সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

শূন্য থেকে ‘বাফেলোর প্রিন্স’: একসময় চাকরি হারানো বাংলাদেশি তালহা বখতের ১০০ বাড়ি

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ০:৪৯
বড় ধরনের লোকসান কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় অনন্য সফলতার নজির গড়েছেন তালহা বখত। ছবি: সংগৃহীত
বড় ধরনের লোকসান কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় অনন্য সফলতার নজির গড়েছেন তালহা বখত। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র আট বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন তালহা বখত। বড় হয়ে চাকরি পান বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এইচপিতে। কিন্তু ক্যারিয়ারে সাফল্যের মধ্যেই আসে চাকরি হারানোর অভিজ্ঞতা। এরপর ব্যবসায় বিনিয়োগ করে প্রায় দুই লাখ ডলার লোকসান গুনতে হয় তাঁকে। এত কিছুর পরও থেমে থাকেননি এই প্রবাসী বাংলাদেশি। নতুন করে ব্যবসা শুরু করে একসময় নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে গড়ে তোলেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসা। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছিলেন, তখন বাফেলোতে তাঁর ১০০টি বাড়ি ছিল।

 

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালহা বখতের যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা শুরু হয় ১৯৯১ সালে। তখন তাঁর বয়স মাত্র আট বছর। পরিবারের সঙ্গে নতুন দেশে এসে বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং পরবর্তী সময়ে চাকরি ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথটি সহজ ছিল না।

 

শিক্ষাজীবনের শুরুতে বাণিজ্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন তালহা। পরে তথ্যপ্রযুক্তিতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে যোগ দেন হিউলেট প্যাকার্ড বা এইচপিতে। সাধারণ বেতনের চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও নিজের দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে দ্রুত পদোন্নতি পান। মাত্র চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি প্রতিষ্ঠানটির এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান।

 

তবে চাকরিজীবনের এই সাফল্যও তাঁকে অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত রাখতে পারেনি। পদোন্নতি পেয়ে নতুন একটি বিভাগে যাওয়ার পর সেই বিভাগে কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়। এতে চাকরি হারান তিনি। পরবর্তী সময়ে একই প্রতিষ্ঠান তাঁকে অন্য বিভাগে কাজের সুযোগ দিলেও এই অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত চিন্তাভাবনায় বড় পরিবর্তন আনে।

 

তালহা বুঝতে পারেন, শুধু চাকরির আয়ের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। তাই চাকরির পাশাপাশি ব্যবসার সুযোগ খুঁজতে থাকেন তিনি।

 

অবশ্য উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল আরও আগে। মাত্র ২৪ বছর বয়সে তিনি একটি ব্যাংকুয়েট ব্যবসা শুরু করেন। মূলত বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবসায় একপর্যায়ে তাঁর অধীনে প্রায় ৯০০ জন কাজ করতেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

 

এত বড় একটি কর্মীবাহিনী পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁকে ব্যবসার ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্ব সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেয়। পাশাপাশি আর্থিকভাবেও ভালো অবস্থানে পৌঁছেছিলেন তিনি।

 

কিন্তু ২০০৮ সালে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের পর বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েন তালহা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের বাজার পরিস্থিতিতে প্রায় দুই লাখ ডলার হারান তিনি। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে আবার নতুন করে শুরু করার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়।

 

বড় অঙ্কের লোকসানের পর ব্যবসা থেকে পুরোপুরি সরে যাননি তালহা। প্রথমে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেন। এরপর যুক্ত হন মোবাইল এক্সেসরিজের ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসায়। বিভিন্ন খাতে কাজ করতে গিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর রিয়েল এস্টেট ব্যবসার ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

 

২০১২ সালে তাঁর ব্যবসায়িক জীবনে আসে নতুন মোড়। নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে যান তালহা। সেখানে প্রথমে তিনটি বাড়ি তাঁর পছন্দ হয়। নিজের একটি বাড়ি কেনার যে আমেরিকান ড্রিম নিয়ে তিনি এগোচ্ছিলেন, সেই স্বপ্নই ধীরে ধীরে বড় পরিসরের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় রূপ নিতে শুরু করে।

 

