বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর আইস কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—ICE—এর কর্মকর্তাদের শরীরে বডি ক্যামেরা বসানোর কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দেশজুড়ে সংস্থাটির সব মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাকে এই ক্যামেরার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি কর্মকর্তার কাছে ক্যামেরা পৌঁছে গেছে।
ICE কর্মকর্তাদের অভিযান, গ্রেপ্তার এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনাগুলো ক্যামেরায় ধারণ করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। সংস্থাটির নিজস্ব নীতিতেও বলা হয়েছে, বডি ক্যামেরা ঘটনার সঠিক তথ্য নথিবদ্ধ করা, কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং জনআস্থা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ICE কর্মকর্তাদের গুলিতে মৃত্যুর কয়েকটি ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে প্রশ্ন ওঠার পর এই উদ্যোগে নতুন করে গুরুত্ব এসেছে। বিশেষ করে কর্মকর্তারা বডি ক্যামেরা না পরায় কিছু ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী বা অন্য ব্যক্তির ধারণ করা ভিডিওই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে।
ICE-এর বডি ক্যামেরা নীতিতে বলা হয়েছে, কোনো অভিযানে কর্মকর্তাদের গুলিতে মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটলে ভিডিও প্রকাশের আগে সংস্থাটি তা পর্যালোচনা করবে। কিন্তু ভিডিও প্রকাশ করা হবে কেবল যখন সেটিকে সংস্থার “সর্বোত্তম স্বার্থে” বলে মনে করা হবে।
এখানেই তৈরি হয়েছে বড় বিতর্ক।
সমালোচকদের আশঙ্কা, এমন নীতিতে ICE-এর নেতৃত্ব এমন ভিডিও প্রকাশ করতে পারে, যা সংস্থার কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরে; আবার সমালোচনা তৈরি করতে পারে এমন ফুটেজ প্রকাশ না করার সুযোগও থেকে যায়। ফলে বডি ক্যামেরা থাকলেও সেটি সবসময় পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে, সব ভিডিও প্রকাশ না করার পেছনে তদন্ত, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং আইনগত বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। প্রকাশ করা ফুটেজে কর্মকর্তাদের পরিচয় আড়াল করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ICE-এর বডি ক্যামেরা কর্মসূচি অবশ্য একেবারে নতুন নয়। সংস্থাটি ২০২১ সালে প্রযুক্তিটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করেছিল এবং ২০২৪ সাল নাগাদ প্রায় ১,৬০০টি ক্যামেরা কর্মকর্তাদের কাছে মোতায়েন করা হয়েছিল। পরে দেশজুড়ে ক্যামেরা সরবরাহের জন্য কংগ্রেস অতিরিক্ত অর্থও বরাদ্দ করে।
তাই নতুন উদ্যোগের মূল প্রশ্ন শুধু ICE কর্মকর্তারা ক্যামেরা পরবেন কি না, তা নয়—ক্যামেরায় কী ধারণ হবে এবং সেই ভিডিও সাধারণ মানুষ কতটা দেখতে পারবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির মারফ্রিসবোরোতে প্রায় দুই বছরের এক শিশুকে রাস্তায় একা ঘুরতে দেখে উদ্ধার করেছেন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—ICE-এর কর্মকর্তারা। শিশুটির পরনে ছিল শুধু একটি ময়লা ডায়াপার। ১৩ জুলাই নিয়মিত কার্যক্রমের সময় শিশুটিকে রাস্তায় দেখতে পান ICE-এর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারা। তাদের ধারণা, শিশুটি কয়েক ঘণ্টা ধরে কোনো প্রাপ্তবয়স্কের তত্ত্বাবধান ছাড়াই ছিল। একপর্যায়ে শিশুটি সড়কে চলে গেলে একটি গাড়ির ধাক্কা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত শিশুটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেন কর্মকর্তারা এবং সহায়তার জন্য মারফ্রিসবোরো পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ আসার অপেক্ষায় আশপাশে খোঁজ করতে গিয়ে কর্মকর্তারা কাছের একটি অ্যাপার্টমেন্টে শিশুটির মাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পান। অ্যাপার্টমেন্টের দরজাও খোলা ছিল এবং ছেলে যে বাইরে চলে গেছে, সে বিষয়ে মা অবগত ছিলেন না। পরে মারফ্রিসবোরো পুলিশ শিশুটির দায়িত্ব নেয়। পুলিশ জানায়, মা বলেছেন—এটাই প্রথমবার তার সন্তান কোনো প্রাপ্তবয়স্কের তত্ত্বাবধান ছাড়া বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। সৌভাগ্যক্রমে শিশুটি কোনো আঘাত ছাড়াই নিরাপদে ছিল এবং পরে তাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি মামলা করা হয়নি। তবে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ কল্যাণ নিশ্চিত করতে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেনস সার্ভিসেসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ICE-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তাদের দায়িত্বের অংশ। তবে ঘটনাটি ICE-এর নিয়মিত অভিবাসন কার্যক্রমের বাইরে একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘটনায় পরিণত হয়।
