সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

মিশিগান

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবু মূসা
মিশিগানের হ্যামট্রাম্যাকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবু মূসা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রাম্যাক সিটিতে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিল সদস্য আবু আহমদ মুসার শপথ নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে শহরের ৩১তম ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাঁর শপথ গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। তবে সিটি প্রশাসন বা আদালতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থেকে শপথ গ্রহণের বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হ্যামট্রাম্যাকের ৩১তম ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক অ্যালেক্সিস ক্রট তাঁর চেম্বারে আবু আহমদ মুসাকে শপথবাক্য পাঠ করান। শহরের মেয়র নির্বাচন ঘিরে প্রায় এক বছর ধরে চলা আইনি জটিলতার মধ্যেই এই দায়িত্ব পরিবর্তনের খবর সামনে এসেছে।   আবু আহমদ মুসা হ্যামট্রাম্যাক সিটি কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি মেয়র প্রো টেম হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হ্যামট্রাম্যাক রিভিউ গত ১৬ অক্টোবর জানিয়েছিল, মেয়র নির্বাচন নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে মুসা ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে পরবর্তী সময়ে সিটি প্রশাসন জানায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অ্যাডাম আলহারবি মেয়র হিসেবে বহাল থাকবেন।   হ্যামট্রাম্যাকের মেয়র পদ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচন থেকে। ওই নির্বাচনে অ্যাডাম আলহারবিকে প্রথমে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। কিন্তু গণনার বাইরে থাকা ৩৭টি অ্যাবসেন্টি ব্যালট নিয়ে আদালতে মামলা করেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ।   দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত ১৬ অক্টোবর ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্স বিতর্কিত ব্যালটগুলো গণনা করে। নতুন গণনায় মুহিত মাহমুদ পান ২ হাজার ৮৯ ভোট এবং অ্যাডাম আলহারবি পান ২ হাজার ৭৭ ভোট। অর্থাৎ ১২ ভোটে এগিয়ে যান মাহমুদ। তবে তাঁর হ্যামট্রাম্যাকে বসবাসের যোগ্যতা নিয়ে আইনি বিরোধ থাকায় ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করা সম্ভব হয়নি।   সর্বশেষ গত ৩০ অক্টোবর ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টের বিচারক ক্যাথলিন ম্যাকার্থি মুহিত মাহমুদের পক্ষে রায় দেন। আদালত তাঁর বসবাসের যোগ্যতা বহাল রাখেন এবং বিতর্কিত ব্যালটসহ নির্বাচনের ফল প্রত্যয়নের নির্দেশ দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে মাহমুদের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পথে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বাধা দূর হয়।   হ্যামট্রাম্যাক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, মেয়রের অনুপস্থিতিতে মেয়র প্রো টেম দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে সিটির সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আবু আহমদ মুসাকে কাউন্সিল সদস্য এবং মোহাম্মদ হাসানকে মেয়র প্রো টেম হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ফলে সোমবারের কথিত শপথের পর মুসার আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদা ও দায়িত্বের মেয়াদ সম্পর্কে সিটির নতুন ঘোষণা প্রয়োজন।   মিশিগানের ডেট্রয়েট শহরের পাশেই অবস্থিত হ্যামট্রাম্যাক। শহরটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচনী রাজনীতিতেও বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। আবু মুসার ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের খবর নিশ্চিত হলে তা শহরটির বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ঘটনা হবে।

বায়জিদ হাসান নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৩:০
হামট্রাম্যাকের মেয়র পদপ্রার্থী মুহিত মাহমুদ। আদালতের রায়ে তাঁর মেয়র হওয়ার পথে বড় আইনি বাধা দূর হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের হ্যামট্রামিকের মেয়র হচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়েন কাউন্টির এক বিচারকের রায়ে হ্যামট্রামিক শহরের পরবর্তী মেয়র হিসেবে মুহিত মাহমুদের দায়িত্ব গ্রহণের পথ প্রশস্ত হয়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আবাসিক শর্ত পূরণের বিষয়ে চলা দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে এই যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে। ওয়েন কাউন্টি সার্কিট কোর্টের বিচারক ক্যাথলিন ম্যাকার্থি জানিয়েছেন, আবাসিক কারণ দেখিয়ে মুহিত মাহমুদকে অযোগ্য ঘোষণার জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর ফলে গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বিতর্কিত ৩৭টি ব্যালট গণনার পর মুহিত মাহমুদের জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হতে যাচ্ছে।   গত ৩০ অক্টোবর দেওয়া এক আদেশে বিচারক ক্যাথলিন ওয়েন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসারসকে ওই ৩৭টি ব্যালট চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে মেয়র পদের দৌড়ে মুহিত মাহমুদ তার প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বেশ এগিয়ে গেলেন। আদেশে বিচারক ক্যাথলিন ম্যাকার্থি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ অনুযায়ী মুহিত মাহমুদই হ্যামট্রামিক শহরের বৈধ মেয়র। আদালতে সাক্ষীদের জবানবন্দি ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসিক যোগ্যতা তার রয়েছে।   আদালতে শুনানির সময় মুহিত মাহমুদের অন্যান্য শহরে বাড়ি থাকার বিষয়টি উঠে আসে। তার স্ত্রী ও সন্তানরা মূলত ট্রয় শহরে বসবাস করেন বলেও জানানো হয়। তবে বিচারক তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, পরিবারের অন্য শহরে বসবাসের এই বিষয়টি তাকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য প্রমাণ করে না। এর আগে গত ২২ অক্টোবর ওয়েন কাউন্টি সার্কিট কোর্টে এই সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবারের এই চূড়ান্ত রায়ের মধ্য দিয়ে মুহিত মাহমুদের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পথে সবচেয়ে বড় আইনি বাধাটি দূর হলো।   এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত হয় গত ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পরদিন। ওইদিন হ্যামট্রামিক সিটি ক্লার্কের কার্যালয়ে খোলা খামের ভেতরে ৩৭টি ব্যালট পাওয়া যায়। এই ব্যালটগুলো নিয়ে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ব্যাপক আইনি বিতর্ক চলছিল। পরে গত সেপ্টেম্বরে এক বিচারক ওই ব্যালটগুলো গণনার নির্দেশ দেন। এরপর ১৬ অক্টোবর ওয়েন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসারস ব্যালটগুলো পর্যালোচনা করে। বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায় মুহিত মাহমুদ পেয়েছেন দুই হাজার ৮৯ ভোট এবং বর্তমান মেয়র অ্যাডাম আলহারবি পেয়েছেন দুই হাজার ৭৭ ভোট।   নতুন গণনায় মুহিত মাহমুদ ১২ ভোটে এগিয়ে থাকলেও আবাসিক যোগ্যতার আইনি বিরোধ চলমান থাকায় ফলাফল চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এখন আদালতের রায়ে সেই সমস্যার সমাধান হলেও নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল অনুমোদন করেনি। তবে ওয়েন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসারস খুব শিগগিরই ওই ৩৭টি ব্যালটের আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও এর জন্য এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। উল্লেখ্য, বর্তমান মেয়র অ্যাডাম আলহারবি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে হ্যামট্রামিকের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   সংবাদ সূত্র: ওয়েন কাউন্টি সার্কিট কোর্টের নথি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম

মোহাম্মদ ইব্রাহিম নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৩:০
মিশিগানে সেনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডেমোক্রেটিক পার্টির কোন্দল প্রকাশ্যে। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানের সেনেট নির্বাচন ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের কোন্দল, প্রচারণায় স্টিভেন্সকে নিষিদ্ধ করলেন এল-সায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে আসন্ন সেনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার অনুষ্ঠানগুলো থেকে নিজ দলেরই কংগ্রেসউইম্যান হ্যালি স্টিভেন্সকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক নির্বাচনী সমাবেশের পর এল-সায়েদ সাংবাদিকদের জানান, তিনি তাঁর প্রচারণায় কোনো ধরনের 'বিভ্রান্তি বা মনোযোগ নষ্ট' করতে চান না। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মানুষ এই নির্বাচনকে এমন সব বিষয় নিয়ে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন, যার সঙ্গে এই নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই।   রোববার ডেট্রয়েটের একটি গির্জায় এই দুই নেতার একসঙ্গে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়। কংগ্রেসউইম্যান ডেবি ডিঙ্গেল সিএনএনকে জানান, তিনি স্টিভেন্সের সঙ্গে কথা বলে তাকে জানিয়েছেন যে তাদের দুজনের একসঙ্গে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি আর কার্যকর হচ্ছে না এবং একই স্থানে দুজনের উপস্থিতিতে লাভজনক কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। প্রগতিশীল নেতা এল-সায়েদ এবং তুলনামূলক মডারেট বা মধ্যপন্থী নেতা স্টিভেন্সের মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন সেনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে ডেমোক্র্যাটদের জন্য এই নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   গত আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত দলীয় প্রাইমারিতে স্টিভেন্সকে হারিয়েই এল-সায়েদ দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং এরপর স্টিভেন্স তাঁকে সমর্থনও জানিয়েছিলেন। তবে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই তিনি প্রকাশ্যে এল-সায়েদের সমালোচনা করে আসছেন। এমনকি স্টিভেন্সের বাগদত্তা জেসন টার্কিশ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।   একসঙ্গে প্রচারণায় নামার মাত্র দুদিন আগে গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধের প্রতি মার্কিন সমর্থনের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অভিযোগ এনে তৈরি একটি বিজ্ঞাপনের তীব্র নিন্দা জানাতে এল-সায়েদকে চাপ দেন স্টিভেন্স। এর জবাবে এল-সায়েদ এক কড়া বিবৃতিতে জানান, কংগ্রেসউইম্যান স্টিভেন্স তিন মাস আগে শেষ হওয়া প্রাইমারি নির্বাচনেরই যেন আবার পুনরাবৃত্তি চাইছেন। আমেরিকান ইজরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি প্রাইমারিতে তাঁকে হারাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এল-সায়েদ জোর দিয়ে বলেন, এখন সবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করা, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষের জন্য 'মেডিকেয়ার ফর অল' বা সবার জন্য চিকিৎসা নিশ্চিত করা।   এদিকে, দলের এই প্রকাশ্য বিরোধে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ডেমোক্র্যাটিক নেতারা। মিশিগানের স্টেট সিনেটর ম্যালোরি ম্যাকমোরো হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, মানুষ এখন বিজ্ঞাপন বা হ্যালি স্টিভেন্সকে নিয়ে ভাবছে না, তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও জ্বালানির দাম নিয়ে চিন্তিত। এই মুহূর্তে দলটির নিজেদের লক্ষ্য ও গুরুত্ব অনুধাবন করা জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৪:০
৩ নভেম্বরের নির্বাচনে জিতলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হবেন সাইয়েদ। ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে আবদুল এল-সাইয়েদ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। আগামী ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তিনি জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন। তবে নির্বাচনের আগে তাঁকে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। ভোটের ফলই নির্ধারণ করবে, তিনি সেই ইতিহাস গড়তে পারবেন কি না। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স।    এল-সাইয়েদের নির্বাচনী প্রচারণায় ডেমোক্রেটিক পার্টির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা সমর্থন জানিয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সম্প্রতি ডেট্রয়েটে তাঁর পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এবং সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন। এসব সমর্থন তাঁর প্রচারণায় বাড়তি গতি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।    নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জরিপে এল-সাইয়েদ এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান নিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সিএনএন ও এসএসআরএসের অক্টোবরের শেষ দিকের এক জরিপে তিনি রজার্সের চেয়ে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। অন্যদিকে ইনসাইডার অ্যাডভান্টেজের জরিপে ব্যবধান ছিল মাত্র ১ পয়েন্ট। বিভিন্ন জরিপের গড় হিসাবেও এল-সাইয়েদ এগিয়ে রয়েছেন। তবে মিশিগান একটি গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেট হওয়ায় শেষ মুহূর্তের ভোটের হিসাব নির্বাচনের ফল বদলে দিতে পারে।    নির্বাচনী প্রচারণায় এল-সাইয়েদের মুসলিম পরিচয় এবং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান শিবিরের কয়েকজন নেতা তাঁর বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এল-সাইয়েদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ধরনের সংশ্লিষ্টতার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যকে ঘিরে মিশিগানের নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পরিণত হয়েছে।    বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারাও নির্বাচনটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা ও ডেমোক্রেটিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মিনহাজ চৌধুরী আমেরিকা বাংলাকে বলেন, এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে। তাঁর ধারণা, শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যেও সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন; নির্বাচনের প্রকৃত ফল নির্ভর করবে ৩ নভেম্বরের ভোটের ওপর।    এল-সাইয়েদের সম্ভাব্য বিজয় শুধু মিশিগানের রাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম ও অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। দেশটির সিনেটে এখনো কোনো মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হননি। ফলে তাঁর জয় হলে মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনের ফল ঘোষণা পর্যন্ত।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানের ১৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬ সালে শিক্ষার্থীসংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ২২৩ জন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক বছরে ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কমেছে

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ১৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছরে ৫ হাজার ২২৩ জন শিক্ষার্থী কমেছে। ২০২৬ সালের শরৎকালীন ভর্তি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ১০৭ জনে। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার ৩৩০। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শিক্ষার্থী ভর্তির হার কমেছে প্রায় ২ শতাংশ। মিশিগান অ্যাসোসিয়েশন অব স্টেট ইউনিভার্সিটিজের (এমএএসইউ) প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্যের ১৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র তিনটিতে শিক্ষার্থীসংখ্যা কমেনি। এগুলো হলো ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান-ফ্লিন্ট এবং ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটি। বাকি ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীসংখ্যা কমেছে। গত কয়েক বছর ধরে ভর্তি পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ২০২৬ সালের এই পতনে সাম্প্রতিক অগ্রগতি অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। ২০২২ সালে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯৬ জন, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৩৩০ জনে পৌঁছেছিল।   শিক্ষার্থী হারানোর সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। গত বছরের তুলনায় সেখানে ৮৯৭ জন শিক্ষার্থী কমেছে, যা প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে, শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী হারিয়েছে লেক সুপিরিয়র স্টেট ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীসংখ্যা ১ হাজার ৪৪০ থেকে কমে ১ হাজার ২৩২ জনে দাঁড়িয়েছে, যা ১৪ দশমিক ৪ শতাংশের পতন। নর্দার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি ও ইস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটিতেও প্রায় ৬ শতাংশ করে শিক্ষার্থী কমেছে।   অন্যদিকে, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে শিক্ষার্থী বেড়েছে ৬৯৩ জন বা প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট শিক্ষার্থীসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ১৮১ জনে। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান-ফ্লিন্টে শিক্ষার্থী বেড়েছে ১৩৯ জন, যা প্রায় ২ শতাংশ। ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ১৪ জন শিক্ষার্থী বেড়ে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১৮২ জনে। তবে এই সামান্য বৃদ্ধিকে বড় ধরনের সম্প্রসারণ না বলে প্রায় স্থিতিশীল পরিস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।   মিশিগানের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীসংখ্যা কমার পেছনে কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে। মিশিগান অ্যাসোসিয়েশন অব স্টেট ইউনিভার্সিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড্যান হার্লির মতে, উচ্চমাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরে কমে আসা এই সংকটের অন্যতম কারণ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের ভ্রমণ ও শিক্ষার্থী ভিসাসংক্রান্ত নীতির প্রভাবেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তিতে বাধা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষার্থীসংখ্যা প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ও প্রবেশসংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রভাব এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওয়েস্টার্ন ইন্টারস্টেট কমিশন ফর হায়ার এডুকেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে মিশিগানে উচ্চমাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ কমতে পারে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী ধরে রাখা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার সুযোগ বাড়ানো আগামী বছরগুলোতে মিশিগানের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।   সূত্র: হায়ার এড ডাইভ, মিশিগান অ্যাসোসিয়েশন অব স্টেট ইউনিভার্সিটিজ এবং ব্রিজ মিশিগান।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মিশিগানে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেলকে হত্যার হুমকি, মিশিগান থেকে এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের (FBI) পরিচালক কাশ প্যাটেলকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অ্যান্থনি ড্যানিয়েল পালাজোলো (৪২) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তঃরাজ্য যোগাযোগের মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মিশিগানের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের কেন্দ্রীয় অ্যাটর্নির কার্যালয়।   মামলার নথি অনুযায়ী, মিশিগানের চেস্টারফিল্ড টাউনশিপের বাসিন্দা পালাজোলো অক্টোবরের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কাশ প্যাটেল ও তাঁর এক সহযোগীকে লক্ষ্য করে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ৮ অক্টোবর ওই সহযোগীকে পাঠানো একটি বার্তায় তিনি লেখেন, ওই ব্যক্তিকে হত্যার জন্য লোক ঠিক করেছেন এবং প্যাটেলও বাঁচবেন না। বার্তাটিতে তিনি নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন ‘বেবি বার্ড’ নামে। তবে প্যাটেলের ওই সহযোগীর পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।   এফবিআইয়ের বিশেষ এজেন্ট ব্রায়ান ককজেনাশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পালাজোলোর ফেসবুক ও টিকটক অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা তাঁর অবস্থান শনাক্ত করেন। ৯ অক্টোবর এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা চেস্টারফিল্ড টাউনশিপে তাঁর বাসায় গিয়ে কথা বলেন। এ সময় পালাজোলো জানান, সরকারি সংস্থাগুলো তাঁর সম্পত্তির অধিকার লঙ্ঘন করছে বলে তিনি মনে করেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তিনি ফেসবুকে হুমকিমূলক বার্তা পাঠানোর কথা স্বীকার করেন এবং ক্ষমা চেয়ে বলেন, কাউকে ক্ষতি করার ইচ্ছা তাঁর ছিল না।   তবে এফবিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরও তাঁর হুমকিমূলক যোগাযোগ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর তিনি সংশ্লিষ্ট এক এফবিআই কর্মকর্তার সরকারি ইমেইল ঠিকানায় বার্তা পাঠান। একই সঙ্গে টেক্সাসের একটি কেন্দ্রীয় আদালত, যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস এবং সুপ্রিম কোর্টেও হুমকিমূলক বার্তা পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পরদিন ওই কর্মকর্তাকে ফোন করে দুটি ভয়েস মেসেজ দেন পালাজোলো। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।   শুক্রবার মিশিগানের একটি কেন্দ্রীয় আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক ডেভিড আর গ্র্যান্ডের সামনে হাজির করা হয় পালাজোলোকে। শুনানি শেষে তাঁকে সাময়িকভাবে আটক রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। আদালতের নথি অনুযায়ী, আগামী সোমবার (২ নভেম্বর) তাঁর জামিন ও হেফাজতসংক্রান্ত শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। শুক্রবারের শুনানিতে তিনি কোনো দোষ স্বীকার বা অস্বীকার করে আবেদন করেননি। এদিকে এফবিআই এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য কেন্দ্রীয় অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। পালাজোলোর পক্ষে আদালত নিযুক্ত আইনজীবীও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।   এর আগে চলতি বছরের মার্চে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অ্যালডেন ওয়েলচ রামল নামের আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কাশ প্যাটেলের বাগ্‌দত্তা অ্যালেক্সিস উইলকিনসকে হুমকিমূলক ইমেইল পাঠানোর অভিযোগে মামলা করা হয়। ওই মামলায় রামল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং তাঁর বিচার আগামী ফেব্রুয়ারিতে হওয়ার কথা রয়েছে। পালাজোলোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আইন অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব মিশিগানের অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং সিএনএন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৪:০
আবদুল এল-সায়েদ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
আবদুল এল-সায়েদকে ভোট দিলে আপনারা ‘পাগল’, কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদিদের সতর্ক বললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটারদের উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, কোনো কৃষ্ণাঙ্গ বা ইহুদি ভোটার এল-সায়েদকে ভোট দিলে তাঁকে পাগল বলতে হবে। এর পরপরই তিনি মন্তব্য করেন, তাঁরা এমনিতেই পাগল। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে ট্রাম্পের এমন বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দক্ষিণ ক্যারোলিনার রক হিলে রিপাবলিকান পার্টির এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। সমাবেশে স্থানীয় রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাতে গিয়ে তিনি মিশিগানের আলোচিত সিনেট নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা তোলেন। সেখানে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করার পাশাপাশি তাঁকে সমর্থন করতে পারেন এমন ভোটারদেরও আক্রমণ করেন। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি যদি কৃষ্ণাঙ্গ বা ইহুদি হন এবং আবদুলকে ভোট দেন, তাহলে আপনি পাগল।’ এরপর তিনি আবার বলেন, ‘আপনারা এমনিতেই পাগল।’ তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত সমর্থকদের একাংশ হাততালি দেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য গ্রিওর প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এসব মন্তব্য উঠে এসেছে।   শুধু ভোটারদের নিয়ে মন্তব্য করেই থেমে থাকেননি ট্রাম্প। আবদুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তোলেন তিনি। তবে অভিযোগের পক্ষে নতুন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। এল-সায়েদ এর আগেও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগকে নির্বাচনী প্রচারে রাজনৈতিক আক্রমণের অংশ হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা। মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে আবদুল এল-সায়েদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। সাবেক কংগ্রেসম্যান রজার্সকে সমর্থন করছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন এল-সায়েদ। নির্বাচনের শেষ সময়ে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা বা পরিবর্তনের হিসাবেও মিশিগানের আসনটি গুরুত্বপূর্ণ।   আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ডেট্রয়েটের সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানো, সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের মতো বিষয়গুলো তাঁর নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচিত হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হতে পারেন। তাঁর মুসলিম পরিচয় এবং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থানও নির্বাচনী প্রচারে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।   ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। উদারপন্থী রাজনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আমেরিকান ব্রিজ টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরির মুখপাত্র ব্র্যান্ডন ওয়েদার্সবি অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট কৃষ্ণাঙ্গ, ইহুদি ও মুসলিম আমেরিকানদের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে গিয়ে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ভোটারদের অপমান করা গ্রহণযোগ্য নয়। মিশিগানের ভোটার অধিকারবিষয়ক সংগঠন র‍্যাঙ্ক এমআই ভোটের নির্বাহী পরিচালক মার্সেই আলেনও ট্রাম্পের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, নিজে কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি হওয়ায় প্রেসিডেন্টের মন্তব্য তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করেছে। আলেন বলেন, ভোটাররা নিজেদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতন এবং কাকে সমর্থন করবেন, তা নির্ধারণের অধিকার তাঁদের রয়েছে।   এর আগেও আবদুল এল-সায়েদকে সমর্থনকারী ইহুদি ভোটারদের নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। গত ২৫ অক্টোবর মিশিগানের পোর্ট হিউরনে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেন, যেসব ইহুদি ভোটার এল-সায়েদকে সমর্থন করেন, তাঁদের নিজেদের জন্য লজ্জিত হওয়া উচিত। ওই বক্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ ক্যারোলিনার সমাবেশে কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটারদের উদ্দেশে নতুন করে মন্তব্য করলেন তিনি। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভোটারদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। সে সময় ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে ইহুদি, কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিকসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, তাঁদের মাথা পরীক্ষা করানো উচিত। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমর্থকদের উদ্দেশে এমন বক্তব্য দেওয়ার প্রবণতা তাঁর নির্বাচনী প্রচারে আগেও দেখা গেছে।   এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদের পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়েছেন। ডেট্রয়েটের এক সমাবেশে তিনি এল-সায়েদের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের আক্রমণের সমালোচনা করেন। নিজের রাজনৈতিক জীবনে জন্মস্থান ও পরিচয় নিয়ে ছড়ানো বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে ওবামা বলেন, এ ধরনের প্রচেষ্টা তাঁর ক্ষেত্রেও সফল হয়নি। মিশিগানে আবদুলের ক্ষেত্রেও তা সফল হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মিশিগানের নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গ, ইহুদি, মুসলিম ও আরব আমেরিকান ভোটারদের সমর্থন দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডেট্রয়েট ও আশপাশের এলাকায় এসব জনগোষ্ঠীর ভোট নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির পর দলের বিভিন্ন অংশের সমর্থন একত্র করার চেষ্টাও চালাচ্ছেন এল-সায়েদ। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীতের বক্তব্যকে সামনে এনে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।   আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। মিশিগানের সিনেট আসনটি সেই লড়াইয়ের অন্যতম আলোচিত ক্ষেত্র। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্বাচনের ফলাফলেই স্পষ্ট হবে।    

