রাজধানীর মহাখালী এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ফুটওভার ব্রিজ পার হয়ে রাস্তায় হেঁটে যেতে দেখা যায় এক যুবককে, যার কোলে কাপড়ে মোড়ানো একটি শিশুর মরদেহ।
স্থানীয় সূত্র ও ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, শিশুটির বয়স আনুমানিক ৩ থেকে ৫ বছর। ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটি হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে যে যুবককের কোলে শিশু টির মরাদেহ দেখা গিয়েছে তিনি শিশুটির বাবা
এ বিষয়ে ছবি ও তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, শিশুটির নাম সাদমান। তাকে চিকিৎসার জন্য কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে ঢাকার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন হাসপাতাল-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ছবিতে হাসপাতালের সামনে কয়েকজন নারীকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা গেছে। পরে শিশুটির মরদেহ নিয়ে স্বজনরা রাস্তায় ফিরে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
বাংলাদেশ
View moreবাংলাদেশ থেকে জমা দেওয়া শেনজেন ভিসার আবেদন নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকার সুইডিশ দূতাবাস। এখন থেকে ভিসা আবেদন, আমন্ত্রণপত্রসংক্রান্ত আপিল এবং নির্দিষ্ট আবেদন নিয়ে কোনো তথ্য বা সহায়তা দেবে না দূতাবাস। এসব বিষয়ে আবেদনকারী ও স্পন্সরদের সরাসরি সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। গত ২ নভেম্বর সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জানায় দূতাবাস। এর ফলে বাংলাদেশে সুইডেনের শেনজেন ভিসাপ্রত্যাশীদের আবেদনসংক্রান্ত তথ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন এই ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। তবে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি। ঢাকার সুইডিশ দূতাবাসের ১ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে জমা হওয়া স্বল্পমেয়াদি শেনজেন ভিসার আবেদনগুলোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির হাতে দেওয়া হয়েছে। আগে এ সিদ্ধান্ত নিত ঢাকার সুইডিশ দূতাবাস। এই পরিবর্তনে মূলত আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ বদলেছে, আবেদন জমা দেওয়ার পদ্ধতি নয়। আবেদনকারীদের আগের মতোই ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দিতে হবে। সোমবারের নতুন নির্দেশনায় দূতাবাস জানিয়েছে, শেনজেন ভিসা, আমন্ত্রণপত্রসংক্রান্ত আপিল, নির্দিষ্ট আবেদন সম্পর্কে অনুসন্ধান এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে সরাসরি সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইটের লিংকও দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস স্পষ্ট করেছে, শেনজেন ভিসা নিয়ে কোনো ধরনের নির্দেশনা, তথ্য কিংবা সহায়তা দেওয়ার এখতিয়ার এখন তাদের নেই। ফলে আবেদনকারী এবং যাঁরা আবেদনকারীদের স্পন্সর করছেন, তাঁদেরও নতুন যোগাযোগব্যবস্থা অনুসরণ করতে হবে। শেনজেন ভিসা মূলত ইউরোপের শেনজেনভুক্ত ২৯টি দেশে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের অনুমতি দেয়। এ ভিসার মাধ্যমে যেকোনো ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করা যায়। পর্যটন, ব্যবসা, পারিবারিক সাক্ষাৎ কিংবা স্বল্পমেয়াদি অন্যান্য ভ্রমণের জন্য এ ভিসা ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশ থেকে সুইডেনের পাশাপাশি সুইডেনের প্রতিনিধিত্বের আওতায় থাকা ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, লাটভিয়া, লুক্সেমবার্গ ও স্লোভেনিয়ার শেনজেন ভিসার আবেদনও নির্ধারিত নিয়মে জমা দেওয়া যায়। সুইডিশ দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার স্থান ও পদ্ধতি অপরিবর্তিত থাকলেও আবেদন পর্যালোচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব এখন সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির। তাই নতুন আবেদন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে আগের নিয়মে আবেদন জমা দিতে হবে। অন্যদিকে, আগে জমা দেওয়া আবেদন, আপিল কিংবা ভিসাসংক্রান্ত কোনো তথ্য জানতে হলে সরাসরি সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সূত্র: ঢাকার সুইডিশ দূতাবাস, সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সি ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
হাসিনার সম্পত্তির বিক্রির অর্ধেক অর্থ পাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার
'পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশের হত্যার অধিকার আছে '- তথ্য উপদেষ্টা
ঢাকার ডেমরায় কারখানা থেকে উদ্ধার বিরল হালকা গোলাপি রঙের গোখরা, লোকজন হতবাক
