সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
সিটি অ্যান্ড স্টেট নিউইয়র্কের ‘২০২৬ এনওয়াইসি ফর্টি আন্ডার ফর্টি’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন তরুণ নেতা জেমি কাজী। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের সিটি অ্যান্ড স্টেটের ২০২৬ এনওয়াইসি ফর্টি আন্ডার ফর্টি’ তালিকায় বাংলাদেশি জেমি কাজী

নিউইয়র্কের রাজনীতি, নীতিনির্ধারণ ও জনপরিসরে কাজ করা উদীয়মান তরুণ নেতৃত্বের তালিকায় স্থান পেয়েছেন জেমি কাজী। গত ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত সিটি অ্যান্ড স্টেট নিউইয়র্কের ‘২০২৬ এনওয়াইসি ফর্টি আন্ডার ফর্টি’ তালিকায় তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।    কুইন্সে বেড়ে ওঠা কাজী বর্তমানে শ্রমিক সংগঠন থার্টি টু বিজে এসইআইইউর স্টেট অ্যান্ড ফেডারেল পলিটিক্যাল কোঅর্ডিনেটর। সংগঠনটির নির্বাচনী প্রার্থী সমর্থন ও রাজনৈতিক কৌশল তদারক করেন তিনি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ভবন রক্ষণাবেক্ষণকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করে সংগঠনটি।    সিটি অ্যান্ড স্টেটের প্রকাশিত পরিচিতিতে বলা হয়েছে, অভিবাসী কমিউনিটির সংগঠিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলেছে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে কমিউনিটির দাবি নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে গুরুত্ব দেন তিনি।   শ্রমিক সংগঠনে যোগ দেওয়ার আগে কাজী নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে অ্যাড্রিয়েন অ্যাডামসের প্রথম মেয়াদে এবং স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য ডেভিড ওয়েপ্রিন ও ক্যাটালিনা ক্রুজের দপ্তরে কাজ করেছেন। ক্রুজের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং আইন ও বাজেটবিষয়ক পরিচালক হিসেবে ক্লিন স্লেট অ্যাক্ট ও ওয়েজ থেফট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যাক্ট এগিয়ে নিতে জোট গঠনে ভূমিকা রাখেন।    কুইন্সের অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ২৪-এর ডেমোক্র্যাটিক স্টেট কমিটির নির্বাচিত সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন কাজী। তাঁর কাজের মূল ভাবনা হলো, কমিউনিটির সম্মিলিত কণ্ঠকে আইন ও নীতির মাধ্যমে মানুষের জীবনে স্থায়ী পরিবর্তনে রূপ দেওয়া।   সূত্র: সিটি অ্যান্ড স্টেট

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১১:২১
ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো দেশটি সফরে তেহরানে পৌঁছেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম ইরান সফরে তেহরানে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো দেশটি সফরে গেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) তিনি রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নিয়ে ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর আলোচনার কথা রয়েছে।    সফরকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে লাভরভের বৈঠকের সূচি রয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগের দিন এক ঘোষণায় এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছিল।    বাহরাইন থেকে তেহরানে পৌঁছান লাভরভ। এর আগে বাহরাইনে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির সদস্যদেশগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।    রয়া নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এর আগে পেজেশকিয়ানকে জানিয়েছিলেন, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের অবসানে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত মস্কো। সেই কূটনৈতিক তৎপরতার ধারাবাহিকতায় লাভরভের এই সফর হচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১১:১০
বিলি জিন কিং কাপ টেনিসে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করবেন ইয়ারা আল হোগবানি, লারা বুখারি ও মাইসান বিন হাসিন। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক টেনিস প্রতিযোগিতা বিলি জিন কিং কাপে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্বে ৩ নারী

বিলি জিন কিং কাপ টেনিসে সৌদি আরবের হয়ে খেলবেন ইয়ারা আল হোগবানি, লারা বুখারি ও মাইসান বিন হাসিন। ভিয়েতনামে ২১ থেকে ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য এই তিন খেলোয়াড়কে নির্বাচিত করেছে সৌদি টেনিস ফেডারেশন।    আরব নিউজের ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেডারেশন নিজেদের আনুষ্ঠানিক এক্স অ্যাকাউন্টে দল ঘোষণার তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে প্রতিযোগিতার ভেন্যু হিসেবে ভিয়েতনামের দা নাং শহরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।    বিলি জিন কিং কাপ নারীদের জাতীয় দলভিত্তিক আন্তর্জাতিক টেনিস প্রতিযোগিতা। এতে খেলোয়াড়েরা নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এবারের ভিয়েতনাম পর্বে সৌদি দলের হয়ে অংশ নেবেন নির্বাচিত তিনজন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১০:৫৮
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘জবস এনওয়াইসি ম্যানহাটন হায়ারিং হল’ নামের চাকরি মেলা। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে মঙ্গলবার নিয়োগ মেলা, সরাসরি কথা বলা যাবে নিয়োগদাতাদের সঙ্গে

নিউইয়র্কে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে নিয়োগদাতাদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দিতে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত হবে ‘জবস এনওয়াইসি ম্যানহাটন হায়ারিং হল’। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মেলাটি চলবে ২ লাফায়েট স্ট্রিটে। তবে প্রবেশের দরজা বন্ধ হবে দুপুর দেড়টায়।    নিউইয়র্ক সিটির সরকারি কর্মসূচি জবস এনওয়াইসির ঘোষণা অনুযায়ী, মেলায় বেসরকারি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলা, সিটির চাকরির সুযোগ এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকবে। চাকরি খোঁজার পাশাপাশি ক্যারিয়ার সহায়তা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিরাও অংশ নিতে পারবেন।    অংশগ্রহণকারীদের নির্ধারিত চারটি সময়ের স্লটের মধ্যে একটি বেছে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে। জবস এনওয়াইসির সরকারি ইভেন্ট পাতায় দেওয়া ইভেন্টব্রাইট নিবন্ধনব্যবস্থা ব্যবহার করে স্লট নির্বাচন করা যাবে। মেলায় সময় বাঁচাতে আগেই ওয়ার্কফোর্স ওয়ান ক্যারিয়ার সেন্টার সিস্টেমে ক্লায়েন্ট হিসেবে নিবন্ধনের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।    চাকরিপ্রার্থীদের ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র এবং রেজুমের কয়েকটি কপি সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। কিছু নিয়োগদাতা ঘটনাস্থলেই ইন্টারভিউ নিতে পারেন বলে পেশাদার বা অফিস উপযোগী পোশাকে উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আয়োজকেরা।    তবে মেলায় অংশ নিলেই ইন্টারভিউ নিশ্চিত নয়। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি সম্ভাব্য নিয়োগদাতা ও ক্যারিয়ার সেবাদাতাদের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়া এবং পরবর্তী সুযোগ তৈরির আয়োজন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১০:৫০
যুক্তরাষ্ট্রে বোর্ডিং পাস ছাড়া বিমানে না উঠেও গেটে যাওয়ার বিশেষ ‘গেটসায়ড বাই টিএসএ প্রিচেক’ কর্মসূচি সীমিত করেছে টিএসএ। ছবি: সংগৃহীত
টিকিট ছাড়াই বিমানবন্দরের গেটে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করল যুক্তরাষ্ট্র, ১৩ বিমানবন্দরে এখনো চালু

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে টিকিট বা বোর্ডিং পাস ছাড়াই নিরাপত্তা পরীক্ষা পার হয়ে গেট পর্যন্ত যাওয়ার বিশেষ সুযোগ সীমিত করেছে দেশটির পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)। ‘গেটসাইড বাই টিএসএ প্রিচেক’ নামের এই কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত ব্যক্তিরা বিমানে ভ্রমণ না করেও পরিবারের সদস্যদের বিদায় জানাতে কিংবা বিমান থেকে নামা স্বজনদের স্বাগত জানাতে পারেন। দেশজুড়ে প্রায় ৩০০টি বিমানবন্দরে কর্মসূচিটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন তা আবার প্রাথমিক ১৩টি বিমানবন্দরে সীমিত করা হয়েছে।   ফক্স বিজনেস ও অন্যান্য মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে ১৩টি বিমানবন্দরে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই কর্মসূচি অক্টোবরের শুরুতে আরও অনেক বিমানবন্দরে সম্প্রসারণ করা হয়। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে টিএসএ। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে কর্মসূচির আওতা আবার ১৩টি বিমানবন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়। কেন এই সম্প্রসারণ স্থগিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কোনো কারণ জানায়নি।   কোন ১৩টি বিমানবন্দরে এখনো চালু রয়েছে সুবিধাটি? বর্তমানে কর্মসূচির আওতায় রয়েছে অ্যারিজোনার মেসা গেটওয়ে বিমানবন্দর, ওহাইওর জন গ্লেন কলম্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মিশিগানের ডেট্রয়েট মেট্রোপলিটন ওয়েইন কাউন্টি বিমানবন্দর, কানসাসের উইচিটা ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার জাতীয় বিমানবন্দর, ইন্ডিয়ানার ইন্ডিয়ানাপোলিস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নেভাডার লাস ভেগাসের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আরকানসাসের বিল অ্যান্ড হিলারি ক্লিনটন জাতীয় বিমানবন্দর, ওকলাহোমার উইল রজার্স ওয়ার্ল্ড বিমানবন্দর, নেব্রাস্কার ওমাহার এপলি এয়ারফিল্ড, ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইউটাহর সল্ট লেক সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।   কী এই গেটসাইড কর্মসূচি? সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরীক্ষার পর গেট এলাকায় প্রবেশ করতে বৈধ বোর্ডিং পাস প্রয়োজন হয়। ফলে পরিবারের কোনো সদস্য বা বন্ধু বিমানে যাত্রা করলে তাঁকে সাধারণত নিরাপত্তা পরীক্ষার আগেই বিদায় জানাতে হয়। একইভাবে, বিমান থেকে নামার পর স্বজনকে স্বাগত জানাতে আসা ব্যক্তিরাও সাধারণত গেটের কাছে যেতে পারেন না।   ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর করা হয়। এর ফলে বিমানে ভ্রমণ করছেন না, এমন ব্যক্তিদের নিরাপত্তা পরীক্ষার পরের এলাকায় প্রবেশের সুযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে পড়ে। নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ব্যক্তিদের আবার সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।   কারা এই সুবিধা পাবেন? টিএসএ প্রিচেকের অনুমোদিত সদস্যরা এই কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে পারেন। অন্য কিছু অনুমোদিত ভ্রমণকারী কর্মসূচির সদস্যদের কাছেও পরিচিত ভ্রমণকারী নম্বর থাকলে আবেদনের সুযোগ রয়েছে। আবেদন করতে হয় অনলাইনে, সাধারণত বিমানবন্দরে যাওয়ার এক থেকে তিন দিন আগে। অনুমোদন পাওয়ার পর গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র দেখিয়ে নির্ধারিত নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেট এলাকায় প্রবেশ করা যায়।   এই সুবিধার জন্য আলাদা কোনো ফি নেওয়া হয় না। তবে আবেদন করলেই অনুমোদন নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরে কর্মসূচিটি চালু থাকতে হবে এবং টিএসএর অনুমোদন পেতে হবে। শুধু প্রিচেক সদস্যপদ থাকলেই টিকিট ছাড়া গেট এলাকায় প্রবেশের অধিকার তৈরি হয় না।   আটলান্টার যাত্রীদের জন্য কী অর্থ দাঁড়াচ্ছে? জর্জিয়ার আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বর্তমানে এই ১৩টি বিমানবন্দরের তালিকায় নেই। ফলে আটলান্টার বাসিন্দারা এই কর্মসূচির আওতায় টিকিট ছাড়া গেট পর্যন্ত যেতে পারবেন বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। পরিবারের সদস্যকে বিদায় জানানো কিংবা বিমান থেকে নামা স্বজনকে স্বাগত জানানোর পরিকল্পনা থাকলে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি।   তবে টিএসএর এই কর্মসূচি সীমিত করার অর্থ এই নয় যে বিমানবন্দরের অন্য সব ধরনের গেট পাস বা বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। বিমান সংস্থাগুলো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নিজস্ব নিয়মে গেট পাস দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে শর্ত জেনে নিতে হবে।   কবে আবার সম্প্রসারণ করা হবে? কর্মসূচিটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে, এমন ঘোষণা আসেনি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিএসএ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাত্রা এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রমের ওপর এর প্রভাব মূল্যায়ন করছে। তবে কবে আবার আরও বিমানবন্দরে এই সুবিধা চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।   আপাতত যাত্রীদের স্বজনদের বিমানবন্দরের গেট পর্যন্ত যাওয়ার এই সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি বিমানবন্দরে সীমিত রয়েছে। নতুন কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ভ্রমণকারীদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের তালিকা ও প্রবেশের নিয়ম যাচাই করে নেওয়া উচিত।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১০:৩৯
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক অনাগরিকদের ভোট দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কিত তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত। ছবি: সংগৃহীত
নাগরিক নন, এমন অবৈধ ভোটারের সন্দেহে হাজারো ব্যক্তিকে নিয়ে তদন্তে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার অভিযোগে হাজারো ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশনের প্রধান হারমিত ধিলন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সিবিএসের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে তদন্ত চলছে। তবে তাঁর এই বক্তব্য হাজারো ব্যক্তির অবৈধ ভোট দেওয়ার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার ঘোষণা নয়।    সাক্ষাৎকারে ধিলন বলেন, ফেডারেল নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার অনুমতি নেই। বিচার বিভাগের তৎপরতা নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস তৈরির উদ্দেশ্যে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তা অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, বিদ্যমান উদ্বেগের মধ্যেই অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ধরনের তদন্তে সময় লাগে।    এই তৎপরতার মধ্যেই গত ১৫ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিচার বিভাগ। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে যৌথ পর্যালোচনার ভিত্তিতে সংস্থাটি দাবি করেছে, অঙ্গরাজ্যটির ভোটার তালিকায় ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা সম্ভবত মার্কিন নাগরিক নন। সরকারি বিবৃতিতেও এই শনাক্তকরণকে প্রাথমিক বিশ্লেষণ হিসেবে উল্লেখ করে পর্যালোচনা চলমান থাকার কথা বলা হয়েছে।    বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রকাশ্যে পাওয়া ভোটার নিবন্ধনের রেকর্ডের সঙ্গে ফেডারেল অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার নিয়মে প্রত্যেক নিবন্ধিত ভোটারকে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হয়। নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো ডাকব্যালট গণনা বন্ধ রাখার আদেশ চেয়েছে ফেডারেল সরকার।    তবে ভোটার তালিকায় নাম থাকা, ব্যালট পাওয়া এবং বাস্তবে ভোট দেওয়া পৃথক বিষয়। একইভাবে তথ্যের অমিলের ভিত্তিতে কাউকে সম্ভাব্য অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা তাঁর নাগরিকত্ব বা অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। বিচার বিভাগের অভিযোগেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্ভাব্য নাগরিক নন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।    ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট ঠেকাতে অঙ্গরাজ্যে শক্তিশালী সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোও উদ্বেগ জানিয়েছে, পুরোনো অভিবাসন তথ্যের কারণে পরে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ভুলভাবে চিহ্নিত করা হতে পারে। একাধিক গবেষণায় নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার ঘটনা বিরল বলে উঠে এসেছে।    পৃথকভাবে গত ১৬ অক্টোবর বিচার বিভাগ নর্থ ক্যারোলাইনা, নিউইয়র্ক ও আইডাহোতে নাগরিক নন এমন ১৬ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধ ভোট, মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী অপরাধে অভিযোগ আনার ঘোষণা দিয়েছে। এসব ফৌজদারি মামলা এবং হাজারো ব্যক্তিকে নিয়ে চলমান পর্যালোচনা একই বিষয় নয়। অভিযোগ আনা মানেও আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়।    সাক্ষাৎকারে ধিলন আরও জানান, ভোটকেন্দ্রে আইসিই এজেন্ট পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। কোনো নাগরিক নন এমন ব্যক্তির অবৈধ ভোট শনাক্ত হলে সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোট চ্যালেঞ্জের কারণ হতে পারে, পুরো নির্বাচন চ্যালেঞ্জের নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১০:২৮
আমেরিকায় সোশ্যাল সিকিউরিটির রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট পেতে ৪০টি কাজের ক্রেডিট অর্জন প্রয়োজন। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় সোশ্যাল সিকিউরিটি পেতে ১০ বছর কাজই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কিছু বিশেষ যোগ্যতা, জেনে নিন

