বিশ্বমঞ্চে উদীয়মান কক্সবাজার: সম্ভাবনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটন বিকাশে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ
ছিদ্দিকুর রহমান
বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজার ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে নিজের অবস্থান শক্ত করছে। নীল সমুদ্র, সবুজ পাহাড়, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী ভ্রমণ ব্যয়ের কারণে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে বাংলাদেশের এই পর্যটন নগরীকে ঘিরে। তবে কক্সবাজারের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়লেও সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ এখনও বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে।
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও নীতিগত সীমাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, আন্তর্জাতিক প্রচারণার ঘাটতি এবং পর্যটকবান্ধব সেবার অভাব বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে।
কক্সবাজার কেন বিদেশিদের কাছে আকর্ষণীয়
পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজারের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে এর ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ অবিচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত। বিশ্বের অন্যান্য জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতগুলোর তুলনায় এর বিস্তৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একে অনন্য করেছে।
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ বর্তমানে বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। একদিকে উত্তাল বঙ্গোপসাগর, অন্যদিকে পাহাড়ি বনাঞ্চল—এই সড়ককে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মনোরম উপকূলীয় পথ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এছাড়া সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, ছেঁড়াদ্বীপ, ইনানী সৈকত, হিমছড়ি, মহেশখালী এবং টেকনাফের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ সৃষ্টি করছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ, আধুনিক রেল যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক মানের হোটেল প্রতিষ্ঠার ফলে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যটন বিকাশে বাংলাদেশের প্রধান বাধা
ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা
বিদেশি পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশে প্রবেশের প্রথম বাধা হচ্ছে ভিসা ব্যবস্থা। অনেক দেশের নাগরিককে আগাম ভিসা সংগ্রহ করতে হয় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়।
পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা মনে করেন, পূর্ণাঙ্গ ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু এবং ভিসা অন অ্যারাইভালের সুযোগ সম্প্রসারণ করলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রচারণার ঘাটতি
বাংলাদেশের পর্যটন সম্পদ নিয়ে বিশ্বব্যাপী কার্যকর প্রচারণা প্রায় নেই বললেই চলে। মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড কিংবা ভারতের মতো দেশগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করলেও বাংলাদেশের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত।
ফলে বিশ্বের অনেক পর্যটক এখনও বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না।
ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা
আন্তর্জাতিক পর্যটকদের বড় একটি অংশ নগদ অর্থ বহনের পরিবর্তে কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহার করতে অভ্যস্ত। কিন্তু দেশের অধিকাংশ পর্যটন এলাকায় আন্তর্জাতিক কার্ড গ্রহণের সুবিধা এখনও সীমিত।
হোটেল ছাড়া অনেক রেস্টুরেন্ট, পরিবহন সেবা ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক লেনদেনের সুযোগ না থাকায় বিদেশি পর্যটকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
পেশাদার গাইড ও সেবার অভাব
