দুদকে অভিযোগ আইনজীবীর: আফতাব নগরেই সাব-রেজিস্টার মাইকেলের ২৯ ফ্ল্যাট
সাব রেজিস্টার বদলি করে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে যখন মাইকেল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তোরজোড় চলছে দুদকে, তখন সেই চক্রের মূলহোতা অভিযুক্ত খিলগাঁওয়ের সাব রেজিস্টার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর অবৈধ সম্পদের পাহাড়ের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তিনি অর্জন করেছেন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার আফতাব নগরেই রয়েছে মাইকেলের বিলাস বহুল ভবনে ২৯ টি ফ্ল্যাট। গুলশান-১ এর ৭ নং রোডের ৭ নং কোহিনুর টাওয়ারে তার বর্তমান আবাস্থল । এখানে ২ টি ফ্লোর নিয়ে ডুপ্লেক্স করে রাজকীয় জীবন তার।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ব্লক এ ২৭ নম্বর বাড়ি। গুলশান সার্কেল ১ প্লট ৩৭,৩৯,৪১ এবং ব্লক ই এর ৬ নম্বর রোডের ৩০১/এ ১০ কাঠার পুরো প্লটটি স্ত্রীর বড় ভাইয়ের নামে কেনা। গুলশান ১ এর ৭ নম্বর রোডের ৩ নম্বর শখিনা নামের বিলাশবহুল বাড়িটির তৃতীয় চতুর্থ তলায় ২৫০০ স্কয়ার ফিটের দুটি বিলাশবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে যার প্রতিটি ফ্ল্যাটের মুল্য কমপক্ষে ১৫ কোটি টাকা।
গুলশান-১ এর ৪ নম্বর সড়কের ৪বি, গুলশান-১ এর স্টার সেন্টারে বাণিজ্যক স্পেস, পূর্বাচল মডেল টাউনের মা মহল, সেক্টর ১১৩ এর, রোড ১০৬, প্লটি তার শ্যালকের নামে। গুলশান-১ এর ৩৩ নম্বর রোডের ৬ নম্বর হাউজে রয়েছে ১০ কোটি টাকা মূল্যের ২০০০ বর্গফুট এর ২টি ফ্ল্যাট।
৪০/২ নর্থ এভিনিউ গুলশানে তার ৩টি ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ চলমান। গ্রিন ভিউ এপার্টমেন্ট, এইচ#৩৯, রোড-২৪ লেক সার্কেল গুলশান-১ এ ২৫০০ বর্গ ফুটের একটি ফ্ল্যাট যার মূল্য প্রায় ১২ কোটিরও বেশি। তার স্ত্রী জান্নাত নীলার নামে রয়েছে প্লট ১৪৩, ব্লক এইচ এর পুরো প্লট যার নাম্বার ৬। নিকেতন এ/১৩৩, ব্লক এ, রোড-৩ ১৮০০ স্কয়ার ফিটের ১ টি ফ্ল্যাট , হাতিরঝিল এর কাছে ৪৮/এ তে রয়েছে ১৫৫০ স্কয়ার ফিট এর ফ্ল্যাট যা তার শ্যালকের নামে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাদেকপুর গ্রামে ইটের ভাটা, রুপগঞ্জ নারায়নগঞ্জের ইসাপুর বাজার আবাসিক প্রকল্পের জলসিড়ি আবাসন প্রকল্পে রয়েছে ব্লক ডিতে ৫ কাঠার দুটি, ব্লক এতে ১০ কাঠার একটি যা তার বোনের নামে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। বড় মগবাজারের ৭০৪/১ নম্বর বাড়িতে ফ্ল্যাট, পান্থপথের কাঠাল বাগানের ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ২৪/সিতে রয়েছে ২টি ফ্লোর প্রতিটি ফ্লোরে রয়েছে তিনটি করে ইউনিট, যেখানে একটি ফ্লোর রেখেছেন নিজের চিত্তবিনোদনের জন্য। বনশ্রীর জে ব্লকের ৩ নম্বর রোডের ১০ নম্বর বাড়ির বি ইউনিটে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন ভাতিজার নামে।
বনশ্রীর ব্লক বি এর হোসাইন মঞ্জিলের ৫ম তলায় বোনের স্বামীর নামে কেনা দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা যায়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার খাদিজা ভিলা নামের আবাসিক ভবনেও রয়েছে তার একটি ফ্ল্যাট নিশ্চিত হওয়া গেছে। মোহাম্মদপুর ব্লক ডিতে আজম রোডের ৮৮ নম্বর বাড়িতে ১৭০০ স্কয়ার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইল সদরের পশ্চিম আকোরটাকুর পাড়ার ব্লক এ তে ১৫ নম্বর প্লটে জায়গা কিনেছেন।
নিজ জেলার খাস নগর (পূর্ব পাড়া ) বাঞ্ছারামপুরে কৃষি জমি ১০০বিঘা। লাহিড়ী, রসুল্লাবাদও নবীনগরে রয়েছে ৩০ বিঘা কৃষি জমি, মাছের ঘের ও খামার।তার নিজ গ্রাম খাল্লাসহ বাড্ডা সলিমগঞ্জ, মাঝিয়ারার জীবন নগরে ২০ একর কৃষি জমিসহ মাছের ঘের ও খামার রয়েছে।
এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে ধানমণ্ডি , গুলশান, নিকুঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে তার কোটি কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট ও প্লট। আফতাব নগরে নিজের আলাদা বলয় থাকার কারণে বের করা যাচ্ছে না নির্দিষ্ট আরও ফ্ল্যাট এর হোল্ডিং নম্বর। তবে মাইকেলের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন জানান, এক আফতাব নগরেই তার রয়েছে ২৯টি ফ্ল্যাট, বেশিরভাগ ফ্ল্যাটর মূল্য প্রতি ৫ কোটি টাকার কাছাকাছি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আমলে নন ক্যাডার থেকে সরাসরি সাব-রেজিস্টার পদে নিয়োগ পাওয়া আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ দলকে ব্যবহার করে ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থের মালিক হন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সাব-রেজিস্টার বদলিতেই ঘুষ লেনদেন করে বেশ সমালোচনায় আসেন দেশজুড়ে।
এরপর বর্তমানে বিএনপির নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে ব্যাপক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বরে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার নিয়োগ দেয়া ২৮তম বিসিএসের নন ক্যাডার থেকে সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ পান । তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবে প্রথমবার দলীয় লোকদের নন ক্যাডারে সাব রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ বাগিয়ে নেন তিনি।শুধু নিজের নয়, চাকরির শর্ত পূরণ না করেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ ছাড়াই বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ পান ৯৫ জন।
যার মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন মাইকেলের আপন বোন আসমাউল হুসনা লিজা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে চিহ্নিত হওয়ার পরও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তরে বহাল রয়েছেন তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুরের খাল্লা গ্রামে তার বাড়ি। ঐ এলাকার এমপি ও তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম তাজের সঙ্গে পারিবারিক সখ্যতা থেকে বাগিয়ে নেন দুই ভাই বোনের চাকরি। শুধু চাকরি নয়, চাকরিতে যোগদানের পরে দুজনেই দেশের লোভনীয় পোষ্টিংও বাগিয়ে নেন।
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাথে হাত মিলিয়ে বদলি বাণিজ্যে সফলতা পেয়ে মাইকেল মহিউদ্দিন হয়ে যান সাব-রেজিস্ট্রার জগতের গডফাদার। বিভিন্ন সময়ে আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর সাথে শুরু করেন সাব-রেজিস্টারের বদলী বাণিজ্য। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সাবেক আইন মন্ত্রী আনিসুল হকের বাড়িও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হওয়ায় সহজেই গড়ে তোলেন বদলী বাণিজ্যের সাম্রাজ্য ।
এতে করে নিজের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে টাকার বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সাথে গড়ে তুলেন সখ্যতা । সর্বক্ষেত্রে তার অবৈধ অর্থ উপার্জনের শেল্টার দাতা ছিলেন আনিসুল হক। তিনি স্বেচ্ছায় আওয়ামী ধরনের সাব-রেজিস্টার হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।
নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উচ্চ পর্যায়ের এক দুই জন সাংবাদিকদের সঙ্গে করেন সখ্যতা। এতে সরকারের কোন পর্যায়ের লোকজন তার দিকে আঙ্গুল তুললেই সাংবাদিকদের মাধ্যমে হয়রানি শুরু করেন। সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে রাখেন বিভিন্ন সাব-রেজিস্টারদের। অবৈধ সম্পদের বিষয়ে জানতে মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ, এর আগে গত ১৩ এপ্রিল দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর প্রধান কার্যালয়ে রমজান- মাইকেল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকে অভিযোগ দিয়েছে রাফসান আল আলভী নামের সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। এরপর থেকে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সেখানে তিনি সাব- রেজিস্ট্রার বদলিতে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক চেয়ারম্যানের নিকট অনুরোধ জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreদীর্ঘদিন প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান। নিউইয়র্কে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় শেষে তিনি বলেছেন, ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তির’ সঙ্গে এবার আর খেলা নয়, প্রয়োজনে সরাসরি ‘যুদ্ধ’ হবে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় জনসম্মুখের বাইরে ছিলেন শামীম ওসমান। তবে গত জুলাইয়ে নিউইয়র্কে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাওয়ার খবর আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও তার নিউইয়র্কে অবস্থান ও রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নিউইয়র্কের কুইন্সের একটি রেস্তোরাঁয় যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ঠিকানা নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শামীম ওসমান দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়িত হবে। নেত্রী দেশে ফিরলে নেতাকর্মীরাও তার সঙ্গে ফিরবেন বলে জানান তিনি। শামীম ওসমান বলেন, শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নেন, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। নিজের দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নেত্রী ফিরলে অনুসারীরাও দেশে ফিরবেন। এরপর বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের বহুল আলোচিত ‘খেলা হবে’ স্লোগানকেও নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। তার ভাষায়, “খেলা হয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে।” বর্তমান পরিস্থিতিতে যাদের তিনি ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তি’ হিসেবে অভিহিত করছেন, তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক ‘খেলা’ নয়, ‘যুদ্ধ’ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপিকে পুরোপুরি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বলতে রাজি নন বলেও জানান শামীম ওসমান। দলটির মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বিএনপি বর্তমানে ভুল রাজনৈতিক পথে এগোচ্ছে। সাক্ষাৎকারে আরও গুরুতর একটি অভিযোগ করেন শামীম ওসমান। তার দাবি, নারায়ণগঞ্জের চারটি স্থানে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ চলছে এবং এর মধ্যে দুটি মহিলা মাদ্রাসাও রয়েছে। কারা সেখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এবং কী উদ্দেশ্যে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আঞ্চলিক শক্তিগুলো বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ভারতসহ উপমহাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ দাবিগুলোর পক্ষে সাক্ষাৎকারে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দেননি তিনি। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। এখন নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোট পাবে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এই দাবির পক্ষে সাম্প্রতিক কোনো নির্ভরযোগ্য জাতীয় জনমত জরিপের তথ্য তিনি উল্লেখ করেননি। শামীম ওসমানের এই প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে আবুল হাসান স্বজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় শেখ হাসিনা, শামীম ওসমানসহ কয়েক ডজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছিল। চলতি বছরের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও শামীম ওসমান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং অভিযোগ থাকা মানেই কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। একসময় ‘খেলা হবে’ স্লোগানের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনায় আসা শামীম ওসমান এবার সেই স্লোগান থেকেই সরে এসে ‘যুদ্ধের’ ভাষা ব্যবহার করলেন। নিউইয়র্ক থেকে দেওয়া তার বক্তব্য একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার বার্তা এবং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার কঠোর অবস্থানের প্রকাশ হিসেবেই সামনে এসেছে।
“বিএনপি মহাসচিব থেকে বাংলাদেশের মহাসচিব হয়ে যাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলামকে মিস করবো”—আমানউল্লাহ
মির্জা ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদে বেছে নিলেন তারেক রহমান
চাকরি হারালেন রাব্বানীর ভাই ও বিপ্লব কুমারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা
মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করেও আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার পথে বড় সাফল্য অর্জন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা অ্যাট ওমাহাতে ইতিহাস বিষয়ে ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করে বিশ্বের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পেয়েছেন মারুফ। নিজের একাডেমিক আগ্রহ, গবেষণার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা অ্যাট ওমাহাকে বেছে নেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মারুফের এই অর্জন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য। কারণ প্রচলিত ধারণার বিপরীতে মানবিক বিষয়ে পড়াশোনা করেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিস্তর সুযোগ রয়েছে। স্নাতক পর্যায়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে পড়াশোনার পর আরও বিস্তৃত পরিসরে ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করার লক্ষ্য থেকেই মাস্টার্সে বিষয়টি বেছে নিয়েছেন মারুফ। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে ভবিষ্যতে গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞানচর্চায় অবদান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। মারুফের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শুধু ভালো ফলাফল যথেষ্ট নয়। নিজের একাডেমিক আগ্রহ স্পষ্ট করা, গবেষণার সক্ষমতা তৈরি করা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা এবং শক্তিশালী আবেদনপত্র প্রস্তুত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পাওয়ার পর নিজের লক্ষ্য অনুযায়ী একটি বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা চাইলে সঠিক প্রস্তুতি, গবেষণামুখী মানসিকতা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পারেন। মারুফ হাসানের সাফল্য তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ।
বিদেশে পড়াশোনার খরচ আন্তর্জাতিক কার্ডে পরিশোধের সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রী যাবেন তাই রং করা হয়েছিল একপাশ, অন্য পাশ মলিন থাকায় সমালোচনা
‘আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি’ সৌদিতে আগুনে দুই ভাই নিহত
চিত্রনায়ক সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার (৯ আগস্ট) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সিআইডির একটি দল তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। আজই তাকে আদালতে তোলা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, বিমানবন্দর এলাকায় ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে সিআইডিকে খবর দেওয়া হলে তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে তাকে নিয়ে যান। প্রায় তিন দশক পর নতুন করে হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত শুরু হওয়া সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় ডনের গ্রেপ্তারকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় সালমান শাহকে। তার মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেন বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়ার আবেদন করেন তিনি। আদালতের নির্দেশে সিআইডি অপমৃত্যুর মামলা ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করে। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। তবে এতে সন্তুষ্ট না হয়ে সালমান শাহর বাবা রিভিশন মামলা করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা গ্রহণ ও তদন্তের নির্দেশ দেন। পরদিন ২১ অক্টোবর রমনা থানায় মামলাটি করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর দাবি করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় তাকে দেখতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের কিছু হয়েছে বলে জানান। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাসায় ফিরে তাকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, সেখানে কয়েকজন নারী সালমানের হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি ছিলেন। পরে সালমানকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার পরিবারের সদস্যরা গলায় দড়ির দাগ এবং মুখ ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মামলার বাদী আরও উল্লেখ করেন, সালমান শাহর বাবা মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা হিসেবে সন্দেহ করেছিলেন এবং ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে আবেদন করেছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর তার বোন নীলা চৌধুরীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন মোহাম্মদ আলমগীর। এদিকে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নতুন করে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তার মরদেহের দেহাবশেষ উত্তোলনের বিষয়টিও মামলার তদন্তে এসেছে। গত ২০ মে তদন্ত কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। পরে ২৪ মে আদালত মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন। তবে বাদীপক্ষ ওই আদেশ বাতিলের আবেদন করলে তা আদালতে নথিভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপিও আদালতে দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে। ডনের গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখন আদালতের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত মামলার কোনো আসামিকেই দোষী বলা যায় না।
বিএসএফের গুলিতে প্রাণ গেল বাংলাদেশি তরুণের
পঞ্চগড়ে বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ, ক্ষোভে ভারতীয়কে ধরে আনল গ্রামবাসী