যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের চিকিৎসা ও খাবারের টাকা চুরি করে বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনডুকা লুইস একপেনিয়ং নামের ৩৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি 'মেডিকেইড' প্রোগ্রামের আওতায় শিশুদের জন্য বরাদ্দ করা দামি স্পেশাল ফর্মুলা না দিয়ে সস্তা মানের পিডিয়াশিওর (PediaSure) সরবরাহ করতেন। এরপর সরকারের কাছে দামি ফর্মুলার বিল জমা দিয়ে মাঝখানের বিপুল পরিমাণ পার্থক্য নিজের পকেটে পুরতেন। এভাবেই তিনি সরকারের প্রায় ২.৬ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেমস।
আদালতে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, লুইস ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ব্রুকলিনভিত্তিক তার কোম্পানি 'ডিউক মেডিকেল এলএলসি'-এর মাধ্যমে এই জালিয়াতি চালিয়ে যান। চিকিৎসকরা যখন অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য বিশেষ ও দামি ফর্মুলার নির্দেশ দিতেন, তখন লুইসের কোম্পানি সেই শিশুদের হাতে সস্তা মানের ওভার-দ্য-কাউন্টার পণ্য ধরিয়ে দিত। এমনকি অনেক সময় তারা শিশুদের কোনো খাবারই সরবরাহ করত না। অথচ কাগজে-কলমে সরকারের কাছে চড়া মূল্যের বিল ঠিকই আদায় করে নেওয়া হতো। এর ফলে বহু দরিদ্র পরিবারের শিশু তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
অমানবিক এই প্রতারণার টাকায় লুইস গড়ে তুলেছিলেন এক রাজকীয় জীবন। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি নিউইয়র্কের অভিজাত হিউলেট এলাকায় ১.৬ মিলিয়ন ডলারের একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ কেনেন। এছাড়া ৭০ হাজার ডলারের একটি কালো বেন্টলি, ৬৭ হাজার ডলারের রেঞ্জ রোভারসহ আরও নানা শৌখিন জিনিস কেনেন তিনি। এমনকি বাড়ির সামনে মার্বেল পাথরের ফোয়ারা, আউটডোর কিচেন এবং নিজের নামের আদ্যক্ষর লেখা একটি বিশাল লাল রঙের বাস্কেটবল কোর্টও তৈরি করেছিলেন। শুধু তাই নয়, নিজের প্রেমিকার জন্য ৩৩ হাজার ডলারের একটি মার্সিডিজ গাড়িও কেনেন তিনি, অথচ সেই প্রেমিকা নিজেও সরকারি মেডিকেইড সুবিধার তালিকাভুক্ত ছিলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেমস এক বিবৃতিতে এই জালিয়াতিকে 'হৃদয়হীন প্রতারণা' বলে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, তার অফিস এই ঘৃণ্য চক্রটি চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে। যখন লুইস প্রতারণার টাকায় বিলাসবহুল গাড়ি কিনছিলেন, তখন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে সংগ্রাম করছিল। লুইসের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড লারসিনি (বড় অঙ্কের চুরি) এবং স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি চুরি হওয়া ২.৬ মিলিয়ন ডলারসহ মোট প্রায় ৭.৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে তার বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলাও দায়ের করেছে প্রসিকিউটররা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক চরম অমানবিক ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মায়েরা যখন নিজেদের সন্তানদের একটি তালাবদ্ধ নোংরা ফ্ল্যাটে ফেলে রেখে হোটেলে মদ ও মাদকের পার্টিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই অন্য দুই শিশুর নির্মম মারধরে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েছে দুই মাস বয়সী এক নিষ্পাপ শিশু। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মেডিক্যালি ইনডিউসড কোমা এবং ভেন্টিলেশনে রেখেছেন। স্মিথ কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, ২১ বছর বয়সী সিডনি হুইট এবং ২৯ বছর বয়সী জ্যাকুলিন মোরালেস তাদের সন্তানদের ইঁদুরের মল ও মাছিতে ভরা একটি অস্বাস্থ্যকর অ্যাপার্টমেন্টে ফেলে রেখে এক ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলে সময় কাটাতে গিয়েছিলেন। ফ্ল্যাটে দুই মাসের ওই শিশুটির সঙ্গে ছিল চার ও ছয় বছর বয়সী আরও দুই শিশু। মায়েরা না থাকার সুযোগে ওই বড় দুই শিশু মিলে অবুঝ শিশুটির ওপর ভয়ংকর নির্যাতন চালায়। তারা শিশুটিকে ছুড়ে মারে এবং তার মাথায় পা দিয়ে আঘাত করে, যার ফলে শিশুটির মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় এবং খিঁচুনি শুরু হয়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার সময় শিশুদের পাহারায় ছিলেন জ্যাকুলিনের ১৮ বছর বয়সী বোন শেলবি মুনোজ। তিনি তদন্তকারীদের জানান, চোখের সামনে এমন নির্যাতন হতে দেখলেও তিনি বাধা দেননি, কারণ তিনি মনে করেছিলেন ওই শিশুদের নিরাপত্তার দায়িত্ব তার নয় যেহেতু তারা তার নিজের সন্তান নয়। মায়েরা যখন ফ্ল্যাটে ফিরে আসেন, তখন তারা শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা পরের দিন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হননি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে দ্রুত তাকে লাইফ সাপোর্টে নেন। চাইল্ড প্রোটেকটিভ সার্ভিসেস (সিপিএস) পরবর্তীতে ওই বাড়িতে তদন্তে গেলে এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পায়। টেক্সাসের প্রচণ্ড গরমের মাঝেও ফ্ল্যাটে কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) ছিল না, ঘরভর্তি মাছি উড়ছিল এবং মেঝেতে ইঁদুরের মল, নোংরা ডায়াপার ও কাপড়চোপড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এই চরম অবহেলার দায়ে সিডনি, জ্যাকুলিন এবং শেলবি—এই তিনজনের বিরুদ্ধেই শিশুকে বিপন্ন করা এবং আঘাত করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তারা পাঁচ লাখ ডলারের সম্মিলিত জামিন বন্ডে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে কুইন্সের একটি পাবলিক স্কুলের চিমনি থেকে এক ব্যক্তির পচা-গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে স্কুল ভবনে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে তা তদন্ত করতে গিয়ে এক পেস্ট কন্ট্রোল (পোকামাকড় দমন) কর্মী এই মৃতদেহটির সন্ধান পান। স্থানীয় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র চাঞ্চল্যকর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রমতে, গ্লেনডেল এলাকার ৮৭ স্ট্রিট ও ৭৮ অ্যাভিনিউতে অবস্থিত পি.