তালহা ২০১৫ সাল পর্যন্ত চাকরি চালিয়ে যান। তবে এর আগেই তিনি রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ শুরু করেছিলেন। একপর্যায়ে দেখতে পান, বাড়িভাড়া ও ব্যবসা থেকে আসা আয় তাঁর চাকরির আয়ের সমপর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এরপর চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি নিজের ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

 

রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় তাঁর কৌশল ছিল অন্য অনেক বিনিয়োগকারীর তুলনায় আলাদা। বাড়ি কিনে দ্রুত বিক্রি করে মুনাফা করার পরিবর্তে তিনি দীর্ঘমেয়াদে বাড়িগুলো নিজের কাছে রেখে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় এই পদ্ধতি বাই অ্যান্ড হোল্ড নামে পরিচিত।

 

এই পদ্ধতিতে বাড়িভাড়া থেকে নিয়মিত আয় করার পাশাপাশি সম্পত্তির দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ থাকে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, মর্টগেজ, প্রপার্টি ট্যাক্স এবং ভাড়াটিয়াসংক্রান্ত বিভিন্ন ঝুঁকিও রয়েছে।

 

তালহা ২০২২ সালে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছিলেন, তখন বাফেলোতে তাঁর ১০০টি বাড়ি ছিল। তিনি বাড়িগুলো বিক্রি না করে ভাড়া দিচ্ছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে বাড়িগুলোর মূল্যও দুই থেকে তিনগুণ বেড়েছিল।

 

তবে এই ১০০টি বাড়ির তথ্য মূলত তালহার নিজের দেওয়া বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত। ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর মালিকানাধীন বাড়ির বর্তমান সংখ্যা বা সম্পত্তির মোট মূল্য সম্পর্কে নতুন কোনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১০০টি বাড়িকে তাঁর বর্তমান সম্পত্তির সংখ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।

 

রিয়েল এস্টেট ব্যবসার পাশাপাশি বাফেলোতে কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবসা গড়ে তোলার সঙ্গেও যুক্ত হন তালহা। তাঁর অন্যতম পরিচিত উদ্যোগ আল আকসা সুপার মার্কেট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট।

 

নিউইয়র্কের বাফেলো শহরের ১৩৫০ ফিলমোর অ্যাভিনিউতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের ১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন বাফেলো মেয়র বায়রন ব্রাউন।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেবিডব্লিউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালহা ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার মোহাম্মদ হাসনাত সুপার মার্কেটটি গড়ে তুলতে প্রায় ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেন। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য আরও ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও সে সময় জানিয়েছিলেন তাঁরা।

 

প্রতিষ্ঠানটি শুধু দক্ষিণ এশীয় খাবার ও হালাল পণ্যের বাজার হিসেবে নয়, স্থানীয় মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহের একটি উদ্যোগ হিসেবেও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে বাফেলোর পূর্বাঞ্চলে মানসম্মত গ্রোসারি ও তাজা খাদ্যপণ্যের সহজলভ্যতা বাড়ানোর বিষয়টি উদ্যোক্তারা গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

 

সুপার মার্কেটটিতে তাজা শাকসবজি, ফলমূল, হালাল মাংস, মাছ, বিভিন্ন ধরনের গ্রোসারি ও দক্ষিণ এশীয় খাদ্যপণ্য বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের তৈরি খাবার।


প্রথম আলোর তৎকালীন প্রতিবেদনেও বাফেলোতে আল আকসা সুপার মার্কেটের উদ্বোধন এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ভূমিকার বিষয়টি উঠে আসে। স্থানীয় ব্যবসায়িক তালিকা ও প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অনলাইন তথ্যেও একই ঠিকানায় সুপার মার্কেট ও রেস্টুরেন্টের কার্যক্রমের উল্লেখ রয়েছে।

 

তালহা বখতের ব্যবসায়িক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি একাধিকবার পেশা ও ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করেছেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরি, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, রেস্টুরেন্ট, মোবাইল এক্সেসরিজ এবং রিয়েল এস্টেটের মতো ভিন্ন ভিন্ন খাতে কাজ করেছেন তিনি।

 

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া বক্তব্যে তালহা সাফল্যের পেছনে উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা, নিয়মিত পরিশ্রম এবং ব্যর্থতার পর আবার চেষ্টা করার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। তাঁর মতে, শুধু অর্থ উপার্জনের চিন্তার চেয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

১৯৯১ সালে আট বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সেই বাংলাদেশি শিশুর পরবর্তী জীবনে প্রযুক্তি খাতে চাকরি, বড় আর্থিক ক্ষতি এবং একাধিক ব্যবসায়িক উদ্যোগের অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে। ২০২২ সালে তাঁর নিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাফেলোতে ১০০টি বাড়ির মালিক হওয়ার পাশাপাশি একটি বড় সুপার মার্কেট প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

 

তাঁর জীবনের এই ঘটনাগুলো প্রবাসে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার একটি উদাহরণ। তবে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সাফল্যের এই অভিজ্ঞতা অন্য বিনিয়োগকারীর জন্য একই ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয় না। তালহা বখতের গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক, বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এবং চাকরির অনিশ্চয়তার পরও নতুন উদ্যোগ নিয়ে আবার ব্যবসায় ফিরে আসা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের লনে ঘাস খাচ্ছে ঐতিহাসিক হলস্টাইন জাতের গাভী পলিন ওয়েন। ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসের গাভীকে জবাইখানা থেকে উদ্ধার, দুধ চুরি করেছিলেন শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের একটি গাভী ট্রেনে করে প্রদর্শনীতে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়ে প্রায় জবাইখানায় পৌঁছে গিয়েছিল। পরে সেটিকে উদ্ধার করা হয়। শুধু তাই নয়, একবার এক শিক্ষক হোয়াইট হাউসের লনে ঢুকে গোপনে ওই গাভীর দুধ দোহন করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ২৭তম প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফটের আমলে পলিন ওয়েন নামের গাভীটিকে ঘিরে ঘটেছিল এসব ঘটনা। এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো সেই কাহিনি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   হোয়াইট হাউস হিস্টোরিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল পেট মিউজিয়ামের ঐতিহাসিক বিবরণে পলিন ওয়েনকে ঘিরে এসব ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে গাভী পালন করা হতো। সেখান থেকেই প্রেসিডেন্টের পরিবারের জন্য দুধ ও মাখনের ব্যবস্থা করা হতো। পলিন ছিল এমনই একটি গাভী, যেটি পরবর্তী সময়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়।   উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফট ১৯০৯ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাঁর সময়েই হোয়াইট হাউসে পলিন ওয়েনের আগমন ঘটে। তবে পলিনই সেখানে প্রথম গাভী ছিল না। এর আগে প্রেসিডেন্টের পরিবারের জন্য দুধ সরবরাহ করত মুলি উলি নামের আরেকটি গাভী। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ১৯১০ সালে অতিরিক্ত ওটস খাওয়ার পর গাভীটি মারা যায়।   মুলি উলির মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্ট পরিবারের জন্য নতুন গাভীর ব্যবস্থা করেন উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সিনেটর আইজ্যাক স্টিফেনসন। নিজের খামার থেকে হলস্টেইন জাতের পলিন ওয়েনকে উপহার হিসেবে পাঠান তিনি। হোয়াইট হাউস হিস্টোরিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯১০ সালের ৩ নভেম্বর গাভীটি ওয়াশিংটনে পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে দুধ সরবরাহের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট পরিবারের বিশেষ পোষা প্রাণী হিসেবেও পরিচিতি পায় পলিন।   উইসকনসিন থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় ট্রেনে করে রাজধানীতে আনা হয় গাভীটিকে। ওয়াশিংটনের ইউনিয়ন স্টেশনে হোয়াইট হাউসের কর্মীরা সেটিকে গ্রহণ করেন। এরপর নিয়ে যাওয়া হয় প্রেসিডেন্ট ভবনের আস্তাবলে। পরে হোয়াইট হাউসের কাছের সবুজ লনে ঘাস খাওয়ার সুযোগ পায় পলিন। পরদিনই মার্কিন সংবাদমাধ্যমে তার আগমনের খবর প্রকাশিত হয়।   