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের বহুভাষিক ট্যুর গাইডের সংখ্যা এখনও অপ্রতুল। ইংরেজির পাশাপাশি ফরাসি, জাপানি, চীনা বা স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষ গাইডের অভাব বিদেশি পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকে সীমিত করে।
এছাড়া পর্যটনসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, মূল্য নিয়ে বিভ্রান্তি এবং অপ্রফেশনাল আচরণের অভিযোগও রয়েছে।
যাতায়াত ও ট্রাফিক সমস্যা
বিদেশি পর্যটকদের একটি বড় অংশ ঢাকা হয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ভ্রমণ করেন। রাজধানীর দীর্ঘ যানজট, বিমানবন্দরের চাপ এবং কিছু ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা তাদের জন্য নেতিবাচক অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জ
বিদেশি পর্যটক, বিশেষ করে নারী পর্যটকদের ক্ষেত্রে অনেক সময় অতিরিক্ত কৌতূহলী দৃষ্টি, অনাকাঙ্ক্ষিত ছবি তোলা কিংবা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাবের অভিযোগ পাওয়া যায়।
পর্যটন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্থানীয় জনগণের মধ্যে পর্যটন সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পর্যটকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নৈশকালীন বিনোদনের সীমাবদ্ধতা
বিশ্বের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোতে সন্ধ্যার পরও পর্যটকদের জন্য নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে এ ধরনের সুযোগ সীমিত।
ফলে দীর্ঘ সময় অবস্থানকারী আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদন নিশ্চিত করা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত
পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যটনের নতুন গন্তব্য হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রাখে।
এ জন্য প্রয়োজন,
-
সহজ ও দ্রুত ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু করা।
-
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং ও প্রচারণা বৃদ্ধি।
-
পর্যটন এলাকাগুলোতে আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট নিশ্চিত করা।
-
বহুভাষিক প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইড তৈরি করা।
-
পর্যটক নিরাপত্তা ও সেবার মান উন্নয়ন।
-
বিশেষ পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলা।
-
পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামোর আরও উন্নয়ন।
বিশ্ব পর্যটন শিল্পে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্র, পাহাড়, বনভূমি, সংস্কৃতি এবং আতিথেয়তার সমন্বয়ে বাংলাদেশ একটি ব্যতিক্রমী পর্যটন গন্তব্য হওয়ার সব উপাদান ধারণ করে। কক্সবাজার ইতোমধ্যে সেই সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
তবে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়ে নয়, বরং আধুনিক নীতি, আন্তর্জাতিক মানের সেবা, সহজ ভিসা ব্যবস্থা এবং কার্যকর বৈশ্বিক প্রচারণার মাধ্যমেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যটনের বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
বিশেষ প্রতিবেদন
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বাড়িভাড়া, বাজার খরচ, যাতায়াত, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা এবং সন্তানদের প্রয়োজনীয় ব্যয় প্রতিনিয়ত পরিবারের বাজেটে চাপ তৈরি করছে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৪০টিতে চার সদস্যের একটি পরিবারের স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য বছরে কমপক্ষে ২ লাখ ডলার আয় প্রয়োজন। স্মার্টঅ্যাসেটের গবেষণায় ম্যাসাচুসেটসকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে দুই কর্মজীবী অভিভাবক ও দুই সন্তান নিয়ে একটি পরিবারের বার্ষিক আয় প্রয়োজন ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৫ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হাওয়াই, যেখানে প্রয়োজন ৩ লাখ ১৩ হাজার ১৬৫ ডলার। তৃতীয় অবস্থানে ক্যালিফোর্নিয়া, যেখানে প্রয়োজন ৩ লাখ ২ হাজার ৬৮২ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির তথ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা অনুযায়ী, নিউ জার্সিতে চার সদস্যের পরিবারের স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য বছরে ২ লাখ ৯৫ হাজার ১১০ ডলার প্রয়োজন। নিউইয়র্কে প্রয়োজন ২ লাখ ৯১ হাজার ৫৩৩ ডলার।এ ছাড়া কানেকটিকাটে ২ লাখ ৯৮ হাজার ১৮৯ ডলার, কলোরাডোতে ২ লাখ ৮৩ হাজার ২১৩ ডলার এবং ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ২ লাখ ৮১ হাজার ৭৯৮ ডলার প্রয়োজন।অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য উচ্চ আয়ের প্রয়োজনীয়তা বেশি। বাংলাদেশি অভিবাসীদের বসবাসের জনপ্রিয় গন্তব্য ফ্লোরিডায় চার সদস্যের পরিবারের জন্য বছরে প্রয়োজন ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৯২ ডলার। অন্যদিকে টেক্সাসে প্রয়োজন ২ লাখ ৩ হাজার ৪২৪ ডলার।জর্জিয়ায় প্রয়োজন ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৭৩ ডলার। পেনসিলভানিয়ায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৩৬ ডলার এবং ভার্জিনিয়ায় ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৪৪ ডলার।এই হিসাব থেকে বোঝা যায়, শুধু অঙ্গরাজ্য নয়, পরিবারের আকার ও বসবাসের এলাকার ব্যয়ও আর্থিক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় সবচেয়ে কম আয় প্রয়োজন এমন অঙ্গরাজ্য হিসেবে উঠে এসেছে মিসিসিপির নাম। সেখানে বছরে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৩ ডলার আয়কে চার সদস্যের পরিবারের স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের মানদণ্ড ধরা হয়েছে।এরপর রয়েছে কেনটাকি, যেখানে প্রয়োজন ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৪ ডলার। আরকানসাসে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩৭ ডলার, টেনেসিতে ১ লাখ ৯৭ হাজার ২৬৭ ডলার, লুইজিয়ানায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯৩৩ ডলার এবং আলাবামায় ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৩১ ডলার।
এক রাতের আগুনে শেষ পুরো পরিবার, ব্রঙ্কসে প্রাণ গেল ১১ বছরের শিশুসহ চারজনের
ক্যানসার আক্রান্ত নারীকে হাসাতে সারা বছর বাড়িতে কঙ্কাল সাজিয়ে রাখলেন প্রতিবেশী
১ নভেম্বর থেকে স্বাস্থ্যবিমায় নতুন সুযোগ, ২০২৭ সালের চিকিৎসা খরচ কমাতে যা করবেন
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে নির্দিষ্ট শ্রেণির আটক অভিবাসীদের বন্ড শুনানি ছাড়াই আটক রাখার পক্ষে রায় দিয়েছেন দেশটির পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালত। গত ২৩ অক্টোবর ১০-৭ ভোটে দেওয়া এ রায়ে আদালত বলেছেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক এসব অভিবাসীর মুক্তির জন্য বন্ড শুনানি পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার নেই। এর ফলে ওই তিন অঙ্গরাজ্যে আটক অভিবাসীদের জামিনের মাধ্যমে মুক্তি চাওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে। আদালতের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের এ সিদ্ধান্তে এর আগে একই আদালতের তিন বিচারকের একটি প্যানেলের দেওয়া রায় বাতিল করা হয়েছে। জুলাই মাসে ওই প্যানেল বলেছিলেন, অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই কোনো অভিবাসীকে ৯০ দিনের বেশি আটক রাখলে তাঁর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনায় বন্ড শুনানির সুযোগ দিতে হবে। নতুন রায়ে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সেই সিদ্ধান্ত উল্টে দিয়েছেন। মামলাটির কেন্দ্রে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী তিন অভিবাসী। তাঁদের ট্রাফিক স্টপের পর আইসিই আটক করে এবং বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলাকালে হেফাজতে রাখে। তাঁরা আদালতে যুক্তি দেন, ব্যক্তিগত ঝুঁকি যাচাইয়ের শুনানি ছাড়া তাঁদের আটক রাখা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার নিশ্চয়তার পরিপন্থী। নিম্ন আদালত তাঁদের পক্ষে রায় দিয়ে বন্ড শুনানির নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু আপিল আদালতের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সেই আদেশ বাতিল করেছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের যুক্তি, যেসব অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি পাননি এবং বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অভিবাসন আইনে বন্ড শুনানির নিশ্চয়তা নেই। আদালতের মতে, এ ধরনের আটককে চ্যালেঞ্জ করার জন্য ব্যক্তির