সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
আমেরিকায় ধনী হতে প্রয়োজন লাখ লাখ ডলারের সম্পদ
আমেরিকার শীর্ষ ধনীদের দলে থাকতে সম্পদ কত লাগবে, সামনে এলো নতুন হিসাব

যুক্তরাষ্ট্রে ধনী পরিবারের শীর্ষ ১০ শতাংশের তালিকায় জায়গা পেতে একটি পরিবারের নিট সম্পদ অন্তত ১৮ লাখ ডলার হতে হবে। বর্তমান সম্পদের মূল্য, বাড়ি ও শেয়ারবাজারের উত্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এই সীমা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে শুধু সম্পদের পরিমাণ নয়, পরিবারের বার্ষিক আয় এবং বসবাসের অঞ্চলও আর্থিক অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।   ভিসার ২০২৫ সালের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ পরিবারকে ধনী বা আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে ধরা যায়। কোনো পরিবারের বার্ষিক আয় অন্তত ২ লাখ ১০ হাজার ডলার অথবা নিট সম্পদ ১৮ লাখ ডলার হলে সেটি এই শ্রেণিতে পড়তে পারে। অর্থাৎ, শুধু ব্যাংকে জমা থাকা টাকা দিয়ে ধনী হওয়ার হিসাব করা হয় না; পরিবারের সব সম্পদ ও দায় বিবেচনায় নেওয়া হয়।   নিট সম্পদ হিসাব করার পদ্ধতিও তুলনামূলক সহজ। একজন ব্যক্তি বা পরিবারের বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংকে থাকা অর্থ, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, অবসরকালীন সঞ্চয় এবং অন্যান্য মূল্যবান সম্পদের মোট মূল্য থেকে সব ঋণ বাদ দিতে হয়। বাড়ির বন্ধকী ঋণ, গাড়ির কিস্তি, শিক্ষাঋণ, ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া এবং অন্যান্য আর্থিক দায়ও এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। সম্পদের মোট মূল্য থেকে এসব দায় বাদ দেওয়ার পর যে অর্থ থাকে, সেটিই নিট সম্পদ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঞ্চলে ধনী হওয়ার আর্থিক সীমা এক নয়। বাড়ির দাম, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অঞ্চলভেদে এই পার্থক্য তৈরি হয়েছে। ভিসার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে থাকতে নিট সম্পদ প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ ডলার। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই সীমা ১৯ লাখ ডলার, দক্ষিণাঞ্চলে ১৮ লাখ ডলার এবং মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে ১৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ, তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল অঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারকে একই আর্থিক শ্রেণিতে পৌঁছাতে বেশি সম্পদের মালিক হতে হয়।   সম্পদের এই সীমা বাড়ার পেছনে বাড়ি ও শেয়ারবাজারের সম্পদের মূল্যবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভিসার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার মার্কিন নাগরিক কোটিপতি হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছেন। তবে কেবল ১০ লাখ ডলারের সম্পদের মালিক হওয়াই এখন দেশটির শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের মধ্যে থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদের বৈষম্যও আলোচনায় রয়েছে। সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিক থেকে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত দেশটির শীর্ষ ১ শতাংশ পরিবারের নিট সম্পদ গড়ে প্রতি পরিবারে প্রায় ১৮ লাখ ডলার বেড়েছে। একই সময়ে সম্পদের হিসাবে নিচের ৫০ শতাংশ পরিবারের নিট সম্পদ বেড়েছে গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ ডলার। অর্থাৎ, দুই গোষ্ঠীর সম্পদ বৃদ্ধির ব্যবধান ছিল অনেক বড়।   বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে ধনী পরিবারগুলো বেশি লাভবান হয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের অনেক পরিবারকে ঋণ পরিশোধ এবং দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হয়। ফলে সম্পদ গড়ে তোলার সুযোগ সবার জন্য সমান নয়। ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, প্রথমে আয় ও ব্যয়ের হিসাব তৈরি করা, জরুরি প্রয়োজনে তিন থেকে ছয় মাসের খরচের সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করা এবং উচ্চ সুদের ঋণ কমানো। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে অবসরকালীন সঞ্চয় পরিকল্পনার সুবিধা থাকলে তা কাজে লাগানো এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বিষয়ে সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে ধনী পরিবারের শীর্ষ ১০ শতাংশে পৌঁছানোর জন্য ১৮ লাখ ডলারের নিট সম্পদ একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মানদণ্ড। তবে বসবাসের অঞ্চল, পরিবারের আয়, ঋণের পরিমাণ এবং সম্পদের ধরন অনুযায়ী ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থান ভিন্ন হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৭:৫২
রিয়াদে সম্ভাব্য বিপদের সতর্কবার্তা জারি
হুথিদের হা মলার উত্তেজনার মধ্যে রিয়াদে জরুরি সতর্কবার্তা, নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ বাসিন্দাদের

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সম্ভাব্য বিপদের সতর্কবার্তা জারি করেছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে এই সতর্কতা জারি করা হয়। জাতীয় জরুরি আগাম সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় বাসিন্দাদের কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ এবং নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।   ২০২৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার জারি করা ওই সতর্কবার্তায় বিপদের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, রিয়াদ ও রাজধানীর কাছের আল-খারজ এলাকায় বিপদ কেটে গেছে। তবে সতর্কতার সময় রিয়াদের আকাশে বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায় এবং প্রধান বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় ধোঁয়া দেখা যায় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। সতর্কবার্তাটি এমন এক সময়ে আসে, যখন সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হা মলার আশঙ্কা বাড়ছিল। ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী সৌদি আরবের রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে হা মলার দাবি করেছে। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো, বিমানবন্দর এবং লোহিত সাগরসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও নিরাপত্তা উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে অক্টোবরে হা মলার নতুন ঢেউয়ের পর। ১৭ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথিরা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হা মলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর স্থাপনাও রয়েছে। এসব ঘটনায় প্রাণহানি ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির জনবহুল উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ২০১৪ সালে সানা দখলের পর থেকে গোষ্ঠীটির সঙ্গে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে আসছে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন নয়; তবে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হা মলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তার মূল উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য বিপদের সময় বাসিন্দাদের নিরাপদ রাখা। এ ধরনের বার্তা পেলে নিরাপদ ভবন বা কক্ষের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া, জানালা থেকে দূরে থাকা এবং পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সতর্কবার্তা জারি হওয়া মানেই নির্দিষ্ট এলাকায় হা মলা হয়েছে—এমন নয়। কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ভিত্তিতেই বিপদের প্রকৃতি ও পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা নির্ধারণ করা জরুরি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৭:৩৯
প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান পুলিশের
প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, গ্রে প্তার ৪০০ জনের বেশি

ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে শিক্ষা খাতের সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবারের এই বিক্ষোভে দেশজুড়ে আনুমানিক ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। ফরাসি সরকারের ভাষায়, পরিস্থিতি ক্রমেই সহিংসতার দিকে গড়িয়েছে। এদিন অন্তত ৪০০ জনকে গ্রে প্তার করা হয়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে গাড়ি ও ভবনে আগুন দেওয়া, দোকানপাট ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।   প্যারিসে মূল বিক্ষোভ মিছিলের বেশির ভাগ সময় পরিস্থিতি শান্ত ছিল। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কিছু দল পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালানো হয়, গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়। প্যারিসের ঐতিহাসিক প্লাস দে লা রিপাবলিক চত্বরেও এমন ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একদল তরুণ জানান, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে পরিবর্তন চান। তাঁদের ভাষায়, তাঁরা শান্তিবাদী এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন, কিন্তু বাস্তবে কিছুই বদলাচ্ছে না। তবে পরে কিছু বিক্ষোভকারী রাস্তায় আগুন জ্বালান, গাড়ি পুড়িয়ে দেন এবং দোকানপাটে ভাঙচুর চালান। কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের নিজেদের মধ্যেও হাতাহাতির ঘটনা দেখা যায়। প্যারিসে অন্তত একটি রেস্তোরাঁ আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ‘লা বারিক’ নামের একটি বারেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালানো হয়। ফ্রান্সের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। লিয়ঁ শহরে উনিশ শতকের একটি ঐতিহাসিক ভবনে থাকা পর্যটন তথ্যকেন্দ্রটি আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। শহরটির মেয়র গ্রেগরি দুসেট ঘটনাটিকে ‘ট্র্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ও সুপরিচিত এই ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শহরের মানুষের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। স্থানীয় পুলিশের ভাষ্য, একদল ‘বৈরী ব্যক্তি’ অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের নিরাপদে আগুন নেভানোর কাজে বাধা দিয়েছিলেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানীর কয়েকটি এলাকা ছাড়াও মার্সেই, রেন, তুলুজ ও আঞ্জে শহরে মুখোশধারীদের লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গ্রেনোবল, আভিনিয়োঁ, পো, মনপেলিয়ে ও ভ্যালঁসসহ বিভিন্ন শহরে ভবন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্যারিসে পোশাক ও খাবারের দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। লিল শহরে একটি অ্যাপল স্টোরে ঢুকে পণ্য লুট করার ঘটনাও ঘটেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ফ্রান্সের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মীসংকট এবং জরাজীর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে আসছেন। দেশটির লিসে নামে পরিচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। শনিবারের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য ও অন্যান্য প্রতিবাদী গোষ্ঠী। শিক্ষা খাতে কর্মীর ঘাটতি, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর দুরবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের সরকার শিক্ষা খাতে কিছু ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৮ অক্টোবর টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে অতিরিক্ত ৩ হাজার অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে সেই ঘোষণার পরও বিক্ষোভ থামেনি; বরং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। বিক্ষোভের সময়টি ফ্রান্সের রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছর প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র‍্যালির নেতা মারিন লে পেন এবং বামপন্থী দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা উঠে এসেছে। মেলঁশোঁ নিজেও বিক্ষোভে অংশ নেন। পরে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তোলেন। তবে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের নিন্দাও জানান। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু তাঁর বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক ও কৌশলী’ বলে সমালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশকে অত্যন্ত তীব্র সহিংসতার মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু গোষ্ঠী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বিক্ষোভকে প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সহিংসতার মাধ্যমে কেউ নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডা চাপিয়ে দিতে পারবে না। অন্যদিকে, মারিন লে পেনের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ন্যায্য দাবিগুলোকে কট্টর বামপন্থীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে এবং মেলঁশোঁ সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট মাখোঁও সতর্ক করে বলেছেন, সরকারি প্রশাসনিক কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নগর ভবনে হামলা এবং লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। শিক্ষা খাতের সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ফ্রান্সের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও রাজপথের ক্ষোভ কমেনি। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৭:২১
পশ্চিম তীরে হামলার পর ঘটনাস্থলে মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারীরা
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে কূটনীতিকদের লক্ষ্য করে হামলা, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ে নতুন বিতর্ক