পলিন ছিল উন্নত জাতের দুধ উৎপাদনকারী গাভী। তৎকালীন সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে আসার সময় প্রতিদিন প্রায় সাড়ে সাত গ্যালন বা ২৮ লিটার দুধ দিত সে। পরবর্তী সময়ে তার দুধ উৎপাদনের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়। তবে প্রেসিডেন্ট পরিবারের জন্য নিয়মিত দুধ সরবরাহে গাভীটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   হোয়াইট হাউসে থাকার সময় একটি বাছুরের জন্ম দেয় পলিন। বাছুরটির নাম রাখা হয় বিগ বিল। পরে সেটিকে মেরিল্যান্ডের একটি খামারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে প্রেসিডেন্ট পরিবারের গাভী হিসেবে পলিনের পরিচিতি দ্রুত বাড়তে থাকে। তার চলাফেরা থেকে শুরু করে দুধ উৎপাদন, সবকিছুই তখন সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে।   ১৯১১ সালে উইসকনসিনের মিলওয়াকিতে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক দুগ্ধ প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার জন্য পলিনকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সেই যাত্রায় ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। প্রেসিডেন্টের গাভীটিকে একটি বিশেষ রেলবগিতে করে পাঠানো হচ্ছিল। একই ট্রেনের সঙ্গে আরও কয়েকটি পশুবাহী বগি যুক্ত ছিল, যেগুলোর গন্তব্য ছিল শিকাগোর পশুর বাজার ও জবাইখানা।   যাত্রাপথে রেলকর্মীদের ভুলে পলিনকে বহনকারী বগিটি অন্যদিকে চলে যায়। ফলে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিবর্তে গাভীটি নিখোঁজ হয়ে পড়ে। পলিনকে খুঁজে না পেয়ে হোয়াইট হাউসের কর্মী ও প্রদর্শনীর আয়োজকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিভিন্ন স্থানে টেলিগ্রাম পাঠিয়ে গাভীটির অবস্থান জানার চেষ্টা শুরু হয়।   প্রেসিডেন্সিয়াল পেট মিউজিয়ামের ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, প্রায় দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর পলিনকে শিকাগোর পশুর বাজারসংশ্লিষ্ট একটি স্থানে খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে কর্মীদের বোঝানো হয়, এটি সাধারণ কোনো গাভী নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পরিবারের গাভী। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে জবাই হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা হয়।   এই ঘটনাটি সে সময় মার্কিন সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। একটি রেলবগির ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে প্রেসিডেন্টের গাভী প্রায় জবাইখানায় পৌঁছে গিয়েছিল। তৎকালীন মার্কিন সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস ও মিলওয়াকি সেন্টিনেলের প্রতিবেদনের বরাতে প্রেসিডেন্সিয়াল পেট মিউজিয়াম ঘটনাটির বিস্তারিত তুলে ধরেছে।   তবে পলিনকে ঘিরে অস্বাভাবিক ঘটনার এখানেই শেষ নয়। ১৯১২ সালের সেপ্টেম্বরে ঘটে আরেকটি ঘটনা। এবার গাভীটি নিখোঁজ হয়নি, বরং তার দুধ নিয়ে ঘটে এক অভিনব কাণ্ড। ঐতিহাসিক সংবাদপত্র মিলওয়াকি সেন্টিনেলের প্রতিবেদনের বরাতে প্রেসিডেন্সিয়াল পেট মিউজিয়াম জানায়, ওহাইও থেকে ওয়াশিংটনে বেড়াতে আসেন কৃষিবিষয়ক একজন শিক্ষক।   হোয়াইট হাউসের দক্ষিণের লনে পলিনকে ঘাস খেতে দেখে ওই শিক্ষকের কৌতূহল হয়। আশপাশে নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি না দেখে তিনি গাভীটির কাছে এগিয়ে যান। এরপর গোপনে পলিনের দুধ দোহন করেন। তৎকালীন সংবাদমাধ্যমের বিবরণ অনুযায়ী, শিক্ষক পরে দাবি করেন, প্রেসিডেন্টের গাভীর দুধের স্বাদ সম্পর্কে তিনি যেমন শুনেছিলেন, বাস্তবেও তেমনই ভালো লেগেছে তাঁর।   