- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১০৩টি ফ্লাইটের সূচিতে বিঘ্ন ঘটেছে। কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, আবার কিছু ফ্লাইটের যাত্রা স্থগিত রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন মোট ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ২টায় প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, প্রভাবিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৪২টি সরাসরি সৌদিগামী এবং ৬১টি ট্রানজিট রুটের ফ্লাইট। বেবিচকের আগের দিনের হিসাব অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ১০০টি ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছিল। তখন ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৩৯৩। নতুন হিসাবে ফ্লাইটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩টিতে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যাও বেড়ে হয়েছে ১৫ হাজার ৭৭৯। অর্থাৎ, আগের হিসাবের তুলনায় আরও তিনটি ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে এবং অতিরিক্ত ৩৮৬ জন যাত্রী ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ার। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়ার ৮টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি সরাসরি ফ্লাইট চলাচলে প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে, ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার ফ্লাইটও বিঘ্নের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৩টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট রয়েছে। সৌদি আরবগামী যাত্রীদের ভোগান্তির পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে গত শনিবারের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ মোট ১৪ জনের মৃ ত্যুর খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় অনেকে আহতও হন। এরপর থেকেই ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্নের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের অনেকে বিকল্প পথে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে যাত্রার সময়সূচি পরিবর্তন, বিকল্প ফ্লাইট খোঁজা এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা নতুন করে সাজানোর কারণে তাঁদের বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। সংস্থাটি প্রথমে রিয়াদগামী এবং পরে দাম্মামগামী ফ্লাইট স্থগিত করে। অন্যদিকে, বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। সৌদিগামী যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটেও বিঘ্ন ঘটছে। ফলে শুধু নির্দিষ্ট একটি বিমান সংস্থার যাত্রী নয়, বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সৌদি আরব যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও সমস্যায় পড়ছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়া জরুরি। ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হলে বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে বাড়তি দুর্ভোগের আশঙ্কা থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন তরুণ ভোটাররা। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ বাড়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তাঁদের বড় একটি অংশ এবার ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে। তরুণদের এই অংশগ্রহণ বাস্তবে কতটা বাড়ে, তার ওপর নির্ভর করতে পারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যক্তিগত অধিকার এবং রাজনীতিতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তরুণদের ভোটের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক ভোটারদের তুলনায় তরুণদের ভোট দেওয়ার হার ঐতিহাসিকভাবে কম। তবে এবার জেনারেশন জি বা জেন জির মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই প্রজন্মের ভোট কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইনফরমেশন অ্যান্ড রিসার্চ অন সিভিক লার্নিং অ্যান্ড এনগেজমেন্টের যোগাযোগ ব্যবস্থাপক আলবার্তো মেদিনা মনে করেন, তরুণদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পেছনে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বড় ভূমিকা রাখছে। তাঁর ভাষায়, অনেক তরুণ নিজেদের জীবন, সমবয়সীদের পরিস্থিতি এবং তাঁদের বসবাসের সম্প্রদায়ের উন্নতি চান। এই প্রত্যাশাই তাঁদের রাজনীতি নিয়ে আগ্রহী করে তুলছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে অ্যালায়েন্স ফর ইয়ুথ পাওয়ার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (পিএসি) ও ইউগভের প্রকাশিত এক জরিপে তরুণদের ভোট দেওয়ার পরিকল্পনার বিষয়টি উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আটটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় পরিচালিত ওই জরিপে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ৮০ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, তাঁরা সম্ভবত ভোট দেবেন অথবা নিশ্চিতভাবেই ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। জরিপের এই ফলাফল তরুণ ভোটারদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও তাঁদের প্রকৃত উপস্থিতিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করা আর বাস্তবে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া এক বিষয় নয়। তাই নির্বাচনের দিন কতজন তরুণ ভোট দিতে যান, তার ওপর তাঁদের প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে। যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। এই বয়সী ভোটারদের মধ্যে সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ঝোঁক দেখা যায়। তবে তরুণদের রাজনৈতিক অবস্থান শুধু দলীয় পছন্দের ওপর নির্ভর করে না। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সামাজিক অধিকার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশাও তাঁদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। মেদিনা বলেন, জেন জি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় প্রজন্মগুলোর একটি। ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণদের প্রায় অর্ধেক বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য। এ ছাড়া তাঁদের প্রায় প্রতি পাঁচজনে একজন নিজেদের এলজিবিটিকিউ পরিচয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানান। এই বৈচিত্র্যের কারণে ব্যক্তিগত পরিচয়, নাগরিক অধিকার এবং বন্ধু, পরিবার ও নিজ নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলো তরুণদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। তাঁদের অনেকের কাছে এসব বিষয় কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; বরং দৈনন্দিন জীবন ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া, মিশিগান, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ইয়ুথ পাওয়ার পিএসি ও ইউগভের জরিপে দেখা গেছে, এই চার অঙ্গরাজ্যে তরুণ ভোটারদের ৬০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এই পরিসংখ্যান থেকে তরুণদের দলীয় পছন্দ সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া গেলেও তা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত করে না। নির্বাচনের আগে তাঁদের অগ্রাধিকার পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতির হার এবং অন্যান্য বয়সী ভোটারদের অংশগ্রহণও ফলাফলে প্রভাব ফেলবে। তরুণ ভোটারদের উদ্বেগের তালিকায় জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি শীর্ষস্থানীয় বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত একাধিক জরিপে এসব বিষয়কে তাঁদের প্রধান উদ্বেগের মধ্যে রাখা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় সামলানো এবং অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তার পাশাপাশি রাজনীতিতে দুর্নীতি ও বড় অঙ্কের অর্থের প্রভাব কমানোর বিষয়টিও তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। মেদিনার মতে, তরুণরা নিজেদের জীবন ও সম্প্রদায়ের উন্নতি চান। কিন্তু রাজনৈতিক ব্যবস্থায় তাঁদের মতামত কতটা গুরুত্ব পায় এবং পরিবর্তন আনার ক্ষমতা অর্জনের পথে কী বাধা রয়েছে, সেই প্রশ্নও তাঁদের ভাবিয়ে তুলছে। এসব বাধা অতিক্রম করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় প্রভাব রাখার আকাঙ্ক্ষা তাঁদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে পারে। সব মিলিয়ে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অল্প ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনগুলোতে তাঁদের ভোটের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। তবে তরুণদের এই আগ্রহ শেষ পর্যন্ত কতটা নির্বাচনী শক্তিতে রূপ নেবে, তা নির্ভর করবে তাঁদের বাস্তব অংশগ্রহণের ওপর। জরিপে প্রকাশ করা পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁরা ভোট দিতে গেলে এবারের নির্বাচনে জেন জির ভূমিকা আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ইমিগ্রেশন নথিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্তে তাঁর মোবাইল ফোন জব্দ করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। একই তদন্তে তাঁর কয়েকজন আত্মীয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এক ডজনের বেশি গ্র্যান্ড জুরি সমন দেওয়া হয়েছে বলে তদন্ত সম্পর্কে অবহিত একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। গত সোমবার, ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে ওমরের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। মিনেসোটায় একটি গ্র্যান্ড জুরি তদন্তের জন্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছে বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের পূর্ণ পরিধি এখনো স্পষ্ট নয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তা ও তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে জানিয়েছে, ওমরের নাগরিকত্ব বাতিল এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের মামলা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। অনুসন্ধানের একটি অংশে তিনি কীভাবে নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন এবং তাঁর প্রয়াত বাবার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি তদন্তের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, নাগরিকত্ব বাতিলের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আদালতের অনুমোদিত সার্চ ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মকর্তারা তল্লাশি চালিয়েছেন। সংস্থাটি আইসিইর অংশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ওমর শিশু থাকাকালে তাঁর বাবা পূরণ করেছিলেন, এমন ইমিগ্রেশন নথিও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ওমর এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ভয়ভীতি দেখানোর প্রচেষ্টা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ভিত্তিহীন অভিযোগের লক্ষ্য করেছেন। ফেডারেল আইনপ্রয়োগকারী ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এই তল্লাশি হয়েছে। মিনেসোটার প্রতিনিধি ওমর ওই নির্বাচনে পুনর্নির্বাচন চাইছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত তদন্তে প্রকাশ্যে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনার ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তদন্ত বা ফোন জব্দ হওয়া অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়।
নার্সিং স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার দিনই স্টেজ থ্রি ট্রিপল-নেগেটিভ স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের বাসিন্দা কেটলিন ড্যানিয়েলের। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৪ বছর। চিকিৎসার জন্য প্রায় এক বছর জীবনের পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে হলেও পড়াশোনার স্বপ্ন ছাড়েননি তিনি। এখন ২৬ বছর বয়সী কেটলিন একজন রেজিস্টার্ড নার্স, বাগদান সম্পন্ন হয়েছে এবং কন্যাসন্তানের জন্মের অপেক্ষায় রয়েছেন। পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিলগোর শহরের এই বাসিন্দা জানান, নিজের রোগ শনাক্ত হওয়ার আগে কম বয়সীদের মধ্যেও ক্যান্সার হতে পারে, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর সচেতনতা কম ছিল। নার্সিং স্কুলে ভর্তি হওয়ার আনন্দের মধ্যেই রোগ শনাক্তের খবর তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। পিপলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেটলিন ২০২৫ সালে চিকিৎসা শেষ করেন। কেমোথেরাপি ও অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শরীরে রোগের আর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। এরপর পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে ২০২৬ সালের আগস্টে নার্সিং স্কুল থেকে স্নাতক হন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন কেটলিন। চলতি বছরের মার্চে তাঁর বাগদান হয়। মে মাসে জানতে পারেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তাঁর কন্যাসন্তানের সম্ভাব্য জন্মতারিখ আগামী ১৫ জানুয়ারি। গর্ভাবস্থায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি। এখন কেটলিনের লক্ষ্য ক্যান্সার রোগীদের সেবায় কাজ করা। ভবিষ্যতে টেক্সাস অনকোলজিতে অনকোলজি নার্স হতে চান তিনি। রোগী হিসেবে চিকিৎসার সময় যে ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই অন্য রোগীদের পাশে দাঁড়াতে চান কেটলিন।
আক্কেলদাঁত তোলার পর মুখ ও গলায় ফোলা দ্রুত বেড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন কানাডার অন্টারিওর বাসিন্দা সারা ডিক। ৩১ বছর বয়সী এই নারী প্রথমে ফোলাকে স্বাভাবিক ভেবেছিলেন। কিন্তু গিলতে, মুখ খুলতে ও কথা বলতে কষ্ট হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ইমার্জেন্সি রুমে যান। সেখানে সংক্রমণ ও তীব্র প্রদাহের চিকিৎসা দেওয়া হয় তাঁকে। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর আংশিক বের হওয়া একটি আক্কেলদাঁত তুলিয়েছিলেন সারা। পরদিন মুখের এক পাশ প্রচণ্ড ফুলে যায়। ডেন্টিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথার ওষুধ দেওয়া হয়। শ্বাসকষ্ট হলে হাসপাতালে যেতেও বলা হয়। পরে ফোলা গাল ও চোয়াল ছাড়িয়ে ঘাড় ও গলায় ছড়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর অবস্থা দেখে অনেকে দ্রুত চিকিৎসা নিতে বলেন। হাসপাতালে যাওয়ার পর রক্ত পরীক্ষা ও সিটি স্ক্যান করা হয়। শিরায় ওষুধ ও তরল দেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি হলে তিনি বাড়ি ফেরেন। দুই সন্তানের মা সারা জানান, এখন দৈনন্দিন কাজে ফিরলেও কিছুটা ব্যথা ও ফোলা রয়েছে। আক্কেলদাঁত তোলার পর কিছু ব্যথা ও ফোলা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, এটি সাধারণত একটি সহজ প্রক্রিয়া হলেও সংক্রমণসহ কিছু জটিলতা হতে পারে। ব্যথা ও ফোলা তীব্র হলে বা বাড়তে থাকলে এবং ব্যথার ওষুধে উপকার না হলে জরুরি ডেন্টাল পরামর্শ নেওয়া উচিত। ব্যথার সঙ্গে মুখে বাজে স্বাদ, জ্বর বা অসুস্থ লাগাও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার কারণ। আর মুখ বা গলার ফোলায় শ্বাসনালি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কিংবা গিলতে সমস্যা হলে বিষয়টি জরুরি চিকিৎসার পর্যায়ে পড়ে বলে এনএইচএস ইংল্যান্ডের নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।
পাকিস্তানের সাবেক অভিনেত্রী জারনিশ খান জানিয়েছেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে স্বপ্নে দেখার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাঁকে অভিনয় ছেড়ে ধর্মীয় জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করেছিল। ২০২৩ সালে স্বামীর সঙ্গে ওমরাহ সফরের সময় তাঁর জীবনে এই পরিবর্তনের সূচনা হয়। পরে এক সাক্ষাৎকারে বিনোদনজগৎ থেকে সরে যাওয়ার কারণ তুলে ধরেন তিনি। ডন উর্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জারনিশ বলেছিলেন, অভিনয়ে সাফল্য পাওয়ার পরও তাঁর মনে এক ধরনের অপূর্ণতা কাজ করত। খ্যাতি ও অর্জনের মধ্যেও জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন জাগত। সেই সময় স্বামীর সঙ্গে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা করেন তিনি। জারনিশের ভাষ্য, পবিত্র স্থানে অন্যদের ইবাদত ও কান্না দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আল্লাহর কাছে কীভাবে ক্ষমা চাইবেন, তা নিয়ে ভাবতে থাকেন। এই সময়ের একটি স্বপ্নের অভিজ্ঞতা তাঁর সিদ্ধান্তে গভীর প্রভাব ফেলে বলে জানান তিনি। ডায়ালগ পাকিস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিরাজের ঘটনা শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন জারনিশ। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, স্বপ্নে তিনি মহানবী (সা.)-কে দেখেন এবং ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে নির্দেশনা পান। ঘুম ভাঙার পর কয়েক ঘণ্টা কেঁদেছিলেন বলে জানান এই সাবেক অভিনেত্রী। স্বপ্নের এই বিবরণ তাঁর নিজের বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভাষ্য। এরপর নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের ছবি ও রিলস সরিয়ে দেন জারনিশ। তিনি জানান, বিনোদনজগতে আর কাজ না করার সিদ্ধান্ত তখনই নিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্তে অটল থাকতে আল্লাহর সাহায্য চেয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন। অভিনয় থেকে সরে যাওয়ার পর হিজাব পরা শুরু করেন এবং ধর্মীয় অনুশীলনকে জীবনের অগ্রাধিকার দেন জারনিশ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবর্তনটি শুধু পোশাকে সীমাবদ্ধ ছিল না, নিজের জীবনযাপন ও ভবিষ্যতের পথ নিয়েও নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং স্থানটির পবিত্রতা লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালত তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার, ১৪ অক্টোবর তাঁদের দণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি সংবাদমাধ্যম আজেল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের নাম নাজরুল ইসলাম আব্দুল বাসির ও সিটি আক্তার। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা পাঠানো হয়। আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন এবং অপরাধের গুরুত্ব ও স্থান ও সময়ের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয় বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। পরবর্তী বিচারিক পর্যালোচনায় রায় বহাল থাকে। এরপর রাজকীয় নির্দেশ জারির পর মক্কা অঞ্চলে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। প্রকাশিত বিবরণে ‘অনৈতিক কাজ’ বলতে সুনির্দিষ্টভাবে কী বোঝানো হয়েছে, তা বিস্তারিত বলা হয়নি। ঘটনাটি কোন মসজিদে বা কবে ঘটেছিল এবং দণ্ডিতদের আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য কী ছিল, সেসব তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
মুম্বাইয়ে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। মার্কিন নাগরিক ও ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া বা ওসিআই কার্ডধারী এই অভিনেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইকোনমিক টাইমস। গত ১০ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির বা সিজেপির আন্দোলনের সমর্থনে মুম্বাইয়ে জমায়েতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আগস্ট ক্রান্তি ময়দানকে ঘিরে পুলিশের অভিযানে আটক শত শত মানুষের মধ্যে ইমরানও ছিলেন। পরে তিনি মুক্তি পান। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ আগে থেকেই আগস্ট ক্রান্তি ময়দান ঘিরে রাখে। ময়দানের কাছাকাছি নানা চকসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়। ফলে ঘটনাটি শুধু ময়দানের ভেতরে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশে সীমাবদ্ধ ছিল না। ইমরানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিজেপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য কিরিট সোমাইয়া। পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বাই পুলিশকে দেওয়া চিঠিতে তিনি জানতে চান, বিদেশি নাগরিক হিসেবে ইমরান ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন কি না। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে ভারত থেকে বহিষ্কারের দাবিও জানান সোমাইয়া। অন্যদিকে ইমরান জানিয়েছিলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে যাননি। মুম্বাইয়ের একজন বাসিন্দা হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়েছিলেন। মানুষের চলাফেরায় বাধা দেওয়া এবং তাঁদের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ সীমিত করার কারণ জানতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। তাঁর এই বক্তব্য বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এরপর তাঁর ওসিআই কার্ডের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ নিয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেয় পুলিশ। টাইমস অব ইন্ডিয়ার ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে গামদেবী থানার জ্যেষ্ঠ পরিদর্শক প্রশান্ত মোহিতেকে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানানো হয়। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান এয়ারটেবলের কর্মীদের বড় একটি অংশকে ছাঁটাই করছে নতুন মালিক বেন্ডিং স্পুনস। গত ১২ অক্টোবর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান ইতালীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির প্রোডাক্ট লিডার ফেদেরিকো সিমিওনাতো। কতজন চাকরি হারাচ্ছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি। ছোট দল দিয়ে আরও কার্যকরভাবে কাজ পরিচালনার যুক্তি দিয়েছে কোম্পানিটি। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক্সে দেওয়া ঘোষণায় সিমিওনাতো বলেছেন, কর্মীদের কাজের মানের কারণে এই ছাঁটাই হচ্ছে না। বরং ছোট দল আরও বেশি ও ভালো কাজ করতে পারে, প্রতিষ্ঠানের এই বিশ্বাস থেকেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। বিদায়ী কর্মীদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁদের নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান তিনি। এয়ারটেবল অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার প্রায় এক মাস পর এই ঘোষণা এসেছে। বেন্ডিং স্পুনসের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটি কেনার চুক্তি হয়। এতে এয়ারটেবলের এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু নির্ধারণ করা হয় ১২৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয় ৪ সেপ্টেম্বর। এয়ারটেবল মূলত তথ্য সংগঠিত করা, দলগত কাজ পরিচালনা ও কাজের প্রক্রিয়া সহজ করার সফটওয়্যার সরবরাহ করে। নতুন মালিকানায় প্রতিষ্ঠানটিকে ছোট দল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সুবিধাকে কেন্দ্র করে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিজনেস ইনসাইডার জানিয়েছে। তবে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের নির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দিতে রাজি হননি কোম্পানির মুখপাত্র। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বে এরিয়া নিউজ গ্রুপের হিসাব তুলে ধরে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার প্রযুক্তি খাতে ২০২৬ সালে ইতিমধ্যে ১৪ হাজারের বেশি চাকরি ছাঁটাই হয়েছে। এই সংখ্যা পুরো ২০২৫ সালের মোট ছাঁটাইকে ছাড়িয়ে গেছে। এটি ওই অঞ্চলের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত হিসাব, শুধু এয়ারটেবলের ছাঁটাইয়ের সংখ্যা নয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওয়ার্কডে আগামী ৩০ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার প্লেজ্যান্টনে তাদের প্রধান কার্যালয়ের ১৪২ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা জানিয়েছে। একই অঞ্চলে একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্মী কমানোর মধ্যেই এয়ারটেবলের নতুন ঘোষণা এল। তবে এয়ারটেবলের ক্ষেত্রে কোন বিভাগে কত পদ বাদ যাচ্ছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতায় হিজাব ছাড়া অংশ নেওয়ায় ২০১৭ সালে ইরানের জাতীয় দল ও দেশের ভেতরের প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ হয়েছিলেন দরসা দেরাখশানি। সেই বছরই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটিতে দাবার স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। পরে ফেডারেশন বদলে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার পথ বেছে নেন এই ইরানি দাবাড়ু। দরসা উইমেন গ্র্যান্ডমাস্টার ও ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার খেতাবধারী। ইউএস চেসের তথ্য অনুযায়ী, জিব্রাল্টার দাবা উৎসবে হিজাব না পরে খেলার ঘটনায় ইরানের দাবা ফেডারেশন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। তখন তিনি স্পেনের বার্সেলোনায় বসবাস করছিলেন। ফলে নিষেধাজ্ঞার পর সরাসরি ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে এসেছিলেন, ঘটনাপ্রবাহটি এমন নয়। ২০১৭ সালের গ্রীষ্মে দরসা মিসৌরির সেন্ট লুইসে আসেন এবং ওই বছরের শরতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু করেন। সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটির বিবরণ অনুযায়ী, তিনি ছিলেন তাদের দাবা দলে স্কলারশিপ পাওয়া প্রথম নারী। বিশ্ববিদ্যালয়টির জীববিজ্ঞান, হেলথ সায়েন্সেস ও প্রি-মেড পড়াশোনার সুযোগ এবং শহরটির দাবার পরিবেশ তাঁকে সেখানে যেতে উৎসাহিত করেছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবা দলের হয়ে অনুশীলন ও প্রতিযোগিতা চালিয়ে যান দরসা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্যে তাঁকে হেলথ সায়েন্সেস ও জীববিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করে সার্জন হওয়ার আগ্রহের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর ইউএস চেস আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, দরসা ফেডারেশন পরিবর্তন করে তাদের খেলোয়াড় হয়েছেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, যে ফেডারেশনে তাঁকে স্বাগত জানানো হয় এবং সহযোগিতা করা হয়, সেখানে খেলতে তাঁর ভালো ও শান্তিপূর্ণ লাগে। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য সাফল্যের একটি আসে ২০২০ সালে। সে বছর ইউএস উইমেনস চেস চ্যাম্পিয়নশিপে তৃতীয় হন তিনি। সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় দ্বাদশ বাছাই হিসেবে শুরু করেও প্রথম তিনজনের মধ্যে জায়গা করে নেন দরসা। নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখালেখি ও বক্তব্যেও ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতার কথা তুলে ধরেছেন দরসা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত মতামত নিবন্ধে নিজের যাত্রার কথা লেখেন তিনি। পরে একটি টেডএক্স বক্তব্যে নারীদের ওপর সামাজিক প্রত্যাশা ও নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিয়ে আলোচনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নিজের পছন্দের স্বাধীনতার পাশাপাশি অন্যের পছন্দকেও সম্মান করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
ঢাকার মোহাম্মদপুরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুস্বাস্থ্য হাসপাতালে দুই কন্যাসন্তানের জন্মের সময় প্রসবসংশ্লিষ্ট টিকিট বাবদ মোট ৭৫ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্কুলশিক্ষক নাজমুন নাহার। প্রথম সন্তানের জন্মের সময় ১০ টাকা এবং দ্বিতীয় সন্তানের সময় জরুরি সেবার টিকিটে ৬৫ টাকা দিয়েছেন তিনি। দুবারই স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে এবং এক রাত হাসপাতালে থাকার পর বাড়ি ফিরেছেন। ১৪ অক্টোবর প্রথম আলোয় প্রকাশিত নিজের অভিজ্ঞতাভিত্তিক লেখায় নাজমুন জানান, তাঁর প্রথম কন্যার জন্ম হয় ২০২১ সালের শুরুর দিকে। দ্বিতীয় কন্যার জন্ম হয় ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। হাসপাতালটি মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার নামেও পরিচিত। নাজমুনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম গর্ভাবস্থায় তিনি কয়েকজন চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বারে গিয়েছিলেন। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার অভিজ্ঞতার পর গর্ভাবস্থার মাঝামাঝি সময়ে বাড়ির কাছের এই সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে শুরু করেন। হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, চিকিৎসাকর্মীদের সহযোগিতা এবং মিডওয়াইফদের দক্ষতার প্রশংসা করেছেন তিনি। দুই সন্তানের জন্মের সময়ই প্রসবে জটিলতা ছিল না বলে জানান নাজমুন। তাঁর বর্ণনায়, মিডওয়াইফরাই প্রসবের দায়িত্ব পালন করেন। সন্তান জন্মের পর দুবারই রাতটুকু হাসপাতালে থেকে পরদিন বাড়ি ফেরেন তিনি। প্রসবসংশ্লিষ্ট ৭৫ টাকার বাইরে দুই সন্তানের জন্য হাসপাতাল থেকে জন্মসনদ নিতে আরও মোট ২০০ টাকা খরচ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন এই শিক্ষিকা। ফলে তাঁর উল্লেখ করা ৭৫ টাকা জন্মসনদসহ সব খরচের হিসাব নয়, দুইবারের প্রসবসংশ্লিষ্ট টিকিটের খরচ। তাঁর লেখায় আরও বলা হয়েছে, হাসপাতালে কোনো ওষুধ সরবরাহ না থাকলে তা বাইরে থেকে কিনতে হয় এবং সেই ব্যয় রোগীকেই বহন করতে হয়। তাই ৭৫ টাকার হিসাবটি তাঁর নিজের দুটি জটিলতাহীন স্বাভাবিক প্রসবের অভিজ্ঞতা, সব রোগীর চিকিৎসার নির্ধারিত মোট খরচ হিসেবে তা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সূত্র: প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক সংকটে খাবারের খরচ মেটাতে অসুবিধায় পড়লে স্থানীয় ফুড প্যান্ট্রি বা খাবার বিতরণ কর্মসূচির সহায়তা নেওয়া যায়। নিজের জিপ কোড দিয়ে ফিডিং আমেরিকার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার ফুড ব্যাংক খোঁজা যায়। এ ছাড়া ২১১ নম্বরে ফোন করেও কাছাকাছি খাবারের সহায়তা সম্পর্কে জানা সম্ভব। তবে কোথায় সরাসরি খাবার দেওয়া হয় এবং যাওয়ার আগে কী প্রস্তুতি দরকার, তা নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি। ফুড ব্যাংক ও ফুড প্যান্ট্রির কাজের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফিডিং আমেরিকার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ফুড ব্যাংক মূলত খাবার সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে। আর ফুড প্যান্ট্রি সেই খাবার সরাসরি মানুষের হাতে পৌঁছে দেয়। তাই ফুড ব্যাংকের ঠিকানা পেলেই সেখানে সরাসরি খাবার সংগ্রহ করা যাবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কাছাকাছি সহায়তা খুঁজতে গুগলে ‘Feeding America’ লিখে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে যেতে পারেন। সেখানে ‘Find Your Local Food Bank’ অংশে নিজের জিপ কোড দিলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ফুড ব্যাংকের তথ্য পাওয়া যাবে। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহযোগী ফুড প্যান্ট্রি, খাবার বিতরণের স্থান ও সময় জেনে নিতে হবে। ফোনে তথ্য পেতে মোবাইল বা ল্যান্ডলাইন থেকে ২১১ নম্বরে কল করা যায়। ইউনাইটেড ওয়ে ২১১ জানিয়েছে, তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিরা এলাকার ফুড প্যান্ট্রি, খাবার পৌঁছে দেওয়ার সেবা এবং খাবারের খরচে সহায়তাকারী কর্মসূচির তথ্য দিতে পারেন। নিজের অবস্থান ও কী ধরনের সহায়তা দরকার, তা জানালে প্রাসঙ্গিক সেবার খোঁজ পাওয়া সহজ হয়। গুগল বা গুগল ম্যাপসে ‘Free Food Pantry Near Me’ কিংবা ‘Food Bank Near Me’ লিখেও প্রাথমিক খোঁজ নেওয়া যায়। তবে শুধু সার্চে দেখানো সময়ের ওপর নির্ভর না করে যাওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটিতে ফোন করুন। সেদিন খাবার বিতরণ হবে কি না, আগে রেজিস্ট্রেশন বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগবে কি না এবং সঙ্গে কোনো কাগজপত্র নিতে হবে কি না, তা জেনে নিন। ফিডিং আমেরিকা জানিয়েছে, খাবারের খরচ মেটাতে বাড়তি সহায়তা প্রয়োজন হলে ফুড প্যান্ট্রি বা খাবার কর্মসূচিতে যাওয়া যায়। তবে কিছু কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট এলাকার বাসিন্দা হওয়ার শর্ত থাকতে পারে। প্রথমবার গেলে পরিবারের প্রয়োজন সম্পর্কে প্রশ্ন করা বা ফরম পূরণ করতে বলা হতে পারে। তাই নিজের জিপ কোড, ঠিকানা ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার তথ্য প্রস্তুত রাখুন এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নিয়ম আগে জেনে নিন। খাবারের সহায়তা খুঁজতে ইউএসডিএ ন্যাশনাল হাঙ্গার হটলাইনের ১-৮৬৬-৩৪৮-৬৪৭৯ নম্বরেও ফোন করা যায়। ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, এই হটলাইনের প্রতিনিধিরা কলকারীর অবস্থানের কাছাকাছি খাবার বিতরণকেন্দ্র, ফুড ব্যাংক ও অন্যান্য সামাজিক সেবার খোঁজ পেতে সহায়তা করেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং তা ছড়িয়ে দেওয়াকে সুস্পষ্ট অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। একই সঙ্গে যারা এসব ভুয়া কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই না করে শেয়ার করেন, তাদের মানসিকতা ও ভূমিকা নিয়েও তিনি কড়া সমালোচনা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে সাইবার বুলিং ও সামাজিক অবক্ষয়ের এই গুরুতর বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কাউকে হেয় করার এই প্রবণতাকে তিনি কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং একটি বড় সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে মেহজাবীন চৌধুরী লেখেন, এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই বিনোদন হতে পারে না, এটি একটি সাইবার অপরাধ। যখন এই একই কনটেন্ট শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকে, তখন বিষয়টি আর শুধু একজন ব্যক্তির অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আমাদের সামগ্রিক