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে মুখোশধারী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন ইউরোপের একদল কূটনীতিক। শনিবার, ১৭ অক্টোবর, খ্রিষ্টান-অধ্যুষিত তাইবেহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো জানান, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বেলজিয়ামের কনসাল জেনারেল, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের কূটনীতিক এবং ক্যাথলিক প্রতিনিধিরা। এ সময় ফ্রান্সের এক মেয়রও হামলার শিকার হন এবং বেলজিয়ামের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বেলজিয়ামের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছেন প্রেভো।   জলপাই সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি সাংবাদিক ও বিদেশি প্রতিনিধিদের ওপর ধারাবাহিক হামলার মধ্যে সর্বশেষ এ ঘটনা ঘটল। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে জলপাই সংগ্রহের মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে হামলায় অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১০০ জনের বেশি। অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ঠেকাতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এসব ঘটনায় গুলতি থেকে শুরু করে আগ্নেয়াস্ত্র পর্যন্ত ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেভো এ হামলার জন্য ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ নীতিকে দায়ী করেছেন। তাঁর ভাষায়, সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের দায়মুক্তির অবসান হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য বেলজিয়াম কাজ চালিয়ে যাবে। ফিলিস্তিনিদের জমি থেকে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং বসতি সম্প্রসারণেরও নিন্দা জানান তিনি। ঘটনাস্থলে থাকা অ্যামিত ওরফালি নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভিডিও প্রকাশ করেন। একটি ভিডিওতে ফ্রান্সের মেয়রকে ধুলোমাখা মাটিতে বসে একটি গাড়ির পাশে হেলান দিয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর পরনে ছিল ফ্রান্সের জাতীয় পতাকার রঙের ফিতা। অন্য ভিডিওতে মুখোশ পরা কয়েকজন তরুণকে গাড়ির চালকের পাশের জানালায় বারবার আঘাত করতে এবং পরিচয়পত্র দেখতে চাইতে দেখা যায়। দূরে লাঠি হাতে আরও কয়েকজনকে এগিয়ে আসতেও দেখা যায়। ওরফালির দাবি, মুখোশধারীরা তাঁদের হত্যার হুমকি দিয়েছিল। ঘটনার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী একে গুরুতর সহিংসতার ঘটনা বলে নিন্দা জানায়। তবে তাদের বক্তব্য, কূটনীতিকদের এই সফরের বিষয়ে আগে থেকে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি এবং হামলার সময় ঘটনাস্থলে কোনো সেনা সদস্য ছিলেন না। ইসরায়েলি পুলিশও তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছে। তদন্তে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সারও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ইসরায়েলি দাঙ্গাকারীদের সহিংসতাকে গুরুতর বলে উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে তাঁর মন্ত্রণালয় যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান। তবে পরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর ঘটনাটি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানায়। দপ্তরের বক্তব্যে ইসরায়েলকে হেয় করার উদ্দেশ্যে সমন্বিত প্রচারণা চালানোর আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়। এই হামলার আগের দিন, শুক্রবার, পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনি কৃষক ও তাঁদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর আলোকচিত্রী হেইডি লেভিন। তিনি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলে সাংবাদিকতা করছেন। শনিবার হাসপাতালের শয্যা থেকে দেওয়া বক্তব্যে লেভিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে তিনি আগে কখনো এমন অবস্থায় দেখেননি। তাঁর ওপর হামলার ঘটনাকে নেতানিয়াহু কথিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করায় তিনি বিস্মিত ও অপমানিত বোধ করেছেন বলেও জানান। নেতানিয়াহু অতীতে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার জন্য অল্পসংখ্যক বিশৃঙ্খলাকারীকে দায়ী করেছেন। তবে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় গাড়িতে আগুন দেওয়া, জলপাইগাছের ক্ষতি করা এবং মানুষকে আহত করার ঘটনা ঘটছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চলতি মৌসুমকে কেউ কেউ সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বিপজ্জনক জলপাই সংগ্রহের মৌসুম বলেও বর্ণনা করছেন। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিষয়টি নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুর সরকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি আচরণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে রয়েছে। নির্বাচনে তাঁর দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ধরে রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, অল্প কয়েকজন অপরাধীর কর্মকাণ্ড ইসরায়েল রাষ্ট্রের অবশিষ্ট গ্রহণযোগ্যতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বিরোধের বিষয়। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে বিবেচনা করে। সেখানে অনেক বসতি এখন উন্নত আবাসিক এলাকার রূপ নিয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি সরকারের অনুমোদন ছাড়াই শত শত নতুন বসতি-চৌকি গড়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এসব এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সুরক্ষা পেলেও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয় না। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরায়েল পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে। ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ভূখণ্ড দাবি করে আসছে। পশ্চিম তীর এখনো ইসরায়েলি সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে। সম্প্রতি চীনও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগকে পশ্চিম তীরে জোর করে বসতি স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ ও প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন বলে চীনা পক্ষের একজন মুখপাত্র জানান। জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে কৃষক, সাংবাদিক ও কূটনীতিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা পশ্চিম তীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বেলজিয়ামসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ২০:৪১
তুষারাবৃত পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হলো লুলুকে
আলাস্কায় তুষারধসে মালিকের কাছ থেকে হারিয়ে যায় লুলু, ৫০ ঘণ্টা পর মিলল জীবিত

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় তুষারধসের পর মালিকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল লুলু নামের একটি কুকুর। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দুই দিনেরও বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর তাকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় খুঁজে পেয়েছেন উদ্ধারকারীরা। প্রায় ৫০ ঘণ্টার উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে লুলুকে উদ্ধারের ঘটনাটি এখন তার মালিক ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কাছে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার স্মৃতি হয়ে আছে।   লুলু একটি হ্যাস্কিডুডল জাতের কুকুর। তার মালিক লরেন পাডাওয়ার চলতি মাসের শুরুতে ফেসবুকে এই উদ্ধারের ঘটনা তুলে ধরেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর লুলুর আরেক মালিক ব্রায়ান ও তাঁর এক hiking সঙ্গী আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ এলাকার চুগাচ স্টেট পার্কে পাহাড়ে হাঁটতে গিয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ তুষারধস শুরু হয়। এতে ব্রায়ান ও তাঁর সঙ্গী পাহাড়ের ঢাল বেয়ে প্রায় ৫০০ ফুট নিচে চলে যান। তুষারধসের ঘটনায় দুজনই গুরুতর আহত হন। পাডাওয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়, ব্রায়ানের সঙ্গীর চোয়াল ভেঙে যায়, মেরুদণ্ডের একটি কশেরুকায় ফাটল ধরে এবং হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। আহত অবস্থায় তাঁরা দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন। নিজেদের চেষ্টায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসার মতো পরিস্থিতি তাঁদের ছিল না। পরে উদ্ধারকারীরা ব্রায়ান ও তাঁর সঙ্গীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। কিন্তু সেই সময় লুলুকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তুষারধসের মধ্যে কুকুরটি ঠিক কোথায় ছিল, সে আহত হয়েছে কি না কিংবা তুষারের নিচে চাপা পড়েছে কি না—কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছিলেন না। লুলুর স্বভাব সম্পর্কে পাডাওয়ার জানান, সে পাহাড়ে ঘুরতে ভালোবাসে। সামনে এগিয়ে গিয়ে উঁচু জায়গা থেকে চারপাশ দেখতে পছন্দ করে। তবে স্বভাবে সে কিছুটা চুপচাপও। তুষারধসের পর এমন একটি বিশাল ও দুর্গম এলাকায় তার অবস্থান খুঁজে বের করা যে কঠিন হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল স্বাভাবিকভাবেই। ঘটনার সময় পাডাওয়ার দেশের বাইরে ছিলেন। তাই দূরে থেকেও তিনি লুলুকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম সংগঠিত করেন। নিখোঁজ হওয়ার সময় লুলুর গলায় একটি অ্যাপল এয়ারট্যাগ ছিল। তবে সেই ডিভাইস থাকা সত্ত্বেও প্রথম দফার অনুসন্ধানে কুকুরটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে অনুসন্ধানে যুক্ত হন ২০ জনেরও বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী, পাহাড়ে হাঁটার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি, হেলিকপ্টারচালক এবং ড্রোন পরিচালনাকারীরা। লুলুর এয়ারট্যাগ থেকে পাওয়া সংকেত অনুসন্ধানকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। তবে পাহাড়ি এলাকার দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে সংকেতের অবস্থান ধরে কুকুরটির কাছে পৌঁছানো সহজ ছিল না। প্রাথমিক অবস্থানও প্রকৃত জায়গা থেকে বেশ দূরে ছিল। প্রায় ৫০ ঘণ্টা পর হেলিকপ্টার নিয়ে অনুসন্ধানে বের হন আমান্ডা বার্কার ও ডেভ বেকেট। আকাশ থেকে তুষারে ঢাকা পাহাড়ের গায়ে লুলুকে দেখতে পান তাঁরা। এরপর হেলিকপ্টারটি প্রায় ২০ মিনিটের পথ দূরে অবতরণ করে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে লুলুর কাছে পৌঁছান উদ্ধারকারীরা। উদ্ধারকারীরা কাছে গিয়ে লুলুর নাম ধরে ডাকতেই সে সাড়া দেয়। কুকুরটিকে তখন সজাগ অবস্থায় দেখা যায় এবং সে ঘেউ ঘেউ করছিল। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পরও তাকে জীবিত দেখতে পাওয়া অনুসন্ধানকারীদের জন্য ছিল স্বস্তির মুহূর্ত। পরে তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়। লুলুর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার একটি পায়ের আঙুল ভেঙেছে এবং একটি দাঁতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব আঘাত ছাড়া সে মোটামুটি সুস্থ ছিল। দীর্ঘ সময় তুষারাবৃত পাহাড়ে একা থাকার পরও তার বেঁচে ফেরাকে সৌভাগ্যজনক বলেই মনে করছেন তার মালিক ও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত ব্যক্তিরা। ঘটনার সময় বিদেশে থাকা পাডাওয়ার দূর থেকেই উদ্ধার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। লুলুকে খুঁজে পেতে যাঁরা সাহায্য করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে আমান্ডা বার্কার ও ডেভ বেকেটের সাহস, দক্ষতা এবং আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর ভাষায়, এই কঠিন সময়ে মানুষের সহযোগিতা ও উদারতা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। লুলুর সন্ধান পাওয়ার ঘটনা শুধু তার পরিবারের জন্যই স্বস্তির নয়, উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সবার জন্যও আবেগঘন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশে একটি পোষা প্রাণীকে খুঁজে বের করতে প্রযুক্তির সংকেতের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত চেষ্টা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, এই ঘটনাও তার উদাহরণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৬:৫৬
ফ্লাইট দেরিতে যাত্রীদের বাড়তে পারে খাবার ও হোটেল খরচ
১৯ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট দেরি বা বাতিলে খাবার ও হোটেল খরচ নাও দিতে পারে এয়ারলাইনস

যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হলে যাত্রীদের খাবার, হোটেল কিংবা অন্যান্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ কিছু ক্ষেত্রে সীমিত হতে পারে। ১৯ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নিয়মে ফ্লাইট বিপর্যয়ের ১০টি কারণকে এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণের বাইরের ঘটনা হিসেবে আলাদা শ্রেণিতে রাখা হচ্ছে। ফলে এসব কারণে যাত্রা ব্যাহত হলে যাত্রীদের জন্য খাবারের ভাউচার, হোটেলে থাকার ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য সুবিধা পাওয়া কঠিন হতে পারে।   এত দিন কোনো ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হওয়ার কারণ এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণাধীন বলে বিবেচিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। এর মধ্যে রয়েছে খাবার বা খাবারের ভাউচার, রাতযাপনের জন্য হোটেল এবং বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা। তবে সব এয়ারলাইনসের প্রতিশ্রুতি এক নয়; কোন প্রতিষ্ঠান কী সুবিধা দেবে, তা তাদের প্রকাশিত গ্রাহকসেবা নীতির ওপরও নির্ভর করে। নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগের ফ্লাইট দেরি ও বাতিলের কারণ নির্ধারণের শ্রেণিবিন্যাসে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর ফলে আগে এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণাধীন ঘটনা হিসেবে গণ্য হতে পারত—এমন কিছু পরিস্থিতি এখন আলাদা শ্রেণিতে পড়বে। যাত্রীদের সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই পরিবর্তন ভ্রমণকারীদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। ভ্রমণবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ফ্লাইটির প্রতিনিধি ক্যাটি নাস্ট্রো বলেন, এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর কারণে ফ্লাইট ব্যাহত হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া তাদের পক্ষে কঠিন হতে পারে। তবে নতুন শ্রেণিবিন্যাসের ফলে কোন পরিস্থিতিতে যাত্রীরা সহায়তা পাবেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। নতুন নিয়মে যেসব ঘটনাকে এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণের বাইরের হিসেবে আলাদা করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত সময়ের বাইরে হঠাৎ প্রয়োজন হওয়া এমন উড়োজাহাজ মেরামত, যা পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বা ফ্লাইট পরিচালনার আগে করতেই হবে। উচ্ছৃঙ্খল যাত্রীকে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনা এবং নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতিও এই তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া প্রযোজ্য সাইবার নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার পরও কোনো সাইবার হামলার কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় সমস্যা হলে সেটিও এই শ্রেণিতে পড়তে পারে। কোনো যাত্রীর মৃ ত্যুর পর উড়োজাহাজ পরিষ্কার করার প্রয়োজন, চরম আবহাওয়া বা বাইরের কোনো বস্তুর আঘাতে উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং নাশকতার কারণে সৃষ্ট ক্ষতিও তালিকায় রয়েছে। ব্যাগেজ ব্যবস্থার এমন ত্রুটির কারণে লাগেজ বা কার্গো পরিবহনে দেরি হলে, যা এয়ারলাইনস বা তাদের ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে নেই, সেটিও নতুন শ্রেণিবিন্যাসের আওতায় আসবে। একইভাবে ফ্লাইট নিরাপদে পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সরকারি ব্যবস্থায় অপ্রত্যাশিত বন্ধ বা ত্রুটি, নিরাপত্তাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া উড়োজাহাজের ব্রেক এবং আগ্নেয়গিরির ছাই, বাতাস বা উইন্ড শিয়ারের কারণে বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও এর অন্তর্ভুক্ত। নাস্ট্রোর মতে, এসব পরিবর্তনের কারণে যাত্রীরা ফ্লাইট বিপর্যয়ের পর কখন এবং কী ধরনের সহায়তা পাবেন, তা বোঝা আগের চেয়ে কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কারণ, সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করেন, উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ এয়ারলাইনসের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। নাস্ট্রো বলেন, এ ধরনের অপ্রত্যাশিত যান্ত্রিক সমস্যার ক্ষেত্রে খাবারের ভাউচার বা অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে কি না, তা শেষ পর্যন্ত এয়ারলাইনসের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে পারে। ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হলে অতিরিক্ত খরচের পুরোটা যাত্রীকেই বহন করতে হবে—নতুন নিয়মের অর্থ এমন নয়। তবে ভ্রমণকারীদের আগে থেকেই নিজেদের অধিকার ও বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে জানা জরুরি। নাস্ট্রো যাত্রীদের ভ্রমণের আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, যে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে টিকিট কেনা হয়েছে, সেটির সুবিধাগুলো যাচাই করা উচিত। অনেক কার্ডে ফ্লাইট দেরি, যাত্রা বাতিল বা ভ্রমণসূচি ব্যাহত হলে নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত খরচের জন্য বিমা সুবিধা থাকতে পারে। তবে সুবিধার পরিমাণ ও যোগ্যতা কার্ডভেদে আলাদা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ব্যয়বহুল ভ্রমণের ক্ষেত্রে ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স বা ভ্রমণবিমা বিবেচনা করা যেতে পারে। ফ্লাইট দেরির কারণে হোটেলে অতিরিক্ত রাত থাকতে হলে কিংবা খাবার ও যাতায়াতে বাড়তি অর্থ খরচ হলে উপযুক্ত বিমা পলিসি কিছু ব্যয় সামলাতে সাহায্য করতে পারে। তবে বিমার শর্ত, কোন পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে এবং কী কী খরচ বাদ থাকবে, তা আগে দেখে নেওয়া জরুরি। তৃতীয়ত, এয়ারলাইনসের কাছে সহায়তা চাইতে হবে। কোনো যাত্রী মনে করলেও যে তাঁর পরিস্থিতিতে খাবারের ভাউচার বা হোটেল পাওয়ার সুযোগ নেই, তবু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। বিমানবন্দরে গেট এজেন্টের কাছে জানতে চাওয়ার পাশাপাশি এয়ারলাইনসের ফোনসেবা এবং আন্তর্জাতিক ফোন নম্বরেও যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন নাস্ট্রো। একটি মাধ্যমে উত্তর না পেলে অন্য মাধ্যমেও চেষ্টা করতে বলেছেন তিনি। নাস্ট্রোর ভাষ্য, নতুন নিয়মের কারণে যাত্রীদের ধরে নেওয়া উচিত নয় যে তাঁদের কোনো সুরক্ষাই অবশিষ্ট নেই। কিছু এয়ারলাইনস নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বাধ্যতামূলক সুবিধার বাইরে নিজেদের সদিচ্ছা থেকে খাবার, হোটেল বা অন্য সহায়তা দিতে পারে। তবে এমন সহায়তা নিশ্চিত নয়; তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতি ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে পারে। ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হলে টিকিটের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টিও আলাদা করে বুঝতে হবে। যাত্রীদের খরচের জন্য খাবার বা হোটেলের সুবিধা দেওয়া এবং টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়া এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক যাত্রী সুরক্ষা বিধি অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট তিন ঘণ্টা বা তার বেশি দেরি হলে কোনো যাত্রী ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিলে নির্দিষ্ট শর্তে টিকিটের অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে যাত্রীকে ভাউচার বা ভবিষ্যৎ ভ্রমণের ক্রেডিট গ্রহণ করতে বাধ্য করা যায় না। চাইলে তিনি বিকল্প ফ্লাইটে পুনরায় বুকিংয়ের ব্যবস্থাও বেছে নিতে পারেন। ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণ যা-ই হোক, প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী টিকিটের অর্থ ফেরতের অধিকার আলাদা থাকে। তাই খাবার বা হোটেলের খরচ পাওয়া যাবে কি না, সেই প্রশ্নের পাশাপাশি টিকিটের মূল্য ফেরত পাওয়ার যোগ্যতাও যাচাই করা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ১৯ অক্টোবর থেকে কার্যকর নতুন শ্রেণিবিন্যাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিমানযাত্রীদের ফ্লাইট দেরি বা বাতিলের পরিস্থিতিতে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে আরও সচেতন থাকতে হবে। ভ্রমণের আগে ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা ও বিমার শর্ত যাচাই করা, বিমান সংস্থার কাছে সহায়তা চাওয়া এবং প্রয়োজনে বিকল্প যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা বাড়তি খরচ এড়াতে সহায়ক হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৬:৩৭
মূল্যবৃদ্ধির চাপে স্থবির মার্কিনিদের প্রকৃত মজুরি
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনীতি নিয়ে হতাশা বাড়ছে, ট্রাম্পের আমলে ক্রয়ক্ষমতা বাড়েনি মার্কিনিদের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের প্রকৃত মজুরি গড়ে বাড়েনি। অর্থাৎ, কর্মীদের বেতন বাড়লেও নিত্যপণ্য ও অন্যান্য সেবার মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সেই বৃদ্ধি তাল মেলাতে পারেনি। ফলে আগের তুলনায় বেশি বেতন পেয়েও অনেক মার্কিনির ক্রয়ক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) সর্বশেষ তথ্য থেকে এ চিত্র উঠে এসেছে।   ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে পণ্য ও সেবার দামও বেড়েছে প্রায় একই হারে। ফলে মজুরি বৃদ্ধির বড় অংশই মূল্যবৃদ্ধির কারণে কার্যত হারিয়ে গেছে। মজুরি বাড়লেও সেই অর্থ দিয়ে আগের তুলনায় বেশি পণ্য বা সেবা কেনার সুযোগ তৈরি হয়নি। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর গড় ঘণ্টাপ্রতি প্রকৃত মজুরি কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। ওই মাসে গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বেড়েছিল মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। বিপরীতে, ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ, কর্মীদের আয় সামান্য বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় তার চেয়ে বেশি বেড়েছে। বার্ষিক হিসাবেও একই চাপ দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকৃত ঘণ্টাপ্রতি মজুরি কমেছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বেড়েছে ৩ শতাংশ, কিন্তু ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। উৎপাদন ও তদারকির দায়িত্বে নেই—এমন কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রকৃত ঘণ্টাপ্রতি মজুরি এক বছরে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। গত ছয় মাস ধরে মূল্যস্ফীতি গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোকে দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার আয়ের বড় অংশ খাবার, জ্বালানি, বাসাভাড়া ও যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করে, তাদের জন্য মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচক এক মাসে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় সাধারণ মানুষের ব্যয়ও বেড়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু গাড়ি চালানোর খরচ নয়, পণ্য পরিবহন ও বিভিন্ন সেবার ব্যয়েও প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অর্থনীতি, নিত্যপণ্যের দাম ও পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে পণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু অনেক মার্কিনি মনে করছেন, তাঁদের দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ এখনো কমেনি। চলতি বছরের শুরুতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টিও মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। হোয়াইট হাউস অবশ্য অর্থনীতির চিত্রকে ভিন্নভাবে তুলে ধরেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্যে আগ্রাসী অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। তাঁর দাবি, এসব পদক্ষেপ বাইডেন প্রশাসনের সময়কার মূল্যস্ফীতির সংকটের প্রভাব কমিয়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছে, মজুরি বৃদ্ধি করেছে এবং বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। যেসব শিল্প ও কাজ একসময় দেশের বাইরে চলে গিয়েছিল, সেসব ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান তৈরির দাবি করেছে প্রশাসন। তবে প্রকৃত মজুরির হিসাব সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। শুধু বেতন কতটা বেড়েছে, তা দেখলেই পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা যায় না। সেই আয়ে আগের তুলনায় কতটা পণ্য ও সেবা কেনা সম্ভব হচ্ছে, সেটিও বিবেচনা করতে হয়। মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির ব্যবধান না থাকলে আয় বাড়ার সুফল সীমিত হয়ে পড়ে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত গড় মজুরি বৃদ্ধির প্রায় পুরোটা মূল্যবৃদ্ধিতে সমন্বিত হয়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যান আরও দেখাচ্ছে, সাম্প্রতিক মাসে প্রকৃত মজুরি কমেছে। ফলে অর্থনীতি নিয়ে সরকারের ইতিবাচক বক্তব্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগও সামনে থাকছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অর্থনৈতিক বাস্তবতা ভোটারদের মনোভাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৬:১৮
স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি নিরূপণে নতুন এআই সফটওয়্যার
স্তন ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি নির্ণয়ে এআই প্রযুক্তির নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারে এফডিএর অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রে স্তন ক্যানসার চিকিৎসার পর রোগটি আবার ফিরে আসার ঝুঁকি নিরূপণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর একটি নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। ‘টিউমারসাইট রিস্ক’ নামের এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে শিকাগোভিত্তিক চিকিৎসা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিমবায়োসিস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, রোগীর এমআরআই ছবি, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য ও প্যাথলজি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে এটি পাঁচ ও ১০ বছরের মধ্যে স্তন ক্যানসার ফিরে আসার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণে চিকিৎসকদের সহায়তা করবে।   