- প্রচ্ছদ
- Topic
মিশিগান
মিশিগানে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারি নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই গুরুত্বপূর্ণ একটি সমর্থন পেলেন প্রগ্রেসিভ প্রার্থী ডা. আবদুল এল-সায়েদ। ওয়েন কাউন্টি ডেপুটি শেরিফস অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স সামাজিক মাধ্যমে জানান, এল-সায়েদের পক্ষে এখন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিভিন্ন সংগঠন মিলিয়ে ২০০টিরও বেশি এনডোর্সমেন্ট রয়েছে। আগামী ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে আবদুল এল-সায়েদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স। এই নির্বাচনকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগ্রেসিভ ও প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ওয়েন কাউন্টির সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক। ২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক মনোনয়নের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে লড়ছেন। তার প্রচারণায় ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন বার্নি স্যান্ডার্স, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ, রাশিদা তালিব, এলিজাবেথ ওয়ারেনসহ ডেমোক্রেটিক পার্টির একাধিক প্রগ্রেসিভ নেতা। পাশাপাশি ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স (ইউএডব্লিউ), ন্যাশনাল নার্সেস ইউনাইটেডসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও নাগরিক সংগঠনও তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে এল-সায়েদকে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির অন্যতম শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে দেখা যাচ্ছে। যদিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনও হাড্ডাহাড্ডি, তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তে বড় বড় এনডোর্সমেন্ট তার প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে। ডেমোক্রেটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পারলে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তার মুখোমুখি হবেন রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। মিশিগান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটগুলোর একটি। ফলে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হলেও সাধারণ নির্বাচনে তাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে। তবে আবদুল এল-সায়েদের প্রার্থিতা ইতোমধ্যেই জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে আরেকটি কারণে। তিনি যদি ডেমোক্রেটিক মনোনয়ন জিতে পরবর্তীতে সাধারণ নির্বাচনেও বিজয়ী হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড গড়বেন। এই সম্ভাবনাই তার প্রচারণাকে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে গত পাঁচ সপ্তাহে সাইক্লোস্পোরাসিসে আক্রান্ত হয়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষের রোগী শনাক্ত হয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৭০টি কাউন্টিতে মোট ১০ হাজার ৭৭ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। প্রতিদিন শত শত নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে। মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস জানিয়েছে, গত ২২ জুন থেকে ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে এই বিপুল সংখ্যক রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গত ২৩ জুলাই পর্যন্ত অন্তত ১৬০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। মূলত সাইক্লোস্পোরা কায়েটানেনসিস নামের একটি পরজীবীর কারণে এই ডায়রিয়াজনিত রোগ ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ঘন ঘন পাতলা পায়খানা, বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা, পেট ফাঁপা এবং চরম ক্লান্তি ও দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। প্রাদুর্ভাবের উৎস খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, গত জুনের শেষের দিকে মনরো কাউন্টিতে প্রথম এই রোগের বিস্তার ধরা পড়ে। বর্তমানে মিশিগানের ৭০টি কাউন্টিতে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, যার মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগানের অবস্থা সবচেয়ে বেশি গুরুতর। শুধুমাত্র ওয়েইন কাউন্টিতেই এক হাজারেরও বেশি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ইটন, জেনেসি, ইনহ্যাম, লেনাওয়ে, ওকল্যান্ড, শিয়াওয়াসি, ওয়াসেনাওয়া এবং ওয়েইন কাউন্টির প্রতিটিতে তিনশটির বেশি সংক্রমণ পাওয়া গেছে। রাজ্যটিতে সাধারণত বছরে মাত্র ৫০টি এমন ঘটনা দেখা যেত, যা এবারের পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন করে তুলেছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১৩ জুলাই পরীক্ষার মাধ্যমে লেটুস বা সালাদ গ্রিনকে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীতে ২৪ জুলাই সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল বা সিডিসি জানায়, জনপ্রিয় ফাস্ট ফুড চেইন টেকো বেলের একটি লেটুস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে জড়িত। তবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এই রোগের একাধিক ভিন্ন ক্লাস্টার বা উৎস সক্রিয় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই স্বাস্থ্য সংকটের প্রভাব পড়েছে মানুষের খাবার এবং কেনাকাটার অভ্যাসেও। সিবিএস নিউজের এক সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, পরজীবীর ভয়ে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৪ জন আমেরিকানই ফলমূল ও শাকসবজি কম কিনছেন বা খাচ্ছেন। সুপারমার্কেটে লেটুসের বিক্রি কমে যাওয়ার পাশাপাশি যেসব রেস্তোরাঁর মেন্যুতে লেটুস প্রধান উপাদান, সেখানেও গ্রাহকদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। রোগ প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ নাগরিকদের বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফল ও শাকসবজি কাটার বা রান্নার আগে চলমান পানিতে ভালোভাবে ধোয়া, মেলন বা শসার মতো শক্ত সবজি ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করা, নষ্ট বা পচা অংশ কেটে ফেলা এবং কাটা বা রান্না করা সবজি দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড হেভেন টাউনশিপে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের আট সদস্যের মৃত্যুর এই করুণ ঘটনাটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যা ও আত্মহত্যা হিসেবে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ৪৭ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার ক্যারোলকিউইজ নামের এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী ও ছয় সন্তানকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যার পর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন এবং পরবর্তীতে নিজেও আত্মহত্যা করেন। অটোয়া কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকালে লেক মিশিগানের নিকটবর্তী ওই আবাসিক এলাকায় ধোঁয়ার গন্ধ পাওয়ার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রথমে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে সে সময় তাঁরা বাড়িটি খুঁজে বের করতে পারেননি। এর কিছুক্ষণ পর সাদা ধোঁয়া দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আবারও এলাকায় ফিরে আসেন এবং বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। এ সময় বাড়ির বিভিন্ন বেডরুম থেকে মা ও ছয় শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা পুরো এলাকাসহ গোটা দেশে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর শেরিফ কার্যালয় সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানায় যে নিহত আটজনই মূলত বন্দুকের গুলিতে মারা গেছেন। নিহত শিশুদের বয়স পাঁচ থেকে পনেরো বছরের মধ্যে ছিল, যাদের মধ্যে চারজন ছেলে এবং দুজন মেয়ে রয়েছে। এই শিশুদের মধ্যে চারজন তাদের নিজেদের ঔরসজাত সন্তান এবং অপর দুজন দত্তক নেওয়া ছিল। অত্যন্ত মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই হামলায় পরিবারের কয়েকটি পোষা কুকুর ও অন্তত একটি বিড়ালও আগুনে পুড়ে মারা গেছে। তদন্তকারী দলের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনাটি হয়তো আগের দিন রাতেই শুরু হয়েছিল। বাড়ির বিভিন্ন স্থানে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে বেসমেন্ট অংশে মারাত্মক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নৃশংস ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি এবং পুলিশ বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনায় অন্য কোনো বাইরের সন্দেহভাজন