- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা কেএআইএফ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বাংলাদেশের একটি গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ড. ফয়জুল ইসলামের উদ্যোগে পরিচালিত এসব কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো গ্রামের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত দক্ষতা বাড়ানো এবং স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা। ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত জহিরউদ্দিন–হরমুজা ইংরেজি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা দুটি বিভাগ রয়েছে। নিয়মিত বিদ্যালয়ের সময়ের বাইরে সপ্তাহে চার দিন এসব ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হতে পারে। ইংরেজি শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে রয়েছে জহিরউদ্দিন–হরমুজা কম্পিউটার সেন্টার। এখানেও নিয়মিত বিদ্যালয়ের সময়ের বাইরে সপ্তাহে চার দিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কম্পিউটার ব্যবহারের প্রাথমিক দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার যেসব শিক্ষার্থীর নিয়মিত কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ সীমিত, তাদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবনে কাজে আসতে পারে। শিক্ষা ও প্রযুক্তির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে এই উদ্যোগে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গ্রামের উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে রয়েছে জহিরউদ্দিন–হরমুজা মেডিকেল সেন্টার। কেন্দ্রটিতে বিনামূল্যে বহির্বিভাগের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। প্রতি শুক্রবার, অর্থাৎ স্থানীয় হাটের দিনে, চিকিৎসাকেন্দ্রটি খোলা থাকে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পান। তবে চিকিৎসাকেন্দ্রে কী ধরনের সেবা দেওয়া হয়, কোন কোন স্বাস্থ্যকর্মী দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে কতজন রোগী সেবা নেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কেএআইএফ ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের লর্টন ও স্প্রিংফিল্ড এলাকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অলাভজনক সংস্থা। সংস্থাটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবিক সহায়তা ও ধর্মীয় দাতব্য কর্মকাণ্ডে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হয় বলে জানানো হয়েছে। ফাউন্ডেশনটির অর্থায়নে পরিচালিত ইংরেজি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কম্পিউটার সেন্টার ও মেডিকেল সেন্টার একই এলাকার মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে। ড. ফয়জুল ইসলাম প্রায় ৩০ বছর ধরে দাতব্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফাউন্ডেশনের অর্থায়নের পরিমাণ, প্রকল্পগুলোর বার্ষিক ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা এবং কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে উদ্যোগগুলোর প্রকৃত ব্যাপ্তি ও প্রভাব মূল্যায়নের জন্য এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো এবং স্থানীয় মানুষের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহায়তার একটি উদাহরণ। কেএআইএফ ফাউন্ডেশনের এসব উদ্যোগ কতসংখ্যক শিক্ষার্থী ও রোগীর কাছে পৌঁছাচ্ছে, তা নির্দিষ্ট তথ্যের মাধ্যমে জানা গেলে এর সামাজিক প্রভাব আরও স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। স্যাম রিয়া ওয়াশিংটন ডিসি প্রতিনিধি
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের বাড়ির মালিকানার হার দক্ষিণ এশীয় পাঁচটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সর্বনিম্ন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের ১ মে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি-প্রধান পরিবারের মাত্র ৫১ শতাংশের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। একই তুলনায় শ্রীলঙ্কান পরিবারের বাড়ির মালিকানার হার ৬৪ শতাংশ, ভারতীয় পরিবারের ৬২ শতাংশ, পাকিস্তানি পরিবারের ৬০ শতাংশ এবং নেপালি পরিবারের ৫৫ শতাংশ। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশি পরিবারের বাড়ির মালিকানার হার এশীয় পরিবারগুলোর সামগ্রিক হারের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বাড়ির মালিকানার এই ব্যবধানের পাশাপাশি বাংলাদেশি পরিবারের আয়ের চিত্রও গুরুত্বপূর্ণ। পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-প্রধান পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ৭৮ হাজার ৪০০ ডলার। একই সময়ে এশীয়-প্রধান পরিবারের সামগ্রিক মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ ডলার। অর্থাৎ, দুই শ্রেণির পরিবারের মধ্যম আয়ের ব্যবধান ২৭ হাজার ২০০ ডলার। মধ্যম আয় বলতে বোঝায়, সংশ্লিষ্ট পরিবারের অর্ধেকের আয় নির্ধারিত অঙ্কের নিচে এবং বাকি অর্ধেকের আয় তার ওপরে। এটি গড় আয়ের সমতুল্য নয়। দক্ষিণ এশীয় অন্যান্য জনগোষ্ঠীর আয়ের পরিসংখ্যানেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারতীয়-প্রধান পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ১ লাখ ৫১ হাজার ২০০ ডলার এবং শ্রীলঙ্কান-প্রধান পরিবারের ক্ষেত্রে তা ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ডলার। পাকিস্তানি-প্রধান পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ১ লাখ ৮ হাজার ১০০ ডলার। এসব পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাড়ির মালিকানার হার তুলনা করলে দেখা যায়, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আয় ও আবাসন পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। তবে শুধু আয়ের পরিসংখ্যান দিয়ে বাড়ির মালিকানার ব্যবধানের সম্পূর্ণ কারণ ব্যাখ্যা করা যায় না। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, শ্রীলঙ্কান পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ভারতীয় পরিবারের তুলনায় কম হলেও তাদের বাড়ির মালিকানার হার বেশি। শ্রীলঙ্কান পরিবারের ক্ষেত্রে এই হার ৬৪ শতাংশ, আর ভারতীয় পরিবারের ক্ষেত্রে ৬২ শতাংশ। অর্থাৎ, আয়ের পরিমাণই বাড়ির মালিকানা নির্ধারণের একমাত্র বিষয় নয়। পরিবারের সঞ্চয়, বাড়ি কেনার সময় ডাউন পেমেন্ট দেওয়ার সক্ষমতা, মর্টগেজ পাওয়ার যোগ্যতা, ক্রেডিট স্কোর, ঋণের শর্ত এবং বসবাসের এলাকার বাড়ির দামও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব কারণের কোনটি বাংলাদেশি পরিবারের ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নির্দিষ্টভাবে জানতে আলাদা গবেষণা প্রয়োজন। বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর বসবাসের ভৌগোলিক চিত্রেও উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শুধু বাংলাদেশি পরিচয় দেওয়া প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষের মধ্যে ১ লাখ ১৫ হাজার, অর্থাৎ প্রায় ৪৪ শতাংশ, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বসবাস করতেন। এ ছাড়া মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন। নিউইয়র্ক মহানগর এলাকায় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। তবে অঙ্গরাজ্য ও মহানগর এলাকাভেদে বাড়ির মালিকানার হার কতটা আলাদা, তা নির্ধারণের জন্য পৃথক আঞ্চলিক তথ্য প্রয়োজন। আয়ের পাশাপাশি দারিদ্র্যের পরিসংখ্যানও বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বুঝতে সহায়তা করে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর ১৪ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এশীয় জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক ক্ষেত্রে এই হার ১০ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যান থেকে বাড়ির মালিকানা কম থাকার একমাত্র কারণ দারিদ্র্য বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। পরিবারের আয়, সঞ্চয়, ঋণের শর্ত, আবাসন ব্যয় এবং অন্যান্য আর্থিক দায়বদ্ধতা একসঙ্গে বাড়ি কেনার সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এখানে বাড়ির মালিকানার পরিসংখ্যানটি কী বোঝায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ৫১ শতাংশ বলতে বাংলাদেশি-প্রধান পরিবারের মধ্যে কত শতাংশ পরিবারের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে, তা বোঝানো হয়েছে। এটি মোট বাংলাদেশি ব্যক্তির মধ্যে কত শতাংশ বাড়ির মালিক, সেই হিসাব নয়। একইভাবে এই হার দিয়ে কোনো জনগোষ্ঠী কতজন নতুন বাড়ি কিনেছে, কত দ্রুত বাড়ি কিনছে কিংবা তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ কত, তা নির্ধারণ করা যায় না। পিউ রিসার্চ সেন্টার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর তুলনাযোগ্য তথ্য পেতে ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করেছে। গবেষণাটি ২০২৫ সালে প্রকাশিত হলেও এর পরিসংখ্যানকে ২০২৬ সালের সরাসরি বর্তমান হার হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পরিবারের বাড়ির মালিকানার হার দক্ষিণ এশীয় পাঁচটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সর্বনিম্ন এবং এশীয় পরিবারগুলোর সামগ্রিক হারের চেয়ে ১১ শতাংশ পয়েন্ট কম। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয়ও এশীয় পরিবারগুলোর সামগ্রিক মধ্যম আয়ের তুলনায় কম। এই তথ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পরিবারের আবাসন পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে। তবে এই ব্যবধানের কারণ নির্ধারণ এবং কীভাবে আরও বেশি বাংলাদেশি পরিবার বাড়ির মালিক হতে পারে, তা বুঝতে মর্টগেজ পাওয়ার সুযোগ, সঞ্চয়, বাড়ির দাম, আয় ও সম্পদের ওপর আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ইসরাইলের বর্তমান নীতি ও সামরিক আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কেবল সামরিক ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বরং ফিলিস্তিনিদের কোনো ধরনের ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানানোর যে নীতি ইসরাইল গ্রহণ করেছে, তা দেশটিকে নৈতিকভাবে দুর্বল করে তুলবে। গত মঙ্গলবার উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে পুরস্কারজয়ী লেখক ও সাংবাদিক সুসান ম্যাকের সঙ্গে এক বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বেলফাস্ট টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। গাজায় ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ওবামা বলেন, এই ভয়াবহ সহিংসতা সবার জন্যই অত্যন্ত বেদনাদায়ক হওয়া উচিত। দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ক্ষোভ, অনমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং গভীর বিভাজনের ওপর ভিত্তি করেই এই ধ্বংসাত্মক চক্র টিকে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইউরোপে ইহুদিদের দীর্ঘকাল ধরে নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঐতিহাসিক সত্যতা স্বীকার করে নিলেও সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিরাও তাদের নিজস্ব ভূমি হারানোর মাধ্যমে চরম মাত্রায় অবিচারের শিকার হয়েছেন। এটি এক অনস্বীকার্য সত্য যে, ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে জোরপূর্বক জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত আগ্রাসন চালানো হয়েছে, যার ফলে ভুক্তভোগীরা আজ নিজেদের ভূমি ফেরত ও ন্যায়বিচারের দাবি তুলছেন। বারাক ওবামার মতে, সংঘাতের এই অমানবিক চক্র ভাঙার ক্ষেত্রে শক্তিশালী পক্ষ হিসেবে ইসরাইলের দায়িত্ব অনেক বেশি। তিনি বলেন, ইসরাইল যদি মনে করে অঞ্চলে সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে উন্নত হওয়ার কারণে তারা যা খুশি তাই করবে এবং কাউকে কোনো ছাড় দেবে না, তবে তা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এমন অবস্থান হয়তো স্বল্পমেয়াদে কাজ করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ইসরাইল তার নৈতিক ভিত্তি হারাবে। ইসরাইলের বর্তমান সরকার সম্ভবত এই ভুল পথটিই বেছে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইসরাইলকে বাস্তব পরিস্থিতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওবামা স্পষ্ট করে বলেন, ৭০ লাখ ফিলিস্তিনি এই অঞ্চলেই থেকে যাবে, তারা কোথাও যাচ্ছে না; তাই এই ধ্রুব সত্যকে মেনে নিয়েই সমাধানের পথে হাঁটা উচিত।
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বকেয়া বেতন পরিশোধ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছেন তৈরি পোশাকশ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর সকালে আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নিয়ে টানা চতুর্থ দিনের মতো উত্তরা এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন দেখা যায়। শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা নিয়েও তাঁদের অসন্তোষ রয়েছে। এর আগে একই দাবিতে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। বিক্ষোভের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ চলার পর শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। কর্মস্থলগামী মানুষ, গণপরিবহনের যাত্রী ও পথচারীরা এ সময় দুর্ভোগে পড়েন। শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পোশাক কারখানার মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মনোনয়ন চেয়ে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন পাওয়ার পর বোর্ড গঠনের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই মজুরি বাড়ানো প্রয়োজন। তবে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি হিসেবে নির্ধারণের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। মজুরি বোর্ডের আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান উৎস। এ খাতে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং কারখানার স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের দাবি ও মালিকপক্ষের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় করে গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশি ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের সরকারি জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ, ভিসাসংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং কর্মীদের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাকরির চাহিদাপত্র বা জব অর্ডার সংগ্রহ করতে পারবে। এরপর বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসারে কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বোয়েসেলসহ তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সি কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে। কর্মীদের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রও প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশের বহু মানুষের জন্য মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দেশটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে প্রবাসে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের পাশাপাশি দেশের রেমিট্যান্স খাতও উপকৃত হতে পারে। তবে ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি পাওয়া আর সব কর্মীর আবেদন, নির্বাচন ও বিদেশযাত্রা সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। নিয়োগের বিস্তারিত সময়সূচি, যোগ্যতা, পেশাভিত্তিক চাহিদা এবং কর্মী নির্বাচনের চূড়ান্ত নিয়ম সরকারি নির্দেশনার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজও চলমান বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন কোন কেন্দ্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো যাবে, তা নিশ্চিত হয়ে নেওয়া