বাংলাদেশ থেকে সুইডেনসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের শেনজেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে ঢাকার সুইডেন দূতাবাসের পরিবর্তে আবেদন যাচাই ও ভিসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সি। তবে বাংলাদেশিদের শেনজেন ভিসার আবেদন বন্ধ হয়নি। আগের মতোই ঢাকার ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়া যাবে। সোমবার (২ নভেম্বর) সুইডেন দূতাবাসের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে জমা দেওয়া শেনজেন ভিসার আবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফলে ঢাকার সুইডেন দূতাবাস এখন আর এসব আবেদন প্রক্রিয়াকরণ কিংবা অনুমোদন ও প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্বে নেই। একই সঙ্গে আবেদনসংক্রান্ত প্রশ্ন, আমন্ত্রণপত্র, আপিল এবং নির্দিষ্ট আবেদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। নতুন নিয়মে আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার স্থান পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশ থেকে সুইডেনের শেনজেন ভিসা পেতে আগ্রহীদের আগের মতোই ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। নির্ধারিত দিনে আবেদনপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বায়োমেট্রিক তথ্যও দিতে হবে। ভিএফএস গ্লোবাল আবেদন গ্রহণ, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ এবং পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার মতো প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সি আবেদন যাচাই করে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। অর্থাৎ আবেদন জমা দেওয়ার প্রতিষ্ঠান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব আলাদা করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে আবেদনকারীদের একটি বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। ভিএফএস গ্লোবালে আবেদন জমা দেওয়া গেলেও প্রতিষ্ঠানটি ভিসা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেয় না। একইভাবে ঢাকার সুইডেন দূতাবাসও নতুন ব্যবস্থায় শেনজেন ভিসার আবেদনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্বে নেই। তাই আবেদন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত কাগজপত্র কিংবা সিদ্ধান্তসংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। সুইডিশ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, লাটভিয়া, লুক্সেমবার্গ ও স্লোভেনিয়ার শেনজেন ভিসার আবেদনেও প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে এসব দেশের কোনোটি প্রধান ভ্রমণ গন্তব্য হলে একই ব্যবস্থায় আবেদন জমা দেওয়া যাবে। তবে এই প্রতিনিধিত্ব কেবল স্বল্পমেয়াদি শেনজেন ভিসার জন্য প্রযোজ্য। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জাতীয় ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন এই ব্যবস্থার আওতায় পড়ে না। সুইডেন দূতাবাসের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শেনজেন ভিসার আবেদন সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির কাছে পৌঁছানোর পর প্রক্রিয়াকরণে ১৫ ক্যালেন্ডার দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা ৪৫ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। আবেদনকারীরা নির্ধারিত ভ্রমণের সর্বোচ্চ ছয় মাস আগে আবেদন জমা দিতে পারবেন। তাই ভ্রমণের তারিখ বিবেচনায় পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শেনজেন ভিসার মাধ্যমে সাধারণত ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন শেনজেন অঞ্চলে অবস্থান করা যায়। পর্যটন, পরিবার বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক সফরের মতো উদ্দেশ্যে এই ভিসার আবেদন করা যায়। তবে ভিসা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে ভ্রমণের উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয় আর্থিক সামর্থ্য এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়। সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ আবেদনকারীদের বৈধ পাসপোর্ট, পূরণ করা আবেদনপত্র, ভ্রমণের উদ্দেশ্যসংক্রান্ত কাগজপত্র, পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ এবং কমপক্ষে ৩০ হাজার ইউরোর চিকিৎসা ব্যয় কাভার করে এমন ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স জমা দিতে হয়। আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্রও প্রয়োজন হতে পারে। ঢাকায় সুইডেনের শেনজেন ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার কেন্দ্রটি বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের বোরাক মেহনুর ভবনের সপ্তম তলায় অবস্থিত। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার আগে ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। আবেদনসংক্রান্ত সাধারণ সহায়তার জন্য ভিএফএস হেল্পডেস্কের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাবে। সুইডেন দূতাবাসের প্রকাশিত নির্দেশনায় দায়িত্ব পরিবর্তনের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পরিবর্তন শুধু আবেদন মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্বের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আবেদন জমা দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে বাংলাদেশিদের জন্য মূল বার্তা হলো, সুইডেনের শেনজেন ভিসা বন্ধ হয়নি। ঢাকার সুইডেন দূতাবাস আর এসব আবেদনের সিদ্ধান্ত নেবে না। আবেদনকারীরা ভিএফএস গ্লোবালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেবেন এবং ভিসা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সি।
