যাঞ্জেল, মুকা পাজা এবং ডিজে হট রড। ওবামা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্যালেরি জ্যারেট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার আশা ও অনুপ্রেরণার একটি স্থায়ী ঠিকানা। দেশের এই ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপনের মাধ্যমে আমরা এমন মানুষদের সামনে তুলে ধরতে চাই, যারা ভবিষ্যতে আরও উন্নত একটি দেশ গড়তে ভূমিকা রাখবেন। আশপাশের এলাকা, শহর কিংবা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা এই আয়োজন থেকে অনুপ্রাণিত হবেন।” জুলাই মাসজুড়ে আরও কয়েকটি বিশেষ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। ৭ জুলাই শিল্পী মার্ক ব্র্যাডফোর্ড এবং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. লুইস বার্নার্ড শিল্পকলা নিয়ে একটি আলোচনায় অংশ নেবেন। ১০ জুলাই শিকাগোর হাউস মিউজিক উদযাপন উপলক্ষে ডিজে লেডি ডি এবং জেসি ডি লা পেনা সরাসরি সংগীত পরিবেশন করবেন। ১৭ জুলাই নাগরিক অংশগ্রহণ, ইতিহাস এবং শিল্পকলাকে কেন্দ্র করে একটি সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া ১২ জুলাই থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি দুই সপ্তাহ পরপর আরবান গ্রোয়ার্স কালেকটিভের সহযোগিতায় উন্মুক্ত বাগান আড্ডার আয়োজন থাকবে। এসব অনুষ্ঠানে স্থানীয় ডিজেদের সংগীত, বাগানবিষয়ক হাতে-কলমে কার্যক্রম এবং মৌসুমি খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ২১ জুলাই শুরু হবে ‘মুভিজ অন দ্য প্লাজা’ সিরিজ। উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে দেখানো হবে জনপ্রিয় মিউজিক্যাল চলচ্চিত্র হ্যামিল্টন। আগস্ট মাসে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্মদিন উপলক্ষে কারাওকে অনুষ্ঠান এবং শিকাগোর বৈচিত্র্যময় খাদ্যসংস্কৃতি নিয়ে বিশেষ আয়োজনও থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি-এ সাউথ এশিয়ান কালচারাল সেন্টারে একসঙ্গে উদযাপিত হয়েছে ঈদুল ফিতর, হোলি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। গত ১৫ এপ্রিল (শুক্রবার) আয়োজিত এই বহুসাংস্কৃতিক মিলনমেলায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় আনন্দ, সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যের অনন্য পরিবেশ। আয়োজনে অংশ নেন সেন্টারলাইট হেলথকেয়ারের পেস কর্মসূচির সদস্যরা। তারা বলেন, ঈদুল ফিতর রমজানের পর আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে, হোলি বসন্ত ও নতুন জীবনের প্রতীক এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস গৌরবময় ইতিহাসের স্মারক। তিনটি ভিন্ন উৎসব একসঙ্গে উদযাপনের মধ্য দিয়ে প্রবাসে সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, বিভিন্ন সংস্কৃতির খাবারের আয়োজন, প্রার্থনা এবং শেষে বাইরে রঙ খেলার মধ্য দিয়ে হোলির উচ্ছ্বাস। অংশগ্রহণকারী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “অনুষ্ঠানটি খুবই সুন্দর হয়েছে, সবাই দারুণ উপভোগ করেছে।” সেন্টারলাইট হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারা বুয়োনোকোরে-রুট বলেন, ভিন্ন সংস্কৃতির উৎসব একসঙ্গে উদযাপনের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে সবাই নিজেকে মূল্যবান মনে করতে পারে। সাউথ এশিয়ান কালচারাল সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশীয় বয়স্কদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চাহিদা পূরণে কাজ করে আসছে। এই আয়োজন প্রবাসে বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা যদি একতাবদ্ধভাবে কাজ করি, তাহলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠন করা অসম্ভব নয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনাসভায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। বক্তৃতার শুরুতেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ সব জাতীয় নেতাদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতকে সম্পূর্ণ ভুলে থাকা যেমন চলবে না, আবার অতীতের মধ্যে আটকে থাকলেও তা আমাদের ভবিষ্যতের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত এই গৌরবগাঁথা নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা হবে, তবে তা কখনও ইতিহাসের অবমূল্যায়ন করবে না। তরুণ প্রজন্মের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা হঠাৎ করেই দেননি; দীর্ঘকালীন মানসিক প্রস্তুতির পর তিনি দেশকে স্বাধীনতার দিকে নেতৃত্ব দেন।” তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ জিয়ার নিজের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধই এর প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো প্রাণের বিনিময়ে আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামে শহীদের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে যদি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠিত করা সম্ভব। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি—যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন—জনগণের জীবনমান উন্নয়নে এবং দেশকে স্বনির্ভর করতে কাজ করছে। শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক—সমাজের একটি অংশ নয়, আমরা সবাই মিলে ভালো থাকবো এবং চেষ্টা করবো সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।”
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, এবার আমরা সবাই নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়েছি। সেই লক্ষ্যেই আগামী দিনে দেশকে সত্যিকার অর্থে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। এ সময় বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথাও স্মরণ করেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, “আজ আমরা একটি ভিন্ন পরিবেশে স্বাধীনতা দিবস পালন করছি। একটি মুক্ত ও ফ্যাসিস্টমুক্ত পরিবেশে দিনটি উদ্যাপন করছি। তবে দুঃখের বিষয়, আমাদের এই দিনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে নেই।”
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্মৃতিসৌধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অবস্থিত পুলিশ স্মৃতিসৌধে তাঁরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান। প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর আইজিপি আলী হোসেন ফকির শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিউব্লিউএন)-এর পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারা দেশে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর হামলার পর ২৬ মার্চের প্রভাতে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় স্বাধীনতা। দিবসটি উপলক্ষে দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পৃথক বাণীতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, “স্বাধীনতা জাতি হিসেবে আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন।” তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, স্বনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, স্বাধীনতা দিবস আমাদের সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। তিনি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। দিবসটি উপলক্ষে সরকার দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিদেশি কূটনীতিকরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ ছাড়া জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গভবনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। বেতার ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। জেলা ও উপজেলায় বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে।
মহান স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি ২৬ মার্চ যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও দুঃশাসনমুক্ত একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা নিয়েই সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও দীর্ঘ সময় পরেও সেই লক্ষ্য পূরণে ঘাটতি রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জামায়াত আমির আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান হয়েছে এবং পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা—দেশে আর কোনো ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক বা ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি হবে না। তিনি বলেন, জনগণ চায় এমন একটি পরিবেশ, যেখানে তারা ভীতি ছাড়াই চলাফেরা ও মতপ্রকাশ করতে পারবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার কথাও বলেন। বিবৃতিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন এবং গণভোটে বিপুল সমর্থন থাকা সত্ত্বেও এর বাস্তবায়নে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সবশেষে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘোষিত টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি আজ সোমবার (২৩ মার্চ) শেষ হচ্ছে। এর ফলে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে সারা দেশে অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা এবং শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে। গত শনিবার দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ঈদের আমেজ বিরাজ করলেও কাল থেকেই ফিরতে হচ্ছে কর্মব্যস্ততায়। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৭ মার্চ থেকে এই দীর্ঘ ছুটি কার্যকর হয়েছিল। তবে আগামীকাল অফিস খোলার মাত্র এক দিন পরেই সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা আবারও ছুটির আমেজ পাবেন। আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকবে। এর পরবর্তী দুদিন যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় অফিস খোলার পর পরই আবারও তিন দিনের টানা ছুটি পেতে যাচ্ছেন কর্মজীবীরা। এদিকে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সংবাদপত্রে কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টানা পাঁচ দিনের ছুটিও আজ শেষ হচ্ছে। নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) গত ১৯ মার্চ থেকে আজ ২৩ মার্চ পর্যন্ত এই ছুটি ঘোষণা করেছিল। ফলে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সংবাদপত্র অফিসগুলোতেও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে এবং যথারীতি নিয়মিত সংবাদ পরিবেশন শুরু হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।