সামাজিক অবক্ষয়ের একটি ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরে। সমাজ হিসেবে আমরা আসলে কতটা নিচে নেমে গেছি, সেই প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সম্মানবোধের বিষয়টি তুলে ধরে এই অভিনেত্রী তার পোস্টে আরও লেখেন, এই পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কথাটাও আর বলতে ইচ্ছে করে না যে, একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত। কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করার জন্য তাকে নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবে কল্পনা করার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব সম্মান রয়েছে এবং তা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। মানুষ হিসেবে অন্য একজন মানুষকে সম্মান করতে না পারাটা চরম ব্যর্থতা বলে তিনি তার লেখায় ইঙ্গিত দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ভিউ ও লাইকের আশায় অন্যের সম্মানহানি করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মেহজাবীন। তিনি বলেন, কিছু ভিউ, কিছু লাইক, কিছু শেয়ার, ট্রেন্ডিংয়ে থাকা এবং সেখান থেকে হয়তো কয়েকটা ডলার আয় করার জন্যই এখন এসব করা হচ্ছে। মানুষের জীবনে সংগ্রাম আছে এবং কনটেন্ট তৈরি করা অনেকের জীবিকা নির্বাহের উপায়, এই বাস্তবতাকে তিনি অস্বীকার করেন না। কিন্তু অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান কবে থেকে আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল, সেই নৈতিক প্রশ্নটি তিনি সবার সামনে ছুড়ে দিয়েছেন। বিষয়টি এখন কেবল নারী বা পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই উল্লেখ করে এই তারকা জানান, ভিউ এবং এনগেজমেন্টের এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা এখন লিঙ্গের সীমারেখাও ছাড়িয়ে গেছে। ক্ষতিকর কিছু ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় যে কেউ অংশ নিতে পারে, আবার যে কেউ এর শিকারও হতে পারে। মেহজাবীনকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় সেই অসংখ্য মানুষ, যারা স্বেচ্ছায় এসব কন্টেন্ট শেয়ার করে এবং হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। পরিশেষে তিনি সবাইকে ভেবে দেখতে বলেছেন, একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে মানুষ নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবে কি না। সূত্র: ইত্তেফাক, মেহজাবীন চৌধুরীর ফেসবুক পেজ
নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ বাড়াতে ব্রঙ্কসের একটি আবাসন ভবনে মাসে ৬৭৫ ডলারে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পিক্স১১-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়েবস্টার অ্যাভিনিউ রেসিডেন্সের এসব অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ২০ নভেম্বর। নির্ধারিত আয়সীমার মধ্যে থাকা এক বা দুই সদস্যের পরিবার এ আবাসন কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবে। অ্যাপার্টমেন্টগুলো ব্রঙ্কসের ট্রেমন্ট এলাকায় ৪১১ ইস্ট ১৭৮তম স্ট্রিটে অবস্থিত ওয়েবস্টার অ্যাভিনিউ রেসিডেন্স ভবনে। ভবনটির পরিচালনায় রয়েছে অলাভজনক আবাসন সংস্থা ব্রেকিং গ্রাউন্ড। মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭৫ ডলার। আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হবে ২৬ হাজার ৯২ ডলার থেকে ৭১ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে। তবে শুধু আবেদন করলেই অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া নিশ্চিত নয়, নির্ধারিত যোগ্যতা ও বাছাইপ্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বাসিন্দা নির্বাচন করা হবে। ভবনটিতে বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে ব্যায়ামাগার, নিজস্ব লন্ড্রি সুবিধা এবং ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তাব্যবস্থা। ব্রেকিং গ্রাউন্ডের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েবস্টার অ্যাভিনিউ রেসিডেন্সে মোট ১৭০টি ছোট আকারের স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি গৃহহীনতার অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তি ও বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন এমন বাসিন্দাদের জন্য নির্ধারিত। বাকি ৮০টি ইউনিট ব্রঙ্কসের স্বল্প আয়ের কর্মজীবী মানুষের জন্য রাখা হয়েছে। ভবনটি ২০১৮ সালে চালু হয়। আগ্রহী ব্যক্তিরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া আবেদনপত্র পেতে (৬৪৬) ৮৭০-৮৩৪০ নম্বরে ফোন করা অথবা intake@breakingground.org ঠিকানায় ইমেইল করা যাবে। আবেদন করার আগে আয়সীমা, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। অনলাইন আবেদন নিউইয়র্ক স্টেটের আবাসন আবেদন পোর্টাল আবেদন করুন সূত্র: পিক্স১১, ব্রেকিং গ্রাউন্ড।
পর্তুগালের হোসে মেস্ত্রের মুখের এক পাশ ধীরে ধীরে ঢেকে ফেলেছিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা বিশাল এক টিউমার। ঠোঁট থেকে শুরু করে মুখের বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই টিউমারের কারণে তিনি এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। শ্বাস নিতে কষ্ট হতো, খাবার খাওয়াও হয়ে উঠেছিল কঠিন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে গিয়েও কার্যকর সমাধান পাননি তিনি। একসময় তাঁর চিকিৎসার সম্ভাবনা প্রায় শেষ বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু লিসবনের রাস্তায় এক অচেনা ব্রিটিশ পর্যটকের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তাঁর জীবনে নতুন আশার সূচনা হয়। ১৯৫০-এর দশকে জন্ম নেওয়া মেস্ত্রের মুখে জন্মগত রক্তনালির অস্বাভাবিকতা ছিল। কৈশোরে, প্রায় ১৪ বছর বয়স থেকে, সেটি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের সমস্যাকে ভাসকুলার ম্যালফরমেশন বা রক্তনালির গঠনগত ত্রুটি বলা হয়। তাঁর মুখের টিউমারটি সময়ের সঙ্গে এত বড় হয়ে ওঠে যে ঠোঁট, মুখ ও জিহ্বার স্বাভাবিক গঠন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করেছিলেন, রক্তপাত ও অন্যান্য জটিলতার কারণে তাঁর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মেস্ত্রের চিকিৎসার জন্য পর্তুগালের পাশাপাশি স্পেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের চিকিৎসাকেন্দ্রেও পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। তবে রোগের জটিলতা এবং অস্ত্রোপচারের ঝুঁকির কারণে চিকিৎসা নিয়ে একমত হওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাসও চিকিৎসার সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলেছিল। মেস্ত্রে ও তাঁর মা রক্ত সঞ্চালন নিয়ে আপত্তি করতেন। ফলে এমন একটি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না, যেখানে অতিরিক্ত রক্তপাতের আশঙ্কা ছিল। মায়ের মৃত্যুর পর ছোট বোন এডিথ আব্রেউ তাঁর দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য তিনি নতুন করে সাহায্য খুঁজতে থাকেন। এ সময় ‘পিটার’ নামে পরিচিত এক ব্রিটিশ পর্যটক লিসবনের রাস্তায় মেস্ত্রেকে দেখেন। এর আগে মুখের জটিল টিউমার নিয়ে অস্ত্রোপচারের একটি তথ্যচিত্র দেখেছিলেন তিনি। সেই সূত্রে চিকিৎসক ম্যাককে ম্যাককিননের কথা মনে পড়ে তাঁর। পরে ই-মেইলের মাধ্যমে মেস্ত্রের চিকিৎসার বিষয়ে যোগাযোগের উদ্যোগ নেন ওই পর্যটক। মেস্ত্রের পরিবার তাঁকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করত বলে সে সময়ের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। ২০১০ সালে মেস্ত্রে ও তাঁর বোন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে যান। সেখানে সেন্ট জোসেফ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। প্লাস্টিক ও পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ম্যাককে ম্যাককিনন এবং তাঁর দল কয়েক ধাপে অস্ত্রোপচার করেন। প্রথমে শ্বাস নেওয়ার পথ নিরাপদ করা হয় এবং টিউমারের বড় অংশ অপসারণ করা হয়। পরবর্তী অস্ত্রোপচারগুলোতে মুখ, নাক ও মুখগহ্বরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্গঠনের কাজ চলে। চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তাঁকে কয়েক মাস শিকাগোয় থাকতে হয়েছিল। অস্ত্রোপচার ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। টিউমারটি রক্তনালিতে ভরা থাকায় অতিরিক্ত রক্তপাতের আশঙ্কা ছিল। চিকিৎসকদের লক্ষ্য ছিল শুধু টিউমার অপসারণ নয়, মেস্ত্রের শ্বাস নেওয়া, খাবার খাওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের সক্ষমতাও ফিরিয়ে আনা। চিকিৎসার