- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের একটি গ্রামীণ সড়কের পাশে পরিত্যক্ত দুটি স্যুটকেস থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০১৪ সালের জুনে উদ্ধার হওয়া মরদেহ দুটির পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে তদন্তকারীরা পৌঁছে যান পার্শ্ববর্তী মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে। নিখোঁজ এক নারীর সন্ধান, অনলাইন পরিচয়ের সূত্র এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফল শেষ পর্যন্ত তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা স্টিভেন জেলিচকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই নারীকে হত্যার দায়ে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন এবং দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড পান। ঘটনাটি নিয়ে এবিসি নিউজের ‘২০/২০’ অনুষ্ঠানে নতুন করে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। উইসকনসিনের ওয়ালওর্থ কাউন্টিতে স্যুটকেস দুটি পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা। একটি স্যুটকেস খুলে তাঁরা দড়ি দিয়ে বাঁধা এক নারীর পচনধরা মরদেহ দেখতে পান। দ্বিতীয় স্যুটকেসে কালো প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর আরেক নারীর মরদেহ ছিল। তীব্র পচনের কারণে ঘটনাস্থলেই পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তদন্তকারীদের সামনে তখন তিনটি বড় প্রশ্ন ছিল, নিহত নারীরা কারা, কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে এবং এর জন্য কে দায়ী। পরে তদন্তের সূত্র ধরে মিনেসোটায় নিখোঁজ এক নারীর ঘটনার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজতে শুরু করেন তাঁরা। মিনেসোটার ফার্মিংটন পুলিশ তখন ৩৭ বছর বয়সী লরা সিমনসনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তদন্ত করছিল। ২০১৩ সালের নভেম্বরে তিনি নিজের মায়ের বাড়ির সামনে একটি গাড়ি রেখে নিখোঁজ হন। গাড়ির ভেতরে তাঁর মুঠোফোন, ব্যাগ, ওষুধ এবং গাড়ি ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে মায়ের জন্য লেখা একটি নোট পাওয়া যায়। ওই বছরের শুরুতে ১৩ বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করছিলেন। তবে শৈশবের বন্ধু ক্রিস্টিন স্কাউটনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের ছয় সন্তানকে ছেড়ে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার মানুষ ছিলেন না লরা। এ কারণে তাঁর নিখোঁজ হওয়াকে ঘিরে পরিবারের উদ্বেগ বাড়ে এবং পুলিশ রাজ্যজুড়ে সতর্কবার্তা জারি করে। তদন্তে একটি হোটেলের কর্মীর দেওয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওই কর্মী পুলিশকে জানান, লরা কয়েক সপ্তাহ আগে এক ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলে এসেছিলেন। লোকটিকে দেখে তাঁর অস্বস্তি হয়েছিল বলে জানান তিনি। হোটেলের নিবন্ধনপত্রে লরার স্বাক্ষর পাওয়া গেলেও তাঁদের প্রবেশের সময়কার নজরদারি ভিডিও সংরক্ষিত ছিল না। তবে হোটেল ছাড়ার সময়ের ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে একা চলে যেতে দেখা যায়। পরে লরার এক বন্ধু পুলিশকে জানান, তিনি অনলাইনে একটি বিশেষ ধরনের প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্কভিত্তিক ডেটিং সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ‘মিস্টারহ্যান্ডকাফস’ নামের একটি পরিচয় ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। অনুসন্ধান চালিয়ে বন্ধুটি ওই পরিচয়ের আড়ালে থাকা ব্যক্তির নাম জানতে পারেন, তিনি স্টিভেন জেলিচ। জেলিচের পরিচয় সামনে আসার পর তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তিনি মিলওয়াকি এলাকার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। ২০০১ সালে ওয়েস্ট অ্যালিস পুলিশ বিভাগ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন তিনি। এর আগে নারীদের ভয় দেখানো ও হয়রানি করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে, যদিও তিনি কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছিলেন। পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে লরার বিষয়ে খোঁজ নেয়, কিন্তু তখন নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে এফবিআই ও উইসকনসিন অঙ্গরাজ্য পুলিশ তদন্তে যোগ দেয়। ২০১৪ সালের মার্চে জেলিচের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় এবং তিনি স্বেচ্ছায় ডিএনএ নমুনা দেন। তবে লরার সঙ্গে কখনো দেখা হওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি। পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় তখন তদন্ত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালের জুনে উইসকনসিনে স্যুটকেস দুটি উদ্ধারের পর তদন্তে নতুন অগ্রগতি আসে। একটি মরদেহের গোড়ালিতে হৃদয় আকৃতির নকশা এবং তাঁর প্রয়াত মেয়ে অ্যালিসার নাম লেখা একটি বিশেষ উল্কি দেখে তদন্তকারীরা লরা সিমনসনের পরিচয় শনাক্ত করেন। অন্য মরদেহের সঙ্গে বাঁধা দড়ি থেকে পাওয়া ডিএনএর নমুনা জেলিচের নমুনার সঙ্গে মিলে যায়। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি দুই নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। দ্বিতীয় নারী ছিলেন ওরেগনের কটেজ গ্রোভের ১৯ বছর বয়সী জেনি গেমেজ। তদন্তকারীদের কাছে জেলিচ দাবি করেন, অনলাইন ডেটিংয়ের মাধ্যমে গেমেজের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল এবং শ্বাস-প্রশ্বাস সীমিত করার এক যৌন আচরণের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে তাঁর মৃত্যু হয়। একইভাবে লরার মৃত্যুকেও দুর্ঘটনা বলে দাবি করেন তিনি। জেলিচের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গেমেজের মরদেহ তিনি এক বছরেরও বেশি সময় নিজের ফ্রিজে রেখেছিলেন। পরে মিনেসোটার রচেস্টারে লরার মৃত্যুর পর দুই নারীর মরদেহ গাড়ির ট্রাঙ্কে সরিয়ে নেন। আবহাওয়া উষ্ণ হতে শুরু করলে গাড়ির কাছ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ আসার কথা এক সহকর্মী উল্লেখ করেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি মরদেহ দুটি স্যুটকেসে ভরে ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তকারীদের জানান। দুই নারীকে হত্যার পাশাপাশি মরদেহ গোপন করার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০১৬ সালে গেমেজের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম ডিগ্রির বেপরোয়া হত্যার দায় এবং মরদেহ গোপনের একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন জেলিচ। এ ঘটনায় তাঁকে ৩৫ বছরের কারাদণ্ড এবং কারামুক্তির পর ১০ বছরের তত্ত্বাবধানের সাজা দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে লরার মৃত্যুর ঘটনায় দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যার দায় স্বীকার করলে তাঁকে আরও ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওয়ালওর্থ কাউন্টিতে মরদেহ গোপনের আরও দুটি অভিযোগে অতিরিক্ত ১০ বছরের সাজাও পান তিনি। আদালতের রায়ে মামলার আইনি নিষ্পত্তি হলেও দুই নারীর পরিবার এখনো তাঁদের হারানোর শোক বহন করছে। জেনি গেমেজের পালক বোন আমান্ডা দুরন বলেন, কাছের কাউকে হারালে জীবন আর আগের মতো থাকে না, সব সময় মনে হয় কোনো একটি অংশ অনুপস্থিত। অন্যদিকে লরার বোন নিকি কার্লসন জানিয়েছেন, প্রতিদিনই তিনি বোনের কথা ভাবেন এবং তাঁকে মিস করেন। তদন্তে অনলাইন পরিচয়, হোটেলের নথি, উল্কির মতো শারীরিক চিহ্ন এবং ডিএনএ প্রমাণ একত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এ ঘটনাটি দেখিয়েছে, একটি নিখোঁজের তদন্ত ও আরেকটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বহু অঙ্গরাজ্যজুড়ে চলা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে পারে। সূত্র: এবিসি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অভিবাসী ভিসার আবেদন করা বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার (এনভিসি) থেকে কেস খোলার চিঠি পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে এই চিঠি পাওয়ার অর্থ ভিসা অনুমোদন বা সাক্ষাৎকারের তারিখ নিশ্চিত হওয়া নয়। সম্প্রতি একজন পাঠকের পাঠানো ১১ অক্টোবর ২০২৩ তারিখের এমন একটি চিঠিতে বিষয়টি সামনে এসেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) থেকে অনুমোদিত অভিবাসন পিটিশন পাওয়ার পর এনভিসি আবেদনকারীর নামে একটি কেস তৈরি করেছে। এরপর আবেদনকারীকে পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইউএসসিআইএস কোনো অভিবাসন পিটিশন অনুমোদন করলে নির্দিষ্ট ধরনের আবেদন এনভিসিতে পাঠানো হয়। সেখানে কেস তৈরি হওয়ার পর আবেদনকারীকে কেস নম্বর ও ইনভয়েস আইডি দিয়ে অনলাইনে নিজের আবেদনের অবস্থা যাচাই করতে হয়। এরপর প্রযোজ্য ফি পরিশোধ, অভিবাসী ভিসার আবেদনপত্র পূরণ এবং আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার ধাপ আসে। পরিবারের মাধ্যমে অভিবাসন, চাকরি বা পেশাগত যোগ্যতা এবং নির্দিষ্ট বিনিয়োগের মতো বিভিন্ন বৈধ পথে বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে প্রতিটি শ্রেণির যোগ্যতা, নথিপত্র ও অপেক্ষার সময় আলাদা। তাই কোনো আবেদনকারীর হাতে এনভিসির চিঠি থাকলেই তিনি কোন শ্রেণিতে আবেদন করেছেন বা তাঁর ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা কতটা, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। আবেদনকারীর প্রথম কাজ হলো কনস্যুলার ইলেকট্রনিক অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (সিইএসি) প্রবেশ করে কেসের বর্তমান অবস্থা যাচাই করা। সেখানে ফি পরিশোধ, ডিএস-২৬০ আবেদনপত্র পূরণ এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার অবস্থা দেখা যায়। কোনো কাগজপত্রে ঘাটতি থাকলে এনভিসি সংশোধন বা অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিতে পারে। সাধারণত সরকারি নির্দেশনায় আলাদাভাবে বলা না থাকলে মূল কাগজপত্র ডাকযোগে এনভিসিতে পাঠানোর প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজনীয় ফি, আবেদনপত্র ও নথি জমা দেওয়ার পর এনভিসি সেগুলো পর্যালোচনা করে। সব প্রয়োজনীয় নথি গ্রহণযোগ্য হলে আবেদনকারীকে জানানো হয় যে তাঁর কেস নথিপত্রের দিক থেকে সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে নথিপত্র সম্পূর্ণ হওয়া আর সাক্ষাৎকারের তারিখ পাওয়া এক বিষয় নয়। ভিসার ধরন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেটের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ওপর সাক্ষাৎকার নির্ধারণ নির্ভর করে। পাঠকের পাঠানো চিঠিটির তারিখ ১১ অক্টোবর ২০২৩। ফলে শুধু এই নোটিশ দেখে আবেদনটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আবেদনকারীকে অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে হবে এবং এনভিসির কোনো বার্তা, নথি জমা দেওয়ার নির্দেশনা কিংবা সাক্ষাৎকারের নোটিশ এসেছে কি না, তা দেখতে হবে। দীর্ঘদিন কোনো অগ্রগতি না থাকলে এবং অনলাইন তথ্য থেকে উত্তর না পাওয়া গেলে এনভিসির নির্ধারিত যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে কেস সম্পর্কে জানতে চাওয়া যেতে পারে। অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীদের কেস নম্বর ও ইনভয়েস আইডি নিরাপদে রাখা জরুরি। এসব তথ্য ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আবেদনসংক্রান্ত তথ্য দেখা যায়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিঠির ছবি প্রকাশ করার সময় বারকোড, কেস নম্বর ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য আড়াল করা উচিত। একই সঙ্গে ভিসা নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ দাবি করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়ায় প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি এক নয়। তাই কেস খোলার চিঠি পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট ভিসার ধরন, কেসের বর্তমান অবস্থা এবং সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে।