আমেরিকায় সোশ্যাল সিকিউরিটির রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট পেতে সাধারণভাবে ৪০টি কাজের ক্রেডিট প্রয়োজন। বছরে সর্বোচ্চ চারটি ক্রেডিট পাওয়া যায় বলে এই যোগ্যতা অর্জনে অন্তত ১০ বছর লাগে। তবে ক্রেডিট পূরণ হলেই সঙ্গে সঙ্গে মাসিক টাকা পাওয়া শুরু হয় না। বয়স, বেনিফিট নেওয়ার সময় এবং প্রযোজ্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এসএসএর নিয়মে যোগ্যতা অর্জন এবং মাসিক বেনিফিটের অঙ্ক নির্ধারণ দুটি আলাদা বিষয়।    ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটির আওতাভুক্ত আয় থেকে প্রতি ১ হাজার ৮৯০ ডলারে একটি ক্রেডিট পাওয়া যায়। অর্থাৎ বছরে ৭ হাজার ৫৬০ ডলার যোগ্য আয় থাকলে সর্বোচ্চ চারটি ক্রেডিট অর্জন করা সম্ভব। আয় আরও বেশি হলেও একই বছরে চারটির বেশি ক্রেডিট জমা হয় না।    রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটের জন্য প্রয়োজনীয় কাজের বছরগুলো একটানা হতে হয় না। তবে শুধু আমেরিকায় বসবাস করা বা যেকোনো ধরনের ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়াই ক্রেডিট অর্জনের নিশ্চয়তা নয়। সংশ্লিষ্ট আয় সোশ্যাল সিকিউরিটির আওতাভুক্ত হতে হবে এবং ব্যক্তির আয়ের রেকর্ডে যথাযথভাবে যুক্ত হতে হবে।    মাসিক বেনিফিট কত হবে, তা শুধু ১০ বছর কাজের হিসাব দিয়ে বলা যায় না। এসএসএ সাধারণভাবে সর্বোচ্চ আয়ের ৩৫ বছরের রেকর্ড এবং বেনিফিট নেওয়া শুরুর বয়স বিবেচনা করে। ৩৫ বছরের কম কাজ করলে হিসাবের বাকি বছরগুলোতে শূন্য আয় ধরা হয়। ফলে মাত্র ১০ বছর কাজ করা সবার জন্য নির্দিষ্ট কোনো মাসিক অঙ্কের নিশ্চয়তা নেই।    সাধারণভাবে ৬২ বছর বয়স থেকে কম অঙ্কের রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট নেওয়া যায়। পূর্ণ অবসরের বয়স জন্মসালের ওপর নির্ভর করে। ১৯৬০ সাল বা পরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই বয়স ৬৭ বছর। তাঁদের কেউ ৬২ বছরেই শুরু করলে পূর্ণ অবসরের বয়সে প্রাপ্য অঙ্কের তুলনায় মাসিক বেনিফিট সাধারণত ৩০ শতাংশ কম হয়। পূর্ণ অবসরের বয়সের পর অপেক্ষা করলে ৭০ বছর পর্যন্ত মাসিক অঙ্ক বাড়তে পারে।    ডিসেবিলিটি বেনিফিট বা এসএসডিআইয়ের নিয়ম আলাদা। কম বয়সে অক্ষমতা তৈরি হলে ৪০টির কম ক্রেডিটেও যোগ্যতা হতে পারে। তবে মোট কত দিন কাজ করেছেন, তার পাশাপাশি অক্ষমতা শুরুর আগে সাম্প্রতিক সময়ে কত দিন কাজ করেছেন, সেটিও বিবেচনায় আসে।    শুধু অসুস্থ হওয়া বা সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ থাকলেই এসএসডিআই পাওয়া যায় না। এসএসএর সংজ্ঞা অনুযায়ী, চিকিৎসাগতভাবে নির্ধারণযোগ্য শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কারণে উল্লেখযোগ্য আয়মূলক কাজ করতে অক্ষম হতে হবে। সমস্যাটি অন্তত টানা ১২ মাস স্থায়ী হয়েছে বা হওয়ার আশঙ্কা থাকতে হবে, অথবা তা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।    স্বামী বা স্ত্রীর কাজের রেকর্ড থেকেও নির্দিষ্ট শর্তে পারিবারিক বেনিফিট পাওয়া সম্ভব। ডিভোর্সের পর সাবেক স্বামী বা স্ত্রীর রেকর্ডে বেনিফিটের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অন্তত ১০ বছর বিবাহিত থাকার শর্ত রয়েছে। তবে বয়স, পুনর্বিবাহ ও নিজের বেনিফিটের মতো বিষয়ও প্রযোজ্য হয়। স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে সারভাইভার বেনিফিটের পৃথক নিয়ম রয়েছে। সব বর্তমান দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেই ১০ বছর বিবাহিত থাকতে হবে, এমন নয়।    গ্রিন কার্ড না থাকলে কোনো অবস্থাতেই সোশ্যাল সিকিউরিটি পাওয়া যায় না, এই ধারণাও সঠিক নয়। এসএসএ জানিয়েছে, আমেরিকায় আইনসম্মতভাবে অবস্থানকারী নাগরিক নন এমন ব্যক্তিরাও প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করলে বেনিফিট পেতে পারেন। যোগ্য কাজের ক্রেডিট গণনার জন্য সবাইকে গ্রিন কার্ড পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না। তবে শুধু ওয়ার্ক পারমিট থাকলেই সব ধরনের বেনিফিটের যোগ্যতা নিশ্চিত হয় না।    বাংলাদেশে ফিরে গেলে ছয় মাস পর সবার বেনিফিট বন্ধ হয়ে যাবে, এমন দাবিও সঠিক নয়। এসএসএর বিদেশে অর্থপ্রদানের নিয়মে বাংলাদেশ একটি বিশেষ তালিকায় রয়েছে। বাংলাদেশি নাগরিকের বেনিফিট যে কর্মীর রেকর্ডের ভিত্তিতে দেওয়া হচ্ছে, তিনি আমেরিকায় অন্তত ১০ বছর বসবাস করে থাকলে অথবা অন্তত ৪০টি সোশ্যাল সিকিউরিটি ক্রেডিট অর্জন করলে ছয় পূর্ণ ক্যালেন্ডার মাসের বেশি বিদেশে থাকার পরও অর্থপ্রদান চলতে পারে। ডিপেনডেন্ট ও সারভাইভার বেনিফিটের ক্ষেত্রে বাড়তি শর্ত রয়েছে।    তাই অবসর নেওয়া বা বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় থাকার সিদ্ধান্তের আগে নিজের আয়ের রেকর্ড, জমা হওয়া ক্রেডিট এবং সম্ভাব্য বেনিফিটের হিসাব দেখা প্রয়োজন। এসএসএর ব্যক্তিগত স্টেটমেন্ট ও বিদেশে বেনিফিট পাওয়ার যোগ্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা ব্যবহার করে ব্যক্তিভিত্তিক তথ্য জানা যায়। কোনো পরিচিত ব্যক্তির প্রাপ্ত টাকার অঙ্ককে নিজের ভবিষ্যৎ বেনিফিট ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১০:১১
বেঙ্গালুরুতে ৪০০ ফুট উঁচুতে নির্মিত বিজয় মালিয়ার বিলাসবহুল ‘স্কাই ম্যানশন’। ছবি: সংগৃহীত
৪০০ ফুট উঁচু ভবনের ২ কোটি ডলারের বিলাসবহুল বাড়ি! এক দিনের জন্যও পা রাখেননি মালিক বিজয়

ভারতের বেঙ্গালুরুতে মাটি থেকে প্রায় ৪০০ ফুট উঁচুতে একটি আবাসিক ভবনের ওপর নির্মিত হয়েছে দোতলা বিলাসবহুল বাড়ি। বাগান, হেলিপ্যাড, সুইমিংপুল ও চারপাশের শহর দেখার খোলা জায়গা থাকা এই ‘স্কাই ম্যানশন’ তৈরি হয়েছিল ব্যবসায়ী বিজয় মালিয়ার জন্য। কিন্তু বাড়িটি নির্মাণাধীন থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালে ভারত ছেড়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান তিনি। ঋণ ও প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মধ্যে তাঁর সেখানে বসবাসের স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।    বাড়িটি রয়েছে বেঙ্গালুরুর ইউবি সিটির কিংফিশার টাওয়ার্সে। প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই বাসভবন সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টের মতো নয়। উঁচু ভবনের ওপর বিশাল একটি ক্যান্টিলিভার প্ল্যাটফর্মে আলাদা দোতলা বাড়ির আদলে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর চারপাশের খোলা ডেক থেকে শহরের চারদিকে দেখা যায়। স্থাপনাটির ড্রোনচিত্র ধারণকারী শ্রীহরি কারান্থের প্রকাশিত বিবরণেও এসব বৈশিষ্ট্য উল্লেখ রয়েছে।    কিংফিশার টাওয়ার্স প্রকল্পটি গড়ে ওঠে ইউনাইটেড ব্রুয়ারিজ হোল্ডিংস ও প্রেস্টিজ এস্টেটস প্রজেক্টসের যৌথ উন্নয়ন চুক্তির মাধ্যমে। মিন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে ৮১টি অ্যাপার্টমেন্টের পাশাপাশি এই বিশাল পেন্টহাউস রাখা হয়। ফলে ছাদের বাড়িটি নিচের আবাসিক ইউনিটগুলো থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য পেয়েছে।    মালিয়ার অনুপস্থিতির পেছনে রয়েছে তাঁর ব্যবসায়িক ও আইনি সংকট। কিংফিশার এয়ারলাইনস ২০১২ সালে কার্যক্রম বন্ধ করার পর ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে তাঁর বিরোধ দীর্ঘ হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষও প্রতিষ্ঠানটির পতনসংশ্লিষ্ট প্রতারণার অভিযোগে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।    রয়টার্সের ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া দেউলিয়া ঘোষণার আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে হেরে যান মালিয়া। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি ভারতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধেও পৃথক আইনি লড়াই করছিলেন।    তবে বাড়িটি বর্তমানে সম্পূর্ণ খালি কি না কিংবা এর ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের সর্বশেষ অবস্থা কী, তা নিশ্চিত করার মতো সাম্প্রতিক প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই বছরের পর বছর বাড়িটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত থাকার প্রচারিত দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বলা যাচ্ছে না।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১০:৩
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে স্পেসএক্সের শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা দেন ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে স্পেসএক্সের মালিকানাধীন একটি শেয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মাস্কের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে ২০২৭ সালে নিজের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইলন মাস্ক। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই ঘোষণা দেন তিনি। তবে কারা এই সুবিধা পাবে এবং কীভাবে শেয়ার হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।    রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাস্ক তাঁর পোস্টে বলেছেন, আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে নিজের স্পেসএক্সের শেয়ার থেকে একটি করে দেবেন। এটিকে ভবিষ্যতে আরও এমন উদ্যোগের প্রথমটি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি।    ঘোষণায় শিশুদের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়নি। একইভাবে নাগরিকত্ব বা বসবাসের ভিত্তিতে যোগ্যতা ঠিক করা হবে কি না, তাও স্পষ্ট নয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সব শিশু এই উদ্যোগের আওতায় আসবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।    ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের কোন সময় শেয়ার দেওয়া হবে, কীভাবে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে এবং লাখ লাখ শিশুর কাছে শেয়ার হস্তান্তরের ব্যবস্থা কী হবে, সেসব বিষয়ে মাস্ক কোনো ব্যাখ্যা দেননি।    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক জনকল্যাণমূলক একটি তহবিলে নিজেদের ৫ শতাংশ শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনা জানানোর পর মাস্কের এই ঘোষণা আসে। ওই উদ্যোগের প্রতিক্রিয়ায় তিনি শেয়ার সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপর শিশুদের স্পেসএক্সের শেয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।    আপাতত এটি মাস্কের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি। বাস্তবায়নের সময়সূচি, প্রাপকদের যোগ্যতা ও শেয়ার বিতরণের প্রক্রিয়া প্রকাশ না হওয়ায় পরিবারগুলো কীভাবে এই সুবিধা পাবে, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৯:৫০
উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন নিয়ে মানবাধিকার রিপোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
উত্তর প্রদেশে নির্বাচনের আগে মুসলিমদের ওপর হামলা ও গ্রেপ্তার, দুই মাসে নিহত ৪

ভারতের উত্তর প্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে মুসলিমদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও বাড়িঘর উচ্ছেদের অভিযোগ উঠে এসেছে নতুন এক মানবাধিকার প্রতিবেদনে। সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে সন্দেহভাজন ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলায় অন্তত চারজন মুসলিম নিহত হয়েছেন। একই সময়ে পুলিশের গুলিতে অন্তত ৭০ জন আহত এবং নির্বিচারে ১৫২ জনকে গ্রেপ্তার বা আটক করার অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে।   সংগঠনটির প্রকাশিত ‘ইলেকশন ওয়াচ উত্তর প্রদেশ ২০২৭’ প্রতিবেদনের প্রথম সংস্করণে ১ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই মাসের ঘটনাবলি তুলে ধরা হয়েছে। এতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, পুলিশি অভিযান, রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য এবং নির্বাচনের আগে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত চারজনের মধ্যে ২০ বছর বয়সী এক যুবক রয়েছেন। তাঁর এক আত্মীয়ের বোরকা পরা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। অন্য একটি ঘটনায় ‘লাভ জিহাদ’ ষড়যন্ত্রতত্ত্বের উল্লেখ করে এক স্কুলশিক্ষককে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   সংগঠনটির হিসাবে, এই চারটি হত্যাকাণ্ডসহ ২০২৬ সালে উত্তর প্রদেশে সন্দেহভাজন ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলায় নিহত মুসলিমের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে। ২০২৫ সালের পুরো বছরে এ ধরনের ঘটনায় সাতজন মুসলিম নিহত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া ৫ আগস্ট শামলি এলাকায় পুলিশের গুলিতে এক মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাও পৃথকভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।   পুলিশি অভিযানে গুলিবর্ষণের ঘটনাও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশের ৭৫টি জেলার মধ্যে ২৭টিতে গ্রেপ্তারের আগে পুলিশের গুলিতে অন্তত ৭০ জন মুসলিম আহত হয়েছেন। এ ধরনের অভিযান সাধারণভাবে ‘হাফ এনকাউন্টার’ নামে পরিচিত। আহতদের মধ্যে ৫২ জনের বিরুদ্ধে গরু জবাই বা গবাদিপশু চুরির অভিযোগ ছিল।   একই সময়ে অন্তত ১৫২ জন মুসলিমকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার বা আটক করার অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তাঁদের মধ্যে সাতজন নারী রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সমালোচনা করায় কয়েকজনকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এ ছাড়া দুই মাসে অন্তত আরও ১৬ জন মুসলিম শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। তাঁদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় শিশুটিকে মারধর করা হয়।   প্রতিবেদনে নথিভুক্ত ১৪টি হামলার ঘটনার কোনোটিতেই হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। বরং দুটি ঘটনায় পুলিশ হামলাকারীদের পরিবর্তে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।   রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে অন্তত ২১টি বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি বক্তব্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে দায়ী করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যোগী আদিত্যনাথ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘বাবরের অনুসারী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী মাদ্রাসায় শিক্ষিত ব্যক্তিদের মানসিকতার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদীদের তুলনা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজ্যের এক মন্ত্রী ‘আমাদের মুসলিম শব্দের প্রয়োজন নেই’ বলেও মন্তব্য করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এসব বক্তব্যের পর সংশ্লিষ্ট পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।   প্রতিবেদনে ২০১৩ সালের মুজাফফরনগর সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিচারিক সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে একটি আদালত ওই সহিংসতার আগে দেওয়া বক্তব্যের ঘটনায় বিজেপি নেতা ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দেন। ২০১৩ সালের ওই সহিংসতায় ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন, যাঁদের অধিকাংশই মুসলিম।   মুসলিমদের বাড়িঘর ও ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সংগঠনটির দাবি, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে অন্তত নয়টি ঘটনায় মুসলিমদের ৩৪টি বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে।   এ ছাড়া উত্তর প্রদেশ সরকার রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ডিগ্রি প্রদানের ক্ষমতা প্রত্যাহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এর ফলে প্রায় ৩৭ হাজার মুসলিম শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।   বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের চলাফেরা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার অভিযোগও নথিভুক্ত করা হয়েছে। অন্তত ১০টি জেলার ১২টি ঘটনায় বিরোধী নেতাদের গৃহবন্দি রাখা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   পুলিশি হেফাজতে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে যাওয়া কিংবা মুখ্যমন্ত্রীর সফরের সময় প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ঠেকাতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশের কংগ্রেস সভাপতি শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই তিনবার আটক হয়েছিলেন।   ভারতের সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে দেশটির মোট মুসলিম জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বেশি মানুষের বসবাস। সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন জানিয়েছে, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগগুলো নথিভুক্ত করাই তাদের মাসিক প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্দেশ্য।   তবে প্রতিবেদনে উল্লেখিত সব অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এসব বিষয়ে উত্তর প্রদেশ সরকার ও পুলিশের পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়াও প্রকাশিত তথ্যে পাওয়া যায়নি।   সূত্র: মাকতুব মিডিয়া

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৯:৩৮
আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ৩০০ জন আহত। ছবি সংগৃহীত
আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশ স্টেশনে আগুন, সংঘর্ষে আহত প্রায় ৩০০

ইউরোপের দেশ আলবেনিয়ায় কয়েক দিন ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিক্ষোভের সময় একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আহতদের অর্ধেকের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। ঘটনার পর সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী এদি রামা বলেছেন, প্রতিবাদ করা নাগরিকের অধিকার হলেও সহিংসতা অপরাধ।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলবেনিয়ায় চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে রোববার নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশ স্টেশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রবেশপথ লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে।   পেট্রলবোমা হামলায় একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন ধরে যায়। তবে আগুনে ভবনটির কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা ঘটনার সময় ভেতরে কেউ অবস্থান করছিলেন কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের অর্ধেকের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তবে আহতদের মধ্যে কতজনের অবস্থা গুরুতর এবং কতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করা যায়নি।   সহিংসতার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী এদি রামা। তিনি বলেন, বিক্ষোভ করা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে সেই অধিকার প্রয়োগের নামে সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়।   প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, দেশের গণতান্ত্রিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই সীমারেখা বজায় রাখা জরুরি।   রামা বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ স্টেশনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে সীমা অতিক্রম হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও সহিংসতার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় জবাবদিহি করতে হবে।   আলবেনিয়ায় চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ এবং সরকারি স্থাপনায় হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।   তবে এই বিক্ষোভের সুনির্দিষ্ট দাবিদাওয়া, পুলিশ স্টেশনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কতজনকে আটক করা হয়েছে কিংবা কর্তৃপক্ষ নতুন কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই।   রোববারের সহিংসতার পর প্রধানমন্ত্রী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার স্বীকার করার পাশাপাশি সরকারি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৯:২৪
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির অক্টোবরের অর্থপ্রদান
যুক্তরাষ্ট্রে ২১ অক্টোবর আসছে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ, জন্মতারিখ অনুযায়ী পাবেন সুবিধাভোগীরা

যুক্তরাষ্ট্রে লাখো সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগী চলতি সপ্তাহে অক্টোবর মাসের নিয়মিত অবসরভাতা ও অন্যান্য সুবিধার অর্থ পেতে যাচ্ছেন। আগামী বুধবার, ২১ অক্টোবর, যেসব সুবিধাভোগীর জন্মমাসের তারিখ ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে, তাদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার কথা। ২০২৬ সালের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে পরবর্তী কিস্তি দেওয়া হবে ২৮ অক্টোবরও। যোগ্যতার শর্ত পূরণকারী কিছু অবসরপ্রাপ্তের মাসিক সুবিধার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১৮১ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে সবাই এই পরিমাণ পাবেন না; কর্মজীবনের আয়, অবসর নেওয়ার বয়স এবং কখন থেকে সুবিধা নেওয়া শুরু করেছেন, তার ওপর অর্থের পরিমাণ নির্ভর করে।   যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসএসএ) সাধারণত সুবিধাভোগীদের জন্মতারিখ অনুযায়ী মাসের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বুধবারে অর্থ পাঠায়। এই নিয়ম মূলত তাদের জন্য, যারা ১৯৯৭ সালের এপ্রিলের পর সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা নেওয়া শুরু করেছেন এবং একই সঙ্গে সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই পান না। চলতি মাসের সময়সূচি অনুযায়ী, যাদের জন্মদিন মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে, তাদের অর্থ ১৪ অক্টোবর দেওয়া হয়েছে। যাদের জন্মদিন ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে, তারা ২১ অক্টোবর অর্থ পাবেন। আর যাদের জন্মদিন ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে, তাদের অর্থ পাঠানোর নির্ধারিত দিন ২৮ অক্টোবর। তবে সব সুবিধাভোগীর ক্ষেত্রে এই সময়সূচি প্রযোজ্য নয়। যারা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকেই সোশ্যাল সিকিউটির অর্থ পাচ্ছেন, তাদের সাধারণত মাসের ৩ তারিখে অর্থ দেওয়া হয়। যারা সোশ্যাল সিকিউরিটি ও এসএসআই—দুই ধরনের সুবিধাই পান, তাদের সাধারণত এসএসআইয়ের অর্থ মাসের ১ তারিখে এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ ৩ তারিখে দেওয়া হয়। নির্ধারিত দিনে অর্থ না পৌঁছালে এসএসএ যোগাযোগ করার আগে আরও তিনটি ডাক-যোগাযোগের দিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দেয়। মাসে সর্বোচ্চ কত ডলার পাওয়া যেতে পারে সোশ্যাল সিকিউটির অবসরভাতার পরিমাণ সবার জন্য এক নয়। একজন কর্মী কর্মজীবনে কত আয় করেছেন, কোন বয়সে অবসর নিয়েছেন এবং কখন থেকে সুবিধা দাবি করেছেন—এসব বিষয় মাসিক অর্থ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে সর্বোচ্চ সুবিধার উদাহরণ হিসেবে, ২২ বছর বয়স থেকে প্রতি বছর সামাজিক নিরাপত্তা করের আওতাভুক্ত সর্বোচ্চ আয় করা কোনো কর্মী ৭০ বছর বয়সে অবসর নিলে মাসে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১৮১ ডলার পেতে পারেন। একই ধরনের আয় থাকলে পূর্ণ অবসরের বয়সে অবসর নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা ৪ হাজার ১৫২ ডলার। আর ৬২ বছর বয়সে অবসর নিলে সর্বোচ্চ পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৬৯ ডলার। অর্থাৎ, আগে অবসর নিয়ে সুবিধা দাবি করলে সাধারণত মাসিক অর্থের পরিমাণ কমে যায়। অন্যদিকে পূর্ণ অবসরের বয়স পার হওয়ার পর ৭০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করলে বিলম্বিত অবসর সুবিধার কারণে মাসিক অর্থ বাড়তে পারে। তবে ৭০ বছরের পর অপেক্ষা করলেও এই ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সুবিধা বাড়ে না। অবসরভাতা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য অধিকাংশ কর্মীর ৪০টি সোশ্যাল সিকিউরিটি ক্রেডিট প্রয়োজন হয়, যা সাধারণত প্রায় ১০ বছর কাজ করার মাধ্যমে অর্জন করা যায়। ২০২৬ সালে প্রতি ১ হাজার ৮৯০ ডলার যোগ্য আয়ের বিপরীতে একটি ক্রেডিট পাওয়া যায়। বছরে সর্বোচ্চ চারটি ক্রেডিট অর্জন করা সম্ভব। তবে কত ক্রেডিট রয়েছে, তা মূলত সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে কাজে লাগে; মাসিক অর্থের পরিমাণ নির্ধারণে কর্মজীবনের আয় ও অবসরের বয়সও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৭ সালে বাড়ছে সুবিধার অর্থ অক্টোবরের ২১ তারিখে যেসব অর্থ পাঠানো হবে, সেগুলো ২০২৬ সালের জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা (COLA) অনুযায়ী নির্ধারিত। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছিল। তবে ২০২৭ সালের জন্য নতুন করে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নতুন সমন্বয়ের ফলে প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন নাগরিকের সোশ্যাল সিকিউরিটি ও এসএসআই সুবিধায় পরিবর্তন আসবে। এর মধ্যে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীর বর্ধিত অর্থ ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। অন্যদিকে প্রায় ৭৩ লাখ এসএসআই গ্রহীতার বর্ধিত অর্থ দেওয়া শুরু হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। কেউ কেউ দুই ধরনের সুবিধাই পান বলে এই সংখ্যাগুলো পরস্পরের সঙ্গে আংশিকভাবে মিলে যেতে পারে। এসএসএর হিসাব অনুযায়ী, ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গড় মাসিক সুবিধা প্রায় ৭৫ ডলার বাড়বে। তবে প্রত্যেকের প্রকৃত বৃদ্ধি এক হবে না; ব্যক্তিগতভাবে বর্তমানে কত অর্থ পাওয়া হচ্ছে, তার ওপর নতুন পরিমাণ নির্ভর করবে। জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয়ের উদ্দেশ্য হলো মূল্যবৃদ্ধির কারণে সুবিধাভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা যাতে অতিরিক্ত কমে না যায়, তা কিছুটা সুরক্ষিত রাখা। এ বৃদ্ধির হিসাব করা হয় শহরাঞ্চলের মজুরিভোগী ও কেরানি পেশাজীবীদের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই-ডব্লিউয়ের পরিবর্তনের ভিত্তিতে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম মন্ত্রণালয়ের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো এই সূচকের তথ্য প্রকাশ করে। নতুন সুবিধার তথ্য কখন জানা যাবে যারা ব্যক্তিগত ‘মাই সোশ্যাল সিকিউরিটি’ অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন, তারা নভেম্বরের শেষ দিক থেকে নিজেদের ২০২৭ সালের কোলা-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনলাইনে দেখতে পারবেন। যাদের অনলাইন অ্যাকাউন্ট নেই বা যারা কাগজে বিজ্ঞপ্তি পেতে চান, তাদের কাছে ডিসেম্বর মাসে ডাকযোগে নতুন সুবিধার তথ্য পাঠানো হবে। সুবিধাভোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২১ অক্টোবরের অর্থপ্রাপ্তির তারিখ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্মতারিখ ও সুবিধা পাওয়ার শ্রেণির ওপর। আর ৫ হাজার ১৮১ ডলারের সর্বোচ্চ মাসিক অঙ্কটি কেবল নির্দিষ্ট আয় ও অবসরের শর্ত পূরণকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই প্রত্যেকের নিজস্ব সুবিধার পরিমাণ ও পরবর্তী অর্থপ্রাপ্তির তারিখ জানতে ব্যক্তিগত সোশ্যাল সিকিউরিটি হিসাবের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৯:১০
ইউরোপের অস্থিরতায় বাংলাদেশের পোশাক রফতানি নিয়ে উদ্বেগ
ইউরোপে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি, বাড়ছে উদ্বেগ

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক-সামাজিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দেশের মোট পোশাক রফতানির প্রায় অর্ধেকই যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে। ফলে ওই অঞ্চলে ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাওয়া, পণ্য কেনার প্রবণতায় পরিবর্তন কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বিঘ্ন তৈরি হলে বাংলাদেশের রফতানিকারকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপের কয়েকটি বড় বাজারে আগে থেকেই রফতানি কমার প্রবণতা থাকায় নতুন অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।   গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সের প্যারিস, লিওঁ, মার্সেই ও লিমোজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি সেবার মান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ থেকে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এদিন পুড়িয়ে দেওয়া হয় দেড় শতাব্দী পুরোনো লিমোজের ঐতিহ্যবাহী সিটি হল। একই দিনে ইতালির মিলানেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির কারণে ক্রেতা ও পর্যটকদের আনাগোনায় ব্যস্ত পিয়াজ্জা দেল দুয়োমো এবং আশপাশের বিলাসপণ্যের বিপণিবিতানগুলো খালি হয়ে যায়। ফ্রান্স ও ইতালির পাশাপাশি বেলজিয়াম ও পর্তুগালেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য ইউরোপ গুরুত্বপূর্ণ বাজার। তবে চলমান অস্থিরতার কারণে সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হলে পণ্য বিক্রিতে প্রভাব পড়তে পারে। এতে বাংলাদেশের রফতানিকারকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও অস্থিরতা কত দিন চলবে এবং আমদানি চাহিদার ওপর এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে পর্যটকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। অস্থিরতার কারণে পর্যটন ও মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হলে পণ্য বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশের রফতানিকারকদেরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে এবং ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রফতানির ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশ গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয়। এ সময়ে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯০৬ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ রফতানি কমেছে ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। ইইউর বড় বাজারগুলোর মধ্যে জার্মানিতে বাংলাদেশের মোট পোশাক রফতানির ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ, স্পেনে ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসে ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ, ফ্রান্সে ৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ এবং ইতালিতে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ গেছে। বছরওয়ারি হিসাবে জার্মানিতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ। ফ্রান্সে এ হার ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং ইতালিতে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ সাম্প্রতিক অস্থিরতার আগেই ইউরোপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশের রফতানি নিম্নমুখী ছিল। নতুন পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এ বাজারগুলোয় ব্যবসা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ইইউর বাজারে রফতানিতে কিছুটা প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ইইউর দেশগুলোয় বাংলাদেশ ৪৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ পরিমাণ ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি। এ সময়ে স্পেনে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। নেদারল্যান্ডসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, পোল্যান্ডে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং সুইডেনে ১৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। বিপরীতে ফ্রান্সে রফতানি কমেছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ, ইতালিতে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং জার্মানিতে দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে রফতানি বাড়লেও ইইউর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে তৈরি পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এমএস ডায়িং প্রিন্টিং অ্যান্ড ফিনিশিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব তারা অনুভব করছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা অর্ডারের পরিমাণ নিয়মিত সময়ের তুলনায় কম। তবে এ সমস্যা শুধু সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে তৈরি হয়নি; এর আগে থেকেই বাজারের মন্দার কারণে অর্ডার কম ছিল। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রতিষ্ঠানটি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্ডার কমে যাওয়ার পেছনে ইউরোপের বর্তমান অস্থিরতার প্রভাব কতটা, তা এখনই আলাদা করে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রফতানি খাতে বড় ধরনের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রয়কৌশলেও পরিবর্তন আসছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এইচঅ্যান্ডএম, ইন্ডিটেক্স ও প্রাইমার্কের মতো বড় ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে কেনা পোশাকের একটি অংশ ভারত, মিসরসহ অন্যান্য দেশে সরিয়ে নিচ্ছে। ক্রেতারা এখন একক কোনো দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন ও পণ্য সংগ্রহের উৎসে বৈচিত্র্য আনতে চাইছেন। পাশাপাশি পণ্যের দাম, সরবরাহের সময় এবং উৎপাদন ব্যয়ও তাদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। রফতানিকারকদের মতে, বৈশ্বিক চাহিদার মন্থরতা ও ক্রেতাদের ব্যয় সাশ্রয়ের উদ্যোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যয় এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তাও এ পরিবর্তনের পেছনে ভূমিকা রাখছে। ভারতসহ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোয় তুলনামূলক কম খরচে পণ্য উৎপাদন এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ার সম্ভাবনাও ক্রয়াদেশ বণ্টনে প্রভাব ফেলছে। ইউরোপে অস্থিরতা বাড়তে থাকলে ক্রেতাদের কেনাকাটার সিদ্ধান্তে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (ইউরোচেম) চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ মনে করেন, ইউরোপের অস্থিরতার সম্ভাব্য প্রভাবের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিয়েও গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। তাঁর মতে, ইউরোপের পরিস্থিতি বাংলাদেশের রফতানিতে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্যবসা করা বিশ্বের অন্যান্য দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নুরিয়া লোপেজ বলেন, রাজনৈতিক মেরুকরণ, বিভিন্ন দেশে আসন্ন নির্বাচন, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া চাপ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। বাংলাদেশের পোশাক খাতের ক্ষেত্রে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, শ্রম অসন্তোষ, মজুরি নিয়ে বিরোধ এবং ব্যবসার পরিবেশে স্থিতিশীলতার অভাব বড় চ্যালেঞ্জ। বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের কাছে স্থিতিশীলতার শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা, রফতানি কার্যক্রমের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থা আধুনিক করা জরুরি। বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগী হিসেবে ভারতের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তুলাভিত্তিক পোশাকের ক্রয়াদেশ বাংলাদেশ থেকে ভারতে সরে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ইউরোপের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পোশাক আমদানির পরিসংখ্যানেও বাংলাদেশের রফতানির ওপর চাপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইইউর পোশাক আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইইউর পোশাক আমদানির মূল্য ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৪৫ লাখ ইউরো থেকে কমে ১ হাজার ১৯২ কোটি ৮০ লাখ ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ আট মাসে বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমার তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আমদানি হ্রাসের হার প্রায় তিন গুণ। নিট পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ইউরোপের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের রফতানির জন্য তা বড় উদ্বেগের কারণ হবে। এমনিতেই ইউরোপের বাজারে বিক্রি কমেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির দুরবস্থার প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছে। রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাকের মতে, ইউরোপের অস্থিরতার প্রভাব শুধু বাংলাদেশের ওপর পড়বে না; ইইউতে পোশাক রফতানি করা সব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তেলের দাম বৃদ্ধির চাপ। শীতকালে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা ও দাম আরও বাড়তে পারে। মূল্যস্ফীতির চাপ এবং চলমান অস্থিরতা বিবেচনায় নিয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সামনের দিনগুলোয় ইউরোপের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে সংকোচন দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে বাংলাদেশের বড় কোনো বিকল্প বাজার গড়ে ওঠেনি। ফলে ইইউর বাজারে চাহিদা কমে গেলে তার প্রভাব মোকাবেলা করা কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, ইউরোপের অস্থিরতাকে সরাসরি বাজার সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। তাঁর মতে, এ ধরনের বিক্ষোভ মূলত সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। কোনো দেশে অস্থিরতা দেখা দিলেই যে আমদানি কমে যাবে, তা নিশ্চিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বেড়েছে। মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন। ব্যবসা-বাণিজ্যে এ ধরনের সংকট আসতেই পারে। তাই বাংলাদেশের রফতানিকারকদের এসব পরিস্থিতি মোকাবেলার সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং সম্ভাব্য সংকটের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৮:৫১
ফ্রান্সের অস্থিরতায় চাপের মুখে ইউরোর দর
ফ্রান্সে দাঙ্গা, জ্বালানির ঊর্ধ্বমূল্য ও বৈশ্বিক উদ্বেগে ইউরোর দর কমল, শক্তিশালী ডলার

