৩০০০ কিলোমিটার পাল্লার অত্যাধুনিক কামিকাজে ড্রোন তৈরি করে পাকিস্তানের চমক
সামরিক প্রযুক্তির দুনিয়ায় অভাবনীয় এক চমক দেখাল পাকিস্তান। সম্প্রতি নিজেদের এক সামরিক প্রদর্শনীতে দুটি অত্যাধুনিক দূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোন উন্মোচন করেছে দেশটি, যার মধ্যে একটির পাল্লা প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার। 'ডি-২৪৮' এবং 'এস-৩৬৯' মডেলের এই ড্রোন দুটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বৈশ্বিক সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ডি-২৪৮ ড্রোনটি রেঞ্জের দিক থেকে ইরানের ৪,০০০ কিলোমিটার পাল্লার 'শাহেদ ১৩৬ বি'-এর পর বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম পাল্লার কামিকাজে ড্রোন হিসেবে সামরিক অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ড্রোনের পাল্লা পাকিস্তানের কৌশলগত সামরিক সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্ত (বিশেষ করে বেলুচিস্তান প্রদেশ) থেকে ইসরায়েলের আকাশপথের সরাসরি দূরত্ব প্রায় ২,৭০০ থেকে ৩,০০০ কিলোমিটার। ফলে পাকিস্তানের সীমানা থেকে উৎক্ষেপণ করা হলে এই ড্রোনটি অনায়াসেই ইসরায়েলের যেকোনো প্রান্তে আঘাত হানতে সক্ষম।
একই সঙ্গে পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ড থেকে ভারতের দুই কৌশলগত শেষ সীমানা—উত্তর-পূর্বের অরুণাচল প্রদেশ এবং ভারত মহাসাগরের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জও এই ড্রোনের পাল্লার ভেতরে পড়ে যায়। অর্থাৎ, ভৌগোলিকভাবে পুরো ভারত এখন পাকিস্তানের এই নতুন ড্রোনের আওতাভুক্ত।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে ডি-২৪৮ ড্রোনটি দেখতে অবিকল ইরানের বিখ্যাত শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের মতোই তৈরি করা হয়েছে। ২,২২০ থেকে ৩,০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ড্রোনটি টানা প্রায় ১৪ ঘণ্টা আকাশে উড়তে সক্ষম। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য ড্রোনটিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি, যার সাহায্যে এটি জিপিএস ছাড়াই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু খুঁজে নিয়ে নিখুঁত হামলা চালাতে পারে।
অন্যদিকে, প্রদর্শনীতে উন্মোচিত অপর ড্রোন 'এস-৩৬৯'-এর অ্যারো-ডেল্টা ডিজাইন এটিকে মাঝআকাশে অত্যন্ত স্থিতিশীল রাখে, যা দূরপাল্লার নির্ভুল হামলায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। অত্যাধুনিক এই ড্রোন দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হলে তা পাকিস্তানের আক্রমণ সক্ষমতায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreগাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে গ্রিসজুড়ে অন্তত ৩৬টি স্থানে একযোগে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। রাজধানী এথেন্সসহ দেশটির বিভিন্ন শহর ও জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এই কর্মসূচি পালিত হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গ্রিসে অবস্থানরত ও ভ্রমণরত ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তায় নাগরিকদের বিক্ষোভস্থল ও বড় জমায়েত থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে ইসরায়েলি বা ইহুদি পরিচয় বহন করে এমন কোনো প্রতীক বা চিহ্ন প্রদর্শন না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে নাগরিকদের গ্রিস ভ্রমণ বাতিল করতে বলা হয়নি; মূলত বিক্ষোভ চলাকালে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতেই এই আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন সংগঠন সমন্বিতভাবে এই বিশাল কর্মসূচির আয়োজন করেছে। বিশেষ করে যেসব পর্যটন এলাকায় ইসরায়েলিদের আনাগোনা বেশি, সেগুলোকে এই কর্মসূচিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিক্ষোভ শুধু বড় শহরের কেন্দ্রস্থলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, তা ছড়িয়ে পড়ছে পর্যটকদের উপস্থিতিবহুল এলাকাগুলোতেও। গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং চলমান যুদ্ধের প্রতিবাদই এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য। তবে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ হলেই ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর হামলা হবে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এর আগে গত বছরও একই ধরনের কর্মসূচির সময় ইসরায়েল এমন সতর্কতা জারি করেছিল, যা কোনো ধরনের সহিংসতা ছাড়াই শেষ হয়েছিল। তাই এবারের নির্দেশনাকেও একটি আগাম নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রকাশ্যে ইহুদি পরিচয় গোপনের নির্দেশনার বিষয়টি স্পষ্ট করে যে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে।
৩০০০ কিলোমিটার পাল্লার অত্যাধুনিক কামিকাজে ড্রোন তৈরি করে পাকিস্তানের চমক
গ্রিসজুড়ে ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভ, পর্যটন এলাকাসহ ৩৬ স্থানে কর্মসূচি
বিমান উড্ডয়নের পর বড় ধাক্কা, এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটের মাদক পরীক্ষা
গ্রিসজুড়ে অন্তত ৩৬টি স্থানে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের কর্মসূচির মধ্যে দেশটিতে অবস্থানরত ও ভ্রমণরত ইসরায়েলি নাগরিকদের সতর্ক করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বড় জমায়েত ও বিক্ষোভস্থল এড়ানোর পাশাপাশি প্রকাশ্যে ইসরায়েলি বা ইহুদি পরিচয় নির্দেশ করে এমন প্রতীক প্রদর্শন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোববার গ্রিসের বিভিন্ন শহর ও পর্যটন এলাকায় ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভের কর্মসূচি রয়েছে। আয়োজকেরা গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বিক্ষোভের স্থানগুলোর মধ্যে এমন কিছু পর্যটন এলাকাও রয়েছে, যেখানে বিপুলসংখ্যক ইসরায়েলি পর্যটক অবস্থান করেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের বিক্ষোভ ও বড় জমায়েত থেকে দূরে থাকতে বলেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক তর্কে জড়ানো এড়ানো, জনাকীর্ণ স্থানে সতর্ক থাকা এবং নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের অবহিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সতর্কবার্তায় প্রকাশ্যে ইসরায়েলি বা ইহুদি পরিচয় নির্দেশ করে এমন পোশাক ও প্রতীক প্রদর্শন এড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। তবে গ্রিস ভ্রমণ পুরোপুরি এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। মূলত বিক্ষোভ চলাকালে সম্ভাব্য সংঘাত বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গ্রিসে ইসরায়েলি পর্যটকদের উপস্থিতি ঘিরে একাধিক ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ হয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন এলাকা ও ইসরায়েলি পর্যটকবাহী জাহাজের আগমনকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ও পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে নতুন কর্মসূচিকে ঘিরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আগাম সতর্ক করেছে। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গ্রিসে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভ সাম্প্রতিক সময়ে আরও দৃশ্যমান হয়েছে। রোববারের কর্মসূচিগুলো কতটা বড় আকার নেবে এবং কোথাও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, তা বিবেচনায় রেখে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা ছাড়বে না ইসরায়েল: নেতানিয়াহুর কড়া বার্তা
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ভয়াবহ দাবানল, জরুরি অবস্থা জারি, ঘর ছাড়তে বাধ্য ২০ হাজারের বেশি মানুষ
সংসদে কসোভো প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ, রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও তীব্র
যুদ্ধক্ষেত্রে পড়ে থাকা নিহত সৈনিক ও বেসামরিক মানুষের মরদেহ উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজে জীবনের দুই দশকেরও বেশি সময় কাটিয়েছিলেন ইউক্রেনীয় স্বেচ্ছাসেবক ওলেক্সি ইউকভ। ৪০ বছর বয়সে সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। তার মৃত্যুতে ইউক্রেনজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। ইউকভ ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী অনুসন্ধান দল ‘প্লাত্সদার্ম’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান। তার নেতৃত্বে দলটি যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, মরদেহ উদ্ধার এবং পরিচয় শনাক্ত করার কাজ করত। ইউক্রেনীয়দের পাশাপাশি রুশ সেনাদের মরদেহও উদ্ধার করেছে তার দল। ৫ আগস্ট দোনেৎস্ক অঞ্চলের লিমান এলাকায় একটি মরদেহ উদ্ধারের অভিযানে ইউকভ নিহত হন। উদ্ধারকাজের সময় মাইন বিস্ফোরণে তিনি প্রাণ হারান বলে তার সহকর্মী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ইউকভের এই কাজ শুরু হয়েছিল যুদ্ধের বর্তমান অধ্যায় শুরুর বহু আগে। কৈশোরে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিহত সেনাদের দেহাবশেষ খুঁজে বের করার কাজে যুক্ত হন। পরে পূর্ব ইউক্রেনের সংঘাত শুরু হলে তিনি আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতদের উদ্ধারের কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ২০১৪ সালে দোনবাস অঞ্চলে সংঘাত শুরুর পর তার অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর তার দল সম্মুখসারির আরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ করতে থাকে। মাইন, অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ, গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি সত্ত্বেও তারা নিখোঁজ ও নিহতদের সন্ধান চালিয়ে যায়। মৃতদের জাতীয়তা নিয়ে ইউকভের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আলাদা। ইউক্রেনীয় সৈনিক ও বেসামরিক মানুষের পাশাপাশি রুশ সেনাদের মরদেহও তিনি উদ্ধার করেছেন। তার বিশ্বাস ছিল, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত একজন মানুষ মৃত্যুর পর আর শত্রু নয়; তিনি কারও বাবা, সন্তান, স্বামী, ভাই কিংবা পরিবারের সদস্য। এই কাজের জন্য ইউকভ ‘আত্মার সংগ্রাহক’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তার কাছে মরদেহ উদ্ধার মানে শুধু একজন নিহত মানুষকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নেওয়া নয়, বরং তার পরিচয় ও মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়ে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়ে ইউকভ নিজেও একাধিকবার আহত হন। ২০২২ সালে একটি মাইন বিস্ফোরণে তিনি গুরুতর আহত হয়ে একটি চোখ হারান। এরপরও তিনি কাজ থেকে সরে দাঁড়াননি। সুস্থ হওয়ার পর আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যান। তার শেষ অভিযানও ছিল একই ধরনের একটি উদ্ধারকাজ। দোনেৎস্ক অঞ্চলের লিমান এলাকায় মরদেহ উদ্ধারের সময় মাইন বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয়। কয়েকদিন পর কিয়েভে তার শেষ বিদায়ের আয়োজন করা হয়। ৮ আগস্ট কিয়েভের সেন্ট ভলোদিমির ক্যাথেড্রালে ইউকভের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার মরদেহ মেইদান স্কয়ারের দিকে নেওয়া হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে জড়ো হন। অনেকে হাঁটু গেড়ে বসে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। তার পরিবার, সহকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা ইউকভের কাজের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি বহু পরিবারের জন্য দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়েছেন। কোনো স্বজন যুদ্ধক্ষেত্রে নিখোঁজ হলে পরিবারগুলো মাসের পর মাস অপেক্ষা করত। ইউকভের দল সেই মরদেহ খুঁজে বের করে পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করত এবং পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করত। মরদেহ শনাক্ত করতে উদ্ধার করা ব্যক্তিগত সামগ্রী, পরিচয়পত্র ও অন্যান্য সূত্র ব্যবহার করা হতো। প্রয়োজন হলে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমেও পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হতো। যুদ্ধক্ষেত্রের ঝুঁকির কারণে এই কাজ অনেক সময় অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠত। ইউকভের স্ত্রী ইভহেনিয়া কালুহিনা জানিয়েছেন, তার স্বামীর শুরু করা কাজ থেমে থাকবে না। সহকর্মীরাও জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতদের খুঁজে বের করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব তারা চালিয়ে যাবেন। ইউকভের মৃত্যু ইউক্রেন যুদ্ধের একটি কম আলোচিত মানবিক বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত অনেক মানুষের মরদেহ গোলাবর্ষণ, মাইন ও অবিস্ফোরিত অস্ত্রের কারণে দীর্ঘ সময় উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। পরিবারের সদস্যরা তখন প্রিয়জন জীবিত নাকি মৃত, সে বিষয়েও নিশ্চিত হতে পারেন না। দুই দশকের বেশি সময় ধরে ইউকভ সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি যে মানুষগুলোর মরদেহ উদ্ধার করেছেন, তাদের মধ্যে ইউক্রেনীয় ও রুশ উভয় পক্ষের মানুষই ছিলেন। তার জীবন ও মৃত্যু যুদ্ধের বিভাজনের মধ্যেও মানবিকতার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন তার সহকর্মীরা। যুদ্ধ মানুষকে শত্রু ও মিত্রে ভাগ করলেও মৃত্যুর পর একজন মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা এবং তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এই বিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত ইউকভের জীবনের প্রধান দায়িত্ব হয়ে উঠেছিল।
৩ সেকেন্ডে একটি পণ্য , ৭ দিনেই চীনা ইনফ্লুয়েন্সারের আয় ১৩৭ কোটি টাকা!
ইসরাইলি তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি