আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিজ মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগ করে হত্যা করল আপন নানি

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ২০:৮
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আপস্টেট এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একই পরিবারের ছয় সদস্যের মৃতদেহ। পুলিশের ধারণা, নানি অ্যামি স্টেডম্যান নিজেই তার মেয়ে এবং চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগ ও ছুরিকাঘাতে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পেছনে শিশুদের বাবার কাছে তাদের হেফাজত বা কাস্টডি চলে যাওয়ার ক্ষোভ কাজ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

 

মেকানিকভিলের পুলিশ প্রধান বিল র‍্যাবিট জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি হাতে লেখা সুইসাইড নোট এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক প্রমাণ এই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে নানির সরাসরি সম্পৃক্ততার দিকেই শক্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

নিহতরা হলেন ৪৪ বছর বয়সী সারাহ মায়ার্স এবং তার চার সন্তান—১৩ বছরের হার্পার হারমন, ১১ বছরের হাডসন হারমন এবং ১০ বছর বয়সী যমজ গ্যাভিন ও গ্রেসলিন। চ্যানেল ১৩-এর সূত্রমতে, নানির বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া সিরিঞ্জ এবং বিপুল পরিমাণ প্রেসক্রিপশন ও সাধারণ ওষুধের উপস্থিতিতে বোঝা যায় যে শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে এর মধ্যে একজনকে ছুরিকাঘাতও করা হয়েছে। প্রতিবেশীরা বেশ কয়েকদিন ধরে তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশে খবর দিলে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পচন ধরা লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।

 

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশুদের বাবা ব্র্যাডি হারমন সম্প্রতি আদালতের মাধ্যমে দুই মাসের জন্য সন্তানদের নিজ হেফাজতে নেয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন, যা আগামী বুধবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। ২০১৯ সালের পর থেকে সন্তানদের কাছে না পাওয়া এই বাবা উটাহ অঙ্গরাজ্যে তার বাড়িতে তাদের স্বাগত জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

 

ঠিক এমন সময় পুলিশের কাছ থেকে এই ভয়াবহ খবর পেয়ে তিনি মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েন। সংবাদমাধ্যম টাইমস ইউনিয়নকে কাঁদতে কাঁদতে তিনি জানান, সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আনন্দ মুহূর্তেই তাদের চিরতরে হারানোর শোকে পরিণত হয়েছে। তিনি সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে সন্তানদের তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার অভিযোগ আনেন এবং মৃতদেহগুলো উটাহতে সমাহিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

 

মেকানিকভিলের পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত এখনও চলছে এবং পুরো বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে। তবে পুলিশ নিশ্চিত যে এই হত্যাকাণ্ড অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরেই সংঘটিত হয়েছে এবং বাইরের কোনো ব্যক্তির এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। সম্পূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন, টক্সিকোলজি রিপোর্ট এবং মেডিকেল পর্যালোচনা শেষে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত কারণ ও দায়বদ্ধতা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আলাস্কা উপকূলে ভাসমান একটি নৌযানকে সাহায্য না করার অভিযোগ উঠেছে মার্ক জাকারবার্গের বিলাসবহুল ইয়ট 'লঞ্চপ্যাড'-এর বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত
সাগরে বিপদে নারী ও শিশু, কাছে থেকেও সাহায্যে এগিয়ে আসেনি জাকারবার্গের প্রমোদতরি!

মেটা (Meta) প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও মার্ক জাকারবার্গের একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরি বা ইয়টের বিরুদ্ধে সাগরে ভাসমান একটি নৌযানকে সাহায্য না করার অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা উপকূলে জ্বালানি ফুরিয়ে বিপদে পড়া ওই নৌযানটিকে সাহায্য করার জন্য কোস্ট গার্ডের অনুরোধ সত্ত্বেও জাকারবার্গের ইয়টটি কোনো সাড়া দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি ক্রুজ জাহাজের এক যাত্রী। শেষ পর্যন্ত ছোট আকারের ওই ক্রুজ জাহাজটিই তাদের উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে জাকারবার্গের প্রমোদতরিটির ক্রুরা।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'ফেয়ারব্যাংকস ডেইলি নিউজ-মাইনার'-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলাস্কার রাজধানী জুনো এবং পিটার্সবার্গ শহরের মধ্যবর্তী সাগরে ২১ ফুট দীর্ঘ একটি নৌযানের জ্বালানি ফুরিয়ে যায়। মাঝসাগরে অসহায় অবস্থায় ভাসতে থাকা নৌযানটিকে পরে 'ওয়াইল্ডারনেস লিগ্যাসি' নামের একটি ছোট ক্রুজ জাহাজ টেনে নিরাপদে ফাররাগুট বে-তে নিয়ে যায়।   ওয়াইল্ডারনেস লিগ্যাসি ক্রুজ জাহাজের মাইকেল লাভ নামের এক যাত্রী গত ৫ আগস্ট সামাজিক মাধ্যম ব্লুস্কাই-তে (Bluesky) দেওয়া এক পোস্টে এই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি জানান, বিপদে পড়া ওই ছোট নৌযানটিতে দুজন নারী, একটি শিশু এবং একটি কুকুর ছিল। মাইকেল লাভ ক্রুজ জাহাজের ক্যাপ্টেনের বরাত দিয়ে বলেন, "আমি আমার ছেলের সঙ্গে আলাস্কায় একটি ছোট ক্রুজ জাহাজে ভ্রমণ করছি। গত রাতে আমাদের জাহাজটি একটি আটকা পড়া নৌযানকে উদ্ধার করেছে। মজার ব্যাপার হলো, আমরা তাদের উদ্ধার করার আগে কোস্ট গার্ড মার্ক জাকারবার্গের ইয়টটিকে রেডিওর মাধ্যমে সাহায্য করার জন্য বলেছিল, কারণ সেটি নৌযানটির অনেক কাছাকাছি ছিল। কিন্তু তারা বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কোনো সাড়া দেয়নি।"   মাইকেল লাভ আরও জানান, ক্যাপ্টেন যখন যাত্রীদের এই কথা জানান, তখন সেখানে উপস্থিত সবাই জাকারবার্গের ইয়টের এমন অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে দুয়োধ্বনি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   কোস্ট গার্ড এবং মেরিন এক্সচেঞ্জ অব আলাস্কা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, জাকারবার্গের 'লঞ্চপ্যাড' নামের ইয়টটি বিপদে পড়া নৌযানটির সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানেই ছিল। তবে নৌযানটি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো 'ডিসট্রেস কল' বা চরম বিপদের সংকেত দেওয়া হয়নি। কোস্ট গার্ডের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স স্পেশালিস্ট শ্যানন শেপার্ড সংবাদমাধ্যম 'দ্য বেকন'-কে জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার পরপরই তারা ওই নৌযানটি থেকে সাহায্যের জন্য একটি কল পান।   শেপার্ড বলেন, "রাত ৯টা ৫৬ মিনিটে কোস্ট গার্ড পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বুঝতে পারে যে তারা চরম কোনো বিপদে নেই বা জীবনহানির ঝুঁকি নেই। তাই তাদের পক্ষ থেকে একটি 'মেরিন অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট' বা সমুদ্রে সাধারণ সাহায্যের অনুরোধ প্রচার করা হয়, যাতে আশপাশের কোনো নৌযান তাদের সাহায্য করতে পারে।"   এ ঘটনার পর মার্ক জাকারবার্গের একজন মুখপাত্র 'দ্য বেকন'-কে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় মেটা প্রতিষ্ঠাতা বা তার পরিবারের কেউ ওই ইয়টে উপস্থিত ছিলেন না।   মুখপাত্র বলেন, "কোস্ট গার্ড যেমনটি উল্লেখ করেছে, নৌযানটি চরম কোনো বিপদের মধ্যে ছিল না। তাছাড়া আমাদের ইয়টের ক্রুরা যে রেডিও চ্যানেলে কাজ করছিলেন, কোস্ট গার্ডের বার্তাটি অন্য একটি চ্যানেলে এসেছিল। ফলে বার্তাটি পেতে তাদের দেরি হয়। যখন তারা বার্তাটি খেয়াল করে কোস্ট গার্ডের সাথে যোগাযোগ করেন, ততক্ষণে অন্য একটি জাহাজ উদ্ধারের কাজ শুরু করে দিয়েছিল।" পরিশেষে তিনি বলেন, "সবাই যে নিরাপদে আছেন, সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।"