জ্বালানির উচ্চমূল্য ও ফ্রান্সের রাজনৈতিক অস্থিরতা ইউরোপের মুদ্রাবাজারে নতুন চাপ তৈরি করেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার ডলারের বিপরীতে ইউরোর দর কমেছে। দেশটিতে সপ্তাহান্তে ব্যাপক বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুতর অস্থিরতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উচ্চমূল্য ইউরোপের অর্থনীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সোমবার ইউরোর দর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ কমে প্রতি ডলারে ১ দশমিক ১২১৮ ডলারে দাঁড়ায়। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি স্থানীয় এলাকায় আংশিক ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারফিউ জারির অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা ইউরোর ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে সতর্ক হয়ে উঠেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোর ওপর বর্তমান চাপের মাত্রা অক্টোবরের শুরুর দিকের তুলনায় কম। তাঁদের ধারণা, ফ্রান্সের রাজনৈতিক সংকট যদি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ইউরোজোনের অন্যান্য দেশের বাজার ও অর্থনৈতিক আস্থায় প্রভাব ফেলে, তাহলেই ইউরোর ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি হতে পারে। এর আগে অক্টোবরের শুরুতে ফ্রান্সের সরকারি বন্ড ও জার্মানির তুলনামূলক নিরাপদ সরকারি বন্ডের সুদের হারের ব্যবধান দ্রুত বেড়ে যায়। কয়েক দিনের মধ্যে এই ব্যবধান প্রায় ৪০ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ১৫০ বেসিস পয়েন্ট ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এতে ফ্রান্সের পাশাপাশি ইউরোজোনের অন্যান্য দেশের ঋণঝুঁকি নিয়েও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ে। সোমবার ফ্রান্স ও জার্মানির বন্ডের ব্যবধান আরও দুই বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ১৪৪ বেসিস পয়েন্টে পৌঁছায়। মুদ্রাবাজারে ডলারের অবস্থানও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে উত্থান ডলারকে সমর্থন জুগিয়েছে। কিন্তু এখন বিনিয়োগকারীদের একাংশ ভাবছেন, এআই খাতে বিনিয়োগের গতি কমে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিও দুর্বল হতে পারে। এআই খাতে ব্যয় কমলে একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমার ঝুঁকি তৈরি হবে, অন্যদিকে ঋণের চাহিদাও কমতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ডলারের পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও নিম্নমুখী হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ফলে ডলারের ভবিষ্যৎ শক্তি নিয়ে বাজারে নতুন হিসাবনিকাশ শুরু হয়েছে। জ্বালানির দাম ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নির্ধারণের সিদ্ধান্তও মুদ্রাবাজারের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কমার্জব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও পণ্যবাজার গবেষণা বিভাগের প্রধান থু লান নগুয়েনের মতে, ইউরো-ডলারের বিনিময় হারের ক্ষেত্রে শুধু তেলের দাম নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কীভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হলেও ফেডারেল রিজার্ভ যদি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত না দেয়, তাহলে ডলার সেই পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি সুবিধা নিতে পারবে না। মার্চে ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম বৃদ্ধি ডলারকে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল ইউরো ও জাপানি ইয়েনের মতো মুদ্রা চাপে পড়েছে। সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা কমলেও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ছিল। ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও নতুন চার বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ৮৯ দশমিক ৭৪ ইউরোতে পৌঁছায়। সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে—এমন সম্ভাবনা দেখছেন বাজারের প্রায় ৮৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ মোট ৭৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার কমানোর প্রত্যাশাও রয়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষেত্রেও সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা কাছাকাছি ধারায় এগিয়েছে। সোমবার মার্কিন ডলার সূচক শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১০১ দশমিক ৮৭-তে দাঁড়ায়। এই সূচক বিশ্বের প্রধান কয়েকটি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের সামগ্রিক শক্তি পরিমাপ করে। এদিকে জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ডলার শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে ১৫৮ দশমিক ২০ ইয়েনে পৌঁছায়। জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কাজুও উয়েদা সোমবার জানিয়েছেন, সুদের হার আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে যথাযথ গতিতে সুদের হার বাড়ানো হলে বন্ডের সুদের হারে আকস্মিক উল্লম্ফন এড়ানো সম্ভব হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা দেশটির বিপুল সরকারি ঋণের বোঝা আরও বাড়াতে পারে—এমন উদ্বেগ রয়েছে। আমোভা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান বৈশ্বিক কৌশলবিদ নাওমি ফিঙ্কের মতে, বন্ড ও মুদ্রাবাজারের চাপ জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দ্রুত স্বাভাবিক সুদের হারে ফেরার দিকে ঠেলে দিতে পারে। একই সঙ্গে সরকারের ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনার জন্য স্পষ্ট অর্থায়নের উৎস দেখানোর প্রয়োজনীয়তাও বাড়বে। চীনা মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দর শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ কমে অফশোর বাজারে ৬ দশমিক ৬৮১৫ ইউয়ানে নেমেছে। সোমবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা বেশি বেড়েছে। এর ফলে ইউয়ান ২০২২ সালের জুনের পর ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলীয় ডলারের দর শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি মার্কিন ডলারে শূন্য দশমিক ৬৯৮৮ ডলারে দাঁড়ায়। সব মিলিয়ে, ফ্রান্সের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য ইউরোর ওপর চাপ তৈরি করলেও মুদ্রাবাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ভর করছে আরও কয়েকটি বিষয়ের ওপর। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, এআই খাতে বিনিয়োগের গতি এবং জ্বালানির দাম—এই তিনটি বিষয় আগামী দিনগুলোতে ডলার ও ইউরোর অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৮:৩৯
প্রোস্টেটের এমআরআই ছবিতে গ্রন্থির আকার বৃদ্ধি
প্রোস্টেট ক্যানসারের ওষুধ প্রতিরোধের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