তবে ওই শিক্ষক গাভীটিকে চুরি করে নিয়ে যাননি। তিনি গোপনে গাভীটির দুধ দোহন করেছিলেন। এ কারণে ঘটনাটিকে গাভী চুরির ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক নয়। প্রেসিডেন্টের পরিবারের গাভীকে ঘিরে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা তখন সংবাদপত্রেও প্রকাশিত হয়।   পলিনের জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়েছিল যে তার দুধ উৎপাদন, প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ ও দৈনন্দিন চলাফেরার খবরও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হতো। হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক ছবিতেও গাভীটির উপস্থিতি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের সংগ্রহে সংরক্ষিত ছবিতে প্রেসিডেন্ট ভবনের আশপাশের লনে পলিনকে দেখা যায়।   সেই সময় হোয়াইট হাউসের আস্তাবলে ঘোড়ার পাশাপাশি গাভী রাখার ব্যবস্থাও ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্যাফটের শাসনামলে মোটরগাড়ির ব্যবহার শুরু হওয়ায় ভবনটির পরিবহনব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছিল। ১৯১১ সালে পুরোনো আস্তাবল ও গ্যারেজসংক্রান্ত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার ইতিহাসও রয়েছে। তবে এসব পরিবর্তনের মধ্যেও পলিন হোয়াইট হাউসে থাকতে থাকে।   দীর্ঘদিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে থাকার পর পলিনের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে, ওয়াশিংটনের পরিবেশ ও ব্যস্ততার মধ্যে গাভীটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। এ কারণে প্রেসিডেন্ট ট্যাফটের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় সেটিকে আবার উইসকনসিনের আগের খামারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   ১৯১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পলিনকে উইসকনসিনের খামারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে গাভীটির অবসরজীবন কাটানোর ব্যবস্থা করা হয়। প্রেসিডেন্টের পরিবারের জন্য নিয়মিত দুধ সরবরাহ করা গাভীটির বিদায়ের খবরও সে সময় মার্কিন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়।   পলিন ওয়েনকে হোয়াইট হাউসে বসবাসকারী সর্বশেষ প্রেসিডেন্সিয়াল গাভী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমলে সরকারি বাসভবনে কুকুর, বিড়াল ও পাখিসহ নানা ধরনের পোষা প্রাণী রাখা হয়েছে। তবে দুধ সরবরাহকারী গাভী হিসেবে পলিনের অবস্থান মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল ইতিহাসে আলাদা।   হোয়াইট হাউস হিস্টোরিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের সময় ভবনটির দক্ষিণের লনে ভেড়াও চরানো হতো। এসব ভেড়া ঘাস ছোট রাখার কাজে ভূমিকা রাখত। পরে ভেড়ার পশম বিক্রি করে রেডক্রসের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল।   অন্যদিকে প্রেসিডেন্সিয়াল পেট মিউজিয়ামের সংগ্রহে পলিনের ব্যবহৃত গলার ঘণ্টাটিও সংরক্ষিত রয়েছে। এক শতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেটি হোয়াইট হাউসের অতীত জীবনের একটি স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়।   বর্তমানের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সেই সময়ের পরিবেশের পার্থক্যও এসব ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে উঠে আসে। যে লনে একসময় প্রেসিডেন্টের গাভী ঘাস খেত এবং পরিবারের জন্য দুধ সরবরাহ করত, সেই ভবনেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।   প্রেসিডেন্ট ট্যাফটের আমলের পলিন ওয়েনের গল্প তাই শুধু একটি গাভীর ইতিহাস নয়। ট্রেনে নিখোঁজ হয়ে জবাইখানায় পৌঁছে যাওয়া, সেখান থেকে উদ্ধার পাওয়া এবং এক শিক্ষকের গোপনে দুধ দোহনের মতো ঘটনা হোয়াইট হাউসের শত বছরের পুরোনো দৈনন্দিন জীবনের অপ্রত্যাশিত অধ্যায়গুলোও সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ২:১৯
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ফান্ডিংয়ের মাধ্যম সরাসরি ভর্তির সুযোগ

