সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
আমেরিকায় চার সদস্যের পরিবারের সংসার চালাতে কত আয় প্রয়োজন, তা স্থান ও জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় পরিবার নিয়ে থাকতে কত আয় দরকার, জানুন নিউইয়র্ক সহ পাঁচ শহরের হিসাব

আমেরিকায় চার সদস্যের পরিবারের সংসার চালাতে মাসে কত আয় প্রয়োজন, তার একক উত্তর নেই। নিউইয়র্কের কুইন্সে যে বাজেট প্রয়োজন, মিশিগানের ডেট্রয়েটে তা ভিন্ন। আবার একই এলাকায় স্বামী-স্ত্রী দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারের ব্যয় যোগ হয়ে সংসারের প্রয়োজনীয় আয়ও বাড়তে পারে।   এমআইটির লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটরের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই শিশুর পরিবারে একজন উপার্জনকারী থাকলে আলোচ্য পাঁচ এলাকায় ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজনীয় আয় প্রায় ৫ হাজার ৯৯০ থেকে ৭ হাজার ৯৬৫ ডলার। দুজনই কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ সেই হিসাব প্রায় ৭ হাজার ৬৯২ থেকে ১০ হাজার ৬৩৪ ডলার।   এগুলো পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর মডেলভিত্তিক হিসাব। আরামদায়ক মধ্যবিত্ত জীবন বা নির্দিষ্ট পরিমাণ সঞ্চয়ের নিশ্চয়তা নয়। তুলনায় নিউইয়র্কের জন্য কুইন্স, ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাকের জন্য ওয়েইন কাউন্টি, ডালাসের জন্য ডালাস কাউন্টি, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি এবং আটলান্টার জন্য ফুলটন কাউন্টি নেওয়া হয়েছে। পুরো শহর বা মহানগরের সব এলাকার ব্যয় এক নয়। তথ্যগুলো ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হালনাগাদ করা।    নিউইয়র্কের কুইন্সে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই শিশুর পরিবারে একজন কাজ করলে ট্যাক্সের পর বছরে প্রয়োজন প্রায় ৯৫ হাজার ৫৭৮ ডলার। বার্ষিক অঙ্ককে ১২ দিয়ে ভাগ করলে মাসে প্রায় ৭ হাজার ৯৬৫ ডলার হয়। এই প্রয়োজন মেটাতে ট্যাক্সের আগে পরিবারের মাসিক আয় দরকার প্রায় ৯ হাজার ১৫৯ ডলার।   একই পরিবারে দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার ৬৩৪ ডলার। ট্যাক্সের আগে দুজনের সম্মিলিত আয় প্রয়োজন প্রায় ১৩ হাজার ৩৭ ডলার। অর্থাৎ মাসে সাত হাজার ডলার আয় হলেই নিউইয়র্কে চারজনের পরিবারের খরচ ও সঞ্চয় নিশ্চিত হবে, এমন সিদ্ধান্ত এই হিসাব সমর্থন করে না।    মিশিগানের ওয়েইন কাউন্টিতে একজন উপার্জনকারীসহ একই ধরনের পরিবারের ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন প্রায় ৫ হাজার ৯৯০ ডলার। ট্যাক্সের আগে প্রয়োজনীয় আয় প্রায় ৬ হাজার ৬৫৭ ডলার। দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ প্রয়োজন হয় ট্যাক্সের পর প্রায় ৭ হাজার ৬৯২ ডলার এবং ট্যাক্সের আগে প্রায় ৮ হাজার ৮৯২ ডলার।    টেক্সাসের ডালাস কাউন্টিতে একজন উপার্জনকারী থাকলে ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন প্রায় ৬ হাজার ২৫১ ডলার। ট্যাক্সের আগে আয় প্রয়োজন প্রায় ৬ হাজার ৭৩৯ ডলার। দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ ট্যাক্সের পর প্রয়োজন প্রায় ৮ হাজার ১৯ ডলার এবং ট্যাক্সের আগে প্রায় ৮ হাজার ৯৩৮ ডলার। হিউস্টনের ব্যয়কে ডালাসের একই অঙ্ক ধরে নেওয়া যথাযথ নয়।    টেক্সাসে ব্যক্তিগত স্টেট ইনকাম ট্যাক্স নেই। তবে এর অর্থ আয়ের পুরোটা হাতে থাকা নয়। প্রযোজ্য ফেডারেল ট্যাক্সসহ অন্যান্য কর্তন থাকে। তাই চাকরির বেতনের অঙ্ক ও হাতে পাওয়া অর্থ আলাদা করে হিসাব করতে হয়।    লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে একজন উপার্জনকারীসহ চার সদস্যের পরিবারের ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার ৭৪৬ ডলার। ট্যাক্সের আগে প্রয়োজনীয় আয় প্রায় ৮ হাজার ৬৭২ ডলার। দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ ট্যাক্সের পর প্রয়োজন প্রায় ৯ হাজার ৯৬৫ ডলার এবং ট্যাক্সের আগে প্রায় ১১ হাজার ৭২৮ ডলার।    আটলান্টার ফুলটন কাউন্টিতে একই পরিবারে একজন কাজ করলে ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন প্রায় ৬ হাজার ৫৯৯ ডলার। ট্যাক্সের আগে প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার ৪৫৯ ডলার। দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ ট্যাক্সের পর প্রয়োজন প্রায় ৮ হাজার ৪২৬ ডলার এবং ট্যাক্সের আগে প্রায় ৯ হাজার ৮৯০ ডলার।    এই মডেলে একজন প্রাপ্তবয়স্ক কাজ না করলে তাঁর পরিবারের জন্য আলাদা চাইল্ড কেয়ার ব্যয় ধরা হয়নি। দুজন কাজ করলে তা যুক্ত হয়েছে। বাস্তবে শিশুর বয়স, স্কুলের সময়সূচি ও আত্মীয়ের সহায়তা অনুযায়ী এই খরচ বদলাতে পারে।   আবাসন, খাবার, চিকিৎসা, যাতায়াত, ইন্টারনেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ও হিসাবের অংশ। তাই হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকলেই চিকিৎসার খরচ শূন্য ধরে নেওয়া যাবে না। আবার কারও কম ভাড়ার বাসা বা পরিবারের সহায়তা থাকলে তাঁর প্রকৃত ব্যয় মডেলের চেয়ে কমও হতে পারে। এই অঙ্কগুলো বাজেট তৈরির ভিত্তি, প্রত্যেক পরিবারের জন্য নির্ধারিত খরচ নয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১০:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রে হৃদরোগ গবেষণায় নজর কাড়লেন ভারতীয় শিক্ষার্থী, সুযোগ পেলেন সম্মানজনক কর্মসূচিতে
যুক্তরাষ্ট্রে হৃদরোগ গবেষণায় নজর কাড়লেন ভারতীয় শিক্ষার্থী, সুযোগ পেলেন সম্মানজনক কর্মসূচিতে

