আগামী ১০ বছরে টাকার দাম থাকবে না, আরও যা বললেন ইলন মাস্ক
আগামী এক দশকের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবট মানুষের তুলনায় বেশি পণ্য ও সেবা উৎপাদন করবে। এমন পরিস্থিতিতে অর্থের প্রচলিত গুরুত্ব অনেকটাই কমে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্ক। দ্য ইকোনমিস্ট-এর একটি পডকাস্টে ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও এআই প্রযুক্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মাস্কের ভাষ্য, এআই-নির্ভর প্রযুক্তি যদি খাবার, বাসস্থান, যাতায়াতসহ মানুষের প্রয়োজনীয় অধিকাংশ সেবা সহজে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করতে সক্ষম হয়, তাহলে অর্থের বর্তমান ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারে। তার মতে, উৎপাদন ও সেবার প্রাচুর্য তৈরি হলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মিলিত মানব বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যতে মানুষের করা অধিকাংশ কাজ এআই ও রোবট সম্পন্ন করতে পারবে বলেও তার ধারণা। তবে অর্থের পরিবর্তে কী ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বা বিনিময় পদ্ধতি গড়ে উঠতে পারে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুধু ইলন মাস্কেই সীমাবদ্ধ নয়। ওপেনএআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান, গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান ডেমিস হাসাবিস এবং এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের নেতৃত্বও উন্নত এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি এবং এর সম্ভাব্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সময় সতর্কতা ও পূর্বাভাস দিয়েছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এসব বক্তব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও আগামী কয়েক বছরে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন ঘটবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি নীতিমালা, অর্থনৈতিক কাঠামো এবং সমাজের গ্রহণযোগ্যতার ওপরও ভবিষ্যতের বাস্তবতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreপড়াশোনার পাশাপাশি কাজের পরিকল্পনা থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি ব্যাখ্যা ও নির্দেশনা জারি করেছে কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি)। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন ভারতীয় শিক্ষার্থীর ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতি বাতিল হওয়ার পর উদ্ভূত বিভ্রান্তি দূর করতেই এই জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কানাডায় উচ্চশিক্ষার জন্য আসা বিদেশি শিক্ষার্থীরা ঠিক কোন কোন শর্ত পূরণ করলে কাজ করার আইনি বৈধতা পাবেন, তা নতুন এই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নির্দেশনায় আইআরসিসি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, হাতে শুধু স্টাডি পারমিট থাকলেই কোনো শিক্ষার্থী শর্তহীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন না। ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করতে চাইলে একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে অবশ্যই কানাডা সরকার অনুমোদিত কোনো 'ডেজিগনেটেড লার্নিং ইনস্টিটিউশন' (ডিএলআই)-এ পূর্ণকালীন (ফুল-টাইম) শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যয়নরত থাকতে হবে। এছাড়া তাদের এমন কোনো একাডেমিক, ভোকেশনাল বা প্রফেশনাল ট্রেনিং প্রোগ্রামে যুক্ত থাকতে হবে, যার মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস এবং পড়াশোনা শেষে যা একটি সুনির্দিষ্ট ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট প্রদান করবে। নির্দেশনায় সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, ক্লাস বা প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরু হওয়ার আগে কোনোভাবেই কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী কানাডায় কোনো ধরনের কাজ শুরু করতে পারবেন না। কানাডা সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো স্টুডেন্ট ভিসা প্রোগ্রামের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে না যান, তা নিশ্চিত করা। ইমিগ্রেশন দপ্তর কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, উল্লেখিত নিয়মগুলোর সামান্যতম লঙ্ঘন হলেও শিক্ষার্থীর স্টাডি পারমিট তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হতে পারে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে তাদের কানাডায় অবস্থান করা বা ইমিগ্রেশন আবেদনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আবাসন সংকটের কারণে কানাডা সরকার অভিবাসন নীতিতে যেসব কড়াকড়ি আরোপ করছে, এই নির্দেশনা তারই একটি অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
মাসে ১৬০ ডলার জমিয়েই মিলিয়নিয়ার হওয়া সম্ভব, তবু সঞ্চয়ের বদলে ভ্রমণকেই বেছে নিচ্ছে জেন-জি
আগামী ১০ বছরে টাকার দাম থাকবে না, আরও যা বললেন ইলন মাস্ক
উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের সেরা দুই শহর এখন এশিয়ায়, শীর্ষে সিউল ও টোকিও
আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে নিজেদের ভিসা ও কনস্যুলার কার্যক্রম সুসংহত করতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ১ আগস্ট থেকে মহাদেশটির ২৫টি মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে সব ধরনের সাধারণ ভিসা দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট ২০টি আঞ্চলিক হাবের মাধ্যমে ভিসা পরিষেবা পরিচালনা করা হবে। নিরাপত্তা স্ক্রিনিং ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষপ নিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। অবশ্য কোনো দূতাবাস বা কনস্যুলেট পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না, কেবল স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ ভিসা দেওয়ার সেবাটি বন্ধ থাকবে। নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে নাইজেরিয়ার আবুজারা, মাদাগাস্কারের আন্তানানারিভো, জিম্বাবুয়ের হারারে, অ্যাঙ্গোলার লুয়ান্ডা ও চাদের এনজামেনাসহ ২৫টি শহরের মার্কিন মিশনে আর কোনো সাধারণ অভিবাসী ও অ-অভিবাসী ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আবেদনকারীদের এখন থেকে ভিসা সংক্রান্ত সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য অন্য দেশের নির্ধারিত হাবগুলোতে যেতে হবে। ডাকার, আক্রা, আদ্দিস আবাবা, কেপটাউন, জোহানেসবার্গ, লাগোস ও নাইরোবির মতো ২০টি গুরুত্বপূর্ণ শহরের কেন্দ্রগুলোকে ভিসা কার্যক্রমের নতুন হাব হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা, সরকারি অপচয় হ্রাস এবং মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থ প্রথম স্থানে রেখে কাজ করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারই অংশ হিসেবে এই পুনর্গঠন। নির্দিষ্ট কয়েকটি আঞ্চলিক হাবে কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত করার মাধ্যমে ভিসা প্রদানের মান ও প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছে ওয়াশিংটন। তবে এই নতুন ব্যবস্থার কারণে আফ্রিকান আবেদনকারীদের ওপর ভ্রমণ খরচ ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার বাড়তি বোঝা চাপবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কানাডায় মার্কিন কনস্যুলেটে আবারও বন্দুক হামলা, তদন্তে টরন্টো পুলিশ
মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের ৩৫০ জনের বেশি সরকারি কর্মীর প্রাণহানি
দক্ষিণ আফ্রিকায় দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নারায়ণগঞ্জের ৬ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু
ভারত আগামী ১০ বছরের মধ্যে নিজেদের নৌবাহিনীর জাহাজের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। চীন ও পাকিস্তানের নৌ সক্ষমতা মোকাবিলায় এই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌবহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানও চীনের তৈরি আধুনিক আক্রমণাত্মক ডুবোজাহাজ নিজেদের নৌবহরে যুক্ত করেছে। এ পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগরে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লি। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভারত সম্প্রতি নিজেদের তৈরি দুটি যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে যুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টেলথ প্রযুক্তির ফ্রিগেট আইএনএস মহেন্দ্রগিরি এবং ডুবোজাহাজ শনাক্ত ও প্রতিরোধে সক্ষম যুদ্ধজাহাজ আইএনএস মালভান। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব জাহাজকে ভারতের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে স্বনির্ভরতার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীতে প্রায় ১৫০টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩৫টি ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার ও ডুবোজাহাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধজাহাজ। এছাড়া আরও প্রায় ৫০টি জাহাজ নির্মাণাধীন রয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক রিয়ার অ্যাডমিরাল ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সঞ্জয় মিশ্র বলেন, দেশীয়ভাবে তৈরি জাহাজের ওপর নির্ভর করে ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০ জাহাজের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে এই সংখ্যাও ছাড়িয়ে যাওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান কৌশলগত পরিস্থিতিতে ভারতের অন্তত দুটি শক্তিশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নৌবহর প্রয়োজন। তবে এমন সক্ষমতা গড়ে তুলতে আরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ও সহায়ক জাহাজ প্রয়োজন হবে। নৌবহর সম্প্রসারণের গতি বাড়াতে ভারত প্রতি ছয় সপ্তাহ বা তার কাছাকাছি সময়ে একটি করে নতুন যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করছে। গত দেড় মাসেই দেশটি নিজস্ব উপকরণ ও প্রযুক্তিতে তৈরি পাঁচটি জাহাজ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত করেছে। ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০৪৭ সালের মধ্যে জাহাজ নির্মাণে সম্পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জন করা। তবে এই লক্ষ্য পূরণের পথে বিশেষায়িত ইস্পাত ও অন্যান্য উপাদানের জন্য আমদানিনির্ভরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং পুরনো জাহাজ নির্মাণ অবকাঠামোর মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
বিশ্বের চতুর্থ দুর্বলতম পাসপোর্টের তালিকায় পাকিস্তান
মোদীর ভিডিও সরিয়ে ক্ষমা চাইল মেটা, আবারও ফিরিয়ে দিল ফেসবুকে