জড়িত নেই বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তদন্তে পরিষ্কার হয়েছে যে এটি একটি পারিবারিক হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী সময়ে আত্মহত্যার ঘটনা। গ্র্যান্ড হেভেন এলাকার স্কুল কর্তৃপক্ষ এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাকে স্থানীয় সমাজের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য ও সংকটে থাকা মানুষদের সহায়তায় হটলাইন ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মিশিগানে রোগীদের সেবা না দিয়েও মেডিকেয়ারের কাছে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ডলারের বেশি ভুয়া বিল জমা দেওয়ার ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন একটি প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্ন কেন্দ্রের মালিক। জালিয়াতির মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর নামে সাইকোথেরাপির বিল, চাকরি ছেড়ে দেওয়া সমাজকর্মীদের নামে ভুয়া বিল এবং এমনকি মারা যাওয়া ব্যক্তির নামেও চিকিৎসাসেবা দেখিয়ে অর্থ দাবি করার ঘটনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সোমবার, ২৭ জুলাই জানিয়েছে, অভিযুক্ত ইয়োলান্ডা ম্যাথিউসের বয়স ৫৮ বছর। মিশিগানের ফার্মিংটন হিলসের বাসিন্দা ম্যাথিউস স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ম্যাথিউস তার প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্ন কেন্দ্রে থাকা মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের সাইকোথেরাপি সেবা দেওয়া হয়েছে দেখিয়ে নিয়মিত ভুয়া ও প্রতারণামূলক বিল জমা দিতেন। অথচ যেসব সেবার জন্য সরকারের কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছিল, তার অনেকগুলোই বাস্তবে দেওয়া হয়নি। জালিয়াতির ধরনও ছিল একাধিক। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, কোনো মেডিকেয়ার সুবিধাভোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায়ও তাকে দিবাযত্ন কেন্দ্রে সাইকোথেরাপি দেওয়া হয়েছে দেখিয়ে বিল করা হতো। এ ছাড়া যেসব সমাজকর্মী ওই প্রতিষ্ঠানে আর চাকরি করতেন না, তাদের নাম ব্যবহার করেও মেডিকেয়ারের কাছে ভুয়া বিল জমা দেওয়া হয়েছে। আরও গুরুতরভাবে, কিছু সুবিধাভোগীর মৃত্যুর পরও তাদের সাইকোথেরাপি দেওয়া হয়েছে দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয়। সব মিলিয়ে ম্যাথিউস মেডিকেয়ারের কাছে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ডলারের বেশি ভুয়া ও প্রতারণামূলক বিল জমা দিয়েছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাথিউসের বিরুদ্ধে মামলাটি ২০২৬ সালের দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আনা হয়। তিনি স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। আগামী ১৮ নভেম্বর তার সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তাকে কত বছরের সাজা দেওয়া হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। ফেডারেল আদালতের বিচারক সাজা নির্ধারণের নির্দেশিকা এবং আইনে নির্ধারিত অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। মামলাটির তদন্ত করেছে এফবিআইয়ের ডেট্রয়েট কার্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মহাপরিদর্শকের কার্যালয়। বিচার বিভাগের অপরাধ বিভাগের জালিয়াতি শাখার বিচারিক আইনজীবী জেফরি এ. ক্র্যাপকো মামলাটি পরিচালনা করছেন। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল বিচারিক এলাকায় বর্তমানে নয়টি বিশেষ দল কাজ করছে। ২০০৭ সাল থেকে এই কর্মসূচির আওতায় ৬ হাজার ২০০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ও বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানের কাছে সম্মিলিতভাবে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মেডিকেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি, যা মূলত ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষ এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কিছু কম বয়সী ব্যক্তিকে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় মেটাতে সহায়তা করে। এই কর্মসূচির অর্থায়নে সরকারি অর্থ ব্যবহৃত হওয়ায় ভুয়া চিকিৎসাসেবা দেখিয়ে বিল করা, সেবা না দিয়েও অর্থ দাবি করা কিংবা মৃত ব্যক্তির নামে বিল জমা দেওয়ার মতো জালিয়াতির বিরুদ্ধে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপে একটি বাড়িতে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের পর একই পরিবারের আট সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিহত দুই প্রাপ্তবয়স্কের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনও সন্দেহজনক হিসেবে তদন্তাধীন রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কয়েকজনের মরদেহে গুলির চিহ্নও পাওয়া গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিপল, দ্য ডেট্রয়েট নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুই প্রাপ্তবয়স্ক হলেন ৩৯ বছর বয়সী আমান্ডা "ম্যান্ডি" কারোলকিয়েভিচ এবং তার ৪৭ বছর বয়সী স্বামী ক্রিস্টোফার কারোলকিয়েভিচ। তাদের সঙ্গে নিহত হয়েছে দম্পতির ছয় সন্তান, যাদের বয়স ৫ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। গত শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে অটোয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং গ্র্যান্ড হ্যাভেন ফায়ার ডিপার্টমেন্ট একটি বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা বাড়ির ভেতরে একাধিক মরদেহ দেখতে পান। পরে একই পরিবারের আট সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। অটোয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ক্যাপ্টেন জ্যাকব স্পার্কস জানান, ঘটনাস্থলে পাওয়া কয়েকটি মরদেহে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত জটিল এবং তদন্তকারীরা সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। আগুনটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। নিহত আমান্ডা কারোলকিয়েভিচের সৎ বাবা স্টিভ ল'উইল দ্য ডেট্রয়েট নিউজকে পরিবারের সদস্যদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিবারের অন্য সদস্যদের ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত তারা এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চান না। এদিকে, আমান্ডার বোন মলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিবারের আট সদস্যের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে লিখেছেন, "আমাদের হৃদয় সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। 'মর্মান্তিক' শব্দটিও এই ক্ষতির গভীরতা প্রকাশ করতে পারে না।" জানা গেছে, আমান্ডা কারোলকিয়েভিচ গ্র্যান্ড হ্যাভেন এরিয়া পাবলিক স্কুলসে বিকল্প শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, এই ঘটনায় শোকাহত শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। স্কুল জেলার সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন পারকোভস্কি বলেন, "গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপে একাধিক প্রাণহানির এই ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তদন্তে ভবিষ্যতে যাই সামনে আসুক না কেন, এটি আমাদের পুরো সম্প্রদায়ের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের স্কুল পরিবারের সবাই এই শোকের অংশীদার। এই কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থাকার আহ্বান জানাই।" অটোয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলমান। কীভাবে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, আগুনের প্রকৃত কারণ কী এবং এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা জানতে তদন্তকারীরা আলামত সংগ্রহ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা সম্ভাব্য অভিযোগ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
গ্রীষ্মকালে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দশটি অঙ্গরাজ্যে মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। ফক্স ওয়েদারের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবহাওয়ার এই অনুকূল পরিবেশ মশার বংশবিস্তারের জন্য আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি করায় এই অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জন্য মশা গ্রীষ্মকালের একটি পরিচিত বিরক্তিকর বিষয় হলেও নির্দিষ্ট এই রাজ্যগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। মশার উপদ্রবে এগিয়ে থাকা শীর্ষ ১০ অঙ্গরাজ্যের বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো: টেক্সাস তালিকার শীর্ষে থাকা এই অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৮৫ প্রজাতির মশার উপদ্রব রয়েছে। আর্দ্র বন, উপকূলীয় নিচু সমভূমি এবং বড় বড় শহরে মশার বিস্তার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ফ্লোরিডা উপক্রান্তিক জলবায়ু, উষ্ণ তাপমাত্রা ও প্রচুর বৃষ্টির কারণে এখানে সারা বছরই মশা সক্রিয় থাকে। বিশেষ করে এভারগ্লেডস জলাভূমিতে এদের প্রকোপ তীব্র আকার ধারণ করে। নিউইয়র্ক জনবহুল শহর থেকে শুরু করে পাহাড়ি বনভূমি ও বালুকাময় উপকূল পর্যন্ত প্রায় ৭০ প্রজাতির মশার বিস্তার রয়েছে। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে এখানকার পার্ক ও ট্রেইলগুলোতে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। লুইজিয়ানা বাপ্পা, জলাভূমি এবং নদীনালাঘেরা এই রাজ্যে ৬৮ প্রজাতির মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র রয়েছে। মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এখানকার দীর্ঘ ও একটানা মশার মৌসুম বজায় থাকে। জর্জিয়া ঘন বন, উপকূলীয় জলাভূমি ও দাঁড়িয়ে থাকা পানির কারণে এখানে ৬০ প্রজাতিরও বেশি মশার বিস্তার ঘটে। গ্রীষ্মের উষ্ণতা ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা মশার বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আলাবামা উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের আর্দ্রতা মশার প্রজননের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। বসন্ত থেকে শুরু করে শরৎকাল পর্যন্ত এই পতঙ্গের উপদ্রব বজায় থাকে। দক্ষিণ ক্যারোলাইনা উপকূলীয় মার্শ এবং ঘন ঘন গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টির কারণে মশার আদর্শ প্রজননক্ষেত্র তৈরি হয়। প্রায় ৬১ প্রজাতির মশার আবাসস্থল থাকায় এখানে গ্রীষ্মে মশার উৎপাত বেশি থাকে। উত্তর ক্যারোলাইনা পাহাড়ি অঞ্চল থেকে শুরু করে আটলান্টিক উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত ভৌগোলিক বৈচিত্র্য রয়েছে। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে এখানে প্রায় ৬০ প্রজাতির মশা সক্রিয় থাকে। কেনটাকি গ্রীষ্মকালের তীব্র গরম, আর্দ্রতা এবং ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে এই অঙ্গরাজ্যের আবহাওয়া মশার বংশবিস্তারের জন্য বেশ উপযোগী। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মশার কার্যক্রম চরমে থাকে। মিশিগান হ্রদ, নদী ও বনাঞ্চলে ঘেরা এই রাজ্যে গ্রীষ্মকালের উষ্ণ আবহাওয়া মশার প্রজনন বাড়ায়। মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মশার উপদ্রব এখানকার প্রধান গ্রীষ্মকালীন সমস্যাগুলোর একটি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপে একটি বাড়িতে আগুন লাগার পর একই পরিবারের আট সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ছয় শিশু রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কয়েকজনের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটিকে "সন্দেহজনক" হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। অটোয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপের রিভারসাইড ট্রেইলের একটি বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে দমকল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলে তারা একে একে আটজনের মরদেহ দেখতে পান। অটোয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ক্যাপ্টেন জ্যাকব স্পার্কস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে কারা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বা কতজনের শরীরে এ ধরনের আঘাত ছিল, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তিনি বলেন, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত জটিল। আগুনটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়ে থাকতে পারে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সহায়তা করছে মিশিগান স্টেট পুলিশের অগ্নিসংযোগ তদন্ত ইউনিট। তদন্তকারীরা এ মুহূর্তে কোনো বাইরের সন্দেহভাজনকে খুঁজছেন না। তাদের ধারণা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই ওই বাড়ির ভেতরেই ছিলেন। তবে এটি হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী আত্মহত্যা ছিল কি না, নাকি অন্য কোনো ঘটনা, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। স্বজনদের অবহিত করার প্রক্রিয়া এবং মরদেহ শনাক্তের কাজ শেষ হওয়ার পর পরিচয় জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, পরিবারটি এলাকায় পরিচিত ছিল এবং প্রায়ই শিশুদের বাড়ির সামনে খেলতে দেখা যেত। এমন একটি ঘটনার খবর পেয়ে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপ লেক মিশিগানের পূর্ব তীরে অবস্থিত একটি আবাসিক এলাকা। এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর সেখানে নিরাপত্তা ও তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের ফল পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে আরও নিশ্চিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।
ঘরের দীর্ঘদিনের পোষা প্রাণী যে এভাবে নিজের সন্তানের ওপর হিংস্র হয়ে উঠবে, তা কখনো কল্পনাও করতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের অ্যান আরবার শহরের বাসিন্দা হেদার হ্যারিস ও নিকোলাস হ্যারিস দম্পতি। তাদের মাত্র ১১ মাস বয়সী শিশুকন্যা সাভানা হ্যারিসের ওপর হামলা চালিয়ে গালের একটি বড় অংশের মাংস খুবলে নিয়েছে তাদেরই পোষা জার্মান শিকারি প্রজাতির ওয়াইমারেনার কুকুর। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর শিশুটিকে বাঁচাতে বেশ কয়েকটি জটিল অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। তবে ঘটনাটির পেছনে মায়ের দাবি আরও চমকপ্রদ—তার মতে, কুকুরটি তাকে এতটাই অপছন্দ করত যে প্রতিশোধ নিতেই সে তার নিষ্পাপ মেয়ের ওপর আক্রমণটি চালায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'কেনেডি নিউজ অ্যান্ড মিডিয়া' এবং 'পিপল'-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে হেদার ও নিকোলাস দম্পতি মাত্র আট সপ্তাহ বয়সী 'রেমিংটন' নামের একটি ওয়াইমারেনার প্রজাতির কুকুর ঘরে আনেন। হেদারের স্বামী নিকোলাস ছোটবেলা থেকেই এই প্রজাতিটি পছন্দ করতেন। তবে কুকুরটি ধীরে ধীরে তার স্বামীর প্রতি অত্যন্ত আসক্ত হয়ে উঠলেও হেদারকে একেবারেই দেখতে পারত না। হেদার জানান, রেমিংটন তার স্বামীর খুব কাছের হলেও তার প্রতি এক ধরনের বিরূপ মনোভাব দেখাত। এর আগে অন্য একটি পোষা কুকুরের ওপর আক্রমণ করায় তাকে পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রায় আট মাস তাকে মেজাজ শান্ত রাখার ওষুধ (মুড স্ট্যাবিলাইজার) খাইয়ে রাখা হয়েছিল। ২০২৩ সালে এই দম্পতির কোল আলো করে আসে কন্যাসন্তান সাভানা। এর ফলে পরিবারের গতিশীলতা কিছুটা বদলে যায়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঘটে সেই মর্মান্তিক ঘটনা। তখন ১১ মাস বয়সী সাভানা তার ওয়াকারে চড়ে ঘরের রান্নাঘরে ঘুরছিল। হেদার জানান, তিনি সব সময় সতর্ক থাকতেন যেন শিশুটিকে ওই কুকুরের সাথে একা না রাখা হয়। হঠাৎ করেই তিনি রেমিংটনের গর্জন শুনতে পান এবং পরক্ষণেই মেয়ের বিকট চিৎকার শুনে দৌড়ে ঘরে যান। সেখানে গিয়ে যা দেখেন, তা তাকে স্তব্ধ করে দেয়। রেমিংটন ততক্ষণে সাভানার গালে কামড় দিয়ে এক টুকরো মাংস ছিঁড়ে নিচে ফেলে দিয়েছে। চারপাশ রক্তে ভেসে যাচ্ছিল এবং শিশুটি ব্যথায় অনবরত চিৎকার করছিল। তাত্ক্ষণিকভাবে সাভানাকে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা বায়োপ্রকৌশলভিত্তিক কৃত্রিম ত্বক প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে গালের কোষ পুনর্গঠনের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তার মুখমণ্ডলের ক্ষতের দাগ কমাতে আরও একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে দুই বছর বয়সী সাভানার মুখে আগামী মাসে আরও একটি চূড়ান্ত অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে। হেদার জানান, রেমিংটনের কামড়টি স্নায়ুর এত কাছাকাছি ছিল যে সামান্য এদিক-ওদিক হলেই হয়তো তার মেয়ের জীবনই চলে যেত। চিকিৎসকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও শিশুটির গালে সারা জীবন এই ক্ষতের চিহ্ন থেকে যাবে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে ও পরিবারের নিরাপত্তায় রেমিংটনকে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে মেরে ফেলা হয় (ইউথানেশিয়া)। পুরো ঘটনার পেছনের কারণ বলতে গিয়ে হেদার বলেন, "আমার মনে হয় এই আক্রমণটি মূলত আমার দিকেই নিশানা করা ছিল। সাভানা জন্মানোর পর থেকে কুকুরটি আমার স্বামীর প্রতি আরও বেশি ব্যাকুল হয়ে ওঠে। আমি অনুভব করতাম, আমাকে আঘাত করার জন্য সে আমার মেয়েকে বেছে নিয়েছিল।" ঘটনাটি থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যান্য অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে হেদার সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, "ঘরে যদি ছোট বাচ্চা থাকে এবং পোষা প্রাণীর মধ্যে কোনো ধরনের সহিংস বা আগ্রাসী মনোভাব দেখা যায়, তবে তাকে অবিলম্বে ঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত। কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়।"
মিশিগান হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ডিস্ট্রিক্ট ১৪ থেকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি নেতা মিনহাজ চৌধুরীকে নিয়ে আগামী ২৬ জুলাই ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির মাত্র কয়েক দিন আগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নিজের নির্বাচনী পরিকল্পনা, ডিস্ট্রিক্টের সমস্যা এবং কমিউনিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলবেন তিনি। মিনহাজ চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণার পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে মিশিগানের ওয়ারেন শহরের শাদ রেস্টুরেন্টে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঠিকানা ৬০৬০, ১২ মাইল রোড, ওয়ারেন, মিশিগান। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ের প্রচারণার মধ্যে আয়োজিত এই ‘মিট দ্য প্রেস’কে মিনহাজ চৌধুরীর জন্য নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও অগ্রাধিকার সরাসরি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার প্রচারণায় কর্মসংস্থান, শ্রমিক অধিকার, শিক্ষা, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা, জননিরাপত্তা, আবাসন, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং সরকারি জবাবদিহিতার মতো বিষয়গুলো সামনে রাখা হয়েছে। আগামী ৪ আগস্ট ডিস্ট্রিক্ট ১৪-এর ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে মিনহাজ চৌধুরীর প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক ম্যাকফল। ওকল্যান্ড কাউন্টির প্রকাশিত ২০২৬ সালের প্রাইমারি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকায় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে দুজনের নামই রয়েছে। ম্যাকফল বর্তমানে ডিস্ট্রিক্ট ১৪-এর স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ। মিশিগান হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এই ডিস্ট্রিক্টে সেন্টার লাইন, হ্যাজেল পার্ক, ম্যাডিসন হাইটস এবং ওয়ারেনের একটি অংশ রয়েছে। ফলে ৪ আগস্টের প্রাইমারিতে বর্তমান আইনপ্রণেতাকে চ্যালেঞ্জ করেই দলের মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন মিনহাজ চৌধুরী। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে মাইক ম্যাকফল ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়ে ডিস্ট্রিক্ট ১৪ থেকে নির্বাচিত হন। এবার ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছেন মিনহাজ চৌধুরী। রিপাবলিকান প্রাইমারিতে প্রার্থী হয়েছেন ল্যারি সিজকা। আগামী ৩ নভেম্বর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় মিনহাজ চৌধুরী শ্রমিক সংগঠন, মূলধারার রাজনীতি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং নতুন প্রজন্মকে সামাজিক ও নাগরিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পক্ষে তিনি কাজ করে আসছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণার তথ্য অনুযায়ী, মিনহাজ চৌধুরী বর্তমানে অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবারের মিশিগান চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে সংগঠনটির জাতীয় বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট। এর আগে তিনি মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ১৪তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট সংগঠনের ভাইস চেয়ার এবং ১৩তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট ডেমোক্র্যাটিক সংগঠনের অ্যাট লার্জ বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমেরিকান মুসলিম পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির মিশিগান চ্যাপ্টারের নির্বাহী বোর্ডের সদস্যও তিনি। সংগঠনটির জাতীয় বোর্ড ২০২৬ সালের নির্বাচনে ডিস্ট্রিক্ট ১৪-এর জন্য তাকে সমর্থন দিয়েছে। পেশাগত জীবনে মিনহাজ চৌধুরী বর্তমানে ফোর্ড মোটর কোম্পানিতে কর্মরত। এর আগে তিনি আমেরিকান পোস্টাল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন। নিজের শ্রমজীবনের অভিজ্ঞতাকে তিনি নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। তার প্রচারণার ঘোষিত অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে শ্রমিকদের যৌথ দরকষাকষির অধিকার রক্ষা, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং মিশিগানে ভালো বেতনের চাকরি ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ম্যানুফ্যাকচারিং, স্কিলড ট্রেড, ক্লিন এনার্জি এবং নতুন প্রযুক্তির খাতে কর্মীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর কথাও তার নির্বাচনী পরিকল্পনায় রয়েছে। শিক্ষার ক্ষেত্রেও সরকারি স্কুলে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, শিক্ষক ও সহায়ক কর্মীদের প্রতিযোগিতামূলক বেতন, ক্যারিয়ার ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং কলেজ বা দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণকে আরও সাশ্রয়ী করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রেসক্রিপশন ওষুধের ব্যয় কমানো, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বৃদ্ধি, প্রবীণ ও ভেটেরানদের সেবা, সাশ্রয়ী আবাসন এবং প্রথমবার বাড়ি কেনা মানুষের জন্য সহায়তা বাড়ানোর বিষয়গুলোও তার নির্বাচনী কর্মসূচিতে রয়েছে। জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে কমিউনিটিভিত্তিক পুলিশিং, সহিংসতা প্রতিরোধ কর্মসূচি এবং জরুরি সেবায় বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি জাতি, ধর্ম, জাতীয় পরিচয়, লিঙ্গ, প্রতিবন্ধিতা, বয়স বা অর্থনৈতিক অবস্থানের কারণে বৈষম্যের বিরোধিতা এবং সবার জন্য সমান সরকারি সেবা ও সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে তার প্রচারণায়। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির নতুন প্রজন্মের শিক্ষা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে সংযোগ ধরে রাখার বিষয়েও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছেন মিনহাজ চৌধুরী। কমিউনিটিতে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ বজায় রেখে তরুণদের মূলধারার শিক্ষা, পেশা ও নাগরিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরির পক্ষে তিনি কাজ করছেন। তবে তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল বার্তা শুধু বাংলাদেশি বা দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটিকে কেন্দ্র করে নয়। প্রচারণার ঘোষিত অবস্থানে ডিস্ট্রিক্ট ১৪-এর শ্রমজীবী পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, অভিবাসী, প্রবীণ, ভেটেরান এবং বিভিন্ন পটভূমির বাসিন্দাদের প্রতিনিধিত্ব করার কথা বলা হয়েছে। মিনহাজ চৌধুরীর প্রচারণায় সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত হলে নিয়মিত কমিউনিটি বৈঠক, সহজলভ্য কনস্টিটুয়েন্ট সার্ভিস এবং করদাতাদের অর্থের দায়িত্বশীল ব্যবহারের পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এই প্রেক্ষাপটে ২৬ জুলাইয়ের ‘মিট দ্য প্রেস’ তার নির্বাচনী প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্ব হতে যাচ্ছে। সেখানে ডিস্ট্রিক্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের পরিকল্পনা এবং কেন তিনি বর্তমান প্রতিনিধির বিকল্প হিসেবে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন, সে বিষয়গুলো সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পরই নজর থাকবে ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে। সেদিনের ভোটে নির্ধারিত হবে, বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক ম্যাকফল দলের মনোনয়ন ধরে রাখবেন, নাকি বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি থেকে উঠে আসা মিনহাজ চৌধুরী ডিস্ট্রিক্ট ১৪-এর ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিসেবে সাধারণ নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি এসএনএপি (SNAP) বা ফুড স্ট্যাম্পের সুবিধা ব্যবহার করে কেনা উপকরণ দিয়ে বেকড খাবার তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে এক নারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে পারেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত টালিয়া সি. টেনেইউকে (৩২) মিশিগানের সাগিনো এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি মিশিগানের ব্রিজ কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া এসএনএপি সুবিধা ব্যবহার করে ময়দা, ডিম, চিনি ও অন্যান্য খাদ্য উপকরণ কিনতেন। পরে সেগুলো দিয়ে কেক, কুকি ও অন্যান্য বেকড খাবার তৈরি করে ফেসবুকের মাধ্যমে বিক্রি করতেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, এসএনএপি কর্মসূচির সুবিধা কেবল উপকারভোগী পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য ব্যবহার করা যায়। এসব সুবিধা দিয়ে কেনা খাদ্যপণ্য বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা পুনরায় বিক্রি করা ফেডারেল আইনের পরিপন্থী। তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই নারী এভাবে কয়েক হাজার ডলার আয় করেছেন। তার বিরুদ্ধে এক হাজার ডলারের বেশি মূল্যের ফুড স্ট্যাম্প জালিয়াতির একটি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, প্রাথমিক শুনানিতে প্রসিকিউশন একটি সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে তিনি একটি লঘু অপরাধে দোষ স্বীকার করলে গুরুতর অভিযোগ প্রত্যাহার করা হতে পারত। তবে তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হয়।
