সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
শিক্ষা

টিউশনের জমানো টাকায় বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি, এবার যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করবেন উচ্ছাস

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ৭:২৮
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী উচ্ছাস। ছবি:সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী উচ্ছাস। ছবি:সংগৃহীত

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও গবেষণাগারে সময় কাটাতেন। এরপর একের পর এক টিউশন করিয়ে রাতে ফিরতেন বাসায়। সেখানে অপেক্ষা করত ক্যানসারে আক্রান্ত বাবার সেবার দায়িত্ব। পরিবারের কঠিন সময়ের মধ্যেও থেমে থাকেনি উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন। টিউশনের আয় থেকে নিজের পড়াশোনা, আইইএলটিএস পরীক্ষা ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের খরচ চালিয়েছেন চট্টগ্রামের উচ্ছাস সিকদার। সেই অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে এবার যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন তিনি।

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী উচ্ছাস শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেবেন। মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ বছরের পূর্ণ বৃত্তিতে ‘হিউম্যান গাট মাইক্রোবায়োটা’ নিয়ে পিএইচডি গবেষণা করবেন তিনি।

 

মানুষের অন্ত্রে থাকা অণুজীব বা গাট মাইক্রোবায়োম নিয়ে তাঁর গবেষণার লক্ষ্য ব্যক্তিভেদে রোগের ঝুঁকি বোঝা এবং ভবিষ্যতে রোগীর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণে গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান তৈরি করা। ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও এই গবেষণার সম্ভাব্য গুরুত্ব রয়েছে।

 

উচ্ছাসের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে। তবে বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লা এলাকায়। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং চট্টগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি। দুই পরীক্ষাতেই গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগে ভর্তি হন।

 

স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুই পর্যায়েই তাঁর সিজিপিএ ৩ দশমিক ৯৬। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ থেকেই টিউশন করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতেন তিনি। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিভাগে ক্লাস ও গবেষণাগারে কাজ করার পর টিউশন করাতেন। কখনো টানা দুটি, আবার কখনো চারটি টিউশনও করতে হয়েছে তাঁকে।

 

বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির খরচও এসেছে সেই টিউশনের আয় থেকে। পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন কোনো মাসে তুলনামূলক কম থাকলে উপার্জনের কিছু অংশ জমিয়ে রাখতেন। সেই সঞ্চয় থেকেই আইইএলটিএস পরীক্ষা ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের খরচ মেটান। পিএইচডিতে ভর্তির জন্য পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল তাঁর।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই বিদেশে গবেষণার অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পান উচ্ছাস। ২০২৩ সালে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় ১৫ দিনের ইন্টার্নশিপে জাপানে যান তিনি। জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ফিজিওলজিক্যাল সায়েন্সেসে অসুস্থ প্রাণীর ওপর প্রাকৃতিক উপাদান ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার কাজ শেখেন।

 

তবে স্নাতকোত্তরে ওঠার পর তাঁর জীবনে শুরু হয় সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। ২০২৪ সালের শুরুতে বাবা কানু সিকদারের ক্যানসার শনাক্ত হয়। বড় দুই বোন বিবাহিত হওয়ায় মা কৃষ্ণা সিকদারই মূলত বাসায় বাবার দেখাশোনা করতেন। এমন পরিস্থিতিতে নিজের গবেষণা, থিসিস, বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি এবং পরিবারের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে হয় উচ্ছাসকে। বাবার চিকিৎসার জন্য একপর্যায়ে প্রায় এক মাস ভারতেও থাকতে হয়েছিল তাঁকে।

 

সেই সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে উচ্ছাস বলেন, ছাত্রজীবনে সব সময় চেষ্টা করেছেন নিজের খরচ নিজেই চালাতে, যাতে পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ না পড়ে। কিন্তু বাবার ক্যানসার ধরা পড়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়। দিনের বেশির ভাগ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে কাজ করে এরপর ট্রেনে শহরে এসে টিউশন করাতেন। রাত ৯টা বা ১০টার দিকে বাসায় ফিরে বাবার সেবাযত্ন করতেন। তখন তাঁর সামনে বড় প্রশ্ন ছিল ক্যারিয়ার গড়বেন, নাকি পরিবারের পাশে থাকবেন।

 

২০২৫ সালের অক্টোবরে মারা যান উচ্ছাসের বাবা। সে সময় তাঁর স্নাতকোত্তরের চূড়ান্ত পরীক্ষা চলছিল। বাবার মৃত্যুর পর তাঁর মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে একটি পরীক্ষা স্থগিত করেছিল বিভাগ।

 

উচ্ছাস বলেন, অনেক মানুষের সহযোগিতায় তিনি এত দূর আসতে পেরেছেন। শিক্ষক, বন্ধু ও জুনিয়ররা সব সময় পাশে ছিলেন। তাঁর ভাষায়, বাবার ক্যানসারের সময়কার দুই বছরই ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। সেই সময় পার করে আসার পর আর কোনো চ্যালেঞ্জকেই অসম্ভব মনে হয়নি।

 

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতিতেও নিজের সঞ্চয় কাজে লাগাচ্ছেন উচ্ছাস। বিমানভাড়া ও সেখানে প্রথম এক মাসের জীবনযাত্রার খরচ মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। এর একটি অংশ নিজের সঞ্চয় থেকে এবং বাকি অর্থ পরিবার থেকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি।

 

মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পর তাঁর আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৬৭৪ মার্কিন ডলার স্টাইপেন্ড পাবেন তিনি। পাশাপাশি প্রথম বছরের ২৯ হাজার ৫৬৬ মার্কিন ডলার টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে। পিএইচডি শেষে দেশে ফিরে নিজের গবেষণার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান উচ্ছাস।

 

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উচ্ছাসের পরামর্শ, প্রথমেই নিজের লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে এবং নিজের সক্ষমতা নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগা যাবে না। শুধু সিজিপিএ কম বলে সুযোগ পাওয়া যাবে না এমন ধারণা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। সঠিক প্রস্তুতি থাকলে প্রত্যেকেরই চেষ্টা করা উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজে আসলে কী চান, সে বিষয়ে পরিষ্কার থাকা।

 

উচ্ছাসের গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক আদনান মান্নান বলেন, প্রচণ্ড ব্যক্তিগত শোক, হতাশা ও অসহনীয় কাজের চাপের মধ্যেও উচ্ছাস যেভাবে নিজেকে ধরে রেখেছেন এবং প্রতিটি দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন, তা অনন্য। তিনি উচ্ছাসকে নিয়ে গর্বিত এবং বলেন, উচ্ছাস কখনো হার মানেননি কিংবা হতাশার কাছে আত্মসমর্পণ করেননি।

 

টিউশনের আয় দিয়ে নিজের পড়াশোনা চালানো থেকে শুরু করে বাবার দীর্ঘ চিকিৎসাকালীন দায়িত্ব সামলে বিদেশে পিএইচডির প্রস্তুতি নেওয়া, উচ্ছাসের পথটি ছিল একাধিক কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। এবার সেই দীর্ঘ প্রস্তুতির পর যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু হতে যাচ্ছে তাঁর।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

