আমেরিকা

মামদানির ‘পিয়েড-আ-তের’ কর নিয়ে নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকদের মামলা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৯:৪৪
নিউইয়র্ক সিটির  মেয়র জোহরান মামদানি
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি

নিউইয়র্ক সিটির নতুন ‘পিয়েড-আ-তের’ কর চালুর প্রক্রিয়া নিয়ে মেয়র জোহরান মামদানি ও নগরীর অর্থ বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন কয়েকজন বাড়ির মালিক।

 

শুক্রবার দায়ের করা মামলায় সাইমন হেডলি, র‍্যাচেল ও’ব্রায়েন ও কারমিন মোরানো অভিযোগ করেছেন, তাদের স্থায়ী বসবাসের বাড়িকেও নগর কর্তৃপক্ষ ভুলভাবে সম্ভাব্য অতিরিক্ত করের আওতাভুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

 

তবে মামলাটি সরাসরি ‘পিয়েড-আ-তের’ করের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করছে না। বরং নগর প্রশাসন কীভাবে করের তালিকা প্রকাশ করেছে এবং কিছু বাড়ির মালিককে নোটিশ পাঠিয়েছে, সেটিই মামলার মূল বিষয়।

 

নিউইয়র্ক সিটির অর্থ বিভাগের প্রকাশিত তালিকায় পাঁচ বরোর ৯ লাখের বেশি বাড়ির মালিকের নাম ও ঠিকানা রয়েছে। তবে বিভাগের দাবি, তালিকাভুক্ত অধিকাংশ বাড়ি বা ইউনিটের ওপর এই অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য নয়।

 

নতুন করের আওতায় পড়তে পারেন—এমন প্রায় ১৭ হাজার সম্পত্তির মালিককে আলাদা নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

 

মামলাকারী র‍্যাচেল ও’ব্রায়েন বলেন, নিজের স্থায়ী বাড়িকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে সরকারি তালিকায় প্রকাশ করা ‘অযৌক্তিক’। তার দাবি, নগর প্রশাসনের কাছে থাকা তথ্য যাচাই করলেই বিষয়টি আগে থেকেই পরিষ্কার করা সম্ভব ছিল।

 

মামলায় আদালতের কাছে প্রকাশিত তালিকা ও নোটিশকে বেআইনি ঘোষণা এবং অনলাইন থেকে তালিকাটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মামলা চলাকালে নোটিশ পাওয়া বাড়ির মালিকদের জবাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা স্থগিত এবং আদালতের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কর কার্যকরের ওপরও বিরতি চাওয়া হয়েছে।

 

মেয়র মামদানির কার্যালয় জানিয়েছে, নতুন কোনো সরকারি প্রক্রিয়া চালুর ক্ষেত্রে নাগরিকদের জন্য বিষয়টি পরিষ্কার ও সহজবোধ্য রাখা প্রশাসনের দায়িত্ব। নগরীর আইন বিভাগও মামলাটি জোরালোভাবে মোকাবিলা করবে বলে জানিয়েছে।

 

মামদানির ২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের অংশ হিসেবে ‘পিয়েড-আ-তের’ কর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় নিউইয়র্ক সিটিতে মালিকের প্রধান বসবাসের ঠিকানা নয়—এমন ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের আবাসিক সম্পত্তির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১০ লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্যের কো-অপ ইউনিটও এই ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে।

 

নতুন করের লক্ষ্য শহরের বাজেট ঘাটতি কমাতে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুলও এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন।

 

তবে করের সম্ভাব্য আওতায় থাকা বাড়ির মালিকদের পাঠানো নোটিশ এবং তাদের নাম-ঠিকানা প্রকাশের পর থেকেই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে মামদানি প্রশাসন নোটিশ পাওয়া বাসিন্দাদের বাড়িটি তাদের প্রধান বসবাসের স্থান প্রমাণের সময়সীমা চার সপ্তাহ বাড়িয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ভুয়া ভাড়া বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে ১৮ হাজার ৬০০ ডলার হারিয়েছেন সান ফ্রান্সিসকোর বাসিন্দা অ্যালভিন ট্রান। ছবি: সংগৃহীত
সান ফ্রান্সিসকোতে বাসা ভাড়ার নামে প্রতারণা, সশরীরে বাসা দেখেও ১৮ হাজার ডলার হারালেন যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে অনলাইনে বাসা ভাড়া নিতে গিয়ে একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়ে ১৮ হাজার ৬০০ ডলার হারিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এক তরুণ। পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে তিনি বাসাটি সরাসরি দেখেছেন, চুক্তিপত্রও পেয়েছেন। তবুও শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারেন, সবকিছুই ছিল প্রতারকদের সাজানো ফাঁদ।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন এবং এবিসি ৭-এর তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী অ্যালভিন ট্রান একজন পণ্য নকশাবিদ (প্রোডাক্ট ডিজাইনার)। গত মাসে তিনি একজন রুমমেটকে নিয়ে সান ফ্রান্সিসকোতে নতুন একটি অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজছিলেন।   খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তিনি জনপ্রিয় আবাসন প্ল্যাটফর্ম জিলোতে (Zillow) একটি দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের বিজ্ঞাপন দেখতে পান। শহরের ডাবোস ট্রায়াঙ্গল এলাকায় অবস্থিত ওই অ্যাপার্টমেন্টটির মাসিক ভাড়া চাওয়া হয়েছিল ৬ হাজার ২০০ ডলার। কাঠের মেঝে, বড় জানালা ও নতুন রঙ করা দেয়ালসহ বাসাটি তার কাছে বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়।   ট্রান বিজ্ঞাপনে দেওয়া তালিকাভুক্ত প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাননি। পরদিন একই বাসার হুবহু একই ছবি ও বিবরণ নিয়ে আরেকটি বিজ্ঞাপন দেখতে পান ক্রেইগসলিস্টে। দুটি বিজ্ঞাপনের তথ্য এক হওয়ায় তিনি ধরে নেন, একই ব্যক্তি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। এরপর ক্রেইগসলিস্টে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে 'জেমস' পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বার্তা আদান-প্রদান শুরু হয়। কিছুদিনের মধ্যেই বাসাটি সরাসরি দেখার সময় নির্ধারণ করা হয়।   ট্রান জানান, নির্ধারিত দিনে গিয়ে তিনি দেখেন বাসাটি ঠিক বিজ্ঞাপনের ছবির মতোই। সেখানে নিজেকে 'জিম' পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি জানান, ভবনটির মালিক তার দাদা-দাদি। ট্রান ধারণা করেন, বার্তায় যার সঙ্গে কথা হয়েছে এবং যিনি বাসা দেখাচ্ছেন—দুজন একই ব্যক্তি। বাসাটি দেখতে তখন আরও কয়েকজন সম্ভাব্য ভাড়াটিয়াও উপস্থিত ছিলেন।   তিনি সান ফ্রান্সিসকো স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, অনেক মানুষ থাকায় আলাদাভাবে বেশি কথা বলার সুযোগ হয়নি। তবে আগে থেকেই বার্তায় যোগাযোগ চলছিল বলে তার সন্দেহের কোনো কারণ তৈরি হয়নি। বাসাটি পেতে ট্রান নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫০০ ডলার বেশি, অর্থাৎ মাসে ৬ হাজার ৭০০ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে জানানো হয় যে, বাসাটি তার জন্য বরাদ্দ হয়েছে।   পরে তার কাছে একটি ভাড়ার চুক্তিপত্র পাঠানো হয়। সেখানে বাড়ির মালিক হিসেবে জেমস বাসুইনো ডানল্যাপ ও লেইডার জুনকো বারাঙ্কোর নাম উল্লেখ ছিল। একই সঙ্গে প্রথম ও শেষ মাসের ভাড়া বাবদ ১২ হাজার ৪০০ ডলার এবং নিরাপত্তা জামানত হিসেবে আরও ৬ হাজার ২০০ ডলার ব্যাংক ওয়্যার ট্রান্সফারের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়।   ট্রান এবং তার রুমমেট মিলে মোট ১৮ হাজার ৬০০ ডলার পরিশোধ করেন। রুমমেট নিজের অংশ জেল (Zelle) সেবার মাধ্যমে ট্রানকে পাঠান, এরপর ট্রান পুরো অর্থ কথিত বাড়িওয়ালার হিসাবে স্থানান্তর করেন। কিন্তু নির্ধারিত দিন ৩০ জুলাই বাসায় উঠতে গেলে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। এরপর যাদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করছিলেন, তারা আর কোনো সাড়া দেননি।   ঘটনার পর ট্রান জিলোতে প্রকাশিত আসল বিজ্ঞাপনের প্রকৃত মালিক জেমস বাসুইনোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তিনি জানতে পারেন, বাসাটি কখনোই ক্রেইগসলিস্টে বিজ্ঞাপন হিসেবে প্রকাশ করা হয়নি। অর্থাৎ প্রতারকরা আসল বিজ্ঞাপনের ছবি ও তথ্য ব্যবহার করে আলাদা একটি ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করেছিল।   ট্রান বলেন, তিনি সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করেছিলেন এই কারণে যে তিনি নিজে বাসাটি ঘুরে দেখেছেন। তাই এটি প্রতারণা হতে পারে—এমন ধারণাই তার মাথায় আসেনি। তিনি আরও জানান, তার ব্যাংক ব্যাংক অব আমেরিকা জানিয়েছে, অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে কি না, তা নির্ভর করছে যে ব্যাংকে অর্থ পাঠানো হয়েছে, অর্থাৎ ব্লুভাইন ব্যাংকের তদন্তের ওপর।   সিয়াটলের বাসিন্দা ট্রান বলেন, এই অর্থ হারানোর ফলে তিনি আর্থিকভাবে পুরোপুরি বিপর্যস্ত না হলেও, রুমমেটকে নিজের মাধ্যমে এই প্রতারণার মধ্যে জড়িয়ে ফেলায় তিনি গভীরভাবে অনুতপ্ত।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনে বাসা ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে কেবল বাসা দেখে আসাই যথেষ্ট নয়। সম্পত্তির প্রকৃত মালিকের পরিচয় যাচাই, সরকারি নথি মিলিয়ে দেখা, অর্থ পাঠানোর আগে ভাড়াদাতার পরিচয় নিশ্চিত করা এবং একাধিক উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে জনপ্রিয় আবাসন প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপন হুবহু অন্য কোনো সাইটে দেখা গেলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ২০:২৭
সাবেক বিমান বাহিনী সচিব ফ্র্যাঙ্ক কেন্ডাল

গোপন সামরিক তথ্য ফাঁসের অভিযোগে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

নিউইয়র্ক সিটির  মেয়র জোহরান মামদানি

মামদানির ‘পিয়েড-আ-তের’ কর নিয়ে নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকদের মামলা

টেনেসিতে রাস্তায় ডায়াপার পরা শিশু, উদ্ধার করে ICE কর্মকর্তারা

টেনেসিতে রাস্তায় একা ঘুরছিল ডায়াপার পরা শিশু, খোলা দরজা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন মা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ছবি: সংগৃহীত
ভোটাররা রিপাবলিকানদের ওপর ক্ষুব্ধ, আমার ওপর নয়,নিজের জনপ্রিয়তায় ধাক্কার ব্যাপার এড়িয়ে গেলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রিপাবলিকানদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দলের প্রতি ভোটারদের ক্ষোভ থাকলেও সেই ক্ষোভ তার বিরুদ্ধে নয় বলে দাবি করেছেন তিনি।   মিডটার্ম নির্বাচনের আর প্রায় তিন মাস বাকি। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ট্রাম্প ও তার মিত্ররা দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের নীতির সমালোচনাও করছেন।   তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে তার অনুমোদন ৩৫ শতাংশ, এপি/নরকের জুলাইয়ের জরিপে ৩৩ শতাংশ এবং কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে।   এরপরও Punchbowl News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ভোটাররা রিপাবলিকানদের ওপর খুবই ক্ষুব্ধ। কিন্তু তারা আমার ওপর ক্ষুব্ধ নয়।”   ট্রাম্পের দাবি, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে ভোটারদের অসন্তোষ থাকলেও তিনি নিজে সেই ক্ষোভের বাইরে রয়েছেন।   তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, ক্ষমতাসীন দলের জন্য মিডটার্ম নির্বাচন ঐতিহাসিকভাবেই কঠিন। গত ৮০ বছরে মাত্র দুইবার প্রেসিডেন্টের দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে আসন বাড়াতে পেরেছে।   ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতও রিপাবলিকানদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও দলের ভেতরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এর মধ্যেই রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন ট্রাম্প। তার লক্ষ্য, কংগ্রেসে দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা।   কঠিন পরিস্থিতি স্বীকার করলেও নির্বাচনের ফল নিয়ে আশাবাদী ট্রাম্প। তার ভাষায়, “আমি মনে করি, আমরা জিতব।”

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৭:৩২
আইস কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর আইস কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

মা  ডেজিরি হুইলার

মিশিগানে মা ও দুই মাসের শিশুর মরদেহ বাথটাবে উদ্ধার, ‘সন্তানদের নিয়েই সবকিছু করতেন’

হিজাব ও হালাল খাবার নিষিদ্ধের প্রস্তাব ছবি: সংগৃহীত

হিজাব ও হালাল খাবার নিষিদ্ধের প্রস্তাব, ‘ইসলাম ঠেকাতে’ টেক্সাস রিপাবলিকানদের নতুন পরিকল্পনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি দ্বিদলীয় বিল। ছবি: কোলাজ, আমেরিকা বাংলা
রাশিয়ার তেল কিনলে ভারতকে দিতে হতে পারে ১০০% শুল্ক, মার্কিন সিনেটে বিল পাস

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর আরও চাপ তৈরির পথে এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার একটি দ্বিদলীয় বিল শুক্রবার ৮৬-১১ ভোটে পাস করেছে মার্কিন সিনেট।   বিলে রাশিয়ার পাশাপাশি দেশটির জ্বালানির সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের ওপরও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রুশ তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।    এই উদ্যোগে ভারতের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা হিসেবে ভারতের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে পারে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে আলোচনা চলছে। একই তালিকায় চীনের মতো বড় ক্রেতারাও রয়েছে।    বিলটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তার মৃত্যুর পরও উদ্যোগটি এগিয়ে নেওয়া হয়। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার জ্বালানি আয়ের ওপর চাপ বাড়ানোই বিলটির অন্যতম লক্ষ্য।    সিনেটে বিলটি পাসের আগে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ে দুই দলের কিছু সিনেটরের মধ্যে আপত্তি দেখা দেয়। রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সীমিত করতে একটি সংশোধনী আনলেও তা ৩২-৬৪ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়।   একই বিলের মাধ্যমে ইরানের ওপর বিদ্যমান কিছু নিষেধাজ্ঞাও বহাল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।    তবে এটি এখনো চূড়ান্ত আইন নয়। বিলটি পরবর্তী ধাপে প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদন পেতে হবে। এরপর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর হলে তা আইনে পরিণত হবে।   আইনটি কার্যকর হলে ভারতের মতো বড় রুশ জ্বালানি ক্রেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে—এখন নজর প্রতিনিধি পরিষদ ও ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৬:২৩
টেক্সাসে সুইমিংপুলে ডুবে যাওয়া ২ বছরের অ্যানেলিস, ১০ সপ্তাহের জীবনযুদ্ধ শেষে মৃত্যু

টেক্সাসে সুইমিংপুলে ডুবে যাওয়া ২ বছরের অ্যানেলিস, ১০ সপ্তাহের জীবনযুদ্ধ শেষে মৃত্যু

নিউইয়র্কে গ্যাং সদস্য ছেলের হামলায় জড়িত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, জামিন ৭৫ হাজার ডলারে

নিউইয়র্কে গ্যাং সদস্য ছেলের হামলায় জড়িত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, জামিন ৭৫ হাজার ডলারে

বয়সের ৬১ বছরের ব্যবধান, ৮৫ বছরের স্বামীর সন্তানের মা হতে চান ২৪ বছরের তরুণী

বয়সের ৬১ বছরের ব্যবধান, ৮৫ বছরের স্বামীর সন্তানের মা হতে চান ২৪ বছরের তরুণী

0 Comments