ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছে তেহরান। ইরানের দাবি, ইউরোপের কয়েকটি দেশ মার্কিন অভিযানে সহায়তা করেছে এবং ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই অভিযোগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। তবে ইতালি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে রুটের বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেছে, তারা সরাসরি সামরিক অভিযানের অনুমতি দেয়নি; কেবল প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত হামলায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছে, তাদের আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জবাবদিহি করতে হবে। তিনি ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্যকে পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি বলে দাবি করেন।
ইরানের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে ইতালি ও রোমানিয়ার নাম উল্লেখ করে বলা হয়, এই দুই দেশের সরকারকে ব্যাখ্যা দিতে হবে তারা কেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে সহায়তা করেছে। তেহরানের ভাষ্য, এ ধরনের সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ইউরোপীয় মিত্ররা বিভিন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে। তিনি দাবি করেন, ইতালিতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে শত শত মার্কিন সামরিক বিমান উড্ডয়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া রোমানিয়াও আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে রুটের এই বক্তব্যের পরই ইতালির সরকার কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বলেন, ইতালি কোনো সরাসরি যুদ্ধ অভিযান অনুমোদন করেনি। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক চুক্তি ও ইতালির সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতালির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে, দেশটি প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের সহায়তা দিয়েছিল এবং এ বিষয়ে সংসদ ও জনগণকে সম্পূর্ণ তথ্য জানানো হয়েছিল কি না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভিযোগ, ন্যাটো মহাসচিবের মন্তব্য এবং ইতালির পাল্টা ব্যাখ্যা মিলিয়ে বিষয়টি এখন কূটনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে আগামী দিনগুলোতে আরও আলোচনা ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
ভেনেজুয়েলায় এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (স্থানীয় সময়) বিকেলে মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে দেশটির উত্তরাঞ্চলে। এতে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ধসে পড়েছে, অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং বহু মানুষ হতাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে। মাত্র এক মিনিট পর আরও শক্তিশালী দ্বিতীয় ভূমিকম্প একই অঞ্চলে আঘাত হানে। ইউএসজিএসের প্রাথমিক দুর্যোগ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে দুর্যোগের পরিধি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা সরকার হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, কারাকাসের বহু ভবন প্রবলভাবে দুলতে শুরু করলে আতঙ্কিত মানুষ দ্রুত রাস্তায় নেমে আসেন। কোথাও কোথাও ছাদের অংশ ভেঙে পড়ে, বিমানবন্দরে বিদ্যুতের স্পার্ক দেখা যায় এবং জরুরি ভিত্তিতে যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাজধানীর একটি বেসবল ম্যাচ চলাকালে ভূমিকম্প শুরু হলে খেলোয়াড়, দর্শক ও কর্মকর্তারা দ্রুত মাঠের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। বিদ্যুতের খুঁটি, গ্যালারি ও আশপাশের স্থাপনাগুলোও কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকারী দল ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। অনেক স্বজনকে ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরের বহু ভবন আংশিক বা পুরোপুরি ধসে পড়েছে। অনেক এলাকায় সড়কের ওপর আসবাবপত্র, ইট-পাথর ও ভবনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। নিরাপত্তার কারণে বাসিন্দাদের অনেকেই ঘরের বাইরে অবস্থান করছেন। ভূমিকম্পের সময় ভেনেজুয়েলায় ছিল জাতীয় ছুটির দিন। দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটল অব কারাবোবো দিবস উপলক্ষে অধিকাংশ মানুষ বাড়িতে বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন। ফলে জনসমাগমের মধ্যেই দুর্যোগটি আঘাত হানে। কারাকাসের পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী অ্যাস্ট্রিড রামিরেজ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, "কম্পন শুরু হতেই চারপাশে মানুষের চিৎকার শুনতে পাই। সবাই দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসছিল।" দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার একাধিক অঙ্গরাজ্যে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তিনি বলেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালনা করা হচ্ছে এবং শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র প্রথমে পুয়ের্তো রিকো এবং মার্কিন ও ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের জন্য সুনামির সতর্কতা জারি করেছিল। তবে পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর প্রায় এক ঘণ্টা পরে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলা ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। এর আগে ১৮১২ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাস ও মেরিদা অঞ্চলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল বলে ইউএসজিএসের তথ্য বলছে। কর্তৃপক্ষ এখনও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ না করলেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, রয়টার্স ও ইউএসজিএস
