সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

কট্টর ডানপন্থার উত্থান ঠেকাতে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে কঠোর বাজেট শৃঙ্খলার প্রতিশ্রুতি ফরাসি মধ্যপন্থীদের

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ৭:১১
ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার ফিলিপ ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার ফিলিপ ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

ফ্রান্সে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় দেশটির মধ্যপন্থী নেতারা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছেন।

 

মধ্যপন্থী শিবিরের নেতারা বলেছেন, ফ্রান্সের অর্থনীতি বর্তমানে উচ্চ সরকারি ঋণ, বাজেট ঘাটতি এবং ধীরগতির প্রবৃদ্ধির মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় তারা এমন একটি বাজেট নীতি গ্রহণ করতে চান, যাতে একদিকে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকে, অন্যদিকে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিল্পোৎপাদনের গতি ব্যাহত না হয়।

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতাল এবং এদোয়ার ফিলিপসহ মধ্যপন্থী নেতারা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে সরকারি অর্থব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। একই সঙ্গে কর কাঠামোকে আরও কার্যকর করা, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকারি ঋণের চাপ হ্রাসে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও তারা উল্লেখ করেন।

 

সাম্প্রতিক সময়ে কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‍্যালি-এর জনপ্রিয়তা বাড়ায় মধ্যপন্থীরা অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে নিজেদের প্রধান রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের লক্ষ্য হলো এমন ভোটারদের আস্থা অর্জন করা, যারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি শক্তিশালী অর্থনৈতিক নেতৃত্বও প্রত্যাশা করেন।

 

অন্যদিকে, ফ্রান্সের সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগও বাড়ছে। ইউরোপীয় আর্থিক নিয়ম অনুযায়ী বাজেট ঘাটতি কমানোর চাপ রয়েছে। এ কারণে আগামী সরকারের জন্য সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

 

শুধুমাত্র ব্যয় সংকোচন নয়, উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পখাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই মধ্যপন্থীরা এমন নীতির কথা বলছেন, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত না করে রাষ্ট্রের আর্থিক অবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

 

আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে অর্থনীতি এখন ফ্রান্সের রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ফলে বাজেট শৃঙ্খলা, সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
যুক্তরাষ্ট্রে কুস্তি বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে যাওয়ার আগে ৯ ভারতীয় কুস্তিগীরের ভিসা বাতিল
যুক্তরাষ্ট্রে কুস্তি বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে যাওয়ার আগে ৯ ভারতীয় কুস্তিগীরের ভিসা বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে আসন্ন অনূর্ধ্ব-২৩ বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ নিয়ে ভারতীয় দলে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নেহা সাঙ্গোয়ানসহ ৯ জন প্রতিশ্রুতিশীল ভারতীয় কুস্তিগীরের মার্কিন ভিসা বাতিল করা হয়েছে। আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টের আগে বয়স কম এবং বেকারত্বের মতো অদ্ভুত অজুহাত দেখিয়ে তাদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন দূতাবাস।   ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের (ডব্লিউএফআই) দেওয়া তথ্যমতে, গত বুধবার নয়াদিল্লির মার্কিন দূতাবাসে ২৪ জন প্রতিযোগী ভিসা সাক্ষাৎকারের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন, যার মধ্যে ১৬ জন ছিলেন কুস্তিগীর। দুর্ভাগ্যবশত, শুধুমাত্র ২০ বছরের কম বয়স এবং আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসংস্থান বা চাকরি না থাকার কারণে তাদের মধ্যে ৯ জনের পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে মৌখিকভাবে ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়।   ভিসা বাতিল হওয়া এই কুস্তিগীরদের তালিকায় নেহা সাঙ্গোয়ান ছাড়াও রয়েছেন সামর্থ গজানন মাকভে, ধীরাজ কুমার মালিক, শচীন কুমার, নিখিল, হরদীপ, পারভীন, অহল্যা শত্রুঘ্ন শিন্ডে এবং নেহা শর্মা।   এই ঘটনার পরপরই মার্কিন দূতাবাসের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জোরালো আবেদন জানিয়েছে ডব্লিউএফআই। ফেডারেশন তাদের চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, এটি অনূর্ধ্ব-২৩ বয়সভিত্তিক একটি টুর্নামেন্ট এবং অংশগ্রহণকারী কুস্তিগীরদের বয়স ১৮ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে।   স্বাভাবিকভাবেই এই বয়সের তরুণ অ্যাথলেটরা তাদের ক্যারিয়ার গড়ার পেছনে সময় দেন এবং তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক পেশা বা চাকরি থাকে না, যা অত্যন্ত যৌক্তিক। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার আরও যেসব কুস্তিগীরের ভিসা সাক্ষাৎকার নির্ধারিত রয়েছে, তাদের বেশিরভাগেরই বয়স ২০ বছরের নিচে এবং বেকার হওয়ায় তাদের মার্কিন ভিসা পাওয়া নিয়েও চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:৩৮
যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনে শ্রবণ-প্রতিবন্ধী দম্পতির ভেঙে পড়া বাড়ি নতুন করে গড়লেন শত স্বেচ্ছাসেবী

যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনে শ্রবণ-প্রতিবন্ধী দম্পতির ভেঙে পড়া বাড়ি নতুন করে গড়লেন শত স্বেচ্ছাসেবী

বেঙ্গালুরুতে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরোধিতায় আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন ধ্রুব রাঠি। ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গালুরুতে ‘এসআইআর’ বিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি

ঈদের নামাজের শব্দ নিয়ে অভিযোগ করতে এসে ইসলাম গ্রহণ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের বাসিন্দা ব্রায়ান। ছবি: সংগৃহীত

নামাজের শব্দ নিয়ে অভিযোগ করতে মসজিদে এসে ইসলাম গ্রহণ অস্ট্রেলীয় বৃদ্ধের

স্প্যারোজ পয়েন্ট, মেরিল্যান্ড।
মেরিল্যান্ডে ৩৭০ কোটি ডলারের কারখানা, ৩১০০ নতুন চাকরির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর এলাকায় ৩৭০ কোটি ডলারের একটি বড় শিল্প প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল স্প্যারোজ পয়েন্টে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের বিভিন্ন উপাদান তৈরির জন্য নতুন উৎপাদন সুবিধা গড়ে তুলবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি প্রায় ৩১০০টি নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে।   ৬ অক্টোবর স্প্যারোজ পয়েন্টে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এই বিনিয়োগের কথা তুলে ধরেন। এলাকাটি আগে বেথলেহেম স্টিলের বিশাল ইস্পাত কারখানার জন্য পরিচিত ছিল। সেই ইস্পাত কারখানা ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটির শিল্পভিত্তিক কর্মসংস্থান কমে যায়।   নতুন প্রকল্পকে ওই অঞ্চলের শিল্প পুনরুজ্জীবনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অ্যান্ডুরিলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাবমেরিন নির্মাণে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।   প্রকল্পটির মোট বিনিয়োগ প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ফেডারেল সরকার প্রায় ২৯০ কোটি ডলারের পণ্য কেনার মাধ্যমে প্রকল্পটিকে সহায়তা করবে। নতুন স্থাপনাটি শুধু সরাসরি কর্মসংস্থানই তৈরি করবে না, এর সঙ্গে যুক্ত সরবরাহকারী, পরিবহন, নির্মাণ ও অন্যান্য ব্যবসায়ও অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   অর্থনৈতিক দিক থেকে বাল্টিমোর অঞ্চলের জন্য এই বিনিয়োগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়া এবং কর্মসংস্থানের পরিবর্তনের কারণে স্প্যারোজ পয়েন্ট এলাকায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন ছিল। নতুন প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র সেই পুরোনো শিল্প এলাকাকে আবার বড় উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে পরিণত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।   ট্রাম্প অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানোকে তাঁর প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে।   প্রকল্পটি মেরিল্যান্ডের শ্রমবাজারের জন্যও বড় খবর। ৩১০০ সরাসরি চাকরি তৈরি হলে উৎপাদন, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নির্মাণপর্বে অস্থায়ীভাবে আরও অনেক কর্মী কাজের সুযোগ পেতে পারেন।   বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারের জন্যও এ ধরনের শিল্প বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বড় উৎপাদন প্রকল্পের প্রভাব শুধু কারখানার কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। স্থানীয় পরিবহন, রেস্টুরেন্ট, দোকান, আবাসন, নির্মাণ এবং বিভিন্ন সেবা খাতেও ব্যবসা বাড়তে পারে।   প্রকল্পটি মেরিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোগগুলোর একটি হতে পারে বলে অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হতে সময় লাগবে এবং ঘোষিত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সংখ্যা বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।   এই বিনিয়োগ এমন সময়ে আসছে যখন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন খাত পুনরুজ্জীবিত করা, সরবরাহ ব্যবস্থা দেশে ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্প্যারোজ পয়েন্টের প্রকল্পটি সেই বৃহত্তর শিল্পনীতি ও কর্মসংস্থান পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১২:৩৩
কানাডায় অস্ত্রধারী হামলাকারীর কবল থেকে দুই নারীকে রক্ষায় অনন্য সাহসিকতার স্বীকৃতি পেলেন চার পুলিশ কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত

দুই নারীকে অস্ত্রধারীর হাত থেকে বাঁচিয়ে কানাডায় পুরস্কৃত পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত পুলিশ

চার দশক আগে অ্যারিজোনায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত কিশোরের পরিচয় অবশেষে ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

১৯৮২ সালে পাওয়া দেহাবশেষের পরিচয় মিলল, ৪৩ বছর পর জানা গেল কিশোরের নাম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে আইফোন চুরির ঘটনায় এক ভুক্তভোগী নারী আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

এক মাস আগে নারীর আইফোন চুরি, পরে পাসওয়ার্ড চেয়ে নিজেই মেসেজ দিল চোর

৬০ লাখ রুপি দেওয়ার পর স্বামীর প্রতারণার অভিযোগ থাই নারীর
৬০ লাখ রুপি দেওয়ার পর ভারতে এসে থাই নারী জানলেন স্বামী আগে থেকেই বিবাহিত

থাইল্যান্ড থেকে ভারতে এসে স্বামীর খোঁজ করতে গিয়ে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন এক থাই নারী। উত্তর প্রদেশের কানপুরে পৌঁছে তিনি জানতে পারেন, যাঁকে তিনি নিজের স্বামী বলে জানতেন, সেই মোহাম্মদ ইরফান আগে থেকেই বিবাহিত এবং তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। ওই নারীর আরও অভিযোগ, ব্যবসার প্রয়োজনের কথা বলে ইরফান তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ রুপি নিয়েছেন। অভিযোগের পর ইরফানকে গ্রেপ্তার করেছে কানপুর পুলিশ।   প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই নারীর নাম আপসর্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানপুরের চামড়া ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইরফানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ব্যবসার কাজে ইরফান নিয়মিত থাইল্যান্ডে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।   আপসর্নের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে থাইল্যান্ডের স্থানীয় রীতি মেনে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে ইরফান নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।   বিয়ের পর ব্যবসা ও অন্যান্য আর্থিক প্রয়োজনের কথা বলে ইরফান তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে অর্থ নিতে শুরু করেন। শুরুতে প্রায় ২০ লাখ রুপি দেওয়ার পর কয়েক দফা লেনদেনে মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬০ লাখ রুপিতে পৌঁছায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   আপসর্ন থাইল্যান্ডে একটি ক্যান্টিন ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনা করেন। তাঁর দাবি, ইরফানকে দেওয়া অর্থের একটি অংশ ছিল তাঁর নিজের উপার্জনের টাকা। বাকি অর্থের কিছু তিনি আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করেছিলেন। তবে ইরফান কোনো অর্থ ফেরত দেননি বলে অভিযোগ তাঁর।   পরিস্থিতি বদলে যায় যখন আপসর্ন টাকা ফেরত চাইতে শুরু করেন। তাঁর অভিযোগ, এরপর ইরফান ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতে ফিরে আসার পর তাঁর ফোনকলেরও উত্তর দেওয়া বন্ধ করে দেন। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর স্বামীর খোঁজে নিজেই ভারতে আসার সিদ্ধান্ত নেন আপসর্ন।   গত ৬ অক্টোবর পরিচিত একজনকে সঙ্গে নিয়ে কানপুরের লাটুশ রোড এলাকায় ইরফানের বাড়িতে যান তিনি। সেখানেই জানতে পারেন, ইরফান আগে থেকেই বিবাহিত এবং তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপসর্ন পুলিশকে জানিয়েছেন, ইরফানের আগের বিয়ের বয়স প্রায় ১৪ বছর।   আপসর্ন আরও অভিযোগ করেছেন, টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে ভারতে এসে ইরফানের সঙ্গে থাকতে, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে এবং বোরকা পরতে বলা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ইরফানের বাড়িতে যাওয়ার পর তাঁকে মারধরও করা হয়।   অভিযোগ পাওয়ার পর কানপুরের আনোয়ারগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। ইরফানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় মারধরের অভিযোগের পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের ধর্মান্তরবিরোধী আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।   পুলিশের সহকারী কমিশনার মঞ্জয় সিং জানিয়েছেন, ইরফান ওই নারীকে বিয়ে করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কানপুর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অতুল শ্রীবাস্তবও জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   তদন্তকারীরা বিয়ের নথি, ছবি, আর্থিক লেনদেনের কাগজপত্রসহ অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য যাচাই করছেন। আপসর্ন পুলিশের কাছে বিয়ের ছবি ও অন্যান্য নথি জমা দিয়েছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাঁর মেডিকেল পরীক্ষাও করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।   তবে ইরফানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত পরিমাণ, আগের বিয়ের তথ্য গোপনের অভিযোগ এবং ধর্মান্তরের জন্য চাপ দেওয়ার বিষয়গুলো তদন্ত শেষে আরও স্পষ্ট হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৮:৫৬
স্বর্ণের গহনার কাজ ছেড়ে আলি জামান ৬ বছরে হাতে লিখলেন বিশাল পবিত্র কোরআন

স্বর্ণের গহনার কাজ ছেড়ে আলি জামান ৬ বছরে হাতে লিখলেন বিশাল পবিত্র কোরআন

বাংলাদেশিদের ভুয়া সমকামী পরিচয়ে অ্যাসাইলাম আবেদন

বাংলাদেশিদের ভুয়া সমকামী পরিচয়ে অ্যাসাইলাম আবেদন, লন্ডনে গ্রেফতার ৩

প্রায় ৫১ লাখ রুপি প্রতারণার অভিযোগে ভারতীয় সুবেদারের কোর্ট মার্শালের নির্দেশ

প্রায় ৫১ লাখ রুপি প্রতারণার অভিযোগে ভারতীয় সুবেদারের কোর্ট মার্শালের নির্দেশ

0 Comments