যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের বন্ড হিয়ারিং ছাড়াই বন্দি রাখার পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের মুক্তির জন্য বন্ড হিয়ারিং দেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই বলে রায় দিয়েছেন একটি ফেডারেল আপিল আদালত। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিউ অরলিন্সভিত্তিক ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের ১৭ বিচারপতির মধ্যে ১০ জন এই সিদ্ধান্তের পক্ষে এবং সাতজন বিপক্ষে মত দেন। রায়টি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আইনি সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর ফলে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে ইমিগ্রেশন হেফাজতে থাকা কিছু অভিবাসীর বন্ডের মাধ্যমে মুক্তি চাওয়ার সুযোগ আরও সীমিত হতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স -এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া এবং ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ায় আটক থাকা সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের জন্য সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যক্তিগত বন্ড হিয়ারিংয়ের অধিকার নিশ্চিত করে না। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া উচিত কি না, তা নির্ধারণের জন্য প্রত্যেক ক্ষেত্রে আলাদা শুনানি আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই বলে আদালত মনে করেন।
রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন মামলার নিষ্পত্তি চলাকালে বন্ড হিয়ারিং ছাড়াই আটক রাখার আইনি ভিত্তি পেয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে আটক সব অভিবাসীর ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে যাঁরা বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন, পরে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে কিংবা অন্য ধরনের ইমিগ্রেশন মামলায় আটক হয়েছেন, তাঁদের আইনি পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। একইভাবে বন্ড হিয়ারিং না পাওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে ডিপোর্টেশনের চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত টেক্সাসে আটক তিন অভিবাসীকে কেন্দ্র করে। তাঁরা হলেন মেক্সিকোর নাগরিক ইগনাসিও সোসনাভা রদ্রিগেজ ও আলেহান্দ্রো ভিয়েগাস অ্যাঞ্জেল এবং হন্ডুরাসের নাগরিক মিগেল অ্যাঞ্জেল গোমেজ আলভারাদো। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁরা প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন ২২ বছরের বেশি সময় এবং অন্য দুজন ২০১১ ও ২০১২ সাল থেকে দেশটিতে ছিলেন। তাঁদের কয়েকজনের সন্তানও মার্কিন নাগরিক।
২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ট্রাফিকসংক্রান্ত ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হন ওই তিন ব্যক্তি। পরে তাঁদের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর হেফাজতে দেওয়া হয়। ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া চলাকালে বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ না পাওয়ায় তাঁরা ফেডারেল আদালতে মামলা করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা না করে দীর্ঘ সময় আটক রাখা সংবিধানের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করে।
প্রথমে নিম্ন আদালত তিন অভিবাসীর পক্ষে রায় দেন। বিচারকেরা সিদ্ধান্ত দেন, বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ না দিয়ে তাঁদের আটক রাখা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। পরে জুলাই মাসে ফিফথ সার্কিটের তিন বিচারপতির একটি প্যানেলও অভিবাসীদের পক্ষে অবস্থান নেয়। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ দিতে হবে। শুনানিতে বিচারক বিবেচনা করবেন, আটক ব্যক্তি সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কি না এবং মুক্তি পেলে আদালতে হাজির না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া ব্যক্তিদের ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া চলাকালে বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখা যায়। পরে ফিফথ সার্কিটের পূর্ণাঙ্গ বিচারক প্যানেল মামলাটি পুনরায় শুনানির সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে শুক্রবার আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে নতুন রায় দেওয়া হয়। এর ফলে জুলাই মাসে নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে বন্ড হিয়ারিংয়ের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও বাতিল হয়েছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের পক্ষে রায় লেখেন ট্রাম্পের মনোনীত বিচারক কোরি উইলসন। তাঁর যুক্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় তাঁদের আটক ও মুক্তির বিষয়ে কংগ্রেসের নির্ধারিত অভিবাসন আইনের বিধান প্রযোজ্য। তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিরা চাইলে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে শারীরিক আটকাবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তবে এই বক্তব্য আদালতের আইনি যুক্তির অংশ। বাস্তবে প্রত্যেক আটক অভিবাসীর পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে দেশত্যাগ করা সম্ভব কি না, সেটি পৃথক প্রশ্ন।
