অস্ট্রেলিয়া

ছবি: সংগৃহীত।
নীরবতা ভেঙে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন ইরানের দুই নারী ফুটবলার

নিজেদের দেশে ফেরার ঝুঁকি এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া ইরানের দুই নারী ফুটবলার অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, এই দেশটিতে তারা এখন একটি ‘নিরাপদ আবাস’ খুঁজে পেয়েছেন যেখানে তারা নিরাপদে জীবনযাপন ও খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারবেন। ফাতেমেহ পাসান্দাইদেহ এবং আতেফেহ রামেজানিজাদে নামের এই দুই ফুটবলার গত মাসে এএফসি ওমেন্স এশিয়ান কাপ চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ইরানে তাদের ‘যুদ্ধকালীন দেশদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার ফলে দেশে ফিরলে তাদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল। শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে তারা বলেন, "অস্ট্রেলিয়া সরকার আমাদের যে মানবিক সুরক্ষা ও আশ্রয় দিয়েছে, তার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এই কঠিন সময়ে আমাদের প্রতি যে সহমর্মিতা দেখানো হয়েছে, তা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।" প্রাথমিকভাবে ইরানি দলের আরও কয়েকজন সদস্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলেও পরিবারের ওপর চাপ এবং অন্যান্য কারণে পাঁচজন ইরানে ফিরে যান। তবে ফাতেমেহ ও আতেফেহ অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় থাকেন। বর্তমানে তারা অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব ‘ব্রিসবেন রোয়ার’-এর সাথে অনুশীলন করছেন। নিজেদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তারা বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের কাছে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন। তবে তারা এটি স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের স্বপ্ন হলো একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের ক্যারিয়ার পুনরায় গড়ে তোলা। ইরানের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটে এই ফুটবলারদের আশ্রয়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
অস্ট্রেলিয়া সফরে হ্যারি-মেগান: রাজকীয় জীবন নিয়ে পুরনো ক্ষোভ আর তিক্ত অভিজ্ঞতা জানালেন ডাচেস

সাত বছর পর আবারও অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের বিচ্ছেদ হওয়া দম্পতি প্রিন্স হ্যারি এবং মেগান মার্কেল। তবে এবারের সফরটি কোনো রাষ্ট্রীয় সফর নয়, বরং সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে। চার দিনের এই ‘আধা-রাজকীয়’ (quasi-royal) সফরে এসে আবারও রাজকীয় জীবনের তিক্ত স্মৃতি এবং সাইবার বুলিং নিয়ে মুখ খুলেছেন এই দম্পতি। বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে 'ইন্টারএজ সামিটে' (InterEdge Summit) দেওয়া এক বক্তৃতায় প্রিন্স হ্যারি তার মা প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর পর সৃষ্ট মানসিক ট্রমার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মাত্র ১২ বছর বয়সে মাকে হারানোর পর তিনি কোনোভাবেই রাজকীয় দায়িত্ব বা এই 'চাকরি' চালিয়ে যেতে চাননি। অন্যদিকে, ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল তার ওপর হওয়া দীর্ঘদিনের অনলাইন ট্রোলিং নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি দাবি করেন, গত ১০ বছর ধরে তিনি প্রতিনিয়ত বুলিং বা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন এবং এক সময় তিনি ছিলেন 'বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ট্রোলড হওয়া ব্যক্তি'। হ্যারি ও মেগানের এই সফর নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক সংবাদমাধ্যম এই সফরকে 'অর্থ উপার্জনের কৌশল' হিসেবে সমালোচনা করলেও হ্যারির মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই সফরটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। সফরের অংশ হিসেবে হ্যারি মেলবোর্নের একটি এএফএল ক্লাব এবং সিডনিতে ইনভিক্টাস গেমসের ইভেন্টে অংশ নেবেন। মেগান সিডনিতে 'হার বেস্ট লাইফ' (Her Best Life) নামক একটি নারীদের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে বিয়ের পর প্রথম সরকারি সফরে অস্ট্রেলিয়ায় এসে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন এই দম্পতি। তবে ২০২০ সালে রাজপরিবার ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে থিতু হওয়ার পর এটিই তাদের প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফর। রাজকীয় আভিজাত্য ত্যাগ করলেও তাদের এই সফর ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহল এবং বিতর্ক—উভয়ই তুঙ্গে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সংকটের মাঝেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন, সরবরাহে নতুন শঙ্কা

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির মেলবোর্নের দক্ষিণ-পশ্চিমে জিলং শহরের কোরিও এলাকায় অবস্থিত ভিভা এনার্জির তেল শোধনাগারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।   বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুধবার মধ্যরাতের কিছু আগে বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় ১৩ ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।   ঘটনার সময় শোধনাগারে কর্মরত সকল শ্রমিককে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এই শোধনাগারটি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের অর্ধেকের বেশি জ্বালানি চাহিদা পূরণ করে এবং পুরো অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ১০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   ফলে অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন এক বিবৃতিতে জানান, এই ঘটনায় পেট্রোল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তবে সীমিত পরিসরে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা চলছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এমন এক সময়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অস্ট্রেলিয়া আগে থেকেই জ্বালানি চাপে ছিল, আর এই অগ্নিকাণ্ড সেই সংকটকে আরও তীব্র করতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ ধনী জিনা রাইনহার্ট। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর রায়: খনির রয়্যালটির ভাগ দিতে হবে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনী রাইনহার্টকে

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ ধনী জিনা রাইনহার্টকে খনির রয়্যালটির অংশ ভাগ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সুপ্রিম কোর্ট বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।   রায়ে বলা হয়েছে, প্রয়াত খনি উদ্যোক্তা পিটার রাইটের উত্তরাধিকারীদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘রাইট প্রসপেক্টিং’ পিলবারা অঞ্চলের হোপ ডাউনস খনি থেকে প্রাপ্ত রয়্যালটির একটি অংশ পাওয়ার অধিকারী। এই খনি পরিচালনায় রাইনহার্টের প্রতিষ্ঠান ‘হ্যানকক প্রসপেক্টিং’ আন্তর্জাতিক খনি কোম্পানি রিও টিনটোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।   মামলার সূত্রপাত কয়েক দশক আগে করা একটি অংশীদারত্ব চুক্তিকে ঘিরে। রাইনহার্টের বাবা ল্যাং হ্যানকক এবং পিটার রাইট যৌথভাবে ‘হ্যানরাইট’ নামে একটি উদ্যোগ গড়ে তুলে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় লৌহ আকরিক অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেই অংশীদারত্বের ভিত্তিতেই রাইট পরিবারের পক্ষ থেকে রয়্যালটির দাবি করা হয়।   আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, হোপ ডাউনস প্রকল্প থেকে ‘হ্যানকক প্রসপেক্টিং’ যে ২ দশমিক ৫ শতাংশ রয়্যালটি পায়, তার অর্ধেক ‘রাইট প্রসপেক্টিং’-এর প্রাপ্য। গত বছর এই খনি থেকে রাইনহার্টের প্রতিষ্ঠানের আয় ছিল প্রায় ৮৩ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার।   তবে খনির মালিকানা নিয়ে রাইট পরিবারের দাবি আদালত খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে খনিগুলোর পূর্ণ মালিকানা রাইনহার্টের কাছেই বহাল থাকছে। বিচারক বলেন, মামলার বিভিন্ন বিষয়ে উভয় পক্ষই আংশিকভাবে জয়ী ও পরাজিত হয়েছে। এ ছাড়া খনি অনুসন্ধানকারী ডন রোডসের উত্তরাধিকারীদের একটি প্রতিষ্ঠানের আংশিক রয়্যালটি দাবিও আদালত মঞ্জুর করেছেন।   অন্যদিকে, রাইনহার্টের দুই সন্তান জন হ্যানকক ও বিয়ানকা রাইনহার্ট পারিবারিক ট্রাস্ট সংক্রান্ত অভিযোগ তুললেও আদালত তা গ্রহণ করেননি। ৭১ বছর বয়সী রাইনহার্ট তাঁর বাবার মৃত্যুর পর ঋণগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধার করে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনীদের কাতারে উঠে আসেন।   বিশেষ করে চীনে শিল্পায়নের ফলে লৌহ আকরিকের চাহিদা বৃদ্ধির সময় তাঁর সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৮ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বলে জানা গেছে। দীর্ঘ ১৩ বছরের আইনি লড়াইয়ে বিপুল পরিমাণ নথি উপস্থাপন করা হয়। রায়ের পর উভয় পক্ষই আংশিক সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে ভবিষ্যতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় ইতিহাস: প্রথমবারের মতো নারী সেনাপ্রধান হচ্ছেন সুসান কয়েল

অস্ট্রেলিয়ার সামরিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনীর ১২৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একজন নারী সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েল।   সোমবার অস্ট্রেলিয়া সরকারের এক ঘোষণায় জানানো হয়, বর্তমানে জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সুসান কয়েল আগামী জুলাই মাসে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন।   প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এক বিবৃতিতে বলেন, “অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীর দীর্ঘ ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রথমবারের মতো আমরা একজন নারীকে সেনাপ্রধান হিসেবে দেখতে যাচ্ছি।” প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এই নিয়োগকে “গভীর ঐতিহাসিক মুহূর্ত” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “সুসান কয়েলের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী সদস্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হবে।”   ৫৫ বছর বয়সী সুসান কয়েল ১৯৮৭ সালে অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারের মতে, অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীর যেকোনো শাখার নেতৃত্বে আসা তিনিই প্রথম নারী।   এই নিয়োগ এমন এক সময়ে এলো, যখন অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী পদ্ধতিগত যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগের মুখে রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে দায়ের করা একটি যৌথ মামলায় অভিযোগ করা হয়, হাজার হাজার নারী সদস্যকে যথাযথ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এই বাহিনী।   বর্তমানে অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ২১ শতাংশ, যার মধ্যে জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বে রয়েছেন ১৮.৫ শতাংশ নারী। ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   এদিকে একই দিনে সামরিক নেতৃত্বে আরও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক হ্যামন্ডকে অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর (এডিএফ) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অ্যাডমিরাল ডেভিড জনস্টনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে, রিয়ার অ্যাডমিরাল ম্যাথিউ বাকলি নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব এবং কাঠামোগত সংস্কারের ইঙ্গিত বহন করছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে অস্ট্রেলিয়ান এসএএস কর্পোরাল বেন রবার্টস-স্মিথ (বাঁয়ে)। অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা ভিক্টোরিয়া ক্রসে ভূষিত হওয়ার পর তিনি রানির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান। ১৫ নভেম্বর ২০১১। ফাইল ছবি:
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার, কারাগারেই থাকছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সেনা রবার্ট-স্মিথ

আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অস্ট্রেলিয়ার এক সাবেক সেনাসদস্যকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। বুধবার ভিডিও সংযোগে আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।   অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা ‘ভিক্টোরিয়া ক্রস’ পাওয়া এই সাবেক সেনাসদস্যকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়। দেশটির ফেডারেল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে পাঁচজন নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষকে হত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পাঁচটি যুদ্ধাপরাধের মামলা করা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি।   গ্রেপ্তারের পর তাকে সিডনির একটি সংশোধনাগারে নেওয়া হয়। আদালতে শুনানির সময় তার আইনজীবী তাৎক্ষণিক জামিন আবেদন না করে তাকে সশরীরে আদালতে হাজির করে শুনানি নেওয়ার আবেদন জানান। তবে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর না করে আগামী ৪ জুন পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। ফলে এর আগ পর্যন্ত তাকে কারাগারেই থাকতে হবে।   এই গ্রেপ্তারকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বিষয়টিকে সামরিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরছে।   এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অভিযুক্তদের আইনি লড়াইয়ের খরচ সরকার বহন করা উচিত। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া সামরিক বাহিনীর ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।   অন্যদিকে একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার অস্ট্রেলিয়া শাখার প্রতিনিধি বলেছেন, সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি।   উল্লেখ্য, ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হামলার পর আফগানিস্তানে শুরু হওয়া যুদ্ধে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন মিত্র দেশ অংশ নেয়। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের সেই যুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৪০ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করেন এবং ৪৭ জন প্রাণ হারান। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নার
মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে সিডনিতে গ্রেফতার ডেভিড ওয়ার্নার

অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নারকে নিয়ে তোলপাড় ক্রিকেট বিশ্ব। সিডনির রাস্তায় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ওপেনার। বর্তমানে পাকিস্তান সুপার লিগে করাচি কিংসের নেতৃত্ব দেওয়া এই তারকার এমন কান্ডে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে তার ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ভক্তরা। মঙ্গলবার সিডনির মারুব্রা এলাকায় রুটিনমাফিক ‘ব্রেথ টেস্টিং’ চালাচ্ছিল স্থানীয় পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের চেকপোস্ট দেখে ওয়ার্নার তার গাড়িটি রাস্তার পাশে পার্ক করে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার এই আচরণে সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে আটক করে পরীক্ষা চালায়। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা যায়, তার শরীরে নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি অ্যালকোহল রয়েছে। পরবর্তীতে থানায় নিয়ে দ্বিতীয়বার রক্ত পরীক্ষা করা হলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। পুলিশি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়ার্নারের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল ০.১০৪ শতাংশ, যা অস্ট্রেলিয়ার আইনি সীমার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এই অপরাধে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। যদিও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে আগামী ৭ মে তাকে ডাউনিনিং সেন্টার লোকাল কোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে ওয়ার্নারের চলমান পিএসএল সফরের ওপর। করাচি কিংসের অধিনায়ক হিসেবে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন তিনি। ৩ ম্যাচে একটি হাফ-সেঞ্চুরিসহ ৯৩ রান করে দলকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু আইনি জটিলতায় তার পাকিস্তান ফেরা এখন অনিশ্চিত। করাচি কিংস কর্তৃপক্ষ এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না দিলেও, দলের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ওয়ার্নারের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল ধোঁয়াশা।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সেনাসদস্য বেন রবার্টস-স্মিথ
যুদ্ধনায়ক থেকে যুদ্ধাপরাধী: অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার

আফগানিস্তানে মোতায়েন থাকাকালীন নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার দায়ে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে আলোচিত ও সম্মানজনক পদকপ্রাপ্ত সাবেক সেনাসদস্য বেন রবার্টস-স্মিথকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৪৭ বছর বয়সী এই সাবেক স্পেশাল ফোর্স সদস্যের বিরুদ্ধে পাঁচটি খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে।  মঙ্গলবার সিডনি বিমানবন্দর থেকে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশে দায়িত্ব পালনের সময় রবার্টস-স্মিথ এই নৃশংস অপরাধগুলো সংঘটিত করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিরস্ত্র বন্দিদের সরাসরি গুলি করে অথবা তার অধীনস্থদের দিয়ে গুলি করিয়ে হত্যা করেছেন।  এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি এক আফগান বেসামরিক ব্যক্তিকে পাহাড়ের খাদ থেকে লাথি মেরে ফেলে দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান 'ভিক্টোরিয়া ক্রস' জয়ী এই সেনাসদস্য এতদিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসলেও, দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ তার বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ পায়।  যদি এই অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়, তবে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই গ্রেপ্তারকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
মিজানুর রহমান আজহারী
যে কারণে মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া

জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীকে নিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পর এবার অস্ট্রেলিয়াতেও বাধার মুখে পড়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের সরাসরি হস্তক্ষেপে আজহারীর অস্ট্রেলিয়া সফর বাতিল এবং তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিজানুর রহমান আজহারী সিডনি, মেলবোর্ন এবং পার্থসহ অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে আয়োজিত ইসলামি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার পূর্বের কিছু বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কর্মকাণ্ডকে ‘উগ্রপন্থী’ ও ‘ঘৃণা ছড়ানোর সহায়ক’ হিসেবে চিহ্নিত করে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, টনি বার্ক আজহারীর ভিসা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার সরকার মনে করছে, তার উপস্থিতি দেশটির সামাজিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অতীতে তার দেওয়া কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কিত মন্তব্যকে এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০২১ সালেও যুক্তরাজ্যে একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন আজহারী। সে সময় লন্ডনে তার একটি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর তার ভিসা বাতিল করে দেয় এবং তাকে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অস্ট্রেলীয় সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানগুলো স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজহারীর ভক্ত ও বিরোধীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে এই বিষয়ে মিজানুর রহমান আজহারী বা তার টিমের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান আজহারী বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় সভায় অংশ নিয়ে থাকেন। তবে বিভিন্ন দেশে তার প্রবেশাধিকার নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না তাকে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০ 0
মিজানুর রহমান আজহারী
অস্ট্রেলিয়া বাতিল করল আজহারীর ভিসা, সফরের মাঝপথে দেশে ফেরত

অস্ট্রেলিয়ায় একাধিক ইসলামিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে যাওয়া মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে তাকে সফরের মাঝপথেই দেশে ফিরে আসতে হচ্ছে।   সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, আজহারী আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। সেখানে তিনি নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের প্রশংসা করেন এবং ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেন। এই কারণে অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা তার সফরকে প্রাথমিকভাবে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল সিনেটর জোনাথান দুনলাম আজ বুধবার জানিয়েছেন, তাকে এবং অন্যান্য সংসদ সদস্যদের আজহারীর অস্ট্রেলিয়া সফরের ব্যাপারে সতর্ক করেছিল কমিউনিটি গ্রুপ।   তিনি বলেছেন, “আমার জানামতে আজহারীর সফরের ব্যাপারে মন্ত্রীসহ একাধিক সংসদ সদস্যের সঙ্গে ‘অস্ট্রেলিয়াস্থ বাংলাদেশ জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু ফেডারেশন’ যোগাযোগ করেছে।”   সংবাদমাধ্যমটি আরও বলেছে, ২০২৩ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আজহারী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কথা বলেন, হলোকাস্টের প্রশংসা করেন এবং তার স্রোতাদের ইহুদিদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলেন।   তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ইহুদিদের জন্য ‘ঐশ্বরিক শাস্তি’ ছিলেন হিটলার। এছাড়া ইহুদিদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী এবং তাদের বিষাক্ত কলঙ্ক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।   এর পাশাপাশি ইহুদিরা বিশ্বে এইডস ছড়িয়েছে এবং বিশ্বের অনেক অশান্তির জন্য তারা দায়ী বলে বক্তব্য দেন তিনি।   অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল সিনেটর জোনাথান দুনলাম জানান, কমিউনিটি গ্রুপ এবং সংসদ সদস্যরা তাদের সতর্ক করেছিলেন। আজহারী ব্রিসবেন, মেলবোর্ন ও সিডনিতে সম্মেলন করার কথা থাকলেও এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। মূল সম্মেলনগুলো ৩ এপ্রিল মেলবোর্নে, ৪ এপ্রিল সিডনিতে এবং ৬ এপ্রিল ক্যানবেরায় হওয়ার কথা ছিল।

নীলুফা নিশাত মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০ 0
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী
ট্রাম্পের সমালোচনার কড়া জবাব অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতিবাচক মন্তব্যের সরাসরি প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।   শুক্রবার (২৭ মার্চ) ক্যানবেরায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা কোনো অনুরোধই অস্ট্রেলিয়া প্রত্যাখ্যান করেনি। বরং ওয়াশিংটন ও ইসরাইল এই যুদ্ধ শুরুর আগে মিত্র দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   সম্প্রতি এক ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তাদের প্রতিক্রিয়া তাকে বিস্মিত করেছে। এর জবাবে অ্যালবানিজ বলেন, হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার গঠনমূলক সম্পর্ক রয়েছে, তবে ইরানের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়াকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কোনো পরামর্শ করা হয়নি, যা সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বিষয়। অস্ট্রেলিয়ার দায়িত্ব কেবল নিজেদের সিদ্ধান্তের জবাবদিহি করা।   এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় একটি ‘ই-সেভেন-এ ওয়েজটেইল’ নজরদারি বিমান ওই অঞ্চলে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া। তবে হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাঙ্কার পাহারায় সরাসরি অংশ নেওয়া নিয়ে শুরুতে কিছুটা দ্বিধায় ছিল ক্যানবেরা। পরে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে ২২টি দেশের একটি জোটে যোগ দেয় দেশটি।   অ্যালবানিজ বলেন, এখন পর্যন্ত যে কয়টি সুনির্দিষ্ট অনুরোধ তাদের কাছে এসেছে, তার প্রতিটিই পূরণ করা হয়েছে। সূত্র: সিএনএন

Unknown মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইরানের নারী ফুটবল দলের কয়েকজন খেলোয়ার। ফাইল ফটো।
ইরানিদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পর্যটন ভিসায় প্রবেশ নিষিদ্ধ

অস্ট্রেলিয়া সরকার ইরানি নাগরিকদের জন্য সাময়িক সময়ের জন্য পর্যটন ভিসা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান থেকে আসা দর্শনার্থীরা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশ ত্যাগ করবেন না—এমন আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং প্রাথমিকভাবে পরবর্তী ছয় মাস পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবেন দীর্ঘমেয়াদী ভিসাধারী ব্যক্তিরা এবং যাদের স্ত্রী-সন্তান বা নিকটাত্মীয় অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্ক জানান, বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ইরানি নাগরিকের কাছে অস্ট্রেলিয়ার ভিজিটর ভিসা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, "পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।" উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানি নারী ফুটবল দলের সাত সদস্যকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে পরবর্তীতে তাদের মধ্যে পাঁচজন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন এবং শরণার্থীর আবেদন প্রত্যাহার করেন। এই ঘটনার পরপরই পর্যটন ভিসার ওপর এমন কড়াকড়ি আরোপ করা হলো। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ান গ্রিনস-এর অভিবাসন বিষয়ক মুখপাত্র সিনেটর ডেভিড শুব্রিজ এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি একে 'নিষ্ঠুর ও অন্যায্য' হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেন, ইরানিরা যাতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করতে না পারে, সেজন্যই এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।
ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই করল অস্ট্রেলিয়া ও ইইউ

আট বছরের দীর্ঘ আলোচনা আর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখল অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।  সোমবার অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরাতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন ইইউ প্রধান উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও চীনের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের বাণিজ্যের পরিধি প্রসারে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। অস্ট্রেলিয়ার সাথে এই চুক্তি সেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই একটি বড় অংশ। সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কেবল বাণিজ্যের কথা বলেননি, বরং একটি শক্তিশালী সামরিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের ঘোষণাও দিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন বলেন, "ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও আমাদের বিশ্বদর্শন অভিন্ন। এই বাণিজ্য ও সামরিক চুক্তির মাধ্যমে আমরা একে অপরের আরও কাছে আসব।" রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য এবং নিরাপত্তার এক নতুন সমীকরণ তৈরি হবে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0