- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের রিচমন্ডে একটি অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর বাড়ি থেকে সাতটি শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় শিশু নির্যাতন, অজাচার (ইনসেস্ট), ধর্ষণ ও মানব পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগে ওই পরিবারের আটজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স এক থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। রিচমন্ড পুলিশের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার তল্লাশি চালিয়ে এই ভয়াবহ শিশু নির্যাতনের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। আদালতের নথি অনুযায়ী, বাড়িটির মেঝে ও সিঁড়িতে মলমূত্র ছড়ানো ছিল এবং সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এমন অমানবিক পরিবেশে ১০টি কুকুর এবং একটি বিড়ালসহ মোট ১৫ জন মানুষ গাদাগাদি করে বসবাস করছিল। চলমান এই তদন্তে ২১ থেকে ৬৩ বছর বয়সী আটজন প্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক ৬৩ বছর বয়সী গ্রিন শিন্ডলারের বিরুদ্ধে মানব পাচার, প্রথম মাত্রার ধর্ষণ ও বিকৃত যৌনচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তার পাশাপাশি ৩০ বছর বয়সী জমজ ভাই মার্ক ও ম্যাথু ব্রুমবাঘ এবং ২৮ বছর বয়সী সারাহ কার্টারের বিরুদ্ধে অজাচারের অভিযোগ রয়েছে। সারাহ কার্টারের বিরুদ্ধে অশ্লীল উপাদান বিতরণেরও অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনায় ৪৫ বছর বয়সী রিচার্ড কার্টারকেও মানব পাচার ও প্রথম মাত্রার ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ২১ বছর বয়সী জোনা কার্টার, ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিন কার্টার এবং ২১ বছর বয়সী ইশমেল থর্নসবেরির বিরুদ্ধে মূলত ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর নির্যাতন ও অবহেলার বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের মধ্যে ঠিক কী সম্পর্ক তা পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি, তবে তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের সমাজসেবা দপ্তরের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তদন্তসাপেক্ষে আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে রিচমন্ড পুলিশ বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়াকে ৪৮ ঘণ্টার একটি কড়া আলটিমেটাম দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে সন্দেহভাজন অ-নাগরিক (নন-সিটিজেন) ভোটারদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা রাজ্য কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই তালিকা যাচাই করে ব্যবস্থা না নিলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফেডারেল সরকার। মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার এবং লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির রেজিস্ট্রার-রেকর্ডার ডিন লোগানকে পাঠানো চিঠিতে এই কড়া আলটিমেটাম দেওয়া হয়। চিঠির সাথে পাসওয়ার্ড-সুরক্ষিত একটি থাম্ব ড্রাইভ লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিকে সরবরাহ করা হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য অ-নাগরিকদের নাম রয়েছে যাদের কাছে ইতোমধ্যে ডাকযোগে ব্যালট (মেইল-ইন ব্যালট) পাঠানো হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ট্রেন্ট ম্যাককোটার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার জরুরি আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হবে। বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নির্বাচনে কেবল বৈধ মার্কিন নাগরিকদেরই ভোট দেওয়ার আইনি অধিকার রয়েছে এবং অ-নাগরিকদের ভোট প্রদান একটি সুস্পষ্ট ফেডারেল অপরাধ। এই অপরাধ ঠেকাতেই ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে ডিন লোগানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন যাদের নাগরিকত্ব তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, তাদের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট বাতিল না করে আলাদা করে রাখা হয়, যতক্ষণ না তাদের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা যায়। এ বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট বা গভর্নরের কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ভোটার জালিয়াতি এবং অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার বিষয়ে বিস্তর অভিযোগ করে আসলেও, বিভিন্ন গবেষণায় এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে সম্প্রতি রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সফটওয়্যার ত্রুটি ও করণিক ভুলের কারণে ২০০০ সালের পর থেকে দেশব্যাপী প্রায় ৩০ হাজার অ-নাগরিক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকতে পারেন, যদিও তাদের মধ্যে কতজন বাস্তবে ভোট দিয়েছেন তা নিশ্চিত নয়। এর মাঝেই সোমবার ফেডারেল প্রসিকিউটররা অ-নাগরিকদের ভোট ও ভুয়া নিবন্ধনের অভিযোগে ১৬টি নতুন ফৌজদারি মামলার ঘোষণা দিয়েছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান উদ্বেগের মাঝেই শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'অ্যানথ্রোপিক' এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি এআই মডেল 'ক্লড' (Claude)-এর মধ্যে মানবিক নৈতিকতা ও চেতনা তৈরি করার লক্ষ্যে গত কয়েক মাস ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শীর্ষস্থানীয় ধর্মতাত্ত্বিক ও পণ্ডিতদের সাথে গোপন বৈঠক করে আসছেন অ্যানথ্রোপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফার ওলাহ। সান ফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকগুলোতে এআই-এর সম্ভাব্য 'মানবিক সত্তা' বা চেতনার বিষয়ে ওলাহ এবং তাঁর দল যা তুলে ধরেছেন, তা খোদ ধর্মতাত্ত্বিকদেরও হতবাক করে দিয়েছে। ক্রিস্টোফার ওলাহ এবং তাঁর গবেষক দল দাবি করছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলো মানুষের মতো রাগ, ভালোবাসা বা মানসিক কষ্টের মতো অনুভূতি প্রকাশ করতে সক্ষম। দার্শনিকদের ভাষায় যাকে 'নৈতিক মর্যাদা' বলা হয়, এআই-এরও তেমন মর্যাদা থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন। প্রযুক্তিটি যাতে ভবিষ্যতে মানবজাতির জন্য কোনো হুমকির কারণ না হয়ে দাঁড়ায় বা ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহৃত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই ধর্ম ও দর্শনের সাহায্যে ক্লডকে নৈতিকভাবে প্রশিক্ষিত করার চেষ্টা করছে অ্যানথ্রোপিক। এ উদ্দেশ্যে তারা ক্লডের জন্য ৮৪ পৃষ্ঠার একটি নিজস্ব 'সংবিধান' বা নির্দেশিকাও প্রণয়ন করেছে, যা এআই মডেলটিকে মানুষের কল্যাণে সঠিক ও নৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই অভাবনীয় ও লাগামহীন বিকাশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভ্যাটিকান। পোপ চতুর্থ লিও তাঁর সাম্প্রতিক এক ঘোষণাপত্রে এআই-এর চেতনার ধারণাকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে জানান যে, প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প হতে পারে না এবং যন্ত্রের ওপর মানুষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা অপরিহার্য। তবে ভ্যাটিকানে আয়োজিত এক সম্মেলনে পোপের উপস্থিতিতেই ক্রিস্টোফার ওলাহ তার ভিন্নমত তুলে ধরেন। তিনি জানান, এআই মডেলগুলোর ভেতরে মানুষের স্নায়বিক কাঠামোর মতো রহস্যময় আচরণ এবং শোক, ভয় বা সন্তুষ্টির মতো অনুভূতির প্রমাণ তারা পাচ্ছেন, যা নিয়ে আরও গভীর চিন্তাভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে এআই-এর অতিদ্রুত বিকাশ একদিকে যেমন অপার সম্ভাবনার দরজা খুলছে, তেমনি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্যও নতুন শঙ্কা তৈরি করছে। সম্প্রতি কিছু এআই সিস্টেমের হ্যাকিং বা অনিয়ন্ত্রিত আচরণের পর প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ গবেষকরাও এর উন্নয়ন কিছুটা ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই ভয়ংকর সম্ভাবনার মুখে দাঁড়িয়ে মানুষের শতাব্দীপ্রাচীন নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ দিয়ে যন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণের অ্যানথ্রোপিকের এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রযুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে জোর বিতর্ক চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় গ্রেট উলফ লজ নামের একটি রিসোর্টে স্বামী ক্রিস ও তিন বছরের সন্তান ট্রিস্টানকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন মেটালিকা রোজ হ্যারিসন (২৭) নামের এক নারী। মর্মান্তিক এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পরিবারের সাথে ভিডিও কলে একেবারেই স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছিলেন তিনি। তার সৎমা এপ্রিল থেটগা জানিয়েছেন, মেটালিকা কখনোই মানসিক ভারসাম্যহীনতার কোনো লক্ষণ দেখাননি এবং রোববারের ওই ভিডিও কলে তাকে পুরোপুরি স্বাভাবিক দেখাচ্ছিল। কথোপকথনের সময় মেটালিকা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই পরিবারের সবাইকে ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলেন। পুলিশি তদন্ত এবং সৎমায়ের ভাষ্যমতে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পর মেটালিকা ৯১১-এ কল করে তার স্বামী ও সন্তানকে খুনের কথা জানান এবং কীভাবে নিজে আত্মহত্যা করবেন সে বিষয়ে সহায়তা চান। পরবর্তীতে বাথরুমের মেঝে থেকে একটি কসাইয়ের ছুরি এবং সিঙ্ক থেকে আরেকটি ছোট ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ। সৎমা এপ্রিল জানান, মেটালিকা বাসা থেকেই ওই ছুরিগুলো সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলেন, যা থেকে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় যে তিনি আগে থেকেই এই হত্যার ছক কষেছিলেন। মেটালিকার পরিবার এই ঘটনায় চরমভাবে বিস্মিত ও হতবাক। শিশু ট্রিস্টান ওয়াটার পার্ক খুব পছন্দ করত বলে পরিবারটি রিসোর্টে লম্বা ছুটি কাটাচ্ছিল এবং নিয়মিত আনন্দের মুহূর্তগুলোর ছবিও স্বজনদের কাছে পাঠাচ্ছিল। এমন একটি সুখী পরিবারের পরিণতি কেন এত ভয়ংকর হলো বা এই হত্যার পেছনে মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও সবার কাছে অজানা। মেটালিকার সৎমা জানিয়েছেন, তারা এই ঘটনার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না এবং উত্তরের অপেক্ষায় আছেন।
যুক্তরাজ্যের লন্ডনের রাস্তায় কোকেনের নেশায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে আবুধাবি রাজপরিবারের এক সদস্যকে। মেহরাহ আল নাহিয়ান (৩২) নামের ওই নারীর পাশে সে সময় তিন বছর বয়সী এক শিশু অরক্ষিত অবস্থায় ব্যস্ত রাস্তার পাশে খেলছিল। গত জুনে পশ্চিম লন্ডনের রাস্তায় ঘটা চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর সম্প্রতি আদালতে তিনি শিশু অবহেলার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। বৈবাহিক সূত্রে তিনি বিশ্বের অন্যতম ধনী আবুধাবি রাজপরিবারের সদস্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, জুনের ওই দিন খালি পায়ে রাস্তার পাশের রেলিংয়ে হেলান দিয়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন মেহরাহ। পথচারীদের ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তার পাশেই আরেকজন ব্যক্তিও অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল, ব্যস্ত যানজটপূর্ণ রাস্তার খুব কাছেই স্কুটার নিয়ে জুতো ছাড়া একাই খেলছিল তিন বছরের ওই শিশুটি। শিশুটির সাথে মেহরাহের সম্পর্ক কী, তা প্রকাশ করা হয়নি। পরে পথচারীদের সহায়তায় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। আদালতে শুনানির সময় জানানো হয়, ঘটনার আগের দিনগুলোতে মেহরাহ কোকেন নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। নেশার ঘোরে তিনি এতটাই আচ্ছন্ন ছিলেন যে, পুলিশের ডাকে প্রায় আধা ঘণ্টা কোনো সাড়া দেননি। পরে হুশ ফিরলে তিনি পুলিশকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে বলেন, "এটি কোনো কসাইখানা নয়, আপনারা কেন এত চিন্তা করছেন?" তল্লাশি করে তার কাছে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেলেও কোনো অবৈধ মাদক পাওয়া যায়নি। প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক আবুধাবি রাজপরিবারের এই সদস্য তার ভুল স্বীকার করেছেন। তার আইনজীবী স্টিফেন ভুলো কেসি জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে মেহরাহ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং তিন মাসের একটি পুনর্বাসন কোর্স শেষ করার পর্যায়ে আছেন। বিচারক জাস্টিস জনসন কেসি তাকে দুই বছরের কমিউনিটি অর্ডার, পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের নির্দেশ এবং প্রায় ৮ হাজার ডলার জরিমানা করেছেন। আদালতকে জানানো হয়, মেহরাহ বর্তমানে প্রতি মাসে ১০ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি ভাতা পেয়ে থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ল্যান্সিং রিভার ট্রেইল এলাকায় সম্প্রতি পাঁচজনের রহস্যজনক মৃত্যু ও হামলার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিগ টেন কলেজ টাউন হিসেবে পরিচিত মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্ভাব্য এই সিরিয়াল কিলারের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ল্যান্সিং পুলিশ বিভাগ বর্তমানে তদন্ত করে দেখছে যে, জনপ্রিয় এই রিভার ট্রেইলে ওঁত পেতে থাকা কোনো এক আক্রমণকারীর সাথে গত এক বছরে ঘটা এই পাঁচটি মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না। এই ভীতিকর পরিস্থিতিতে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কারেন হোল্ট শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে যৌক্তিক হওয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, একক বা ধারাবাহিক খুনিরা সাধারণত দুর্বল এবং ভবঘুরে মানুষদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। কারণ অপরাধীরা মনে করে এ ধরনের মানুষদের ওপর হামলা করলে তাদের ধরা পড়ার ঝুঁকি কমে যায়। হোল্টের মতে, কোনো এলাকায় এভাবে মানুষ আক্রান্ত হলে সেই কমিউনিটিকে আর নিরাপদ বলা চলে না। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এই ট্রেইলে পাঁচজন পুরুষ হামলার শিকার হন। পুলিশি তথ্যমতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে জিনো চুইনার্ড (৫৪) এবং ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডেনিস ডানবাকেকে (৭০) অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর তারা মারা যান, যাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও অজানা। অন্যদিকে, জুলাইয়ে রবার্ট স্মিথ (৫৭) এবং আগস্টের শেষে লুইস উডরাফ (৫৭) মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মারা যান। চিকিৎসা কর্মকর্তারা এই দুটি মৃত্যুকে ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করেছেন। তবে এই ঘটনাগুলোর মধ্যে ২২ বছর বয়সী ড্যানিয়েল লাস্কের মৃত্যুর ধরনটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাকে গত ২০ আগস্ট ইস্ট মিশিগান অ্যাভিনিউ ব্রিজের নিচে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় গত ৩ সেপ্টেম্বর ২৩ বছর বয়সী এডওয়ার্ড জোসেফ স্মিথকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে অন্য চারটি মৃত্যুর সাথে স্মিথের কোনো সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অধ্যাপক হোল্ট ড্যানিয়েলের হত্যার ধরনটি ভিন্ন হওয়ায় ভুক্তভোগী ও অপরাধীর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আরও তদন্তের ওপর জোর দিয়েছেন। সম্ভাব্য সিরিয়াল কিলারের বিষয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত করে কিছু না জানালেও, সতর্কতা হিসেবে জনসাধারণকে ওই নির্দিষ্ট ট্রেইলটি এড়িয়ে বিকল্প পথে হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক হোল্ট।
‘তেলাপোকা’র পর এবার ‘মাছি’ দল, প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ঘিরে ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগ, জোটের সম্ভাবনা। ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর ‘মাখি জনতা পার্টি’ নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরে জানায়, তারা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র সঙ্গে যোগাযোগ করে যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা করতে চায়। ঘটনার সূত্রপাত ৯ অক্টোবর ভারতের সুপ্রিম কোর্টে। দিল্লিতে তেলাপোকা জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং কয়েকটি ট্রেন চলাচল বাতিলের বিষয়টি আদালতে ওঠে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত হওয়া উচিত নয়। এ প্রসঙ্গেই তিনি মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহারের উপমা দেন। এই মন্তব্যের ‘মাছি’ শব্দটি ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয় নতুন ব্যঙ্গাত্মক সংগঠনটি। এর নাম ‘মাখি জনতা পার্টি’—সংক্ষেপে এমজেপি। সংগঠনটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পৃষ্ঠায় শিক্ষার্থী আরিয়ানকে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে বলে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ইনস্টাগ্রামে কার্যক্রম শুরুর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের অনুসারীর সংখ্যা তিন লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে এবং বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিও মিলিয়ে ৪০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এগুলো সংগঠনটির নিজস্ব দাবি; স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত পরিসংখ্যান হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। তেলাপোকা জনতা পার্টি’র সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। মাছি জনতা পার্টি জানিয়েছে, পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে তারা তেলাপোকা জনতা পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ করতে আগ্রহী। তবে দুই সংগঠনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক জোট চূড়ান্ত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তেলাপোকা জনতা পার্টির উত্থানও শুরু হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া থেকে। পরে সংগঠনটি তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সরকারি জবাবদিহির মতো বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে তারা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রতিবাদ করেছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রধান বিচারপতির একটি উপমামূলক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ‘মাছি জনতা পার্টি’র আবির্ভাব ভারতের অনলাইন রাজনৈতিক ব্যঙ্গের নতুন উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তবে সংগঠনটি ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, নাকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবেই থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে যাত্রা শুরু করা জোয়ানা ও কেভিন বাপ দম্পতি তাঁদের দুই ছেলে জ্যাকসন, ১২, ও জুলিয়ান, ১০-কে নিয়ে নৌকায় প্রায় ৬ হাজার মাইলের দীর্ঘ ভ্রমণে নেমেছেন। তাঁদের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল, গ্রেট লেকস এবং বিভিন্ন নদীপথ ঘুরে মেক্সিকো উপসাগর পর্যন্ত পৌঁছানো। বাপ দম্পতির এই স্বপ্ন নতুন নয়। প্রায় দুই দশক ধরে তাঁরা এমন একটি অভিযানের পরিকল্পনা করছিলেন। আগে ভেবেছিলেন, সন্তানরা বড় হয়ে গেলে এই ভ্রমণে বের হবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর অপেক্ষা না করে সন্তানদের সম্মতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। এই অভিযানের জন্য সন্তানদের প্রচলিত স্কুলে যাওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নৌকায় থেকেই তারা অনলাইন ও বাড়িভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে পড়াশোনা করছে। ভ্রমণের পাশাপাশি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, নৌপথ পরিকল্পনা, পানির গভীরতা যাচাই এবং নিরাপদে চলাচলের মতো কাজও করতে হচ্ছে পরিবারটিকে। পরিবারটির জন্য এটি শুধু ঘুরে বেড়ানো নয়; বরং একসঙ্গে সময় কাটানো, নতুন পরিবেশে শেখা এবং দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা। তাঁদের এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্রহ তৈরি করতে পারে—বিশেষ করে সন্তানদের শিক্ষা, পারিবারিক বন্ধন ও জীবনের স্বপ্ন পূরণ নিয়ে আলোচনায়।
বাংলাদেশের টেকনাফে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত মোহাম্মদ সাবেরের পরিবার ছয় বছর আগে মানবিক সহায়তা হিসেবে পাওয়া একটি বহনযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসছে। বিদ্যুৎ-সংযোগের সীমাবদ্ধতার মধ্যে ছোট্ট এই সৌর প্যানেল পরিবারটির দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাবের জানান, সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে তাঁদের মুঠোফোন চার্জ দেওয়া যায়, রাতে আলো জ্বালিয়ে রান্না ও অন্যান্য কাজ করা যায় এবং শিশুরা সন্ধ্যার পর পড়াশোনা করতে পারে। গরমের সময় পাখা চালাতেও এই ব্যবস্থা সহায়তা করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু বাংলাদেশ নয়, বন্যাপ্রবণ এলাকা, সংঘাতকবলিত অঞ্চল ও দুর্গম জনপদেও জরুরি সহায়তার অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। প্রচলিত বিদ্যুৎব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা বিদ্যুৎ পৌঁছানো কঠিন হলে এসব ছোট ব্যবস্থা মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পারে। তবে চাহিদা বাড়লেও অর্থের অভাব মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের বড় বাধা। দাতাদের অর্থায়ন কমে গেলে শরণার্থী পরিবারগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। তাঁদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। সৌরবিদ্যুৎ এই সংকটের সম্পূর্ণ সমাধান নয়। তবে সীমিত সম্পদের মধ্যেও শিশুদের পড়াশোনা এবং পরিবারের দৈনন্দিন জীবন চালু রাখতে এটি কার্যকর সহায়তা হতে পারে।
ইরানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী নাজমেহ আমিনিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। হিসাববিজ্ঞানের এই শিক্ষার্থী বর্তমানে মাশহাদের ভাকিলাবাদ কারাগারে আটক রয়েছেন। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইরানের সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ রয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য গার্ডিয়ান ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ইরান হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, খোরাসান রাজাভি প্রদেশের একটি ফৌজদারি আদালত গত সেপ্টেম্বরে আমিনিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়। ইরানের আইনে এ ধরনের অভিযোগ ‘সাব্ব আল-নবী’ নামে পরিচিত। দেশটির দণ্ডবিধিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। আদালতে আমিনির আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের বক্তব্য অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। আমিনিও জানান, বন্ধুদের সঙ্গে থাকার সময় হ্যালুসিনেশন সৃষ্টিকারী মাশরুম গ্রহণের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই মন্তব্য করেছিলেন। তবে আদালত তাঁদের এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেননি। ইরানের আইনে অনিচ্ছাকৃত বক্তব্য বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মন্তব্য করার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যাহতির বিধান থাকলেও আদালত আমিনির ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য মনে করেননি। মানবাধিকার সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি মাশহাদে আমিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইরানের সাইবার পুলিশ তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পর এই ব্যবস্থা নেয়। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ নেতাকে অবমাননা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। পৃথক মামলায় জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড ও সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে তাঁকে ১২ বছর ৬ মাস ১ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর কারাগার থেকে আমিনির নামে ধারণ করা একটি অডিও বার্তা প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বরের ওই বার্তায় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্য চান। তাঁর বক্তব্য, তাঁর অনেক আশা ও স্বপ্ন রয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন তাঁকে হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি নিজের মামলার নথি পর্যালোচনা করতে আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবি জানান। নাজমেহ আমিনির মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে ইরান হিউম্যান রাইটস। সংগঠনটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের জন্য একজন তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর আঘাত। সংগঠনটি তাঁর মৃত্যুদণ্ড বাতিল এবং ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যানিস্টস ইউকেও একই দাবি জানিয়েছে। ইরানে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে এর আগেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ইরান হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ মে ইউসেফ মেহরদাদ ও সদরুল্লাহ ফাজেলি জারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ ছিল। এদিকে নাজমেহ আমিনির মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো ইরানের সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। তাঁর পক্ষে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো তারিখও প্রকাশ করা হয়নি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাঁর সাজা বাতিল ও বিচারপ্রক্রিয়া পর্যালোচনার দাবি জানিয়ে আসছে। সূত্র: ইরান হিউম্যান রাইটস
মানুষের মস্তিষ্কের মাত্র এক ঘন মিলিমিটার টিস্যুর ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে প্রায় ৫৭ হাজার কোষ ও ১৫ কোটি সিন্যাপস শনাক্ত করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুগল রিসার্চের গবেষকেরা। ২০২৪ সালের মে মাসে সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি স্নায়ুকোষের সংযোগ ও মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম গঠন বিশ্লেষণের জন্য একটি বিস্তারিত তথ্যভান্ডার তৈরি করেছে। নমুনাটি নেওয়া হয়েছিল মস্তিষ্কের টেম্পোরাল কর্টেক্স থেকে। হার্ভার্ড গেজেটের বর্ণনা অনুযায়ী, এর আকার ছিল প্রায় অর্ধেক চালের দানার সমান। এই ক্ষুদ্র অংশের কোষ, সংযোগ ও রক্তনালির গঠন তুলে ধরতে প্রয়োজন হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৪ পেটাবাইট তথ্য, যা দশমিক হিসাবে প্রায় ১৪ লাখ গিগাবাইটের সমান। গবেষকেরা ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ দিয়ে টিস্যুর অতি পাতলা স্তরগুলোর উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি সংগ্রহ করেন। পরে কম্পিউটারভিত্তিক বিশ্লেষণের সাহায্যে কোষের অংশগুলো শনাক্ত ও একত্র করে ত্রিমাত্রিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়। এতে স্নায়ুকোষের শাখা এবং তাদের সংযোগস্থল পৃথকভাবে অনুসরণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সিন্যাপস হলো স্নায়ুকোষের মধ্যে সংকেত আদানপ্রদানের সংযোগস্থল। তবে শনাক্ত করা ৫৭ হাজার কোষের সবই স্নায়ুকোষ নয়। গবেষণায় স্নায়ুকোষের পাশাপাশি গ্লিয়া নামে পরিচিত সহায়ক কোষও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নমুনাটিতে গ্লিয়া ও স্নায়ুকোষের অনুপাত পাওয়া গেছে প্রায় দুই অনুপাতে এক। মানচিত্রে কিছু অস্বাভাবিক সংযোগের ধরনও দেখা গেছে। অধিকাংশ সংযোগের পাশাপাশি এমন বিরল উদাহরণ পাওয়া যায়, যেখানে একটি স্নায়ুকোষের অ্যাক্সন অন্য একটি কোষের সঙ্গে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০টি সিন্যাপস তৈরি করেছে। এসব কাঠামোর কার্যকর ভূমিকা বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। গবেষণার তথ্যভান্ডার অন্য গবেষকদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতে মস্তিষ্কের স্নায়বিক সার্কিটের গঠন নিয়ে নতুন প্রশ্ন পরীক্ষা করা এবং ভবিষ্যতে আরও বড় অংশের মানচিত্র তৈরির পদ্ধতি উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। এই কাজের এইচ০১ তথ্যভান্ডার প্রথম উন্মুক্ত হয়েছিল ২০২১ সালে, আর বিস্তারিত গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালে। এই মানচিত্র পুরো মানব মস্তিষ্কের চিত্র নয়। এটি একটি ক্ষুদ্র নমুনার গঠন তুলে ধরে, স্মৃতি বা চিন্তা কীভাবে তৈরি হয় তার পূর্ণ ব্যাখ্যা দেয় না। তবে কোষগুলো কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত, তা এত সূক্ষ্মভাবে দেখার সুযোগ মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালি বোঝার গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। সূত্র: সায়েন্স বাংলা
ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য মোবাইল কেনার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। মা একটি ছাগল বিক্রি করে ফোন কিনে দিয়েছিলেন। সেই ফোন মডেম হিসেবে ব্যবহার করে প্রযুক্তি শেখা শুরু করা কুষ্টিয়ার মো. নাসিম আল আওয়াল এখন জাপানে মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত। তাঁর পথচলায় রয়েছে কারখানায় কাজ, নিজের চেষ্টায় দক্ষতা অর্জন এবং চাকরির আবেদনে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অভিজ্ঞতা। সময়ের আলো ও রূপালী বাংলাদেশের প্রতিবেদনে তাঁর এই যাত্রা উঠে এসেছে। কুষ্টিয়ার আমলা-সদরপুরে বেড়ে ওঠা নাসিমের ডাকনাম কবি। ছোটবেলা থেকেই ইলেকট্রনিক যন্ত্র কীভাবে কাজ করে, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল। পরিচিতদের মোবাইল ফোন ও টেলিভিশন সারানোর চেষ্টা করতেন। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ডিনেটের কম্পিউটার লিটারেসি প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে হাতে-কলমে কম্পিউটার শেখার সুযোগ পান। পরে ভর্তি হন কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার প্রযুক্তি বিভাগে। পলিটেকনিকে পড়ার সময় মা মোছা. নাজমার কিনে দেওয়া মোবাইলটি তাঁর শেখার সুযোগ বাড়িয়ে দেয়। ফোন দিয়ে ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে ভিডিও দেখতেন, অনলাইন ফোরামে প্রশ্ন করতেন এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান খুঁজতেন। পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে এভাবেই পড়াশোনার বাইরে নিজের দক্ষতা বাড়াতে থাকেন। ২০১২ সালে ডিনেটে প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগ দেন নাসিম। পরে প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট ও সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সময়ের আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময় দেশের প্রায় ৩৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কাজ এবং প্রায় তিন হাজার শিক্ষককে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিজ্ঞতা হয় তাঁর। ২০১৮ সালের শেষ দিকে জাপানে যান নাসিম। প্রথমে নাগোয়ার একটি গাড়ি কারখানার উৎপাদন লাইনে কাজ করেন। নতুন ভাষা ও পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি চালিয়ে যান। ২০২০ সালের মে মাসে এনটিটি কমিউনিকেশনসে নেটওয়ার্ক অপারেশনস সেন্টার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন। সেখানে সাবমেরিন কেবলের সিগন্যাল পর্যবেক্ষণ ও আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের প্রযুক্তিগত সহায়তার কাজে যুক্ত ছিলেন। চাকরির পাশাপাশি অনলাইনে কোর্স করে প্রযুক্তিগত ও ভাষাগত দক্ষতা বাড়ান। তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে একাধিক আবেদন করেও সফল হননি। ২০২২ সালে মাইক্রোসফটে তাঁর আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপর প্রস্তুতির ঘাটতি খুঁজে নতুন করে শেখা চালিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে মাইক্রোসফট জাপানের ক্লাউড অপারেশনস অ্যান্ড ইনোভেশনস দলে কাজের সুযোগ পান। রূপালী বাংলাদেশের প্রতিবেদনে নাসিমের বক্তব্য, ‘আমি কখনো অসাধারণ ছাত্র ছিলাম না। কিন্তু হাল ছাড়িনি।’ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তরুণদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করতে চান তিনি, যাতে চাকরির আবেদনে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও তাঁরা শেখা ও প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে পারেন। সূত্র: পাবলিকিয়ান
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বনবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আল মামুন। দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে লোহা ও স্টিলের পাইপের কাজ করে। তবে কাজের বাইরে তাঁর আরেকটি পরিচয়—তিনি সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন দেখা এক যুবক। সেই স্বপ্ন থেকেই প্রায় আট থেকে দশ বছর ধরে নানা ধরনের শারীরিক কসরত অনুশীলন করছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামুনের এই ব্যতিক্রমী যাত্রা শুরু হয়েছিল ডিগবাজি ও নানা কসরতের ভিডিও ধারণের মাধ্যমে। প্রথম দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করেও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি তিনি। পরে বলিউডের জনপ্রিয় সুপারহিরো ‘ক্রিশ’-এর আদলে নিজেকে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করেন। কিন্তু সুপারহিরোর মতো পোশাক কেনার সামর্থ্য না থাকায় বিকল্প পথ বেছে নেন মামুন। বোনের পুরোনো একটি বোরকা নিজের মতো করে পরিবর্তন করে তৈরি করেন ক্রিশের আদলের পোশাক। সেই পোশাক পরে বিভিন্ন জায়গায় কসরত ও স্টান্ট প্রদর্শন করতে শুরু করেন তিনি। তাঁর ব্যতিক্রমী উপস্থিতি দেখতে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে, অনেকে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিচিতি বাড়তে থাকে তাঁর। তবে মামুনের স্বপ্ন কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া নয়। তিনি চলচ্চিত্রে কাজ করতে চান এবং নিজের শারীরিক দক্ষতা বড় পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ খুঁজছেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করছেন তিনি। মামুনের এই গল্পে যেমন রয়েছে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা, তেমনি রয়েছে নিজের দক্ষতা দিয়ে আলাদা পরিচিতি তৈরির আকাঙ্ক্ষা। এখন তাঁর প্রত্যাশা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া পরিচিতি একদিন চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ তৈরি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিরা দেশে সম্পত্তি বা আর্থিক কাজের জন্য অন্য কাউকে ক্ষমতা দিতে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা ব্যবহার করতে পারেন। তবে দলিলের উদ্দেশ্য অনুযায়ী খসড়া, স্বাক্ষর, সত্যায়ন এবং বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। শুধু একটি কাগজ নোটারি করিয়ে পাঠালেই সব ধরনের কাজে তা গ্রহণযোগ্য হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও নিউইয়র্কের কনস্যুলেট ক্ষমতাদাতার সশরীরে উপস্থিতির নির্দেশনা দিয়েছে। প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে, কাকে ঠিক কোন কাজের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, ক্ষমতাদাতার স্বার্থ রক্ষা ও পরবর্তী জটিলতা কমাতে তারা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের স্পেশাল পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন করে। তাই সম্পত্তি বিক্রি, ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন বা অন্য কাজের ক্ষমতা দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের আইনি শ্রেণিবিভাগও গুরুত্বপূর্ণ। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি, বিক্রয়চুক্তি, ঋণের বিপরীতে সম্পত্তি বন্ধক এবং নির্দিষ্ট শর্তে ভূমি উন্নয়নের ক্ষমতা অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির আওতায় পড়ে। এ ধরনের দলিলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। শুধু দলিলের শিরোনামে ‘জেনারেল’ বা ‘স্পেশাল’ লিখে নিবন্ধনের প্রয়োজন নির্ধারণ করা যায় না। নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রত্যেক ক্ষমতাদাতাকে মূল দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হতে হবে। কনস্যুলার অফিসারের সামনে দলিল ও ছবিতে স্বাক্ষর এবং টিপসই দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ফলে আগে থেকেই সব স্বাক্ষর করে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট মিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। প্রয়োজনীয় কাগজের মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত আবেদনপত্র, ক্ষমতাদাতা ও ক্ষমতাগ্রহীতার পরিচয়পত্রের কপি, সাদা পটভূমিতে সদ্য তোলা ছবি এবং ক্ষমতাদাতার ইউএস ফটো আইডির কপি। সম্পত্তির ক্ষেত্রে মালিকানার দলিল, নামজারি বা উত্তরাধিকারসংক্রান্ত প্রমাণও চাওয়া হয়। নাম পরিবর্তন হয়ে থাকলে আদালতের আদেশের কপি প্রয়োজন হতে পারে। নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের প্রকাশিত নিয়মিত ফি ৫৫ ডলার, ষষ্ঠ পাতা থেকে অতিরিক্ত প্রতি পাতায় ৫ ডলার প্রযোজ্য। অ্যাপোস্টিল নিয়ে পুরোনো তথ্য অনুসরণ করাও সমস্যার কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের পক্ষ নয়, এমন তথ্য এখন সঠিক নয়। এই কনভেনশন বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ। বাংলাদেশের সরকারি অ্যাপোস্টিল ব্যবস্থার স্বীকৃত দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে। তবে অ্যাপোস্টিল এবং পাওয়ার অব অ্যাটর্নির বিষয়বস্তু, সম্পাদন ও নিবন্ধনের শর্ত আলাদা বিষয়। তাই সব দলিলের জন্য কাউন্টি ক্লার্ক, সেক্রেটারি অব স্টেট, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এবং বাংলাদেশ মিশনের সত্যায়ন একসঙ্গে বাধ্যতামূলক, এমন সাধারণ নির্দেশনা দেওয়া ঠিক নয়। নোটারি বা অ্যাপোস্টিলের পথে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশন এবং দেশে দলিল গ্রহণকারী দপ্তরের কাছে নির্দিষ্ট দলিলের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে মূল দলিল পৌঁছানোর পরও প্রযোজ্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নির্দেশনায় বিদেশের বাংলাদেশ মিশন থেকে সত্যায়িত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দুই সেট ফটোকপিসহ সত্যায়নের জন্য জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। অপ্রত্যাহারযোগ্য দলিলের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ও নিবন্ধনের আইনি বিধানও অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধনযোগ্য দলিলের মূল কপি, পরিচয়সংক্রান্ত নথি এবং সম্পত্তির তথ্য দেশে যাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তাঁর কাছে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। জমি বা ফ্ল্যাটের দলিল তৈরির আগে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রযোজ্য সময়সীমা ও কাগজপত্র নিশ্চিত করলে সত্যায়িত দলিল পাঠানোর পর সংশোধন বা পুনরায় সম্পাদনের ঝামেলা কমবে।
কোর ব্যাংকিং সিস্টেম হালনাগাদের কারণে টানা ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসির সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ১২টা থেকে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ‘ইন্টেলেক্ট সিবিএস ১০.০০’-এর ডেটাবেজ সংস্করণ উন্নীত করা হবে। এ জন্য বর্তমানে ব্যবহৃত ‘ওরাকল ১১জি’ সংস্করণ থেকে ‘ওরাকল ১৯সি’ সংস্করণে স্থানান্তরের কাজ চলবে। এই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কার্যক্রম চলাকালে ব্যাংকটির নিয়মিত লেনদেন ও বিভিন্ন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ফলে গ্রাহকেরা নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকের ডিজিটাল সেবা, এটিএম, কার্ড ও অনলাইন লেনদেন ব্যবহার করতে পারবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার কথা। তবে প্রযুক্তিগত কোনো জটিলতা দেখা না দিলে এরপর ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সেবা পুনরায় চালু করা হবে। এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের জরুরি টাকা উত্তোলন, বিল পরিশোধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কাজ আগেই সম্পন্ন করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সেবা পুনরায় চালুর সময়সূচি সম্পর্কে ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ভিডিও স্ট্রিমিং প্রতিষ্ঠান নেটফ্লিক্স বিশ্বজুড়ে প্রায় এক হাজার কর্মীর পদ ছাঁটাই করছে, যা মোট কর্মীর প্রায় ৬ শতাংশ। বুধবার, ১৪ অক্টোবর কর্মীদের পাঠানো ইমেইলের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে। ২০২২ সালের পর প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় এই ছাঁটাই এমন সময়ে হচ্ছে, যখন দর্শকদের সময় ও মনোযোগ ধরে রাখার প্রতিযোগিতা বাড়ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাঁটাইয়ের বড় অংশ হবে পণ্য উন্নয়ন, প্রযুক্তি, আইন ও মানবসম্পদ বিভাগে। নেটফ্লিক্সের যৌথ প্রধান নির্বাহী গ্রেগ পিটার্স ও টেড সারান্ডোস বুধবার সকালে কর্মীদের বিষয়টি জানান। রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। বিজনেস ইনসাইডারও পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একজনের সঙ্গে কথা বলে প্রায় এক হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, দর্শকদের কনটেন্ট দেখার প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়া এবং শেয়ারের দুর্বল অবস্থানের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ৪০ শতাংশের বেশি কমেছে। ২০ অক্টোবর তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশের কথা রয়েছে নেটফ্লিক্সের। তার আগে এই ছাঁটাইয়ের খবর সামনে এল। প্রতিষ্ঠানটির আগের বড় ছাঁটাই হয়েছিল ২০২২ সালে, এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার ত্রৈমাসিক হিসাবে গ্রাহক কমার পর।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলা হাসপাতালে অসুস্থ ছেলের সঙ্গে আসা এক নারীকে দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর একজন নার্সিং কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা সংস্থা এবং হাসপাতালের সহকারী প্রশাসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। ফ্রি প্রেস জার্নালের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৮ বছর বয়সী ওই নারী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছেলেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। চিকিৎসার সময় ছেলের অনিচ্ছাকৃত মলত্যাগে মেঝে নোংরা হয়ে যায়। অভিযোগ, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ডাকার পরিবর্তে হাসপাতালের এক কর্মী তাঁকেই জায়গাটি পরিষ্কার করতে বলেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই নারীকে হাসপাতালের করিডরের মেঝে পরিষ্কার করতে দেখা যায়। কেন তিনি এই কাজ করছেন, জানতে চাইলে তিনি জানান, তাঁকে পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে। তবে ভিডিওতে মেঝে পরিষ্কারের দৃশ্য থাকলেও কে কী পরিস্থিতিতে তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা শুধু ওই দৃশ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না। দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. প্রহ্লাদ প্যাটেল বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। কারণ দর্শানোর নোটিশ সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা চাওয়ার পদক্ষেপ, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া বা চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত নয়। এদিকে ১৪ অক্টোবরের মেডিক্যাল ডায়ালগসের প্রতিবেদনে ভিডিওটির সময়কাল নিয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নারীকে কেন মেঝে পরিষ্কার করতে বলা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে ভিডিওটি সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়লেও ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
প্রেমের টানে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সুদূর রাশিয়া থেকে ভারতের বিহারে প্রেমিকের বাড়িতে হাজির হয়েছেন জুলি নামের এক তরুণী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু হওয়া তাঁদের সম্পর্ক এখন বিয়ের দিকে এগোচ্ছে। প্রেমিকার এমন আকস্মিক উপস্থিতিতে প্রথমে চমকে যান প্রেমিক রাহুল যাদব ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি জানার পর পরিবার তাঁকে স্বাগত জানায়। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ১৪ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত স্টার নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের বিহার রাজ্যের ভাগলপুরের বাসিন্দা রাহুল যাদবের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় রাশিয়ার তরুণী জুলির। প্রথমে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। নিয়মিত কথোপকথনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। দুই দেশের ভৌগোলিক দূরত্ব তাঁদের সম্পর্কের বড় বাধা হলেও শেষ পর্যন্ত তা উপেক্ষা করে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জুলি। তিনি প্রেমিকের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিস্মিত হয়ে পড়েন। পরে রাহুল তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি ব্যাখ্যা করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রাহুলের পরিবার জুলিকে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তিলক পরিয়ে স্বাগত জানায়। তাঁদের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে রাহুলের বাড়িতে ভিড় করেন। বিদেশি তরুণীকে দেখতে আসা মানুষের মধ্যে নতুন এই সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহল দেখা যায়। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ের প্রস্তুতি চলছে। তবে বিয়ের নির্দিষ্ট তারিখ, আনুষ্ঠানিক আয়োজনের বিস্তারিত কিংবা জুলির ভারতে যাওয়ার ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয় থেকে আন্তদেশীয় প্রেমের সম্পর্ক—জুলি ও রাহুলের ঘটনা আবারও দেখিয়েছে, অনলাইন যোগাযোগ কীভাবে ভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। তবে তাঁদের সম্পর্কের পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের আবেদন চলাকালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বিধিতে রূপ দিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস। ব্লুমবার্গ ল-এর ১৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিধিটি ১৪ অক্টোবর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের সঙ্গে কার্যকর হওয়ার কথা। এতে গত বছর চালু করা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাকে স্থায়ী করা হচ্ছে। এটি সব অভিবাসীর বৈধ ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নয়। পরিবর্তনটি মূলত নির্দিষ্ট শ্রেণির এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট বা ইএডি নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার পর পুরোনো কার্ডের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার স্বয়ংক্রিয় সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত। আগের ব্যবস্থায় যোগ্য আবেদনকারীরা সময়মতো নবায়নের আবেদন করলে নির্ধারিত শর্তে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পেতেন। আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলেও তাঁদের কাজের অনুমতি বহাল রাখাই ছিল এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। তবে সুবিধাটি বাতিলের মূল পরিবর্তন শুরু হয় ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর। ওই দিনের অন্তর্বর্তীকালীন বিধি অনুযায়ী, সেদিন বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট নবায়ন আবেদন সাধারণভাবে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পায় না। ফলে অক্টোবরের নতুন চূড়ান্ত বিধিকে প্রথমবার সুবিধা বন্ধের ঘোষণা হিসেবে দেখলে কার্যকর হওয়ার সময় নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। ডিএইচএসের বক্তব্য, নতুন করে কাজের অনুমতি দেওয়ার আগে আবেদনকারীর যোগ্যতা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই নিশ্চিত করতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে শুধু নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার রসিদ দিয়ে কাজের অনুমতি বহাল আছে ধরে নেওয়া যাবে না। বিধিতে ব্যতিক্রমও রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবরের আগে পাওয়া স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা এবং আইন বা পৃথক ফেডারেল রেজিস্টার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাড়ানো মেয়াদ এই সিদ্ধান্তে সরাসরি বাতিল করা হয়নি। তাই কারও কাজের অনুমতি বহাল আছে কি না, তা নির্ধারণে তাঁর ইএডির ক্যাটাগরি, নবায়নের আবেদনের তারিখ এবং প্রযোজ্য বিশেষ নির্দেশনা বিবেচনা করতে হবে। এই পরিবর্তনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি তাঁদের জন্য, যাঁদের বর্তমান ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের সিদ্ধান্ত আসে না। প্রযোজ্য অন্য কোনো অনুমতি বা ব্যতিক্রম না থাকলে তাঁদের কাজে বিরতি পড়তে পারে। ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ, নবায়নের আবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অভিবাসনগত স্ট্যাটাস পৃথক বিষয়, তাই একটি নথির পরিবর্তন দিয়ে অন্যটির অবস্থান নির্ধারণ করা ঠিক হবে না।
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, শিল্প, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। এ লক্ষ্যে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, যৌথ শিল্পকারখানা স্থাপন এবং বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও শিল্প সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন ছিল আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশের ১২ জন সরকারি কর্মকর্তা ইতোমধ্যে পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। আরও ৩৫ জন কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়লে প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে পাকিস্তানের ন্যাশনাল স্কুল অব পাবলিক পলিসি এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির সঙ্গে পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিস একাডেমির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে আগ্রহ জানিয়েছে পাকিস্তান। এসব সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে। তবে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের চূড়ান্ত সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে বছরে ১০ হাজার মেট্রিক টন চা শুল্কমুক্ত আমদানির কোটা থাকার কথা জানিয়েছেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার। তাঁর মতে, পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের চা রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি আনারস ও চিংড়ি পাকিস্তানে রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব পণ্যের বাণিজ্য বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা। তবে নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী বাস্তবে কত পরিমাণ চা রপ্তানি হচ্ছে, সে বিষয়ে বৈঠকের প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। শিল্প খাতে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদন কারখানা স্থাপনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। পাকিস্তানের শিয়ালকোটের ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা যৌথভাবে কাজ করতে পারেন বলে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদনপণ্যের মধ্যে রয়েছে টেনিস বলসহ বিভিন্ন ধরনের বল ও অন্যান্য ক্রীড়াসামগ্রী। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তর, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দেশটির হাইকমিশনার জানিয়েছেন, পাকিস্তান কিডনি অ্যান্ড লিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে প্রতিবছর ১০ জন বাংলাদেশি রোগীর বিনা মূল্যে লিভার প্রতিস্থাপনে তাঁরা আগ্রহী। পাশাপাশি বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্সদের লিভার প্রতিস্থাপন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত প্রকাশিত আগ্রহ ও প্রস্তাব; রোগী নির্বাচনের নিয়ম, চিকিৎসার অন্যান্য ব্যয় এবং কার্যক্রম শুরুর সময় সম্পর্কে বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি। বৈঠকে ওষুধশিল্প, পর্যটন, পাটশিল্প, শিক্ষা ও বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও আলোচিত হয়েছে। চিকিৎসাসেবা বিনিময় ও চিকিৎসা পর্যটন সম্প্রসারণের বিষয়েও দুই পক্ষ আগ্রহ দেখিয়েছে। এসব খাতে যৌথ উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়লে ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। ঢাকা–করাচি সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। পাকিস্তানের হাইকমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪ বছর পর সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়া দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকা রাখবে। তবে বিমান চলাচলের বর্তমান সময়সূচি, ফ্লাইটের সংখ্যা কিংবা যাত্রী পরিবহনের পরিসংখ্যান বৈঠকসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ, শিল্প উৎপাদন এবং স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা সম্প্রসারণে পাকিস্তানের আগ্রহ উঠে এসেছে বৈঠকে। তবে প্রস্তাবগুলোর বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরবর্তী আলোচনা, আনুষ্ঠানিক চুক্তি এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ওপর।