অন্যদিকে সাতজন বিচারক এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তাঁদের একজন বিচারক ডানা ডগলাস সতর্ক করে বলেন, নির্বাহী বিভাগের আটক রাখার ক্ষমতার ওপর যথাযথ বিচারিক নিয়ন্ত্রণ না থাকলে গুরুতর সাংবিধানিক উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। আরেক বিচারক লেসলি সাউথউইক দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তিদের সাংবিধানিক সুরক্ষা সীমিত হওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান। ভিন্নমত পোষণকারী বিচারকদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ন্যায়সংগত আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্নকে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক করে দেয় না।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রশাসনের জন্য বড় আইনি সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, ১৯৯৬ সালের অভিবাসন আইনে বাধ্যতামূলক আটকের যে বিধান রয়েছে, আদালতের সিদ্ধান্ত তার প্রয়োগকে সমর্থন করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে, ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ার আওতায় থাকা নির্দিষ্ট অভিবাসীদের বন্ডে মুক্তি দেওয়ার পরিবর্তে আটক রাখা আইনসম্মত।
তবে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো রায়ের সমালোচনা করেছে। ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন প্রজেক্টের আইনজীবী এলি নর্টন বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত শুনানি ছাড়াই আরও বেশি মানুষ দীর্ঘ সময় আটক থাকার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাঁর মতে, এর প্রভাব শুধু আটক ব্যক্তিদের ওপর নয়, তাঁদের পরিবার ও কমিউনিটির ওপরও পড়বে। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলও রায়টিকে সাংবিধানিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
রায়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর ভৌগোলিক এখতিয়ার। ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের অধীনে রয়েছে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপি। ফলে এই তিন অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতে রায়টির সরাসরি প্রভাব রয়েছে। টেক্সাস ও লুইজিয়ানায় যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক অভিবাসন বন্দিশালা অবস্থিত। অন্য অঙ্গরাজ্য থেকে আটক ব্যক্তিদেরও এসব কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। তাই রায়টির প্রভাব শুধু ওই তিন অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট চলতি অক্টোবরেই বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন ডিটেনশনসংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেখানে মূলত ফেডারেল অভিবাসন আইনের অধীনে বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ থাকা উচিত কি না, তা বিবেচনা করা হবে। তবে ফিফথ সার্কিটের শুক্রবারের রায়ে যে সাংবিধানিক প্রশ্নের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের গৃহীত মামলাটি সরাসরি সেই একই প্রশ্নের ওপর নয়। ফলে সর্বোচ্চ আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং অন্যান্য আদালতের রায়ের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের জন্য এই রায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এবং বর্তমানে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন, তাঁদের বন্ড হিয়ারিং পাওয়ার সুযোগ সংশ্লিষ্ট আদালতের এখতিয়ার ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করতে পারে। তবে সব গ্রিন কার্ডধারী, ভিসাধারী, অ্যাসাইলাম আবেদনকারী কিংবা আটক অভিবাসীর বন্ড পাওয়ার অধিকার একসঙ্গে বাতিল হয়েছে, এমন দাবি সঠিক নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির প্রবেশের ইতিহাস, বর্তমান ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এবং মামলার ধরন গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ সীমিত হওয়া মানেই সব ধরনের আইনি প্রতিকার বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আটক ব্যক্তিরা ফেডারেল আদালতে হেবিয়াস করপাসের আবেদনসহ অন্যান্য আইনগত পথ অনুসরণ করতে পারেন। তবে কোন প্রতিকার পাওয়া যাবে, তা মামলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তাই আইসিইর হেফাজতে থাকা ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের জন্য অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার অবস্থান যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে ফিফথ সার্কিটের নতুন রায় ট্রাম্প প্রশাসনের বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন ডিটেনশন নীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আগের ৯০ দিনের মধ্যে বন্ড হিয়ারিং দেওয়ার নির্দেশ বাতিল হওয়ায় টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের মুক্তির আবেদন আরও কঠিন হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সব অভিবাসীর বন্ড হিয়ারিং বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়। সুপ্রিম কোর্টে চলমান আইনি প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতের আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর এই নীতির পরবর্তী অবস্থান নির্ভর করবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের আর্চডায়োসিস ধর্মযাজকদের হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার প্রায় ১ হাজার ৩০০ জনের মামলা নিষ্পত্তিতে ৮০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই ও দর-কষাকষির পর এই ঐতিহাসিক সমঝোতা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রত্যেক ভুক্তভোগী কমপক্ষে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পাবেন এবং নিপীড়নের ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী এই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক আরও বাড়তে পারে। আর্চবিশপ রোনাল্ড হিকস জানিয়েছেন, অভিযোগকারী ও তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে সমঝোতা শেষে আগামী ৬ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হবে। যাজকদের উদ্দেশে পাঠানো এক ইমেইল বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের মানসিক নিরাময় ও পুনর্মিলনের সুযোগ তৈরি হবে এবং গির্জা তার সুসমাচার প্রচার, দরিদ্রদের সাহায্য ও শিশুদের শিক্ষাদানের মতো মূল সেবামূলক কাজগুলোতে পুনরায় মনোযোগ দিতে পারবে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগীদের আইনজীবী জেফ অ্যান্ডারসন এই সমঝোতাকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, ভুক্তভোগীদের অপরিসীম সাহস, ত্যাগ ও দৃঢ়তার ফলেই আজ জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক গির্জায় হওয়া বৃহত্তম সমঝোতাগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয়। এর আগে ২০২৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসের আর্চডায়োসিস ভুক্তভোগীদের ৮৮ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০০০-এর দশকের শুরু থেকেই দেশটিতে ক্যাথলিক ধর্মযাজকদের বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে হাজার হাজার শিশুকে যৌন নিপীড়ন এবং গির্জার ঊর্ধ্বতন নেতাদের দ্বারা সেসব ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আসতে থাকে। নিউইয়র্কের এই বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণের চুক্তির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ার আরেকটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
নিউইয়র্কে শুটিং চলাকালে ছুরি হাতে হা মলার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ২৩ বছরের যুবক
নিউইয়র্কে নারী পুলিশকে রাত কাটানোর প্রস্তাব, ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে যৌ ন হয়রানির মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের বন্ড হিয়ারিং ছাড়াই বন্দি রাখার পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে চালক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণহীন একটি স্কুলবাস থামিয়ে ১৯ শিক্ষার্থীকে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেছেন ২৭ বছর বয়সী মুসলিম যুবক এব্রো আহমেদ। চলন্ত বাসটির দরজা দিয়ে ভেতরে উঠে জরুরি ব্রেক টেনে সেটি থামান তিনি। এ ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি। নিজের সাহসী পদক্ষেপের পেছনে পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণার কথা জানিয়েছেন আহমেদ। তাঁর এই উদ্যোগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে মিনেসোটার সেন্ট পল শহরের ডেটনস ব্লাফ এলাকায়। সেখানে পরিবারের মালিকানাধীন ‘ইয়া ব্রিকস স্ন্যাকস অ্যান্ড টোব্যাকো’ নামের দোকানের বাইরে বিরতি নিচ্ছিলেন এব্রো আহমেদ। এ সময় তিনি ফুটবল খেলছিলেন এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ে, একটি হলুদ স্কুলবাস ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। বাসটির দরজা খোলা এবং চালকের আচরণ অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি বুঝতে পারেন, ভেতরে কোনো সমস্যা হয়েছে। বাসটি কাছাকাছি আসার পর আহমেদ দেখতে পান, চালক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, চালকের মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত বাসটির দিকে দৌড় দেন আহমেদ। এরপর চলন্ত অবস্থাতেই খোলা দরজা দিয়ে বাসে উঠে পড়েন। সে সময় বাসের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীদের কেউ চিৎকার করছিল, আবার কেউ আতঙ্কিত হয়ে সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করছিল। বাসে ওঠার পর প্রথমে সেটিকে পার্কিং গিয়ারে নেওয়ার চেষ্টা করেন আহমেদ। কিন্তু পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় তিনি জরুরি ব্রেক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। সামনের