জরুরি। চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘বিনা খরচে মালয়েশিয়া’ শিরোনামে কোনো দালাল বা অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কথায় টাকা না দেওয়া। সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনুমোদিত এজেন্সির তালিকা, চাকরির চুক্তিপত্র, ভিসা ও অন্যান্য শর্ত যাচাই না করে পাসপোর্ট জমা দেওয়া বা বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করা উচিত নয়। বিনা খরচে নিয়োগের ঘোষণার আওতায় ঠিক কোন কোন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা থেকে নিশ্চিত হতে হবে। সরকারের ঘোষিত উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বৈধ এজেন্সির অংশগ্রহণ বাড়ানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো। এখন আগ্রহী কর্মীদের নজর থাকবে আনুষ্ঠানিক আবেদনপদ্ধতি, নিয়োগের শর্ত এবং প্রথম ধাপের কর্মী নির্বাচনের ঘোষণার দিকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে গর্ভবতী প্রেমিকা স্যান্ড্রা বার্চমোরকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ম্যাথিউ ফারওয়েলের বিচারকাজ চলছে বোস্টনের ফেডারেল আদালতে। গত বুধবার এই মামলার শুনানিতে নিহত স্যান্ড্রার অগোছালো অ্যাপার্টমেন্ট ও অনাগত সন্তানের আল্ট্রাসাউন্ডের ছবি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউটরদের দাবি, নিজেদের দীর্ঘদিনের গোপন সম্পর্ক ও স্যান্ড্রার গর্ভধারণের খবর স্ত্রীর কাছে ফাঁস হওয়ার ভয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছিলেন তিন সন্তানের জনক ফারওয়েল। ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ক্যান্টন শহরের নিজের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ২৩ বছর বয়সী স্যান্ড্রার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর সময় তিনি অন্তত আট মাসের গর্ভবতী ছিলেন। আদালতে উপস্থাপিত নথিতে ফারওয়েলের চরম অমানবিক আচরণের চিত্র উঠে এসেছে। প্রসিকিউটররা জানান, স্যান্ড্রার বয়স যখন মাত্র ১৩ বছর, তখন থেকেই একটি শিশুতোষ কর্মসূচির আড়ালে ফারওয়েল তাকে প্রলোভন দেখাতে শুরু করেন এবং ১৫ বছর বয়স থেকে রীতিমতো যৌন নিপীড়ন চালিয়ে আসছিলেন। এই সম্পর্কের একপর্যায়ে স্যান্ড্রা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। আদালতে জানানো হয়, খুনের ঠিক পরের দিনই ফারওয়েলের নিজের স্ত্রী তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেন। হত্যার আগে দুজনেই বিশ্বাস করতেন স্যান্ড্রার গর্ভের সন্তানটি ফারওয়েলের, যদিও হত্যার পর ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে সেই ধারণাটি ভুল ছিল। আদালতে দেখানো অকুস্থলের ছবিগুলোতে স্যান্ড্রার ফ্রিজে চুম্বক দিয়ে আটকানো আল্ট্রাসাউন্ডের ছবি এবং মেঝেতে উল্টো করে রাখা একটি বেবি স্ট্রলারের বাক্স দেখা যায়, যা অনাগত সন্তান নিয়ে তার উচ্ছ্বাসের প্রমাণ দেয়। স্যান্ড্রার সহকর্মী ও শ্যারনের ইস্ট এলিমেন্টারি স্কুলের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষিকা চেরিল কার্লসন আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, আত্মহত্যার এই সরকারি তত্ত্ব কখনোই বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ স্যান্ড্রা তার সন্তানকে নিয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন এবং শত বাধা সত্ত্বেও তিনি বাচ্চাটিকে জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। অন্যদিকে, ফারওয়েলের আইনজীবীরা স্যান্ড্রার পুরোনো মানসিক অবসাদের ইতিহাস তুলে ধরে আদালতে এটিকে আত্মহত্যা প্রমাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রসিকিউটররা জোরালোভাবে জানিয়েছেন, স্যান্ড্রা মা হওয়ার আনন্দে আত্মহারা ছিলেন এবং অনাগত সন্তানের কথা ভেবে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি নিশ্চিতে চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন।
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা ৪০০টি পরিবারের এক বছরের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর খরচ বহনের উদ্যোগ নিয়েছেন। আগামী এক বছর প্রতি তিন মাস পরপর এসব পরিবারের বাজারের খরচ জোগাবেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই উদ্যোগের কথা জানিয়ে অভিনেত্রী বলেছেন, তাঁর এই কাজ দেখে অন্যরাও সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত হবেন বলে আশা করেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই সহায়তা কর্মসূচির ঘোষণা দেন রাশমিকা। সেখানে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন। তবে আগে এসব কাজ প্রকাশ্যে আনতেন না। নিজের এবং তাঁর দলের কয়েকজন সদস্যের মধ্যেই বিষয়গুলো সীমাবদ্ধ থাকত। রাশমিকা জানান, এবার উদ্যোগটি প্রকাশ্যে আনার কারণ অন্যদের অনুপ্রাণিত করা। তাঁর বিশ্বাস, একজন মানুষের ছোট উদ্যোগও অন্যের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। ভক্তদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে তিনি নিয়মিত এমন কাজ করে আসছেন বলেও উল্লেখ করেন। সহায়তা কর্মসূচির বিস্তারিত জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ৪০০টি পরিবারকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী এক বছর প্রতি তিন মাস পরপর পরিবারগুলোর নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের খরচ বহন করবেন তিনি। এতে পরিবারগুলো খাবারের পেছনে ব্যয় হওয়া অর্থ সঞ্চয় করে ভবিষ্যতের অন্যান্য প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবে বলে তাঁর প্রত্যাশা। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত পোস্টে সহায়তার আওতায় কী কী খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে, তার একটি তালিকাও তুলে ধরেছেন রাশমিকা। একই সঙ্গে অনুসারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে সব সময় বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন হয় না। সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট একটি ভালো কাজও কারও জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিজের পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাশমিকা জানান, অভিনয়জীবনে নানা চ্যালেঞ্জ, কঠোর পরিশ্রম, শারীরিক আঘাত এবং মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। তবে সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর মুখে হাসি দেখে সেই কষ্টগুলো সার্থক মনে হয়েছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই আনন্দ তাঁর কাছে অমূল্য বলে উল্লেখ করেন অভিনেত্রী। এদিকে রাশমিকার নতুন সিনেমা ‘রণবালি’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেমাটিতে তিনি জয়াম্মা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে নিজের সঙ্গে এই চরিত্রের মিলের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতার দিক থেকে জয়াম্মার সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পান বলে জানান রাশমিকা। অভিনেত্রী বলেন, অনেকেই তাঁর কাছে জানতে চান, জয়াম্মা চরিত্রটির সঙ্গে বাস্তব জীবনে তাঁর কোনো মিল রয়েছে কি না। জবাবে তিনি জানান, অন্যের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি তাঁদের মধ্যে অন্যতম মিল। ‘রণবালি’ সিনেমায় রাশমিকার সহশিল্পী বিজয় দেবেরাকোন্ডা। ‘গীতা গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’-এর পর এটি তাঁদের তৃতীয় যৌথ সিনেমা। রাহুল সাংকৃত্যায়ন পরিচালিত সিনেমাটির পটভূমি ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের গ্রেট মাদ্রাজ দুর্ভিক্ষ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘রণবালি’ আগামী ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগের দিন, ১৫ অক্টোবর মুক্তির কথা রয়েছে রজনীকান্ত অভিনীত ‘জেলার ২’ সিনেমার। নতুন সিনেমা মুক্তির আগে ৪০০ পরিবারের এক বছরের খাদ্যসামগ্রীর দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রাশমিকা। তবে কর্মসূচির আওতায় মোট কত অর্থ ব্যয় হবে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
চট্টগ্রামে স্বামীর আগের বিয়ের তথ্য জানার পর এক নারীকে হত্যার অভিযোগে করা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির দাবি, দাম্পত্য কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে ওই নারীকে হত্যা করে তাঁর মরদেহ বস্তায় ভরে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় আড়াই মাস তদন্তের পর এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত স্বামীসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহত নারীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস। তাঁর বয়স ২৮ বছর। পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সংস্থাটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, জান্নাতুল একটি জুতার কারখানায় কাজ করতেন। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের প্রায় তিন বছর পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে রাজা মিয়াকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর সাত বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট সিগন্যাল এলাকার বাসায় থাকতেন। তদন্তকারীদের দাবি, রাজা মিয়া বিয়ের আগে নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর জান্নাতুল জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর আগে আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। এ তথ্য জানার পর তাঁদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিরোধের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রাজা মিয়া এবং পরিচিত মুসলিম উদ্দিনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রথমে দাম্পত্য বিরোধ মেটাতে তাঁরা কালুরঘাট সেতুর কাছে এক কবিরাজের কাছে যান। সেখানে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তবে তাতেও বিরোধ না মেটায় জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে পিবিআইয়ের দাবি। ঘটনার দিন ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজা মিয়া ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে জান্নাতুলকে কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাট এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই একটি সাম্পান নৌকা নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন মুসলিম উদ্দিন, আরমান এবং রাজা মিয়ার প্রথম স্ত্রীর ভাই শুক্কুর আহমেদ। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকাটি কর্ণফুলী সেতুর নিচ দিয়ে শিকলবাহা খালের দিকে যায়। পিবিআইয়ের দাবি, রাত আটটার দিকে নৌকার মধ্যে রাজা মিয়া ও জান্নাতুলের মধ্যে আবারও তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে রাজা মিয়া স্ত্রীর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে খালে ফেলে দেন। এরপর তাঁর মুখ চেপে ধরা হয় এবং আরমান রশি দিয়ে তাঁর গলায় চাপ দেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এতে জান্নাতুলের মৃত্যু হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে। তদন্তকারীদের আরও দাবি, হত্যার পর জান্নাতুলের হাত-পা বেঁধে মরদেহ একটি বস্তায় ভরা হয়। পরে কর্ণফুলী থানার কালারপোল এলাকার কাছে শিকলবাহা খালে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখান থেকে চলে যান বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। ২ আগস্ট কর্ণফুলী থানার অধীন শিকলবাহা খালে বস্তাবন্দি মরদেহ ভাসতে দেখে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি জান্নাতুলের বলে শনাক্ত করেন। ঘটনার পর রাজা মিয়ার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। এরপর জান্নাতুলের মা সায়েরা খাতুন কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রাথমিকভাবে সদরঘাট নৌ-পুলিশ মামলাটির তদন্ত করছিল। পরে ৬ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা সূত্র ব্যবহার করে পিবিআইয়ের একটি দল টেকনাফ থেকে মুসলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্কুর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা সাম্পান নৌকাটি জব্দ করা হয়। পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মুসলিম উদ্দিন বুধবার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তবে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত মামলার অভিযুক্তদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। পিবিআই জানিয়েছে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত রাজা মিয়া ও আরমানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁদের গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার পরিকল্পনা, প্রত্যেকের ভূমিকা এবং হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর শহরতলিতে অবস্থিত একটি শপিং মলের পুকুরে এক নারীকে ডুবিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার সকালে স্কোকি এলাকার ওয়েস্টফিল্ড ওল্ড অরচার্ড মলে এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটে। স্কোকি পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৩৫ বছর বয়সী উইলিয়াম ডবস নামের ওই ব্যক্তি প্রথমে ওই নারীর পার্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন এবং পরে তাকে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে ধরে রাখেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অভিযুক্ত এবং ভুক্তভোগী নারী একে অপরের পূর্বপরিচিত ছিলেন না। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মলের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই ডবস একটি ভারী ব্যাগ দিয়ে ওই নারীকে আঘাত করেন এবং ধাক্কা দিয়ে পুকুরে ফেলে দেন। সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রথমে তারা ভেবেছিলেন কেউ হয়তো একা সাঁতার কাটছেন, কিন্তু কাছে গিয়ে দেখতে পান এক নারীকে পানির নিচে চেপে ধরা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ দ্রুত পানিতে নেমে ওই নারীকে উদ্ধার করেন। পুলিশ আসার আগেই পথচারীদের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে ওই নারী প্রাণে বেঁচে যান এবং তাকে গুরুতর নয়—এমন আঘাতসহ স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া উইলিয়াম ডবসের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা এবং এক প্রবীণ নাগরিককে গুরুতর জখম করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলের একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বুধবার, ১৪ অক্টোবর সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। তবে কথিত ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছিল, অভিযুক্ত দুজনের মধ্যে কী সম্পর্ক ছিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অনৈতিক কাজের অভিযোগ আনা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। সৌদি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বশীর এবং সিতি আক্তার। তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে তাঁদের বাড়ি বাংলাদেশের কোন জেলা বা উপজেলায়, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবের একটি আরবি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের শিরোনামে এক নারীর সঙ্গে মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে প্রকাশিত ইংরেজি প্রতিবেদনগুলোতে অভিযোগটিকে সাধারণভাবে অনৈতিক কাজ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে তাঁরা ঠিক কী করছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে অভিযোগটির যৌন প্রকৃতির হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও, নির্দিষ্ট কোনো যৌনকর্মে লিপ্ত থাকার দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।দণ্ডপ্রাপ্ত পুরুষ ও নারীর মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা নিয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকা, আত্মীয় নাকি অন্য কোনো সম্পর্কে যুক্ত ছিলেন, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতি কিংবা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। ঘটনার সময় নিয়েও রয়েছে তথ্যের ঘাটতি। দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২৬ বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তবে কথিত অনৈতিক কাজটি ঠিক কবে ঘটেছিল, তাঁদের কখন আটক করা হয়েছিল এবং বিচারপ্রক্রিয়া কত দিন ধরে চলেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত সময়রেখা প্রকাশ করা হয়নি। মক্কার কোন মসজিদে ঘটনাটি ঘটেছিল, সেটিও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আদালত তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরবর্তী সময়ে রায় বহাল রাখা হয় এবং রাজকীয় আদেশের পর সাজা কার্যকর করা হয়। তবে আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ, বিচারিক যুক্তি কিংবা অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের এ বিষয়ে জানানো হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কূটনৈতিক নোট পাঠানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিচারপ্রক্রিয়ার অন্য কোনো পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর সমর্থিত হলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি, ঘটনার তারিখ, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের নিজ নিজ এলাকার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। এসব বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বিবৃতি কিংবা বাংলাদেশের কনস্যুলেটের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় 'শয়তান' বা অশুভ আত্মা ভর করেছে—এমন অদ্ভুত বিশ্বাস থেকে জীবন্ত বিড়ালছানা মাটিচাপা দেওয়ার মতো অমানবিক অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ওই নারীর নাম আলবা শ্যাভেজ (৩৭)। ফ্লোরিডার মার্টিন কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, গত ৮ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে প্রাণী নির্যাতনের একাধিক গুরুতর (ফেলোনি) অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় শ্যাভেজের বাড়ির তিন শিশুর ৯১১-এ করা একটি জরুরি কলের মাধ্যমে। শিশুরা পুলিশকে জানায়, বিড়ালছানাগুলোকে ওই নারীর হাত থেকে বাঁচাতে তারা একটি বেডরুমে তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। কিন্তু জোরপূর্বক সেই ঘরের দরজা ভেঙে ছানাগুলোকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আলবা শ্যাভেজ জানান, তিনি মনে করেন বিড়ালছানাগুলো আসলে 'শয়তান' বা অশুভ আত্মা। এরপর তিনি নিজেই পুলিশকে বাড়ির পেছনের উঠানে মাটিচাপা দেওয়ার স্থানটি দেখিয়ে দেন। মার্টিন কাউন্টির শেরিফ জন বুডেনসিয়েক গণমাধ্যমকে জানান, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেই পুলিশ কর্মকর্তারা উঠানের মাটি খুঁড়তে শুরু করেন। একপর্যায়ে মাটির নিচ থেকে তারা প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় বিড়ালছানাদের কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। দ্রুত মাটি খুঁড়ে দুটি বিড়ালছানাকে জীবিত উদ্ধার করে পশু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। তবে ঘটনাস্থল থেকে আরও দুটি ছানাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং পঞ্চম আরেকটি ছানার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পুলিশের তাৎক্ষণিক ও শিশুদের সাহসী পদক্ষেপে বেঁচে যাওয়া বিড়ালছানা দুটি বর্তমানে একটি ফস্টার কেয়ারে সুস্থ হয়ে উঠছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর সেগুলোকে দত্তক নেওয়ার জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অমানবিক এই ঘটনার পর ফ্লোরিডাজুড়ে প্রাণী অধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিক্ষোভের পর আটক আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকর্মীর দাবি, তাঁদের পুলিশি গাড়ির ভেতরে মারধর করা হয়েছে, শরীরের সংবেদনশীল স্থানে লাথি মারা হয়েছে এবং আটক অবস্থায় ব্যক্তিগত মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। ১৪ অক্টোবর বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। তবে অভিযোগগুলোর সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম *ইন্ডিয়া টুডে*র ১৪ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেরালার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী সংগঠন এনএসইউআইয়ের সঙ্গে যুক্ত অর্জুন অভিযোগ করেন, দিল্লির কনট প্লেস এলাকা থেকে তাঁকে আটক করার পর পুলিশের গাড়িতে মারধর করা হয়। তাঁর দাবি, কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁকে মুখে ঘুষি মারেন, বুক ও পিঠে লাথি দেন এবং যৌনাঙ্গেও আঘাত করেন। একপর্যায়ে তাঁর গলা চেপে ধরা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অর্জুন আরও দাবি করেন, একই গাড়িতে থাকা ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী চার কিশোরকেও মারধর করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কিশোরেরা বিক্ষোভে অংশ নেয়নি; ওই এলাকায় উপস্থিত থাকার কারণে তাদের আটক করা হয়েছিল। তবে কিশোরদের আটকের পরিস্থিতি এবং তাঁদের সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফল প্রকাশিত হয়নি। আটক ব্যক্তিদের কয়েকজনের অভিযোগ, তাঁদের প্রথমে মধ্য দিল্লির রাজীব চক এলাকার কাছাকাছি একটি অস্থায়ী আটকস্থলে নেওয়া হয়। পরে দীর্ঘ সময় পুলিশি গাড়িতে ঘোরানোর পর দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির পাণ্ডওয়ালা খুর্দ এলাকার একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, গন্তব্য সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। কয়েকজনের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং ব্যক্তিগত ছবি ও অন্যান্য ফাইল পরীক্ষা করার অভিযোগও ওঠে। স্ক্রল ডট ইন–এর ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে কয়েকজন নারী বিক্ষোভকারীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশি গাড়ির ভেতরে নারী আন্দোলনকারীদের মারধর করা হয় এবং কয়েকজনের শরীরের সংবেদনশীল স্থানে আঘাত করা হয়। এক আন্দোলনকর্মী অরণ্যকে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা এবং কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগও করেন তাঁর সহযাত্রী নওরিন। এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকারীদের অভিযোগ; প্রতিটি ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আটক ব্যক্তিদের আরও অভিযোগ, আহত হওয়ার পরও তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়েছিল। কারও হাত ভেঙে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, আবার কয়েকজনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। তাঁদের দাবি, আইনজীবীরা আটকস্থলে পৌঁছানোর পরও তাঁদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। পরে আইনজীবী ও পরিচিত ব্যক্তিদের তৎপরতায় আটক ব্যক্তিদের মুক্তি পেতে সহায়তা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগও পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করেছে। দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর ১৪ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেরালার শিক্ষার্থী আথিরা দাবি করেন, আটক অবস্থায় তাঁকে মুখে আঘাত করা হয় এবং এক কানে শ্রবণশক্তি হারানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধীও তাঁর আঘাতের বিষয়টি তুলে ধরেন। আরেক নারী আন্দোলনকর্মী অভিযোগ করেন, এক নারী পুলিশ সদস্য তাঁর গলা ধরে টানেন, মুখে আঁচড় দেন এবং চড় মারেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশের জবাবও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে এসব নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে কে কোথায় আটক হয়েছিলেন, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, আহতদের কী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং অভিযোগগুলোর পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো প্রয়োজন। এই বিক্ষোভের সূত্রপাত ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধ থেকে। আন্দোলনকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার কারণে যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই দিল্লিতে বিক্ষোভের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। রয়টার্সের ১০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশ দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছিল বলে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, ব্যারিকেড স্থাপন এবং কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটে। বিক্ষোভের আয়োজকেরা নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ১৪ অক্টোবরের সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আটক ব্যক্তিদের ভিডিও, চিকিৎসার কাগজপত্র এবং অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণের আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য,অভিযোগগুলোর প্রমাণ সংগ্রহ করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও পুলিশি পদক্ষেপের তদন্ত দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি ভারতের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার, পুলিশের ক্ষমতার ব্যবহার এবং আটক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো পুলিশ সদস্য বা কর্তৃপক্ষকে দায়ী হিসেবে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা ঠিক হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করলেও ক্যালিফোর্নিয়ার বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি বলে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। অথচ বিভিন্ন সময়ে নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁকে নিয়োগের সময় আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাঁর পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, নিউইয়র্ক পোস্ট ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪২ বছর বয়সী জাকারিয়া ২০১১ সালে পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ার বার পরীক্ষায় অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত এক ব্যক্তির বরাতে সংবাদমাধ্যমটি এ তথ্য জানিয়েছে। তবে তিনি পরবর্তী সময়ে অন্য কোথাও বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। জাকারিয়ার আইনজীবী পরিচয় নিয়ে প্রথম বিস্তারিত প্রশ্ন তোলে সংবাদমাধ্যম পপুলার ইনফরমেশন। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির আইন পেশায় অনুমোদিত ব্যক্তিদের তালিকা পরীক্ষা করেও জাকারিয়ার নাম পাওয়া যায়নি। তাঁর বিবাহপূর্ব নাম ব্যবহার করেও অনুসন্ধান চালানো হয়। ওয়াশিংটন পোস্টের পৃথক অনুসন্ধানেও তাঁর নামে আইন পেশার লাইসেন্স থাকার কোনো নথি পাওয়া যায়নি। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট বারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, কেটি জাকারিয়া কিংবা তাঁর আগের নাম কেট শ্যারন ব্ল্যাক ব্যবহার করে ওই অঙ্গরাজ্যে আইন পেশার লাইসেন্স পাওয়ার কোনো রেকর্ড নেই। একইভাবে তাঁর নাম ক্যালিফোর্নিয়ার বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের তালিকাতেও পাওয়া যায়নি। তবে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন এবং আইন পেশায় কাজ করার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দুটি পৃথক বিষয়। বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও সাক্ষাৎকারে জাকারিয়া নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। পপুলার ইনফরমেশনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ফক্স নিউজের অন্তত ১৮টি অনুষ্ঠানে তাঁকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেশাগত পরিচিতিতেও তিনি আইনজীবী পরিচয় ব্যবহার করেছেন। বুধবার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে জাকারিয়া জানান, আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর নিজেকে কীভাবে পরিচয় দেবেন, তা জানতে তিনি পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের পরামর্শ নিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, তাঁকে ‘অ্যাটর্নি’ বা ‘এসকোয়ার’ পরিচয় ব্যবহার না করতে বলা হলেও ‘লইয়ার’ পরিচয় ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে এই বক্তব্য তাঁর নিজের ব্যাখ্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এমন অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়নি। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখেও পড়েন জাকারিয়া। তাঁকে কোন অঙ্গরাজ্যের বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তা জানতে চাওয়া হলে তিনি চীনে যাওয়ার সময়ের কথা উল্লেখ করেন। পরে নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, প্রশ্নটি তিনি ঠিকমতো শুনতে পাননি। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বোঝানো যে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি চীনে গিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। পেশাগত পরিচিতি অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত চীনের বেইজিংয়ে ঝং লুন ল ফার্মের আন্তর্জাতিক কার্যক্রমসংক্রান্ত দলে কাজ করেন জাকারিয়া। তাঁর লিংকডইন প্রোফাইলে ওই প্রতিষ্ঠানে সহযোগী হিসেবে কাজ করার তথ্য রয়েছে। পরে ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রিক গ্রেনেলের প্রতিষ্ঠিত ফিক্স ক্যালিফোর্নিয়া সংগঠনে জেনারেল কাউন্সেল হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্যও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এসব পদে তাঁর কাজের ধরন এবং আইন পেশার লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে জাকারিয়ার আইনজীবী পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছে পর্যবেক্ষক সংগঠন ক্যাম্পেইন ফর অ্যাকাউন্টেবিলিটি। বুধবার সংগঠনটি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট বারের কাছে অভিযোগ জমা দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানায়। সংগঠনটির দাবি, আইন পেশার অনুমোদন না থাকলে নিজেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইনজীবী হিসেবে উপস্থাপন করা ক্যালিফোর্নিয়ার আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। তবে স্টেট বার গোপনীয়তাসংক্রান্ত বিধির কারণে কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেনি। জাকারিয়া অবশ্য নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, তিনি প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নিয়েই আন্তর্জাতিক লেনদেনসংক্রান্ত আইনি কাজে যুক্ত ছিলেন। হোয়াইট হাউসও তাঁর চীনে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে তাঁর আইন পেশার লাইসেন্স থাকার প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন বিষয়ে ডিগ্রি থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার অনুমোদন পাওয়া যায় না। সাধারণত সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং আইন পেশায় আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া প্রয়োজন। তবে জাকারিয়ার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে আইন পেশা পরিচালনার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জাকারিয়ার পেশাগত পরিচয় নিয়ে এই বিতর্ক সামনে এসেছে। তাঁর বার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও যুক্তরাষ্ট্রে আইন পেশার লাইসেন্স থাকার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে জাকারিয়া নিজের আন্তর্জাতিক আইনি কাজের অভিজ্ঞতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের দুই নম্বর প্ল্যাটফর্ম এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ এক নারী ও এক পুরুষকে আটক করা হয়। স্টেশনে মাদক বিক্রির খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। পরে আটক দুজনকে জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের দুই নম্বর প্ল্যাটফর্ম এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ এক নারী ও এক পুরুষকে আটক করা হয়। স্টেশনে মাদক বিক্রির খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। পরে আটক দুজনকে জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকের কিছুক্ষণ পর দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি ফাঁড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীদের কাছে রামদা, চাপাতি, ছুরি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা ফাঁড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। তাঁদের মধ্যে একজন টিএসআই নুরুল ইসলাম এবং অন্যজন কনস্টেবল আশিক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে আহত কর্মকর্তার পদবিতে কিছু পার্থক্য রয়েছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বরাতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল ফাঁড়ি ঘিরে হামলা চালায়। ফাঁড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি আশপাশের স্থাপনাতেও হামলার দৃশ্য ভিডিওতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং ঢাকা রেলওয়ে থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নিতে পারেনি। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যান এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়। ঢাকা রেলওয়ে থানায় পুলিশের ওপর হামলা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করার কথাও জানানো হয়েছে। পুলিশ ফাঁড়িতে এ ধরনের হামলা সরকারি দায়িত্ব পালন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করে। মাদকবিরোধী অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করা জরুরি। একই সঙ্গে হামলায় কারা সরাসরি অংশ নিয়েছে, তাদের পরিচয় কী এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জেরে বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) সম্প্রতি এই নোটিশ জারি করেছে। ইমরান খান জন্মসূত্রে একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনি ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডের মাধ্যমে ভারতে বসবাস ও কাজ করেন। মুম্বাই পুলিশের দাবি, একজন বিদেশি নাগরিক হিসেবে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে তিনি অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য আইন লঙ্ঘন করেছেন। গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-এর আয়োজনে হওয়া ওই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন এই অভিনেতা। সেখানে তাকে তার প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন, মা নুসরাত ও ভাগনি জেইনসহ পুলিশ আটক করেছিল। আটকের পর পুলিশের ভ্যান থেকে তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, "মনে হচ্ছে আমি একটু ঘুরতে যাচ্ছি।" এই ঘটনার পরপরই ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতা কিরিট সোমাইয়া ইমরান খানের বিরুদ্ধে ভারতে নৈরাজ্য ছড়ানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে তার নাগরিকত্ব ও ওসিআই স্ট্যাটাস তদন্তের দাবি জানিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তবে এফআরআরও-এর এই নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে বোম্বে হাইকোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইমরান খানের আইনি দল। তাদের যুক্তি, ভারতীয় আইনে ওসিআই কার্ডধারীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ওপর কোনো সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই। অন্যদিকে ইমরান খান স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং মুম্বাইয়ের একজন সাধারণ বাসিন্দা হিসেবেই তিনি ওই সমাবেশে গিয়েছিলেন। মানুষের চলাফেরার স্বাধীনতা কেন খর্ব করা হচ্ছে এবং সাধারণের কণ্ঠ কেন রোধ করা হচ্ছে, মূলত তার উত্তর খুঁজতেই তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। বোম্বে হাইকোর্টে তার এই আইনি লড়াইয়ের ফলাফলের ওপরই এখন নির্ভর করছে ভারতে ইমরান খানের ভবিষ্যৎ অবস্থান।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সুপারমার্কেট চেইন ক্রোগার আগামী তিন বছরে তিন হাজার করপোরেট কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়িয়ে বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয় করা এবং একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি কমানোর লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এএল ডটকম ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনসিনাটিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গ্রেগ ফোরান কর্মীদের পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির অগ্রগতি সুপারমার্কেট ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। বিভিন্ন শিল্পে কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানকেও মানিয়ে নিতে হবে। ফোরান জানান, নতুন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গ্রহণ, একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি কমানো এবং কোন কাজ কোথায় সবচেয়ে কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায়, তা পুনর্বিবেচনা করবে ক্রোগার। এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই করপোরেট পর্যায়ে কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়বেন ওহাইওতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে থাকা করপোরেট অফিসগুলোর কর্মীরা। তবে কোন অফিস থেকে কতজন কর্মী ছাঁটাই করা হবে কিংবা কোন বিভাগ সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় ক্রোগারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ক্রোগারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অধীনে দুই হাজার ৭০০টির বেশি সুপারমার্কেট রয়েছে। এসব ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে রালফস, কিং সুপার্স, স্মিথস ও ফ্রেড মেয়ার। প্রতিষ্ঠানটিতে চার লাখ নয় হাজারের বেশি কর্মী রয়েছেন। তবে ঘোষিত তিন হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত মূলত করপোরেট অফিসগুলোর জন্য। প্রকাশিত প্রতিবেদনে সুপারমার্কেটে কর্মরত কর্মীদের একইভাবে ছাঁটাই করার কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। আগামী তিন বছরে ধাপে ধাপে এই কর্মী ছাঁটাই কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে ক্রোগারের। তবে প্রথম পর্যায়ে কতজন কর্মী চাকরি হারাবেন কিংবা ছাঁটাইয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি কী হবে, তা জানানো হয়নি। ক্রোগারের এই সিদ্ধান্ত এমন সময় সামনে এসেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটি এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে চাইছে। প্রধান নির্বাহীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং করপোরেট কার্যক্রম আরও কার্যকর করাই এই পুনর্গঠনের উদ্দেশ্য। সূত্র: এএল ডটকম