এস./আই.এস. ১১৩ অ্যান্থনি জে. প্রাঞ্জো নামের ওই স্কুলে মঙ্গলবার সকাল ৯টার কিছু আগে এই ভয়ংকর ঘটনাটি ঘটে। স্কুলের একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে ওই পেস্ট কন্ট্রোল কর্মীকে ডেকেছিলেন। চিমনির ছাই ফেলার জায়গাটি খুলতেই ওই কর্মী প্রথমে একটি জুতো দেখতে পান। এরপর সেখানে হাত দিতেই তিনি মানুষের পায়ের স্পর্শ পান এবং নিশ্চিত হন যে ভেতরে একটি লাশ আটকে আছে। খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) ইমার্জেন্সি সার্ভিস ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি চিমনি থেকে বের করার কাজ শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটি ঠিক কতদিন ধরে ওই চিমনির ভেতর আটকে ছিল তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করতে শহরের মেডিকেল এক্সামিনার কার্যালয়ে ময়নাতদন্ত করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ওই স্কুলে বেশ কিছু নির্মাণ ও মেরামতের কাজ চলছিল। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত কোনো শ্রমিক বা ব্যক্তি সম্প্রতি নিখোঁজ হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলার কারণে ঘটনার সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছাড়া স্কুলে কোনো শিক্ষার্থী বা অন্য কোনো কর্মী উপস্থিত ছিলেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অর্থাভাবে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেল ১৩৮ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ক্যাথলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 'সেন্ট ব্রিজিড একাডেমি'। সান ফ্রান্সিসকো আর্চডায়োসিস তাদের যাজকদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার শত শত ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। ইতিহাসে অন্যতম বড় এই ক্ষতিপূরণ চুক্তির মাত্র কয়েক দিনের মাথায় স্কুলটি স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা এলো। ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলটি সম্প্রতি কে-৮ (কিন্ডারগার্টেন থেকে অষ্টম গ্রেড) মাইক্রোস্কুলে রূপান্তরিত হয়েছিল। নিউরোডাইভারজেন্ট এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত এই স্কুলটিতে প্রতি চারজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক বরাদ্দ ছিল। বার্ষিক ২০,৯৫০ ডলার বেতনের এই স্কুলটি বন্ধের খবরে হতবাক হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রীষ্মের শেষদিকে তাদের জমার টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তবে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে সন্তানদের জন্য সমমানের বিশেষায়িত স্কুল খুঁজে পাওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। আর্চডায়োসিসের ক্যাথলিক স্কুলগুলোর সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস ফিশার এক চিঠিতে অভিভাবকদের জানান, স্কুলের আর্থিক দিকগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার পর এবং সব ধরনের বিকল্প শেষ হয়ে যাওয়ায় স্কুলটি আর পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুল বন্ধের এই ঘোষণার ঠিক আগেই আর্চডায়োসিস প্রায় ৩৯৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল ক্ষতিপূরণ চুক্তির কথা জানায়। এর মাধ্যমে যাজকদের হাতে শৈশবে যৌন হেনস্থার শিকার হওয়া প্রায় ৫৩০ জন ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ক্যালিফোর্নিয়ার 'চাইল্ড ভিকটিমস অ্যাক্ট'-এর কারণে বহু দশকের পুরনো যৌন নিপীড়নের মামলা পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ তৈরি হয়। এর ফলে ২০২৩ সালের আগস্টে চ্যাপ্টার ১১-এর অধীনে দেউলিয়া সুরক্ষার আবেদন করেছিল আর্চডায়োসিস। বাদীপক্ষের আইনজীবীদের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ায় সান ফ্রান্সিসকো আর্চডায়োসিসই একমাত্র ক্যাথলিক ডায়োসিস ছিল, যারা ২০২৩ সাল পর্যন্ত অভিযুক্ত যাজকদের তালিকা প্রকাশ করেনি। তবে নতুন এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো আপস-রফার ক্ষেত্রে গোপনীয়তার চুক্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত যাজকদের বিষয়ে বৃহত্তর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যৌন নিপীড়নের মামলার আর্থিক চাপের কারণে ক্যাথলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন পরিণতি এটাই প্রথম নয়। সেন্ট ব্রিজিড একাডেমি বন্ধ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই ওকল্যান্ডের রোমান ক্যাথলিক ডায়োসিসও তাদের নিজস্ব যাজকদের বিরুদ্ধে ওঠা শত শত শিশু যৌন নিপীড়নের মামলার কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে ১৩টি ইস্ট বে প্যারিশ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল।