শিক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১ ভিসা: আবেদন থেকে ভিসা অনুমোদন, বিস্তারিত জানুন

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ২৩:২৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণার সুযোগ, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশের কারণে প্রতিবছর লাখো শিক্ষার্থী দেশটিতে পড়াশোনা করতে যান। তবে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা পাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

 

এফ-১ ভিসা হলো যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেওয়া একটি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা। স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি) অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ বা ভাষা শিক্ষাকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।

 

এই ভিসাধারীরা সেমিস্টার চলাকালে ক্যাম্পাসের ভেতরে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। ছুটির সময় নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগও রয়েছে।

 

কারা আবেদন করতে পারবেন

এফ-১ ভিসার জন্য আবেদনকারীর অবশ্যই এসইভিপি অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিত থাকতে হবে। ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠান থেকে ফরম আই-২০ প্রদান করা হয়, যা ভিসা আবেদনের অন্যতম প্রধান নথি।

এ ছাড়া আবেদনকারীকে টিউশন ফি, আবাসন এবং অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হয়। ব্যাংক স্টেটমেন্ট, স্কলারশিপের কাগজপত্র অথবা স্পনসরের আর্থিক নথি সাধারণত এ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য।

অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় আইইএলটিএস, টোয়েফল অথবা সমমানের পরীক্ষার মাধ্যমে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ চায়। পাশাপাশি আবেদনকারীকে বোঝাতে হয় যে পড়াশোনা শেষ হলে তিনি নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রাখেন।

 

যেভাবে আবেদন করবেন

ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আই-২০ ফরম সংগ্রহ করতে হবে। এরপর অনলাইনে SEVIS I-901 ফি পরিশোধ করতে হবে এবং রসিদ সংরক্ষণ করতে হবে।

পরবর্তী ধাপে অনলাইনে DS-160 ভিসা আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। সেখানে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় ছবি আপলোড করতে হয়। ফরম জমা দেওয়ার পর কনফার্মেশন পেজ সংরক্ষণ করা জরুরি।

এরপর যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে ভিসা আবেদন ফি পরিশোধ করে সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারণ করতে হয়।

 

সাক্ষাৎকারে যেসব কাগজপত্র লাগবে

সাক্ষাৎকারের সময় বৈধ পাসপোর্ট, আই-২০ ফরম, ডিএস-১৬০ কনফার্মেশন পেজ, সেভিস ফি পরিশোধের রসিদ, ভিসা ফি রসিদ, পাসপোর্ট আকারের ছবি, শিক্ষাগত সনদ ও নম্বরপত্র, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং প্রয়োজনে স্কলারশিপ বা স্পনসরশিপের কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

 

সাক্ষাৎকারে কী ধরনের প্রশ্ন করা হয়

কনস্যুলার কর্মকর্তা সাধারণত কেন নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় নির্বাচন করেছেন, পড়াশোনার খরচ কীভাবে বহন করবেন, পড়াশোনা শেষে কী পরিকল্পনা রয়েছে এবং নিজ দেশে ফেরার কারণ কী, এসব বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাক্ষাৎকারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সত্য ও সঠিক তথ্য দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মুখস্থ উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে নিজের পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরলে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

 

ভিসা অনুমোদনের পর করণীয়

ভিসা অনুমোদনের পর কোর্স শুরুর ৩০ দিনের বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা যায় না। তাই ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরুর সময়সূচি দেখে টিকিট বুক করা উচিত। একই সঙ্গে আবাসনের ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয়কে আগমনের সম্ভাব্য সময় জানিয়ে রাখা প্রয়োজন।

 

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর

দেশটিতে পৌঁছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়। পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।

নিয়ম অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি প্রয়োজন। এছাড়া পড়াশোনার অংশ হিসেবে কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (সিপিটি) এবং কোর্স শেষ হওয়ার পর অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি)-এর মাধ্যমে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। সাধারণত ওপিটির মেয়াদ ১২ মাস এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) বিষয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে অতিরিক্ত ২৪ মাসের বর্ধিত সুবিধা পেতে পারেন।

 

নতুন ভিসা নীতি নিয়ে যা জানা দরকার

সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ভিসা সংক্রান্ত কিছু সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার এফ-১ ভিসার মৌলিক নিয়মে কোনো চূড়ান্ত পরিবর্তন কার্যকর করেনি। ফলে বর্তমানে প্রচলিত আবেদন প্রক্রিয়া, Duration of Status (D/S) ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিদ্যমান নিয়মই বহাল রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এফ-১ ভিসার আবেদন আগেভাগে শুরু করা, সব তথ্য নির্ভুলভাবে প্রদান করা, পর্যাপ্ত আর্থিক নথি প্রস্তুত রাখা এবং সাক্ষাৎকারের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়াই ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। পাশাপাশি আবেদনকারীদের সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করা উচিত।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

শিক্ষা

View more
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১ ভিসা: আবেদন থেকে ভিসা অনুমোদন, বিস্তারিত জানুন

উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণার সুযোগ, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশের কারণে প্রতিবছর লাখো শিক্ষার্থী দেশটিতে পড়াশোনা করতে যান। তবে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা পাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।   এফ-১ ভিসা হলো যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেওয়া একটি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা। স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি) অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ বা ভাষা শিক্ষাকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।   এই ভিসাধারীরা সেমিস্টার চলাকালে ক্যাম্পাসের ভেতরে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। ছুটির সময় নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগও রয়েছে।   কারা আবেদন করতে পারবেন এফ-১ ভিসার জন্য আবেদনকারীর অবশ্যই এসইভিপি অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিত থাকতে হবে। ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠান থেকে ফরম আই-২০ প্রদান করা হয়, যা ভিসা আবেদনের অন্যতম প্রধান নথি। এ ছাড়া আবেদনকারীকে টিউশন ফি, আবাসন এবং অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হয়। ব্যাংক স্টেটমেন্ট, স্কলারশিপের কাগজপত্র অথবা স্পনসরের আর্থিক নথি সাধারণত এ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় আইইএলটিএস, টোয়েফল অথবা সমমানের পরীক্ষার মাধ্যমে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ চায়। পাশাপাশি আবেদনকারীকে বোঝাতে হয় যে পড়াশোনা শেষ হলে তিনি নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রাখেন।   যেভাবে আবেদন করবেন ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আই-২০ ফরম সংগ্রহ করতে হবে। এরপর অনলাইনে SEVIS I-901 ফি পরিশোধ করতে হবে এবং রসিদ সংরক্ষণ করতে হবে। পরবর্তী ধাপে অনলাইনে DS-160 ভিসা আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। সেখানে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় ছবি আপলোড করতে হয়। ফরম জমা দেওয়ার পর কনফার্মেশন পেজ সংরক্ষণ করা জরুরি। এরপর যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে ভিসা আবেদন ফি পরিশোধ করে সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারণ করতে হয়।   সাক্ষাৎকারে যেসব কাগজপত্র লাগবে সাক্ষাৎকারের সময় বৈধ পাসপোর্ট, আই-২০ ফরম, ডিএস-১৬০ কনফার্মেশন পেজ, সেভিস ফি পরিশোধের রসিদ, ভিসা ফি রসিদ, পাসপোর্ট আকারের ছবি, শিক্ষাগত সনদ ও নম্বরপত্র, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং প্রয়োজনে স্কলারশিপ বা স্পনসরশিপের কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে।   সাক্ষাৎকারে কী ধরনের প্রশ্ন করা হয় কনস্যুলার কর্মকর্তা সাধারণত কেন নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় নির্বাচন করেছেন, পড়াশোনার খরচ কীভাবে বহন করবেন, পড়াশোনা শেষে কী পরিকল্পনা রয়েছে এবং নিজ দেশে ফেরার কারণ কী, এসব বিষয়ে প্রশ্ন করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাক্ষাৎকারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সত্য ও সঠিক তথ্য দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মুখস্থ উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে নিজের পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরলে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।   ভিসা অনুমোদনের পর করণীয় ভিসা অনুমোদনের পর কোর্স শুরুর ৩০ দিনের বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা যায় না। তাই ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরুর সময়সূচি দেখে টিকিট বুক করা উচিত। একই সঙ্গে আবাসনের ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয়কে আগমনের সম্ভাব্য সময় জানিয়ে রাখা প্রয়োজন।   যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর দেশটিতে পৌঁছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়। পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। নিয়ম অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি প্রয়োজন। এছাড়া পড়াশোনার অংশ হিসেবে কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (সিপিটি) এবং কোর্স শেষ হওয়ার পর অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি)-এর মাধ্যমে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। সাধারণত ওপিটির মেয়াদ ১২ মাস এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) বিষয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে অতিরিক্ত ২৪ মাসের বর্ধিত সুবিধা পেতে পারেন।   নতুন ভিসা নীতি নিয়ে যা জানা দরকার সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ভিসা সংক্রান্ত কিছু সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার এফ-১ ভিসার মৌলিক নিয়মে কোনো চূড়ান্ত পরিবর্তন কার্যকর করেনি। ফলে বর্তমানে প্রচলিত আবেদন প্রক্রিয়া, Duration of Status (D/S) ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিদ্যমান নিয়মই বহাল রয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এফ-১ ভিসার আবেদন আগেভাগে শুরু করা, সব তথ্য নির্ভুলভাবে প্রদান করা, পর্যাপ্ত আর্থিক নথি প্রস্তুত রাখা এবং সাক্ষাৎকারের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়াই ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। পাশাপাশি আবেদনকারীদের সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করা উচিত।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ২৩:২৪
ছবি: সংগৃহীত

