সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

পুলিশে চাকরির আগ্রহ বাড়াতে ১০% বেতন বৃদ্ধি, সঙ্গে ৭,৫০০ ডলারের সাইনিং বোনাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ৯:২৫
শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগের সদস্যরা ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগের সদস্যরা ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগ (সিএমপিডি) নতুন সদস্য নিয়োগ এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের ধরে রাখতে বড় ধরনের আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। ২০২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেট কার্যকর হওয়ার পর বিভাগটির রিক্রুট, পুলিশ কর্মকর্তা ও সার্জেন্টদের বেতন ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি যোগ্য নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য থাকছে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ ডলারের সাইনিং বোনাস।

 

শার্লট সিটির অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় একজন পুলিশ রিক্রুটের প্রারম্ভিক বার্ষিক বেতন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৪৭৮ ডলার। পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তাদের আশা, এই বেতন বৃদ্ধি এবং আর্থিক প্রণোদনা জনবল সংকট মোকাবিলা, দক্ষ প্রার্থী আকৃষ্ট করা এবং অভিজ্ঞ সদস্যদের অন্য সংস্থায় চলে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে।

 

সিএমপিডি জানিয়েছে, বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন সদস্যদের জন্য সাইনিং বোনাস, শিক্ষা ও সামরিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা, ভাষাগত দক্ষতার প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকবে। বিভাগটির নিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ৭ হাজার ৫০০ ডলারের সাইনিং বোনাস নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণকারী নতুন রিক্রুট এবং ল্যাটারাল এন্ট্রি কর্মকর্তাদের জন্য প্রযোজ্য।

 

পুলিশ প্রধান এস্টেলা প্যাটারসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কর্মকর্তাদের জন্য আরও প্রতিযোগিতামূলক বেতন কাঠামোর পক্ষে কাজ করে আসছিলেন। বিভাগটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো শুধু আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর জন্য নয়, বরং কর্মীদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাদের মনোবল আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেও নেওয়া হয়েছে।

 

শার্লট সিটি কাউন্সিল সম্প্রতি ২০২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করে, যেখানে জননিরাপত্তা খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পুলিশ ও দমকল বিভাগের সদস্যদের জন্য ১০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে।

 

শহর কর্তৃপক্ষের মতে, দ্রুত সম্প্রসারণশীল শার্লটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ পুলিশ সদস্য নিয়োগ ও ধরে রাখা এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন বেতন কাঠামো ও সাইনিং বোনাস সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে ৫ সেন্টের নিকেল তৈরিতে খরচ ১৩ সেন্ট, পেনির পর এবার নিকেলেও খরচ কমানোর উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রে ৫ সেন্টের নিকেল তৈরিতে খরচ ১৩ সেন্ট, পেনির পর এবার নিকেলেও খরচ কমানোর উদ্যোগ

মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে খুচরা পয়সার ব্যবহার দিন দিন উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ১ সেন্টের 'পেনি' বাতিলের পর এবার ৫ সেন্ট মূল্যের 'নিকেল' নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে মার্কিন কংগ্রেস। একটি ৫ সেন্টের নিকেল তৈরি করতে ১৩ সেন্ট খরচ হওয়ায় এখন এর বিকল্প ও সাশ্রয়ী উপাদান খুঁজছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।   চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দ্বিদলীয় ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’ (Common Cents Act) নামের একটি বিল সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল পেনিকে চিরতরে বাতিল করা। বিলটি বর্তমানে আইনে পরিণত হওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।   গত বছরের ডিসেম্বরে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ঘোষণা করেছিল যে, ইউএস মিন্ট আর পেনি তৈরি করবে না, কারণ তখন একটি পেনি তৈরি করতে এর প্রকৃত মূল্যের চেয়ে তিনগুণ বেশি খরচ হতো। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, পেনি তৈরি বন্ধের এই সিদ্ধান্ত থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার সাশ্রয় হবে।   পেনি উৎপাদন বন্ধের পর এবার বিলটির আরেকটি অংশের দিকে নজর দিচ্ছেন আইনপ্রণেতারা। বিলের এই অংশে ট্রেজারি বিভাগকে নিকেল তৈরির জন্য বর্তমানের চেয়ে সস্তা উপাদান ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে একটি নিকেল ২৫ শতাংশ নিকেল ও ৭৫ শতাংশ তামার মিশ্রণে তৈরি হয় এবং সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি মুদ্রা তৈরি করতে করদাতাদের প্রায় ৮ সেন্ট লোকসান হয়।   মিশিগানের রিপাবলিকান প্রতিনিধি লিসা ম্যাকক্লেইন জানান, ৫ সেন্টের একটি মুদ্রা তৈরি করতে ১৩ সেন্ট খরচ হওয়াটা সরকারের অর্থের অপচয়। তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে নিকেল তৈরির খরচ কমানোর একটি সহজ ও সাশ্রয়ী পথ তৈরি করবে এই বিল।   সিনেটে এই বিলের নেতৃত্ব দেওয়া ওয়াইমিংয়ের রিপাবলিকান সিনেটর সিনথিয়া লুমিসও বিষয়টি সমর্থন করে জানান, মানুষ এখন দৈনন্দিন কেনাকাটায় নগদ অর্থের বদলে ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড এবং স্টেবলকয়েন বেশি ব্যবহার করছেন। প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাওয়ায় অতীতে যেমন হাফ-সেন্ট বাতিল করা হয়েছিল, পেনির ক্ষেত্রেও এখন একই সময় এসেছে। তবে এখনই নিকেল উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করার কোনো ইচ্ছা আইনপ্রণেতাদের নেই।   গত মে মাসে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে নিকেল তৈরির প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে এর উৎপাদন খরচ কমাতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি এই বিলে চূড়ান্ত স্বাক্ষর না করেন, তাহলে ভবিষ্যতের যেকোনো প্রশাসন পেনি বাতিলের সিদ্ধান্তটি উল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ২০:১
মিনেসোটায় মল অব আমেরিকায় ৩০ থেকে ৬০ জনকে হ ত্যার ছক, এফবিআইয়ের হাতে তরুণ গ্রেপ্তার

মিনেসোটায় মল অব আমেরিকায় ৩০ থেকে ৬০ জনকে হ ত্যার ছক, এফবিআইয়ের হাতে তরুণ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগে নতুন ফি প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে চাকরি করতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দিতে হবে ৭০ হাজার ডলার ফি

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামের ভ য়াবহ প্রাদুর্ভাব, নিউইয়র্কে নতুন করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামের ভ য়াবহ প্রাদুর্ভাব, নিউইয়র্কে নতুন করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