পরিবারের এক সদস্যের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বদলে দিয়েছিল তাঁর জীবনের লক্ষ্য। সেই কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এখন যুক্তরাষ্ট্রে হৃদরোগ গবেষণায় কাজ করছেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন (ইউটিএ)-এর তৃতীয় বর্ষের (জুনিয়র) ভারতীয় শিক্ষার্থী রুষিকা মুরাদি।   সম্প্রতি লয়োলা ইউনিভার্সিটি শিকাগোর অত্যন্ত সম্মানজনক ‘কার্ডিও-সার্ফ’ (Cardio-SURPh) গ্রীষ্মকালীন গবেষণা কর্মসূচির জন্য সারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনি একজন হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি অভিজ্ঞ গবেষক ও পেশাদারদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কার্ডিওভাসকুলার বা হৃদরোগ গবেষণায় হাতেকলমে কাজ করার অমূল্য সুযোগ পেয়েছেন।   ভারতের নান্দেড় শহরে বেড়ে ওঠা রুষিকার হৃদরোগ বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল ছোটবেলাতেই। পরবর্তীতে পরিবারের এক সদস্যের হৃদরোগে ভোগার অভিজ্ঞতা তাঁকে এই জটিল সমস্যা সমাধানের অংশ হতে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তোলে। রুষিকা জানান, ঠিক সেই মুহূর্তেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে এটি এমন একটি সমস্যা, যার সমাধানে তিনি কাজ করতে চান।   ইউটিএ-তে ভর্তি হওয়ার পর তিনি শ্রেণিকক্ষের বাইরের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ও ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামে যুক্ত হন। লয়োলার গ্রীষ্মকালীন কর্মসূচিতে তিনি হার্ট ফেইলিউরের বিভিন্ন গবেষণা মডেল নিয়ে কাজ করে নিজের প্রায়োগিক দক্ষতা আরও শাণিত করেছেন।   গবেষণার এই যাত্রা রুষিকাকে নিয়ে গেছে বোস্টনের বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে তিনি নিজের গবেষণার অভিজ্ঞতার ওপর একটি ‘লাইটনিং টক’ বা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এর পরপরই তিনি আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এএইচএ) বেসিক কার্ডিওভাসকুলার সায়েন্সেস সায়েন্টিফিক সেশনসে অংশ নিয়ে নিজের গবেষণাপত্রটি পুনরায় উপস্থাপন করার দারুণ এক সুযোগ পান। হার্ভার্ডের ওই সফর এবং বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে অংশগ্রহণকে নিজের গ্রীষ্মকালীন অভিজ্ঞতার সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখেন এই অদম্য তরুণী।   নিজের লিংকডইন প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ইউটিএ-তে জীববিজ্ঞানে স্নাতক (বিএসসি) করছেন রুষিকা মুরাদি। এর আগে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ভারতের ‘ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম’-এর অধীনে স্বাস্থ্য সচেতনতা ক্যাম্প, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও শিক্ষামূলক কর্মশালার মতো বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন তিনি।   আগামী ২০২৮ সালের মে মাসে স্নাতক সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়া রুষিকা ভবিষ্যতে কার্ডিওভাসকুলার গবেষণায় আরও বেশি সময় দিতে চান। নিজের এই সফল যাত্রায় সার্বিক সহায়তার জন্য ইউটিএ কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষ করে অধ্যাপক লরা মাইডলার্জের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১০:৫১
সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রে অবসরভাতায় বড় সুখবর, ২০২৭ সালে মাসে গড়ে ৭৫ ডলার বেশি পাবেন অবসরপ্রাপ্তরা

যুক্তরাষ্ট্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণকারী এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষের জন্য নতুন সুখবর দিয়েছে দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন। ২০২৭ সালে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা এবং সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআইয়ের অর্থপ্রদান ৩.৬ শতাংশ বাড়ানো হবে। ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সরকারি ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।   সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এ পরিবর্তনের আওতায় প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ আমেরিকানের ভাতায় প্রভাব পড়বে। অবসরভাতা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে মাসিক অর্থপ্রদান গড়ে প্রায় ৭৫ ডলার বাড়বে। মূল্যস্ফীতির কারণে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে এই বৃদ্ধি সহায়তা করার উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।   সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ সুবিধাভোগীর বর্ধিত ভাতা ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। অন্যদিকে, সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই গ্রহণকারী প্রায় ৭৩ লাখ মানুষের বর্ধিত অর্থপ্রদান শুরু হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে। কিছু মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ও এসএসআই—দুই ধরনের সুবিধাই পেয়ে থাকেন। তাই দুই কর্মসূচির সুবিধাভোগীর সংখ্যা যোগ করে মোট ব্যক্তির সংখ্যা নির্ধারণ করা যাবে না।   এই বৃদ্ধি নির্ধারণে ব্যবহৃত হয় জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কস্ট অব লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট—সংক্ষেপে কোলা। এর হিসাব করা হয় শহরাঞ্চলের মজুরিভোগী ও কেরানি কর্মীদের ভোক্তা মূল্যসূচকের পরিবর্তনের ভিত্তিতে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির তথ্যের ওপর নির্ভর করে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন বার্ষিক বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করে।   ২০২৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ২.৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। ২০২৭ সালের জন্য ঘোষিত ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি সেই তুলনায় বেশি। তবে ভাতা বাড়লেই যে প্রত্যেকের হাতে একই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ পৌঁছাবে, তা নয়। ব্যক্তির বর্তমান ভাতার পরিমাণ, অন্যান্য আয়, যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য কর্তনের ওপর প্রকৃত অর্থপ্রদান নির্ভর করবে।   বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য চিকিৎসা ও আবাসন ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বাড়লেও মেডিকেয়ার প্রিমিয়াম বা অন্য কোনো কর্তন বাড়লে কারও হাতে পাওয়া নিট অর্থের পরিমাণ প্রত্যাশার চেয়ে কম হতে পারে। তাই সুবিধাভোগীদের শুধু ঘোষিত বৃদ্ধির হার নয়, নিজেদের প্রকৃত মাসিক অর্থপ্রদানের পরিমাণও যাচাই করা প্রয়োজন।   সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন জানিয়েছে, ব্যক্তিগত ‘মাই সোশ্যাল সিকিউরিটি’ অনলাইন অ্যাকাউন্টে সুবিধাভোগীরা ২০২৬ সালের নভেম্বরের শেষ দিক থেকে নিজেদের নতুন ভাতার নোটিশ দেখতে পারবেন। যাঁরা কাগজের নোটিশের পরিবর্তে অনলাইনে নোটিশ পেতে চান, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাগজবিহীন নোটিশের সুবিধা চালু করতে হবে। যাঁরা অনলাইন নোটিশের জন্য নিবন্ধিত নন, তাঁরা ডিসেম্বরে ডাকযোগে নোটিশ পাবেন।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে সামাজিক নিরাপত্তা করের আওতাভুক্ত সর্বোচ্চ বার্ষিক আয়ের সীমাও ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩০০ ডলার হবে। এটি সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্যকর হওয়া আরেকটি বার্ষিক পরিবর্তন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১০:৪৩
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাকে ‘আমাদের জন্য বড় শিক্ষা’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড প্রবাসীদের জন্য বড় শিক্ষা: শামা ওবায়েদ

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাকে ‘আমাদের জন্য বড় শিক্ষা’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শনিবার, ১৭ অক্টোবর বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বসবাসের দেশের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।   প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানিয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি। বিস্তারিত জানতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।   শামা ওবায়েদ জানান, সৌদি আরবে বাংলাদেশ মিশনের শ্রম উইং থেকে পাওয়া বার্তায় মক্কার একটি মসজিদের অভ্যন্তরে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘ব্যভিচারে’ জড়িত থাকার অভিযোগের কথা এসেছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের নিজস্ব আইনি কাঠামো রয়েছে এবং সে অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাজা দেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য, ‘সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড আমাদের জন্য বড় শিক্ষা।’   মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে শামা ওবায়েদ জানান, সৌদি আরব চিঠির জবাব দিলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।    এর আগে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দুই ব্যক্তির বিচার বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তাঁরা আগাম আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাননি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর পরিচয়, নাগরিকত্ব ও মামলার বিস্তারিত জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়া হয়।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার, ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বিবৃতিতে মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগ উল্লেখ করা হলেও কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।    সূত্র: সমকাল

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১০:৩৪
ব্রুকলিনে পথ হারিয়ে ৪ ঘণ্টা বাসে আটকে ৬ অটিস্টিক শিশু, চরম অবহেলার অভিযোগ
ব্রুকলিনে পথ হারিয়ে ৪ ঘণ্টা বাসে আটকে ৬ অটিস্টিক শিশু, চরম অবহেলার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে পথ হারিয়ে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ ছিল ছয়জন বাক্‌প্রতিবন্ধী অটিস্টিক শিক্ষার্থী বহনকারী একটি স্কুলবাস। ক্রাউন হাইটস এলাকার পি.এস. ২৮৯ স্কুলের ওই শিক্ষার্থীদের সকাল ৮টা ২০ মিনিট থেকে ৯টার মধ্যে পৌঁছানোর কথা থাকলেও, তারা স্কুলে গিয়ে পৌঁছায় দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে।   এই দীর্ঘ সময় স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বাসটির অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্যই ছিল না। সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের স্পেশাল কমিশনার অব ইনভেস্টিগেশনের এক তদন্ত প্রতিবেদনে এমন চরম অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।   তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেদিন বাসটির নিয়মিত চালকের পরিবর্তে একজন বদলি চালক দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তিনি রাস্তা হারিয়ে ফেলেন। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের অবস্থান জানতে স্কুল কর্তৃপক্ষ বাস কোম্পানি ‘কনসলিডেটেড ট্রানজিট’-এর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি।   পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন (ডিওই) এবং নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে (এনওয়াইপিডি) বিষয়টি জানানো হয়। সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে কোম্পানির একজন ডিসপ্যাচার স্কুলকে জানান যে, চালক পথ হারিয়েছেন এবং ১৫ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছাবেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, বাসটির লাইভ জিপিএস ট্র্যাকার কাজ করছিল না। তবে স্পেশাল কমিশনার আনাস্তাসিয়া কোলম্যান জানিয়েছেন, তদন্তে ট্র্যাকিং ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ সচল থাকার প্রমাণ মিলেছে।   দীর্ঘ সময় বাসে আটকে থাকায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এই শিশুদের চরম দুরবস্থার শিকার হতে হয়। তদন্তে জানা যায়, স্কুলে পৌঁছানোর পর এক কন্যাশিশুকে নিজের গায়ে প্রস্রাব করা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং চরম অস্বস্তিতে সে তার ডায়াপার ও লেগিংস খুলে ফেলেছিল।   প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাসে থাকা প্রায় ২০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মেট্রন পথ হারানোর পর চালকের সঙ্গে যোগাযোগ বা স্কুলকে খবর দেওয়ার ন্যূনতম কোনো চেষ্টাই করেননি। এই ঘটনায় ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন এবং তদন্তকারীরা বাস চালক ও মেট্রনকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করেছে।   কনসলিডেটেড ট্রানজিটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওই দুই কর্মীকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ডিওই-এর কোনো ভেন্ডরের অধীনে কাজ করার ক্ষেত্রেও তাদের স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১০:৩৩
রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ডেঙ্গুতে দেশে ৩৩৫ মৃত্যু, পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার, ১৭ অক্টোবর সকালে তিনি ঢাকার উত্তরা এলাকায় কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাসেবা, হাসপাতালের পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেন। পরে তিনি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ পরিদর্শন করেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।    বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।   প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলুর বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতাল পরিদর্শনের পর তারেক রহমান রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে যান। সেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং স্কাউটসের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশপাশের এলাকা ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের এই সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত, ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বাসাবাড়ি, বিদ্যালয়, পাড়া-মহল্লা ও আশপাশের এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। নির্বিচারে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করা এবং পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৮১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩৫ জনে এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ জন। অক্টোবরের প্রথম ১৬ দিনে ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।    পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর ছিল চলতি বছরের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস। ওই মাসে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু এবং ৪৩ হাজার ৭৭৪ জনের হাসপাতালে ভর্তির তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১ হাজার ১৭৯ জন। চলতি বছরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ২১০ জনে।   ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী গত ১২ সেপ্টেম্বর তিন মাসের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি উদ্বোধন করেছিলেন। এবার হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আরও কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শনের পরিকল্পনার কথাও সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের প্রচলিত জনস্বাস্থ্য পরামর্শ হলো—বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। তবে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা উন্নয়ন ও জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে নিয়মিত বাস্তবায়ন ও নাগরিকদের অংশগ্রহণের ওপর।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১০:২১
নিউইয়র্ক সিটির পাঁচ বরোর ২২টি ফুড প্যান্ট্রিতে বিনামূল্যে পোষা কুকুর ও বিড়ালের খাবার বিতরণ শুরু হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
১৯ অক্টোবর থেকে ২২ ফুড প্যান্ট্রিতে কুকুর-বিড়ালের বিনামূল্যে খাবার দেওয়ার ঘোষণা মামদানির

নিউইয়র্ক সিটির পাঁচ বরোর ২২টি ফুড প্যান্ট্রিতে আগামী ১৯ অক্টোবর থেকে বিনামূল্যে পোষা কুকুর ও বিড়ালের খাবার দেওয়া হবে। আর্থিক চাপে থাকা পরিবারগুলো যেন পোষা প্রাণী ছেড়ে দিতে বাধ্য না হয়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   ১৫ অক্টোবর মেয়রের কার্যালয় জানায়, সিটির অর্থায়নে পরিচালিত এসব প্যান্ট্রিতে বাসিন্দারা নিজেদের খাবার সংগ্রহের পাশাপাশি পোষা প্রাণীর খাবারও নিতে পারবেন। কর্মসূচির জন্য অতিরিক্ত পাঁচ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।   মেয়র জোহরান মামদানি, সিটি কাউন্সিল, মেয়রের প্রাণিকল্যাণবিষয়ক দপ্তর এবং ডিপার্টমেন্ট অব সোশ্যাল সার্ভিসেস যৌথভাবে উদ্যোগটির ঘোষণা দিয়েছে। ব্রুকলিন ও ম্যানহাটানে ছয়টি করে, ব্রঙ্কস ও কুইন্সে চারটি করে এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে দুটি প্যান্ট্রি এতে অংশ নিচ্ছে।    কুইন্সে খাবার পাওয়া যাবে জ্যামাইকার ফার্স্ট ইউনাইটেড মেথডিস্ট চার্চে, ঠিকানা ১৬২-১০ হাইল্যান্ড অ্যাভিনিউ; রিচমন্ড হিলের রিভার ফান্ডে, ৮৯-১১ লেফার্টস বুলেভার্ড; ইয়েশুয়া ওয়ার্ল্ডওয়াইড মিনিস্ট্রিজ ফুড প্যান্ট্রিতে, ৭৯-১১ ক্যাল্ডওয়েল অ্যাভিনিউ; এবং আওয়ার চিলড্রেন কমিউনিটি আউটরিচে, ৩৬-৪৯ ইলেভেন্থ স্ট্রিট।    ব্রুকলিনের কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি হেল্প ইন পার্ক স্লোপ, সেন্ট জনস ব্রেড অ্যান্ড লাইফ, দ্য ক্যাম্পেইন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার এবং ওয়াইএমসিএ কমিউনিটি মার্কেট।   সিটি প্রশাসনের ভাষ্য, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ে পোষা প্রাণীর খাবার কেনাও অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। পরিচিত ফুড প্যান্ট্রিতেই এই সহায়তা যুক্ত করে মানুষ ও তাদের পোষা প্রাণীকে একই পরিবারে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১০:২১
জর্ডানে নি হত মেয়ের স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে আছেন মা, সেনাবাহিনীর আচরণে হতাশ
জর্ডানে নি হত মেয়ের স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে আছেন মা, সেনাবাহিনীর আচরণে হতাশ

জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় নিহত নিউইয়র্কের কুইন্সের সেনা স্টাফ সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল সারাহ রামপারসাদের মা প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছেন। গত জুলাই মাসে ২৮ বছর বয়সী সারাহ নিহত হওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পর সিবিএস নিউজ নিউইয়র্ককে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তাঁর মা ক্যারল আসেভেদো নিজের সীমাহীন শোক, যন্ত্রণা ও হতাশার কথা তুলে ধরেছেন।   আসেভেদো জানান, সেই রোববারের সকালটি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর দিন। দরজায় দুজন সামরিক চ্যাপলেইনকে (ধর্মযাজক) দেখেই তিনি মর্মান্তিক দুঃসংবাদটি আঁচ করতে পেরেছিলেন। কুইন্সের ওজোন পার্কের বাড়িতে এখনো সারাহর সামরিক ইউনিফর্ম সাজিয়ে রাখা আছে।   মা হিসেবে মেয়ের জন্য তীব্র গর্ববোধ করলেও আসেভেদো বলেন, “আমি আর কখনোই ওর মুখ দেখতে পাব না, কথাও বলতে পারব না।” ক্ষতিপূরণ হিসেবে সামান্য কিছু সুবিধা পেলেও সেনাবাহিনীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি বলে আক্ষেপ করেন তিনি। কেবল কিছু কাগজে সই করানো ছাড়া সেনাবাহিনী আর্থিকভাবে বা মানসিকভাবে তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি বলে অভিযোগ এই শোকাহত মায়ের।   পেন্টাগন প্রাথমিকভাবে সারাহকে ইরান সংঘাতে নিহত সেনাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। কিন্তু কয়েকদিন পরই তাঁর ও আরও তিন সেনার নাম সরিয়ে ‘বিদেশি অভিযান’ (ওভারসিজ অপারেশন) নামের আলাদা একটি ক্যাটাগরিতে যুক্ত করা হয়। মার্কিন যুদ্ধ দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্ত হয়ে যাওয়ায় সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন এই প্রাণহানিগুলোকে এখন বিদেশি অভিযান হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হচ্ছে।   তবে সমালোচনার মুখে সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সারাহর মৃত্যুর শ্রেণিবিভাগের বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।   নিজের মেয়ের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের জন্য আরও বড় ও সম্মানজনক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন আসেভেদো। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পেন্টাগনের কাছে তাঁর মেয়ে কেবলই একটি সংখ্যা মাত্র, কিন্তু প্রিয়জন হারানোর আসল যন্ত্রণা শুধু পরিবারকেই আজীবন সইতে হয়। ত্রিনিদাদে জন্মগ্রহণকারী ও কুইন্সে বেড়ে ওঠা সারাহ ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল, দয়ালু ও হাস্যোজ্জ্বল।   আসেভেদোর কাছে সপ্তাহের সবচেয়ে কঠিন দিন হলো রোববার, কারণ এই দিনটিতেই তিনি মেয়ের সঙ্গে ভিডিও কলে লম্বা সময় ধরে কথা বলতেন। ক্ষোভ, হতাশা ও কষ্টে ভেঙে পড়া এই মায়ের এখন একটাই প্রশ্ন—কেন তাঁকে এমন করুণ ও মর্মান্তিক উপায়ে নিজের সন্তানকে হারাতে হলো?

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১০:১২
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অফার পাওয়ার পর আরকানসাসের হেনড্রিক্স কলেজে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রামের মুমতাহিনা করিম মীম। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মীমের ২৫টি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩৬ কোটি টাকার স্কলারশিপ অফার

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মুমতাহিনা করিম মীম যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তির প্রস্তাব পাওয়ার পর আরকানসাসের হেনড্রিক্স কলেজে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৫ সালে তিনি কলেজটির হেইস মেমোরিয়াল স্কলারশিপ অর্জন করেন, যার আওতায় টিউশন ফি, থাকা ও খাবারসহ সরাসরি শিক্ষাব্যয় বহন করা হয়।   হেনড্রিক্স কলেজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৯ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার জন্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারজন এই বৃত্তি পেয়েছেন। তালিকায় বাংলাদেশের মীমকে হেইস ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী। কলেজ জানিয়েছে, টিউশন ফি বাড়লে বৃত্তির অর্থও সেই অনুযায়ী বাড়ে।    মীমকে নিয়ে প্রচারিত ‘৩৬ কোটি টাকার স্কলারশিপ’ কথাটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বৃত্তির প্রস্তাবের সম্মিলিত মূল্য। ইত্তেফাকের ২০২৫ সালের ৪ আগস্টের প্রতিবেদনে এই হিসাব উল্লেখ করা হয়। এটি এক প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া বৃত্তি কিংবা একসঙ্গে তাঁর হাতে আসা অর্থ নয়। একই প্রতিবেদনে জানানো হয়, এসব বিকল্পের মধ্য থেকে তিনি হেনড্রিক্স কলেজকে বেছে নিয়েছেন।    প্রথম আলোর ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মীম ওই বছরের ৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন। ২৬ আগস্ট তাঁর ক্লাস শুরু হয়। তিনি কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ফলে তাঁর এই অর্জনটি ২০২৫ সালের, নতুন করে পাওয়া বৃত্তির ঘোষণা নয়।   রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটায় জন্ম হলেও মীম বড় হয়েছেন চট্টগ্রাম নগরে। অংকুর সোসাইটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি।   প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয়ের শুরু মায়ের হাত ধরে। প্রথম আলোকে মীম জানান, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় মা তাঁকে কোডিং শেখার ভিডিও দেন। সপ্তম শ্রেণিতে স্কুলের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করেন। নবম শ্রেণিতে প্রতিষ্ঠা করেন প্রোগ্রামিং ক্লাব, যেখানে অন্য শিক্ষার্থীদের কোডিং শেখাতেন।   করোনাকালে ইউটিউব দেখে রোবোটিকসের বিভিন্ন কাজ শেখেন মীম। জমানো টাকায় আরডুইনো কিট ও সেন্সর কিনে নিজের ঘরে ছোট একটি পরীক্ষাগার গড়ে তোলেন। সেখানেই তৈরি করেন খাবার পরিবেশনকারী রোবট ‘কিবো’।   পড়াশোনার পাশাপাশি আঁকাআঁকি, বিতর্ক, সাহিত্য ও সংগীতেও যুক্ত ছিলেন তিনি। মীমের ভাষ্য, এসব অভিজ্ঞতা বিদেশে ভর্তির আবেদনে তাঁকে সহায়তা করেছে। প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মেয়েদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও পরিবারের, বিশেষ করে মায়ের সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১০:১১
সরকার নতুন করে বাদ পড়া শিশুদের টিকাদানের উদ্যোগ
টিকাদানের ঘাটতিতে হামের ভয়াবহ রূপ, বাংলাদেশে বাড়ছে শিশুর মৃত্যু

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নতুন সতর্কতা প্রকাশ করেছে রয়টার্স। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চের মাঝামাঝি থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে দুই লাখের বেশি সন্দেহভাজন হামের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।   এর মধ্যে ২২ হাজারের বেশি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে এবং ১ হাজার ১৪৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের অধিকাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।   নিয়মিত টিকাদানের হার কমে যাওয়া, প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সীমিত উপস্থিতি এবং টিকাদানের তথ্যের ঘাটতি প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করেছে। এপ্রিল ও মে মাসে প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার জরুরি কর্মসূচি চালানো হলেও অনেক শিশু বাদ পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   সরকার নতুন করে বাদ পড়া শিশুদের টিকাদানের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছানো, স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট এবং অভিভাবকদের কাছে সময়মতো তথ্য পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের টিকাদানের রেকর্ড যাচাই এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১০:৪
ফ্লোরিডায় বিদ্যুৎ বিল প্রায় ৪০০ ডলার, একই ব্যবহারেও খরচ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ গ্রাহকদের
ফ্লোরিডায় বিদ্যুৎ বিল প্রায় ৪০০ ডলার, একই ব্যবহারেও খরচ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ গ্রাহকদের

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন এক গ্রাহক। টিকটকে অ্যালেক্স মেনেনডেজ নামের ওই ব্যক্তি তাঁর ‘এইচপিএস হোমস্টেড’–এর ৩৯৬ দশমিক ৭২ ডলারের বিদ্যুৎ বিলের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, বিল আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও এটি এখনো অনেক বেশি; কর্তৃপক্ষকে সেবার মান আরও যৌক্তিক করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ফ্লোরিডার আরও অনেক বাসিন্দা নিজেদের অস্বাভাবিক বিলের অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য গ্রাহকেরাও এইচপিএস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মনগড়া বিল চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। মন্তব্যের ঘরে একজন জানান, তাঁর বিল এসেছে ৫০০ ডলারের বেশি, যা হোমস্টেড এলাকায় কোনো দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয় বলে তিনি মনে করেন। অন্য একজন জানান, তাঁর ছোট দুই কক্ষের বাসার বিল ২৫০ ডলার এবং এক ডুপ্লেক্স বাড়ির বাসিন্দা তাঁর ৪৩০ ডলার বিল আসার কথা উল্লেখ করেন।   অ্যালেক্সের শেয়ার করা বিলের কাগজে দেখা যায়, ২২৬ দশমিক ০৪ ডলারই এনার্জি চার্জ। এর বাইরে স্যানিটেশন বিল প্রায় ১০০ ডলার এবং বাকি অংশ পানি ও করের জন্য ধার্য করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পরিষেবাগুলোর জন্য প্রায় ৪০০ ডলারের বিল যেকোনো সাধারণ পরিবারের জন্যই একটি বিশাল আর্থিক বোঝা।   গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুতের ব্যবহার না বাড়লেও কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই গত কয়েক মাস ধরে তাঁদের বিল লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এক গ্রাহক জানান, গত চার বছর ধরে তিনি ১৯০ থেকে ২২০ ডলার বিল দিয়ে আসলেও, একই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে গত ছয় মাস ধরে তাঁকে ৩২০ থেকে ৩৫০ ডলার গুনতে হচ্ছে।   পরিস্থিতির কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা না পাওয়ায় অনেকেই কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা বা ক্লাস-অ্যাকশন মামলার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই উচ্চ বিলের হাত থেকে বাঁচতে ফ্লোরিডার অনেক বাসিন্দা বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছেন। উদাহরণস্বরূপ, ৭০০ ডলার বিল আসা এক বাড়ির মালিক সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি ব্যবহারের পর তাঁর বিল শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছেন। আরেকজন ৮০০ ডলারের বিলের বদলে সোলার ব্যবহার করে উল্টো ৩০০ ডলার ক্রেডিট পেয়েছেন, যা নবায়নযোগ্য শক্তির দারুণ সম্ভাবনাকেই প্রমাণ করে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৯:৫৫
অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিডের টিকার ট্রায়ালে অংশ নিয়ে বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হলেও সরকারি সহায়তা পাননি ব্রিটিশ নার্স। ছবি: সংগৃহীত
'যথেষ্ট অক্ষম নন’, কোভিড টিকা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অসুস্থ নার্স, অক্ষমতার শর্তে মেলেনি সহায়তা

অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড টিকার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হওয়া এক ব্রিটিশ নার্স সরকারি আর্থিক সহায়তা পাননি। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তিনি কর্মসূচির নির্ধারিত অক্ষমতার সীমা পূরণ করেননি বলে জানানো হয়েছে। তবে তাঁর দাবি, হাতে দুর্বলতা ও ব্যথাসহ অসুস্থতার কিছু প্রভাব এখনো রয়ে গেছে।   ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪৪ বছর বয়সী মেরি-ক্লেয়ার হয়েল ২০২০ সালে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে টিকার পরীক্ষায় অংশ নেন। দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার দুই সপ্তাহ পর তাঁর ট্রান্সভার্স মায়েলাইটিস ধরা পড়ে। এটি মেরুরজ্জুর প্রদাহজনিত একটি রোগ।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, অসুস্থতার তীব্র পর্যায়ে হয়েল হাত স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারতেন না। পরে তাঁর শারীরিক সক্ষমতার বড় অংশ ফিরে আসে। সেই উন্নতির কারণে ভ্যাকসিন ড্যামেজ পেমেন্ট স্কিমের আওতায় অর্থ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অন্তত ৬০ শতাংশ অক্ষমতার শর্ত তিনি পূরণ করেননি।   হয়েলের ভাষ্য, তাঁর জমা দেওয়া চিকিৎসার নথির ভিত্তিতে মূল্যায়নকারীরা টিকার সঙ্গে অসুস্থতার সম্পর্ক স্বীকার করেছিলেন। তবে বর্তমান অক্ষমতার মাত্রার কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি নির্দিষ্ট সীমার বদলে ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা চান। এই মূল্যায়নের বিবরণ তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।    যুক্তরাজ্যের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট টিকার কারণে গুরুতর অক্ষমতা তৈরি হলে যোগ্য আবেদনকারী এককালীন করমুক্ত এক লাখ ২০ হাজার পাউন্ড পেতে পারেন। এ জন্য টিকার সঙ্গে অক্ষমতার কার্যকারণ সম্পর্ক এবং অন্তত ৬০ শতাংশ অক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হতে হয়।   সরকার এই ব্যবস্থাকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করে না। এটি নির্দিষ্ট শর্তে দেওয়া এককালীন আর্থিক সহায়তা। আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও রয়েছে।    অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার সঙ্গে ট্রান্সভার্স মায়েলাইটিসের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাও পর্যালোচনা করেছে। ইউরোপীয় ওষুধ সংস্থা ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ভ্যাক্সজেভরিয়া এবং জ্যানসেনের কোভিড টিকার পর অত্যন্ত বিরল এই রোগের প্রতিবেদনের বিষয়ে পণ্যের তথ্যে সতর্কতা যুক্ত করার সুপারিশ করে। তবে কোনো ব্যক্তির অসুস্থতার কারণ নির্ধারণে তাঁর চিকিৎসার ইতিহাস ও পরীক্ষার ফল আলাদাভাবে মূল্যায়ন প্রয়োজন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৯:৪২
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ধামার প্রদেশে আবাসিক বাড়িতে বিমান হামলায় তিন শিশু নিহত
ইয়েমেনে বিমান হামলায় তিন শিশু নিহত, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বাড়ছে উত্তেজনা

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ধামার প্রদেশে আবাসিক বাড়িতে বিমান হামলায় তিন শিশু নিহত হয়েছে। হামলায় আরও এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে হুতি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শনিবার, ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাটি আগের দিন শুক্রবার ধামার প্রদেশের ধুরান আনিস জেলার আল-আর গ্রামে আঘাত হানে। নিহত শিশুদের মধ্যে একজনের বয়স আট বছর এবং অন্য দুজনের বয়স ১০ বছর। তারা একই পরিবারের সদস্য বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   হুতি বিদ্রোহীরা এই হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলায় আবাসিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে হামলার দায়, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।    এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ও হুতিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সংকট বাড়িয়েছে। নতুন করে লড়াই ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের জীবন ও জরুরি পরিষেবার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।    হুতি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, সেপ্টেম্বর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় সংঘাতের ঘটনায় ১২৪ জন নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি এবং এটি ইয়েমেনের পুরো দেশের মোট হতাহতের হিসাব নয়। সংঘাতের দুই পক্ষের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি।    ইয়েমেনের সাম্প্রতিক সংঘাত শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয় নয়; এর প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপরও পড়তে পারে। একই সময়ে পারস্য উপসাগরে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর এবং হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজ মাইনে আঘাত পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র নিশ্চিত না হলেও, উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ও বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।   আবাসিক এলাকায় শিশুদের প্রাণহানি আবারও যুদ্ধের সময় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার প্রশ্ন সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, সংঘাতের সব পক্ষকে বেসামরিক মানুষ ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পার্থক্য করতে হবে এবং বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এই নির্দিষ্ট হামলায় আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৯:৪০
২৬ বছর বয়সে স্তন ক্যানসার, কেমো থেকে অস্ত্রোপচার; সব বাধা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন আন্দ্রেয়া
২৬ বছর বয়সে স্তন ক্যানসার, কেমো থেকে অস্ত্রোপচার; সব বাধা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন আন্দ্রেয়া

আন্দ্রেয়া ডি আরমাস, বয়স তখন মাত্র ২৬ বছর। পরিবারে কারও স্তন ক্যানসারের ইতিহাস নেই, তবে নিজের স্তনে একটি অস্বাভাবিক পিণ্ড বা চাকা অনুভব করায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আলট্রাসাউন্ড টেকনিশিয়ানের আচরণ ছিল চরম হতাশাজনক; বয়স কম হওয়ায় আন্দ্রেয়ার শারীরিক উদ্বেগকে রীতিমতো অবহেলা করে তিনি বুঝিয়েছিলেন যে তরুণী অযথাই ভয় পাচ্ছেন।   তবে একজন রেডিওলজিস্টের হস্তক্ষেপে দ্রুত বায়োপসি করা হয় এবং জানা যায়, আন্দ্রেয়ার সেই পিণ্ডটি ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যানসারাস। ফিজিশিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্ট (পিএ) হিসেবে চূড়ান্ত পড়াশোনা শুরুর ঠিক এক দিন আগে স্তন ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার এই খবর তাঁর জীবনকে থমকে দেয়।   আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্যমতে, স্তন ক্যানসারে নতুন করে আক্রান্ত প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজনের বয়স ৪৫ বছরের নিচে। বিশেষ করে ২০-এর কোঠায় থাকা নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলক কম হলেও (প্রতি ১,৩৪৪ জনে একজন), বর্তমানে তরুণীদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বছরে প্রায় ১ শতাংশ হারে বাড়ছে।   এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মেরি জেমিনিয়ানি জানান, তরুণীদের ক্ষেত্রে সাধারণত ক্যানসার দেরিতে শনাক্ত হয় এবং টিউমারগুলো বেশ আক্রমণাত্মক প্রকৃতির হয়ে থাকে। তা সত্ত্বেও অনেক তরুণীকে ‘ক্যানসারের জন্য বয়স অনেক কম’—এমন ভ্রান্ত ধারণার শিকার হতে হয়, যা আন্দ্রেয়ার ক্ষেত্রেও ঘটেছিল। পরবর্তী পরীক্ষায় আন্দ্রেয়ার শরীরে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি সৃষ্টিকারী একটি জিনগত মিউটেশন ধরা পড়ে।   তবে ক্যানসারের এই ভয়াবহতা আন্দ্রেয়াকে দমাতে পারেনি। পড়াশোনার পাশাপাশি অত্যন্ত কঠিন রুটিনে তিনি নিজের চিকিৎসাও চালিয়ে গেছেন। সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে কেমোথেরাপি নিয়ে বিকেলে নিয়ম করে ক্লাসে অংশ নিতেন তিনি। ছুটির ফাঁকে লাম্পেকটমি ও মাস্টেকটমির মতো জটিল সার্জারিও সম্পন্ন করেন। চিকিৎসকদের দারুণ সহযোগিতায় শারীরিক ও মানসিক এই যুদ্ধের পরও ২০২৫ সালে সফলভাবে পিএ গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন তিনি এবং এক মাসের মধ্যেই পেশাগত জীবনে প্রবেশ করেন।   বর্তমানে ৩০ বছর বয়সী আন্দ্রেয়া সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত। সার্জারি ও কেমোথেরাপির দিনগুলো পেছনে ফেললেও চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাকে হরমোন থেরাপির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, যা তাকে সাময়িক মেনোপজ এবং সন্তান ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আগেভাগেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তবুও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।   নিজের এই লড়াইয়ের গল্প জানিয়ে আন্দ্রেয়া বলেন, নিজের শরীরের অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ দেখলে কখনোই ভয় বা অন্যের কথায় পিছিয়ে আসা উচিত নয়। নিজের প্রবৃত্তি ও অনুভূতির ওপর আস্থা রেখে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৯:৩৩
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে জটিল অস্ত্রোপচারে ২৩ দিন বয়সী নবজাতকের মুখ থেকে টিউমার অপসারণ করেছেন চিকিৎসকেরা। ছবি: সংগৃহীত
শিশু হাসপাতালে ২৩ দিনের নবজাতকের বিরল টিউমার সফলভাবে অপসারণ করেছেন চিকিৎসকেরা

