রাজধানীর মিরপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি চলার অভিযোগ উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক তালিকা ও সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই এলাকায় ১৫০টির বেশি স্পটে নিয়মিত চাঁদা তোলা হচ্ছে এবং এতে জড়িত রয়েছেন অন্তত ৭২ জন। তাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা হিসেবে আরও ২৫ জনের নাম উঠে এসেছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে তালিকা করে অভিযান শুরু। , রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে ১৩ নম্বর সেকশনের দিকে যেতে রাস্তার ওপর ও ফুটপাতে শত শত দোকান বসে। একটু সামনেই কয়েকটি স্কুল। সেগুলোর আশপাশের রাস্তা, গলির সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসে দোকানের পর দোকান। দেখলে মনে হবে যেন পুরোটাই বিপণিবিতান।
রাস্তাগুলো সিটি করপোরেশনের। দোকান হকারের। কিন্তু সেখান থেকে চাঁদা তোলেন স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী ও সন্ত্রাসী। দিনের পর দিন পুলিশের চোখের সামনেই দোকানগুলো বসছে। চাঁদার কথাও থানা-পুলিশের অজানা নয়। কিন্তু দোকান উচ্ছেদ অথবা চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না। অনেকটা মিলেমিশে চাঁদাবাজি চলছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীতে চাঁদাবাজির স্পট (জায়গা) ও চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করেছে গত মার্চে। তালিকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হিসেবে ১ হাজার ২৮০ জনের নাম রয়েছে। আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা হিসেবে নাম উল্লেখ আছে ৩১৪ জনের।
ঢাকার চাঁদাবাজদের নিয়ে সম্প্রতি পুলিশ যে তালিকা করেছে তাতেও বলা হয়েছে, চাঁদাবাজির সুযোগ দিয়ে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা টাকার ভাগ পান।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীতে চাঁদাবাজির স্পট (জায়গা) ও চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করেছে গত মার্চে। থানা-পুলিশ, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও ডিএমপি কমিশনারের গোয়েন্দা ইউনিট মিলে তালিকাটি করেছে। তালিকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হিসেবে ১ হাজার ২৮০ জনের নাম রয়েছে। আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা হিসেবে নাম উল্লেখ আছে ৩১৪ জনের। পুলিশ বলছে, তালিকায় নতুন নাম নিয়মিত যুক্ত হচ্ছে।রাজধানী ঢাকায় এ ধরনের চাঁদাবাজি অনেক দিন ধরেই চলে আসছে। শেখ হাসিনা সরকারের সময় এসব চাঁদাবাজির সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুলিশের এখানকার তালিকায় থাকা চাঁদাবাজদের বেশির ভাগই বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী অথবা তাঁরা নিজেদের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেন। আবার পেশাদার সন্ত্রাসীরাও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। অন্যান্য দলেরও কিছু নেতা-কর্মীর নাম তালিকায় আছে। তালিকায় কিছু নাম আছে, যাদের রাজনৈতিক বা অন্য পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।
চাঁদাবাজি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ সদস্যদের কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার, ডিএমপি
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকা বিশ্লেষণ এবং সরেজমিন অনুসন্ধান করে রাজধানীতে চাঁদাবাজির একটা চিত্র পাওয়া গেছে। তা নিয়ে তিন পর্বের প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে সামনে আনা হলো মিরপুর অঞ্চলের চাঁদাবাজি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর অঞ্চলের সাতটি থানা এলাকায় চাঁদাবাজির দেড় শর বেশি স্পট রয়েছে। এসব স্পট থেকে চাঁদা তোলায় জড়িত ৭২ জন। চাঁদাবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা রয়েছেন ২৫ জন।
রাজধানীতে ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭৩
অন্তর্বর্তী সরকারের আমল এবং নির্বাচনের আগে বিএনপিকে চাঁদাবাজদের দল হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে দলটির বিপক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠার পর বিএনপি তখন অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে; কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
ডিএমপির সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত ৪ মার্চ মতবিনিময় সভা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, চাঁদাবাজদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তালিকা তৈরির পর উচ্চপর্যায়ের সংকেত পেয়ে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ১ মে শুরু হওয়া অভিযানে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ হিসেবে গত সোমবার পর্যন্ত ১০০ জনকে এবং সহযোগী হিসেবে ১৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদাবাজি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ সদস্যদের কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মিরপুরে সাতটি থানা এলাকায় চাঁদা তোলেন ৭২ জন। তাঁদের বড় অংশই বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মী বলে পুলিশের তালিকায় উল্লেখ রয়েছে।
মিরপুরের চাঁদাবাজেরা
মিরপুর, গাবতলী, শাহ আলী, পল্লবী, কাফরুল, দারুস সালাম, রূপনগর ও ভাষানটেক থানা এলাকায় বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজি হয়ে থাকে। এর মধ্যে গাবতলী টার্মিনাল একটা গুরুত্বপূর্ণ স্পট। এর বাইরে বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতের দোকান, মূল সড়কে অবৈধ বাস-ট্রাক পার্কিং, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ, লেগুনাস্ট্যান্ড, ভাঙারির দোকান, ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবসা, ময়লার ব্যবসা, পোশাক কারখানা, ঝুট ব্যবসা, ভবন নির্মাণ, ভ্রাম্যমাণ দোকান, সরকারি জমিতে কাঁচাবাজার, বস্তিঘর ও ফুটপাতে অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগ, কয়লা ও ইট-বালুর ব্যবসা ইত্যাদিতে চাঁদাবাজি হয়।
মিরপুরে সাতটি থানা এলাকায় চাঁদা তোলেন ৭২ জন। তাঁদের বড় অংশই বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মী বলে পুলিশের তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। তাঁদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে নাম রয়েছে ২৫ ব্যক্তির। এর মধ্যে অন্তত ২০ জন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকার পাঁচজন হকারের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, দোকানের অবস্থান ও আকারভেদে চাঁদার পরিমাণ দিনে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। সাধারণত বিকেল ও সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তি এসে টাকা নিয়ে যান, যিনি ‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত।
সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে এই প্রতিবেদকও চাঁদাবাজির নানা তথ্য পেয়েছে। মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের মেট্রোস্টেশনের নিচের ফুটপাতে পোশাকের দোকানে কেনাবেচা করছিলেন মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। ব্যবসার খবরাখবর এবং পণ্যের দর-কষাকষির পর তাঁর কাছে জানতে চাইলাম, ফুটপাতে দোকান করতে টাকা দিতে হয় কি না। তিনি বললেন, প্রতিটি বৈদ্যুতিক বাতির জন্য দৈনিক ৫০ টাকা দিতে হয়। তাঁর দোকানে দুটি বাতি আছে। দিতে হয় ১০০ টাকা। আর দোকান বসানোর জন্য দিতে হয় দৈনিক আরও ১০০ টাকা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই হকার আরও বলেন, কিছুদিন আগে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানের কারণে তিনি সাত দিন দোকান বসাতে পারেননি। কিন্তু দোকান খোলার পর আগের সাত দিনের টাকাও দিতে হয়েছে।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ফুটপাতের দোকান থেকে টাকা তোলেন পুলিশের তালিকার সন্ত্রাসী আব্বাস আলী, তাঁর সহযোগী মো. তাজ ও মো. সোহেল ওরফে ভাগনে সোহেল এবং মিরপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুল হাসান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী জুয়েল ও বাবুল।
মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকার পাঁচজন হকারের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, দোকানের অবস্থান ও আকারভেদে চাঁদার পরিমাণ দিনে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। সাধারণত বিকেল ও সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তি এসে টাকা নিয়ে যান, যিনি ‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত।
পুলিশের তালিকায় দেখা যায়, মিরপুর ১০ থেকে ১৩ নম্বর সেকশন পর্যন্ত সড়ক ও হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের গলি এবং সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার ফুটপাতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ দোকান রয়েছে। দোকানসংখ্যা দেড় হাজার ও দৈনিক গড় চাঁদা দোকানপ্রতি ২০০ টাকা ধরে হিসাব করে দেখা যায়, মাসে অন্তত ৯০ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে।
মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলামের মাধ্যমে চাঁদার টাকার ভাগ ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম আজমও পান বলে তথ্য এসেছে। ১ মে ওসি গোলাম আজমকে মিরপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ফুটপাতের এসব দোকান থেকে টাকা তোলেন পুলিশের তালিকার সন্ত্রাসী আব্বাস আলী, তাঁর সহযোগী মো. তাজ ও মো. সোহেল ওরফে ভাগনে সোহেল এবং মিরপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুল হাসান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী জুয়েল ও বাবুল। মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলামের মাধ্যমে চাঁদার টাকার ভাগ ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম আজমও পান বলে তথ্য এসেছে। ১ মে ওসি গোলাম আজমকে মিরপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর সপ্তাহখানেক আগে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম আজম প্রথম আলোর কাছে দাবি করেছিলেন, ফুটপাত থেকে কারা চাঁদা তোলেন, কারা ভাগ পান—এসব বিষয়ে কোনো কিছুই তাঁর জানা নেই।এসআই তরিকুল ইসলামের কাছেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘থানার সেকেন্ড অফিসার থাকার সময় আমার বিরুদ্ধে এমন একটা অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে আমি সেই পদ (সেকেন্ড অফিসার) ছেড়ে দিয়েছি।’ তাঁর দাবি, চাঁদাবাজির সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
অবশ্য ডিএমপির মিরপুর বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ওসিরা সুবিধা নেন বলেই ফুটপাত দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে নানা অজুহাত দেখান বা অনেক সময় দায়সারা গোছের কিছু পদক্ষেপ নেন।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের শাহ আলী মাজার থেকে শাহ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যন্ত ফুটপাতে প্রায় ১০০ দোকান বসিয়ে চাঁদা তোলা হয়।
পুলিশের তালিকার শীর্ষ সন্ত্রাসী আব্বাস ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরপরই কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।
পুলিশ বলছে, পরে তিনি বিদেশে চলে যান। তিনি বিদেশে বসেই মিরপুরের একটা অংশের চাঁদাবাজিসহ অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করেন।
আব্বাসের হয়ে চাঁদা তোলার সঙ্গে জড়িত মো. সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী জুয়েল ও বাবুলের বক্তব্য জানতে তাঁদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়, কিন্তু তাঁরা ফোন ধরেননি। মিরপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুল হাসান সোহেলের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিনি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। তবে তাঁর নামে কেউ চাঁদা তোলেন কি না, সেটা তিনি জানেন না।
পুলিশের তথ্য বলছে, শাহ আলী থানার এসআই তপন চৌধুরীর মাধ্যমে ওই এলাকার বিভিন্ন স্পটের চাঁদার টাকা থেকে ভাগ ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলমও পান। যদিও তাঁরা দুজনই প্রথম আলোর কাছে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের শাহ আলী মাজার থেকে শাহ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যন্ত ফুটপাতে প্রায় ১০০ দোকান বসিয়ে চাঁদা তোলা হয়। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, এসব দোকান থেকে দৈনিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা করে তোলেন শাহ আলী থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলেমান দেওয়ান।
সোলেমান দেওয়ান প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। যদিও পুলিশের তালিকা ও স্থানীয় সূত্র বলছে, তাঁর নিয়ন্ত্রণেই চাঁদাবাজি হয়।পুলিশের তথ্য বলছে, শাহ আলী থানার এসআই তপন চৌধুরীর মাধ্যমে ওই এলাকার বিভিন্ন স্পটের চাঁদার টাকা থেকে ভাগ ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলমও পান। যদিও তাঁরা দুজনই প্রথম আলোর কাছে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, চাঁদাবাজির সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’
মিরপুর ১ নম্বর এলাকার প্রধান সড়ক দখল করে লেগুনাস্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। মিরপুর ১ নম্বর থেকে শাহ আলী মাজার রোডের দক্ষিণ মোড় পর্যন্ত ৩০টির মতো লেগুনা চলাচল করে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, লেগুনাপ্রতি দৈনিক ২০০ টাকা করে মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়।পুলিশের তালিকার তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর বিভাগ ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ‘ম্যানেজ’ করেই সড়ক দখল করে লেগুনার স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। লেগুনা থেকে চাঁদা তোলা হয় যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশার নামে। তিনি দাবি করেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
তবে একাধিক লেগুনাচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেছেন, ইমন নামের একজন লাইনম্যান প্রতিদিন লেগুনাগুলো থেকে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করেন। জগলুল পাশার নামেই টাকা আদায় করা হয়।
পল্লবীর স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ বলছে, মামুনের একটি বাহিনী রয়েছে। নাম ‘মামুন বাহিনী’। তারা আবাসন নির্মাণপ্রতিষ্ঠান, ফুটপাত, বাজার, বস্তি, পোশাক কারখানা ইত্যাদি থেকে চাঁদা তোলে। পাশাপাশি ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।
পল্লবীতে ‘মামুন বাহিনী’
পল্লবীতে গত বছরের ১২ জুলাই একদল লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এ কে বিল্ডার্স নামের একটি আবাসন নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে। সেদিন গুলিতে শরিফুল ইসলাম নামের প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা আহত হন। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবির পর তা না পেয়ে ওই হামলা চালানো হয়। এর সঙ্গে জড়িত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান মামুন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ বলছে, মামুনের একটি বাহিনী রয়েছে। নাম ‘মামুন বাহিনী’। তারা আবাসন নির্মাণপ্রতিষ্ঠান, ফুটপাত, বাজার, বস্তি, পোশাক কারখানা ইত্যাদি থেকে চাঁদা তোলে। পাশাপাশি ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।
পল্লবীতে নতুন বাড়ি নির্মাণ বা জমি কেনাবেচার খবর পেলে হাজির হয় মামুন বাহিনী। গত সোমবার পল্লবী থানায় জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, গত ৩০ এপ্রিল তিনি বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলে দুটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। পাঁচ দিনের মধ্যে টাকা না দিলে তাঁকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মামুন এখন বিদেশে। সেখান থেকেই নিজের বাহিনী দিয়ে চাঁদাবাজিসহ ওই এলাকার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁর পক্ষে পল্লবী এলাকায় চাঁদাবাজি করেন মাসুম বিল্লাহ ওরফে ভাগনে মাসুম, মনির, বাপ্পী, লালচাঁন ও মুন্না।
পল্লবীর কালশীর একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, গত রমজান মাসে মামুন বাহিনীর লোকজন তাঁর অফিসে এসে মাসে এক লাখ টাকা দাবি করে। বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর মামুন বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে হত্যার হুমকি দেন। পরে স্থানীয় এক নেতার মাধ্যমে চাঁদার পরিমাণ কমিয়ে মাসে ২০ হাজার টাকায় নামানো সম্ভব হয়। মাসের প্রথম সপ্তাহে মামুনের লোকজন এসে তাঁর অফিস থেকে টাকা নিয়ে যায়।
পল্লবীতে নতুন বাড়ি নির্মাণ বা জমি কেনাবেচার খবর পেলে হাজির হয় মামুন বাহিনী। যেমন গত সোমবার পল্লবী থানায় জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, গত ৩০ এপ্রিল তিনি বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলে দুটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। পাঁচ দিনের মধ্যে টাকা না দিলে তাঁকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
রূপনগর এলাকার আরামবাগ বাগানবাড়ির ঝিলপাড় বস্তিতে প্রায় ৩৫০ ঘরে অবৈধ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ রয়েছে। সেখান এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, জনি ও খোকন নামের দুই ব্যক্তি এসব সংযোগ দেন। ঘরভাড়ার বাইরে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির জন্য ঘরপ্রতি মাসে এক হাজার করে টাকা দিতে হয়। এই টাকা পল্লবী থানা যুবদলের সভাপতি নুর সালাম তোলেন বলে পুলিশের তালিকায় নাম রয়েছে। এ বিষয়ে নুর সালামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে কল করেও যোগাযোগ করা যায়নি।রূপনগর আবাসিক এলাকায় ঝিলপাড় নামের আরও একটি বস্তি রয়েছে। সেখানে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ঘর। সেখানেও অবৈধ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ দিয়ে প্রতি মাসে টাকা তোলা হয়। এ টাকা তোলেন রূপনগর থানার ওসির সোর্স হিসেবে পরিচিত সাজেদুল ইসলাম (টুটুল)। তিনি রূপনগর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব।
সাজেদুল প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ঠিকাদারি করেন। কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। থানার সোর্স হিসেবে কাজ করার সময় তাঁর নেই। যদিও পুলিশের তালিকায় সাজেদুলের নামই রয়েছে।পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, চাঁদা তোলার সঙ্গে জড়িত জাতীয় পার্টির দারুস সালাম থানার সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম ও তাঁর সহযোগী ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোফাজ্জাল।
বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজি
গাবতলীতে আন্তজেলা বাস টার্মিনালের বাইরেও বিভিন্ন বাসের কাউন্টার আছে। আরও রয়েছে ফুটপাতে বিভিন্ন পণ্যের দোকান।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনালের ইজারাদার হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফের ছেলে আরাত হানিফ। নথিপত্রে তাঁর নামে ইজারা নেওয়া হলেও নিয়ন্ত্রণ করেন মো. হানিফ। ইজারাদারের লোকেরা গাবতলী বাস টার্মিনালের আশপাশের ফুটপাত, বাস কাউন্টার ও খাবারের হোটেল থেকে চাঁদা তোলেন।
পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, চাঁদা তোলার সঙ্গে জড়িত জাতীয় পার্টির দারুস সালাম থানার সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম ও তাঁর সহযোগী ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোফাজ্জাল। মোফাজ্জাল আবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ান।
জাতীয় পার্টির নেতা মো. মাসুম প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, গাবতলী টার্মিনালের ইজারায় তাঁরও অংশ রয়েছে। টার্মিনালের ভেতরে থাকা দোকান থেকে বিদ্যুৎ বিল ও ভাড়া নেওয়া হয়। ফুটপাত থেকে কোনো টাকা তোলা হয় না।
এদিকে ইজারাদার আরাত হানিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে জানেন না বলে দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে তাঁর বাবা মো. হানিফের সঙ্গে কথা হয় গতকাল মঙ্গলবার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ইজারা নেওয়া দোকান থেকে বৈধভাবে ইজারার টাকা তোলা হয়। তবে এর বাইরে কোনো দোকান থেকে চাঁদা নেওয়া হয় কি না, তা তিনি খোঁজ নেবেন। এ ছাড়া টার্মিনালে অনেক দোকানপাটের কারণে বাস রাখার জায়গা কমে যায়। সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে।
বালু ব্যবসায় যুবদল নেতার ‘চাঁদা’
গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে আমিন বাজার সেতুর দিকে যাওয়ার পথে বাঁ দিকে বেড়িবাঁধ সড়ক গেছে হাজারীবাগের দিকে। এ সড়কের দুই পাশে রয়েছে অনেকগুলো বালু, ইট ও খোয়ার দোকান। অনেক দিন ধরে অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে গড়ে ওঠা এসব ব্যবসা থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলা হয়।
এর বাইরে ওই এলাকায় দ্বীপনগর নামে একটি জায়গা রয়েছে। সেখানে ১০টি বালুর ‘গদি’ (বালু স্তূপ করে রেখে বিক্রি করা হয়) রয়েছে। ২৮ এপ্রিল সেখানে গেলে একজন বালু বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সরকারি জমি ভরাট করে এখানে নতুন করে বালু ও ইটের ‘গদি’ ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
চাঁদাবাজির বিষয়ে শূন্য সহিষ্ণু নীতি (জিরো টলারেন্স) নেওয়া হয়েছে। দলের কোনো নেতা-কর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়ালে ছাড় দেওয়া হবে না।
আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
পুলিশের তালিকা বলছে, সরকারি জমিতে বসানো এসব বালুর গদি থেকে মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নেন যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সাজ্জাদুল মিরাজ। এ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
মিরপুর অঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজিতে জড়িত হিসেবে বিএনপি ও অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের অনেকের নাম আসা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক (যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী) আমিনুল হকের কাছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়ে শূন্য সহিষ্ণু নীতি (জিরো টলারেন্স) নেওয়া হয়েছে। দলের কোনো নেতা-কর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়ালে ছাড় দেওয়া হবে না।
‘সমাধান আছে’
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, যেসব ব্যবসা ও সেবায় বৈধতার প্রশ্ন রয়েছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেগুলো থেকে চাঁদা তুলছে চাঁদাবাজেরা। এসবের পাশাপাশি কোথাও কোথাও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করছে সন্ত্রাসীরা।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ফুটপাতে দোকান উচ্ছেদের পর আবার বসে। পুরোপুরি উচ্ছেদের ক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকার প্রশ্নও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে জরুরি হলো ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা। ফুটপাতের একটি অংশ দিয়ে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করে একাংশে দোকান বসানোর অনুমতি দিতে পারে সিটি করপোরেশন। অন্যদিকে বস্তিতে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বৈধভাবেই দেওয়া উচিত।
নগর-পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান প্রথম আলোকে বলেন, এসবের সমাধান আছে। তবে সমাধানে রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছা দেখা যায় না। চাঁদাবাজ রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও পুলিশের ‘নেক্সাস’ (অসাধু জোট) এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, সমাধান করলে টাকাটা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, চাঁদাবাজেরা নিতে পারে না।
