বুধবার (৮ জুলাই) বিশ্বের মানুষ প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে একটি বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা। গ্রিনউইচ মান সময় (GMT) অনুযায়ী সকাল ১১টা ১০ মিনিটে পৃথিবীর প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ একই সময়ে সূর্যের আলোতে অবস্থান করবেন। পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থান, উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালীন দীর্ঘ দিনের প্রভাব এবং বিশ্বের জনসংখ্যার ভৌগোলিক বণ্টনের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওই সময় বিশ্বের অধিকাংশ জনবহুল অঞ্চল দিনের আলোয় থাকবে। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকার বড় অংশ এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার উল্লেখযোগ্য এলাকায় সূর্যের আলো থাকবে। ফলে বিশ্বের প্রায় সব বড় জনসংখ্যার দেশ একই সময়ে দিনের আলোয় অবস্থান করবে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশগুলোর মধ্যে চীন, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, জাপান, নাইজেরিয়া এবং ইউরোপের অধিকাংশ দেশের মানুষ ওই সময় সূর্যের আলো উপভোগ করবেন। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার বড় অংশ উত্তর গোলার্ধে বসবাস করায় এই বিরল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি কোনো সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণ, উল্কাবৃষ্টি বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক মহাজাগতিক ঘটনা নয়। এটি পৃথিবীর স্বাভাবিক ঘূর্ণন এবং সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণের ফল। পৃথিবীর অক্ষ প্রায় ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে থাকার কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যে পরিবর্তন আসে।
জুলাই মাসে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল থাকায় দিনের সময় দীর্ঘ হয় এবং সূর্যের আলো দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে থাকে।
ওই সময় বিশ্বের মাত্র এক শতাংশ মানুষ অন্ধকারে থাকবেন। তারা মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু দূরবর্তী দ্বীপ, দক্ষিণ মহাসাগরের কিছু এলাকা এবং খুব কম জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থান করবেন। এসব অঞ্চলের জনসংখ্যা অত্যন্ত কম হওয়ায় বৈশ্বিক হিসাবেও তাদের সংখ্যা খুবই সামান্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ একই সময়ে কখনোই সূর্যের আলোতে থাকতে পারেন না। কারণ পৃথিবী গোলাকার এবং এটি নিজের অক্ষের ওপর ঘুরছে। ফলে পৃথিবীর এক পাশে যখন দিন, অন্য পাশে তখন রাত। তবে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ যদি দিনের অংশে অবস্থান করেন, তাহলে এমন বিরল পরিসংখ্যান তৈরি হতে পারে।
জুলাই মাসে উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘ দিনের কারণে ইউরোপ, এশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল সূর্যালোকিত থাকে। একই সময়ে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকারও বড় অংশে সকাল বা বিকেলের আলো থাকে। এই সমন্বয়ের ফলে বিশ্বের প্রায় সব জনবহুল এলাকা একই সময়ে আলোকিত অবস্থায় থাকে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর জনসংখ্যা সমানভাবে ছড়িয়ে নেই।
বিশ্বের প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ উত্তর গোলার্ধে বসবাস করেন। এশিয়াতেই বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষের বাস। তাই উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘ দিনের সময় পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই সূর্যের আলোতে থাকেন।
এ ধরনের ঘটনা প্রতি বছর একইভাবে ঘটে না। পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান, ঋতুর পরিবর্তন এবং পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে দিনের দৈর্ঘ্যের পার্থক্যের কারণে নির্দিষ্ট সময়েই এমন বিরল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ কারণে জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের কাছে এটি বিশেষ আগ্রহের বিষয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, এই ঘটনার সঙ্গে আবহাওয়া, জলবায়ু বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও কোনো প্রভাব ফেলবে না। এটি কেবল পৃথিবীর জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক অবস্থান এবং বৈশ্বিক জনসংখ্যার বিন্যাসের একটি আকর্ষণীয় উদাহরণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে "পৃথিবীর সবচেয়ে আলোকিত মুহূর্ত" হিসেবে উল্লেখ করছেন। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি মূলত একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক ঘটনা, যেখানে একই সময়ে সূর্যের আলোয় থাকা মানুষের অনুপাত হিসাব করা হয়েছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এমন ঘটনা পৃথিবীর গতিবিধি, ঋতু পরিবর্তন এবং সূর্যের সঙ্গে পৃথিবীর সম্পর্ক সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক। একই সঙ্গে এটি স্মরণ করিয়ে দেয়, পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে দিন ও রাত ভিন্ন হলেও আমরা সবাই একই গ্রহের একই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থার অংশ।
বুধবারের এই বিরল মুহূর্ত তাই বৈজ্ঞানিকভাবে একটি অনন্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যখন বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ একই সময়ে সূর্যের আলোয় অবস্থান করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
বিমানে যাতায়াতের সময় অনেকেই বাড়তি ঝামেলা এড়াতে শুধু একটি হাতের ব্যাগ নিয়ে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। এতে লাগেজ বুকিংয়ের খরচ বাঁচে এবং নামার পর ব্যাগের জন্য অপেক্ষাও করতে হয় না। কিন্তু প্রায় সময়ই দেখা যায়, বিমানে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে গেটের সামনে যাত্রীদের হাতের ব্যাগটি জমা নিয়ে তা বিমানের মূল মালপত্র রাখার জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো বিমানের আকার এবং যাত্রীদের অতিরিক্ত চালাকি। ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা জানান, ছোট দূরত্বের ফ্লাইট বা আঞ্চলিক বিমানগুলোর আকার ছোট হয়। বর্তমান সময়ে বিমান সংস্থাগুলো সাধারণ ব্যাগের বুকিং ফি অতিরিক্ত বাড়িয়ে দেওয়ায় যাত্রীরা টাকা বাঁচাতে সবকিছু একটিমাত্র হ্যান্ডব্যাগে গাদাগাদি করে নিয়ে আসেন। কিন্তু প্রতিটি বিমানের ভেতরের লকার বা মাথার ওপরের বাক্সগুলো সবার বড় সাইজের ব্যাগ রাখার জন্য তৈরি নয়। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন, তাদের ব্যাগ জমা নেওয়ার পরও বিমানের ভেতরের লকার খালি পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাহলে কেন জোর করে ব্যাগ কেড়ে নেওয়া হয়? এর উত্তর হলো—সময় বাঁচানো। আমেরিকার ডেল্টা এয়ারলাইন্সের একজন মুখপাত্র জানান, বিমান সময়মতো ছাড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো যাত্রীদের বিমানে ওঠার প্রক্রিয়া। যাত্রীরা যখন ভেতরে ঢুকে ব্যাগ রাখার জায়গা খুঁজতে অতিরিক্ত সময় নষ্ট করেন, তখন ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হয়ে যায়। তাই বিমান সংস্থাগুলো বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে আগেই হিসাব করে নেয় কোন ফ্লাইটে লকার উপচে পড়তে পারে এবং শেষ মুহূর্তের জটিলতা এড়াতে তারা গেটেই ব্যাগ জমা নেওয়া শুরু করে। সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে বিমানের জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় ডেল্টা ও সাউথওয়েস্টের মতো বড় বড় মার্কিন বিমান সংস্থাগুলো ব্যাগের চার্জ ১০ ডলার বাড়িয়ে ৪৫ ডলার করেছে। এর ফলে হ্যান্ডব্যাগের চাপ আরও বেড়েছে। সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, লকারের জায়গা শেষ হয়ে এলে তারা মূলত একদম শেষের দিকে বিমানে ওঠা যাত্রীদের ব্যাগই গেটে জমা রেখে দেয়। এই ঝামেলা এড়ানোর উপায় কী? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, টিকিট কাটার সময় সামান্য কিছু টাকা বেশি খরচ করে এমন টিকিট নেওয়া উচিত যা আপনাকে অন্যদের চেয়ে কিছুটা আগে বিমানে ওঠার সুযোগ দেবে। আগে উঠলে বিমানের ভেতরের লকারে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ থাকে। এছাড়া ফ্লাইট অতিরিক্ত পূর্ণ থাকলে অনেক বিমান সংস্থা বিনামূল্যে কাউন্টার থেকেই ব্যাগ বুকিং করার সুযোগ দেয়, যাত্রীরা চাইলে সেই সুবিধাও নিতে পারেন।
দক্ষিণ চীনের গুয়াংশি অঞ্চলে ট্রপিক্যাল স্টর্ম মেইসাকের অবশিষ্টাংশ থেকে সৃষ্ট রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। প্রবল বর্ষণে বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। চীনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেক এলাকায় মানুষ ঘরের ছাদ ও দ্বিতীয় তলায় আটকা পড়ে উদ্ধারকারীদের সহায়তার অপেক্ষায় আছেন। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কোথাও কোথাও ৯০০ মিলিমিটারেরও বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। এতে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপরে উঠে গেছে, শত শত জলাধার ও বাঁধের ওপর চাপ বেড়েছে এবং বহু সড়ক, সেতু ও রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। উদ্ধার কাজে হাজারো জরুরি কর্মী, নৌযান ও বিশেষায়িত যান মোতায়েন করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আটকে পড়া মানুষের অসংখ্য সহায়তার আবেদনও সামনে এসেছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সময়ে শক্তিশালী সুপার টাইফুন বাভিও চীনের পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়ায় দুর্যোগ পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পবিত্র নগরী কোমে আয়োজিত এই রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের ঢল নামে। সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও শোকার্ত জনতার মাঝে নিজ হাতে খাবার বিতরণ করে প্রশংসায় ভাসছেন বাংলাদেশের এই তরুণ রাজনীতিক। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের দৃশ্য উঠে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি সড়কের পাশে বড় বাকেট হাতে দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেওয়া নারী, পুরুষ ও শিশুদের মাঝে ছোট ছোট খাবারের প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন। মূলত বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ইরানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ফল, কেক ও নাশতা বিতরণের যে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেই স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হন তিনি। বিদেশের মাটিতে এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বিনয়ের নিদর্শন দেখে নেটিজেনরা তাকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন। ফেসবুকে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, মানবতার কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা নেই এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই উদ্যোগ দূরদর্শিতা ও পরিপক্বতার প্রমাণ দেয়। কেউ কেউ তাকে ‘বাংলার নক্ষত্র’ আখ্যা দিয়ে এমন তরুণ নেতাদের যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নেটিজেনদের মতে, সমালোচনা করা সহজ হলেও এমন মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সত্যিই কঠিন। খাবার বিতরণের পাশাপাশি এই সফরে তিনি সেখানকার শিশু ও যুদ্ধাহত যোদ্ধাদের সঙ্গে সময় কাটান এবং আলী লারিজানীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, ইরান যেভাবে তাদের দেশরক্ষায় আত্মত্যাগকারী বীরদের সম্মান ও মর্যাদায় আগলে রাখে, তা বাংলাদেশের জন্যও অত্যন্ত শিক্ষণীয়। মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মর্যাদা দিয়ে জাতির সামনে তুলে ধরতে পারলে নতুন প্রজন্ম আরও বেশি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।