- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট বিচারক ও জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর নরওয়ের নোবেল কমিটি বিজয়ী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা আবারও পূরণ হলো না। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্য অধিকারকর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াই থেকে শুরু করে সমসাময়িক বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিচারিক কার্যক্রমে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন—পিল্লাইয়ের কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতা রয়েছে। পুরস্কার ঘোষণার ব্যাখ্যায় কমিটি বলেছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইনের ব্যবস্থা প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে এবং এর প্রতিষ্ঠানগুলোও আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আইন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরতেই পিল্লাইকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কমিটির বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামোর পরিবর্তে ক্ষমতার রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শক্তি যখন ন্যায়ের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তখন স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের অহিংস সমাধানের ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেছে কমিটি। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পিল্লাইয়ের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানবাধিকার সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। নোবেল কমিটির মতে, পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনে একটি বিষয় বারবার ফিরে এসেছে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং আইনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এই পুরস্কারের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আইন ও মানবাধিকার রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শক্তিশালী করার বার্তা দিতে চায় কমিটি। নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ভাটনে ফ্রিডনেস বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও এর প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনের ভিত্তি। এই পুরস্কারের মাধ্যমে পিল্লাই এবং তাঁর মতো আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার প্রচেষ্টা ঘিরে আলোচনা ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার আগে ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় ছিল। তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজের কূটনৈতিক ভূমিকা ও সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাকে পুরস্কারের যোগ্য বলে তুলে ধরেছেন। নোবেল কমিটির ওপরও তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের পরিবর্তে পিল্লাইকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যেই পাকিস্তান আবারও ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার কথা জানায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। শরিফের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর ট্রাম্পের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ দুই দেশকে সংঘাতের কিনারা থেকে ফিরিয়ে আনতে এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিল। তাঁর দাবি, সেই যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে এটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য; নোবেল কমিটির পুরস্কার ঘোষণার কারণ হিসেবে এই দাবিকে উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রকর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশটিতে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি প্রতীকীভাবে নিজের পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পরিবর্তন করা যায় না। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে ন্যায়বিচারের বার্তা এবারের পুরস্কার এমন এক সময়ে দেওয়া হলো, যখন বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত, যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং ইউরোপে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা চলছে। এদিকে সুদানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অর্থায়ন কমে যাওয়ার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটিভিত্তিক সহায়তা নেটওয়ার্কগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব উদ্যোগও এবারের পুরস্কারের সম্ভাব্য দাবিদারদের আলোচনায় ছিল। নোবেল শান্তি পুরস্কার চলতি সপ্তাহে ঘোষিত পঞ্চম পুরস্কার। এর আগে সাহিত্য, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পিল্লাইয়ের এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
ষাট বছর আগের তুলনায় বর্তমানে শাকসবজি, ফলমূল ও বিভিন্ন শস্যে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গম, আপেল ও গাজরের মতো পরিচিত খাবারে কয়েকটি প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের পরিমাণ ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ফলে আগের মতো সমপরিমাণ পুষ্টি পেতে এখন কিছু ক্ষেত্রে দ্বিগুণ পরিমাণ ফলমূল ও শাকসবজি খেতে হতে পারে। এর পেছনে মাটির গুণমানের অবনতি এবং অধিক ফলন নিশ্চিত করতে কৃষিকাজে দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করা পদ্ধতিকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিপ সায়েন্স ভেঞ্চারসের (ডিএসভি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘হলো হারভেস্টস: রিবিল্ডিং দ্য নিউট্রিশনাল ভ্যালু অব ক্রপস ইন অ্যান এজ অব অ্যাবান্ড্যান্ট ক্যালোরিজ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ফসলের পুষ্টিমান কমে যাওয়ার কারণ, এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত প্রভাব এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার উপায় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শস্য, রুটি, গাজর, আপেল ও মটরশুঁটির মতো খাবারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, তামা, দস্তা ও সেলেনিয়ামের মতো খনিজ উপাদানের পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে কৃষির প্রধান লক্ষ্য ছিল প্রতি হেক্টর জমিতে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো। নতুন জাত উদ্ভাবন, উন্নত কৃষিপদ্ধতি এবং অধিক ফলনশীল ফসল চাষের ফলে খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে ফসলের ভেতরে থাকা পুষ্টি উপাদানের দিকে তুলনামূলকভাবে কম নজর দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিএসভির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০-এর দশকের তুলনায় প্রতি হেক্টর জমিতে শস্য উৎপাদন ২১৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে উন্নয়নশীল বিশ্বে অপুষ্টির হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ১২ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া গেলেই যে শরীর প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি পাবে, তা নিশ্চিত হচ্ছে না। গবেষকদের হিসাবে, বিশ্বে এখনো ২০০ কোটির বেশি মানুষ অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন বা খনিজ উপাদানের ঘাটতিতে ভুগছেন। একে অনেক সময় ‘লুকানো ক্ষুধা’ বলা হয়। এ ক্ষেত্রে মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার খাচ্ছেন, এমনটা সব সময় নয়। বরং পর্যাপ্ত ক্যালরি গ্রহণের পরও খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব থাকতে পারে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও এ সমস্যা দেখা যায়। এসব দেশে অনেকের খাদ্যাভ্যাসে ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকলেও সেলেনিয়াম ও ফোলেটের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। ফলে বাইরে থেকে খাবারের পরিমাণ যথেষ্ট মনে হলেও শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থেকে যেতে পারে। সেলেনিয়ামের উদাহরণ দিয়ে প্রতিবেদনে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পূর্ণশস্য ও ব্রাজিল নাটে সেলেনিয়াম পাওয়া যায়। তবে গমের পুষ্টিঘনত্ব কমে যাওয়ার কারণে এখন নারীদের দৈনিক সুপারিশকৃত সেলেনিয়ামের চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পূরণ করতে চার টুকরা পূর্ণগমের রুটি খেতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে, ১৯৬০-এর দশকের পর বাজারে আসা রুটির জন্য ব্যবহৃত গমের জাতগুলোর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও কম জাত সুপারিশকৃত দস্তার মাত্রা পূরণ করতে পারে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। দস্তার ঘাটতি হলে ত্বক, চুল ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, সেলেনিয়ামের অভাব রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করতে পারে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ফসলের পুষ্টিমান কমে যাওয়ার সঙ্গে মাটির স্বাস্থ্যের সম্পর্কও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। মাটিতে প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের প্রাপ্যতা কমে গেলে গাছের পক্ষে সেগুলো শোষণ করে খাদ্যশস্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে জমা করা কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ ফলন নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত প্রজনন ও কৃষিপদ্ধতি ফসলের আকার ও উৎপাদন বাড়ালেও পুষ্টির ঘনত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধের জনপ্রিয়তা। ওজেম্পিক ও মাউঞ্জারোর মতো ওষুধ ক্ষুধা কমাতে এবং খাবার গ্রহণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ফলে এসব ওষুধ ব্যবহারকারীরা আগের তুলনায় কম খাবার খেলে প্রতিবার খাবার থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফসলের পুষ্টিমান কমতে থাকার প্রবণতা এবং ওজন কমানোর ওষুধের ব্যবহার বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবে যুক্তরাজ্যের কর্মক্ষম বয়সী প্রায় ৫০ লাখ মানুষ প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের নিরাপদ মাত্রার নিচে চলে যেতে পারেন। এটি একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির হিসাব; বর্তমানে ওই সংখ্যক মানুষ পুষ্টির ঘাটতিতে আক্রান্ত হয়েছেন, এমন দাবি নয়। ডিএসভির জলবায়ুবিষয়ক জ্যেষ্ঠ সহযোগী উইল সামার্স বলেন, গত ৬০ বছর ধরে খাদ্যনিরাপত্তা মূল্যায়নে মূলত ক্যালরির পরিমাণ এবং প্রতি হেক্টরে উৎপাদিত ফসলের হিসাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এলেও খাবারের ভেতরে থাকা পুষ্টি উপাদানের মান ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। তিনি আরও বলেন, ওজন কমানোর ওষুধের কারণে মানুষ যখন কম খাবেন, তখন প্রতিবার খাবার থেকে কতটা পুষ্টি পাওয়া যাচ্ছে, তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলার উপায়ও রয়েছে। উন্নত ফসলের জাত উদ্ভাবন, মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার, বাজারব্যবস্থায় পুষ্টিমানকে গুরুত্ব দেওয়া এবং কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যাটি সমাধানের সুযোগ আছে বলে তিনি মনে করেন। প্রতিবেদনে ফসলের উৎপাদনের পরিমাণের পাশাপাশি পুষ্টিমান পরিমাপ ও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কৃষক, খাদ্যশিল্প ও নীতিনির্ধারকেরা যদি পুষ্টিঘনত্ব বাড়ানোর বিষয়টিকে উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে বিদ্যমান পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব হতে পারে। গবেষকদের মতে, ফসলের পুষ্টিঘনত্ব ৩০ শতাংশের বেশি বাড়ানো গেলে ওজন কমানোর ওষুধের কারণে খাবার গ্রহণ কমে যাওয়ার প্রভাব সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে। এতে যুক্তরাজ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের বিদ্যমান ঘাটতির হারও প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সব ফলমূল ও শাকসবজির পুষ্টিমান একই হারে কমেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। গবেষণাটির মূল বক্তব্য হলো, কয়েক দশক ধরে অনেক ফসলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান কমেছে। তাই খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খাবারের প্রকৃত পুষ্টিমান নিশ্চিত করাও এখন কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রেমিক সম্পর্ক শেষ করতে চাওয়ায় তাঁকে কামড়ে ও আঁচড়ে আহত করার অভিযোগে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) হায়ালিয়া শহরে নিজ বাসায় প্রেমিকের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রেপ্তার পুলিশ কর্মকর্তার নাম মার্সিয়া স্যাংগ্রোনিস। ৩৮ বছর বয়সী এই নারী নর্থ বে ভিলেজ পুলিশ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর তাঁকে বেতনসহ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লোকাল টেনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে ওই নারীর প্রেমিক রাস্তায় পুলিশ সদস্যদের থামিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন। তিনি জানান, সম্পর্ক শেষ করার কথা বলার পর স্যাংগ্রোনিস ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে বের হতে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নখ দিয়ে আঁচড় দেন এবং হাতে একাধিকবার কামড় দেন। পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতটি প্রেমিক স্যাংগ্রোনিসের বাড়িতেই কাটিয়েছিলেন। রাতে তাঁদের মধ্যে পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। পরদিন সকালেও একই বিষয় নিয়ে কথা ওঠে। প্রেমিকের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে চাকরি করার বিষয়ে তাঁর আগ্রহ না থাকা নিয়ে আলোচনা হলেই স্যাংগ্রোনিস রেগে যেতেন এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করতেন। মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে ওই ব্যক্তি বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে স্যাংগ্রোনিসকে জানান, তিনি আর সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চান না। অভিযোগ অনুযায়ী, এ কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নারী পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে প্রেমিকের বের হওয়ার পথ আটকে দেন এবং তাঁকে বাড়ি ছাড়তে নিষেধ করেন। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, প্রেমিক দরজার হাতল ধরার চেষ্টা করলে স্যাংগ্রোনিস তাঁর ওপর শারীরিক আক্রমণ শুরু করেন বলে অভিযোগ। প্রথমে নখ দিয়ে তাঁর হাত, মুখ ও পিঠে আঁচড় দেন। এরপর বাঁ হাতের নিচের অংশে একাধিকবার কামড় দেন। ওই ব্যক্তি পুলিশের কাছে দাবি করেন, কামড়ের কারণে তাঁর চামড়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি সিক্স সাউথ ফ্লোরিডার তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ ওই ব্যক্তির শরীর, হাত ও মুখে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। বিশেষ করে বাঁ হাতে কামড়ের ক্ষত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব আঘাতের বিষয়টি তদন্তকারীরা নথিভুক্ত করেন। অভিযোগকারী জানান, একপর্যায়ে তিনি স্যাংগ্রোনিসের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বাড়ি থেকে বের হতে সক্ষম হন। এরপর রাস্তায় পুলিশ সদস্যদের দেখতে পেয়ে তাঁদের কাছে সাহায্য চান। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে হায়ালিয়া পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে এবং পরে স্যাংগ্রোনিসকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের কাছে ওই ব্যক্তি আরও দাবি করেন, প্রায় দুই বছর ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সময়ে স্যাংগ্রোনিস একাধিকবার তাঁর সঙ্গে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনমূলক আচরণ করেছেন। তবে অতীতের এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। গ্রেপ্তারের পর স্যাংগ্রোনিসও পুলিশের কাছে নিজের বক্তব্য দেন। তবে গ্রেপ্তারসংক্রান্ত নথিতে তাঁর বক্তব্যের অংশটি গোপন রাখা হয়েছে। ফলে বাড়ির ভেতরে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তাঁর নিজের ব্যাখ্যা প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়নি। এ কারণে অভিযোগকারীর বক্তব্যই এখন পর্যন্ত ঘটনার প্রধান বিবরণ হিসেবে সামনে এসেছে। প্রাথমিকভাবে স্যাংগ্রোনিসের বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক আঘাতের অভিযোগে মামলা করা হয়। এটি ফ্লোরিডার আইনে দ্বিতীয় মাত্রার গুরুতর অপরাধ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছিল। তবে বুধবার আদালতে হাজির করার পর বিচারক অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর শারীরিক আক্রমণের অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেছে বলে সিদ্ধান্ত দেন। আদালত স্যাংগ্রোনিসের জন্য এক হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণ করেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তের অর্থ অবশ্য অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। মায়ামি-ডেড কাউন্টির সংশোধনাগারের নথিতে এখনো প্রাথমিক গুরুতর আঘাতের অভিযোগটি প্রদর্শিত হচ্ছে। সেখানে ঘটনাটিকে পারিবারিক সহিংসতাসংক্রান্ত মামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত বিকল্প অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিক ভিত্তি পেয়েছেন এবং এক হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণ করেছেন বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর স্যাংগ্রোনিসকে টার্নার গিলফোর্ড নাইট কারেকশনাল সেন্টারে রাখা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে জানানো হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি বন্ডে মুক্তি পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, স্যাংগ্রোনিস ২০২৫ সালে নর্থ বে ভিলেজ পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। গ্রেপ্তারের পর বিভাগটি তাঁকে বেতনসহ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। ফলে মামলার তদন্ত চলাকালে তিনি নিয়মিত পুলিশি দায়িত্ব পালন করবেন না। নর্থ বে ভিলেজ পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, কর্মরত অবস্থায় কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে কর্মকর্তাদের আচরণের জন্য তাঁদের জবাবদিহির আওতায় রাখা হয়। বিভাগটির এই অবস্থানের মধ্যেই স্যাংগ্রোনিসকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে হায়ালিয়া পুলিশ ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। অভিযোগকারী ব্যক্তির শরীরে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন, তাঁর বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে স্যাংগ্রোনিসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই ঘটনা এখন ফ্লোরিডায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার মামলায় পরিণত হয়েছে। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি।
উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে প্রায় তিন দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন বাংলাদেশি প্রবাসী কাজী আজিজুল হক খোকন। দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে বসবাস করেও গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হয়নি তাঁর। শেষ পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার আগেই মৃত্যু হলো এই প্রবাসীর। নিউইয়র্কে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়। এখন তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। কাজী আজিজুল হক খোকন যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি নিউইয়র্কের কুইন্সের কিউ গার্ডেনস এলাকায় একাই বসবাস করতেন। জ্যাকসন হাইটসের একটি দোকানে কাজ করতেন তিনি। তাঁর দেশের বাড়ি বাংলাদেশের মাগুরা জেলায়। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুবাদে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন খোকন। স্থানীয় সময় শনিবার থেকে খোকনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পরিচিতজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কর্মস্থল ও বাসায়ও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। কয়েক দিন ধরে খোঁজ নেওয়ার পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়। এই খবরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটি ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান খোকনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন খোকন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। নিখোঁজ হওয়ার দিনই খোকনের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানান তিনি। পরে নিউইয়র্ক সিটির একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর পরপরই খোকনের পরিচয় ও স্বজনদের তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে তাঁর মরদেহ নিউইয়র্ক সিটির চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পাঠানো হয়। পরিচিতজনদের তথ্য অনুযায়ী, ব্রুকলিনের ৯৯ উইনথ্রপ স্ট্রিটে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে মরদেহ রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন একই শহরে বসবাস করার পরও মৃত্যুর পর তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। খোকন জ্যাকসন হাইটসের খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্টুরেন্টসংলগ্ন অবকাশ স্টোরে কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ওই এলাকায় কাজ করার সুবাদে স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক কর্মী ও কমিউনিটির অনেকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিতেন তিনি। খোকনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেন পরিচিতজনেরা। কমিউনিটি নেতা মহিউদ্দিন দেওয়ানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ ব্রুকলিনের একটি ফিউনারেল হোমে স্থানান্তরের কথা ছিল। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে খোকনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মেডিকেল পরীক্ষা ও তদন্তের ফলাফল প্রকাশের আগে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাঁর মৃত্যুতে কোনো অপরাধমূলক ঘটনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রায় ৩০ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও খোকনের গ্রিন কার্ড হয়নি বলে পরিচিতজনদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি না পাওয়া তাঁর অন্যতম আক্ষেপ ছিল। তবে কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে আবেদন করেছিলেন কিংবা তাঁর আবেদন কোন পর্যায়ে ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত নথি প্রকাশিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন বসবাস করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য আইনি শর্ত পূরণ করতে হয়। খোকনের ক্ষেত্রে কেন এত বছরেও গ্রিন কার্ড হয়নি, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। একইভাবে গ্রিন কার্ড না থাকার কারণেই তিনি দেশে ফিরতে পারেননি, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্যও পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে নিউইয়র্কেই কাজ করেছেন খোকন। বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকেছেন এবং রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। কিন্তু তিন দশকের প্রবাসজীবন শেষে তাঁর স্থায়ী বসবাসের প্রত্যাশা অপূর্ণ থেকে যায়। পরিচিতজনদের কাছে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবর তাই গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন খোকনের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা জানাজার আনুষ্ঠানিক সূচি নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রায় তিন দশক যুক্তরাষ্ট্রে কাটানোর পর যে মানুষটির জীবিত অবস্থায় দেশে ফেরার স্বপ্ন ছিল, শেষ পর্যন্ত তাঁর ফেরার আয়োজন চলছে কফিনবন্দি হয়ে।
ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক চালুর অনুমোদন নিয়ে দেশটির প্রভাবশালী শিল্পপতি আম্বানি পরিবারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর পথে বাধা সৃষ্টি করছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের প্রকৃত ক্ষমতা আম্বানির হাতে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে ভারত সরকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবার অনুমোদন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডট ইন, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ভারতে স্টারলিংক চালুর চেষ্টা করছে মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। প্রাথমিক অনুমোদন পেলেও নিরাপত্তাসংক্রান্ত চূড়ান্ত ছাড়পত্র ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের কয়েকজন ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় স্টারলিংকের কার্যক্রম আটকে দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, এর ফলে বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পরদিন আরেকটি পোস্টে সরাসরি আম্বানি পরিবারের প্রসঙ্গ তোলেন মাস্ক। তিনি জানান, স্টারলিংক বিশ্বের ১৬৫টির বেশি দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং গত পাঁচ বছর ধরে ভারতের সব আইন ও শর্ত পূরণের চেষ্টা করছে। তা সত্ত্বেও চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় তিনি প্রশ্ন করেন, ভারতের আসল ক্ষমতা কি আম্বানির হাতে? অন্য এক ব্যবহারকারীর পোস্টের জবাবে এই মন্তব্য করেন মাস্ক। তবে আম্বানি পরিবারের কোন সদস্যকে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি। ভারতের টেলিকম খাতে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স জিও এবং ভারতী এয়ারটেলের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারেও প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবসায়িক আগ্রহ রয়েছে। রিলায়েন্সের জিও স্পেস টেকনোলজি স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবা নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে সুনীল মিত্তালের ভারতী এয়ারটেল গ্রুপের বিনিয়োগ রয়েছে ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবে। ফলে স্টারলিংক ভারতে কার্যক্রম শুরু করলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। তবে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি অনুমোদন আটকে দিয়েছে, এমন কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করেননি মাস্ক। মাস্কের মন্তব্যের পর ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবার অনুমোদনের জন্য অভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামো রয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরুর আগে সবাইকে নির্ধারিত নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হবে। বিতর্কে যুক্ত হন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও। মাস্কের পোস্টের জবাবে তাঁকে ভারতে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেন, আরেকজনের কথা জানতে পারলে তিনি আরও অবাক হবেন। তবে ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি রাহুল। জবাবে মাস্ক তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। এদিকে স্টারলিংকের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তাসংক্রান্ত কিছু শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ব্যবহারকারীর তথ্য, যোগাযোগব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এবং অনুমোদনহীন যন্ত্রপাতি ব্যবহার ঠেকানোর বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে চায়। বিদেশ থেকে কেনা স্টারলিংক যন্ত্র ভারতে ব্যবহার এবং ভারত থেকে বিদেশে নেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণের শর্ত রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে স্টারলিংকের নামসংবলিত একটি যন্ত্র উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়। তবে মাস্ক দাবি করেন, ভারতের ওপর স্টারলিংকের স্যাটেলাইট সংকেত বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সেখানে প্রতিষ্ঠানটির সেবা ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তাঁর বক্তব্য। স্পেসএক্সের নির্বাহী কর্মকর্তা লরেন ড্রেয়ার জানিয়েছেন, ভারতে ইতোমধ্যে ২০টি গেটওয়ে স্টেশন স্থাপন করেছে স্টারলিংক। এসব স্থাপনার সঙ্গে শত শত অ্যান্টেনা যুক্ত রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে প্রতিষ্ঠানটি সেবা চালুর জন্য প্রস্তুত। তাঁর প্রত্যাশা, ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে ভারতী এয়ারটেলের প্রতিষ্ঠাতা সুনীল মিত্তালও জানিয়েছেন, ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবের কার্যক্রম শুরুর জন্য অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে। ফলে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালুর নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া শুধু স্টারলিংকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। স্টারলিংক পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইন্টারনেট সরবরাহ করে। ভারতের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার রয়েছে। ডেলয়েটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড বাজারের মূল্য প্রায় ১৯০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ভারত সরকারের দাবি, সব প্রতিষ্ঠানকে একই নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে। অন্যদিকে মাস্কের অভিযোগ, ব্যবসায়িক স্বার্থের কারণে স্টারলিংকের অনুমোদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। সূত্র: রয়টার্স
মাত্র ২৭ বছর বয়সে নিজের প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি কোম্পানি বিক্রি করে মিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা রাহুল ভোহরা। কিন্তু অতিরিক্ত কাজের চাপ, অনিয়মিত খাবার ও শারীরিক অবহেলায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। একদিন সান ফ্রান্সিসকোর রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেই লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে কাটাতে হয় প্রায় এক সপ্তাহ। সেই অভিজ্ঞতার পর জীবনযাপন বদলে আবার ব্যবসায় ফেরেন রাহুল। পরবর্তী সময়ে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সুপারহিউম্যান কোম্পানির মূল্যায়ন পৌঁছায় ৮২৫ মিলিয়ন ডলারে। মার্কিন সাময়িকী ফরচুনের ৪ অক্টোবর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে নিজের উদ্যোক্তা জীবনের এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ৪২ বছর বয়সী রাহুল। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বেড়ে ওঠা ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই উদ্যোক্তা মাত্র আট বছর বয়সে নিজে নিজে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখেন। পরবর্তী সময়ে ভিডিও গেম তৈরির কাজেও যুক্ত হন। প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। ২০১০ সালে কয়েকজন সহপ্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে র্যাপোর্টিভ নামের একটি প্রযুক্তি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন রাহুল। এটি ছিল জিমেইলের সঙ্গে যুক্ত একটি সফটওয়্যার, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ইমেইলে যোগাযোগ করা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য দেখতে পারতেন। প্রতিষ্ঠানটি একই বছর ওয়াই কম্বিনেটরের সামার ব্যাচে সুযোগ পায়। মাত্র পাঁচজনের দল নিয়ে শুরু হওয়া কোম্পানিটি দ্রুত লিংকডইনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের নজরে আসে। তবে ব্যবসার ভবিষ্যৎ ও বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে পারছিলেন না রাহুল। প্রায় দুই বছর ধরে অনিয়মিত খাবার খেতেন। কখনো পিৎজা, কখনো ব্রাউনি দিয়েই দিনের খাবার সারতেন। নিয়মিত ব্যায়াম কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভ্যাসও ছিল না। দীর্ঘদিন কাজের চাপের মধ্যে থাকতে থাকতে সেই পরিস্থিতিকেই স্বাভাবিক মনে করতে শুরু করেছিলেন তিনি। ২০১১ সালের এক রাতে তীব্র বমি বমি ভাব ও অস্বস্তি নিয়ে ঘুম ভাঙে রাহুলের। অসুস্থতা সত্ত্বেও কাজে যান তিনি। দুপুরে ব্যথা বেড়ে গেলে অফিস থেকে চার ব্লক দূরের একটি ফার্মেসিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পথেই একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টের বাইরে লুটিয়ে পড়েন। এক সহপ্রতিষ্ঠাতা ওষুধের ব্যবস্থা করলেও হাসপাতালে না গিয়ে আবার কাজে ফিরে যান তিনি। পরদিন হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ শনাক্ত হয়। এতে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে অস্বস্তি ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। রাহুলের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, একজন নার্স তাঁকে জানান, তাঁর শরীরের ভেতরের অবস্থা প্রকৃত বয়সের তুলনায় ১০ থেকে ২০ বছর বেশি বয়সী কারও মতো মনে হচ্ছে। প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার পর কয়েক সপ্তাহ পরিবারের সঙ্গে বিশ্রাম নেন রাহুল। সব মিলিয়ে প্রায় এক মাস কাজ থেকে দূরে ছিলেন। এরপর খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনেন, নিয়মিত ব্যায়াম শুরু করেন এবং ধ্যানকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে নেন। বিশেষ করে ট্রান্সসেনডেন্টাল মেডিটেশন পদ্ধতি শেখেন তিনি। এখনো ব্যস্ততার মধ্যেও ধ্যানের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখেন বলে জানিয়েছেন। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাহুলের প্রথম কোম্পানি র্যাপোর্টিভ অধিগ্রহণ করে লিংকডইন। আনুমানিক দেড় কোটি ডলারের এই চুক্তিতে প্রতিষ্ঠাতারা মিলিয়নিয়ার হন। প্রাথমিক বিনিয়োগকারীরা তাঁদের বিনিয়োগের প্রায় ২০ গুণ অর্থ ফেরত পান। অথচ প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ২০ মাসে কোম্পানিটির সরাসরি আয় হয়েছিল মাত্র ১৪ সেন্ট। প্রথম কোম্পানি বিক্রির পর ২০১৪ সালে কনরাড আরউইন ও বিবেক সোধেরাকে সঙ্গে নিয়ে সুপারহিউম্যান প্রতিষ্ঠা করেন রাহুল। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে ইমেইল ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার তৈরি করে পরিচিতি পায়। ২০২১ সালে বিনিয়োগ সংগ্রহের সময় কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়ায় ৮২৫ মিলিয়ন ডলার। এটি রাহুলের ব্যক্তিগত সম্পদ কিংবা কোম্পানির বার্ষিক আয় নয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সুপারহিউম্যান অধিগ্রহণের ঘোষণা দেয় গ্রামারলি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তখন প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আয় ছিল প্রায় সাড়ে তিন কোটি ডলার এবং কর্মীসংখ্যা ছিল একশর বেশি। তবে অধিগ্রহণের মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। একই বছরের অক্টোবরে গ্রামারলি তার মূল কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে সুপারহিউম্যান রাখার ঘোষণা দেয়। ফরচুনকে রাহুল জানান, দ্বিতীয় কোম্পানি বিক্রির সময় আগের মতো শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়নি। তাঁর মতে, তরুণ উদ্যোক্তাদের অতিরিক্ত কাজ ও নিজের শরীরকে অবহেলা করাকে সাফল্যের পরিচয় মনে করা উচিত নয়। ব্যবসায় উচ্চাকাঙ্ক্ষা বজায় রেখেও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া সম্ভব। তবে তাঁর পরিবর্তিত জীবনযাপনই পরবর্তী ব্যবসায়িক সাফল্যের একমাত্র কারণ ছিল, এমন কোনো প্রমাণ নেই।
দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে কমপক্ষে এক হাজার খেলার মাঠ স্থাপন করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো এবং সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণ নিয়ে আয়োজিত বৈঠক শেষে সরকারের পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলাও বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন মাঠ তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান মাঠগুলো সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করার বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ২৭টি জেলায় মাঠ তৈরির জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জায়গায় নতুন মাঠ স্থাপন কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী মাঠ সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি খেলার মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা নির্ধারণের কথা রয়েছে। তবে কোন ইউনিয়নে কোথায় মাঠ তৈরি হবে, তা সংশ্লিষ্ট এলাকার জমির প্রাপ্যতা ও বাস্তব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, মাঠগুলো শুধু নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর জন্য রাখা হবে না। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সাধারণ মানুষের খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করতে এগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা মহানগরীর খেলার মাঠের সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব মাঠে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাজধানীতে নতুন মাঠ তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান মাঠগুলো সংস্কার ও ব্যবহারযোগ্য করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু মাঠ নির্ধারণ করলেই চলবে না, সেগুলোতে নিয়মিত খেলাধুলার পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে বড় ধরনের ক্রীড়া কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ মোট ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে দেশের প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এসব ক্রীড়া কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এর মাধ্যমে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থী এবং তরুণদের নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকর্তা মাঠগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন এবং স্থানীয় ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। বৈঠকে উপজেলা পর্যায়ে বিদ্যমান স্টেডিয়ামগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রথম পর্যায়ে নির্মিত ১২৫টি উপজেলা স্টেডিয়ামের অনেকগুলো জনবসতি থেকে দূরে হওয়ায় যথাযথভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ কারণে এসব স্টেডিয়াম সচল করা এবং খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে আগে তৈরি করা স্টেডিয়াম ও মাঠগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহারের ব্যবস্থাও সরকারের পরিকল্পনার অংশ। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধারের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিদ্যমান মাঠগুলো সংরক্ষণ এবং সেগুলো খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রীড়া কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত খেলাধুলা এবং ক্রীড়া ক্লাবের কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ জন্য খেলার মাঠ সংরক্ষণ, বিদ্যালয়ভিত্তিক ক্রীড়া কার্যক্রম এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েও আলোচনা হয়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মাঠগুলোতে শুধু নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রতিযোগিতা আয়োজন না করে সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন মাঠ স্থাপনের পাশাপাশি পুরোনো মাঠ সংরক্ষণ, সংস্কার, ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মাঠগুলো যাতে পরবর্তী সময়ে অবহেলিত বা দখল হয়ে না যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খাসজমি চিহ্নিতকরণ এবং মাঠ উন্নয়নের কাজে স্থানীয় সরকার বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুর ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমীন উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সামনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাঠগুলো প্রস্তুত করার কাজ রয়েছে। বিশেষ করে দুই মাসের মধ্যে এক হাজার মাঠ স্থাপনের লক্ষ্য পূরণে জমি নির্বাচন, বিদ্যমান মাঠের সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত এক হাজার মাঠের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, এমন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত এটি সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা। একইভাবে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে মাঠ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারিত হতে পারে। তবে পরিকল্পনার সুফল নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ে মাঠগুলো প্রস্তুত করা, সবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর। সূত্র: যমুনা টেলিভিশন
নিজেদের বিয়েতে জাঁকজমকপূর্ণ ভোজের আয়োজন না করে সেই অর্থ দিয়ে প্রায় চার হাজার সিরীয় শরণার্থীকে খাবার খাইয়েছিলেন তুরস্কের এক নবদম্পতি। যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নেওয়া অসহায় মানুষদের সঙ্গে জীবনের বিশেষ দিনটির আনন্দ ভাগ করে নিয়েছিলেন তাঁরা। শুধু খাবারের ব্যবস্থা করেই থেমে থাকেননি, বিয়ের পোশাক পরে নিজেরাই শরণার্থীদের হাতে খাবার তুলে দিয়েছিলেন। ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই তুরস্কের সিরিয়া সীমান্তবর্তী কিলিস শহরে ঘটে যাওয়া এই ব্যতিক্রমী ঘটনা সে সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এই নবদম্পতি হলেন ফেতুল্লাহ উজুমজুওলু ও এসরা পোলাত। তুরস্কের কিলিস শহরে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। সাধারণত বিয়ের দিন পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বড় ধরনের ভোজের আয়োজন করা হয়। তবে ফেতুল্লাহ ও এসরা নিজেদের বিয়ের দিনটি অন্যভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেন। অতিথিদের জন্য বরাদ্দ অর্থ তাঁরা ব্যয় করেন যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে আশ্রয় নিতে আসা মানুষের খাবারের পেছনে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২০১৫ সালের ৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অর্থ জমিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই অর্থ নিজেদের অতিথিদের আপ্যায়নের পরিবর্তে শরণার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা করতে ব্যবহার করেন নবদম্পতি। এতে তাঁদের বিয়ের আনন্দের অংশ হয়ে ওঠেন প্রায় চার হাজার অসহায় মানুষ। সে সময় সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিবেশী তুরস্কে আশ্রয় নিচ্ছিলেন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী কিলিস শহরটি যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত বহু পরিবারের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিল। অনেক শরণার্থী নিজেদের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও স্বাভাবিক জীবন হারিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। তাঁদের খাদ্য, আশ্রয় এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে বিভিন্ন মানবিক সহায়তা সংস্থা কাজ করছিল। ফেতুল্লাহর বাবা আলি উজুমজুওলু ছিলেন তুরস্কের মানবিক সহায়তা সংস্থা কিমসে ইয়োক মুর একজন সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবক। শরণার্থীদের দুর্দশা তিনি কাছ থেকে দেখেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ছেলের বিয়ের আনন্দ ভিন্নভাবে উদযাপনের প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর মনে হয়েছিল, আশপাশে এত মানুষ খাদ্যসংকটে ভুগছেন, এমন সময় শুধু আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বড় ভোজের আয়োজন করার পরিবর্তে অসহায় মানুষদের সঙ্গে খাবার ভাগ করে নেওয়া বেশি অর্থবহ হবে। আলি তাঁর ছেলে ও হবু পুত্রবধূকে বিয়ের খাবারের জন্য রাখা অর্থ শরণার্থীদের সহায়তায় ব্যয় করার পরামর্শ দেন। প্রথমে এই প্রস্তাব শুনে কিছুটা অবাক হয়েছিলেন এসরা পোলাত। কারণ নিজের বিয়ের দিনটি ঘিরে তাঁরও কিছু প্রত্যাশা ছিল। তবে পরে তিনিও এই উদ্যোগে সম্মতি দেন। এরপর নবদম্পতি সিদ্ধান্ত নেন, বিয়ের আনন্দ নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শরণার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবিক সহায়তা সংস্থা কিমসে ইয়োক মুর মুখপাত্র হাতিসে আভজি নবদম্পতির উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি জানান, বিয়ের জন্য পরিবারের জমানো অর্থ শরণার্থীদের খাবার সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্থাটি তখন কিলিস শহর ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী প্রায় চার হাজার সিরীয় শরণার্থীকে নিয়মিত খাবার সরবরাহ করত। বিয়ের দিন নবদম্পতির উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়তা করে সংস্থাটি। খাবার পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হয় তাদের একটি বিশেষ খাবারবাহী ট্রাক। সেখানে প্রায় চার হাজার শরণার্থীর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। নবদম্পতি নিজেরাও খাবার বিতরণের কার্যক্রমে অংশ নেন। শুধু আর্থিক সহায়তা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি তাঁরা, সরাসরি শরণার্থীদের কাছে গিয়ে খাবার পরিবেশন করেন। সেই দিনের প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, এসরা সাদা বিয়ের পোশাক পরে শরণার্থীদের খাবার দিচ্ছেন। তাঁর মাথায় ছিল বিয়ের সাজের বিশেষ অলংকার। অন্যদিকে বর ফেতুল্লাহও বিয়ের আনুষ্ঠানিক পোশাক পরেই খাবার বিতরণ করছিলেন। বিয়ের প্রচলিত ভোজের পরিবর্তে শরণার্থীদের খাবার পরিবেশনের এই দৃশ্য দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মানবিক সহায়তা সংস্থা কিমসে ইয়োক মু নবদম্পতির খাবার বিতরণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে। এরপর সেসব ছবি বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, ব্রিটেনের দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং আইটিভি নিউজসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভি নিউজের ২০১৫ সালের ৬ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কনে এসরা পোলাত দিনটিকে অসাধারণ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। প্রকৃত অর্থে যাঁদের খাবারের প্রয়োজন, তাঁদের সঙ্গে নিজেদের বিয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতে পেরে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন। প্রচলিত বিয়ের অনুষ্ঠানের পরিবর্তে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছিল। বর ফেতুল্লাহও শরণার্থী শিশুদের মুখে আনন্দ দেখতে পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্য মানুষকে আনন্দ দেওয়ার মধ্য দিয়ে নিজেদের নতুন জীবন শুরু করতে পারা ছিল বিশেষ অনুভূতির। বিয়ের দিনটি শুধু নিজেদের জন্য নয়, অন্য মানুষের জন্যও আনন্দময় করে তুলতে পেরে সন্তুষ্ট ছিলেন তিনি। ফেতুল্লাহর বাবা আলি উজুমজুওলুও ছেলের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। শরণার্থীদের কঠিন পরিস্থিতি কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁর আশা ছিল, ছেলের বিয়ের এই উদ্যোগ অন্য মানুষদেরও জীবনের বিশেষ দিনে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে। ২০১৫ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে সৃষ্ট শরণার্থী সংকট ছিল বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকট। ২০১১ সালে দেশটিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর লাখ লাখ মানুষ নিরাপত্তার সন্ধানে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তাঁদের একটি বড় অংশ তুরস্কে প্রবেশ করেন। সীমান্তবর্তী কিলিস শহরে শরণার্থীদের উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে দৃশ্যমান। কিলিসে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক সহায়তা সংস্থা শরণার্থীদের খাদ্য, আশ্রয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের বিয়ের অনুষ্ঠানের অর্থ শরণার্থীদের জন্য ব্যয় করার সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে নবদম্পতির সরাসরি খাবার বিতরণের বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে। এই উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, ফেতুল্লাহ ও এসরা শুধু অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেননি। বিয়ের পোশাক পরেই তাঁরা শরণার্থীদের কাছে যান এবং নিজের হাতে খাবার তুলে দেন। কোনো পৃথক দাতব্য অনুষ্ঠানের পরিবর্তে নিজেদের বিয়ের দিনেই এই আয়োজন করেছিলেন তাঁরা। ফলে ব্যক্তিগত আনন্দের সঙ্গে মানবিক সহায়তার একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে ফেতুল্লাহ উজুমজুওলু ও এসরা পোলাতের এই উদ্যোগ সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নয়। তাঁদের বিয়ে এবং প্রায় চার হাজার সিরীয় শরণার্থীকে খাবার বিতরণের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই। এর পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ঘটনার এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের ছবিগুলোতে ধরা রয়েছে একটি ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজনের স্মৃতি। যেখানে আত্মীয়স্বজন ও অতিথিদের নিয়ে বড় ভোজের পরিবর্তে যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি হারানো হাজারো মানুষের একবেলার খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফেতুল্লাহ ও এসরার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত আনন্দকে অসহায় মানুষের সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার একটি উদাহরণ হয়ে আছে। নিজেদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিনটিকে তাঁরা উদযাপন করেছিলেন শরণার্থীদের সঙ্গে খাবার ভাগ করে নিয়ে। বিয়ের পোশাক পরে হাজারো মানুষের হাতে খাবার তুলে দেওয়ার সেই দৃশ্যই তুর্কি নবদম্পতির উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচিত করে তুলেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। একই সঙ্গে ইমাম মাহদীর দ্রুত পুনরাগমনের জন্য ধর্মীয় প্রার্থনা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁর দোয়ার বরকতে ইরানের নিরাপত্তা, শক্তি ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি। শুক্রবার ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি বার্তাটি প্রকাশ করে। মোজতবা খামেনি তাঁর বার্তায় নিরাপত্তাকে মহান আল্লাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য নিরাপত্তা অপরিহার্য। ইরানের বড় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম ও সীমান্তবর্তী এলাকায় এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, সমুদ্রসীমা, বিস্তীর্ণ সমভূমি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষায় তাঁদের সাহসিকতা এবং আত্মত্যাগের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, ইরানের পুলিশ বাহিনী দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই বাহিনীর সদস্যরা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বই পালন করছেন না, বরং বিভিন্ন সংকট ও সংঘাতের মধ্যেও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে খামেনি অভিযোগ করেন, ইরানের পুলিশ বাহিনীকে দুর্বল করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের সদস্যরাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব হামলা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি বলে মন্তব্য করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার কারণে পুলিশ বাহিনীর স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলেও সদস্যরা বিকল্প উপায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি পুলিশ স্টেশন ও স্থায়ী কর্মস্থলের বাইরে রাস্তায় এবং যানবাহনের মধ্য থেকেও কাজ চালিয়ে গেছেন। খামেনি বলেন, দেশের নিরাপত্তার জন্য যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের অনেক ত্যাগ সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না। অথচ জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার পেছনে তাঁদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, অনেক সময় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। তবুও তাঁদের নিষ্ঠা ও দায়িত্ব পালনের মূল্য রয়েছে। বার্তায় জনগণের সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যরা সমাজেরই অংশ। সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সদস্যদের মতো তাঁরাও সাধারণ মানুষের মধ্য থেকেই উঠে এসেছেন। সে কারণে জনগণের আস্থা অর্জন ও তা ধরে রাখা পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি। খামেনির মতে, পুলিশ সদস্যদের আচরণ ও দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি এমন হওয়া উচিত, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাহিনীটির প্রতি বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে ইরানের পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শুধু জনবল বৃদ্ধি কিংবা প্রচলিত সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো ও তথ্য ব্যবস্থাপনায়ও উন্নতি আনতে হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি। খামেনি বলেন, তথ্য বিশ্লেষণে পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা গেলে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে মানবসম্পদ, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের উন্নয়ন পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করতে পারে। তাঁর বক্তব্যে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি বাহিনীর সাংগঠনিক সক্ষমতা ও সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় ইরানের পুলিশপ্রধানসহ বাহিনীর সব কর্মকর্তা ও সদস্যকে ধন্যবাদ জানান মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় যাঁরা নিরলসভাবে কাজ করছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার জন্য ইরানি জাতি কৃতজ্ঞ। বার্তার শেষ অংশে ধর্মীয় প্রার্থনার মাধ্যমে পুলিশের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইমাম মাহদীর দোয়ার বরকতে ইরানের নিরাপত্তা, শক্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধির কাজে পুলিশ সদস্যরা আরও বেশি সফল হবেন। একই সঙ্গে ইমাম মাহদীর দ্রুত পুনরাগমনের জন্য প্রচলিত শিয়া ধর্মীয় প্রার্থনাও উল্লেখ করেন তিনি। শিয়া ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, ইমাম মাহদী হলেন দ্বাদশ ইমাম, যিনি বর্তমানে অন্তর্ধানে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতে পুনরায় আবির্ভূত হবেন। তাঁর পুনরাগমন সম্পর্কে শিয়া মুসলমানদের মধ্যে বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে। ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ইমাম মাহদীর দ্রুত পুনরাগমনের জন্য দোয়া করার প্রচলন রয়েছে। মোজতবা খামেনির এই বার্তাতেও সেই ধর্মীয় রীতির প্রতিফলন দেখা গেছে। তবে তিনি ইমাম মাহদীর আবির্ভাবের কোনো নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করেননি। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের পুলিশ বাহিনীর অবদান, বাহিনীটির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য প্রার্থনা। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, দেশটির জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এই বার্তায় মোজতবা খামেনি নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পটভূমিতে তাঁর এই বার্তায় ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জনগণের আস্থা এবং পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের একটি গাভী ট্রেনে করে প্রদর্শনীতে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়ে প্রায় জবাইখানায় পৌঁছে গিয়েছিল। পরে সেটিকে উদ্ধার করা হয়। শুধু তাই নয়, একবার এক শিক্ষক হোয়াইট হাউসের লনে ঢুকে গোপনে ওই গাভীর দুধ দোহন করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ২৭তম প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফটের আমলে পলিন ওয়েন নামের গাভীটিকে ঘিরে ঘটেছিল এসব ঘটনা। এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো সেই কাহিনি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। হোয়াইট হাউস হিস্টোরিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল পেট মিউজিয়ামের ঐতিহাসিক বিবরণে পলিন ওয়েনকে ঘিরে এসব ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে গাভী পালন করা হতো। সেখান থেকেই প্রেসিডেন্টের পরিবারের জন্য দুধ ও মাখনের ব্যবস্থা করা হতো। পলিন ছিল এমনই একটি গাভী, যেটি পরবর্তী সময়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়। উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফট ১৯০৯ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাঁর সময়েই হোয়াইট হাউসে পলিন ওয়েনের আগমন ঘটে। তবে পলিনই সেখানে প্রথম গাভী ছিল না। এর আগে প্রেসিডেন্টের পরিবারের জন্য দুধ সরবরাহ করত মুলি উলি নামের আরেকটি গাভী। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ১৯১০ সালে অতিরিক্ত ওটস খাওয়ার পর গাভীটি মারা যায়। মুলি উলির মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্ট পরিবারের জন্য নতুন গাভীর ব্যবস্থা করেন উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সিনেটর আইজ্যাক স্টিফেনসন। নিজের খামার থেকে হলস্টেইন জাতের পলিন ওয়েনকে উপহার হিসেবে পাঠান তিনি। হোয়াইট হাউস হিস্টোরিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯১০ সালের ৩ নভেম্বর গাভীটি ওয়াশিংটনে পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে দুধ সরবরাহের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট পরিবারের বিশেষ পোষা প্রাণী হিসেবেও পরিচিতি পায় পলিন। উইসকনসিন থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় ট্রেনে করে রাজধানীতে আনা হয় গাভীটিকে। ওয়াশিংটনের ইউনিয়ন স্টেশনে হোয়াইট হাউসের কর্মীরা সেটিকে গ্রহণ করেন। এরপর নিয়ে যাওয়া হয় প্রেসিডেন্ট ভবনের আস্তাবলে। পরে হোয়াইট হাউসের কাছের সবুজ লনে ঘাস খাওয়ার সুযোগ পায় পলিন। পরদিনই মার্কিন সংবাদমাধ্যমে তার আগমনের খবর প্রকাশিত হয়। পলিন ছিল উন্নত জাতের দুধ উৎপাদনকারী গাভী। তৎকালীন সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে আসার সময় প্রতিদিন প্রায় সাড়ে সাত গ্যালন বা ২৮ লিটার দুধ দিত সে। পরবর্তী সময়ে তার দুধ উৎপাদনের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়। তবে প্রেসিডেন্ট পরিবারের জন্য নিয়মিত দুধ সরবরাহে গাভীটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে। হোয়াইট হাউসে থাকার সময় একটি বাছুরের জন্ম দেয় পলিন। বাছুরটির নাম রাখা হয় বিগ বিল। পরে সেটিকে মেরিল্যান্ডের একটি খামারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে প্রেসিডেন্ট পরিবারের গাভী হিসেবে পলিনের পরিচিতি দ্রুত বাড়তে থাকে। তার চলাফেরা থেকে শুরু করে দুধ উৎপাদন, সবকিছুই তখন সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে। ১৯১১ সালে উইসকনসিনের মিলওয়াকিতে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক দুগ্ধ প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার জন্য পলিনকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সেই যাত্রায় ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। প্রেসিডেন্টের গাভীটিকে একটি বিশেষ রেলবগিতে করে পাঠানো হচ্ছিল। একই ট্রেনের সঙ্গে আরও কয়েকটি পশুবাহী বগি যুক্ত ছিল, যেগুলোর গন্তব্য ছিল শিকাগোর পশুর বাজার ও জবাইখানা। যাত্রাপথে রেলকর্মীদের ভুলে পলিনকে বহনকারী বগিটি অন্যদিকে চলে যায়। ফলে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিবর্তে গাভীটি নিখোঁজ হয়ে পড়ে। পলিনকে খুঁজে না পেয়ে হোয়াইট হাউসের কর্মী ও প্রদর্শনীর আয়োজকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিভিন্ন স্থানে টেলিগ্রাম পাঠিয়ে গাভীটির অবস্থান জানার চেষ্টা শুরু হয়। প্রেসিডেন্সিয়াল পেট মিউজিয়ামের ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, প্রায় দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর পলিনকে শিকাগোর পশুর বাজারসংশ্লিষ্ট একটি স্থানে খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে কর্মীদের বোঝানো হয়, এটি সাধারণ কোনো গাভী নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পরিবারের গাভী। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে জবাই হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা হয়। এই ঘটনাটি সে সময় মার্কিন সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। একটি রেলবগির ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে প্রেসিডেন্টের গাভী প্রায় জবাইখানায় পৌঁছে গিয়েছিল। তৎকালীন মার্কিন সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস ও মিলওয়াকি সেন্টিনেলের প্রতিবেদনের বরাতে প্রেসিডেন্সিয়াল পেট মিউজিয়াম ঘটনাটির বিস্তারিত তুলে ধরেছে। তবে পলিনকে ঘিরে অস্বাভাবিক ঘটনার এখানেই শেষ নয়। ১৯১২ সালের সেপ্টেম্বরে ঘটে আরেকটি ঘটনা। এবার গাভীটি নিখোঁজ হয়নি, বরং তার দুধ নিয়ে ঘটে এক অভিনব কাণ্ড। ঐতিহাসিক সংবাদপত্র মিলওয়াকি সেন্টিনেলের প্রতিবেদনের বরাতে প্রেসিডেন্সিয়াল পেট মিউজিয়াম জানায়, ওহাইও থেকে ওয়াশিংটনে বেড়াতে আসেন কৃষিবিষয়ক একজন শিক্ষক। হোয়াইট হাউসের দক্ষিণের লনে পলিনকে ঘাস খেতে দেখে ওই শিক্ষকের কৌতূহল হয়। আশপাশে নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি না দেখে তিনি গাভীটির কাছে এগিয়ে যান। এরপর গোপনে পলিনের দুধ দোহন করেন। তৎকালীন সংবাদমাধ্যমের বিবরণ অনুযায়ী, শিক্ষক পরে দাবি করেন, প্রেসিডেন্টের গাভীর দুধের স্বাদ সম্পর্কে তিনি যেমন শুনেছিলেন, বাস্তবেও তেমনই ভালো লেগেছে তাঁর। তবে ওই শিক্ষক গাভীটিকে চুরি করে নিয়ে যাননি। তিনি গোপনে গাভীটির দুধ দোহন করেছিলেন। এ কারণে ঘটনাটিকে গাভী চুরির ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক নয়। প্রেসিডেন্টের পরিবারের গাভীকে ঘিরে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা তখন সংবাদপত্রেও প্রকাশিত হয়। পলিনের জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়েছিল যে তার দুধ উৎপাদন, প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ ও দৈনন্দিন চলাফেরার খবরও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হতো। হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক ছবিতেও গাভীটির উপস্থিতি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের সংগ্রহে সংরক্ষিত ছবিতে প্রেসিডেন্ট ভবনের আশপাশের লনে পলিনকে দেখা যায়। সেই সময় হোয়াইট হাউসের আস্তাবলে ঘোড়ার পাশাপাশি গাভী রাখার ব্যবস্থাও ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্যাফটের শাসনামলে মোটরগাড়ির ব্যবহার শুরু হওয়ায় ভবনটির পরিবহনব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছিল। ১৯১১ সালে পুরোনো আস্তাবল ও গ্যারেজসংক্রান্ত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার ইতিহাসও রয়েছে। তবে এসব পরিবর্তনের মধ্যেও পলিন হোয়াইট হাউসে থাকতে থাকে। দীর্ঘদিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে থাকার পর পলিনের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে, ওয়াশিংটনের পরিবেশ ও ব্যস্ততার মধ্যে গাভীটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। এ কারণে প্রেসিডেন্ট ট্যাফটের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় সেটিকে আবার উইসকনসিনের আগের খামারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পলিনকে উইসকনসিনের খামারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে গাভীটির অবসরজীবন কাটানোর ব্যবস্থা করা হয়। প্রেসিডেন্টের পরিবারের জন্য নিয়মিত দুধ সরবরাহ করা গাভীটির বিদায়ের খবরও সে সময় মার্কিন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। পলিন ওয়েনকে হোয়াইট হাউসে বসবাসকারী সর্বশেষ প্রেসিডেন্সিয়াল গাভী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমলে সরকারি বাসভবনে কুকুর, বিড়াল ও পাখিসহ নানা ধরনের পোষা প্রাণী রাখা হয়েছে। তবে দুধ সরবরাহকারী গাভী হিসেবে পলিনের অবস্থান মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল ইতিহাসে আলাদা। হোয়াইট হাউস হিস্টোরিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের সময় ভবনটির দক্ষিণের লনে ভেড়াও চরানো হতো। এসব ভেড়া ঘাস ছোট রাখার কাজে ভূমিকা রাখত। পরে ভেড়ার পশম বিক্রি করে রেডক্রসের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। অন্যদিকে প্রেসিডেন্সিয়াল পেট মিউজিয়ামের সংগ্রহে পলিনের ব্যবহৃত গলার ঘণ্টাটিও সংরক্ষিত রয়েছে। এক শতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেটি হোয়াইট হাউসের অতীত জীবনের একটি স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমানের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সেই সময়ের পরিবেশের পার্থক্যও এসব ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে উঠে আসে। যে লনে একসময় প্রেসিডেন্টের গাভী ঘাস খেত এবং পরিবারের জন্য দুধ সরবরাহ করত, সেই ভবনেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রেসিডেন্ট ট্যাফটের আমলের পলিন ওয়েনের গল্প তাই শুধু একটি গাভীর ইতিহাস নয়। ট্রেনে নিখোঁজ হয়ে জবাইখানায় পৌঁছে যাওয়া, সেখান থেকে উদ্ধার পাওয়া এবং এক শিক্ষকের গোপনে দুধ দোহনের মতো ঘটনা হোয়াইট হাউসের শত বছরের পুরোনো দৈনন্দিন জীবনের অপ্রত্যাশিত অধ্যায়গুলোও সামনে নিয়ে এসেছে।
