ন্যাটো

ব্যালট–সংক্রান্ত এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার সময় বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে। ৩১ মার্চ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইঙ্গিত: শিগগিরই ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর এক মাসের বেশি সময় পার হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ “খুব শিগগিরই” শেষ হবে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধের শেষসীমা দেখা যাচ্ছে এবং কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।   মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর ট্রাম্প একাধিকবার যুদ্ধ শেষ করার কথা বলেছেন, তবে একই সময়ে সেনা মোতায়েন ও সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। যুদ্ধের ৩৩তম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরান, লেবানন ও ইয়েমেন থেকে ত্রিমুখী হামলার শিকার হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত পরিবর্তন করছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ লিন্ডা ব্লিমস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র দিনে প্রায় ২০০ কোটি ডলার খরচ করছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঐতিহাসিক জীবনযাত্রার সংকট’-এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন।   সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজন পড়লে যুক্তরাষ্ট্র আবার ফিরে এসে হামলা চালাতে পারে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বুধবার রাত ৯টায় ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।   যুক্তরাষ্ট্রের জনগণও দ্রুত যুদ্ধ সমাপ্তি চায়। রয়টার্স–ইপসসের জরিপে দেখা গেছে, ৬৬ শতাংশ মানুষ দ্রুত যুদ্ধ শেষ চাইছে। ন্যাটো সম্পর্কেও ট্রাম্প নাড়াচাড়া করছেন; তিনি মনে করছেন, যুদ্ধের ক্ষেত্রে জোটটি তাদের পাশে নেই এবং যুদ্ধ শেষে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা হবে।   ইরানের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি ক্রমশ বেড়ে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি হয়েছে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ, কাতারে তেলবাহী জাহাজ আঘাতপ্রাপ্ত, কুয়েতে বিমানবন্দরে আগুন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরায় এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, “আমরা এই যুদ্ধে এখন খুব ক্লান্ত।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি
ইরান যুদ্ধে সহযোগিতা না পেয়ে কয়েকটি দেশের ওপর খেপেছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ন্যাটো মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। মঙ্গলবার রয়টার্সকে তিনি বলেন, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছে না, যা অভিযানকে জটিল করছে।   ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ফ্রান্সকে “অসহযোগিতামূলক” উল্লেখ করেছেন। এর পাল্টা ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, তারা সংঘাত শুরুর পর থেকেই তাদের নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।   ফ্রান্সের আকাশসীমা ব্যবহার না দেওয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ফরাসি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতালিও সিসিলির সিগোনেলা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়নি।   অন্যদিকে, স্পেন ইরানবিরোধী অভিযানে আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যানচেজ বলেন, শুধুমাত্র ন্যাটো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা কাজে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার অনুমোদিত হবে।   যুক্তরাজ্যকেও ট্রাম্প অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটি এখনো ব্যবহারযোগ্য থাকলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার সামরিক অভিযানের আইনগত বৈধতা নিয়ে সন্দিহান।   উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসন ও ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে বিভাজনের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ন্যাটোর সাথে কি সম্পর্ক ছিন্ন করছে যুক্তরাষ্ট্র? ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিশ্ব রাজনীতিতে এক বড় ধরনের কম্পন সৃষ্টি করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য টেলিগ্রাফ'-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।  ট্রাম্পের মতে, এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি এখন কেবল আলোচনার পর্যায়ে নেই, বরং এটি 'পুনর্বিবেচনারও ঊর্ধ্বে'। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ন্যাটোকে একটি 'কাগুজে বাঘ' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "আমি কখনোই ন্যাটোর ওপর আস্থা রাখতে পারিনি। আমি সবসময় জানতাম তারা কতটা দুর্বল এবং মজার ব্যাপার হলো পুতিনও সেটা ভালো করেই জানেন।" প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ক্ষোভের মূলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল 'হরমুজ প্রণালী' রক্ষায় ন্যাটো মিত্রদের অনীহা। হরমুজ প্রণালীতে সেনা পাঠাতে অস্বীকার করায় মিত্র দেশগুলোকে 'কাপুরুষ' বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। তার মতে, মিত্রদের সমর্থন হওয়া উচিত ছিল 'স্বয়ংক্রিয়', যা এই সংকটের সময় দেখা যায়নি। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার তুলনা টেনে ট্রাম্প আক্ষেপের সুরে বলেন, "আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবার পাশে দাঁড়িয়েছি, এমনকি ইউক্রেনের ক্ষেত্রেও। অথচ ইউক্রেন আমাদের সমস্যা ছিল না। এটি আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা ছিল এবং আমরা তাদের জন্য সর্বোচ্চটা করেছি। কিন্তু বিনিময়ে যখন আমাদের প্রয়োজন হলো, তারা আমাদের পাশে থাকল না।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান দীর্ঘদিনের ট্রান্স-আটলান্টিক নিরাপত্তা বলয়কে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ন্যাটোর প্রতি আমেরিকার এই বিমুখতা বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্পেনকে তোপ: আকাশসীমা ব্যবহার বন্ধে ক্ষোভ

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী অভিযানে সহায়তা করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।   আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, প্রয়োজনের সময় যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। তখনই আমরা দেখেছি, ন্যাটোর সদস্য দেশ স্পেন আমাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিচ্ছে না, এমনকি তাদের ঘাঁটিও ব্যবহার করতে অনুমতি দিচ্ছে না। এটি দেখে তারা গর্বও করছে।   রুবিও আরও উল্লেখ করেন, কিছু দেশ একই আচরণ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে এর ফল কী হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
বন্ধুহীন ট্রাম্প! ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাশে নেই ন্যাটো ও যুক্তরাজ্য

ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালাতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্যত একাকী হয়ে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বারবার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা চেয়েও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি তিনি। এমনকি সামরিক জোট ন্যাটোও এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে কোনো ব্রিটিশ সেনা মোতায়েন করা হবে না।   আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এই সংঘাত থেকে যুক্তরাজ্যকে দূরে রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয় এবং আমরা এতে জড়াতে যাচ্ছি না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্রিটিশ সরকার কেবল তার নাগরিক, জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের রক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ গ্রহণ করছে। ব্রিটেন হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টায় সমর্থন দিলেও কোনোভাবেই সরাসরি যুদ্ধে ‘টেনে হিঁচড়ে’ জড়াতে চায় না।   তবে সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত কিছু সুবিধা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। হরমুজ প্রণালির হুমকির সঙ্গে জড়িত ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে তারা। এছাড়া ইরান থেকে আসা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করতে আকাশপথে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। মিত্রহীন ট্রাম্পের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ বড় কোনো অভিযানে সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ সমর্থন প্রয়োজন হয়।   সূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
NATO
নাটো পাশে নেই, ইরান যুদ্ধে একা যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের হতাশা প্রকাশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ইস্যুতে ন্যাটো জোটের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপের সময় ন্যাটো মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত সহায়তা দেয়নি।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটো জোটকে শক্তিশালী রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে, কিন্তু সংকটের মুহূর্তে সেই মিত্রদের অনেকেই পাশে দাঁড়ায়নি। তার ভাষায়, ইরান এখন সামরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মূল দায়িত্ব নিতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকেই।   হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার সময় ইউরোপের কয়েকটি ন্যাটো দেশ সরাসরি অভিযানে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করে। এতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে জোটের ভেতরে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প বরাবরই ন্যাটোর ব্যয় ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র জোটকে রক্ষা করতে বড় অঙ্কের অর্থ ও সামরিক শক্তি ব্যয় করে, কিন্তু প্রয়োজনে একই ধরনের সমর্থন সবসময় পাওয়া যায় না।   বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে চলমান সংকট আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ অস্ত্র কি মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে? মার্কিন মজুত সংকট নিয়ে উদ্বেগ

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোলাবারুদের মজুত নিয়ে চাপে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ কিছু অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে পেন্টাগন—এমন তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।   তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের ভেতরের আলোচনায় থাকা এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ দেশটির ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর গত চার সপ্তাহে ৯ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে বিপুল পরিমাণ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গোলাবারুদ। ফলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে অবগত সূত্রগুলো জানায়, ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—বিশেষ করে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র—অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এসব অস্ত্র মূলত পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো-এর একটি কর্মসূচির আওতায় সংগ্রহ করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে মিত্রদেশগুলো ইউক্রেনের জন্য মার্কিন অস্ত্র কিনে থাকে।   ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি সামরিক সহায়তার বড় অংশ সীমিত করলেও ‘ইউক্রেনের অগ্রাধিকারমূলক তালিকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য অংশের গোলাবারুদ সরবরাহ করা হচ্ছে।   এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দুইজন ইউরোপীয় কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে দ্রুতগতিতে গোলাবারুদ ব্যবহার করছে, তাতে ইউরোপের নিজস্ব অস্ত্র সরবরাহও বিলম্বিত হতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেনে চলমান সরঞ্জাম সহায়তা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।   রাশিয়ার হামলার মুখে ইউক্রেনের জন্য এই আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে সরবরাহে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি হলে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো স্পষ্ট করে জানায়নি—এই অস্ত্রগুলো পরে সরবরাহ করা হবে, নাকি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জরুরি সামরিক প্রয়োজন দেখা দিলে পেন্টাগন সরবরাহের অগ্রাধিকার পরিবর্তন করতে পারে।   এদিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ন্যাটোর প্রশিক্ষক ও উপদেষ্টারা। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা: ইরাক থেকে কর্মী সরাল ন্যাটো, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফেরার ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইরাক থেকে নিজেদের কর্মীদের সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছে ন্যাটো। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা আবার ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দপ্তরের উপদেষ্টা সাঈদ আল জায়াশি শুক্রবার আল জাজিরা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের অবসান এবং ইরাকে স্থিতিশীলতা ফিরলে ন্যাটো কর্মীরা পুনরায় তাদের কার্যক্রম শুরু করতে দেশটিতে ফিরে আসবেন।   বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে ন্যাটো মিত্রদের ‘কাপুরুষ’ বললেন ট্রাম্প

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে সহযোগিতা না করায় মিত্ররা ‘কাপুরুষের’ আচরণ করছে।   শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এই সংঘাত সামরিকভাবে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে “জয়ী” হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ন্যাটো মিত্ররা তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।   ট্রাম্পের ভাষায়, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া একটি “সহজ সামরিক পদক্ষেপ”, যা তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ দূর করতে পারে। কিন্তু মিত্ররা এতে এগিয়ে না এসে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যাটো জোট কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এই জোটকে “কাগুজে বাঘ” বলেও আখ্যা দেন ট্রাম্প।   সপ্তাহের শুরুতে মিত্রদের সহায়তা চাইলেও পরে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে ট্রাম্প বলেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যদের সহায়তার প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র একাই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য ন্যাটো জোটের ভেতরে বিদ্যমান মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে তুরস্কে ন্যাটোর শক্তিশালী ‘প্যাট্রিয়ট’ মোতায়েন

আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইনজারলিক বিমান ঘাঁটির নিরাপত্তায় নতুন করে ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে ন্যাটো। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   আদানা প্রদেশের এই কৌশলগত ঘাঁটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ন্যাটোভুক্ত বিভিন্ন দেশের সেনাসদস্যরা অবস্থান করছেন। মূলত ইরান থেকে ধেয়ে আসা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতেই এই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।   প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মালাতিয়া প্রদেশে ন্যাটোর একটি রাডার ঘাঁটির কাছে আরও একটি প্যাট্রিয়ট সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান থেকে ছোড়া অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশের সময় ন্যাটো বাহিনী তা সফলভাবে ধ্বংস করেছে।   নিজেদের পূর্ণাঙ্গ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটোর ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান পরিস্থিতিতে তুরস্কের আকাশসীমা এবং নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা ন্যাটোর যুদ্ধজাহাজ ও ভূমিভিত্তিক এই প্যাট্রিয়ট সিস্টেমগুলো ঢাল হিসেবে কাজ করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ অভিযানে না বলায় ন্যাটোকে ‘বোকামি’ বললেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর অনীহাকে ‘মারাত্মক বোকামি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump।   মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে ন্যাটোর সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান সত্ত্বেও মিত্র দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসছে না, যা তার কাছে বিস্ময়কর।   ন্যাটো ও পশ্চিমা মিত্রদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের রক্ষা করি, কিন্তু প্রয়োজনের সময় তারা আমাদের পাশে দাঁড়ায় না।” তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়ায় ন্যাটো দেশগুলোর সহায়তা এখন আর প্রয়োজন নেই।   এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালেও ন্যাটোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি দাবি করেন, বেশিরভাগ মিত্র দেশ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি।   এ বিষয়ে European Union-এর ২৭টি সদস্যরাষ্ট্র বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিভাগের প্রধান কাজা কাল্লাস জানান, চলমান সংঘাতে জড়ানোর কোনও আগ্রহ ইউরোপীয় দেশগুলোর নেই এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে অংশ নিতে চায় না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ ইস্যুতে ট্রাম্পের ডাকে সাড়া দিচ্ছে না ইউরোপের কয়েক দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না ইউরোপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও গ্রিস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা এ ধরনের কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না।   ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে বড় পরিসরের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না। বর্তমানে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিজেদের ও মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়াই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে পরিস্থিতির দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।   স্টারমারের এই বক্তব্য আসে ট্রাম্পের এক সতর্কবার্তার পর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা মিত্ররা যদি চলমান সংঘাতে সামরিক সহায়তা না দেয়, তাহলে পশ্চিমা সামরিক জোট NATO-এর ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।   তবে ট্রাম্পের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় জার্মানি। বার্লিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানকে ঘিরে যে সংঘাত তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে ন্যাটোর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। জার্মান সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, জার্মানি এই যুদ্ধে অংশ নেবে না এবং সামরিক শক্তি ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি সচল রাখার কোনো অভিযানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও তাদের নেই।   একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে গ্রিসও। দেশটির সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে কোনো সামরিক অভিযানে গ্রিস অংশ নেবে না।   এভাবে ইউরোপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের অনীহার কারণে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক উদ্যোগে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে তুরস্ককে পূর্ণ সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত হওয়ার পর তুরস্কের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি তুরস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও দিয়েছেন।   রাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট।   তুরস্ক জানায়, বুধবার ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। পরে ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে প্রতিহত করে ধ্বংস করে দেয়।   ফোনালাপে মার্কো রুবিও হাকান ফিদানকে বলেন, তুরস্কের সার্বভৌম ভূখণ্ডে এ ধরনের হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের পাশে থাকবে।   তুরস্কের কর্মকর্তাদের মতে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরাক ও সিরিয়া হয়ে তুরস্কের আকাশসীমার দিকে আসছিল। পরে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা ন্যাটোর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেটি প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়।   তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ক্ষেপণাস্ত্রটির নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে কিছু জানায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক তুর্কি কর্মকর্তা জানান, ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত গ্রিক সাইপ্রাসের একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল, তবে পরে এর গতিপথ পরিবর্তিত হয়।   দক্ষিণ তুরস্কের সিরিয়া সীমান্তের কাছে দোরতইয়োল জেলায় যে ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে, তা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   ফোনালাপে রুবিও ও ফিদান ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দৃঢ়তার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন।   উল্লেখ্য, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও রয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৫, ২০২৬ 0
ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপের একটি দৃশ্য। ছবি অনলাইন।
ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল তুরস্কের আকাশে আটক