বিপজ্জনক হওয়ার আশঙ্কা বা পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি যাচাই করে আলাদা শুনানি দেওয়া সংবিধানের বাধ্যবাধকতা নয়। তবে ভিন্ন পরিস্থিতিতে আটক রাখার বৈধতা নিয়ে পৃথক আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের সাতজন বিচারক এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও সংবিধানের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুরক্ষা প্রযোজ্য। বন্ড শুনানির সুযোগ না থাকলে সরকার দীর্ঘ সময় কাউকে আটক রাখার ক্ষমতা পেতে পারে, যা ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও অভিবাসীদের বন্ড শুনানি পাওয়ার অধিকার নিয়ে পৃথক একটি আইনি প্রশ্ন বিবেচনায় নিতে সম্মত হয়েছে। তবে সেই মামলাটি মূলত অভিবাসন আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে; পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালতের বর্তমান রায়ে নিষ্পত্তি করা সাংবিধানিক প্রশ্নটি সেখানে সরাসরি বিবেচ্য নয়। পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালতের এখতিয়ার টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপি অঙ্গরাজ্য পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। তাই এই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যে আটক অভিবাসীদের জন্য একই নিয়ম চালু হওয়া হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তবে এই তিন অঙ্গরাজ্যে আটক অভিবাসীদের জন্য সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলাকালে বন্ড শুনানির মাধ্যমে মুক্তি চাওয়ার সাংবিধানিক ভিত্তি হারাতে পারেন।
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে বিক্ষোভ, পাঁচ বছরের শিশুর সামনে গুলির ঘটনায় ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পাউরুটি ফেরত নেওয়া হচ্ছে, দুধের উপাদান নিয়ে সতর্কতা
২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতে ৫০৬ কোটি টাকার বিল, গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর
জাপানের পারিবারিক সংস্কৃতিতে এমন একটি প্রথা রয়েছে, যা অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশ ব্যতিক্রমী। পরিবারে উপযুক্ত পুরুষ উত্তরাধিকারী না থাকলে কোনো কোনো পরিবার একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে দত্তক নিয়ে পরিবারের পদবি, সম্পদ ও ব্যবসার উত্তরাধিকার কাঠামোর অংশ করে। মেয়ের স্বামীকে এভাবে দত্তক নেওয়ার ঐতিহ্যকে জাপানি সংস্কৃতিতে ‘মুকোয়োশি’ (Mukoyoshi) বলা হয়। জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক নেওয়া আইনত সম্ভব। দেশটির দেওয়ানি আইনে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে দত্তক নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এবং নাবালক দত্তকের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্ক দত্তকের ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতের অনুমতির প্রয়োজনীয়তাও আলাদা। ছেলে না থাকলে জামাইই হতে পারেন উত্তরসূরি ঐতিহাসিকভাবে জাপানের ‘ইয়ে’ বা পারিবারিক কাঠামোয় পরিবারের নাম ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কোনো পরিবারে ছেলে সন্তান না থাকলে মেয়ের স্বামীকে পরিবারে দত্তক নেওয়া হতো। এর মাধ্যমে তিনি শুধু জামাই থাকতেন না, আইনগতভাবে পরিবারের সন্তান ও সম্ভাব্য উত্তরসূরিতে পরিণত হতেন। বিশেষ করে পারিবারিক ব্যবসার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জাপানের কিছু পারিবারিক কোম্পানি রক্তের সম্পর্কের উত্তরাধিকারীর পরিবর্তে প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক সন্তানকে ব্যবসার পরবর্তী নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বেছে নিয়েছে। দত্তক নেওয়ার পর কী পরিবর্তন হয়? জাপানের সাধারণ দত্তক ব্যবস্থায় দত্তক সন্তান আইনগতভাবে দত্তক পরিবারের সন্তানের মর্যাদা পান। ফলে পরিবারটির উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় তার অধিকার তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দত্তক গ্রহণের মাধ্যমে পারিবারিক পদবিও পরিবর্তিত হতে পারে। জাপানের দেওয়ানি আইনের অনুবাদে দত্তক সম্পর্ক ও পদবি পরিবর্তনের বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। তবে দত্তক নেওয়া মানেই পরিবারের সব সম্পত্তি সঙ্গে সঙ্গে নতুন সদস্যের নামে চলে যায়—এমন নয়। উত্তরাধিকার, উইল, কোম্পানির শেয়ার ও ব্যবসা পরিচালনার অধিকার আলাদা আইনি বিষয়। জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক এত বেশি কেন? এই ব্যবস্থার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, জাপানে দত্তকের একটি বড় অংশ ঐতিহাসিকভাবে শিশু নয়, বরং প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে।যুক্তরাষ্ট্রের Library of Congress-এর একটি গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮২ সালের তথ্য অনুযায়ী দত্তক নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৭০ শতাংশ ছিলেন ২০ ও ৩০-এর কোঠার পুরুষ। গবেষকদের ধারণা ছিল, তাদের অনেককে পরিবার ও পারিবারিক ব্যবসার উত্তরসূরি করার উদ্দেশ্যে দত্তক নেওয়া হয়েছিল। আর ২০০২ সালের একটি Japan Times প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তখন জাপানের আইনগত দত্তকের ৯০ শতাংশের বেশি ছিল প্রাপ্তবয়স্কদের দত্তক এবং এর বড় অংশের উদ্দেশ্য ছিল উত্তরাধিকার ও পারিবারিক ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। তবে এই ৯০ শতাংশের তথ্যটি পুরোনো। তাই এটিকে বর্তমান ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। বাংলাদেশিরাও কি সুযোগ পাবেন? বিদেশি নাগরিককে জাপানি পরিবার দত্তক নিতে পারে কি না, সেটি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি, পারিবারিক সম্পর্ক এবং প্রযোজ্য জাপানি ও বিদেশি আইনের ওপর। জাপানের আইনে বিদেশি নাগরিকের দত্তক সম্পর্কিত বিষয় রয়েছে, তবে ‘বাংলাদেশি জামাই আবেদন করলেই জাপানি পরিবার তাকে দত্তক নেবে’—এমন কোনো সাধারণ সরকারি স্কিম নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দত্তক নেওয়া এবং জাপানে বসবাসের অনুমতি এক জিনিস নয়। জাপানের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ‘Spouse or Child of Japanese National’ ধরনের রেসিডেন্স স্ট্যাটাস মূলত জাপানি নাগরিকের স্বামী/স্ত্রী, জৈবিক সন্তান বা বিশেষ দত্তক সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্যদিকে জাপানি নাগরিকত্বও শুধু দত্তক হওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। জাপানের জাতীয়তা আইনে নাগরিকত্বের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে এবং সাধারণভাবে বিদেশির naturalization বা নাগরিকত্ব গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। জাপানের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাধারণ naturalization-এর ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে অন্তত পাঁচ বছর জাপানে বৈধভাবে বসবাসসহ বিভিন্ন শর্ত রয়েছে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার অভিনব মডেল জাপানের এই প্রথার মূল আকর্ষণ এখানেই। একটি পরিবারে ছেলে সন্তান নেই, কিন্তু কয়েক প্রজন্ম ধরে চলে আসা ব্যবসা ও পারিবারিক নাম ধরে রাখতে হবে—এমন পরিস্থিতিতে মেয়ের স্বামীকে পরিবারের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।ফলে তিনি একই সঙ্গে জামাই এবং আইনগতভাবে পরিবারের সন্তান হয়ে উঠতে পারেন। যোগ্যতা ও পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক উত্তরসূরিও করা সম্ভব। বিশ্বজুড়ে জাপানের পারিবারিক ব্যবসা নিয়ে আলোচনায় এই ‘মুকোয়োশি’ ব্যবস্থা বিশেষভাবে পরিচিত। তবে এটিকে শুধু ধনী পরিবারের রীতি হিসেবে দেখা ঠিক নয়; এটি জাপানের বৃহত্তর পারিবারিক ও উত্তরাধিকার সংস্কৃতির একটি ঐতিহাসিক অংশ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশি কোনো ব্যক্তি এমন ব্যবস্থার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে চাইলে তাকে জাপানের পরিবার আইন, পারিবারিক রেজিস্ট্রি, উত্তরাধিকার আইন এবং ইমিগ্রেশন নিয়ম—সবগুলো আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। দত্তক হওয়া নিজে থেকে স্থায়ী বসবাস বা জাপানি নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা দেয় না।
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না’, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানালেন তানজিন তিশা
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প