সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

অস্ট্রেলিয়া

সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হয়ে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা
সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হলেন বাংলাদেশি এলিজা

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা আজাদ রহমান। মঙ্গলবার রাতে কাউন্সিলের সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে তিনি এ পদে নির্বাচিত হন। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পেলেন তিনি।  এলিজা আজাদ রহমানের পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায়। দুই দশকের বেশি সময় আগে শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। পরে দেশটির ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ড থেকে প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর এবার কাউন্সিলরদের ভোটে ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পেলেন তিনি। একই সভায় ভিন্স ফেরেরি মেয়র নির্বাচিত হন।  নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর এলিজা আজাদ বলেন, দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এই দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ও কাজের পরিধি আরও বেড়েছে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে বাংলাদেশি নারীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।  অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ এর আগেও দেখা গেছে। এলিজার আগে সুমন সাহা ও মাসুদ খলিল সিডনির বিভিন্ন সিটি কাউন্সিলে ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে মাসুদ চৌধুরীও ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  এলিজার এই অর্জনে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কমিউনিটির নেতারা মনে করছেন, স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে তাঁর উঠে আসা অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের রাজনীতি ও জনসেবায় যুক্ত হতে উৎসাহিত করবে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
হেলিকপ্টার থেকে বিপন্ন ওয়ালাবিদের জন্য ফেলা হচ্ছে গাজর ও মিষ্টি আলু
অস্ট্রেলিয়ায় আগুনে খাবার হারানো প্রাণীদের জন্য আকাশ থেকে ফেলা হলো ১৪.৫ টন খাবার

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে ভয়াবহ দাবানলের পর খাবারের সংকটে পড়া বিপন্ন ব্রাশ-টেইলড রক ওয়ালাবিদের বাঁচাতে হেলিকপ্টার থেকে আকাশপথে গাজর ও মিষ্টি আলু ফেলা হয়েছিল। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত চলা এই বিশেষ উদ্যোগে ১৪ হাজার ৫০০ কেজিরও বেশি খাবার পৌঁছে দেওয়া হয় ওয়ালাবিদের বিভিন্ন আবাসস্থলে।  ২০১৯-২০ সালের ভয়াবহ দাবানলে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল পুড়ে যায়। আগুন থেকে অনেক রক ওয়ালাবি বেঁচে গেলেও তাদের প্রধান খাবারের উৎস হিসেবে থাকা গাছপালা ও অন্যান্য উদ্ভিদ ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে আগুন থেমে যাওয়ার পরও খাবারের অভাবে প্রাণীগুলো নতুন সংকটে পড়ে।  এই পরিস্থিতিতে নিউ সাউথ ওয়েলসের ন্যাশনাল পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জরুরি খাদ্য সরবরাহের উদ্যোগ নেয়। হেলিকপ্টারের পাশাপাশি গাড়ি, নৌকা ও পায়ে হেঁটেও দুর্গম এলাকায় খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। রাজ্যের এক ডজনের বেশি ওয়ালাবি কলোনিতে এই খাবার সরবরাহ করা হয়েছিল।  গাজর ও মিষ্টি আলু বেছে নেওয়ার পেছনেও ছিল বিশেষ কারণ। এগুলো ওয়ালাবিদের খাদ্যচাহিদা মেটানোর পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশে ক্ষতিকর প্রভাব তৈরির ঝুঁকিও তুলনামূলক কম ছিল। প্রাকৃতিক উদ্ভিদ ও খাবারের উৎস আবার জন্মাতে শুরু করা পর্যন্ত এই সরবরাহ চালু রাখা হয়।  এই উদ্যোগে সেভিং আওয়ার স্পিসিস কর্মসূচি, ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড অস্ট্রেলিয়া, উলওয়ার্থস ও ফুডব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। শুধু হেলিকপ্টারে খাবার পৌঁছানোর জন্যই ডব্লিউডব্লিউএফ অস্ট্রেলিয়া ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার সহায়তা দিয়েছিল।  ব্রাশ-টেইলড রক ওয়ালাবি নিউ সাউথ ওয়েলসে বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। দাবানলের পর তাদের জন্য এই জরুরি খাদ্য সরবরাহ কর্মসূচি কতটা কার্যকর হয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক খাবারের উৎস পুনরুদ্ধার শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে এই জরুরি সহায়তার প্রয়োজন কমে আসে।  ক্যাঙ্গারু ভ্যালিতে জরুরি খাদ্য সরবরাহের সহায়তায় একটি পুরো রক ওয়ালাবি কলোনি দাবানল থেকে বেঁচে যায় বলেও পরবর্তী পর্যবেক্ষণে নিশ্চিত করা হয়। ক্যামেরা ও জিপিএস কলারের মাধ্যমে তাদের টিকে থাকার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়েছিল।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
ভিডিও চালু করতেই ছাদ ভেঙে ঘরে ঢুকলো নিশাচর প্রাণী
ছাদে কয়েক দিন ধরে শব্দ, ভিডিও চালু করতেই ছাদ ভেঙে ঘরে ঢুকলো নিশাচর প্রাণী

অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে বাসা থেকে কাজ করছিলেন ২৩ বছর বয়সী টিয়াহনা। কয়েক দিন ধরে ঘরের ছাদ থেকে একটানা অদ্ভুত শব্দ শুনছিলেন তিনি। তবে সেই শব্দ যে এত বড় কাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, তা কল্পনাও করেননি।   ঘটনার দিন কাজের ফাঁকে দুপুরের বিরতিতে ছিলেন টিয়াহনা। হঠাৎ আবার ছাদের ভেতর থেকে শব্দ শুনতে পান। কী হচ্ছে, তা দেখতে তিনি মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও করা শুরু করেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ছাদের একটি অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায় দুটি পসাম।   টিয়াহনা জানান, শব্দ শুনে তিনি ধারণা করেছিলেন ছাদের ভেতরে থাকা কোনো প্রাণীর কারণে এমনটা হতে পারে। তাই ভিডিও শুরু করেছিলেন - যদি পরে কাউকে বলতে হয়, তাহলে যেন প্রমাণ দেখাতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ভিডিওতেই ধরা পড়ে ছাদ ভেঙে পসাম দুটি ঘরে পড়ে যাওয়ার ঘটনা।   টিয়াহনা ও তাঁর রুমমেটরা প্রায় দুই বছর ধরে বাসার ছাদে পসামের উপস্থিতি নিয়ে সমস্যায় ছিলেন। রাতের বিভিন্ন সময় ছাদ থেকে শব্দ শোনা যেত। একটি পসাম সরানোর জন্য বাড়ির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে লোকও পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি।    টিয়াহনার ধারণা, ছাদের ভেতরে থাকা দুই পসামের মধ্যে মারামারির একপর্যায়ে ছাদের দুর্বল অংশ ভেঙে তারা রান্নাঘরের ভেতর পড়ে যায়। ওই অংশটি আগে একটি ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও জানান তিনি। পরে ছাদের ভাঙা অংশটি একটি বোর্ড দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।    ব্রিসবেনে মানুষের বাসাবাড়ির ছাদ বা সিলিংয়ের ভেতর পসাম আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, শহরাঞ্চলে এসব প্রাণীর প্রাকৃতিক আশ্রয় কমে যাওয়ায় তারা অনেক সময় মানুষের বাড়ির ছাদ, গ্যারেজ বা দেয়ালের ফাঁকা জায়গায় আশ্রয় নেয়। পসাম অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় ও আইনগতভাবে সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী। 

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
মাদক সরবরাহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হ্যামিশ ক্রেগ লারনাখ। ছবি: সংগৃহীত
দেখতে শিশুসুলভ হওয়ায় ২০ বছর বয়সী মাদক বিক্রেতাকে কারাগারে পাঠালেন না বিচারক

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে মাদক বিক্রির দায়ে দোষী সাব্যস্ত ২০ বছর বয়সী এক তরুণকে কারাগারে পাঠানো হয়নি। বিচারক মনে করেছেন, তার চেহারা বয়সের তুলনায় অনেক কম বয়সী এবং কারাগারে গেলে এ কারণে তার প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত মনোযোগ তৈরি হয়ে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন, যা পুরোপুরি স্থগিত রাখা হয়েছে।   দোষী সাব্যস্ত ওই তরুণের নাম হ্যামিশ ক্রেগ লারনাখ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে যখন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে তদন্ত শুরু করে, কারণ এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে তাকে এমডিএমএ বিক্রির প্রস্তাব দিতে দেখা যায়।   ব্রিসবেন সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে প্রসিকিউটর ম্যাডিসন থমসন জানান, এক গোপন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পর লারনাখ তাকে ৭০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের কিছু বেশি মূল্যের এমডিএমএ বিক্রি করেন। পরিমাণ ছিল আট গ্রামের কিছু বেশি এবং মাদকের বিশুদ্ধতা ছিল ৭২ শতাংশ।   এর প্রায় এক মাস পর পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে আরও ১১ গ্রাম এমডিএমএ, গাঁজার ভ্যাপ, মাদক রাখার ছোট প্যাকেট এবং ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া এমডিএমএর কিছু ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য এবং কিছু বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল।   পরে লারনাখ মাদক সরবরাহের একটি অভিযোগ এবং মাদক রাখার দুটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালতে তার আইনজীবী ড্যানিয়েল বডিস জানান, গ্রেপ্তার ও পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম তার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। তার দাবি, ঘটনার পর লারনাখ নিজের জীবনধারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছেন।   আইনজীবী আরও জানান, লারনাখের আগে কোনো অপরাধের ইতিহাস ছিল না। ঘটনার সময় তিনি মাদকের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়। তবে পরে তিনি মাদক থেকে দূরে রয়েছেন, পূর্ণকালীন চাকরি করছেন এবং পরিবারের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সামাজিক সহায়তা পাচ্ছেন।   বিচারক সোরায়া রায়ান সাজা ঘোষণার সময় লারনাখের বয়স ও চেহারা নিয়ে বিশেষ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, লারনাখকে দেখতে ২০ বছরের মতো মনে হয় না। কারাগারে তার মতো দেখতে একজন তরুণের জন্য আলাদা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   বিচারকের মতে, কারাগারে তার চেহারা অন্য বন্দীদের কাছ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। তাই সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কারাগারে থাকার সম্ভাব্য ঝুঁকিটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   তবে শুধু চেহারাই সাজা স্থগিত রাখার কারণ ছিল না। আদালতে লারনাখের বয়স, অপরাধের সময় তার পরিস্থিতি, পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা, মাদক থেকে দূরে থাকার বর্তমান অবস্থান এবং জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়।   বিচারক রায় দেওয়ার সময় এমডিএমএ ব্যবহারের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন। লারনাখ আদালতে জানিয়েছিলেন, ওই সময় তিনি নিজের মানসিক সমস্যার সঙ্গে মানিয়ে নিতে মাদক ব্যবহার করতেন।   মানসিক স্বাস্থ্য আদালতের বিচারক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রায়ান বলেন, তিনি নিয়মিত এমন মাদক ব্যবহারকারীদের দেখেন, যাদের মাদক গ্রহণের কারণে গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়তে হয়েছে। মানসিক সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে এমডিএমএ ব্যবহার কোনো সমাধান নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন।   শেষ পর্যন্ত লারনাখকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও পুরো সাজা স্থগিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ আপাতত তাকে কারাগারে যেতে হচ্ছে না। তবে স্থগিত সাজার শর্ত ভঙ্গ করলে পরবর্তী সময়ে কারাদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।   মামলাটি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে মাদক সরবরাহের অভিযোগে সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আদালত কী ধরনের বিষয় বিবেচনা করে, সেটিও সামনে এনেছে। একই সঙ্গে বিচারকের মন্তব্যে কারাগারে তরুণ বন্দীদের নিরাপত্তা ও ঝুঁকির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।   সূত্র: ডেইলি মেইল

