পৃথিবীতে জটিল প্রাণের বিবর্তন ঠিক কবে এবং কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। সম্প্রতি চীনে আবিষ্কৃত একদল অতি প্রাচীন জীবাশ্ম (Fossil) বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই আবিষ্কারটি পৃথিবীর আদিম প্রাণের বিকাশের সময়কালকে আরও কয়েক কোটি বছর পিছিয়ে দিতে পারে।
দক্ষিণ চীনের পার্বত্য অঞ্চলে একটি প্রাচীন শিলাস্তরে এই জীবাশ্মগুলোর সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ভূতত্ত্ববিদরা। গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন (৫৫ থেকে ৬০ কোটি) বছর আগের। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই জীবাশ্মগুলোতে আদিম বহুকোষী প্রাণের জটিল গঠন লক্ষ্য করা গেছে, যা এর আগে এই সময়ের কোনো নমুনায় দেখা যায়নি।
আবিষ্কারের গুরুত্ব: বিজ্ঞানীদের এতদিনকার ধারণা ছিল যে, পৃথিবীতে ‘ক্যাম্ব্রিয়ান পিরিয়ড’ (Cambrian Period) বা প্রায় ৫৪ কোটি বছর আগে প্রাণের হঠাৎ এবং দ্রুত বিবর্তন ঘটেছিল। কিন্তু চীনের এই নতুন আবিষ্কার প্রমাণ করছে যে, তারও অনেক আগে থেকে পৃথিবীতে জটিল গঠনের প্রাণী বা জীব বাস করত।
গবেষক দলের প্রধান বলেন, "আমরা যা পেয়েছি তা কেবল কিছু পাথর নয়, বরং প্রাণের ইতিহাসের একটি হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়। এই জীবাশ্মগুলো প্রমাণ করে যে, বিবর্তন আমরা যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়েও ধীরগতিতে এবং অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছিল।"
গঠনগত বৈশিষ্ট্য: প্রাপ্ত জীবাশ্মগুলোতে আদিম অমেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহের প্রতিসাম্য (Symmetry) এবং বিশেষায়িত টিস্যু বা কলার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এটি নির্দেশ করে যে, সেই প্রাচীনকালেই প্রাণীরা চলাফেরা করতে এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শুরু করেছিল।
বিবর্তনবাদে নতুন মাত্রা: এই আবিষ্কারটি ডারউইনের বিবর্তনবাদ এবং পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক সময়রেখা নিয়ে পুনরায় ভাববার অবকাশ তৈরি করেছে। বিশ্বজুড়ে জীববিজ্ঞানীরা এই অনুসন্ধানকে ‘বিস্ময়কর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এটি কেবল নতুন একটি প্রজাতির খোঁজ নয়, বরং আমাদের আদি পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে জানার এক নতুন চাবিকাঠি।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক গবেষক দল জীবাশ্মগুলোর আরও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই গবেষণা শেষ হলে জীববিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকের অনেক তথ্যই পুনরায় লিখতে হবে।
পৃথিবীর রহস্যময় সৃষ্টিতত্ত্ব এবং প্রাণের উন্মেষ নিয়ে চীনের এই আবিষ্কার আগামী দিনগুলোতে বিজ্ঞানের জগতে আরও নতুন নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ওয়াশিংটন, ডিসি: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে বিদেশে জন্ম নেওয়া নাগরিকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা আরোপের দাবি তুলেছেন ট্রাম্পপন্থী রিপাবলিকানরা। এ লক্ষ্যে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ন্যান্সি মেস একটি সাংবিধানিক সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, যা ইতোমধ্যে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ন্যান্সি মেসের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের সদস্য, ফেডারেল বিচারক এবং সিনেটের অনুমোদনপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া (ন্যাচারাল-বর্ন) নাগরিক হতে হবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে এ ধরনের শর্ত কেবল প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের জন্য প্রযোজ্য। মেসের দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ও বিচারিক পদে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একক আনুগত্য নিশ্চিত করতেই এ সংশোধনী প্রয়োজন। সম্প্রতি ফেডারেল বিচারক স্পার্কল এল. সুকনানান ট্রাম্প প্রশাসনের ভোটার তালিকা যাচাই-সংক্রান্ত একটি উদ্যোগে স্থগিতাদেশ দেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ট্রাম্প প্রশাসন অঙ্গরাজ্যগুলোকে অভিবাসন-সংক্রান্ত ফেডারেল তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের সুযোগ দিতে চেয়েছিল। আদালত রায়ে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে ওই উদ্যোগে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পপন্থীদের একাংশ বিদেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ফেডারেল গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংশোধনীকে ঘিরে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিদেশে জন্ম নেওয়া এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া কয়েকজন কংগ্রেস সদস্য এ উদ্যোগকে অভিবাসী নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক ও বিভাজনমূলক বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের অবদানের ওপর গড়ে ওঠা একটি দেশ এবং আইনগতভাবে নাগরিকত্ব অর্জনকারীরা সংবিধান অনুযায়ী সমান অধিকার ভোগ করেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, ন্যান্সি মেসের প্রস্তাব আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার পথ অত্যন্ত কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সাংবিধানিক সংশোধনী পাস করতে হলে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন এবং পরে অঙ্গরাজ্যগুলোর অন্তত তিন-চতুর্থাংশের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হলেও প্রস্তাবটি বাস্তবে আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত।
বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে যুক্তরাজ্যের (ইউকে) ভিসা এখন আর শুধু ব্রিটেনে প্রবেশের অনুমতিপত্র নয়, বরং বহুদেশ ভ্রমণের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈধ ও ব্যবহৃত ইউকে ভিসা অথবা যুক্তরাজ্যের আবাসিক অনুমতিপত্র থাকলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক দেশে সহজ শর্তে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে একটি ভিসা ব্যবহার করেই একাধিক দেশ ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশি পর্যটক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের মধ্যে ইউকে ভিসার প্রতি আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ ইউকে ভিসাধারী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা অন্তত ২২টি দেশে ভিসামুক্ত, অন-অ্যারাইভাল ভিসা কিংবা সহজীকৃত প্রবেশ সুবিধা পেতে পারেন। এতে আলাদা আলাদা ভিসার জন্য আবেদন, অতিরিক্ত ফি এবং দীর্ঘ অপেক্ষার ঝামেলা অনেকাংশে কমে যায়। বর্তমানে ইউকে ভিসাধারীদের জন্য সুবিধাজনক গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে আলবেনিয়া, সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো, নর্থ মেসিডোনিয়া, জর্জিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব, মিশর, আজারবাইজান, মেক্সিকো, কোস্টারিকা, পানামা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, অ্যাঙ্গুইলা, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ এবং তুর্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপপুঞ্জ। এছাড়া যুক্তরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, উত্তর আয়ারল্যান্ডসহ অন্যান্য অঞ্চলেও একই ভিসায় ভ্রমণ করা যায়। ভ্রমণসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর ভিসা পাওয়া তুলনামূলক কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক আবেদনকারী স্বল্পমেয়াদি ভিসা পাচ্ছেন, আবার আবেদন প্রক্রিয়াও দীর্ঘ ও জটিল হয়ে পড়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনেও কঠোর যাচাই-বাছাই এবং সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ার কারণে অনিশ্চয়তা থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ইউকে ভিসা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একবার যুক্তরাজ্যের ভিসা পাওয়া গেলে শুধু ব্রিটেন নয়, বরং ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুপরিকল্পিত ভ্রমণসূচির মাধ্যমে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে একই সফরে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। এতে শুধু সময়ই সাশ্রয় হয় না, সামগ্রিক ভ্রমণ ব্যয়ও কমে আসে। অনেক ভ্রমণকারী এখন ইউকে ভিসাকে ‘মাল্টি-ডেস্টিনেশন ট্রাভেল স্ট্র্যাটেজি’র অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে সব দেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের সুবিধা প্রযোজ্য নয়। কোনো দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ থাকলেও অন্য কোনো দেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসা বা ইলেকট্রনিক ভিসার প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ইউকে ভিসা অবশ্যই ব্যবহার করা থাকতে হবে অথবা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বৈধ থাকতে হবে। ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বিভিন্ন দেশের অভিবাসন ও ভিসা নীতিমালা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস, কনস্যুলেট বা সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। এদিকে ইউকে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা, আয়ের উৎস, পেশাগত তথ্য, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন, ভ্রমণ ইতিহাস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো ধরনের ভুয়া বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করলে শুধু আবেদন বাতিলই নয়, ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, স্বচ্ছ আর্থিক তথ্য, সঠিক নথিপত্র এবং সুস্পষ্ট ভ্রমণ পরিকল্পনা থাকলে ইউকে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আর একবার সেই ভিসা হাতে এলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক দেশ ঘুরে দেখার সুযোগও তৈরি হয়, যা বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।
আটলান্টা: যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাবিলাহ পার্কস। জর্জিয়ার প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়ার পর এবার তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে লড়ছেন। আগামী ১৬ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডেমোক্র্যাটিক রানঅফ নির্বাচনকে ঘিরে তাঁর প্রচারণা ইতোমধ্যেই অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাবিলাহ পার্কস ২০২২ সালে জর্জিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে এই আইনসভায় প্রবেশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করেন। বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জর্জিয়ার সপ্তম সিনেট জেলার প্রতিনিধিত্বকারী নাবিলাহ পার্কস চলতি বছর তাঁর সিনেট আসন থেকে পদত্যাগ করে লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন। প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি চার লাখেরও বেশি ভোট পেয়ে রানঅফে জায়গা করে নেন। আগামী ১৬ জুনের রানঅফে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আরেক প্রার্থী ও স্টেট সিনেটর জশ ম্যাকলরিন। নির্বাচনী প্রচারণায় নাবিলাহ পার্কস জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, মেডিকেইড কর্মসূচির বিস্তার, ভোটাধিকার সুরক্ষা এবং নারীদের প্রজনন অধিকার রক্ষার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের হাতে থাকা বিপুল বাজেট উদ্বৃত্ত সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শিশুযত্নের ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থবির মজুরি কর্মজীবী পরিবারগুলোর ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে বলে তিনি মনে করেন। প্রচারণার অংশ হিসেবে নাবিলাহ নিজেকে একজন দৃঢ় ও আপসহীন প্রগতিশীল নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি দাবি করছেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর কিছু আইন প্রণয়নসংক্রান্ত অবস্থানের সমালোচনাও করেছেন। যদিও এসব সমালোচনার বিষয়ে জশ ম্যাকলরিনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নাবিলাহর প্রচারণা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতার সমর্থন পেয়েছে। তাঁর সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেসম্যান হ্যাঙ্ক জনসন, আটলান্টার সাবেক মেয়র শার্লি ফ্র্যাঙ্কলিন, ফুলটন কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ফানি উইলিস এবং ডিকাল্ব কাউন্টির কমিশনার টেড টেরি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জর্জিয়ার লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদটি অঙ্গরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ। এই পদে নির্বাচিত ব্যক্তি স্টেট সিনেটের কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখেন। ফলে আসন্ন রানঅফ নির্বাচন শুধু একটি দলীয় মনোনয়ন নির্ধারণের লড়াই নয়, বরং জর্জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই পদে ডেমোক্র্যাটরা আবারও জয় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এমন বাস্তবতায় নাবিলাহ পার্কসের প্রার্থিতা শুধু একটি রাজনৈতিক প্রচারণা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে। আগামী ১৬ জুনের রানঅফ নির্বাচনে বিজয়ী হলে নাবিলাহ পার্কস নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর সেখানে জয় পেলে তিনি জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন নারীর এমন সম্ভাব্য অর্জন ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।