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে দুই ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারে ২৩ দিন বয়সী এক নবজাতকের মুখ থেকে হাতের আকৃতির টিউমার অপসারণ করেছেন চিকিৎসকেরা। সময় সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পর শিশুটি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।   প্রতিবেদনে জানানো হয়, টিউমারটি শিশুটির মুখের তালু, ওপরের চোয়াল ও ঠোঁটের অংশজুড়ে ছিল। এর কারণে স্বাভাবিকভাবে দুধ খেতে ও শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি সরিয়ে দেন।   অপসারণ করা টিউমারটি হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে টিউমারের টিস্যু বিশ্লেষণ করে এর সুনির্দিষ্ট ধরন নির্ধারণ করা হবে।   টিউমারটিকে দেখতে হাতের মতো বলে বর্ণনা করা হলেও এর প্রকৃতি এখনো নিশ্চিত নয়। পরীক্ষার ফল পাওয়ার আগে সেটিকে শরীরের অতিরিক্ত অঙ্গ কিংবা নির্দিষ্ট কোনো ধরনের টিউমার হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।   অস্ত্রোপচারের পর শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানানো হলেও শিশুটি এখনো চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৯:১৮
ইরানের ২৫ বিলিয়ন ডলারের তেল আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র, বন্ধ আইআরজিসি সদস্যদের বেতনও
ইরানের ২৫ বিলিয়ন ডলারের তেল আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র, বন্ধ আইআরজিসি সদস্যদের বেতনও

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সামরিক অবরোধের মুখে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ ইরান। এই নজিরবিহীন অবরোধের ফলে তেহরানের অন্তত ২৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।   আল আরাবিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক অবরোধ তেহরানের ওপর ব্যাপক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। আটকে দেওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যথায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং মার্কিন বাহিনী ও আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর হামলার পেছনে ব্যয় করা হতো বলে দাবি করেন তিনি।   অ্যাডমিরাল কুপার জানান, মার্কিন বাহিনী অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানি, ডিজিটাল অর্থায়ন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বেতন—এই তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। এর আগে পরিচালিত ৩৮ দিনব্যাপী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’সহ বর্তমান পদক্ষেপগুলো মূলত বৃহত্তর মার্কিন অভিযানেরই অংশ।   এর মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক খাতে অর্থায়ন, অস্ত্র কারখানা পুনর্নির্মাণ এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তার সক্ষমতা সম্পূর্ণ পঙ্গু করে দেওয়া। তেল রপ্তানি আটকে দেওয়ার পাশাপাশি সেন্ট্রাল কমান্ড ইতিমধ্যে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদও জব্দ করেছে। এর ফলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করা অথবা ধ্বংস হয়ে যাওয়া সামরিক অবকাঠামো মেরামতের সুযোগও সীমিত হয়ে এসেছে।   এই তীব্র আর্থিক চাপের কারণে ইরানের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী, বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্যদের বেতন পরিশোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছে তেহরান। বাধ্য হয়ে তেল, জ্বালানি, উৎপাদন, নির্মাণ ও নিরাপত্তা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সাময়িকভাবে আটকে রাখা হয়েছে। এমনকি এই সংকটের ঢেউ আছড়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপরও।   আইআরজিসির তহবিলে অর্থ জোগান নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক মিত্র গোষ্ঠী তাদের নিজেদের যোদ্ধাদের বেতন পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে।   অ্যাডমিরাল কুপার বিষয়টিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর চরম আর্থিক দুর্দশা এবং মরিয়া অবস্থার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এখনো পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। সামুদ্রিক পথে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানির ওপর এই কঠোর বিধিনিষেধ বলবৎ থাকলেও, আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী কেবল মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৯:১৬
ছবি: কক্সবাজার সদর হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলছেন আমিনুল ইসলাম
‘আমার তিন বোনের পাঁচ–ছেলে মেয়ে মা রা গেছে, ওরা ৯ জন বেড়াতে এসেছিল’

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার, ১৭ অক্টোবর সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকার রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। নিহতদের মধ্যে শিশু ও পরস্পরের স্বজন রয়েছেন।   ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেনের বরাতে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, তিনতলা কাঠের রিসোর্টটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।    বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহাদ জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে তাঁর চারজন মেয়ে কাজিন, একজন ছেলে কাজিন এবং এক কাজিনের ছোট সন্তান রয়েছে। আরও দুজন নিহত ব্যক্তিও তাঁদের আত্মীয় বলে তিনি জানান।   আহাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের পরিবারের আহত তিনজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বেড়াতে আসা স্বজনদের একসঙ্গে হারানোর ঘটনায় পরিবারটি শোকের মধ্যে পড়েছে।   অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্টটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানিয়েছেন, রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর সেটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও কার্যক্রম চলছিল।   আগুনের কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। সূত্র: প্রথম আলো

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৮:৫৭
নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়ি বিক্রির নতুন বিজ্ঞাপনের হিড়িক! চার বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে
নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়ি বিক্রির নতুন বিজ্ঞাপনের হিড়িক! চার বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে

নিউইয়র্ক সিটিতে সেপ্টেম্বরে নতুন করে বিক্রির জন্য বাজারে এসেছে ৪ হাজার ৯৫১টি বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট। এটি ২০২২ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ মাসিক সংখ্যা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় নতুন বিজ্ঞাপন বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।   আবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্ট্রিটইজির ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত বাজার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে নতুন বিজ্ঞাপন বাড়লেও বিক্রির জন্য থাকা মোট আবাসনের সংখ্যা এক বছর আগের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১৬ হাজার ৭৩৭টিতে দাঁড়িয়েছে।   বাজারে ক্রেতাদের প্রতিযোগিতাও রয়েছে। সেপ্টেম্বরে বিক্রি হওয়া আবাসনের ২১ দশমিক ১ শতাংশ সর্বশেষ চাওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে, বিক্রির চুক্তিতে যাওয়া আবাসনের সংখ্যা কমেছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। স্ট্রিটইজির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মর্টগেজের সুদ বেড়ে যাওয়ায় কিছু ক্রেতা সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন।    এলাকাভিত্তিক হিসাবে কুইন্সের লং আইল্যান্ড সিটিতে নতুন বিজ্ঞাপন বেড়েছে ২০৫ দশমিক ৪ শতাংশ। সেখানে কয়েকটি নতুন আবাসন প্রকল্প বাজারে আসায় এই বৃদ্ধি হয়েছে। অ্যাস্টোরিয়ায় বেড়েছে ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ।   ভাড়ার বাজারেও চাপ রয়েছে। শহরজুড়ে ভাড়ার জন্য তালিকাভুক্ত আবাসন কমেছে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ। মাসিক চাওয়া ভাড়ার মধ্যম মান দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৫০ ডলারে। কুইন্সে এই অঙ্ক ৩ হাজার ৪০০ ডলার, ব্রুকলিনে ৩ হাজার ৯৪৫ ডলার। এগুলো বিজ্ঞাপনে চাওয়া ভাড়া, চূড়ান্ত লিজের অঙ্ক নয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৮:৫০
চট্টগ্রাম কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের 'ফারসি রহমান' পেলেন সুইডেনের ৭১ লাখ টাকার স্কলারশিপ
চট্টগ্রাম কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের 'ফারসি রহমান' পেলেন সুইডেনের ৭১ লাখ টাকার স্কলারশিপ