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া থেকে ডিপোর্ট হলেন ব্রিটিশ চিকিৎসক ফারাজ মাহবুব। ছবি: সংগৃহীত
যৌনকর্মীর পারিশ্রমিক না দেওয়ায় ধর্ষণ মামলায় চিকিৎসক মাহবুব গ্রেপ্তার এবং ডিপোর্ট

অস্ট্রেলিয়ায় যৌনকর্মীদের পারিশ্রমিক না দেওয়ার ঘটনায় ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ব্রিটিশ নাগরিক চিকিৎসক ফারাজ মাহবুবকে দেশ থেকে ডিপোর্ট করা হয়েছে। ৩২ বছর বয়সী এই মেডিকেল শিক্ষার্থীকে চলতি বছরের শুরুতে সাজা দেওয়া হয়েছিল।   আদালতের নথি ও অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার জানিয়েছে, মাহবুব দুই নারী যৌনকর্মীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পর পারিশ্রমিক পরিশোধ না করে ভুয়া ব্যাংক রসিদ ও অন্যান্য নথি ব্যবহার করেছিলেন।   নিউ সাউথ ওয়েলসে প্রচলিত আইনের আওতায় পারিশ্রমিক দেওয়ার চুক্তির ভিত্তিতে সম্মতি নিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পর সেই পারিশ্রমিক না দেওয়ার ঘটনাকেও যৌন নিপীড়ন হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এই আইনের আওতাতেই মাহবুবের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয় এবং তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।   আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম নারীকে তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ভুয়া নথি এবং ২ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার পরিশোধের একটি জাল ব্যাংক রসিদ পাঠিয়েছিলেন। যৌন সম্পর্কের পর তিনি ওই নারীকে বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়।   দ্বিতীয় এক যৌনকর্মীর সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। মাহবুব তাঁর কাছে অন্য একটি নাম ব্যবহার করে যোগাযোগ করেন। যৌন সম্পর্কের পর পারিশ্রমিক পরিশোধ না করে তিনি ব্যাংক-সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানান। পরে ওই নারী পুলিশে অভিযোগ করার কথা জানালে মাহবুব আরও নানা আর্থিক সমস্যার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আদালতের নথিতে তাঁর পাঠানো একাধিক ভুয়া নথির কথাও উঠে এসেছে।   অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বা গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন অ-নাগরিকদের বিষয়ে তারা কমিউনিটির নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে। মাহবুবের ডিপোর্টেশনের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিবাসন আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেয়।   ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ায় যৌনকর্মীদের পারিশ্রমিক, সম্মতি এবং যৌন অপরাধসংক্রান্ত আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আদালতের রায়ে মাহবুবের অপরাধের ধরন এবং পারিশ্রমিক না দেওয়ার ঘটনাকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
রক্তে বিরল অ্যান্টিবডির উপস্থিতির কারণে ‘গোল্ডেন আর্ম’ নামে পরিচিত জেমস হ্যারিসন। ছবি: সংগৃহীত
৬০ বছরে ১,১৭৩ বার রক্তদান! শরীরের বিরল রক্তে বাঁচিয়েছেন ২৪ লাখ শিশু

অস্ট্রেলিয়ার রক্তদাতা জেমস হ্যারিসন বিরল এক অ্যান্টিবডির কারণে পরিচিত ছিলেন ‘গোল্ডেন আর্ম’ নামে। তাঁর রক্তের প্লাজমায় থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-ডি অ্যান্টিবডি দিয়ে এমন একটি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ তৈরি করা হতো, যা গর্ভাবস্থায় আরএইচজনিত জটিলতা থেকে অনাগত শিশুকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। অস্ট্রেলিয়ান রেড ক্রস লাইফব্লাডের হিসাবে, তাঁর দানের মাধ্যমে প্রায় ২৪ লাখ শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।   মাত্র ১৪ বছর বয়সে বড় ধরনের বক্ষ অস্ত্রোপচারের সময় জীবন বাঁচাতে ১৩ ইউনিট রক্ত নিতে হয়েছিল হ্যারিসনকে। সেই অভিজ্ঞতার পর ১৮ বছর বয়সে তিনি রক্তদান শুরু করেন। পরে চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, তাঁর রক্তে অ্যান্টি-ডি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিরল অ্যান্টিবডি রয়েছে। এরপর নিয়মিত প্লাজমা দানকে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে নেন তিনি।   ১৯৫৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ছয় দশকের বেশি সময়ে মোট ১ হাজার ১৭৩ বার রক্ত ও প্লাজমা দান করেন হ্যারিসন। অস্ট্রেলিয়ার বয়সসীমার কারণে ৮১ বছর বয়সে তাঁকে দান বন্ধ করতে হয়। ২০১৮ সালের মে মাসে তিনি শেষবার রক্ত দেন।   অ্যান্টি-ডি চিকিৎসা মূলত আরএইচ-নেগেটিভ মায়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মা আরএইচ-নেগেটিভ এবং অনাগত শিশু আরএইচ-পজিটিভ হলে মায়ের শরীর শিশুর রক্তকে ক্ষতিকর হিসেবে শনাক্ত করে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে। এর ফলে পরবর্তী গর্ভধারণে শিশুর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অ্যান্টি-ডি এই প্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া ঠেকাতে সহায়তা করে।   লাইফব্লাড জানিয়েছে, অ্যান্টি-ডি কর্মসূচিতে হ্যারিসনের রক্ত থেকে তৈরি ওষুধের মাধ্যমে ২৪ লাখ শিশুকে সম্ভাব্য প্রাণঘাতী জটিলতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাঁর রক্তের বিশেষ অ্যান্টিবডি এতটাই বিরল ছিল যে অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্টি-ডি সরবরাহ ব্যবস্থায় তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   জেমস হ্যারিসন ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নিউ সাউথ ওয়েলসে ঘুমের মধ্যে ৮৮ বছর বয়সে মারা যান। মৃত্যুর পরও তাঁর অবদান নিয়ে গবেষণা চলছে। অস্ট্রেলিয়ান রেড ক্রস লাইফব্লাড ও গবেষকেরা তাঁর এবং অন্য দাতাদের রক্ত ব্যবহার করে ল্যাবে অ্যান্টি-ডি অ্যান্টিবডি তৈরির চেষ্টা করছেন, যাতে ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষের জন্য এই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সহজলভ্য করা যায়।   ছয় দশকের বেশি সময় ধরে নিয়মিত রক্তদান করে হ্যারিসন দেখিয়ে গেছেন, একজন মানুষের শরীরে থাকা বিরল একটি বৈশিষ্ট্য কীভাবে লাখ লাখ অনাগত শিশুর জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর ১ হাজার ১৭৩ বার রক্তদানের রেকর্ডও অস্ট্রেলিয়ার রক্তদানের ইতিহাসে বিশেষ দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
সিডনিতে গুলিতে নিহত ৪০ বছর বয়সী জোশুয়া ম্যাকডোনাল্ড। পরিবারের দাবি, বন্ধুর দুই শিশুকে রক্ষা করতে তিনি নিজের শরীর সামনে রেখেছিলেন। ছবি: সংগৃহীত
বন্ধুর দুই মেয়েকে বাঁচাতে গুলির সামনে দাঁড়ালেন, নিজের জীবন দিয়ে রক্ষা করলেন তাদের

সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে সন্দেহভাজন গ্যাং হামলায় নিহত ৪০ বছর বয়সী জোশুয়া ম্যাকডোনাল্ডকে পরিবারের পক্ষ থেকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে, যিনি গুলির মুখে নিজের জীবনের কথা না ভেবে বন্ধুর দুই শিশুকন্যাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ বলছে, ম্যাকডোনাল্ডের সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র ছিল না এবং ঘটনাটি ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে।   বুধবার বিকেলে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলের মেরিল্যান্ডস ওয়েস্টের ব্রুস স্ট্রিটের একটি বাড়ির সামনে গুলিতে নিহত হন ম্যাকডোনাল্ড। তিনি পেশায় বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, একটি চুরি যাওয়া ধূসর অডি গাড়িতে থাকা বন্দুকধারীরা ওই বাড়ির সামনে এসে গুলি চালায়। ম্যাকডোনাল্ড মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ম্যাকডোনাল্ড তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নিক ব্রাউন এবং ব্রাউনের দুই ছোট মেয়ের সঙ্গে বাড়িটির সামনে ছিলেন। গুলি শুরু হলে তিনি শিশুদের সামনে নিজেকে আড়াল হিসেবে দাঁড় করান। পরিবারের সদস্য ডার্লিন নর্টন জানিয়েছেন, তাঁর ভাগনে এমনই ছিলেন। বিপদে কাউকে দেখলে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে সামনে দাঁড়াতেন তিনি।   ব্রাউন নর্টন পরিবারকে পাঠানো এক বার্তায় ম্যাকডোনাল্ডকে তাঁর নিজের ও সন্তানদের ‘অভিভাবক দেবদূত’ হিসেবে স্মরণ করেছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনেরা বলেন, তাঁর শেষ কাজটিও ছিল অন্যদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা।   ঘটনার তদন্তে পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেছে। এতে একটি ধূসর অডি গাড়িকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখা গেছে। পুলিশের ধারণা, হামলাকারীরা যে ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেছিল, ম্যাকডোনাল্ড সম্ভবত সেই ব্যক্তি ছিলেন না। যে বাড়িতে তিনি গিয়েছিলেন, সেটির সঙ্গে অপরাধজগতের সংশ্লিষ্টতার তথ্য থাকলেও পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ম্যাকডোনাল্ড নিজে সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।   ম্যাকডোনাল্ড হত্যার মাত্র এক দিন আগে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্লেন অ্যালপাইনে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে। ৩১ আগস্ট ভোরে মুখোশধারী কয়েকজন একটি বাড়িতে ঢুকে ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মার্কো তাপিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। তাপিয়াও অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সেই ঘটনাও ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   দুই ঘটনার মধ্যে মাত্র প্রায় ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধান থাকায় সিডনিতে সংগঠিত অপরাধীদের সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পুলিশের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এসব হামলার পেছনে একই অপরাধী চক্র বা বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা।   ম্যাকডোনাল্ডের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁর খালা ডার্লিন নর্টন অভিযোগ করেন, হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি দীর্ঘ সময় ওই এলাকায় অবস্থান করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে আগে থেকে পুলিশি টহল বাড়ানো হলে হয়তো ঘটনাটি ঠেকানো সম্ভব হতো বলে তাঁর ধারণা।   তবে নিউ সাউথ ওয়েলসের সরকার ও পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা কাজ করছে। পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন জানিয়েছেন, সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আদালতের মুখোমুখি করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীদের নির্দেশে স্থানীয় তরুণদের ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে কি না।   এদিকে ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনেরা তাঁকে পরিশ্রমী, সদয় ও পরিবারপ্রিয় মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। তাঁর খালা জানিয়েছেন, মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। জবাবে ম্যাকডোনাল্ড লিখেছিলেন, দেখা হওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি। সেই সাক্ষাৎ আর হয়নি।   পুলিশ এখনো দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তদন্তকারীরা হামলাকারীদের শনাক্ত করতে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করছেন।   সূত্র: ডেইলি মেইল, এবিসি নিউজ ও ৭নিউজ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
নিহত মেডিকেল শিক্ষার্থী মার্কো তাপিয়া। ছবি: সংগৃহীত
গ্যাংস্টারদের টার্গেট ছিল অন্য কেউ, ভুল পরিচয়ে নিজ বাড়িতে খুন হলেন নিরপরাধ মেডিকেল শিক্ষার্থী

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত তরুণ মার্কো তাপিয়া একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী ও স্থানীয় চার্চের যুবনেতা ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাটিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবে তদন্ত করছে। তবে তিনি ভুল পরিচয়ের কারণে হামলার শিকার হয়েছিলেন কি না, সেটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।   মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ভোর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্লেন অ্যালপাইনের মাউন্ট সুগারলোফ ড্রাইভের একটি বাড়িতে তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি ঢুকে পড়ে। বাড়িটিতে তখন মার্কো, তার মা-বাবা ও বোন ছিলেন। হামলাকারীরা গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে জরুরি পরিষেবার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ভেতরে গুলিবিদ্ধ এক তরুণকে দেখতে পান। তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ প্রথম দিকে তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি এবং জানিয়েছিল, নিহতের বয়স ২০-এর কোঠায়। পরে সংবাদমাধ্যমগুলো তার পরিচয় মার্কো তাপিয়া হিসেবে প্রকাশ করে।   ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কো তখন নিজের ঘরে বিছানায় ছিলেন। হামলাকারীরা তাকে গুলি করে ঘাড় ও হাতে আঘাত করে। ঘটনাটি এমন একটি বাড়িতে ঘটেছে, যেখানে পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। মার্কোর পরিবার সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি কোনো অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পুলিশের কাছে তার পরিচিতি ছিল একটি ছোটখাটো ট্রাফিক অপরাধের কারণে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অপরাধের রেকর্ড থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি।   শিক্ষাজীবনেও মার্কোর সামনে ছিল উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। তিনি ২০২৪ সালে মেডিকেল ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আরেকটি স্নাতক কোর্স শুরু করেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিকেন্দ্রিক অস্ত্রোপচার প্রযুক্তি নিয়ে একটি ইন্টার্নশিপেও যুক্ত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন মার্কো। প্রকৌশল বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। স্থানীয় হিলসং চার্চেও যুবনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।   হিলসং চার্চের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দলও সম্প্রতি একটি পুরস্কার পেয়েছিল। গুরুতর পেশির ক্ষতির চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য একটি বিশেষ কাঠামো তৈরির প্রকল্পে কাজ করেছিলেন মার্কো ও তার দল। প্রায় এক মাস আগে ওই প্রকল্পের সাফল্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার পর মার্কোকে ভুল ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হত্যার শিকার করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার কিছুক্ষণ পর সিডনির ‘কোকোনাট কার্টেল’ নামে পরিচিত একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে এমন একটি বার্তা প্রকাশ করা হয়, যাতে ভুল ব্যক্তি ও ভুল বাড়িতে হামলার ইঙ্গিত ছিল।   তবে ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, পুলিশ এখনো নিশ্চিত করেনি। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট গ্রেচিন অ্যাটকিনস জানিয়েছেন, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে সব সম্ভাবনাই বিবেচনা করা হচ্ছে। পুলিশ এখনো ঘটনাটিকে একটি লক্ষ্যভিত্তিক হামলা হিসেবে দেখছে। সিডনিতে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতকে ঘিরে একাধিক গুলির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ‘কোকোনাট কার্টেল’ এবং আলামেডিন অপরাধী নেটওয়ার্কের মধ্যে সংঘাতের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার এবিসি জানিয়েছে, দুই পক্ষের সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক গুলির ঘটনা ও সহিংসতার তদন্ত করছে পুলিশ।   মার্কোর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই সংঘাতের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ। পুলিশ অবশ্য এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠীকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করেনি এবং কাউকে গ্রেপ্তারের কথাও জানায়নি। ঘটনার পর মাউন্ট সুগারলোফ ড্রাইভের ওই বাড়িটিকে অপরাধস্থল হিসেবে ঘিরে রাখা হয়। স্টেট ক্রাইম কমান্ডের হত্যাকাণ্ড তদন্তকারী দল স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে মিলে আলামত সংগ্রহ করছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছে। ঘটনার সময় ওই এলাকায় থাকা কোনো ব্যক্তি সন্দেহজনক গাড়ি, মানুষ বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড দেখে থাকলে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, তথ্য থাকলে ক্রাইম স্টপার্সে ১৮০০ ৩৩৩ ০০০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। দেওয়া তথ্য গোপন রাখা হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেশীদের কাছে ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, কারণ গ্লেন অ্যালপাইনের ওই আবাসিক এলাকা সাধারণত শান্ত বলেই পরিচিত। ডেইলি মেইলের সঙ্গে কথা বলা এক প্রতিবেশী জানান, কাছাকাছি বাড়িতে গুলির ঘটনা ঘটলেও তারা কোনো শব্দ শুনতে পাননি এবং পরে খবর দেখে ঘটনাটি নিজেদের রাস্তায় ঘটেছে বলে জানতে পারেন।   একই সময়ে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত ঘিরে পুলিশের নজরদারি বাড়ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক গুলির ঘটনা এবং লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব সংঘাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। তবে মার্কো তাপিয়ার হত্যাকাণ্ডে তার নিজের কোনো অপরাধী সংশ্লিষ্টতা ছিল, এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্ত এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে। নিহত তরুণের পরিচয়, হামলার উদ্দেশ্য এবং হামলাকারীদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।   সূত্র: নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ, অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এবিসি), ডেইলি মেইল

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সাধারণ স্টুডেন্ট ভিসা ও গ্র্যাজুয়েট ভিসার আবেদন ফি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট ভিসার ফি দ্বিগুণ হয়ে ৫ হাজার ৭৫০ ডলার, শিক্ষার্থী ভিসায় ২ হাজার ৫০০

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটদের ভিসা খরচ আবারও বেড়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসা, সাবক্লাস ৪৮৫-এর আবেদন ফি ৪ হাজার ৬০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৭৫০ ডলার হয়েছে। একই সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ভিসা, সাবক্লাস ৫০০-এর আবেদন ফি ২ হাজার ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৫০০ ডলার।   চলতি বছরেই গ্র্যাজুয়েট ভিসার ফি দ্বিতীয়বার বাড়ানো হলো। ১ মার্চ ২০২৬-এ এই ভিসার ফি ২ হাজার ৩০০ ডলার থেকে দ্বিগুণ হয়ে ৪ হাজার ৬০০ ডলারে উঠেছিল। মাত্র চার মাস পর, ১ জুলাই থেকে তা আরও ১ হাজার ১৫০ ডলার বাড়িয়ে ৫ হাজার ৭৫০ ডলার করা হয়েছে। অর্থাৎ বছরের শুরু থেকে ফি বেড়েছে ১৫০ শতাংশ।    টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসা অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা শেষ করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। এই ভিসার মাধ্যমে যোগ্য গ্র্যাজুয়েটরা পড়াশোনা শেষে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। নতুন ফি অনেক শিক্ষার্থীর জন্য তাই বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।    শিক্ষার্থী ভিসার ক্ষেত্রেও ১ জুলাই থেকে ফি ২৫ শতাংশ বেড়েছে। সাধারণ সাবক্লাস ৫০০ ভিসার মূল আবেদনকারীর জন্য নতুন ফি ২ হাজার ৫০০ ডলার। তবে কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিক ও কিছু বিশেষ ধরনের কোর্সের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাড় বা আলাদা ফি কাঠামো রয়েছে।   অস্ট্রেলিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভিসা আবেদন ফি সময় সময় পরিবর্তিত হতে পারে এবং আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ অনুযায়ী প্রযোজ্য ফি নির্ধারিত হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ভিসার সর্বশেষ ফি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   নতুন এই ফি বৃদ্ধির ফলে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা শেষে কাজ ও ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়ার খরচ আরও বেড়ে গেল। বিশেষ করে একই বছরে গ্র্যাজুয়েট ভিসার ফি দুই দফা বাড়ায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
নিজের বাড়ি ভেবে ১১ বছর ধরে বাবা-মাকে কিস্তির টাকা দিয়ে আসছিলেন মেয়ে ব্রায়ানা লেন। ছবি: সংগৃহীত
বাড়ির কিস্তি ভেবে বাবা-মাকে দিলেন ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার, ১১ বছর পর জানলেন তিনি নাকি শুধু ভাড়াটিয়া