শিক্ষা

View more
কঠিন চাপে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বহু শিক্ষার্থী
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে সন্তান লালন-পালনের কঠিন চাপে পড়েছেন বহু শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সন্তান লালন-পালন করছেন—এমন নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে। সন্তানকে কোথায় রেখে ক্লাসে যাবেন, কে দেখাশোনা করবে, আর সেই খরচ কীভাবে বহন করবেন—এসব প্রশ্নের মুখে পড়েছেন অনেক শিক্ষার্থী মা-বাবা। তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় শিশু পরিচর্যা সহায়তা কর্মসূচিতে বড় ধরনের অর্থায়ন কমে যাওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের অধীন ‘চাইল্ড কেয়ার অ্যাকসেস মিনস প্যারেন্টস ইন স্কুল’ বা সিসিএএমপিআইএস কর্মসূচির মাধ্যমে স্বল্প আয়ের কলেজ শিক্ষার্থীদের সন্তানদের জন্য সাশ্রয়ী শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো, সন্তান লালন-পালনের দায়িত্বের পাশাপাশি যেন অভিভাবকেরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে এবং ডিগ্রি অর্জন করতে পারেন।   দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ৬ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের অনুদান বণ্টনে বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রায় ৩০০টি কলেজ আবেদন করলেও চার বছর মেয়াদি অনুদান পেয়েছে মাত্র ৪০টি প্রতিষ্ঠান। অথচ ২০২১ সালের অনুদান প্রতিযোগিতায় ৩২৭টি কলেজ অর্থায়ন পেয়েছিল। এবার ১৪৮টি কলেজ অর্থায়নের পরিকল্পনার কথা জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত সহায়তা পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক কমেছে।   এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু কলেজের বাজেটে সীমাবদ্ধ নয়; সরাসরি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে পড়ছে। যেসব অভিভাবক সন্তানকে ক্যাম্পাসের শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে ক্লাস করতেন, তাঁদের অনেককে এখন বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে হচ্ছে। কারও পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে শিশু পরিচর্যার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ক্লাস, পরীক্ষাগার কিংবা প্রয়োজনীয় শিক্ষাকার্যক্রমে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।   প্রতিবেদনে অস্টিন কমিউনিটি কলেজের নার্সিং শিক্ষার্থী লারিসা সুচিলোর অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মেয়ের সন্ধ্যাকালীন শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি প্রয়োজনীয় ল্যাব ক্লাসে অংশ নিতে পারেননি। নার্সিংয়ের মতো ব্যবহারিক প্রশিক্ষণনির্ভর বিষয়ে এমন ক্লাস বাদ পড়লে পড়াশোনার অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে। তাঁর মতো শিক্ষার্থীদের কাছে শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা শুধু সুবিধা নয়, শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার অন্যতম শর্ত।   উইসকনসিনের ম্যাডিসন এরিয়া টেকনিক্যাল কলেজেও শিশু পরিচর্যার সুযোগ সীমিত হওয়ার প্রভাব পড়েছে। কিছু পরিবার সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবার ব্যবস্থা পিছিয়ে দিয়েছে। আবার কেউ কেউ সন্তান দেখাশোনার জন্য কাজ ও পড়াশোনার সময় কমাতে বাধ্য হয়েছেন। এতে তাঁদের আয়, শিক্ষার অগ্রগতি এবং পারিবারিক জীবন—সবকিছুর ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রে অনেক শিক্ষার্থী মা-বাবা পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করেন। বিশেষ করে একক অভিভাবক, নিম্ন আয়ের পরিবার এবং অভিবাসী পরিবারের জন্য শিশু পরিচর্যার ব্যয় বড় চ্যালেঞ্জ। সন্তানকে দেখাশোনার জন্য নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা না থাকলে নিয়মিত ক্লাস করা, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কিংবা নির্ধারিত সময়ে ডিগ্রি শেষ করা কঠিন হয়ে যায়।   বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশি মা-বাবা সংসার ও চাকরির দায়িত্ব সামলে কলেজে পড়ছেন। তাঁদের কেউ নার্সিং, কেউ স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা কিংবা প্রযুক্তিবিষয়ক শিক্ষায় যুক্ত। শিশু পরিচর্যার খরচ বেড়ে গেলে তাঁদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।   এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ কলেজের আর্থিক সহায়তা বিভাগে যোগাযোগ করে ক্যাম্পাস ডে-কেয়ার, শিশু পরিচর্যা অনুদান, স্থানীয় ভর্তুকি এবং বিকল্প সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে হবে, কেন্দ্রীয় অনুদান কমে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে কোনো বিকল্প সেবা চালু রাখতে পারছে কি না।   উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে কোনো অভিভাবক যেন শুধু সন্তান দেখাশোনার ব্যবস্থা না থাকার কারণে পড়াশোনা ছাড়তে বাধ্য না হন—এটাই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ একজন শিক্ষার্থীর ডিগ্রি অর্জন শুধু তাঁর নিজের ভবিষ্যৎ নয়, পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা ও পরবর্তী প্রজন্মের সুযোগ তৈরির সঙ্গেও জড়িত।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৬:৪০
নতুন এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর বুলিংয়ের চিত্র উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত শিক্ষক বুলিংয়ের শিকার, নম্বর বাড়াতেও চাপে শিক্ষকরা