দখলদার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে। সম্প্রতি জানা গেছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র তুরস্কের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে।   তুরস্কে সরাসরি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি না থাকলেও এখানে ন্যাটোর ঘাঁটি রয়েছে, যা আঙ্কারা ও ন্যাটো যৌথভাবে ব্যবহার করে। তাই সম্ভাব্য মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হিসেবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।   বুধবার (৪ মার্চ) তুরস্ক জানিয়েছে, ইরান থেকে উৎক্ষেপিত একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল আঙ্কারার দিকে এগোচ্ছিল। ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মিসাইলটি দেশের আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৪, ২০২৬ 0
আর্কটিক মিশনের পরিকল্পনায় ন্যাটো
আর্কটিক দখল নিয়ে ন্যাটোর মাস্টারপ্ল্যান

আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং চীনের নজরদারি রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামছে ন্যাটো। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই অঞ্চলে নিজেদের বিশেষ অভিযানের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ করতে যাচ্ছে তারা। তবে এই মিশনের মূলে রয়েছে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে থাকা পুরনো এক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, যা ন্যাটো সদস্যদের মধ্যে নতুন করে স্নায়ুচাপ সৃষ্টি করছে।   নিরাপত্তার নতুন বলয়: ন্যাটোর ইউরোপীয় সদরদপ্তরের মুখপাত্র মার্টিন ও'ডোনেল জানিয়েছেন, আর্কটিক এবং হাই নর্থ অঞ্চলে ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হলেও, ন্যাটোর এই পদক্ষেপকে রাশিয়ার জন্য একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ডেনমার্কের নেতৃত্বে সেখানে 'অপারেশন আর্কটিক এনডিউর‍্যান্স' নামের একটি মহড়া চলমান রয়েছে।   ট্রাম্পের সেই বিতর্কিত দাবি: এই মিশনের নেপথ্যে রয়েছে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সেই পুরনো অবস্থান। ডেনমার্কের এই দ্বীপটি অধিগ্রহণের পক্ষে ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছিলেন যে, রাশিয়া ও চীনের হাত থেকে আমেরিকাকে রক্ষা করতে গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে অপরিহার্য। যদিও ডেনমার্ক এবং অন্যান্য ন্যাটো দেশগুলো ট্রাম্পের এই দাবির কড়া বিরোধিতা করে আসছে, তবুও ন্যাটোর নতুন এই 'আর্কটিক সেন্ট্রি' মিশন সেই পুরনো বিতর্ককেই উসকে দিচ্ছে।   মিশনের ভবিষ্যৎ: জার্মান সংবাদমাধ্যম স্পিগেলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন জেনারেল আলেক্সাস জি গ্রিঙ্কেভিচ এই মিশনের নেতৃত্ব দিতে পারেন। বরফঢাকা এই দুর্গম অঞ্চলে ন্যাটোর এই নতুন সামরিক কৌশল বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ কতটা বদলে দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0