আমেরিকা

মুক্তির পরও কাটছে না ট্রমা, টেক্সাসের ডিটেনশন ক্যাম্পে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ গ্রিন কার্ডধারীর

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১৫:৪২
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) বা ICE-এর হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন এক গ্রিন কার্ডধারী নারী। চ্যারিটি গ্রেস মুকামুরি নামের ৪৩ বছর বয়সী এই নারী টেক্সাসের এল পাসোয় অবস্থিত ক্যাম্প ইস্ট মন্টানা ডিটেনশন ফ্যাসিলিটি থেকে গত ৩ জুন মুক্তি পান। দীর্ঘ কয়েক মাসের বন্দিদশা তাকে মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত করেছে যে, পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এখন তাকে থেরাপির সাহায্য নিতে হচ্ছে।

 

জিম্বাবুয়ের বংশোদ্ভূত মুকামুরি ২০০১ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং পরবর্তীতে বৈধ গ্রিন কার্ড লাভ করেন। ওকলাহোমার টুলসায় গৃহহীনদের খাদ্য সহায়তার জন্য তিনি 'ইসাইয়া ৫৪ প্রজেক্ট' নামের একটি অলাভজনক সংস্থাও পরিচালনা করতেন। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তার বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগ এনে ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করে। যদিও তার পরিবারের দৃঢ় দাবি, মুকামুরির কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ২ জুন এল পাসো ইমিগ্রেশন কোর্টের বিচারক স্টিফেন রুহলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দিয়ে মুক্তির নির্দেশ দেন।

 

বন্দিদশায় থাকাকালীন মুকামুরি চরম অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হন বলে দাবি করেছেন। গণমাধ্যম 'নিউজউইক'-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তিনি জানান, ডিটেনশন ক্যাম্পে নিম্নমানের খাবার দেওয়া হতো এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত নাজুক। এমনকি গ্রেপ্তারের পর প্রথম আড়াই মাস পর্যন্ত তাকে কোনো আইনজীবীর সাথে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। ক্যাম্পের ভেতরের এই দুরবস্থার খবর গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ উল্টো তার ওপর মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু করে। তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তছনছ করা হয়, বিছানা কেটে তল্লাশি চালানো হয় এবং তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়।

 

বর্তমানে পরিবারের কাছে ফিরে স্বস্তি পেলেও ডিটেনশন ক্যাম্পের ভয়ংকর স্মৃতি এখনো তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। মুকামুরি জানান, সেখানে আটকে থাকা অন্যান্য নারীদের অমানবিক জীবনযাপনের কথা ভেবে তার হৃদয় এখনো ভেঙে যায়। মূলত ভেতরের সত্যটা বিশ্ববাসীকে জানানোর তাড়না থেকেই তিনি মুখ খুলেছেন। ডিটেনশন ক্যাম্পের এই ভয়ংকর মানসিক ট্রমা ও ক্ষত সারিয়ে পরিবারকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে আইস কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ‘আন্তিফা’ নেতার ১০০ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের নর্থ টেক্সাসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কেন্দ্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় 'আন্তিফা' (Antifa) সেলের এক নেতার ১০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বেঞ্জামিন হানিল সং নামের ওই নেতাসহ এই হামলায় জড়িত মোট আটজনকে সম্মিলিতভাবে ৫৫০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বাকি সাতজন পেয়েছেন ৪৫০ বছরের সাজা। আগামী ৪ জুলাই প্রেইরিল্যান্ড ডিটেনশন সেন্টারে হওয়া এই হামলার এক বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগেই এমন যুগান্তকারী রায় প্রদান করল মার্কিন বিচার বিভাগ।   ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে 'আন্তিফা' সংগঠনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করেন। ট্রাম্পের ওই কড়া আদেশের পর আন্তিফার সাথে জড়িত কোনো আসামির বিরুদ্ধে এটিই প্রথম বড় সাজার রায়। দণ্ডপ্রাপ্তরা মূলত দাঙ্গা সৃষ্টি, অস্ত্র ও বিস্ফোরকের ব্যবহার, সন্ত্রাসীদের বস্তুগত সহায়তা প্রদান এবং এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার চেষ্টার মতো গুরুতর সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এই রায় প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, যেসব আন্তিফা সন্ত্রাসী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালাবে, তাদের অত্যন্ত দ্রুত ও কঠোর বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এ ধরনের সহিংস চরমপন্থার কোনো স্থান নেই। যারা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের হুমকি দেয় কিংবা আইনের শাসনকে দুর্বল করার চেষ্টা করে, বিচার বিভাগ তাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে আক্রমণাত্মক তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১৬:৫৪
ছবিঃ ইয়াহু নিউজ

২৭০০ ডলারের লটারি টিকিট চুরির অভিযোগে ফ্লোরিডায় ওয়ালমার্ট ক্যাশিয়ার গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

মুক্তির পরও কাটছে না ট্রমা, টেক্সাসের ডিটেনশন ক্যাম্পে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ গ্রিন কার্ডধারীর

৫৩ বছর বয়সী জেসন ফিনকেলস্টেইন l ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে ৮৯ মিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির অভিযোগে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ডিওজের মামলা

ছবি: সংগৃহীত
১২ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি সত্ত্বেও শিক্ষাখাতে বিশাল বিনিয়োগ জোহরান মামদানির

নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে শ্রেণিকক্ষের আকার ছোট করার লক্ষ্যে শহরের ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্তৃত ও যুগান্তকারী পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন জোহরান মামদানি। এই মেগাপ্ল্যানের অধীনে শহরের ৩৬০টি স্কুলে নতুন শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২৪৪ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি স্কুলগুলোতে স্থায়ীভাবে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের জন্য আরও ১.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন যেখানে কেন্দ্রীয় শিক্ষা দপ্তর ভেঙে দেওয়ার কথা বলছে এবং পাবলিক স্কুলের জন্য কেন্দ্রীয় তহবিল কমাচ্ছে, সেখানে নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের এমন পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ বিপরীত এবং অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনা, যাতে প্রতিটি শিশু শিক্ষকের পর্যাপ্ত মনোযোগ পায় এবং শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ কমে। স্কুলভিত্তিক এই পরিকল্পনায় মূলত সেসব এলাকার শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাদের অর্থনৈতিক চাহিদা সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুত অথচ অবহেলিত স্কুলগুলো এই যুগান্তকারী বাজেটের ফলে অবশেষে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পেতে যাচ্ছে, যা সাধারণ পরিবারগুলোর জন্য এক বিরাট স্বস্তির খবর।   সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ১২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেট ঘাটতির উত্তরাধিকারী হওয়া সত্ত্বেও জোহরান মামদানি শিক্ষক নিয়োগ ও স্কুল নির্মাণের জন্য এই বিপুল অর্থ বরাদ্দের উপায় বের করতে সক্ষম হয়েছেন। এটি নিছক কোনো জনসংযোগমূলক ঘোষণা নয়, বরং এটি ৬৮ পৃষ্ঠার একটি পূর্ণাঙ্গ ‘কমপ্লায়েন্স প্ল্যান’ বা বাস্তবায়নযোগ্য রূপরেখা, যার পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট আর্থিক বরাদ্দ। শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা বলছেন, নিউইয়র্ক সিটির পাশাপাশি সমগ্র আমেরিকার শিশুদেরই এমন মানসম্মত শিক্ষা প্রাপ্য। প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেটি কীভাবে বাস্তবে রূপ দিয়ে প্রকৃত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হয়, এটি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১৫:৪
৩ বছরের নিষ্পাপ শিশু l ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় তীব্র গরমে বদ্ধ গাড়ির ভেতরেই নিভে গেল ৩ বছরের শিশুর জীবন

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইনে গৃহপরিচারিকার চাকরির প্রলোভন, ফ্লোরিডায় নিয়ে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

মৃত রোগীদের নামে কোটি টাকা জালিয়াতি, বিলাসী জীবনযাপনকারী মার্কিন প্রতারক গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ডধারীদের বিদেশ থেকে ফেরার পথে বাড়তে পারে জটিলতা, গুরুত্বপূর্ণ রায় সুপ্রিম কোর্টের

ওয়াশিংটন, ২৩ জুন: যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ভ্রমণ শেষে দেশে ফেরার সময় কিছু গ্রিন কার্ডধারীর জন্য অতিরিক্ত আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা। এর পেছনে রয়েছে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়, যা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও সীমান্তে প্রয়োগযোগ্য আইনি মানদণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।   ৬-৩ ভোটে দেওয়া এই রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছে, বিদেশ থেকে ফেরার সময় কোনো গ্রিন কার্ডধারীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধরনের অপরাধের অভিযোগ থাকলে সীমান্ত কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে উচ্চমানের প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে না। এমন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অতিরিক্ত অভিবাসন প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া যেতে পারে।   আরও পড়ুন... যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব আবেদন ফি প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব   মামলাটি ছিল বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা মুক চয় লাউকে ঘিরে। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি বিদেশ সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় জাল পণ্য বিক্রির অভিযোগের মুখোমুখি হন। পরবর্তীতে ওই অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সুপ্রিম কোর্টে আইনি বিতর্ক শুরু হয় যে, সীমান্ত কর্মকর্তারা কী ধরনের প্রমাণের ভিত্তিতে একজন গ্রিন কার্ডধারীকে সাধারণ প্রত্যাবর্তনকারী বাসিন্দার পরিবর্তে অভিবাসন প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে পারবেন।   সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে আদালত বলেছে, সীমান্ত পর্যায়ে কর্মকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত প্রমাণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিচারপতি ক্লারেন্স থমাসের লেখা রায়ে বলা হয়, আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গ্রিন কার্ডধারীদেরও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি করা যেতে পারে।   আরও পড়ুন- ভিসার মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে কাজ করায়   তবে আদালতের তিন উদারপন্থী বিচারপতি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। ভিন্নমত পোষণ করে বিচারপতি কেতনজি ব্রাউন জ্যাকসন বলেন, এই রায়ের ফলে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের কেউ কেউ দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই দীর্ঘ আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারেন।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায়ের অর্থ এই নয় যে কোনো গ্রিন কার্ডধারী শুধুমাত্র অভিযোগের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার বৈধ মর্যাদা হারাবেন। গ্রিন কার্ড বাতিল বা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এখনো অভিবাসন আদালতের নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হবে। তবে যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ, বিচারাধীন মামলা বা নির্দিষ্ট অপরাধসংক্রান্ত বিষয় রয়েছে, তাদের বিদেশ ভ্রমণের আগে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, রায়টি বিশেষ করে সেইসব গ্রিন কার্ডধারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধমূলক অভিযোগ রয়েছে বা যাদের মামলা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ভবিষ্যতে বিদেশ সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় তারা অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদ, আটক বা দীর্ঘ অভিবাসন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। তবে একই সঙ্গে এটি বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এক কোটিরও বেশি গ্রিন কার্ডধারী বাস করেন। ফলে আদালতের এই রায় দেশজুড়ে অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১৫:৩৬
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বন্যার এক বছর: ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন নিয়ে জরুরি বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মাঝরাস্তায় শূকর বোঝাই বড় ট্রাক উল্টে মহাসড়ক বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে কমছে পেট্রোলের দাম, তবে পিটসবার্গে কমানো হচ্ছে না

0 Comments