কানাডায় ইউসিএমএএস ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

ছবি: সংগৃহীত

জাপানে ফুল স্কলারশিপ নিয়ে পিএইচডি করার সুযোগ

ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার স্কুলে শিক্ষার্থী সংকট, ১০ বছরে বন্ধ হয়েছে ৬৩০টি স্কুল

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় স্টুডেন্ট লোনে বড় ছাড়, স্বস্তিতে লাখো ঋণগ্রহীতা

ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের ঋণগ্রহীতাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ। স্বয়ংক্রিয় কিস্তি পরিশোধ বা অটো-পে ব্যবস্থায় যুক্ত গ্রাহকদের জন্য সুদের হারে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে যোগ্য ঋণগ্রহীতারা সুদের হারে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত ছাড় পাবেন।   মার্কিন শিক্ষা বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন সুবিধাটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে এবং ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধে গ্রাহকদের আরও উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই সুবিধা সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। শুধুমাত্র ২০১২ সালের ১ জুলাই বা তার পর নেওয়া যোগ্য ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের গ্রাহকেরাই অতিরিক্ত সুদ-ছাড়ের আওতায় আসবেন।   অটো-পে হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে ঋণগ্রহীতার ব্যাংক হিসাব থেকে নির্ধারিত তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তির অর্থ কেটে নেওয়া হয়। ফলে কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব বা ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। একই সঙ্গে ঋণ খেলাপির সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের বোঝা অনেক পরিবারের জন্য বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধের চাপের কারণে অনেক গ্রাহক সময়মতো কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সুদের হারে অতিরিক্ত ছাড় অনেক ঋণগ্রহীতার জন্য আর্থিক স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।   মার্কিন শিক্ষা বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, করোনা মহামারির আগে ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন গ্রাহকদের প্রায় ৮০ শতাংশ অটো-পে ব্যবস্থার মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করতেন। তবে মহামারির পর সেই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বর্তমানে মাত্র প্রায় ৪০ শতাংশ গ্রাহক এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এই হার পুনরায় বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন প্রণোদনা চালু করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, অটো-পে ব্যবস্থায় বেশি মানুষকে যুক্ত করা গেলে ঋণ পরিশোধের ধারাবাহিকতা বাড়বে এবং প্রশাসনিক ব্যয়ও কমবে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যারা ইতোমধ্যে অটো-পে ব্যবস্থায় যুক্ত রয়েছেন, তাদের জন্য নতুন করে কোনো আবেদন বা আলাদা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নতুন সুদ-ছাড়ের সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে যারা এখনও অটো-পে ব্যবস্থায় যুক্ত নন, তারা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এ ব্যবস্থায় নাম নিবন্ধন করে ভবিষ্যতে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন।   অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণ খাতে বকেয়া ঋণের পরিমাণ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে ঋণগ্রহীতাদের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সময়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নতুন উদ্যোগ নিয়ে থাকে। সর্বশেষ এই সুদ-ছাড় কর্মসূচিও সেই প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   নতুন নীতির ফলে লাখো শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থী তাদের ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও আর্থিক সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   সূত্র: মার্কিন শিক্ষা বিভাগের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ২২:১৩
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ছয় কোটি টাকার বৃত্তি পেলেন চাঁদপুরের সানজিদা