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ২১:১৮
ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিলের তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশির ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, আরও কঠোর হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা নীতি

নতুন অভিবাসী ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সরাসরি চাকরি খোঁজা ও আবেদন প্রস্তুতির সুযোগ রয়েছে নিউইয়র্কে। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইনে চাকরি খুঁজতে সমস্যা? নিউইয়র্কে যেভাবে সরাসরি গিয়ে বিনামূল্যে চাকরির আবেদন করতে পারবেন

মাত্র ৮৭ হাজার ডলারে বাড়ি, তবু জনশূন্য হয়ে পড়ছে নিউইয়র্কের ইউটিকা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের যে শহরে মাত্র ৮৭ হাজার ডলারে মিলছে বাড়ি, তবু কেন মানুষ ছেড়ে যাচ্ছে শহরটি?

ক্যালিফোর্নিয়ায় জ্বালানি ট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ হাইওয়ে। ছবি:সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় জ্বালানি ট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ হাইওয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সেলমা শহরের কাছে হাইওয়ে ৯৯-এ জ্বালানি বহনকারী একটি ট্যাংকার ট্রাক ও একটি বাক্সবাহী ট্রাকের সংঘর্ষের পর ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর হাইওয়ের দক্ষিণমুখী অংশের বড় একটি এলাকা কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।    ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টার কিছু আগে হাইওয়ে ৯৯-এর কাঁধের পাশে একটি বাক্সবাহী ট্রাক সহায়তার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল। ট্রাকটি এর আগে বিকল হয়ে রাস্তার পাশে অবস্থান নিয়েছিল। প্রায় ১০ মিনিট পর সেখানে ৮ হাজার ৬০০ গ্যালন জ্বালানি বহনকারী একটি পিটারবিল্ট ট্যাংকার ট্রাক এসে ওই বাক্সবাহী ট্রাকটির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।    সংঘর্ষের পরপরই ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা যায়। ঘটনাস্থলের ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রকাশিত দৃশ্যেও হাইওয়ের ওপর ব্যাপক আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে।    আগুনের তীব্রতার কারণে দমকলকর্মীদের প্রথম দিকে সরাসরি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। আগুন যাতে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেও জরুরি কর্মীদের বিশেষ নজর দিতে হয়েছে।    তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হলেও সৌভাগ্যক্রমে দুই ট্রাকের চালকই নিজেদের গাড়ি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল জানিয়েছে, দুজনেরই সামান্য আঘাত লাগে এবং তাদের গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।   দুর্ঘটনার কারণে হাইওয়ে ৯৯-এর দক্ষিণমুখী অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ গাড়িগুলোকে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতিগ্রস্ত যান সরানো ও রাস্তা নিরাপদ করার কাজ চালায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর রাতের দিকে হাইওয়েটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়।   প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিকল ট্রাকটির সঙ্গে ট্যাংকারের সংঘর্ষই আগুনের সূত্রপাত ঘটায়। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ট্যাংকার কীভাবে রাস্তার কাঁধের দিকে চলে গিয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনাটি আবারও মহাসড়কের পাশে বিকল যানবাহন অবস্থান করার ঝুঁকি সামনে এনেছে। বিশেষ করে বিপজ্জনক জ্বালানি বহনকারী ভারী ট্রাক চলাচলকারী মহাসড়কে চালকদের সতর্কতা এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ২০:২
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের আবাসন ও ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত গণশুনানি। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্কে আবাসন ও ভূমি ব্যবহার নিয়ে একাধিক গণশুনানি, নজরে সাশ্রয়ী আবাসন

কুইন্সের ফ্লাশিং ও অ্যাস্টোরিয়ার বহুজাতিক খাবারের ব্যবসা ও রেস্তোরাঁ এলাকা। ছবি:সংগৃহীত

কুইন্সে বাড়ছে নতুন রেস্তোরাঁ, বৈচিত্র্যময় খাবারে জমে উঠছে অভিবাসী কমিউনিটির ব্যবসা

নিউইয়র্কের ৩১ লাখ অভিবাসী শহরের অর্থনীতি, শ্রমবাজার, ব্যবসা ও সেবাখাতে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান, গড়ে তুলছেন বহুজাতিক নগর সমাজ।

নিউইয়র্কের অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে ৩১ লাখ অভিবাসী

বিমান চালানোর প্রশিক্ষণের সময় ককপিটে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি; ছেলের অনুপ্রেরণায় পাইলট হওয়ার গল্পটি নতুন করে আলোচনায়। ছবি:সংগৃহীত
ছেলেকে মুগ্ধ করতে বিমান চালানো শিখেছিলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, দুই দশক পর পাইলট ম্যাডক্সও

হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলির বিমান চালানোর গল্প শুরু হয়েছিল তাঁর বড় ছেলে ম্যাডক্সকে ঘিরে। প্রায় দুই দশক আগে মাত্র তিন বছর বয়সী ম্যাডক্স বিমানের প্রতি ভীষণ আগ্রহ দেখাত। সেই আগ্রহ থেকেই জোলি নিজেই বিমান চালানো শেখার সিদ্ধান্ত নেন। পরে সেই শখ ও ভালোবাসা ছেলের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে আর এখন ম্যাডক্সও প্রশিক্ষিত পাইলট হিসেবে এককভাবে বিমান চালাতে সক্ষম।   ২০০৪ সালে জোলি যখন বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ শুরু করেন, তখন ম্যাডক্সের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ম্যাডক্স বিমান দেখলেই মুগ্ধ হয়ে যেত। ছেলে যখন চার বছরে পা দেবে, তার আগেই তিনি বিমান চালাতে পারলে ছেলের চোখে নিজেকে ‘সুপারম্যানের’ মতো মনে হবে এমন কথাও বলেছিলেন জোলি।   তবে জোলির বিমান চালানো শেখার পেছনে শুধু ছেলেকে মুগ্ধ করার বিষয়টি ছিল না। তিনি জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে মানবিক কাজে বিমান ব্যবহার করার ইচ্ছাও তাঁর ছিল। শরণার্থী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে খাদ্য বা প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে বিমান চালানোর দক্ষতা কাজে লাগানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। ২০১০ সালের এক সাক্ষাৎকারে জোলি আরও জানান, ম্যাডক্স যখন প্রায় দেড় বছরের, তখন তারা বিমানবন্দরে গিয়ে বিমান দেখতেন। সেখান থেকেই তাঁর মনে বিমান চালানোর আগ্রহ তৈরি হয়।   জোলি ২০০৪ সালের ডিসেম্বর মাসে পাইলটের লাইসেন্স অর্জন করেন। পরের বছর তিনি একটি এক ইঞ্জিনের সার্কাস এসআর২২-জি২ বিমান কেনেন। ছেলের প্রতি ভালোবাসার স্মৃতি হিসেবে বিমানের লেজ নম্বরেও ‘এমএক্স’ অক্ষর যুক্ত করেছিলেন, যা ম্যাডক্সের নামের সঙ্গে সম্পর্কিত।   বছর কয়েক পর মায়ের সেই আগ্রহ ছেলের মধ্যেও দেখা যায়। ২০১৭ সালে জোলি জানিয়েছিলেন, ম্যাডক্স তখন নিজেও বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এক পর্যায়ে প্রশিক্ষকের কাছ থেকে ফোন পেয়ে তিনি জানতে পারেন, ম্যাডক্স এককভাবে বিমান চালানোর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সেই খবর শুনে তিনি এতটাই অবাক হয়েছিলেন যে প্রায় ফোন ফেলে দেওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন।   