শীতের ছুটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষ। তবে বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় সেই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁদের বড় একটি অংশ। ওয়ালেটহাবের এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, মূল্যস্ফীতির কারণে এ শীতে তাঁদের ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হবে। জরিপে অংশ নেওয়া এক-চতুর্থাংশেরও বেশি মানুষ জানিয়েছেন, শীতের ছুটিতে ভ্রমণের খরচ তাঁদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করে। ছুটির মৌসুম সামনে রেখে জ্বালানি, বিমানভাড়া ও হোটেলের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভ্রমণের বাজেট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে মাসিক মূল্যবৃদ্ধি ছিল ০ দশমিক ৬ শতাংশ, যা পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। এ সময় জ্বালানির দাম এক মাসে ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কাছে মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাবগুলোর একটি। এর প্রভাব পড়ছে গাড়িতে ভ্রমণের খরচ থেকে শুরু করে বিমানভাড়া ও অন্যান্য পর্যটনসেবার ব্যয়েও। বিমানভাড়ার ক্ষেত্রেও খরচ বাড়ার চিত্র দেখা যাচ্ছে। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে বিমানভাড়া ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে হোটেলের দাম মাসিক হিসাবে ২ শতাংশ বেড়েছে এবং ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে শীতের ছুটিতে পরিবার নিয়ে বেড়াতে যাওয়া কিংবা অন্য শহরে যাওয়ার পরিকল্পনা করা অনেকের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের যাতায়াত, থাকা ও খাবারের খরচ একসঙ্গে সামলাতে হয়, তাঁদের বাজেটের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জরিপে আরও দেখা গেছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, শীতের ছুটিতে ভ্রমণের জন্য ঋণ নেওয়াও সার্থক হতে পারে। তবে ভ্রমণের খরচ মেটাতে ঋণ নেওয়ার পরিণতি সবার জন্য এক রকম নয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৩০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময়ও তাঁদের গত শীতের ভ্রমণসংক্রান্ত ঋণ বাকি থাকবে। চলতি বছর ভ্রমণে কতটা ব্যয় করবেন, সে বিষয়ে ৪৫ শতাংশ বলেছেন, গত বছরের মতোই খরচ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। অন্যদিকে, ৩৩ শতাংশ মনে করছেন, এবার তাঁদের ব্যয় আরও বাড়বে। বাড়তি খরচ সামাল দিতে বিভিন্ন আর্থিক কৌশলের কথাও জানিয়েছেন জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা। প্রায় ৩৪ শতাংশ বলেছেন, সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে তাঁরা নতুন ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার কথা ভাবছেন। অন্যদিকে, ৫৭ শতাংশ ছুটির ভ্রমণের ব্যয় কমাতে ক্রেডিট কার্ডে জমা হওয়া পুরস্কার বা সুবিধা ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন। তবে ভ্রমণের পরিকল্পনা ও বুকিংয়ের পুরো দায়িত্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর ছেড়ে দিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম। জরিপে মাত্র ৩৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা ও বুকিং করাতে রাজি। ওয়ালেটহাবের জরিপের ফলাফল বলছে, শীতের ছুটিতে ভ্রমণের আগ্রহ থাকলেও খরচ নিয়ে উদ্বেগ অনেকের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, ভ্রমণের আগে যাতায়াত, আবাসন ও অন্যান্য খরচের হিসাব করা এবং বিভিন্ন বিকল্পের দাম তুলনা করা বাজেট নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের মতামত পুরো মার্কিন জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতার প্রতিফলন কি না, তা মূল্যায়নের জন্য জরিপের নমুনা ও পদ্ধতি বিবেচনা করা প্রয়োজন। সূত্র: ওয়ালেটহাব, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
চিলির পেশাদার নারী বডিবিল্ডার মারিয়ানে ফন গিয়েরকে ৪০ বছর বয়সে মারা গেছেন। গত ১৪ অক্টোবর তাঁর মৃত্যুর খবর জানায় ফিটনেস প্রতিযোগিতা ফেলিপে ফিরেরো ক্ল্যাসিক। মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের মিস্টার অলিম্পিয়া প্রতিযোগিতার নারী ফিজিক বিভাগে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ওই প্রতিযোগিতায় ১৩তম স্থান অর্জন করেন এই অ্যাথলেট। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। ফলে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য নেই। মারিয়ানের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ফেলিপে ফিরেরো ক্ল্যাসিকের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, তাঁর নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা এবং মিস্টার অলিম্পিয়ার মঞ্চে নিজের প্রতিভা তুলে ধরার জন্য তাঁকে স্মরণ করা হবে। নারী ফিজিক বিভাগে তাঁর অর্জন এবং এই খেলায় অন্যদের অনুপ্রাণিত করার বিষয়টিও শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করা হয়। আয়োজকেরা তাঁর পরিবার, স্বজন, বন্ধু এবং শোকাহত সবার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, মারিয়ানের পরিশ্রম, দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ার ও অর্জন ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের স্মৃতিতে থেকে যাবে। সংবাদমাধ্যম নিউজ ডটকম ডট এইউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মিস্টার অলিম্পিয়ায় নারী ফিজিক বিভাগে ১৩তম হওয়ার আগে ২০২৪ সালেও এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন মারিয়ানে। সেবার তিনি ১৬তম স্থান অর্জন করেন। এর আগে চলতি বছরের আগস্টে অ্যারিজোনায় অনুষ্ঠিত রাইজিং ফিনিক্স প্রো প্রতিযোগিতায় নারী ফিজিক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র ক্লারিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই প্রতিযোগিতায় বিচারকদের কাছ থেকে বিরল পূর্ণ নম্বরের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন মারিয়ানে। সেই জয়ের সুবাদেই মিস্টার অলিম্পিয়ার সর্বশেষ আসরে সরাসরি অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনেও পরিবার ছিল মারিয়ানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ক্লারিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুকালে তিনি ১১ বছর বয়সী এক ছেলে এবং ১০ বছরের জীবনসঙ্গী হুয়ান কোফ্রে গার্সিয়াকে রেখে গেছেন। মৃত্যুর তিন দিন আগে জীবনসঙ্গীকে নিয়ে ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেখানে মারিয়ানে লিখেছিলেন, প্রতিটি প্রতিযোগিতার পেছনে এমন অনেক পরিশ্রম থাকে, যা ছবিতে দেখা যায় না। এর মধ্যে রয়েছে মানসিক সমর্থন, মনস্তাত্ত্বিক দিকনির্দেশনা, আর্থিক বিনিয়োগ, যৌথ সিদ্ধান্ত এবং খেলাকে ঘিরে সাজানো জীবনযাপন। সেই বার্তায় জীবনসঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মারিয়ানে বলেন, কঠিন সময়েও তাঁর ওপর আস্থা রাখার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। নিজের আবেগ ও খেলাটির প্রতি ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ার কারণে পুরো যাত্রা আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পেশাদার বডিবিল্ডিংয়ে প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি, কঠোর অনুশীলন ও ব্যক্তিগত জীবনের সমন্বয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তাঁর বক্তব্যে সেই বিষয়টিও উঠে আসে। তবে মারিয়ানের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরিবার, প্রতিযোগিতার আয়োজক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: ক্লারিন ও নিউজ ডটকম ডট এইউ।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ ও যোগ্য ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারের বার্ষিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের জন্য বিমা পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার এই সময়ে ওষুধের খরচ, মাসিক প্রিমিয়াম এবং নিজস্ব পকেট থেকে দেওয়া অর্থের সীমায় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বিশেষ করে মেডিকেয়ারের পার্ট ডি কর্মসূচির আওতায় ওষুধ কেনা ব্যক্তিদের কারও কারও ব্যয় বাড়তে পারে। তবে সব গ্রাহকের খরচ বাড়বে না। স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা সংস্থা কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অনেক গ্রাহকের প্রিমিয়ামে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে। তাই নিবন্ধনের সময় নিজের ওষুধের তালিকা, চিকিৎসকের নেটওয়ার্ক এবং পরিকল্পনার খরচ তুলনা করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। মেডিকেয়ারের বার্ষিক নিবন্ধন ১৫ অক্টোবর শুরু হয়েছে এবং চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে গ্রাহকেরা প্রচলিত মেডিকেয়ার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনা এবং প্রেসক্রিপশনের ওষুধের বিমা পরিকল্পনার মধ্যে পরিবর্তন আনতে পারবেন। এ সময়ে নির্বাচিত নতুন পরিকল্পনা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ফলে বর্তমান পরিকল্পনায় থাকা ব্যক্তিদেরও পরবর্তী বছরের প্রিমিয়াম, ওষুধের আওতা এবং অন্যান্য খরচ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মেডিকেয়ারের পার্ট ডি কর্মসূচিতে ওষুধের জন্য নিজস্ব পকেট থেকে ব্যয়ের বার্ষিক সর্বোচ্চ সীমা ২০২৬ সালের ২ হাজার ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৭ সালে ২ হাজার ৪০০ ডলার হচ্ছে। একই সঙ্গে এই কর্মসূচির সাধারণ বাৎসরিক কর্তনযোগ্য অর্থের পরিমাণ ৬১৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭০০ ডলার হবে। কর্তনযোগ্য অর্থ হলো সেই পরিমাণ, যা বিমা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সুবিধা কার্যকর হওয়ার আগে গ্রাহককে নিজের অর্থ থেকে পরিশোধ করতে হয়। ফলে যাঁদের নিয়মিত ওষুধ কিনতে হয়, তাঁদের জন্য পরিকল্পনার শর্তগুলো ভালোভাবে বোঝা জরুরি। ২০২৭ সালে কিছু জনপ্রিয় ওষুধের বিমা পরিকল্পনায় মাসিক প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এএআরপি ব্র্যান্ডের ইউনাইটেডের পার্ট ডি পরিকল্পনায় থাকা গ্রাহকেরা পরিকল্পনা পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই মাসে অন্তত ৫০ ডলার অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের মুখে পড়তে পারেন। এর মধ্যে ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে মাসিক বৃদ্ধি ৭৫ ডলারের বেশি হতে পারে এবং চারটি অঙ্গরাজ্যে তা ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে। এএআরপি মেডিকেয়ার আরএক্স সেভার পরিকল্পনায় থাকা গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও ৩৩টি অঙ্গরাজ্যে মাসিক প্রিমিয়াম অন্তত ৫০ ডলার বাড়তে পারে। দুটি পরিকল্পনা মিলিয়ে গ্রাহকসংখ্যা ২০ লাখের বেশি। তবে কেএফএফ জানিয়েছে, পার্ট ডির অধিকাংশ গ্রাহক প্রিমিয়ামের পরিবর্তনে একই মাত্রায় প্রভাবিত হবেন না এবং অনেকের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নাও ঘটতে পারে। তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প পরিকল্পনা থাকলেও অনেক গ্রাহক নিবন্ধনের সময় অন্য পরিকল্পনার সঙ্গে তুলনা করেন না বা পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন না। এএআরপির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা ন্যান্সি লিমন্ড বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়ায় বয়স্ক মার্কিনিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তাঁর মতে, খরচ ও বিমার আওতা প্রতিবছর বদলানোর কারণে বিকল্পগুলো যাচাই করে নিজের জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা বেছে নেওয়া আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মেডিকেয়ারের সঙ্গে দর-কষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত নতুন দামে ১৫টি ওষুধ পাওয়া যাবে। এর মধ্যে ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওজেম্পিক, রাইবেলসাস ও ওয়েগোভির পাশাপাশি ট্রেলেজি এলিপ্টা, এক্সটান্ডি, পোমালিস্ট, আইব্র্যান্স, ওফেভ, লিনজেস, ক্যালকুয়েন্স, অস্টেডো, ব্রিও এলিপ্টা, ট্রাডজেন্টা, জিফ্যাক্সান, ভ্রেলার, জানুমেট ও ওটেজলার মতো ওষুধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড পরিষেবা কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, নতুন মূল্যব্যবস্থার ফলে ২০২৭ সালে মেডিকেয়ারে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের প্রেসক্রিপশনের ওষুধের ব্যয় প্রায় ৬৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার কমতে পারে। প্রিমিয়াম ও ওষুধের খরচে পরিবর্তন আসায় নিবন্ধনের সময় শুধু মাসিক কিস্তি দেখে পরিকল্পনা বেছে না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞরা। কোন ওষুধ বিমার আওতায় রয়েছে, ওষুধের জন্য কত টাকা দিতে হবে, বার্ষিক ব্যয়ের সীমা কত এবং চিকিৎসক বা ফার্মেসি পরিকল্পনার নেটওয়ার্কে রয়েছে কি না, সেগুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে পরিবর্তন করা গেলে নতুন সুবিধা বা খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিকল্প বেছে নেওয়া সম্ভব। নতুন পরিকল্পনা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, কেএফএফ ও ফক্সের স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদন।
যুক্তরাজ্যে হংকংয়ের ব্রিটিশ ন্যাশনাল (ওভারসিজ) বা বিএনও ভিসাধারীদের নির্ভরশীল শিশুদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়মে যোগ্য শিশুদের আর নিজস্বভাবে পাঁচ বছর একটানা যুক্তরাজ্যে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হবে না। ফলে মা-বাবা স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তাঁদের সন্তানরাও একই সময়ে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে পারে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ৮ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা সংশোধন করে এ পরিবর্তন আনে। নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে বিএনও ভিসার আওতায় থাকা নির্ভরশীল শিশুদের জন্য প্রযোজ্য। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগে বিএনও ভিসার আওতায় থাকা নির্ভরশীল শিশুদেরও সাধারণত স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার আগে পাঁচ বছর একটানা যুক্তরাজ্যে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হতো। নতুন নিয়মে সেই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে যেসব শিশু মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে, তাদের ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হবে। তবে এই পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে সব শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাবে। শিশুর বয়স, পারিবারিক সম্পর্ক, পরিচর্যা ও আবাসনের ব্যবস্থা এবং মা-বাবার অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থাসহ প্রযোজ্য অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। নতুন নির্দেশিকায় আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো শিশুর মা-বাবার ভিসার মেয়াদ আলাদা হলে স্থায়ী বসবাসের আবেদন কীভাবে বিবেচনা করতে হবে, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগে এ ধরনের পরিস্থিতিতে আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারত। পাশাপাশি, যুক্তরাজ্যে দর্শনার্থী ভিসায় থাকা কেউ দেশটির ভেতর থেকেই বিএনও ভিসার আওতায় আবেদন করতে চাইলে কীভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে, তা-ও পরিষ্কার করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, দর্শনার্থী ভিসা পাওয়া মানেই বিএনও ভিসার জন্য আবেদন করার অযোগ্য হয়ে যাওয়া নয়। তবে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট অভিবাসনবিধির অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। বিএনও ভিসা মূলত হংকংয়ের নির্দিষ্ট বাসিন্দা ও তাঁদের যোগ্য পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাজ্যে বসবাসের সুযোগ দিতে চালু করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকং ব্রিটিশ শাসন থেকে চীনের কাছে হস্তান্তরের আগে ব্রিটিশ ন্যাশনাল (ওভারসিজ) মর্যাদা চালু করা হয়েছিল। পরে হংকংয়ে চীনের জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাজ্য ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি বিএনও ভিসা কর্মসূচি চালু করে। এ ব্যবস্থায় যোগ্য ব্যক্তিরা যুক্তরাজ্যে বসবাস, কাজ ও পড়াশোনার সুযোগ পান। তাঁদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও নির্দিষ্ট শর্তে জীবনসঙ্গী, ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তান ও নাতি-নাতনিরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। নতুন নিয়মে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন সেই পরিবারগুলো, যাদের সন্তানরা মা-বাবার তুলনায় পরে যুক্তরাজ্যে এসেছে অথবা পাঁচ বছরের বসবাসের শর্ত পূরণ করতে পারেনি। আগে মা-বাবা স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হলেও সন্তানের নিজস্ব বসবাসের মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ায় একই সময়ে সবার আবেদন করা সম্ভব হতো না। সংশোধিত নির্দেশিকার ফলে এ ধরনের ক্ষেত্রে শিশুর আবেদন বিবেচনার সুযোগ বাড়বে। তবে ১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সাধারণত অন্তত একজন মা-বাবাকে একই সময়ে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে হবে, অথবা আগে থেকেই স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার কিংবা ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকতে হবে। অন্য অভিভাবকের ক্ষেত্রেও নিয়ম রয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীদের জন্য পাঁচ বছরের একটানা বসবাসের নিয়মে এই সংশোধন কোনো পরিবর্তন আনেনি। বিএনও ভিসাধারী প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত পাঁচ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাসের পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে হয়। এরপর প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে আরও ১২ মাস পর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। ফলে নতুন পরিবর্তনটি মূলত নির্ভরশীল শিশুদের স্থায়ী বসবাসের আবেদন সহজ করার জন্য নেওয়া হয়েছে, পুরো বিএনও ভিসা ব্যবস্থার নিয়ম বদলে দেওয়ার জন্য নয়। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত ১৫তম সংস্করণের নির্দেশিকায় এ পরিবর্তনের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের ঘোষিত উদ্দেশ্য অনুযায়ী, মা-বাবার সঙ্গে একই সময়ে শিশুদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের বসবাসের শর্ত যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসনবিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সূত্র: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, GOV.UK; Legit.ng।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় ফেডারেল কর্মকর্তাদের তল্লাশির পর তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে সরকারকে কঠোর আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে এবং আদালতে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। ১২ অক্টোবর ২০২৬ তাঁর বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। এর কয়েক দিন পর সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার এখন পর্যন্ত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয়নি। মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর ১৯৯৫ সালে সোমালিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০০০ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। ফেডারেল তদন্তকারীরা তাঁর অভিবাসন ও নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় জমা দেওয়া নথিতে কোনো ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তাঁর বয়সসংক্রান্ত তথ্য এবং এ বিষয়ে তাঁর বা পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য সঠিক ছিল কি না। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তল্লাশির সময় ফেডারেল কর্মকর্তারা নথিপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং তাঁর পাসপোর্টসহ বিভিন্ন জিনিস জব্দ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইলহান ওমরের আইনজীবীরা এ তল্লাশির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং জব্দ করা সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে, বিচার বিভাগ বলেছে, আদালতের অনুমোদিত ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই তল্লাশি চালানো হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়াকে ডিন্যাচারালাইজেশন বলা হয়। সাধারণত নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা আইনগতভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা না থাকার মতো বিষয় প্রমাণ করতে হয়। শুধু তদন্ত শুরু হওয়া কিংবা কোনো অভিযোগ ওঠার কারণে নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় না। সরকারকে প্রযোজ্য আইনি মানদণ্ড পূরণ করে আদালতে মামলা করতে হবে। এ ধরনের মামলায় প্রমাণের ভিত্তি ও আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিএনএনের প্রতিবেদনে বোস্টন কলেজের অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ক্যানস্ট্রুমের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, নাগরিকত্ব একবার পাওয়ার পর তা বাতিল করার ক্ষেত্রে সরকারের জন্য আইনি বাধা অনেক উঁচু। নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা সফল করতে হলে সরকারকে শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। ফলে ইলহান ওমরের বাসায় তল্লাশি চালানো হলেও তা থেকে সরাসরি তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ইলহান ওমর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে এ তদন্তে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি বলে সিএনএন জানিয়েছে। তদন্তের ফলাফল, সম্ভাব্য অভিযোগ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। নাগরিকত্ব বাতিলের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয় কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয
অধিকৃত পশ্চিম তীরের আবু ফালাহ গ্রামে ফিলিস্তিনি কৃষকদের জলপাই সংগ্রহের ঘটনা কাভার করতে গিয়ে মুখোশধারী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হা মলার শিকার হয়েছেন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের অভিজ্ঞ আলোকচিত্রী হেইডি লেভিন। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, হা মলায় তিনি গুরুতর আ হ ত হন। তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হা মলার সময় তাঁর পোশাকে সাংবাদিক পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও ভিডিওতে দেখা যায়, হা মলাকারীরা তাঁকে মাটিতে ফেলে মা রধর করে এবং তাঁর ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। হেইডি লেভিনের ভাষ্য অনুযায়ী, মুখোশধারী কয়েক ডজন ব্যক্তি তাঁদের ওপর হা মলা চালায়। তাঁকে মাটিতে ফেলে বারবার লাথি মারা হয়। হা মলায় তাঁর পাঁজরের একটি হাড় ও মেরুদণ্ডের চারটি কশেরুকা ভেঙে যায় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তিনি কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন সং ঘা তপূর্ণ অঞ্চলে সাংবাদিকতা ও আলোকচিত্রের কাজ করছেন। এ ঘটনায় ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি হা মলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি হা মলাকে নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে দায়ীদের গ্রে প্তা র, বিচার এবং কারাদণ্ডের আহ্বান জানান। ওয়াশিংটন পোস্ট কর্তৃপক্ষও হা মলার নিন্দা জানিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো তদন্তাধীন। ইসরায়েলি পুলিশ ও সামরিক কর্তৃপক্ষও তদন্তের কথা জানিয়েছে। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে হা মলাকারীদের কাউকে গ্রে প্তা রের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনি কৃষক ও তাঁদের সহায়তায় আসা ব্যক্তিদের ওপর হা মলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হা মলায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
মিশরের একটি গ্রামে বাড়ির বাইরে রহস্যময় খোদাই করা পাথর খুঁজে পাওয়ার পর উন্মোচিত হয়েছে প্রাচীন সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিদর্শন। ওই পাথরের সূত্র ধরে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা খনন চালিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ বছর আগের মিশরীয় শাসক দ্বিতীয় রামেসিসের দুটি বিশাল মূর্তির সন্ধান পেয়েছেন। মূর্তিগুলোর অবস্থা বেশ ভালো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে গোলাপি গ্রানাইট পাথরের একটি খণ্ড, যাতে প্রাচীন মিশরের হায়ারোগ্লিফিক লিপি ও রাজকীয় শিলালিপি রয়েছে। মিশরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নীল নদের বদ্বীপ অঞ্চলের ওই গ্রামে এক বাসিন্দা প্রথমে শিলালিপিযুক্ত একটি পাথরের খণ্ড দেখতে পান। বিষয়টি সামনে আসার পর কর্মকর্তারা প্রত্নতাত্ত্বিক দলের সঙ্গে সেখানে খননকাজ শুরু করেন। সেই অনুসন্ধানেই মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা মূর্তিগুলোর সন্ধান মেলে। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া নিদর্শনগুলো প্রাচীন মিশরের রাজকীয় ভাস্কর্য ও ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ তৈরি করেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের উদ্ধার করা প্রথম মূর্তিটির অবস্থা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। মূর্তিটির মাথা আলাদা করে তোলার পর সেটিকে শরীরের ওপরের পেছনের অংশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। এসব অংশের আকার ও গঠন বিশ্লেষণ করে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, সম্পূর্ণ অবস্থায় মূর্তিটির উচ্চতা ২৭ ফুটেরও বেশি হতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য উচ্চতা; মূর্তিটির সম্পূর্ণ কাঠামো উদ্ধার ও পরীক্ষা করার পরই এ বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। দ্বিতীয় মূর্তির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাওয়া গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক দল সাত ফুটের বেশি লম্বা একটি মাথার অংশ উদ্ধার করেছে। এতে রাজকীয় হেডড্রেসের মতো পরিচিত ‘নেমেস’ দেখা যায়। প্রাচীন মিশরের রাজাদের ভাস্কর্যে এ ধরনের মাথার আবরণ ব্যবহৃত হতো। উদ্ধার করা অংশটির কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত বা অনুপস্থিত থাকলেও মুখের সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্যগুলো তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মাথার অংশে দ্বিতীয় রামেসিসের মুখাবয়বের বিস্তারিত বৈশিষ্ট্য দেখা যাচ্ছে। মিশরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্ধার করা মাথাটির মুখের বৈশিষ্ট্য এখনো স্পষ্ট এবং সামগ্রিক অবস্থা ভালো। এর চেহারার সঙ্গে একই স্থানে পাওয়া প্রথম মূর্তির বৈশিষ্ট্যেরও মিল রয়েছে। এই মিল প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই শাসকের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক ভাস্কর্যের নকশা ও নির্মাণশৈলী তুলনা করে সেগুলোর পরিচয় এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। মূর্তিগুলোর কাছাকাছি স্থান থেকেই উদ্ধার হয়েছে গোলাপি গ্রানাইটের আরেকটি পাথরের খণ্ড। এটি মূর্তি থেকে প্রায় তিন ফুট দূরে পাওয়া যায়। পাথরটির দৈর্ঘ্য চার ফুটের কিছু বেশি। এর গায়ে হায়ারোগ্লিফিক লিপিতে লেখা রয়েছে বিভিন্ন চিহ্ন ও রাজকীয় পরিচয়। শিলালিপিতে দ্বিতীয় রামেসিসের নামের পাশাপাশি ‘নেসু বেটি’ শব্দবন্ধ রয়েছে, যার অর্থ উচ্চ ও নিম্ন মিশরের রাজা। প্রাচীন মিশরে শাসকের উপাধি ও পরিচয় বোঝার ক্ষেত্রে এ ধরনের শিলালিপি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দ্বিতীয় রামেসিস প্রাচীন মিশরের অন্যতম পরিচিত শাসক। তিনি প্রায় ৬৭ বছর রাজত্ব করেছিলেন, যা মিশরের দীর্ঘ রাজত্বগুলোর একটি। মিশরের সভ্যতা ও ইতিহাসসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন। তাঁর শাসনামলে নিজের স্মৃতি ও রাজকীয় ক্ষমতা তুলে ধরতে বহু মূর্তি নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এসব ভাস্কর্য মন্দির, স্মৃতিস্তম্ভ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হতো। রামেসিসের মূর্তি নির্মাণের ইতিহাসের আরেকটি দিকও উল্লেখযোগ্য। তাঁর নিজের ভাস্কর্য স্থাপনের জন্য কখনো কখনো আগের শাসকদের মূর্তি সরিয়ে ফেলা হতো বা সেগুলোর পরিবর্তে নতুন ভাস্কর্য বসানো হতো। ফলে প্রাচীন মিশরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিশ্লেষণের সময় শুধু মূর্তির আকৃতি নয়, তার ওপর থাকা নাম, চিহ্ন, খোদাই এবং নির্মাণের ধরনও খতিয়ে দেখা হয়। সদ্য আবিষ্কৃত মূর্তি ও শিলালিপিগুলোও এ ধরনের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দ্বিতীয় রামেসিসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তাঁর রাজত্বকালেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মমি সংরক্ষণ ও পরীক্ষা করার জন্য বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে প্যারিসের মিউজে দ্য লোমে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় তাঁর দেহের অবস্থা খারাপ ছিল এবং সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। তাঁর ভ্রমণসংক্রান্ত নথিতে পেশার ঘরে ‘মৃত রাজা’ লেখা ছিল বলে জানা যায়। নতুন আবিষ্কারের ক্ষেত্রে এখন গুরুত্বপূর্ণ হবে মূর্তি ও পাথরের খণ্ডগুলোর বিস্তারিত পরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নির্ধারণ। বিশেষ করে শিলালিপির পাঠ, মূর্তির নির্মাণশৈলী এবং উদ্ধার হওয়া অংশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা আরও তথ্য পেতে পারেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে মূর্তিগুলোর সম্ভাব্য উচ্চতা ও পরিচয় সম্পর্কে কিছু বিষয় প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে। একজন সাধারণ গ্রামবাসীর চোখে পড়া একটি পাথর থেকে শুরু হওয়া অনুসন্ধান এভাবেই প্রাচীন মিশরের রাজকীয় ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন সামনে এনেছে। প্রায় ৩ হাজার ৩০০ বছর ধরে টিকে থাকা এসব ভাস্কর্য ও শিলালিপি অতীতের শিল্পকলা, রাজকীয় প্রতীক এবং সভ্যতার ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সময় হোটেলের খরচ কমাতে চান? সঠিক সময়ে বুকিং, বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ভাড়া তুলনা এবং বিশেষ ছাড়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে হোটেলে থাকার ব্যয় কমানো সম্ভব। ভ্রমণপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হোটেলপ্ল্যানারের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা টিম গানস্টোনের মতে, হোটেলের ভাড়া নির্ভর করে চাহিদা, বছরের সময় এবং সপ্তাহের কোন দিনে অতিথিরা থাকছেন, তার ওপর। যুক্তরাষ্ট্রে হোটেলে এক রাত থাকার গড় ভাড়া গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ১৭৯.৪৩ ডলারে পৌঁছায়। এমন পরিস্থিতিতে ভ্রমণকারীদের জন্য খরচ বাঁচানোর কৌশল জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হোটেলের খরচ কমানোর প্রথম কৌশল হলো ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণে ফ্লেক্সিবল থাকা। জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় শুক্রবার ও শনিবার রাতে চাহিদা বেশি থাকায় ভাড়া বাড়তে পারে। অন্যদিকে, সপ্তাহান্তের পর্যটকেরা চলে যাওয়ার পর রবিবার রাতে কিছু হোটেলে তুলনামূলক কম ভাড়ায় কক্ষ পাওয়া যায়। হোটেলস ডটকমের ২০২৬ সালের হোটেল মূল্যসূচক অনুযায়ী, রবিবারে হোটেলে অবস্থান করলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে এই সুবিধা সব গন্তব্যে বা সব হোটেলে পাওয়া যায় না। দ্বিতীয় কৌশল হলো গুগলের হোটেল অনুসন্ধান সুবিধা ব্যবহার করা। গন্তব্যের নাম লিখে তার সঙ্গে ‘হোটেল’ শব্দটি যোগ করে অনুসন্ধান করলে আশপাশের হোটেল, অবস্থান, অতিথিদের পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন বুকিং সাইটের ভাড়া তুলনা করা যায়। এতে আলাদা আলাদা ওয়েবসাইট ঘুরে সময় নষ্ট না করে একই জায়গায় একাধিক বিকল্প দেখা সম্ভব হয়। বুকিংয়ের আগে হোটেলের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও মূল্য যাচাই করা উচিত, কারণ একই কক্ষের ভাড়া ও সুবিধা বুকিংয়ের মাধ্যমভেদে ভিন্ন হতে পারে। তৃতীয় কৌশল হলো প্রাইসলাইন ও হটওয়্যারের মতো বুকিং সাইটে বিশেষ ছাড়ের অফার খোঁজা। এসব সাইটে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বুকিং সম্পন্ন ও অর্থ পরিশোধের আগে হোটেলের নাম জানা যায় না। বিনিময়ে তুলনামূলক কম দামে কক্ষ পাওয়ার সুযোগ থাকে। দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক সিটিতে ২৫ থেকে ২৯ নভেম্বর চার রাতের একটি বুকিংয়ের উদাহরণে প্রাইসলাইনের একটি অফারে ২৬ শতাংশ এবং হটওয়্যারের একটি অফারে ৩১ শতাংশ ছাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এগুলো নির্দিষ্ট বুকিংয়ের উদাহরণ, নিশ্চিত বা সর্বজনীন ছাড় নয়। এ ধরনের বুকিং প্রায়ই বাতিলযোগ্য নয় এবং টাকা ফেরত পাওয়া যায় না। তাই হোটেলের অবস্থান, সুযোগ-সুবিধা ও বুকিংয়ের শর্ত যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। চতুর্থ কৌশল হলো শুধু কক্ষের বিজ্ঞাপিত মূল্য দেখে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। হোটেলের ভাড়ার সঙ্গে ট্যাক্স, পার্কিং ফি, রিসোর্ট ফি এবং অন্যান্য চার্জ যোগ হতে পারে। ফলে প্রথমে কম মনে হওয়া কক্ষের চূড়ান্ত খরচ অন্য হোটেলের চেয়েও বেশি হতে পারে। বুকিংয়ের আগে সব খরচ মিলিয়ে তুলনা করলে প্রকৃত সাশ্রয় কত হচ্ছে, তা বোঝা সহজ হয়। একই সঙ্গে সকালের নাশতা, ইন্টারনেট, পার্কিং এবং বাতিলের শর্তও যাচাই করা উচিত। পঞ্চম কৌশল হলো বুকিংয়ের আগে বিকল্পগুলো ভালোভাবে যাচাই করা এবং প্রয়োজনে তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ রাখা। কোনো নির্দিষ্ট দিনে হোটেলের ভাড়া বেশি থাকলে কাছাকাছি অন্য দিন বা একই এলাকার অন্য হোটেলে কম দামে কক্ষ পাওয়া যেতে পারে। তবে বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান, সম্মেলন বা ছুটির সময় নির্দিষ্ট শহরে চাহিদা বেড়ে গেলে আশপাশের দিনেও ভাড়া বেশি থাকতে পারে। তাই আগে থেকে মূল্য পর্যবেক্ষণ করা এবং একাধিক বিকল্প প্রস্তুত রাখা ভ্রমণের বাজেট নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। অভিজ্ঞদের পরামর্শ হলো, হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রথম দেখা মূল্যেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প যাচাই করা। রবিবার রাতে থাকার ভাড়া দেখা, গুগলে হোটেলের মূল্য তুলনা, বিশেষ ছাড়ের অফার খোঁজা এবং অতিরিক্ত ফি যাচাই করার মতো পদক্ষেপ ভ্রমণকারীদের খরচ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে কোনো একটি কৌশলই সব সময় সর্বনিম্ন ভাড়া নিশ্চিত করে না। ভ্রমণের গন্তব্য, তারিখ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প বেছে নেওয়াই সাশ্রয়ী হোটেল বুকিংয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।a
বন্ধু বা প্রিয়জন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেলে পাশে থাকার ইচ্ছা অনেকেরই থাকে। কিন্তু কীভাবে সহায়তা করতে হবে, কোন কথা বলা উচিত আর কোন আচরণ এড়িয়ে চলা দরকার—তা বুঝতে পারেন না অনেকেই। কখনো ভালো উদ্দেশ্যে বলা একটি কথাও বিপর্যস্ত মানুষটির কষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। একজন মনোবিজ্ঞানীর মতে, সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা আসে এমন কঠিন সময়েই। তখন পাশে থাকার ধরনই নির্ধারণ করতে পারে, বন্ধুত্ব ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে, নাকি দূরত্ব তৈরি হবে। মানুষ সাধারণত বিপদের সময়ে বন্ধুদের পাশে পেলে নিজেকে ভালোবাসা ও সমর্থন পাওয়ার অনুভূতি অনুভব করেন। বিপরীতে, যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন কাছের মানুষদের অনুপস্থিতি গভীর হতাশা ও বিশ্বাসভঙ্গের অনুভূতি তৈরি করতে পারে। তাই কারও দুঃসময়ে সহায়তা করার অর্থ শুধু সান্ত্বনার কথা বলা নয়; বরং তাঁর অনুভূতি বোঝা, প্রয়োজনের প্রতি মনোযোগ দেওয়া এবং বাস্তবভাবে পাশে থাকা। a মানবিক সম্পর্ক ও মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরির বিষয়ে কাজ করা ওই মনোবিজ্ঞানী এমন পাঁচটি কথা ও আচরণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন, যা অনিচ্ছাকৃতভাবে বিপর্যস্ত বন্ধুর কষ্ট বাড়াতে পারে। প্রথমত, বন্ধুকে কাঁদতে নিষেধ করা উচিত নয়। অনেকেই কাউকে কাঁদতে দেখলে বলেন, ‘কেঁদো না’ বা ‘মন শক্ত করো’। তাঁদের উদ্দেশ্য হয়তো মানুষটিকে দ্রুত স্বাভাবিক করে তোলা। কিন্তু আবেগ প্রকাশ না করলে কষ্ট দূর হয়ে যায়—এ ধারণা ঠিক নয়। বরং কঠিন অভিজ্ঞতা সামলাতে অনেকেরই নিজের অনুভূতি নিয়ে কথা বলা এবং কাঁদার সুযোগ প্রয়োজন হয়। জীবনসঙ্গীকে হারানো মানুষের অভিজ্ঞতা নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা এ বিষয়ে কম কথা বলেছেন, পরবর্তী এক বছরে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার অবস্থা তুলনামূলক খারাপ ছিল। শোক সামলানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে আরেকটি গবেষণায় একজন অংশগ্রহণকারী জানান, একজন নার্স তাঁকে কাঁদতে দিয়েছিলেন, থামানোর চেষ্টা করেননি। তাঁর কাছে এই আচরণই ছিল সবচেয়ে সহায়ক অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। তাই বন্ধুর চোখে পানি এলে তাঁকে থামানোর পরিবর্তে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে। বলা যায়, ‘তুমি মনের কষ্টটা প্রকাশ করছ, এটা ভালো। আমি তোমার পাশে আছি।’ এতে তিনি বুঝতে পারবেন, তাঁর আবেগ প্রকাশ করা কোনো ভুল নয়। দ্বিতীয়ত, ‘তোমাকে শক্ত হতে হবে’—এমন কথা বলাও এড়িয়ে চলা ভালো। কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষকে সাহস দেওয়ার চেষ্টা স্বাভাবিক। কিন্তু সব সময় শক্ত থাকার পরামর্শ দিলে তাঁর দুঃখ, ভয় কিংবা দুর্বলতার অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। এতে তিনি মনে করতে পারেন, নিজের কষ্ট দেখানো উচিত নয়। এর বদলে তাঁর অনুভূতিকে স্বীকৃতি দেওয়া বেশি কার্যকর। যেমন বলা যেতে পারে, ‘তোমার এমন লাগাটা স্বাভাবিক’ অথবা ‘তুমি যা অনুভব করছ, তা নিয়ে অপরাধবোধ করার প্রয়োজন নেই।’ এমন কথা মানুষকে নিজের আবেগ বুঝতে এবং তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, ‘কিছু লাগলে আমাকে জানিও’—এই প্রচলিত কথাটিও সব সময় কার্যকর সহায়তা হয়ে ওঠে না। কারণ, বিপর্যস্ত মানুষটি হয়তো বুঝতেই পারেন না, তাঁর ঠিক কী ধরনের সাহায্য প্রয়োজন। আবার সাহায্য চাইতে গিয়ে অন্যকে বিরক্ত করার ভয় বা সংকোচও কাজ করতে পারে। ফলে আন্তরিক প্রস্তাব পেয়েও তিনি কিছু না বলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ হলো, সাধারণভাবে সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট কিছু কাজের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া। যেমন, ‘তোমার বাজার করে দেব?’, ‘তোমার কাপড় ধুয়ে দিতে পারি?’ অথবা ‘বাচ্চাদের কিছু সময় দেখাশোনা করব?’ শোকের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনন্দিন কাজকর্মে অন্যদের সহায়তা তাঁদের কাছে বিশেষভাবে উপকারী ছিল। এমন নির্দিষ্ট প্রস্তাবে সাহায্য চাওয়ার চাপ কমে এবং বাস্তব প্রয়োজনও পূরণ হয়। চতুর্থত, কাউকে দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া উচিত নয়। কোনো কঠিন ঘটনার কয়েক মাস পরও বন্ধু কষ্টে থাকলে কেউ কেউ বলতে পারেন, ‘এবার এগিয়ে যাও’ বা ‘এখনো এসব নিয়ে ভাবছ?’ কিন্তু দুঃখ, শোক কিংবা মানসিক চাপ কাটিয়ে ওঠার জন্য সবার ক্ষেত্রে একই সময়সীমা প্রযোজ্য নয়। গবেষণার একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কোনো চাপপূর্ণ ঘটনার পর ১১ শতাংশ মানুষ দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে পারেন। আবার প্রথম দিকে যাঁদের অবস্থা স্বাভাবিক মনে হয়, তাঁদের ৯ থেকে ১২ শতাংশের পরিস্থিতি পরবর্তী সময়ে আরও খারাপ হতে পারে। অর্থাৎ, বাইরে থেকে কাউকে স্বাভাবিক দেখালেই তাঁর কষ্ট পুরোপুরি কেটে গেছে, এমন ধরে নেওয়া যায় না। নিজের আবেগকে বিচার করা বা সেগুলো নিয়ে নিজেকে দোষারোপ করাও ক্ষতিকর হতে পারে। একটি গবেষণায় যাঁরা নিজেদের অনুভূতিকে নেতিবাচকভাবে বিচার করেছেন, তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার মাত্রা বেশি এবং মেজাজের ওঠানামাও বেশি দেখা গেছে। তাই বন্ধুকে তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া উচিত নয়। বরং বলা যেতে পারে, ‘তোমার যতটা সময় প্রয়োজন, নাও। আমি পাশে আছি।’ পঞ্চমত, বন্ধুর কঠিন সময়ের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া বা তাঁকে এড়িয়ে চলাও ক্ষতিকর। কখনো কখনো কী বলা উচিত, তা বুঝতে না পেরে মানুষ দূরে সরে যান। কেউ ফোন ধরা বন্ধ করেন, কেউ দেখা হলে এড়িয়ে যান। কিন্তু এতে বিপর্যস্ত মানুষটির মনে হতে পারে, তাঁর কষ্টের কারণে অন্যরা তাঁকে এড়িয়ে চলছেন। ফলে তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতেও ভয় পেতে পারেন এবং আরও একাকিত্বে ভুগতে পারেন। মনোবিজ্ঞানীর মতে, কঠিন সময়ে থাকা বন্ধুর খোঁজ নেওয়ার গুরুত্ব অনেক সময় আমরা উপলব্ধি করতে পারি না। অথচ ছোট্ট একটি বার্তাও তাঁকে বুঝিয়ে দিতে পারে যে তিনি একা নন। সামাজিক সমর্থন মানুষের প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই নিখুঁত কথা খুঁজে না পেলেও যোগাযোগ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে খুব সাধারণ একটি বার্তাই যথেষ্ট হতে পারে: ‘আজ তোমার কথা মনে পড়ছিল। তুমি কেমন আছ, জানতে ইচ্ছা হলো।’ এমন বার্তা বন্ধুকে তাঁর পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সুযোগ দেয়, আবার কথা বলতে না চাইলে তাঁকে চাপও দেয় না। সব মিলিয়ে, কঠিন সময়ে বন্ধুর পাশে থাকার জন্য সব সমস্যার সমাধান জানা জরুরি নয়। বরং তাঁর কথা মন দিয়ে শোনা, আবেগ প্রকাশের সুযোগ দেওয়া, দৈনন্দিন কাজে নির্দিষ্ট সহায়তা করা এবং নিয়মিত খোঁজ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে দ্রুত ভালো হয়ে যেতে বাধ্য না করে তাঁর অনুভূতিকে সম্মান জানানো বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই বাড়ছে। দেশটিতে চলতি বছর ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৪১০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩৩০ জন। সংক্রামক এই রোগের বিস্তার অব্যাহত থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সময়ে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শত শত মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৫১ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তবে দেশজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও বিভিন্ন রাজ্যে সংক্রমণের পরিস্থিতি এক রকম নয়। পেনসিলভানিয়া বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি রাজ্যগুলোর একটি। পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে চলতি বছরে ১ হাজার ২২২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ২২৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। রাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ ওই সময় পর্যন্ত হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মৃ ত্যুর ঘটনাও নিশ্চিত করেছিল। পরবর্তী সময়ে, ১৬ অক্টোবর পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, রাজ্যটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৬০ হয়েছে। এ সময় পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩৮ জনে। রাজ্যটিতে হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মৃ ত্যুর ঘটনাও নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, কয়েক দিনের ব্যবধানেই সংক্রমণের সংখ্যা আরও বেড়েছে। তবে পেনসিলভানিয়ায় হামের কারণে মৃ ত্যুর হিসাব নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সিডিসি ২০২৬ সালে দেশজুড়ে হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি মৃ ত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছে। তবে কোন রাজ্যে এসব ঘটনা ঘটেছে, তা সংস্থাটি প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়া নিজস্ব স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচটি মৃ ত্যুর কথা জানিয়েছে। মৃ ত্যুর তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত মাসে সিডিসি হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মৃ ত্যুর হিসাব তৈরিতে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগগুলোর তথ্যের পরিবর্তে ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিস্টিকসের মৃ ত্যু-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার শুরু করে। এই পরিবর্তন নিয়ে জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। পেনসিলভানিয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সিডিসি ১৩ অক্টোবর জানায়, প্রাদুর্ভাবের কারণ অনুসন্ধান ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যটিকে আরও সহায়তা দেওয়া হবে। সংক্রমণ কীভাবে ছড়াচ্ছে, কোথায় বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে তদন্তে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানেও শিশু-কিশোরদের মধ্যে সংক্রমণের উল্লেখযোগ্য চিত্র উঠে এসেছে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৬, যা মোট আক্রান্তের ৪২ শতাংশ। এরপর রয়েছে ২০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা। এই বয়সী মানুষের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৮৭ জন, যা মোট সংখ্যার ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু-কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্করা মিলেই মোট আক্রান্তের বড় অংশ। এ পরিস্থিতিতে স্কুল, পরিবার ও জনসমাগমস্থলে সংক্রমণ প্রতিরোধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যেও হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে রাজ্যটি এ পরিস্থিতিতে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে হামের প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ঘোষণা ছিল প্রথম। এর মাধ্যমে রোগটির বিস্তার মোকাবিলায় পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকলে বা সংক্রমিত বাতাসের সংস্পর্শে এলে অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সংক্রমণের সংখ্যা বাড়তে থাকলে দ্রুত শনাক্তকরণ, আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা এবং জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সিডিসির প্রকাশিত জাতীয় হিসাব অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৪১০ হলেও পেনসিলভানিয়ার পরবর্তী পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাজ্যটিতে সংক্রমণ আরও বেড়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দাম বাড়তে থাকায় খাদ্যসংকটের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন ক্ষুদ্র কৃষকেরা। একই সঙ্গে বাড়ছে কৃষিপণ্যের দাম, যার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের খাদ্য কেনার সামর্থ্যের ওপর। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের খাদ্যসংকট সামনে আসছে। আইএফএডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্ববাজারে কৃষিপণ্যের দাম ১৩ শতাংশ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। জ্বালানি ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সারের দামও বেড়েছে। ফলে কৃষিকাজ থেকে শুরু করে উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছে দেওয়ার খরচ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। আইএফএডির প্রেসিডেন্ট আলভারো লারিও মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী ছয় থেকে নয় মাসেও খাদ্যের দাম বাড়তে পারে। একই সঙ্গে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন সেই মানুষ, যাঁদের আয় কম এবং যাঁদের পক্ষে বাড়তি দামে প্রয়োজনীয় খাবার কেনা কঠিন। লারিওর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় প্রতি তিনজন মানুষের একজনই স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য রাখেন না। খাদ্যের দাম বাড়লে তাঁদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। কারণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় থাকা ডাল, শাকসবজি ও মাংসের মতো পণ্যের ব্যয় বাড়লে অনেক পরিবারকে খাবারের পরিমাণ বা ধরন বদলাতে হতে পারে। এতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগও কমে যেতে পারে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৬ কোটি মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অর্থাৎ, তাঁদের নিয়মিত পর্যাপ্ত ও নিরাপদ খাবার পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। খাদ্যের দাম বাড়তে থাকলে এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পরিস্থিতির প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে। কারণ, এসব দেশের বহু পরিবারের আয়ের বড় অংশই খাবার কেনার পেছনে ব্যয় হয়। ফলে খাদ্যের দাম সামান্য বাড়লেও তাঁদের দৈনন্দিন ব্যয়ে বড় চাপ তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকে যোগ দিতে ব্যাংককে অবস্থানকালে লারিও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই সংকটের সবচেয়ে বড় চাপের মুখে রয়েছেন ক্ষুদ্র কৃষকেরা। আইএফএডির হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট খাদ্য উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তাঁদের মাধ্যমে আসে। অনেক উন্নয়নশীল দেশে মোট খাদ্য উৎপাদনের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত তাঁদের অবদান রয়েছে। অথচ জ্বালানি ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের উৎপাদন খরচ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে রাসায়নিক সার কেনার ব্যয় কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। সার ও জ্বালানি ছাড়া অনেক ফসলের উৎপাদন এবং পরিবহন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কৃষকেরা সব সময় সেই অনুপাতে পণ্যের দাম বাড়াতে পারেন না। ফলে তাঁদের আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এর প্রভাব ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনেও পড়তে পারে। লারিও বলেন, স্বল্পমেয়াদে সরকারগুলোর হাতে সংকট মোকাবিলার সুযোগ সীমিত। তবে প্রয়োজন হলে সার কেনার খরচ বা জ্বালানির দাম কমাতে ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে। এতে কৃষকদের তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে তাঁর মতে, শুধু সাময়িক সহায়তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান করা যাবে না। খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে সহায়তা দিতে বৃহস্পতিবার জি-৭ জোটের দেশগুলো ২৫০ কোটি ডলার সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ সহায়তায় সারের সরবরাহ ও প্রাপ্যতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও সারের বাড়তি ব্যয়ের কারণে কৃষি উৎপাদন যেন আরও বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে লারিও মনে করেন, ভবিষ্যতের জন্য কৃষি খাতকে আরও সহনশীল করে তোলা জরুরি। তাঁর মতে, জ্বালানি, সার ও অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির মতো ধাক্কা ভবিষ্যতেও আসতে পারে। তাই আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের কথা মাথায় রেখে কৃষি উৎপাদনব্যবস্থার দুর্বলতা কমাতে হবে। এ জন্য ফসলের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং খাদ্য সরবরাহের বিভিন্ন পথ গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। কোনো একটি ফসল বা সরবরাহব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থাকলে সংকটের সময় খাদ্যের ঘাটতি আরও তীব্র হতে পারে। পাশাপাশি, যেসব দেশ নিজেদের প্রয়োজনীয় খাদ্যের বড় অংশ নিজেরাই উৎপাদন করতে পারে, তাদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। লারিও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য মাটির স্বাস্থ্য ও পানির প্রাপ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা বাড়ছে। খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং পানির সংকট কৃষি উৎপাদনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ক্ষুদ্র কৃষকদের জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করার জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নও অপর্যাপ্ত। লারিওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বরাদ্দ করা জলবায়ু অর্থায়নের এক শতাংশেরও কম পেয়েছেন ক্ষুদ্র কৃষকেরা। অথচ কৃষি উৎপাদন সচল রাখা এবং ভবিষ্যতের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় তাঁদের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি তাই শুধু কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ের সমস্যা নয়; এটি সাধারণ মানুষের খাদ্য কেনার সামর্থ্য এবং বিভিন্ন দেশের খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। সাময়িক ভর্তুকি ও আন্তর্জাতিক সহায়তা তাৎক্ষণিক চাপ কমাতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদনের বৈচিত্র্য, জলবায়ু অভিযোজন এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে খাদ্যের দাম ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের মার্থাস ভিনইয়ার্ডে সড়কের পাশে উলঙ্গ ও আতঙ্কিত অবস্থায় এক নারীকে উদ্ধারের ঘটনায় বোস্টনের একটি স্কুলের সহকারী নিরাপত্তা পরিচালকের বিরুদ্ধে ধ র্ষ ণের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের ব্যারাকে ওই নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এডওয়ার্ড ব্রাউন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। কেপ অ্যান্ড আইল্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট কথিত ঘটনাটি ঘটে। ১৩ অক্টোবর ব্রাউনের বিরুদ্ধে ধ র্ষ ণের অভিযোগে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। এর আগে ৯ অক্টোবর বোস্টন ল্যাটিন একাডেমি থেকে তাঁকে গ্রে প্তা র করা হয়। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি সহকারী নিরাপত্তা পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কথিত ঘটনার দিন রাত ১টার কিছু আগে ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশের ব্যারাকের কাছাকাছি সড়কের পাশে এক নারীকে বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ দুটি ফোনকল পায়। ওই ব্যারাকেই যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে নারীটিকে মার্থাস ভিনইয়ার্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি পুলিশকে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ দেন বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে ‘দ্য রিটজ’ নামের একটি বারে গিয়েছিলেন। সেখানে ব্রাউন তাঁর কাছে যান, তাঁর শরীরের পেছনের অংশে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন এবং তাঁকে পানীয় কিনে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রাউন তখন দ্বীপে কর্মরত এক স্টেট ট্রুপারের সঙ্গে পুলিশের ব্যারাকে রাত কাটাচ্ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নারীটি পুলিশকে জানান, বারে ব্রাউনের সঙ্গে দেখা হওয়ার পরের ঘটনাগুলো তাঁর মনে নেই। এরপর তাঁর মনে আছে, তিনি অপরিচিত একটি জায়গায় ঘুম ভেঙে দেখেন ব্রাউন তাঁর ওপর রয়েছেন। আদালতে এক প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, নারীটি বিছানায় উপুড় হয়ে ও উলঙ্গ অবস্থায় জেগে ওঠেন। তিনি উঠে যাওয়ার চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তি আবার কক্ষে ফিরে এসে তাঁকে জোর করেন এবং গলা চেপে ধরে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ওই নারী সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। তিনি সিঁড়ি দিয়ে দুই তলা নেমে ভবনটি থেকে বেরিয়ে সড়কের দিকে ছুটে যান। কয়েক মিনিটের মধ্যে পথচারীরা তাঁকে দেখতে পান এবং সহায়তার ব্যবস্থা হয়। অভিযোগকারী নারী আয়ারল্যান্ডের নাগরিক। ঘটনার পর তিনি নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ব্রাউনের বিরুদ্ধে আগের কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ও আদালতে উঠে এসেছে। প্রসিকিউটরদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে চারটি প্রতিবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে সাবেক দুই প্রেমিকার করা হয়রানির অভিযোগও ছিল। আদালত ওই দুই নারীর জন্য নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের বক্তব্য অনুযায়ী, এর একটি এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে এসব অভিযোগকে বর্তমান মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। এ ছাড়া ব্রাউনকে গ্রে প্তা র করার সময় তাঁর কাছে কোকেন ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন প্রসিকিউটররা। তবে তাঁর আইনজীবী অ্যান্থনি আর. এলিসন আদালতে বলেন, ব্রাউন এর আগে কখনো কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হননি এবং তিনি একজন সুনাগরিক। আইনজীবী আরও বলেন, তাঁর মক্কেল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং মামলার সব পক্ষের বক্তব্য শোনার সুযোগ থাকা উচিত। ব্রাউন ১০ হাজার ডলারের বন্ডে মুক্তি পেয়েছেন। জামিনের শর্ত অনুযায়ী, তাঁকে অভিযোগকারী নারী ও মামলার সাক্ষীদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং প্রবেশন কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। আগামী ৩ ডিসেম্বর মামলার প্রাক্-বিচার শুনানির জন্য তাঁকে আবার আদালতে হাজির হতে হবে বলে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে। এদিকে, ব্রাউনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর বোস্টন পাবলিক স্কুলস তাঁকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠিয়েছে। তাঁর চাকরির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বরখাস্ত-সংক্রান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ। তিনি গত দুই বছর ধরে স্কুল জেলায় সহকারী নিরাপত্তা পরিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁর বার্ষিক বেতন ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার। ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বোস্টনের মেয়র মিশেল উ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ। শিক্ষার্থী ও স্কুলের সঙ্গে যুক্ত সবার নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, ব্রাউনের আইনজীবী বলেছেন, তাঁর মক্কেল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন। ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশ এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে পাঠানো অনুরোধের জবাব দেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন। ফলে ব্রাউনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আগামী শুনানি ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
মহাকাশে প্রথমবারের মতো সবুজ আভাযুক্ত একটি নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নক্ষত্রটির নাম WD J1330+6435। এটি আসলে একটি শ্বেত বামন—জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর একটি নক্ষত্রের অবশিষ্ট ঘন কেন্দ্র। বিজ্ঞানীদের ধারণা, একসময় নক্ষত্রটিকে প্রদক্ষিণ করা গ্রহগুলোর পাথুরে ধ্বংসাবশেষ এর পৃষ্ঠে জমা হওয়ার পর রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন এসেছে। আর সেই পরিবর্তনের কারণেই নক্ষত্রটি পেয়েছে বিরল সবুজাভ, চার্ট্রুজ রং। নক্ষত্রের রং সাধারণত তার তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। তুলনামূলক শীতল নক্ষত্রকে কমলা আভায় দেখা যায়, সূর্যের মতো নক্ষত্র সাধারণত সাদা দেখায়, আর অত্যন্ত উত্তপ্ত নক্ষত্রের রং হতে পারে হালকা নীল। তবে শ্বেত বামনের ক্ষেত্রে রঙের হিসাব কিছুটা আলাদা। এসব নক্ষত্রের বাইরের স্তর একসময় মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে, আর অবশিষ্ট ঘন কেন্দ্রটি থেকে যায়। তাদের গঠন ও বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক উপাদানের পরিবর্তনে রংও বদলে যেতে পারে। নতুন শনাক্ত হওয়া WD J1330+6435 মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথে অবস্থিত। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৮০ আলোকবর্ষ। এটি ড্রাকো নক্ষত্রমণ্ডলে রয়েছে। এক আলোকবর্ষ হলো আলো এক বছরে যত দূরত্ব অতিক্রম করে—প্রায় ৫ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন মাইল বা ৯ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী মার্ক হল্যান্ডসের নেতৃত্বে গবেষকেরা নক্ষত্রটির অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করেন। গবেষণায় দেখা যায়, গ্রহের পাথুরে ধ্বংসাবশেষ থেকে আসা বিভিন্ন উপাদান শ্বেত বামনটির বাইরের স্তরে জমা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, লিথিয়াম এবং বিশেষ করে সোডিয়াম। সাধারণ নক্ষত্রে সোডিয়াম কমলা আলোর একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য শোষণ করে। সোডিয়ামযুক্ত রাসায়নিক পদার্থ পোড়ালে বা উত্তপ্ত করলে যে পরিচিত কমলা আভা দেখা যায়, তার সঙ্গেও এই বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু WD J1330+6435-এর পরিবেশে সোডিয়ামের আচরণ বদলে গেছে। গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শ্বেত বামনটির ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি। সেখানে সোডিয়াম পরমাণুগুলো চারপাশের হিলিয়াম পরমাণুর সঙ্গে ক্রমাগত সংঘর্ষের মুখে পড়ে। এতে সোডিয়াম পরমাণুর শক্তিস্তরে পরিবর্তন আসে। ফলে সোডিয়াম আর শুধু কমলা আলোর একটি সংকীর্ণ তরঙ্গদৈর্ঘ্য শোষণ করে না; বরং হলুদ, কমলা এবং লাল আলোর কিছু অংশও শোষণ করে। এর ফলে নক্ষত্রটির দৃশ্যমান রং বদলে গিয়ে সবুজাভ চার্ট্রুজ আভা তৈরি হয়। গবেষকদের মতে, সূর্যের মতো সাধারণ নক্ষত্রে এমন রং দেখা সম্ভব নয়। কারণ, শ্বেত বামনের ঘনত্ব ও রাসায়নিক পরিবেশ একেবারেই আলাদা। নক্ষত্রটির এই ব্যতিক্রমী রং তাই শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি এর বায়ুমণ্ডল ও ভেতরের পদার্থবিজ্ঞানের সম্পর্কও তুলে ধরে। শ্বেত বামন কতটা ঘন হতে পারে, তা বোঝাতে গবেষকরা জানিয়েছেন, সাধারণত এ ধরনের নক্ষত্রে সূর্যের প্রায় অর্ধেক ভর থাকে, অথচ আকারে তা পৃথিবীর কাছাকাছি। গবেষণার সহলেখক বরিস গ্যানসিকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পৃথিবীর আকারের একটি বস্তুতে এত বিপুল ভর ঘনীভূত থাকায় অল্প পরিমাণ সোডিয়ামও নক্ষত্র থেকে বের হওয়া কমলা আলোর বড় অংশ শোষণ করতে পারে। রং মেশানোর সময় কোনো একটি রং কমিয়ে দিলে যেমন চূড়ান্ত রং বদলে যায়, এখানেও তেমন ঘটনা ঘটছে। গবেষণায় শুধু সবুজ নক্ষত্রটিই নয়, আরও অস্বাভাবিক রঙের শ্বেত বামনের সন্ধান মিলেছে। গবেষকেরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে অবস্থিত ১৫১টি শ্বেত বামনের রং বিশ্লেষণ করেছেন। তাদের মধ্যে WD J1011+2845 নামের একটি নক্ষত্রের রং স্যামন মাছের মতো গোলাপি বলে চিহ্নিত হয়েছে। এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪৮ আলোকবর্ষ দূরে লিও মাইনর নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত। এই নক্ষত্রটির রং বদলে যাওয়ার পেছনে সোডিয়ামের বদলে কার্বনের ভূমিকা রয়েছে। গবেষক বরিস গ্যানসিকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সব ক্ষেত্রে বাইরের কোনো গ্রহের ধ্বংসাবশেষ থেকে উপাদান নক্ষত্রে প্রবেশ করে না। এই গোলাপি শ্বেত বামনের ক্ষেত্রে কার্বন এসেছে এর গভীর অভ্যন্তর থেকে। গবেষণায় দেখা গেছে, শ্বেত বামনের বায়ুমণ্ডলে কী ধরনের উপাদান রয়েছে, তার ওপর রং অনেকটাই নির্ভর করে। কার্বনসমৃদ্ধ শ্বেত বামন সাধারণত গোলাপি বা বেগুনি আভা দেখাতে পারে। গ্রহব্যবস্থার ভাঙা পাথুরে উপাদানে সমৃদ্ধ শ্বেত বামনের রং হলুদাভ হতে পারে। আবার হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মিশ্র বায়ুমণ্ডলযুক্ত তুলনামূলক শীতল শ্বেত বামন সায়ান বা হালকা নীল দেখাতে পারে। অর্থাৎ, নক্ষত্রের রং নির্ধারণে শুধু তাপমাত্রাই নয়, রাসায়নিক গঠনও গুরুত্বপূর্ণ। এই গবেষণায় স্লোন ডিজিটাল স্কাই সার্ভের টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া আলোর বর্ণালি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি গবেষকেরা শ্বেত বামনের বর্ণালি বিশ্লেষণের জন্য নিজস্ব মডেল তৈরি করেছেন। এসব তথ্যের সাহায্যে নক্ষত্রগুলোকে মানুষের চোখে কী রঙের দেখানোর কথা, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে RAS Techniques and Instruments সাময়িকীতে। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার নক্ষত্রের রং সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে আরও বিস্তৃত করেছে। সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান কেবল বিরল একটি দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যের পরিচয় দেয় না, বরং গ্রহব্যবস্থার অবশিষ্ট উপাদান কীভাবে নক্ষত্রের বায়ুমণ্ডলকে বদলে দিতে পারে, সে সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। গবেষণার প্রধান লেখক মার্ক হল্যান্ডসের মতে, মহাবিশ্ব কখনো কখনো কল্পবিজ্ঞানের গল্পের মতোই বিস্ময়কর হয়ে উঠতে পারে। বাস্তবে শনাক্ত হওয়া এই সবুজ শ্বেত বামন সেই বিস্ময়েরই একটি উদাহরণ