অস্ট্রেলিয়ার পার্থে নিজের বাবা-মায়ের কেনা বাড়ির মালিক হওয়ার আশায় ১১ বছরে তাদের ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি দিয়েছিলেন এক নারী। কিন্তু এক দশকেরও বেশি সময় পর বাবা-মা জানালেন, তিনি বাড়িটির মালিক নন, কেবল ভাড়াটিয়া। শেষ পর্যন্ত বাড়িটি বিক্রি ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হলেও পুরোপুরি সফল হননি ওই নারী। তবে বিক্রির পর পাওয়া অর্থের একটি অংশের ওপর তার দাবি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আদালত।   ব্রিয়ানা লেন নামের ওই নারী পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সুপ্রিম কোর্টে বাবা অ্যালান ব্রিগস ও মা ওয়েন্ডি ব্রিগসের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। তার দাবি, ২০১৪ সালে বাবা-মায়ের সঙ্গে একটি মৌখিক সমঝোতা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, বাবা-মা তাদের নামে বাড়ি কিনবেন এবং তিনি ও তার স্বামী প্রতি মাসে অর্থ পরিশোধ করবেন। একসময় বাড়িটির মালিকানা তাদের কাছে চলে যাওয়ার কথা ছিল।   বাবা-মায়ের বক্তব্য অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, তারা মেয়েকে বাড়িতে থাকার সুযোগ দিয়েছিলেন ভাড়াটিয়া হিসেবে। বাড়িটি কখনো তার নামে দেওয়ার কোনো লিখিত বা মৌখিক চুক্তি তারা করেননি। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি লারিসা স্ট্রকের সাম্প্রতিক রায়ে দুই পক্ষের এই ভিন্ন বক্তব্য উঠে এসেছে। ঘটনার শুরু ২০১৪ সালে। তখন ব্রিয়ানা ও তার স্বামী বেন লেন আর্থিক সংকটে ছিলেন এবং পার্থের ক্ল্যারমন্ট এলাকায় যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন, সেটি হারানোর আশঙ্কায় ছিলেন বলে আদালতকে জানান ব্রিয়ানা।   তার দাবি, ওই সময় তিনি বাবা-মায়ের কাছে নিজেদের জন্য একটি বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সহায়তা চান। বাবা তাদের ঋণের জামিনদার হতে রাজি না হয়ে নিজের নামে বাড়ি কেনার প্রস্তাব দেন। ব্রিয়ানার ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িটির ঋণের মাসিক কিস্তি তারা পরিশোধ করবেন এবং ভবিষ্যতে বাড়িটির মালিকানা তাদের হবে। এরপর ২০১৪ সালের নভেম্বরে অ্যালান ও ওয়েন্ডি ব্রিগস পার্থের সোয়ানবোর্ন এলাকায় তিন শয়নকক্ষের একটি বাড়ি কেনেন। বাড়িটির দাম ছিল প্রায় ১১ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার। বাড়িটি কটেসলো বিচের কাছাকাছি একটি অভিজাত এলাকায় অবস্থিত। পরের মাস থেকেই ব্রিয়ানা ও তার স্বামী সেখানে বসবাস শুরু করেন এবং অর্থ পরিশোধ করতে থাকেন।   ব্রিয়ানার হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি ৬৯টি মাসিক কিস্তিতে মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০ ডলার দেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় কিস্তি চালিয়ে যেতে তিনি নিজের অবসরকালীন সঞ্চয় থেকে আরও ১০ হাজার ডলার তোলেন।   এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্তও তিনি নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন। ব্যাংক লেনদেনের বিবরণে অনেক ক্ষেত্রে এসব অর্থের পাশে ‘মর্টগেজ’ বা বাড়ির ঋণের কিস্তি লেখা ছিল। ওই সময় তিনি মোট ২ লাখ ৫৩ হাজার ৪৬২ ডলার দিয়েছেন বলে আদালতকে জানান। বাড়িতে অগ্নিকুণ্ড স্থাপন, বৈদ্যুতিক কাজ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন কাজে ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে আরও ১৯ হাজার ৮০ ডলার খরচ করার দাবিও করেন তিনি।   তবে বাবা-মায়ের দাবি, ওই অর্থ বাড়ির মালিকানা পাওয়ার জন্য দেওয়া হয়নি। তারা বলছেন, মেয়ে কখনো কখনো ভাড়া হিসেবে অর্থ পাঠাতেন, আবার কোনো কোনো মাসে কিছুই দিতেন না। কিছু সময়ে মাসিক ভাড়া মাত্র ৩৩৪ ডলার পর্যন্ত নেমে এসেছিল এবং একপর্যায়ে প্রায় ৫ হাজার ৩০০ ডলার ভাড়া বকেয়াও হয়েছিল। ব্রিগস দম্পতির দাবি, বাড়িটি তারা ১২ বছরের সুদভিত্তিক ঋণে কিনেছিলেন। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তারা মূল ঋণ কমানোর পরিবর্তে মূলত সুদ পরিশোধ করছিলেন। তাদের মাসিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ হাজার ৫০০ ডলার।   বিরোধটি প্রকাশ্যে আসে ২০২৪ সালে। তখন অ্যালান ব্রিগস তার মেয়েকে জানান, বাড়িটি তারই মালিকানাধীন এবং ব্রিয়ানা সেখানে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকছেন। তিনি একটি আনুষ্ঠানিক ভাড়ার চুক্তি করার কথাও বলেন। পরের বছর অ্যালান জানান, তারা বাড়িটি বিক্রি করতে চান। ব্রিয়ানা তখন বাড়ি দেখতে সম্ভাব্য ক্রেতাদের প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বাবা-মায়ের সঙ্গে তার বিরোধ আরও তীব্র হয়।   মামলায় ব্রিয়ানার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বাবার পাঠানো কিছু খুদে বার্তাও। ২০২৪ সালের অক্টোবরে অ্যালান তাকে একটি বার্তায় জানান, বাড়ি বিক্রির পর বিনিয়োগ করার বা কোনো ঘাটতি পূরণের জন্য তার হাতে অর্থ থাকবে। কয়েক সপ্তাহ পর আরেক বার্তায় তিনি বাড়ি বিক্রির পর মেয়েকে অর্থ দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও বাড়ি বিক্রি ও সেই অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি ব্রিয়ানাকে একটি প্রস্তাব দেন। আদালতে এসব বার্তা দুই পক্ষের সম্পর্ক ও বাড়ির অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার প্রমাণ হিসেবে উঠে আসে।   ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ব্রিগস দম্পতি বাড়িটির জন্য একজন ক্রেতার প্রস্তাব গ্রহণ করেন। রায়ে বিক্রয়মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। তবে সম্পত্তির বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন সম্পত্তি-তথ্যভিত্তিক সূত্রে ধারণা করা হয়েছে। অর্থাৎ ২০১৪ সালে কেনার সময়ের তুলনায় বাড়িটির মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এরপর ৯ জুলাই ব্রিয়ানা অর্থ পরিশোধ বন্ধ করেন। একই মাসে তিনি বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং বাড়ি বিক্রি ঠেকাতে সম্পত্তির ওপর বিশেষ আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন জানান।   বিচারপতি স্ট্রক বলেন, ব্রিয়ানার দাবি এমন একটি গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে, যা বিচার করার মতো। তবে এই পর্যায়ে তার দাবিকে খুব শক্তিশালী বলা যাচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে বাড়িটির মালিকানা নিয়ে কে সঠিক, তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের জন্য আলাদা আইনি কার্যক্রম প্রয়োজন হবে। আদালত শেষ পর্যন্ত বাড়ি বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। বিচারপতির মতে, বাড়িটি বিক্রি করা এবং বিক্রির অর্থের মধ্যে যেকোনো বিতর্কিত অধিকার সংরক্ষণ করাই দুই পক্ষের স্বার্থের জন্য বেশি উপযোগী।   এর একটি বড় কারণ ছিল বাবা-মায়ের বাড়ির ঋণের চাপ। আদালতকে জানানো হয়, বাড়িটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিক্রি না হলে ঋণের মাসিক পরিশোধের পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তাদের মাসিক পরিশোধের চাপ ১৩ হাজার ৫১৩ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আদালতে তুলে ধরা হয়। ব্রিগস দম্পতির বক্তব্য ছিল, তারা যদি বাড়িটি বিক্রি করতে না পারেন এবং ঋণের পুরো দায় বহন করতে হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়তে পারেন।   তবে আদালত ব্রিয়ানার দাবি পুরোপুরি বাতিল করেনি। বিচারপতি স্ট্রক বলেছেন, বাড়ি বিক্রির পর ঋণ, বিক্রয়সংক্রান্ত খরচ এবং মূলধন লাভ কর পরিশোধের পর আনুমানিক ৮ লাখ ডলার অবশিষ্ট থাকতে পারে। ওই অর্থের ওপর ব্রিয়ানার কোনো আইনগত দাবি আছে কি না, তা পরবর্তী মামলায় নির্ধারণ করা হবে। এ জন্য ব্রিয়ানাকে ২১ দিনের মধ্যে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি বিক্রির পর অবশিষ্ট অর্থ আদালতের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে।   অর্থাৎ, আপাতত বাড়ি বিক্রির পথ খুলে গেলেও ১১ বছর ধরে দেওয়া ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি অর্থের পুরো বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না। বাড়িটির মালিকানা নিয়ে বাবা-মেয়ের বিরোধ এবং ব্রিয়ানার অর্থ ফেরত বা বিক্রয়লব্ধ অর্থের অংশ পাওয়ার দাবি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।   সূত্র: ডেইলি মেইল ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সুপ্রিম কোর্টের রায়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক লোরেনা স্টেফানির সঙ্গে ভারতের রাবেক
বিমানবন্দরে ট্যাক্সি যাত্রা থেকে প্রেম-বিয়ে, ভিসা জটিলতায় এখন দুই দেশে আলাদা অস্ট্রেলিয়ান-ভারতীয় দম্পতি

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক লোরেনা স্টেফানির সঙ্গে ভারতের রাবেকের পরিচয় হয় মাদুরাই বিমানবন্দরে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিমানবন্দর থেকে যাতায়াতের সময় রাবেক তাকে গাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। সেখান থেকে শুরু হওয়া পরিচয় ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব এবং পরে সম্পর্কে গড়ায়। বর্তমানে তারা বিবাহিত এবং একটি সন্তানের বাবা-মা। তবে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা জটিলতার কারণে স্বামী-স্ত্রীকে এখনো স্থায়ীভাবে একসঙ্গে বসবাসের সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।   টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরাই বিমানবন্দর থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার যাত্রাপথেই লোরেনা ও রাবেকের মধ্যে প্রথম ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়। এরপর দুজনের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির হলেও সম্পর্কটি ধীরে ধীরে গভীর হয় এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।   তাদের বিয়ের ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যও একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। রাবেক মুসলিম এবং লোরেনা ক্যাথলিক। দুই পরিবারের মধ্যেও শুরুতে ধর্ম ও সংস্কৃতির পার্থক্য নিয়ে উদ্বেগ ছিল। শেষ পর্যন্ত তারা ভারতের স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের অধীনে আইনগতভাবে বিয়ে করেন।   বিয়ের পরও তাদের একসঙ্গে বসবাসের পথ সহজ হয়নি। লোরেনা অস্ট্রেলিয়ায় নিজের পরিবার ও পেশাগত জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সেখানে থাকেন, আর রাবেক ভারতে অবস্থান করছেন। অস্ট্রেলিয়ায় স্বামীর যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পার্টনার ভিসার প্রক্রিয়া এখনো তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে আছে।   এর মধ্যেই তাদের ঘরে আসে সন্তান। লোরেনা অস্ট্রেলিয়ায় সন্তান জন্ম দিলেও ভিসা না থাকায় রাবেক সেই সময় সেখানে যেতে পারেননি। ফলে সন্তানের জন্মের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাবাকে পাশে পায়নি পরিবারটি। পরে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সম্পন্ন হওয়ার পর রাবেক তার সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারেন।   বর্তমানে লোরেনা ও রাবেককে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সময় ভাগ করে চলতে হচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার পার্টনার ভিসা প্রক্রিয়া শেষ করে শেষ পর্যন্ত একই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা।   এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক ব্যয়ও জড়িত। অস্ট্রেলিয়ার পার্টনার ভিসার সরকারি আবেদন ফি বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার ৭০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। এর বাইরে আইনজীবী বা মাইগ্রেশন এজেন্টের সহায়তা নিলে অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। তবে লোরেনা ও রাবেকের ক্ষেত্রে মোট খরচ ঠিক কত হয়েছে, তা নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   লোরেনা অস্ট্রেলিয়ায় তার পরিবার ও প্রতিষ্ঠিত পেশাগত জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পুরোপুরি ভারতে চলে যাওয়ার বিষয়েও দ্বিধায় রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাদের জন্য সমস্যাটি শুধু ভিসার নয়, বরং কোথায় পরিবার হিসেবে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গেও জড়িত।   তাদের গল্পটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তঃদেশীয় প্রেম, বিয়ে, ধর্ম ও সংস্কৃতির পার্থক্য এবং অভিবাসন ব্যবস্থার জটিলতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি বিমানবন্দরের সাধারণ যাত্রা থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক কীভাবে দুই দেশের সীমানা পেরিয়ে বিয়ে ও পরিবারে রূপ নিয়েছে, সেই গল্পই এখন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গল্পটির কিছু নির্দিষ্ট তথ্য, যেমন সম্পর্ক আনুষ্ঠানিক হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ বা সন্তানের নাম, নির্ভরযোগ্য সূত্রে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় সেগুলো নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
নিখোঁজ হওয়ার আট দিন পর অস্ট্রেলিয়ার নাত্তাই জাতীয় উদ্যান থেকে লিলি হুপারের মরদেহ উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত
আট দিন পর নিখোঁজ অস্ট্রেলীয় তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, জীবিত থাকার ভুল খবরে পরিবারে শোক

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের নাত্তাই জাতীয় উদ্যানে এককভাবে পাহাড়ি পথে হাঁটতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ১৮ বছর বয়সী লিলি হুপারের মরদেহ আট দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মর্মান্তিক এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা মরদেহ উদ্ধারের পর ভুল যোগাযোগের কারণে কিছু সময়ের জন্য তার পরিবারকে জানানো হয়েছিল, লিলিকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে সেই তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়।   লিলি হুপার ১২ আগস্ট সকালে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওকডেল এলাকার বাড়ি থেকে একা পাহাড়ি পথে হাঁটতে বের হন। তার গন্তব্য ছিল সিডনি থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নাত্তাই জাতীয় উদ্যানের বন ও পাহাড়ি এলাকা। পুলিশ জানিয়েছিল, সেদিন সকালে তিনি বনাঞ্চল থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন। পরে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।   সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবার তাকে নিখোঁজ ঘোষণা করে। রাত প্রায় ১১টার দিকে উদ্ধারকারী দল নাত্তাই জাতীয় উদ্যানের বোনাম পিক হাঁটার পথের কাছে ওয়াংগান্ডেরি রোডে তার গাড়িটি খুঁজে পায়। গাড়ি পাওয়া গেলেও লিলির কোনো সন্ধান মিলছিল না।এরপর শুরু হয় ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ, রাজ্য জরুরি পরিষেবা, অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী, বন ও জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থা এতে অংশ নেয়।    পরে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও অভিযানে যোগ দেন। ড্রোন, হেলিকপ্টার, বিশেষ উদ্ধারকারী দল, প্রশিক্ষিত কুকুর, ঘোড়া ও ট্রেইল বাইক ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়।   নাত্তাই জাতীয় উদ্যানের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ঘন বন, খাড়া ঢাল ও দুর্গম পথের কারণে অভিযান পরিচালনা করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও লিলির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।   অবশেষে ২০ আগস্ট অনুসন্ধানকারী দলের সদস্যরা বনাঞ্চলের ভেতর একটি মরদেহ খুঁজে পান। পুলিশ জানায়, মরদেহটি লিলি হুপারের বলে ধারণা করা হচ্ছে; তবে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্তকরণ ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া তখনও সম্পন্ন হয়নি। তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণও তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। প্রাথমিকভাবে পুলিশ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো ইঙ্গিতের কথা জানায়নি।   মরদেহ উদ্ধারের পরই ঘটে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি। অনুসন্ধান দলের সঙ্গে যোগাযোগের সময় ব্যবহৃত একটি বার্তা ভুলভাবে বোঝা হয়। উদ্ধার অভিযানের সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করার জন্য ব্যবহৃত সংকেত বা কোডের অর্থ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে এমন তথ্য পৌঁছে যায় যে লিলিকে জীবিত পাওয়া গেছে। সেই তথ্য তার পরিবারকেও জানানো হয়।   এরপর নিউ সাউথ ওয়েলসের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস মিনসও সংসদে লিলিকে জীবিত উদ্ধারের খবর ঘোষণা করেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জানতে পারেন, আগের তথ্যটি সঠিক ছিল না। পরে তিনি প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পরিবারের কাছে ক্ষমা চান।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুল খবরটি জানার পর লিলির পরিবার কয়েক মিনিটের জন্য ভেবেছিল তাদের মেয়ে জীবিত অবস্থায় ফিরে এসেছে। এরপর প্রকৃত খবর জানার পর সেই আশাই পরিণত হয় গভীর শোকে।    নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশও স্বীকার করেছে যে যোগাযোগের ভুলের কারণে পরিবারকে প্রথমে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। লিলির পরিবার পুরো অনুসন্ধান অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ, জরুরি সেবাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও অন্যান্য উদ্ধারকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। আট দিন ধরে শত শত মানুষ দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন।   ঘটনাটি এখন শুধু লিলির মর্মান্তিক মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের বিষয়েই সীমাবদ্ধ নেই; অনুসন্ধান অভিযানের সময় কীভাবে ভুল তথ্য তৈরি হলো এবং যাচাই না করেই তা কীভাবে পরিবার ও জনসমক্ষে পৌঁছে গেল, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুতর যোগাযোগ বিভ্রাট এড়াতে প্রক্রিয়া পর্যালোচনার কথাও বলা হয়েছে।   লিলি হুপারের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়াজুড়ে শোকের সৃষ্টি করেছে। আট দিনের দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তার পরিবারের জন্য সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা হলো;যে মুহূর্তে তারা মেয়েকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা করেছিলেন, তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই আশার জায়গা নিয়েছে এক অপূরণীয় শোক।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম মসজিদে লাউডস্পিকারে আজানের প্রস্তাব বাতিল
তীব্র আপত্তির মুখে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম মসজিদে লাউডস্পিকারে আজানের প্রস্তাব বাতিল

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বা মসজিদ থেকে প্রতি শুক্রবার লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই মসজিদের মিনারে চারটি লাউডস্পিকার বসানোর জন্য করা আবেদনটির বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬০০টির বেশি আপত্তি জমা পড়েছে। অন্যদিকে প্রস্তাবের পক্ষে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের পিটিশনে ৫ হাজারের বেশি মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন।   সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাকেম্বায় অবস্থিত মসজিদটির পরিচালনাকারী লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন চলতি বছরের মে মাসে ক্যান্টারবুরি-ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলে নতুন ডেভেলপমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন জমা দেয়। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্ল্যানিং পোর্টালেও আবেদনটি নথিভুক্ত রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মসজিদের প্রায় ২০ মিটার উঁচু মিনারে চারটি লাউডস্পিকার স্থাপন করা হবে।   পরিকল্পনাটি মূলত শুক্রবারের জুমার নামাজের আগে আজান প্রচারের জন্য। তবে আজান কতক্ষণ এবং কত দূর পর্যন্ত শোনা যাবে, তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে দেওয়া তথ্যে পার্থক্য রয়েছে। লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক পিটিশনে সপ্তাহে একবার শুক্রবার দুপুরে সর্বোচ্চ তিন মিনিট আজান প্রচারের কথা বলা হয়েছে। শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।   মসজিদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রস্তাবিত আজান স্থানীয় মুসলিমদের ধর্মীয় প্রয়োজন ও লাকেম্বার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। তারা বলছে, শব্দের মাত্রা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে যাতে আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর অযৌক্তিক প্রভাব না পড়ে।   তবে কাউন্সিলের কাছে জমা পড়া বিপুলসংখ্যক আপত্তিতে শব্দদূষণ, আবাসিক এলাকার শান্ত পরিবেশ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের আবেদনের নজির তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। ক্যান্টারবুরি-ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলও শব্দের মাত্রা নিয়ে জমা দেওয়া বিভিন্ন মূল্যায়নের অসঙ্গতিসহ কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতে স্বাধীন অ্যাকুস্টিক পর্যালোচনাও করা হয়েছে।   কাউন্সিলর বারবারা কুরি প্রস্তাবটির অন্যতম বিরোধী। তার বক্তব্য, বিতর্কটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং আবাসিক ও কর্মসংস্থান এলাকায় বাইরে থেকে উচ্চ শব্দ প্রচারের ক্ষেত্রে একই নিয়ম নিশ্চিত করার বিষয়। তিনি ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে বাইরে প্রচারিত শব্দ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পরিকল্পনা বিধিমালা পরিবর্তনের প্রস্তাবও দিয়েছেন।   এটি লাকেম্বা মসজিদের প্রথম আবেদন নয়। ২০২৫ সালে একই মসজিদের মিনারে চারটি লাউডস্পিকার বসিয়ে প্রতি শুক্রবার আজান প্রচারের একটি আবেদন করা হয়েছিল। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্ল্যানিং পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, সেই আবেদন ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট স্থানীয় প্ল্যানিং প্যানেল প্রত্যাখ্যান করে। সে সময় জনমত গ্রহণে পাওয়া ৩২৯টি মতামতের মধ্যে ৩২৮টিই প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিল।   এরপর ২০২৬ সালে সংশোধিত পরিকল্পনা নিয়ে আবার আবেদন করেছে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন। নতুন আবেদনটির নম্বর ডিএ-৫১৮/২০২৬। সরকারি প্ল্যানিং পোর্টালে আবেদনটির অবস্থা এখনো বিবেচনাধীন হিসেবে দেখানো হচ্ছে।   বর্তমান আবেদন নিয়ে বিতর্কের একদিকে রয়েছে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সমান সুযোগের প্রশ্ন, অন্যদিকে রয়েছে আবাসিক এলাকার শব্দ ও জনস্বাচ্ছন্দ্য রক্ষার দাবি। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে শব্দের মাত্রা, আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং স্থানীয় পরিকল্পনা বিধি বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
Australia’s Muslim population
অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত বাড়ছে ইসলামী অর্থনীতি, মুসলিমদের ব্যয় ছুঁতে পারে ৯ বিলিয়ন ডলার

অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে ইসলামী অর্থনীতি। দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদাকে কেন্দ্র করে হালাল খাদ্য, পর্যটন, পোশাক, প্রসাধনী, ওষুধ, গণমাধ্যম ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে তৈরি হচ্ছে বড় বাজার। একটি জাতীয় প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ ব্যয় প্রায় ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে।   ‘দ্য স্টেট অ্যান্ড ফিউচার অব দ্য অস্ট্রেলিয়ান ইসলামিক ইকোনমি রিপোর্ট’-এ দেশটির ইসলামী অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, মুসলিমদের ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে এখন আর ছোট বা বিশেষায়িত বাজার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তর অর্থনীতির একটি পরিমাপযোগ্য ও ক্রমবর্ধমান অংশে পরিণত হচ্ছে।   এই বাজার সম্প্রসারণের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর আকার ও তাদের ক্রমবর্ধমান ক্রয়ক্ষমতা। প্রতিবেদনে বর্তমানে দেশটিতে ১০ লাখের বেশি মুসলিম বসবাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাস, ভ্রমণ, পোশাক, আর্থিক সেবা ও জীবনযাপনের বিভিন্ন চাহিদাকে কেন্দ্র করে নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।   সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোর একটি মুসলিমবান্ধব পর্যটন। প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম পর্যটকদের ব্যয় ১৭০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই খাতে বার্ষিক যৌগিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। ফলে হালাল খাবার, নামাজের সুবিধা ও মুসলিমবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করতে পারলে পর্যটন খাতে আরও বড় বাজার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।   হালাল প্রসাধনী ও ওষুধের বাজারেও উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণের কথা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। গত পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়ার হালাল প্রসাধনী খাতে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে হালাল ওষুধের বাজার প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ হালাল ধারণাটি শুধু খাদ্যপণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যক্তিগত পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ নতুন নতুন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে।   অস্ট্রেলিয়ার জন্য ইসলামী অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হালাল পণ্য রফতানি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের হালাল পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করে। এর প্রায় ৯৭ শতাংশই খাদ্যপণ্য। বিশেষ করে হালাল মাংস রফতানিতে অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান করছে।   এই রফতানি বাজার অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশে হালাল খাদ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বের ১২তম বৃহত্তম হালাল পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় মুসলিম ভোক্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক হালাল বাজারও দেশটির কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রফতানি খাতের সামনে বড় সুযোগ তৈরি করছে।   তবে সম্ভাবনার তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার ইসলামী অর্থায়ন খাত এখনো অপেক্ষাকৃত ছোট। প্রতিবেদনে এই খাতে প্রায় ১০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্পদ ও তহবিল থাকার কথা বলা হয়েছে। শরিয়াহসম্মত বাড়ি কেনার অর্থায়ন, বিনিয়োগ ও অন্যান্য আর্থিক পণ্যের চাহিদা থাকলেও প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে নিয়ন্ত্রক ও কাঠামোগত পার্থক্য এই খাতের দ্রুত সম্প্রসারণে বাধা হয়ে আছে।   প্রতিবেদনে ইসলামী অর্থনীতির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে কয়েকটি ক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরও কার্যকর ও সমন্বিত হালাল সনদব্যবস্থা, ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সমতাভিত্তিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় রফতানি সহায়তা।   অস্ট্রেলিয়ার ইসলামী অর্থনীতির এই সম্প্রসারণ শুধু মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাবৃদ্ধির গল্প নয়। বরং এটি এমন একটি বাজারের বিকাশ, যেখানে ধর্মীয় চাহিদার সঙ্গে পর্যটন, কৃষি, খাদ্য, অর্থায়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সরাসরি যুক্ত হচ্ছে। ফলে মুসলিম ভোক্তাদের জন্য তৈরি পণ্য ও সেবা এখন দেশটির মূলধারার ব্যবসার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সুযোগ হয়ে উঠছে।   ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ ব্যয় থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলারের হালাল রফতানি - পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামী অর্থনীতি আর ছোট কোনো বিশেষায়িত বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। প্রয়োজনীয় নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সহায়তা পাওয়া গেলে আগামী কয়েক বছরে এটি দেশটির আরও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হতে পারে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ায় নতুন নিয়মে ডেলিভারি কর্মীদের জন্য বাড়ছে ন্যূনতম মজুরি ও কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় ডেলিভারি কর্মীদের জন্য সুখবর: ঘণ্টায় সর্বনিম্ন মজুরি ৩১ ডলারের বেশি, মিলবে বিমা সুবিধা

অস্ট্রেলিয়ায় খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ডেলিভারির কাজে যুক্ত গিগ কর্মীদের জন্য এক যুগান্তকারী নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে। নতুন এই নিয়মের আওতায় এসব কর্মীর জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরির চেয়েও বেশি বেতন এবং কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার জন্য বিমা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই নিয়মের ফলে দেশটির অন্তত আড়াই লাখ ডেলিভারি কর্মী সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার শ্রম ও শিল্প খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন' (এফডব্লিউসি) গত মঙ্গলবার গভীর রাতে এই যুগান্তকারী আদেশের অনুমোদন দিয়েছে। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে।   নতুন আদেশ অনুযায়ী, গিগ কর্মীদের প্রতি ঘণ্টায় ন্যূনতম ৩১ দশমিক ৩০ অস্ট্রেলীয় ডলার (যা প্রায় ২২ দশমিক ১১ মার্কিন ডলার) মজুরি দিতে হবে। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি হলো ঘণ্টায় ২৬ দশমিক ৪৪ ডলার। অর্থাৎ, এখন থেকে ডেলিভারি কর্মীরা সাধারণ ন্যূনতম মজুরির চেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।   কাজের সময়ের হিসাব কীভাবে হবে, সেটিও আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে। বলা হয়েছে, একজন কর্মী যখন কোনো কাজের অর্ডার বা ‘জব’ গ্রহণ করবেন এবং সেটি গ্রাহকের কাছে সফলভাবে ডেলিভারি করে শেষ করবেন কেবলমাত্র এই মধ্যবর্তী ‘ব্যস্ত সময়টুকু’ (এনগেজড টাইম) মজুরির হিসাবের আওতায় আসবে।   মজুরির পাশাপাশি কর্মীদের সুরক্ষায় বিমার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন নিয়মে ডেলিভারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের ব্যক্তিগত দুর্ঘটনার জন্য একটি ‘যৌক্তিক ও ন্যূনতম মাত্রার’ বিমা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তবে বিমার আওতা ঠিক কতটুকু হবে, তা আদেশে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। অন্যদিকে, ডেলিভারির কাজে ব্যবহৃত নিজস্ব যানবাহনের ‘থার্ড-পার্টি’ বা তৃতীয় পক্ষের বিমা করার দায়িত্ব আগের মতোই কর্মীদের নিজেদের কাঁধেই থাকছে।   গিগ অর্থনীতিতে কর্মীদের সুরক্ষায় বিশ্বজুড়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ সামনে এল। এর আগে গত জুনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) গিগ কর্মীদের বেতন, নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো একটি বাধ্যতামূলক কর্মসংস্থান মানদণ্ড গ্রহণ করেছিল। আইএলও-এর সেই মানদণ্ডগুলো অবশ্য এখনো বিভিন্ন দেশের সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।   অস্ট্রেলিয়ার ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (টিডব্লিউইউ) ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনের এই আদেশকে দেশের গিগ অর্থনীতির জন্য একটি "ঐতিহাসিক মুহূর্ত" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।   উবার ইটস এবং ডোরড্যাশ-এর মতো শীর্ষস্থানীয় ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে টিডব্লিউইউ-এর জাতীয় সম্পাদক মাইকেল কেইন বলেন, "অস্ট্রেলিয়ায় গিগ কর্মীদের অনেক দিন ধরেই আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক কর্মপরিবেশের সুযোগ-সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছিল। আগামী সোমবার থেকে তারা সম্পূর্ণ বিশ্বমানের একগুচ্ছ অধিকার ও সুবিধা পেতে যাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় করা হবে।"   শুধু রেস্তোরাঁর খাবারই নয়, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহেও যুক্ত হয়েছে উবার ইটস ও ডোরড্যাশ। প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন এই নিয়ম প্রমাণ করে যে কর্মীদের জোরালো সুরক্ষা এবং গিগ কাজের নমনীয়তা দুটি বিষয়ই একসঙ্গে বজায় রাখা সম্ভব।   দীর্ঘদিন ধরেই ট্রেড ইউনিয়ন ও গিগ কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। সাধারণ কর্মীদের মতো সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো এসব গিগ কর্মীকে সাধারণত 'স্বাধীন চুক্তিনামা'র ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে থাকে। ফলে তারা প্রচলিত শ্রম আইনের অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।   এই বৈষম্য দূর করতে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান সেন্টার-লেফট বা মধ্য-বামপন্থী লেবার সরকার ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বেশ কিছু আইন পাস করে। ওই আইনগুলোর মাধ্যমেই মূলত ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনকে গিগ কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি ও বিমার মানদণ্ড নির্ধারণের আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন দেখা গেল এই নতুন আদেশের মাধ্যমে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
চীনের ওপর  খনিজের নির্ভরতা কমাতে অস্ট্রেলিয়ায় ৫৬০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ট্রাম্পের
চীনের ওপর খনিজের নির্ভরতা কমাতে অস্ট্রেলিয়ায় ৫৬০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ট্রাম্পের

চীনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বৈশ্বিক নির্ভরতা কমাতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিয়ারস্টন প্রকল্পসহ অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতের কয়েকটি প্রকল্পে মার্কিন আগ্রহ বাড়ছে।   সিয়ারস্টন প্রকল্পটি নিউ সাউথ ওয়েলসের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এবং সেখানে স্ক্যান্ডিয়ামের বড় মজুত রয়েছে। স্ক্যান্ডিয়াম বিমান, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদন শিল্পে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। প্রকল্পটি পরিচালনা করছে অস্ট্রেলিয়ার সানরাইজ এনার্জি মেটালস।   প্রকল্পটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের চাহিদার কারণে। ২০২৫ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন সিয়ারস্টন প্রকল্প থেকে পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ ১৫ টন স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড কেনার সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি করে। প্রকল্পটির উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমান হতে পারে এই পরিমাণ।   স্ক্যান্ডিয়াম বর্তমানে মূলত চীন, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে সরবরাহ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৯ সালের পর থেকে বাণিজ্যিকভাবে স্ক্যান্ডিয়াম খনন হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই খনিজের বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে অস্ট্রেলিয়ার প্রকল্পগুলো ওয়াশিংটনের কাছে কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে।   সিয়ারস্টন প্রকল্পে উচ্চ বিশুদ্ধতার স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৬০ টন স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়ানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সহযোগিতা সাম্প্রতিক সময়ে আরও জোরদার হয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় চীনের প্রভাব কমানো এবং প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করাই এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।   সিয়ারস্টনের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ডাব্বো অঞ্চলের বিরল মাটি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্প নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ব্যাটারি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, বিমান ও উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে প্রয়োজনীয় খনিজের বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ এখন শুধু বাণিজ্যিক বিষয় নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। তাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্ট্রেলিয়া হয়ে উঠছে চীনের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নির্ভরযোগ্য উৎস গড়ে তোলার অন্যতম অংশীদার।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
টাইট অ্যাকটিভওয়্যার নিয়ে মন্তব্য করে ভাইরাল হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার টিকটকার পপি। ছবি: সংগৃহীত
ব্যায়ামের পোশাক পরে শপিংমলে নারীরা, 'ভদ্রতা' নিয়ে প্রশ্ন তুলে তোপের মুখে তরুণী

