৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর আবুধাবি সিআইডির হেফাজতে মিলল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রুর খোঁজ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গত পাঁচ দিন ধরে ‘নিখোঁজ’ থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কেবিন ক্রু বর্তমানে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হেফাজতে রয়েছেন। মীর্জা আদনান নামের ওই কেবিন ক্রুকে ঠিক কী অভিযোগে বা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি আমিরাত কর্তৃপক্ষ।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও শারজাহ স্টেশনের সূত্রমতে, গত ২২ জুলাই বিজি-১৫১ ফ্লাইট নিয়ে শারজাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান মীর্জা আদনান। এরপর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে আটক করে। পরবর্তীতে অধিকতর তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শারজাহ থেকে তাকে আবুধাবি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং বর্তমানে তিনি সেখানেই বন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে সোমবার বিমানের জনসংযোগ শাখার ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, "ওই কেবিন ক্রু একটি ফ্লাইট পরিচালনা করতে সেখানে গিয়েছিলেন এবং ইমিগ্রেশন তাকে আটক করেছে।" আটকের কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, "ইমিগ্রেশন সাধারণত এ ধরনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করে না। তারা নিজস্ব তদন্ত শেষে তাকে হয়তো ছেড়ে দেবে, নয়তো কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।" তবে এ ঘটনায় বিমান কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। অন্যদিকে, বিমানের ফ্লাইট অপারেশনস পরিচালক ক্যাপ্টেন এ কে এম আমিনুল ইসলাম জানান, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
বিমানের শারজাহ স্টেশনের ব্যবস্থাপক জাকির হোসাইন বলেন, "আমি জানতে পেরেছি যে শারজাহ সিআইডি তাকে আটক করে আবুধাবি শাখার কাছে হস্তান্তর করেছে। পরবর্তীতে আবুধাবি পুলিশ বিমানের আবুধাবি স্টেশন ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথেও যোগাযোগ করেছে এবং দূতাবাস পুরো বিষয়টি অবগত রয়েছে।"
বিমানের আবুধাবি স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. আনোয়ার উল ফিরদাউস জানিয়েছেন, বিমানের কর্মকর্তারা শারজাহ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সিআইডি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলেও আটকের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ তারা জানাননি। তারা শুধু বলেছেন, সময় হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। বর্তমানে আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস পুরো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যদি একদিন গণিতের সব সমস্যার সমাধান করে ফেলে, তাহলে তিনি গণিতের কাজ ছেড়ে রোমান্টিক উপন্যাস লিখবেন। এমন রসিকতা করেছেন ২০২৬ সালের ফিল্ডস মেডালজয়ী ৩৭ বছর বয়সী চীনা গণিতবিদ দেং ইউ। এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে গণিতবিদদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেং লেখেন, এআই যদি গণিতের সব সমস্যার সমাধান করে ফেলে, তাহলে তিনি বাড়ি গিয়ে তার ‘ইউরি’ উপন্যাস লিখবেন। ইউরি জাপানি উপন্যাস ও কমিকসের একটি বিশেষ ধারা, যেখানে নারীদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গল্প তৈরি হয়। দেং এই ধারার ভক্ত হিসেবে পরিচিত। দেংয়ের ওই পোস্ট পরে চীনের আরেকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি লেখেন, এআইয়ের অগ্রগতি গণিতবিদদের মধ্যে একধরনের অস্থিরতা ও অধৈর্যের পরিবেশ তৈরি করেছে। তবে তার মতে, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এই পরিবর্তনের ধাক্কা কিছুটা কেটে গেলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে। দেং আরও বলেন, গণিত ধীরে ধীরে এআইয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেবে এবং এ প্রযুক্তিকে ঘিরে নতুন একটি গবেষণা পরিবেশও তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ এআইয়ের অগ্রগতিকে তিনি শুধু হুমকি হিসেবে দেখছেন না, বরং গণিতের কাজের ধরন পরিবর্তনের একটি অংশ হিসেবেও দেখছেন। তবে বুধবার সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে দেং স্পষ্ট করে বলেন, তিনি বর্তমানে কোনো ইউরি উপন্যাস লিখছেন না। এআই সব গণিতের সমস্যা সমাধান করে ফেললে উপন্যাস লেখার কথা বলা ছিল পুরোপুরি রসিকতা। তিনি আরও বলেন, এআই এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে তিনি মনে করেন না যে এটি গণিতের সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে। দেংয়ের এই মন্তব্যের পেছনে সাম্প্রতিক সময়ে গণিতে এআইয়ের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও রয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর ওপেনএআই জানায়, তাদের একটি অভ্যন্তরীণ এআই ব্যবস্থা নেভিয়ার-স্টোকস সমস্যা নিয়ে একটি সমাধান তৈরি করেছে। এটি গণিতের সাতটি মিলেনিয়াম পুরস্কার সমস্যার একটি এবং প্রায় ৯০ বছর ধরে অমীমাংসিত ছিল। ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই কাজের জন্য তাদের অভ্যন্তরীণ মডেলকে সমন্বয় করতে প্রায় ১০ হাজার এআই এজেন্ট ব্যবহার করা হয়। তারা প্রায় ৮৮ ঘণ্টা কাজ করে সমাধান তৈরি করে। পরে সেটির আনুষ্ঠানিক যাচাইও করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই ফলাফলের জন্য তারা মিলেনিয়াম পুরস্কারের অর্থ দাবি করবে না। নেভিয়ার-স্টোকস সমস্যা মূলত তরল পদার্থের প্রবাহ কীভাবে কাজ করে, তা বর্ণনা করা সমীকরণগুলোর আচরণ নিয়ে। সমস্যাটির সমাধান হলে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের একটি দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। তবে ওপেনএআইয়ের দাবি প্রকাশের পরও গণিতবিদদের মধ্যে এর ফলাফল ও প্রমাণ নিয়ে আরও যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লে ম্যাথমেটিক্স ইনস্টিটিউট গণিতের সাতটি বড় অমীমাংসিত প্রশ্নকে ‘মিলেনিয়াম পুরস্কার সমস্যা’ হিসেবে ঘোষণা করে। প্রতিটি সমস্যার সমাধানের জন্য ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে পয়েনকেয়ার কনজেকচার সমাধান করেছিলেন রুশ গণিতবিদ গ্রিগরি পেরেলমান। তবে তিনি ওই অর্থ এবং ফিল্ডস মেডাল গ্রহণ করেননি। নেভিয়ার-স্টোকস সমস্যা নিয়ে ওপেনএআইয়ের অগ্রগতিকে ঘিরে অবশ্য বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক ট্রিস্টান বাকমাস্টার এবং অ্যানথ্রোপিকের গবেষক লেভেন্ট আলপোগে একই ক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করছিলেন। ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের কাজ শুরু করার আগে ওই দুই গবেষকের অগ্রগতি নিয়ে একটি গুঞ্জন তারা শুনেছিল। ওপেনএআই বলেছে, তাদের গবেষক বা এআই এজেন্টরা প্রকাশ্যে আসার আগে বাকমাস্টার ও আলপোগের কাজ দেখেনি। প্রতিষ্ঠানটির তদন্তেও বলা হয়েছে, বাকমাস্টারের আগের কোডেক্স ব্যবহারের তথ্য তাদের অভ্যন্তরীণ মডেলকে প্রভাবিত করতে পারেনি। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে গবেষণার স্বীকৃতি, তথ্যের ব্যবহার এবং এআইয়ের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গণিতে এআইয়ের এই দ্রুত অগ্রগতি তাই গবেষকদের সামনে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি নতুন প্রশ্নও তুলেছে। জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধানে এআই যত বেশি সক্ষম হচ্ছে, ততই মানুষের গবেষণার ভূমিকা কীভাবে বদলাবে, তা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। দেং ইউয়ের রসিক মন্তব্যও সেই পরিবর্তন নিয়ে গণিতবিদদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও কৌতূহলেরই একটি মজার প্রকাশ। তবে আপাতত গণিত ছেড়ে উপন্যাস লেখার কোনো পরিকল্পনা নেই দেংয়ের। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, এআই সব গণিতের সমস্যা সমাধান করে ফেলবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। তাই তার ‘ইউরি’ উপন্যাস লেখার পরিকল্পনাটিও আপাতত গণিতজগতের চাপ ও এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে করা একটি রসিকতা হিসেবেই থাকছে।
নির্জন পাহাড়ে শত শত কম্পিউটার! মেক্সিকোয় ধরা পড়ল গোপন ক্রিপ্টো খামার
২৭ বছরেই ৪৬ লাখ রুপির চাকরি ছাড়লেন অ্যামাজনের তরুণ, যোগ দিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে
মোদি-শি বৈঠক ঘিরে ভারত ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার আশা
ইরান যুদ্ধ নিয়ে অবশেষে ঐকমত্যে পৌঁছেছে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশের বিষয়ে কয়েক দিনের টানা আলোচনার পর সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে। শিগগিরই এই যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করা হবে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকসের সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে মতবিরোধ ছিল। বিশেষ করে যুদ্ধ নিয়ে যৌথ ঘোষণাপত্রের ভাষা কী হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়। চলতি বছরের মে মাসে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও এ বিষয়ে কোনো ঐকমত্য হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশের শীর্ষ আলোচকরা যৌথ ঘোষণাপত্রে সম্মতি আনতে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যান। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৪ সালে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দুই দেশকে নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা তৈরির চেষ্টা করছে ভারত। এবারও যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় করতে ভারতীয় কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘাঁটিও ছিল। এ নিয়ে গত ছয় মাস ধরে ইরান ও আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই মতপার্থক্য কাটিয়ে ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশ যৌথ ঘোষণার বিষয়ে একমত হওয়ায় নয়াদিল্লি সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ একটি সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে হামলা, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ মিসরের
স্ত্রীকে মাদক খাইয়ে টাকার বিনিময়ে অন্য পুরুষদের হাতে তুলে দিতেন স্বামী, শেষ পর্যন্ত প্রাণ গেল নারীর
হারানো বৈশ্বিক নেতৃত্ব ফিরে পেতে মরিয়া পশ্চিমারা, লক্ষ্য পূরণে কোনো কিছুই বাদ দিচ্ছে না: পুতিন
যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে একসময় যেখানে নিয়মিত মদের আসর বসত, আজ সেখানে আজানের ধ্বনি আর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের সুর ভেসে আসে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরম শান্তিতে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। চট্টগ্রামের রাউজানের সন্তান ও লন্ডনপ্রবাসী বিশিষ্ট বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জিয়া বিন রাসেলের একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে তিনি একটি পুরোনো মদের বার কিনে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরিত করেছেন। প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, রূপান্তরিত এই সম্পত্তিটির বর্তমান বাজারমূল্য সাড়ে ৪ মিলিয়ন (৪৫ লাখ) পাউন্ড ছাড়িয়েছে। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসা থেকে তিনি এই মসজিদটির নামকরণ করেছেন নিজের মায়ের নামে। তবে শুধু পূর্ব লন্ডনের এই মসজিদ নির্মাণেই জিয়া বিন রাসেলের দাতব্য কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নেই। প্রচারের আড়ালে থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশে-বিদেশে বহুমুখী মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন। ফিলিস্তিনের গাজা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে অসহায় পরিবারগুলোর জন্য রান্না করা খাবার, রুটি, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশে শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের সহায়তা, পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন ও আর্থিক অনুদান প্রদান, দুর্যোগ ও বন্যা মোকাবিলায় ত্রাণ বিতরণ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাদ্রাসাগুলোতে কোরআনিক শিক্ষায় নিয়মিত সহায়তা করে আসছেন তিনি। তার এই নিরবচ্ছিন্ন সহায়তায় ইতোমধ্যে অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করার সুযোগ পেয়েছেন। বাংলাদেশে তার দীর্ঘমেয়াদি মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাভারের নবীনগরে ‘হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ’-এর অধীনে প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি বিশেষ দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষদের সম্মানজনকভাবে বাঁচার ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জিয়া বিন রাসেল বর্তমানে এই দাতব্য সংস্থাটির একজন সম্মানিত উপদেষ্টা ও অভিভাবক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। প্রচারবিমুখ এই মানুষটির অসংখ্য মহৎ কাজই কোনো ছবি বা ভিডিও ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। তবে কেবল সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের মানবিক কাজে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যেই তার সহকর্মীরা সম্প্রতি কিছু উদ্যোগ জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। লন্ডনে বার থেকে মসজিদ নির্মাণ হোক কিংবা গাজা-সুদানের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—তার প্রতিটি পদক্ষেপই মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
মার্কিন নারীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ৬০ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ, ৬ নাইজেরীয়কে যুক্তরাষ্ট্রে নিচ্ছে এফবিআই
মুসল্লিদের কষ্ট দেখে ৮৬ বছর বয়সে নিজের অর্থে মসজিদ নির্মাণ, নজির গড়লেন মালাউইয়ের বাসিন্দা