- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি করে বিলাসবহুল রিসোর্টে অবকাশ যাপনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় জেসি মডজেল (৪৫) নামের এক হ্যান্ডিম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ কয়েক মাসের নিবিড় তদন্ত শেষে গত ৯ অক্টোবর পাম কোস্ট এলাকা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কর্মী কেবল রিসোর্টের বিলই নয়, বরং চুরি করা কার্ডের মাধ্যমে নিজের পারিবারিক ক্লিনিং ব্যবসার অ্যাকাউন্টেও টাকা স্থানান্তর করেছিলেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। পাম কোস্টের এক বাসিন্দা নিজের ক্রেডিট কার্ডে কিছু সন্দেহজনক ও অননুমোদিত লেনদেন দেখতে পেয়ে পুলিশকে অবহিত করেন। ফ্ল্যাগলার কাউন্টি শেরিফ অফিস তদন্তে নেমে জানতে পারে, ওই গ্রাহকের বাড়িতে জেসি মডজেলের পারিবারিক ক্লিনিং প্রতিষ্ঠান ‘ব্রিজি ক্লিন’-এর কর্মীদের বিনা নজরদারিতে প্রবেশের সুযোগ ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে নেন মডজেল। এরপর সেই কার্ড ব্যবহার করে স্থানীয় একটি রিসোর্টে নিজের থাকার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও অর্থ প্রদান করেন। গোয়েন্দারা জানান, লেনদেনের বিষয়টি গোপন রাখতে মডজেল তাঁর ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের বিলিং বিবরণ সুকৌশলে পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দাদের সতর্ক নজরদারিতে তাঁর এই প্রতারণা ধরা পড়ে যায়। মোট কত টাকা চুরি হয়েছে বা তিনি কোন রিসোর্টে থেকেছিলেন, তা প্রকাশ না করলেও শেরিফ রিক স্ট্যালি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওই ব্যক্তি ভেবেছিলেন গ্রাহকের টাকায় তিনি পাম কোস্টে একটি দারুণ ছুটি কাটানোর অধিকার রাখেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে গত ৯ অক্টোবর মডজেলের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেখেই তিনি বাড়ির ভেতরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন, তবে শেষ পর্যন্ত বাড়ির পেছনের উঠান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতারণামূলকভাবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, অন্যের পরিচয় চুরি এবং চুরির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শেরিফ পেরি হল ইনমেট ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে পাঠানো হয়। অবশ্য পরে আড়াই হাজার ডলারের বন্ডে তিনি সাময়িক মুক্তি পান। এই ঘটনার পর শেরিফ রিক স্ট্যালি স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, বাড়িতে কাজের জন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার আগে অবশ্যই তাঁদের পূর্ববৃত্তান্ত কঠোরভাবে যাচাই করা উচিত। মডজেলের আগেও চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার রেকর্ড রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। যেহেতু মডজেল ও তাঁর ক্লিনিং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এলাকার আরও অনেক বাড়িতে অবাধ যাতায়াত ছিল, তাই পুলিশ আশঙ্কা করছে আরও অনেকেই হয়তো তাঁদের এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সন্দেহভাজন এমন ভুক্তভোগীদের দ্রুত শেরিফ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ শরীরের বার্ধক্য প্রক্রিয়াও ধীর করতে পারে। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে—ওজন কমানো ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এসব ওষুধ মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময়ও বাড়াতে পারবে কি না। জিএলপি-১ ওষুধের পরিচিত উপকারিতা শুধু ওজন কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন গবেষণায় হৃদ্যন্ত্র, কিডনি ও যকৃতের স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং স্লিপ অ্যাপনিয়া ও শরীরের প্রদাহ কমানোর মতো সম্ভাব্য সুবিধাও উঠে এসেছে। এসব সমস্যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শারীরিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অবনতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের অধ্যাপক ডানিকা চেনের মতে, বয়স বাড়া অনেক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। তাই শুধু আলাদা আলাদা রোগের চিকিৎসা না করে বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে কাজ করা গেলে বয়সজনিত নানা রোগের ঝুঁকি কমানোর নতুন পথ তৈরি হতে পারে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, জিএলপি-১ ওষুধকে এখনই বার্ধক্য প্রতিরোধের চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণার ফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। এসব ওষুধের সম্ভাব্য সুবিধা শুধু অতিরিক্ত ওজন বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমিত কি না, নাকি স্বাভাবিক ওজনের সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও একই প্রভাব দেখা যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। লস এঞ্জেলেসের সিডারস-সিনাই মেডিকেল সেন্টারের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড জেরোথেরাপিউটিকসের পরিচালক জেমস কার্কল্যান্ডও এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, প্রাথমিক গবেষণার ফল দেখে কেউ কেউ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাগত কারণ ছাড়াই এসব ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে কম বয়সী, স্বাভাবিক ওজনের এবং ডায়াবেটিস নেই—এমন মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে এখনো যথেষ্ট তথ্য নেই। গবেষকেরা আরও বলছেন, বার্ধক্য পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত জৈবিক সূচকগুলো এখনো উন্নয়নশীল। ফলে এসব পরীক্ষার ফল দেখে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির শরীর কতটা বুড়িয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। জৈবিক বয়সের ঘড়িতে কী দেখা গেছে বার্ধক্য নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণায় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে টিরজেপাটাইড নামের ওষুধ। এটি এলি লিলি কোম্পানির তৈরি। ওজন কমানোর জন্য ওষুধটি জেপবাউন্ড এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য মাউনজারো নামে বিক্রি হয়। কোম্পানিটির গবেষকেরা তাদের একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, ওষুধটি ব্যবহারকারীদের শরীরে বার্ধক্যের কিছু জৈবিক সূচক তুলনামূলক ধীরগতিতে পরিবর্তিত হয়েছে। মূল পরীক্ষায় ৭০০ জনের বেশি অতিরিক্ত ওজনের, তবে ডায়াবেটিস নেই—এমন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। তাঁদের ৭২ সপ্তাহ ধরে টিরজেপাটাইড অথবা সেমাগ্লুটাইড দেওয়া হয়। পরবর্তী বার্ধক্যবিষয়ক বিশ্লেষণে টিরজেপাটাইড গ্রহণকারী ৫০ বছরের বেশি বয়সী ৭১ জনের তথ্য দেখা হয়। রক্তে নির্দিষ্ট জিনের কার্যক্রমের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এপিজেনেটিক ক্লক ব্যবহার করেন। এই পদ্ধতিতে শরীরের কোষ ও টিস্যুর জৈবিক বয়সের আনুমানিক পরিবর্তন বোঝার চেষ্টা করা হয়। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বয়স বাড়লেও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ একই গতিতে বুড়িয়ে যায় না—এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই এ ধরনের পরীক্ষা করা হয়। গবেষকদের হিসাবে, ৭২ সপ্তাহে একজন ব্যক্তির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বয়স প্রায় ১ দশমিক ৩৮ বছর বাড়ার কথা। কিন্তু টিরজেপাটাইড গ্রহণকারী ছোট দলটির বিভিন্ন জৈবিক ঘড়িতে বয়স বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল প্রায় ০ দশমিক ৭ থেকে ১ দশমিক ১ বছর। কয়েকটি সূচকে জৈবিক বয়স কমার ইঙ্গিতও দেখা গেছে। তবে এই পরীক্ষায় ওষুধ না নেওয়া কোনো প্লাসিবো দলের সঙ্গে তুলনা করা হয়নি। পাশাপাশি পর্যবেক্ষণের সময়ও ছিল সীমিত। তাই ওষুধটি সত্যিই বার্ধক্য ধীর করেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে চার-পাঁচ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা গেলে এই প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সেমাগ্লুটাইডেও মিলেছে একই ধরনের ইঙ্গিত সেমাগ্লুটাইড নামের আরেকটি ওষুধ নিয়েও আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। এটি ওজন কমানোর জন্য ওয়েগোভি এবং ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ওজেম্পিক নামে পরিচিত। ওষুধ প্রস্তুতকারী নোভো নরডিস্কের গবেষকেরা পাঁচটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ১০ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। রক্তে থাকা বিভিন্ন প্রোটিনের পরিবর্তন ব্যবহার করে তাঁরা হৃদ্যন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের জৈবিক বয়স অনুমান করেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্লাসিবো গ্রহণকারীদের তুলনায় সেমাগ্লুটাইড ব্যবহারকারীদের হৃদ্যন্ত্রের জৈবিক বয়সের সূচকে দুই থেকে চার বছরের পার্থক্য ছিল। কিডনি, ফুসফুস, মস্তিষ্ক ও অগ্ন্যাশয়সহ কয়েকটি অঙ্গের ক্ষেত্রেও এক থেকে চার বছরের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। গবেষকদের দাবি, এসব পরিবর্তন শুধু ওজন কমা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ বা প্রদাহ হ্রাস দিয়ে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায়নি। তবে গবেষণাটি এখনো পিয়ার রিভিউয়ের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়নি। তাই ফলাফলকে প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। ইঁদুরের আয়ু বেড়েছে, মানুষের ক্ষেত্রে কী হবে মানুষের পাশাপাশি ইঁদুরের ওপরও পরীক্ষা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বার্কলের গবেষকেরা ২০ মাস বয়সী ইঁদুরকে সেমাগ্লুটাইড অথবা প্লাসিবো দেন। ইঁদুরের এই বয়সকে মানুষের প্রায় ৬০ বছরের সঙ্গে তুলনা করা হয়। পরীক্ষায় সেমাগ্লুটাইড পাওয়া ইঁদুরগুলো তুলনামূলক কম খাবার খেয়েছে, ওজন হারিয়েছে এবং প্লাসিবো পাওয়া ইঁদুরের চেয়ে বেশি দিন বেঁচেছে। ওষুধ গ্রহণকারী ইঁদুরের গড় আয়ু ছিল ৮৩৪ দিন। অন্যদিকে প্লাসিবো পাওয়া ইঁদুরের মোট আয়ু ছিল ৭৪২ দিন। এরপর ওষুধের প্রভাব ও কম ক্যালরি গ্রহণের প্রভাব আলাদা করে বোঝার জন্য আরেক দল ইঁদুরের খাবারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়। এই দলটির আয়ুও বেড়েছিল। তবে দুই দলের মধ্যে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। পেশির কার্যকারিতা ও চলাফেরার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দলের ফল কাছাকাছি থাকলেও সেমাগ্লুটাইড পাওয়া ইঁদুর চিন্তাভাবনা এবং গোলকধাঁধা থেকে বের হওয়ার পরীক্ষায় ভালো করেছে। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও তাদের কিছু সুবিধা দেখা গেছে। গবেষকদের ধারণা, ওষুধটির সম্ভাব্য প্রভাব শুধু কম ক্যালরি গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। তবে ইঁদুরের ওপর পাওয়া ফল সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যাবে না। সব মিলিয়ে, জিএলপি-১ ওষুধ বার্ধক্য ধীর করা এবং সুস্থ জীবনকাল বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু মানুষের আয়ু সত্যিই বাড়ে কি না, স্বাভাবিক ওজনের সুস্থ ব্যক্তিরা এতে উপকৃত হন কি না এবং দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই শুধু দীর্ঘায়ুর আশায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ ব্যবহার করা এখনই সমর্থন করছেন না বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় একটি জনপ্রিয় চেইন শপ ‘টার্গেট’ থেকে অভিনব কায়দায় শতাধিক মালামাল চুরির অভিযোগে চার নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এবিসি অনুমোদিত ডব্লিউএসবি-টিভির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় একটি টার্গেট আউটলেট থেকে তিন নারী দুহাতে একের পর এক পণ্য স্তূপাকারে নিয়ে কোনো বিল পরিশোধ না করেই সরাসরি বাইরে বেরিয়ে যান। এই দৃশ্য দেখে স্টোরের কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে ৯১১ নম্বরে জরুরি কল করে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত তিন নারী বাইরে অপেক্ষমাণ একটি গাড়িতে মালামালগুলো বোঝাই করে দ্রুত পালিয়ে যান। গাড়িটির চালকের আসনে ছিলেন তাঁদের চতুর্থ সহযোগী। তবে পুলিশ স্টোরে পৌঁছানোর পর লস প্রিভেনশন ম্যানেজার দ্রুত কর্মকর্তাদের পুরো ঘটনা জানান এবং গাড়িটির নিখুঁত বর্ণনা দেন। এর সূত্র ধরে ফক্স ফাইভ জানিয়েছে, চুরির ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় ইন্টারস্টেট ৮৫ হাইওয়েতে গাড়িটি শনাক্ত করে থামায় পুলিশ। এরপর গাড়িতে থাকা চার নারীকে হেফাজতে নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়ির ভেতর থেকে মোট ১ হাজার ৮০০ ডলারের বেশি মূল্যের প্রায় ১০৭টি চোরাই পণ্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত পণ্যের তালিকায় রয়েছে ৪২টি পোশাক, ৪৬টি স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা পণ্য, ১৮টি লন্ড্রি ও ক্লিনিং সামগ্রী, ১০টি গৃহস্থালি পণ্য এবং একটি অফিস সামগ্রী। এছাড়া গাড়িতে অন্য পণ্যে ভর্তি একটি আবর্জনার ব্যাগও পাওয়া যায়। তবে টার্গেটের ম্যানেজার নিশ্চিত করেছেন যে ওই ব্যাগের মালামালগুলো তাঁদের স্টোরের নয়। এগুলো অন্য কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চুরি করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নিউন্যান টাইমস-হেরাল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সানব্রাসিয়া মারিয়ানা জনসন (২৮), আনেসিয়া তাশায়ে ক্যামন (২৬), লাতাভিয়া ত্রাভিয়োনা স্মিথ (২১) এবং ত্রানেসিয়া দেয়েশা স্মিথ (২৩)। চারজনের বিরুদ্ধেই গুরুতর চুরির (ফেলনি শপলিফটিং) অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তবে তারা আদালতে কোনো আবেদন দাখিল করেছেন কি না বা তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট ঘাটতি ২০২৬ অর্থবছরে বেড়ে ১ লাখ ৯৯ হাজার ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় এই ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, করোনা মহামারিকালীন ব্যয়ের বছরগুলো বাদ দিলে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ বার্ষিক ঘাটতি। ক্রমবর্ধমান সরকারি ব্যয়, জাতীয় ঋণের সুদ পরিশোধ এবং শুল্ক থেকে আয় কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরে মার্কিন সরকারের মোট রাজস্ব এসেছে প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। বিপরীতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৩৯ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ সরকারের আয়ের তুলনায় ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ২০০ কোটি ডলার বেশি। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশের সমান এই ঘাটতি। ২০২৫ অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ২১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। ২০২৬ অর্থবছর শেষ হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর। এটি ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম পূর্ণ অর্থবছর। এর আগে ২০২০ ও ২০২১ অর্থবছরে করোনা মহামারিকালীন বিপুল সরকারি ব্যয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি অনেক বেড়ে গিয়েছিল। সেই দুই বছর বাদ দিলে চলতি বছরের ঘাটতি সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড়। বাজেট ঘাটতির পাশাপাশি দেশটির মোট জাতীয় ঋণও নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। এরপরও ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। ট্রেজারি বিভাগের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে মোট জাতীয় ঋণ ছিল ৪০ লাখ ৩২ হাজার ৯২২ কোটি ডলারেরও বেশি। বিপুল এই ঋণের সুদ পরিশোধ করতে সরকারকে ক্রমবর্ধমান অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। সরকারের বাজেটে ঋণের সুদ এখন অন্যতম বড় ব্যয়ের খাত। বার্ষিক সুদ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশটির জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। সামাজিক নিরাপত্তা খাতের পর এটি সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যয়ের খাত। ঋণের সুদ পরিশোধে এখন মেডিকেয়ার স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি কিংবা প্রতিরক্ষা খাতের চেয়েও বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগ হলো, যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন মাত্রার বার্ষিক ঘাটতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, যা অতীতে সাধারণত অর্থনৈতিক মন্দা বা বড় সংকটের সময় দেখা যেত। ঋণের সুদ বাড়তে থাকলে সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরক্ষা এবং অন্যান্য সরকারি কর্মসূচির জন্য অর্থ বরাদ্দের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। বাজেট ঘাটতির পেছনে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি শুল্কনীতি ও করছাড়ও ভূমিকা রেখেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে চলতি বছরের ঘাটতিকে সাময়িক পরিস্থিতি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ চলছে। তবে সাম্প্রতিক হিসাব দেখাচ্ছে, ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধির ব্যবধানও বাড়ছে। শুল্ক থেকে আয় কমে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। গত এক বছরে আমদানি শুল্ক বাবদ সংগৃহীত অর্থের মধ্যে ১৪ হাজার ৪৬০ কোটি ডলার ফেরত দিতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের শুল্কসংক্রান্ত রায়ের পর এই অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফলে শুল্ক থেকে সরকারের যে রাজস্ব আসার কথা ছিল, তার বড় অংশ আবার ফেরত দিতে হয়েছে। এতে বাজেট ঘাটতি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় বেড়েছে। শুল্ক ফেরতের প্রভাব কতটা বড়, তা বোঝা যায় আগের পূর্বাভাসের সঙ্গে তুলনা করলে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, অর্থ ফেরতের সিদ্ধান্ত আসার আগে, ২০২৬ অর্থবছরে ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি ডলারের ঘাটতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ঘাটতি সেই পূর্বাভাসকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে। শুল্ক ফেরতের পাশাপাশি সরকারি ব্যয় ও রাজস্ব আদায়ের পরিবর্তনও এই ব্যবধানের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। রাজস্ব আদায়ের আরেকটি দুর্বল দিক হলো করপোরেট আয়কর। নতুন করছাড়ের কারণে কোম্পানিগুলো কিছু বিনিয়োগ ব্যয়ের বিপরীতে বেশি অর্থ কর থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এতে সরকারের কর আদায় কমেছে। ২০২৬ অর্থবছরে করপোরেট আয়কর থেকে রাজস্ব আগের বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ কমেছে। কোম্পানিগুলোর আয় বাড়লেও করছাড়ের কারণে রাজস্বে প্রত্যাশিত বৃদ্ধি দেখা যায়নি। অন্যদিকে, সরকারি ব্যয়ও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরক্ষা এবং জাতীয় ঋণের সুদ পরিশোধে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচিগুলোতেও ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বাজেট ২০২৫ থেকে ২০২৬ অর্থবছরের মধ্যে ১৪৬ শতাংশ বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি ব্যয়ের প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারের মোট ব্যয় ছিল ৫ লাখ ৭৬ হাজার কোটি ডলার। ২০২৫ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ লাখ ১৩ হাজার কোটি ডলারে। ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৬ লাখ ৬৫ হাজার কোটি ডলার। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি বাজেটের ওপর চাপ আরও বাড়াচ্ছে। বাজেট ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আশঙ্কাও বাড়ছে। বর্তমান আর্থিক নীতি অপরিবর্তিত থাকলে ২০৩৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক বাজেট ঘাটতি ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে। অর্থাৎ এখনকার ঘাটতি শুধু এক বছরের সমস্যা নয়; ভবিষ্যতেও সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর বড় চাপ তৈরি হতে পারে। জাতীয় ঋণ ও সুদের ব্যয় বাড়তে থাকলে সরকারের জন্য অন্য খাতে অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন ঋণ নিতে হলে সুদ পরিশোধের দায়ও বাড়তে পারে। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে সরকারি আর্থিক পরিকল্পনা ও অর্থনীতির ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একটি বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। একদিকে ব্যয় দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে শুল্ক ফেরত ও করপোরেট কর আদায় কমে যাওয়ায় রাজস্বের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি জাতীয় ঋণ এবং ক্রমবর্ধমান সুদের ব্যয় যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে শুধু ব্যয় কমানো নয়, সরকারের রাজস্ব নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
জীবনযাত্রার অসহনীয় ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলনে ফুঁসে উঠেছে ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বড় বড় শহরগুলোতে শনিবার রাজপথে নেমে এসেছেন হাজারো মানুষ। চলমান এই বিক্ষোভে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ছাত্র, শিক্ষক ও বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরা। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মাঠে নেমেছেন ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কর্মীরা, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। সব পক্ষের এই সম্মিলিত প্রতিবাদ ফরাসি সরকারের ওপর নতুন করে প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে। শনিবার প্যারিসের প্লেস দে লা রিপাবলিক চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় মুখোশ পরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধাওয়াধাওয়ি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা পুলিশকে বাধ্য হয়ে এলোপাতাড়ি টিয়ার গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে হয়। শুধু প্যারিস নয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মার্সেইতে বিক্ষোভকারীরা টাউন হল চত্বরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং লিঁও শহরে একটি পর্যটন অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শনিবার দুপুরের মধ্যেই দেশজুড়ে ১৪০টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে আড়াইশর বেশি মানুষকে পুলিশ আটক করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়টি ফ্রান্সের জন্য একটি অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্ত। একদিকে ফরাসি সরকার ক্রমবর্ধমান জাতীয় ঋণ ও বিশাল বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে, অন্যদিকে চড়া কর ও লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ পিষ্ট হয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। এর আগে স্কুলের অনুন্নত অবস্থা ও শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরাও ব্যাপক আন্দোলন করেছিল। রাজনৈতিক গবেষকরা মনে করছেন, বিভিন্ন মহলের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটেছে এই রাজপথের আন্দোলনে এবং ফরাসি জনগণ এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। উদ্ভূত এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের ক্ষোভের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সবাইকে শান্ত থাকার এবং যেকোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
পোষা টিকটিকিকে খাবার দেওয়া এবং নিজের গাড়ি ধোয়ার মতো কারণ দেখিয়ে বারবার সেনা ঘাঁটি ছেড়ে বাইরে চলে যেতেন দক্ষিণ কোরিয়ার এক সেনা কর্মকর্তা। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের পাশাপাশি অধীনস্থ সেনাদের ছুটির আবেদন আটকে রাখা এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে দুই মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় পাননি তিনি। তাঁর শাস্তি বহাল রেখেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান জেলা আদালত। আদালত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিট কমান্ডারের বিরুদ্ধে ওই কর্মকর্তার দায়ের করা মামলা খারিজ করা হয়েছে। সামরিক দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে তাঁকে দুই মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছিল। সেই শাস্তির সিদ্ধান্ত বাতিল চেয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। মামলার শুনানিতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ মাসে কর্মদিবসের সময় মোট ৬৪ বার সেনা ঘাঁটি থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যান ওই কর্মকর্তা। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে তিনি আগে থেকে ছুটির আবেদন করেননি। এমনকি ঘাঁটি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কমান্ডারকেও জানাননি। ঘাঁটির প্রবেশ ও বের হওয়ার রেকর্ড পর্যালোচনা করে এসব ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কেন তিনি ঘাঁটি ছেড়ে বাইরে যেতেন, সে বিষয়েও আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া হয়। একজন গার্ড কমান্ডার জানান, ওই কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে নিজের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে বলতেন, ‘আমাকে আমার টিকটিকিকে খাবার দিতে হবে’ অথবা ‘আমার গাড়ি ধুতে হবে’। এসব ব্যক্তিগত কাজের জন্য অনুমতি না নিয়ে বারবার ঘাঁটি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তবে মামলাটি শুধু অনুমতি ছাড়া ঘাঁটি ত্যাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অধীনস্থ সেনাদের সঙ্গে তাঁর আচরণ এবং তাঁদের ছুটির আবেদন নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টিও আদালতের বিবেচনায় আসে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ওই কর্মকর্তা তাঁর অধীনে থাকা ২৬ জন সেনাসদস্যের মোট ৬৯৮টি বাইরে যাওয়া, রাতে বাইরে অবস্থান এবং ছুটির আবেদন অনুমোদনে দেরি করেন। এসব আবেদনের অনুমোদন আটকে থাকায় সংশ্লিষ্ট সেনাসদস্যরা সামরিক বাহিনীর সহায়তায় ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি। ফলে যাতায়াতের খরচ তাঁদের নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হয়েছে। সামরিক বাহিনীতে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ছুটি বা বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া সদস্যদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকলে অনুমোদন সময়মতো না হওয়ায় ব্যক্তিগত খরচ বেড়ে যেতে পারে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তার আবেদনের অনুমোদন দিতে দেরি করার কারণে তাঁর অধীনস্থ একাধিক সেনাসদস্যকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। অধীনস্থ সেনাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও ছিল গুরুতর। আদালতে বলা হয়, ছুটির আবেদন অনুমোদনের জন্য সেনাসদস্যরা তাঁর কাছে গেলে তিনি একপর্যায়ে বলতেন, ‘এটা কি কোনো সমাজসেবা কেন্দ্র? চলে যাও।’ এ ছাড়া পিঠের ব্যথার কারণে অন্য ইউনিটে বদলি হওয়ার আবেদন জানানো এক সেনাসদস্যের সঙ্গেও তিনি দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সেনাসদস্যকে তিনি মানসিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সামরিক বাহিনী থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে আদালতের তথ্যে উঠে আসে। নতুন যোগ দেওয়া সেনাসদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও তাঁর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ইউনিটে যোগ দেওয়ার পর একজন সেনাসদস্যের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে তিনি ৫০ দিন সময় নেন। এত দিন পর সাক্ষাতের সময় ওই সেনাসদস্যকে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কে?’ এসব ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে আদালত মনে করেন, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কাজের জন্য অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা, অধীনস্থদের ছুটির আবেদন আটকে রাখা এবং তাঁদের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করা সামরিক ব্যবস্থাপনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আদালত আরও উল্লেখ করেন, সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাঁর অসদাচরণের জন্য আরও কঠোর শাস্তিও দেওয়া সম্ভব ছিল। অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সুযোগ ছিল। একাধিক বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনী থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক শৃঙ্খলাবিধিতে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং বাহিনী থেকে বহিষ্কার—দুটিই সামরিক চাকরির অবসান ঘটাতে পারে। তবে বাহিনী থেকে বহিষ্কারের শাস্তি তুলনামূলকভাবে কঠোর এবং এর ফলে অবসরকালীন সুবিধাও কমে যেতে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দেওয়া দুই মাসের সাময়িক বরখাস্তের শাস্তি বিধিমালায় অনুমোদিত সর্বোচ্চ শাস্তির তুলনায় অনেক কম। তাই তাঁর ব্যক্তিগত অসুবিধার চেয়ে সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেন, সামরিক প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা, নিয়মকানুন বজায় রাখা এবং সামরিক বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের মতো জনস্বার্থকে ওই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ক্ষতির চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ বলা যায় না। সব মিলিয়ে, পোষা প্রাণীকে খাবার দেওয়া বা গাড়ি ধোয়ার মতো ব্যক্তিগত কাজের জন্য অনুমতি ছাড়া ঘাঁটি ত্যাগ, অধীনস্থদের ছুটির আবেদন আটকে রাখা এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগের পরও শাস্তি বাতিলের আবেদন করে সফল হতে পারেননি দক্ষিণ কোরিয়ার ওই সেনা কর্মকর্তা। আদালতের রায়ে তাঁর দুই মাসের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বহাল থাকল।
জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, নারীদের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ফলে পরিবারে নারীর আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে এবং তালাকের প্রবণতা বন্ধ হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা হলো, স্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা পাওয়ায় স্বামীর পক্ষে তাঁকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া আগের মতো সহজ থাকছে না। সভায় চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মায়েদের নামে ফ্যামিলি কার্ড চালুর মাধ্যমে তাঁদের শক্তিশালী করেছেন। তিনি এ উদ্যোগকে সরকারের ইতিবাচক কাজ হিসেবে তুলে ধরে গণমাধ্যমকে এ ধরনের কর্মসূচির সুফল মানুষের সামনে বারবার তুলে ধরার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে ফ্যামিলি কার্ডকে শুধু আর্থিক সহায়তার মাধ্যম নয়, পারিবারিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন একটি কর্মসূচি হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়েছে। সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বাড়ানো, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া এবং সামাজিক সুরক্ষার আওতা সম্প্রসারণ করা। ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে সরকার উপকারভোগী নির্বাচন ও তথ্যভান্ডার তৈরির কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ কাজে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন তদারককারী নিয়োজিত থাকার কথা জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। প্রাথমিকভাবে প্রায় সাড়ে চার কোটি পরিবারের তথ্যভান্ডার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্য থেকে আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে যোগ্য পরিবার নির্বাচন করার কথা বলা হয়েছে। সরকারের ঘোষণায় ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীর হাতে আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীও জানিয়েছেন, সুবিধার অর্থ যেন পরিবারের নারীর হাতেই থাকে এবং উপকারভোগী নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব বা স্বজনপ্রীতি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক তদারকি রাখা হবে। তবে এই নীতির বাস্তব প্রয়োগে নারীরা কতটা আর্থিক স্বাধীনতা পাচ্ছেন, তা জানতে কর্মসূচির ফলাফল ও উপকারভোগীদের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তবে চিফ হুইপের দাবির সঙ্গে যাচাইযোগ্য তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের কারণে দেশে তালাকের সংখ্যা কমেছে কি না, তা প্রমাণ করার মতো কোনো পরিসংখ্যান এই প্রতিবেদনগুলোর সঙ্গে প্রকাশিত হয়নি। কর্মসূচির আগে ও পরে তালাকের হার, কার্ডপ্রাপ্ত পরিবারের অভিজ্ঞতা এবং স্বামী-স্ত্রীর আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিয়ে তুলনামূলক গবেষণা ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। আইনগত দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৭ ধারায় তালাকের লিখিত নোটিশ এবং সাধারণভাবে নোটিশ দেওয়ার পর ৯০ দিনের প্রক্রিয়ার বিধান রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড এই আইনগত প্রক্রিয়ার বিকল্প নয়। ফ্যামিলি কার্ড নারীর হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়ে তাঁর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বাড়াতে পারে—এটি কর্মসূচির ঘোষিত লক্ষ্য। কিন্তু এই সহায়তা পারিবারিক সহিংসতা, দাম্পত্য বিরোধ কিংবা তালাকের সিদ্ধান্ত কতটা কমাতে পারছে, তা জানতে স্বাধীন মূল্যায়ন ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রয়োজন। চিফ হুইপের বক্তব্য তাই সরকারের কর্মসূচি সম্পর্কে তাঁর দাবি হিসেবে প্রকাশ করা হচ্ছে, প্রমাণিত সামাজিক ফলাফল হিসেবে নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় করব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নগর কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি ৬৬ কোটি ডলার থেকে ৮৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের মধ্যে হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি সেবা, শিশু পরিচর্যা এবং সামাজিক কর্মসূচির অর্থায়ন নিশ্চিত করতে নতুন রাজস্ব সংগ্রহের উপায় খুঁজছেন আইনপ্রণেতারা। আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন কর, উচ্চ আয়ের পরিবারের আয়কর বৃদ্ধি, বহুমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর এবং সম্পত্তিকর বাড়ানো। এ ছাড়া আগে স্থগিত করা বিক্রয়কর বৃদ্ধির প্রস্তাবও পুনর্বিবেচনার বিষয় রয়েছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে ওমরের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তাঁর মুঠোফোন জব্দ করা হয় এবং তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর কয়েকজন আত্মীয়ের কাছে গ্র্যান্ড জুরি তলব পাঠানো হয় বলে তদন্ত সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে। তদন্তের সম্পূর্ণ পরিধি এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্তটি অভিবাসনসংক্রান্ত সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত। তবে ওমরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নেই। তাঁর আইনজীবীরা নাগরিকত্বসংক্রান্ত কোনো আইন ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ওমর ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান বলে তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এই তল্লাশি হওয়ায় রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও তদন্তের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আইনজীবীদের অভিযোগ এবং বিচার বিভাগের পাল্টা বক্তব্য—দুটিই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা জরুরি। তদন্তের ফল বা আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় ক্যালিফোর্নিয়ার তিনটি শহরের সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন প্রার্থী। তাঁরা হলেন শাজিয়া হক, মোহাম্মদ কে. রহমান ও এম এস আলম। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে তাঁরা মন্টেবেলো, পেরিস ও চিনো শহরের বিভিন্ন কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে জয়ী হলে নিজ নিজ শহরের উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন তাঁরা। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো শহরের সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ১ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শাজিয়া হক। শহরটির সরকারি নির্বাচনী তথ্যেও তাঁর প্রার্থিতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। ব্যবসা ও কমিউনিটি কার্যক্রমে প্রায় ২০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে তাঁর পরিচিতিতে জানানো হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, বাজেট ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পাড়া-মহল্লা এবং স্থানীয় ব্যবসার বিকাশকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো এবং বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম ও নারীদের জন্য মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও তাঁর প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ দিক। রিভারসাইড কাউন্টির পেরিস শহরের সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ১ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহাম্মদ কে. রহমান। তাঁর নির্বাচনী পরিচিতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগে ২৭ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। নির্বাচিত হলে জননিরাপত্তা জোরদার, সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে কাজ করতে চান তিনি। পাশাপাশি সড়কবাতি, ফুটপাত এবং পাড়া-মহল্লার নিরাপত্তা উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধান এবং নাগরিক সেবার মান বাড়ানো তাঁর নির্বাচনী পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে, সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির চিনো শহরের সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ৩ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রকৌশলী এম এস আলম। চিনো শহরের সরকারি নির্বাচনী তথ্যেও তাঁর নাম প্রার্থী হিসেবে রয়েছে। তাঁর পেশাগত পরিচিতি অনুযায়ী, তিনি ক্যালিফোর্নিয়া পরিবহন বিভাগের (ক্যালট্রান্স) ডিস্ট্রিক্ট ৭-এ প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, লং বিচে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন। প্রায় ১৮ বছর ধরে চিনো শহরে বসবাসকারী এম এস আলম নিরাপদ ও পরিকল্পিত নগরায়ণ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শক্তিশালী অবকাঠামো এবং নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রকৌশল ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শহরের উন্নয়নে অবদান রাখার প্রত্যাশা তাঁর। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় সিটি কাউন্সিলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় নীতিমালা, নগর পরিকল্পনা, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, আবাসন এবং নাগরিক সেবার মতো বিভিন্ন বিষয়ে কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। ফলে এসব নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ স্থানীয় পর্যায়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা, চাহিদা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও থাকে। মন্টেবেলো, পেরিস ও চিনো—তিন শহরের নির্বাচনে এই তিন প্রার্থীর অংশগ্রহণ বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী ৩ নভেম্বর ভোটাররা তাঁদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে তাঁদের ফলাফল কী হয়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোট গণনা ও সরকারি ফলাফল ঘোষণার জন্য।
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর জন্য নতুন নিয়মের কারণে সুবিধা ধরে রাখা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মেডিকেইড স্বাস্থ্যসেবা এবং এসএনএপি খাদ্যসহায়তা কর্মসূচিতে নতুন যোগ্যতা যাচাই, কাজসংক্রান্ত শর্ত ও অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা কিছু মানুষের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেরিল্যান্ডে বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা এসব পরিবর্তনের প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন। রাজ্যটির হিসাবে, প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার বাসিন্দা মেডিকেইড ও সংশ্লিষ্ট নিয়মের পরিবর্তনে প্রভাবিত হতে পারেন; তাঁদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৮০ হাজার এসএনএপি সুবিধাভোগীকে খাদ্যসহায়তা চালু রাখতে কাজের সময়সংক্রান্ত তথ্য দিতে হতে পারে। এগুলো সম্ভাব্য প্রভাবের হিসাব—সবাই যে সহায়তা হারাবেন, তা নয়। এই পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো নিজেদের যোগ্যতা, নবায়নের সময়সীমা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া। ডাকযোগে বা অনলাইনে আসা সরকারি নোটিশ উপেক্ষা না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর দেওয়া প্রয়োজন। ঠিকানা, আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা বা কর্মসংস্থানের তথ্য বদলালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানোও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যাঁরা সহায়তা পান, তাঁদের করণীয় ১.মেডিকেইড বা এসএনএপি-সংক্রান্ত সরকারি চিঠি ও অনলাইন অ্যাকাউন্ট নিয়মিত পরীক্ষা করুন। ২.নতুন কোনো নথি বা কাজের তথ্য জমা দিতে বলা হলে শেষ তারিখ জেনে নিন। ৩.নিয়ম বুঝতে অসুবিধা হলে রাজ্যের সরকারি সুবিধা দপ্তর বা অনুমোদিত সহায়তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ৪.কোনো নোটিশ বুঝতে না পারলে সুবিধা বন্ধ হয়েছে ধরে না নিয়ে আগে নিজের মামলার অবস্থা যাচাই করুন। ৫.ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ চেয়ে পাঠানো সন্দেহজনক বার্তার বিষয়ে সতর্ক থাকুন; সরকারি সংস্থার পরিচয় যাচাই ছাড়া তথ্য দেবেন না।
ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির বাজারে এলন মাস্ককে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উড়ন্ত গাড়ির দুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আলেফ অ্যারোনটিক্স। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রোমাঞ্চকর ভিডিওতে দেখা যায়, টেসলা রোডস্টারের ঠিক ওপর দিয়ে সফলভাবে উড়ে যাচ্ছে আলেফের একটি গাড়ি। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর টেসলাকে উড়ন্ত গাড়ির বাজারে স্বাগত জানিয়ে আলেফের প্রধান নির্বাহী জিম দুখভনি কিছুটা রসিকতা করেই বলেন, গত এগারো বছর ধরে এই প্রতিযোগিতায় তারা একাই রাজত্ব করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল সাময়িকী ‘ইলেকট্রেক’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি আলেফ তাদের এক হাজারতম সফল টেস্ট ফ্লাইট সম্পন্ন করেছে, আর ঐতিহাসিক সেই উড্ডয়নের মুহূর্তেই নিচে রাখা ছিল একটি টেসলা রোডস্টার। উড়ন্ত গাড়ির বাজারে টেসলার মতো আন্তর্জাতিক জায়ান্টের আগমনকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন জিম দুখভনি। তাঁর মতে, নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী এলে উড়ন্ত গাড়ির জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি বাজার তৈরি হবে, এভিয়েশন খাত নিয়ে থাকা প্রচলিত মিথগুলো ভেঙে যাবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের নজর এই উদীয়মান প্রযুক্তির দিকে আরও বেশি আকৃষ্ট হবে। বাহ্যিক পার্থক্য থাকলেও টেসলা রোডস্টার এবং আলেফের গাড়ির মধ্যে বেশ কিছু মৌলিক মিল রয়েছে। দুটি বাহনই পুরোপুরি বিদ্যুৎচালিত এবং অল-হুইল ড্রাইভ ব্যবস্থাসম্পন্ন। মজার বিষয় হলো, উভয় প্রতিষ্ঠানেরই শুরুর দিকের অন্যতম ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট বা বিনিয়োগকারী হলেন একই ব্যক্তি—টিম ড্রেপার। তবে প্রকৌশল ও গঠনশৈলীর দিক থেকে দুটি বাহন সম্পূর্ণ আলাদা। আলেফ তাদের গাড়িতে ব্যবহার করছে ডিস্ট্রিবিউটেড ইলেকট্রিক প্রপালশন বা ডিইপি প্রযুক্তি, অন্যদিকে টেসলা রোডস্টারে যুক্ত করা হচ্ছে বিশেষ ধরনের থ্রাস্টার। আলেফের পুরো বডিটি এরোডাইনামিক ডানার মতো কাজ করে এবং ভেতরে রয়েছে একটি স্বয়ংক্রিয় ঘূর্ণায়মান ক্যাবিন। আকাশে ওঠার সময় চাপযুক্ত গ্যাসের বদলে এটি পারিপার্শ্বিক বাতাস ব্যবহার করে। এছাড়া চরম জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্য পুরো গাড়িটির সঙ্গে যুক্ত থাকছে একটি বিশেষ ব্যালিস্টিক প্যারাসুট। সাধারণ এভিটিওএল (eVTOL) বা এয়ার ট্যাক্সির সঙ্গে আলেফের মূল তফাৎ হলো, এটি কোনো জটিল রানওয়ে ছাড়াই শহরের সাধারণ রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে চলাচলের পাশাপাশি পার্কিং স্পেসেও পার্ক করা যাবে। প্রাথমিক ধারণা প্রকাশের দীর্ঘ বছর পর ২০২২ সালে আলেফ তাদের পূর্ণাঙ্গ ‘মডেল এ’ প্রোটোটাইপ উন্মোচন করে। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্যমতে, এক চার্জে গাড়িটি রাস্তায় ২২০ মাইল এবং শূন্যে ১১০ মাইল পর্যন্ত পাড়ি দিতে সক্ষম। এরই মধ্যে ২০২৩ সালে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি (এফএএ) থেকে বিশেষ উড্ডয়নযোগ্যতার অনুমোদন পেয়ে ইতিহাস গড়েছে আলেফ, যা মার্কিন সরকারের স্বীকৃতি পাওয়া বিশ্বের প্রথম উড়ন্ত গাড়ি। অন্যদিকে, টেসলা রোডস্টারকে আকাশে ওড়াতে হলে এখনো এফএএ-এর দীর্ঘ আইনি ও কারিগরি অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যা সম্পন্ন হতে আরও কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর সংগঠন অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার (আসাল)—এর ১৯তম বার্ষিক সম্মেলন আজ শনিবার, ১৭ অক্টোবর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত পোস্টার অনুযায়ী, সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নিউইয়র্কের ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল ৩৭ মেইন হলে এ সম্মেলনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রবেশ বিনামূল্যে হলেও অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করতে হবে। সম্মেলনের প্রচারপত্রে ‘আমাদের ভোট, আমাদের কণ্ঠ, আমাদের শক্তি—আমরাই পরিবর্তন আনব’ স্লোগান তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীকে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পোস্টারে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের পতাকা স্থান পেয়েছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর ঐক্য, অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইব্রাহিম বারভুইয়া। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন ফারুক হোসেন ও গোলাম ফারুক শাহিন। সম্মেলন আয়োজনে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকার অধ্যায়ের প্রতিনিধিরাও যুক্ত রয়েছেন। আয়োজক কমিটির তালিকায় কুইন্স অধ্যায়ের কাজী ফরিদ আহমেদ ও ড. মারিয়াম সিং, ব্রঙ্কস অধ্যায়ের এমডি আলাউদ্দিন ও মাশুদ রহমান এবং ব্রুকলিন অধ্যায়ের নাজমুল হাসান মানিক ও মাসবাহ উদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্ট্যাটেন আইল্যান্ড অধ্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে এমডি আলম হোসেন ও বাশেদ ভূঁইয়া এবং জ্যাকসন হাইটস অধ্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে সোমনাথ চিমিরে ও ছিরিং রাপকে লামার নাম রয়েছে। এ ছাড়া হেলথকেয়ার প্রফেশনাল অধ্যায়ে ড. মোহাম্মদ ইসলাম ও ড. চৌধুরী শাহরিয়ার, ওজোন পার্ক অধ্যায়ে মাশুদ রানা টোপন ও এমডি সন্তনু বারুয়া, নিউ জার্সি অধ্যায়ে কেতন পারমার এবং লং আইল্যান্ড অধ্যায়ে মেজবা কাজী নাসেরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক ক্যাপিটাল রিজিয়ন অধ্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন মিজানুর রহমান ও রাশতাব মাহমুদ। জাতীয় পর্যায়ের অংশে মোহাম্মদ করিম চৌধুরী, মিসবাহ উদ্দিন ও হরজিৎ সিংয়ের নামও পোস্টারে রয়েছে। আসালের বিভিন্ন অধ্যায়ে যুক্ত হওয়ার জন্য নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, জর্জিয়া, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, লস অ্যাঞ্জেলেস, হিউস্টন, নিউ হ্যাম্পশায়ার, কানসাস ও ওয়াশিংটন ডিসির বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পোস্টারে সম্মেলনের স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল ৩৭ মেইন হল, ১২৫ বার্কলে স্ট্রিট, নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক ১০০০৭। আগ্রহীরা সংগঠনটির ওয়েবসাইট www.asaal.org, ইমেইল asaalNational@asaal.org অথবা +১ (৯১৭) ২০৯-৯৭৭২ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। উল্লেখ্য, সম্মেলনের সময়সূচি, স্থান ও আয়োজক কমিটির তথ্য সংগঠনটির প্রকাশিত পোস্টারের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে কারা উপস্থিত হয়েছেন এবং কী কী সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়েছে, তা জানতে অনুষ্ঠান-পরবর্তী তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গ্রেপ্তারের এক দিন পর শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) কনট প্লেসের উদ্দেশে যাওয়ার পথে তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে জামিন দেন। জামিনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, আগামী এক বছর তাঁর পক্ষ থেকে শান্তি ভঙ্গের কোনো ঘটনা ঘটানো যাবে না। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার অভিজিৎ দিপকেকে দিল্লির মন্দির মার্গে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাঁকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে জামিনের অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আদেশ প্রকাশের পর জানা যাবে। এর আগে শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় দিল্লিতে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ নামে একটি মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন অভিজিৎ দিপকে। কর্মসূচি শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে দিল্লি পুলিশ তাঁকে একটি নোটিশ পাঠিয়ে মিছিলে অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পুলিশের ওই নোটিশে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে জারি করা নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়। এই ধারায় জনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সমাবেশ বা কার্যক্রমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষমতা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। তবে পুলিশের নির্দেশনার পরও শুক্রবার সন্ধ্যায় কনট প্লেসের উদ্দেশে রওনা হন দিপকে। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। একই সময়ে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) কর্মী নেহা বোরাকেও মান্ডি হাউসের কাছে আটক করা হয়। পরে এআইএসএ ও সিজেপি দাবি করে, আটক দুই ব্যক্তির অবস্থান সম্পর্কে তারা কোনো তথ্য পাচ্ছে না। পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর শান্তি বজায় রাখার যে মুচলেকা দিয়েছিলেন অভিজিৎ দিপকে, সেটি ভঙ্গের অভিযোগে শনিবার সকালে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে আগামী এক বছর শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়। এদিকে অভিজিৎ দিপকেকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হলেও সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা এখনো হেফাজতে রয়েছেন। বুধবার বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠান। এর আগের দিন সিজেপির আরও কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে তাঁরা দিল্লির যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করেছিলেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যন্তর মন্তরকে এর আগে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ওই এলাকায় প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার আইনজীবী জানিয়েছেন, দিল্লি পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ এনেছে। পুলিশের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তরা এর আগে দিল্লি ক্যান্ট থানা এলাকায় বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে শান্তি ভঙ্গ না করার যে মুচলেকা দিয়েছিলেন, সেটিও লঙ্ঘন করেছেন। অন্যদিকে সিজেপির আরেক নেতা অজিঙ্কা শিন্ডেকে ব্যক্তিগত মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অভিজিৎ দিপকের জামিনের আদেশে এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্ত থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে, এমন তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। একইভাবে হেফাজতে থাকা সিজেপির অন্য দুই নেতার পরবর্তী শুনানি বা মুক্তির বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্তের তথ্যও জানানো হয়নি। সূত্র: পিটিআই
শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার নতুন ছক কষা হচ্ছে বলে তাকে সতর্ক করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। গত বছর একজন সাবেক ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার নির্দেশে তাকে হত্যার যে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছিল, তার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও নতুন হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে পান্নুন জানান, এফবিআই এজেন্টরা ওই দিন সকালে তার নিউইয়র্কের বাসভবনে এসে তাকে এই ‘আসন্ন হুমকি’ সম্পর্কে সতর্ক করে গেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত পান্নুন জানিয়েছেন, আগামী ১৮ অক্টোবর কানাডার এডমন্টনে তার সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিস’ একটি প্রতীকী গণভোটের আয়োজন করতে যাচ্ছে। ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশকে স্বাধীন ‘খালিস্তান’ হিসেবে ঘোষণার দাবিতে আয়োজিত এই গণভোটে শিখ সম্প্রদায়কে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এফবিআই এজেন্টরা পান্নুনকে জানিয়েছেন, কানাডায় তার এই আসন্ন সফরের সঙ্গে নতুন হুমকির সরাসরি যোগসূত্র থাকতে পারে। তদন্তের স্বার্থে তারা বিস্তারিত কোনো তথ্য না জানালেও পান্নুন এক বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেন, তিনি আরও একটি হত্যাচেষ্টা থেকে বাঁচতে পারবেন কি না, সেটি মূল বিষয় নয়; বরং শিখদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এমন হুমকির মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দ্বৈত নাগরিক পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ম্যানহাটনের ফেডারেল প্রসিকিউটররা এর আগে নিখিল গুপ্তা এবং সাবেক ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশ যাদবের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছিলেন। ভাড়াটে খুনি নিয়োগ ও অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করা নিখিল গুপ্তার আগামী নভেম্বরে সাজা ঘোষণার কথা রয়েছে এবং সেখানে পান্নুনের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। পান্নুনকে হত্যার ওই একই সময়ে, ২০২৩ সালের জুনে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় আরেক বিশিষ্ট শিখ নেতা ও পান্নুনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হরদীপ সিং নিজ্জরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। কানাডা সরকার সে সময় দাবি করেছিল, নিজ্জর হত্যার পেছনে ভারত সরকারের এজেন্টদের হাত রয়েছে, যা কানাডার সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন। যদিও ভারত সরকার নিজ্জর হত্যা এবং পান্নুনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। চলতি বছর মার্কিন বা কানাডিয়ান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে পান্নুনের এ ধরনের সতর্কবার্তা পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরেও এফবিআই এবং রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ তাকে আলাদাভাবে সতর্ক করেছিল। পান্নুন জানান, গত জুলাই মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল প্রসিকিউটররা ‘বিষ্ণোই’ নামের একটি ভারতীয় অপরাধী চক্রের শীর্ষ নেতাসহ আটজনের বিরুদ্ধে নিজ্জর হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনার পরই মূলত এই সতর্কবার্তাগুলোর মাত্রা বেড়ে যায়। ২০১৫ সালে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া সত্ত্বেও কারাবন্দী অবস্থাতেই এই বিষ্ণোই বিশ্বজুড়ে তার অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করে আসছে বলে মার্কিন ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল।
শীত মৌসুম সামনে রেখে নিউইয়র্ক শহরের যোগ্য প্রবীণ বাড়ির মালিকদের জন্য ঘর গরম রাখার যন্ত্র মেরামত অথবা পরিবর্তনে আর্থিক সহায়তার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত ডকুমেন্টেড নিউইয়র্কের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির আওতায় যোগ্য আবেদনকারীরা হিটিং ব্যবস্থা মেরামত বা পরিবর্তনের জন্য সর্বোচ্চ আট হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন। নিউইয়র্কের শীতকালে বাড়ির তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর হিটিং ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পুরোনো যন্ত্র নষ্ট হয়ে গেলে তা মেরামত বা নতুন যন্ত্র বসানোর খরচ অনেক প্রবীণ মানুষের জন্য বড় আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা সীমিত আয় নিয়ে জীবনযাপন করেন, তাঁদের জন্য এ ধরনের সহায়তা খোঁজ নেওয়ার মতো একটি সুযোগ হতে পারে। তবে আট হাজার ডলার প্রত্যেক আবেদনকারী পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করতে পারে আবেদনকারীর যোগ্যতা, বাড়ির অবস্থা, প্রয়োজনীয় মেরামত এবং কর্মসূচির নিয়মের ওপর। আবেদন করার আগে কর্মসূচিটি বর্তমানে চালু আছে কি না, নতুন আবেদন নেওয়া হচ্ছে কি না এবং অর্থায়ন অবশিষ্ট আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। নিউইয়র্কে বসবাসকারী প্রবীণ বাড়ির মালিকদের উচিত সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে আয়সীমা, বাড়ির মালিকানার প্রমাণ, পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জেনে নেওয়া। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সহায়তা নিশ্চিত করার নামে আগাম টাকা চাইলে সরকারি অনুমোদন যাচাই না করে অর্থ দেওয়া উচিত নয়। এই সহায়তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে মূল প্রতিবেদনের তথ্যের পাশাপাশি নিউইয়র্ক শহরের সরকারি ওয়েবসাইটে কর্মসূচির বর্তমান নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন। যোগ্যতা পূরণ করলেও আবেদন অনুমোদনের আগে সহায়তা নিশ্চিত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
মেক্সিকোতে ছুটি কাটাতে গিয়ে ডাকাতদের হামলায় প্রাণ হারানো যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার তিন সার্ফারের হত্যা মামলায় তিন মেক্সিকানকে ১৫৮ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার মেক্সিকান বিচারক রাউল হার্নান্দেজ এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন—জেসুস জেরার্দো, ইরিনিও ফ্রান্সিসকো এবং অ্যাঞ্জেল জেসুস। ২০২৪ সালের এপ্রিলে মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়ায় সার্ফিং ট্রিপে গিয়ে মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন অস্ট্রেলিয়ার দুই ভাই জেক রবিনসন (৩০) ও ক্যালাম রবিনসন (৩৩) এবং তাঁদের মার্কিন বন্ধু কার্টার রোড (৩০)। প্রসিকিউটর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিল এনসেনাডা শহরের কাছে একটি নির্জন সৈকতে ক্যাম্পিং করার সময় এই তিন বন্ধু হামলার শিকার হন। মূলত তাঁদের পিকআপ ট্রাকের টায়ার ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ চুরির উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। হত্যার পর প্রমাণ নষ্ট করতে আসামিরা নিহতদের তাঁবু ও ট্রাক পুড়িয়ে দেয় এবং প্রায় চার মাইল দূরের একটি দুর্গম পাহাড়ি কূপে তাঁদের মৃতদেহ লুকিয়ে রাখে। ঘটনার কয়েকদিন পর কাঠ দিয়ে ঢাকা ওই লুকানো কূপ থেকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় জেসুস জেরার্দোর সাবেক প্রেমিকা আরি জিসেল সিলভাকেও গত নভেম্বরে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যিনি মূলত চুরি করতে আসামিদের প্ররোচিত করেছিলেন। আদালতে বিচারক জানান, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। রায়ে তিন আসামির প্রত্যেককে ১৫৮ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, প্রসিকিউটরদের দাবি করা এক লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। ক্ষতিপূরণের বিষয়টি দেওয়ানি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুরাহা করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। রায়ের পর নিহত কার্টারের মা পেজ বলেন, সন্তানের মৃত্যুর কোনো প্রকৃত ন্যায়বিচার হতে পারে না, তবে এই অপরাধীরা আর কারও ক্ষতি করতে পারবে না ভেবে তাঁরা কিছুটা স্বস্তিবোধ করছেন। নিহত রবিনসন ভাইদের মা-বাবা এই দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়া থেকে মেক্সিকোতে এসেছিলেন। আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়ে তাঁরা জানান, জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে তাঁদের সন্তানদের ওপর চরম নিষ্ঠুরতা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে কার্টারের বাগদত্তা নাটালি ওয়েইর্টজও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন, যাঁদের আর কয়েকমাস পরই বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল। মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলটি মাদক চোরাকারবার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের জন্য পরিচিত হলেও, সার্ফিংয়ের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত এনসেনাডায় পর্যটকদের ওপর এমন নির্মম হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শনিবার, ১৭ অক্টোবর, মহাসপ্তমী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভক্তদের সমাগম, পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি দেখা যায়। পূজার আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে নবপত্রিকা স্নান ও পূজার আয়োজন করা হয়। ঢাকের শব্দ, শঙ্খধ্বনি এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। ভক্তরা দেবী দুর্গার কাছে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণ কামনা করেন। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে বলে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মণ্ডপের সংখ্যায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। এবারের পূজার সূচিতে মহাসপ্তমীর তিথি দুই দিনে বিস্তৃত হওয়ায় ১৭ ও ১৮ অক্টোবর—দুই দিনই সপ্তমীর পূজার আয়োজন হচ্ছে। এরপর ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে প্রধান উৎসবের সমাপ্তি হবে। উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা কমিটিগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তবর্তী ও উপকূলীয় এলাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলেও নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলাদেশের বহু অঞ্চলে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলারও উপলক্ষ। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে মন্দির পরিদর্শন, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উৎসবটি উদ্যাপন করছেন মানুষ। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে চিকিৎসক ও রোগীর অনুমতি ছাড়া এক বৃদ্ধের পায়ের পাতা কেটে ফেলার ঘটনায় অভিযুক্ত নার্স মেরি কে. ব্রাউন কারাদণ্ড এড়িয়েছেন। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কম গুরুতর অভিযোগে ‘নো কনটেস্ট’ আবেদন করার পর তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুটি গুরুতর অভিযোগ খারিজ হয়। পিপল সাময়িকীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাউন রোগীর প্রতি অবহেলাজনিত নির্যাতনের অভিযোগে নো কনটেস্ট আবেদন করেন। এর অর্থ, তিনি আদালতে অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়নি এবং আদালতের খরচ বাবদ ৪৪৩ ডলার দিতে বলা হয়। ফলে ঘটনাটিকে এখনো কেবল গুরুতর অভিযোগে বিচারাধীন মামলা হিসেবে উপস্থাপন করা হালনাগাদ তথ্যের সঙ্গে মেলে না। ঘটনাটি ঘটে ২০২২ সালের ২৭ মে, উইসকনসিনের স্প্রিং ভ্যালির একটি নার্সিং হোমে। আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৬২ বছর বয়সী রোগীর পায়ের পাতা তীব্র ঠান্ডাজনিত ক্ষত বা ফ্রস্টবাইটে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেটি সামান্য টিস্যু ও টেন্ডনের মাধ্যমে পায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ব্যান্ডেজ বদলানোর সময় ব্রাউন গজ কাটার কাঁচি দিয়ে পায়ের পাতাটি বিচ্ছিন্ন করেন। এ জন্য চিকিৎসকের নির্দেশ বা রোগীর সম্মতি ছিল না। তদন্তকারীদের কাছে ব্রাউন বলেছিলেন, রোগীর স্বস্তির কথা ভেবে তিনি কাজটি করেছিলেন। বিচ্ছিন্ন পায়ের পাতা সংরক্ষণ করে প্রদর্শনের কথাও অভিযোগপত্রে এসেছে। এক সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রাউন পরিবারের ট্যাক্সিডার্মির দোকানে সেটি রাখার এবং বুট পরার বিষয়ে সতর্কতামূলক লেখা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। ট্যাক্সিডার্মি হলো মৃত প্রাণীর দেহ সংরক্ষণ করে প্রদর্শনের কাজ। তবে পায়ের পাতাটি বাস্তবে দোকানে প্রদর্শন করা হয়েছিল, এমন তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। রোগী পরে মারা যান। তবে পায়ের পাতা বিচ্ছিন্ন করার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত অভিযোগপত্রে ছিল না বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি নার্সিং পেশার নিয়ন্ত্রক সংস্থাও বিষয়টি তদন্ত করে। উইসকনসিন বোর্ড অব নার্সিংয়ের ২০২৩ সালের অন্তর্বর্তী আদেশে চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া রোগীর পায়ের পাতা বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ নথিভুক্ত রয়েছে। এটি নার্স হিসেবে তাঁর অনুমোদিত কাজের সীমা অতিক্রমের অভিযোগ হিসেবে তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়।