প্রোস্টেট ক্যানসারের কিছু ধরন কেন চিকিৎসায় সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ একটি আণবিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, আরএনএর বিশেষ একটি ধরন ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য এবং ওষুধের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। এই অণুর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে চিকিৎসায় প্রতিরোধী হয়ে ওঠা কিছু ক্যানসার কোষকে আবারও নির্দিষ্ট ওষুধের প্রতি সংবেদনশীল করার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে অবস্থিত ফ্রেড হাচ ক্যানসার সেন্টারের গবেষকেরা এ গবেষণা পরিচালনা করেছেন। ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটিতে ট্রান্সফার আরএনএ বা টিআরএনএ নামের একটি অণুর ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই অণু প্রোস্টেট ক্যানসার কোষের ধরন পরিবর্তন এবং চিকিৎসার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণাটির অন্যতম লেখক এবং ফ্রেড হাচ ক্যানসার সেন্টারের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু হসিয়েহের মতে, প্রোস্টেট ক্যানসার কেন ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তা বোঝার জন্য আরও অনেক কিছু জানার বাকি রয়েছে। তবে নতুন গবেষণাটি চিকিৎসার জন্য একটি সম্ভাবনাময় লক্ষ্য চিহ্নিত করেছে। নির্দিষ্ট ধরনের টিআরএনএ আক্রমণাত্মক প্রোস্টেট ক্যানসারের সম্ভাব্য চিহ্ন হিসেবেও কাজে লাগতে পারে বলে তিনি মনে করেন। প্রোস্টেট হলো পুরুষের প্রজননতন্ত্রের একটি গ্রন্থি। এই গ্রন্থিতে ক্যানসার হলে তাকে প্রোস্টেট ক্যানসার বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পুরুষদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এটি। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, জীবনের কোনো এক পর্যায়ে প্রতি আটজন পুরুষের মধ্যে প্রায় একজনের এই রোগ শনাক্ত হতে পারে। মানবদেহের কোষে জিনগত তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রোটিন তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ায় আরএনএর একাধিক ধরন কাজ করে। মেসেঞ্জার আরএনএ বা এমআরএনএ ডিএনএ থেকে পাওয়া নির্দেশনা বহন করে। অন্যদিকে, টিআরএনএ প্রোটিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড কোষের প্রোটিন তৈরির স্থানে পৌঁছে দেয়। ফলে কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে টিআরএনএ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ক্যানসার কোষে এই প্রক্রিয়া বদলে যেতে পারে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, টিআরএনএর নির্দিষ্ট একটি ধরন কমে গেলে প্রোস্টেট ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হতে পারে। এর ফলে কোষগুলো এমন অবস্থায় পৌঁছাতে পারে, যেখানে প্রচলিত কিছু চিকিৎসা আর আগের মতো কার্যকর থাকে না। গবেষণায় বিশেষভাবে টিআরএনএ১-আর্জিনিন (ইউসিইউ) নামের একটি নির্দিষ্ট অণুকে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, প্রোস্টেট ক্যানসার কোষ যখন তাদের আগের বৈশিষ্ট্য থেকে সরে গিয়ে আরও চিকিৎসা-প্রতিরোধী অবস্থায় যায়, তখন এই টিআরএনএর মাত্রা কমে যেতে পারে। পরীক্ষাগারে এর মাত্রা পরিবর্তন করে ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য এবং চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাও প্রভাবিত করা গেছে। প্রোস্টেট ক্যানসারের অনেক চিকিৎসা অ্যান্ড্রোজেন রিসেপ্টর নামের একটি প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে। এই প্রোটিন পুরুষের যৌন হরমোনের সংকেত গ্রহণ করে এবং ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু কিছু ক্যানসার কোষ সময়ের সঙ্গে এমন বৈশিষ্ট্য অর্জন করে, যাতে তারা এই প্রোটিনের ওপর আগের মতো নির্ভরশীল থাকে না। তখন অ্যান্ড্রোজেন রিসেপ্টরকে লক্ষ্য করে দেওয়া চিকিৎসার কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। নতুন গবেষণার ফল বলছে, নির্দিষ্ট টিআরএনএর মাত্রা পুনরুদ্ধার করলে কিছু ক্যানসার কোষকে আবার অ্যান্ড্রোজেন রিসেপ্টরকে লক্ষ্য করে দেওয়া চিকিৎসার প্রতি সংবেদনশীল করা সম্ভব হতে পারে। অর্থাৎ, ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে ওষুধের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, টিআরএনএর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কোন কোন প্রোটিন ভূমিকা রাখে, সেটিও অনুসন্ধান করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা টিএআরডিবিপি এবং জেডএসসিএএন২৯ নামের দুটি প্রোটিনকে চিহ্নিত করেছেন, যেগুলো নির্দিষ্ট টিআরএনএর উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে। এ প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে, তা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি তৈরির পথ খুলতে পারে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও ইউরোলজির অধ্যাপক ড্যানিয়েল পেট্রিলাকের মতে, গবেষণায় চিহ্নিত এই আণবিক বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যতে ক্যানসারের একটি আক্রমণাত্মক ধরনকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া প্রোস্টেট ক্যানসার বা মেটাস্ট্যাটিক ক্যানসারকে হরমোনের কার্যক্রম দমনকারী চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলেও অনেক রোগীর ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে চিকিৎসা-প্রতিরোধী অবস্থা তৈরি হয়। তখন অন্যান্য হরমোনভিত্তিক চিকিৎসা, কেমোথেরাপি এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহার করেও রোগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ক্যানসার এসব চিকিৎসার বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। তবে নতুন গবেষণাকে এখনই রোগীদের জন্য প্রস্তুত চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। টিআরএনএর মাত্রা বাড়ানো বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করতে হবে। এরপর রোগীদের ওপর পরীক্ষা করে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাই করা প্রয়োজন। গবেষক হসিয়েহও বলেছেন, এ সম্ভাবনা বাস্তবে কাজে লাগাতে রোগীদের ওপর আরও গবেষণা এবং উপযুক্ত চিকিৎসাপদ্ধতি তৈরি জরুরি। সব মিলিয়ে, নতুন গবেষণাটি প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা-প্রতিরোধী হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। ভবিষ্যতে এই আণবিক প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা তৈরি করা গেলে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে প্রচলিত ওষুধের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তব চিকিৎসায় রূপ নিতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৮:২২
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধস, চাপে রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কমার নতুন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের নিট অনুমোদন আট পয়েন্ট কমে ঋণাত্মক ১৯-এ নেমেছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে একই ধরনের পাঁচটি জরিপের ফলাফলের মধ্যে এটিই তাঁর সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান।   ১০ থেকে ১২ অক্টোবর পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, পুরুষ ভোটারদের ৪০ শতাংশ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সন্তুষ্ট। অন্যদিকে, ৫৯ শতাংশ ভোটার তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির হারের ব্যবধান হিসাব করে নিট অনুমোদন নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসাবে ট্রাম্পের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১৯ পয়েন্টে। এর আগের ২ থেকে ৫ অক্টোবরের জরিপে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সন্তুষ্টির হার ছিল ৪৪ শতাংশ এবং অসন্তুষ্টির হার ছিল ৫৫ শতাংশ। সে সময় তাঁর নিট অনুমোদন ছিল ঋণাত্মক ১১ পয়েন্ট। অর্থাৎ, অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে এই ব্যবধান আরও আট পয়েন্ট বেড়েছে। সর্বশেষ জরিপে ১ হাজার ৪০৩ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন। এতে সামগ্রিক নমুনার সমন্বিত ত্রুটির সীমা ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। আগের জরিপে অংশ নিয়েছিলেন ১ হাজার ৩৮১ জন নিবন্ধিত ভোটার। ওই জরিপে ত্রুটির সীমা ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্ট। তবে পরপর কয়েকটি জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। গত ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের জরিপে পুরুষদের মধ্যে তাঁর প্রতি সন্তুষ্টির হার ছিল ৪৪ শতাংশ এবং অসন্তুষ্টির হার ৫৫ শতাংশ। ১৮ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের জরিপে এই হার ছিল যথাক্রমে ৪৩ ও ৫৬ শতাংশ। আর ২৫ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের জরিপে সন্তুষ্টির হার কমে ৪২ শতাংশে দাঁড়ায়, বিপরীতে অসন্তুষ্টির হার ছিল ৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ, আগের জরিপগুলোতে ট্রাম্পের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরে ওঠানামা করেছে। সর্বশেষ জরিপে বড় পরিবর্তন দেখা গেলেও সেটি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও তথ্য প্রয়োজন। পুরুষ ভোটারদের তথ্য জাতীয় জরিপের একটি অংশ থেকে নেওয়া হয় বলে এই উপগোষ্ঠীর ফলাফলে অনিশ্চয়তাও তুলনামূলক বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তন রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ট্রাম্পের নির্বাচনী জোটে পুরুষ ভোটারদের, বিশেষ করে তরুণ এবং চার বছর মেয়াদি কলেজ ডিগ্রিবিহীন ভোটারদের, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের সমর্থন দুর্বল হলে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে। রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জেমস ড্রাকম্যানের মতে, সর্বশেষ পরিবর্তনটি তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে অন্যান্য জরিপেও যদি একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিয়ারবর্ন ক্যাম্পাসের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক মাইকেল মন্টগোমেরিও মনে করেন, পাঁচটি জরিপের ধারাবাহিকতা পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার কারণ তৈরি করেছে। তবে হোয়াইট হাউস এই পরিস্থিতিকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের দুর্বলতা হিসেবে দেখছে না। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল বলেছেন, ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলনের মাধ্যমে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী সমর্থকগোষ্ঠী গড়ে তুলেছেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের প্রধান নেতা এবং সমর্থকদের উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতেও তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুরুষ ভোটারদের সমর্থন কেন গুরুত্বপূর্ণ, তার ব্যাখ্যায় বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নারী ও পুরুষ ভোটারের পছন্দের পার্থক্যের কথা তুলে ধরেছেন। ট্রাম্প অতীতে এই ব্যবধান থেকে রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছেন। ফলে তাঁর প্রতি সমর্থন কমে গেলে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কারেন বেকউইথের মতে, রিপাবলিকান প্রার্থীরা যদি নিজেদের দলের পুরুষ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বা ভোটকেন্দ্রে আনতে ব্যর্থ হন, তাহলে নির্বাচনে ভালো ফল করা কঠিন হবে। তাঁর মতে, স্থানীয় অর্থনীতিতে কী ধরনের উন্নয়ন হয়েছে, তা তুলে ধরে প্রার্থীরা ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করতে পারেন। তবে অঙ্গরাজ্যজুড়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের অবস্থান থেকে নিজেদের আলাদা করে উপস্থাপন করা আরও কঠিন হতে পারে। অর্থনৈতিক চাপকে ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষের সম্ভাব্য বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় এবং করের চাপ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে গাড়িতে জ্বালানি ভরার সময় বাড়তি খরচ অনেক ভোটারের কাছে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে বলে মনে করেন মন্টগোমেরি। ড্রাকম্যানের মতে, তরুণ, গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা এবং কলেজ ডিগ্রিবিহীন পুরুষ ভোটারদের মনোভাব বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। তাঁদের কাছে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো যদি সাংস্কৃতিক পরিচয় ও মূল্যবোধের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, আর অর্থনীতি তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ না করে, তাহলে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। পররাষ্ট্রনীতিও এই সমর্থনে প্রভাব ফেলতে পারে। ড্রাকম্যানের মতে, এই ভোটারগোষ্ঠীর একটি অংশ বিদেশে যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধিতা করে। মন্টগোমেরি সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তরুণ পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন দ্রুত কমতে পারে। তবে জনমত জরিপে প্রেসিডেন্টের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা মানেই ভোটাররা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দেবেন, এমন নয়। সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কার্স্টেন ইংল্যান্ডের মতে, অসন্তুষ্ট ভোটাররা তিন ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—দল পরিবর্তন করতে পারেন, অন্য দলের প্রার্থীকে সমর্থন না করে রিপাবলিকান প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারেন, অথবা নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারেন। এই পার্থক্য রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের প্রতি অসন্তুষ্ট কিছু ভোটার কংগ্রেসের নির্বাচনে দল পরিবর্তন না করলেও ভোট দিতে অনাগ্রহী হতে পারেন। আবার যেসব প্রার্থী ট্রাম্পের অবস্থান থেকে নিজেদের দূরে রাখবেন, তাঁরা নিরপেক্ষ ও অসন্তুষ্ট ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারেন, কিন্তু একই সঙ্গে ট্রাম্পের একনিষ্ঠ সমর্থকদের উৎসাহ হারানোর ঝুঁকিও থাকবে। সুতরাং, সর্বশেষ জরিপ রিপাবলিকানদের সমর্থনভিত্তিতে সম্ভাব্য দুর্বলতার একটি সতর্কসংকেত দিলেও এটি এখনই বড় ধরনের দলবদলের প্রমাণ নয়। শেষ পর্যন্ত এই অসন্তোষ ভোটের বাক্সে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী প্রচারের ওপর।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৭:৫৮
নতুন ঠিকানায় উঠেই অভিবাসন ও সরকারি নথি হালনাগাদ করুন
বাসা বদলালেই সাত জায়গায় ঠিকানা আপডেট করুন, নয়তো গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ হারানোর ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্রে বাসা বদলানোর পর শুধু ডাক বিভাগের কাছে নতুন ঠিকানা জানালেই সব দায়িত্ব শেষ হয় না। অভিবাসন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, করসংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবার তথ্য আলাদাভাবে হালনাগাদ করার প্রয়োজন হতে পারে। কোথায় জানাতে হবে, কত দিনের মধ্যে জানাতে হবে এবং কোন ক্ষেত্রে নিয়মটি বাধ্যতামূলক—তা না জানলে গুরুত্বপূর্ণ চিঠি বা শুনানির নোটিশ মিস করার ঝুঁকি থাকে।   বিশেষ করে যাঁদের অভিবাসন আবেদন চলমান কিংবা অভিবাসন আদালতে মামলা রয়েছে, তাঁদের ঠিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে সবার জন্য সাতটি জায়গায় ঠিকানা পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক নয়। কোন দপ্তরে জানাতে হবে, তা ব্যক্তির অভিবাসন অবস্থা, গাড়ি চালানোর অনুমতি, করসংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সেবা ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে। ১. ডাক বিভাগ: নতুন ঠিকানায় চিঠি পেতে বাসা পরিবর্তনের পর প্রথম কাজগুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের কাছে ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করা। এর মাধ্যমে যোগ্য চিঠিপত্র পুরোনো ঠিকানা থেকে নতুন ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা যায়। ডাক বিভাগের ওয়েবসাইটে গিয়ে ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, ডাক বিভাগের কাছে ঠিকানা পরিবর্তন করলেই অন্য সরকারি দপ্তরের নথি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হয় না। তাই শুধু ডাক বিভাগের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। ২. অভিবাসন বিভাগ: ঠিকানা পরিবর্তনের ১০ দিনের নিয়ম অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবাকে ঠিকানা পরিবর্তনের খবর জানানো। প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অধিকাংশ অ-মার্কিন নাগরিককে ঠিকানা পরিবর্তনের ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। তাই নিজের অভিবাসন অবস্থার সঙ্গে প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা জরুরি। অনলাইনে অভিবাসন বিভাগের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ঠিকানা হালনাগাদ করা যায়। সাধারণভাবে ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য নির্ধারিত ফরমও ব্যবহার করা সম্ভব। যাঁদের একাধিক আবেদন বা মামলা চলমান, তাঁদের প্রতিটি সংশ্লিষ্ট আবেদনের নথিতে নতুন ঠিকানা সঠিকভাবে যুক্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা উচিত। ডাক বিভাগে ঠিকানা পরিবর্তন করলে অভিবাসন বিভাগের নথিতে ঠিকানা বদলে যায় না। একইভাবে, অভিবাসন বিভাগের পাঠানো চিঠি ডাক বিভাগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ঠিকানায় পৌঁছে দেবে—এমন নিশ্চয়তাও নেই। ৩. মোটরযান বিভাগ: ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির নিবন্ধন নতুন বাসায় ওঠার পর সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের মোটরযান বিভাগে ঠিকানা পরিবর্তনের নিয়মও যাচাই করতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স, অঙ্গরাজ্যের পরিচয়পত্র এবং গাড়ির নিবন্ধনের তথ্য হালনাগাদ রাখার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সময়সীমা অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। উদাহরণ হিসেবে, নিউইয়র্কে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনের ১০ দিনের মধ্যে মোটরযান বিভাগকে জানাতে হয়। অন্য অঙ্গরাজ্যে সময়সীমা ও পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে। তাই নিজের অঙ্গরাজ্যের সরকারি ওয়েবসাইটে নিয়ম দেখে নেওয়া উচিত। ৪. কর বিভাগ: করসংক্রান্ত নথিতে নতুন ঠিকানা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ বা কর কর্তৃপক্ষের কাছেও ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য জানানো প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে কর ফেরত, করসংক্রান্ত চিঠি কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি যেন সঠিক ঠিকানায় পৌঁছায়, সে জন্য তথ্য হালনাগাদ রাখা জরুরি। ব্যক্তিগত ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য নির্ধারিত ফরম ব্যবহার করা যায়। নতুন ঠিকানা দিয়ে পরবর্তী কর বিবরণী জমা দিলেও কর বিভাগের রেকর্ড হালনাগাদ হতে পারে। তবে কর বিবরণী জমা দেওয়ার আগে ঠিকানা বদলালে কিংবা করসংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার অপেক্ষায় থাকলে সরাসরি ঠিকানা পরিবর্তনের পদ্ধতি যাচাই করা ভালো। ৫. সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন: সুবিধাভোগীদের তথ্য সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের কাছে ঠিকানা পরিবর্তনের প্রয়োজন সবার ক্ষেত্রে এক নয়। যাঁরা সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা, অবসরভাতা, অক্ষমতাজনিত সুবিধা বা চিকিৎসা বিমার আওতায় রয়েছেন, তাঁদের ঠিকানা হালনাগাদ করার প্রয়োজন হতে পারে। যোগ্য ব্যক্তিরা অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তথ্য পরিবর্তন করতে পারেন। তবে যাঁরা কোনো সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা বা চিকিৎসা বিমা পান না, তাঁদের শুধু ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য সাধারণত এই প্রশাসনকে আলাদাভাবে জানানোর প্রয়োজন হয় না। সম্পূরক নিরাপত্তা আয় সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে আলাদা পদ্ধতি প্রযোজ্য হতে পারে। ৬. ভোটার নিবন্ধন: নির্বাচনী এলাকার তথ্য হালনাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত থাকলে ঠিকানা পরিবর্তনের পর ভোটার নিবন্ধনের তথ্যও হালনাগাদ করা উচিত। নতুন ঠিকানার ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার এলাকা, নির্বাচনী কেন্দ্র কিংবা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে। নিজের অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত সরকারি ওয়েবসাইট থেকে ঠিকানা পরিবর্তনের পদ্ধতি ও সময়সীমা জানা যায়। তবে ভোটার নিবন্ধন সবার জন্য প্রযোজ্য নয়; এটি যোগ্য ও নিবন্ধিত ভোটারদের জন্য প্রাসঙ্গিক। ৭. ব্যাংক, বিমা ও স্কুলের নথি সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি ব্যাংক, ঋণপত্র প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যবিমা কোম্পানি এবং অন্যান্য আর্থিক সেবাদাতার কাছেও ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য জানানো ভালো। এতে বিল, হিসাবসংক্রান্ত নোটিশ, বিমার কাগজপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ চিঠি সঠিক ঠিকানায় পৌঁছাতে সুবিধা হয়। পরিবারে স্কুলপড়ুয়া সন্তান থাকলে স্কুল বা স্কুল কর্তৃপক্ষকেও নতুন ঠিকানা জানাতে হতে পারে। বিশেষ করে বাসা বদলের কারণে স্কুলের আওতাভুক্ত এলাকা পরিবর্তিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি। নতুন ঠিকানা লেখার সময় ডাক বিভাগের ডাকসংকেত অনুসন্ধান ব্যবস্থা ব্যবহার করে ঠিকানার সঠিক বানান, ডাকসংকেত এবং নির্ধারিত বিন্যাস যাচাই করা যায়। অভিবাসন আদালতে মামলা থাকলে আলাদা নিয়ম মনে রাখুন যাঁদের অভিবাসন আদালতে মামলা চলছে, তাঁদের জন্য একটি অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। অভিবাসন বিভাগকে ঠিকানা জানানো মানেই অভিবাসন আদালতকে জানানো নয়। আদালতে চলমান মামলার ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য সাধারণত নির্ধারিত পৃথক ফরম ব্যবহার করতে হয়। আপিল বোর্ডে মামলা থাকলে সেখানেও আলাদা ফরম প্রযোজ্য হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ঠিকানা পরিবর্তনের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর নিয়ম রয়েছে। আদালতের নোটিশ পুরোনো ঠিকানায় চলে গেলে শুনানির তারিখ মিস করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অনুপস্থিতিতে শুনানি চলতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অপসারণের আদেশও দেওয়া হতে পারে। আপিল বা অন্য কোনো আবেদন চলমান থাকলে ঠিকানা হালনাগাদ না করার কারণে অতিরিক্ত জটিলতাও তৈরি হতে পারে। তবে ঠিকানা পরিবর্তন না জানালেই সব ক্ষেত্রে মামলা খারিজ হয়ে যায়—এমন দাবি সঠিক নয়। সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো, বাসা বদলানোর পর নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করা এবং প্রতিটি জায়গায় ঠিকানা হালনাগাদ হয়েছে কি না, তার প্রমাণ সংরক্ষণ করা। বিশেষ করে অভিবাসন আবেদন বা আদালতের মামলা চলমান থাকলে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে সঠিক কর্তৃপক্ষকে জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৭:৪০
ঘুমের মধ্যে কথাবার্তা নিয়ে গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য
ঘুমের ঘোরে কারা বেশি অশা লীন কথা বলেন, গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য