চীনের আধুনিক নগরজীবনের পরিচিত ছবির বাইরে এক ভিন্ন দৃশ্য তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ভারতীয় পর্যটক প্রণব কারাড। দেশটির গুয়াংজু শহরের হাইঝু এলাকার একটি সরু গলিতে ঘুরতে গিয়ে তিনি দেখতে পান রাস্তার পাশে ছড়িয়ে থাকা ময়লা, পুরোনো ভবন, ঝুলন্ত তার এবং নির্মাণকাজের জন্য বসানো ব্যারিকেড। এসব দৃশ্য ভিডিও করে প্রকাশের পর তাঁর প্রশ্ন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এমন অপরিচ্ছন্ন এলাকা থাকতে পারে, তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুধু ভারতকেই কেন নোংরা দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয়? ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের ৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন ভ্রমণের সময় গুয়াংজু শহরের হাইঝু এলাকায় যান প্রণব। সেখানে হাঁটার সময় আশপাশের পরিবেশ দেখে তাঁর নিজের দেশের বিভিন্ন এলাকার কথা মনে পড়ে। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি সরু রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। রাস্তার দুই পাশে পুরোনো ভবন, কোথাও নির্মাণকাজ চলছে, আবার কোথাও ধাতব বেড়া ও ব্যারিকেড দিয়ে জায়গা ঘিরে রাখা হয়েছে। ওপরের দিকে জট পাকানো তার ঝুলছে। রাস্তার পাশে পড়ে রয়েছে প্লাস্টিকের ব্যাগ, বোতল ও বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা। এসব দৃশ্য দেখিয়ে প্রণব বলেন, তাঁর কাছে জায়গাটি ভারতের কোনো সাধারণ এলাকার মতোই মনে হচ্ছে। ভবনের অবস্থা, রাস্তার পরিবেশ এবং নির্মাণকাজের দৃশ্যের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন এলাকার মিল খুঁজে পান তিনি। ভিডিওতে তিনি আরও জানান, চীনের মতো একটি দেশের বড় শহরে এমন পরিবেশ দেখবেন, তা আগে ভাবেননি। বিশেষ করে দোকানের বাইরে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিকের ব্যাগ ও ময়লা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। প্রণবের বক্তব্য অনুযায়ী, চীনের আধুনিক শহর সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব ছবি ও ভিডিও দেখা যায়, সেগুলোর সঙ্গে এই এলাকার পরিবেশের যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, ভারতেও অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এলাকা রয়েছে। আবার অন্য অনেক দেশের মতো সেখানেও কিছু অপরিচ্ছন্ন এলাকা আছে। তাহলে আন্তর্জাতিক সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতকে কেন এত বেশি নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়? নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টের ক্যাপশনে প্রণব লেখেন, এটি গুয়াংজুর হাইঝু এলাকার রাস্তার দৃশ্য। এখানে সরু গলি, জমে থাকা আবর্জনা এবং এমন পরিবেশ রয়েছে, যা শহরের প্রচারণামূলক ছবিতে সাধারণত দেখা যায় না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিটি দেশেরই এমন কিছু এলাকা রয়েছে, যা বাইরে থেকে দেখা পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক চিত্রের সঙ্গে মেলে না। তাঁর মূল প্রশ্ন ছিল, পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার সময় কেন বারবার ভারতের উদাহরণ সামনে আনা হয়, অথচ অন্য দেশের একই ধরনের সমস্যাগুলো তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হয়। প্রণবের ভিডিওটি প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। অনেকে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, বিভিন্ন দেশের জীবনযাত্রা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সময় একপেশে চিত্র তুলে ধরা হয়। কিছু ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, চীনের আধুনিক ভবন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং পরিষ্কার রাস্তার দৃশ্য বেশি প্রচারিত হলেও দেশটির সব এলাকার পরিবেশ যে একই রকম নয়, সেটি এ ধরনের ভিডিও থেকে বোঝা যায়। একজন ব্যবহারকারীর বক্তব্যের সারমর্ম ছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় চীনের এমন দৃশ্য খুব কমই সামনে আসে। আরেকজন মন্তব্য করেন, পৃথিবীর কোনো দেশই সব জায়গায় সমান পরিচ্ছন্ন নয়। প্রতিটি দেশেরই কিছু উন্নত ও পরিচ্ছন্ন এলাকা রয়েছে, আবার কিছু জায়গায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা অবকাঠামোগত সমস্যা দেখা যেতে পারে। তবে সবাই প্রণবের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হননি। কেউ কেউ মনে করেন, একটি দেশের নির্দিষ্ট এলাকার ভিডিও দিয়ে অন্য দেশের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার অবস্থার তুলনা করা যথাযথ নয়। তাঁদের যুক্তি, কোনো শহরের একটি রাস্তা অপরিচ্ছন্ন হলেই পুরো শহর বা দেশের পরিবেশ একই রকম, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। একইভাবে কয়েকটি পরিষ্কার রাস্তা দেখিয়েও একটি দেশের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার মান নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এই আলোচনায় ভারতের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রচলিত আন্তর্জাতিক ধারণার বিষয়টিও উঠে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতকে নিয়ে বিভিন্ন সময় রাস্তার ময়লা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানজট ও জনবহুল এলাকার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে চীনের ক্ষেত্রে প্রায়ই আধুনিক অবকাঠামো, উঁচু ভবন এবং উন্নত নগর ব্যবস্থাপনার ছবি বেশি দেখা যায় বলে অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন। প্রণবের ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই দুই দেশের অনলাইন উপস্থাপনার পার্থক্য নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে ভিডিওতে দেখানো গুয়াংজুর হাইঝু এলাকার নির্দিষ্ট রাস্তাটি চীনের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে ভারতের সঙ্গে চীনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কিংবা নগর পরিচ্ছন্নতার তুলনামূলক কোনো পরিসংখ্যানও ভিডিওটিতে নেই। ফলে ঘটনাটিকে দুই দেশের পরিচ্ছন্নতার মান নির্ধারণের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। প্রণবের ভিডিওটি মূলত পর্যটক হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন দেশকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম অমর উজালাও ৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গুয়াংজুর ওই এলাকার ভিডিও নিয়ে অনলাইনে ভিন্নমত তৈরি হয়েছে। কেউ ভারতের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরির অভিযোগ করেছেন, আবার কেউ একটি এলাকার দৃশ্য দিয়ে পুরো দেশকে বিচার না করার পক্ষে মত দিয়েছেন। বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণের ভিডিও ও ছবি থেকে কোনো দেশের জীবনযাত্রা সম্পর্কে ধারণা তৈরি করার ক্ষেত্রে সতর্কতার বিষয়টি সামনে এসেছে। একটি শহরের পর্যটন এলাকা, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং আবাসিক এলাকার পরিবেশে পার্থক্য থাকতে পারে। একইভাবে নির্মাণাধীন রাস্তা ও নিয়মিত ব্যবহার হওয়া পরিচ্ছন্ন রাস্তার অবস্থাও এক নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো দেশের একটি নির্দিষ্ট দৃশ্য বারবার প্রচারিত হলে সেটিই অনেকের কাছে দেশটির সামগ্রিক পরিচয় হয়ে উঠতে পারে। অথচ বাস্তবে একই দেশের বিভিন্ন শহর ও এলাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। প্রণবের প্রকাশিত ভিডিওতেও সেই বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি চীনের একটি নির্দিষ্ট এলাকার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখিয়ে ভারতের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভিডিওটি নিয়ে মতভিন্নতা থাকলেও একটি বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনো দেশের পরিচ্ছন্নতা বা জীবনযাত্রার মান বিচার করতে হলে বিচ্ছিন্ন ছবি কিংবা কয়েক মিনিটের ভিডিওর পরিবর্তে বিস্তৃত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন। চীনের গুয়াংজু শহরের একটি সরু গলিতে ধারণ করা ভিডিও এভাবেই ভারত ও চীনের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশগুলোর ভাবমূর্তি তৈরির বিষয়টিও নতুন করে সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা সামনে এসেছে, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছুতে স্কলারশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং ফেলোশিপের মাধ্যমে পড়াশোনার খরচ কমানোর সুযোগও রয়েছে। তবে তালিকার সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু নেই এবং সব শিক্ষার্থী ফান্ডিং পাবেন, এমন নিশ্চয়তাও নেই। তালিকায় রয়েছে ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, মিসৌরি সেন্ট লুইস বিশ্ববিদ্যালয়, উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ডাকোটা, ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াই অ্যাট মানোয়া, ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্ট, জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া তালিকায় ওয়েস্ট টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল মিসৌরি, ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটি অব লিঞ্চবার্গ, ফুল সেইল ইউনিভার্সিটি, জ্যাকসনভিল স্টেট ইউনিভার্সিটি, আলবানি স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মেইন এবং ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা ডুলুথের নাম রয়েছে। তালিকার বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন নিউ হ্যাম্পশায়ার ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাট শার্লট, ইউনিভার্সিটি অব মেমফিস, নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, অবার্ন ইউনিভার্সিটি অ্যাট মন্টগোমারি, ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন ক্লিয়ার লেক, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি কিংসভিল, ফোর্ট হেইস স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনা। তবে এই ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম একসঙ্গে প্রচার করা হলেও সব প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের উচ্চশিক্ষা ও ফান্ডিং সুবিধা প্রদানকারী হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অফিসিয়াল একাডেমিক তথ্য অনুযায়ী, ফুল সেইল ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স, গেম ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রাম রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ডিগ্রি তালিকায় পিএইচডি প্রোগ্রামের উল্লেখ নেই। একইভাবে আলবানি স্টেট ইউনিভার্সিটির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের গ্র্যাজুয়েট ক্যাটালগে মাস্টার্স, এডুকেশন স্পেশালিস্ট এবং গ্র্যাজুয়েট সার্টিফিকেট প্রোগ্রামের তথ্য রয়েছে। সেখানে পিএইচডি ডিগ্রি তালিকাভুক্ত নেই। ফলে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের পছন্দের বিষয়ে মাস্টার্স অথবা পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ফান্ডিং সাধারণত কয়েকটি উপায়ে পাওয়া যায়। এর মধ্যে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কোনো অধ্যাপকের গবেষণা প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পান। টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের সহায়তা কিংবা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের মতো দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। এসব অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সঙ্গে নির্দিষ্ট অঙ্কের স্টাইপেন্ড এবং টিউশন মওকুফের সুবিধা থাকতে পারে। তবে সুবিধার পরিমাণ বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ, কাজের ধরন ও নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। অন্যদিকে ফেলোশিপের মাধ্যমে গবেষণা বা একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। কোনো কোনো ফেলোশিপে টিউশন এবং জীবনযাপনের খরচের জন্য স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়। ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার গ্র্যাজুয়েট স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, ফেলোশিপ ও অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দুটি আলাদা ধরনের আর্থিক সহায়তা। ফেলোশিপ সাধারণত গবেষণা বা পড়াশোনার জন্য দেওয়া হয়, আর অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হয়। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক থ্রিএম গ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপের তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য পিএইচডি শিক্ষার্থীরা প্রথম বছরে ২৫ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড, নির্ধারিত টিউশন সহায়তা এবং স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পেতে পারেন। পরবর্তী বছরগুলোতে নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এই ফেলোশিপ অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং বিভাগের মনোনয়ন প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স ও পিএইচডির ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে অনেক সময় পূর্ণাঙ্গ ফান্ডিং প্যাকেজ দেওয়া হয়। কিন্তু মাস্টার্স পর্যায়ে বিশেষ করে কোর্সভিত্তিক ও পেশাগত প্রোগ্রামে একই ধরনের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। ফান্ডিং পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার অভিজ্ঞতা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, অধ্যাপকের গবেষণার সঙ্গে মিল এবং বিভাগে অর্থের প্রাপ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের সাধারণত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, স্নাতক ডিগ্রির সনদ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ জমা দিতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম অনুযায়ী আইইএলটিএস, টোয়েফল বা অন্য স্বীকৃত পরীক্ষার স্কোর গ্রহণ করা হতে পারে। কিছু প্রোগ্রামে জিআরই স্কোর প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভাগ নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে জিআরই বাধ্যতামূলক রাখে না। এ কারণে আবেদনকারীদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিভাগের বর্তমান অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট দেখতে হবে। যেসব শিক্ষার্থী গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি করতে চান, তাঁদের জন্য সম্ভাব্য সুপারভাইজারের গবেষণার বিষয় সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি প্রোফাইল এবং সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র দেখে নিজের আগ্রহের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন অধ্যাপকদের চিহ্নিত করা যেতে পারে। তবে কোনো অধ্যাপকের কাছে ইমেইল পাঠানো কিংবা তাঁর কাছ থেকে ইতিবাচক উত্তর পাওয়ার অর্থ ভর্তি বা ফান্ডিং নিশ্চিত হওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের আনুষ্ঠানিক অ্যাডমিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফান্ডিংয়ের বিষয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া এবং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া সব সময় একই সিদ্ধান্তের অংশ নয়। অনেক ক্ষেত্রে ভর্তির অফার পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে ফান্ডিংয়ের জন্য আবেদন করতে হয়। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়েও নিশ্চিত হতে হবে যে ফান্ডিংয়ের অফারে পুরো টিউশন মওকুফ করা হচ্ছে, নাকি আংশিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ফি, আবাসন এবং ব্যক্তিগত খরচ বহন করতে হবে কি না, সেটিও জানা জরুরি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ফান্ডিংয়ের পরিমাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানভেদে জীবনযাপনের ব্যয়ের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ ছাড়া সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সময়ে আবেদন নেওয়া হয় না। ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারের অ্যাডমিশন ডেডলাইন আলাদা হতে পারে। অনেক বিভাগের ফান্ডিং বিবেচনার সময়সীমাও সাধারণ অ্যাডমিশন ডেডলাইনের আগে শেষ হয়। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের তালিকার ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রোগ্রামের ধরন, আবেদনযোগ্যতা, ডেডলাইন এবং ফান্ডিংয়ের শর্ত যাচাই করা উচিত। এই ৩০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজার কাজে সহায়ক হতে পারে। তবে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সব প্রতিষ্ঠানেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি ভর্তি এবং নিশ্চিত ফান্ডিং চালু রয়েছে, এমন কোনো সম্মিলিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। সুতরাং মাস্টার্স বা পিএইচডিতে আবেদন করার আগে নিজের একাডেমিক প্রোফাইল, গবেষণার আগ্রহ এবং আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের মিল যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নেদারল্যান্ডসে পশু জবাইয়ের আগে অচেতন করা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির কৃষি ও প্রাণিকল্যাণবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সিলভিও এরকেন্স ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী অচেতন না করে পশু জবাই নিষিদ্ধ করার পক্ষে ব্যক্তিগত অবস্থান জানিয়েছেন। গত ৪ অক্টোবর তিনি বলেন, প্রাণিকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া নেদারল্যান্ডসে এ ধরনের জবাইয়ের প্রচলন থাকা উচিত নয়। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, তাঁর এই অবস্থান মুসলিম সম্প্রদায় কিংবা কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। ডাচ সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএনএলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল ভিভিডির রাজনীতিক এরকেন্স বলেছেন, পার্টি ফর দ্য অ্যানিম্যালসের পক্ষ থেকে আনা আইন প্রস্তাবটি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। প্রস্তাবটি পাস হলে নেদারল্যান্ডসে ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রেও আগে অচেতন করার বাধ্যবাধকতা কার্যকর হতে পারে। তবে দেশটিতে হালাল মাংস কিংবা ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু জবাই পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আলোচনাটি মূলত জবাইয়ের আগে পশুকে অচেতন না করার প্রচলিত ব্যতিক্রমী অনুমতি তুলে দেওয়া নিয়ে। এরকেন্স বলেন, নেদারল্যান্ডস প্রাণিকল্যাণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। অথচ ধর্মীয় কারণে এখনো কিছু ক্ষেত্রে পশুকে অচেতন না করে জবাই করার অনুমতি রয়েছে। এই অবস্থাকে তিনি অসংগতিপূর্ণ বলে মনে করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ জবাইয়ের ক্ষেত্রে পশুকে প্রথমে অচেতন করা হয়। কিন্তু কিছু ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু সচেতন থাকা অবস্থায় গলা কাটা হয়। এতে পশু অতিরিক্ত যন্ত্রণা অনুভব করতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নতুন কোনো আইন প্রণয়ন করতে হলে সেটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তৈরি করতে হবে, যাতে আদালতে তার বৈধতা টিকে থাকে। নেদারল্যান্ডসে হালাল ও কোশের পদ্ধতিতে পশু জবাই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশ হালাল জবাইয়ের ধর্মীয় শর্ত অনুযায়ী পশু সচেতন থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন। একইভাবে ইহুদি সম্প্রদায়ের কোশের জবাইয়ের ক্ষেত্রেও বিশেষ ধর্মীয় বিধান রয়েছে। তবে সব হালাল জবাই অচেতন না করে সম্পন্ন হয়, এমন নয়। কিছু হালাল পদ্ধতিতে পশুকে সাময়িকভাবে অচেতন করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়, যদি তা সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। প্রতিমন্ত্রী এরকেন্সের বক্তব্য অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসে ধর্মীয় পদ্ধতিতে জবাই করা পশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে ইতোমধ্যে অচেতন করা হয়। তাই তিনি মনে করেন, অচেতন করার ব্যবস্থা রেখে ধর্মীয় জবাই পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। এদিকে প্রাণিকল্যাণ নিয়ে কাজ করা রাজনৈতিক দল পার্টি ফর দ্য অ্যানিম্যালস নতুন করে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। দলটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে অচেতন না করে পশু জবাই বন্ধে একটি সংশোধিত প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এতে ধর্মীয় কারণে বিদ্যমান ব্যতিক্রমী অনুমতি প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবে আইন কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট জবাইখানাগুলোকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য দেড় বছর সময় দেওয়ার কথাও রয়েছে। দলটির যুক্তি, পশু জবাইয়ের সময় অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা কমাতে সব ক্ষেত্রেই অচেতন করার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। তবে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধি। গত ৬ অক্টোবর নেদারল্যান্ডসের পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আলোচনা হয়। সেখানে ডেঙ্ক দলের সংসদ সদস্য দোগুকান এরগিন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। পার্লামেন্টের আনুষ্ঠানিক কার্যবিবরণী অনুযায়ী, এরগিন বলেন, অচেতন না করে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাই বন্ধ করার উদ্যোগ মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে অনেক মুসলিম ও ইহুদি নাগরিক উদ্বিগ্ন হয়েছেন বলেও জানান তিনি। জবাবে এরকেন্স বলেন, সরকার হালাল বা কোশের খাবার নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা করছে না। তিনি স্পষ্ট করেন, আলোচনাটি কেবল নেদারল্যান্ডসের ভেতরে অচেতন না করে পশু জবাইয়ের অনুমতি থাকবে কি না, সেই প্রশ্নকে ঘিরে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও বিদেশ থেকে হালাল ও কোশের মাংস আমদানি বন্ধ হবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রচলিত বিধানের কারণে এ ধরনের পণ্য আমদানি অব্যাহত রাখার সুযোগ থাকবে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সর্বশেষ কোরবানির ঈদের সময় নেদারল্যান্ডসে প্রায় ৭০ শতাংশ হালাল জবাইয়ের ক্ষেত্রে পশুকে অচেতন করার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু জবাই এবং প্রাণিকল্যাণের বিষয়টি একসঙ্গে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। তবে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বলছেন, সব ধর্মীয় গোষ্ঠীর কাছে অচেতন করার প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে আইন করে একই পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হলে ধর্মীয় আচার পালনের স্বাধীনতা সীমিত হতে পারে। নেদারল্যান্ডসের তুর্কি ফেডারেশনও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত সংগঠনটির বিবৃতিতে সভাপতি মুরাত গেদিক বলেন, ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু জবাই নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ ঠেকাতে প্রয়োজনে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হতে পারে। তিনি মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়কে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে প্রাণিকল্যাণবিষয়ক সংগঠন ডিয়েরেনবেসখেরমিং প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। সংগঠনটি ৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিক্রিয়ায় জানায়, অচেতন না করে পশু জবাই বন্ধের আইন প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে শুধু আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনটি। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে অচেতন করার বাধ্যবাধকতা নিয়ে আগে থেকেই আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। নেদারল্যান্ডসেও বিষয়টি নতুন নয়। পার্টি ফর দ্য অ্যানিম্যালস ২০১১ সালে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। সে সময় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে প্রস্তাবটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেলেও পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় কার্যকর নিষেধাজ্ঞায় রূপ নেয়নি। এবার নতুন প্রস্তাবটি ঘিরে আবারও সামনে এসেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি হলো পশু জবাইয়ের সময় যন্ত্রণা কমিয়ে প্রাণিকল্যাণ নিশ্চিত করা। অন্যটি হলো মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার। প্রতিমন্ত্রী এরকেন্স জানিয়েছেন, সরকার নিজে এ মুহূর্তে হালাল বা কোশের জবাই নিষিদ্ধ করার কোনো বিল প্রস্তুত করেনি। পার্টি ফর দ্য অ্যানিম্যালসের উদ্যোগে প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে এলে সরকার সেটির আইনগত ও বাস্তব দিক পর্যালোচনা করবে। শেষ পর্যন্ত আইনটি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত এবং প্রস্তাবটির আইনি গ্রহণযোগ্যতার ওপর। ফলে ৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসে হালাল মাংস নিষিদ্ধ হয়েছে কিংবা ধর্মীয় পদ্ধতিতে সব ধরনের পশু জবাই বন্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করার সুযোগ নেই। বর্তমানে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু অচেতন না করে পশু জবাইয়ের অনুমতি প্রত্যাহারের সম্ভাব্য আইন। নতুন এই উদ্যোগকে ঘিরে নেদারল্যান্ডসে প্রাণিকল্যাণ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শ্বশুর-শাশুড়ির গুলিতে নিহত হওয়ার অভিযোগ ওঠা নিউইয়র্ক টাইমসের প্রযুক্তিবিষয়ক নির্বাহী জোনাথন ম্যাককিনসির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ ম্যাককিনসি একসময় গর্ভধারণ করেছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই সন্তান জন্ম দেওয়ার পর নবজাতকটি মারা যায়। ওই ঘটনার জন্য স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের কথিত নির্যাতনকে দায়ী করেছিলেন তিনি। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন শহরে ৪০ বছর বয়সী ম্যাককিনসিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্ট ও টিএমজেডের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আদালতে জমা দেওয়া একটি নথিতে ম্যাককিনসি তাঁর গর্ভধারণ এবং সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, গর্ভাবস্থায় স্ত্রীর আচরণ ও নির্যাতনের কারণে তাঁকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। আদালতের নথির বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক দশক আগে স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের আইভিএফ চিকিৎসার মাধ্যমে তৈরি ভ্রূণ নিজের গর্ভে ধারণ করেছিলেন ম্যাককিনসি। ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ হিসেবে গর্ভধারণের সময় পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন তাঁকে আরও কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছিল বলে দাবি করেন তিনি। ম্যাককিনসির অভিযোগ, গর্ভাবস্থায় স্ত্রী তাঁর সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া করতেন। এমনকি একবার একটি কাপ ছুড়ে মারলে সেটি তাঁর পেটে লাগে। তাঁকে শোবার ঘরের বিছানা ছেড়ে বসার ঘরে ঘুমাতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও আদালতের নথিতে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে গর্ভাবস্থার ২২ সপ্তাহে। সে সময় তাঁরা ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে থেকে সান হোসেতে বাসা পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ম্যাককিনসির দাবি অনুযায়ী, বাসা পরিবর্তনের জন্য পেশাদার কর্মী নিয়োগ করা হলেও স্ত্রী তাঁকে ভারী বাক্স বহন করতে বাধ্য করেন। এরপর তিনি রক্তপাত অনুভব করেন এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে যাওয়ার পথে তীব্র ব্যথার কথা জানালেও স্ত্রী তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই তাঁদের ছেলে রোমিও প্রেস্টন ম্যাককিনসির জন্ম হয়। কিন্তু জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে নবজাতকটি মারা যায় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাককিনসি বিশ্বাস করতেন, ভারী জিনিস বহন করতে বাধ্য হওয়ার কারণেই তাঁর অকাল প্রসব হয়েছিল এবং সন্তানকে হারাতে হয়েছিল। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিযোগ। ভারী বাক্স বহন বা স্ত্রীর কথিত আচরণই অকাল প্রসব এবং নবজাতকের মৃত্যুর কারণ ছিল, এমন কোনো স্বাধীন চিকিৎসাগত প্রমাণ প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। সন্তান হারানোর এই ঘটনা পরবর্তী সময়ে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিরোধসংক্রান্ত আদালতের নথিতে উঠে আসে। ম্যাককিনসি ও ক্যান্ডিস জ্যাং ২০১১ সালে বিয়ে করেছিলেন। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের পর তাঁদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে উভয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ও কেকিউইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ম্যাককিনসির বিরুদ্ধে রেস্ট্রেইনিং অর্ডারের আবেদন করেন জ্যাং। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে একই বছরের ডিসেম্বরে স্ত্রীর বিরুদ্ধে রেস্ট্রেইনিং অর্ডারের আবেদন করেন ম্যাককিনসি। ওই মাসেই তিনি বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। আদালতের নথিতে ম্যাককিনসি অভিযোগ করেন, ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের কারণে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছ থেকে বৈষম্য এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, একটি অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার সময় শ্বশুর তাঁকে বুকে আঘাত করেছিলেন। শাশুড়ির বিরুদ্ধেও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, ক্যান্ডিস জ্যাং অভিযোগ করেন, ম্যাককিনসি তাঁর এবং সন্তানদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে ম্যাককিনসির বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত দুটি মাইনর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। তবে তিনি উভয় অভিযোগেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তাঁর মৃত্যুর সময়ও ওই মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া চলছিল। দাম্পত্য বিরোধের পাশাপাশি তাঁদের তিন সন্তানকে নিয়ে কাস্টডি বা অভিভাবকত্বের বিরোধও চলছিল। এর মধ্যেই গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন স্পোর্টস গ্রাউন্ডসের পার্কিং লটে গুলিবিদ্ধ হন ম্যাককিনসি। পুলিশ জানায়, বিকেল তিনটার কিছু পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে একাধিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও তদন্তে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে ম্যাককিনসির শ্বশুর শোইয়ং ঝ্যাং এবং শাশুড়ি শিলি চেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দুজনেরই বয়স ৭৭ বছর। আলামেডা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, অভিযুক্ত দম্পতি পরিকল্পিতভাবে ম্যাককিনসিকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপেক্ষা করেছিলেন। পরে পার্কিং লটে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দুজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপেক্ষা করে হত্যার অভিযোগের পাশাপাশি অন্যান্য গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আদালতে অভিযোগ আনার অর্থ অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এদিকে ম্যাককিনসির মৃত্যুর তদন্তে নতুন অগ্রগতির খবরও সামনে এসেছে। এবিসি সেভেনের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর ম্যাককিনসির বিচ্ছিন্ন থাকা স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ডাবলিন পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ওই বাড়ি থেকে তদন্তের জন্য প্রাসঙ্গিক কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে কী ধরনের আলামত উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের এই তল্লাশি বা আলামত সংগ্রহের ঘটনা থেকে ক্যান্ডিস জ্যাং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে এ হত্যাকাণ্ডে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। ম্যাককিনসি নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন। এর আগে একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। জর্জিয়া টেক থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। একদিকে প্রযুক্তি খাতে প্রতিষ্ঠিত কর্মজীবন, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ এবং সন্তানদের অভিভাবকত্ব নিয়ে আইনি লড়াই চলছিল তাঁর জীবনে। সেই বিরোধের মধ্যেই প্রকাশ্য পার্কিং লটে গুলিতে প্রাণ হারান তিনি। তদন্তকারীরা এখনো হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ করেননি। দাম্পত্য বিরোধ ও অতীতের নির্যাতনের অভিযোগগুলো আদালতের নথিতে থাকলেও সেগুলোর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এদিকে মৃত্যুর পর সামনে আসা পুরোনো আদালতের নথি ম্যাককিনসির ব্যক্তিগত জীবনের আরেকটি বেদনাদায়ক অধ্যায় প্রকাশ করেছে। গর্ভধারণ, অকাল প্রসব এবং নবজাতক সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সেখানে রয়েছে দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য নির্ধারণের বিষয়টি এখনো সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
মাত্র আট বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন তালহা বখত। বড় হয়ে চাকরি পান বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এইচপিতে। কিন্তু ক্যারিয়ারে সাফল্যের মধ্যেই আসে চাকরি হারানোর অভিজ্ঞতা। এরপর ব্যবসায় বিনিয়োগ করে প্রায় দুই লাখ ডলার লোকসান গুনতে হয় তাঁকে। এত কিছুর পরও থেমে থাকেননি এই প্রবাসী বাংলাদেশি। নতুন করে ব্যবসা শুরু করে একসময় নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে গড়ে তোলেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসা। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছিলেন, তখন বাফেলোতে তাঁর ১০০টি বাড়ি ছিল। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালহা বখতের যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা শুরু হয় ১৯৯১ সালে। তখন তাঁর বয়স মাত্র আট বছর। পরিবারের সঙ্গে নতুন দেশে এসে বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং পরবর্তী সময়ে চাকরি ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথটি সহজ ছিল না। শিক্ষাজীবনের শুরুতে বাণিজ্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন তালহা। পরে তথ্যপ্রযুক্তিতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে যোগ দেন হিউলেট প্যাকার্ড বা এইচপিতে। সাধারণ বেতনের চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও নিজের দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে দ্রুত পদোন্নতি পান। মাত্র চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি প্রতিষ্ঠানটির এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। তবে চাকরিজীবনের এই সাফল্যও তাঁকে অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত রাখতে পারেনি। পদোন্নতি পেয়ে নতুন একটি বিভাগে যাওয়ার পর সেই বিভাগে কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়। এতে চাকরি হারান তিনি। পরবর্তী সময়ে একই প্রতিষ্ঠান তাঁকে অন্য বিভাগে কাজের সুযোগ দিলেও এই অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত চিন্তাভাবনায় বড় পরিবর্তন আনে। তালহা বুঝতে পারেন, শুধু চাকরির আয়ের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। তাই চাকরির পাশাপাশি ব্যবসার সুযোগ খুঁজতে থাকেন তিনি। অবশ্য উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল আরও আগে। মাত্র ২৪ বছর বয়সে তিনি একটি ব্যাংকুয়েট ব্যবসা শুরু করেন। মূলত বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবসায় একপর্যায়ে তাঁর অধীনে প্রায় ৯০০ জন কাজ করতেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন। এত বড় একটি কর্মীবাহিনী পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁকে ব্যবসার ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্ব সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেয়। পাশাপাশি আর্থিকভাবেও ভালো অবস্থানে পৌঁছেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০০৮ সালে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের পর বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েন তালহা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের বাজার পরিস্থিতিতে প্রায় দুই লাখ ডলার হারান তিনি। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে আবার নতুন করে শুরু করার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। বড় অঙ্কের লোকসানের পর ব্যবসা থেকে পুরোপুরি সরে যাননি তালহা। প্রথমে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেন। এরপর যুক্ত হন মোবাইল এক্সেসরিজের ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসায়। বিভিন্ন খাতে কাজ করতে গিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর রিয়েল এস্টেট ব্যবসার ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ২০১২ সালে তাঁর ব্যবসায়িক জীবনে আসে নতুন মোড়। নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে যান তালহা। সেখানে প্রথমে তিনটি বাড়ি তাঁর পছন্দ হয়। নিজের একটি বাড়ি কেনার যে আমেরিকান ড্রিম নিয়ে তিনি এগোচ্ছিলেন, সেই স্বপ্নই ধীরে ধীরে বড় পরিসরের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় রূপ নিতে শুরু করে। তালহা ২০১৫ সাল পর্যন্ত চাকরি চালিয়ে যান। তবে এর আগেই তিনি রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ শুরু করেছিলেন। একপর্যায়ে দেখতে পান, বাড়িভাড়া ও ব্যবসা থেকে আসা আয় তাঁর চাকরির আয়ের সমপর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এরপর চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি নিজের ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় তাঁর কৌশল ছিল অন্য অনেক বিনিয়োগকারীর তুলনায় আলাদা। বাড়ি কিনে দ্রুত বিক্রি করে মুনাফা করার পরিবর্তে তিনি দীর্ঘমেয়াদে বাড়িগুলো নিজের কাছে রেখে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় এই পদ্ধতি বাই অ্যান্ড হোল্ড নামে পরিচিত। এই পদ্ধতিতে বাড়িভাড়া থেকে নিয়মিত আয় করার পাশাপাশি সম্পত্তির দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ থাকে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, মর্টগেজ, প্রপার্টি ট্যাক্স এবং ভাড়াটিয়াসংক্রান্ত বিভিন্ন ঝুঁকিও রয়েছে। তালহা ২০২২ সালে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছিলেন, তখন বাফেলোতে তাঁর ১০০টি বাড়ি ছিল। তিনি বাড়িগুলো বিক্রি না করে ভাড়া দিচ্ছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে বাড়িগুলোর মূল্যও দুই থেকে তিনগুণ বেড়েছিল। তবে এই ১০০টি বাড়ির তথ্য মূলত তালহার নিজের দেওয়া বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত। ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর মালিকানাধীন বাড়ির বর্তমান সংখ্যা বা সম্পত্তির মোট মূল্য সম্পর্কে নতুন কোনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১০০টি বাড়িকে তাঁর বর্তমান সম্পত্তির সংখ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না। রিয়েল এস্টেট ব্যবসার পাশাপাশি বাফেলোতে কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবসা গড়ে তোলার সঙ্গেও যুক্ত হন তালহা। তাঁর অন্যতম পরিচিত উদ্যোগ আল আকসা সুপার মার্কেট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। নিউইয়র্কের বাফেলো শহরের ১৩৫০ ফিলমোর অ্যাভিনিউতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের ১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন বাফেলো মেয়র বায়রন ব্রাউন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেবিডব্লিউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালহা ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার মোহাম্মদ হাসনাত সুপার মার্কেটটি গড়ে তুলতে প্রায় ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেন। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য আরও ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও সে সময় জানিয়েছিলেন তাঁরা। প্রতিষ্ঠানটি শুধু দক্ষিণ এশীয় খাবার ও হালাল পণ্যের বাজার হিসেবে নয়, স্থানীয় মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহের একটি উদ্যোগ হিসেবেও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে বাফেলোর পূর্বাঞ্চলে মানসম্মত গ্রোসারি ও তাজা খাদ্যপণ্যের সহজলভ্যতা বাড়ানোর বিষয়টি উদ্যোক্তারা গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সুপার মার্কেটটিতে তাজা শাকসবজি, ফলমূল, হালাল মাংস, মাছ, বিভিন্ন ধরনের গ্রোসারি ও দক্ষিণ এশীয় খাদ্যপণ্য বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের তৈরি খাবার। প্রথম আলোর তৎকালীন প্রতিবেদনেও বাফেলোতে আল আকসা সুপার মার্কেটের উদ্বোধন এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ভূমিকার বিষয়টি উঠে আসে। স্থানীয় ব্যবসায়িক তালিকা ও প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অনলাইন তথ্যেও একই ঠিকানায় সুপার মার্কেট ও রেস্টুরেন্টের কার্যক্রমের উল্লেখ রয়েছে। তালহা বখতের ব্যবসায়িক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি একাধিকবার পেশা ও ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করেছেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরি, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, রেস্টুরেন্ট, মোবাইল এক্সেসরিজ এবং রিয়েল এস্টেটের মতো ভিন্ন ভিন্ন খাতে কাজ করেছেন তিনি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া বক্তব্যে তালহা সাফল্যের পেছনে উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা, নিয়মিত পরিশ্রম এবং ব্যর্থতার পর আবার চেষ্টা করার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। তাঁর মতে, শুধু অর্থ উপার্জনের চিন্তার চেয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯১ সালে আট বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সেই বাংলাদেশি শিশুর পরবর্তী জীবনে প্রযুক্তি খাতে চাকরি, বড় আর্থিক ক্ষতি এবং একাধিক ব্যবসায়িক উদ্যোগের অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে। ২০২২ সালে তাঁর নিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাফেলোতে ১০০টি বাড়ির মালিক হওয়ার পাশাপাশি একটি বড় সুপার মার্কেট প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর জীবনের এই ঘটনাগুলো প্রবাসে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার একটি উদাহরণ। তবে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সাফল্যের এই অভিজ্ঞতা অন্য বিনিয়োগকারীর জন্য একই ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয় না। তালহা বখতের গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক, বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এবং চাকরির অনিশ্চয়তার পরও নতুন উদ্যোগ নিয়ে আবার ব্যবসায় ফিরে আসা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে পাঁচ বছরের এক শিশুর উপস্থিতিতে গাড়িতে থাকা এক ব্যক্তিকে গুলি করে আহত করেছেন ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে শহরের মার্বেল হিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে থাকা ব্যক্তি ও শিশুটিকে ঘিরে ফেলার পর একাধিক গুলি চালানো হয়। শিশুটি শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে নিউইয়র্কে আইসিইর সব অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন মেয়র। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে গুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এক বিবৃতিতে মেয়র মামদানি এটিকে অত্যন্ত গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। মামদানির অভিযোগ, ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অভিযানের কারণে নিউইয়র্কের বিভিন্ন কমিউনিটিতে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে পাঁচ বছরের একটি শিশুর উপস্থিতিতে গুলি চালানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে আইসিইর তত্ত্বাবধানকারী যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, ব্রঙ্কসে ডোমিনিকান রিপাবলিকের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করছিলেন কর্মকর্তারা। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ব্যক্তির আগে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানের একপর্যায়ে আইসিইর একজন কর্মকর্তা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালান। এতে অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তি আহত হন। পরে কর্মকর্তারা তাঁকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেন। আহত ব্যক্তি জীবিত রয়েছেন এবং স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছিল, সে বিষয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। আহত ব্যক্তির পূর্ণ পরিচয়, তাঁর শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য এবং গাড়িতে থাকা শিশুটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাস্থলের কাছের একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত পেদ্রো আলমারেজ রয়টার্সকে জানান, গুলির শব্দ শুনে তিনি বাইরে বেরিয়ে আসেন। সেখানে আইসিইর পোশাক পরা বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে দেখতে পান। ঘটনাস্থলে তিন থেকে চারটি গাড়িও ছিল। আলমারেজের ধারণা, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে পারে। তিনি জানান, গুলির প্রায় ১০ মিনিট পর নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অ্যাম্বুলেন্স আসার পর আহত ব্যক্তিকে গাড়ি থেকে বের করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ হলুদ ফিতা দিয়ে ঘটনাস্থলের একটি অংশ ঘিরে ফেলে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের সেখানে একটি গাড়ি পরীক্ষা করতে দেখা যায়। এ সময় পাশের একটি ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শিশুদের নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন বলে জানিয়েছেন রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক। এদিকে মেয়র মামদানি ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ঘটনার ভিন্ন দিক উঠে এসেছে। মেয়র শিশুর উপস্থিতিতে গুলি চালানোর বিষয়টি সামনে এনে অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, এটি নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত অভিযান ছিল। তবে গুলি চালানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন কি না কিংবা কেন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে বিতর্ক ও প্রতিবাদ চলছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ২১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজন মারা গেছেন। সমালোচকদের অভিযোগ, অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার ফলে ফেডারেল কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সহিংস সংঘাত বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। নিউইয়র্কের সর্বশেষ ঘটনাটি সেই বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের শিশুর উপস্থিতিতে গুলি চালানোর বিষয়টি নিয়ে মেয়রের কঠোর প্রতিক্রিয়া এবং আইসিইর অভিযান বন্ধের দাবি সামনে এসেছে। আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চললেও গুলি চালানোর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে মেয়র মামদানি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে নিউইয়র্কে আইসিইর সব অভিযান বন্ধের দাবি জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স।
হংকংয়ে ১৯৯২ সালে এক বিরল জেনেটিক রোগ নিয়ে জন্ম নেন মুই থমাস। জন্মের পরপরই তার নিজের বাবা ও মা তাকে হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যান। চিকিৎসকরাও তখন আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তারা ধারণা করেছিলেন যে এই শিশু হয়তো শৈশব পার হতে পারবে না। কিন্তু ভাগ্যের লিখন ছিল অন্যরকম। অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং এক দম্পতির নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় সেই মুই আজ ৩৩ বছর বয়সে এসে একজন সফল ইয়োগা প্রশিক্ষক এবং রাগবি রেফারি হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন। মুই থমাস জন্মগতভাবে হারলেকুইন ইচথিওসিস নামের এক অত্যন্ত বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এই রোগের কারণে রোগীর পুরো শরীর পুরু ও শক্ত চামড়ার আবরণে ঢাকা থাকে যা ফেটে গিয়ে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি করে। এর ফলে রোগীর শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং শরীরে সহজেই বড় ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। নব্বইয়ের দশকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই রোগটিকে প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। চিকিৎসকদের ধারণা ছিল এই রোগে আক্রান্ত প্রায় কেউই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে না। তবে শিশুটির জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন তার বয়স আঠারো মাস। ফস্টার কেয়ার প্রোগ্রামের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে আসা রগ এবং টিনা থমাস নামের এক দম্পতির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সময় এই দম্পতির দত্তক নেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না বরং তারা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু টিনা যখনই হাসপাতালে মুইকে দেখতে যেতেন তখন শিশুটির সঙ্গে তার এক অদ্ভুত মায়াবী সম্পর্ক তৈরি হয়। টিনা যখন হাসপাতাল থেকে চলে আসতে চাইতেন তখন মুই তার জন্য অঝোরে কাঁদতেন। শিশুটির এই কান্না টিনাকে মানসিকভাবে প্রবল নাড়া দেয়। এরপর দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি সময় আইনি ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে তারা মুইকে নিজেদের কাছে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকরা তাদের বারবার সতর্ক করেছিলেন যে শিশুটি যেকোনো সময় মারা যেতে পারে। কিন্তু রগ ও টিনা তাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। হাসপাতালে মুইয়ের প্রতিটি চিকিৎসাকালীন সময়ে টিনা রাতের পর রাত তার বিছানার পাশে মেঝেতে ঘুমিয়েছেন। তাদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসাই মুইকে নতুন এক জীবন উপহার দেয়। দীর্ঘ লড়াই শেষে ৩৩ বছর বয়সী মুই থমাস আজ সমাজের সব প্রতিকূলতাকে জয় করেছেন। তিনি বর্তমানে একজন ইয়োগা প্রশিক্ষক এবং বিশ্বের প্রথম রাগবি রেফারি যিনি এই বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েও মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক গঠনের কারণে তাকে অনেক মানসিক নির্যাতন বা বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছিল। তবে সেই কষ্টকেই তিনি নিজের শক্তি বানিয়ে দ্য গার্ল বিহাইন্ড দ্য ফেস নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি সমাজের সব ধরনের কুসংস্কার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন।
লেজারের সাহায্যে শরীরের অবাঞ্ছিত লোম দূর করার পর ত্বকে ছোট ছোট লাল ফোলা দানা দেখা দিতে পারে। এমন দৃশ্য দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর একটি সাধারণ কারণ হলো চুলের গোড়ার চারপাশে সাময়িক ফোলা ও প্রদাহ, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘পেরিফলিকুলার ইডিমা’। স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম ইউপিএসওসিএল ৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, লেজার চিকিৎসার পর ত্বকে এমন প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও তা সব সময় গুরুতর জটিলতার ইঙ্গিত দেয় না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেজার হেয়ার রিমুভালের পর লাল দানায় ভরা ত্বকের কয়েকটি ছবি এক বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠিয়ে এর কারণ জানতে চাওয়া হয়েছিল। ছবিতে চিকিৎসা করা স্থানে ছোট ছোট লাল ও ফোলা দানা দেখা যায়। বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই প্রতিক্রিয়ার একটি সম্ভাব্য কারণ হলো লেজারের তাপ চুলের গোড়ার আশপাশের টিস্যুতে প্রভাব ফেলা। সাধারণত চুলের রং তৈরি করে মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থ। লেজার সেই রঞ্জককে লক্ষ্য করে তাপ তৈরি করে, যা চুলের গোড়ার আশপাশের অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। চুল যে অংশ থেকে জন্মায়, সেই গোড়াকে ঘিরে থাকা টিস্যুতে তাপের প্রভাবে সাময়িক প্রদাহ তৈরি হতে পারে। ফলে ত্বকের ওপর ছোট ছোট লালচে ফোলা দানা দেখা দেয়। এই প্রতিক্রিয়া চেনার একটি লক্ষণ হলো, দানাগুলো সাধারণত ওই এলাকার চুলের গোড়ার বিন্যাস অনুসরণ করে দেখা যায়। তবে ত্বকে লাল দানা দেখা গেলেই সেটিকে পেরিফলিকুলার ইডিমা বলে নিশ্চিত করা যায় না। ত্বকের ধরন, লেজারের মাত্রা, চিকিৎসার পদ্ধতি এবং অন্য কোনো জটিলতা আছে কি না, সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের ফোলা সাধারণত লেজার চিকিৎসার পরপরই দেখা দিতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে তা নিজে থেকেই কমে যায়। আক্রান্ত স্থানে ঠান্ডা সেঁক দেওয়া, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং অতিরিক্ত গরম পরিবেশ থেকে দূরে থাকা ত্বকের অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী, ত্বকে জ্বালা তৈরি করতে পারে এমন উপাদান এবং কঠোর ত্বক পরিচর্যার পণ্য সাময়িকভাবে এড়িয়ে চলা ভালো। তবে ত্বকে বরফ সরাসরি লাগানো বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিভিন্ন ওষুধ ও ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়। কিছু লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টিকে সাধারণ প্রতিক্রিয়া ভেবে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। ফোসকা পড়া, ক্ষত বা খোসা তৈরি হওয়া, তীব্র ব্যথা, ত্বকে কালচে দাগ দেখা দেওয়া কিংবা কয়েক দিন পরও প্রদাহ না কমার মতো সমস্যা হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এসব লক্ষণ কখনো কখনো ত্বকে পুড়ে যাওয়ার ক্ষত বা অন্য কোনো জটিলতার ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে লেজার চিকিৎসার পর উপসর্গ বাড়তে থাকলে বা আক্রান্ত স্থানে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞের বার্তায় আরেকটি বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। অবাঞ্ছিত লোম দূর করার জন্য লেজার চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত হওয়া উচিত। অন্য কারও চাপ, সামাজিক প্রত্যাশা কিংবা সৌন্দর্য সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার কারণে কাউকে এ ধরনের চিকিৎসা নিতে বাধ্য করা ঠিক নয়। লেজার হেয়ার রিমুভাল একটি প্রসাধনভিত্তিক চিকিৎসাপদ্ধতি হলেও এর কিছু ঝুঁকি, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই চিকিৎসা শুরুর আগে নিজের ত্বকের ধরন, সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং পরবর্তী যত্ন সম্পর্কে জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। লেজার চিকিৎসার নিরাপত্তা অনেকটাই নির্ভর করে সঠিক যন্ত্র নির্বাচন, উপযুক্ত মাত্রা নির্ধারণ এবং প্রশিক্ষিত পেশাজীবীর মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়ার ওপর। ত্বকের রং, চুলের ধরন ও কিছু শারীরিক অবস্থার কারণে একই চিকিৎসায় মানুষের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। তাই চিকিৎসার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করা এবং চিকিৎসার পর দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
বৃহস্পতিবারের আদেশে ন্যাশভিলের ডেভিডসন কাউন্টি চ্যান্সারি কোর্টের বিচারক আইশিয়া মাইলস জানান, মামলাটি শুনানির জন্য এই আদালতই উপযুক্ত। পাইকের আইনজীবীরা আগে থেকেই টেনেসির প্রাণঘাতী ইনজেকশন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁদের দাবি, অঙ্গরাজ্যের নতুন পদ্ধতিতে এক ধরনের ওষুধ, পেন্টোবারবিটাল, ব্যবহার করা হলেও প্রয়োগের গোপনীয়তা, যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব এবং চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট কাজে কারা দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিয়ে গুরুতর সমস্যা রয়েছে। তাঁদের মতে, পাইকের শারীরিক অবস্থার কারণে এই পদ্ধতি তাঁর ক্ষেত্রে অসাংবিধানিক হতে পারে। পাইক গত ৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসির রিভারবেন্ড সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাঁর শরীরে দুই দফা পেন্টোবারবিটাল প্রয়োগ করা হলেও তিনি মারা যাননি। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত প্রক্রিয়া চলাকালে তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন চালু ছিল। পরে তাঁকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে যাওয়া প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি বলে বর্ণনা করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। পাইকের আইনজীবীরা আগে থেকেই তাঁর শিরায় সুচ প্রবেশ করানোর জটিলতা এবং রক্তসংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, ইনজেকশন প্রয়োগের সময় অন্তত সাতটি সুচ ব্যবহার করা হয় এবং একটি সুচ বাঁকা হয়ে বেরিয়ে আসে। তাঁদের দাবি, ওষুধ শিরার বাইরে আশপাশের টিস্যুতে প্রবেশ করায় তাঁর দুই হাতে গুরুতর ফোলা ও ক্ষত তৈরি হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে আইনজীবীরা এখন সংশ্লিষ্ট নথি ও চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছেন। অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়কার প্রমাণ ইতিমধ্যে সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করা হয়েছে। আদালতের সাম্প্রতিক আদেশে টেনেসি সংশোধন বিভাগকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওষুধ, সিরিঞ্জ, শিরায় ওষুধ দেওয়ার নল, অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী, ছবি, ভিডিও, অডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ, ই-মেইল এবং ঘটনার সময় কোনো জটিলতা বা বিলম্বের নথি সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। আগে কোনো তথ্য বা সামগ্রী মুছে ফেলা কিংবা নষ্ট করা হয়ে থাকলে, তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টাও করতে হবে। পাইকের আইনজীবীরা বলেছেন, তাঁদের তাৎক্ষণিক দাবি সব প্রমাণ হাতে পাওয়া নয়, বরং ভবিষ্যৎ আইনি লড়াইয়ের জন্য সেগুলো অক্ষত রাখা। পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা ১৯৯৫ সালের একটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর। আদালতের নথি অনুযায়ী, টেনেসির নক্সভিলে জব কর্পসের সহপাঠী ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় পাইক দোষী সাব্যস্ত হন। প্রসিকিউশনের বক্তব্য ছিল, পাইক ও আরও দুজন কিশোর-কিশোরী স্লেমারকে একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর টেনেসির গভর্নর বিল লি ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রম স্থগিত করেন এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেন। চলতি বছর টেনেসিতে এটি ছিল দ্বিতীয় ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। এর আগে বসন্তে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া প্রয়োজনীয় বিকল্প শিরাপথ স্থাপন করা না যাওয়ায় বন্ধ করা হয়েছিল। এসব ঘটনার পর অঙ্গরাজ্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি ও তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পাইক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং কথা বলতে পারছেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি এখনো অনিশ্চিত। তাঁর হাতে রক্ত জমাট বাঁধা ও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং হাতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কতটা ফিরবে, তা চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করতে পারেননি। আইনজীবীরা তাঁর চিকিৎসা ও আইনি পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা গভর্নর লির কাছে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে আইনি প্রশ্নগুলো আবার সামনে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে মামলার মূল অভিযোগের শুনানি শেষে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একইভাবে, স্থগিতাদেশের পর টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কার্যক্রম কখন আবার শুরু হবে, সে বিষয়েও কোনো নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার লেক নোনায় কাপকেকের ব্যবসা গড়ে তুলে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন সান্দ্রা শর্টার। একসময় তাঁর স্বপ্ন ছিল আইনজীবী কিংবা প্রকৌশলী হওয়ার। পরে শিশুদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ থেকে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। তবে জীবনের পথ তাঁকে নিয়ে যায় ভিন্ন এক জায়গায়। প্রায় ১০ বছর আগে একটি খাবারের ট্রাক দিয়ে শুরু করা তাঁর কাপকেকের ব্যবসা এখন লেক নোনায় বেকারিতে রূপ নিয়েছে। ‘দ্য নেকেড কাপকেক’ নামের এই প্রতিষ্ঠান শুধু মিষ্টান্ন বিক্রির জায়গা নয়, বরং মানুষের জন্য আন্তরিক ও আপন পরিবেশ তৈরির একটি উদ্যোগ হিসেবেও গড়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডোর এক প্রতিবেদনে সান্দ্রার এই পথচলার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক দশক আগে নিজের একটি ধারণার ওপর ভরসা করে তিনি খাবারের ট্রাক চালু করেন। নতুন ব্যবসা শুরু করার সেই সময়টি তাঁর কাছে ছিল আবেগ ও অনিশ্চয়তায় ভরা। ট্রাক নিয়ে প্রথমবার আন্তঃরাজ্য মহাসড়ক আই-৪-এ ওঠার স্মৃতি এখনো মনে আছে তাঁর। সান্দ্রা বলেন, প্রথমবার ট্রাকটি নিয়ে মহাসড়কে ওঠার সময় তাঁর চোখে পানি চলে এসেছিল। নিজের উদ্যোগকে বাস্তবে রূপ নিতে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, এটি সত্যিই তাঁর নিজের কিছু। সেই ছোট উদ্যোগ ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। খাবারের ট্রাক থেকে ব্যবসাটি একসময় স্থায়ী বেকারিতে পরিণত হয়, যার অবস্থান ফ্লোরিডার লেক নোনা এলাকায়। তবে সান্দ্রার কাছে ব্যবসার সাফল্যের অর্থ কেবল কাপকেক বিক্রি কিংবা আয় বাড়ানো নয়। তিনি চান, তাঁর প্রতিষ্ঠানে আসা মানুষ যেন স্বস্তি অনুভব করেন এবং নিজেদের আপনজনের ঘরে এসেছেন বলে মনে করেন। গ্রাহকদের জীবনের বিশেষ মুহূর্তগুলোর অংশ হতে পারাটাই তাঁর কাছে বড় আনন্দের। সান্দ্রার ভাষায়, তিনি চান ক্রেতারা যেন এমন অনুভূতি পান, যেন তাঁরা কোনো প্রতিবেশীর বাড়িতে প্রবেশ করেছেন। সান্দ্রার এই দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে রয়েছে তাঁর পারিবারিক ইতিহাস। তাঁর বাবা-মা দুজনই কলম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। নতুন দেশে জীবন গড়তে তাঁদের যে ত্যাগ ও পরিশ্রম করতে হয়েছে, তা সান্দ্রাকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখতে শিখিয়েছে। শৈশব ও পারিবারিক অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া সেই শিক্ষা পরবর্তী সময়ে তাঁর কর্মজীবনেও প্রভাব ফেলেছে। শিক্ষকতা করার সময় তিনি মূলত স্বল্প আয়ের এবং হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর বসবাস বেশি এমন এলাকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তখন তিনি বিশেষ করে মেয়েদের সামনে এমন একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে চেয়েছিলেন, যাতে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় করে ভাবতে পারে। শিক্ষকতা ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পরও সেই ভাবনা তাঁর কাজের সঙ্গে রয়ে গেছে। সান্দ্রা মনে করেন, মানুষকে অনুপ্রাণিত করার জন্য সব সময় বড় কোনো পদে থাকা প্রয়োজন হয় না। নিজের কাজের মধ্য দিয়েও অন্যদের সামনে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দেওয়া যায়। একসময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করতেন তিনি। এখন নিজের ব্যবসার মাধ্যমে সেই একই বার্তা পৌঁছে দিতে চান। তাঁর যাত্রা দেখায়, পরিচিত পেশার বাইরে গিয়েও নতুন উদ্যোগ শুরু করা সম্ভব, যদি নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকে এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা বজায় থাকে। ব্যবসা শুরুর ১০ বছর পরও সান্দ্রার কাছে অনেক মুহূর্ত অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়। পেছনে ফিরে শুরুর দিনের নিজের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে তিনি তাঁকে এগিয়ে যেতে বলতেন। তাঁর মতে, সফল হওয়ার জন্য নিজের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখা এবং বাধা এলেও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। তিনি বলেন, অধ্যবসায় ধরে রাখতে হবে এবং বুঝতে হবে, নিজের মধ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রয়েছে। এই বিশ্বাস নিয়েই তিনি এক দশক ধরে নিজের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সান্দ্রা কখনো বেকার হওয়ার পরিকল্পনা করেননি। কিন্তু শিক্ষকতা থেকে শুরু হওয়া তাঁর কর্মজীবন তাঁকে এমন একটি ব্যবসার মালিক করেছে, যেখানে তিনি নিজের মতো করে মানুষের জীবনে আনন্দ যোগ করতে পারছেন। কাপকেক তৈরির পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য আন্তরিক পরিবেশ তৈরি করাই এখন তাঁর উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। লেক নোনায় ‘দ্য নেকেড কাপকেক’-এর মাধ্যমে তাঁর এই যাত্রা শুধু একটি ব্যবসা গড়ে তোলার গল্প নয়, বরং পারিবারিক শিক্ষা, নিজের ওপর বিশ্বাস এবং দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার উদাহরণও। সূত্র: ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো।