সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
প্রার্থনায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দু র্ঘটনা, প্রাণ হারালেন ১৭ ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী
প্রার্থনায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দু র্ঘটনা, প্রাণ হারালেন ১৭ ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী

পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় একাধিক গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৭ জন ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) মধ্যরাতের পরপরই নাইরোবি-মোম্বাসা মহাসড়কের সালামা এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৬ জন যাত্রী এবং একজন ভ্যানচালক ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই নারী। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   জানা গেছে, তীর্থযাত্রীরা মোম্বাসার সেন্ট ম্যাথিয়াস মুলুম্বা ক্যাথলিক প্যারিশের সদস্য ছিলেন। 'ন্যাশনাল প্রেয়ার ডে' বা জাতীয় প্রার্থনা দিবস উপলক্ষে তারা নাকুরু কাউন্টির সুবুকিয়া ন্যাশনাল শ্রাইনের (জাতীয় উপাসনালয়) দিকে যাচ্ছিলেন। মোম্বাসা ক্যাথলিক আর্চডায়োসিসের আর্চবিশপ মার্টিন কিভুভা এক বিবৃতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেন। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং পুরো প্যারিশ সম্প্রদায়ের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।   পুলিশ ও কেনিয়ার ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড সেফটি অথরিটির (এনটিএসএ) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টার পরপরই একটি ট্রাক অন্য একটি ট্রাককে ওভারটেক করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে এই চেইন দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়। এর ফলে তীর্থযাত্রীদের বহনকারী একটি যাত্রীবাহী ভ্যান বা মাতাতুর সাথে ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।   এনটিএসএ জানিয়েছে, সালামা এলাকার ওই সড়কটি আগে থেকেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত এবং সেখানকার নিরাপত্তা নিয়ে আগেও সুপারিশ করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে এবং অন্যান্য চালকদের চরম সতর্কতা অবলম্বন করে লেন মেনে গাড়ি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   এই মর্মান্তিক ঘটনার পর কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং শোকাহত ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা জানান। কঠিন এই সময়ে সৃষ্টিকর্তা যেন সবাইকে শক্তি ও সান্ত্বনা দেন, সেই প্রার্থনা করার পাশাপাশি তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্যও কামনা করেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৮:০
যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া দুই ভাই, আজ নিজ শহরের হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের প্রধান
যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া দুই ভাই, আজ নিজ শহরের হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের প্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা যমজ ভাই ডা. ট্রাভান এবং ডা. ট্র্যাভিস জ্যাসপার এখন নিজ শহরেরই একটি স্বনামধন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুই ভাই বর্তমানে রিচমন্ডের চিপেনহ্যাম হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের কো-ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।   নিজ শহরে এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছানোর অনুভূতি প্রকাশ করে ট্র্যাভিস গণমাধ্যমটিকে জানান, ৪০ বছর আগে এমন কোনো স্বপ্নের কথা তিনি কল্পনাও করতে পারতেন না।   নিজেদের শৈশবের কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে ট্রাভান জানান, একসময় তাদের বাড়িতে কোনো সুপেয় পানির ব্যবস্থা ছিল না। দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি সংগ্রহ করার জন্য তাদের স্থানীয় পার্কের ওপর নির্ভর করতে হতো। তীব্র খাবার সংকটের মধ্যে দিন পার করলেও তাদের ভেতরে সফল হওয়ার প্রবল ক্ষুধা ছিল।   কারণ তারা গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন, এই চরম দারিদ্র্যের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির একটাই উপায়, আর তা হলো কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা।   চিকিৎসাপেশায় আসার পেছনে ১২ বছর বয়সের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা এই দুই ভাইকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। সে সময় মদ্যপানজনিত লিভার ফেইলিওরে আক্রান্ত এক চাচাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তারা। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকের অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ ও খারাপ মন্তব্য তাদের ভীষণভাবে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল।   সেদিনই হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দুই ভাই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, ভবিষ্যতে তারা এমন চিকিৎসক হবেন, যারা রোগী ও তাদের পরিবারের প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল এবং মানবিক আচরণ করবেন।   নিজেদের সেই শৈশবের প্রতিজ্ঞা পূরণে তারা পড়াশোনায় অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখেন। হাইস্কুল থেকে কো-ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হিসেবে পড়াশোনা শেষ করার পর তারা স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করেন। এরপর ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিজেদের ডিগ্রি অর্জন করেন।   শৈশবের সেই প্রতিজ্ঞার কয়েক দশক পর, গত এপ্রিলে তারা নিজ শহর রিচমন্ডে ফিরে আসেন এবং চিপেনহ্যাম হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের কো-ডিরেক্টর হিসেবে একযোগে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অবিকল একই রকম দেখতে হওয়ায় রোগী ও সহকর্মীদের সুবিধার্থে তারা কর্মক্ষেত্রে সবসময় ভিন্ন রঙের (সবুজ ও বেগুনি) স্ক্রাব পরিধান করেন।   শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও তারা একে অপরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং একই ভবনে বসবাস করেন। ফেলে আসা দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকিয়ে ট্র্যাভিস বলেন, অতীতের সেই চরম প্রতিকূল দিনগুলোই আজকের এই সফল ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে তাদের গড়ে তুলেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৭:৪১
ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলের ধ্বংসস্তূপে গড়ে উঠল ১৪ মিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল বাড়ি
ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলের ধ্বংসস্তূপে গড়ে উঠল ১৪ মিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল বাড়ি

২০২৫ সালের ভয়াবহ দাবানলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিক প্যালিসেডসে নতুন করে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে। আগুন নেভার পর ওই ‘বার্ন স্কার’ বা দাবানলকবলিত এলাকায় গড়ে ওঠা প্রথম দিককার একটি নতুন বাড়ি বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হয়েছে, যার দাম হাঁকা হচ্ছে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৯০ হাজার (প্রায় ১৪ মিলিয়ন) ডলার। প্যাসিফিক প্যালিসেডসের ৮৩৭ মাস্কিংগাম অ্যাভিনিউতে অবস্থিত পাঁচ বেডরুমের এই বিলাসবহুল বাড়িটি স্থানীয়দের ঘুরে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট আবাসন ব্যবসায়ীরা।   কম্পাস-এর তালিকাভুক্ত ব্রোকার রায়ান জানকুলা জানান, দাবানলের সময় যে সড়কটি তুলনামূলকভাবে বেঁচে গিয়েছিল, সেখানেই বাড়িটি নির্মিত হয়েছে। অ্যালিসন হোয়াইট হোমস-এর ডেভেলপার অ্যালিসন হোয়াইট বর্তমানে এই এলাকায় মোট ১৪টি বাড়ি নির্মাণ করছেন। এর মধ্যে মাস্কিংগাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িটির কাজ সবার আগে শেষ হয়েছে, কারণ দাবানল শুরুর আগেই এর অনুমতিপত্র নেওয়া ছিল।   হোয়াইট জানান, বাকি বাড়িগুলোর বেশিরভাগই ওই দাবানলে গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ওই এলাকায় বর্তমানে ১ হাজার ১০০-এর বেশি নতুন বাড়ির নির্মাণকাজ চললেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৩টি বাড়িকে পুনরায় বসবাসের সনদ বা ‘সার্টিফিকেট অব অকুপেন্সি’ দেওয়া হয়েছে।   প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলারের এই বাড়িটি শুধু বিলাসবহুলই নয়, বরং ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের দাবানল মোকাবিলার অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন। ৬ হাজার ৫১১ বর্গফুটের এই সুবিশাল বাসভবনে রয়েছে চমৎকার সানরুম, শেফস কিচেন, কাস্টম ওয়েট বার, মুভি থিয়েটার এবং স্পা-সুবিধাযুক্ত বাথরুম। বাইরের অংশে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ইনফিনিটি পুল, সনা, কোল্ড প্লাঞ্জ, আউটডোর কিচেন এবং ফায়ার পিট।   নিরাপত্তার কথা বিশেষভাবে মাথায় রেখে এতে অত্যাধুনিক ফায়ার সাপ্রেশন সিস্টেম, ছাদে স্প্রিঙ্কলার এবং আগুন-প্রতিরোধী বিশেষ ভেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, যা ক্লায়েন্টদের বাড়তি স্বস্তি দেবে।   তবে সার্বিক এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া স্থানীয়দের জন্য মোটেও সহজ নয়। অনেক মানুষ যারা ৩০-৪০ বছর ধরে নিজেদের চিরস্থায়ী ঠিকানায় বসবাস করছিলেন, তারা মানসিকভাবে দারুণ বিপর্যস্ত। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা ও শান্তা ইনেজ জলাধারে পানির অভাবের মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো আবাসন বাজারকে বেশ ভাবাচ্ছে।   যে কারণে দাবানলকবলিত এলাকার বাইরে নির্মিত কিছু বিলাসবহুল বাড়ির দাম এরই মধ্যে ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এতসব চ্যালেঞ্জ ও শঙ্কার পরও প্রতিনিয়ত নতুন বাড়ির কাজ শুরু হওয়ার দৃশ্য স্থানীয় গৃহহীন বাসিন্দাদের মনে নতুন করে আশা জাগাচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৭:২২