ক্যালিফোর্নিয়ায় শ্বশুর-শাশুড়ির গুলিতে নিহত হন নিউইয়র্ক টাইমসের প্রযুক্তিবিষয়ক নির্বাহী জোনাথন ম্যাককিনসি। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীর নির্যাতনের গর্ভপাত! আদালতে নিউইয়র্ক টাইমসের ট্রান্সজেন্ডার নির্বাহীর চাঞ্চল্যকর তথ্য

বড় ধরনের লোকসান কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় অনন্য সফলতার নজির গড়েছেন তালহা বখত। ছবি: সংগৃহীত

শূন্য থেকে ‘বাফেলোর প্রিন্স’: একসময় চাকরি হারানো বাংলাদেশি তালহা বখতের ১০০ বাড়ি

নিউইয়র্ক সিটির মার্বেল হিল এলাকায় গোলাগুলির ঘটনার পর জড়ো হওয়া পুলিশ ও আইনপ্রণেতাদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর সামনে এক ব্যক্তিকে গুলি করল আইসিই, ক্ষুব্ধ মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে পাঁচ বছরের এক শিশুর উপস্থিতিতে গাড়িতে থাকা এক ব্যক্তিকে গুলি করে আহত করেছেন ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে শহরের মার্বেল হিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে থাকা ব্যক্তি ও শিশুটিকে ঘিরে ফেলার পর একাধিক গুলি চালানো হয়। শিশুটি শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে নিউইয়র্কে আইসিইর সব অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন মেয়র।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে গুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এক বিবৃতিতে মেয়র মামদানি এটিকে অত্যন্ত গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।   মামদানির অভিযোগ, ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অভিযানের কারণে নিউইয়র্কের বিভিন্ন কমিউনিটিতে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে পাঁচ বছরের একটি শিশুর উপস্থিতিতে গুলি চালানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।   অন্যদিকে আইসিইর তত্ত্বাবধানকারী যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, ব্রঙ্কসে ডোমিনিকান রিপাবলিকের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করছিলেন কর্মকর্তারা। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ব্যক্তির আগে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানের একপর্যায়ে আইসিইর একজন কর্মকর্তা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালান। এতে অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তি আহত হন। পরে কর্মকর্তারা তাঁকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেন। আহত ব্যক্তি জীবিত রয়েছেন এবং স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।   তবে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছিল, সে বিষয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। আহত ব্যক্তির পূর্ণ পরিচয়, তাঁর শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য এবং গাড়িতে থাকা শিশুটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনাস্থলের কাছের একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত পেদ্রো আলমারেজ রয়টার্সকে জানান, গুলির শব্দ শুনে তিনি বাইরে বেরিয়ে আসেন। সেখানে আইসিইর পোশাক পরা বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে দেখতে পান। ঘটনাস্থলে তিন থেকে চারটি গাড়িও ছিল।   আলমারেজের ধারণা, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে পারে। তিনি জানান, গুলির প্রায় ১০ মিনিট পর নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অ্যাম্বুলেন্স আসার পর আহত ব্যক্তিকে গাড়ি থেকে বের করা হয়।   ঘটনার পর পুলিশ হলুদ ফিতা দিয়ে ঘটনাস্থলের একটি অংশ ঘিরে ফেলে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের সেখানে একটি গাড়ি পরীক্ষা করতে দেখা যায়। এ সময় পাশের একটি ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শিশুদের নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন বলে জানিয়েছেন রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক।   এদিকে মেয়র মামদানি ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ঘটনার ভিন্ন দিক উঠে এসেছে। মেয়র শিশুর উপস্থিতিতে গুলি চালানোর বিষয়টি সামনে এনে অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, এটি নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত অভিযান ছিল।   তবে গুলি চালানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন কি না কিংবা কেন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে বিতর্ক ও প্রতিবাদ চলছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ২১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজন মারা গেছেন।   সমালোচকদের অভিযোগ, অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার ফলে ফেডারেল কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সহিংস সংঘাত বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।   নিউইয়র্কের সর্বশেষ ঘটনাটি সেই বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের শিশুর উপস্থিতিতে গুলি চালানোর বিষয়টি নিয়ে মেয়রের কঠোর প্রতিক্রিয়া এবং আইসিইর অভিযান বন্ধের দাবি সামনে এসেছে।   আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চললেও গুলি চালানোর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে মেয়র মামদানি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে নিউইয়র্কে আইসিইর সব অভিযান বন্ধের দাবি জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন।   সূত্র: রয়টার্স।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ০:৩২
ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিরুদ্ধে ক্রিস্টা পাইকের করা মামলাটি নতুন করে চালুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে যাওয়া প্রথম নারী ক্রিস্টা পাইক, আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড়

