আন্তর্জাতিক

বিদ্যুৎ ও গ্যাস নেই, গরমে ঘুমহীন রাত কাটাচ্ছেন চরম সংকটে পড়া কিউবানরা

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২২:৪৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধের কারণে তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়ে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কিউবা। চার মাস ধরে চলা এই অবরোধের ফলে দেশটির বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। রাজধানী হাভানার বাসিন্দারা টানা কয়েক দিন ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং সেই সাথে মশার উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়েছে।

 

রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা দৈনিক মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। মাসের পর মাস ধরে পেট্রোল পাম্পগুলো খালি পড়ে আছে। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় এখন কাঠ ও কয়লাই রান্নার একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তীব্র মুদ্রাস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের পেনশনের টাকা দিয়ে এক বোতল গ্যাস কেনাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এদিকে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি এবং বাতাসে আর্দ্রতা ৭৫ শতাংশ হওয়ায় ফ্যান ছাড়া সাধারণ মানুষের পক্ষে রাতে ঘুমানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়া সাধারণ মানুষ থালা-বাসন বাজিয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন।

 

এই চরম সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিউবার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এবং তাঁর পরিবারসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় দেশটির পর্যটন খাত বড় ধাক্কা খেয়েছে। বড় বড় আন্তর্জাতিক হোটেল চেইনগুলো কিউবা থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া কিউবার ব্যাংকগুলো জানিয়েছে যে দেশে এখন থেকে ভিসা এবং মাস্টারকার্ড আর কাজ করবে না।

 

সব মিলিয়ে কিউবার সরকার ও জনগণের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। একদিকে খরা ও তীব্র গরমের পূর্বাভাস, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অনড় অবস্থান ও সামরিক নজরদারির কারণে কিউবার ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
ভারী বৃষ্টি দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শুরু হলো বহুল কাঙ্ক্ষিত বর্ষাকাল

এশিয়ার বিভিন্ন অংশে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে, যা এই অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। মূলত এশিয়ার স্থলভাগ ও ভারত মহাসাগরের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে প্রতি বছর এই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়। বসন্তকালে সাগরের তুলনায় স্থলভাগ দ্রুত উত্তপ্ত হওয়ায় একটি বায়ুচাপের সৃষ্টি হয়, যা জলীয় বাষ্পপূর্ণ সামুদ্রিক বাতাসকে ভেতরের দিকে টেনে আনে। এই আর্দ্র বাতাস ওপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয় এবং তীব্র বৃষ্টিপাত ঘটায়।   গত ৪ জুন ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের রাজ্য কেরালায় আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে মাত্র তিন দিন পিছিয়ে শুরু হওয়া এই মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ ইতিমধ্যেই কর্নাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কেরালার উপকূলীয় স্টেশনগুলোতে ৪ থেকে ৭ জুনের মধ্যে মাত্র ৭২ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৮০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এই অঞ্চলে আরও ২০০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।   ভারতে ধান ও তুলার মতো বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল ফসলের চাষাবাদের জন্য এই বর্ষার আগমনী বার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকরা এই সময়ের ওপর ভিত্তি করেই যত দ্রুত সম্ভব বীজ বপন শুরু করেন, যাতে দীর্ঘ খরা পরিস্থিতির ঝুঁকি এড়ানো যায়। অন্যদিকে, ভারতের আরও পূর্বে থাইল্যান্ডে গত ১৫ মে থেকেই এবারের বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইতিমধ্যে ১ হাজার মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আন্দামান সাগরে ২ থেকে ৩ মিটার উঁচু ঢেউয়ের আশঙ্কায় ছোট নৌকাগুলোকে উপকূলে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   শুরুর দিকে বৃষ্টির এই তীব্রতা থাকলেও আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে এই মৌসুমি প্রভাবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম হতে পারে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি ও শক্তিশালী হওয়ার কারণে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদি গড়ের প্রায় ৯০ শতাংশ হতে পারে। শরৎকালে স্থলভাগ ঠান্ডা হয়ে এলে এই বায়ুপ্রবাহ ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ০:৯
জেনেভায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে ফুলের সংবর্ধনা তুলে দেন ফ্রান্স বিএনপির নেতারা।  ছবি: সংগৃহীত

জেনেভায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর কাছে ফ্রান্স বিএনপির স্মারকলিপি

ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ ও গ্যাস নেই, গরমে ঘুমহীন রাত কাটাচ্ছেন চরম সংকটে পড়া কিউবানরা

ছবি: সংগৃহীত

সম্পর্ক আরও বাড়াতে উত্তর কোরিয়া গেলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

ছবি: সংগৃহীত
বিলুপ্তপ্রায় মাছ বাঁচাতে জেলেদের শামুক চাষের পরামর্শ ঘানার বিজ্ঞানীর

হাঙরের মতো লেজ আর শাপলাপাতা মাছের মতো চ্যাপ্টা আকৃতির প্রাচীন ও বিলুপ্তপ্রায় সামুদ্রিক মাছ 'গিটারফিশ' রক্ষায় ঘানায় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন এক সামুদ্রিক বিজ্ঞানী। এই মাছের পাখনা বা ফিনের চড়া দামের কারণে বিশ্বজুড়ে এটি এখন বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। ঘানার দীর্ঘ সমুদ্র উপকূলে এই মাছের শিকার পুরোপুরি বন্ধ করতে স্থানীয় জেলেদের জাল ও সমুদ্র ছেড়ে লাভজনক আফ্রিকান জায়ান্ট ল্যান্ড শামুক চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন বিজ্ঞানী ইসা সেইদু।   আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় অর্ধেকের বেশি গিটারফিশ প্রজাতিকে চরম বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘানার কোয়ামে এনক্রুমাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রাণী বিভাগের শিক্ষক ড. ইসা সেইদু ২০১৯ সালে 'অ্যাকুয়ালাইফ কনজারভেন্সি' নামের একটি জীববৈচিত্র্য সংস্থা গঠন করেন। তিনি গবেষণায় দেখেন, শিল্পায়িত মৎস্য জাহাজের দাপটে সাগরে সাধারণ মাছ কমে যাওয়ায় জেলেরা ক্ষতিকর গিল নেট বা ফাঁদ জাল ব্যবহার শুরু করেন, যাতে এই বিপন্ন গিটারফিশগুলো ধরা পড়ছে।   ইসা সেইদু জেলেদের বিকল্প আয়ের সন্ধান করতে গিয়ে দেখেন, ঘানায় প্রোটিনের উৎস হিসেবে বড় স্থলজ শামুকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তিনি জানান, একজন সাধারণ জেলে যেখানে মাছ ধরে মাসে মাত্র ৭৫০ থেকে ১ হাজার ঘানায়ান সেডি আয় করেন, সেখানে শামুক চাষ করে মাসে প্রায় ১০ হাজার সেডি পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। এই চাষে পুঁজি অনেক কম লাগে এবং বছরে দুবার ফলন পাওয়া যায়।   শুরুতে জেলেদের কাছ থেকে বাধা ও বৈরিতার সম্মুখীন হলেও ইসা সেইদু প্রায় ২০০ জন জেলেকে গিটারফিশ শিকার বন্ধ বা কমিয়ে দিতে রাজি করিয়েছেন। এর মধ্যে ৪৩ জন জেলেকে তিনি ইতিমধ্যে শামুক চাষে নিযুক্ত করতে পেরেছেন। এই অসাধারণ অবদানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে আইইউসিএন-এর হাঙর বিশেষজ্ঞ দলের আফ্রিকা অঞ্চলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এবং গত মাসে যুক্তরাজ্যে মর্যাদাপূর্ণ 'হুইটলি অ্যাওয়ার্ড' লাভ করেছেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২১:৫২
ছবি: সংগৃহীত