ইরানে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মতো হতে ৫০ সার্জারি! ভাইরাল দাবির আসল সত্য জানালেন তরুণী
ইরানে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মতো হতে ৫০ সার্জারি! ভাইরাল দাবির আসল সত্য জানালেন তরুণী

হলিউড সুপারস্টার অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মতো চেহারা পেতে ৫০টি প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছেন এক নারী—এমন খবরে একসময় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অদ্ভুত দর্শনের সেই ছবির কারণে রাতারাতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন ইরানি তরুণী সাহার তাবার।   তবে দীর্ঘদিন পর সেই গুজবের অবসান ঘটিয়ে ছবির পেছনের আসল সত্যটি সামনে এনেছেন খোদ সাহার।   সম্প্রতি তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জোলির মতো দেখতে বিপুল সংখ্যক সার্জারি করার যে দাবিটি ছড়িয়েছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাহার স্বীকার করেছেন যে, তিনি শরীরে বেশ কিছু সাধারণ কসমেটিক সার্জারি করিয়েছেন।   তবে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া তাঁর সেই অস্বাভাবিক চেহারার ছবিগুলো মূলত নিখুঁত মেকআপ এবং ফটোশপের কারসাজি ছিল।   নিছক বিনোদন এবং নিজের এক ধরনের শিল্প তুলে ধরতেই তিনি প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ওই ছবিগুলো তৈরি করেছিলেন বলে জানান এই ইরানি তরুণী।   তাঁর এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে অবশেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি অন্যতম বড় গুজবের অবসান ঘটল।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৭:১
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার তরুণদের চিকিৎসায় মেডিকেইড তহবিল বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার তরুণদের চিকিৎসায় মেডিকেইড তহবিল বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার শিশু ও কিশোরদের 'জেন্ডার-অ্যাফার্মিং কেয়ার' বা লিঙ্গ রূপান্তর সংক্রান্ত চিকিৎসায় ফেডারেল মেডিকেইড ও সিএইচআইপি (CHIP) তহবিল বন্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন এই নিয়মের ফলে এখন থেকে বয়ঃসন্ধি বিলম্বিত করার ওষুধ (পিউবার্টি ব্লকার), হরমোন থেরাপি এবং এ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শারীরিক চিকিৎসায় কোনো ধরনের ফেডারেল অর্থায়ন ব্যবহার করা যাবে না। সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)-এর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।   তবে যেসব ট্রান্সজেন্ডার শিশু-কিশোর ইতোমধ্যে হরমোন থেরাপি নিচ্ছে, তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে হঠাৎ চিকিৎসা বন্ধ না করে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত ধীরে ধীরে তা কমিয়ে আনার সুযোগ রাখা হয়েছে নিয়মে। সিএমএস তাদের নির্দেশনায় আরও স্পষ্ট করেছে যে, জেন্ডার ডিসফোরিয়া বা লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে মানসিক টানাপোড়েন সংক্রান্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না। অর্থাৎ, কাউন্সেলিং বা মানসিক চিকিৎসা চালিয়ে যেতে কোনো বাধা থাকবে না।   এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর এটি কার্যকর হওয়া ঠেকাতে দেশজুড়ে আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। গত ১ অক্টোবর নিউ হ্যাম্পশায়ারের চারটি পরিবার এই নিয়মের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করে তা বাতিলের আবেদন জানিয়েছে।   এর আগে ২১টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নরও যৌথ ও পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেন। বর্তমানে পুরো বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় আগামী ১৩ অক্টোবর নিয়মটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগে বিচারক কোনো স্থগিতাদেশ দেন কি না, সেটিই এখন মার্কিন রাজনীতি ও মানবাধিকার অঙ্গনে মূল আলোচনার বিষয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৬:৪২
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত দান, মিয়ামিতে নতুন ক্যাম্পাসে ৩ বিলিয়ন ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত দান, মিয়ামিতে নতুন ক্যাম্পাসে ৩ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে এক নতুন এবং অভাবনীয় রেকর্ড তৈরি হয়েছে। কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটিকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের অর্থ দান করেছেন সিটাডেলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কেন গ্রিফিন। রয়টার্স ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একক ব্যক্তির পক্ষ থেকে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত দানের ঘটনা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সাহায্যে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে কার্নেগি মেলনের একটি সম্পূর্ণ নতুন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পাশাপাশি মূল ক্যাম্পাসের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ আরও বৃদ্ধি করা হবে।   ঐতিহাসিক এই দানের ৩ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারই ব্যয় করা হবে মিয়ামির উইনউড এলাকায় কার্নেগি মেলনের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজে। ৩৫ একরের বেশি জমির ওপর প্রস্তাবিত এই ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ ২০২৭ সালে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।   প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৮ সাল নাগাদ সেখানে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থী ভর্তি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু হওয়ার পর এই অত্যাধুনিক ক্যাম্পাসে সাড়ে তিন হাজারের বেশি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীর পাশাপাশি প্রায় তিন শ শিক্ষক এবং ছয় শতাধিক কর্মী থাকবেন।   গতানুগতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নির্দিষ্ট বিভাগভিত্তিক পড়াশোনার বদলে এই ক্যাম্পাসটি মানবস্বাস্থ্য, জাতীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীলতা এবং শিল্প প্রযুক্তির মতো বৈশ্বিক সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে শিক্ষা ও গবেষণার কাঠামো সাজাবে।   অন্যদিকে, দানের অবশিষ্ট ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে কার্নেগি মেলনের ঐতিহ্যবাহী পিটসবার্গ ক্যাম্পাসের জন্য। এর মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি ব্যয় হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে। এই বিপুল বিনিয়োগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘কেনেথ সি. গ্রিফিন স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স’ রাখা হয়েছে।   বাকি ৫০০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটিং সক্ষমতা সম্প্রসারণের মতো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারমূলক কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে নতুন ক্যাম্পাসের পাশাপাশি পুরোনো ক্যাম্পাসের গবেষণার ভিতও অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।   কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি এমনিতেই রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং গবেষণায় বিশ্বজোড়া খ্যাতির অধিকারী। কেন গ্রিফিনের এই যুগান্তকারী বিনিয়োগ তাদের সেই সক্ষমতাকে শিল্প ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করবে।   এর আগে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি দান করা গ্রিফিন এই উদ্যোগকে ভবিষ্যতের উদ্ভাবনের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। কার্নেগি মেলনের প্রেসিডেন্ট ফারনাম জাহানিয়ান মনে করেন, এই বিপুল অর্থায়ন কেবল একটি নতুন ক্যাম্পাসই তৈরি করবে না, বরং মিয়ামি ও পিটসবার্গের মধ্যে শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৬:১৯
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা পুরোপুরি বাতিল চান জেডি ভ্যান্স, উঠছে সস্তা শ্রমের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা পুরোপুরি বাতিল চান জেডি ভ্যান্স, উঠছে সস্তা শ্রমের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ও বহুল আলোচিত এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ অচল আখ্যা দিয়ে এটি পুরোপুরি বাতিল করার পক্ষে মত দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সম্প্রতি গণমাধ্যম ‘রিয়েল আমেরিকা’স ভয়েস’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, প্রযুক্তি ও হিসাববিজ্ঞানসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে।   আমেরিকান নাগরিকদের কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে প্রতিস্থাপন করে মূলত স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সাক্ষাৎকারের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করার পর ট্রাম্প প্রশাসনের এই ভিসা নীতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।   সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স উচ্চদক্ষ পেশাদার আনা এবং সস্তা শ্রম ব্যবহারের মধ্যকার পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোনো বিশেষ প্রতিভাবান ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার বিষয়ে আলোচনা হতেই পারে। তবে ৬০ হাজার ডলার বেতনের একজন আমেরিকান অ্যাকাউন্ট্যান্টকে সরিয়ে যদি ৪৫ হাজার ডলারে বিদেশি কর্মী আনা হয়, তবে সেটি মেধা অন্বেষণ নয়; বরং স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ধ্বংস করা।   