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে সাদ্দাম হোসেনকে অর্থায়নের অভিযোগ থাকা চ্যারিটির বোর্ডে মিশিগানের সিনেট প্রার্থীর বাবা
যুক্তরাষ্ট্রে সাদ্দাম হোসেনকে অর্থায়নের অভিযোগ থাকা চ্যারিটির বোর্ডে মিশিগানের সিনেট প্রার্থীর বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সেনেট পদপ্রার্থী আবদুল এল-সাঈদের বাবার বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গেছে, তার বাবা ইমাম ড. মোহাম্মদ এল-সাঈদ এমন একটি ইসলামিক চ্যারিটি সংস্থার বোর্ডে যুক্ত রয়েছেন, যেটির বিরুদ্ধে একসময় ইরাকের প্রয়াত একনায়ক সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগ ছিল।   কর সংক্রান্ত নথিপত্র অনুযায়ী, ড. মোহাম্মদ অন্তত ২০২০ সাল থেকে ‘লাইফ ফর রিলিফ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (এলআরডি) নামের ওই চ্যারিটির বোর্ড সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। ওয়াশিংটন ফ্রি বিকন-এর এক প্রতিবেদনে সাদ্দাম হোসেনকে অর্থায়নকারী এই চ্যারিটির সাথে সিনিয়র এল-সাঈদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রথম সামনে আনা হয়।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৪ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং এফবিআই বাগদাদে এলআরডি-এর কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ২০ বাক্স নথিপত্র ও ১২টি কম্পিউটার বাজেয়াপ্ত করেছিল। তখন সংস্থাটির বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের সহায়তার সন্দেহ করা হয়েছিল।   পরবর্তীতে চ্যারিটিটির জনসংযোগ সমন্বয়ক মুথান্না আল-হানুতির বিরুদ্ধে সাদ্দাম সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয় এবং তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘনের দায় স্বীকার করেন।   মার্কিন সরকারের অভিযোগ ছিল, সংস্থাটি জর্ডান হয়ে ইরাকে সাদ্দামের কাছে আমেরিকার তহবিল পাচারের ষড়যন্ত্র করেছিল। ওই সময় মার্কিন সরকার জানিয়েছিল, এলআরডি-এর সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা পর্ষদ এই নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি জানত এবং তারাই জর্ডানের মাধ্যমে ইরাকে অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল। শেষমেশ ২০১৪ সালে ৭ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বিশাল জরিমানার বিনিময়ে মার্কিন সরকারের সাথে রফা করতে বাধ্য হয় সংস্থাটি।   সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে অর্থ পাঠানোর ইতিহাস ছাড়াও সংস্থাটির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। ২০০৬ সালে মিশিগান-ভিত্তিক এই চ্যারিটিতে এফবিআই অভিযান চালায় এবং ২০০৭ সালে এর তৎকালীন প্রধান নির্বাহীর বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগে গ্র্যান্ড জুরিতে অভিযোগ গঠন করা হয়। ওই সময় এফবিআই 'ইসলামিক আফ্রিকান রিলিফ এজেন্সি' সম্পর্কিত বিভিন্ন নথি বাজেয়াপ্ত করে, যা পরবর্তীতে আল-কায়েদাকে সমর্থন করার দায়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।   উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এল-সাঈদের জন্মদাত্রী মা ফাতেন ফাথি এলকোমিও কিছু সময় ওই আফ্রিকান রিলিফ এজেন্সিতে কাজ করেছিলেন। এছাড়া, এলআরডি এমন একটি সংস্থাকেও অর্থ পাঠিয়েছিল, যেটিকে পরে হামাসের জর্ডান শাখা বলে চিহ্নিত করে এফবিআই। এল-সাঈদের শ্বশুর জুকাকু তায়েবও একসময় এলআরডি-এর বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।   এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে মন্তব্য জানতে দ্য পোস্টের পক্ষ থেকে এল-সাঈদের নির্বাচনী প্রচার শিবির এবং এলআরডি-এর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিকে, রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকস-এর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সের চেয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন আবদুল এল-সাঈদ। তবে নির্বাচনের ঠিক আগে পরিবারের এমন বিতর্কিত অতীত সামনে আসায় তার ভোটব্যাংকে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে আলোচনায় ওবামা, মঞ্চ ছাড়ার সময় মাইক ছোড়ার ভিডিওতে ৫০ লাখ ভিউ
ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে আলোচনায় ওবামা, মঞ্চ ছাড়ার সময় মাইক ছোড়ার ভিডিওতে ৫০ লাখ ভিউ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর ডেট্রয়েটে অনুষ্ঠিত ওই প্রচারণায় সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ এবং গভর্নর প্রার্থী জসিলিন বেনসনের পক্ষে মঞ্চে ওঠেন ওবামা।   বক্তব্য শেষে মঞ্চ ছাড়ার সময় তিনি বেশ স্টাইল করে অপেক্ষমাণ এক সহকারীর দিকে নিজের মাইক্রোফোনটি ছুড়ে দেন (মাইক টস), যা উপস্থিত দর্শক ও নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।   ভাষণ দেওয়ার সময় ওবামা বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অযোগ্যতার কঠোর সমালোচনা করেন। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয় ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের সংস্কারকাজ নিয়ে তার করা একটি রসিকতা। ওবামা তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, ট্রাম্পের এই সংস্কারকাজ দেখলে মনে হয় যেন "সাদ্দাম হোসেন একটি চিজকেক ফ্যাক্টরি খুলেছেন।" তার এই তীক্ষ্ণ মন্তব্য উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনার সৃষ্টি করে।   প্রচারণার তিন দিন পর, অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর আবদুল এল-সায়েদের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের পক্ষ থেকে মাইক্রোফোন ছুড়ে দেওয়ার ওই মুহূর্তটির একটি স্লো-মোশন বা ধীরগতির ভিডিও এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি পোস্ট করার পরপরই তা নেট দুনিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং খুব দ্রুতই প্রায় ৫০ লাখ বা ৫ মিলিয়ন ভিউ সংগ্রহ করেছে। ওবামার এই স্বভাবসুলভ ক্যারিশমা ও রসবোধ মার্কিন রাজনীতির মাঠে আবারও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।  