কলম্বিয়ান অভিবাসী পরিবারের সন্তান স্যান্ড্রা শর্টার আজ তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

শিক্ষকতা ছেড়ে কাপকেকের ব্যবসা, ১০ বছরে সফল উদ্যোক্তা সান্দ্রা

যুক্তরাষ্ট্রে টিসিএস, ইনফোসিসসহ আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পিইআরএম প্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় আইটি কর্মীদের গ্রিন কার্ডে বড় ধাক্কা! স্থগিত টিসিএস, ইনফোসিসের পিইআরএম প্রক্রিয়া

ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়ালনাট ক্রিকে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে চার বেডরুমের আধুনিক বাড়ি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১.৫ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ২ লাখ ৬২ হাজার ডলারে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ওয়ালনাট ক্রিকে বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার এই শহরে কম ও অতি কম আয়ের যোগ্য পরিবারগুলোর জন্য তিনটি নতুন বাড়ি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চার শোবার ঘরের একটি বাড়ির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৬২ হাজার ৭৫০ ডলার। বাড়িটির বাজারমূল্য আনুমানিক ১২ লাখ থেকে ১৫ লাখ ডলার। ফলে নির্ধারিত দামে বাড়িটি কেনার সুযোগ পেলে ক্রেতারা বাজারদরের তুলনায় অনেক কম খরচে নিজেদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারবেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম কেটিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়ালনাট ক্রিক শহরের বাজারদরের নিচে বাড়ির মালিকানা কর্মসূচির আওতায় এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহী এবং নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা পরিবারগুলো আবেদন করতে পারবেন। পুরো কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে বে এরিয়া অ্যাফোর্ডেবল হোমওনারশিপ অ্যালায়েন্স নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে। এ কাজে তাদের সঙ্গে রয়েছে কমিউনিটি হাউজিং ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন এবং মেকানিকস ব্যাংক। যোগ্য ক্রেতাদের জন্য ব্যাংকটি বাড়ির প্রাথমিক জমার অর্থে সহায়তা এবং ঋণসংক্রান্ত ভর্তুকিও দেবে।   বিক্রির জন্য নির্ধারিত বাড়িগুলো নতুন নির্মিত এবং প্রতিটির আয়তন ২ হাজার বর্গফুটের বেশি। তিন থেকে চারটি শোবার ঘরবিশিষ্ট এসব বাড়ির দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ৭৫০ ডলার থেকে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ডলারের মধ্যে। শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মোট তিনটি বাড়ি এই কর্মসূচির আওতায় বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে একটি বাড়ি ওয়ালনাট ক্রিকের অ্যাবিগেইল আবাসন প্রকল্পে অবস্থিত। দোতলা এই বাড়িটির আয়তন আড়াই হাজার বর্গফুটের বেশি। এতে খোলামেলা নকশার বসার জায়গা, মূল শোবার ঘরে পোশাক রাখার আলাদা জায়গা এবং সাজানো পেছনের উঠান রয়েছে।   অ্যাবিগেইল প্রকল্পের বাড়িটি কিনতে হলে আবেদনকারীদের অতি কম আয়ের পরিবারের জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। চার সদস্যের পরিবারের বার্ষিক আয় সর্বোচ্চ ৮১ হাজার ৪০০ ডলার, পাঁচ সদস্যের পরিবারের ৮৭ হাজার ৯০০ ডলার, ছয় সদস্যের পরিবারের ৯৪ হাজার ৪২৫ ডলার, সাত সদস্যের পরিবারের ১ লাখ ৯২৫ ডলার এবং আট সদস্যের পরিবারের ১ লাখ ৭ হাজার ৪৫০ ডলারের মধ্যে থাকতে হবে। এসব আয়সীমা পূরণ করলেই বাড়ি কেনা নিশ্চিত হবে না। আবেদনকারীদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, ন্যূনতম ঋণমান এবং বাড়ির প্রাথমিক জমার অর্থের শর্তও পূরণ করতে হবে।   অন্য দুটি বাড়ি ওয়ালনাট ক্রিকের এনক্লেভ আবাসন প্রকল্পে অবস্থিত। এগুলো কিনতে পারবেন নির্দিষ্ট নিম্ন আয়ের সীমার মধ্যে থাকা পরিবারগুলো। বাড়ি দুটির দাম তিন লাখ ডলারের মাঝামাঝি পর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন সদস্যের পরিবারের বার্ষিক আয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ২২ হাজার ২০০ ডলার, চার সদস্যের পরিবারের ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫০ ডলার, পাঁচ সদস্যের পরিবারের ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫০ ডলার এবং ছয় সদস্যের পরিবারের ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ ডলারের মধ্যে থাকতে হবে। সাত সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে আয়সীমা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫০ ডলার এবং আট সদস্যের পরিবারের জন্য ১ লাখ ৭৯ হাজার ২০০ ডলার।   