- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
প্রেমের টানে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সুদূর রাশিয়া থেকে ভারতের বিহারে প্রেমিকের বাড়িতে হাজির হয়েছেন জুলি নামের এক তরুণী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু হওয়া তাঁদের সম্পর্ক এখন বিয়ের দিকে এগোচ্ছে। প্রেমিকার এমন আকস্মিক উপস্থিতিতে প্রথমে চমকে যান প্রেমিক রাহুল যাদব ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি জানার পর পরিবার তাঁকে স্বাগত জানায়। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ১৪ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত স্টার নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের বিহার রাজ্যের ভাগলপুরের বাসিন্দা রাহুল যাদবের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় রাশিয়ার তরুণী জুলির। প্রথমে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। নিয়মিত কথোপকথনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। দুই দেশের ভৌগোলিক দূরত্ব তাঁদের সম্পর্কের বড় বাধা হলেও শেষ পর্যন্ত তা উপেক্ষা করে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জুলি। তিনি প্রেমিকের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিস্মিত হয়ে পড়েন। পরে রাহুল তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি ব্যাখ্যা করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রাহুলের পরিবার জুলিকে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তিলক পরিয়ে স্বাগত জানায়। তাঁদের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে রাহুলের বাড়িতে ভিড় করেন। বিদেশি তরুণীকে দেখতে আসা মানুষের মধ্যে নতুন এই সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহল দেখা যায়। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ের প্রস্তুতি চলছে। তবে বিয়ের নির্দিষ্ট তারিখ, আনুষ্ঠানিক আয়োজনের বিস্তারিত কিংবা জুলির ভারতে যাওয়ার ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয় থেকে আন্তদেশীয় প্রেমের সম্পর্ক—জুলি ও রাহুলের ঘটনা আবারও দেখিয়েছে, অনলাইন যোগাযোগ কীভাবে ভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। তবে তাঁদের সম্পর্কের পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের আবেদন চলাকালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বিধিতে রূপ দিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস। ব্লুমবার্গ ল-এর ১৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিধিটি ১৪ অক্টোবর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের সঙ্গে কার্যকর হওয়ার কথা। এতে গত বছর চালু করা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাকে স্থায়ী করা হচ্ছে। এটি সব অভিবাসীর বৈধ ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নয়। পরিবর্তনটি মূলত নির্দিষ্ট শ্রেণির এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট বা ইএডি নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার পর পুরোনো কার্ডের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার স্বয়ংক্রিয় সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত। আগের ব্যবস্থায় যোগ্য আবেদনকারীরা সময়মতো নবায়নের আবেদন করলে নির্ধারিত শর্তে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পেতেন। আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলেও তাঁদের কাজের অনুমতি বহাল রাখাই ছিল এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। তবে সুবিধাটি বাতিলের মূল পরিবর্তন শুরু হয় ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর। ওই দিনের অন্তর্বর্তীকালীন বিধি অনুযায়ী, সেদিন বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট নবায়ন আবেদন সাধারণভাবে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পায় না। ফলে অক্টোবরের নতুন চূড়ান্ত বিধিকে প্রথমবার সুবিধা বন্ধের ঘোষণা হিসেবে দেখলে কার্যকর হওয়ার সময় নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। ডিএইচএসের বক্তব্য, নতুন করে কাজের অনুমতি দেওয়ার আগে আবেদনকারীর যোগ্যতা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই নিশ্চিত করতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে শুধু নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার রসিদ দিয়ে কাজের অনুমতি বহাল আছে ধরে নেওয়া যাবে না। বিধিতে ব্যতিক্রমও রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবরের আগে পাওয়া স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা এবং আইন বা পৃথক ফেডারেল রেজিস্টার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাড়ানো মেয়াদ এই সিদ্ধান্তে সরাসরি বাতিল করা হয়নি। তাই কারও কাজের অনুমতি বহাল আছে কি না, তা নির্ধারণে তাঁর ইএডির ক্যাটাগরি, নবায়নের আবেদনের তারিখ এবং প্রযোজ্য বিশেষ নির্দেশনা বিবেচনা করতে হবে। এই পরিবর্তনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি তাঁদের জন্য, যাঁদের বর্তমান ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের সিদ্ধান্ত আসে না। প্রযোজ্য অন্য কোনো অনুমতি বা ব্যতিক্রম না থাকলে তাঁদের কাজে বিরতি পড়তে পারে। ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ, নবায়নের আবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অভিবাসনগত স্ট্যাটাস পৃথক বিষয়, তাই একটি নথির পরিবর্তন দিয়ে অন্যটির অবস্থান নির্ধারণ করা ঠিক হবে না।
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, শিল্প, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। এ লক্ষ্যে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, যৌথ শিল্পকারখানা স্থাপন এবং বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও শিল্প সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন ছিল আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশের ১২ জন সরকারি কর্মকর্তা ইতোমধ্যে পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। আরও ৩৫ জন কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়লে প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে পাকিস্তানের ন্যাশনাল স্কুল অব পাবলিক পলিসি এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির সঙ্গে পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিস একাডেমির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে আগ্রহ জানিয়েছে পাকিস্তান। এসব সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে। তবে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের চূড়ান্ত সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে বছরে ১০ হাজার মেট্রিক টন চা শুল্কমুক্ত আমদানির কোটা থাকার কথা জানিয়েছেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার। তাঁর মতে, পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের চা রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি আনারস ও চিংড়ি পাকিস্তানে রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব পণ্যের বাণিজ্য বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা। তবে নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী বাস্তবে কত পরিমাণ চা রপ্তানি হচ্ছে, সে বিষয়ে বৈঠকের প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। শিল্প খাতে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদন কারখানা স্থাপনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। পাকিস্তানের শিয়ালকোটের ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা যৌথভাবে কাজ করতে পারেন বলে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদনপণ্যের মধ্যে রয়েছে টেনিস বলসহ বিভিন্ন ধরনের বল ও অন্যান্য ক্রীড়াসামগ্রী। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তর, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দেশটির হাইকমিশনার জানিয়েছেন, পাকিস্তান কিডনি অ্যান্ড লিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে প্রতিবছর ১০ জন বাংলাদেশি রোগীর বিনা মূল্যে লিভার প্রতিস্থাপনে তাঁরা আগ্রহী। পাশাপাশি বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্সদের লিভার প্রতিস্থাপন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত প্রকাশিত আগ্রহ ও প্রস্তাব; রোগী নির্বাচনের নিয়ম, চিকিৎসার অন্যান্য ব্যয় এবং কার্যক্রম শুরুর সময় সম্পর্কে বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি। বৈঠকে ওষুধশিল্প, পর্যটন, পাটশিল্প, শিক্ষা ও বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও আলোচিত হয়েছে। চিকিৎসাসেবা বিনিময় ও চিকিৎসা পর্যটন সম্প্রসারণের বিষয়েও দুই পক্ষ আগ্রহ দেখিয়েছে। এসব খাতে যৌথ উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়লে ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। ঢাকা–করাচি সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। পাকিস্তানের হাইকমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪ বছর পর সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়া দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকা রাখবে। তবে বিমান চলাচলের বর্তমান সময়সূচি, ফ্লাইটের সংখ্যা কিংবা যাত্রী পরিবহনের পরিসংখ্যান বৈঠকসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ, শিল্প উৎপাদন এবং স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা সম্প্রসারণে পাকিস্তানের আগ্রহ উঠে এসেছে বৈঠকে। তবে প্রস্তাবগুলোর বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরবর্তী আলোচনা, আনুষ্ঠানিক চুক্তি এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাশ অ্যাডভান্স অ্যাপ ক্লিও এআইয়ের ২১ লাখ ২৪ হাজার ৭৯৬ জন গ্রাহককে মোট এক কোটি ৫৮ লাখ ডলারের বেশি ফেরত দিচ্ছে ফেডারেল ট্রেড কমিশন বা এফটিসি। দ্রুত টাকা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি, অগ্রিম অর্থের পরিমাণ ও সাবস্ক্রিপশন বাতিলের প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২৭ অক্টোবর পেপ্যালের মাধ্যমে রিফান্ড পাঠানো শুরু হবে। এফটিসি জানিয়েছে, ক্লিও এআইয়ের নির্ধারিত ইনস্ট্যান্ট ক্যাশ অ্যাডভান্স সেবার জন্য অর্থ পরিশোধ করা যোগ্য গ্রাহকেরা এই রিফান্ড পাবেন। তাঁদের কাছে ৮ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে ইমেইলে নোটিফিকেশন পাঠানো হচ্ছে। পেপ্যালে টাকা পাওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে তা গ্রহণ করতে হবে। ২০২৫ সালের মার্চে দায়ের করা অভিযোগে এফটিসি বলেছিল, ক্লিওর বিজ্ঞাপনে কয়েকশ ডলার অগ্রিম পাওয়ার সুযোগ দেখানো হলেও প্রায় কোনো গ্রাহকই বিজ্ঞাপিত পরিমাণের কাছাকাছি অর্থ পাননি। একই দিনে বা তাৎক্ষণিক টাকা পাওয়ার জন্য বাড়তি ফি দিতে হতো। সেই ফি দেওয়ার পরও অনেককে পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। সাবস্ক্রিপশন বাতিল নিয়েও অভিযোগ ছিল। এফটিসির ভাষ্য অনুযায়ী, বারবার বাতিলের অনুরোধ করার পরও কিছু গ্রাহকের কাছ থেকে মাসিক ফি নেওয়া হয়েছে। আবার বকেয়া ক্যাশ অ্যাডভান্স পরিশোধ না করা পর্যন্ত সাবস্ক্রিপশন বাতিল করা যাবে না বলেও গ্রাহকদের জানানো হয়েছিল। এসব অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ক্লিও এআই এক কোটি ৭০ লাখ ডলার দিতে সম্মত হয়। প্যাচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিফান্ডের জন্য আলাদা আবেদন করতে হবে না। তবে প্রত্যেকে কত টাকা পাবেন এবং সবার রিফান্ডের পরিমাণ সমান হবে কি না, তা প্রকাশ করা হয়নি। রিফান্ডসংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান রাস্ট কনসাল্টিংয়ের ১-৮৭৭-৭৮৮-৪৯৫৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এফটিসি সতর্ক করেছে, রিফান্ড পেতে কোনো ফি দিতে হয় না। টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ যোগাযোগ করলে তাকে ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি।
ময়মনসিংহের ভালুকায় বাড়ির স্টিলের দরজা খুলে বাইরে বের হওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই আপন বোনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের কাতলামারী গ্রামে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু হলো ফাতেমা আক্তার ও নাহিদা আক্তার। তাদের বয়স নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে; প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাহিদার বয়স পাঁচ বছর এবং ফাতেমার সাত বছর। নিহত দুই শিশু স্থানীয় কৃষক শাহাব উদ্দিনের মেয়ে। একই পরিবারের দুই শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শাহাব উদ্দিনের বাড়িতে একটি নতুন ঘর নির্মাণ করা হয়। ওই ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পুরোনো ঘর থেকে সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক সংযোগের তারে ত্রুটি থাকায় ঘরের স্টিলের দরজাটি বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় দুই বোন ঘরের ভেতরে ছিল। ঘুম থেকে ওঠার পর বাইরে বের হওয়ার জন্য বড় বোন দরজাটি খুলতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। এ সময় ছোট বোন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে সেও বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই শিশুর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ঘটনার সময় শিশু দুটির মা আয়না মতি বেগম বাড়ির বাইরে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন। তাদের বাবাও বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি গভীর শোকের মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল কাশেম ফকির জানান, পুরোনো ঘর থেকে নতুন ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই সংযোগের ত্রুটির কারণে স্টিলের দরজাটি বিদ্যুতায়িত হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ দুই শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়। দুর্ঘটনাটি বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ঘরে নতুন বৈদ্যুতিক সংযোগ নেওয়ার সময় দক্ষ বিদ্যুৎকর্মীর মাধ্যমে তারের নিরোধক, আর্থিং এবং ধাতব দরজা বা অন্যান্য ধাতব অংশে বিদ্যুৎ লিকেজের ঝুঁকি পরীক্ষা করা জরুরি। কোনো দরজা, সুইচ বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্পর্শ করে শক অনুভূত হলে সেটি আর স্পর্শ করা উচিত নয়; নিরাপদ দূরত্বে থেকে মূল বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দক্ষ ব্যক্তির সহায়তা নিতে হবে।দুই শিশুর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং ঘরের বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তারও একটি মর্মান্তিক স্মারক হয়ে থাকল।
প্রকৌশলী ও ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। ৩৪তম বিসিএসেও উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে সেই চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের পড়ানোর পথ বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নায়লা শারাফ। সাত বছর ধরে নেত্রকোনার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই তৈরি করছেন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নায়লার শিক্ষাজীবন শুরু হয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। পরে বুয়েট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। এরপর জনতা ব্যাংকে এক্সিকিউটিভ অফিসার পদেও কাজ করেন। বিভিন্ন পেশায় কাজের অভিজ্ঞতার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। নায়লার কাছে এই সিদ্ধান্তের প্রধান বিবেচনা ছিল নিজের পছন্দ ও মানসিক তৃপ্তি। জাগো নিউজকে তিনি জানিয়েছেন, অর্থ বা খ্যাতির প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ নেই। সাধারণ জীবন এবং দিন শেষে নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগকেই বেশি গুরুত্ব দেন। শিশুদের শেখানোর কাজটি পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি নায়লা। পাঠ সহজ ও আনন্দময় করতে ছবি আঁকেন, শিক্ষা উপকরণ বানান এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেন। বিদ্যালয়ের সময়ের বাইরেও এসব প্রস্তুতির জন্য কাজ করেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সত্যবাদী ও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠার বিষয়েও গুরুত্ব দেন। শৈশবে তিনি যে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন, প্রান্তিক পরিবারের শিশুরাও যেন তেমন সুযোগ পায়, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা। বুধবার, ১৪ অক্টোবর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের পেশা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন নায়লা। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলুর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর কাজের প্রশংসা করেছেন এবং কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মেডিকেইডে না দেওয়া চিকিৎসার বিল জমা দিয়ে তিন লাখ ডলারের বেশি আত্মসাতের অভিযোগে ডেন্টিস্ট সুলেমান নাসিমিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পৃথক আরেক মামলায় রোগী পরিবহনের ভুয়া বিল দিয়ে ১৬ লাখ ডলারের বেশি আত্মসাতের ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন দুই ভাই। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ও কম্পট্রোলারের দপ্তর পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়। অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের দপ্তর জানিয়েছে, ৪৬ বছর বয়সী নাসিমি নাসাউ কাউন্টির হিকসভিলের বাসিন্দা। কুইনসে তাঁর ‘টুথ ফ্রেশ মেডোজ’ ডেন্টাল ক্লিনিকের মাধ্যমে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন মেডিকেইড সদস্যের নামে না দেওয়া চিকিৎসার বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিলের মধ্যে রুট ক্যানাল ও দাঁতে ক্রাউন বসানোর মতো চিকিৎসাও ছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২২ সালের জুলাইয়েই ক্লিনিক বন্ধ থাকা এবং নাসিমির ইউরোপে ছুটি কাটানোর সময়ে এক লাখ ৪০ হাজার ডলারের বেশি চিকিৎসার বিল জমা দেওয়া হয়। ভুয়া বিলের কারণে কয়েকজন রোগী পরে অন্য ডেন্টিস্টের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অনুমোদন পাননি। মেডিকেইডের নথিতে তাঁদের সেই চিকিৎসা আগেই দেওয়া হয়েছে বলে দেখানো ছিল। নাসিমি ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে ৪০টি করে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে অর্থ আত্মসাৎ, হেলথ কেয়ার জালিয়াতি ও মিথ্যা নথি জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মামলার অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে নিউইয়র্কের ক্লিফটন পার্কের বাসিন্দা জাওয়াদ চৌধুরী ও জুনাইদ চৌধুরী রোগী পরিবহনের বিল জালিয়াতির মামলায় অ্যালবানি কাউন্টি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। রাজ্যের কম্পট্রোলার টমাস পি. ডিনাপোলির দপ্তর জানিয়েছে, তাঁরা আত্মসাৎ করা অর্থ পুরোপুরি ফেরত দেবেন। সাজা ঘোষণার জন্য আগামী ১৪ ডিসেম্বর তাঁদের আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, একই গাড়িতে একাধিক রোগী পরিবহন করেও আলাদা যাত্রার বিল দেখানো হতো। কখনো রোগী পরিবহন না করেই বিল জমা দেওয়া হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জুনাইদের এ১ রাইডসের মাধ্যমে ১০ লাখ ডলারের বেশি এবং জাওয়াদের এনওয়াই জেট ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে চার লাখ ডলারের বেশি ভুয়া দাবি জমা দেওয়া হয়। তদন্তে রাইড টু রিকভারি নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া যায়। দেশজুড়ে হেলথ কেয়ার জালিয়াতিবিরোধী অভিযানের বিষয়ে বিচার বিভাগের ২৩ জুনের ঘোষণায় ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার তথ্য রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৯০ জন চিকিৎসক ও অন্যান্য লাইসেন্সধারী চিকিৎসা পেশাজীবী। বিভিন্ন মামলায় মোট ৬৫০ কোটি ডলারের বেশি ভুয়া দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে। এই হিসাব অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা; সবাইকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা নয়।
নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের একজন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ দেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বুধবার, ১৪ অক্টোবর, দেওয়া এক বিবৃতিতে রিজভী অভিযোগ করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার কারণে ইউনূসকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি। রিজভী বলেন, অধ্যাপক ইউনূস নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও সুনাম বাড়িয়েছেন। তিনি শুধু বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাই নন, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন ব্যক্তিত্বও। তাঁর সঙ্গে বিদেশের মাটিতে এমন আচরণকে রিজভী অসম্মানজনক বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। বিমানবন্দরের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে সামনে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে থাকা ইউনূসের কাছে কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে গিয়ে তাঁকে উদ্দেশ করে চিৎকার করছেন। তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন এবং তাঁকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি সেখানে এসেছেন। পরে নিরাপত্তাকর্মী ও সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে ইউনূসকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ভিডিও থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এ ঘটনায় বাংলাদেশের সরকারও নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের মিশনকে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সরকারও ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। অধ্যাপক ইউনূসকে ঘিরে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টাও। তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানি, অনলাইন অপপ্রচার ও শারীরিক হুমকির অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন হয়রানি বা সহিংস আচরণে রূপ না নেয়। রিজভীর বক্তব্যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটলে তা দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে। তবে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, ভিডিওর প্রেক্ষাপট এবং তদন্তের ফলাফল বিবেচনা করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগস্টে ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। বুধবার, ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি, বিশেষ করে গ্যাসোলিনের দাম বৃদ্ধি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে। এতে পরিবারের যাতায়াত ও দৈনন্দিন ব্যয়ে চাপ অব্যাহত রয়েছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। আগের মাসে এই বৃদ্ধি ছিল শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ফ্যাক্টসেটের জরিপে অর্থনীতিবিদেরা বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। প্রকাশিত হার সেই পূর্বাভাসের চেয়ে সামান্য বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মৌসুমি সমন্বয়ের পর সেপ্টেম্বরে জ্বালানির দাম আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। শুধু গ্যাসোলিনের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে জ্বালানির দাম ২০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং গ্যাসোলিনের দাম ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ বেশি ছিল। খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে এর বার্ষিক হার ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ, আগস্টে যা ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। এপির প্রতিবেদনে জ্বালানির দামে ইরান যুদ্ধের চলমান প্রভাবকে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে সব খাতে একইভাবে দাম বাড়েনি। সেপ্টেম্বরে সামগ্রিক খাদ্যের দাম আগের মাসের তুলনায় অপরিবর্তিত ছিল। বাড়িতে খাওয়ার জন্য কেনা খাদ্যের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমলেও বাইরে খাওয়ার খরচ বেড়েছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। আবাসন খরচ বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বার্ষিক মূল্যস্ফীতির অর্থ, ভোক্তা মূল্যসূচকে অন্তর্ভুক্ত পণ্য ও সেবার গড় দাম এক বছর আগের তুলনায় ওই হারে বেড়েছে। পরিবারের নিজস্ব ব্যয় কতটা বেড়েছে, তা নির্ভর করে গ্যাসোলিন, আবাসন, খাদ্য ও অন্যান্য খাতে তাদের খরচের ওপর। তাই জাতীয় গড়ের সঙ্গে প্রত্যেক পরিবারের অভিজ্ঞতা এক হবে না।
যুক্তরাজ্যের একটি ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে বাঘের হামলায় তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় ধারণ করা ভিডিও শেয়ার করার কয়েক ঘণ্টা পর নিজের সঙ্গে বাঘের খেলার একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও পোস্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৩ অক্টোবর রাতে ট্রুথ সোশ্যালে ভিডিওটি প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে নিহত তরুণের পরিবার অনলাইনে ঘটনার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়ানো বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ভিডিওতে ট্রাম্পকে বাঘ তাড়াতে এবং প্রাণীটির সঙ্গে খেলার ছলে ধস্তাধস্তি করতে দেখা যায়। শেষে তাঁকে বাঘটি জড়িয়ে ধরতে দেখানো হয়। পুরো দৃশ্যটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি, বাস্তবে ট্রাম্পের সঙ্গে বাঘের এমন কোনো ঘটনার ভিডিও নয়। এর আগে ট্রাম্প ইংল্যান্ডের ডনকাস্টারের কাছে ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে বাঘের হামলার ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে তাঁর বার্তার অর্থ ছিল, প্রকৃতির সঙ্গে কখনো খেলতে যেও না। আইটিভি নিউজ জানিয়েছে, ওই ভিডিওতে হামলার দৃশ্য থাকলেও তরুণের মৃত্যুর মুহূর্ত দেখানো হয়নি। নিহত তরুণের নাম উইলিয়াম চ্যাপম্যান, বয়স ২৩ বছর। সাউথ ইয়র্কশায়ার পুলিশের বক্তব্য উদ্ধৃত করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর তিনি বাঘের ঘেরের ভেতরে প্রবেশ করার পর হামলার শিকার হন। জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। বাঘটি ঘেরের ভেতরেই ছিল এবং আহত হয়নি। উইলিয়ামের পরিবার জানিয়েছে, শোকের এই সময়ে আপত্তিকর অনলাইন কনটেন্টের প্রচার তাঁদের গভীর মানসিক কষ্ট দিচ্ছে। তাঁরা এ ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো বন্ধ করতে এবং মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাতে অনুরোধ করেছেন। আইটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর ডনকাস্টারের করোনার আদালতে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পার্কটির লাইসেন্স দেওয়ার দায়িত্বে থাকা ডনকাস্টার সিটি কাউন্সিলও স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তদন্ত শুরু করেছে।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকার মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে ঘটনাটির পেছনে শুধু পেশাগত বিরোধ নয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্বও রয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। মারামারিতে জড়ানো দুই শিক্ষক হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন এবং সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম। তাঁরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ২০০৪ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের একটি মেয়ে রয়েছে, যিনি উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রায় ১৪ বছর ধরে তাঁরা আলাদা থাকছেন এবং পারিবারিক বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। তবে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। মাঝেমধ্যে সেই বিরোধ বিদ্যালয় পর্যন্ত গড়িয়েছে। ঘটনার দিনও পারিবারিক বিরোধের জেরে দুজনের মধ্যে মারামারি হয় বলে তিনি জানান। তাঁর দাবি, সহকর্মী শিক্ষকদের দিয়ে তিনি ঘটনার ভিডিও ধারণ করিয়েছিলেন। এর আগেও বিদ্যালয়ে তাঁদের মধ্যে দুই থেকে তিনবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এমন ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি বলেও স্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক। তবে ঘটনার বিষয়ে সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার বিষয়ে তাঁর নিজস্ব বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষা প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটি ১০ থেকে ১২ দিন আগের হলেও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁদের নজরে আসে। দুই শিক্ষকের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১৪ অক্টোবর বুধবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তের ফলাফল বা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ঘটনাটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের এমন আচরণ শিক্ষার্থীদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯০-এর বেশি বলে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব এবং শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুদের শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিরোধ থাকলেও বিদ্যালয়ের পরিবেশে তার প্রভাব পড়া অনাকাঙ্ক্ষিত। তাই ভিডিওটির পুরো প্রেক্ষাপট যাচাই, সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার দায় নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো পক্ষ সম্পর্কে একতরফা সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের পরিভাষা অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিযোগিতার নাম বদলে দিয়েছেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। আগে ‘প্রেসিডেনশিয়াল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স চ্যালেঞ্জ’ নামে পরিচিত প্রতিযোগিতাটির নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘প্রেসিডেনশিয়াল সুপার ইন্টেলিজেন্স চ্যালেঞ্জ’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামে পরিচিত করার জন্য ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই এ পরিবর্তন এলো। ১৩ অক্টোবর প্রতিযোগিতাটির নতুন নাম ঘোষণা করেন মেলানিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন ধারণা তৈরি ও বাস্তবায়ন করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। মেলানিয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, আগের বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতাটি শিশুদের বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমেরিকার পরবর্তী যুগান্তকারী ধারণাটি ইতিমধ্যে কোনো না কোনো শ্রেণিকক্ষে রয়েছে।’ শিক্ষার্থীদের সেই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও সুযোগ তৈরি করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। প্রতিযোগিতার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্প সরকারি যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ কারণে মেলানিয়ার সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের পছন্দের পরিভাষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন বদলাচ্ছে এআইয়ের নাম ট্রাম্পের প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রচলিত নাম পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এতে আইন যতটা অনুমতি দেয়, ততটা সীমার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্বাহী বিভাগ ও সংস্থাগুলোকে সরকারি চিঠিপত্র, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদন, নীতিপত্র এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘এসআই’ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। ট্রাম্পের যুক্তি, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি প্রযুক্তিটিকে কৃত্রিম বা অবাস্তব বলে মনে করাতে পারে। তাঁর মতে, বর্তমান প্রযুক্তির সক্ষমতা বোঝাতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি বেশি উপযুক্ত। তবে নির্বাহী আদেশটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একই পরিভাষা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেনি। ফলে প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোকে তাদের প্রচলিত নাম পরিবর্তন করতেই হবে, এমন কোনো নির্দেশ নেই। ট্রাম্প এর আগে প্রচলিত ‘এআই’ শব্দ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে, নতুন পরিভাষার পরিবর্তে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ ব্যবহারকারীরা তাঁর বিরোধীদের তালিকায় পড়তে পারেন—এমন হুঁশিয়ারিও ছিল। এই মন্তব্যের পর প্রযুক্তি খাতে নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। তবে প্রযুক্তি শিল্পের সবাই ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নাম গ্রহণ করেননি। শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একাংশের মতে, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি প্রযুক্তির একটি আরও উন্নত বা বিশেষ পর্যায়ের ধারণা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই বর্তমানে প্রচলিত সব ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য এ নাম ব্যবহার করা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিচিত প্রযুক্তির নাম বদলানোর চেষ্টা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাবে নতুন স্বীকৃতির সুযোগ ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন একটি স্বীকৃতির ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে। নির্ধারিত কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ জমা দিয়ে স্কুলগুলো ‘ফার্স্ট লেডি সিল অব এসআই রেডিনেস’ অর্জনের সুযোগ পাবে। এই স্বীকৃতির লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার, তা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্কুল, স্থানীয় সমাজ ও বৃহত্তর পরিসরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রকল্প তৈরি করতে পারবে। এর আগে অনুষ্ঠিত প্রথম প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে সেই অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তি শিক্ষায় মেলানিয়ার গুরুত্ব শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার মেলানিয়া ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর একটি। এর পাশাপাশি পালক পরিবারের শিশুদের সহায়তা এবং অনলাইনে ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দিয়ে হয়রানি করার বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের উদ্যোগেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। গত মাসে নর্থ ক্যারোলাইনার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন মেলানিয়া। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছেন, তা দেখেন তিনি। এ সময় শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। মেলানিয়া বলেন, শিশুদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। তবে প্রযুক্তি ভবিষ্যতের অংশ, তাই তাদের কী কী সুযোগ রয়েছে, তা শেখানো এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে তারা পিছিয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রকে এ প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন ফার্স্ট লেডি। এদিকে, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কও ট্রাম্পের নতুন পরিভাষার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি তাঁর কোম্পানি স্পেসএক্সএআইয়ের নাম পরিবর্তন করে স্পেসএক্সএসআই করার কথা বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘আর এআই নয়, এসআই। এটি আরও ভালো।’ তাঁর এক অনুসারী নাম পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সম্মতিসূচক জবাব দেন। সব মিলিয়ে, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার নাম পরিবর্তন শুধু একটি কর্মসূচির নতুন পরিচয় নয়; যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাম ও পরিচিতি বদলানোর বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গেও এটি যুক্ত। তবে বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের মধ্যে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্কুলগুলো নতুন কর্মসূচির সরকারি ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য এবং নিবন্ধনের নির্দেশনা দেখতে পারবে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় ঢাকা থেকে পরিচালিত সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে। বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৮৯টি ফ্লাইটের যাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এতে অন্তত ১৪ হাজার ৬৫৫ জন যাত্রী প্রভাবিত হয়েছেন। বুধবার প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটের মধ্যে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি চলাচলকারী ৩৯টি এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে পরিচালিত ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, রিয়াদ এয়ারের সাতটি এবং সৌদিয়ার পাঁচটি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে। ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজ ও ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি করে, সালামএয়ারের চারটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রিয়াদে বিস্ফোরণের খবর এবং সৌদি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার তৎপরতার কথাও প্রতিবেদনে এসেছে। এসব ঘটনার মধ্যে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা–রিয়াদ ও ঢাকা–দাম্মাম ফ্লাইট স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে। জরুরি ভ্রমণপ্রয়োজন রয়েছে এমন যাত্রীদের জন্য জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছে সংস্থাটি। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ঢাকা–রিয়াদ–ঢাকা ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক, ছুটিতে দেশে আসা প্রবাসী এবং ওমরাহযাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। যাঁদের ফ্লাইটের তারিখ কাছাকাছি, তাঁদের টিকিটের অবস্থা, নতুন সময়সূচি এবং বিকল্প যাত্রাপথ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। তবে সব সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল হয়েছে—এমনটি বলা যাবে না। প্রতিবেদনটি নির্দিষ্টসংখ্যক সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইটে বিঘ্নের তথ্য দিয়েছে। পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে সময়সূচিও বদলাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফলো নায়াগ্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের তিন শহরে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা ব্রিজ এয়ারওয়েজ। নতুন এই রুটগুলোতে নর্থ ক্যারোলাইনার র্যালি-ডারহাম এবং সাউথ ক্যারোলাইনার মার্টল বিচ ও চার্লসটনে যাতায়াত করতে পারবেন যাত্রীরা। ২০২৭ সালের জুনের শেষ দিকে শুরু হবে ফ্লাইট চলাচল। এরপর জুলাইয়ের প্রথম দুই দিনে বাকি দুটি রুট চালু হবে। নতুন ফ্লাইটগুলোর টিকিট বুকিংও শুরু হয়েছে। বিমান সংস্থাটির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, র্যালি-ডারহাম রুটে ফ্লাইট শুরু হবে ২০২৭ সালের ২৯ জুন। এ রুটে সপ্তাহে চার দিন—সোমবার, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও রোববার বিমান চলাচল করবে। এরপর ১ জুলাই থেকে মার্টল বিচ রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু হবে। এ রুটে বৃহস্পতিবার ও রোববার যাতায়াতের সুযোগ থাকবে। সবশেষে ২ জুলাই চার্লসটন রুটে ফ্লাইট শুরু হবে। সেখানে সপ্তাহে সোমবার ও শুক্রবার বিমান চলবে। নতুন রুটগুলো চালু হলে বাফলো থেকে এসব শহরে যাওয়ার জন্য যাত্রীদের সরাসরি ফ্লাইটের বিকল্প বাড়বে। বিশেষ করে যারা ছুটি কাটাতে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার সমুদ্রসৈকত এলাকায় যেতে চান, তাদের জন্য মার্টল বিচের রুটটি সুবিধাজনক হতে পারে। অন্যদিকে, র্যালি-ডারহাম ও চার্লসটনের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ ব্যবসা, ব্যক্তিগত ভ্রমণ এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা করার যাত্রাকে সহজ করতে পারে। কোন রুটে কত ভাড়া ব্রিজ এয়ারওয়েজের ঘোষণায় নতুন রুটগুলোর জন্য প্রচারমূলক একমুখী ভাড়ার তথ্যও দেওয়া হয়েছে। র্যালি-ডারহাম রুটে ভাড়া শুরু হচ্ছে ৪৯ ডলার থেকে। মার্টল বিচ রুটে প্রাথমিক ভাড়া ৫৯ ডলার এবং চার্লসটন রুটে ৬৯ ডলার থেকে শুরু। তবে এসব ভাড়া নির্দিষ্ট প্রচারমূলক বুকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কম ভাড়ার টিকিটের শর্ত, যাত্রার তারিখ এবং আসনসংখ্যার ওপর নির্ভর করে প্রকৃত মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে। বিমান সংস্থার প্রকাশিত শর্ত অনুযায়ী, প্রচারমূলক ভাড়াগুলো নতুন বুকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং নির্ধারিত রুটে যাত্রার জন্য ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। কর ও সরকারি ফি ঘোষিত ভাড়ার অন্তর্ভুক্ত হলেও অতিরিক্ত সেবা, ভাড়া-সংক্রান্ত শর্ত ও অন্যান্য বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হতে পারে। এ কারণে টিকিট কেনার আগে নির্দিষ্ট তারিখে ভাড়া যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে আগেভাগে বুকিংয়ের মাধ্যমে উপযুক্ত ভাড়া খুঁজে নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রচারমূলক ভাড়া সব তারিখে পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। চার্লসটনে প্রথম সরাসরি সংযোগ চার্লসটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত ঘোষণায় জানিয়েছে, বাফলো ও চার্লসটনের মধ্যে এই রুটই হবে প্রথম সরাসরি বিমান সংযোগ। ২০২৭ সালের ২ জুলাই থেকে সপ্তাহে দুই দিন ফ্লাইট চলবে। এতে পশ্চিম নিউইয়র্কের যাত্রীদের সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লসটন অঞ্চলে যাওয়ার জন্য নতুন বিকল্প তৈরি হবে। একইভাবে চার্লসটন এলাকার বাসিন্দারাও বাফলোতে সরাসরি যাতায়াত করতে পারবেন। চার্লসটন ঐতিহাসিক স্থাপনা, উপকূলীয় আকর্ষণ ও পর্যটনকেন্দ্রের জন্য পরিচিত। নতুন রুটটি চালু হলে দুই অঞ্চলের মধ্যে পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে নতুন সংযোগের ফলে যাত্রীসংখ্যা কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়নি। বাফলো বিমানবন্দরে বাড়ছে ভ্রমণের বিকল্প ব্রিজ এয়ারওয়েজ ২০২১ সালে কার্যক্রম শুরু করে। বিমান সংস্থাটি তুলনামূলক কম ভাড়ায় সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেয়। সংস্থাটির ঘোষিত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় ২০২৭ সালে বাফলো থেকে নতুন তিনটি রুট চালুর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি শহরে সেবা বাড়ানোর কথা রয়েছে। বিমান সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের মোট ৯৫টি শহরে সেবা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। বাফলো নায়াগ্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নতুন রুট চালু হওয়ায় স্থানীয় যাত্রীদের সামনে আরও বেশি সরাসরি ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হবে। এত দিন যেসব যাত্রীর গন্তব্য ছিল র্যালি-ডারহাম, মার্টল বিচ কিংবা চার্লসটন, তাদের জন্য নতুন সূচি অনুযায়ী সরাসরি ফ্লাইট বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে ভ্রমণের আগে ফ্লাইটের দিন, টিকিটের মূল্য, লাগেজ ও পরিবর্তন-সংক্রান্ত শর্ত যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। নতুন তিনটি রুটের টিকিট ইতিমধ্যে বুকিংয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। যাত্রীরা ব্রিজ এয়ারওয়েজের ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট তারিখের ফ্লাইট ও ভাড়া যাচাই করতে পারবেন। সময়সূচি ও ভাড়া পরিবর্তিত হতে পারে বলে বুকিংয়ের সময় সর্বশেষ তথ্য দেখে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
নিউইয়র্ক সিটিতে স্পিড ক্যামেরার টিকিট পেলে ড্রাইভার লাইসেন্সে পয়েন্ট যোগ হয় না। তবে ৫০ ডলারের এই জরিমানা বাতিল করতে হলে যথাযথ কারণ ও প্রমাণসহ হিয়ারিং চাইতে হবে। অন্য কেউ গাড়ি চালাচ্ছিলেন কিংবা স্কুল বন্ধ ছিল, শুধু এসব যুক্তিতে বর্তমান নিয়মের টিকিট বাতিল হয় না। নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্স এবং এনওয়াইসি ৩১১-এর নির্দেশনায় বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে। স্কুল স্পিড জোনে নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে ঘণ্টায় ১০ মাইলের বেশি গতিতে গাড়ি চালালে ক্যামেরার মাধ্যমে টিকিট দেওয়া হয়। অর্থাৎ, গতিসীমা ৩০ মাইল হলে ৩৮ মাইলে চালানো এই ক্যামেরা টিকিটের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে না। তবে সেটিও গতিসীমা লঙ্ঘন, যার জন্য পুলিশ আলাদাভাবে টিকিট দিতে পারে। ক্যামেরায় ধরা পড়লে গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের কাছে সাধারণত প্রায় ১৪ দিনের মধ্যে নোটিশ অব লায়াবিলিটি বা এনওএল পাঠানো হয়। এনওয়াইসি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, এই ক্যামেরা টিকিটের কারণে লাইসেন্সে পয়েন্ট বা ইন্স্যুরেন্সে প্রভাব পড়ে না। এটি গাড়ির মালিকের দায়সংক্রান্ত জরিমানা। টিকিট চ্যালেঞ্জ করার প্রথম কাজ হলো নোটিশে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে ছবি এবং উপলব্ধ ভিডিও প্রমাণ দেখা। গাড়ির নম্বরপ্লেট, ঘটনার স্থান, সময় ও রেকর্ড করা গতি মিলিয়ে দেখুন। নিজের বক্তব্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ছবি, নথি ও অন্যান্য প্রমাণ জমা দিন। ছবির ক্ষেত্রে কখন সেটি তোলা হয়েছে, সেই তথ্যও রাখুন। ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের নির্দেশনায় গ্রহণযোগ্য আপত্তির উদাহরণ হিসেবে ভুল গাড়িকে শনাক্ত করা, ঘটনার দিন ক্যামেরা ত্রুটিপূর্ণ থাকা এবং ঘটনার আগে গাড়ি চুরি হয়ে আর উদ্ধার না হওয়ার প্রমাণের কথা বলা হয়েছে। পাশে অন্য গাড়ি ছিল বলেই টিকিট বাতিল হবে না, প্রমাণে দেখাতে হবে ভুল গাড়ির জন্য আপনাকে দায়ী করা হয়েছে। ক্যামেরা সঠিকভাবে কাজ করছিল কি না, সে বিষয়ে ডিওটির সার্টিফিকেশনও চেয়ে দেখা যায়। মালিকের অনুমতি নিয়ে অন্য কেউ গাড়ি চালালেও নিবন্ধিত মালিক সাধারণত দায়ী থাকেন। আবার ২০২২ সালের ১ আগস্ট থেকে নিউইয়র্ক সিটির স্পিড ক্যামেরা সপ্তাহের সাত দিন, দিনে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। তাই সাম্প্রতিক টিকিটের ক্ষেত্রে স্কুলের সময়ের বাইরে গাড়ি চালানোর যুক্তি প্রযোজ্য নয়। হিয়ারিংয়ের আবেদন করা যায় ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের অনলাইন ব্যবস্থা, এনওয়াইসি পে অর ডিসপিউট অ্যাপ, ডাকযোগে অথবা সরাসরি উপস্থিত হয়ে। নোটিশের নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করা জরুরি। হিয়ারিংয়ের জন্য টিকিটের টাকা আগে পরিশোধ করতে হয় না। সরাসরি উপস্থিত হলে টিকিট বাতিলের সম্ভাবনা বাড়ে, এমন দাবিও ডিওএফ সমর্থন করে না। ৩০ দিন পার হওয়ার পর হিয়ারিং চাইলে এবং দায়ী সাব্যস্ত হলে লেট পেনাল্টি দিতে হতে পারে। ডিওটির প্রতিবেদনে মূল ৫০ ডলারের সঙ্গে দেরিতে পরিশোধের জন্য একবার ২৫ ডলার যোগ হওয়ার কথা রয়েছে। তাই হিয়ারিংয়ে হারলেও সব ক্ষেত্রে শুধু ৫০ ডলার দিতে হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। হিয়ারিংয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে চাইলে সিদ্ধান্তের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়। স্পিড ক্যামেরার এই প্রক্রিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্স পরিচালনা করে। পুলিশ অফিসারের দেওয়া স্পিডিং টিকিটের নিয়ম আলাদা, তাই নিজের নোটিশটি কোন ধরনের টিকিট, তা আগে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে, বলিরেখা কমাতে এবং ত্বককে আরও উজ্জ্বল ও মসৃণ করতে রেটিনয়েড ব্যবহার করেন অনেকে। ভিটামিন এ-জাতীয় এই উপাদান ত্বকে কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে এবং বয়সের ছাপ কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে রেটিনয়েড সবার ত্বকে মানায় না। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব ও ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ত্বকের যত্নে বিকল্প উপাদান বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা। ত্বকের বয়সের ছাপ কমানোর জন্য সানস্ক্রিন ও রেটিনয়েডকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সানস্ক্রিন সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, রেটিনয়েড ত্বকের কোষের নবায়ন প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে এবং কোলাজেন ভেঙে যাওয়ার গতি কমাতে সহায়তা করে। কোলাজেন এমন একটি প্রোটিন, যা ত্বকের দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিয়মিত রেটিনয়েড ব্যবহারের পরও সবার ত্বকে একই রকম ফল পাওয়া যায় না। কারও ত্বক সহজেই এর সঙ্গে মানিয়ে নেয়, আবার কারও ক্ষেত্রে সামান্য ব্যবহারেও অস্বস্তি দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন হলে জোর করে পণ্যটি ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ত্বকের ধরন ও প্রতিক্রিয়া বুঝে বিকল্প উপাদান বেছে নেওয়া যেতে পারে। রেটিনয়েড কেন ত্বকের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ রেটিনয়েড বলতে ভিটামিন এ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপাদানকে বোঝায়। এর মধ্যে রয়েছে রেটিনল, রেটিনাল, ট্রেটিনয়েন ও অ্যাডাপালিনের মতো উপাদান। এগুলোর শক্তি, কার্যকারিতা ও ব্যবহারের নিয়ম এক নয়। নিউইয়র্কের বোর্ড-সার্টিফায়েড চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ হাইসেম এলডিকের মতে, রেটিনল ও রেটিনয়েডের বিভিন্ন ধরন ভিটামিন এ-সংশ্লিষ্ট হলেও ত্বকে সক্রিয় রূপে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় তাদের পার্থক্য রয়েছে। সাধারণভাবে, রেটিনাইল এস্টার তুলনামূলক মৃদু। এরপর রয়েছে রেটিনল ও রেটিনাল। এসব উপাদানের অনেক পণ্য চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ট্রেটিনয়েন বা রেটিনয়িক অ্যাসিড সাধারণত ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে পাওয়া যায়। অ্যাডাপালিনও পরিচিত একটি রেটিনয়েড, যা মূলত ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডোনা হার্টের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রেটিনয়েড ত্বকের কোষের নবায়ন বাড়াতে এবং কোলাজেন ও ইলাস্টিন তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি এটি ব্রণ নিয়ন্ত্রণ, ত্বকের কিছু দাগের দৃশ্যমানতা কমানো এবং অসম রং উন্নত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে উপকারের পাশাপাশি এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। ব্যবহারের শুরুতে ত্বকে শুষ্কতা, চুলকানি, টানটান অনুভূতি, খোসা ওঠা ও সূর্যের আলোতে সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্রণ সাময়িকভাবে বেড়েও যেতে পারে। ত্বক নতুন উপাদানের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় এমন পরিস্থিতিকে অনেক ক্ষেত্রে ‘পার্জিং’ বলা হয়। তবে তীব্র জ্বালাপোড়া বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিলে সেটিকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া উচিত নয়। রেটিনয়েড ব্যবহারে অস্বস্তি কমানোর উপায় রেটিনয়েড ব্যবহার করতে চাইলে শুরু থেকেই প্রতিদিন লাগানোর প্রয়োজন নেই। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রথমে সপ্তাহে দুই রাত ব্যবহার করে ত্বকের প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। ত্বক মানিয়ে নিলে ধীরে ধীরে ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ানো যায়। তবে সবার ত্বক একই গতিতে মানিয়ে নেয় না। পুরো মুখের জন্য সাধারণত মটরদানার সমান পরিমাণ পণ্য যথেষ্ট। বেশি পরিমাণ ব্যবহার করলে ফল ভালো হবে, এমন নয়; বরং ত্বকে অস্বস্তি বাড়তে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে ‘স্যান্ডউইচ পদ্ধতি’ কিছুটা সহায়ক হতে পারে। এ পদ্ধতিতে প্রথমে মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগানো হয়। এরপর রেটিনয়েড ব্যবহার করে আবার ময়েশ্চারাইজার দেওয়া হয়। এতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং শুষ্কতা কমাতে সাহায্য মিলতে পারে। অন্যদিকে, ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ‘শর্ট কন্ট্যাক্ট থেরাপি’ বিবেচনা করা যেতে পারে। এ পদ্ধতিতে রাতে রেটিনয়েড ১৫ থেকে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলা হয়। এরপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা হয়। রেটিনয়েড ব্যবহারের শুরুতে স্যালিসিলিক অ্যাসিড, অন্যান্য অ্যাসিড বা এক্সফোলিয়েটিং মাস্কের মতো সক্রিয় উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার না করাই ভালো। একাধিক সক্রিয় উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার করলে ত্বকের জ্বালাপোড়া ও শুষ্কতা বেড়ে যেতে পারে। রেটিনয়েড সাধারণত রাতে ব্যবহার করা হয়। দিনের বেলায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। রেটিনয়েডের বিকল্প হতে পারে যেসব উপাদান অ্যাজেলাইক অ্যাসিড: রেটিনয়েড সহ্য না হলে অ্যাজেলাইক অ্যাসিড একটি বিকল্প হতে পারে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডোনা হার্টের মতে, এই উপাদান ত্বকের প্রদাহ, ব্রণ ও কালচে দাগ কমাতে সহায়তা করে। ব্রণ ও রোসেশিয়ার যত্নে তৈরি অনেক পণ্যেই এটি ব্যবহার করা হয়। পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী দিন বা রাতে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। বাকুচিওল: উদ্ভিদজাত এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের যত্নে রেটিনয়েডের বিকল্প হিসেবে পরিচিত। হার্টের মতে, বাকুচিওল কোলাজেনের কার্যক্রমে সহায়তা করতে, প্রদাহ কমাতে এবং ব্রণের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। ২০১৯ সালে ব্রিটিশ জার্নাল অব ডার্মাটোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, সূক্ষ্ম বলিরেখা কমানো ও ত্বকের রং উন্নত করার ক্ষেত্রে বাকুচিওলের ফল রেটিনলের সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে। গবেষণায় বাকুচিওল ব্যবহারে ত্বকের জ্বালাপোড়া তুলনামূলক কম দেখা যায়। তবে গবেষণাটি ছোট পরিসরে হওয়ায় এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাজেলাইক অ্যাসিড ও বাকুচিওল ত্বকের কিছু সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করলেও এগুলো রেটিনয়েডের সম্পূর্ণ বিকল্প নয়। বিশেষ করে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এর ভাঙন কমানোর ক্ষেত্রে রেটিনয়েডের মতো কার্যকারিতা এসব উপাদানের রয়েছে—এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। কারা বেশি সতর্ক থাকবেন রোসেশিয়া, পেরিওরিফিশিয়াল ডার্মাটাইটিস বা একজিমার মতো ত্বকের সমস্যা থাকলে রেটিনয়েড ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কম শক্তিশালী পণ্য ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার পরও কারও ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে মূল উপাদানের পরিবর্তে পণ্যে থাকা প্রিজারভেটিভ বা অন্য উপাদান ত্বকে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। ত্বকে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে পণ্যটি ব্যবহার বন্ধ করে ত্বককে সুস্থ হওয়ার সময় দিতে হবে। পরে অন্য কোনো ফর্মুলা ব্যবহার করা উপযুক্ত হবে কি না, তা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় রেটিনয়েড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন অনেক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস। এ সময় ত্বকের যত্নে নতুন কোনো সক্রিয় উপাদান ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সবশেষে, ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার জন্য রেটিনয়েডই একমাত্র উপায় নয়। তবে বিকল্প উপাদান বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের ত্বকের ধরন, সংবেদনশীলতা ও বিদ্যমান সমস্যা বিবেচনা করা জরুরি। কোনো উপাদান ব্যবহারে বারবার অস্বস্তি হলে জোর করে তা চালিয়ে না গিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ত্বকের উপযোগী পণ্য বেছে নেওয়াই ভালো।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসা পেতে ‘পাবলিক চার্জ’ বিধান এবং স্পনসরের আর্থিক যোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েও ভিসা না পাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বয়স্ক বাবা-মায়ের আবেদনও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিবারের দাবি, আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কায় ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১২(এ)(৪) ধারায় পাবলিক চার্জের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। এর আওতায় আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করা হতে পারে। তবে কয়েকটি পরিবারের অভিজ্ঞতা সামনে এলেও বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে এ কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে কি না, সে বিষয়ে সামগ্রিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশি আবেদনকারী মিজান সিদ্দিকী জানান, তাঁর বাবার অভিবাসন ভিসার প্রথম সাক্ষাৎকার হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৬ জুন। এরপর দীর্ঘদিন আবেদনটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটকে ছিল। সম্প্রতি তাঁকে আবার সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বার সাক্ষাৎকারের পর পাবলিক চার্জের কারণ দেখিয়ে ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মিজানের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রত্যাখ্যানের নোটিশে বলা হয়েছে, তাঁর বাবা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে কনস্যুলার কর্মকর্তা মনে করেছেন। তবে কোন আর্থিক বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নোটিশে বিস্তারিত উল্লেখ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। সিলেটের ষাটোর্ধ্ব এক বাংলাদেশি নারীর পরিবারের সদস্যরাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ওই নারীর ছেলে মিশিগানে বসবাস করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ছেলের আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে প্রথম সাক্ষাৎকার দিলেও ভিসা পাননি ওই নারী। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা ইস্যু স্থগিত থাকায় তখন আবেদনটির নিষ্পত্তি হয়নি। গত ২২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বার সাক্ষাৎকার দিতে যান তিনি। পরিবারের দাবি, সাক্ষাৎকারের পর কনস্যুলার কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ওই নারী সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তাঁর ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তবে এই পরিবারের অভিজ্ঞতা দিয়ে সব বয়স্ক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। অন্যদিকে, অনলাইনে আবেদনের স্ট্যাটাস ‘রিফিউজড’ দেখালেই যে পাবলিক চার্জের কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যান হয়েছে, তা নয়। জয়া সরকার নামে এক বাংলাদেশি জানিয়েছেন, তাঁর বাবার অভিবাসন ভিসার সাক্ষাৎকার হয়েছিল ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। সাক্ষাৎকারের পর আবেদনটি ২২১(জি) ধারায় রাখা হয়। পরে ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। জয়ার দাবি, ২১ জানুয়ারি থেকে ভিসা ইস্যু স্থগিত হওয়ার পর দূতাবাস পাসপোর্ট ফেরত দেয় এবং ফোন করে স্থগিত থাকার বিষয়টি জানায়। সর্বশেষ ৪ অক্টোবর তাঁর বাবার আবেদনের স্ট্যাটাস হালনাগাদ হলেও কনস্যুলার ইলেকট্রনিক অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে ‘রিফিউজড’ দেখাচ্ছে। তবে ২২১(জি) ধারায় কোনো আবেদন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় রাখা হলে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ বা যাচাইয়ের জন্য সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে অনলাইন স্ট্যাটাসকে চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যানের প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এ ছাড়া বাংলাদেশিসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার যে ব্যবস্থা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছিল, আদালতের আদেশের পর ২১ আগস্ট তা আর কার্যকর নেই বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। ফলে জয়ার বাবার বর্তমান স্ট্যাটাসের কারণ জানতে দূতাবাসের লিখিত নির্দেশনা ও আবেদনের নির্দিষ্ট ধারা যাচাই করা জরুরি। যৌথ স্পনসর খুঁজতেও বিপাকে পরিবার পাবলিক চার্জের আশঙ্কার পাশাপাশি স্পনসরের আয় ও আর্থিক সক্ষমতার শর্ত পূরণ করতে গিয়েও সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। নিউইয়র্কে বসবাসরত এক বাংলাদেশি-আমেরিকান জানিয়েছেন, তিনি তাঁর বোন, বোনের স্বামী ও তাঁদের সন্তানদের জন্য আবেদন করেছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চলতি অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে চার সদস্যের পরিবারের সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের স্পনসর করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক যোগ্যতা তাঁর একার নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। ওই ব্যক্তি জানান, যৌথ স্পনসরের সহায়তা পেতে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কাউকে রাজি করাতে পারেননি। অনেকে সহায়তা করতে আগ্রহী হলেও আর্থিক দায় এবং যাচাইপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের কারণে পিছিয়ে যাচ্ছেন। সাক্ষাৎকারের সময় ঘনিয়ে আসায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে পরিবারটি। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার ক্ষেত্রে সাধারণত স্পনসরের বার্ষিক আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হয়। তবে সামরিক বাহিনীতে কর্মরত যোগ্য স্পনসর নিজের স্ত্রী বা সন্তানকে স্পনসর করার ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন সীমার সুবিধা পেতে পারেন। আয়সংক্রান্ত এই শর্ত নতুন নয়; পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও প্রযোজ্য নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণ নির্ধারিত হয়। ২০২৬ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ৪৮টি স্টেট ও ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই সদস্যের স্পনসর পরিবারের জন্য সাধারণ ন্যূনতম বার্ষিক আয় ২৭ হাজার ৫০ ডলার। তিন সদস্যের ক্ষেত্রে তা ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার এবং চার সদস্যের ক্ষেত্রে ৪১ হাজার ২৫০ ডলার। পাঁচ সদস্যের জন্য প্রয়োজন ৪৮ হাজার ৩৫০ ডলার, ছয় সদস্যের জন্য ৫৫ হাজার ৪৫০ ডলার, সাত সদস্যের জন্য ৬২ হাজার ৫৫০ ডলার এবং আট সদস্যের জন্য ৬৯ হাজার ৬৫০ ডলার। আটজনের বেশি হলে অতিরিক্ত প্রত্যেক সদস্যের জন্য আরও ৭ হাজার ১০০ ডলার যোগ হয়। আলাস্কা ও হাওয়াইয়ে আলাদা সীমা প্রযোজ্য। এখানে পরিবারের সদস্যসংখ্যা বলতে শুধু বিদেশ থেকে আসতে যাওয়া ব্যক্তিদের বোঝায় না। স্পনসর নিজে, তাঁর স্বামী বা স্ত্রী, নির্ভরশীল সদস্য এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আগে স্পনসর করা ব্যক্তিদেরও হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়। ফলে চারজন আত্মীয়কে স্পনসর করার জন্য প্রয়োজনীয় আয় নির্ধারণ করতে শুধু তাঁদের সংখ্যা বিবেচনা করলেই হবে না। আয় পর্যাপ্ত না হলে কিছু ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য সম্পদের প্রমাণ দেওয়া, যোগ্য পরিবারের সদস্যের আয় যুক্ত করা কিংবা যৌথ স্পনসরের সহায়তা নেওয়া যায়। পরিবারের সদস্যের আয় যুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে আই-৮৬৪এ ফরম প্রয়োজন হতে পারে। যৌথ স্পনসরকে তাঁর নিজের পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং যাঁদের স্পনসর করছেন, তাঁদের বিবেচনায় নির্ধারিত আর্থিক শর্ত পূরণ করতে হয়। যৌথ স্পনসর থাকলেও মূল আবেদনকারীর স্পনসরকে সাধারণত নিজস্ব আই-৮৬৪ ফরম জমা দিতে হয়। স্পনসরশিপ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর নয়। আই-৮৬৪ ফরমের মাধ্যমে স্পনসর আইনগতভাবে আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকার করেন। সাধারণভাবে স্পনসর করা ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া অথবা সামাজিক নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৪০টি যোগ্য কর্মকাল অর্জন করা পর্যন্ত এই দায় বহাল থাকতে পারে। নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধার ব্যয় ফেরত দেওয়ার দাবিও স্পনসরের বিরুদ্ধে উঠতে পারে। তাই যৌথ স্পনসর হওয়ার আগে অনেকেই সম্ভাব্য দায় নিয়ে সতর্ক থাকেন। পাবলিক চার্জ বিধিতে পরিবর্তন, তবে সব আবেদন এক নয় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ বিধিমালা বাতিল করে নতুন বিধান কার্যকর করেছে ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে। নতুন বিধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন এবং দেশটির ভেতরে থেকে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার জন্য স্ট্যাটাস সমন্বয়ের নির্দিষ্ট আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিদেশে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অভিবাসন ভিসার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র দপ্তরের বিধান ও নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাংলাদেশে আলোচিত প্রত্যাখ্যানগুলোর সঙ্গে নতুন বিধানের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই। একইভাবে বয়স বেশি হলেই ভিসা প্রত্যাখ্যান হবে, এমন কোনো স্বয়ংক্রিয় নিয়মও নেই। আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, শিক্ষা, দক্ষতা, সম্পদ এবং স্পনসরের আর্থিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। গত ৫ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নির্বাচিত কিছু অভিবাসন ভিসা আবেদনে পাবলিক চার্জ বন্ডের পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এটি সব আবেদনকারীর জন্য উন্মুক্ত নয়। সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তা কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য কি না, তা জানাতে পারেন। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ এবং বন্ড অনুমোদিত হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আগে পাবলিক চার্জের কারণে প্রত্যাখ্যাত ভিসা ইস্যুর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে অতিরিক্ত নথি বা বন্ড জমা দিলেই ভিসা নিশ্চিত—এমন নয়। সব মিলিয়ে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষার পর সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাওয়া মানেই ভিসা অনুমোদন নয়। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, স্পনসরের আয়, পরিবারের সঠিক সদস্যসংখ্যা এবং আর্থিক সহায়তার প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বয়স্ক বাবা-মাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে ইচ্ছুক পরিবার এবং যৌথ স্পনসরের ওপর নির্ভরশীল আবেদনকারীদের জন্য এই অনিশ্চয়তা পারিবারিক পুনর্মিলনের অপেক্ষাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর না করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ না দেওয়াকে ‘অপরিণত’ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারেক রহমানের বাবা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভারত সফরের প্রসঙ্গ টেনে হাসিনা প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন বলেই কেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে বাধা তৈরি হবে। বুধবার, ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া কিংবা স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক হিসাবের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। বরং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। হাসিনার বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেননি তারেক রহমান। এরপর ১৩ অক্টোবর ভারতের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেননি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তাঁর পরিবর্তে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়। দুই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বাবার ভারত সফরের উদাহরণ টানলেন হাসিনা সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ১৯৭৯ সালের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বছর জিয়াউর রহমান ভারত সফর করেছিলেন, তখন হাসিনা নিজেও দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। ১৯৭৫ সালের আগস্টে শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য হ ত্যা কাণ্ডের পর তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হাসিনা বলেন, ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান যখন লন্ডন সফর করেন, তখনও তিনি সেই শহরে ছিলেন। কিন্তু তাঁর উপস্থিতি জিয়াউর রহমানের সফরে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। এ প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, তাহলে আজ তাঁর দিল্লিতে অবস্থান তারেক রহমানের ভারত সফরে বাধা হবে কেন? হাসিনার বক্তব্য, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক নির্ধারণ করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারিয়েছে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর এই জোটের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক যোগাযোগকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বার্তা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া দরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা করা। কেন ব্রিকস সম্মেলনে যাননি তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় সম্মেলনের আগেই। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে তারেক রহমানকে সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। বিমসটেক হলো বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক সাত দেশের একটি আঞ্চলিক জোট, যার সদস্য বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে আমন্ত্রণের ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। বাংলাদেশের বক্তব্য ছিল, তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি আমন্ত্রণ জানানো হয়নি; আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বিমসটেকের সভাপতিকে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর হলে সেটি দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত এবং সফরের সময়ও অনুকূল পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। অন্যদিকে ভারতের বক্তব্য ছিল, তারেক রহমানকে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও জানানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্রিকস সম্মেলনে কোনো সরকারি প্রতিনিধিদল পাঠায়নি। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে হাসিনা বলেন, সম্মেলনে অংশ না নেওয়ায় বাংলাদেশ সম্ভাব্য সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি সুযোগ হারিয়েছে। বিমসটেক বৈঠকেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতি ব্রিকস সম্মেলনের প্রায় এক মাস পর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। ১৩ অক্টোবরের ওই বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যোগ দেননি। তাঁর পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, আন্তসীমান্ত অপরাধ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, মানবপাচার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের এটাই ছিল প্রথম পর্যায়ের বৈঠক। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতির পেছনে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল পাঠানোয় দেশটির অংশগ্রহণ পুরোপুরি বন্ধ ছিল না। হাসিনার অবস্থান নিয়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে চলে যান। এরপর থেকে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার তাঁর প্রত্যর্পণ চেয়েছে। অন্যদিকে হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক কার্যক্রমকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অনুপস্থিতিতে হাসিনাকে মৃ ত্যুদণ্ড দেন। এ রায় এবং তাঁর ভারতে অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কের জটিলতার অন্যতম বিষয় হয়ে রয়েছে। গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেওয়া হাসিনার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওই ঘটনার কারণে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারত অবশ্য জানিয়েছে, ওই বক্তব্যের আয়োজন বা হাসিনার মন্তব্যের প্রতি সমর্থনের সঙ্গে দেশটির সরকার যুক্ত ছিল না। এদিকে হাসিনা তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে যুক্তি দিয়েছেন, তাঁর নির্বাসনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আটকে রাখা উচিত নয়। তাঁর মতে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিরোধের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ব্রিকস সম্মেলন ও বিমসটেক বৈঠকে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি এবং হাসিনার নতুন সমালোচনা—দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আবারও সামনে এনেছে। তবে ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এবং হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে কীভাবে সমাধানের পথ তৈরি হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাড়ি থেকে কাজের সুবিধা নিয়ে একসঙ্গে পাঁচটি ফুলটাইম চাকরির তথ্য গোপনের অভিযোগে লন্ডনের সাউদার্ক ক্রাউন কোর্টে বিচার চলছে কাশিম চৌধুরীর। পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলের ৫৫ বছর বয়সী এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে প্রতারণার নয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিচার শুরুর সময় রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিবরণ তুলে ধরে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে কাশিম মোট ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৮ পাউন্ড পেয়েছেন বলে আদালতে জানানো হয়। দ্য টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক চাকরি একই সময়ে চলমান থাকার সময় তাঁর পাওয়া বেতনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৩ পাউন্ড। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, একপর্যায়ে পাঁচটি চাকরির চুক্তিতে তাঁর সাপ্তাহিক কাজের সময় দাঁড়ায় ১৮৩ ঘণ্টা। অথচ সাত দিনে মোট সময় থাকে ১৬৮ ঘণ্টা। চাকরির আবেদন করার সময় অন্য কর্মসংস্থানের তথ্য গোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লুসি অর্গান। আদালতে জানানো হয়, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে এবং ২০২১ সালের এপ্রিলে ডেফরায় যোগ দেন কাশিম। এক বছরের বেশি সময় দুটি চাকরি একসঙ্গে করার পাশাপাশি ২০২২ সালে চার মাস ইস্ট লন্ডন এনএইচএস ট্রাস্টেও কাজ করেন বলে অভিযোগ। কাউন্সিলের চাকরি ছাড়ার পর ডেফরায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আরও পাঁচটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। এগুলো হলো ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার, ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি, ডিপার্টমেন্ট ফর বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড, ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি ও হোম অফিস। রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার জন্য বাড়ি থেকে কাজ করতে হবে বলে নিয়োগদাতাদের জানিয়েছিলেন কাশিম। পরে কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে অসুস্থতাজনিত ছুটি নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ চালিয়ে যান বলে অভিযোগ। ২০২৩ সালের মে মাসে তিনি পাঁচটি ফুলটাইম চাকরি থেকে বেতন পাচ্ছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়। ওই মাসে ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির ম্যানেজার আলিশা অ্যাডামস তাঁর ছুটি নিয়ে ভিডিও মিটিং করেন। রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য, নিজেকে অসুস্থ দেখাতে কাশিম মুখে সাদা মেকআপ ব্যবহার করেছিলেন। মুখ ও ঘাড়ের রঙে অমিল এবং কপালের মেকআপ সরে যাওয়ার বিষয়টি ম্যানেজারের নজরে আসে বলে আদালতে জানানো হয়। একই মিটিংয়ে ডেফরার ইমেইল দিয়ে লগইন করেছিলেন কাশিম। সেটি পুরোনো ঠিকানা হতে পারে বলে তিনি ব্যাখ্যা দিলেও রাষ্ট্রপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ন্যাশনাল ফ্রড ইনিশিয়েটিভ ডেফরাকে সতর্ক করার পর অভিযোগগুলো সামনে আসে। রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাশিমের তিনটি ব্যাংক হিসাবে ৩ লাখ পাউন্ডের বেশি জমা এবং প্রায় আড়াই লাখ পাউন্ড ডেবিট লেনদেন হয়েছে। মামলার বিচার অব্যাহত রয়েছে।
জার্মানির কোলন শহরে রোবট ব্যবহার করে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌ ন হয় রা নির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রোবটটির ১৬ বছর বয়সী মালিক ও তাঁর ১৯ বছর বয়সী সঙ্গী ঘটনাটি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আলামত হিসেবে রোবট ও সন্দেহভাজনদের দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। কোলন পুলিশের ১২ অক্টোবরের বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে মধ্যরাতের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় কিশোরী তাঁর দুই বান্ধবীর সঙ্গে শহরের একটি ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁর বাইরে ছিলেন। প্রায় ১ দশমিক ২০ মিটার উঁচু রোবটটি পেছন থেকে এগিয়ে এসে তাঁকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করে এবং যৌ ন ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি করে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের কাছাকাছি সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। পরে একটি ফক্সওয়াগন গাড়ির ট্রাংক থেকে লাল ও সোনালি রঙের রোবটটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, রোবটের মালিক সেটি গাড়িতে রেখেছিলেন। তদন্তের মূল বিষয় হলো, ঘটনার সময় রোবটটি কীভাবে কাজ করছিল এবং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তার নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করছিলেন কি না। আগে থেকে প্রোগ্রাম করা নির্দেশনা নাকি তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণে এসব আচরণ ঘটেছে, তা পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। কোলন পুলিশের মুখপাত্র ক্রিস্টফ বেরমেল অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, দুইজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। এমন ঘটনা তদন্তের অভিজ্ঞতা তাঁদের আগে ছিল না বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুপযুক্ত মন্তব্যেরও সমালোচনা করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা তা নিয়ে ঠাট্টা করা ভুক্তভোগীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়াতে পারে।