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ডেট্রয়েটে যোগ্য বাড়ির মালিকদের সম্পত্তি কর শতভাগ পর্যন্ত মওকুফের সুযোগ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মিশিগানের ডেট্রয়েটে বাড়ির মালিকদের ১০০% পর্যন্ত কর মওকুফের সুযোগ, আবেদন শেষ ৬ নভেম্বর

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট শহরে বাড়ির মালিকদের জন্য প্রপার্টি ট্যাক্স শতভাগ পর্যন্ত মওকুফের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের যেসব পরিবার বাড়ির কর পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের জন্য এই সুবিধা চালু রেখেছে শহর কর্তৃপক্ষ। ডেট্রয়েটের Homeowners Property Exemption (HOPE) কর্মসূচির আওতায় যোগ্য বাড়ির মালিকেরা আয় ও অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রপার্টি ট্যাক্স ছাড় পেতে পারেন। ২০২৬ সালের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ৬ নভেম্বর, শুক্রবার, বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট।   ডেট্রয়েট সিটি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো আর্থিক সমস্যায় থাকা বাড়ির মালিকদের করের চাপ কমানো এবং কর বকেয়ার কারণে বাড়ি হারানোর ঝুঁকি হ্রাস করা। আবেদনকারীর পরিবারের আয়, সম্পদ, বাড়ির মালিকানা এবং বসবাসের তথ্য যাচাই করে কর মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে শহরের সব বাড়ির মালিক এই সুবিধা পাবেন না। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেতে হবে।   ২০২৬ সালের নির্ধারিত আয়ের সীমা অনুযায়ী, এক সদস্যের পরিবারের বার্ষিক আয় সর্বোচ্চ ২১ হাজার ৫৯৭ ডলার হলে শতভাগ কর মওকুফের জন্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে এই সীমা ২৬ হাজার ১৫ ডলার এবং চার সদস্যের পরিবারের জন্য ৩৩ হাজার ৪৩৬ ডলার। পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী আয়ের সীমা পরিবর্তিত হয়। তবে শুধু আয়ের শর্ত পূরণ করলেই সুবিধা নিশ্চিত হবে না। আবেদনকারীর অন্যান্য আর্থিক তথ্যও যাচাই করা হবে।   এই কর্মসূচির সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে ডেট্রয়েট শহরের বাড়িটির মালিক হতে হবে এবং সেটি তাঁর প্রধান বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ শুধু বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে কেনা কিংবা অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া বাড়ির জন্য সাধারণভাবে এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়। আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যদের আয় ও সম্পদের তথ্য জমা দিতে হবে। শহর কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সম্পদের সীমাও পূরণ করতে হবে। ফলে আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   আবেদনের জন্য বাড়ির মালিকানার প্রমাণ, সরকারি ফটো আইডি, পরিবারের আয়ের বিবরণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হতে পারে। আয়ের প্রমাণ হিসেবে পে-স্টাব, ডব্লিউ-২, সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট বা পেনশনের কাগজপত্র গ্রহণ করা হতে পারে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। যাঁরা ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেন না, তাঁদের জন্য বিকল্প নথি বা ঘোষণাপত্রের ব্যবস্থা রয়েছে।   আগ্রহী বাড়ির মালিকেরা ডেট্রয়েট সিটির সরকারি HOPE কর্মসূচির মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। সেখানে আবেদনপত্র পূরণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। যাঁদের অনলাইনে আবেদন করতে সমস্যা হয়, তাঁরা শহর কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত কমিউনিটি সহায়তা কেন্দ্রগুলোর সহযোগিতা নিতে পারেন। তবে আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ এবং প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করা জরুরি।   শুধু চলতি বছরের কর মওকুফ নয়, পুরোনো বকেয়া প্রপার্টি ট্যাক্সের ক্ষেত্রেও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। HOPE কর্মসূচিতে অনুমোদিত বাড়ির মালিকেরা ওয়েইন কাউন্টির Pay As You Stay (PAYS) কর্মসূচির জন্য বিবেচিত হতে পারেন। এই কর্মসূচিতে যোগ্য ব্যক্তিদের বকেয়া করের পরিমাণ কমানো এবং নির্দিষ্ট শর্তে সুদমুক্ত পেমেন্ট প্ল্যানের সুবিধা দেওয়া হয়। তবে পুরোনো সব বকেয়া কর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মওকুফ হবে না। এ জন্য আলাদা যোগ্যতা ও অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।   ডেট্রয়েট সিটি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৫ হাজারের বেশি বাড়ির মালিক HOPE কর্মসূচির আওতায় কর ছাড়ের অনুমোদন পেয়েছিলেন। শহরের নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে নিজ বাড়িতে বসবাস অব্যাহত রাখতে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে যেসব পরিবার সীমিত আয়ের কারণে নিয়মিত প্রপার্টি ট্যাক্স পরিশোধ করতে পারছে না, তাদের জন্য এই কর্মসূচি আর্থিক চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি করেছে।   তবে শতভাগ প্রপার্টি ট্যাক্স মওকুফের অনুমোদন পেলেও বাড়ির মালিকদের সব ধরনের ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো কিছু নির্দিষ্ট ফি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। পাশাপাশি অধিকাংশ আবেদনকারীকে প্রতিবছর নতুন করে আবেদন করতে হয়। ফলে এক বছর কর মওকুফের সুবিধা পেলেই পরবর্তী বছরগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই সুবিধা পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   মিশিগানের ডেট্রয়েটে বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটির বাড়ির মালিকদের জন্যও এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে এবং যাঁরা নিজের বাড়িতে বসবাস করছেন, তাঁরা যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করতে পারবেন। তবে ডেট্রয়েট শহরের বাইরের বাসিন্দাদের জন্য এই নির্দিষ্ট কর্মসূচি প্রযোজ্য নয়। আগ্রহীদের ৬ নভেম্বর বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের আগেই আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মুসলিম সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সমর্থনে সমাবেশে অংশ নেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ছবি: সংগৃহীত
মুসলিম সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সমর্থনে প্রচারণায় নামলেন বারাক ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মুসলিম সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সমর্থনে নির্বাচনি সমাবেশ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ডেট্রয়েট শহরে আয়োজিত সমাবেশে এল-সায়েদের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। ওবামা অভিযোগ করেন, এল-সায়েদের নাম ও মুসলিম ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সায়েদ।    ডেট্রয়েটের ক্যাস টেকনিক্যাল হাইস্কুলে অনুষ্ঠিত সমাবেশে হাজারো সমর্থকের সামনে বক্তব্য দেন ওবামা। সেখানে এল-সায়েদের পাশাপাশি মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোসেলিন বেনসনও উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় মিশিগানে আগাম ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম দিনে। নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে সাবেক প্রেসিডেন্টের এই উপস্থিতি ডেমোক্র্যাটদের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   সমাবেশে ওবামা বিশেষভাবে এল-সায়েদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর নাম কিংবা ধর্মকে ব্যবহার করে ভোটারদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করা উচিত নয়। নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতেও একই ধরনের আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ওবামার জন্মস্থান ও নাগরিকত্ব নিয়ে ভিত্তিহীন দাবি ছড়ানো হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে এল-সায়েদকে ঘিরে চলমান বিতর্কের তুলনা করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট।   মিশরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি মিশিগানের ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি বছরের আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করে সিনেটের মনোনয়ন পান তিনি। এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ও প্রথম মিশরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সিনেটর হবেন। তবে নির্বাচনের ফলাফল এখনো নির্ধারিত হয়নি।   এল-সায়েদের নির্বাচনি প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং মেডিকেয়ার ফর অল কর্মসূচির সমর্থক। অন্যদিকে ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে পাস হওয়া অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট নিয়ে অতীতে সমালোচনা করেছিলেন এল-সায়েদ। এই নীতিগত মতপার্থক্য স্বীকার করেও শনিবার তাঁর প্রতি সমর্থন জানান ওবামা। সাবেক প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, সব বিষয়ে একমত না হলেও সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানোর মতো মৌলিক লক্ষ্য তাঁদের মধ্যে অভিন্ন।   মিশিগানের সিনেট আসনটি এবার বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সায়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টির সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স। তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মিশিগানে গত ২৫ বছর ধরে রিপাবলিকানরা মার্কিন সিনেটের কোনো আসনে জয় পায়নি। তবে এবার আসনটি নিয়ে দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি প্রকাশিত একটি জনমত জরিপে দুই প্রার্থীর সমর্থনের ব্যবধান জরিপের ত্রুটিসীমার মধ্যে ছিল। ফলে ভোটের ফল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   এদিকে এল-সায়েদের বিরুদ্ধে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে একাধিকবার আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগও করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এল-সায়েদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর সঙ্গে সংগঠনটির সংশ্লিষ্টতার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। শনিবারের সমাবেশে ওবামা এসব আক্রমণের সমালোচনা করে বলেন, এল-সায়েদ মিশিগানের মানুষের স্বার্থ নিয়েই কাজ করতে চান।   শুধু এল-সায়েদের সমর্থনেই নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনাও করেন ওবামা। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পরিবর্তে প্রশাসন অন্য বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। হোয়াইট হাউসের সংস্কারকাজ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক আরোপ এবং ইরানসংক্রান্ত মার্কিন নীতিরও সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তোলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। তবে এসব বক্তব্য ওবামার রাজনৈতিক অভিযোগ, আদালতে প্রমাণিত অপরাধের সিদ্ধান্ত নয়।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওবামা মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হতে আরও দুই বছর বাকি থাকলেও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে ভোটারদের হাতে। ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনে মিশিগানের পাশাপাশি ওহাইওতেও প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি। সেখানে সিনেট প্রার্থী শেরড ব্রাউন এবং গভর্নর প্রার্থী অ্যামি অ্যাকটনের পক্ষে সমাবেশ করেন।   ওহাইওর সমাবেশে রিপাবলিকান গভর্নর প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর একটি নির্বাচনি বিজ্ঞাপনেরও সমালোচনা করেন ওবামা। বিজ্ঞাপনটিতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যামি অ্যাকটনের পারিবারিক জীবনের সংবেদনশীল বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ওবামা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিজ্ঞাপনটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ওহাইওর কয়েকজন রিপাবলিকান নেতাও বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।   এদিকে ট্রাম্পও ওবামার সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে সাবেক প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বের সমালোচনা করেন তিনি। একই সঙ্গে এল-সায়েদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নতুন করে অভিযোগ তোলেন। শনিবার জর্জিয়ার একটি নির্বাচনি সমাবেশেও ওবামার মিশিগান সফরের প্রসঙ্গ আনেন ট্রাম্প। ফলে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে দুই দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বক্তব্যের পাল্টাপাল্টি আরও বেড়েছে।   মিশিগানের ডেট্রয়েট শহর ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভোটারসমর্থনের এলাকা। শহরটিতে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর বড় অংশের বসবাস রয়েছে। আগস্টের প্রাইমারি নির্বাচনে ডেট্রয়েটসহ ওয়েইন কাউন্টিতে এল-সায়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেন্স বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এ কারণে সাধারণ নির্বাচনের আগে ওই এলাকার ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন এল-সায়েদ। এর আগে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও তাঁর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের নির্দিষ্টসংখ্যক আসনে ভোট হবে। মিশিগানের সিনেট আসনটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কংগ্রেসের উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ফল ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।    মিশিগানের মুসলিম সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের পক্ষে বারাক ওবামার সরাসরি প্রচারণা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের বিরোধিতা করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও প্রশাসনের জবাবদিহির বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটেই নির্ধারিত হবে মিশিগানের এই গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনের পরবর্তী প্রতিনিধি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জর্ডিন বিঘামসহ দুজন। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে গাছের সঙ্গে গাড়ির ধাক্কায় দুই শিক্ষার্থী নিহত, আশঙ্কাজনক আরও তিনজন