স্টুডেন্ট ভিসা, খরচ ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা: স্টুডেন্ট ভিসা, খরচ ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ছবি: সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও অংশীদারিত্ব জোরদারে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাইল ইউজিসি

ছবি: সংগৃহীত
সহজ ভিসা ও সাশ্রয়ী খরচে উচ্চশিক্ষার জন্য জনপ্রিয় ৮ দেশ

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পড়াশোনা এখন অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং বৈশ্বিক চাকরির সুযোগের কারণে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বিদেশমুখী হচ্ছেন। তবে অতিরিক্ত টিউশন ফি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জটিল ভিসা প্রক্রিয়ার কারণে অনেকের পক্ষে সেই স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও বিশ্বের কিছু দেশে তুলনামূলক কম খরচে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে, যেখানে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি।   জার্মানি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর একটি। দেশটির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে টিউশন ফি ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক স্টেম প্রোগ্রামে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা সহজে ভিসা পেয়ে থাকেন। পড়াশোনা শেষে দেশটি ১৮ মাসের পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা দেয়, যা শিক্ষার্থীদের চাকরি খুঁজতে সহায়তা করে।   তুরস্কও কম খরচে মানসম্মত শিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইউরোপীয় উচ্চশিক্ষা অঞ্চলের অংশ হওয়ায় দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিগ্রি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বীকৃত। সেখানে বছরে ১০০ থেকে চার হাজার ইউরোর মধ্যে পড়াশোনা করা সম্ভব। পাশাপাশি মাসিক ৪০০ থেকে ৬৫০ ইউরোর মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো যায়।   ফ্রান্সে স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত এবং ডকুমেন্টেশনও সহজ। ব্যবসা, আতিথেয়তা ও ফ্যাশন শিক্ষার জন্য দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। একইভাবে অস্ট্রিয়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কম টিউশন ফি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে। ভিয়েনা, গ্রাজ ও ইনসব্রুকের মতো শহরগুলোতে শিক্ষার্থীরা মাসে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ ইউরোর মধ্যে থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য খরচ পরিচালনা করতে পারেন।   পোল্যান্ড সাশ্রয়ী শিক্ষা ব্যয়, নিরাপদ পরিবেশ এবং সহজ ভিসা প্রক্রিয়ার কারণে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। অন্যদিকে নরওয়ে মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার জন্য পরিচিত। দেশটির অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা কম খরচে পড়াশোনা করতে পারেন। তবে বড় শহরগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় মাসিক খরচ ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।   সংযুক্ত আরব আমিরাত ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষার জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশটি সাধারণত ৩০ দিনের কম সময়ের মধ্যে স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা সুবিধাও দেয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় ও আধুনিক অবকাঠামোর কারণে দেশটির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে।   ফিলিপাইন চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত শিক্ষা প্রোগ্রামের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। দেশটির ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ এবং টিউশন ফি পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। ফলে কম খরচে মেডিকেল ও স্বাস্থ্যশিক্ষা নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছে ফিলিপাইন ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ১৭, ২০২৬ ০:৪২
রাবির প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম | ছবি: সংগৃহীত

যোগ্যতায় নাকি বিতর্কে? বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের একজন রাবির প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত

প্রথম দিনেই কেন অনুপস্থিত ২৫ হাজার পরীক্ষার্থী?

ছবি: ফাইল ফটো

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশে নতুন নির্দেশনা; যানজট কমাতে বিশেষ উদ্যোগ

0 Comments