জেডি ভ্যান্সের শৈশবের শহরে উজবেক ট্রাকিং কোম্পানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ
জেডি ভ্যান্সের শৈশবের শহরে উজবেক ট্রাকিং কোম্পানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের শৈশবের শহর হিসেবে পরিচিত ওহাইওর মেইনভিলসহ আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার উজবেক অভিবাসীর ব্যাপক আগমনের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই অভিবাসীরা সেখানে শত শত অবৈধ ও অনিরাপদ বাণিজ্যিক ট্রাকিং ব্যবসা পরিচালনা করছেন।   বাটলার ও ওয়ারেন কাউন্টিতে গড়ে ওঠা এসব ট্রাকিং কোম্পানি মূলত বিভিন্ন আবাসিক ঠিকানা ব্যবহার করে কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং পরিবহন আইনের চরম লঙ্ঘন করে ভুয়া তথ্য দিয়ে ব্যবসা প্রসারিত করছে। এই আকস্মিক অভিবাসী ঢলের কারণে স্থানীয় একটি স্কুলে বর্তমানে ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি বলতে অক্ষম, যাদের বেশিরভাগই মধ্য এশিয়া থেকে আসা।   ট্রাকিং ব্যবসার এই জালিয়াতির মাত্রা রীতিমতো বিস্ময়কর। মেইনভিলের মাত্র ২২টি আবাসিক ঠিকানায় একাধিক ট্রাকিং কোম্পানি নিবন্ধিত রয়েছে, যা পরিবহন শিল্পের ভাষায় ‘ক্যামেলিয়ন কোম্পানি’ বা বহুরূপী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে অনিরাপদ রেটিং বা অতিরিক্ত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তারা সহজেই একই ঠিকানায় নতুন নামে আরেকটি কোম্পানি খুলে বসে।   উদাহরণস্বরূপ, ‘বাদ্রি বি এলএলসি’ নামের একটি কোম্পানি সরকারি নথিতে দাবি করেছে যে, তাদের ২৩ হাজার ১টি ট্রাক রয়েছে, যার সবগুলোই লভল্যান্ডের একটিমাত্র অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পরিচালিত হয়! এছাড়া ওয়েস্ট চেস্টারের ‘শোদ এক্সপ্রেস এলএলসি’ নামের অপর একটি কোম্পানি মাত্র ৫২ জন চালক দিয়ে এক বছরে ৪ কোটি ১০ লাখ মাইল পাড়ি দেওয়ার অবাস্তব দাবি করেছে। মূলত প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং নিজেদের নিরাপদ হিসেবে প্রমাণ করতেই তারা এসব ভুয়া মাইলেজ ও ট্রাকের হিসাব দেখায়।   অদক্ষ ও ইংরেজি না জানা এসব চালকের কারণে রাস্তায় ভয়াবহ সব দুর্ঘটনা ঘটছে। ওহাইওর ইন্টারস্টেট ৭১ মহাসড়কে বেখজোদ আসরারভ নামের এক উজবেক চালকের ট্রাকের ধাক্কায় টোবি ফরসিথে নামের ২১ বছর বয়সী এক কলেজছাত্র নিহত হন। আসরারভ জো বাইডেনের ডাইভার্সিটি ভিসা লটারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তিনি একেবারেই ইংরেজি বলতে পারতেন না।   এছাড়া পার্শ্ববর্তী ইন্ডিয়ানা সীমান্তে আরেক অবৈধ অভিবাসী চালকের ট্রাকের ধাক্কায় চারজন আমিশ নির্মাণশ্রমিক প্রাণ হারান। শুধু সড়ক দুর্ঘটনাই নয়, স্থানীয় বাসিন্দারা এসব অভিবাসীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, মানব পাচার এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন। ২০১৯ সালে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও অপহরণের দায়ে সম্প্রতি এক উজবেক চালকের সাজা হওয়ার পর পুরো শহর জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   ওহাইও অঙ্গরাজ্যে কমার্শিয়াল ড্রাইভার্স লাইসেন্স (সিডিএল) পাওয়ার জন্য ইংরেজি জানা বাধ্যতামূলক এবং অ-নাগরিকদের এই লাইসেন্স দেওয়া হয় না। তাই এই বাধা এড়াতে অভিবাসী চালকরা দলবেঁধে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের কনি আইল্যান্ডের ডিএমভি-তে গিয়ে লাইসেন্স সংগ্রহ করছেন, কারণ নিউইয়র্কে অবৈধ অভিবাসীদেরও সিডিএল দেওয়া হয়।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি অ-নাগরিক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং নিরাপত্তা লঙ্ঘন ও ইংরেজি দক্ষতার অভাবে ২৭০টি সিডিএল স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি বিদেশি নাগরিকদের দেওয়া সিডিএল বাতিল করতে অস্বীকৃতি জানানোয় নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ফেডারেল হাইওয়ে তহবিলও আটকে দিয়েছে ডট (DOT)।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৮:২৫
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নকল চেইন পরিয়ে বৃদ্ধার আসল সোনার চেইন চুরি, গ্রেপ্তার রোমানিয়ান দম্পতি

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নকল চেইন পরিয়ে বৃদ্ধার আসল সোনার চেইন চুরি, গ্রেপ্তার রোমানিয়ান দম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতিতে আড়াই লাখ ডলার জরিমানা, ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতিতে আড়াই লাখ ডলার জরিমানা, ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব

গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একজোট বিশ্ববিদ্যালয় ও শ্রমিক সংগঠন

গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একজোট বিশ্ববিদ্যালয় ও শ্রমিক সংগঠন

রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের আগে যে ৮ বিষয় অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন - মঞ্জুর আহমেদ
রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের আগে যে ৮ বিষয় অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন - মঞ্জুর আহমেদ

রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কেবল সম্পত্তির বর্তমান দাম বা অবস্থান দেখলেই চলে না, বরং বাজার পরিস্থিতি থেকে শুরু করে নানা দিক সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হয়। ফ্লোরিডার রিয়েলটর ও রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা মঞ্জুর আহমেদের মতে, এই খাতে নিশ্চিত লাভের কোনো সুনির্দিষ্ট ফর্মুলা নেই।   বিনিয়োগকারীকে নিজের গবেষণা, অভিজ্ঞতা ও বাস্তবসম্মত হিসাব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এক্ষেত্রে প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে মার্কেট রিসার্চ বা বাজার গবেষণার ওপর। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সম্পত্তির বর্তমান চাহিদা, বিগত বছরগুলোর দামের ওঠানামা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও নতুন উন্নয়ন প্রকল্পগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা উচিত।   একইসঙ্গে লোকেশন বা অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ামক, কারণ যাতায়াত ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর নৈকট্য সম্পত্তির ভবিষ্যৎ মূল্যবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। এছাড়া সম্পত্তির বর্তমান বাজারদর যাচাই করে ভবিষ্যতে এর দাম বাড়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা আছে কি না, সে বিষয়েও পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করে অগ্রসর হওয়া জরুরি।   সম্পত্তির দাম বাড়ার প্রত্যাশার পাশাপাশি বিনিয়োগ থেকে সম্ভাব্য আয়ের বিষয়টিও পরিষ্কারভাবে হিসাব করতে হবে। বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে কেনা সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে কত আয় হতে পারে এবং সেই আয় দিয়ে প্রপার্টি ট্যাক্স, ইনস্যুরেন্স, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও মর্টগেজ পেমেন্টের মতো নিয়মিত ও লুকায়িত খরচগুলো সামলানো যাবে কি না, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা প্রয়োজন।   অন্যদিকে, যেকোনো বিনিয়োগের সঙ্গেই ঝুঁকি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অর্থনৈতিক মন্দা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভাড়ার চাহিদা কমে যাওয়া বা এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় হঠাৎ পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো যেকোনো সময় বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কেবল সম্ভাব্য লাভের আশায় অন্ধ না হয়ে, সম্ভাব্য ক্ষতির দিকটিও আগে থেকে বিবেচনায় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।   বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর নিয়ন্ত্রণের বাইরের বিষয়গুলোও সমানভাবে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকারের ভূমি ব্যবহার নীতি, জোনিং, ট্যাক্স আইন বা অন্য কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পত্তির মূল্য ও আয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। পাশাপাশি মর্টগেজ নিয়ে সম্পত্তি কিনলে সুদের হারের ওঠানামা মাসিক পেমেন্ট এবং দীর্ঘমেয়াদি মোট খরচে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।   মঞ্জুর আহমেদের মতে, বাজার, অর্থনীতি বা সরকারি নীতির মতো বিষয়গুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলেও একজন সচেতন বিনিয়োগকারী তথ্য ও গবেষণার মাধ্যমে ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারেন। তাই রিয়েল এস্টেটে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গড়ার ক্ষেত্রে আবেগের বশবর্তী না হয়ে তথ্য, বাস্তবসম্মত হিসাব এবং নিজের আর্থিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেওয়াই বিনিয়োগের সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৬:৪০
দু’বার প্রাণঘা তী ইনজেকশনেও বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইককে কি আবার মৃ ত্যুদণ্ড দেওয়া হবে?

দু’বার প্রাণঘা তী ইনজেকশনেও বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইককে কি আবার মৃ ত্যুদণ্ড দেওয়া হবে?

যুক্তরাষ্ট্রে ধনকুবেরদের সম্পদে ৫% কর বসিয়ে ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার আদায়ের পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রে ধনকুবেরদের সম্পদে ৫% কর বসিয়ে ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার আদায়ের পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আবারও সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত ফেডারেল রিজার্ভের

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আবারও সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত ফেডারেল রিজার্ভের

0 Comments