মাত্র ২ হাজার ২৪১ ডলার কর বকেয়ার কারণে প্রায় ২ লাখ ডলার মূল্যের একটি বাড়ি নিলামে বিক্রি হয়ে যায় ৭৬ হাজার ডলারে। সেই বাড়ির মালিক পরিবারের দাবি ছিল, সম্পত্তিটি প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি হওয়ায় তারা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।
সোমবার দেওয়া সর্বসম্মত রায়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, কর বকেয়ার কারণে সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোনো সম্পত্তি জব্দ করে নিলামে বিক্রি করলে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বাজারমূল্য নয়, বরং নিলামে পাওয়া প্রকৃত বিক্রয়মূল্যই বিবেচ্য হবে।
মামলাটি মিশিগানের ইসাবেলা কাউন্টির পাং পরিবারকে ঘিরে। আদালতের নথি অনুযায়ী, পরিবারের প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের বাড়িটির বিপরীতে ২ হাজার ২৪১ ডলার ৯৩ সেন্ট সম্পত্তি কর বকেয়া ছিল। কর বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় কাউন্টি কর্তৃপক্ষ বাড়িটি জব্দ করে এবং পরে নিলামে বিক্রি করে। নিলামে বাড়িটির বিক্রয়মূল্য ছিল ৭৬ হাজার ৮ ডলার।
পাং পরিবারের দাবি, বাড়িটির বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ডলার। সে হিসেবে তারা প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ডলারের সম্পত্তিগত মূল্য হারিয়েছেন। যদিও নিলাম থেকে প্রাপ্ত উদ্বৃত্ত অর্থ তাদের ফেরত দেওয়া হয়েছিল, তবুও তারা আদালতে যুক্তি দেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী তাদের সম্পত্তির প্রকৃত বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। নয় বিচারপতির সর্বসম্মত মতামতে বলা হয়, সংবিধান সরকারকে কোনো সম্পত্তির অনুমানভিত্তিক বাজারমূল্যের ওপর ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করে না। আদালতের মতে, উন্মুক্ত ও আইনসম্মত নিলামে যে মূল্য পাওয়া যায়, সেটিই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড।
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, বাজারমূল্যকে বাধ্যতামূলক ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করলে স্থানীয় সরকারগুলোর কর আদায় ও সম্পত্তি জব্দ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও জটিল এবং ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে আদালত মামলার একটি অংশ নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠিয়েছে। সেখানে সম্পত্তি জব্দ ও বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া ন্যায্যভাবে সম্পন্ন হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পরিবারের অন্যান্য অভিযোগ পুনর্বিবেচনা করা হবে।
অন্যদিকে, ইসাবেলা কাউন্টি কর্তৃপক্ষ আদালতে জানিয়েছে, পাং পরিবার কর অব্যাহতির জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেয়নি, কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপিলও করেনি। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে পাঠানো একাধিক নোটিশের পরও তারা বকেয়া কর পরিশোধে উদ্যোগ নেয়নি। ফলে আইন অনুযায়ী সম্পত্তিটি জব্দ ও বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করে কাউন্টি প্রশাসন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কর বকেয়ার কারণে জব্দ হওয়া সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভবিষ্যতের মামলাগুলোতে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে এটি সম্পত্তির মালিকদের অধিকার ও স্থানীয় সরকারের কর আদায়ের ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে চলমান বিতর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
হিজাব ছাড়া কনসার্টে পারফর্ম করার অপরাধে ইরানের জনপ্রিয় নারী গায়িকা পারাস্তু আহমদিকে ৭৪টি দোররা (চাবুক) মারার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। গায়িকার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য সামনে এসেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইরানের নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নারীদের ওপর ধর্মীয় বিধিনিষেধ আরও কঠোর হওয়ারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে এই রায়। গত সপ্তাহে ইরানের কোম প্রদেশের একটি রুদ্ধদ্বার আদালতে পারাস্তু আহমদি এবং তাঁর ব্যান্ডের আরও আট সদস্য ও কলাকুশলীকে এই সাজা শোনানো হয়। জানা গেছে, ২০২৪ সালের একটি কনসার্টে ইরানি আইন অমান্য করে হিজাব ছাড়া, চুল ও হাত খোলা রেখে পারফর্ম করেছিলেন পারাস্তু। ইউটিউবে সেই পারফর্ম্যান্সের ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ার পরই মূলত তাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলো। দোররা মারার পাশাপাশি আগামী দুই বছরের জন্য পারাস্তু ও তাঁর সহকর্মীদের যেকোনো ধরনের পারফর্ম্যান্স এবং দেশ ছাড়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই পরিবারের এক সদস্য জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত নয়জনের মধ্যে দুজন ইরানে অবস্থান করছিলেন না। মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধস নামানো মাসব্যাপী এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর, সম্প্রতি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব নিহত হন। এহেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই গায়িকাকে দেওয়া সাজার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে নরওয়েভিত্তিক সংগঠন ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’। সংগঠনটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, এই রায় যেমন অমানবিক ও অপমানজনক, তেমনি এটি একটি বিপজ্জনক সংকেত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শান্তি চুক্তির পর বর্তমান শাসনব্যবস্থা নারীদের ওপর দমনপীড়ন আরও বাড়াতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এক বিশাল অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ২৭০ জন শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম অনলাইন নিউ স্ট্রেইটস টাইমস-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে সেলাঙ্গরের পোর্ট ক্লাংয়ের তেলোক গং শিল্প এলাকার একটি আসবাবপত্র তৈরির কারখানায় এই ‘অপস মেগা’ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ইমিগ্রেশন পুলিশ কারখানায় প্রবেশ করতেই শ্রমিকদের মাঝে হুড়োহুড়ি লেগে যায় এবং তারা দিগ্বিদিক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। গ্রেফতার এড়াতে অভিবাসী শ্রমিকরা কারখানার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও অদ্ভুত জায়গায় আত্মগোপন করেন। এর মধ্যে ২০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি তরুণ শ্রমিক কারখানার ভেতরে থাকা প্লাস্টিকের ময়লাভর্তি একটি বড় রোল-অন বা রোল-অফ (রোরো) কনটেইনারের ভেতরে ময়লার আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন। তল্লাশির একপর্যায়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে সেখান থেকে হাতেনাতে আটক করেন। আটকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই তরুণ কথা না বলে হাতজোড় করে বারবার ইংরেজিতে ক্ষমা চাইতে থাকেন। পরবর্তীতে তাঁর এক সহকর্মী মালয় ভাষায় অনুবাদ করে জানান যে, ইমিগ্রেশন পুলিশ দেখে ভয়েই তিনি ময়লার ড্রামে লুকিয়েছিলেন। একই কারখানায় অন্য দুই বাংলাদেশি শ্রমিককে কাঠ কাটার মেশিনের পেছনে এবং আসবাবপত্রের বড় বড় বাক্সের আড়ালে ধুলোবালির মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় আটক করা হয়। আটকের সময় তাঁদের শরীর ও চুল কারখানার কাঠের গুঁড়ো ও ময়লায় ধূসর হয়ে গিয়েছিল। এর আগে সকাল ৮টার দিকে মেরু এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় অভিযানের প্রথম ধাপ শুরু হয়, যেখানে প্রায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে গোপন নজরদারি বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছিল ইমিগ্রেশন বিভাগ। সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-পরিচালক মোহদ খুসাইরি কামারুদ্দিন জানান, মেরুর প্লাস্টিক কারখানায় ৬৬ জন শ্রমিকের নথিপত্র পরীক্ষা করে ১৮ জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে ১৭ জন বাংলাদেশি ও ১ জন করে নেপাল ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে, তেলোক গংয়ের আসবাবপত্র কারখানায় ৫২০ জন শ্রমিকের মধ্যে ২৫২ জনকে আটক করা হয়। এই ২৫২ জনের মধ্যে ১৭৫ জন বাংলাদেশি, ৩৯ জন পাকিস্তানি, ৩৩ জন নেপালি, ৪ জন মিয়ানমারের এবং ১ জন শ্রীলঙ্কার নাগরিক রয়েছেন। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটককৃত সকল শ্রমিকের বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং তারা সবাই পুরুষ. প্রাথমিক তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই শেষে দেখা গেছে, আটককৃতদের সিংহভাগই মালয়েশিয়ায় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন এবং অনেকে ওয়ার্ক পারমিট বা পাসের শর্ত লঙ্ঘন করে নির্ধারিত খাতের বাইরে কাজ করছিলেন। কয়েকজন শ্রমিক নিজেদের বৈধ দাবি করলেও অভিযানের সময় মূল কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। মোট ৫০ জন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দল এই ঝটিকা অভিযানটি পরিচালনা করে. মোহদ খুসাইরি কামারুদ্দিন স্পষ্ট করে বলেন, এই ক্র্যাকডাউন বা চিরুনি অভিযান শুধু কারখানাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং ম্যাসেজ পার্লারের মতো জায়গাগুলোতেও তা চালানো হবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সূত্র: নিউ স্ট্রেইটস টাইমস
সুইজারল্যান্ডে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে প্রথম দফার শান্তি আলোচনা শেষ হতে না হতেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গত বছর মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাদের যেসব প্রধান পরমাণু কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেখানে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার (আইএইএ) কোনো পরিদর্শককে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়া চরম বিশৃঙ্খলা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলা এই যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সম্প্রতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে বর্তমানে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের শীর্ষ নেতা মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানে সফর করছেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। একই সময়ে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যেও সরাসরি আলোচনার জোর প্রস্তুতি চলছে। তবে এই জোরালো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাঝেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের করা একটি দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ভ্যান্স দাবি করেছিলেন যে, গত বছরের ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরমাণু সাইটগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের পুনরায় আমন্ত্রণ জানাতে সম্মত হয়েছে ইরান। কিন্তু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানান, আইএইএ-এর মহাপরিচালকের সাথে পরিদর্শনের বিষয়ে তাদের কোনো বৈঠকই হয়নি। একই সাথে মার্কিন ও ইহুদিবাদী সামরিক আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আপাতত কোনো অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা তেহরানের নেই বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন।