বাজারের খরচ বাঁচাতে এবার নিজেদের খাবার নিজেরাই ফলাচ্ছেন আমেরিকার সাধারণ মানুষ!
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের কলেজ পার্কের একটি পাঁচ একরের খামার বাজারের বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে সাধারণ মানুষকে নিজেদের খাবার নিজে উৎপাদন করার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। 'মেট্রো আটলান্টা আরবান ফার্ম' নামের এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি গত ১৯ বছর ধরে কৃষিকাজকে হাতিয়ার করে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও যুদ্ধাহত সামরিক প্রবীণদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। খামারের প্রতিষ্ঠাতা ববি উইলসন জানান, তাদের মূল উদ্দেশ্য কেবল বীজ রোপণ করা নয়, বরং কৃষির মাধ্যমে সমাজে একটি সুস্থ পরিবেশ ও শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন তৈরি করা।
কলেজ পার্কের মেইন স্ট্রিটে অবস্থিত এই খামারটিতে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে এবং ঐতিহ্যবাহী পুরোনো বীজ ব্যবহার করে ফসল ফলানোর কৌশল শেখানো হয়। খামারের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পরিবারগুলো একদিকে যেমন স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে, অন্যদিকে সহজেই বিষমুক্ত তাজা ও পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ করতে পারছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতেই মূলত এই বিশেষ কৃষি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি এই খামারটি যুদ্ধাহত মার্কিন সেনাদের সহায়তায় নিয়োজিত 'উইন্ডেড ওয়ারিয়র প্রজেক্ট'-এর সাথে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। এর আওতায় প্রতি দুই সপ্তাহ পর পর বিভিন্ন সামরিক বাহিনীর প্রবীণ সদস্যরা খামারে এসে ফসল রোপণ, ফসল সংগ্রহ এবং বাড়িতে বাগান করার বিভিন্ন বাস্তবমুখী কৌশল শিখছেন। অংশ নেওয়া সাবেক এক সেনাসদস্য জানান, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দামের কারণে এই শিক্ষা তাদের দারুণভাবে সাহায্য করছে এবং মানসিক চাপ কমিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করতে খামারটি তরুণদের ইন্টার্নশিপ বা হাতেকলমে শিক্ষার সুযোগ দিচ্ছে। মিসিসিপির অ্যালকর্ন স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃষি ব্যবসা বিভাগের এক শিক্ষার্থী এই খামারে এসে ট্র্যাক্টর চালানো, বীজতলা তৈরি এবং মাটির সঠিক ব্যবহার শিখছেন। এছাড়া খামারটি বিভিন্ন স্কুল, চার্চ, কোকা-কোলা কোম্পানি এবং টাস্কিজি ইউনিভার্সিটির মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়ে বছরজুড়ে কৃষি শিক্ষা প্রদান করছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে ভ্রমণ বা তথাকথিত ‘জন্ম পর্যটন’ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ অভিযানের অংশ হিসেবে গত আগস্টের শুরুতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০টি ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ২০ আগস্ট এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, জন্ম পর্যটন এখন শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি একটি বৈশ্বিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন নেটওয়ার্ক বিদেশিদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে কার্যত মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ ‘বিক্রি’ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জন্ম পর্যটন বলতে সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যখন কোনো বিদেশি নাগরিক মূলত যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে প্রবেশ করেন, যাতে সন্তান জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শিশুর মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া পর্যটন ভিসা পাওয়ার বৈধ ভিত্তি নয়। পিগটের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু নেটওয়ার্ক নিজেদের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বা চিকিৎসাসংক্রান্ত সেবা হিসেবে উপস্থাপন করে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনে ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করতে আবেদনকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে এসব নেটওয়ার্ক শুধু ভিসা পাওয়ার জন্য মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তা করে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরও কীভাবে প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন রাখতে হবে, সে বিষয়ে আবেদনকারীদের পরামর্শ দেয়। এর ফলে চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের ওপর পড়তে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন পিগট। আগস্টের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ‘বার্থ ট্যুরিজম