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন শরৎ ও শীত মৌসুমে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়ার ঝুঁকির মানচিত্র বদলে যেতে পারে। এতে দেশটির কিছু অঞ্চলে বাড়তে পারে ভারী বৃষ্টি, বন্যা, ভূমিধস ও ঝড়ের আশঙ্কা। অন্যদিকে কিছু এলাকায় আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি কমতেও পারে। এর প্রভাব বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি, বীমা সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতে বীমার খরচের ওপর পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত চক্র। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) জানিয়েছে, চলতি শরৎ ও শীতে এল নিনো ‘খুব শক্তিশালী’ হয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, সম্ভাব্য এই শক্তিশালী পরিস্থিতিকে কেউ কেউ ‘গডজিলা’ এল নিনো বলছেন। এনওএএর জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্রের প্রধান আবহাওয়াবিদ স্কট হ্যান্ডেলের মতে, প্রতিটি এল নিনোর বৈশিষ্ট্য এক রকম হয় না। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল, বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারী বৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও তীব্র আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর রকি পর্বতমালা ও উত্তর ক্যাসকেডস অঞ্চলে তুষার জমার পরিমাণ কম হতে পারে। পূর্ব উপকূলে উপকূলীয় ঝড়ের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এল নিনোর একটি পরিচিত প্রভাব হলো আটলান্টিক মহাসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূল পরিবেশ দুর্বল করে দেওয়া। এতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল, বিশেষ করে ফ্লোরিডার মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা কিছুটা কমতে পারে। তবে সেই সম্ভাব্য সুবিধা ভারী বৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকিকে পুরোপুরি পুষিয়ে দেবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন মৌসুমে পশ্চিম উপকূল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হতে পারে বন্যা। ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি ও ঢালু এলাকায় ভূমিধস হতে পারে। পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন অংশে ঝোড়ো হাওয়ার পর্বও দেখা দিতে পারে। এসব ঘটনায় বাড়ির ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, পানি ঢুকে পড়া, গাছপালা বা অন্যান্য ধ্বংসাবশেষের আঘাতে সম্পত্তির ক্ষতি এবং অন্যান্য আবহাওয়াজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি মানেই এসব ঘটনা নিশ্চিতভাবে ঘটবে, এমন নয়। বাড়ির মালিকদের জন্য উদ্বেগের আরেকটি বিষয় হলো বন্যা বীমার সীমাবদ্ধতা। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সম্পত্তিগুলোর বড় একটি অংশেরই বন্যা বীমা নেই। সাধারণ বাড়ির বীমা পলিসিতে সাধারণত বন্যার কারণে সরাসরি হওয়া ক্ষয়ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত থাকে না। ফলে বন্যার পানি ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কিংবা ভবনের ক্ষতি করলে অনেক বাড়ির মালিককে নিজের পকেট থেকেই বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কোটালিটির প্রধান বিজ্ঞানী হাওয়ার্ড বটসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বন্যার ক্ষয়ক্ষতির বেশির ভাগই সাধারণ বাড়ির বীমায় কাভার হয় না। এ ধরনের ক্ষতির জন্য আলাদা বন্যা বীমা বা নির্দিষ্ট শর্তে ব্যক্তিগত বীমা প্রয়োজন হতে পারে। তবে ঝড়ের বাতাসে ছাদের ক্ষতি কিংবা শীতকালীন ঝড়ে ছাদ চুইয়ে পানি ঢোকার মতো কিছু ক্ষতি সাধারণ বাড়ির বীমার আওতায় আসতে পারে। এদিকে, বন্যার ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির (ফেমা) মানচিত্রে কোনো এলাকা উচ্চ ঝুঁকির হিসেবে চিহ্নিত না থাকলেও সেখানে বন্যা হতে পারে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে ন্যাশনাল ফ্লাড ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রামের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বন্যা বীমা দাবি এসেছে এমন স্থাপনা থেকে, যেগুলো তখনকার মানচিত্রে উচ্চ ঝুঁকির এলাকার বাইরে ছিল। তাই শুধু সরকারি মানচিত্রে নিজের বাড়িকে নিরাপদ দেখেই নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত নয়। ফেমার ম্যাপ সার্ভিস সেন্টারে ঠিকানা দিয়ে নিজের এলাকার বন্যার ঝুঁকি যাচাই করা যেতে পারে। ভারী বৃষ্টিতে পানি জমার পাশাপাশি মাটি অতিরিক্ত ভিজে গেলে ভূমিধসের ঝুঁকিও তৈরি হয়। তবে ভূমিধসের ক্ষতি কোন বীমায় কাভার হবে, তা পলিসির ধরন ও শর্তের ওপর নির্ভর করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসন্ন শীতের আগে বন্যা বীমা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সম্পত্তির ৮৬ শতাংশের বন্যা বীমা নেই। অর্থাৎ, ঝুঁকিপূর্ণ অনেক বাড়িই সম্ভাব্য ক্ষতির আর্থিক সুরক্ষার বাইরে রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সান ডিয়েগোর স্ক্রিপস ইনস্টিটিউশন অব ওশেনোগ্রাফির জলবায়ু অর্থনীতিবিদ টম করিংহ্যামের মতে, ন্যাশনাল ফ্লাড ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রামের (এনএফআইপি) বীমায় সাধারণত ৩০ দিনের অপেক্ষার সময় থাকে। ফলে বড় ঝড়ের পূর্বাভাস আসার পর বীমা কিনতে গেলে প্রয়োজনের সময় সুরক্ষা নাও পাওয়া যেতে পারে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সাধারণত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বন্যার মৌসুম বেশি সক্রিয় থাকে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা বাড়ির মালিকদের আগেভাগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। এনএফআইপির আওতায় বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়া—দুই পক্ষই বন্যা বীমা নিতে পারেন। বাড়ির মালিকেরা ভবনের জন্য সর্বোচ্চ আড়াই লাখ ডলার এবং ঘরের ভেতরের জিনিসপত্রের জন্য এক লাখ ডলার পর্যন্ত সুরক্ষা পেতে পারেন। ভাড়াটিয়ারা ভবনের কাঠামোর পরিবর্তে নিজেদের আসবাব ও ব্যক্তিগত সম্পদের জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ ডলারের বীমা নিতে পারেন। তবে বন্যা বীমা থাকলেই সব ধরনের ক্ষতির অর্থ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এনএফআইপির পলিসিতে সাধারণত অস্থায়ী বাসস্থানের খরচ বা বাড়ি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে গেলে অন্যত্র থাকার অতিরিক্ত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকে না। তাই বীমা কেনার আগে কোন ধরনের ক্ষতি কাভার হবে এবং কোন খরচ নিজের বহন করতে হবে, তা পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া জরুরি। এল নিনোর কারণে বাড়ির বীমার খরচ কি সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এত সরল নয়। করিংহ্যাম জানিয়েছেন, এল নিনোর পূর্বাভাসের কারণে এনএফআইপি সাধারণত প্রতি শীতে নতুন করে বীমার মূল্য নির্ধারণ করে না। ফেমার ‘রিস্ক রেটিং ২.০’ পদ্ধতিতে বীমার খরচ নির্ধারণে সম্পত্তির দীর্ঘমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি, পুনর্নির্মাণের ব্যয় এবং ভবনের বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়। একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে এল নিনোর উপস্থিতি আলাদাভাবে কোনো পরিবারের বীমার মূল্য নির্ধারণের প্রধান ভিত্তি নয়। তবে বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠান আবহাওয়াজনিত বিপর্যয়ের মডেল, জলবায়ু-সংক্রান্ত তথ্য এবং পুনর্বীমার ব্যয় বিবেচনা করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে পারে। কোনো মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে তার প্রভাব পরবর্তী সময়ে বীমার মূল্য নির্ধারণে পড়তে পারে। কিন্তু এই পরিবর্তন সাধারণত সঙ্গে সঙ্গে বা একবারে হয় না; অনেক ক্ষেত্রে পলিসি নবায়নের সময় তা কার্যকর হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বীমার খরচ বাড়ার পেছনে একটি মৌসুমের আবহাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়ক্ষতির প্রবণতা ও পুনর্বীমার বাজারের অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। এনএফআইপিতে বার্ষিক প্রিমিয়াম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সাধারণত ১৮ শতাংশের সীমা থাকায় বন্যাজনিত ব্যয় বাড়লেও তা ধাপে ধাপে প্রতিফলিত হতে পারে। সব মিলিয়ে, শক্তিশালী এল নিনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঞ্চলে একই ধরনের প্রভাব ফেলবে না। কোথাও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি তুলনামূলক কমতে পারে, আবার কোথাও বন্যা, ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়তে পারে। বাড়ির মালিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের এলাকার ঝুঁকি যাচাই করা, বীমার শর্ত ভালোভাবে বোঝা এবং প্রয়োজন হলে আগেভাগে বন্যা বীমার ব্যবস্থা করা। কারণ, বীমার প্রিমিয়াম সঙ্গে সঙ্গে না বাড়লেও একটি বড় আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ বাড়ির মালিকদের জন্য বিপুল আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওলেশকি শহরে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শহরটির বাসিন্দারা অনাহার ও চিকিৎসাসংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। শনিবার, ১৭ অক্টোবর তিনি শহরটিকে ‘মৃ ত্যুফাঁদ’ হিসেবে বর্ণনা করে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জরুরি সহায়তা চেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সিবিহা বলেন, রুশ দখলদার বাহিনী ওলেশকিকে এমন এক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে বাসিন্দাদের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, শহরের হাসপাতালে ওষুধ শেষ হয়ে গেছে। রাস্তায় এবং বাড়ির ভেতরে বহু মানুষের মর দেহ পড়ে থাকলেও সেগুলো দাফন করতে বাসিন্দাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যসংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরে সিবিহা বলেন, অনেক পরিবার বাগানে অবশিষ্ট থাকা শাকসবজি, সংরক্ষিত খাবার এমনকি শামুক খেয়েও বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষ্য, ইউক্রেন বারবার নিরাপদে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এসব আবেদন আর উপেক্ষা করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ওলেশকির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে। শহরটিতে যুদ্ধের আগে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ বসবাস করতেন। কিন্তু বর্তমানে সেখানে প্রায় ১ হাজার ৭০০ বাসিন্দা রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ৪৭টি শিশু রয়েছে। ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ড্যানিয়েল বেল এই জনসংখ্যার তথ্য জানিয়েছেন। শহরটির অবস্থানও মানবিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে নিপ্রো নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত ওলেশকি। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পরপরই অঞ্চলটির বড় অংশ রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। পরে ইউক্রেনীয় বাহিনী পাল্টা অভিযানে খেরসন শহরসহ বেশ কিছু এলাকা পুনর্দখল করে। তবে ওলেশকি এখনো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরটিতে খাবার ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটের কথা রাশিয়াও এর আগে স্বীকার করেছে। সেপ্টেম্বরে ক্রেমলিন জানায়, ওলেশকিতে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে গুরুতর সমস্যা রয়েছে। তবে রুশ সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি সমাধানে কাজ করছে বলেও দাবি করা হয়। অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোনের মাধ্যমে শহরটিতে খাবার ও ওষুধ পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এক অভিযানে ভারী মালামাল বহনে সক্ষম ড্রোন ব্যবহার করে প্রায় চার টন খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী শহরের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। তবে বিচ্ছিন্নভাবে এসব সরবরাহ পৌঁছালেও তা দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ১৬ অক্টোবর পোপ লিওর সঙ্গে আলোচনায় ওলেশকিতে জরুরি সরবরাহ পৌঁছাতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। পোপ শহরটির বেসামরিক মানুষের জন্য খাদ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। পুতিনের প্রতিশ্রুতিকে সম্ভাব্য সহায়তা উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবে নিরাপদ সরবরাহ ও সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা কত দ্রুত কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি এবং অন্যান্য মানবিক সংস্থাকে দ্রুত নিরাপদে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চলতি সপ্তাহে ওলেশকির পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যা’ বলে বর্ণনা করেছেন। এটি তাঁর অভিযোগ; স্বাধীনভাবে আইনি সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত কোনো ঘোষণা নয়। ওলেশকির সংকটের পাশাপাশি খেরসন অঞ্চলেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় কৌঁসুলিদের বরাতে জানা গেছে, শনিবার নিপ্রো নদীর অপর তীরে অবস্থিত খেরসন শহরে রুশ বাহিনী আকাশ থেকে বোমা নিক্ষেপ করে। এতে একজন অ্যাম্বুলেন্সচালক প্রাণ হারান এবং আরও ৪০ জন আহত হন। সব মিলিয়ে ওলেশকিতে খাদ্য, ওষুধ ও নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগের অভাব একটি বড় মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা ছাড়া সেখানকার বেসামরিক মানুষের দুর্দশা কমানো কঠিন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ধনী পরিবারের শীর্ষ ১০ শতাংশের তালিকায় জায়গা পেতে একটি পরিবারের নিট সম্পদ অন্তত ১৮ লাখ ডলার হতে হবে। বর্তমান সম্পদের মূল্য, বাড়ি ও শেয়ারবাজারের উত্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এই সীমা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে শুধু সম্পদের পরিমাণ নয়, পরিবারের বার্ষিক আয় এবং বসবাসের অঞ্চলও আর্থিক অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। ভিসার ২০২৫ সালের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ পরিবারকে ধনী বা আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে ধরা যায়। কোনো পরিবারের বার্ষিক আয় অন্তত ২ লাখ ১০ হাজার ডলার অথবা নিট সম্পদ ১৮ লাখ ডলার হলে সেটি এই শ্রেণিতে পড়তে পারে। অর্থাৎ, শুধু ব্যাংকে জমা থাকা টাকা দিয়ে ধনী হওয়ার হিসাব করা হয় না; পরিবারের সব সম্পদ ও দায় বিবেচনায় নেওয়া হয়। নিট সম্পদ হিসাব করার পদ্ধতিও তুলনামূলক সহজ। একজন ব্যক্তি বা পরিবারের বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংকে থাকা অর্থ, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, অবসরকালীন সঞ্চয় এবং অন্যান্য মূল্যবান সম্পদের মোট মূল্য থেকে সব ঋণ বাদ দিতে হয়। বাড়ির বন্ধকী ঋণ, গাড়ির কিস্তি, শিক্ষাঋণ, ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া এবং অন্যান্য আর্থিক দায়ও এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। সম্পদের মোট মূল্য থেকে এসব দায় বাদ দেওয়ার পর যে অর্থ থাকে, সেটিই নিট সম্পদ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঞ্চলে ধনী হওয়ার আর্থিক সীমা এক নয়। বাড়ির দাম, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অঞ্চলভেদে এই পার্থক্য তৈরি হয়েছে। ভিসার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে থাকতে নিট সম্পদ প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ ডলার। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই সীমা ১৯ লাখ ডলার, দক্ষিণাঞ্চলে ১৮ লাখ ডলার এবং মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে ১৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ, তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল অঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারকে একই আর্থিক শ্রেণিতে পৌঁছাতে বেশি সম্পদের মালিক হতে হয়। সম্পদের এই সীমা বাড়ার পেছনে বাড়ি ও শেয়ারবাজারের সম্পদের মূল্যবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভিসার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার মার্কিন নাগরিক কোটিপতি হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছেন। তবে কেবল ১০ লাখ ডলারের সম্পদের মালিক হওয়াই এখন দেশটির শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের মধ্যে থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদের বৈষম্যও আলোচনায় রয়েছে। সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিক থেকে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত দেশটির শীর্ষ ১ শতাংশ পরিবারের নিট সম্পদ গড়ে প্রতি পরিবারে প্রায় ১৮ লাখ ডলার বেড়েছে। একই সময়ে সম্পদের হিসাবে নিচের ৫০ শতাংশ পরিবারের নিট সম্পদ বেড়েছে গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ ডলার। অর্থাৎ, দুই গোষ্ঠীর সম্পদ বৃদ্ধির ব্যবধান ছিল অনেক বড়। বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে ধনী পরিবারগুলো বেশি লাভবান হয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের অনেক পরিবারকে ঋণ পরিশোধ এবং দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হয়। ফলে সম্পদ গড়ে তোলার সুযোগ সবার জন্য সমান নয়। ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, প্রথমে আয় ও ব্যয়ের হিসাব তৈরি করা, জরুরি প্রয়োজনে তিন থেকে ছয় মাসের খরচের সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করা এবং উচ্চ সুদের ঋণ কমানো। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে অবসরকালীন সঞ্চয় পরিকল্পনার সুবিধা থাকলে তা কাজে লাগানো এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বিষয়ে সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে ধনী পরিবারের শীর্ষ ১০ শতাংশে পৌঁছানোর জন্য ১৮ লাখ ডলারের নিট সম্পদ একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মানদণ্ড। তবে বসবাসের অঞ্চল, পরিবারের আয়, ঋণের পরিমাণ এবং সম্পদের ধরন অনুযায়ী ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থান ভিন্ন হতে পারে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সম্ভাব্য বিপদের সতর্কবার্তা জারি করেছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে এই সতর্কতা জারি করা হয়। জাতীয় জরুরি আগাম সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় বাসিন্দাদের কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ এবং নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ২০২৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার জারি করা ওই সতর্কবার্তায় বিপদের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, রিয়াদ ও রাজধানীর কাছের আল-খারজ এলাকায় বিপদ কেটে গেছে। তবে সতর্কতার সময় রিয়াদের আকাশে বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায় এবং প্রধান বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় ধোঁয়া দেখা যায় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। সতর্কবার্তাটি এমন এক সময়ে আসে, যখন সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হা মলার আশঙ্কা বাড়ছিল। ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী সৌদি আরবের রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে হা মলার দাবি করেছে। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো, বিমানবন্দর এবং লোহিত সাগরসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও নিরাপত্তা উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে অক্টোবরে হা মলার নতুন ঢেউয়ের পর। ১৭ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথিরা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হা মলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর স্থাপনাও রয়েছে। এসব ঘটনায় প্রাণহানি ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির জনবহুল উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ২০১৪ সালে সানা দখলের পর থেকে গোষ্ঠীটির সঙ্গে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে আসছে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন নয়; তবে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হা মলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তার মূল উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য বিপদের সময় বাসিন্দাদের নিরাপদ রাখা। এ ধরনের বার্তা পেলে নিরাপদ ভবন বা কক্ষের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া, জানালা থেকে দূরে থাকা এবং পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সতর্কবার্তা জারি হওয়া মানেই নির্দিষ্ট এলাকায় হা মলা হয়েছে—এমন নয়। কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ভিত্তিতেই বিপদের প্রকৃতি ও পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা নির্ধারণ করা জরুরি।
ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে শিক্ষা খাতের সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবারের এই বিক্ষোভে দেশজুড়ে আনুমানিক ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। ফরাসি সরকারের ভাষায়, পরিস্থিতি ক্রমেই সহিংসতার দিকে গড়িয়েছে। এদিন অন্তত ৪০০ জনকে গ্রে প্তার করা হয়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে গাড়ি ও ভবনে আগুন দেওয়া, দোকানপাট ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। প্যারিসে মূল বিক্ষোভ মিছিলের বেশির ভাগ সময় পরিস্থিতি শান্ত ছিল। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কিছু দল পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালানো হয়, গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়। প্যারিসের ঐতিহাসিক প্লাস দে লা রিপাবলিক চত্বরেও এমন ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একদল তরুণ জানান, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে পরিবর্তন চান। তাঁদের ভাষায়, তাঁরা শান্তিবাদী এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন, কিন্তু বাস্তবে কিছুই বদলাচ্ছে না। তবে পরে কিছু বিক্ষোভকারী রাস্তায় আগুন জ্বালান, গাড়ি পুড়িয়ে দেন এবং দোকানপাটে ভাঙচুর চালান। কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের নিজেদের মধ্যেও হাতাহাতির ঘটনা দেখা যায়। প্যারিসে অন্তত একটি রেস্তোরাঁ আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ‘লা বারিক’ নামের একটি বারেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালানো হয়। ফ্রান্সের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। লিয়ঁ শহরে উনিশ শতকের একটি ঐতিহাসিক ভবনে থাকা পর্যটন তথ্যকেন্দ্রটি আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। শহরটির মেয়র গ্রেগরি দুসেট ঘটনাটিকে ‘ট্র্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ও সুপরিচিত এই ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শহরের মানুষের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। স্থানীয় পুলিশের ভাষ্য, একদল ‘বৈরী ব্যক্তি’ অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের নিরাপদে আগুন নেভানোর কাজে বাধা দিয়েছিলেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানীর কয়েকটি এলাকা ছাড়াও মার্সেই, রেন, তুলুজ ও আঞ্জে শহরে মুখোশধারীদের লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গ্রেনোবল, আভিনিয়োঁ, পো, মনপেলিয়ে ও ভ্যালঁসসহ বিভিন্ন শহরে ভবন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্যারিসে পোশাক ও খাবারের দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। লিল শহরে একটি অ্যাপল স্টোরে ঢুকে পণ্য লুট করার ঘটনাও ঘটেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ফ্রান্সের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মীসংকট এবং জরাজীর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে আসছেন। দেশটির লিসে নামে পরিচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। শনিবারের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য ও অন্যান্য প্রতিবাদী গোষ্ঠী। শিক্ষা খাতে কর্মীর ঘাটতি, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর দুরবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের সরকার শিক্ষা খাতে কিছু ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৮ অক্টোবর টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে অতিরিক্ত ৩ হাজার অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে সেই ঘোষণার পরও বিক্ষোভ থামেনি; বরং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। বিক্ষোভের সময়টি ফ্রান্সের রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছর প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালির নেতা মারিন লে পেন এবং বামপন্থী দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা উঠে এসেছে। মেলঁশোঁ নিজেও বিক্ষোভে অংশ নেন। পরে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তোলেন। তবে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের নিন্দাও জানান। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু তাঁর বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক ও কৌশলী’ বলে সমালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশকে অত্যন্ত তীব্র সহিংসতার মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু গোষ্ঠী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বিক্ষোভকে প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সহিংসতার মাধ্যমে কেউ নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডা চাপিয়ে দিতে পারবে না। অন্যদিকে, মারিন লে পেনের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ন্যায্য দাবিগুলোকে কট্টর বামপন্থীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে এবং মেলঁশোঁ সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট মাখোঁও সতর্ক করে বলেছেন, সরকারি প্রশাসনিক কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নগর ভবনে হামলা এবং লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। শিক্ষা খাতের সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ফ্রান্সের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও রাজপথের ক্ষোভ কমেনি। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।