বিশ্ব

সরকারি নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় চেক প্রজাতন্ত্রে পাবলিক মিডিয়ার কর্মীদের সতর্কতামূলক ধর্মঘট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ২:৫৮
সরকারি নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় চেক প্রজাতন্ত্রে পাবলিক মিডিয়ার কর্মীদের সতর্কতামূলক ধর্মঘট
সরকারি নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় চেক প্রজাতন্ত্রে পাবলিক মিডিয়ার কর্মীদের সতর্কতামূলক ধর্মঘট

চেক প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের অর্থায়নব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রস্তাবকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সরকারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে দেশটির পাবলিক মিডিয়ার কর্মীরা এক দিনের ‘সতর্কতামূলক’ ধর্মঘট পালন করেছেন।

 

সোমবার রাজধানী প্রাগে চেক টেলিভিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়। এর আগের দিনও একই দাবিতে সেখানে বড় ধরনের সমাবেশ হয়। কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে চলমান বিক্ষোভের ধারাবাহিকতার অংশ।

 

ধর্মঘটকারীদের অভিযোগ, সরকারের প্রস্তাবিত নতুন অর্থায়নব্যবস্থা কার্যকর হলে চেক টেলিভিশন ও চেক রেডিওর স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের আশঙ্কা, প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিসের নেতৃত্বাধীন সরকার গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

 

সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, লাইসেন্স ফি পদ্ধতি বাতিল করে পাবলিক মিডিয়াগুলোকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে অর্থায়ন করা হবে। গত সপ্তাহে দীর্ঘ আলোচনার পর মন্ত্রিসভা এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয়। তবে এতে অর্থায়নের পরিমাণ ২০০৮ সালের স্তরে নামিয়ে আনার প্রস্তাব রয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র এক বছর আগে পূর্ববর্তী সরকার ১৭ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এই খাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়েছিল।

 

প্রধানমন্ত্রী বাবিস দাবি করেছেন, নতুন ব্যবস্থা নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য ন্যায্য হবে এবং এতে গণমাধ্যমগুলো আরও দক্ষভাবে পরিচালিত হবে। তবে সমালোচকদের মতে, রাষ্ট্রীয় বাজেটনির্ভরতা বাড়লে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগও বেড়ে যাবে। তারা হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে সতর্ক করেছেন, যেখানে অনুরূপ পদক্ষেপের ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম পর্যবেক্ষক সংস্থাও চেক সরকারের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এ ধরনের পরিবর্তন রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

ধর্মঘট চলাকালে চেক টেলিভিশনের কয়েকটি অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট পরে প্রচার শুরু হয় এবং পর্দায় কাউন্টডাউন প্রদর্শন করা হয়। এ সময় সাংবাদিকরা কালো পোশাক পরে ‘আমরা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নই’ এবং ‘স্বাধীনতা মানে খরচ নয়’ লেখা ব্যানার হাতে প্রতিবাদ জানান।

 

নতুন পরিকল্পনা কার্যকর হলে আগামী বছর পাবলিক মিডিয়ার বাজেট প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা। এতে শত শত কর্মী ছাঁটাই এবং বহু অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেডিও ও টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা।

 

পরিস্থিতি ঘিরে দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, এবং সরকার ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে এই বিরোধ কীভাবে সমাধান হবে, সেদিকে এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলেরও।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
শেহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ এক সফরে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian। মঙ্গলবার (২৩ জুন) শুরু হওয়া এই রাষ্ট্রীয় সফরে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif-এর আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এ সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলও পাকিস্তান সফরে অংশ নিয়েছে।   সফরের শুরুতেই ইসলামাবাদে পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের সূচি রয়েছে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের। এর মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট Asif Ali Zardari, সিনেট চেয়ারম্যান Yousaf Raza Gillani, জাতীয় পরিষদের স্পিকার Ayaz Sadiq এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী Ishaq Dar।   কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান Asim Munir-এর সঙ্গেও বৈঠক করবেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতা নিয়ে এসব বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আন্তঃসীমান্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ফলে এবারের বৈঠকগুলোতে নিরাপত্তা সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।   একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণও সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও পাকিস্তান উভয় দেশই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়াতে আগ্রহী। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।   সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানও আঞ্চলিক কূটনীতিতে সক্রিয় অবস্থান ধরে রেখেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের এই যোগাযোগকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।   কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নেই নয়, বরং আঞ্চলিক সংলাপ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ জোরদার করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। সফর শেষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা ও যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা আসতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে।   ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর ফলাফল এখন নজর কাড়ছে আঞ্চলিক কূটনৈতিক মহলের। বিশেষ করে বাণিজ্য, জ্বালানি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে কী ধরনের অগ্রগতি হয়, তা দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ৩:৫৪
সরকারি নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় চেক প্রজাতন্ত্রে পাবলিক মিডিয়ার কর্মীদের সতর্কতামূলক ধর্মঘট

সরকারি নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় চেক প্রজাতন্ত্রে পাবলিক মিডিয়ার কর্মীদের সতর্কতামূলক ধর্মঘট

ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

চুক্তি ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা: ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

চীন থেকে ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, চিন্তার ভাঁজ ভারতের কপালে

চীন থেকে ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, চিন্তার ভাঁজ ভারতের কপালে

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতার ছায়ায় পাকিস্তান সফরে পেজেশকিয়ান

একদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) পাকিস্তান যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তি প্রক্রিয়ায় ইসলামাবাদের মধ্যস্থতার পর এই সফরকে তেহরান–ইসলামাবাদ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এটি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের দ্বিতীয় সরকারি পাকিস্তান সফর। তার সঙ্গে মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল থাকছে, যা সফরের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   সফরকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্বাগত ব্যানার টানানো হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তান ও ইরানের জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা, যা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।   পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সফরকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন। এছাড়া সিনেট চেয়ারম্যান, জাতীয় পরিষদের স্পিকার, উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও তার বৈঠকের কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে।   এই বৈঠকগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও জোরদার করা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে। বিশেষ করে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি অতীতের অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন ও অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হবে।   এছাড়া ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হবে। আলোচ্যসূচিতে থাকবে আঞ্চলিক শান্তি, পারস্পরিক সমন্বয় এবং উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সাম্প্রতিক সমঝোতার পর দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে যে পরিবর্তন এসেছে, তার প্রেক্ষাপটে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তারা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে তেহরান ও ইসলামাবাদ শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কই জোরদার করবে না, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার বার্তা দেবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১:২৪
১২ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা সম্পন্ন

১২ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা সম্পন্ন

মিয়ানমারে ছয় মাসে ৭০০’র বেশি বেসামরিক নিহত

মিয়ানমারে ছয় মাসে ৭০০’র বেশি বেসামরিক নিহত

আকাশেই জ্বালানি নেওয়ার সক্ষমতা পরীক্ষা রুশ টিইউ–১৬০-এর

১৬ ঘণ্টার টহল উড়ান, আকাশেই জ্বালানি নেওয়ার সক্ষমতা পরীক্ষা রুশ টিইউ–১৬০-এর

এআইয়ের কারণে সাইবার হামলার ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে
এআইয়ের কারণে সাইবার হামলার ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে, জরুরি সতর্কতা ‘ফাইভ আইজ’ জোটের

সর্বাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সাইবার হামলার ধরন ও সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে জরুরি প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়েছে ফাইভ আইজ জোটভুক্ত দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সমন্বয়ে গঠিত এই গোয়েন্দা জোট বলছে, এআইভিত্তিক নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি সাইবার নিরাপত্তার প্রচলিত কাঠামোকে দ্রুত অচল করে দিতে পারে।   সোমবার প্রকাশিত তিন পৃষ্ঠার এক যৌথ বিবৃতিতে জোটটির কর্মকর্তারা জানান, উন্নত এআই মডেলগুলো শিল্পখাতের বর্তমান প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এসব প্রযুক্তি আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—উভয় ক্ষেত্রেই সাইবার সক্ষমতাকে মৌলিকভাবে বদলে দেবে। তাদের ভাষ্য, এই পরিবর্তন ঘটতে কয়েক বছর নয়, বরং কয়েক মাসই যথেষ্ট হতে পারে।   বিবৃতিতে বিশদ প্রযুক্তিগত তথ্য খুব বেশি না থাকলেও সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পরিচিত কিছু করণীয় আবারও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সফটওয়্যারের ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করা, অপ্রয়োজনীয় সিস্টেম অনলাইনে না রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রবেশপথগুলো দ্রুত বন্ধ করা।   একই সঙ্গে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রতিরক্ষা জোরদারে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, সিস্টেমের দুর্বলতা দ্রুত শনাক্ত করা এবং সাইবার হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষেত্রে এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।   এই সতর্কবার্তায় স্পষ্ট হয়েছে যে, নতুন প্রজন্মের এআই মডেল নিয়ে নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগ বাড়ছে। উদাহরণ হিসেবে অ্যানথ্রপিক-এর ‘মিথোস’ এবং ওপেনএআই-এর ‘জিপিটি–৫.৫ সাইবার’ মডেলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে তুলনামূলক সহজে জটিল এবং সম্ভাব্য ক্ষতিকর সাইবার হামলা পরিচালনা করা যেতে পারে।   এরই মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিদেশি নাগরিকদের জন্য অ্যানথ্রপিকের ‘মিথোস’ ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি মডেলটির একটি সংস্করণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়।   একই দিনে বিবৃতিতে সহস্বাক্ষরকারী যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার প্রতিরক্ষা সংস্থা সাইসা (সিআইএসএ) সরকারি নেটওয়ার্কে গুরুতর ডিজিটাল দুর্বলতা দূর করার সময়সীমা কমিয়ে তিন দিনে নামিয়ে আনে। সংস্থাটি জানায়, এআই–সম্পর্কিত ঝুঁকি দ্রুত বাড়তে থাকায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে, তেমনি তা সাইবার নিরাপত্তার জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। ফলে প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ২৩:২
দক্ষিণ লেবাননে ভূগর্ভস্থ ড্রোন কারখানার সন্ধান পাওয়ার দাবি ইসরায়েলের

দক্ষিণ লেবাননে ভূগর্ভস্থ ড্রোন কারখানার সন্ধান পাওয়ার দাবি ইসরায়েলের

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডের এমেন সামরিক বিমানঘাঁটিতে এয়ার ফোর্স টুতে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন।ছবি: রয়টার্স

প্রথম দফা আলোচনায় অগ্রগতি, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র

ফাইল ছবি

ভারত থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে আরব আমিরাত

0 Comments