তিনি উল্লেখ করেন, কোম্পানিগুলো যাতে সস্তা শ্রমের মাধ্যম হিসেবে এইচ-১বি ভিসার অপব্যবহার করতে না পারে, সেজন্যই ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে এক লাখ ডলার ফি নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছিল। মূলত সস্তা শ্রমের পেছনে থাকা লবিস্টদের কারণে কংগ্রেস যখন কোনো সংস্কারে যেতে পারছিল না, তখনই প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়।   তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত এই এক লাখ ডলারের বাধ্যতামূলক ফি ইতোমধ্যে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গত ১ অক্টোবর এক ফেডারেল বিচারক এই সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দেন, যা প্রশাসনের এইচ-১বি নীতিমালার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বিতীয় কোনো স্থগিতাদেশ। তবে ভ্যান্স মনে করেন, কেবল ফি আরোপই যথেষ্ট নয়; পুরো ব্যবস্থাটিই ভেঙে পড়েছে।   তাই তিনি এটি সম্পূর্ণ বাতিলের পক্ষে। বিদ্যমান কাঠামো বহাল থাকা পর্যন্ত মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করার কথা জানিয়ে তিনি সাধারণ আমেরিকানদের নিজ নিজ আইনপ্রণেতা বা কংগ্রেসম্যানদের মাধ্যমে এই আইন পরিবর্তনের চাপ দেওয়ার আহ্বান জানান।   জেডি ভ্যান্সের এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের আগের অবস্থানের সঙ্গেও বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইলন মাস্কও অতীতে যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এইচ-১বি ভিসা কেবল অত্যন্ত উচ্চমানের দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আনার জন্যই ব্যবহৃত হওয়া উচিত, সস্তা শ্রমিক আনার মাধ্যম হিসেবে নয়।   ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান যখন হাজার হাজার আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করে তাদের জায়গায় কম বেতনের বিদেশি কর্মীদের দিয়ে কাজ করায়, তখন সেই ব্যবস্থার সংস্কার ছাড়া উপায় থাকে না। তাঁর সাম্প্রতিক এই কঠোর বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, মার্কিন প্রশাসন এইচ-১বি কর্মসূচিকে হয় কেবল সর্বোচ্চ দক্ষ পেশাদারদের জন্য কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ করতে চায়, নতুবা এটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার পথেই হাঁটবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৬:০
অভিবাসী পরিবারের মেয়ে আনুম জেহরা, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’
অভিবাসী পরিবারের মেয়ে আনুম জেহরা, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’

একাডেমিক সাফল্য, গবেষণা, নেতৃত্ব ও জনসেবায় অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আনুম জেহরাকে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোরের ২০২৬ সালের ‘ফাউন্ডার্স উইক স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত করা হয়েছে। চতুর্থ বর্ষের মেডিকেল শিক্ষার্থী আনুম আগামী মে মাসে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিন থেকে স্নাতক হবেন।   মাত্র তিন বছরের মেডিকেল শিক্ষাজীবনেই বিশ্ববিদ্যালয় ও এর বাইরের অসংখ্য মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছেন আনুম। পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, নেতৃত্ব, মেন্টরশিপ, স্বাস্থ্যসেবা ও কমিউনিটি সার্ভিসে সক্রিয় ভূমিকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তিনি পরিচিতি পান। সম্মানটি পাওয়ার পর শিক্ষক, সহপাঠী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অসংখ্য অভিনন্দন বার্তা পেয়েছেন তিনি।   আনুম পাকিস্তান থেকে আসা একজন অভিবাসী এবং তার পরিবারের প্রথম প্রজন্মের হাইস্কুল ও কলেজ গ্র্যাজুয়েট। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড বাল্টিমোর কাউন্টি থেকে জীববিজ্ঞানে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনে শিশুদের ডায়াবেটিস নিয়ে দুই বছর রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেন। এরপর তিনি ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনে ভর্তি হন।   গবেষণাক্ষেত্রেও আনুমের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। তিনি ২০টির বেশি গবেষ   ণা নিবন্ধ, বিশ্লেষণ ও অ্যাবস্ট্র্যাক্টের সহলেখক। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি গবেষণাপত্রে তিনি প্রধান লেখক ছিলেন। ২০২৫ সালের আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির ‘টপ টেন আর্টিকেলস’ তালিকায় তার দুটি গবেষণাপত্রও স্থান পায়।   গবেষণায় অসামান্য সাফল্যের জন্য তিনি ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনের ‘সার্টিফিকেট অব আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট’ পেয়েছেন। পাশাপাশি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের একটি প্রতিযোগিতামূলক সামার রিসার্চ ফেলোশিপ অর্জন করেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মেডিকেল স্টুডেন্ট রিসার্চ ডেতে মৌখিক গবেষণা উপস্থাপনায় প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে একই আয়োজনের শিক্ষার্থী চেয়ার হিসেবেও নির্বাচিত হন।   শিক্ষার্থীদের জন্য নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন আনুম। তিনি ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনে কার্ডিওলজি ইন্টারেস্ট গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের মেন্টরশিপ, গবেষণায় অংশগ্রহণ ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার সুযোগ বাড়াতে কাজ করে। একই সংগঠনের অধীনে নারীদের কার্ডিওলজি ক্ষেত্রে আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়াতে একটি বিশেষ শাখাও চালু করেন তিনি। রেড ক্রস ইন্টারেস্ট গ্রুপের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও রক্তদান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন আনুম।   তার মানবিক কাজের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ‘কাইন্ডকিন’। এই শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের মাধ্যমে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের পরিবারের সদস্য ও কেয়ারগিভারদের দৈনন্দিন কিছু কাজের চাপ কমাতে সহায়তা করা হয়। কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে পার্কিং মিটারের সময় দেখা, এমন ছোট ছোট কাজেও সহযোগিতা করে উদ্যোগটি।   ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড মেডিকেল সেন্টারের নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটেও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন আনুম। সেখানে অপরিণত শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় মানবিক স্পর্শ ও সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পরিবার, কেয়ারগিভার ও নার্সদেরও কিছুটা সহায়তা করেন তিনি।   চিকিৎসাবিজ্ঞানে আসার পেছনে আনুমের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটিতে হৃদ্‌রোগের উচ্চঝুঁকি এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি তাকে বিশেষভাবে ভাবিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ল্যাব রিপোর্ট ও ডাক্তারের নোট বুঝতে গিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিজে পড়াশোনা করতেন তিনি। ধীরে ধীরে সেই আগ্রহই তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশেষ করে কার্ডিওলজির দিকে নিয়ে যায়।   স্বাস্থ্যসেবায় সুযোগের বৈষম্য কমানো এবং কমিউনিটির মধ্যে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেও কাজ করেছেন আনুম। বাল্টিমোরের একটি ফ্রি ক্লিনিকে চিকিৎসকদের সহায়তা ও রোগীদের কাউন্সেলিং করার পাশাপাশি মেরিল্যান্ডের ফিঙ্কসবার্গে একটি মন্দিরে বিনামূল্যে কমিউনিটি হেলথ এডুকেশন দিয়েছেন তিনি। এসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনের ২০২৭ সালের ক্লাসের শীর্ষ ১৫ শতাংশ কমিউনিটি সার্ভিসে অবদান রাখা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তার নাম রয়েছে।   ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও আনুমের মেন্টর কাশিফ মুনির বলেন, একাডেমিক দক্ষতা, মেন্টরশিপ, নেতৃত্ব, মানবিকতা, সমতা ও সহমর্মিতার বিরল সমন্বয় রয়েছে আনুমের মধ্যে। তার মতে, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড যে ধরনের মূল্যবোধসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে চায়, আনুম তারই প্রতিফলন।   স্কুল অব মেডিসিনের স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের অধ্যাপক ও সহযোগী ডিন কেরি এ. থমও আনুমের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। তার মতে, প্রথম প্রজন্মের অভিবাসী হিসেবে সুযোগের পথে থাকা বিভিন্ন বাধার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে আনুম স্বাস্থ্যসমতা, মেন্টরশিপ ও কমিউনিটি আউটরিচের মাধ্যমে বাস্তব কাজে রূপ দিয়েছেন।   প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে এই সম্মানের জন্য নির্বাচিত হওয়াকে নিজের জন্য অত্যন্ত সম্মানের বলে উল্লেখ করেছেন আনুম। তিনি এই স্বীকৃতির জন্য পরিবার, বিশেষ করে তার মায়ের পাশাপাশি বন্ধু, মেন্টর, সহকর্মী ও রোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।   চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো কঠিন ও একই সঙ্গে rewarding ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে সহপাঠীদের নিজেদের সাপোর্ট নেটওয়ার্কের ওপর ভরসা রাখতে এবং যেসব বিষয় তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সেগুলো নিয়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপ না নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন আনুম। মেধা, গবেষণা ও মানবসেবাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে তার এই অর্জন ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ২০২৬ সালের ফাউন্ডার্স উইক উদযাপনে বিশেষভাবে স্বীকৃতি পেল।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৫:৩৬
চীনে ছেলেকে গেমের নেশা থেকে ফেরাতে গিয়ে ৬০ বছরের মা নিজেই এখন গেমার
