ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এর প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের ১১টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শান্তি সমঝোতার খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসব জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলাচল করা জাহাজগুলোর মধ্যে আটটি পণ্যবাহী জাহাজ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক নৌপথ থেকে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি হয়ে ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করে।
নতুন সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানকে লক্ষ্য করে আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। এর বিনিময়ে আগামী ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদ ও শুল্কমুক্ত যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা। উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) রেলওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন গতি এসেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর পরিবহন ও যোগাযোগমন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রকল্পটির কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে কুয়েত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং ওমানকে একক রেল নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, গালফ রেলওয়ে কেবল একটি পরিবহন অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও লজিস্টিক সংযোগে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার ১১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেল নেটওয়ার্ক কুয়েত সিটি থেকে শুরু হয়ে সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অতিক্রম করে ওমানের রাজধানী মাসকাট পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। জিসিসি পরিবহনমন্ত্রীদের বৈঠকে বলা হয়, রেলপথ চালু হলে সড়কপথে পণ্য পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমবে, পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও সহজ হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করে ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো নেটওয়ার্ক চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কুয়েত এ প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশটি শাদাদিয়া থেকে সৌদি সীমান্তবর্তী নুয়াইসিব পর্যন্ত ১১১ কিলোমিটার রেলপথের নকশা তৈরির জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। একই সঙ্গে কুয়েত পৌর কাউন্সিল সৌদি আরবের সঙ্গে রেল সংযোগের রুট ও করিডর অনুমোদন করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবও কুয়েত-সৌদি রেল সংযোগ প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপ এগিয়ে নিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুয়েত সীমান্ত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সীমান্ত পর্যন্ত সৌদি অংশের রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীবাহী ট্রেন ঘণ্টায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কুয়েত সিটি থেকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ পর্যন্ত যাত্রা দুই ঘণ্টারও কম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এছাড়া পণ্যবাহী ট্রেনের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত, নিরাপদ ও কম খরচে পণ্য পরিবহন করা যাবে, যা আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গালফ রেলওয়ে প্রকল্প চালু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক একীকরণ আরও শক্তিশালী হবে। বাণিজ্যের পাশাপাশি পর্যটন, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার এবং আন্তঃদেশীয় যোগাযোগেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে সম্ভাব্য বিঘ্ন বা সংকটের সময় বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে এই রেল নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বহু বছর ধরে পরিকল্পনাধীন গালফ রেলওয়ে প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের পথে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ আন্তঃদেশীয় অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতায় নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করবে।
সুইজারল্যান্ডে অভিবাসন সীমিত করে দেশের জনসংখ্যা এক কোটির মধ্যে আটকে রাখার প্রস্তাব গণভোটে প্রত্যাখ্যান করেছেন ভোটাররা। ডানপন্থি সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি-ইউডিসি) সমর্থিত এই উদ্যোগের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৫৪ শতাংশের বেশি নাগরিক। রোববার অনুষ্ঠিত গণভোটের ফল প্রকাশের পর স্বস্তি প্রকাশ করেছে সুইস সরকার, প্রধান রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন এবং ব্যবসায়ী মহল। বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি পাস হলে সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সম্পর্ক বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারত। ফলাফল ঘোষণার পর দেশটির বিচার ও পুলিশমন্ত্রী বিট ইয়ান্স বলেন, “আজকের ভোটের মাধ্যমে সুইস জনগণ স্থিতিশীলতা, উন্মুক্ততা এবং আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্যতার পক্ষে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।” গণভোটের আগে পরিচালিত বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গিয়েছিল, প্রস্তাবটির বিরোধীরা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভোটের ফল সেই পূর্বাভাসকেই সত্য প্রমাণ করেছে। প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য ছিল ২০৫০ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের স্থায়ী জনসংখ্যা এক কোটির বেশি হতে না দেওয়া। বর্তমানে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৯৫ লাখ। ইউডিসির দাবি ছিল, অব্যাহত অভিবাসনের কারণে আবাসন সংকট, যানজট, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে চাপ ক্রমেই বাড়ছে। সুইজারল্যান্ডে বর্তমানে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি। ডানপন্থি দলটির মতে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভবিষ্যতে অবকাঠামোগত সংকট আরও তীব্র হবে। তবে প্রস্তাবটির বিরোধীরা যুক্তি দেন, সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি দক্ষ কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল। অভিবাসন কঠোরভাবে সীমিত করা হলে শ্রমবাজারে সংকট তৈরি হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশটি পিছিয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। যদিও দেশটি ইইউর সদস্য নয়, তবুও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে এবং ২০৫০ সালের আগেই জনসংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে গেলে সুইস সরকারকে দুই বছরের মধ্যে ইইউর সঙ্গে মানুষের অবাধ চলাচলসংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করতে হতো। এর ফলে আশ্রয়, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণেই ব্যবসায়ী সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে একজোট হয়েছিল। গণভোটে শুধু জাতীয় পর্যায়েই নয়, অধিকাংশ ক্যান্টনেও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা দেখা গেছে বাসেল-শ্টাড, জেনেভা এবং নিউশাতেল ক্যান্টনে। সুইস ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ফলাফল প্রমাণ করেছে যে সুইস জনগণ নিজেদের সমাজকে আরও বন্ধ ও বিচ্ছিন্ন করার পথ বেছে নেয়নি। তারা বহুত্ববাদ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে ইউডিসির সভাপতি মার্সেল ডেটলিং ফলাফলকে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করলেও তিনি দাবি করেন, অভিবাসন প্রশ্নে জনগণের উদ্বেগ এখনও রয়ে গেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে তাদের প্রস্তাব উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছে। গ্রিন পার্টি ফলাফলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, ভোটাররা বিভাজনমূলক রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন সোশ্যালিস্ট পার্টির সংসদ সদস্য বেনোয়া গাইয়ার। তিনি বলেন, এই ফলাফল এমন রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি বার্তা, যা সমস্যার সমাধানের বদলে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে দায়ী করার চেষ্টা করে। ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের বিশ্লেষক জেস মিডলটন মনে করেন, প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় সুইজারল্যান্ড সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অস্থিরতা থেকে রক্ষা পেয়েছে। গণভোটে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৯ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর গড় উপস্থিতির তুলনায় অনেক বেশি। জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক পাসকাল সিয়ারিনি বলেন, অভিবাসন ও ইউরোপনীতি ঘিরে তীব্র বিতর্ক থাকায় ভোটারদের আগ্রহও ছিল বেশি। তবে তিনি মনে করেন, প্রস্তাবটি ব্যর্থ হলেও ইউডিসি উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছে। প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পাওয়া দেখায় যে অভিবাসন প্রশ্নটি এখনও সুইস রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে রয়েছে। একই দিনে অনুষ্ঠিত আরেকটি গণভোটে সুইস ভোটাররা বেসামরিক সেবায় যোগদানের নিয়ম কঠোর করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন। ইউরোপজুড়ে সামরিক সক্ষমতা জোরদারের আলোচনার মধ্যে সুইস সরকার এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ গণভোটের ফলাফল একদিকে যেমন অভিবাসন বিষয়ে সুইস জনগণের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরেছে, অন্যদিকে দেশটির ইউরোপমুখী অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নীতির প্রতি জনগণের সমর্থনেরও ইঙ্গিত দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন চুক্তির পর ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করেছে ওয়াশিংটন। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের বিরুদ্ধে কার্যকর থাকা নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি চুক্তি বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, চুক্তির কিছু বিষয় নিয়ে তার ব্যক্তিগত আপত্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি এতে অনুমোদন দিয়েছেন। খামেনির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান তাকে আশ্বস্ত করার পরই তিনি চুক্তিতে সম্মতি দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইরান তার নীতিগত অবস্থান থেকে সরে এসেছে বা যুক্তরাষ্ট্রের সব অবস্থান মেনে নিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি খামেনির মন্তব্যের জবাব না দিলেও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ এলাকাতেও শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প বিশেষভাবে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। এদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, চুক্তি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ৬০ দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পর্ব শুরু হয়েছে। এই সময়ে দুই দেশ বিভিন্ন কারিগরি ও রাজনৈতিক বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করবে। ভ্যান্স জানান, আলোচনার পরবর্তী ধাপ পরিচালনার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে সুইজারল্যান্ড সফর করতে পারেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান চুক্তির সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত কোনো ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণের সুযোগ পাবে না। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালির নিরাপদ ও স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দীর্ঘদিন ধরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এ ছাড়া চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না। একই সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। তবে ওই তহবিলে অর্থায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানানো হয়েছে। চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষ সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। প্রয়োজন হলে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ ইতোমধ্যে দূরবর্তী পদ্ধতিতে নথিতে স্বাক্ষর করায় অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চুক্তি বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ সমঝোতার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা শিগগিরই সুইজারল্যান্ডে বৈঠকে বসতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ বৈরিতার পর এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করতে পারে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে আগামী ৬০ দিনের আলোচনা কতটা কার্যকরভাবে এগিয়ে যায় এবং উভয় পক্ষ চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিকতা দেখায় তার ওপর।