আসনে থাকা দুই ছাত্রীর হাতে নিজের মোবাইল ফোন ও চশমা দিয়ে দুই হাত খালি করেন। এরপর জরুরি ব্রেক টেনে বাসটি থামাতে সক্ষম হন। পুরো ঘটনাটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। বাস থামার পর শিক্ষার্থীদের একজনকে জরুরি সহায়তার জন্য ফোন করতে বলেন তিনি। সেন্ট পল পাবলিক স্কুলস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, বাসটিতে ব্যাটল ক্রিক মিডল স্কুলের ১৯ শিক্ষার্থী ছিল। চালকের চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে প্যারামেডিকরা পৌঁছান এবং চালককে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসা শেষে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। অন্য একটি স্কুলবাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী কিংবা পথচারী আহত হয়নি। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আহমেদ জানান, বিপদের মুহূর্তে তাঁর মনে পবিত্র কুরআনের সুরা আল-মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াতের কথা এসেছিল। ওই আয়াতে একজন মানুষের জীবন রক্ষাকে সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই শিক্ষাই তাঁকে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অন্যদের সাহায্যে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি জানান, ব্যক্তিগত স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য নয়, সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি এবং মানুষের জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যেই কাজটি করেছেন। তবে শুধু ধর্মীয় অনুপ্রেরণা নয়, বিপদের মুহূর্তে শান্ত থাকার ক্ষেত্রে একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজের কথাও উল্লেখ করেছেন আহমেদ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিএসপিকে তিনি জানান, চিকিৎসাবিষয়ক মার্কিন সিরিজ ‘গ্রেজ অ্যানাটমি’ দেখে জরুরি পরিস্থিতিতে শান্ত থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে কিছু ধারণা পেয়েছিলেন। তাঁর মতে, অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এর আগে কখনো স্কুলবাস চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল না তাঁর। এব্রো আহমেদের মা-বাবা পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে এসেছিলেন। আহমেদের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রেই। তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সেন্ট পল এলাকায় ছোট ব্যবসা পরিচালনা করছে। দ্য গার্ডিয়ানকে তিনি জানান, সাম্প্রতিক অভিবাসনবিষয়ক অভিযান ও স্থানীয় পরিস্থিতির কারণে তাঁদের ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে অভিবাসী পরিবার পরিচালিত ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে বলে তাঁর অভিমত। আহমেদ বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ইরিত্রীয় ও পূর্ব আফ্রিকান কমিউনিটিকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে পেরে তিনি আনন্দিত। তাঁর মতে, অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে এমন একটি কাজের স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় কমিউনিটির পাশাপাশি বিদেশে বসবাসকারী আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেও অভিনন্দন পেয়েছেন তিনি। ইউরোপে থাকা তাঁর এক চাচাও সংবাদমাধ্যমে খবরটি দেখে যোগাযোগ করেন। সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে স্থানীয় গণমাধ্যম উদ্যোক্তা শেলেটা ব্রান্ডিজ আহমেদকে এক হাজার ডলার উপহার দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তাঁর পরিবারের দোকানে গিয়ে এই অর্থের প্রতীকী চেক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় সুপারম্যানের পোশাক পরা একজন ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় একজন সিটি কাউন্সিল সদস্য তাঁকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার আমন্ত্রণও পেয়েছেন আহমেদ। এদিকে ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার বিষয়েও খোঁজ নিয়েছে। পরদিন স্কুলের কাউন্সেলিং টিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার সুযোগ দেয়। কারণ দুর্ঘটনা না ঘটলেও চলন্ত বাসে চালকের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা শিশুদের জন্য আতঙ্কজনক অভিজ্ঞতা ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আহমেদের প্রশংসা করেছে। মিনেসোটার এই ঘটনা দেখিয়েছে, জরুরি মুহূর্তে একজন সাধারণ মানুষের দ্রুত সিদ্ধান্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। চালকের অসুস্থতার কারণে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়া বাসটি বড় দুর্ঘটনার মুখে পড়তে পারত। তবে আহমেদের তৎপরতায় সেটি নিরাপদে থেমে যায়। নিজের সাহসিকতার জন্য প্রশংসা পেলেও তিনি জানিয়েছেন, মানুষের জীবন রক্ষার সুযোগ পেয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাসের ১৯ শিক্ষার্থী নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পেরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য সার্টিফায়েড হালাল খাবার চালুর উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের ভেটেরান্স ভাতা মিলবে অক্টোবরেই, নতুন পেমেন্টের তারিখ ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিলেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যানগুলোতে আগামী মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, প্রবেশমূল্য ছাড়াই ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন মার্কিন নাগরিক ও দেশটির বাসিন্দারা। সাবেক প্রেসিডেন্ট থিওডোর ‘টেডি’ রুজভেল্টের জন্মদিন উপলক্ষে এ ছাড় দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যান পরিষেবা। যেসব উদ্যানে সাধারণত প্রবেশমূল্য নেওয়া হয়, সেসব স্থানে নির্ধারিত প্রবেশ ফি মওকুফ থাকবে। তবে ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি পর্যটকদের জন্য এ ছাড় প্রযোজ্য নয়। এ ছাড়া ক্যাম্পিং, আগাম প্রবেশ সংরক্ষণ এবং বিশেষ কার্যক্রমের মতো কিছু সেবার জন্য আলাদা ফি দিতে হতে পারে। জাতীয় উদ্যান পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে প্রবেশমূল্য মওকুফের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রেসিডেন্টস ডে, মেমোরিয়াল ডে, ফ্ল্যাগ ডে, স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সময়, জাতীয় উদ্যান পরিষেবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সংবিধান দিবস, টেডি রুজভেল্টের জন্মদিন এবং ভেটেরান্স ডে। এসব দিনে সাধারণ প্রবেশ ফি মওকুফ হলেও পার্কভেদে আগাম বুকিং, গাড়ি পার্কিং, ক্যাম্পিং কিংবা বিশেষ ভ্রমণ কার্যক্রমের জন্য অর্থ দিতে হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট উদ্যানের ওয়েবসাইটে নিয়ম ও প্রবেশের শর্ত দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। থিওডোর রুজভেল্ট ১৯০১ সালে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ম্যাককিনলির হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্রের ২৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯০১ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত তাঁর শাসনামলে প্রাকৃতিক সম্পদ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যান পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, তাঁর উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের বন পরিষেবা গঠিত হয় এবং ১৫০টি জাতীয় বন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ ছাড়া তিনি পাঁচটি জাতীয় উদ্যান, ১৮টি জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ, ৫১টি ফেডারেল পাখি সংরক্ষণ এলাকা এবং চারটি জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। এ কারণেই তাঁকে ‘সংরক্ষণবাদী প্রেসিডেন্ট’ নামে অভিহিত করা হয়। রুজভেল্টের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বা সম্প্রসারিত সংরক্ষিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ওরেগনের ক্রেটার লেক ন্যাশনাল পার্ক, সাউথ ডাকোটার উইন্ড কেভ ন্যাশনাল পার্ক এবং কলোরাডোর মেসা ভার্দে ন্যাশনাল পার্ক। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কের সীমানাও সম্প্রসারণ করেন। তাঁর সময়ে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, অ্যারিজোনার পেট্রিফায়েড ফরেস্ট, ক্যালিফোর্নিয়ার মুইর উডস এবং ওয়াইওমিংয়ের ডেভিলস টাওয়ারের মতো এলাকাও সংরক্ষিত স্থানের মর্যাদা পায়। এসব উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯১৬ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন জাতীয় উদ্যান পরিষেবা প্রতিষ্ঠা করেন। তবে তার আগেই দেশজুড়ে এমন বহু সংরক্ষিত এলাকা তৈরি হয়েছিল, যেগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পরে এই সংস্থার ওপর পড়ে। জাতীয় উদ্যান পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, রুজভেল্ট নিজেই পরবর্তী সময়ে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনায় আসা ২৩টি স্থানের প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর জন্মদিনে প্রবেশমূল্য মওকুফের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে তাঁর অবদান স্মরণ করা হয়। চলতি বছরের পরবর্তী এবং শেষ প্রবেশমূল্য মওকুফের দিন ১১ নভেম্বর, ভেটেরান্স ডে। ওই দিনও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মার্কিন নাগরিক ও বাসিন্দারা প্রবেশমূল্য ছাড়াই ফি-নির্ধারিত জাতীয় উদ্যানগুলোতে যেতে পারবেন। ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় সংশ্লিষ্ট উদ্যানের প্রবেশের শর্ত, সম্ভাব্য ভিড় এবং অতিরিক্ত ফি সম্পর্কে আগে থেকে জেনে নেওয়া ভালো। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যান পরিষেবা (NPS), যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আর্কাইভস।
২৫ বছর পর খুলল নিউ ইয়র্কের প্রবীণ সেবাকেন্দ্র, উদ্বোধন করলেন মেয়র মামদানি
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পর প্রতিনিয়ত বাড়ছে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, বার্ষিক খরচ ছাড়াল ১৬ হাজার ডলার