মাত্র ৮ মার্কিন ডলারেরও কম মূল্যের চিপস ও ক্র্যাকার ‘চুরির’ অভিযোগে চাকরি হারানোর পর ফোর্ড মোটর কোম্পানির এক সাবেক কর্মী আবারও নিজের পুরোনো চাকরি ফিরে পাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তার দাবি, তিনি খাবারের মূল্য পরিশোধের চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্বয়ংক্রিয় বিলিং ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে লেনদেন সম্পন্ন না হলেও সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। নিউইয়র্ক পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৮ বছর বয়সী নিক নাবোজনি প্রায় নয় বছর ধরে ফোর্ডের মিশিগান অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টে কাজ করেছেন। এই সময়ে তার উপস্থিতির রেকর্ড ছিল নির্ভুল এবং কর্মজীবনে কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগও ছিল না। নাবোজনির ভাষ্য, গত এপ্রিলে অতিরিক্ত সময় কাজ শেষে তিনি কারখানার ভেতরে আরামার্ক পরিচালিত স্বয়ংক্রিয় খাবারের দোকান থেকে একটি ডরিটোস এবং একটি রিটজ ক্র্যাকারস উইথ চিজ নেন। তার দাবি, দোকানের স্বয়ংক্রিয় কিয়স্কে দুটি পণ্য স্ক্যান করার পর তিনি নিজের ডেবিট কার্ড স্পর্শ করে মূল্য পরিশোধের চেষ্টা করেন। তার ধারণা ছিল, লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। তবে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পর পারিবারিক সফর শেষে ফিরে এসে তিনি জানতে পারেন, কোম্পানি তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনেছে। নাবোজনি বলেন, শ্রম দপ্তরে ডেকে তার ইউনিয়নের প্রতিনিধি প্রথমে তাকে জানান, কোম্পানি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে চায়। তিনি বলেন, "আমি জানতে চাইলাম কেন? তখন বলা হলো, চুরির অভিযোগে।" নাবোজনির দাবি, পরে নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনা করে কোম্পানির এক প্রতিনিধি স্বীকার করেন যে ভিডিওতে তাকে মূল্য পরিশোধের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তবে তিনি কিয়স্ক ছেড়ে চলে যাওয়ার আগেই লেনদেনের সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। ফলে অর্থ পরিশোধ সম্পন্ন হয়নি এবং সেটিকেই চুরি হিসেবে গণ্য করা হয়। তার ভাষায়, "আমি ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত জানতেই পারিনি যে লেনদেনটি সম্পন্ন হয়নি।" তিনি আরও বলেন, "আমি এই দোকানে বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার ডলার খরচ করেছি। আমার স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তান রয়েছে। মাত্র দুটি খাবারের প্যাকেটের জন্য আমি কখনোই নিজের চাকরি ও পরিবারের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলতাম না।" চাকরি হারানোর পর পরিবারের খরচ চালাতে নিজের অবসরকালীন সঞ্চয় (৪০১কে) ভেঙে কর ও জরিমানা পরিশোধের পর প্রায় ৭৮ হাজার মার্কিন ডলার তুলতে হয়েছে বলেও জানান নাবোজনি। তিনি বলেন, ফোর্ড কিংবা ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স (ইউএডব্লিউ) ইউনিয়নের প্রতি তার কোনো ক্ষোভ নেই। তিনি শুধু চান, কোম্পানি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে তাকে আবার চাকরিতে ফিরিয়ে নিক। এদিকে নাবোজনি দাবি করেন, তার বিভাগেই অন্তত আরও চারজন কর্মী একই ধরনের অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। সম্প্রতি ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস জানায়, মিশিগান অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টের অন্তত তিন কর্মীকে তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়ায় পুনর্বহাল করা হয়েছে। ফোর্ড মোটর কোম্পানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আরামার্ক পরিচালিত স্বয়ংক্রিয় কিয়স্কের কার্যকারিতা নিয়ে কিছু সীমিত সমস্যা সম্পর্কে তারা অবগত। এসব বিষয় পর্যালোচনায় আরামার্কের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে আরামার্কও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো তারা পর্যালোচনা করছে এবং সততা ও জবাবদিহির সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিশ্রুতি তাদের রয়েছে। এ ধরনের আরেকটি ঘটনায় ফোর্ডের সাবেক কর্মী কার্ট ক্রম ১ দশমিক ৯৫ ডলারের একটি বিস্কুটের প্যাকেটের মূল্য পরিশোধের প্রমাণ দেখিয়ে নিজের চাকরি ফিরে পান। কোম্পানি তাকে প্রায় ৩৩ হাজার ডলার বকেয়া বেতনও দেয়। তবে তিনি পুনরায় কাজে যোগ না দিয়ে আইনি পদক্ষেপের পথ বেছে নেন। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মেয়ের বাড়ি পরিষ্কার করতে গিয়ে জীবনের সবচেয়ে বড় সুখবর পেলেন ৭৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। মেয়ের মুখে "এখন লটারি জিতলে ভালো হতো" কথাটি শোনার পরই তিনি পকেটে থাকা লটারির টিকিট পরীক্ষা করেন। আর তাতেই জানতে পারেন, তিনি জিতেছেন ২ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯৮ মার্কিন ডলার (প্রায় ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, বাংলাদেশি মুদ্রায়)। মিশিগান লটারি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, ম্যাকোম্ব কাউন্টির বাসিন্দা ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছেন। লটারি কর্তৃপক্ষকে তিনি জানান, প্রতি সোমবার দোকানে গেলে ফ্যান্টাসি ৫ লটারির একটি টিকিট কেনা তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, পরদিন ঝড়ে একটি গাছ ভেঙে মেয়ের বাড়ির ওপর পড়ার পর সেই ক্ষয়ক্ষতি পরিষ্কার করতে সাহায্য করছিলেন। তখন তার মেয়ে হঠাৎ বলেছিল, "এখন যদি লটারিতে জিততে, তাহলে কতই না ভালো হতো।" এই কথাতেই তার মনে পড়ে যায়, আগের দিন কেনা লটারির টিকিটটি এখনো পরীক্ষা করা হয়নি। তিনি বলেন, "আমি পকেট থেকে টিকিট বের করে মিশিগান লটারির মোবাইল অ্যাপে নম্বর মিলিয়ে দেখি। তখনই জানতে পারি আমি জ্যাকপট জিতেছি। বিশ্বাসই হচ্ছিল না।" লটারি কর্তৃপক্ষ জানায়, ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত ফ্যান্টাসি ৫ ড্রয়ের ১৩, ১৬, ২৬, ২৮ ও ৩৭ নম্বরের সঙ্গে তার টিকিটের সব নম্বর মিলে যায়। এতে তিনি ২ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯৮ ডলারের জ্যাকপট জিতে নেন। জয়ী টিকিটটি তিনি সেন্ট ক্লেয়ার শোরস শহরের লিটল ম্যাক বিয়ার অ্যান্ড ওয়াইন নামের একটি দোকান থেকে কিনেছিলেন। লটারিতে পাওয়া অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবেন, সে প্রশ্নে ওই ব্যক্তি জানান, আপাতত পুরো অর্থ সঞ্চয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। মিশিগান লটারি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতই খেলোয়াড়দের দ্রুত টিকিট পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে থাকে। কারণ, এর আগেও মিশিগানে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের একটি পাওয়ারবল পুরস্কারের টিকিট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি না করায় সেই অর্থ রাজ্যের স্কুল এইড ফান্ডে চলে যায়। এদিকে মিশিগানের সর্বশেষ বড় লটারি জ্যাকপট জয়ের ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের জুনে, যখন ব্রেকফাস্ট ক্লাব নামে একটি লটারি গ্রুপ ৮৪ কোটি ২০ লাখ ডলার মূল্যের মেগা মিলিয়নস জ্যাকপট জেতে। পরে তারা ফ্লোরিডায় বাড়ি কেনা এবং ভ্রমণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। সূত্র: মিশিগান লটারি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে বাড়ি নির্মাণ ও সংস্কারকে আরও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি নতুন বিলে স্বাক্ষর করেছেন গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার। নতুন এই আইনের ফলে বড় কোম্পানি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের একচেটিয়া বাজার দখলের সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে। গ্র্যান্ড র্যাপিডস-এর একটি নতুন হাউজিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের কমিউনিটি রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এই যুগান্তকারী বিলগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। নতুন আইনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এখন থেকে বড় বিনিয়োগকারী বা কোম্পানিগুলো ১০০টির বেশি ‘সিঙ্গেল-ফ্যামিলি’ বা এক পরিবারের বাসযোগ্য বাড়ি কিনতে পারবে না। এছাড়া রাজ্য-স্তরে নতুন হাউজিং ট্যাক্স ক্রেডিট চালু করা এবং ছোট অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সগুলোর জন্য সিঁড়ি নির্মাণের একটি বিশেষ বাধ্যবাধকতা বাতিল করার বিষয়গুলোও এই বিলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ১৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত ৪৫ ইউনিটের নিম্ন-আয়ের আবাসন প্রকল্প ‘টেট অ্যান্ড থমাস অ্যাপার্টমেন্টস’-এ দাঁড়িয়ে গভর্নর হুইটমার আবাসন সংকট নিরসনে এই বিলগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন। জানা গেছে, মঙ্গলবার ডজনখানেক বিলে স্বাক্ষর করেন গভর্নর হুইটমার, যার প্রায় অর্ধেকই ছিল এই আবাসন সংক্রান্ত। এর পাশাপাশি তিনি একটি স্কুল সহায়তা তহবিল বিল এবং একাধিক অর্থায়ন ব্যবস্থাসহ ৭৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের সাধারণ সরকারি অমনিবাস বাজেটেও স্বাক্ষর করেছেন। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের সম্ভাব্য তহবিল যোগ করলে বাজেটের এই পরিমাণ ৮৪ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি দাঁড়াবে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, বাজেটের এই আকার ৮৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে।
গ্যাসের দাম আবারও দৃশ্যমানভাবে বাড়ছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন একজন বিশ্লেষক। এএএ, দি অটো ক্লাব জানিয়েছে, মিশিগানের মোটরচালকরা এখন রেগুলার আনলেডেড গ্যাসের জন্য গড়ে প্রতি গ্যালনে ৪.১৫ ডলার দিচ্ছেন, যেখানে দেশজুড়ে গড় দাম ৪ ডলার। মিশিগানের এই দাম এক সপ্তাহ আগের চেয়ে ২০ সেন্ট বেশি, গত মাসের এই সময়ের চেয়ে ১১ সেন্ট বেশি এবং গত বছরের এই সময়ের চেয়ে ৯৯ সেন্ট বেশি। এএএ প্রতি সোমবারে গ্যাসের দামের ট্রেন্ড রিপোর্ট প্রকাশ করে এবং দৈনিক আপডেটের একটি ডেটাবেস সংরক্ষণ করে। বর্তমান দাম অনুযায়ী, ১৫ গ্যালনের একটি ট্যাংকের জন্য মিশিগানের চালকরা প্রায় ৬২ ডলার দিচ্ছেন, যা ২০২৫ সালের আগস্টের সর্বোচ্চ দামের চেয়ে প্রায় ১১ ডলার বেশি। গত সপ্তাহের তুলনায় মেট্রো ডেট্রয়েটের দৈনিক গড় গ্যাসের দাম বেড়েছে। মেট্রো ডেট্রয়েটের বর্তমান গড় প্রতি গ্যালনে ৪.০৯ ডলার, যা গত সপ্তাহের গড়ের চেয়ে প্রায় ১২ সেন্ট বেশি এবং গত বছরের এই সময়ের চেয়ে ৮৯ সেন্ট বেশি। গ্যাসবাডির পেট্রোলিয়াম অ্যানালাইসিসের প্রধান প্যাট্রিক দে হান বলেছেন, টানা দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে গ্যাস ও ডিজেলের দাম বেড়েছে, যেখানে প্রতি গ্যালন ৪ ডলার হওয়াটা ক্রমেই সাধারণ হয়ে উঠছে এবং ডিজেলের জ্বালানি আবার প্রতি গ্যালনে ৫ ডলারের উপরে উঠে গেছে। দে হান বলেন, চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরিস্থিতি বাজারে চাপ সৃষ্টি করে রাখলেও বিষয়টি এখন অপরিশোধিত তেলের চেয়ে বৈশ্বিক শোধন ক্ষমতার ওপর বেশি নির্ভর করছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে এবং রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের অব্যাহত হামলা ইতিমধ্যে চাপে থাকা সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সংকুচিত করছে। মূল্য পরিবর্তনের চক্রে থাকা বাজারগুলোতে আগামী দিনগুলোতে দাম আরেক দফা লাফিয়ে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং মোটরচালকদের সামনের কঠিন সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সাইক্লোস্পোরিয়াসিস সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে লেটুস ও অন্যান্য সালাদ শাকসবজিকে সন্দেহ করছে অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ। সংক্রমণ বেড়ে ২ হাজার ৬৪০ জনে পৌঁছানোর পর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং সালাদজাতীয় শাকসবজি কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস (MDHHS) জানিয়েছে, চলমান তদন্তে এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী লেটুস বা সালাদ শাকসবজির সঙ্গে সংক্রমণের সম্পর্ক থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এখনো নির্দিষ্ট কোনো পণ্য, উৎপাদক বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে সংক্রমণের উৎস হিসেবে শনাক্ত করা যায়নি। এমডিএইচএইচএসের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নাতাশা বাগদাসারিয়ান বলেন, "এখনও নিশ্চিতভাবে কোনো নির্দিষ্ট পণ্যকে এই প্রাদুর্ভাবের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্তে বারবার লেটুস একটি সাধারণ খাদ্য হিসেবে সামনে এসেছে। তাই আমরা এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য জনগণের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি, যাতে তারা নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিতে পারেন।" স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মিশিগানে সাধারণত বছরে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টি সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের ঘটনা শনাক্ত হয়। কিন্তু চলতি প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে ২ হাজার ৬৪০ জনে পৌঁছেছে, যা অঙ্গরাজ্যের জন্য অস্বাভাবিকভাবে বেশি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, Cyclospora নামের একটি পরজীবীর কারণে এই রোগ হয়। এতে সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী পানির মতো ডায়রিয়া, বমিভাব, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ক্লান্তি এবং পেটের খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, এই রোগের ইনকিউবেশন বা সুপ্তকাল সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ইতোমধ্যে আরও অনেকে সংক্রমিত হলেও তাদের উপসর্গ পরে দেখা দিতে পারে। প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে বেশ কয়েকটি সতর্কতামূলক পরামর্শ দিয়েছে এমডিএইচএইচএস। সংস্থাটি বলছে, সম্ভব হলে আগে থেকে ধোয়া ও প্যাকেটজাত লেটুস বা প্রস্তুত সালাদ না কিনে সম্পূর্ণ লেটুস কেনা ভালো। রান্নার আগে বাইরের দুই থেকে তিন স্তরের পাতা ফেলে দিতে হবে এবং ভেতরের পাতাগুলো পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। যেসব শাকসবজি রান্না করে খাওয়া সম্ভব, সেগুলো অন্তত ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৫৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় রান্না করার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কারণ, সাইক্লোস্পোরা পরজীবী সাধারণ রাসায়নিক জীবাণুনাশক এবং শুধু পানি দিয়ে ধোয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ দূর করা যায় না। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অতীতের বিভিন্ন সাইক্লোস্পোরিয়াসিস প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে প্যাকেটজাত সালাদ, ধনেপাতা, তুলসী পাতা, রাস্পবেরি, স্নো পি এবং কাঁচা পেঁয়াজেরও সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছিল। এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ স্পষ্ট করেছে, এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সুইমিং পুল বা অন্য কোনো বিনোদনমূলক জলক্রীড়ার সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। যদিও সাঁতারের সময় পানি গিলে না ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তবে বর্তমান তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু দূষিত খাদ্য, বিশেষ করে শাকসবজি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত এখনো চলমান। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে জনসাধারণকে দ্রুত জানানো হবে। এর মধ্যে যাদের দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, বমিভাব বা তীব্র পেটব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মিশিগান স্বাস্থ্য বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় ভার্জিনিয়ার এক যুবকের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় অভিযুক্তের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনসিদ্ধ সীমার তিন গুণেরও বেশি ছিল। মিশিগানের ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্ত চার্লস ডিন পেস (২৭) ভার্জিনিয়ার গ্লেন অ্যালেন এলাকার বাসিন্দা। গত ৩ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করে ওকল্যান্ড কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়। পরে ৭ জুলাই আদালতে হাজির করা হলে তার বিরুদ্ধে চারটি দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটানোর চারটি অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয়। আদালত তাকে জামিন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বর্তমানে কারাগারেই রয়েছেন। প্রসিকিউটর কারেন ম্যাকডোনাল্ড এক বিবৃতিতে বলেন, গত ১ জুলাই মিশিগানের স্প্রিংফিল্ড টাউনশিপে ইন্টারস্টেট-৭৫ মহাসড়কের ইস্ট হলি রোডের কাছে দক্ষিণমুখী লেনে একটি ফোর্ড এফ-২৫০ পিকআপ ট্রাক চালাচ্ছিলেন পেস। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও তদন্তে দেখা গেছে, তিনি ঘণ্টায় ৯০ মাইলেরও বেশি গতিতে এক লেন থেকে আরেক লেনে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। মিশিগান স্টেট পুলিশের তদন্তে আরও জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনি সীমার তিন গুণেরও বেশি ছিল। এ দুর্ঘটনায় নিহত হন একই পরিবারের চার সদস্য। তারা হলেন জাকেরিয়া শ্যারন ডডসন (২৩), টিরি পাওয়েল (২৪) এবং তাদের দুই শিশু সন্তান নালানি পাওয়েল (৩) ও কার্টার পাওয়েল (২)। প্রসিকিউটর ম্যাকডোনাল্ড বলেন, "জাকেরিয়া, টিরি, নালানি ও কার্টারের মৃত্যু কোনো সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা ছিল না। অভিযুক্তের অভিযোগ অনুযায়ী মদ্যপ অবস্থায় দ্রুত ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্তই তাদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।" ঘটনার পর নিহত পরিবারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যয় বহনে সহায়তার জন্য গোফান্ডমি প্ল্যাটফর্মে একটি তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের বিবরণে বলা হয়েছে, "আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। আমরা টিরি, জাকেরিয়া, নালানি এবং কার্টারের অকল্পনীয় মৃত্যুতে শোকাহত।" সেখানে টিরিকে একজন স্নেহশীল বাবা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো। অন্যদিকে জাকেরিয়াকে একজন যত্নশীল ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ মা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি সন্তানদের ভালোবাসা ও মমতায় বড় করে তুলছিলেন। প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ওই তহবিলে প্রায় ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার সংগ্রহ হয়েছে। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ডলার। মিশিগানের আইন অনুযায়ী, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে কারও মৃত্যু ঘটালে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হতে পারে। সূত্র: পিপল ম্যাগাজিন, ফক্স ৫, ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার হিলসের বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী ব্রুক ওয়েস্ট গুরুতর স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়ে টানা কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ছয় দিন কোমায় থাকার কারণে তিনি নিজের স্কুলের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে পারেননি। তবে চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় সুস্থ হয়ে এবার সেই হাসপাতালেই ফিরে গিয়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। দ্য ডেট্রয়েট নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষ দিকে ব্রুক ওয়েস্টকে কোরওয়েল হেলথ বোমন্ট ট্রয় হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তার শরীরে অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিস (ADEM) নামে একটি বিরল স্নায়বিক রোগ শনাক্ত করেন। এ রোগে মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে হঠাৎ করে ব্যাপক প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং রোগীর চলাফেরা, স্মৃতিশক্তি ও স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্রুক জানান, গত ৮ মে স্কুলের সিনিয়র প্রম অনুষ্ঠানের আগে তার তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় এবং হাঁটতে সমস্যা হচ্ছিল। কয়েক দিন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি ওয়াকার ব্যবহার করে প্রম অনুষ্ঠানে অংশ নেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলেন না, চিন্তাভাবনায় অস্পষ্টতা দেখা দেয় এবং আবারও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। ব্রুকের মা বনি ওয়েস্ট জানান, আইসিইউতে চিকিৎসকেরা রোগ নির্ণয়ের জন্য স্পাইনাল ট্যাপ, সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে ব্রুক খিঁচুনিতে আক্রান্ত হন। এরপর তাকে ভেন্টিলেশনে রেখে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসা দিতে হয়। ব্রুকের বাবা জেসন ওয়েস্ট বলেন, শুরুতে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত ছিলেন না ঠিক কী রোগে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। এতে পুরো পরিবার অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে ছিল। ছয় দিন অচেতন অবস্থায় থাকার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন যে তিনি অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিসে আক্রান্ত। এরপর তার পাঁচ দিন ধরে প্লাজমা এক্সচেঞ্জ থেরাপি করা হয়, যা তার অবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদিকে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় ব্রুক নিজের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা তার জন্য বিশেষ আয়োজন করেন। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে হাসপাতালের একটি করিডোরজুড়ে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ান চিকিৎসাকর্মীরা। পরে তার স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট হাসপাতালে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে স্নাতক সনদ তুলে দেন। ব্রুক বলেন, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন ছোট একটি অনুষ্ঠান হবে। কিন্তু হাসপাতালের সবাই যেভাবে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, সেটি তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ। যদিও এখনও শারীরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে পেতে ফিজিক্যাল ও অকুপেশনাল থেরাপি নিচ্ছেন। এই অভিজ্ঞতার পর চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি তার আগ্রহ আরও বেড়েছে। আগামী শরৎ মৌসুমে তিনি গ্র্যান্ড ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করবেন। ব্রুক বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজের অভিজ্ঞতাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবার কোরওয়েল হাসপাতালে ফিরে গেলে চিকিৎসক ও নার্সরা তাকে করতালি, হাসি আর আলিঙ্গনের মাধ্যমে স্বাগত জানান। হাসপাতালের নার্স ক্যাথি হামামেহ বলেন, ব্রুক তার সবচেয়ে স্মরণীয় রোগীদের একজন। একজন মা হিসেবে তিনি ব্রুকের মায়ের উদ্বেগ ও ভালোবাসার সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে দেখতে পেরেছিলেন। তাই ব্রুকের সুস্থ হয়ে ওঠা তাকে ব্যক্তিগতভাবেও আনন্দ দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ রোগীর পরবর্তী জীবনের খবর তারা জানতে পারেন না। কিন্তু ব্রুকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় তার সুস্থ হয়ে ওঠার পুরো যাত্রা কাছ থেকে দেখতে পেরেছেন, যা একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে তার জন্য অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ৭৭ বছর বয়সী দাদির গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে ২০ থেকে ৪৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ম্যাকম্ব কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম জর্ডান এলিংটন (৩৪)। তিনি মিশিগানের ক্লিনটন টাউনশিপের বাসিন্দা। বুধবার (৮ জুলাই) ম্যাকম্ব কাউন্টি সার্কিট কোর্ট তাকে এই সাজা দেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ এলিংটন তার ৭৭ বছর বয়সী দাদির গলায় একটি বেল্ট পেঁচিয়ে ধরেন এবং তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, “পরের বার আরও শক্ত করে টানব।” ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে হামলার (Assault with a Dangerous Weapon) অভিযোগ আনা হয়। চলতি বছরের মে মাসে আদালত তাকে ওই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, এই অপরাধের জন্য প্রচলিত সাজা সাধারণত ২ থেকে ১৭ মাস কারাদণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে তারা আদালতে যুক্তি দেন, একজন বয়স্ক পরিবারের সদস্যের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তাই প্রচলিত নির্দেশিকার চেয়ে কঠোর সাজা হওয়া উচিত। বিচারক জেমস এম. বিয়ারনাট প্রসিকিউটরদের যুক্তির সঙ্গে একমত হয়ে এলিংটনকে ২০ থেকে ৪৮ মাস কারাভোগের আদেশ দেন। রায়ের পর ম্যাকম্ব কাউন্টির প্রসিকিউটর পিটার জে. লুসিডো বলেন, “আমাদের প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বয়স্ক মানুষদের ভয়, নির্যাতন ও সহিংসতা ছাড়া জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে, বিশেষ করে নিজের পরিবারের মধ্যে, যেখানে তাদের সবচেয়ে নিরাপদ বোধ করার কথা।” তিনি আরও বলেন, তার কার্যালয় প্রবীণদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কারাদণ্ডের ন্যূনতম সময় পার হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্যারোলের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে এক নার্সের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গা শিউরে ওঠা এক বীভৎস দৃশ্য আবিষ্কার করেছে পুলিশ। এমিলি কারোলস্কি নামের ওই নার্সের বাড়ি থেকে প্রায় ৮০টি মৃত এবং ১০০টিরও বেশি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি পেশায় কোরওয়েল হেলথের একজন নার্স প্র্যাকটিশনার, যিনি হাসপাতালে সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যার দায়িত্বে ছিলেন। এমন একটি সংবেদনশীল পেশায় নিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে চরম অবহেলা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রাণীদের আটকে রাখার এই ঘটনা স্থানীয় কমিউনিটিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সেখানকার ভয়াবহ দুর্গন্ধের কারণে রীতিমতো অসুস্থ হয়ে পড়েন। বমি ভাব ও মাথা ঘোরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাদের রেসপিরেটর বা বিশেষ শ্বাসযন্ত্র ব্যবহার করে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বাড়িটি ছিল চরম নোংরা ও আবর্জনায় পূর্ণ। রান্নাঘরের বিভিন্ন স্থানে এবং এমনকি রেফ্রিজারেটরের ভেতরেও মৃত বিড়াল স্তূপ করে রাখা ছিল, যা দেখে উদ্ধারকর্মীরাও হতবাক হয়ে যান। এই অমানবিক ও মর্মান্তিক ঘটনার পর এমিলি কারোলস্কির বিরুদ্ধে প্রাণী নিষ্ঠুরতা এবং মৃত প্রাণী যথাযথভাবে সৎকার না করার অভিযোগে ফেলোনি বা গুরুতর অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এত ভয়াবহ অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে মাত্র আড়াই হাজার ডলারের বন্ডে জামিন দেওয়া হয়েছে। যে ব্যক্তির ওপর হাসপাতালে নবজাতক শিশুদের জীবনের ভার তুলে দেওয়া হয়েছিল, তার এমন ভয়াবহ মানসিকতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে এখন সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ৬১ নম্বর হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস আসনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাহবুব খান নির্বাচনী প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন। আগামী ৪ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ ডেনিস মেন্টজারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় মাহবুব খান বলেছেন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ শ্রেণির জন্য নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার হওয়া উচিত। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় ‘স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য, শুধু কয়েকজনের জন্য নয়’—এই বার্তাকে সামনে রেখে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, জননিরাপত্তা জোরদার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় সহায়তা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষাকেও তিনি তাঁর নির্বাচনী এজেন্ডায় গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর নীতিনির্ধারণই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য। মাহবুব খান ঢাকা নবাবগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল ওয়ারেশ খানের সন্তান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিশিগানে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমানে তিনি ঢাকা ডিভিশন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের সভাপতি। এছাড়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের সাবেক সহ-সভাপতি, ASAAL মিশিগান চ্যাপ্টারের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, AMPAC-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মিশিগানের ১৩তম ডিস্ট্রিক্ট ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মিশিগানের ৬১তম হাউস ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে মাহবুব খানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ ডেনিস মেন্টজার, যিনি পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়ছেন। প্রাইমারিতে বিজয়ী প্রার্থী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীর মুখোমুখি হবেন। মিশিগানে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির একটি অংশের মতে, মাহবুব খানের প্রার্থিতা কেবল একটি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব আরও বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একই সঙ্গে তাঁর প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবাকে কেন্দ্রীয় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরায় ডিস্ট্রিক্টের ভোটারদের দৈনন্দিন জীবন-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হাউস ডিস্ট্রিক্ট-১৪-এ আসন্ন ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। আগামী ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য প্রাইমারিতে বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক ম্যাকফলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি নেতা মিনহাজ চৌধুরী। প্রাইমারিতে বিজয়ী প্রার্থী পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক অধিকার, কমিউনিটি উন্নয়ন এবং দক্ষিণ এশীয়-আমেরিকানদের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত মিনহাজ চৌধুরী বর্তমানে অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার (ASAAL)-এর মিশিগান চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি জেনারেল এবং সংগঠনটির জাতীয় বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে কাজ করেছেন এবং আমেরিকান মুসলিম পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (AMPAC)-এর সঙ্গেও সম্পৃক্ত। পেশাগত জীবনে তিনি ফোর্ড মোটর কোম্পানিতে কর্মরত। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ব্যবসায় সহায়তা, সরকারি শিক্ষার মানোন্নয়ন, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ কমিউনিটি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সাশ্রয়ী আবাসন এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তা জোরদার করাও তার অন্যতম অঙ্গীকার। অন্যদিকে, বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক ম্যাকফল ২০২৩ সাল থেকে মিশিগান হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি হ্যাজেল পার্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য এবং মেয়র প্রো টেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রকাশ্যে সমকামী (openly gay) এবং মিশিগান আইনসভার এলজিবিটিকিউ প্রতিনিধিদের একজন হিসেবে পরিচিত। তার নির্বাচনী প্রচারণায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি শিক্ষা, নাগরিক অধিকার, ক্ষুদ্র ব্যবসার উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। ডিস্ট্রিক্ট-১৪-এর আওতায় সেন্টার লাইন, হ্যাজেল পার্ক, ম্যাডিসন হাইটস এবং ওয়ারেন শহরের অংশবিশেষ অন্তর্ভুক্ত। এলাকাটি জাতিগত ও সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময়। দক্ষিণ এশীয় ও বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে, ফলে এ নির্বাচন কমিউনিটির মধ্যেও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ প্রাইমারি নির্বাচন একদিকে বর্তমান প্রতিনিধির অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন, অন্যদিকে নতুন নেতৃত্বের প্রতি ভোটারদের আস্থারও পরীক্ষা। মিনহাজ চৌধুরী তার প্রচারণায় বাংলাদেশি-আমেরিকান, অভিবাসী পরিবার, শ্রমজীবী মানুষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরছেন। অন্যদিকে, মাইক ম্যাকফল তার আইনসভায় কাজের অভিজ্ঞতা ও পূর্ববর্তী কার্যক্রমের ভিত্তিতে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন। আগামী ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির ফলই নির্ধারণ করবে, কে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে ডিস্ট্রিক্ট-১৪-এর এই নির্বাচন শুধু স্থানীয় রাজনীতিতেই নয়, বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির প্রতিনিধিত্বের দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।