প্রিভেনশন টাস্কফোর্স’ নামে বিশেষ একটি দল গঠনের ঘোষণা দেয়। দপ্তরটি জানিয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা ও আইনি কাঠামো সুরক্ষিত রাখা, অ-অভিবাসী ভিসা কেবল বৈধ ও ঘোষিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জন্ম পর্যটনের মাধ্যমে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকানো। টাস্কফোর্স গঠনের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, তখন পর্যন্ত ৬০০টির বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। মাত্র কিছুদিনের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৯০০ হয়েছে বলে পিগট জানান। পররাষ্ট্র দপ্তর এরই মধ্যে কয়েকটি ঘটনার উদাহরণও প্রকাশ করেছে। দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক দম্পতি দুটি আলাদা ভিসা আবেদনে সম্মেলন ও অবকাশযাত্রাকে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের কারণ হিসেবে দেখিয়েছিলেন। তবে কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া। দ্বিতীয়বার আবেদনের সময় তারা আগে জন্ম নেওয়া একটি সন্তানের তথ্যও গোপন করেছিলেন। ওই দম্পতির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। আরেক ঘটনায়, একটি বিদেশি সরকারের একজন কর্মকর্তা সরকারি কাজে এক সপ্তাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা নিয়েছিলেন বলে পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রায় তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন এবং সেখানে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর দেশ ছাড়েন। অন্য একটি ঘটনায়, এক নারী ভিসা আবেদনে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অবকাশযাপনের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে যান এবং সেখানে সন্তান জন্ম দেন বলে পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। জন্ম পর্যটন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পেছনে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক বিধানও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী সব শিশুর জন্য স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের দীর্ঘদিনের নীতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিলেন। সেই আদেশে অবৈধভাবে বা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের ক্ষেত্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়। পরে ২০২৬ সালের ৩০ জুন Trump v. Barbara মামলায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশকে সাংবিধানিকভাবে বৈধ নয় বলে রায় দেয়। আদালত স্পষ্ট করে যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির এখতিয়ারের আওতাধীন শিশুরা চতুর্দশ সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারার অধীনে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। রায়টি ৬-৩ ভোটে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক নীতি বহাল থাকলেও সেই নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার বা ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করার বিষয়টি আলাদা আইনি প্রশ্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মার্কিন বিচার বিভাগও জন্ম পর্যটন-সংক্রান্ত পরিকল্পনা ও প্রতারণার বিরুদ্ধে তদন্তকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা আবেদন যাচাই এবং বাতিলের মাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করেছে। তবে প্রায় ৯০০ ভিসা বাতিলের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী কোনো বিদেশি নাগরিকের ভ্রমণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে। মূল বিষয় হলো ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ভিসা আবেদনে দেওয়া তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করাই যদি যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য হয়, সেটি পর্যটন ভিসা পাওয়ার বৈধ কারণ নয়। মার্কিন সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে মূলত এমন ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করা হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে ভিসার উদ্দেশ্য গোপন করা, ভুল তথ্য দেওয়া বা জন্ম পর্যটনকে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য আবেদনকারী বিদেশিদের ক্ষেত্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা এবং ভিসা আবেদনে সত্য তথ্য দেওয়ার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
প্রতিষ্ঠিত ৪ সন্তান থাকা সত্ত্বেও ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় বসবাস, গুগল ম্যাপে উঠে এল গণিত শিক্ষক বাবার জীবন
যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ, গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য বড় আপডেট
ক্যালিফোর্নিয়ায় সৈকতে হাঁটতে গিয়ে দানবীয় ঢেউয়ের কবলে নারী, প্রাণে বাঁচালেন লাইফগার্ডরা
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে কোনি আইল্যান্ডে জনসমক্ষে একটি বিশাল আকারের বার্মিজ অজগর প্রদর্শনের দায়ে এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব এনভায়রনমেন্টাল কনজারভেশনের (DEC) তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই রিগেলম্যান বোর্ডওয়াকের কাছে এই ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্যে এমন বিপজ্জনক প্রাণী প্রদর্শনের কারণে সেখানে দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ বিভাগের এক কর্মকর্তা টহল দেওয়ার সময় দেখতে পান, ছোট শিশুসহ প্রায় ডজনখানেক মানুষের একটি ভিড় বিশাল একটি সাপকে ঘিরে আছে। এ সময় ওই ব্যক্তির গলায় আরও একটি ছোট আকৃতির 'বল পাইথন' প্যাঁচানো ছিল এবং তিনি অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে বড় বার্মিজ অজগরটি উপস্থিত দর্শনার্থীদের দেখাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, তিনি সাপটিকে 'বার্মিজ অজগর' বলে নিশ্চিত করেন এবং নিজেকে এর মালিক হিসেবে দাবি করেন। নিউইয়র্ক স্টেটের আইন অনুযায়ী, বার্মিজ অজগরকে 'বিপজ্জনক প্রাণী' হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে এবং অঙ্গরাজ্যটিতে ব্যক্তিগতভাবে এটি পালন করা সম্পূর্ণ বেআইনি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের সাপ সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে এবং খোলা পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হলে এটি স্থানীয় বন্যপ্রাণী ও বাস্তুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। বেআইনিভাবে বিপজ্জনক প্রাণী পালনের দায়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তিকে একটি জরিমানার টিকিট (Ticket) দেওয়া হয়েছে এবং বার্মিজ অজগরটিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে সাপটিকে উদ্ধার করে নাসাউ কাউন্টি সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু অ্যানিমেলস-এর (SPCA) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
নিউ জার্সির অ্যালায়না দুবার ক্যানসারকে হারিয়ে এবার ক্যানসার রোগীদের সেবায় নার্স হচ্ছেন
যুক্তরাষ্ট্রে নারী নেতৃত্বের পথপ্রদর্শক, প্রভাবশালী সিনেটর ন্যান্সি কাসেবাম আর নেই
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বয়ফ্রেন্ডের হাতে খু ন ১৮ বছরের নারী ফুটবলার, লা শ গুমে মায়ের সহায়তা
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন 'ওয়েন্ডিস'-এর একটি ডাবল চিজবার্গার খেয়ে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিকাগোর এক নারী। রক্সি এলিস ডগলাস (৬৮) নামের ওই নারীর দাবি, খাবারটি খাওয়ার পর তিনি 'ক্যাম্পিলোব্যাক্টেরিওসিস' নামের গুরুতর ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে আক্রান্ত হন। এর ফলে তীব্র গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল জটিলতা, ডিহাইড্রেশন ও কোলন প্রদাহ নিয়ে তাকে দুই দফায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় এবং চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয় ৯৩ হাজার ৫০০ ডলারেরও বেশি অর্থ। আদালতের নথি অনুযায়ী, ডগলাস শিকাগোর সাউথ স্টনি আইল্যান্ড অ্যাভিনিউর ওয়েন্ডিস আউটলেট থেকে ডোরড্যাশের মাধ্যমে একটি ডাবল চিজবার্গার ও বেকড পটেটো অর্ডার করেছিলেন। সিল করা ব্যাগে খাবার পৌঁছানোর পর আপাতদৃষ্টিতে কোনো সমস্যা মনে না হলেও, খাবার খাওয়ার পরদিনই তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রেস্তোরাঁ থেকে সরবরাহ করার সময়ই খাবারটি ক্ষতিকর ক্যাম্পিলোব্যাক্টার ও অন্যান্য রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত ছিল, যা মানুষের খাওয়ার সম্পূর্ণ অনুপযোগী। বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ জীবনঘাতী হতে পারে। চিকিৎসা ব্যয় সংক্রান্ত নথিতে দেখা যায়, অসুস্থতার কারণে ডগলাসকে প্রায় ২ হাজার ৮০০ ডলার ব্যয়ে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিতে হয়। প্রথম দফায় তিন দিন এবং পরবর্তীতে জটিলতা বাড়ায় দ্বিতীয় দফায় আরও পাঁচ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এছাড়া পরবর্তীতে জটিলতা পর্যবেক্ষণে তার কোলনোস্কপিসহ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। নিরাপদ খাদ্য তৈরিতে ব্যর্থতা এবং খাদ্যের ঝুঁকি সম্পর্কে গ্রাহককে যথাযথ সতর্ক না করার অভিযোগ এনে ওয়েন্ডিসের কাছে ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ডগলাস। তবে এ বিষয়ে ওয়েন্ডিস কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নিউইয়র্কে কর্মক্ষেত্রে ওজুর জায়গা না পেয়ে কিচেন সিঙ্কেই ওজু মুসলিম কর্মীর, ভিডিও ঘিরে বিতর্ক
নিউইয়র্কে ফ্রি বাসের প্রতিশ্রুতি অধরা, আপাতত ২০ শতাংশ গতি বাড়িয়ে যাত্রীদের সময় বাঁচাতে মামদানির উদ্যোগ