প্রকাশ্যে নারীদের আঁটসাঁট বা টাইট ব্যায়ামের পোশাক (অ্যাক্টিভওয়্যার) পরা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের এক নারী। জিমের পোশাক পরে শপিংমল বা রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো শালীনতা পরিপন্থি কি না, তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে রীতিমতো দুই ভাগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই যেমন ওই নারীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন, তেমনি অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ‘নারীবিদ্বেষী’ মানসিকতার অভিযোগ তুলেছেন।   অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ডটকম ডটএইউ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পপি নামের ওই টিকটকার সম্প্রতি কুইন্সল্যান্ডের টাউনসভিলের একটি সুপারমার্কেটের ভেতর থেকে একটি ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে তিনি প্রকাশ্যে নারীদের খুব ছোট শর্টস বা টাইট লেগিংস পরার তীব্র সমালোচনা করেন। পোশাকগুলো নারীদের শারীরিক গঠনকে দৃষ্টিকটুভাবে ফুটিয়ে তোলে বলে দাবি করেন তিনি।   ভিডিওতে পপি বলেন, “যেসব নারী এ ধরনের অ্যাক্টিভওয়্যার বা ছোট শর্টস পরেন, আমি মনে করি এটা দারুণ ব্যাপার। আপনারা আত্মবিশ্বাসী এবং আপনাদের শারীরিক গঠনও সুন্দর। কিন্তু আপনারা কি বুঝতে পারেন যে হাঁটার সময় আপনাদের আঁটসাঁট পোশাকের কারণে গোপনাঙ্গের আকার স্পষ্টভাবে বোঝা যায়? আমাকে এসে বলবেন না যে আমি কেন ওদিকে তাকিয়েছি। কেউ যদি এমন পোশাক পরে আমার দিকে হেঁটে আসে, তাহলে না তাকিয়ে উপায় কী?”   নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে এই টিকটকার পরিস্থিতিটিকে একজন পুরুষের টাইট প্যান্ট পরার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, “এটা অনেকটা এমন যে, একজন পুরুষ খুব টাইট প্যান্ট পরে হেঁটে বেড়াচ্ছেন এবং তার গোপনাঙ্গ স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় থাকে না।”   পপির এই স্পষ্টভাষী ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার মন্তব্য জমা পড়তে থাকে। দর্শকরা এই ইস্যুতে স্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। একদল তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, জনসমক্ষে শালীনতা বজায় রাখার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন মন্তব্যকারী লেখেন, “তিনি একদম ঠিক কথা বলেছেন জনসমক্ষে ভদ্রতা বলে একটা কথা আছে।” আরেকজন লেখেন, “অবশেষে কেউ একজন সত্যি কথাটা বলল। আমি এই নতুন ট্রেন্ডকে ঘৃণা করি, জিমের পোশাক কেবল জিমেই মানায়।” কেউ কেউ প্রকাশ্যে এমন পোশাক পরাকে ‘জঘন্য’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।   তবে অনেকেই পপির এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, পপি নিজেই একজন নারী হয়ে অন্য নারীদের পোশাক নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা অন্তর্নিহিত নারীবিদ্বেষের লক্ষণ। সমালোচনাকারীদের একজন বলেন, “শারীরিক গঠন দেখা যাওয়ার মধ্যে ভুল কিছু নেই। আমরা সবাই এভাবেই পৃথিবীতে এসেছি।”   অন্য একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনার পছন্দ না হলে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকুন এবং নিজের কাজে মন দিন। আমি অনেক কষ্ট করে নিজের শরীর এমন সুন্দর করেছি, কারও কথায় আমি আমার পোশাক পরিবর্তন করব না।” অনেকেই আবার জানান, জিমে ব্যায়াম শেষ করার পর নারীদের অনেক সময় কেনাকাটা করতে দোকানে যেতে হয়। এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন রাখেন, “জিমে ওয়ার্কআউট করার পর কি আমাদের আগে বাড়ি গিয়ে পোশাক বদলাতে হবে? অনেক মেয়েরই ব্যস্ততা থাকে এবং জিম শেষ করেই বাজার করতে হয়।”   পপির মন্তব্যের সঙ্গে মানুষ একমত হোক বা না হোক, তাঁর এই ভিডিওটি অস্ট্রেলিয়ায় মানুষের পোশাক পরার অভ্যাস নিয়ে একটি বড় আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বিশেষ করে 'অ্যাথলিজার' বা ব্যায়াম ও ক্যাজুয়াল পোশাকের মিশ্রণ কীভাবে ধীরে ধীরে দেশটির নাগরিকদের এক প্রকার অঘোষিত দৈনন্দিন পোশাকে পরিণত হয়েছে, সেটিই নতুন করে সামনে এসেছে।   বাণিজ্যিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সিবিআরই-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ট্রেন্ডটি মূলত মানুষের কাজ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের প্রতিফলন। বর্তমানে রিমোট এবং হাইব্রিড কাজের সুযোগ বাড়ায় মানুষ এমন পোশাক খুঁজছে, যা পরে জুম মিটিং থেকে শুরু করে সন্তানদের স্কুল থেকে আনা বা দ্রুত কেনাকাটা সবই স্বাচ্ছন্দ্যে করা যায়।   বিখ্যাত ব্র্যান্ড চোবানি-এর উদ্যোগে পরিচালিত একটি জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, ৬০ বছরের কম বয়সী ৮২ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ান ব্যায়াম, ঘরে অবস্থান বা বাইরে যাওয়ার জন্য সাধারণ পোশাক হিসেবে অ্যাক্টিভওয়্যার পরেন। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা প্রায় প্রতিদিনই এ ধরনের পোশাক পরেন। তাই বিতর্ক যা-ই হোক না কেন, জিমের পোশাক যে এখন দৈনন্দিন ফ্যাশনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ার বিরল খনিজ খনিতে বিনিয়োগের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনে খনি খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার বিরল খনিজ খনিতে ৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর অস্ট্রেলিয়ার একটি কোম্পানিকে স্ক্যান্ডিয়াম খনিজের বিশ্বের প্রথম প্রাথমিক খনি নির্মাণে ৪০ কোটি ডলারের শর্তসাপেক্ষ ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিরক্ষা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ এই বিরল খনিজের সরবরাহে চীনের আধিপত্য থাকায় বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে খনি খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের পর পেন্টাগন এই ঋণ প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দেয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, প্রকল্পটির মাধ্যমে খনি থেকে চূড়ান্ত পণ্য পর্যন্ত পশ্চিমা দেশগুলোর সমন্বিত সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।   অস্ট্রেলিয়ার খনি কোম্পানি সানরাইজ এনার্জি মেটালস জানিয়েছে, নিউ সাউথ ওয়েলসের ফিফিল্ডে প্রস্তাবিত খনিটি পশ্চিমা দেশগুলোর স্ক্যান্ডিয়াম সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির নাম ‘সাইয়ার্সটন স্ক্যান্ডিয়াম প্রকল্প’।   স্ক্যান্ডিয়াম প্রতিরক্ষা খাত, উড়োজাহাজ এবং তথ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত একটি বিরল খনিজ। এটি সাধারণত অন্যান্য খনিজ উত্তোলনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। অ্যালুমিনিয়ামকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নমনীয়তা, তাপ ও ক্ষয় প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়াতে স্ক্যান্ডিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্ক্যান্ডিয়াম ঘনত্ব থাকা অঞ্চলগুলোর একটি। বর্তমানে স্ক্যান্ডিয়ামের সরবরাহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে চীনের আধিপত্য রয়েছে। গত বছর প্রতিরক্ষা পণ্যের ক্ষেত্রে চীন স্ক্যান্ডিয়ামসহ বিরল খনিজের রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন সরবরাহ উৎস খুঁজতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।   চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সহযোগিতা করেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ট্রাম্প ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বিষয়ে একটি চুক্তিতে সই করেন। এতে দুই দেশ বিভিন্ন প্রকল্পে ১০০ কোটি ডলার করে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।   সানরাইজ এনার্জি মেটালস গত বছর মার্কিন প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। ওই চুক্তির আওতায় খনিটি চালু হওয়ার পর প্রথম পাঁচ বছরে উৎপাদিত স্ক্যান্ডিয়ামের ২৫ শতাংশ লকহিড মার্টিনকে সরবরাহ করার কথা রয়েছে।   স্ক্যান্ডিয়াম মহাকাশ প্রযুক্তি এবং পঞ্চম ও ষষ্ঠ প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তিতেও ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। ফলে খনিজটির সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রতিরক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   এদিকে শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ব্যাটারি খাতের একাধিক প্রকল্পে মোট ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। এর লক্ষ্য দেশে এসব পণ্যের উৎপাদন বাড়ানো এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও শিল্পনীতিকে শক্তিশালী করা।   অস্ট্রেলিয়ার স্ক্যান্ডিয়াম প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ কোটি ডলারের শর্তসাপেক্ষ ঋণও একই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীনের নিয়ন্ত্রিত সরবরাহব্যবস্থার বাইরে পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই খনিজের নতুন উৎস তৈরিই প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তাবাস্সুম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
সিডনির গ্লেব এলাকায় অবস্থিত আলোচিত আবাসিক সম্পত্তি। ছবি: সংগৃহীত
‘স্কোয়াটার্স রাইটস’ দেখিয়ে ৪ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি দখল, প্রতারণার দায়ে ৭৮ বছর বয়সী দাদির কারাদণ্ড