চট্টগ্রাম কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারসি রহমান সুইডিশ ইনস্টিটিউটের বৃত্তিতে সুইডেনে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত পরিচিতিমূলক লেখায় জানানো হয়েছে। ওই তথ্য অনুযায়ী, তিনি ব্লেকিঙ্গে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ‘স্ট্র্যাটেজিক লিডারশিপ টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবিলিটি’ প্রোগ্রামে পড়বেন। তবে তাঁর বৃত্তি পাওয়ার শিক্ষাবর্ষ ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের নথি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   ফারসির শিক্ষাজীবন ও কাজের অভিজ্ঞতার বিবরণ অনুযায়ী, পরিসংখ্যান পড়ার পাশাপাশি তিনি স্বেচ্ছাসেবা ও ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। ২০১৮ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম এবং ২০১৯ সাল থেকে পোশাক ও প্রিন্টিং ব্যবসার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   একই বিবরণে রোটার‌্যাক্ট ও ভিএসও আইসিএসের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং একটি ফ্যাশন ব্যবসার সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করার তথ্য রয়েছে। এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে টেকসই উন্নয়ন ও নেতৃত্ব বিষয়ে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে লেখাটিতে জানানো হয়।   ব্লেকিঙ্গে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামটি এক বছরের এবং ৬০ ক্রেডিটের। এতে প্রতিষ্ঠান ও সমাজে টেকসই পরিবর্তন আনতে কৌশলগত পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে ফারসিকে নিয়ে প্রচারিত লেখায় এই প্রোগ্রামকে দুই বছরের বলা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যের সঙ্গে তা মেলে না।    সুইডিশ ইনস্টিটিউটের গ্লোবাল প্রফেশনালস বৃত্তি সুইডেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন এক বা দুই বছরের স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য দেওয়া হয়। তবে নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীর বৃত্তির মেয়াদ ও সুবিধা তাঁর নির্বাচিত প্রোগ্রাম এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের শর্তের ওপর নির্ভর করে।    ফারসিকে নিয়ে দেওয়া লেখায় টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, ভ্রমণ অনুদান ও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধার কথা বলা হয়েছে। তবে তাঁর বৃত্তির অনুমোদনপত্র পাওয়া না যাওয়ায় নির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ ও ব্যক্তিগতভাবে প্রযোজ্য সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা যায়নি। বিশেষ করে দুই বছরের টিউশন ফির ভিত্তিতে উল্লেখ করা টাকার অঙ্ক এক বছরের এই প্রোগ্রামের নিশ্চিত ব্যয় হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়।   সূত্র: Chattogram update

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৮:৪৩
রিসিপশনিস্ট থেকে বিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান! বাংলাদেশি আলামিনের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প
রিসিপশনিস্ট থেকে বিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান! বাংলাদেশি আলামিনের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প

নিউইয়র্কে চিকিৎসকের চেম্বারে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতে গিয়ে রোগীর তথ্য ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাপনার জটিলতা দেখেছিলেন আলামিন উদ্দিন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে সহপ্রতিষ্ঠাতা ওয়ালিদ আসিফকে নিয়ে গড়ে তোলেন স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নেক্সহেলথ। ২০২২ সালে নতুন বিনিয়োগ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন পৌঁছায় ১০০ কোটি ডলারে।   আমেরিকান হসপিটাল অ্যাসোসিয়েশনের ২০২২ সালের ৩ মে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেক্সহেলথ সে সময় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করে। প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসক ও রোগীর ডিজিটাল যোগাযোগ সহজ করা এবং ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ডের সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সংযোগ তৈরিতে কাজ করে। এর সেবার মধ্যে রয়েছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং, নিরাপদ বার্তা আদানপ্রদান ও অনলাইনে বিল পরিশোধ।    নেক্সহেলথের নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী, নিউইয়র্কে প্রি-মেড প্রোগ্রামে পড়ার সময় মেডিকেল রিসেপশনিস্টের কাজ করেন আলামিন। তখন তিনি দেখেন, রোগী ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক কাজ ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা চিকিৎসকদের চেম্বারের কার্যক্রমে বাধা তৈরি করছে। রোগী, চিকিৎসক ও সফটওয়্যার নির্মাতাদের মধ্যে সংযোগ সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে নেক্সহেলথ প্রতিষ্ঠিত হয়।   প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ‘সিনক্রোনাইজার এপিআই’। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড ব্যবস্থার তথ্যের সঙ্গে সফটওয়্যারের সংযোগ তৈরি করে। এর ফলে নতুন স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি সেবাকে চিকিৎসকের চেম্বারে ব্যবহৃত ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সহজ হয়।   ২০২২ সালের সিরিজ সি বিনিয়োগপর্বে নেতৃত্ব দেয় বাকলি ভেঞ্চারস। ওই সময়ের ঘোষণায় নেক্সহেলথ জানায়, তারা ছয় কোটি ৮০ লাখ রোগীর রেকর্ড ব্যবস্থাপনা করছে। এটি সেই বিনিয়োগ ঘোষণার সময়কার পরিসংখ্যান, ২০২৬ সালের হালনাগাদ হিসাব নয়। একইভাবে ১০০ কোটি ডলারের মূল্যায়নও ২০২২ সালের বিনিয়োগপর্বের তথ্য।    উদ্যোক্তা হিসেবে আলামিন ও ওয়ালিদের প্রস্তুতির একটি অংশ শুরু হয়েছিল কলেজজীবনেই। নিউইয়র্ক ইনোভেশন কর্পসের বিবরণ অনুযায়ী, সিটি কলেজে স্নাতক পর্যায়ে পড়ার সময় তাঁরা ২০১৪ সালে জাহ্‌ন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সিটির ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের প্রথম সামাজিক উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে চিকিৎসক ও রোগীর অভিজ্ঞতা ডিজিটাল করার প্রাথমিক ধারণা নিয়ে কাজ করেন।   ওই প্রতিষ্ঠান নেক্সহেলথকে সিটির ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত প্রথম ইউনিকর্ন হিসেবে উল্লেখ করেছে। বেসরকারি স্টার্টআপের মূল্যায়ন অন্তত ১০০ কোটি ডলার হলে তাকে সাধারণভাবে ইউনিকর্ন বলা হয়।    এর আগেই ২০১৮ সালে ফোর্বসের স্বাস্থ্য খাতের ‘থার্টি আন্ডার থার্টি’ তালিকায় স্থান পান দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা। ফোর্বসের পরিচিতিতে তাঁদের উদ্যোগকে রোগীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট, কাগজপত্র, বিল ও ইন্স্যুরেন্সসংক্রান্ত কাজ সহজ করার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরা হয়।    নেক্সহেলথের যাত্রার কেন্দ্রে ছিল চিকিৎসকের চেম্বারের দৈনন্দিন একটি সমস্যা। রোগীকে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাপয়েন্টমেন্ট, যোগাযোগ ও তথ্য ব্যবস্থাপনার কাজ কীভাবে সহজ করা যায়, সেই প্রশ্ন থেকেই প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি গড়ে উঠেছে। কোম্পানির ঘোষিত লক্ষ্য, রোগী, চিকিৎসক ও সফটওয়্যার নির্মাতাদের সংযোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পথ সহজ করা।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৮:২৮