বাবার দুঃখ ঘোচানোর স্বপ্ন, এইচএসসিতে যমজ দুই বোনেরই জিপিএ-৫
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির মাধ্যমে কুশ ল্যাব নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ, ঢাকায় গ্রেপ্তার তৌসিফ
আসামে দেখা গেল যুবদলের ব্যানার, চিন্তায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ
প্রেমের সম্পর্কে ব্যর্থ হয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন নাজমুল ইসলাম বাপ্পি। এরপর ইন্টারনেট, ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিজের বাড়িতেই ইয়াবা তৈরির কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। গাজীপুরের টঙ্গীতে সেই গোপন কারখানার সন্ধান পেয়ে ৩২ বছর বয়সী বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে ইয়াবা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও রাসায়নিক উপাদান জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে টঙ্গীর পাগার আলেক টেক এলাকার একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার বাপ্পি ওই এলাকার বাসিন্দা তাইজুল ইসলামের ছেলে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পি দাবি করেছেন, কয়েক বছর আগে প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে সেই সম্পর্কে আঘাত পেয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন তিনি। এরপর নিজেই ইয়াবা তৈরির পরিকল্পনা করেন। বাপ্পির ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক তৈরির বিষয়ে তাঁর আগে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছিল না। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তিনি ইয়াবা তৈরির উদ্যোগ নেন। তবে প্রেমের সম্পর্কে ব্যর্থ হওয়ার সঙ্গে তাঁর মাদক তৈরির পরিকল্পনার সম্পর্কটি তাঁর নিজের দাবি। এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়েক দিন ধরে বাপ্পির বাড়ির ওপর নজরদারি করছিল পুলিশ। সেখানে মাদক তৈরির কার্যক্রম চলার তথ্য পাওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় বাড়িটির ভেতরে একটি গোপন কক্ষ ও পরীক্ষাগারের সন্ধান পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, কক্ষটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে বাইরে থেকে সহজে সেখানে প্রবেশ করা না যায়। সেখানে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ও মাদক তৈরির সরঞ্জাম মজুত ছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন থেকে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। ইয়াবা তৈরির উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণও সংগ্রহ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এসব রাসায়নিক উপাদান সংগ্রহের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে উদ্ধার করা সরঞ্জাম ব্যবহার করে কত পরিমাণ ইয়াবা তৈরি করা হয়েছিল কিংবা ইতিমধ্যে কোনো মাদক বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাপ্পি কয়েক বছর আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন। এরপর তাঁর জীবনযাপনে পরিবর্তন আসে এবং তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে স্থানীয়দের দাবি। এদিকে টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. এরশাদুল রহমান শনিবার সকালে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক তৈরির সরঞ্জাম ও রাসায়নিক উপাদান জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের এই অভিযানের পর আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে গোপনে মাদক তৈরির উদ্যোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এমন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। ঘটনায় বাপ্পির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। গ্রেপ্তারের পর বাপ্পির দেওয়া বক্তব্যে প্রেমে ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে এলেও পুলিশের তদন্তের মূল বিষয় হচ্ছে মাদক তৈরির উদ্দেশ্যে সরঞ্জাম সংগ্রহ, গোপন কারখানা স্থাপন এবং সম্ভাব্য উৎপাদন কার্যক্রম। তদন্তের মাধ্যমে উদ্ধার করা রাসায়নিক উপাদানের প্রকৃতি, মাদক তৈরির কার্যক্রম কত দূর এগিয়েছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সেসব বিষয় পরিষ্কার হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: আর টিভি
যুক্তরাষ্ট্রে এআই দিয়ে বানানো কার্টুন মিম বিক্রি করে কোটি টাকার ব্যবসা বাংলাদেশের দুই ভাইয়ের
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ গ্রেপ্তার