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে গাছের সঙ্গে গাড়ির ধাক্কায় দুই স্কুলশিক্ষার্থী নিহত এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৫ বছর বয়সী জর্ডিন বিঘাম। একই দুর্ঘটনায় তাঁর ১৬ বছর বয়সী বোন জ্যাডিসন বিঘাম আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোরে কালামাজু কাউন্টিতে পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহনকারী একটি গাড়ি সড়ক থেকে ছিটকে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেলে এ ঘটনা ঘটে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটে রোববার ভোর ৩টা ২৩ মিনিটের দিকে। গাড়িটিতে থাকা পাঁচজনই মাটাওয়ান হাইস্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।   পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি ওয়েস্ট আর অ্যাভিনিউ ধরে পশ্চিম দিকে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে সেটি সড়ক থেকে ছিটকে গিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   নিহতদের একজন ১৫ বছর বয়সী জর্ডিন বিঘাম। অন্যজন ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। তবে দ্বিতীয় নিহত শিক্ষার্থীর পরিচয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন জর্ডিনের বড় বোন জ্যাডিসন ‘জাডা’ বিঘাম। ১৬ বছর বয়সী জাডাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   এ ছাড়া ১৫ ও ১৭ বছর বয়সী আরও দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হলেও স্থিতিশীল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের একজনের নাম লিয়ারা ফুলার। তাঁর বাবা অনলাইনে চিকিৎসা সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার সময় মেয়ের পরিচয় প্রকাশ করেন।   নিহত জর্ডিন বিঘামের পরিবারের পক্ষ থেকেও অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, আহত জাডার সুস্থ হয়ে ওঠার পথ দীর্ঘ ও কঠিন হতে পারে। তাঁর চিকিৎসার জন্য একাধিক অস্ত্রোপচার, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং নিয়মিত পরিচর্যার প্রয়োজন হতে পারে।   একই পরিবারের এক মেয়েকে হারিয়ে অন্য মেয়ের জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে থাকা মায়ের পরিস্থিতির কথাও অর্থ সংগ্রহের আবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একজন মায়ের জন্য একই সময়ে এক সন্তানের মৃত্যুতে শোক পালন এবং অন্য সন্তানের হাসপাতালের শয্যার পাশে অপেক্ষা করার মতো কঠিন পরিস্থিতি আর হতে পারে না।   পুলিশ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিলেন। পাঁচ বন্ধু কোথায় যাচ্ছিলেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গাড়িটি কী কারণে সড়ক থেকে ছিটকে পড়েছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে।   নিহত ও আহত পাঁচ শিক্ষার্থীই মিশিগানের মাটাওয়ান হাইস্কুলে পড়াশোনা করতেন। ছোট এই শহরটির জনসংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস শহর থেকে প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণে এর অবস্থান।   দুর্ঘটনার পর স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সোমবার রাতে মাটাওয়ান হাইস্কুলের পার্কিং এলাকায় নিহতদের স্মরণে শোকসভার আয়োজন করা হয়। দুর্ঘটনাস্থলেও ফুল ও বেলুন রেখে নিহত শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।   মাটাওয়ান কনসোলিডেটেড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট র‍্যান্ডি ফ্লিনর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই কঠিন সময়ে কমিউনিটির মানুষের সহযোগিতা তাঁদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পাশে পুরো কমিউনিটি রয়েছে, এমন অনুভূতি তাঁদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   র‍্যান্ডি ফ্লিনর আরও জানান, এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পর সবাই একইভাবে শোক প্রকাশ করেন না। কেউ তাৎক্ষণিকভাবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন, আবার কেউ দীর্ঘ সময় চুপ থাকেন। অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক দিন কিংবা কয়েক সপ্তাহ পর মানসিক আঘাতের প্রভাব প্রকাশ পেতে পারে।   মাটাওয়ান হাইস্কুলে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এক হাজার একশর বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু এবং আরও তিনজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন।   এদিকে আহত তিন শিক্ষার্থীর চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিলেন, তা জানতে তদন্তের পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
মাত্র আট বছর বয়সে নিজের স্লাইমের দোকান খুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের লুনা-বেল মেজা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
খেলনার শখ থেকে সফল উদ্যোক্তা, মাত্র ৮ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব দোকান খুলল লুনা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে মাত্র আট বছর বয়সেই নিজের দোকান খুলেছে লুনা-বেল মেজা। ছোটবেলায় ঘরে আঠালো খেলনা স্লাইম তৈরি করার শখ থেকেই শুরু হয়েছিল তার ব্যবসা। সেই শখ এখন পরিণত হয়েছে স্থায়ী দোকানে। গ্র্যান্ডভিল শহরের রিভারটাউন ক্রসিংস শপিং মলে গত ১৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে তার স্লাইমের দোকান ‘মুজু স্লাইম শপ’। শুধু নিজের ব্যবসা গড়ে তোলাই নয়, অন্য শিশুদেরও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ করে দিতে চায় লুনা।   লুনার স্বপ্ন ছিল ১০ বছর বয়স হওয়ার আগেই নিজের একটি দোকান চালু করা। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় খুশি তার মা সালমা মেজাও। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই লুনার ব্যবসার প্রতি আগ্রহ ছিল। মাত্র তিন বছর বয়সে সে গোসলের সুগন্ধি বল তৈরির একটি উপকরণ সেট কিনেছিল। তখন থেকেই হাতে তৈরি জিনিস বানানো এবং সেগুলো বিক্রির প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। পরে স্লাইম তৈরির শখকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।   স্লাইম হলো আঠালো, নরম ও প্রসারণযোগ্য একধরনের খেলনা, যা নানা রং, ঘ্রাণ ও স্পর্শের বৈশিষ্ট্যে তৈরি করা যায়। ছোটবেলায় ঘরের সোফা ও কম্বলে স্লাইম লেগে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের বেশ ঝামেলা পোহাতে হতো। লুনার মা একসময় সেই শখকেই ব্যবসায় পরিণত করার উদ্যোগ নেন। পরিবারের সদস্যরা এখন স্লাইম তৈরি, প্যাকেটজাত করা ও বিক্রির কাজে সহযোগিতা করছেন। শুরুতে বিভিন্ন হস্তশিল্পের মেলা ও স্থানীয় অনুষ্ঠানে পণ্য বিক্রি করত লুনা। ধীরে ধীরে তার ব্যবসার পরিচিতি বাড়তে থাকে।   লুনার মা সালমা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন জায়গার মানুষের কাছ থেকে তাঁদের কাছে ফোন আসতে শুরু করে। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, ডেট্রয়েট, ইন্ডিয়ানা ও ইলিনয় থেকে অনেকে তাঁদের স্লাইমের দোকানে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। অথচ তখন তাঁদের স্থায়ী কোনো দোকান ছিল না। তাঁরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে স্লাইম তৈরির ব্যবস্থা করতেন, যেখানে ক্রেতারা নিজের পছন্দমতো স্লাইম তৈরি করতে পারতেন। সেই চাহিদা বাড়তে থাকায় স্থায়ী দোকান খোলার সুযোগ তৈরি হয়।   নতুন দোকানটিতে বিভিন্ন রং, ঘ্রাণ ও স্পর্শের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ১৩ ধরনের স্লাইম পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতাদের জন্য রয়েছে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী স্লাইম তৈরির বিশেষ ব্যবস্থাও। এতে তাঁরা বিভিন্ন উপকরণ বেছে নিয়ে নিজের মতো করে খেলনা তৈরি করতে পারবেন। দোকানটি শুধু পণ্য বিক্রির জায়গা নয়, শিশুদের সৃজনশীলতা ও ব্যবসায়িক দক্ষতা বিকাশের একটি সুযোগ হিসেবেও গড়ে তোলা হচ্ছে।   অন্য শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে লুনার পরিবার। দোকানে বিশেষভাবে তৈরি ছোট আকারের একটি স্লাইম বিক্রির পুরো আয় স্থানীয় অলাভজনক সংস্থা ‘দ্য প্লেগ্রাউন্ডজিআর’-কে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দোকানের সামনে শিশুদের জন্য একটি বাজার আয়োজন করা হবে, যেখানে তারা নিজেদের তৈরি পণ্য বিক্রি করতে পারবে। দোকানের একটি তাকও অন্য শিশু উদ্যোক্তাদের পণ্যের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে। এ জন্য তাদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন সালমা মেজা।   লুনার এই উদ্যোগে পরিবারের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্লাইম তৈরির উপকরণ প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে পণ্য প্যাকেটজাত করা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা পাশে রয়েছেন। আট বছর বয়সেই নিজের শখকে ব্যবসায় রূপ দিয়ে লুনা যেমন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, তেমনি অন্য শিশুদেরও নিজেদের উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে চাইছে।   সূত্র: ফক্স ১৩ টাম্পা বে, মুজু স্লাইম শপের ওয়েবসাইট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোটগণনায় ঐতিহাসিক জয়, যুক্তরাষ্ট্রে মেয়র হওয়ার পথে বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোটগণনায় ঐতিহাসিক জয়, যুক্তরাষ্ট্রে মেয়র হওয়ার পথে বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ

মিশিগানের হ্যামট্রামিক শহরের মেয়র নির্বাচনে এত দিন গণনার বাইরে থাকা ৩৭টি ব্যালট যুক্ত হওয়ার পর ভোটের হিসাবে এগিয়ে গেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ওয়েইন কাউন্টির নির্বাচন কর্মকর্তাদের গণনায় তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৮৯ ভোট। বর্তমান মেয়র অ্যাডাম আলহারবি পেয়েছেন ২ হাজার ৭৭ ভোট। ব্যবধান ১২। পরিবর্তিত ফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করা হয়নি।    ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বরের নির্বাচনের রাতের বেসরকারি হিসাবে আলহারবি ১১ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ১৮ নভেম্বর প্রত্যয়িত ফলে ব্যবধান কমে হয় ছয় ভোট। পরে ২ ডিসেম্বর পুনর্গণনায় আলহারবি পান ২ হাজার ৭১ ভোট, মাহমুদ ২ হাজার ৬০ ভোট। সেই হিসাবেও বিতর্কিত ৩৭টি ব্যালট যুক্ত হয়নি।    নির্বাচনের পর সিটি ক্লার্কের দপ্তরে ব্যালটগুলো পাওয়া যায়। সেগুলোর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি ওঠায় ওয়েইন কাউন্টির বোর্ড অব ক্যানভাসার্সে গণনার প্রশ্নে ২–২ ভোটে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। ব্যালট বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যান মাহমুদ। আলহারবির আপত্তি ছিল, ব্যালটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি।    গত ২৭ মার্চ মিশিগান কোর্ট অব আপিলস ব্যালটগুলো গণনার নির্দেশ দেয়। আগস্টে রাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট আপিল শুনতে রাজি না হওয়ায় সেই নির্দেশ বহাল থাকে। পরে ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্ট ১৬ অক্টোবরের মধ্যে গণনা শেষ করতে বলে।    ভোটের হিসাবে মাহমুদ এগিয়ে গেলেও মেয়র পদে পরিবর্তন এখনই হচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পরিবর্তিত ফল প্রত্যয়নের আগে বিচারকের পরবর্তী সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। মাহমুদ হ্যামট্রামিকের বাসিন্দা হিসেবে মেয়র পদে যোগ্য কি না, তা নিয়েও আলহারবির পৃথক আইনি আপত্তি রয়েছে। মাহমুদ ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আলহারবির আইনজীবী নতুন গণনা নিয়ে আবার ভোট পুনর্গণনার আবেদন করার কথা জানিয়েছেন।    আইনি লড়াইয়ের ব্যয় বহন নিয়েও শহরে বিতর্ক হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হ্যামট্রামিক রিভিউ সরকারি নথির ভিত্তিতে জানিয়েছে, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত আলহারবির আইনি ব্যয়ের বিল ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৪২ ডলার; মোট ব্যয় দুই লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে।  সূত্র: সিবিএস ডেট্রয়েট, মিশিগান কোর্ট অব আপিলসের রায়, ভোটবিট ও দ্য হ্যামট্রামিক রিভিউ।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে ল্যান্সিং রিভার ট্রেইলে ৫ জনের রহস্যজনক মৃ ত্যু, সিরিয়াল কিলারের আতঙ্কে সতর্কতা
মিশিগানে ল্যান্সিং রিভার ট্রেইলে ৫ জনের রহস্যজনক মৃ ত্যু, সিরিয়াল কিলারের আতঙ্কে সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ল্যান্সিং রিভার ট্রেইল এলাকায় সম্প্রতি পাঁচজনের রহস্যজনক মৃত্যু ও হামলার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিগ টেন কলেজ টাউন হিসেবে পরিচিত মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্ভাব্য এই সিরিয়াল কিলারের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ল্যান্সিং পুলিশ বিভাগ বর্তমানে তদন্ত করে দেখছে যে, জনপ্রিয় এই রিভার ট্রেইলে ওঁত পেতে থাকা কোনো এক আক্রমণকারীর সাথে গত এক বছরে ঘটা এই পাঁচটি মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না।   এই ভীতিকর পরিস্থিতিতে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কারেন হোল্ট শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে যৌক্তিক হওয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, একক বা ধারাবাহিক খুনিরা সাধারণত দুর্বল এবং ভবঘুরে মানুষদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। কারণ অপরাধীরা মনে করে এ ধরনের মানুষদের ওপর হামলা করলে তাদের ধরা পড়ার ঝুঁকি কমে যায়। হোল্টের মতে, কোনো এলাকায় এভাবে মানুষ আক্রান্ত হলে সেই কমিউনিটিকে আর নিরাপদ বলা চলে না।   গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এই ট্রেইলে পাঁচজন পুরুষ হামলার শিকার হন। পুলিশি তথ্যমতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে জিনো চুইনার্ড (৫৪) এবং ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডেনিস ডানবাকেকে (৭০) অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর তারা মারা যান, যাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও অজানা। অন্যদিকে, জুলাইয়ে রবার্ট স্মিথ (৫৭) এবং আগস্টের শেষে লুইস উডরাফ (৫৭) মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মারা যান। চিকিৎসা কর্মকর্তারা এই দুটি মৃত্যুকে ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করেছেন।   তবে এই ঘটনাগুলোর মধ্যে ২২ বছর বয়সী ড্যানিয়েল লাস্কের মৃত্যুর ধরনটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাকে গত ২০ আগস্ট ইস্ট মিশিগান অ্যাভিনিউ ব্রিজের নিচে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় গত ৩ সেপ্টেম্বর ২৩ বছর বয়সী এডওয়ার্ড জোসেফ স্মিথকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে অন্য চারটি মৃত্যুর সাথে স্মিথের কোনো সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়নি।   অধ্যাপক হোল্ট ড্যানিয়েলের হত্যার ধরনটি ভিন্ন হওয়ায় ভুক্তভোগী ও অপরাধীর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আরও তদন্তের ওপর জোর দিয়েছেন। সম্ভাব্য সিরিয়াল কিলারের বিষয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত করে কিছু না জানালেও, সতর্কতা হিসেবে জনসাধারণকে ওই নির্দিষ্ট ট্রেইলটি এড়িয়ে বিকল্প পথে হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক হোল্ট।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ছয় দিনের ব্যবধানে পৃথক দুই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশি তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রে ছয় দিনের ব্যবধানে পৃথক দুটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই বাংলাদেশি তরুণ। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ২৪ বছর বয়সী শাহ আহসান আরদি এবং মিশিগানের ওয়ারেন শহরে মাহবুব রহমানের মৃত্যু হয়েছে। দুই দুর্ঘটনায় দুই তরুণের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।   প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে ৩ অক্টোবর ভোরে নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে। পুলিশকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ টুয়েলভ জানায়, ভোর আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে মেজর ডিগ্যান এক্সপ্রেসওয়ের উত্তরমুখী লেনে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন ওয়েকফিল্ড এলাকার বাসিন্দা শাহ আহসান আরদি। ম্যাকম্বস ড্যাম ব্রিজের কাছে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গার্ডরেলে ধাক্কা দেন। সংঘর্ষের পর তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে এক্সপ্রেসওয়ের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য এক্সপ্রেসওয়ের উত্তরমুখী লেনগুলো প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।   দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে ৯ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে মিশিগানের ওয়ারেন শহরে। আওয়াজবিডি ও আমেরিকা বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরের ১২ মাইল রোড ও হুভার রোডের সংযোগস্থলে মাহবুব রহমানের মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর তাঁকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ওয়ারেন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে মাহবুব রহমানের বয়স, পারিবারিক পরিচয় এবং সংঘর্ষের বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   দুটি ঘটনাই আলাদা অঙ্গরাজ্যে ঘটলেও কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু প্রবাসী কমিউনিটির জন্য বেদনাদায়ক খবর। নিউইয়র্কের দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গার্ডরেলে ধাক্কা লাগার কথা পুলিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে, মিশিগানের ঘটনায় অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। উভয় দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল জানা গুরুত্বপূর্ণ।   প্রবাসে কাজ ও জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে সড়কে নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা ব্যক্তিকে দায়ী করা যাচ্ছে না। দুই তরুণের মৃত্যুতে তাঁদের পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সংবাদমাধ্যমগুলো।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে অপরিচিত মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ১৯ বছরের হেজাম হুসেইন
মিশিগানে অপরিচিত মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ১৯ বছরের হেজাম হুসেইন

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে হাইওয়েতে দুর্ঘটনার শিকার অপরিচিত মানুষদের সাহায্য করতে গিয়ে গাড়িচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এক মুসলিম তরুণ। নিহতের নাম হেজাম হুসেইন। তিনি মিশিগানের ডিয়ারবর্ন শহরের বাসিন্দা ছিলেন। গত শনিবার (৩ অক্টোবর) গভীর রাতে সাউথফিল্ড এলাকায় লজ ফ্রিওয়েতে দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের সাহায্য করার সময় আরেকটি গাড়ির ধাক্কায় তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার ডিয়ারবর্নে তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তরুণের এমন মৃত্যুতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   মিশিগান স্টেট পুলিশের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিবিএস ডেট্রয়েট জানিয়েছে, শনিবার রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে সাউথফিল্ডের নাইন মাইল রোডের কাছে এম-১০ লজ ফ্রিওয়ের দক্ষিণমুখী অংশে দুটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর একটি গাড়ি বিকল হয়ে হাইওয়ের বাঁ পাশের দুটি লেন আটকে দেয়।   ঠিক সেই সময় ওই হাইওয়ে দিয়ে যাচ্ছিলেন হেজাম হুসেইন। দুর্ঘটনাটি দেখে তিনি নিজের গাড়ি রাস্তার ডান পাশের শোল্ডারে থামান। এরপর গাড়ি থেকে নেমে হাইওয়ে পার হয়ে দুর্ঘটনাকবলিত মানুষদের সাহায্য করতে এগিয়ে যান।   পুলিশ জানিয়েছে, হুসেইন প্রথম দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি কেবল বিপদে পড়া মানুষদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে গাড়ি থামিয়েছিলেন।   কিন্তু সাহায্য করার সময়ই ঘটে আরেকটি দুর্ঘটনা। হাইওয়ে দিয়ে আসা একটি গাড়ির চালক সামনে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িটি এড়ানোর চেষ্টা করেন। এ সময় নিয়ন্ত্রণ সামলাতে গিয়ে তাঁর গাড়িটি হুসেইনকে ধাক্কা দেয়।   গুরুতর আহত অবস্থায় হুসেইনকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন মিশিগান স্টেট পুলিশ, সাউথফিল্ড পুলিশ এবং ফায়ার ডিপার্টমেন্টের জরুরি উদ্ধারকর্মীরা। ঘটনাস্থলেই তাঁকে সিপিআরসহ জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, যে চালকের গাড়ির ধাক্কায় হুসেইনের মৃত্যু হয়েছে, তিনি ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যাননি। বরং সেখানে অবস্থান করে তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেছেন।   প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার সঙ্গে অ্যালকোহল কিংবা মাদকের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। মিশিগান স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে।   এদিকে সোমবার (৫ অক্টোবর) ডিয়ারবর্নে হেজাম হুসেইনের জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা তাঁকে শেষবিদায় জানাতে উপস্থিত হন।   তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনেরা। তাঁদের কাছে হুসেইন ছিলেন শান্ত স্বভাবের, ভদ্র এবং অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে আসা একজন তরুণ।   সিবিএস ডেট্রয়েটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুসেইনের চাচাতো ভাই আবদুল গালেব জানান, অপরিচিত মানুষকে সাহায্য করার জন্য গাড়ি থামানোর ঘটনা হুসেইনের স্বভাবের সঙ্গেই মিলে যায়। তিনি সব সময় অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে আসতে চাইতেন।   হুসেইনের বন্ধু মোহাম্মদ হাসান ও হাচ আলসায়েদিও তাঁকে একজন দয়ালু ও সাহায্যপ্রবণ মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন। তাঁদের ভাষায়, হুসেইনের ব্যবহার ও মানুষের প্রতি আন্তরিকতা তাঁকে পরিচিতজনদের কাছে বিশেষ করে তুলেছিল।   হুসেইনের সাবেক একজন শিক্ষকও তাঁর স্মৃতিচারণ করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, হুসেইন ছিলেন শান্ত, বিনয়ী, ভদ্র ও শ্রদ্ধাশীল একজন শিক্ষার্থী। অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতাও তাঁর মধ্যে ছিল।   দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী কেনেডি মনক্রিফ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউডিআইভি লোকাল ফোরকে জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর বান্ধবী একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে প্রথম দুর্ঘটনাটি দেখতে পান। এরপর তাঁরা রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে ৯১১ নম্বরে ফোন করেন।   কিছুক্ষণের মধ্যেই আরেকটি গাড়ি এসে থামে। সেই গাড়ির চালক ছিলেন হেজাম হুসেইন। তিনি গাড়ি থেকে নেমে দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের সাহায্য করতে এগিয়ে যান। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে আরেকটি গাড়ি ধাক্কা দেয়।   প্রত্যক্ষদর্শী মনক্রিফ হুসেইনকে একজন নিঃস্বার্থ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অপরিচিত মানুষের বিপদে এগিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে হুসেইন মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন।   হুসেইনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির সদস্যরা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য দোয়া করেছেন।   অনেকে আল্লাহর কাছে হুসেইনকে জান্নাত দান এবং তাঁর পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দেওয়ার প্রার্থনা জানিয়েছেন।   এদিকে দুর্ঘটনার পর হাইওয়েতে অন্যদের সাহায্য করতে গিয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনাটি সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   মিশিগান স্টেট পুলিশের লেফটেন্যান্ট টাই হাওয়ার্ড স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হাইওয়েতে দুর্ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষ অনেক সময় সাহায্য করতে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। কিন্তু দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।   তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, হাইওয়েতে দুর্ঘটনা দেখলে নিরাপদ অবস্থান থেকে জরুরি সেবায় ফোন করা উচিত। কারণ পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদে রাস্তা নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম রয়েছে।   মিশিগানের মুভ ওভার আইন অনুযায়ী, জরুরি সেবার গাড়ি নির্ধারিত সতর্কতামূলক আলো জ্বালিয়ে রাস্তার পাশে অবস্থান করলে অন্য চালকদের পরিস্থিতি অনুযায়ী লেন পরিবর্তন অথবা গতি কমিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হয়।   হেজাম হুসেইনের মৃত্যু তাঁর পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে এসেছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তাঁর জীবন শেষ হলেও শেষ মুহূর্তে অপরিচিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাটি স্থানীয় কমিউনিটির মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।   মিশিগান স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প ও আবদুল এল-সাইয়েদের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব
ব্যঙ্গ করে ‘মোহাম্মদ’ নামে আবদুল এল-সাইয়েদকে সম্বোধন ট্রাম্পের, সঙ্গে দিলেন ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ তকমাও

মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে নিয়ে নতুন করে তীব্র আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আক্রমণের ভাষার পাশাপাশি এবার ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে প্রার্থীর নাম নিয়েও তৈরি হয়েছে আলোচনা। আবদুল এল-সাইয়েদের বদলে তাকে ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ নামে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। এরপর তাকে ‘চরমপন্থী’ ও ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি।   বুধবার রাতে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ ডেমোক্র্যাটদের জন্য একজন ‘ভয়ংকর প্রার্থী’। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, এল-সাইয়েদ ‘জিহাদের সময়ের’ সঙ্গে যুক্ত এবং তাকে ‘চরমপন্থী’ ও ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ হিসেবে আখ্যা দেন।   তবে ট্রাম্পের পোস্টে ব্যবহৃত ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ নামে মিশিগানের এবারের সিনেট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী নেই। নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আবদুল এল-সাইয়েদ। ফলে ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে নামটি বদলে লিখেছেন, নাকি ভুল করে লিখেছেন—তা স্পষ্ট নয়।   ট্রাম্প তার পোস্টে এল-সাইয়েদের সঙ্গে অনলাইন স্ট্রিমার হাসান পিকারকে নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি এল-সাইয়েদকে পিকারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে দুজনকেই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করেন। তবে এসব মন্তব্যের পক্ষে ওই পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি ট্রাম্প।   একই পোস্টে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থনও ঘোষণা করেন। তিনি রজার্সকে অত্যন্ত ভালো প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে মিশিগানের ভোটারদের তার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।   মিশিগানের সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমানে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ আলোচিত। আবদুল এল-সাইয়েদ আগস্টে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি জিতে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স।   সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে এল-সাইয়েদ ও রজার্সের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন পোস্ট-শার স্কুল জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদ ৪৮ শতাংশ এবং রজার্স ৪৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। জরিপটির মার্জিন অব এরর ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট, অর্থাৎ ব্যবধানটি পরিসংখ্যানগতভাবে খুব বড় নয়।   এল-সাইয়েদকে নিয়ে রিপাবলিকানদের আক্রমণ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে থেকেই তার রাজনৈতিক অবস্থান, বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান প্রচারে তাকে আক্রমণ করা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোর কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।   অন্যদিকে এল-সাইয়েদ তার প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও বাণিজ্যের মতো স্থানীয় ইস্যুকে সামনে রাখছেন। তার প্রচারণার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।   রজার্সও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু নীতির সঙ্গে প্রকাশ্যে ভিন্নমত দেখিয়েছেন। বিশেষ করে কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান শুল্ক বিরোধ শেষ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। মিশিগানের কানাডার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় এই ইস্যুটি তার প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছে।   তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্টে রজার্সের প্রতি তার সমর্থন স্পষ্ট। আর আবদুল এল-সাইয়েদের নাম ‘মোহাম্মদ’ লিখে তাকে ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ বলার বিষয়টি মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট লড়াইয়ে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক প্রচারের নতুন উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।   মিশিগানের সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। ভোটের আগে দুই দলের প্রচারণা আরও তীব্র হওয়ার পাশাপাশি প্রার্থীদের ঘিরে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণও বাড়তে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানের ডে-কেয়ার সেন্টারে তিন বছর বয়সী এক শিশুর ব্যাগে গুলিভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ডে-কেয়ারে ব্যাগের ভেতর গুলিভর্তি বন্দুক নিয়ে হাজির ৩ বছরের শিশু

মিশিগানের একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে তিন বছরের এক শিশুর ব্যাগ থেকে গুলিভর্তি পিস্তল বের করে অন্য শিশুদের মধ্যে ঘোরানোর ঘটনায় তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশুটির বাবা ব্র্যান্ডন জন এলি একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর বিরুদ্ধে চতুর্থ মাত্রার শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মা রাবাব ইব্রাহিম আল জায়াদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র অনিরাপদভাবে সংরক্ষণের অভিযোগ।   ঘটনাটি ঘটে ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে মিশিগানের ক্যান্টন টাউনশিপের চিলড্রেনস ওয়ার্ল্ড আর্লি লার্নিং সেন্টারে। ওয়েন কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে পুলিশ ওই ডে-কেয়ারে খবর পেয়ে যায়। অভিযোগ, শিশুটি শ্রেণিকক্ষে রাখা একটি ব্যাগ থেকে হোলস্টারে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে। পরে সেটি অন্য কয়েকজন শিশুর হাতেও যায়। একজন শিক্ষক বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে অস্ত্রটি শিশুদের কাছ থেকে সরিয়ে নেন।   পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্রটি গুলিভর্তি ছিল এবং ঘটনার সময়ও হোলস্টারের ভেতরে ছিল। তবে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি এবং কোনো শিশু বা শিক্ষক আহত হননি। ক্যান্টন পুলিশের প্রধান জোসেফ বিয়ালি ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও দেখেছেন। তাঁর ভাষায়, ভিডিওতে তিন বছরের শিশুকে ব্যাগ থেকে অস্ত্রটি বের করতে দেখা ‘বিস্ময়কর’ হলেও ডে-কেয়ারের কর্মীর দ্রুত পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।   ওয়েন কাউন্টির প্রসিকিউটর কিম ওয়ার্থি বলেন, এই ঘটনায় কী ঘটতে পারত, তা ভাবাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, কোনো প্রাণহানি না হওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আদালতে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে অভিযোগগুলো প্রমাণ করার মতো তথ্য-প্রমাণ তাদের রয়েছে।   সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যান্ডন জন এলি, ২৮, এবং রাবাব ইব্রাহিম আল জায়াদ, ২৭, উভয়েই ওয়েন কাউন্টির বাসিন্দা। ১ অক্টোবর প্লাইমাউথের ৩৫তম ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে বিচারক জো ব্যারোনের সামনে তাদের হাজির করা হয়। এলির বিরুদ্ধে চতুর্থ মাত্রার শিশু নির্যাতরের অভিযোগটি এক বছরের মেয়াদের একটি লঘু অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আর জায়াদের বিরুদ্ধে অনিরাপদভাবে আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষণের অভিযোগটি সর্বোচ্চ ৯৩ দিনের শাস্তিযোগ্য লঘু অপরাধ।   আদালত উভয়ের ওপর ১০ হাজার ডলারের ব্যক্তিগত বন্ড নির্ধারণ করেছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে তাদের ডে-কেয়ার কেন্দ্রে না যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিচারক দুজনকেই কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নিজেদের কাছে না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এলি আদালতে জানিয়েছিলেন, তার বাড়িতে তিনটি নিরাপদ সংরক্ষণাগারে মোট নয়টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তবে সেগুলোও হস্তান্তরের নির্দেশ দেন বিচারক।   এলি ডেট্রয়েট পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলাটি চলাকালে তাকে প্রশাসনিক দায়িত্বে রাখা হয়েছে এবং দায়িত্ব পালনের সময়ও আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর আইনজীবী কর্মস্থলে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র রাখার অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে বিচারক সেই অনুরোধ নাকচ করেন।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অস্ত্রটি এলির চাকরির জন্য সরবরাহ করা অস্ত্র ছিল না। তবে কীভাবে শিশুটি ব্যাগ থেকে অস্ত্রটি বের করার সুযোগ পেল, সে বিষয়ে তদন্তে অনিরাপদ সংরক্ষণের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাগটি শ্রেণিকক্ষেই রাখা ছিল এবং শিশুটি সেখান থেকে অস্ত্রটি বের করে।   ঘটনার পর চিলড্রেনস ওয়ার্ল্ড আর্লি লার্নিং সেন্টার পরিবারটিকে প্রতিষ্ঠান থেকে বাদ দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশু ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। কেন্দ্রটি আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে শিশুদের ব্যাগ তল্লাশির মতো অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ডে-কেয়ার কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে তাদের কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। বিশেষ করে যে শিক্ষক অস্ত্রটি দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের কাছ থেকে সেটি সরিয়ে নেন, তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের প্রধান জোসেফ বিয়ালিও কর্মীদের প্রশংসা করে বলেছেন, শ্রেণিকক্ষে দায়িত্বে থাকা শিক্ষক দ্রুত পরিস্থিতি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ায় শিশুদের নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়েছে।   মিশিগানের আইনে শিশু উপস্থিত থাকলে বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদভাবে তালাবদ্ধ করে রাখার বিধান রয়েছে। ক্যান্টন পুলিশও ঘটনার পর আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদে সংরক্ষণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। মামলাটি এখন আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে এবং পরবর্তী শুনানি ৩০ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে।   সূত্র: ওয়েন কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য, WDIV, দ্য ডেট্রয়েট নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
মোহাম্মদ আব্দুর রহিম
মেয়েকে ড্রাইভিং শেখাতে গিয়ে বাংলাদেশি বাবার মৃত্যু, পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটির তহবিল সংগ্রহ

মিশিগানের ওয়ারেনে মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখানোর সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি আমেরিকান মোহাম্মদ আব্দুর রহিম। রোববার বিকেলে নিজ বাসার সামনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটির উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহও শুরু হয়েছে।    স্থানীয় সময় ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ওয়ারেনের ওয়ার্নার অ্যাভিনিউয়ের ২৪ হাজার ব্লকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৬২ বছর বয়সী আব্দুর রহিম তার ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাচ্ছিলেন। গাড়ি ঘুরিয়ে পার্ক করার অনুশীলনের একপর্যায়ে গাড়িটি হঠাৎ পেছনের দিকে চলে গিয়ে তাকে ধাক্কা দেয় এবং কিছু দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।    দুর্ঘটনার সময় তার মেয়ে ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। ঘটনাটি তদন্ত করছে ওয়ারেন পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক ক্র্যাশ রিকনস্ট্রাকশন ইউনিট। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার সঙ্গে মাদক বা অ্যালকোহলের সংশ্লিষ্টতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী বা ঘটনার বিষয়ে তথ্য থাকা ব্যক্তিদের তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বানও জানিয়েছে পুলিশ।    আমেরিকা বাংলার কমিউনিটি সূত্রে নিহতের নাম মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এবং তার বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিবার ও কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে বড় মেয়ের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন। তার একমাত্র ছেলে বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে তাদের পারিবারিক বাড়ি রয়েছে বলেও জানা গেছে।    আব্দুর রহিমের আকস্মিক মৃত্যুতে মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। যে বাবা মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই শেখানোর সময়ই ঘটে গেল তার জীবনের শেষ দুর্ঘটনা।   এদিকে পরিবারের আর্থিক সংকটও আরও গভীর হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আব্দুর রহিম ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। তার আকস্মিক মৃত্যুতে একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে জানাজা ও দাফনের খরচ, বাসাভাড়া, খাবার, বিল এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ পরিবারের ওপর এসে পড়েছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত মেয়েটিও কঠিন মানসিক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে পরিবারকে সহায়তার জন্য শুরু করা তহবিল সংগ্রহের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   পরিবারের সম্মতিতে তাদের পাশে দাঁড়াতে অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু করা হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা করার জন্য কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা সম্ভব না হলে তহবিল সংগ্রহের তথ্যটি অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পরিবারের জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।   মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ এগিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি পুলিশ।     সহযোগিতা করতে: https://www.launchgood.com/v4/campaign/help_a_grieving_warren_family?src=6954850

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ক্যান্টন শহরের চিলড্রেনস ওয়ার্ল্ড আর্লি লার্নিং সেন্টার ডে কেয়ার। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানের ডে কেয়ারে শিশুর ব্যাগে গুলিভরা পিস্তল, তদন্তে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ক্যান্টন শহরের একটি ডে কেয়ারে সোমবার একটি শিশু ব্যাগ থেকে গুলিভরা পিস্তল বের করে। কর্মীরা দ্রুত অস্ত্রটি দেখতে পেয়ে ব্যবস্থা নেওয়ায় কেউ আহত হয়নি। ঘটনার তদন্তে শিশুটির এক অভিভাবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে; তিনি পাশের একটি এলাকার পুলিশ কর্মকর্তা।   ক্যান্টনের পুলিশপ্রধান জোসেফ বিয়ালি সংবাদ সম্মেলনে জানান, পিস্তলটি ওই অভিভাবকের, তবে এটি তাঁর দায়িত্ব পালনের অস্ত্র নয়। কীভাবে অস্ত্রটি শিশুর নাগালে এল, তা তদন্ত করা হচ্ছে।   ডে কেয়ারের ভিডিওতে শিশুটিকে ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করতে দেখা গেছে বলে জানান বিয়ালি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় কক্ষে থাকা একজন কর্মী বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন এবং শিশুদের নিরাপদে রাখেন।   পুলিশপ্রধান বলেন, প্রাথমিকভাবে কারও ক্ষতি করার উদ্দেশ্য ছিল বলে তাঁর মনে হচ্ছে না। তবে আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদে রাখা এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা হয়েছে কি না, সেটিই এ ঘটনার মূল প্রশ্ন।   ডে কেয়ারটিতে আগে থেকেই নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। ঘটনার পর সব শিশুর ব্যাগ পরীক্ষা করার নিয়ম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিয়ালি। তদন্ত চলমান থাকায় হেফাজতে নেওয়া অভিভাবকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা পুলিশ জানায়নি।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

৭২ বছর বয়সী শিশু চিকিৎসক ডা. ফজল ইউসুফ

নিউইয়র্কে কিশোরী রোগীকে যৌন নিপীড়নে বাংলাদেশি শিশু চিকিৎসক গ্রেপ্তার

অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০