পর তাঁর মুখের চেহারায় বড় পরিবর্তন আসে। তবে অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সব সমস্যা দূর হয়ে যায়নি। ক্ষত সারানো, মুখের গঠন পুনর্গঠন এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক অভিজ্ঞতা কাটিয়ে ওঠার জন্য আরও সময় প্রয়োজন ছিল। মেস্ত্রের জীবনের এই অধ্যায় শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির গল্প নয়, অপরিচিত একজন মানুষের উদ্যোগ কীভাবে অন্যের জীবনে পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে, তারও উদাহরণ। যাঁরা আগে তাঁর মুখের দিকে কৌতূহল নিয়ে তাকাতেন, তাঁদের আচরণে তিনি প্রায়ই অস্বস্তিতে পড়তেন বলে সে সময়ের প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছে। অস্ত্রোপচারের পর তিনি বাইরে বের হতে এবং মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশতে আগের তুলনায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন বলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গল্পে তাঁর নামে প্রচারিত ‘আমার মুখ কুৎসিত, কিন্তু মন নয়’ বক্তব্যটির নির্ভরযোগ্য মূল উৎস নিশ্চিত করা যায়নি। তাই এটিকে তাঁর যাচাই করা সরাসরি উদ্ধৃতি হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। নিশ্চিতভাবে জানা যায়, মেস্ত্রে দীর্ঘদিন একটি জটিল জন্মগত সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেছেন এবং ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর মুখের বড় টিউমার অপসারণ করা হয়। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোসে মেস্ত্রে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মারা যান। তাঁর জীবন ও চিকিৎসার গল্প আজও মানুষের সহমর্মিতা, চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার এবং শারীরিক ভিন্নতার কারণে কাউকে অবজ্ঞা না করার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। সূত্র: এবিসি নিউজ, এবিসি৭ শিকাগো, পর্তুগালের Notícias ao Minuto।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের আইন কার্যকরের পথে বড় আইনি বাধা দূর হয়েছে। ১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ১৪ ও ১৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি বাধ্যতামূলক করার আইন কার্যকরের অনুমতি দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালত। বুধবার (১৪ অক্টোবর) তিন বিচারকের একটি প্যানেল সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত দেয়। আদালতের মতে, শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি থেকে সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইনটি সাংবিধানিক পরীক্ষায় টিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৪ সালে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস আইনটিতে স্বাক্ষর করেন। যুক্তরাষ্ট্রে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে এটিকে অন্যতম কঠোর আইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আইন অনুযায়ী, ১৪ বছরের কম বয়সীরা নির্ধারিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। আর ১৪ ও ১৫ বছর বয়সীদের অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকের অনুমতি নিতে হবে। তবে আইনটি সব ধরনের অনলাইন সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এতে মূলত এমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো অ্যালগরিদমের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত রাখতে পারে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতায় থাকা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও এটি সম্ভবত নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিচারকদের মতে, শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থে আইনটি যতটুকু প্রয়োজন, তার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করছে না। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ আইনি পর্যালোচনার পরও আইনটি বহাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আদালত মনে করছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সব ধরনের আইনি বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। ফ্লোরিডার আইনটির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি সংগঠন, কম্পিউটার অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন এবং নেটচয়েস। তাদের যুক্তি, এ ধরনের বিধিনিষেধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে। ২০২৫ সালে নিম্ন আদালতের একজন বিচারক আইনটি সম্ভবত অসাংবিধানিক বলে মত দিয়ে এর প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। পরে আপিল আদালতে মামলার শুনানি চলাকালে সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হয়। এবার আপিল আদালত নিম্ন আদালতের ওই আদেশ বাতিল করায় আইনটি কার্যকরের পথ খুলেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আইনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব ধরনের ব্যবহার বন্ধ করে দিচ্ছে না। বরং নির্দিষ্ট বয়সীদের নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এ আইনে বয়সের ভিত্তিতে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভিভাবকের সম্মতি নিশ্চিত করতে হতে পারে। আইনটির আওতায় পড়া প্ল্যাটফর্মে আগে থেকেই থাকা অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্টও নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী বন্ধ করতে হবে। নেটচয়েস আদালতের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির আইনজীবী পল টাস্কে বলেছেন, অনলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং পরিবারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকা বজায় রাখতে তাঁরা আইনি বিকল্পগুলো পর্যালোচনা করছেন। অন্যদিকে, ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের পর মামলাটি ফ্লোরিডার রাজধানী টালাহাসির ফেডারেল আদালতে ফিরে যাবে। সেখানে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলবে। ফলে আইনটির প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগ এবং ইন্টারনেটে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা এই মামলার পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের রায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে নবীকে অবমাননার অভিযোগে ইরানে নাজমেহ আমিনি নামে ২৩ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড এবং সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে তাঁকে ১২ বছর, ছয় মাস ও এক দিনের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি মাশহাদের ভাকিলাবাদ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো চূড়ান্ত নয়, ইরানের সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস এবং হেঙ্গাও অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, আমিনি হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষার্থী। গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলায় রায় দেওয়া হয়। এর একটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নবীকে অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য মামলায় জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণার অভিযোগে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম খোরাসানও তাঁর মামলার খবর প্রকাশ করেছে। তবে বিতর্কিত পোস্টটির সম্পূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ জানুয়ারি মাশহাদের একটি বাণিজ্যিক এলাকা থেকে আমিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর ভাকিলাবাদ কারাগারে নেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রথমে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। পরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ পরিবর্তন করে নবীকে অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। ইরানের আইনে এ অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। কারাগার থেকে পাঠানো বলে পরিচিত একটি অডিও বার্তায় আমিনি নিজের মামলার পুনর্বিবেচনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ১৮ সেপ্টেম্বরের তারিখ উল্লেখ করে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি আইনজীবী, আইনি বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মী ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে তাঁর মামলার নথি