এফডিএর নথি অনুযায়ী, সফটওয়্যারটি রোগীর বয়স, জাতিগত পরিচয়, ক্যানসারের পর্যায়, লিম্ফ নোডে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না এবং টিউমারের গ্রেডের মতো তথ্য ব্যবহার করে। এসব তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হয় স্তনের এমআরআই থেকে পাওয়া উপাত্ত। সবকিছু বিশ্লেষণ করে সফটওয়্যারটি শূন্য থেকে ১০০ পর্যন্ত একটি স্কোর দেয়। সেই স্কোরের ভিত্তিতে রোগীর ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়—উচ্চ, মাঝারি ও কম। সিমবায়োসিসের ঘোষণা অনুযায়ী, এফডিএ ২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সফটওয়্যারটির জন্য ছাড়পত্র দেয়। প্রতিষ্ঠানটি ১৫ অক্টোবর বিষয়টি প্রকাশ্যে জানায়। তাদের দাবি, এমআরআইভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করে স্তন ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি নিরূপণে এটিই বিশ্বের প্রথম এআইচালিত টুল। তবে এই দাবি প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব বক্তব্য। নতুন প্রযুক্তিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি চিকিৎসার নিয়মিত প্রক্রিয়ায় আগে থেকেই সংগ্রহ করা তথ্য ব্যবহার করতে পারে। ফলে ঝুঁকি নিরূপণের জন্য আলাদা কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি, টিস্যুর নমুনা অন্যত্র পাঠানো কিংবা বিশেষ হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন হয় না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে চিকিৎসকেরা রোগীর বিদ্যমান তথ্য থেকেই অতিরিক্ত বিশ্লেষণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে সফটওয়্যারটি সব ধরনের স্তন ক্যানসার রোগীর জন্য তৈরি নয়। এফডিএর নথি অনুযায়ী, এটি প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের নির্দিষ্ট ধরনের স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। রোগীদের ক্ষেত্রে হরমোন রিসেপ্টর পজিটিভ (এইচআর-পজিটিভ) এবং এইচইআর২-নেগেটিভ ক্যানসার থাকতে হবে। ক্যানসারের পর্যায় হতে হবে স্টেজ ১ থেকে স্টেজ ৩এ পর্যন্ত। লিম্ফ নোডে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না, তার ওপর ভিত্তি করেও সফটওয়্যারটির ব্যবহারের নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। সিমবায়োসিসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেসি স্টিভেন্স বলেছেন, রোগীর স্তনের এমআরআইতে আগে থেকেই থাকা জৈবিক ও শারীরিক গঠনসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে প্রচলিত প্যাথলজি ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকেরা এখন ব্যক্তিভিত্তিক ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে রোগী ও চিকিৎসকেরা চিকিৎসা বেছে নেওয়ার সময় আরও স্পষ্ট ধারণা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। নতুন সফটওয়্যারটির কার্যকারিতা যাচাইয়ে ২ হাজার ১২৯ জন রোগীর তথ্য নিয়ে একটি বহুকেন্দ্রিক গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সফটওয়্যারের স্কোর অনুযায়ী উচ্চ ঝুঁকির শ্রেণিতে থাকা রোগীদের ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি কম ঝুঁকির শ্রেণিতে থাকা রোগীদের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ গুণ বেশি ছিল। স্কোর ১০ পয়েন্ট বাড়লে ক্যানসার ফিরে আসার আপেক্ষিক ঝুঁকি ২২ শতাংশ বাড়ার সম্পর্কও পাওয়া গেছে। গবেষণার হিসাবে, সর্বনিম্ন স্কোর পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরে ক্যানসার ফিরে আসার আনুমানিক ঝুঁকি ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে তা ছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ১০ বছরের হিসাবে এই ঝুঁকি যথাক্রমে ৬ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত দেখা গেছে। এসব পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট স্কোরভিত্তিক রোগী গোষ্ঠীর আনুমানিক ঝুঁকি তুলে ধরে; কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্যানসার নিশ্চিতভাবে ফিরে আসবে বা আসবে না, তা বলে না। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় রোগটি ফিরে আসার ঝুঁকি নিরূপণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চিকিৎসকেরা এই তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা, কেমোথেরাপির প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি হরমোন থেরাপি চালিয়ে যাওয়ার মতো বিষয় বিবেচনা করতে পারেন। বর্তমানে চিকিৎসকেরা ক্যানসারের পর্যায়, টিউমারের বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য ক্লিনিক্যাল তথ্যের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে জিনভিত্তিক পরীক্ষার ওপর নির্ভর করেন। নতুন সফটওয়্যারটি এসব পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে নয়, বরং অতিরিক্ত তথ্য দেওয়ার একটি উপায় হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের মধ্যে ত্বকের ক্যানসার বাদ দিলে স্তন ক্যানসারই সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যানসার। ২০২৬ সালে দেশটিতে নারীদের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ২১ হাজার ৯১০টি নতুন আক্রমণাত্মক স্তন ক্যানসারের ঘটনা শনাক্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। একই বছরে এ রোগে প্রায় ৪২ হাজার ১৪০ নারীর মৃ ত্যু হতে পারে বলেও পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের জন্য এ ধরনের প্রযুক্তি ঝুঁকি নিরূপণে বাড়তি সহায়তা দিতে পারে। তবে সফটওয়্যারের ফলাফলকে রোগীর অন্যান্য পরীক্ষার ফল, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচনা করতে হবে। কেবল এআইয়ের স্কোরের ভিত্তিতে চিকিৎসা শুরু, বন্ধ বা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা নয়। রোগীর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণে চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও রোগীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতিই গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৬:৭
কলকাতার দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলনের ঘটনা
কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃ ত্যু, আহত আরও ২৫ জন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় দুর্গাপূজার একটি মণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ১৭ জনের মৃ ত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। শনিবার, ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে এ ঘটনা ঘটে। উৎসব দেখতে আসা মানুষের ব্যাপক ভিড়, বৃষ্টি এবং হঠাৎ হুড়োহুড়ির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।   পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে সাত বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। তিনি বলেন, আহত ২৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়। প্রাথমিকভাবে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি ঘটে উত্তর কলকাতার চোরবাগান এলাকার একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে। শনিবার সন্ধ্যায় সেখানে পূজা দেখতে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। রাতের দিকে বৃষ্টি শুরু হলে মণ্ডপের বাইরে অপেক্ষমাণ দর্শনার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে অনেকে একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ভিড়ের চাপ বাড়ে এবং কয়েকজন মাটিতে পড়ে যান। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পদদলনের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বৃষ্টির কারণে মানুষের হুড়োহুড়িকে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আয়োজকদের একটি ঘোষণাও ভিড়ের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী। ফলে ঠিক কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। উদ্ধারকাজে পুলিশ, দমকল বাহিনী, দুর্যোগ মোকাবিলা দল এবং চিকিৎসাকর্মীরা অংশ নেন। ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্সও পাঠানো হয়। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। দুর্ঘটনার পর ওই পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কলকাতার কয়েকটি বড় পূজামণ্ডপেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভারতের রাজনৈতিক নেতারাও শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও শোক প্রকাশ করেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন বলে জানান। দুর্ঘটনার পর রাজ্যে তাঁর নির্ধারিত কর্মসূচিও স্থগিত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন তিনি। রাজ্যের রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ দুর্ঘটনার জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও ভিড় ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে। ভারতে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক সমাবেশ এবং ক্রীড়া উদ্‌যাপনে অতিরিক্ত ভিড় থেকে এমন দুর্ঘটনা আগেও ঘটেছে। ২০২৫ সালে উত্তর প্রদেশের মহাকুম্ভ মেলায় পদদলনের ঘটনায় ৩০ জনের প্রাণহানি হয়েছিল। একই বছর বেঙ্গালুরুতে একটি ক্রিকেট দলের শিরোপা উদ্‌যাপনের সময় পদদলিত হয়ে ১১ জনের মৃ ত্যু হয়। তামিলনাড়ুতে এক অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা ব্যক্তির নির্বাচনী সমাবেশেও একই ধরনের ঘটনায় ৩৬ জন প্রাণ হারান। এর আগে ২০২৪ সালে উত্তর প্রদেশে একটি ধর্মীয় সমাবেশে পদদলনের ঘটনায় ১২১ জনের মৃ ত্যু হয়েছিল। এসব ঘটনা বড় জমায়েতে নিরাপত্তা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার গুরুত্ব সামনে এনেছে। কলকাতার দুর্ঘটনার পরও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বৃষ্টি বা অন্য কোনো কারণে দর্শনার্থীরা একসঙ্গে চলাচল শুরু করলে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এ ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঠিক কী ধরনের ত্রুটি ছিল, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। দুর্গাপূজার মতো বড় উৎসবে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। তাই প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ খোলা রাখা, ভিড়ের চাপ পর্যবেক্ষণ, জরুরি ঘোষণা স্পষ্টভাবে দেওয়া এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতার এই মর্মান্তিক ঘটনা উৎসবের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৫:৫২
নিজের যত্নে গড়ে তুলুন সুস্থ ও সুন্দর জীবন
নিজের জন্য সময় বের করুন, প্রতিদিনের জীবনে প্রশান্তি ফেরাতে মেনে চলুন ২০ অভ্যাস

দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ ও নানা দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেকেই নিজের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি ভুলে যান। পরিবার, কর্মক্ষেত্র কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বিশ্রাম, পছন্দের কাজ বা নিজের মনের খোঁজ নেওয়ার জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ শরীর ও মনের সুস্থতা বজায় রাখতে নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের জন্য সময় বের করা কোনো বিলাসিতা নয়; বরং সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের একটি প্রয়োজনীয় অংশ।   নিজের যত্ন বা সেলফ-কেয়ার মানে শুধু স্পা, দামি প্রসাধনী কিংবা ছুটি কাটানো নয়। প্রতিদিনের রুটিনে ছোট কিছু অভ্যাস যোগ করেও নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া সম্ভব। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কিছুক্ষণ নিজের জন্য রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো—এসব অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে। নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য অনুসরণ করতে পারেন এমন ২০টি সহজ উপায় নিচে তুলে ধরা হলো। ১. দিনের শুরুতে তৈরি করুন নিজের রুটিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়া না করে নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন। কয়েক মিনিট ধ্যান, ডায়েরি লেখা কিংবা হালকা স্ট্রেচিং দিয়ে দিন শুরু করতে পারেন। দিনের শুরুতে শান্ত ও সচেতন কিছু অভ্যাস আপনাকে কাজের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করতে পারে।   ২. আরামদায়ক গোসলের সময় বের করুন সারাদিনের ক্লান্তি কাটাতে উষ্ণ পানিতে গোসল করতে পারেন। চাইলে গোসলের পরিবেশ আরামদায়ক করে তুলতে মৃদু আলো ও পছন্দের সুগন্ধ ব্যবহার করতে পারেন। তবে সুগন্ধি তেল বা বাথ সল্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ত্বকের সংবেদনশীলতার বিষয়টি খেয়াল রাখা জরুরি। ৩. মনোযোগ দিন বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ চর্চা বা মাইন্ডফুলনেসের মাধ্যমে বর্তমান মুহূর্তের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার দিকে মনোযোগ দেওয়া যায়। কয়েক মিনিট ধীরে শ্বাস নেওয়া, নীরবে বসে থাকা কিংবা মনোযোগ দিয়ে হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন। নিয়মিত অনুশীলন মানসিক চাপ সামলাতে সহায়ক হতে পারে। ৪. শরীরের ক্লান্তি দূর করতে ম্যাসাজ করুন শরীরের পেশিতে টান বা অস্বস্তি অনুভব করলে উপযুক্ত ম্যাসাজ আরাম দিতে পারে। চাইলে প্রশিক্ষিত পেশাদারের সাহায্য নিতে পারেন অথবা বাড়িতে নিরাপদভাবে ম্যাসাজার ব্যবহার করতে পারেন। তবে ব্যথা, আঘাত বা শারীরিক অসুস্থতা থাকলে আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। ৫. পুষ্টিকর খাবার খান সুস্থ থাকার জন্য খাবারের প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফলমূল, শাকসবজি, পূর্ণশস্য ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখার চেষ্টা করুন। আগে থেকে খাবারের পরিকল্পনা করলে ব্যস্ততার মধ্যেও সুষম খাবার খাওয়া সহজ হতে পারে। ৬. পর্যাপ্ত পানি পান করুন শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে পানি প্রয়োজন। দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করুন এবং প্রয়োজনে সঙ্গে পানির বোতল রাখুন। সবার পানির চাহিদা এক নয়; আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর তা নির্ভর করতে পারে। ৭. প্রযুক্তি থেকে বিরতি নিন দীর্ঘ সময় ফোন, কম্পিউটার কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় তাকিয়ে থাকলে চোখ ও মন ক্লান্ত হতে পারে। তাই দিনের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন। এ সময় বই পড়া, হাঁটাহাঁটি কিংবা প্রযুক্তির বাইরে কোনো শখের কাজে মন দিতে পারেন। ৮. পছন্দের শরীরচর্চা বেছে নিন শারীরিক সক্রিয়তা শরীরের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার জন্যও উপকারী। যোগব্যায়াম, নাচ, দ্রুত হাঁটা কিংবা অন্য কোনো পছন্দের ব্যায়াম বেছে নিতে পারেন। শুরুতেই কঠিন রুটিন অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই; নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত সক্রিয় থাকাই গুরুত্বপূর্ণ। ৯. কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়ে তুলুন প্রতিদিন এমন তিনটি বিষয় লিখে রাখুন, যেগুলোর জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। সেগুলো বড় কোনো অর্জন হতে হবে না; প্রিয়জনের সঙ্গে ভালো সময় কাটানো কিংবা দিনের একটি সুন্দর মুহূর্তও হতে পারে। এভাবে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার দিকে মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। ১০. ঘুমকে গুরুত্ব দিন শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, ঘুমের আগে পর্দা ব্যবহার কমানো এবং শান্ত পরিবেশ তৈরি করা ভালো ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। ১১. প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ মানসিক সমর্থন এবং আপনজনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। ব্যস্ততার মধ্যেও প্রিয়জনের খোঁজ নিন, একসঙ্গে সময় কাটান এবং নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিন। সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মনোযোগ গুরুত্বপূর্ণ। ১২. প্রয়োজন অনুযায়ী সীমারেখা নির্ধারণ করুন সব দায়িত্ব একা সামলানোর চেষ্টা করলে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে। তাই নিজের সময় ও সামর্থ্য বুঝে সিদ্ধান্ত নিন। প্রয়োজন হলে বিনয়ের সঙ্গে কোনো অনুরোধে না বলুন। ব্যক্তিগত সময়ের সুরক্ষা এবং দায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতে স্বাস্থ্যকর সীমারেখা সহায়ক হতে পারে। ১৩. পছন্দের শখে সময় দিন ছবি আঁকা, বাগান করা, গান শেখা কিংবা বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মতো কাজ আনন্দ ও সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করে। ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের পছন্দের কাজে সময় রাখুন। এসব কাজের জন্য বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই; প্রতিদিন অল্প সময় দিয়েও শুরু করা যায়। ১৪. ত্বকের যত্ন নিন ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহজ একটি পরিচর্যার রুটিন তৈরি করুন। নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করা, উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং দিনের বেলায় সানস্ক্রিন লাগানো উপকারী হতে পারে। নতুন কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের আগে ত্বকে মানানসই কি না, তা যাচাই করুন। ১৫. পছন্দের গান শুনুন গান অনেকের মন ভালো করতে কিংবা শান্ত হতে সাহায্য করে। কাজের ফাঁকে, হাঁটার সময় অথবা বিশ্রামের মুহূর্তে পছন্দের গান শুনতে পারেন। নিজের মেজাজ অনুযায়ী আলাদা প্লেলিস্ট তৈরি করলেও দৈনন্দিন রুটিন আরও আনন্দদায়ক হতে পারে। ১৬. নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন কোনো কাজে ব্যর্থ হলে কিংবা প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে নিজেকে অতিরিক্ত দোষারোপ করবেন না। মনে রাখুন, ভুল ও কঠিন সময় জীবনের স্বাভাবিক অংশ। একজন বন্ধুর প্রতি যে সহানুভূতি দেখাতেন, নিজের প্রতিও তেমন বোঝাপড়া ও সদয় আচরণ করার চেষ্টা করুন। ১৭. ঘর গুছিয়ে রাখুন অগোছালো পরিবেশে প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে পেতে সময় লাগে এবং অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিদিন অল্প কিছু সময় ঘর বা কাজের জায়গা গুছিয়ে রাখুন। একসঙ্গে সবকিছু করার চেষ্টা না করে ছোট একটি অংশ দিয়ে শুরু করলেই যথেষ্ট। ১৮. প্রকৃতির কাছাকাছি থাকুন সুযোগ পেলে বাইরে কিছু সময় কাটান। পার্কে হাঁটা, গাছপালা দেখা কিংবা খোলা পরিবেশে বসে থাকা দৈনন্দিন একঘেয়েমি থেকে বিরতি দিতে পারে। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার সুযোগ না থাকলেও কাছাকাছি কোনো সবুজ জায়গায় অল্প সময় কাটাতে পারেন। ১৯. সুগন্ধের মাধ্যমে আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করুন কিছু সুগন্ধ অনেকের কাছে আরামদায়ক মনে হতে পারে। ল্যাভেন্ডার, ইউক্যালিপটাস বা পেপারমিন্টের সুগন্ধযুক্ত পণ্য কেউ কেউ বিশ্রামের সময় ব্যবহার করেন। তবে এসেনশিয়াল অয়েল সরাসরি ত্বকে লাগানো উচিত নয়; উপযুক্তভাবে পাতলা করে ব্যবহার করতে হয়। হাঁপানি, অ্যালার্জি বা সুগন্ধে সংবেদনশীলতা থাকলে সতর্ক থাকা জরুরি। ২০. প্রয়োজন হলে বিশ্রামের দিন নিন কখনো কখনো শরীর ও মনকে পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ থেকে বিরতি প্রয়োজন হতে পারে। সম্ভব হলে ছুটি নিয়ে বিশ্রাম করুন, পছন্দের কাজ করুন কিংবা নিরিবিলি সময় কাটান। তবে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা মন খারাপ দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করলে শুধু বিশ্রামের ওপর নির্ভর না করে পেশাদার সহায়তা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য একসঙ্গে সব অভ্যাস শুরু করার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের জীবনযাপন, সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকটি অভ্যাস বেছে নিয়ে ধীরে ধীরে রুটিনে যুক্ত করুন। কারও জন্য নিয়মিত হাঁটা উপকারী হতে পারে, আবার অন্য কারও কাছে পর্যাপ্ত ঘুম বা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মূল বিষয় হলো, নিজের শারীরিক ও মানসিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া। প্রতিদিনের ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাসের মাধ্যমে নিজের জন্য আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক জীবন গড়ে তোলা সম্ভব। মনে রাখবেন, নিজের যত্ন নেওয়া স্বার্থপরতা নয়—এটি নিজের সুস্থতা ও ভালো থাকার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৫:৩৬
হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প
হোয়াইট হাউসে বাড়ছে বিশৃঙ্খলা, ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিন দায়িত্ব পালনের পর প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়ার বিদায় শুধু একজন কর্মকর্তার চাকরি হারানোর ঘটনা নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে একটি সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন, ইরানকে ঘিরে সামরিক নীতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত।   ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও হোয়াইট হাউসে দ্রুত কর্মকর্তা পরিবর্তনের ঘটনা দেখা গিয়েছিল। ২০১৭ সালে অ্যান্থনি স্কারামুচি মাত্র ১১ দিন যোগাযোগ পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময় তাঁর স্বল্পস্থায়ী দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। জাকারিয়ার পাঁচ দিনের মেয়াদ সেই ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আগের চেয়ে আলাদা বলে মনে করছে সম্পাদকীয়টি। ট্রাম্প এখন তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে রয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী আরেকবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তাঁর নেই। ফলে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ও উত্তরাধিকার নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরে হিসাব-নিকাশ বাড়তে পারে। আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে—এমন আশঙ্কাও রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলনের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন দলের অনেক পর্যবেক্ষক ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজনীতিক। কেটি জাকারিয়ার নিয়োগ ও দ্রুত বিদায়কে ঘিরে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সম্পাদকীয় বিশ্লেষণটির মতে, দীর্ঘদিনের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না করেই জাকারিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত দেয়। ওয়াইলস ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের কার্যক্রমে বেশি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভূমিকা রেখেছেন বলে ওই বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জাকারিয়ার নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন বিবরণ এসেছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাঁর প্রতি সংবাদমাধ্যমের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এবং তাঁকে দায়িত্বটি পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে জাকারিয়া পদটি ছাড়েন। এই ঘটনাকে ঘিরে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগব্যবস্থা, নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের নীতিও রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে বলে সম্পাদকীয়টির মূল্যায়ন। ইরানের সঙ্গে যু দ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে এতে দাবি করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে সমঝোতার উদ্যোগও সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে এমন সমঝোতা বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম কমাতে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদারের জন্য লিন্ডসে গ্রাহামের নামে প্রণীত আইনে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু ১৬ অক্টোবর জারি করা এক নির্বাহী আদেশে ওই আইনের কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকরের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়। ট্রাম্প তাঁর সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, সমালোচকেরা মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে। সম্পাদকীয়টির বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জ্বালানির দাম কমানোর চেষ্টা মার্কিন ট্রাকচালক ও সাধারণ গাড়িচালকদের প্রত্যাশিত স্বস্তি নাও দিতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এবং রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মনোভাব নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের আগে অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে ভোটারদের মূল্যায়নের ওপর। ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলের একটি বৈশিষ্ট্য হলো প্রচলিত নিয়ম ও রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ করা। তাঁর সমর্থকেরা অনেক সময় এটিকে দৃঢ় নেতৃত্বের পরিচয় হিসেবে দেখেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে সেই কৌশল কার্যকর থাকছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক এবং লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। এসব ঘটনা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়ে বিতর্ককে আরও বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, জাকারিয়ার মাত্র পাঁচ দিনের দায়িত্বকালকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক, গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের মধ্যে টানাপোড়েন এবং পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একাধিক চ্যালেঞ্জ সামনে এনেছে। তবে এসব ঘটনাই ট্রাম্পের রাজনৈতিক যুগের অবসান শুরু হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট নয়। বরং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন, রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের হিসাব এবং প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোই নির্ধারণ করবে হোয়াইট হাউসের বর্তমান অস্থিরতা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৫:১১
যুক্তরাষ্ট্রে হুন্দাই ও জেনেসিসের গাড়ি প্রত্যাহার
নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটি, আ গু ন লাগার ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে হুন্দাই ও জেনেসিসের ৯৪ হাজারের বেশি গাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রে ৯৪ হাজার ৬২২টি হুন্দাই ও জেনেসিস গাড়ি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গাড়ির সামনের পাওয়ার সিটের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে মোটর অতিরিক্ত গরম হয়ে আ গু ন লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গাড়ি চালানোর সময় কিংবা পার্ক করে রাখার পরও এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে ২০১৭ থেকে ২০২০ মডেল বছরের ৩৯ হাজার ৯৭৮টি জেনেসিস জি৮০ এবং ২০১৫ থেকে ২০১৬ মডেল বছরের ৫৪ হাজার ৬৪৪টি হুন্দাই জেনেসিস সেডান। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া এসব গাড়ির সামনের পাওয়ার সিটের একটি সুইচে সম্ভাব্য ত্রুটি শনাক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নন-মেমোরি পাওয়ার সিটের অবস্থান নিয়ন্ত্রণকারী সুইচটি বাইরের কোনো চাপ বা আঘাতে সরে যেতে পারে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে সুইচটি আটকে থেকে যেতে পারে এবং সিটের মোটর চালু অবস্থায় থাকতে পারে। এমনকি গাড়ি থেকে চালক বা যাত্রী নেমে যাওয়ার পরও মোটরটি চলতে পারে। দীর্ঘ সময় এভাবে মোটর চালু থাকলে সেটি অতিরিক্ত গরম হয়ে আ গু ন লাগার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গাড়ির মালিকদের কয়েকটি লক্ষণের দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পোড়া গন্ধ পাওয়া এবং সিটের অবস্থান পরিবর্তনের সুইচ কাজ না করা। এসব লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে দ্রুত গাড়িটি পরীক্ষা করানো জরুরি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাহারের আওতায় থাকা গাড়িগুলোর প্রায় এক শতাংশে এ ত্রুটি থাকতে পারে বলে ধারণা করছে হুন্দাই। এখন পর্যন্ত ত্রুটিটির সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি আ গু ন লাগার ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে এ সমস্যার কারণে কোনো সড়ক দুর্ঘটনা বা আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। ত্রুটি সমাধানের ব্যবস্থা নিয়ে কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকদের ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হবে। নির্ধারিত মেরামত হুন্দাইয়ের অনুমোদিত ডিলার বা জেনেসিসের অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্রে বিনা খরচে করা হবে। মালিকদের কাছে মেরামতের বিস্তারিত তথ্য পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। এদিকে, মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে গাড়িগুলো ভবনের ভেতরে বা অন্য গাড়ির পাশে পার্ক না করার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসড়ক নিরাপত্তা প্রশাসন (এনএইচটিএসএ)। বরং গাড়ি বাইরে, ভবন ও অন্যান্য যানবাহন থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গাড়ির মালিকেরা নিজেদের গাড়ি প্রত্যাহারের আওতায় পড়েছে কি না, তা শনাক্ত করতে গাড়ির ভিআইএন নম্বর দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রত্যাহারসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে পারেন। নির্ধারিত নোটিশ পাঠানোর তারিখ ২০২৬ সালের ৭ ডিসেম্বর। তবে গাড়ির মডেল ও উৎপাদন বছর মিললেই যে প্রতিটি গাড়িতে ত্রুটি রয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। তাই মালিকদের আনুষ্ঠানিক নোটিশ ও গাড়ির পরিচিতি নম্বরের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৫:৩
শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ শহর ফ্রিসকো
শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও বিকাশে এগিয়ে যেসব মার্কিন শহর, তালিকায় শীর্ষে ফ্রিসকো

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সামগ্রিক বিকাশের জন্য কোন শহরগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো, তা নিয়ে প্রকাশিত নতুন এক সূচকে শীর্ষস্থান দখল করেছে টেক্সাসের ফ্রিসকো। ২০২৬ সালের ‘আমেরিকা’স চাইল্ডহুড ওয়েল-বিইং ইনডেক্স’ অনুযায়ী, শিশুদের জীবনমানের বিভিন্ন সূচকে ভালো অবস্থানে রয়েছে টেক্সাসের একাধিক শহর। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে টেক্সাসের প্লানো এবং তৃতীয় স্থানে ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইন। চতুর্থ স্থানে রয়েছে টেক্সাসের ম্যাককিনি। শিশুদের জন্য বসবাসের পরিবেশ মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহৎ শহরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। এতে শিশুদের শিক্ষা, আর্থিক অবস্থা, পরিবেশ ও সামাজিক কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত পাঁচটি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো হলো স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতি, শিশুদের দারিদ্র্যের হার, বাসাবাড়িতে সিসার সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সবুজ জায়গা ও পার্কে প্রবেশের সুযোগ এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতা। সূচকটির ফলাফলে শহরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। কিছু শহর একাধিক ক্ষেত্রে ভালো ফল করলেও অন্য শহরগুলোতে অর্থনৈতিক সংকট, স্কুলে অনুপস্থিতি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে পড়ার দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ফ্রিসকো ১০০-এর মধ্যে ৮৯ দশমিক ৮ স্কোর নিয়ে প্রথম হয়েছে। শহরটির শিশুদের মধ্যে মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে, যা বিশ্লেষণ করা শহরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। স্কুলে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির হারও তুলনামূলকভাবে কম, মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। পাশাপাশি বাসাবাড়িতে সিসার সংস্পর্শে আসার ঝুঁকির সূচকে শহরটি সর্বনিম্ন ঝুঁকির শ্রেণিতে রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতার হারও এখানে সর্বোচ্চ—৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফ্রিসকো প্রথম নয়। শহরটির ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাসিন্দা ১০ মিনিটের হাঁটার দূরত্বের মধ্যে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সবুজ জায়গায় পৌঁছাতে পারেন। কিছু শহরে এই সুবিধা আরও বেশি। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে ভালো অবস্থানে থাকলেও শিশুদের জন্য পার্ক ও সবুজ জায়গায় প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর অবকাশ রয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্লানোর স্কোর ৮৯ দশমিক ৬। শহরটিতে শিশুদের দারিদ্র্যের হার ৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতার হার ৮৩ দশমিক ১ শতাংশ। চতুর্থ স্থানে থাকা ম্যাককিনির স্কোর ৮২ দশমিক ৬। সেখানে শিশুদের দারিদ্র্যের হার ৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং পড়ার দক্ষতার হার ৮৫ দশমিক ১ শতাংশ। শীর্ষ ১০ শহরের তালিকায় আরও রয়েছে অ্যারিজোনার চ্যান্ডলার, আইডাহোর বয়েস সিটি, ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে, ভার্জিনিয়ার চেসাপিক, নেভাদার হেন্ডারসন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার চুলা ভিস্তা। তালিকায় যথাক্রমে তাদের অবস্থান পঞ্চম থেকে দশম। টেক্সাসের শহরগুলোর সামগ্রিক অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। সম্পূর্ণ পর্যবেক্ষণযোগ্য তথ্য থাকা শহরগুলোর মধ্যে রাজ্যটির আটটি শহর শীর্ষ ২০-এ স্থান পেয়েছে। ফ্রিসকো, প্লানো ও ম্যাককিনির পাশাপাশি অস্টিন ১১তম, আরভিং ১২তম, আরলিংটন ১৫তম, করপাস ক্রিস্টি ১৯তম এবং গারল্যান্ড ২০তম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, সূচকের একেবারে নিচে রয়েছে মিশিগানের ডেট্রয়েট। ১০০-এর মধ্যে শহরটির স্কোর মাত্র ১৫ দশমিক ৬। সেখানে শিশুদের দারিদ্র্যের হার ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ, অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি শিশু ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। স্কুলে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির হার ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ, যা বিশ্লেষণ করা শহরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতার হার মাত্র ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। বাসাবাড়িতে সিসার সংস্পর্শে আসার ঝুঁকির দিক থেকেও শহরটি সর্বোচ্চ ঝুঁকির শ্রেণিতে রয়েছে। ডেট্রয়েটের পর নিচের দিকের পাঁচটি শহরের তালিকায় রয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো, ওহাইওর ক্লিভল্যান্ড, সিনসিনাটি ও কলম্বাস। অর্থাৎ, সবচেয়ে নিচে থাকা পাঁচটি শহরের মধ্যে তিনটিই ওহাইওতে অবস্থিত। তবে ডেট্রয়েটের বাসিন্দাদের ৮১ শতাংশেরও বেশি ১০ মিনিটের হাঁটার দূরত্বে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সবুজ জায়গায় পৌঁছাতে পারেন। এতে বোঝা যায়, একটি শহরের সামগ্রিক অবস্থান নির্ধারণে শুধু একটি সুবিধা নয়, একাধিক বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। এই সূচক তৈরিতে পাঁচটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সূচকের ফলাফল ০ থেকে ১০০-এর মধ্যে রূপান্তর করে গড় স্কোরের ভিত্তিতে শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্লেষণে ব্যবহৃত কিছু শহরের তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় সেগুলোর ক্ষেত্রে মধ্যম মান ব্যবহার করা হয়েছে; তাই সেসব শহরের অবস্থান সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সূচকটি মূলত শিশুদের বেড়ে ওঠার সঙ্গে সম্পর্কিত শহরভিত্তিক পরিবেশ ও সুযোগের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে। এটি কোনো শহরের প্রতিটি শিশুর ব্যক্তিগত জীবনমানের মূল্যায়ন নয়। তবে শিক্ষা, আর্থিক স্থিতিশীলতা, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং খেলার জায়গায় প্রবেশের সুযোগ শিশুদের বিকাশে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে এই তথ্য সহায়ক হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:৪১
আলঝেইমার শনাক্তে নতুন রক্ত পরীক্ষায় আশার আলো
স্মৃতিশক্তি হারানোর রোগ শনাক্তে নতুন অগ্রগতি, প্রথম রক্ত পরীক্ষায় অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে আলঝেইমার রোগ শনাক্তের ক্ষেত্রে নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে। ২০২৫ সালের মে মাসে দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) প্রথমবারের মতো এমন একটি রক্ত পরীক্ষার অনুমোদন দেয়, যা আলঝেইমার রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারে। আগে এই রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের অ্যামাইলয়েড প্লাক শনাক্ত করতে সাধারণত মেরুদণ্ডের তরল পরীক্ষা অথবা ব্যয়বহুল পিইটি স্ক্যানের মতো পদ্ধতির প্রয়োজন হতো। নতুন পরীক্ষায় সাধারণ রক্তের নমুনা ব্যবহার করা হয়, ফলে রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম কষ্টকর হতে পারে।   আলঝেইমার অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, নতুন পরীক্ষাটি রক্তের নমুনার মাধ্যমে মস্তিষ্কে অ্যামাইলয়েড প্লাকের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। এই প্লাক আলঝেইমার রোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। তবে পরীক্ষাটি একাই রোগ নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়নি; রোগীর উপসর্গ, চিকিৎসার ইতিহাস এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফলের সঙ্গে মিলিয়ে চিকিৎসকদের ফলাফল মূল্যায়ন করতে হবে।   এই অগ্রগতিকে ঘিরে আশার কথা জানিয়েছেন আলঝেইমার অ্যাসোসিয়েশনের স্বেচ্ছাসেবক জোলিন ডি ব্র্যাঙ্গো। তাঁর শ্বশুর এই রোগে মারা গেছেন। রোগী, পরিবারের সদস্য, পরিচর্যাকারী এবং ভবিষ্যতে নিজেরাও আক্রান্ত হতে পারেন—এমন মানুষের জন্য নতুন পরীক্ষাটি আশার বার্তা নিয়ে এসেছে বলে মনে করেন তিনি। ডি ব্র্যাঙ্গোর ভাষায়, আলঝেইমার শুধু কারও নাম ভুলে যাওয়া কিংবা নিজের পরিচয় মনে করতে না পারার বিষয় নয়। রোগটি ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। একসময় মস্তিষ্ক শরীরের অন্যান্য অংশকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও হারাতে থাকে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা রোগটির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং রোগী ও পরিবারের ওপর এর মানসিক চাপের বিষয়টি তুলে ধরে। নতুন পরীক্ষাটি তৈরি করেছে ফুজিরেবিও ডায়াগনস্টিকস। এর নাম লুমিপালস জি পিটাউ২১৭/বিটা-অ্যামাইলয়েড ১-৪২ প্লাজমা রেশিও। এটি রক্তের প্লাজমায় থাকা দুটি প্রোটিনের মাত্রা পরিমাপ করে এবং তাদের অনুপাত হিসাব করে। এই অনুপাতের মাধ্যমে মস্তিষ্কে অ্যামাইলয়েড প্লাক থাকার সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ফলে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে পিইটি স্ক্যান বা মেরুদণ্ডের তরল সংগ্রহের মতো পদ্ধতির প্রয়োজন কমতে পারে।   এফডিএর মূল্যায়নে ৪৯৯ জনের রক্তের নমুনা নিয়ে করা একটি ক্লিনিক্যাল গবেষণার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল। পরীক্ষায় যাঁদের ফল পজিটিভ এসেছিল, তাঁদের ৯১ দশমিক ৭ শতাংশের ক্ষেত্রে পিইটি স্ক্যান বা মেরুদণ্ডের তরল পরীক্ষায় অ্যামাইলয়েড প্লাকের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছিল। অন্যদিকে, যাঁদের ফল নেগেটিভ এসেছিল, তাঁদের ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের ক্ষেত্রে তুলনামূলক পরীক্ষাগুলোতেও প্লাকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে কিছু রোগীর ফল অনিশ্চিত ছিল। এ কারণে চিকিৎসকের মূল্যায়ন ছাড়া শুধু এই পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করা ঠিক হবে না।   আলঝেইমার রোগের এখনো কোনো নিরাময় নেই। তবে কিছু ওষুধ রোগের অগ্রগতি ধীর করতে পারে। দ্রুত রোগ শনাক্ত করা গেলে উপযুক্ত রোগীরা আগেভাগে চিকিৎসার সুযোগ পেতে পারেন। ডি ব্র্যাঙ্গোর মতে, রোগের অগ্রগতি ধীর করার চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে আরও কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পেতে পারেন। প্রিয়জন যেন পরিবারের সদস্যদের চিনতে পারেন এবং পছন্দের কাজগুলো করতে পারেন—সেই সময়টুকুও পরিবারের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। এফডিএর তৎকালীন কমিশনার মার্টিন এ. মাকারি বলেন, আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা স্তন ক্যানসার ও প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের প্রায় ১০ শতাংশ এই রোগে আক্রান্ত। ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোগ নির্ণয়ের নতুন প্রযুক্তি রোগীদের জন্য সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আলঝেইমার স্মৃতি ও চিন্তাশক্তিকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সময়ের সঙ্গে রোগটি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতাও কমে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে এ রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন, আর বিশ্বজুড়েও বহু মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। এটি ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে পরিচিত ধরন। তবে নতুন রক্ত পরীক্ষা সবার জন্য সাধারণ স্ক্রিনিংয়ের বিকল্প নয়। এটি মূলত ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং আলঝেইমার বা জ্ঞানীয় সক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ রয়েছে—এমন রোগীদের মূল্যায়নে চিকিৎসকদের সহায়তার জন্য অনুমোদিত হয়েছিল। ভুল পজিটিভ বা ভুল নেগেটিভ ফলের সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরীক্ষা মিলিয়েই রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:২৭
এক বছর আগের ভুয়া ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি
‘এক বছর আগেই ভিডিওটি দেখেছি’, আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি

ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা পরীমনি জানিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া একটি ভুয়া ও আপত্তিকর ভিডিও এক বছর আগেই তাঁর নজরে এসেছিল। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি দুই তারকার বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের একাংশের মাতামাতি এবং সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিনেত্রী। গতকাল রাতে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লাইভে এসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন পরীমনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভিডিওটি নতুন কোনো ঘটনা নয়; অনেক আগের একটি ভুয়া ক্লিপ। তবে মূলধারার একটি প্রভাবশালী টেলিভিশন চ্যানেলের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সেটি আবার ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলের পক্ষ থেকে পেজ হ্যাক হওয়ার দাবি জানানো হয় এবং দুঃখপ্রকাশ করা হয়। তবে চ্যানেলটির এই প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্ট নন পরীমনি। তাঁর প্রশ্ন, এত বড় একটি গণমাধ্যমের পেজে কীভাবে টানা ১১ ঘণ্টা ধরে ভিডিওটি ছিল এবং এত সময়েও কেন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে পেজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়নি। লাইভে পরীমনি বলেন, এত বড় ও শক্তিশালী একটি গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটার পর শুধু পেজ হ্যাক হওয়ার কথা বলেই দায় এড়ানো যায় না। তাঁর মতে, ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়াও জরুরি। এ ধরনের পরিস্থিতিতে যে কেউ নিজের পেজ হ্যাক হওয়ার দাবি করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের আচরণেও হতাশা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, অনেকে ভিডিওটি ভুয়া বুঝতে পেরে এড়িয়ে গেলেও কিছু মানুষ সেটিকে আলোচনার প্রধান বিষয়ে পরিণত করেছেন। এমনকি ধর্মীয় কিংবা সাধারণ বিষয় নিয়ে করা অপ্রাসঙ্গিক পোস্টের মন্তব্যের ঘরেও ভিডিওটির লিংক খোঁজা ও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কটূক্তিকারীদের উদ্দেশে ব্যঙ্গ করে পরীমনি বলেন, ভিডিওটি তিনি এক বছর আগেই দেখেছেন। অন্যরা যখন এটি নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি করছিল, তখন তাঁর ইচ্ছা হয়েছিল নিজেই একটি খোলামেলা ফটোশুট করে ফেলতে। তাঁর এই মন্তব্যে ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে চলা আলোচনা ও মানুষের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ পেয়েছে। দীর্ঘ লাইভের পর পরীমনি নিজের ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেন। পরদিন সকালে সংক্ষিপ্ত এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘ওপস সরি, ডিলেট করে দিয়েছি। শুভ সকাল।’ উল্লেখ্য, পরীমনি সম্প্রতি নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নতুন ওয়েব চলচ্চিত্র ‘সেপারেশন’-এর কাজ শেষ করেছেন। এতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:২০
নিউইয়র্কে সাবওয়ে স্টেশনে গুলি করে হ ত্যার পর পলায়ন, ফুটেজ দেখে ঘাতককে খুঁজছে পুলিশ
নিউইয়র্কে সাবওয়ে স্টেশনে গুলি করে হ ত্যার পর পলায়ন, ফুটেজ দেখে ঘাতককে খুঁজছে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির একটি ব্যস্ত সাবওয়ে স্টেশনে দিনদুপুরে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে মিডটাউনের একটি সাবওয়ে স্টেশনে দুই ব্যক্তির মধ্যে হঠাৎ বচসার জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির বুকে গুলি লেগেছিল বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।   নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, শনিবার বেলা ১২টা ২১ মিনিটে ৫৩ স্ট্রিটের সেভেনথ অ্যাভিনিউ স্টেশনের নর্থবাউন্ড বি/ডি/ই (B/D/E) প্ল্যাটফর্মে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহত ওই যুবকের বয়স ৩৪ বছর।   পুলিশের সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য পোস্ট জানিয়েছে, ঘটনার আগে ওই যুবকের সঙ্গে হামলাকারীর কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও বিবাদ হয়। এরপর ঘাতক নর্থবাউন্ড ‘ই’ (E) ট্রেনের ভেতর থেকে প্ল্যাটফর্মে থাকা ওই যুবককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।   বুকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্ল্যাটফর্মেই ওই যুবককে প্রাথমিকভাবে সিপিআর দেওয়া হয়। পরে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট অবস্থায় তাঁকে দ্রুত বেলভ্যু হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে ঠিক কী নিয়ে তাঁদের মধ্যে এই প্রাণঘাতী বচসার সূত্রপাত হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ঘটনার পরপরই সাবওয়ে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী, পলাতক ওই ঘাতকের পরনে লাল রঙের ট্র্যাকসুট, কালো পাফার ভেস্ট এবং কালো রঙের বালাক্লাভা বা মুখোশ ছিল। ঘাতককে ধরতে বর্তমানে নিউইয়র্ক পুলিশের জোর তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মায়ের ত্যাগ থেকে মাইক্রোসফট, নাসিমের অনুপ্রেরণার যাত্রা (ছবি: সংগৃহীত ও সম্পাদিত)
মায়ের ছাগল বিক্রির টাকায় কেনা মোবাইল থেকে জাপানে মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টারে নাসিমের অবিশ্বাস্য যাত্রা

কুষ্টিয়ার আমলা-সদরপুরের ছেলে মো. নাসিম আল আওয়াল কবি। ছোটবেলায় প্রযুক্তির প্রতি তাঁর ছিল প্রবল আগ্রহ। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সেই আগ্রহ পূরণ করা সহজ ছিল না। ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য একটি মোবাইল ফোন কেনার সামর্থ্যও ছিল না পরিবারের। ছেলের স্বপ্ন পূরণ করতে একসময় সংসারের একটি ছাগল বিক্রি করে দেন তাঁর মা মোছা. নাজমা। সেই টাকায় কেনা মোবাইল ফোন দিয়েই শুরু হয় নাসিমের প্রযুক্তি শেখার নতুন অধ্যায়। নানা বাধা, বিদেশের কঠিন জীবন আর একের পর এক প্রত্যাখ্যান পেরিয়ে আজ তিনি জাপানে মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত। নাসিমের গল্পের শুরু অবশ্য আরও আগে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন তিনি। যাওয়ার আগে ড্রয়ারে রেখে গিয়েছিলেন একটি চিরকুট। তাতে লেখা ছিল, ‘মানুষের মতো মানুষ হয়েই তবে আমি বাড়ি ফিরব।’ সেদিনের সেই কিশোর হয়তো জানতেন না, তাঁর জীবনের পথ তাঁকে একদিন বাংলাদেশের গ্রাম থেকে জাপানের বড় একটি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাবে। নাসিমের ডাকনাম কবি। গ্রামের আর দশটা শিশুর মতো মাঠে খেলাধুলা, পুকুরে ঝাঁপ দেওয়া, গরু-ছাগলের জন্য ঘাস কাটা আর বন্ধুদের সঙ্গে দুষ্টুমি করেই কাটত তাঁর শৈশব। তবে ছোটবেলা থেকেই অন্যের চেয়ে আলাদা ছিল তাঁর একটি আগ্রহ। এলাকার কারও মোবাইল ফোন, টেলিভিশন কিংবা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র নষ্ট হলে সেটি খুলে দেখার চেষ্টা করতেন। যন্ত্র কীভাবে কাজ করে, কোথায় সমস্যা হয়—এসব জানার আগ্রহই তাঁকে প্রযুক্তির দিকে টেনে নেয়। নাসিমের বাবা মো. রবি সততার প্রশ্নে আপস করতে চাইতেন না। ১৯৯৬ সালে পাবনার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভালো পদে চাকরি করার সময় দুর্নীতির সঙ্গে আপস না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসেন বলে পরিবারের বর্ণনায় উঠে এসেছে। পরে মুদির দোকানসহ বিভিন্ন কাজ করেও সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে পারেননি। ২০০৩ সালে শুরু করেন দলিল লেখার কাজ। পরিবারের অভাব নাসিমের জীবনে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি করলেও বাবার সততার শিক্ষা তাঁর মনে গেঁথে যায়। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সৎ থাকার বিষয়টিও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অষ্টম শ্রেণিতে বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি ছাড়ার সেই ঘটনাও ছিল কৈশোরের এক দুঃসাহসিক অভিজ্ঞতা। রেললাইন ধরে দীর্ঘ পথ হাঁটা, পায়ে ফোসকা পড়া, রাজশাহী স্টেশনে রাত কাটানো—সবই ঘটেছিল সেই যাত্রায়। দুই কিশোরের পরিকল্পনা ছিল ট্রেনে বই বিক্রি করার। শেষ পর্যন্ত বাড়ির টানেই ফিরে আসেন নাসিম। তবে নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই গড়ে তোলার যে জেদ তাঁর মধ্যে ছিল, তা হারিয়ে যায়নি। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় কুষ্টিয়ার আমলা স্কুলে ডিনেটের কম্পিউটার লিটারেসি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। কম্পিউটার শেখার জন্য ভোরে বাড়ি থেকে বের হতেন। কুয়াশা, ঝড়বৃষ্টি আর মাঠের আইল পেরিয়ে স্কুলে যাওয়ার সেই দিনগুলো তাঁর প্রযুক্তি শেখার যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার প্রযুক্তি বিভাগে ভর্তি হন নাসিম। কিন্তু কম্পিউটার প্রযুক্তি শেখার পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য একটি ডিভাইস প্রয়োজন ছিল। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় সেটি কেনা সম্ভব হচ্ছিল না। তখন ছেলের পাশে দাঁড়ান তাঁর মা। সংসারের একটি ছাগল বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে ছেলেকে একটি মোবাইল ফোন কিনে দেন। সেই ফোনটিই হয়ে ওঠে নাসিমের শেখার প্রধান মাধ্যম। ফোনটিকে মডেম হিসেবে ব্যবহার করে ইন্টারনেটে যুক্ত হতেন। অনলাইনে ভিডিও দেখে বিভিন্ন বিষয় শিখতেন, প্রযুক্তিবিষয়ক ফোরামে প্রশ্ন করতেন এবং নিজের সমস্যার সমাধান খুঁজতেন। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার বাইরে এভাবেই নিজের উদ্যোগে দক্ষতা অর্জন করতে থাকেন তিনি। যে ডিনেটের কর্মসূচিতে একসময় শিক্ষার্থী হিসেবে কম্পিউটার শিখেছিলেন, ২০১২ সালে সেই প্রতিষ্ঠানেই প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে চাকরি পান নাসিম। পরে প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট এবং সহকারী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কাজের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার প্রায় ৩৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রায় তিন হাজার শিক্ষককে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একসময় যে প্রতিষ্ঠানে নিজে শিখেছিলেন, পরে সেখানেই অন্যদের শেখানোর দায়িত্ব পান নাসিম। তাঁর কর্মজীবনের এই অভিজ্ঞতা প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যাওয়ার পথ আরও শক্ত করে। ২০১৮ সালের শেষ দিকে জাপানে পাড়ি জমান তিনি। বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাতে ব্যাংকঋণ, ধার করা টাকা এবং পরিচিতজনদের সহযোগিতা নিতে হয়েছিল। জাপানে পৌঁছে প্রথমে নাগোয়ার একটি গাড়ি কারখানার উৎপাদন লাইনে কাজ শুরু করেন। নতুন ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি করতে হয়েছে শারীরিক পরিশ্রমের কাজও। কিন্তু প্রযুক্তি খাতে কাজ করার স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি। ২০২০ সালের মে মাসে জাপানের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এনটিটি কমিউনিকেশনে নেটওয়ার্ক অপারেশনস সেন্টার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন নাসিম। সেখানে সাবমেরিন কেবলের সিগন্যাল পর্যবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। পাঁচ বছর আট মাসের অভিজ্ঞতায় নেটওয়ার্ক পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে তাঁর দক্ষতা আরও বাড়ে। চাকরির পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টাও চালিয়ে যান তিনি। অনলাইনে ৪০টির বেশি কোর্স ও সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করেন। সিনেমা, গান ও বিভিন্ন অনলাইন উপকরণ ব্যবহার করে ইংরেজি শেখেন। টোয়েক পরীক্ষায় ৮৭৫ নম্বর পাওয়ার পাশাপাশি জাপানি ভাষার এন৪ পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন। তবে বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে কাজ করার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন নাসিম। অ্যামাজন, গুগল, অ্যাপল, ওরাকল ও আইবিএমের মতো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও সফল হননি। ২০২২ সালে মাইক্রোসফটে আবেদন করেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবার ব্যর্থ হওয়ার পর থেমে না গিয়ে নিজের ঘাটতি খুঁজেছেন। কোন দক্ষতা আরও বাড়ানো দরকার, কী শিখলে পরবর্তী সুযোগের জন্য প্রস্তুত হওয়া যাবে—সেদিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। অবশেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মাইক্রোসফট জাপানে যোগ দেন নাসিম। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ক্লাউড অপারেশনস অ্যান্ড ইনোভেশনস (CO+I) দলের সঙ্গে কাজ করছেন। এই দল মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টারের অবকাঠামো নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে। অ্যাজুর ও মাইক্রোসফট ৩৬৫-এর মতো ক্লাউড সেবা সচল রাখতে এসব ডেটা সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিজের যাত্রা সম্পর্কে নাসিমের বক্তব্য, তিনি কখনো অসাধারণ ছাত্র ছিলেন না, কিন্তু হাল ছাড়েননি। প্রতিটি প্রত্যাখ্যানকে শেষ হিসেবে না দেখে নতুন একটি প্রশ্ন হিসেবে নিয়েছেন, যার উত্তর তাঁকে খুঁজে বের করতে হয়েছে। বাংলাদেশের তরুণদের জন্যও রয়েছে তাঁর পরামর্শ। নাসিম মনে করেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট অর্জন করলেই হবে না; হাতে-কলমে কাজের দক্ষতা বাড়াতে হবে। ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন, সাইবার নিরাপত্তার মৌলিক বিষয়গুলো শেখা এবং অনলাইনে থাকা শিক্ষার সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তরুণদের প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করতে চান নাসিম। নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তাঁদের শেখার পথ সহজ করা এবং নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়াই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। একসময় বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার আগে চিরকুটে নিজের জীবনের লক্ষ্য লিখে রাখা সেই কিশোরের পথচলা আজ অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। কারণ, নাসিমের গল্প শুধু মাইক্রোসফটে চাকরি পাওয়ার গল্প নয়; এটি সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শেখার চেষ্টা, মায়ের আত্মত্যাগ এবং বারবার ব্যর্থ হয়েও নতুন করে শুরু করার গল্প। মায়ের বিক্রি করা একটি ছাগলের টাকায় কেনা মোবাইল ফোন থেকে শুরু হওয়া সেই যাত্রা তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে জাপানের প্রযুক্তি খাতে নতুন এক অধ্যায়ে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৩:৫২
ফ্লোরিডায় বাড়ি পরিষ্কারের সুযোগে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি, অভিযুক্ত কর্মী গ্রেপ্তার
ফ্লোরিডায় বাড়ি পরিষ্কারের সুযোগে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি, অভিযুক্ত কর্মী গ্রেপ্তার

গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি করে বিলাসবহুল রিসোর্টে অবকাশ যাপনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় জেসি মডজেল (৪৫) নামের এক হ্যান্ডিম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ কয়েক মাসের নিবিড় তদন্ত শেষে গত ৯ অক্টোবর পাম কোস্ট এলাকা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কর্মী কেবল রিসোর্টের বিলই নয়, বরং চুরি করা কার্ডের মাধ্যমে নিজের পারিবারিক ক্লিনিং ব্যবসার অ্যাকাউন্টেও টাকা স্থানান্তর করেছিলেন।   চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। পাম কোস্টের এক বাসিন্দা নিজের ক্রেডিট কার্ডে কিছু সন্দেহজনক ও অননুমোদিত লেনদেন দেখতে পেয়ে পুলিশকে অবহিত করেন।   ফ্ল্যাগলার কাউন্টি শেরিফ অফিস তদন্তে নেমে জানতে পারে, ওই গ্রাহকের বাড়িতে জেসি মডজেলের পারিবারিক ক্লিনিং প্রতিষ্ঠান ‘ব্রিজি ক্লিন’-এর কর্মীদের বিনা নজরদারিতে প্রবেশের সুযোগ ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে নেন মডজেল। এরপর সেই কার্ড ব্যবহার করে স্থানীয় একটি রিসোর্টে নিজের থাকার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও অর্থ প্রদান করেন।   গোয়েন্দারা জানান, লেনদেনের বিষয়টি গোপন রাখতে মডজেল তাঁর ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের বিলিং বিবরণ সুকৌশলে পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দাদের সতর্ক নজরদারিতে তাঁর এই প্রতারণা ধরা পড়ে যায়। মোট কত টাকা চুরি হয়েছে বা তিনি কোন রিসোর্টে থেকেছিলেন, তা প্রকাশ না করলেও শেরিফ রিক স্ট্যালি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওই ব্যক্তি ভেবেছিলেন গ্রাহকের টাকায় তিনি পাম কোস্টে একটি দারুণ ছুটি কাটানোর অধিকার রাখেন।   গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে গত ৯ অক্টোবর মডজেলের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেখেই তিনি বাড়ির ভেতরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন, তবে শেষ পর্যন্ত বাড়ির পেছনের উঠান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।   প্রতারণামূলকভাবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, অন্যের পরিচয় চুরি এবং চুরির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শেরিফ পেরি হল ইনমেট ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে পাঠানো হয়। অবশ্য পরে আড়াই হাজার ডলারের বন্ডে তিনি সাময়িক মুক্তি পান।   এই ঘটনার পর শেরিফ রিক স্ট্যালি স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, বাড়িতে কাজের জন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার আগে অবশ্যই তাঁদের পূর্ববৃত্তান্ত কঠোরভাবে যাচাই করা উচিত। মডজেলের আগেও চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার রেকর্ড রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   যেহেতু মডজেল ও তাঁর ক্লিনিং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এলাকার আরও অনেক বাড়িতে অবাধ যাতায়াত ছিল, তাই পুলিশ আশঙ্কা করছে আরও অনেকেই হয়তো তাঁদের এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সন্দেহভাজন এমন ভুক্তভোগীদের দ্রুত শেরিফ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৩:৪৫
বার্ধক্য ধীর করার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণায় জিএলপি-১ ওষুধ
ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ওষুধে ধীর হতে পারে বার্ধক্য, নতুন গবেষণায় মিলল আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত

ডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ শরীরের বার্ধক্য প্রক্রিয়াও ধীর করতে পারে। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে—ওজন কমানো ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এসব ওষুধ মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময়ও বাড়াতে পারবে কি না।   জিএলপি-১ ওষুধের পরিচিত উপকারিতা শুধু ওজন কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন গবেষণায় হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি ও যকৃতের স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং স্লিপ অ্যাপনিয়া ও শরীরের প্রদাহ কমানোর মতো সম্ভাব্য সুবিধাও উঠে এসেছে। এসব সমস্যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শারীরিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অবনতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের অধ্যাপক ডানিকা চেনের মতে, বয়স বাড়া অনেক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। তাই শুধু আলাদা আলাদা রোগের চিকিৎসা না করে বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে কাজ করা গেলে বয়সজনিত নানা রোগের ঝুঁকি কমানোর নতুন পথ তৈরি হতে পারে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, জিএলপি-১ ওষুধকে এখনই বার্ধক্য প্রতিরোধের চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণার ফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। এসব ওষুধের সম্ভাব্য সুবিধা শুধু অতিরিক্ত ওজন বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমিত কি না, নাকি স্বাভাবিক ওজনের সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও একই প্রভাব দেখা যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। লস এঞ্জেলেসের সিডারস-সিনাই মেডিকেল সেন্টারের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড জেরোথেরাপিউটিকসের পরিচালক জেমস কার্কল্যান্ডও এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, প্রাথমিক গবেষণার ফল দেখে কেউ কেউ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাগত কারণ ছাড়াই এসব ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে কম বয়সী, স্বাভাবিক ওজনের এবং ডায়াবেটিস নেই—এমন মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে এখনো যথেষ্ট তথ্য নেই। গবেষকেরা আরও বলছেন, বার্ধক্য পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত জৈবিক সূচকগুলো এখনো উন্নয়নশীল। ফলে এসব পরীক্ষার ফল দেখে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির শরীর কতটা বুড়িয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। জৈবিক বয়সের ঘড়িতে কী দেখা গেছে বার্ধক্য নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণায় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে টিরজেপাটাইড নামের ওষুধ। এটি এলি লিলি কোম্পানির তৈরি। ওজন কমানোর জন্য ওষুধটি জেপবাউন্ড এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য মাউনজারো নামে বিক্রি হয়। কোম্পানিটির গবেষকেরা তাদের একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, ওষুধটি ব্যবহারকারীদের শরীরে বার্ধক্যের কিছু জৈবিক সূচক তুলনামূলক ধীরগতিতে পরিবর্তিত হয়েছে। মূল পরীক্ষায় ৭০০ জনের বেশি অতিরিক্ত ওজনের, তবে ডায়াবেটিস নেই—এমন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। তাঁদের ৭২ সপ্তাহ ধরে টিরজেপাটাইড অথবা সেমাগ্লুটাইড দেওয়া হয়। পরবর্তী বার্ধক্যবিষয়ক বিশ্লেষণে টিরজেপাটাইড গ্রহণকারী ৫০ বছরের বেশি বয়সী ৭১ জনের তথ্য দেখা হয়। রক্তে নির্দিষ্ট জিনের কার্যক্রমের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এপিজেনেটিক ক্লক ব্যবহার করেন। এই পদ্ধতিতে শরীরের কোষ ও টিস্যুর জৈবিক বয়সের আনুমানিক পরিবর্তন বোঝার চেষ্টা করা হয়। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বয়স বাড়লেও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ একই গতিতে বুড়িয়ে যায় না—এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই এ ধরনের পরীক্ষা করা হয়। গবেষকদের হিসাবে, ৭২ সপ্তাহে একজন ব্যক্তির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বয়স প্রায় ১ দশমিক ৩৮ বছর বাড়ার কথা। কিন্তু টিরজেপাটাইড গ্রহণকারী ছোট দলটির বিভিন্ন জৈবিক ঘড়িতে বয়স বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল প্রায় ০ দশমিক ৭ থেকে ১ দশমিক ১ বছর। কয়েকটি সূচকে জৈবিক বয়স কমার ইঙ্গিতও দেখা গেছে। তবে এই পরীক্ষায় ওষুধ না নেওয়া কোনো প্লাসিবো দলের সঙ্গে তুলনা করা হয়নি। পাশাপাশি পর্যবেক্ষণের সময়ও ছিল সীমিত। তাই ওষুধটি সত্যিই বার্ধক্য ধীর করেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে চার-পাঁচ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা গেলে এই প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সেমাগ্লুটাইডেও মিলেছে একই ধরনের ইঙ্গিত সেমাগ্লুটাইড নামের আরেকটি ওষুধ নিয়েও আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। এটি ওজন কমানোর জন্য ওয়েগোভি এবং ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ওজেম্পিক নামে পরিচিত। ওষুধ প্রস্তুতকারী নোভো নরডিস্কের গবেষকেরা পাঁচটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ১০ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। রক্তে থাকা বিভিন্ন প্রোটিনের পরিবর্তন ব্যবহার করে তাঁরা হৃদ্‌যন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের জৈবিক বয়স অনুমান করেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্লাসিবো গ্রহণকারীদের তুলনায় সেমাগ্লুটাইড ব্যবহারকারীদের হৃদ্‌যন্ত্রের জৈবিক বয়সের সূচকে দুই থেকে চার বছরের পার্থক্য ছিল। কিডনি, ফুসফুস, মস্তিষ্ক ও অগ্ন্যাশয়সহ কয়েকটি অঙ্গের ক্ষেত্রেও এক থেকে চার বছরের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। গবেষকদের দাবি, এসব পরিবর্তন শুধু ওজন কমা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ বা প্রদাহ হ্রাস দিয়ে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায়নি। তবে গবেষণাটি এখনো পিয়ার রিভিউয়ের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়নি। তাই ফলাফলকে প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। ইঁদুরের আয়ু বেড়েছে, মানুষের ক্ষেত্রে কী হবে মানুষের পাশাপাশি ইঁদুরের ওপরও পরীক্ষা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বার্কলের গবেষকেরা ২০ মাস বয়সী ইঁদুরকে সেমাগ্লুটাইড অথবা প্লাসিবো দেন। ইঁদুরের এই বয়সকে মানুষের প্রায় ৬০ বছরের সঙ্গে তুলনা করা হয়। পরীক্ষায় সেমাগ্লুটাইড পাওয়া ইঁদুরগুলো তুলনামূলক কম খাবার খেয়েছে, ওজন হারিয়েছে এবং প্লাসিবো পাওয়া ইঁদুরের চেয়ে বেশি দিন বেঁচেছে। ওষুধ গ্রহণকারী ইঁদুরের গড় আয়ু ছিল ৮৩৪ দিন। অন্যদিকে প্লাসিবো পাওয়া ইঁদুরের মোট আয়ু ছিল ৭৪২ দিন। এরপর ওষুধের প্রভাব ও কম ক্যালরি গ্রহণের প্রভাব আলাদা করে বোঝার জন্য আরেক দল ইঁদুরের খাবারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়। এই দলটির আয়ুও বেড়েছিল। তবে দুই দলের মধ্যে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। পেশির কার্যকারিতা ও চলাফেরার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দলের ফল কাছাকাছি থাকলেও সেমাগ্লুটাইড পাওয়া ইঁদুর চিন্তাভাবনা এবং গোলকধাঁধা থেকে বের হওয়ার পরীক্ষায় ভালো করেছে। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও তাদের কিছু সুবিধা দেখা গেছে। গবেষকদের ধারণা, ওষুধটির সম্ভাব্য প্রভাব শুধু কম ক্যালরি গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। তবে ইঁদুরের ওপর পাওয়া ফল সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যাবে না। সব মিলিয়ে, জিএলপি-১ ওষুধ বার্ধক্য ধীর করা এবং সুস্থ জীবনকাল বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু মানুষের আয়ু সত্যিই বাড়ে কি না, স্বাভাবিক ওজনের সুস্থ ব্যক্তিরা এতে উপকৃত হন কি না এবং দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই শুধু দীর্ঘায়ুর আশায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ ব্যবহার করা এখনই সমর্থন করছেন না বিশেষজ্ঞরা।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৩:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রে টার্গেট স্টোরে দুঃসাহসিক চুরি, কয়েক মিনিটেই হাইওয়েতে ধরা চার নারী
যুক্তরাষ্ট্রে টার্গেট স্টোরে দুঃসাহসিক চুরি, কয়েক মিনিটেই হাইওয়েতে ধরা চার নারী

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় একটি জনপ্রিয় চেইন শপ ‘টার্গেট’ থেকে অভিনব কায়দায় শতাধিক মালামাল চুরির অভিযোগে চার নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এবিসি অনুমোদিত ডব্লিউএসবি-টিভির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় একটি টার্গেট আউটলেট থেকে তিন নারী দুহাতে একের পর এক পণ্য স্তূপাকারে নিয়ে কোনো বিল পরিশোধ না করেই সরাসরি বাইরে বেরিয়ে যান। এই দৃশ্য দেখে স্টোরের কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে ৯১১ নম্বরে জরুরি কল করে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।   পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত তিন নারী বাইরে অপেক্ষমাণ একটি গাড়িতে মালামালগুলো বোঝাই করে দ্রুত পালিয়ে যান। গাড়িটির চালকের আসনে ছিলেন তাঁদের চতুর্থ সহযোগী। তবে পুলিশ স্টোরে পৌঁছানোর পর লস প্রিভেনশন ম্যানেজার দ্রুত কর্মকর্তাদের পুরো ঘটনা জানান এবং গাড়িটির নিখুঁত বর্ণনা দেন।   এর সূত্র ধরে ফক্স ফাইভ জানিয়েছে, চুরির ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় ইন্টারস্টেট ৮৫ হাইওয়েতে গাড়িটি শনাক্ত করে থামায় পুলিশ। এরপর গাড়িতে থাকা চার নারীকে হেফাজতে নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।   গাড়ির ভেতর থেকে মোট ১ হাজার ৮০০ ডলারের বেশি মূল্যের প্রায় ১০৭টি চোরাই পণ্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত পণ্যের তালিকায় রয়েছে ৪২টি পোশাক, ৪৬টি স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা পণ্য, ১৮টি লন্ড্রি ও ক্লিনিং সামগ্রী, ১০টি গৃহস্থালি পণ্য এবং একটি অফিস সামগ্রী। এছাড়া গাড়িতে অন্য পণ্যে ভর্তি একটি আবর্জনার ব্যাগও পাওয়া যায়।   তবে টার্গেটের ম্যানেজার নিশ্চিত করেছেন যে ওই ব্যাগের মালামালগুলো তাঁদের স্টোরের নয়। এগুলো অন্য কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চুরি করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।   নিউন্যান টাইমস-হেরাল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সানব্রাসিয়া মারিয়ানা জনসন (২৮), আনেসিয়া তাশায়ে ক্যামন (২৬), লাতাভিয়া ত্রাভিয়োনা স্মিথ (২১) এবং ত্রানেসিয়া দেয়েশা স্মিথ (২৩)। চারজনের বিরুদ্ধেই গুরুতর চুরির (ফেলনি শপলিফটিং) অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তবে তারা আদালতে কোনো আবেদন দাখিল করেছেন কি না বা তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৩:৩০