বিদেশে নির্মাণশ্রমিকের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষায়িত প্রতিক্রিয়া বাহিনীর (এসআরবি) প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, এভাবে রাশিয়ায় নেওয়া ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে অন্তত ২০ জন ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন। ঢাকা ট্রিবিউনের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসআরবি-১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ঢাকার কারওয়ান বাজারে সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের প্রাথমিক তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশিরা ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণের পর যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসআরবির তথ্য অনুসারে, গত ৭ মে জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই বাংলাদেশিরা রাশিয়ায় যান। নির্মাণকাজের চাকরির আশ্বাসে প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে তাঁদের সামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। এরপর তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়; পরে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এসআরবি জানিয়েছে, বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন আহত অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরেছেন।তাঁদের একজন রাজন ড্রোন হামলায় কোমরে গুরুতর আঘাত পেয়ে শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও দুজন মস্কোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ছয়জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন বলে বাহিনীটি জানিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান ও আবু তাহের ওরফে লেন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি। বিদেশে চাকরির নামে বিপুল অর্থ নেওয়া, চুক্তির বাইরে কাজে নিয়োগ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিদেশে কাজের জন্য টাকা দেওয়ার আগে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বৈধতা, কাজের চুক্তি, ভিসার ধরন এবং গন্তব্য দেশের শ্রম আইন যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। সম্প্রতি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি একদল ব্যক্তির রোষানল ও হেনস্তার শিকার হন। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশে সাবেক এই সরকারপ্রধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ প্রটোকল ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে ড. ইউনূসের এই বিশেষ নিরাপত্তা বহাল থাকবে। জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সদস্য। দেশের একমাত্র নোবেলজয়ী এবং বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এমন একজন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বিদেশে এ ধরনের অবমাননাকর আচরণ যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে কড়া সতর্কতা জারি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সরকারি বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ মিশন ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা ড. ইউনূসের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ শুরু করেছেন। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে এই হেনস্তার ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে অবহিত করেছে। এর পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ এবং জেএফকে বিমানবন্দরের দায়িত্বে থাকা পোর্ট অথরিটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট। বর্তমানে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ও আইনি তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে সম্ভাব্য বন্দুক হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী আলেকজান্দ্রোস পাপোরাকিসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, অরোরা এলাকার কোনো হিন্দু উপাসনালয় তাঁর লক্ষ্য হয়ে থাকতে পারে। তবে নির্দিষ্ট স্থানটি এখনো নিশ্চিত হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়া ও বেআইনিভাবে অস্ত্র রাখার গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্যালাটাইন পুলিশ জানিয়েছে, উদ্বেগজনক ইলেকট্রনিক বার্তার বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর গত ১১ অক্টোবর রোববার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাউন্ট প্রসপেক্ট ও প্যালাটাইন পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়। বুধবার বিষয়টি প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি রাইফেল, গুলিভর্তি একাধিক ম্যাগাজিন এবং কয়েক শ অতিরিক্ত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বডি আর্মারসহ একটি ট্যাকটিক্যাল ভেস্টও পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, এতে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী উগ্রপন্থার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতীক ছিল। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, তদন্তকারীরা পাপোরাকিসের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ এবং তাঁর লেখা বলে চিহ্নিত একটি নথি পরীক্ষা করেছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নথিটিতে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী ও উগ্রপন্থী বক্তব্যের পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয়, বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, গ্রেপ্তারের দিনই হামলা চালানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে তাঁর। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, পাপোরাকিস এক সহকর্মীকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে তাঁর বন্দুক আটকে গিয়েছিল এবং তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে এসেছেন। তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট স্থান এখনো তদন্তাধীন। তদন্তে সহায়তা করছে এফবিআই। বুধবার কোর্ট হিয়ারিংয়ে বিচারক তাঁকে আটক রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তী শুনানি ৩০ অক্টোবর নির্ধারিত রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার এখনো হয়নি।
ঢাকার ধানমন্ডিতে এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওর সূত্র ধরে মারধরের শিকার ব্যক্তি ও তাঁকে মারধরকারী ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে ধানমন্ডির সাত মসজিদ সড়কে বাংলাদেশ আই হাসপাতালের কাছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কের পাশে বসে থাকা এক ব্যক্তিকে আরেক ব্যক্তি চড়-থাপ্পড় মারছেন এবং কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন। মারধরের সময় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক তরুণীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। সংবাদমাধ্যমকে ওই তরুণী জানান, ব্যক্তি তাঁর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়েছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পরও তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরে তিনি আত্মীয় খালিদ হাসানকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডাকেন। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, খালিদ হাসান (৩৫) নামের ওই ব্যক্তিকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাঁকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান। অন্যদিকে, অভিযোগের ভিত্তিতে আবদুল্লাহ আল মাসুদ (৪৮) নামের মারধরের শিকার ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন বলে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক আবদুল হাই। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব। ঘটনাটি জনসমক্ষে হয়রানির অভিযোগ, ব্যক্তিগতভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া এবং পুলিশের তাৎক্ষণিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কারও বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ থাকলে সেটি যথাযথভাবে তদন্ত করা জরুরি। একইভাবে অভিযোগের জবাবে মারধর বা অপমানজনক শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।