পর্যালোচনার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্য যেন কারাগারের নথিতে সীমাবদ্ধ না থাকে এবং তাঁর হয়ে অন্যরা যেন কথা বলেন। অডিও বার্তাটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রকাশিত তথ্যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইরান হিউম্যান রাইটসের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের কারণে একজন তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের রায় অনলাইন বক্তব্যের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি রায় বাতিলের দাবিতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও ইরানে মৃত্যুদণ্ড ও কারাদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক হেবা মোরায়েফের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিন্নমত দমনে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার মানবাধিকারের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। ইরানের দণ্ডবিধিতে নবী মুহাম্মদকে অবমাননার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে দেশটির আইনে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বক্তব্যের উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মানসিক অবস্থার বিষয়ও বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতে আমিনির পক্ষ থেকে বক্তব্যটি অনিচ্ছাকৃত ছিল বলে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল। বিচারক সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলার সম্পূর্ণ নথি প্রকাশ্যে না থাকায় বিচারিক প্রক্রিয়ার সব দিক স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। আমিনির মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানাচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থাগুলো বলেছে, বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে ন্যায়বিচার, আইনজীবীর সহায়তা এবং নির্যাতনমুক্ত আটক নিশ্চিত করা জরুরি। বিক্ষোভ দমনের সময় বহু মানুষ নিহত ও আটক হয়েছেন বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রের হিসাব এক নয়। ইরানের কর্তৃপক্ষ আমিনির মামলার বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ্যে জানায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, এমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উচ্চ আদালতে তাঁর আপিলের ফল কী হয় এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আরও তথ্য প্রকাশিত হয় কি না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো রায় পুনর্বিবেচনা এবং তাঁর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: ইরান হিউম্যান রাইটস, হেঙ্গাও অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস, দ্য গার্ডিয়ান।
যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট কর্মীদের স্বাস্থ্যসুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা ২৫০টির বেশি প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ওষুধ বিনা খরচে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। নতুন সুবিধার তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন জেনেরিক, ব্র্যান্ড ও বিশেষায়িত ওষুধের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ইনসুলিন ও ইনহেলার। টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত যোগ্য কর্মীদের জন্য কিছু জিএলপি-১ ওষুধও বিনা খরচে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে। তবে কোন কর্মী কোন ওষুধ পাবেন, তা নির্ভর করবে তাঁর স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা ও চিকিৎসাগত যোগ্যতার ওপর। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি নিয়োগদাতা ওয়ালমার্টের দেশটিতে প্রায় ১৬ লাখ কর্মী রয়েছেন। কর্মীদের বার্ষিক স্বাস্থ্যবিমা নিবন্ধনের সময় নতুন সুবিধাগুলোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের এই নিবন্ধনপর্ব ৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। ওয়ালমার্টের প্রধান জনবল কর্মকর্তা ডোনা মরিস কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় বলেছেন, কর্মী ও তাঁদের পরিবারের জন্য আরও সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি নতুন সুবিধা যুক্ত করছে। ওয়ালমার্টের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় ২৫০টির বেশি ওষুধের জন্য শূন্য ডলারের একটি স্তর চালু হচ্ছে। অর্থাৎ, তালিকাভুক্ত ওষুধগুলো নির্ধারিত শর্তে নিতে কর্মীদের নিজস্ব অর্থ খরচ করতে হবে না। তবে তালিকার বাইরে থাকা অন্যান্য ওষুধের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সহ-অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনার আওতায় থাকা অন্যান্য ওষুধের জন্য জেনেরিক ওষুধে সর্বোচ্চ ৪ ডলার, ব্র্যান্ডের ওষুধে সর্বোচ্চ ৫০ ডলার এবং বিশেষায়িত ওষুধে সর্বোচ্চ ২৫০ ডলার পর্যন্ত সহ-অর্থ দিতে হতে পারে। স্বাস্থ্যবিমার ধরন অনুযায়ী কিছু নিয়মে পার্থক্যও রয়েছে। নতুন সুবিধার আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ। টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত এই শ্রেণির কিছু ওষুধ যোগ্য কর্মীদের বিনা খরচে দেওয়া হবে। তবে এ সুবিধাকে ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত সব জিএলপি-১ ওষুধের বিনা মূল্যে প্রাপ্যতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট ওষুধ, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং বিমা পরিকল্পনার শর্ত অনুযায়ী সুবিধা নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে কিছু ইনসুলিন ও ইনহেলারও নতুন তালিকায় যুক্ত হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কর্মীদের নিয়মিত চিকিৎসার ব্যয় কমাতে সহায়তা করতে পারে। ওষুধের পাশাপাশি জটিল ও বিরল রোগের চিকিৎসা-পরামর্শ পাওয়ার সুযোগও বাড়াচ্ছে ওয়ালমার্ট। প্রতিষ্ঠানটির ঘোষণা অনুযায়ী, একাধিক স্ক্লেরোসিস, পারকিনসনস রোগ এবং অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস বা এএলএসে আক্রান্ত কিংবা এসব রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে থাকা যোগ্য কর্মী ও তাঁদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন নিতে পারবেন বিনা খরচে। এ জন্য মায়ো ক্লিনিক ও ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতো চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত বিশেষায়িত সেবা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। নির্ধারিত শর্তে রোগী ও তাঁর সঙ্গে যাওয়া একজন প্রাপ্তবয়স্ক পরিচর্যাকারীর যাতায়াতের খরচও বহন করবে প্রতিষ্ঠানটি। নবজাতকের গুরুতর চিকিৎসার প্রয়োজন হলে কর্মীদের পাশে দাঁড়াতেও নতুন সুবিধা যুক্ত করছে ওয়ালমার্ট। আগামী নভেম্বর থেকে যেসব কর্মীর নবজাতককে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করতে হবে, তাঁরা সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহের বেতনসহ ছুটি পাওয়ার যোগ্য হবেন। এ ছুটি নির্ধারিত শর্তে কর্মীদের জন্য আগে থেকে থাকা মাতৃত্বকালীন ও অভিভাবকত্বকালীন ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া যাবে। ফলে নবজাতকের দীর্ঘ চিকিৎসার সময় পরিবারকে কর্মস্থল ও হাসপাতালের দায়িত্ব সামলাতে কিছুটা বাড়তি সুযোগ দেওয়া হবে। তবে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি ওয়ালমার্ট স্বাস্থ্যবিমার প্রাথমিক পরিকল্পনার প্রিমিয়ামও বাড়াচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে দুই সপ্তাহ অন্তর বেতন থেকে কাটা প্রাথমিক প্রিমিয়াম ১ ডলার ৫০ সেন্ট বেড়ে ৩৯ ডলার ৮০ সেন্ট হবে। অর্থাৎ, কর্মীরা নতুন ওষুধ ও চিকিৎসাসুবিধা পেলেও তাঁদের স্বাস্থ্যবিমার নির্ধারিত খরচ কিছুটা বাড়বে। পূর্ণকালীন কর্মীদের পাশাপাশি নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী খণ্ডকালীন কর্মীরাও স্বাস্থ্যবিমায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। ওয়ালমার্ট এর আগেও কর্মীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার গঠনে সহায়তা এবং অন্যান্য চিকিৎসাসুবিধা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য কর্মী ও পরিবারের সদস্যরা বছরে ২০টি পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং সেশন বিনা খরচে নিতে পারেন। সন্তান ধারণে সহায়তা, দত্তক গ্রহণ বা সারোগেসির মতো প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে ওষুধের খরচ ও জটিল রোগের বিশেষজ্ঞ সেবায় আর্থিক বাধা কমানোই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ও প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ওষুধের ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়ালমার্টের নতুন সুবিধা যোগ্য কর্মীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে সব ওষুধ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে একই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। কর্মীদের নিজ নিজ স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা, ওষুধের তালিকা এবং যোগ্যতার শর্ত যাচাই করে নিতে হবে। সূত্র: রয়টার্স, ওয়ালমার্টের করপোরেট ওয়েবসাইট।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করলেই বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী দেশটির নাগরিকত্ব পেয়ে যান না। বিয়ের সূত্রে তুলনামূলক কম সময়ে নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগ থাকলেও এ জন্য নির্দিষ্ট বয়স, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস এবং দাম্পত্য সম্পর্কের শর্ত পূরণ করতে হয়। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। এ নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করা বিদেশি স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ৩১৯(এ) ধারায় আবেদন করতে হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রীকে অন্তত তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। সাধারণত গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে এই তিন বছরের সময় গণনা করা হয়। শুধু বিয়ে সম্পন্ন হওয়া বা মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে সম্পর্ক থাকাই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীকে নির্ধারিত সময়জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের শর্তও পূরণ করতে হবে। এ ছাড়া আবেদন জমা দেওয়ার আগের তিন বছর আবেদনকারীকে মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্কে বসবাস করতে হবে। এই সময়ের পুরোটা জুড়ে তাঁর সঙ্গীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক থাকতে হবে। আবেদন করার পর নাগরিকত্বের শপথ নেওয়া পর্যন্ত বৈধ বিবাহ বহাল রাখার শর্তও রয়েছে। অর্থাৎ, কেবল কাগজে-কলমে বিয়ে থাকলেই হবে না, সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী দাম্পত্য সম্পর্কের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। আবেদনের আগে অন্তত তিন মাস সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা ইউএসসিআইএসের নির্ধারিত জেলায় বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি আবেদন করার আগের তিন বছরে অন্তত ১৮ মাস যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকার শর্ত রয়েছে। বিদেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে স্থায়ী বসবাসের ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কাটানো সময়সহ নিজের বসবাসের রেকর্ড যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্রও বিবেচনা করা হয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার আগের অন্তত তিন বছরের জন্য ভালো নৈতিক চরিত্রের প্রমাণ দিতে হবে এবং নাগরিকত্বের শপথ নেওয়া পর্যন্ত এ যোগ্যতা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মূলনীতির প্রতি আনুগত্য এবং দেশটির আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বিষয়টিও বিবেচনায় আসে। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ও অভিবাসন-সংক্রান্ত রেকর্ডের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ এসব শর্ত যাচাই করতে পারে। আবেদনকারীদের সাধারণত ইংরেজি ভাষা ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস এবং সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে নাগরিকত্ব পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। নির্দিষ্ট বয়স, দীর্ঘদিনের স্থায়ী বসবাস বা প্রতিবন্ধকতার মতো কিছু পরিস্থিতিতে আইন অনুযায়ী ছাড় থাকতে পারে। তবে সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর ইউএসসিআইএস প্রয়োজনীয় নথি যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। আবেদন অনুমোদিত হলেও নাগরিকত্বের শপথ নেওয়ার আগে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিক হন না। মার্কিন নাগরিকদের বিদেশি স্বামী বা স্ত্রীর জন্য এই তিন বছরের পথটি সাধারণত তাঁদের জন্য প্রযোজ্য, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করছেন এবং আইনের অন্যান্য শর্ত পূরণ করেন। অন্যদিকে, সাধারণ নিয়মে নাগরিকত্বের আবেদন করতে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর বসবাসের শর্ত থাকে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নির্দিষ্ট কিছু স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে আলাদা বিধানও রয়েছে। তাই বিয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে আবেদনকারীর নিজস্ব অভিবাসন-অবস্থা অনুযায়ী ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস), যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি দাবি করেছে তাদের সামরিক ভান্ডারে যুক্ত হয়েছে আরও অত্যাধুনিক ও উন্নত অস্ত্র। বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি জানিয়েছেন ৪০ দিনের এক যুদ্ধের পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন করে কোনো যুদ্ধে জড়ানো হবে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক একটি সিদ্ধান্ত। তবে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। মোহেব্বি স্পষ্ট জানিয়েছেন যেকোনো আগ্রাসনের আগের চেয়ে আরও কঠোর জবাব দেবে তেহরান। তবে নতুন যুক্ত হওয়া অস্ত্রগুলো ঠিক কী ধরনের সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি। অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন এই মুহূর্তে ইরানের ওপর হামলা চালানো তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে না। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ এক প্রতিবেদনে জানায় আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের নেসেট নির্বাচন এবং ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরানে হামলা চালাতে ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে সম্প্রতি আর্মি রেডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আপাতত তাদের ইরানে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। কেন এখন হামলা সুবিধাজনক নয় সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন তার দল লিকুড পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করলেও উগ্রপন্থি নেতা ইতামার বেন গিভিরকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে না। এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি লিকুড পার্টির নিয়ন্ত্রণেই থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কায় ইরান নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। সূত্র জানিয়েছে মার্কিনি বা ইসরাইলিদের দিক থেকে হামলার কোনো প্রস্তুতি টের পেলে ইরান আগেই পাল্টা আক্রমণ চালাতে পারে। এর মধ্যেই যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভ প্রধান কেন ম্যাককালাম সতর্ক করে বলেছেন ইরানি গুপ্তচররা যুক্তরাজ্যে সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা বাড়াচ্ছে। গত মাসে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হামলার একটি কথিত ষড়যন্ত্রের পেছনে ইরানের জড়িত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য ঐ নির্দিষ্ট ঘাঁটি ব্যবহার করেই মার্কিন বোমারু বিমানগুলো ইরানে হামলা চালিয়েছিল। যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে দেওয়া বার্ষিক বক্তব্যে এমআইফাইভ মহাপরিচালক কেন ম্যাককালাম বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে নিবিড় তদন্ত চলছে তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে চলতি বছরে সামরিক স্থাপনার মতো সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে ইরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। ম্যাককালাম সতর্ক করে বলেন ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং যুক্তরাজ্যের বাইরেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনা ঘটছে। যদিও ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে চলমান তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: আলজাজিরা, চ্যানেল টুয়েলভ