এক মিনিটের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। ভয়াবহ এ কম্পনে রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন এলাকায় ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়েছে। আতঙ্কিত মানুষ দ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। কোথাও কোথাও ধুলার বিশাল মেঘ ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকারী দল রাতভর ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে তল্লাশি চালিয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যার কিছু পর প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ক্যারিবীয় উপকূলের মোরোন শহরের পশ্চিমে, রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে। প্রথম কম্পনের মাত্র এক মিনিট পর একই অঞ্চলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। দুটি ভূমিকম্পই ছিল অগভীর গভীরতার, ফলে এর প্রভাব বিস্তৃত এলাকায় অনুভূত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে হালকা কম্পন শুরু হলেও মুহূর্তের মধ্যে তা ভয়াবহ রূপ নেয়। বহুতল ভবন দুলতে শুরু করলে বাসিন্দারা দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসেন। রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ভবনের দেয়াল ধসে পড়ে এবং রাস্তা ধুলায় ঢেকে যায়। অনেক জায়গায় বাসাবাড়ির কাচ ভেঙে পড়ে, দেয়ালে ফাটল দেখা দেয় এবং আসবাবপত্র ছিটকে পড়ে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কারাকাসের বাসিন্দা হেক্টর রিচ্চি জানান, শুরুতে কম্পন খুব বেশি মনে হয়নি। কিন্তু ধীরে ধীরে তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে সবাইকে ঘর ছেড়ে বাইরে আশ্রয় নিতে হয়। আরেক বাসিন্দা রবার্তো গামাস বলেন, পুরো ভবন এক পাশ থেকে আরেক পাশে দুলছিল। অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরের প্রায় সব জিনিসপত্র মেঝেতে পড়ে যায়। সৌভাগ্যক্রমে তারা নিরাপদে বের হতে পেরেছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, রাজধানীর আলতামিরা এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সেখানে বেশ কয়েকটি বাড়ি ও ভবন ধসে পড়েছে। আহতের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন তিনি। জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী যানবাহনের চলাচল নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষকে রাস্তা ফাঁকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সম্ভাব্য পরাঘাতের আশঙ্কায় সবাইকে ভবনের বাইরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের পর মার্কিন সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র প্রথমে ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, পুয়ের্তো রিকো এবং ভেনেজুয়েলার উপকূলসংলগ্ন কয়েকটি ক্যারিবীয় দ্বীপের জন্য সতর্কতা জারি করে। পরে পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর পুয়ের্তো রিকোসহ কয়েকটি অঞ্চলের সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকান ও ক্যারিবীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত হলেও দেশটিতে বড় ধরনের ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে বুধবারের এই পরপর দুটি শক্তিশালী কম্পন গত এক শতাব্দীর মধ্যে দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সরকারিভাবে প্রাণহানি বা আহতের চূড়ান্ত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো পরিদর্শন এবং সম্ভাব্য পরাঘাত মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার পাশাপাশি আরও বড় আকারের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বুধবার (২৪ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৩ জুন) নামফো বন্দরে একটি নবনির্মিত যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কিম জং উন। সেখানে তিনি বলেন, নৌবাহিনীকে পারমাণবিক শক্তিতে সজ্জিত করার কর্মসূচি নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে এবং এটি দেশের প্রতিরক্ষা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিম জানান, গত বছর চালু হওয়া প্রায় ৫ হাজার টন ওজনের যুদ্ধজাহাজের পর খুব শিগগিরই আরেকটি নতুন জাহাজ বহরে যুক্ত করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে ১০ হাজার টন ধারণক্ষমতার কৌশলগত যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। তার ভাষায়, দেশের পারমাণবিক শক্তিকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর কোরিয়া আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, নতুন প্রজন্মের এসব যুদ্ধজাহাজে অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা থাকবে। গত এপ্রিলে এমন একটি জাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পরীক্ষাও সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন কিম জং উন, যা দেশটির সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, কিমের এই ঘোষণা মূলত দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি কৌশলগত বার্তা। সম্ভাব্য সংঘাতের পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ প্রতিহত করতে নিজেদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেই পিয়ংইয়ং এ ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দলের এক বৈঠকেও দ্রুত সামরিক আধুনিকায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন কিম। ওই বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়া নিজেদেরকে শক্তিশালী পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে। নতুন এই নৌ-সামরিক পরিকল্পনা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: জাপান টাইমস