ইউরোপে ফ্রি মাস্টার্সের সুযোগ নিয়ে ইরাসমাস মুন্ডুস স্কলারশিপের আবেদন শুরু। ছবি: সংগৃহীত

ইরাসমাস মুন্ডুসে ২০২৭ সালের স্কলারশিপ আবেদন শুরু, মাসে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ভাতা

গবেষণার অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিদেশের স্কলারশিপে আবেদনের সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

রিসার্চ অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিদেশে মাস্টার্সের সুযোগ, জেনে নিন পাঁচটি আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের বিস্তারিত

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন ফিলিস্তিনি তরুণী হায়া জাবের
গাজা থেকে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজে ফিলিস্তিনি তরুণী হায়ার স্বপ্নযাত্রা

যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজা থেকে যুক্তরাজ্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন ফিলিস্তিনি তরুণী হায়া জাবের। যুক্তরাজ্য সরকারের সম্মানজনক চেভেনিং স্কলারশিপের আওতায় তিনি পাবলিক হেলথ বিষয়ে মাস্টার্স করছেন। তাঁর লক্ষ্য, উচ্চশিক্ষায় অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।   চেভেনিং স্কলারশিপ কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হায়া জাবেরের এই শিক্ষাযাত্রার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে জানানো হয়, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ অতিক্রম করেছেন তিনি। তাঁর উচ্চশিক্ষার এই সুযোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে বিসেইসু ফাউন্ডেশন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে হায়া জাবের বলেন, গাজা থেকে আসা একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এই যাত্রা তাঁর কাছে শুধু একটি একাডেমিক ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়। এটি ব্রিটিশ সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানার, দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলার এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করার একটি সুযোগ।   হায়ার উচ্চশিক্ষার বিষয় পাবলিক হেলথ বা জনস্বাস্থ্য। এই বিষয়ে রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনা এবং জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। অর্জিত দক্ষতা ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য খাতে কাজে লাগানোর আশা করছেন তিনি। দীর্ঘদিনের সংঘাত এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ব্যাপক সংকটের মুখে পড়েছে। হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রের কার্যক্রম, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।   চেভেনিং স্কলারশিপ যুক্তরাজ্য সরকারের একটি আন্তর্জাতিক বৃত্তি কর্মসূচি। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও এই কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্যদিকে বিসেইসু ফাউন্ডেশন চেভেনিংয়ের অংশীদার হিসেবে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সহযোগিতা করে। হায়া জাবেরের শিক্ষাযাত্রাও এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে সহায়তা পাচ্ছে।   চেভেনিং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পেরে তারা গর্বিত। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।   গাজা থেকে লন্ডনের একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানো হায়া জাবেরের জন্য তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়। তাঁর এই শিক্ষাযাত্রার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভবিষ্যতে নিজ দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।     

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ২:৪৮
বিদেশে মাস্টার্সে ভর্তির আগে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ে ১৫ বিষয় জানা জরুরি,

বিদেশে মাস্টার্সে ভর্তির আগে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ে ১৫ বিষয় জানা জরুরি, জানুন বিস্তারিত

অনিশ্চয়তায় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

নিউইয়র্কে দুটি স্কুল বন্ধের পরিকল্পনা, অনিশ্চয়তায় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ পেতে বিদেশি প্রফেসর খুঁজবেন রিসার্চ প্ল্যাটফর্মে

উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ পেতে বিদেশি প্রফেসর খুঁজবেন রিসার্চ প্ল্যাটফর্মে, জেনে নিন বিস্তারিত

ইউরোপের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ টিউশন ফি ছাড়া উচ্চশিক্ষার সুযোগ মিলছে। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ! মাসে ১ লক্ষ টাকার বেশি ভাতা