চীনে ছেলেকে গেমের নেশা থেকে ফেরাতে গিয়ে ৬০ বছরের মা নিজেই এখন গেমার

চীনের গুয়াংডং প্রদেশের মেইঝৌ শহরের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী ঝোং জুয়ানজুয়ান এখন ই-স্পোর্টস ও অনলাইন গেমিং জগতের এক পরিচিত নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'আন্টি জুয়ান' নামে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই নারী প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শকের সামনে লাইভ-স্ট্রিমে গেম খেলেন। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (এসসিএমপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র চার বছর আগে ভিডিও গেমের দুনিয়ায় পা রাখা এই প্রবীণ নারী এখন তরুণ গেমারদের কাছেও এক বড় অনুপ্রেরণা।   প্রাথমিক গণ্ডি পেরোনো ঝোং জীবনের বেশির ভাগ সময় সেলস ও শিশু পরিচর্যার মতো খণ্ডকালীন কাজ করে প্রায় এক দশক আগে অবসর নেন। তবে তাঁর গেমিংয়ে আসার পেছনের গল্পটা বেশ চমকপ্রদ। প্রায় দুই দশক আগে তাঁর ছেলে যখন মাধ্যমিকের ছাত্র, তখন সে ভিডিও গেমসে মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে।   পড়াশোনায় অবনতি হওয়ায় সে সময় ছেলেকে খুঁজতে স্থানীয় ইন্টারনেট ক্যাফেগুলোতে ছুটে বেড়াতেন তিনি। কিন্তু ২০২০ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে তাঁর ছেলে 'সোদে' যখন আবারও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাড়িতে গেম খেলতে শুরু করে, তখন ঝোং এক অভিনব সিদ্ধান্ত নেন। তরুণ প্রজন্মের গেমের প্রতি এই তীব্র আকর্ষণের কারণ বুঝতে তিনি নিজেই ভার্চুয়াল গেমিংয়ের জগতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে অবাক হলেও ছেলে অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে মাকে গেমের নিয়মকানুন শেখাতে শুরু করেন।   ৬০ বছর বয়সে এসে গেমের কলাকৌশল আয়ত্ত করা ঝোংয়ের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। বয়সজনিত কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে আসা এবং রিফ্লেক্স ধীর হওয়ায় শুরুতে তিনি গেমের চরিত্রকে সোজা হাঁটাতেও পারতেন না। দেয়ালে ধাক্কা খাওয়া বা ডিজিটাল সিঁড়ি বেয়ে ওঠার মতো প্রাথমিক কাজগুলোতেও তাকে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হতো।   কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি হাল ছাড়েননি। নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে ২০২২ সাল থেকে তিনি নিজের গেম খেলার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন। অত্যন্ত সাধারণ মানের কম্পিউটার ও সরঞ্জাম ব্যবহার করেও তাঁর চমৎকার দক্ষতা দ্রুতই দর্শকদের নজর কাড়ে।   ইতিমধ্যে অনলাইন গেমসে ৮ হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় কাটিয়ে ফেলা এই প্রবীণ নারীর সবচেয়ে পছন্দের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন কৌশলগত 'শুটিং গেম'। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। সে সময় জনপ্রিয় শুটিং গেম 'কাউন্টার-স্ট্রাইক: গ্লোবাল অফেন্সিভ' (CS: GO)-এর একটি বিশেষ অনলাইন প্রদর্শনী ম্যাচে খেলার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রতিদিন তাঁর স্ট্রিম দেখতে আসা হাজার হাজার তরুণের কাছে 'আন্টি জুয়ান' আজ কেবল একজন গেমার নন, বরং ধৈর্য, একাগ্রতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য উদাহরণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৫:১৯
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে হিন্দু মন্দিরে হা মলা, ইটের আঘাতে ভাঙল জানালার কাচ
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে হিন্দু মন্দিরে হা মলা, ইটের আঘাতে ভাঙল জানালার কাচ

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গ্রেটার ক্লিভল্যান্ড এলাকায় একটি হিন্দু মন্দিরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে রিচমন্ড হাইটসের শ্রী স্বামীনারায়ণ ভাদতাল ধাম হিন্দু মন্দিরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। মাত্র কয়েক মুহূর্ত স্থায়ী এই হামলায় মন্দিরের জানালার কাচ চুরমার হয়ে যায়।   হামলার সময় মন্দিরের ভেতরে পুরোহিত ও বেশ কয়েকজন পুণ্যার্থী উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে উপাসনালয়ে এমন অপ্রত্যাশিত হামলায় স্থানীয় হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে চরম নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে।   হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন (এইচএএফ) এবং কোয়ালিশন অব হিন্দুস অব নর্থ আমেরিকা (কোহনা) এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এইচএএফ ইতোমধ্যে বিষয়টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং নাগরিক অধিকার সংস্থাগুলোকে অবহিত করে মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।   এইচএএফ-এর নির্বাহী পরিচালক সুহাগ শুক্লা এই হামলাকে সম্ভাব্য 'বিদ্বেষমূলক অপরাধ' বা হেট ক্রাইম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, অনলাইনে হিন্দু আমেরিকানদের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিদ্বেষ কীভাবে বাস্তবে সহিংসতার রূপ নিতে পারে, এই হামলাই তার প্রমাণ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে স্থানীয় পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত হামলার পেছনের উদ্দেশ্য বা এটি ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবর মাসটি 'হিন্দু হেরিটেজ মান্থ' হিসেবে পালিত হয় এবং আর দুই সপ্তাহ পরেই শুরু হতে যাচ্ছে নবরাত্রি উৎসব। ঠিক এমন সময়ে হামলার এই ঘটনা স্থানীয় হিন্দু কমিউনিটির মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। কোহনা অবিলম্বে রিচমন্ড হাইটসের মেয়র এবং স্থানীয় পুলিশকে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু মন্দিরগুলোতে হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালে কুইন্সের শ্রী তুলসী মন্দিরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি ভাঙচুর, ২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার নেওয়ার্কে এসএমভিএস শ্রী স্বামীনারায়ণ মন্দিরে বিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি এবং ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ায় বাপস (BAPS) মন্দিরেও ভাঙচুর ও অবমাননাকর বার্তা লেখার ঘটনা ঘটেছিল। ধারাবাহিক এসব ঘটনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বুকে হিন্দু ধর্মীয় সাইটগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে জোরালো দাবি তুলেছে অধিকার সংগঠনগুলো।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:৫৭
হলিউডে কর্মীর মন খারাপ ভেবে কাছে গেলেন টম ক্রুজ, নেটদুনিয়ায় প্রশংসা
হলিউডে কর্মীর মন খারাপ ভেবে কাছে গেলেন টম ক্রুজ, নেটদুনিয়ায় প্রশংসা

হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা টম ক্রুজ কেবল পর্দায় অ্যাকশন হিরো নন, বাস্তবেও যে তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল—তারই একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। কাজের ফাঁকে বিরতি নেওয়া এক অপরিচিত কিচেন কর্মীকে বিষণ্ণ ভেবে নিজে থেকেই তার খোঁজ নিতে এগিয়ে আসেন এই সুপারস্টার। ছোট্ট অথচ আন্তরিক এই ঘটনাটি নেটিজেনদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে।   জানা গেছে, ক্লেমেন্টিনা নামের ওই নারী কর্মী তার কাজের বিরতির সময় একা বসে মোবাইল ফোনে মগ্ন ছিলেন। ঘাড় নিচু করে ফোন স্ক্রল করার কারণে তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি কোনো কারণে বিপর্যস্ত। সেই পথ দিয়েই যাচ্ছিলেন টম ক্রুজ। মেয়েটির এমন ভঙ্গি দেখে তিনি আর নিজের গন্তব্যে এগিয়ে না গিয়ে থমকে দাঁড়ান এবং ফিরে এসে তার খোঁজ নেন। তিনি মেয়েটির হাতে হালকা টোকা দিয়ে জানতে চান, সবকিছু ঠিক আছে কি না।   আচমকা হলিউড তারকাকে সামনে দেখে রীতিমতো চমকে যান ওই কর্মী। তিনি টম ক্রুজকে জানান যে, তার মন খারাপ নয়; বরং তিনি কেবল আপন মনে ফোনে 'ডুমস্ক্রলিং' করছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে টম হাসিমুখে তার সাথে 'ফিস্ট বাম্প' করেন এবং সে যাত্রায় বিদায় নেন। তবে চমকের এখানেই শেষ ছিল না; কিছুক্ষণ পর তিনি আবারও ফিরে আসেন এবং ওই কর্মীর সাথে হাসিমুখে একটি ছবিও তোলেন।   পরবর্তীতে ক্লেমেন্টিনা নিজেই টিকটকে এই পুরো ঘটনার ভিডিও শেয়ার করেন, যা মুহূর্তেই ইন্টারনেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনরা টম ক্রুজের এই সাধারণ অথচ মানবিক আচরণের ব্যাপক প্রশংসা করছেন। ব্যস্ত জীবনে একজন অপরিচিত মানুষের প্রতি এমন ছোট একটি সহানুভূতির মুহূর্ত যে কারও দিনটি কতটা সুন্দর করে দিতে পারে, এই ঘটনাই যেন তার প্রমাণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:৩২
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক বছরে ৮ হাজারের বেশি ধ র্ষণের অভিযোগ, শীর্ষে ইউনিভার্সিটি অব উটাহ
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক বছরে ৮ হাজারের বেশি ধ র্ষণের অভিযোগ, শীর্ষে ইউনিভার্সিটি অব উটাহ

যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের অত্যন্ত উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে দেশটির বিভিন্ন ক্যাম্পাসে মোট ৮ হাজার ২২৭টি ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকায় সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে সল্টলেক সিটির পাবলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব উটাহ।   সেখানে এক বছরে রেকর্ড ১৪৬টি ধর্ষণের অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে ১২২টিই ঘটেছে আবাসিক হল বা ডর্মে। এই সংখ্যা তালিকায় থাকা দ্বিতীয় শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দ্বিগুণ।   ধর্ষণের এই জাতীয় তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার, যেখানে ৯৬টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ৬৭টি অভিযোগ নিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি। এছাড়া শীর্ষ দশের তালিকায় থাকা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউসিএলএ, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান্তা ক্রুজ, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান্তা বারবারা, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব কানসাস এবং ইউনিভার্সিটি অব কেনটাকি। এই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই উল্লেখযোগ্য হারে যৌন নিপীড়নের ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে।   নিউইয়র্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থাও অত্যন্ত হতাশাজনক। কলাম্বিয়া, কর্নেল এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির (এনওয়াইইউ) মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও যৌন সহিংসতার হার ব্যাপক। নিউইয়র্ক রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, ডেটিং সহিংসতা এবং স্টকিং—সব মিলিয়ে সামগ্রিক হিসাব প্রকাশ করা হয়।   এর মধ্যে ২০২৪ সালে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ২৬২টি যৌন সহিংসতার অভিযোগ জমা পড়ে, যার মধ্যে ২১টি ছিল ধর্ষণের ঘটনা এবং এর সবগুলোই ঘটেছে আবাসিক হলে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কলাম্বিয়ায় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হার সবচেয়ে শোচনীয়। ২৬২টি অভিযোগের মধ্যে মাত্র তিনটির তদন্ত হয়েছে এবং কেবল একটি ঘটনায় অভিযুক্তকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কলাম্বিয়ায় মোট ১ হাজার ২০২টি অভিযোগের মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ তদন্তের মুখ দেখেছে।   অন্যদিকে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে (এনওয়াইইউ) ২২৯টি অভিযোগের মধ্যে ২৮টি তদন্ত ও ১০টিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সানি অ্যালবানি এবং সানি বিংহামটনে যথাক্রমে ২১৭ এবং ১৯৮টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে গত বছর ১৬৬টি যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।   সেখানে ১৮টি ঘটনার তদন্ত শেষে তিনজনকে বহিষ্কারসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত কয়েকজনকে নিছক প্রবন্ধ লেখার শাস্তি দিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার সুযোগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আইনি জটিলতা ও তীব্র তোপের মুখে পড়তে হয়।   গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসগুলোতে যৌন অপরাধের অভিযোগ প্রায় পাঁচগুণ বেড়েছে। তবে গবেষকদের মতে, এসব অভিযোগের মধ্যে মাত্র ২ থেকে ১০ শতাংশ ভুয়া হয়ে থাকে। 'থেরাপি নেশন'-এর রচয়িতা ও মনোবিজ্ঞানী জোনাথন আলপার্টের মতে, এই বিশাল সংখ্যাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। এগুলো কেবল নথিভুক্ত অভিযোগ, এর বাইরেও অসংখ্য ঘটনা রয়েছে যা সামাজিক সম্মান, বন্ধু বা পরিচিত গণ্ডি হারানোর ভয়ে কখনোই প্রকাশ পায় না।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:১৯
ফিলিস্তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের প্রধান ড. ইয়াসমিন খামিস আল-বুবো I ছবি: সংগৃহীত
গাজায় ইসরায়েলি হা মলায় প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের প্রধান ড. ইয়াসমিন

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলায় এবার প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের প্রধান ড. ইয়াসমিন খামিস আল-বুবো।   শনিবার ভোরে পশ্চিম গাজার একটি আবাসিক ভবনে চালানো এই হামলায় ড. ইয়াসমিনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই নারী বলে জানা গেছে।   ড. ইয়াসমিন খামিস আল-বুবো দীর্ঘ সময় ধরে ফিলিস্তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে, তিনি শুধু মাল্টিমিডিয়া বিভাগেই শিক্ষকতা করতেন না, বরং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ওই বিভাগের প্রধানের দায়িত্বও পালন করে আসছিলেন।   একজন মেধাবী শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর কম্পিউটার সায়েন্স, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একাধিক উচ্চতর ডিগ্রি ছিল। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে ফিলিস্তিনের শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   শনিবার ভোরে চালানো ওই প্রাণঘাতী হামলায় ড. ইয়াসমিনের সঙ্গে তাঁর ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মা হালুম মাহমুদ আল-বুবোও শাহাদাতবরণ করেন।   একই অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসরত অপর দুই খ্রিষ্টান ফিলিস্তিনিও এই হামলায় নিহত হন, যারা সম্পর্কে মা ও মেয়ে ছিলেন।   গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে বেসামরিক নাগরিক, নারী ও শিক্ষাবিদদের এভাবে প্রাণ হারানোর ঘটনা উপত্যকাটির মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহ চিত্রকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:২
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি তাদের অধিকার, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাব রাশিয়ার
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি তাদের অধিকার, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাব রাশিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে রাশিয়া জানিয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করা ইরানের অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং তেহরান এটি ত্যাগ করতে বাধ্য নয়। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক মিখাইল উলিয়ানভ এই মন্তব্য করেন।   জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজের সাম্প্রতিক এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে উলিয়ানভ মার্কিন প্রশাসনের পারমাণবিক বিস্তার রোধ নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দাবি ছিল, ইরান আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গ করে কোনো বিশ্বাসযোগ্য বেসামরিক উদ্দেশ্য ছাড়াই ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে।   মার্কিন দাবির বিরোধিতা করে উলিয়ানভ স্পষ্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের অবস্থান পারমাণবিক বিস্তার রোধের নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) কার্যক্রম সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভুল ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুন এবং ২০২৬ সালের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পরও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে। তেহরানের অভিযোগ, ওই সংঘাতগুলোতে তাদের বেসামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালানো হয়েছিল, যা সরাসরি আন্তর্জাতিক আইন ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (NPT) চরম লঙ্ঘন।   আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষপাতিত্ব এবং অবৈধ হামলার প্রতিবাদে ইরানের পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে সর্বসম্মতিক্রমে আইন পাস করে আইএইএ-এর সাথে সব ধরনের সহযোগিতা স্থগিত করেছে। নতুন আইন অনুযায়ী, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (SNSC) অনুমোদন ছাড়া কোনো আইএইএ পরিদর্শককে ইরানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।   এনপিটি-র স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ইরান বারবার জোর দিয়ে বলেছে, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা পরিদর্শনে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির কোনো সামরিক ব্যবহারের প্রমাণ মেলেনি। ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, বিশেষ করে স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের পারমাণবিক অধিকার ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে কোনো আলোচনা হবে না।   ইরানের এই অনড় অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে চীন ও রাশিয়া। সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ইরানবিষয়ক একটি খসড়া প্রস্তাবে এই দুই দেশ ভেটো প্রদান করে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া এক বক্তব্যে চীনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি সুন লেই পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরানের ‘বৈধ অধিকারকে’ সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। চীন এই সঙ্কটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৩:৪৯
ক্ষমা চাইতে বলায় ক্ষে পণাস্ত্র ছুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে জবাব দিলেন কিম জং উন  I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ক্ষমা চাইতে বলায় ক্ষে পণাস্ত্র ছুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে জবাব দিলেন কিম জং উন

দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানের জবাবে শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে পূর্ব সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। গত মাসে দুই দেশের সীমান্তবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হওয়ার ঘটনায় সিউল পিয়ংইয়ংয়ের কাছে ক্ষমা দাবি করেছিল।   কিন্তু সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে উত্তর কোরিয়া শনিবার ভোরে পূর্ব উপকূলীয় ওনসান এলাকা থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট ধরন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য এখনও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ঘনিষ্ঠভাবে তথ্য বিনিময় করছে।   গত ২১ সেপ্টেম্বর ডিএমজেড-এর ভেতরে টহল দেওয়ার পথ পরিষ্কার করার সময় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডের যৌথ তদন্তে বলা হয়েছে, সীমান্তের দক্ষিণ পাশে উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনের কারণেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছিল, যা ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।   দক্ষিণ কোরিয়া এই ঘটনার জন্য পিয়ংইয়ংকে দায়ী করে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি সীমান্তে মাইন পোঁতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল। তবে উত্তর কোরিয়া শুরু থেকেই এই দায় অস্বীকার করে আসছে। এমনকি শুক্রবার (২ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘ঘৃণ্য’ বলে আখ্যা দিয়ে মাইন বিস্ফোরণের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগের জবাবে শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই উত্তর কোরিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। সিউলের সাবেক ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজ-এর প্রেসিডেন্ট ইয়াং মু-জিন ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, সিউল উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানালেও পিয়ংইয়ং কার্যত সংঘাতের পথই বেছে নিয়েছে।   ২০২৪ সালের শুরুতে কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়াকে তার দেশের ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে সীমান্ত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে পিয়ংইয়ং। এর অংশ হিসেবেই উত্তর কোরিয়ার সেনারা সীমান্ত এলাকায় মাইন পুঁতেছে এবং ট্যাংক চলাচল ঠেকাতে প্রতিবন্ধক নির্মাণ করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৩:১৭
নিউইয়র্ক সিটিতে হ্যালোউইন ও শরৎকালীন উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণিল প্যারেড ও উৎসবমুখর পরিবেশ। ছবি: সংগৃহীত
হ্যালোউইনে নিউইয়র্কের ১৬০ সড়ক গাড়িমুক্ত, শিশুদের জন্য থাকছে মিষ্টি, খেলাধুলা ও নানা বিনোদন

নিউইয়র্ক সিটিতে এবারের হ্যালোউইন ও শরৎকালীন উৎসব উপলক্ষে পাঁচ বরোর রেকর্ড ১৬০টি সড়ক ও প্লাজা গাড়িমুক্ত রাখা হবে। অক্টোবরজুড়ে ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ কর্মসূচির আওতায় এসব স্থানে শিশু ও পরিবারের জন্য মিষ্টি সংগ্রহ, মুখে ছবি আঁকা, খেলাধুলা, সরাসরি বিনোদন এবং বিভিন্ন পারিবারিক আয়োজন থাকবে। শহরের পরিবহন বিভাগ শিশুদের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজার পিস মিষ্টি বিতরণের পরিকল্পনাও করেছে।   নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এবং নিউইয়র্ক সিটি পরিবহন বিভাগের কমিশনার মাইক ফ্লিন ৩০ সেপ্টেম্বর এবারের কর্মসূচির ঘোষণা দেন। ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডজুড়ে অক্টোবর মাসে এসব আয়োজন হবে। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের ১৬০টি স্থান ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ কর্মসূচির এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা।   কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন এলাকার সড়ক, প্লাজা ও অন্যান্য স্থান সাময়িকভাবে পথচারীবান্ধব উৎসবস্থলে পরিণত হবে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন, কমিউনিটি গ্রুপ ও বিদ্যালয়গুলোও আয়োজনে যুক্ত থাকবে। স্থানভেদে মিষ্টি সংগ্রহ, মুখে ছবি আঁকা, সরাসরি বিনোদন, খেলাধুলা এবং শিশু ও পরিবারের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম থাকবে।   এবারের আয়োজনে নতুন কিছু কার্যক্রমও যুক্ত হয়েছে। মিউনিসিপ্যাল আর্ট সোসাইটি অব নিউইয়র্কের সহযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে গাইডসহ হাঁটা ভ্রমণের আয়োজন করা হবে। এসব ভ্রমণে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইতিহাস, স্থাপত্য এবং জনসাধারণের ব্যবহারের স্থান সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের জানানো হবে।   এ ছাড়া স্ট্রিট ল্যাবের সহযোগিতায় নিউইয়র্কের নির্বাচিত সরকারি বিদ্যালয়ের সামনে হ্যালোউইনকেন্দ্রিক খেলাধুলা, সৃজনশীল কার্যক্রম এবং শিশুদের উপযোগী বিভিন্ন আয়োজন করা হবে। ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটন ও কুইন্সের একাধিক বিদ্যালয় এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।   পাঁচ বরোতে বড় পাঁচটি বিশেষ অনুষ্ঠানের সময়সূচিও প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক সিটি পরিবহন বিভাগ। ব্রুকলিনের হিলেল প্লাজায় ২২ অক্টোবর দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান হবে। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ওয়াটার স্ট্রিটে ২৪ অক্টোবর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আয়োজন চলবে।   কুইন্সের অস্টিন স্ট্রিটে ২৫ অক্টোবর দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিশেষ অনুষ্ঠান নির্ধারণ করা হয়েছে। ম্যানহাটনের ক্যানাল ওপেন স্ট্রিট ও ডিভিশন প্লাজায় ২৮ অক্টোবর বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আয়োজন থাকবে। হ্যালোউইনের দিন ৩১ অক্টোবর ব্রঙ্কসের জেমস বাল্ডউইন প্লাজায় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান হবে।   নিউইয়র্ক সিটি পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ কর্মসূচির মাধ্যমে হ্যালোউইনের আগে এবং হ্যালোউইনের দিনে পথচারীদের জন্য অতিরিক্ত জায়গা তৈরি করা হয়। হ্যালোউইন শহরের সড়কগুলোর অন্যতম ব্যস্ত সময় হওয়ায় নির্দিষ্ট সড়ক ও প্লাজাকে গাড়িমুক্ত রেখে শিশু ও পরিবারকে উৎসবের জন্য জায়গা দেওয়াই কর্মসূচিটির অন্যতম উদ্দেশ্য।   এবারের কর্মসূচি গত বছরের তুলনায় আরও বড় হয়েছে। ২০২৫ সালে ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ কর্মসূচির আওতায় নিউইয়র্ক সিটিতে ১৪৮টি গাড়িমুক্ত অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ১৬০টি সড়ক ও প্লাজায় পৌঁছেছে।   মেয়র মামদানি জানিয়েছেন, এবারের কর্মসূচিতে শহরের ১৬০টি সড়ক ও প্লাজা মিষ্টি সংগ্রহ, খেলাধুলা, সংগীত ও অন্যান্য আনন্দের আয়োজনে ব্যবহৃত হবে। পরিবহন কমিশনার মাইক ফ্লিনও শিশুদের জন্য ১৬০টি গাড়িমুক্ত স্থান এবং প্রায় ৭৫ হাজার পিস মিষ্টি বিতরণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।   শহরের বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে প্রতিটি এলাকার আয়োজনের ধরন ভিন্ন হতে পারে। কোথাও সরাসরি বিনোদন ও খেলাধুলা থাকবে, আবার কোথাও শিশুদের সৃজনশীল কার্যক্রম কিংবা স্থানীয় এলাকা ঘুরে দেখার সুযোগ থাকবে। সব মিলিয়ে অক্টোবরজুড়ে পাঁচ বরোর বিভিন্ন এলাকায় হ্যালোউইন ও শরৎকালীন উৎসবের আয়োজন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।   নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬০টি গাড়িমুক্ত সড়ক ও প্লাজাকে কেন্দ্র করে এবারের ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ হবে এখন পর্যন্ত কর্মসূচিটির সবচেয়ে বড় আয়োজন। শিশু ও পরিবারের জন্য মিষ্টি, খেলাধুলা, মুখে ছবি আঁকা, বিনোদন ও অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি নতুন হাঁটা ভ্রমণ এবং বিদ্যালয়কেন্দ্রিক আয়োজনও যুক্ত হচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৩:১১
যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী সমকামীদের নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস, ‘গেইজ ফর প্যালেস্টাইন’ স্লোগান ঘিরে বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী সমকামীদের নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস, ‘গেইজ ফর প্যালেস্টাইন’ স্লোগান ঘিরে বিতর্ক

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সাম্প্রতিক এক প্রচারণামূলক বক্তৃতায় এলজিবিটিকিউ (LGBTQ) সম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে, ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সমকামীদের দেওয়া ‘গেইজ ফর প্যালেস্টাইন’ (Gays for Palestine) স্লোগানটিকে রীতিমতো উপহাসের ছলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।   ট্রাম্প বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমকামীদের সমর্থনের কোনো যৌক্তিকতা তিনি খুঁজে পান না। বিশ্বের ওই অংশে সমকামীদের প্রতি কেমন আচরণ করা হয়, সেদিকে ইঙ্গিত করে তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে প্রস্তাব দেন, সমকামীদের সেখানে আলোচনার জন্য পাঠানো উচিত। তিনি মন্তব্য করেন, "আমি আজ এটা দেখলাম এবং বললাম, একটু দাঁড়ান। গেইজ ফর প্যালেস্টাইন। আপনারা কি জানেন পৃথিবীর ওই অংশে সমকামীদের সঙ্গে তারা কী করে?! চলুন তাদের কোনো একদিন আলোচনার জন্য সেখানে পাঠাই। দেখবেন, তাদের আর কখনোই ফিরে পাওয়া যাবে না!"   ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির আধিপত্য ধরে রাখতে তিনি বেশ কিছু আর্থিক প্রণোদনারও ঘোষণা দিয়েছেন।   এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মেডিকেয়ারের আওতাভুক্ত দুই কোটিরও বেশি আমেরিকানকে মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ মেটাতে এককালীন ৯০ ডলার প্রদান। আগামী অক্টোবরের শুরুতেই এই অর্থ সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা চেকের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এর জন্য ‘মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড’ থেকে প্রায় ২০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।   পাশাপাশি, ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ (ACA)-এর আওতায় স্বাস্থ্য বীমা কেনা প্রায় দশ লাখ আমেরিকানকে অতিরিক্ত ফি ফেরত হিসেবে ৫০০ ডলার করে দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর বাইরে, রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ৫,০০০ ডলার করে দেওয়ার যে প্রস্তাব তিনি গত মাসে দিয়েছিলেন, তারও পুনরাবৃত্তি করেন এই বক্তৃতায়। তবে, অর্থনীতিবিদ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাঁর এই ৫,০০০ ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৩:১
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যার পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ বাবা-মায়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় তানভি। ছবি: সংগৃহীত
নেপালের বন্যায় নিখোঁজ বাবা-মা, ৩০ দিন পরও অপেক্ষায় মেয়ে

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছেন কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া ভারতীয় দম্পতি ভেঙ্কটরাম অন্নামদেবরা ও অনঘা অন্নামদেবরা। তাঁদের মেয়ে তানভি এখনো বাবা-মায়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। এতদিনেও তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য না পাওয়ার যন্ত্রণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর একটাই প্রশ্ন, ‘কেন তাঁদেরই?’   ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। তীব্র স্রোত, ধ্বংসাবশেষ ও ভূমিধসে বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ওই সময় ভেঙ্কটরাম ও অনঘা ৬৭ সদস্যের একটি দলের সঙ্গে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় ছিলেন। দুর্যোগের পর তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।   বাবা-মা নিখোঁজ হওয়ার পর এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি পরিবার। তানভি তাঁর সাম্প্রতিক ভিডিওতে জানিয়েছেন, গত এক মাসে তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বাবা-মায়ের জন্য অপেক্ষা, তাঁদের নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং নিজের জীবনের বিভিন্ন দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে তাঁকে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলটির সর্বশেষ জানা অবস্থান ছিল নেপালের অভিবাসন কেন্দ্র ও ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজের আশপাশে। আকস্মিক বন্যায় ওই এলাকাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ভেঙ্কটরাম ও অনঘা ঠিক কোথায় রয়েছেন কিংবা তাঁদের কী ঘটেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।   বাবা-মায়ের নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তানভির সামনে ছিল নিজের চিকিৎসাবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ৩০ আগস্ট তাঁর এনইইটি-পিজি পরীক্ষা ছিল। বাবা-মায়ের কোনো সন্ধান না পেলেও তিনি পরীক্ষাকেন্দ্রে যান। পরে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, তিন ঘণ্টার পরীক্ষার প্রায় দেড় ঘণ্টা তিনি কেঁদেছেন। চোখের পানির কারণে প্রশ্নপত্র পড়তেও তাঁর সমস্যা হচ্ছিল।   মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা শেষ করেন তানভি। কারণ তাঁর বাবা চাইতেন তিনি পরীক্ষাটি দিন। বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকলেও বাবার সেই ইচ্ছার কথা মনে রেখেই তিনি পরীক্ষায় বসেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।   পরীক্ষার দিন পরিবারের ছোট একটি অভ্যাসও তাঁকে বাবা-মায়ের অনুপস্থিতি আরও গভীরভাবে অনুভব করায়। গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরীক্ষার আগে তাঁর মা সাধারণত তাঁকে দই ও চিনি খাওয়াতেন। বাবা তাঁকে শুভকামনা জানাতেন। কিন্তু ওই দিন দুজনের কেউই তাঁর পাশে ছিলেন না। পরিচিত সেই মুহূর্তের অনুপস্থিতি তাঁর কাছে বাবা-মাকে হারিয়ে ফেলার অনিশ্চয়তাকে আরও কঠিন করে তোলে।   নেপালের ওই দুর্যোগে শুধু তানভির পরিবার নয়, আরও বহু পরিবার প্রিয়জনের সন্ধানে অপেক্ষা করছে। কাঠমান্ডু পোস্টের ২৭ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোটেকোশি বন্যার পর তখন ৮২৬ জনের অবস্থান অজানা ছিল। তাঁদের মধ্যে ৫৯০ জন ছিলেন পর্যটক। ওই পর্যটকদের মধ্যে ৪৭৬ জন বিদেশি এবং ১১৪ জন নেপালি নাগরিক ছিলেন।   পরবর্তী সময়ে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। রয়টার্সের ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে নেপালের অংশে ৫ হাজার ১৩০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ এবং ১ হাজার ৩৮৬ জনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়। ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ, যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি এবং দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্ত করার কার্যক্রম কঠিন হয়ে পড়ে।   দুর্যোগের পর বহু পরিবার হাসপাতাল, উদ্ধারকেন্দ্র এবং বিভিন্ন স্থানে নিজেদের স্বজনের সন্ধান চালিয়ে যেতে থাকে। পরিচয় শনাক্ত করার জন্য কিছু পরিবার ডিএনএ নমুনাও জমা দেয়। দিনের পর দিন কোনো নতুন তথ্য না পাওয়ায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হতে থাকে।   তানভির পরিবারও একই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। বাবা-মা কোথায় আছেন, তাঁরা বেঁচে আছেন কি না কিংবা তাঁদের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, এসব প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত উত্তর এখনো পরিবারের হাতে নেই। এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পরিবার তাঁদের নিখোঁজ হিসেবেই খুঁজে যাচ্ছে।   নিজের বক্তব্যে তানভি বারবার বাবা-মায়ের সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিতে ফিরে গেছেন। জীবনের দীর্ঘ সময় পরিবারের দায়িত্ব পালন করার পর তাঁর বাবা-মা নিজেদের জন্য এই ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দের যাত্রাই শেষ পর্যন্ত তাঁদের পরিবারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার ঘটনায় পরিণত হয়েছে।   বাবা-মায়ের কোনো খবর না পাওয়ার যন্ত্রণার মধ্যেই তানভির মনে বারবার ফিরে আসছে একটি প্রশ্ন, ‘কেন তাঁদেরই?’ একদিকে বাবা-মায়ের সন্ধানের অপেক্ষা, অন্যদিকে নিজের পড়াশোনা ও জীবনের দায়িত্ব চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, সবকিছুর মধ্যেই গত এক মাস কাটিয়েছেন তিনি।   এখনো ভেঙ্কটরাম অন্নামদেবরা ও অনঘা অন্নামদেবরার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো পরিণতির তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তাঁদের সন্ধান পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছে পরিবার। তানভিও বাবা-মায়ের ফিরে আসার আশা ধরে রেখেছেন। এক মাসের বেশি সময় ধরে কোনো নিশ্চিত খবর না পেলেও সেই অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১২:৫৭
ফ্লোরিডার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়া অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের কার্গো বিমান। ছবি: সংগৃহীত
বাতাসের তথ্য না জেনেই অবতরণ, মিয়ামিতে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজনের হয়ে পণ্য পরিবহনকারী একটি কার্গো বিমান রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার আগে পাইলটদের বাতাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের প্রাথমিক তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে। ৬ সেপ্টেম্বরের ওই দুর্ঘটনায় মাটিতে থাকা পাঁচজন নিহত এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। বিমানের দুই পাইলট সামান্য আহত হন। তবে তদন্তকারীরা এখনো দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ করেননি।   দুর্ঘটনায় জড়িত উড়োজাহাজটি ছিল বোয়িং ৭৬৭-৩৩এ মডেলের কার্গো বিমান। ২১ এয়ারের পরিচালনায় বিমানটি অ্যামাজনের হয়ে পণ্য পরিবহন করছিল। এটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশে আসছিল। মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩০ নম্বর রানওয়েতে অবতরণের পর বিমানটি রানওয়ের শেষ প্রান্ত অতিক্রম করে মাটিতে থাকা দুটি যাত্রীবাহী যানবাহনে আঘাত করে। দুর্ঘটনার পর বিমানের ডান পাখায় আগুন ধরে যায় এবং উড়োজাহাজটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   প্রাথমিক তদন্তে বাতাসের তথ্য না পাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি দেওয়ার প্রায় চার মিনিট আগে অন্য একটি বিমান বাতাসের তথ্য জানতে চেয়েছিল। তখন নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বাতাস ১৯০ ডিগ্রি দিক থেকে ১৯ নট বেগে বইছে এবং দমকা বাতাসের গতি ২২ নট পর্যন্ত উঠছে। কিন্তু দুর্ঘটনায় পড়া কার্গো বিমানটি তখন ওই বেতার তরঙ্গে ছিল না। পরে বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি দেওয়ার সময় পাইলটদের সেই বাতাসের তথ্য জানানো হয়নি।   জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড জানিয়েছে, পেছন দিকের বাতাসের প্রভাব থাকা অবস্থায় কোনো রানওয়েতে বিমানকে অবতরণের অনুমতি দেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রকের বাতাসের দিক ও গতি জানানো প্রয়োজন। কিন্তু এই বিমানটির অবতরণের অনুমতির সঙ্গে সেই তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে সংস্থাটি এখনো বলেনি যে বাতাসের তথ্য না পাওয়ার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।   বাতাসের পাশাপাশি অবতরণের সময় বিমানটির গতিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ককপিটের রেকর্ড অনুযায়ী, অবতরণের শেষ পর্যায়ে একজন পাইলট ফ্ল্যাপ ২০ ডিগ্রিতে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর অন্য পাইলট সতর্ক করেন যে বিমানটি অতিরিক্ত গতিতে এগোচ্ছে। এরপরও বিমানের অতিরিক্ত গতি নিয়ে আরও কয়েকবার মন্তব্য করা হয়।   বিমানটি রানওয়ের শুরু থেকে প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ ফুট সামনে গিয়ে প্রথমবার মাটি স্পর্শ করে। জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নাকের চাকা ও ডান পাশের প্রধান চাকা মাটি স্পর্শ করার সময় বিমানটির মাটির ওপর গতি ছিল প্রায় ১৫৮ নট। এরপর ১৪৬ নট গতিতে ব্রেক প্রয়োগ করা হয়। বাম পাশের প্রধান চাকা মাটি স্পর্শ করে প্রায় ১৩৪ নট গতিতে।   রেকর্ড করা তথ্যে আরও দেখা যায়, বিমানটির গতি যখন প্রায় ১২০ নটে নেমে আসে, তখন ব্রেক ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ইঞ্জিনের শক্তি এমন পর্যায়ে বাড়ানো হয়, যা আবার আকাশে ওঠার চেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কয়েক সেকেন্ড পর ইঞ্জিনের শক্তি আবার কমিয়ে ব্রেক প্রয়োগ করা হয়। তখন বিমানটির গতি ছিল প্রায় ১১৭ নট।   তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, রেকর্ড করা তথ্যে অবতরণের সময় বিমানের স্পিড ব্রেক কিংবা ইঞ্জিনের থ্রাস্ট রিভার্সার মোতায়েন হওয়ার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ব্রেক প্রয়োগ করা হয়েছিল। রেকর্ডিং শেষ হওয়ার সময় বিমানটির সর্বশেষ ধারণ করা গতি ছিল ৬৫ নট।   রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বিমানটি দুটি যানবাহনে আঘাত করে। এতে মাটিতে থাকা পাঁচজনের মৃত্যু হয় এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। বিমানে থাকা দুই ক্রু সদস্য সামান্য আহত হন। জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড দুর্ঘটনার পরদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ এবং দুর্ঘটনার বিভিন্ন দিক তদন্ত শুরু করে।   তদন্তে বিমানটির ককপিটের কথোপকথন ও উড্ডয়নসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণকারী দুটি যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ককপিটের কথোপকথন সংরক্ষণকারী যন্ত্রে দুই ঘণ্টার বেশি সময়ের ভালো মানের শব্দ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে উড্ডয়নসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণকারী যন্ত্রে প্রায় ৫৪ ঘণ্টার তথ্য এবং চার শতাধিক তথ্যসূচক সংরক্ষিত ছিল। এসব তথ্য দুর্ঘটনার শেষ মুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহ পুনর্গঠনে ব্যবহার করছেন তদন্তকারীরা।   দুর্ঘটনার পর অ্যামাজন ২১ এয়ারের ব্যবহার স্থগিত করেছে। ২১ এয়ার জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের প্রাথমিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছে এবং তদন্তে যেসব তথ্য প্রতিষ্ঠিত হবে, তার ভিত্তিতে নিরাপত্তা উন্নত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। অ্যামাজনও চলমান তদন্তে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।   তবে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড স্পষ্ট করেছে, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য প্রাথমিক এবং তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ নির্ধারণ করা হয় না। চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণের জন্য বিমানটির কার্যক্ষমতা, পাইলটদের সিদ্ধান্ত, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, আবহাওয়া এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় পরীক্ষা করা হচ্ছে।   ফলে বাতাসের তথ্য না দেওয়া, অবতরণের সময় অতিরিক্ত গতি, রানওয়ের অনেকটা সামনে গিয়ে মাটি স্পর্শ করা কিংবা শেষ মুহূর্তে আবার আকাশে ওঠার চেষ্টা - কোনো একটিকেই এখন দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ বলা যাচ্ছে না। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এসব ঘটনার সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণের সম্পর্ক নির্ধারণ করবে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১২:৪১
বিদেশিদের বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের নতুন কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে আর্জেন্টিনা। ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনার নাগরিকত্বের নতুন পথ, ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারেই আবেদনের সুযোগ

বিদেশিদের বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের নতুন কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার। নতুন ব্যবস্থায় একজন বিদেশি আবেদনকারী সাড়ে ৩ লাখ মার্কিন ডলার সরাসরি জাতীয় কোষাগারে দিয়ে অথবা ৮ লাখ ডলারের বিশেষ সরকারি বন্ড কিনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে নির্ধারিত অর্থ দিলেই নাগরিকত্ব নিশ্চিত হবে না। পরিচয়, অর্থের উৎস, অপরাধের ইতিহাস ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।   আর্জেন্টিনা সরকার ২ অক্টোবর এই কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেয়। প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘আর্জেন্টিনা উইক’ বিনিয়োগ সম্মেলনে দেশটির অর্থমন্ত্রী লুইস কাপুতো এবং মন্ত্রিসভার প্রধান দিয়েগো সান্তিল্লি কর্মসূচিটি ঘোষণা করেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে, অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।   নতুন কর্মসূচিতে বিদেশি আবেদনকারীদের জন্য দুটি আর্থিক পথ রাখা হয়েছে। প্রথম পথে আর্জেন্টিনার জাতীয় কোষাগারে সাড়ে ৩ লাখ মার্কিন ডলারের সরাসরি অর্থ দিতে হবে। এই অর্থ ফেরতযোগ্য নয়। দ্বিতীয় পথে আবেদনকারী এই কর্মসূচির জন্য বিশেষভাবে তৈরি ৮ লাখ মার্কিন ডলারের সরকারি বন্ড কিনতে পারবেন।   আর্থিক শর্ত পূরণ করলেই অবশ্য আবেদন অনুমোদিত হবে না। প্রতিটি আবেদন কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যাবে। আবেদনকারীর পরিচয়, অর্থের উৎসের বৈধতা ও গতিপথ, সম্পদ ও আর্থিক অবস্থা, অপরাধের ইতিহাস, সুনামসংক্রান্ত তথ্য, অভিবাসন ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করা হবে।   আর্জেন্টিনা সরকার জানিয়েছে, অর্থপাচার প্রতিরোধ, সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকানো এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রচলিত মান অনুসরণ করা হবে। কর্মসূচির আওতায় দেওয়া সব অর্থ আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেন করতে হবে। আবেদনকারীর অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং তা বৈধ কি না, সেটিও যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।   নাগরিকত্বের জন্য বিনিয়োগ কর্মসূচি সংস্থা আবেদনগুলোর প্রাথমিক মূল্যায়নের নেতৃত্ব দেবে। যাচাই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সচিবালয়, আর্থিক তথ্য ইউনিট, জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সরকারি সংস্থা যুক্ত থাকবে। প্রয়োজনীয় যাচাই শেষ হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা জাতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সুপারিশ পাঠাবে।   চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ২০২৫ সালে জারি করা সরকারি বিধান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিবেদন পাওয়ার পর জাতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আবেদন পর্যালোচনা করে নাগরিকত্ব দেওয়া অথবা আবেদন প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে বিনিয়োগের অর্থ দেওয়া নাগরিকত্ব পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচিত হবে না।   নতুন কর্মসূচিতে মূল আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে চাইলে অতিরিক্ত ১ লাখ মার্কিন ডলার দিতে হবে। একইভাবে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী অবিবাহিত ও সন্তানহীন সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ১ লাখ ডলার দিতে হবে।   ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার। সরকারি ঘোষণায় উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, একজন মূল আবেদনকারী, তাঁর স্বামী বা স্ত্রী এবং দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানসহ চার সদস্যের একটি পরিবার সরাসরি জাতীয় কোষাগারে অর্থ দেওয়ার পথ বেছে নিলে মোট ৫ লাখ মার্কিন ডলারে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে।   এই কর্মসূচির আইনি ভিত্তি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল আগেই। ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনার নাগরিকত্বসংক্রান্ত আইনে পরিবর্তন এনে বিদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগ তৈরি করা হয়। ওই ব্যবস্থায় দেশে কতদিন বসবাস করেছেন, সেটিকে বিনিয়োগভিত্তিক এই আবেদনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে রাখা হয়নি।   পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আরেকটি সরকারি বিধানের মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য বিনিয়োগ কর্মসূচির আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। সেখানে আবেদন গ্রহণ, বিনিয়োগ মূল্যায়ন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নিরাপত্তা যাচাই এবং জাতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।   সর্বশেষ ঘোষণায় সেই কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। একজন বিদেশির জন্য সরাসরি জাতীয় কোষাগারে সাড়ে ৩ লাখ ডলারের ফেরতযোগ্য নয় এমন অর্থ দেওয়া অথবা ৮ লাখ ডলারের বিশেষ সরকারি বন্ড কেনার দুটি বিকল্প রাখা হয়েছে।   সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটির লক্ষ্য বিদেশি পুঁজি আকর্ষণ এবং আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংযোগ আরও শক্তিশালী করা। এই কর্মসূচি থেকে পাওয়া অর্থ দেশের আর্থিক ও রাজস্ব অবস্থান আরও শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহারের কথা জানিয়েছে সরকার।   নতুন কর্মসূচির আবেদন প্রক্রিয়ায় আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আবেদনকারীর পরিচয় থেকে শুরু করে তাঁর অর্থের বৈধ উৎস এবং অপরাধের ইতিহাস পর্যন্ত যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মূল্যায়নের পরই জাতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।   ফলে সাড়ে ৩ লাখ ডলার দেওয়ার অর্থ সরাসরি আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট পাওয়া নয়। এটি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার একটি আর্থিক পথ। একইভাবে ৮ লাখ ডলারের বিশেষ সরকারি বন্ড কেনার পথ বেছে নিলেও আবেদনকারীকে নির্ধারিত সরকারি যাচাই-বাছাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হবে।   আর্জেন্টিনা সরকার জানিয়েছে, কর্মসূচিটি ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের মধ্যেই আবেদন গ্রহণের জন্য কার্যকর করা হবে। এর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশটির নাগরিকত্বের নতুন একটি আনুষ্ঠানিক পথ খুলছে, যেখানে বিনিয়োগের পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা যাচাই হবে নাগরিকত্ব পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১২:৩০