ঘুমের মধ্যে মানুষ কী বলেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের কৌতূহল রয়েছে। কেউ ঘুমের ঘোরে অস্পষ্টভাবে কথা বলেন, কেউ বিড়বিড় করেন, আবার কেউ এমনভাবে কথা বলেন, যেন জেগে থাকা অবস্থায় কারও সঙ্গে কথোপকথন করছেন। তবে ঘুমের মধ্যে বলা এসব কথার মধ্যে কতটা নেতিবাচক বক্তব্য থাকে, কতবার অশা লীন শব্দ ব্যবহার করা হয় এবং নারী-পুরুষের মধ্যে এ ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। ২০১৭ সালে স্লিপ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ঘুমের মধ্যে মানুষের কথাবার্তার ধরন, ব্যবহৃত শব্দ এবং বাক্যের অর্থ বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় দেখা যায়, ঘুমের মধ্যে বলা প্রায় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাক্যাংশে অশা লীন শব্দ ছিল। অর্থাৎ, বিশ্লেষণ করা প্রতি ১০০টি বাক্যাংশের প্রায় ১০টিতে গা লাগালি বা অশা লীন ভাষার ব্যবহার পাওয়া গেছে। গবেষণায় আরও দেখা যায়, পুরুষেরা ঘুমের মধ্যে নারীদের তুলনায় বেশি কথা বলেছেন। তাঁদের কথাবার্তায় অশা লীন শব্দ ব্যবহারের প্রবণতাও তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে এই ফলাফলকে সব মানুষের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না। কারণ, গবেষণায় অংশ নেওয়া অনেকেরই ঘুম-সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা ছিল। গবেষকেরা মোট ২৩২ জন প্রাপ্তবয়স্কের ঘুমের সময়ের কথাবার্তা বিশ্লেষণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪১ শতাংশ ছিলেন নারী। তাঁদের ঘুমের সময় ভিডিও ও শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে কথাবার্তা রেকর্ড করা হয়। পরে এসব রেকর্ড বিশ্লেষণ করে মোট ৮৮৩টি কথা বলার ঘটনা শনাক্ত করা হয়। সেখান থেকে ৩ হাজার ৩৪৯টি শব্দ স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হয়েছিল। তবে ঘুমের মধ্যে বলা সব কথাই পরিষ্কার ছিল না। গবেষণায় শনাক্ত করা প্রায় ৫৯ শতাংশ ঘটনায় অস্পষ্ট শব্দ, চিৎ কার, ফিসফিসানি, বিড়বিড় করা কিংবা হাসির মতো শব্দ পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ঘুমের মধ্যে মানুষের মুখ থেকে বের হওয়া সব শব্দকে পূর্ণাঙ্গ বাক্য হিসেবে বোঝা সম্ভব হয় না। গবেষণার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ঘুমের মধ্যে বলা কথায় নেতিবাচক বক্তব্যের উপস্থিতি। বিশ্লেষণ করা বাক্যাংশের প্রায় ২১ দশমিক ৪ শতাংশে নেতিবাচক অর্থ প্রকাশ পেয়েছিল। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দ ছিল ‘না’। এ ছাড়া প্রায় ২৬ শতাংশ কথা বলার ঘটনায় প্রশ্নবোধক বাক্য পাওয়া যায়। গবেষকেরা লক্ষ করেন, ঘুমের মধ্যে বলা কথার কিছু অংশ বাস্তব কথোপকথনের মতো শোনায়। অনেক ক্ষেত্রে বাক্যের গঠন, কথার ছন্দ এবং প্রশ্ন করার ধরন থেকে মনে হয়, বক্তা যেন কারও সঙ্গে কথা বলছেন। কিছু বক্তব্যে অন্য কাউকে দোষারোপ করা বা আ ক্র ম ণাত্মক ভাষা ব্যবহারের প্রবণতাও দেখা গেছে। বিশেষ করে ইংরেজিতে বহুল ব্যবহৃত একটি অশা লীন শব্দ, যা সাধারণভাবে ‘এফ-ওয়ার্ড’ নামে পরিচিত, ঘুমের মধ্যে জাগ্রত অবস্থার তুলনায় প্রায় ৮০০ গুণ বেশি ব্যবহৃত হয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। তবে এই তুলনাটি গবেষণায় ব্যবহৃত তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এটি সব মানুষের ঘুমের কথাবার্তার ক্ষেত্রে একইভাবে সত্য, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ঘুমের মধ্যে কথা বলার কারণ কী ঘুমের মধ্যে কথা বলার চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম ‘সোমনিলোকি’। এটি ঘুমের মধ্যে দেখা দিতে পারে এমন একটি আচরণ। কারও ক্ষেত্রে এটি মাঝে মধ্যে ঘটে, আবার কারও ক্ষেত্রে ঘুম-সম্পর্কিত অন্য সমস্যার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১২৯ জনের ছিল আরইএম স্লিপ বিহেভিয়ার ডিসঅর্ডার। এ ধরনের সমস্যায় ঘুমের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে স্বাভাবিকভাবে শরীরের পেশি নিষ্ক্রিয় থাকার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। ফলে কেউ কেউ স্বপ্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নড়াচড়া বা শব্দ করতে পারেন। এ ছাড়া ৮৭ জনের ঘুমের মধ্যে হাঁটা বা আ তঙ্কিত হয়ে ওঠার মতো সমস্যা ছিল। ১৫ জনের ক্ষেত্রে ঘুম-সম্পর্কিত কোনো সমস্যা উল্লেখ করা হয়নি। তবে ঘুমের মধ্যে কথা বললেই যে কারও ঘুমের রোগ রয়েছে, এমন নয়। আবার ঘুমের ঘোরে বলা কোনো কথাকে ব্যক্তির গোপন ইচ্ছা, প্রকৃত মনোভাব কিংবা বাস্তব জীবনের আচরণের সরাসরি প্রতিফলন হিসেবেও ধরে নেওয়া যায় না। গবেষণাটির ফলাফল থেকে বোঝা যায়, ঘুমের মধ্যে মানুষের মস্তিষ্ক ভাষার বিভিন্ন ধরন ব্যবহার করতে পারে। সেখানে প্রশ্ন, অস্বীকৃতি, নেতিবাচক বক্তব্য এমনকি অশা লীন শব্দও থাকতে পারে। একই সঙ্গে গবেষণাটি ঘুমের সময় মস্তিষ্কের কার্যক্রম এবং মানুষের ভাষা ব্যবহারের সম্পর্ক নিয়ে আরও অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে, ঘুমের মধ্যে বলা কথাকে নিছক অর্থহীন শব্দ মনে হলেও তার মধ্যে কথোপকথনের নানা বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। তবে গবেষণার ফলাফল ব্যাখ্যা করার সময় অংশগ্রহণকারীদের ঘুম-সম্পর্কিত সমস্যার বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। এই গবেষণা নির্দিষ্ট একটি দলের ঘুমের কথাবার্তা বিশ্লেষণ করেছে; তাই এর ফলাফল দিয়ে সব মানুষের আচরণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৭:২০
সন্তানের মানসিক শক্তি বাড়াতে অভিভাবকদের পাঁচটি কৌশল
সন্তানকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে চান, অভিভাবকদের নীরবে যে পাঁচটি কাজ করা জরুরি

সন্তান কোনো কারণে ভেঙে পড়লে বা আবেগ সামলাতে না পারলে অভিভাবকদের স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে তাকে বুঝিয়ে বলা। কী করা উচিত, কেন এমন আচরণ করা ঠিক নয় কিংবা কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হবে—এসব বোঝানোর চেষ্টা করেন অনেকেই। কিন্তু শিশু যখন তীব্র মানসিক চাপ বা আবেগের মধ্যে থাকে, তখন দীর্ঘ উপদেশ সব সময় কাজে আসে না। বরং সে সময় অভিভাবকের শান্ত উপস্থিতি, পাশে থাকা এবং ছোট ছোট কিছু আচরণ শিশুকে নিরাপদ বোধ করতে সাহায্য করতে পারে।   শিশুদের বিকাশ নিয়ে কাজ করা একজন বিশেষজ্ঞের মতে, সন্তান বিপর্যস্ত হলে তার মস্তিষ্কের চিন্তা ও যুক্তিনির্ভর অংশের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। তখন আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া বেশি প্রাধান্য পায়। ফলে অভিভাবকের কথা শোনার বা যুক্তি দিয়ে পরিস্থিতি বোঝার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে। এমন সময়ে শিশুকে শান্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার চেয়ে তাকে শান্ত পরিবেশ দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে। শিশুদের নিয়ে কাজ করা ওই বিশেষজ্ঞ একজন প্রশিক্ষিত চাইল্ড লাইফ স্পেশালিস্ট ও থেরাপিস্ট। তিনি জীবনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া এক হাজারের বেশি শিশু ও কিশোরকে সহায়তা করেছেন। নিজের অভিভাবকত্বের অভিজ্ঞতা থেকেও তিনি দেখেছেন, শিশুরা যখন আবেগে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, তখন তাদের চিন্তাশক্তির চেয়ে অনুভূতি বেশি প্রভাব বিস্তার করে। শিশুর বিকাশ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এই প্রক্রিয়াকে ‘কো-রেগুলেশন’ বা যৌথ আবেগ নিয়ন্ত্রণ বলে থাকেন। এর অর্থ হলো, শিশু যখন নিজের আবেগ সামলাতে হিমশিম খায়, তখন বিশ্বস্ত কোনো প্রাপ্তবয়স্কের শান্ত আচরণ থেকে সে স্থিরতা পেতে পারে। গবেষণাতেও শিশুদের মানসিক চাপ সামলানোর দক্ষতা গড়ে তুলতে এই প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। শিশু কষ্টে থাকলে সে সব সময় ইচ্ছাকৃতভাবে অভিভাবকের কথা অমান্য করে না। অনেক সময় তার মানসিক অবস্থা এমন থাকে যে ব্যাখ্যা, সমঝোতা বা সংশোধনের কথা গ্রহণ করার মতো পরিস্থিতিতে সে থাকে না। তখন প্রথম প্রয়োজন নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তির অনুভূতি ফিরে পাওয়া। অভিভাবক পাশে থাকলে শিশু বুঝতে পারে, কঠিন মুহূর্তে তাকে একা সামলাতে হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের পাঁচটি সহজ আচরণ শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে পারে। প্রথমত, সন্তানের পাশে নীরবে বসুন। সন্তান মন খারাপ করে থাকলে তার পাশে বসে থাকা কিংবা সে নিজের ঘরে থাকলে দরজার বাইরে অবস্থান করাও তাকে নিরাপত্তার অনুভূতি দিতে পারে। এতে সে বুঝতে পারে, প্রয়োজন হলে অভিভাবককে কাছে পাবে। তবে সন্তান যদি কিছুটা একা থাকতে চায়, সেই ইচ্ছাকেও সম্মান করা জরুরি। তাকে জোর করে কথা বলাতে হবে না। বরং কোথায় গেলে আপনাকে পাওয়া যাবে, তা জানিয়ে দিন। এতে তার মনে পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুটা নিশ্চয়তা তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, হাত বাড়িয়ে দিন বা কোমল স্পর্শের সুযোগ রাখুন। মন খারাপের সময় সব শিশু স্পর্শ পছন্দ করে না। তাই সন্তানের স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সে স্বচ্ছন্দ বোধ করলে হাত ধরা, পিঠে আলতো করে হাত রাখা কিংবা নিজের হাত তার দিকে বাড়িয়ে দেওয়া সহায়ক হতে পারে। সন্তান হাত ধরতে চাইলে ধরবে, না চাইলে তাকে চাপ দেওয়া যাবে না। তার ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি সম্মান দেখালে সে বুঝতে পারে, তার অনুভূতি ও পছন্দ অভিভাবকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয়ত, একসঙ্গে ধীরে শ্বাস নিন। সন্তানকে বারবার ‘শান্ত হও’ বা ‘গভীর শ্বাস নাও’ বলার বদলে অভিভাবক নিজেই ধীরে ও দৃশ্যমানভাবে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস দেখাতে পারেন। চাইলে শ্বাস নেওয়ার শব্দও স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন। শিশু অনেক সময় অজান্তেই কাছের মানুষের শ্বাসের ছন্দ অনুসরণ করে। শান্ত পরিবেশে এভাবে কিছুক্ষণ থাকা তার শরীর ও মনকে স্থির হতে সাহায্য করতে পারে। চতুর্থত, শান্ত হতে সাহায্য করে এমন খেলনা বা উপকরণ কাছে রাখুন। অনেক শিশুর পছন্দের নরম খেলনা বা অন্য কোনো পরিচিত জিনিস থাকে, যা তাকে স্বস্তি দেয়। এমন কিছু শিশুর কাছে রেখে দেওয়া যেতে পারে, যাতে সে প্রস্তুত হলে নিজেই সেটি ব্যবহার করতে পারে। এ ছাড়া রঙিন কাগজের পাখা দিয়ে ধীরে শ্বাস ছাড়ার অনুশীলন কিংবা হাতে চেপে ধরা যায় এমন স্ট্রেস বল ব্যবহার শেখানো যেতে পারে। তবে এসব কৌশল শিশুর মন শান্ত থাকার সময় শেখানো ভালো। তাতে চাপের মুহূর্তে সেগুলো ব্যবহার করা তার জন্য সহজ হতে পারে। পঞ্চমত, পাশাপাশি থেকে কোনো কাজে যুক্ত হন। সব সময় কথা বলেই শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, এমন নয়। ছোট শিশুদের সঙ্গে বসে ছবি আঁকা, রং করা, ব্লক দিয়ে কিছু তৈরি করা কিংবা খেলনার সাহায্যে কোনো পরিস্থিতি অভিনয় করে দেখানো যেতে পারে। বড় শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে একসঙ্গে ধাঁধা মেলানো, বই পড়ে শোনানো, কোনো অনুষ্ঠান দেখা কিংবা ভিডিও গেম খেলার মতো কাজও কাজে আসতে পারে। এতে শিশুকে নিজের অনুভূতি ব্যাখ্যা করার জন্য চাপ দিতে হয় না, অথচ অভিভাবকের সঙ্গে তার সংযোগ বজায় থাকে। এই পাঁচটি আচরণের মূল কথা হলো, সন্তানের আবেগকে অস্বীকার না করে তাকে নিরাপদ বোধ করতে সাহায্য করা। তবে সব শিশু একইভাবে সাড়া দেয় না। কারও কাছে পাশে বসে থাকাই যথেষ্ট, আবার কেউ কিছুটা সময় ও ব্যক্তিগত পরিসর চাইতে পারে। তাই সন্তানের প্রয়োজন বুঝে আচরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ মেয়াদে এ ধরনের সহায়ক অভিজ্ঞতা শিশুদের নিজের আবেগ চিনতে, মানসিক চাপ সামলাতে এবং কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শেখাতে পারে। অভিভাবক সব সময় সন্তানের পাশে থাকতে পারবেন না, কিন্তু শান্ত ও সহানুভূতিশীল আচরণের মাধ্যমে তাকে আবেগ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত সন্তান হয়তো অভিভাবকের বলা প্রতিটি কথা মনে রাখবে না। কিন্তু কঠিন সময়ে সে কতটা নিরাপদ, বোঝা হয়েছে এবং সমর্থন পেয়েছে—সেই অভিজ্ঞতা তার মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৬:৫৮
আইসিইর অভিবাসন কেন্দ্রে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে বিক্ষোভ
আইসিইর হাতে অন্যায়ভাবে আ টক হলে মার্কিন নাগরিকেরা পেতে পারেন অন্তত ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর (ICE) কর্মকর্তারা কোনো মার্কিন নাগরিককে অন্যায়ভাবে আ টক বা হেফাজতে রাখলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অন্তত ৫ লাখ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব উঠেছে কংগ্রেসে। নতুন একটি বিলে বলা হয়েছে, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ৫ লাখ ডলারের পাশাপাশি হেফাজতে থাকার অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। তবে এটি এখনো প্রস্তাবিত আইন; কার্যকর হয়নি।   নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজ গত ১৫ অক্টোবর ‘জাস্টিস ফর সিটিজেনস রংফুলি ডিটেইন্ড বাই আইসিই অ্যাক্ট’ নামের বিলটি উত্থাপন করেন। নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি বনি ওয়াটসন কোলম্যান এতে সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন। বিলটি উত্থাপনের পর প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসে প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত পাস হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি বা তার পর থেকে কোনো মার্কিন নাগরিককে অভিবাসন কর্মকর্তা কিংবা অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা পরোয়ানা বা যথাযথ সন্দেহের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি কারণ ছাড়াই গ্রে প্তার বা হেফাজতে রাখলে তিনি ফেডারেল আদালতে মামলা করতে পারবেন। মামলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বিবাদী করা যাবে। বিলে বলা হয়েছে, আদালত অভিযোগকারীর পক্ষে রায় দিলে তাকে ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এর সঙ্গে গ্রে প্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রথম দিনের পর প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ১ লাখ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া মামলার যুক্তিসংগত আইনজীবী ফি ও অন্যান্য খরচও পরিশোধ করতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিতে বা আইনি অধিকার ঘোষণা করতে পারবেন। প্রস্তাবটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অভিযুক্ত অভিবাসন কর্মকর্তারা যেন মামলায় দায় এড়াতে ‘অ্যাবসলিউট ইমিউনিটি’ বা ‘কোয়ালিফায়েড ইমিউনিটি’র মতো আইনি সুরক্ষার যুক্তি দেখাতে না পারেন, সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের মামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সার্বভৌম দায়মুক্তি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অভিযোগের কারণ তৈরি হওয়ার পর পাঁচ বছরের মধ্যে মামলা করার সুযোগ থাকবে। অন্য কোনো আইনের আওতায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার থাকলে নতুন আইনের ক্ষতিপূরণ তার অতিরিক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। বিলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের অব্যবহৃত অংশের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ স্থায়ীভাবে বাতিল করার প্রস্তাবও রয়েছে। ফলে এটি শুধু অন্যায়ভাবে আ টক হওয়া নাগরিকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়; অভিবাসন আইন প্রয়োগের অর্থায়ন নিয়েও প্রভাব ফেলতে পারে। আইসিইর আ টক নিয়ে উদ্বেগ ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় মার্কিন নাগরিকদেরও অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আ টক হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি অনুসন্ধানে ৫০৬ জন মার্কিন নাগরিককে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে হেফাজতে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ করা, কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এসেছে। শিকাগোর প্যারালিগ্যাল ও মার্কিন নাগরিক ডায়ানে ফিগুয়েরোয়া অভিযোগ করেছেন, বর্ডার প্যাট্রোলের কর্মকর্তারা তাকে জোর করে গাড়ি থেকে বের করে আনেন। ঘটনার ভিডিও সরকারের বর্ণনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মিনিয়াপোলিসে চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্টে যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন আরেক মার্কিন নাগরিক আলিয়া রহমান। একই শহরে আ টক হওয়া ব্র্যান্ডন সিগুয়েঞ্জা বলেছেন, হেফাজতে থাকা অবস্থায় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিষয়ে তথ্য দিতে ফেডারেল কর্মকর্তারা তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। টেক্সাসের ব্রায়ান গার্সিয়া মোরালেস নিজেকে মার্কিন নাগরিক দাবি করার পরও আইসিই তাকে মেক্সিকোতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। পরে জন্মের নথি দেখিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। বিভাগের এক মুখপাত্র বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে মার্কিন নাগরিক হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রে প্তার করা হতে পারে। তার ভাষ্য, যুক্তিসংগত সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে সাময়িকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তিনি মার্কিন নাগরিক বলে নিশ্চিত হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে থাকা ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী হেফাজতে রাখা হয় বলেও দাবি করেছে বিভাগটি। ডিএইচএসের মুখপাত্র আরও বলেছেন, আইসিইর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ বা মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে কেউ যদি কার্যক্রমে বাধা দেন বা কর্মকর্তাদের ওপর হা মলা করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিভাগটির দাবি, মার্কিন নাগরিকদের গ্রে প্তার ও বহিষ্কারের অভিযোগ মিথ্যা। অন্যদিকে, বিলটির উদ্যোক্তা লেগার ফার্নান্দেজ বলেছেন, আইসিই যেন নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে দায়মুক্তি না পায়, সেটি নিশ্চিত করাই তার উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তার মতে, অন্যায়ভাবে আ টক হওয়া নাগরিকদের ন্যায়বিচার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের মৃ ত্যুর ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মিনিয়াপোলিসে রেনে গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি, টেক্সাসের সাউথ পাদ্রে আইল্যান্ডে ২৩ বছর বয়সী রুবেন রে মার্টিনেজ এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪৩ বছর বয়সী কিথ পোর্টার জুনিয়র—এদের মৃ ত্যুর ঘটনায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা বা আইসিই কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে আইসিইর ক্ষমতা সীমিত করার একাধিক প্রস্তাব আনা হলেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেগুলোর পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন বিলটি বিচার বিভাগীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে দলীয় নিয়ন্ত্রণ বদলাতে পারে। তবে বর্তমান কংগ্রেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিলটি আইনে পরিণত না হলে পরবর্তী কংগ্রেসে এটি নতুন করে উত্থাপন করতে হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৬:৪০