আদিল মুহাম্মদ খান এ–ও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ কাজের বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই। সেগুলো শক্ত হাতে দমন করা দরকার।
তথ্য সূত্র: প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন ও রোবোটিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে কর্মসংস্থানের ধরন বদলে যাচ্ছে, আর বহু প্রচলিত পেশা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বে কোটি কোটি চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। বাংলাদেশও এ পরিবর্তনের বাইরে থাকছে না। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও অটোমেশনের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। তবে একই সময়ে নতুন কর্মক্ষেত্রও তৈরি হবে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে পুনরাবৃত্তিমূলক বা রুটিনভিত্তিক কাজগুলো। বিশ্বব্যাংকের ‘সাউথ এশিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রায় ৭ শতাংশ চাকরি সরাসরি এআইয়ের কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১৫ শতাংশ চাকরিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। ডব্লিউইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ক্যাশিয়ার, বাস, ট্রেন ও বিমানের টিকিট বিক্রেতা, ডাটা এন্ট্রি কর্মী, প্রশাসনিক সহকারী, নির্বাহী সচিব, ব্যাংকের কাউন্টার কর্মকর্তা এবং ডাক বিভাগের কর্মীদের মতো পেশা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিজিটালাইজেশন, জেনারেটিভ এআই এবং রোবোটিক অটোমেশন দ্রুত এসব কাজের জায়গা দখল করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চালকবিহীন যানবাহন প্রযুক্তির উন্নয়নও পরিবহন খাতের কিছু চাকরিকে ভবিষ্যতের ঝুঁকির তালিকায় যুক্ত করেছে। যদিও বাংলাদেশসহ অনেক দেশ এখনো এ প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু করেনি। গবেষণায় বলা হয়েছে, কেরানি ও অফিস সহকারী ধরনের চাকরিগুলো আগামী বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে। কারণ এসব কাজের বড় অংশই তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, নথি ব্যবস্থাপনা এবং নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণভিত্তিক। এ ধরনের কাজ এআই তুলনামূলক সহজেই সম্পন্ন করতে পারে। বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো এসব কাজ হাতে-কলমে করা হয়। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, একজন কর্মী যেখানে কয়েক ঘণ্টা সময় নিয়ে একটি কাজ সম্পন্ন করেন, সেখানে আধুনিক এআইভিত্তিক সফটওয়্যার একই কাজ অনেক কম সময়ে করতে সক্ষম। গণমাধ্যম খাতেও প্রযুক্তির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বর্তমানে এআই ব্যবহার করে দ্রুত সংবাদ সারাংশ তৈরি, অনুবাদ এবং তথ্য বিশ্লেষণের কাজ করা হচ্ছে। ফলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিনির্ভর সংবাদ, সাধারণ অনুবাদ বা নিয়মিত কনটেন্ট তৈরির কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, মাঠপর্যায়ের রিপোর্টিং এবং তথ্য যাচাইয়ের মতো দক্ষতাভিত্তিক কাজের চাহিদা বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনজি অ্যান্ড কোম্পানির ‘জেনারেটিভ এআই অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব ওয়ার্ক ইন আমেরিকা’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, জেনারেটিভ এআই অফিসভিত্তিক বহু চাকরির কাঠামো বদলে দেবে। বিশেষ করে গ্রাহকসেবা, অ্যাকাউন্টিং সহায়তা, বেতন প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সহায়তাসংক্রান্ত কাজ দ্রুত অটোমেটেড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ম্যাককিনজির গবেষণায় বলা হয়েছে, সব চাকরি হারিয়ে যাবে এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে কাজের ধরন বদলে যাবে। যেসব পেশায় মানবিক যোগাযোগ, সৃজনশীলতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে মানুষের চাহিদা বজায় থাকবে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যবস্থাপনা এবং সৃজনশীল খাতকে তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণাতেও একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। ‘দ্য ফিউচার অব অফিস অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সাপোর্ট অকুপেশনস ইন দ্য এরা অব এআই’ শীর্ষক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে ২০২৯ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ লাখ অফিস সহকারীর চাকরি কমে যেতে পারে। গবেষকরা জানিয়েছেন, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে ডকুমেন্টেশন, সময়সূচি নির্ধারণ, প্রতিবেদন তৈরি এবং গ্রাহক ব্যবস্থাপনার কাজে এআইভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু করেছে। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। ‘এআই ইমপ্যাক্ট অন লেবার ফোর্স অ্যান্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারস’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, এআই-সহায়ক কোডিং টুল এবং স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার তৈরির প্রযুক্তি সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে শুধু কোডিং দক্ষতা যথেষ্ট হবে না। জটিল সমস্যা সমাধান, সিস্টেম ডিজাইন, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি এবং মানবিক দক্ষতার গুরুত্ব আরও বাড়বে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং, কলসেন্টার, পোশাকশিল্প ব্যবস্থাপনা, গণমাধ্যম এবং সরকারি অফিসগুলোতেও ধীরে ধীরে অটোমেশন ও এআইভিত্তিক সফটওয়্যারের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে কম দক্ষতাভিত্তিক অফিস চাকরিগুলো ভবিষ্যতে চাপের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিবর্তনকে আতঙ্কের চোখে না দেখে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। ইতিহাস বলছে, প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব কিছু কর্মসংস্থান কমালেও নতুন ধরনের পেশা ও কাজের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে কর্মীদের খাপ খাইয়ে নেওয়া।
বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করল বেইজিং, সম্ভাব্যতা যাচাই দ্রুত শেষ করার আশ্বাস বাংলাদেশের তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপেরও সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বেইজিং। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ (টিআরসিএমআরপি) দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ নদীভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প। সম্প্রতি এই প্রকল্পে সমর্থন জানিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে চীন। গত শুক্রবার বেইজিংয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। পরে প্রশ্নোত্তরটি চীনের ইরান দূতাবাসের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়। গুয়ো জিয়াকুন বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারে চীন প্রস্তুত। তিস্তা নদী প্রকল্প আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, এই সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপেরও সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন প্রকল্প মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। বাংলাদেশ সরকার এ প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। চীনও তার সামর্থ্য অনুযায়ী এই প্রকল্পে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরকালে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। সফরে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গেও তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও করদাতাবান্ধব করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটের কয়েকটি বিষয়ে ভ্যাট কমানোর পাশাপাশি আয়কর অব্যাহতির সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ভ্যাট কমানোর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নরমালি দাবিটা বিরোধী দল থেকে হয়ে থাকে। আমি আপাতত ফিজিক্যালি না হলেও মানসিকভাবে ওনাদের পাশে গিয়ে কথা বলতে চাই।’ তিনি জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিগত আয়কর অব্যাহতির সীমা ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত করদাতাদের আরও স্বস্তি দিতে তিনি অর্থমন্ত্রীর কাছে এই সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ কর বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতির সীমা ৪ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ কর বছরের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য ৫ লাখ টাকা করা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগত করদাতাদের করের চাপ কিছুটা কমিয়ে স্বস্তি দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। প্রস্তাবিত বাজেটে স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন-সংক্রান্ত বিধান নিয়েও জনমনে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, দেশে অনেকেই জমি নিবন্ধনের সময় প্রকৃত মূল্যের পরিবর্তে মৌজা মূল্য দেখান। ফলে পরবর্তী সময়ে প্রকৃত ক্রয়মূল্য প্রমাণ করতে গিয়ে করদাতাদের নানা জটিলতায় পড়তে হয়। তিনি বলেন, করদাতাদের এই হয়রানি কমানোর উদ্দেশ্যেই বিধানটি প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউ কেউ এটিকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত ওই বিধান প্রত্যাহারের জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।