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ‘স্কোয়াটার্স রাইটস’ বা অ্যাডভার্স পজেশন আইনের সুযোগ নিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি বাড়ির মালিকানা পাওয়ার ঘটনায় ৭৮ বছর বয়সী মার্গারেট কোলকুহুনকে দুই বছর চার মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার ছেলে অ্যান্ড্রু কোলকুহুনকে ১৮ মাসের কমিউনিটি কারেকশন অর্ডার দেওয়া হয়েছে। তবে মার্গারেটের স্বামী ও সিডনির সাবেক আইনজীবী পিটার কোলকুহুন অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন।   নিউ সাউথ ওয়েলসের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে আলোচিত এ মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সিডনির গ্লেব এলাকার ৬১ বয়েস স্ট্রিটের একটি বাড়ি। আদালতের নথি ও অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্পত্তিটির মালিক ছিলেন আনসিস নিল্যান্ডস। ১৯৯৫ সালে তার মৃত্যুর পর সম্পত্তিটির উত্তরাধিকার নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।   নিউ সাউথ ওয়েলসে অ্যাডভার্স পজেশনের মাধ্যমে কোনো সম্পত্তির মালিকানা দাবি করতে সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে মালিকের অনুমতি ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন ও একচ্ছত্র দখলের প্রমাণ দিতে হয়। এ ব্যবস্থাই সাধারণভাবে ‘স্কোয়াটার্স রাইটস’ নামে পরিচিত।   মার্গারেট ও অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা সম্পত্তিটির দখল নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমন তথ্য দিয়েছিলেন, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিল ছিল না। বিশেষ করে তারা দাবি করেছিলেন, ২০০০ সালের নভেম্বরের দিকে বাড়িটির প্রকৃত দখল নিয়েছিলেন। এই সময়সীমা তাদের অ্যাডভার্স পজেশন দাবির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।   কিন্তু আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটি তখন পুরোপুরি পরিত্যক্ত ছিল না। বিচারক অ্যালিস্টার অ্যাবাডি মামলার তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে মার্গারেট ও অ্যান্ড্রুকে প্রতারণার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। মার্গারেট ২০০৪ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বাড়িটি ভাড়া দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার রেন্ট আদায় করেছিলেন বলেও আদালতে উঠে আসে।   পরবর্তীতে সম্পত্তিটির মালিকানা তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ২০২২ সালে গ্লেবের বাড়িটি প্রায় ৩.৬৭ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারে বিক্রি করা হয়। সাজা ঘোষণার সময় বিচারক মার্গারেট ও তার ছেলের আচরণের সমালোচনা করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে তাদের কর্মকাণ্ডে প্রতারণামূলক আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মার্গারেট ২০২৭ সালের অক্টোবরে প্যারোলের জন্য যোগ্য হবেন।   অ্যান্ড্রুকে কারাগারে না পাঠিয়ে ১৮ মাসের কমিউনিটি কারেকশন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে তার পারিবারিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নয় সন্তানের প্রধান দেখাশোনাকারী। অন্যদিকে পিটার কোলকুহুনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের অভিযোগ ছিল, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। তবে আদালত সেই অভিযোগ প্রয়োজনীয় মানদণ্ডে প্রমাণিত হয়নি বলে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেননি।   মামলাটি অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে কারণ অ্যাডভার্স পজেশনের মাধ্যমে সম্পত্তি দাবি করার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগে ফৌজদারি বিচারের এমন নজির অত্যন্ত বিরল। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটিকে দেশটিতে এ ধরনের প্রথম সফল ফৌজদারি মামলার নজির হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এই রায় একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য সামনে এনেছে। অ্যাডভার্স পজেশন নিজে অবৈধভাবে সম্পত্তি দখলের সমার্থক নয়। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে এর মাধ্যমে মালিকানা দাবি করা সম্ভব। কিন্তু সেই দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য দখলের সময়কাল বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা উপস্থাপন করলে তা ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে যেতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
কুইন্সল্যান্ডে সন্দেহভাজন হত্যা-আত্মহত্যার পর তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
অবরুদ্ধ বাড়ি থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুর প্রাণ বাঁচালেন পুলিশ, মর্মান্তিক এই ঘটনায় প্রাণ গেল গর্ভবতী মায়ের

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের চার্লভিলে সন্দেহভাজন হত্যা-আত্মহত্যার এক মর্মান্তিক ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী এক গর্ভবতী নারী এবং ৪৫ বছর বয়সী এক পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় রক্তমাখা এক ছোট শিশুকে উদ্ধার করে মানবিক সাহসিকতার নজির গড়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ডেইলি মেইল ও কুইন্সল্যান্ড পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বিকেলে ব্রিসবেন থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ছোট শহরে।   পুলিশ জানায়, বিকেল ৫টার পর এক গুরুতর হামলার খবর পেয়ে জরুরি সেবা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছে তারা একটি সহিংস পরিস্থিতির মুখে পড়ে এবং অস্ত্রের আশঙ্কায় সরে যেতে বাধ্য হয়। তবে ওই সময়ই এক কর্মকর্তা বাড়ির সামনের সিঁড়ির কাছে রক্তে ভেজা এক শিশুকে দেখতে পান। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বাড়ির ভেতরে ঢুকে শিশুটিকে দ্রুত বাইরে নিয়ে আসেন।   পরে শিশুটিকে পুলিশের গাড়ির পাশে বসিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় ওই কর্মকর্তাকে। প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী ম্যাকেনজি-গ্রেস স্মিথ Courier Mail-কে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তাটি শিশুটিকে এমনভাবে ধরে রেখেছিলেন, যেন সে ঘটনাস্থলের দিক না তাকায়। তার ভাষায়, ওই কর্মকর্তা এক হাতে শিশুটিকে আগলে রেখেছিলেন এবং অন্য হাত দিয়ে তার মুখ সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন।   স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, শিশুটি অস্বাভাবিকভাবে শান্ত ছিল, যদিও তার টি-শার্টে রক্তের দাগ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ বলেছে, শিশুটি পায়ে সামান্য আঘাত পেয়েছিল।   ঘটনাস্থলে পরে বিশেষায়িত পুলিশ দল পৌঁছে বৃহস্পতিবার ভোর ১টার দিকে বাড়ির ভেতর থেকে জুলিয়া ব্রান্সডন (২৩) এবং মাইকেল ওয়াল্টকে (৪৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করে। কুইন্সল্যান্ড পুলিশের সহকারী কমিশনার ম্যাথিউ ভ্যান্ডারবাইল ওই কর্মকর্তার পদক্ষেপকে “অসাধারণ” বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, পুলিশ সদস্যরা প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন।   সহকারী কমিশনার ভ্যান্ডারবাইল বলেন, ঘটনাটি খুবই জটিল এবং নিহত দম্পতির সম্পর্ক নিয়ে এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার আগে ওই ঠিকানায় পারিবারিক সহিংসতার কোনো অভিযোগ তাদের কাছে ছিল না।   তদন্তে জানা গেছে, জুলিয়া ব্রান্সডন ও মাইকেল ওয়াল্টকে চার্লভিলের ওই বাড়ি কিনেছিলেন প্রায় দুই বছর আগে। এর আগে তারা বান্ডাবার্গভিত্তিক প্রতিবন্ধী সহায়তা প্রতিষ্ঠান এম.আর. এবিলিটি সাপোর্ট সার্ভিসেস এবং ইউনিভার্সাল সাপোর্ট কো-অর্ডিনেশন নামে দুটি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ডেইলি মেইলের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, জুলিয়ার এক আত্মীয় রব ব্রান্সডনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়েছিল।   আরও জানা গেছে, জুলিয়া গর্ভবতী ছিলেন এবং তার সন্তানের সঙ্গেও তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে পরে বন্ধুদের বরাতে চিহ্নিত করা হয়। ঘটনাটির পর স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রতিবেশী ভেরোনিকা হিকসন বলেন, নিজেদের বাড়ির ঠিক উল্টো দিকেই এমন ঘটনা ঘটায় তিনি ভয় পেয়ে যান। অন্যদিকে চার্লভিলের মেয়র শন র‍্যাডনেজ বলেন, ছোট এই শহরের মানুষ ঘটনাটিতে গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর ভাষায়, “এই শিশুটি বেঁচে গেছে”—এটি স্বস্তির বিষয়, তবে পুরো সম্প্রদায়ের জন্য এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক দিন।   চার্লভিলের মতো ছোট জনপদে এ ধরনের সহিংস ঘটনা শুধু তদন্তের বিষয় নয়, বরং পুরো সম্প্রদায়ের মানসিক আঘাতেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মন্তব্য করেছে পুলিশ। সহকারী কমিশনার ভ্যান্ডারবাইলও বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ, স্বজন, বন্ধু এবং স্থানীয় মানুষদের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
বিমানে ওভারহেড বিনে ব্যাগ রাখতেও লাগবে আলাদা টাকা!
বিমানে ওভারহেড বিনে ব্যাগ রাখতেও লাগবে আলাদা টাকা! এয়ারলাইনে নতুন নিয়ম

অস্ট্রেলিয়ার স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা জেটস্টার আগামী বছর থেকে কেবিনের ওভারহেড বিনে হাতব্যাগ বা ক্যারি অন ব্যাগ রাখার জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে আলাদা ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নীতির আওতায় টিকিটের মূল ভাড়ায় শুধু সিটের নিচে রাখা যায় এমন একটি ছোট ব্যক্তিগত ব্যাগ বহনের সুযোগ থাকবে। বড় ব্যাগ ওভারহেড বিনে রাখতে চাইলে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।    এয়ারলাইনটির ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন নিয়ম কার্যকর হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে। রুটভেদে ওভারহেড বিন ব্যবহারের ফি ২৫ থেকে ৫২ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই ফি পরিশোধ করলে যাত্রীরা “প্রায়োরিটি ক্যারি অন” সুবিধাও পাবেন, যার মাধ্যমে আগে বিমানে ওঠার সুযোগ মিলবে।    তবে যাত্রীরা বিনা খরচে একটি ছোট ব্যাকপ্যাক, হ্যান্ডব্যাগ বা ল্যাপটপ ব্যাগ সঙ্গে নিতে পারবেন, যদি সেটি সামনের সিটের নিচে রাখা যায়। একই সঙ্গে কেবিন ব্যাগের আগের ৭ কেজি ওজনসীমাও তুলে দেওয়া হচ্ছে, ফলে নতুন নিয়মে ওভারহেড বিনে রাখা ব্যাগের সর্বোচ্চ ওজন হবে ১০ কেজি।    জেটস্টারের প্রধান নির্বাহী স্টেফানি টালি বলেছেন, ওভারহেড বিন নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের চাপ ও বিশৃঙ্খলা কমানো এবং দ্রুত বোর্ডিং নিশ্চিত করতেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তার ভাষ্য, যাত্রীরা যাতে কেবল প্রয়োজনীয় সেবার জন্যই অর্থ পরিশোধ করেন, সেই লক্ষ্যেই নতুন মূল্যনীতি চালু করা হচ্ছে।    তবে ঘোষণার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, মূল টিকিটের দাম কমানো ছাড়াই আগে যে সুবিধা ছিল, সেটির জন্য এখন অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। তারা এটিকে যাত্রীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ হিসেবে দেখছেন।    বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন বহু বছর ধরেই ক্যারি অন ব্যাগের জন্য অতিরিক্ত ফি নিয়ে আসছে। জেটস্টারের এই সিদ্ধান্ত সেই একই ব্যবসায়িক মডেলের অনুসরণ হলেও অস্ট্রেলিয়ায় এটি প্রথম বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০