ইউরোপের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ টিউশন ফি ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা। ইরাসমাস মুন্ডাসের অর্থায়নে পরিচালিত ইউরোপিয়ান মাস্টার্স ইন সাসটেইনেবল সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইএমএসএসই) প্রোগ্রামে ২০২৭ থেকে ২০২৯ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী ১৫ নভেম্বর। নির্বাচিত বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা দুই বছর প্রতি মাসে ১ হাজার ৪০০ ইউরো করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।   টাইমস টুডের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আন্তর্জাতিক স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি ছাড়াও স্বাস্থ্যবিমা এবং প্রোগ্রামসংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের সুবিধা রয়েছে।   দুই বছর মেয়াদি এই প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীরা ইউরোপের একাধিক দেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও আলবেনিয়ার চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে পরিচালিত এই প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য টেকসই প্রকৌশলব্যবস্থা, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে দক্ষ জনবল তৈরি করা।   বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ২৪ মাসে মোট ৩৩ হাজার ৬০০ ইউরো পাবেন। অর্থাৎ প্রতি মাসে ১ হাজার ৪০০ ইউরো হিসেবে এই অর্থ দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কোনো টিউশন ফি দিতে হবে না। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা এবং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।   এই প্রোগ্রামে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স এবং বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, কেমিক্যাল ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিকসে স্নাতক ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করার সুযোগ পাবেন।   আবেদনের যোগ্যতা আবেদনকারীদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম ১৮০ ইসিটিএস ক্রেডিটের সমমানের স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। সাধারণভাবে এটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অন্তত তিন বছরের পড়াশোনার সমতুল্য।   এ ছাড়া ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। এ জন্য নির্ধারিত ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার সনদ জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রোগ্রামের নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত ক্ষেত্রে ভাষাগত যোগ্যতার ছাড়ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।   যেসব বিষয়ে পড়ার সুযোগ ইএমএসএসই প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি বিশেষায়ন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতালির ইউনিভার্সিটি অব জেনোয়ায় সিস্টেমস অব সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ানো হবে। এখানে বিভিন্ন প্রকৌশলব্যবস্থার পদ্ধতি, কাঠামো এবং ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হবে।   ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অব কম্পিয়েনে অ্যাডভান্সড অপটিমাইজেশন স্ট্র্যাটেজিস ফর সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। এই বিশেষায়নে বিভিন্ন সিস্টেমের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, পূর্বাভাস তৈরি এবং উন্নত অপটিমাইজেশন কৌশলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।   এ ছাড়া স্পেনের পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি অব কাতালোনিয়ায় অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং সিস্টেমস বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল প্রযুক্তি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন।   আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আবেদন করতে শিক্ষার্থীদের বৈধ পাসপোর্টের কপি, স্নাতক ডিগ্রির মূল সনদ অথবা গ্রহণযোগ্য সাময়িক সনদ, ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষার সনদ অথবা অনুমোদিত ছাড়ের প্রমাণ প্রস্তুত রাখতে হবে।   পাশাপাশি হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত, সর্বোচ্চ ৫০০ শব্দের মোটিভেশন লেটার অথবা সর্বোচ্চ ৬০ সেকেন্ডের পরিচিতিমূলক ভিডিও এবং সুপারিশপত্র প্রয়োজন হবে।   আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষায়ন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   আবেদনের সময়সূচি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০২৯ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন শুরু হবে ১৫ নভেম্বর ২০২৬। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৭।   আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে ভর্তির শর্ত, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষা দক্ষতার নিয়ম এবং বৃত্তির বিস্তারিত তথ্য যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করার পর নির্ধারিত অনলাইন আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন জমা দেওয়া যাবে।   ইউরোপে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিবেশে প্রকৌশল বিষয়ে বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে পারে এই প্রোগ্রাম। বিশেষ করে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় উচ্চশিক্ষার সুযোগ।

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ৫:৪৭
২০১৪ সালে দেশের তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হন সামিন ইরতিজা নূর। ছবি: সংগৃহীত

তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হওয়া বুয়েটের সামিন থেকে গেলেন দেশে, বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতের প্রকৌশলী

যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্স ও সোস্যাল সায়েন্সে পিএইচডি!আবেদন ও ফান্ডিং পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্স ও সোস্যাল সায়েন্সে পিএইচডি! আবেদন ও ফান্ডিং পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

স্নাতকে সিজিপিএ তুলনামূলক কম হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সিজিপিএ কম হলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, ১৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ

0 Comments