শহরে নজিরবিহীন ভাল্লুক আতঙ্ক, জাপানে প্রায় ১০০ স্কুল বন্ধ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

২০৫০ সালের মধ্যে পরিবেশদূষণ শূন্যে নামানো অসম্ভব, জানাল বিমান সংস্থাগুলো

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী তুমুল ক্ষোভ, আতঙ্কে দিন কাটছে প্রবাসীদের

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার বলয় থেকে বের হয়ে ইউরোপের দিকে ঝুঁকছে আর্মেনিয়া

আর্মেনিয়ার সংসদীয় নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন ইউরোপপন্থী দল। এর মাধ্যমে ঐতিহ্যগত মিত্র রাশিয়ার বলয় থেকে বের হয়ে ইউরোপের দিকে দেশটির চূড়ান্তভাবে ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলো। বুথফেরত ও চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের 'সিভিল কন্ট্রাক্ট' পার্টি অল্প ব্যবধানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, রুশ-আর্মেনীয় বিলিয়নেয়ার সামভেল কারাপেতিয়ানের নেতৃত্বাধীন 'স্ট্রং আর্মেনিয়া' জোট ২৫ শতাংশ আসন পেয়েছে।   এই বিজয়ের ফলে প্রধানমন্ত্রী পাশিনিয়ান এখন আরও শক্তিশালী অবস্থানে থেকে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে আজারবাইজানের সাথে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর এবং তুরস্কের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। ২০১৮ সালের 'ভেলভেট রেভল্যুশন'-এর মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সাবেক সাংবাদিক পাশিনিয়ান দাবি করেন, প্রতিবেশীদের সাথে শত্রুতার অবসান ঘটলে আর্মেনিয়ার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে এবং রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমবে।   পাশিনিয়ানের এই জয়কে ব্রাসেলস স্বাগত জানালেও মস্কো বেশ অসন্তোষের সাথে দেখছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন এই বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়ে একে 'গণতান্ত্রিক আর্মেনিয়ার' প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পাশিনিয়ানকে সমর্থন জানিয়ে তাঁকে একজন 'মহান বন্ধু ও নেতা' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে ২০২৩ সালে আজারবাইজানের কাছে নাগর্নো-কারাবাখ হারানোর পর এটিই ছিল দেশটিতে প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যা নিয়ে বিরোধী দলগুলো পাশিনিয়ানকে তুলোধুনো করার চেষ্টা করেছিল।   এই নির্বাচনের আগে থেকেই রাশিয়ার সাথে আর্মেনিয়ার সম্পর্কের ব্যাপক টানাপোড়েন তৈরি হয়। নাগর্নো-কারাবাখ সংকটে রুশ শান্তিরক্ষীরা এগিয়ে না আসায় আর্মেনিয়ার জনগণ রাশিয়ার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়। এর জবাবে পাশিনিয়ান রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সিএসটিও থেকে আর্মেনিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সতর্ক করেছিলেন যে আর্মেনিয়া ইউক্রেনের পথেই হাঁটছে। নির্বাচনের আগে রাশিয়া আর্মেনিয়ার ওপর বেশ কিছু বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছিল।   তবে নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা ও বিরোধী দলীয় নেতাদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ এনে পাশিনিয়ানের বিরুদ্ধে কিছুটা স্বৈরাচারী আচরণেরও সমালোচনা রয়েছে। যদিও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশটির সাধারণ ভোটাররা রাশিয়ারপন্থী দলগুলোর চেয়ে পাশিনিয়ানকেই কম ক্ষতিকর বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে ইতিমধ্যে আর্মেনিয়াকে ৫০ মিলিয়ন ইউরোর একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২১:২০
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর গাজার সব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করল ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় নিহত ৫, চেরনোবিল পারমাণবিক স্থাপনাতেও হামলার দাবি

ছবি: ডেইলি স্টার

অস্ত্র ঠেকিয়ে নারী ও শিশুদের বাংলাদেশে পুশ ইন করছে ভারতের বিএসএফ

0 Comments