এই কর্মসূচিতে আবেদন করার জন্য পরিবারের সব সদস্যকে গত তিন বছরে কোনো বাড়ির মালিক না থাকার শর্ত পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ, শুধু আবেদনকারী নিজে বাড়ির মালিক ছিলেন কি না, তা নয়, পরিবারের অন্য সদস্যদের মালিকানার ইতিহাসও বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীদের নির্ধারিত ন্যূনতম ঋণমান, প্রাথমিক জমার অর্থ এবং আয়-ঋণের অনুপাতসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। যোগ্যতা যাচাইয়ের পর আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বাড়ির ক্রেতা নির্বাচন করা হবে। ওয়ালনাট ক্রিকে বসবাস করেন বা সেখানে কাজ করেন, এমন আবেদনকারীরা অগ্রাধিকার পাবেন।   আগ্রহী ক্রেতাদের আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে লটারির জন্য আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে বাড়ির মালিকানা কর্মসূচির আয়োজকেরা ২১ অক্টোবর একটি অনলাইন তথ্যসভা আয়োজন করবেন। সেখানে বাড়ির দাম, আয়ের সীমা, আবেদনপ্রক্রিয়া এবং ঋণসংক্রান্ত শর্ত সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকবে। আগ্রহীরা মাই হোম গেটওয়ের ওয়েবসাইটে কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য ও আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা দেখতে পারবেন।   তবে বাজারদরের তুলনায় কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ পেলেও ক্রেতাদের কিছু দীর্ঘমেয়াদি শর্ত মানতে হবে। বাড়ির মালিককে সম্পত্তি ভালো অবস্থায় রাখতে হবে এবং বছরে অন্তত ১০ মাস সেখানে নিজেকে বসবাস করতে হবে। বাড়িটি অন্য কাউকে ভাড়া দেওয়া যাবে না। ভবিষ্যতে বিক্রি করতে চাইলে শহর কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে হবে। একই সঙ্গে বাড়িটি আগামী ৪৫ বছর বাজারদরের নিচে বিক্রির আবাসন কর্মসূচির আওতায় থাকবে। অর্থাৎ, এটি সাধারণ বাজারে ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি করার মতো সম্পত্তি নয়।   বে এরিয়া অ্যাফোর্ডেবল হোমওনারশিপ অ্যালায়েন্স কনকর্ড, ইস্ট পালো আল্টো ও অ্যান্টিওকসহ বে এরিয়ার বিভিন্ন শহরে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য একই ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করে। সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় বাড়ির উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পরিবার নিজেদের আবাসন কেনার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে। ওয়ালনাট ক্রিকের এই উদ্যোগ সেই পরিস্থিতিতে যোগ্য নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য একটি বিকল্প সুযোগ তৈরি করেছে। তবে বাড়ির সংখ্যা মাত্র তিনটি হওয়ায় আগ্রহী আবেদনকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   সূত্র: কেটিটিভি

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২২:২৩
নিউইয়র্কের কুইন্সে তিন তলা ভবন থেকে পড়েও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায় দুই বছরের এই শিশু। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কে তিন তলা থেকে পড়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল ২ বছরের শিশু

উচ্চতা বাড়ানোর জন্য দেড় লাখ ডলার খরচ করে ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাবা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

তিন ইঞ্চি উচ্চতা বাড়াতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অপারেশন, ছেলের পাশে দাঁড়ালেন বাবা

জে-১ ভিসার অপব্যবহার রোধে ৯ শীর্ষ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক তদন্তের ঘোষণা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা জেডি ভ্যান্সের

0 Comments