ভোটাররা রিপাবলিকানদের ওপর ক্ষুব্ধ, আমার ওপর নয়,নিজের জনপ্রিয়তায় ধাক্কার ব্যাপার এড়িয়ে গেলেন ট্রাম্প
বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর আইস কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
মিশিগানে মা ও দুই মাসের শিশুর মরদেহ বাথটাবে উদ্ধার, ‘সন্তানদের নিয়েই সবকিছু করতেন’
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মুসলিমদের ধর্মীয় জীবনকে লক্ষ্য করে একাধিক কঠোর আইন করার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ও রাজনৈতিক কর্মী হিজাব, হালাল খাবার, ইসলামিক স্কুল এবং মুসলিম সংগঠন নিয়ে বিভিন্ন বিধিনিষেধের প্রস্তাব দিয়েছেন। আগস্টের শুরুতে ‘ট্রু টেক্সাস প্রজেক্ট’ আয়োজিত এক রাজনৈতিক সম্মেলনে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে মুসলিমদের প্রভাবকে ‘ইসলামিফিকেশন অব টেক্সাস’ হিসেবে তুলে ধরে কয়েকজন বক্তা কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানান। স্টেট সিনেটর বব হল বলেন, টেক্সাসে শরিয়াহ আইন ঠেকানো তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। আর স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যান্ডি হপার এমন কিছু প্রস্তাবের কথা বলেন, যেগুলোর লক্ষ্য মুসলিমদের জন্য জীবনকে ‘কঠিন’ করে তোলা। আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে পাবলিক স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করা, হালাল খাবার বিক্রিতে বিধিনিষেধ, ইসলামিক চার্টার স্কুল বন্ধ করা এবং মুসলিম সংগঠনগুলোর ওপর আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক তদন্ত বাড়ানো। কিছু প্রস্তাবে মুসলিমদের পেশাগত লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। এমনকি ইসলামকে ধর্মের পরিবর্তে রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার মাধ্যমে সেটিকে নিষিদ্ধ করার পথ তৈরির কথাও সম্মেলনে উঠে আসে। তবে এসব প্রস্তাবের কোনোটিই এখনো আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি এবং আগামী আইনসভা অধিবেশনে এগুলো কতটা সমর্থন পাবে, তা স্পষ্ট নয়। টেক্সাসের মুসলিম সম্প্রদায় অবশ্য এসব উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করছে। স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ সালমান ভোজানি, যিনি ২০২২ সালে টেক্সাস হাউসে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন, বলেন, টেক্সাসের মুসলিমরা কোনো হুমকি নয়; তারা এই রাজ্যেরই অংশ। আইন বিশেষজ্ঞরাও প্রস্তাবগুলোর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক আইন বিশেষজ্ঞ ডগলাস লেকক বলেছেন, ধর্মীয় পোশাক বা ধর্মীয় চর্চাকে লক্ষ্য করে এমন আইন হলে তা প্রথম সংশোধনীর অধিকার নিয়ে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, টেক্সাসের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ২ শতাংশ মুসলিম বলে পরিচয় দেন। এরই মধ্যে টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়কে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে। হিউস্টন ক্রনিকলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান বিতর্কের মধ্যে মসজিদ নির্মাণ, ইসলামিক আবাসিক প্রকল্প ও মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিরোধ দেখা দিয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হালাল খাবার নিষিদ্ধ করার কোনো আইন বর্তমানে টেক্সাসে কার্যকর নেই। বরং টেক্সাস আইনসভায় অতীতে পাবলিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবারের বিকল্প রাখার প্রস্তাবও উঠেছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২৭ সালে শরিয়াহ আইন নিষিদ্ধ করার আরও উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে হিজাব বা হালাল খাবার নিষিদ্ধ করার নির্দিষ্ট প্রস্তাবে গভর্নর সমর্থন করবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি। টেক্সাস আইনসভায় আগামী অধিবেশনের জন্য বিল প্রি-ফাইলিং শুরু হবে ৯ নভেম্বর, আর আইনসভা অধিবেশন শুরু হবে ১২ জানুয়ারি। অর্থাৎ, এসব প্রস্তাব এখনো মূলত রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও আলোচনার পর্যায়ে। তবে এগুলো বাস্তব আইনে রূপ নিলে ধর্মীয় স্বাধীনতা, বৈষম্য এবং সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে টেক্সাসে বড় ধরনের আইনি লড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাশিয়ার তেল কিনলে ভারতকে দিতে হতে পারে ১০০% শুল্ক, মার্কিন সিনেটে বিল পাস
টেক্সাসে সুইমিংপুলে ডুবে যাওয়া ২ বছরের অ্যানেলিস, ১০ সপ্তাহের জীবনযুদ্ধ শেষে মৃত্যু
নিউইয়র্কে গ্যাং সদস্য ছেলের হামলায় জড়িত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, জামিন ৭৫ হাজার ডলারে
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির স্টার্কভিলের বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সী মিরাকল পোগ এবং তার ৮৫ বছর বয়সী স্বামী চার্লস পোগের বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। দুজনের মধ্যে বয়সের ব্যবধান দীর্ঘ ৬১ বছর, যা চার্লসকে মিরাকলের নিজের দাদার চেয়েও প্রায় এক দশকের বড় করে তুলেছে। বয়সের এই বিশাল ব্যবধান ও সামাজিক নানা নেতিবাচক মন্তব্যকে উপেক্ষা করে এই দম্পতি এখন নিজেদের পরিবার শুরু করার জন্য ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফ (IVF) পদ্ধতির শরণাপন্ন হয়েছেন। চার্লসের কোনো সন্তান না থাকায় তিনি নিজের বংশধর রেখে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ২০১৯ সালে একটি লন্ড্রিতে কাজের সুবাদে মিরাকলের সঙ্গে রিয়েল এস্টেট খাতের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী চার্লসের পরিচয় হয়। প্রথমদিকে চার্লস কৌশলে মিরাকলের মনোযোগ আকর্ষণ করেন এবং ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গাঢ় বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিচয়ের এক বছর পর চার্লস তার মনের কথা প্রকাশ করে মিরাকলকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং গত বছরের জুলাইয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মিরাকলের দাবি, বয়সের পার্থক্য জেনেই তিনি চার্লসকে ভালোবেসেছেন এবং তার শান্ত স্বভাব, বুদ্ধিমত্তা ও জীবনদর্শন তাকে মুগ্ধ করেছে। পরিবারের দিক থেকে শুরুতে কিছুটা বাধা এলেও পরবর্তীতে সবাই এই সম্পর্ক মেনে নেন। মিরাকলের মা ও দাদা শুরু থেকেই তাদের পাশে থাকলেও, তার বাবাকে রাজি করাতে বেশ বেগ পেতে হয়। পরবর্তীতে চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার বাবাও এই সম্পর্ক মেনে নেন। তবে অনলাইনে এই দম্পতিকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকে মিরাকলের বয়স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এবং তাকে আর্থিকভাবে সুবিধাভোগী বলে কটাক্ষ করেছেন। তবে পেশায় নার্স মিরাকল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি নিজের যোগ্যতায় স্বাবলম্বী এবং সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছাতেই চার্লসকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিরাকল জানান, তারা সন্তান লাভের আশায় একাধিক আইভিএফ ক্লিনিকের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। যদিও বয়সের কারণে চিকিৎসাগত জটিলতা বা সামাজিক কুসংস্কারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তবুও তিনি বিষয়টি নিয়ে বেশ আশাবাদী। চার্লসের বয়স বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে তাকে হারানোর শঙ্কা মনের কোণে কাজ করলেও, বর্তমান সময়টুকুকে তারা পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করতে চান। প্রজন্মের ব্যবধান সত্ত্বেও পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ভালোবাসার ওপর ভর করেই তাদের এই ব্যতিক্রমী সংসার এগিয়ে চলছে।
টেক্সাসে মার্কিন আইনপ্রণেতার তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন
যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গে আইসিই হেফাজত থেকে মুক্তির পর শীতে জমে মৃত্যু হাইতিয়ান অভিবাসীর