আমেরিকায় চার সদস্যের পরিবারের সংসার চালাতে মাসে কত আয় প্রয়োজন, তার একক উত্তর নেই। নিউইয়র্কের কুইন্সে যে বাজেট প্রয়োজন, মিশিগানের ডেট্রয়েটে তা ভিন্ন। আবার একই এলাকায় স্বামী-স্ত্রী দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারের ব্যয় যোগ হয়ে সংসারের প্রয়োজনীয় আয়ও বাড়তে পারে। এমআইটির লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটরের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই শিশুর পরিবারে একজন উপার্জনকারী থাকলে আলোচ্য পাঁচ এলাকায় ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজনীয় আয় প্রায় ৫ হাজার ৯৯০ থেকে ৭ হাজার ৯৬৫ ডলার। দুজনই কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ সেই হিসাব প্রায় ৭ হাজার ৬৯২ থেকে ১০ হাজার ৬৩৪ ডলার। এগুলো পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর মডেলভিত্তিক হিসাব। আরামদায়ক মধ্যবিত্ত জীবন বা নির্দিষ্ট পরিমাণ সঞ্চয়ের নিশ্চয়তা নয়। তুলনায় নিউইয়র্কের জন্য কুইন্স, ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাকের জন্য ওয়েইন কাউন্টি, ডালাসের জন্য ডালাস কাউন্টি, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি এবং আটলান্টার জন্য ফুলটন কাউন্টি নেওয়া হয়েছে। পুরো শহর বা মহানগরের সব এলাকার ব্যয় এক নয়। তথ্যগুলো ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হালনাগাদ করা। নিউইয়র্কের কুইন্সে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই শিশুর পরিবারে একজন কাজ করলে ট্যাক্সের পর বছরে প্রয়োজন প্রায় ৯৫ হাজার ৫৭৮ ডলার। বার্ষিক অঙ্ককে ১২ দিয়ে ভাগ করলে মাসে প্রায় ৭ হাজার ৯৬৫ ডলার হয়। এই প্রয়োজন মেটাতে ট্যাক্সের আগে পরিবারের মাসিক আয় দরকার প্রায় ৯ হাজার ১৫৯ ডলার। একই পরিবারে দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার ৬৩৪ ডলার। ট্যাক্সের আগে দুজনের সম্মিলিত আয় প্রয়োজন প্রায় ১৩ হাজার ৩৭ ডলার। অর্থাৎ মাসে সাত হাজার ডলার আয় হলেই নিউইয়র্কে চারজনের পরিবারের খরচ ও সঞ্চয় নিশ্চিত হবে, এমন সিদ্ধান্ত এই হিসাব সমর্থন করে না। মিশিগানের ওয়েইন কাউন্টিতে একজন উপার্জনকারীসহ একই ধরনের পরিবারের ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন প্রায় ৫ হাজার ৯৯০ ডলার। ট্যাক্সের আগে প্রয়োজনীয় আয় প্রায় ৬ হাজার ৬৫৭ ডলার। দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ প্রয়োজন হয় ট্যাক্সের পর প্রায় ৭ হাজার ৬৯২ ডলার এবং ট্যাক্সের আগে প্রায় ৮ হাজার ৮৯২ ডলার। টেক্সাসের ডালাস কাউন্টিতে একজন উপার্জনকারী থাকলে ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন প্রায় ৬ হাজার ২৫১ ডলার। ট্যাক্সের আগে আয় প্রয়োজন প্রায় ৬ হাজার ৭৩৯ ডলার। দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ ট্যাক্সের পর প্রয়োজন প্রায় ৮ হাজার ১৯ ডলার এবং ট্যাক্সের আগে প্রায় ৮ হাজার ৯৩৮ ডলার। হিউস্টনের ব্যয়কে ডালাসের একই অঙ্ক ধরে নেওয়া যথাযথ নয়। টেক্সাসে ব্যক্তিগত স্টেট ইনকাম ট্যাক্স নেই। তবে এর অর্থ আয়ের পুরোটা হাতে থাকা নয়। প্রযোজ্য ফেডারেল ট্যাক্সসহ অন্যান্য কর্তন থাকে। তাই চাকরির বেতনের অঙ্ক ও হাতে পাওয়া অর্থ আলাদা করে হিসাব করতে হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে একজন উপার্জনকারীসহ চার সদস্যের পরিবারের ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার ৭৪৬ ডলার। ট্যাক্সের আগে প্রয়োজনীয় আয় প্রায় ৮ হাজার ৬৭২ ডলার। দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ ট্যাক্সের পর প্রয়োজন প্রায় ৯ হাজার ৯৬৫ ডলার এবং ট্যাক্সের আগে প্রায় ১১ হাজার ৭২৮ ডলার। আটলান্টার ফুলটন কাউন্টিতে একই পরিবারে একজন কাজ করলে ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন প্রায় ৬ হাজার ৫৯৯ ডলার। ট্যাক্সের আগে প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার ৪৫৯ ডলার। দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ ট্যাক্সের পর প্রয়োজন প্রায় ৮ হাজার ৪২৬ ডলার এবং ট্যাক্সের আগে প্রায় ৯ হাজার ৮৯০ ডলার। এই মডেলে একজন প্রাপ্তবয়স্ক কাজ না করলে তাঁর পরিবারের জন্য আলাদা চাইল্ড কেয়ার ব্যয় ধরা হয়নি। দুজন কাজ করলে তা যুক্ত হয়েছে। বাস্তবে শিশুর বয়স, স্কুলের সময়সূচি ও আত্মীয়ের সহায়তা অনুযায়ী এই খরচ বদলাতে পারে। আবাসন, খাবার, চিকিৎসা, যাতায়াত, ইন্টারনেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ও হিসাবের অংশ। তাই হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকলেই চিকিৎসার খরচ শূন্য ধরে নেওয়া যাবে না। আবার কারও কম ভাড়ার বাসা বা পরিবারের সহায়তা থাকলে তাঁর প্রকৃত ব্যয় মডেলের চেয়ে কমও হতে পারে। এই অঙ্কগুলো বাজেট তৈরির ভিত্তি, প্রত্যেক পরিবারের জন্য নির্ধারিত খরচ নয়।
পরিবারের এক সদস্যের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বদলে দিয়েছিল তাঁর জীবনের লক্ষ্য। সেই কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এখন যুক্তরাষ্ট্রে হৃদরোগ গবেষণায় কাজ করছেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন (ইউটিএ)-এর তৃতীয় বর্ষের (জুনিয়র) ভারতীয় শিক্ষার্থী রুষিকা মুরাদি। সম্প্রতি লয়োলা ইউনিভার্সিটি শিকাগোর অত্যন্ত সম্মানজনক ‘কার্ডিও-সার্ফ’ (Cardio-SURPh) গ্রীষ্মকালীন গবেষণা কর্মসূচির জন্য সারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনি একজন হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি অভিজ্ঞ গবেষক ও পেশাদারদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কার্ডিওভাসকুলার বা হৃদরোগ গবেষণায় হাতেকলমে কাজ করার অমূল্য সুযোগ পেয়েছেন। ভারতের নান্দেড় শহরে বেড়ে ওঠা রুষিকার হৃদরোগ বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল ছোটবেলাতেই। পরবর্তীতে পরিবারের এক সদস্যের হৃদরোগে ভোগার অভিজ্ঞতা তাঁকে এই জটিল সমস্যা সমাধানের অংশ হতে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তোলে। রুষিকা জানান, ঠিক সেই মুহূর্তেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে এটি এমন একটি সমস্যা, যার সমাধানে তিনি কাজ করতে চান। ইউটিএ-তে ভর্তি হওয়ার পর তিনি শ্রেণিকক্ষের বাইরের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ও ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামে যুক্ত হন। লয়োলার গ্রীষ্মকালীন কর্মসূচিতে তিনি হার্ট ফেইলিউরের বিভিন্ন গবেষণা মডেল নিয়ে কাজ করে নিজের প্রায়োগিক দক্ষতা আরও শাণিত করেছেন। গবেষণার এই যাত্রা রুষিকাকে নিয়ে গেছে বোস্টনের বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে তিনি নিজের গবেষণার অভিজ্ঞতার ওপর একটি ‘লাইটনিং টক’ বা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এর পরপরই তিনি আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এএইচএ) বেসিক কার্ডিওভাসকুলার সায়েন্সেস সায়েন্টিফিক সেশনসে অংশ নিয়ে নিজের গবেষণাপত্রটি পুনরায় উপস্থাপন করার দারুণ এক সুযোগ পান। হার্ভার্ডের ওই সফর এবং বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে অংশগ্রহণকে নিজের গ্রীষ্মকালীন অভিজ্ঞতার সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখেন এই অদম্য তরুণী। নিজের লিংকডইন প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ইউটিএ-তে জীববিজ্ঞানে স্নাতক (বিএসসি) করছেন রুষিকা মুরাদি। এর আগে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ভারতের ‘ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম’-এর অধীনে স্বাস্থ্য সচেতনতা ক্যাম্প, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও শিক্ষামূলক কর্মশালার মতো বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন তিনি। আগামী ২০২৮ সালের মে মাসে স্নাতক সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়া রুষিকা ভবিষ্যতে কার্ডিওভাসকুলার গবেষণায় আরও বেশি সময় দিতে চান। নিজের এই সফল যাত্রায় সার্বিক সহায়তার জন্য ইউটিএ কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষ করে অধ্যাপক লরা মাইডলার্জের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।