এরপর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জোলি ‘দ্য টুনাইট শো’ অনুষ্ঠানে জিমি ফ্যালনের সঙ্গে আলাপের সময় জানান, ম্যাডক্স এখন পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষিত এবং বিমান চালাতে পারে। সে সময় ম্যাডক্সের বয়স ছিল ২৩ বছর। জোলির বক্তব্য অনুযায়ী, ছেলে তাঁর বিমান চালানোর পথ অনুসরণ করেছে।   ম্যাডক্সের বিমান চালানোর বিষয়ে জোলির সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যগুলোর একটি আসে ২০২৪ সালের আরেক সাক্ষাৎকারে। তিনি জানান, ছেলে বিমান চালালে তিনি সাধারণত উদ্বিগ্ন হন না। তাঁর দর্শন হলো সন্তানদের সবসময় ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদ জীবন বেছে নেওয়ার চেয়ে নিজের পছন্দের কোনো কাজে আগ্রহী হয়ে সেটি অনুসরণ করার সুযোগ দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   জোলির এই দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্য বিমান চালানোর ঝুঁকিকে অস্বীকার করে না। বরং তিনি সন্তানদের নিজেদের আগ্রহ ও সক্ষমতা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, সন্তান কোনো কিছু চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও সেই অভিজ্ঞতা মূল্যবান; শুধু ভয় বা অতিরিক্ত নিরাপত্তার কারণে কোনো ভালোবাসার কাজ থেকে দূরে থাকা আরও বড় আফসোসের কারণ হতে পারে।   ম্যাডক্স বর্তমানে ২৫ বছর বয়সী। তিনি শুধু বিমান চালনাতেই আগ্রহী নন; মায়ের চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন। ২০১৭ সালের ‘ফার্স্ট দে কিল্ড মাই ফাদার’ চলচ্চিত্রে তিনি নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে কাজ করেন এবং পরবর্তী সময়ে মায়ের অন্যান্য চলচ্চিত্রের কাজেও যুক্ত ছিলেন।   অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গল্পটির মূল বক্তব্য সত্য ম্যাডক্সের বিমানপ্রেমই জোলিকে প্রায় দুই দশক আগে পাইলট হতে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং পরবর্তীতে ম্যাডক্স নিজেও পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে ‘মা শুধু ছেলেকে সুপারম্যান মনে করানোর জন্য বিমান চালানো শিখেছিলেন’ এভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করলে জোলির মানবিক কাজের জন্য বিমান চালানোর স্বপ্নের গুরুত্বপূর্ণ অংশটি বাদ পড়ে যায়।   এই মা-ছেলের গল্প তাই শুধু হলিউডের তারকা পরিবারের কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা নয়; এটি এক প্রজন্মের আগ্রহ কীভাবে পরবর্তী প্রজন্মের স্বপ্নে পরিণত হতে পারে, তারও একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৭:৩৬
বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে আটক হওয়া মিয়ামি ইউনাইটেডের আর্জেন্টাইন ফুটবলার মাতিয়াস পোররাইন। ছবি:সংগৃহীত

চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের আগে বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে আটক ফ্লোরিডার আর্জেন্টাইন ফুটবলার

পুলিশ কর্মকর্তা হাকিম ফারথিং।

মাতাল চালকের গাড়িচাপায় মৃত্যু, ২৪ বছর পরও হাকিমকে স্মরণ করে পুরস্কার দেয় মার্কিন পুলিশ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ছবি: সংগৃহীত

ক্ষতির আশঙ্কার কথা বলে হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা আলাদা দেওয়ার পরামর্শ ট্রাম্পের

0 Comments